মুহাম্মাদ ইবরাহীম - টংগিবাড়ি, মুন্সীগঞ্জ

২২২৩. প্রশ্ন

মাগরিবের নামায আদায়কালে মোসাম্মত আয়েশা বেগমের কাছে তার ছেলে চাবি চাইলে নামাযের হালতে কিবলামুখী হয়েই মাথা নেড়ে ইশারা করে চাবির স্থান দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রশ্ন হল, এতে কি তার নামায নষ্ট হয়ে গেছে?


উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী মাথা নেড়ে ইশারা করার দ্বারা তার নামায ফাসেদ হয়নি। তবে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া নামাযে ইশারা করা অনুচিত। আর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নামাযীকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করাটা অন্যায়।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৬৯; শরহুল মুনইয়া ৪৪৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৯২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল হাকীম - বনশ্রী, রামপুরা

২২২১. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইমাম সাহেবকে সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করতে শুনেছে। এ কারণে পথচারীর উপর সিজদা ওয়াজিব হয়েছে কি? ঐ ব্যক্তি যদি নামাযে শরিক হতে চায় তখনই বা তার কী করণীয়?


উত্তর

ঐ ব্যক্তির উপর তিলাওয়াতে সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। সুতরাং সে সিজদার আয়াত শোনার পর যদি জামাতে শরিক না হয় তাহলে তাকে সিজদাটি একাকী আদায় করে নিতে হবে। আর যদি জামাতে শরিক হয় এবং ইমামের সাথে তিলাওয়াতে সিজদাটি  পেয়ে যায় তবে তো আদায় হয়ে গেল। যদি তিলাওয়াতের সিজদাটি না পায়, কিন্তু ঐ রাকাতের রুকু ইমামের সাথে পেয়ে যায় তাহলে তাকে তিলাওয়াতের সিজদাটি আর আদায় করতে হবে না। রাকাত পাওয়ার কারণে সিজদাও আদায় হয়ে গেছে বলে ধর্তব্য হবে। অবশ্য যদি ইমামের সাথে ঐ রাকাতের রুকু না পায় তাহলে নামাযের পর পৃথকভাবে সিজদাটি আদায় করে নিতে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৩; মাবসূত, সারাখসী ২/১১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৭৮৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৭৫; শরহুল মুনইয়া ৫০০; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ৭২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ কাফী - বারিধারা, বসুন্ধরা

২২২০. প্রশ্ন

রফিক তার দুই ছেলের মাথায় হাত রেখে বলেছে, আমি কসম করছি, জীবনে আর জুয়া খেলব না। পরবর্তীতে সে জুয়া খেলেছে। প্রশ্ন হল, এই কসম ভাঙ্গার কারণে কি তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে?

 

উত্তর

হ্যাঁ, উক্ত কসম ভাঙ্গার কারণে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। কাফফারা হল, পূর্ণ আহার গ্রহণ করতে পারে এমন দশজন মিসকীনের প্রত্যেককে দু বেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়ানো। অথবা প্রত্যেককে এক জোড়া কাপড় প্রদান করা। আর যদি তার এ পরিমাণ আর্থিক সামর্থ্য না থাকে তাহলে ধারাবাহিকভাবে তিনটি রোযা রাখা।

প্রকাশ থাকে যে, কসম কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার নামেই করা জায়েয। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কিছুর নামে  কসম করা জায়েয নয়। তদ্রূপ সন্তান বা কোনো মানুষের নামে বা মাথা ছুঁয়ে কসম করাও গুনাহ। অবশ্য এ ধরনের কসম করা অন্যায় হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে সংগঠিত হয়ে যায় এবং ভেঙ্গে ফেললে কাফফারাও দিতে হয়।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৬৫, ৬/৩৬৭; বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৪; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ২৪২; হেদায়া-ফাতহুল কাদীর ৪/৩০৮; রদ্দুল মুহতার ৩/৭১২

শেয়ার লিংক

মাওলানা রফীক - কুষ্টিয়া

২২১৯. প্রশ্ন

জনৈক আলেম বলেছেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের সময় তাঁর মাতা স্বপ্নে একটি নূর দেখেছেন, বাস্তবে কোনো নূর দেখেননি। আরেকজন আলেম বলেছেন, নবীজীর জন্মের সময় বাস্তবেই নবীজীর মাতা নূর দেখেছেন। কার কথা সঠিক?

 

উত্তর

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের সময় তার মাতা নূর দেখেছেন এ কথাই সঠিক। মুসনাদে আহমদ, সুনানে দারেমীসহ অনেক কিতাবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা বর্ণিত হয়েছে।

হযরত উতবা ইবনে আবদুস সুলামী রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাঁর মাতা বলেছেন যে, আমার ভূমিষ্ট হওয়ার সময় তিনি এমন একটি নূর দেখেছেন, যাদ্দারা সিরিয়ার প্রাসাদগুলো আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।- মুসনাদে আহমদ ৪/১৮৪; সুনানে দারেমী ১/২৫০-৫১; দালাইলুন নুবুওয়াহ, বাইহাকী ২/৮; মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/৪০৭)

সুতরাং নবীজীর জন্মের সময় তাঁর মাতা নূর দেখেননি-একথা ঠিক নয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - পিরিজপুর, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ

২২১৮. প্রশ্ন

আমরা অনেককে মসজিদে বিয়ে পড়াতে দেখি। শরীয়তে কি মসজিদে বিয়ে পড়াতে উৎসাহিত করা হয়েছে?


উত্তর

মসজিদে বিয়ে পড়ানো মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে মসজিদে বিয়ে সম্পাদনের জন্য উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।

-সুনানে তিরমিযী, হাদীস : ১০৯৫; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১০৪৪৮; ইলামুস সাজিদ বিআহকামিল মাসাজিদ ৩৬০; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৮; ফাতহুল কাদীর ৩/১০২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রকীব - ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

২২১৭. প্রশ্ন

শুনেছি, মৃত ব্যক্তিকে কবরে রেখে ফিরে আসার সময় মৃত ব্যক্তি লোকদের পায়ের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। একথা বিশ্বাস করা কি ঠিক? হাদীসে এ ধরনের কোনো কথা আছে কি?


উত্তর

হ্যাঁ, এ কথা বিশুদ্ধ সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত। হাদীস শরীফে আছে, হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বান্দাকে কবরে রাখার পর তার সঙ্গীরা যখন চলে যায় (এমনকি ফিরার সময়) মৃত ব্যক্তি তাদের পায়ের জুতোর আওয়াজ শুনতে পায় তখন দু জন ফেরেশতা তার নিকট আসেন। ...।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৩৭৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৮৭০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবুল হাসান - কুমিল্লা

২২১৬. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু খালি মাথায় হাম্মামে যাচ্ছিলেন। আমি তা লক্ষ করে তার টুপিটি তার হাতে তুলে দিলাম। তিনি টুপি হাতে নিয়ে হেসে বললেন, টুপি মাথায় হাম্মামে যাওয়ার বিধান কী? এ ব্যাপারে কোনো হাদীস বা আছার আছে কি? আমি তখন সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারিনি। মাসআলাটির দলীলসহ সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

টুপি বা কোনো কাপড় ইত্যাদি দ্বারা মাথা ঢেকে হাম্মামে যাওয়া উত্তম। একটি মুরসাল বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাম্মামে (ইস্তিঞ্জাখানায়) প্রবেশের সময় জুতা পরিধান করতেন এবং মাথা ঢেকে নিতেন। (আস সুনানুল কুবরা, বায়হাকী ১/৯৬)

খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর আমলও এমনই ছিল।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৪৪; শরহুল মুহাযযাব ২/১০৯; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ১/২২৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী ৩১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৪৩; রদ্দুল মুহতার ১/৩৪৫; ইলাউস সুনান ১/৪৪৯

শেয়ার লিংক

হাফেজ আনিসুর রহমান - মদীনাতুল উলূম মাদরাসা, আশরাফাবাদ, কামরাঙ্গীরচর

২২১৫. প্রশ্ন

আমাদের জানামতে কেউ যদি বিগত জীবনে দীর্ঘকাল বেনামাযী থাকার পর আল্লাহর ইচ্ছায় সুমতি হয়ে নামায শুরু করে তবে নিয়মিত নামাযের পাশাপাশি জীবনের উমরী কাযা আদায় করতে হবে। কিন্তু আলিফ পাবলিকেশন্স (২/৩ প্যারিদাস রোড, বাংলাবাজার) থেকে প্রকাশিত সালাতে রাসূল শীর্ষক গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে-কাযায়ে উমরী ভিত্তিহীন। তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা বিগত জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেন। উমরী কাযায় সময় ব্যয় না করে নফল ও তাহাজ্জুদ বেশি বেশি করে পড়া উচিত। কারণ সহীহ হাদীসে আছে, কারো ফরয নামায কম পড়ে গেলে নফল দ্বারা তা পূরণ করা হবে।-আবু দাউদ

সুতরাং মুফতী সাহেবের নিকট এ বিষয়ে শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধান জানতে চাই।

 

উত্তর

শরীয়তে ঈমানের পরই নামাযের স্থান এবং তা ইসলামের স্তম্ভ ও বড় নিদর্শনের একটি। পাঁচ ওয়াক্ত নামায নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করা ফরয। কখনো কোনো ওয়াক্তের ফরয নামায ছুটে গেলে কিংবা দীর্ঘকাল অবহেলাবশত নামায না পড়লে পরবর্তীতে এর কাযা আদায় করতে হবে। এ বিষয়টি সহীহ হাদীস, আছারে সাহাবা ও ইজমায়ে উম্মত দ্বারা প্রমাণিত।

হাদীস শরীফে এসেছে-

من نسي صلاة أو نام عنها فكفارتها أن يصليها إذا ذكرها

যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় কিংবা নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে তার কাফফারা হল, যখন নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করা। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৯৭৬)

উক্ত হাদীসে نسي শব্দটি লক্ষ্যণীয়। আরবী ভাষায় এটি যেমনিভাবে ভুলে যাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় তদ্রূপ কোনো কাজ অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়ার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ( দেখুন : আলইসিতিযকার ১/৩০০)

অতএব কাযা আদায়ের বিধানটি শুধু ঘুম ও বিস্মৃতি এই দুই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করা যাবে না। বরং অবহেলাবশত ছেড়ে দিলেও কাযা জরুরি।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, যখন তোমাদের কেউ নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকে বা নামায থেকে গাফেল থাকে তাহলে যখন তার বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, আমাকে স্মরণ হলে নামায আদায় কর। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৬৮৪, ৩১৬)

অন্য হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি নামায রেখে ঘুমিয়ে গেছে বা নামায থেকে গাফেল রয়েছে তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এর কাফফারা হল যখন তার নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করে নেওয়া। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৬১৪)

উপরোক্ত হাদীসসমূহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নামায সময়মতো আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা অপরিহার্য। নামাযটি ভুলক্রমে কাযা হোক, নিদ্রার কারণে হোক অথবা গাফলতি বা অবহেলার কারণে হোক- সর্বাবস্থায় কাযা আদায় করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দলীল হল, ইজমায়ে উম্মত। চার মাযহাবে চার ইমামসহ প্রায় সকল মুজতাহিদ এ বিষয়ে একমত যে, ফরয নামায নির্ধারিত সময়ে আদায় করতে না পারলে পরে হলেও তা আদায় করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া কিংবা ওজরবশত ছেড়ে দেওয়া উভয় ক্ষেত্রের একই বিধান।-আলইসতিযকার ১/৩০২

কুয়েতের ইসলামী বিষয় ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ইফতা বোর্ডের সম্মিলিত ফাতাওয়াও এটিই।

(দেখুন : মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া আশশারইয়্যাহ ১/২০৪)

সুতরাং উমরী কাযা ভিত্তিহীন, কাযা আদায় না করে শুধু তাওবাই যথেষ্ট-প্রশ্নের এসব কথা সহীহ নয়। তদ্রূপ একথাও সহীহ নয় যে, উমরী কাযায় সময় ব্যয় না করে নফল ও তাহাজ্জুদ আদায় করা উচিত। এর স্বপক্ষে যে দলীল পেশ করা হয়েছে তাও ঠিক নয়। কারণ সুনানে আবু দাউদে প্রশ্নোক্ত হাদীসটির মূল পাঠ হল-

إن أول ما يحاسب الناس به يوم القيامة من أعمالهم الصلاة، قال يقول ربنا عز وجل لملائكته وهو أعلم انظروها في صلاة عبدي أتمها أم نقصها؟ فإن كانت تامة كتبت له تامة وإن كان انتقص منها شيئا قال انظروا هل لعبدي من تطوع؟ فإن كان له تطوع قال أتموا لعبدي فريضة من تطوعه

কেয়ামতের দিন মানুষের সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে তা হল নামায। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, তোমরা আমার বান্দার ফরয নাময দেখো। সে পূর্ণরূপে তা আদায় করেছে, নাকি তা আদায়ে কোনো ত্রুটি করেছে? যদি পূর্ণরূপে আদায় করে থাকে তবে তার জন্য পূর্ণ নামাযের ছওয়াব লেখা হবে। আর আদায়ে কোনো ত্রুটি করে থাকলে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, দেখ, আমার বান্দার নফল নামায আছে কি না? যদি থাকে তবে এর দ্বারা তার ফরয নামায আদায়ে যে ত্রুটি হয়েছে তা পূর্ণ করে দাও। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৮৬৪)

উক্ত হাদীসে কারো ফরয নামায কম পড়ে গেলে নফল দ্বারা তা পূর্ণ করা হবে-যেমনটি প্রশ্নে উল্লেখ হয়েছে-এ কথা নেই; রবং এতে রয়েছে, আদায়কৃত নামাযে ত্রুটির বিষয়। (ফয়যুল কাদীর ৩/৮৭; ইতহাফু সাদাতিল মুত্তাকীন ৩/১১; আলফাতহুর রববানী ১/১৮২; বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন : মাসিক আলকাউসারের উদ্বোধনী সংখ্যা (ফেব্রুয়ারি ২০০৫, পৃষ্ঠা : ১৩)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - বগুড়া, নোয়াখালি

২২১৪. প্রশ্ন

হযরত যাকারিয়া আ. সম্পর্কে লোকমুখে শুনা যায় যে, তাকে কাফেররা হত্যার জন্য ঘিরে নিলে তিনি নিরুপায় হয়ে গাছের কাছে আশ্রয় চাইলে গাছ দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়।  তিনি ঐ গাছের মধ্যে আশ্রয় নেন। গাছ পূর্ববৎ হয়ে যায়। কিন্তু তাঁর জামার আচল বের হয়ে থাকায় কাফেররা চিনে ফেলে এবং অস্ত্র দিয়ে গাছ চিরে, এতে নবীও দুই ভাগ হয়ে যান। এরূপ একটি কাহিনী শুনা যায়। এটা কতটুকু সত্য? 


উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সহীহ হাদীসে তা পাওয়া যায় না। ইবনে কাছীর রাহ. আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া(২/২২৮-২২৯) গ্রন্থে এই ঘটনাটি খুবই আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। সুতরাং তা বর্ণনা করা যাবে না। হযরত যাকারিয়া আ. ও অন্যান্য নবীদের সম্পর্কে করআন মজীদ ও সহীহ হাদীসে যতটুকু বর্ণনা আছে ততটুকু জানাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তাই হযরত যাকারিয়া আ.-এর সম্পর্কে কুরআন মজীদের কয়েকটি আয়াতের তরজমা ও একটি সহীহ হাদীসের অনুবাদ পেশ করা হল। (তরজমা) আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহের বিবরণ, তার বান্দা যাকারিয়া আ.-এর প্রতি, যখন তিনি নিজ পালনকর্তাকে গোপনে আহবান করেছিলেন। তিনি প্রার্থনা করলেন, হে আমার পালনকর্তা! আমার অস্থিসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়ে গেছে। (মাথার সমস্ত চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে)। হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনো বিফল মনোরথ হইনি। আর আমি আমার পরে স্বজনবর্গ হতে আশঙ্কা করছি ( যে, তারা শরীয়তের এবং ধর্মের সেবা করবে না।) এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। অতএব আপনি বিশেষভাবে আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন ওয়ারিশ (পুত্র) দান করুন। সে আমার এবং ইয়াকুব-এর বংশের উত্তরাধিকারী হবে। হে আমার পালনকর্তা! তাকে আপনি সন্তোষজনক করুন। (আল্লাহ তাআলা বললেন,) যে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি। তার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে আমি এ নামে কারো নামকরণ করিনি। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র হবে, অথচ আমার স্ত্রী যে বন্ধ্যা। আর আমিও যে বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে উপনীত। তিনি বললেন, এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলে দিয়েছেন, এটা আমার জন্য সহজ। ... (সূরা মারইয়াম : ১-১১)

সহীহ মুসলিমে (২/২৬৮) হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি নিজ হাতে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং পেশায় তিনি ছিলেন একজন ছুতার।-শরহুন নববী মুসলিম ১৫/১৩৫

কুরআন মজীদের নিম্নোক্ত সূরাগুলোতেও তার সম্বন্ধে আলোচনা আছে। সূরা আলইমরান : ৩৭-৪১; সূরা আম্বিয়া : ৯০-৯৮; সূরা আনআম : ৮৫; সূরা     হুদ : ৭২-৭৩।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান - বাগেরহাট, খুলনা

২২১৩. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের একটি পুকুর আছে, ঐ পুকুরে মাছ চাষ করা হয়েছে। তা পুকুরে থাকা অবস্থায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। একদিনেই সকল আয়োজন সম্পন্ন করে পুকুরের সব মাছ ধরে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে ফেলেছে। পরবর্তীতে মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানতে পারে যে, উক্ত বেচা-কেনা সহীহ হয়নি। জানার বিষয় হল, ওই বিশ হাজার টাকা কি মসজিদের কাজে ব্যবহার করা যাবে?


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মসজিদ কর্তৃপক্ষের জন্য ঐভাবে পুকুরের মাছ বিক্রি  করা জায়েয হয়নি। তাদের কর্তব্য হল এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে সকল লেনদেনের ক্ষেত্রে মাসআলা জেনে সতর্কতার সাথে আমল করা। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কারবারটি যেহেতু নাজায়েয হয়েছে এখন ঐ চুক্তি ধর্তব্য হবে না। অতএব যে পরিমাণ মাছ পাওয়া গেছে তার পাইকারি বাজার-মূল্য মসজিদ কর্তৃপক্ষ পাবে। তাই পুকুর থেকে যে পরিমাণ মাছ ধরা হয়েছে ঐ পরিমাণ মাছের ঐ দিনের বাজারদর নির্ধারণ করবে। বাজার দর যদি ২০ হাজার টাকা হয়ে যায় তবে তো ঠিক আছে। আর যদি কম হয় তাহলে বাজার দর হিসেবে যত টাকা হয় তত টাকাই মসজিদের পাওনা, অতিরিক্ত টাকা ক্রেতা মাছ ব্যবসায়ীদেরকে ফেরত দিতে হবে। আর বাজার দর যদি ২০ হাজার টাকা থেকে বেশি হয় সেক্ষেত্রে  অতিরিক্ত টাকা মসজিদের পাওনা। মোটকথা, যে পরিমাণ মাছ পাওয়া গেছে তার ঐ দিনের বাজার দরই মসজিদের প্রাপ্য। সে অনুযায়ী লেনদেন নিষ্পত্তি করতে হবে। এবং এভাবে গৃহীত টাকা মসজিদের কাজে ব্যবহার করা যাবে।

-ফাতহুল কাদীর ৬/৯২, ৯৮, ৪৯; জামিউল ফুছুলাইন ২/৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/১১৩; রদ্দুল মুহতার ৫/৯২, ৭১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ - ঢাকা

২২১২. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি পেশাব ঝরার রোগে আক্রান্ত। তাই তিনি পেশাবের রাস্তায় টিস্যু গুঁজে রাখেন। কিছু সময় পর টিস্যু খুললে দেখা যায়, সেটির ভিতরের অংশ কিছুটা ভিজা।

এমতাবস্থায় তার নামাযের হুকুম কী? এবং সে কোনো সময় ইমামতি করলে তার পিছনে সুস্থ লোকদের ইকতিদা সহীহ হবে কি?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি পেশাবের রাস্তায় গুঁজে রাখা টিস্যুর ভিতরের অংশটুকু শুধু ভিজে, বাইরের অংশে তরলতা না পৌঁছে; বরং শুষ্ক থাকে তাহলে যতক্ষণ ঐ টিস্যু সেখানে লাগানো থাকবে ততক্ষণ ঐ কারণে লোকটির অযু ভঙ্গ হবে না। এ অবস্থায় তার নিজের নামায পড়া এবং অন্যের ইমামতি করা সহীহ হবে। তবে টিস্যু খুলে ফেললে বা সেটি পড়ে গেলে অযু ভেঙ্গে যাবে। এক্ষেত্রে তাকে নতুন করে অযু করে নামায পড়তে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/১২৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৭; ফাতহুল কাদীর ১/৩৩; শরহুল মুনইয়া ১২৬; রদ্দুল মুহতার ১/১৪৮-১৪৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - নেত্রকোনা

২২১১. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। যার কারণে তিনি শুয়ে মাথার ইশারায় নামায আদায় করেন। এভাবে তিনদিন নামায আদায় করার পর বাকি দুদিন মাথার ইশারা করেও নামায পড়তে পারেননি। কারণ এ দুদিন তার অবস্থা এমন হয়েছিল যে, তিনি মাথাসহ শরীরের কোনো অঙ্গ নড়াচড়া করতে পারেননি। তবে তার হুঁশ ছিল। পঞ্চমদিন মৃত্যুবরণ করেন। প্রশ্ন হল, যে দুদিন নামায পড়তে পারেননি সে দুদিনের নামাযের ফিদয়া দিতে হবে কি না?


উত্তর

শুয়ে মাথা দ্বারা ইশারা করাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে নামায আদায় করা ফরয থাকে না। তাই লোকটির ঐ দুদিনের নামায কাযা পড়তে না পারার কারণে ফিদয়া দেওয়া লাগবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৭২; ফাতহুল কাদীর ১/৪৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৭; মারাকিল ফালাহ ২৩৬; রদ্দুল মুহতার ২/৯৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হামীদুল্লাহ - হবিগঞ্জ, সিলেট

২২১০. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি হজ্ব করতে যায়। সে তাওয়াফে যিয়ারত না করেই মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে দেশে ফিরে এসেছে। এখন তার বয়স ৮০ বছরের মতো। এমতাবস্থায় তার জন্য পুনরায় মক্কা যাওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার।  সে কি এখন অন্য কাউকে পাঠিয়ে তাওয়াফটি আদায় করিয়ে নিতে পারবে? যদি তার নিজের গিয়ে আদায় করে আসা জরুরি হয় তাহলে সে কি এর জন্য নতুন ইহরাম করবে না ইহরাম ছাড়াই তাওয়াফটি আদায় করবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অন্য কারো দ্বারা তাওয়াফটি আদায় করানোর সুযোগ নেই; বরং স্বয়ং তাকে গিয়েই তাওয়াফটি আদায় করা জরুরি। আর তাওয়াফটি আদায় করবে সাধারণ পোশাকেই। এর জন্য নতুন ইহরাম করবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৩৫৪; রদ্দুল মুহতার ২/৫১৭, ৫২৬; মানাসিক ১১১, ২৩৩, ৩৪৫; গুনয়াতুন নাসিক ৮৩, ১০৯

শেয়ার লিংক

হুসাইন আহমদ - জামেউল উলূম মাদরাসা

২২০৯. প্রশ্ন

 

ক) বর্তমান বাজারগুলোতে যেসব পারফিউম বা বডি স্প্রে পাওয়া যায় এগুলো ব্যবহার করা ঠিক হবে কি? এবং এগুলো ব্যবহার করে নামায পড়লে নামায সহীহ হবে কি না?


খ) এক লোক জনসম্মুখে তার কিছু উন্মুক্ত জমি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করেছে। সে বলেছিল, মসজিদের জন্য এই জমি ওয়াকফ করে দিলাম। আপনারা এতে নামায পড়তে পারেন। কিছুদিন পর ঐ লোক উক্ত জমি মাদরসার জন্য ওয়াকফ করার ইরাদা করেছে। এখন জানার বিষয় হল, মসজিদের জন্য ওয়াকফ করার পর পুনরায় তা মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করা কি সহীহ হবে? উল্লেখ্য, মসজিদের জন্য ওয়াকফ করার পর তাতে মসজিদ নির্মাণ হয়নি এবং নামাযও আদায় করা হয়নি।


গ) এক লোকের নিকট পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে খানা বা বস্ত্র দ্বারা কসমের কাফফারা আদায় করতে পারেনি। তাই রোযা রাখা শুরু করেছে। দুদিন রোযা রাখার পর তার হাতে বেশ টাকা আসে। এখন সে ১০ জন মিসকীনকে দু বেলা খাবার খাওয়াতে সক্ষম। এখন তৃতীয় রোযা রাখার দ্বারা লোকটির কাফফারা আদায় হয়ে যাবে নাকি নতুন করে ১০ জন মিসকীনকে খাবার খাওয়াতে হবে?


 

উত্তর

ক : বর্তমান অধিকাংশ পারফিউম ও স্প্রেতে এ্যালকোহল থাকে। তাবে এ্যালকোহলমুক্ত পারফিউমও পাওয়া যায়। তাই পারফিউম বা স্প্রে ব্যবহার করতে চাইলে এ্যালকোহলমুক্তগুলোই খরিদ করবেন। এ্যালকোহলযুক্ত স্প্রে ব্যবহার করা অনুত্তম। নাজায়েয বা নাপাক নয়। তাই কাপড় বা শরীরে স্প্রে লাগিয়ে নামায পড়লে নামায সহীহ হয়ে যাবে।-মাবসূতে সারাখসী ২৪/৯; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৩০; তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিম ১/৫৫১, ৩/৬০০; মাজমুআতুল ফাতাওয়া শারইয়্যাহ ১/১৮৪, ৪/৪৫


খ : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী জনসম্মুখে ঐ জমি মসজিদের জন্য দিয়ে দেওয়ার দ্বারা তা মসজিদের হয়ে গেছে। এবং তা দাতার মালিকানা থেকে বের হয়ে মসজিদের মালিকানায় এসে গেছে। সুতরাং পরবর্তীতে ঐ জমি মাদরাসার জন্য দেওয়া বৈধ হবে না। বরং তাতে মসজিদই করতে হবে।-হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ২/৫৩৫; কিতাবুল ওয়াফক পৃ. ৩২৫; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৩৮

 

গ : প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তিনটি রোযা সম্পন্ন করার আগেই যেহেতু লোকটি খানা খাওয়ানোর মাধ্যমে কাফফারা আদায়ে সক্ষম হয়েছে তাই এখন রোযা দ্বারা তার কাফফারা আদায় হবে না। কাফফারা আদায়ের জন্য এখন তাকে ১০ জন মিসকীনকে দু বেলা পেটভরে খাবার খাওয়াতে হবে। অথবা তাদের প্রত্যেককে পরিধেয় বস্ত্র দিতে হবে। আর লোকটি যে দুটি রোযা রেখেছে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে।-কিতাবুল আছল ৩/২০৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭২৭


শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রাফিদ - আড়াইহাজার

২২০৮. প্রশ্ন

শুনেছি যে, আকীকায় মাদা বকরি যবাই করতে হয়। কেউ যদি মাদা বকরির পরিবর্তে নর ছাগল যবাই করে তাহলে কি কোনো সমস্যা হবে?

 

উত্তর

মাদা বকরি বা নর ছাগল যে কোনোটি দ্বারা আকীকা করা যায়। মাদা বকরি দিয়েই আকীকা করতে হয়-এ কথা ভিত্তিহীন।

-জামে তিরমিযী ১/১৮২-১৮৩; সুনানে নাসায়ী ২/১৬৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক ১৮৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১২/৩২২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সায়েম - আড়াইহাজার

২২০৭. প্রশ্ন

 

আমার মহল্লার মসজিদের খতীব সাহেবের পায়ে প্রচন্ড ব্যাথার কারণে দাঁড়াতে সক্ষম না বিধায় বসে খুতবা দিয়েছেন। অথচ উপস্থিত মুসল্লীদের মধ্যে এমন ব্যক্তি ছিলেন যিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে সক্ষম। জানার বিষয় হল, ওজরবশত বসে খুতবা দিলে খুতবা আদায় হবে কি?

 

 

উত্তর

জুমআর খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়া সুন্নত। অবশ্য কোনো ওজরের কারণে দাঁড়াতে সক্ষম না হলে বসে খুতবা দেওয়ার অবকাশ আছে। হযরত ওসমান রা. ও হযরত মুআবিয়া রা. থেকে শেষ বয়সে বসে খুতবা দেওয়া প্রমাণিত আছে। কিন্তু ওজর ব্যতীত বসে খুতবা দেওয়া সুন্নত পরিপন্থী ও মাকরূহ।

-সহীহ মুসলিম ১/২৮৩-৮৪; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/১৮৭-১৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৯২; ফাতহুল কাদীর ২/২৯-৩০; শরহুল মুনইয়া ৫৫৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খুবাইব হাসান তাকী - মিরপুর, ঢাকা

২২০৬. প্রশ্ন

কয়েকদিন হল আমার সর্দি লেগেছে। এক পর্যায়ে সর্দি ঘন ও শক্ত হয়ে যায়। মাঝে মাঝে ঘণ ও শক্ত সর্দির সাথে জমাট রক্ত বের হয়। এতে আমার অযু ভাঙ্গবে কি না?

 

উত্তর

নাক দিয়ে জমাট রক্ত বের হলে অযু ভাঙ্গে না। সুতরাং সর্দির সাথে জমাট রক্ত বের হলেও অযু নষ্ট হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১/২০৩; ১/১৩৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/১২৭; রদ্দুল মুহতার ১/১৩৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আহসান মাহবুব - উত্তরা, ঢাকা

২২০৫. প্রশ্ন

জনৈকা মহিলার প্রতি ইংরেজি মাসের ১৫ তারিখে ঋতুস্রাব হয়। রমযান মাসে এক দিন সকাল বেলা সে রোযা অবস্থায় ছিল। এক পর্যায়ে তার স্মরণ হল আজ ইংরেজি মাসের ১৫ তারিখ। অর্থাৎ তার ঋতুস্রাব হওয়ার দিন। ফলে সে রোযা ভেঙ্গে ফেলে। কিন্তু সেদিন তার স্রাব আসেনি। প্রশ্ন হল, ঐ দিনের রোযা ভেঙ্গে ফেলার কারণে তার উপর কি কাফফারা ওয়াজিব হবে?


উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। তবে যদি ঐ দিন ঋতুস্রাব হত তাহলে শুধু কাযা করা ওয়াজিব হত। কাফফারা ওয়াজিব হত না।

উল্লেখ্য যে, হায়েয আসতে পারে-এই সন্দেহের উপর ভিত্তি করে রোযা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয নয়; বরং নিয়ম হল, রক্ত দেখে রোযা-নামায ছাড়বে। অতএব ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা কর্তব্য।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - মিরপুর-১৪ ঢাকা

২২০৪. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মীরাছ সূত্রে একটি জমির মালিক হয়েছে। জমিটির মূল্য এক লক্ষ টাকা। ঐ জমিটি সে আবাদ করে না এবং ঐ জমি ছাড়া সদকা-ফিতর ওয়াজিব হয় পরিমাণ অন্য কোনো প্রয়োজন-অতিরিক্ত সম্পদও তার নেই। কিন্তু ঐ ব্যক্তির এক লক্ষ টাকা ঋণ আছে, যা সাংসারিক প্রয়োজনে নিয়েছে। এখন ঐ ব্যক্তির উপর সদকা-ফিতর ওয়াজিব হবে কি?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির উপর সদকা-ফিতর ওয়াজিব নয়। কারণ তার কাছে এক লক্ষ টাকা মূল্যের জমি থাকলেও ঐ পরিমাণ ঋণও তার আছে। ঋণ আদায় করে দিলে তার নিকট ফিতরার নেসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকছে না। তাই লোকটিকে ফিতরা আদায় করতে হবে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/২০০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন - কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ

২২০৩. প্রশ্ন

জনৈক ওয়ায়েযকে হাদীসের

ما كنت تقول هذا الرجل

অর্থাৎ এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার বিশ্বাস কী ছিল?-এ অংশের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি যে, কবরে মৃত ব্যক্তিকে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, ইনি কে? তুমি কি তাকে চিন? জানতে চাই এ ব্যাখ্যা কি সঠিক?

 

উত্তর

কবরে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে যখন জিজ্ঞাসা করা হবে তখন তাঁকে দেখানোর কথা কুরআন-হাদীসে উল্লেখ নেই। তাই হাদীস বিশারদগণ দেখানোর কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

-মাজমুআতুর রাসায়িলিল মুনীরিয়া, ইবনে হাজার আসকালানী ৪/৪১; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৬/২৪১; শরহুস সুদূর, ইমাম সুয়ূতী ১৪৫; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪/১৫৩; মিরকাত ১/১৯৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - হবিগঞ্জ

২২০২. প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশে একটি মাযার আছে। যাতে প্রতি বছর ওরস হয় এবং প্রচুর লোকের সমাগম হয়। এক ওরসের সময় বাড়ি থেকে শুনলাম মাইকে এক লোক বলছে, হাদীসে পাকে আছে, ও আমার উম্মতেরা, যখন তোমরা কোন ব্যাপারে পেরেশান হবে তখন কবরবাসীদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করবে। জানতে চাই, এটি    বাস্তবেই হাদীস কি না।

 

উত্তর

এটি লোকমুখে হাদীস হিসেবে প্রসিদ্ধ হলেও বাস্তবে হাদীস নয়,  শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ., শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ. ও আল্লামা আবদুল হাই লখনভী রাহ.সহ বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম সুস্পষ্ট ভাষায় একে মওযূ ও জাল বলেছেন। অতএব একে হাদীস মনে করা যাবে না এবং এ ধরনের আকীদাও পোষণ করা যাবে না। আর এমন কোনো কাজও করা যাবে না।প্রকাশ থাকে যে, কবরবাসীর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা শিরক। কবরবাসী যেই হোক না কেন সে কোনো ক্ষতি থেকে হেফাযত করতে, কোনো বিপদ হতে রক্ষা করতে কিংবা কোনো উপকার পৌঁছাতে পারে না। এগুলো কেবল আল্লাহ তাআলার কাছে চাওয়া যায়। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) সেই ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কেয়ামত দিবস পর্যন্ত তাতে সাড়া দিবে না এবং এগুলি তাদের প্রার্থনা সম্বন্ধেও অবহিত নয়। (সূরা আহকাফ : ৫)

হাদীস শরীফে আছে, যখন তুমি কিছু চাইবে আল্লাহর কাছে চাও। যখন তুমি সাহায্য প্রার্থনা করবে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর। জেনে রেখো, পুরো উম্মত যদি তোমার উপকার করতে একত্রিত হয় আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত তারা তোমার বিন্দুমাত্রও উপকার করতে পারবে না। তদ্রূপ তারা যদি তোমার ক্ষতি করতে একত্রিত হয় তবে আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত তারা তোমার বিন্দুমাত্রও ক্ষতি করতে পারবে না।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৫১৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৬৬৯; ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ১/৩৫৬, ১১/২৯৩; মাজমুআতুল ফাতাওয়া ১/১৩৮; ইক্বতিযাউস সিরাতিল মুসতাকিম লিমুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম ২/৬৮৩; ফাতাওয়া আযীযী ১/১৭৮

শেয়ার লিংক

উম্মে সাফওয়ান - মালঞ্চ, হবিগঞ্জ

২২০১. প্রশ্ন

একটি লিফলেটে লেখা আছে, হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দরুদ এইভাবে পড়িবে-আল্লাহুম্মা ছল্লিআলা মোহাম্মাদিওঁ ওয়াআনজিলহুল মাক্কআদাল মুকাররাবা ইন্দাকা ইয়াওমাল কিয়ামাহ তাহার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব। এটি সহীহ হাদীস কি না জানতে চাই।


উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত দরুদটি নির্ভরযোগ্যসূত্রে বর্ণিত। হযরত রুওয়াইফী ইবনে ছাবিত রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি

اللهم صل على محمد

এরপর

اللهم أنزله المقعد المقرب عندك يوم القيامة

 (হে আল্লাহ! কিয়ামতের দিন তুমি তাঁকে তোমার নিকটতম স্থানে অধিষ্ঠিত কর) বলবে তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৬৯৯১; আলমু’জামুল কাবীর, তবারানী ৫/২৬, আলমুজামুল আওসাত তবারানী ৪/১৭৪; মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/২৫৪; আততারগীব ওয়াততারহীব, হাদীস : ২৪৯৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আতীকুর রহমান - বরিশাল

২২০০. প্রশ্ন

আমি এক ওয়াজে শুনেছি যে, হাদীস শরীফে আছে, আখেরী যমানায় হজ্ব হবে ভ্রমণ ও চিত্ত বিনোদনের উদ্দেশ্যে। জানার বিষয় হল, হাদীস শরীফে কি এমন কথা আছে?


উত্তর

একটি অতি দুর্বল বর্ণনায় আছে যে, মানুষের উপর এমন একটি সময় আসবে যখন উম্মতের উচ্চ বিত্তরা হজ্ব করবে (ভ্রমণ) আনন্দ উপভোগের জন্য, মধ্যবিত্তরা হজ্ব করবে ব্যবসার জন্য, শিক্ষিতরা করবে সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের জন্য এবং গরীবরা করবে ভিক্ষার জন্য।

-তারীখে বাগদাদ ১০/২৯৬; আলইলালুল মুতানাহিয়াহ ২/৫৬৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমজাদ - ঢালকানগর, ঢাকা

২১৯৯. প্রশ্ন

আমি একজন আলেমকে স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে নিম্নোক্ত হাদীসটি বলতে শুনেছি।

المعدة بيت الداء، والحمية رأس الدواء، وأعط كل بدن ما عودته

 (অর্থাৎ) উদর হল সর্বরোগের কেন্দ্র। আর খাদ্য-সংযম সর্বরোগের মহৌষধ। দেহকে তা-ই দাও, যাতে তাকে অভ্যস্ত করেছ। জানার বিষয় হল, এটি কি হাদীস। হাদীস হলে তা কোন কিতাবে আছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি কোথাও হাদীস হিসেবে উল্লেখেতি হলেও হাদীস বিশারদগণ বলেছেন, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসেবে প্রমাণিত নয়; বরং তা আরবের প্রসিদ্ধ চিকিৎসক হারিস ইবনে কালদাহ-এর উক্তি।

অতএব তা হাদীস হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না।

-আলমাকাসিদুল হাসানাহ পৃ. ৬১১; কাশফুল খাফা ২/৯৩; আদ্দুরারুল মুনতাছিরাহ ১৬৮; আল লাআলিল মানসুরাহ ১৪৫; আলফাওয়াইদুল মাজমূআহ ১৬৬; যাদুল মাসীর ৩/১৮৮; রুহুল মাআনী ৫/১১০; তাফসীরে কুরতুবী ৭/১৯২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম - কুমিল্লা

২১৯৮. প্রশ্ন


আমি একটি বইয়ে পড়েছি যে, হযরত উসমান গনী রা.কে বিদ্রোহীরা কুরআন মজীদ তিলাওয়াতরত অবস্থায় শহীদ করেছিল এবং সর্বশেষ যে আয়াত তিনি তিলাওয়াত করেছিলেন তার উপরই তাঁর শরীরের রক্ত ছিটকে পড়েছিল। উপরোক্ত তথ্যটি কি সঠিক? যে আয়াতটির উপর রক্ত লেগেছিল সেটি কোন আয়াত? তাঁর হত্যাকারীর নাম কী?


উত্তর

হ্যাঁ, এই তথ্য সঠিক। নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত আছে যে, বিদ্রোহীরা যখন হযরত উসমান রা.-এর বাসগৃহ অবরোধ করে তখন তিনি কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করছিলেন। সূরা বাকারার ১৩৭ নম্বর আয়াত

فسيكفيكهم الله، وهو السميع العليم

এ পৌঁছলে বিদ্রোহীদের মধ্য থেকে কিনানা বিন বিশর আততুজীবী নামক এক লোক ঘরে ঢুকে পড়ে এবং তীরের ধারালো ফলা দিয়ে তাঁকে আঘাত করে। ফলে উক্ত আয়াতের উপর তাঁর শরীরের রক্ত ছিটকে পড়ে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২১/৩১৫; আলমাতালিবুল আলিয়াহ ১০/৩২; আলবিদায়াহ ওয়াননিহায়া ১০/৩১০; তারীখুল ইসলাম, যাহাবী ৩/১৩২; আলকামিল ফিততারীখ ৩/১৭৯; তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/২৮০

শেয়ার লিংক

মাওলানা শাহাদত - মানিকগঞ্জ

২১৯৭. প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব ফজরের নামাযে সূরা কিয়ামার

ولو القى معاذيرة   

এর স্থলে

  ولو القى مأذيرة

পড়েছেন। অর্থাৎ আইনের স্থলে হামযা পড়েছে। জানিয়ে বাধিত করবেন যে, তার নামায কী হয়েছে?

 

উত্তর

উক্ত ভুলের কারণে অর্থের এমন বিকৃতি ঘটেনি, যার দ্বারা নামায নষ্ট হয়ে যায়। তাই তার নামায আদায় হয়ে গেছে।

-শরুহুল মুনইয়া ৪৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮০; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৩

শেয়ার লিংক

শাববীর আহমদ - খুলনা

২১৯৬. প্রশ্ন


আমার এক বন্ধু তার জন্য একটি বই সংগ্রহ করার জন্য আমাকে কিছু টাকা দিয়েছে। বইটি তার জন্য ক্রয় করে আনার সময় পথিমধ্যে অন্য কোনো বন্ধু যদি তা নিতে চায় তাহলে আমি তাকে দিতে পারব কি না?


উত্তর

যে ব্যক্তি আপনাকে বইটি কেনার দায়িত্ব দিয়েছে যদি আপনি তার জন্যই বইটি কিনে থাকেন তাহলে তা তারই বই। এক্ষেত্রে তার অনুমতি ছাড়া বইটি অন্য কাউকে দেওয়া জায়েয হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১৫/৬৭-৬৮; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৭/২৪৩; শরহুল মাজাল্লা ৪/৪৬৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সুলতান হুসাইন - নিউমার্কেট, ঢাকা

২১৯৫. প্রশ্ন

আগে আমার কাপড়ের ব্যবসা ছিল। বর্তমানে নেই। পুরোনা অভিজ্ঞতার কারণে আমার চাচাতো ভাই আমাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বলল যে, চট্টগ্রামে কাপড়ের ব্যবসা কর, যা লাভ হবে তার ৩০% তোমার আর ৭০% আমার। আমি সেখানে গিয়ে একটি দোকান নেই এবং এক মাস পর্যন্ত ব্যবসা করি। এতে সামান্য কিছু লাভ হয়েছে। আর এই লাভ আমাদের সেখানে থাকা-খাওয়া, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ইত্যাদির সমান। অতিরিক্ত আর কোনো লাভ হয়নি। আমি ঢাকায় এসে চাচাতো ভাইকে বললাম, ব্যবসায় লাভ হয়নি। কিন্তু আমি তো একমাস শ্রম দিয়েছি আমাকে কিছু মজুরী দাও। সে বলল, লাভ না হলে কিভাবে দিব? শরীয়তের দৃষ্টিতে সে আমাকে মজুরি দিতে বাধ্য কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু দেওয়া তার জন্য জরুরি নয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনাদের কারবারটি মুদারাবা কারবার হয়েছে, অর্থাৎ এক পক্ষের মূলধন, অপর পক্ষের শ্রম। এক্ষেত্রে শরীয়তের নীতিমালা হল, ব্যবসা সংক্রান্ত খরচ বাদ দেওয়ার পর কোনো লাভ থাকলে তা পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের মাঝে বণ্টন হবে। কিন্তু যদি লাভ না হয় তাহলে শ্রমদাতা পারিশ্রমিক হিসেবে কিছুই পাবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৫২; দুরারুল হুক্কাম ৩/৪৫৮; আলমাআইরুশ শরইয়্যাহ ২৪১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শুআইব মুর্শিদ - চাঁদপুর

২১৯৪. প্রশ্ন

সিএনজি অটো রিকশার ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে সরকার এবং চালকপক্ষের মাঝে দ্বন্দ্ব চলছে। সরকার তাদের জমা কমিয়ে মিটারের কিলোমিটার প্রতি ভাড়া বাড়িয়ে দিয়ে মিটারে চলতে বাধ্য করছে। কিন্তু অনেক চালক আইন অমান্য করে পূর্বের ন্যায় চুক্তিতে চালাচ্ছে। অপর দিকে অনেক যাত্রী আইনের কারণে তাদেকে মিটারে যেতে বাধ্য করছে। অন্যথায় পুলিশের নিকট ধরিয়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হল :

ক) সরকারের জন্য উক্ত আইন করা ঠিক হয়েছে কি না?

খ) ঠিক হয়ে থাকলে চালকদের জন্য আইন অমান্য করে টাকা কামানো বৈধ কি না?

গ) চালকের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও যাত্রীদের জন্য সরকারি নিয়মে ভাড়া পরিশোধ করা ঠিক কি না?


উত্তর

ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটো রিক্সাগুলো নির্ধারিত মিটারের ভাড়ায় চালানোর শর্তেই শুল্ক ইত্যাদি রেয়ায়েত দিয়ে আমদানি ও বাজারজাত করার সুযোগ হয় এবং এ শর্তেই তাদেরকে রুট পারমিট দেওয়া হয়। মালিকরা উক্ত শর্ত মেনেই তা ক্রয় করে থাকে এবং চালকগণও সে শর্ত মেনে নিয়েই রাস্তায় গাড়ি চালায়। তাই সিএনজি মালিক ও চালকদের জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্ত মানা জরুরি। তাদের জন্য মিটার থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা ঠিক হবে না। আর যাত্রীদের জন্য মিটার অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করা বৈধ। এক্ষেত্রে চালকদের অসন্তুষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়; বরং চালক-মালিকের জন্য যাত্রীদের সাথে অসন্তোষ প্রকাশ করা বা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা অন্যায়

-সূরা মায়িদা : ১০; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/২৯৫; সহীহ মুসলিম ২/১২৫; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৩/৩২৩; আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৬৪; রদ্দুল মুহতার ২/১৮৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মতিউর রহমান - ভালুকা, ময়মনসিংহ

২১৯৩. প্রশ্ন

 

নামাযের দুআ মাছুরা আরবীতে না পড়ে বাংলায় এর অর্থটা পড়া যাবে কি এবং এতে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি?


 

উত্তর

নামাযের সকল দুআ ও যিকির আরবীতে পড়া জরুরি। অন্য ভাষায় পড়া মাকরূহ তাহরিমী। তাই নামাযে দুআ মাছুরার বাংলা অর্থ পড়া যাবে না; আরবী দুআই পড়তে হবে। বড় দুআ পড়তে না পারলে ছোট কোনো দুআ পড়বে। আর সম্ভব হলে নির্ধারিত দুআ মাছুরাটি মুখস্থ করে নিবে।

-কিতাবুল আসল ১/১৫; রদ্দুল মুহতার ১/৫২১, ১/৪৮৩; আহকামুন নাফাইস ফী আদাইল আযকার বিলিসানিল ফারিস (মাজমুআতু রাসায়িলিল লাখনভী ৪/৩৩৬) পৃ. ৩৪

শেয়ার লিংক