ফজর ও যোহর নামাযে কেউ যদি সুন্নতে মুআক্কাদা না পড়ে ফরয পড়ে ফেলে, তাহলে সে নামাযের সময় বাকি থাকাবস্থায় সুন্নত আদায় করতে পারবে কি?
ফজরের সুন্নত ফরযের পূর্বে পড়তে না পারলে সূর্যোদয়ের আগে সময় থাকলেও তখন সুন্নত পড়া যাবে না; বরং ছুটে যাওয়া সুন্নত সূর্যোদয়ের পর পড়ে নেবে। কেননা ফজরের ফরযের পর সূর্যোদয়ের আগে সুন্নত-নফল, যে কোনো নামায পড়া নিষেধ।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–
نَهَى رَسُولُ اللهِ ‘ عَنْ صَلاَتَيْنِ: بَعْدَ الفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ العَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সময় নামায পড়তে নিষেধ করেছেন, ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৮৮)
আরেকটি হাদীসে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন–
مَنْ لَمْ يُصَلِّ رَكْعَتَيِ الفَجْرِ فَلْيُصَلِّهِمَا بَعْدَ مَا تَطْلُعُ الشَّمْسُ.
যে ব্যক্তি ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) পড়েনি, সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা পড়ে নেয়। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৪২৩)
আর যোহরের পূর্বের সুন্নত আগে পড়তে না পারলে ফরয ও পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নত পড়ার পর ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই তা আদায় করে নেবে।
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–
أَنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ إِذَا لَمْ يُصَلِّ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ صَلاَّهُنَّ بَعْدَهَا.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের পূর্বে চার রাকাত (সুন্নত) আদায় করতে না পারলে যোহরের পর তা আদায় করতেন। (জামে তিরমিযী, বর্ণনা ৪২৬)
মনে রাখতে হবে, ফজর ছাড়া অন্য কোনো ওয়াক্তের সুন্নত নামায ওয়াক্তের পর কাযা করা যায় না।