ফারহান আবরার - মুহাম্মদপুর, ঢাকা

৬৮৬৬. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে বাসে করে ঢাকায় আসছিলাম। ঢাকায় পৌঁছে গাড়ি থেকে নামতে নামতে ৫:৫৫ বেজে যায়। তখন ফজরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার ১৪/১৫ মিনিট বাকি ছিল। আশেপাশে কোনো মসজিদ দেখতে পাচ্ছিলাম না। নামাযের সময়ও শেষ হয়ে যাচ্ছিল বিধায় তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নিই। নামায শেষে আমাকে বলা হয়, কাছেই একটি মসজিদ ছিল। কিন্তু তখন আমার হাতে ভারি তিনটি ব্যাগ থাকায় মসজিদ পর্যন্ত যাওয়াটা কষ্টকর ছিল। তাছাড়া সেখানে যেতে যেতে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে মনে করে আর যাইনি।

আমি জানতে চাই, উক্ত নামাযটি সহীহ হয়েছে কি না?

উত্তর

না, আপনার ওই নামায সহীহ হয়নি। কেননা যে এলাকায় পানির ব্যবস্থা আছে সেখানে ওযু করেই নামায আদায় করা জরুরি। এক্ষেত্রে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হলেও ওযু করেই ওই নামায পড়তে হবে। তায়াম্মুম করে পড়ে নিলে তা আদায় হবে না। সুতরাং আপনাকে উক্ত নামাযের কাযা করে নিতে হবে।

* >المحيط الرضوي< ১/১৬৬: وإن كان بينه وبين الماء أقل من ميل، لم يجزه التيمم، وإن خاف فوت الوقت.

আলমাবসূত, সারাখসী ১/১১৯; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৬৯; যাদুল ফুকাহা ১/৭৫; আলগায়া, সারুজী ১/৫০২; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৮৩; মাজমাউল আনহুর ১/৬৪

শেয়ার লিংক

আব্দুর রহমান রাশেদ - সিলেট

৬৮৬৭. প্রশ্ন

অনেকে সম্পূর্ণ কাপড় খুলে গোসল করে থাকেন। তাদেরকে কি গোসলের পর আবার ওযু করতে হবে, নাকি গোসলের পর ওযু না করলেও চলবে?

উত্তর

না, এরপর পুনরায় ওযু করতে হবে না; বরং সতর খোলা অবস্থায় গোসল করলেও এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন হয়ে যাবে এবং ওযু করা ছাড়াই এরপর নামায ইত্যাদি আদায় করা যাবে। সতর খোলা থাকা পবিত্রতা অর্জনে প্রতিবন্ধক নয়।

* >الفتاوى السراجية< ص ৭৩:  لو كشف إزاره في الحمام في الموضع المعد لذلك ليغسله ويعصره، لا بأس به.

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৬৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫১

শেয়ার লিংক

কাউসার আহমাদ - রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

৬৮৬৮. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে এক লোক প্রায় ইকামত দেয়। কিন্তু সমস্যা হল, ইমাম সাহেব নামাযের জন্য মেহরাবে দাঁড়ানোর পূর্বেই সে ইকামত শুরু করে দেয়।

আমি জানতে চাই, ইমাম সাহেব মেহরাবে দাঁড়ানোর আগে ইকামত শুরু করলে কি কোনো সমস্যা আছে?

উত্তর

ইমাম নামাযের জন্য মসজিদে প্রস্তুত থাকলে তিনি মেহরাবে এসে না পৌঁছালেও ইকামত শুরু করা যাবে। ইকামত শুরু করার জন্য ইমামের মেহরাবে উপস্থিত থাকা জরুরি নয়।

হাদীস শরীফে আছে, জাবের ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

كَانَ بِلَالٌ يُؤَذِّنُ، ثُمَّ يُمْهِلُ فَإِذَا رَأَى النَّبِيَّقَدْ خَرَجَ أَقَامَ الصَّلَاةَ.

বেলাল রা. আযান দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন হুজরা থেকে নামাযের জন্য বের হয়ে আসতে দেখতেন, তখন ইকামত বলা শুরু করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫৩৮)

তবে ইকামত শেষ হয়ে যাওয়ার আগে ইমাম মেহরাবে পৌঁছাতে পারবেন না বলে মনে হলে ইকামত দিবে না; বরং ইমাম আসার অপেক্ষা করবে।

আলমুফহিম লিমা আশকালা মিন কিতাবি মুসলিম ২/২২৩; ফাতহুল বারী ২/১৪২; মিরকাতুল মাফাতীহ ২/৩৫৫

শেয়ার লিংক

তাসনীম - আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ

৬৮৬৯. প্রশ্ন

ফজর ও যোহর নামাযে কেউ যদি সুন্নতে মুআক্কাদা না পড়ে ফরয পড়ে ফেলে, তাহলে সে নামাযের সময় বাকি থাকাবস্থায় সুন্নত আদায় করতে পারবে কি?

 

উত্তর

ফজরের সুন্নত ফরযের পূর্বে পড়তে না পারলে সূর্যোদয়ের আগে সময় থাকলেও তখন সুন্নত পড়া যাবে না; বরং ছুটে যাওয়া সুন্নত সূর্যোদয়ের পর পড়ে নেবে। কেননা ফজরের ফরযের পর সূর্যোদয়ের আগে সুন্নত-নফল, যে কোনো নামায পড়া নিষেধ।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

نَهَى رَسُولُ اللهِعَنْ صَلاَتَيْنِ: بَعْدَ الفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ العَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সময় নামায পড়তে নিষেধ করেছেন, ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৮৮)

আরেকটি হাদীসে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন

مَنْ لَمْ يُصَلِّ رَكْعَتَيِ الفَجْرِ فَلْيُصَلِّهِمَا بَعْدَ مَا تَطْلُعُ الشَّمْسُ.

যে ব্যক্তি ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) পড়েনি, সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা পড়ে নেয়। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৪২৩)

আর যোহরের পূর্বের সুন্নত আগে পড়তে না পারলে ফরয ও পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নত পড়ার পর ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই তা আদায় করে নেবে।

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

أَنَّ النَّبِيَّكَانَ إِذَا لَمْ يُصَلِّ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ صَلاَّهُنَّ بَعْدَهَا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের পূর্বে চার রাকাত (সুন্নত) আদায় করতে না পারলে যোহরের পর তা আদায় করতেন। (জামে তিরমিযী, বর্ণনা ৪২৬)

মনে রাখতে হবে, ফজর ছাড়া অন্য কোনো ওয়াক্তের সুন্নত নামায ওয়াক্তের পর কাযা করা যায় না।

* >المبسوط< للسرخسي ১/১৬১ : قال: (ولو صلى الرجل الفجر، ثم ذكر أنه لم يصل ركعتي الفجر، لم يقضهما) في قول أبي حنيفة وأبي يوسف رحمهما الله تعالى، وقال محمد رحمه الله تعالى: أحب إلي أن يقضيهما إذا ارتفعت الشمس. أما سائر السنن إذا فاتت عن موضعها، لم تقض عندنا.

 

শরহু মুশকিলিল আছার, তাহাবী ৪১৪২; আলজামিউস সগীর, পৃ. ৯০; আলমুহীতুর রাযাবী ১/২৬৭; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩০৬, ৩০৭; রদ্দুল মুহতার ২/৫৭

শেয়ার লিংক

তাজুল ইসলাম - চান্দিনা, কুমিল্লা

৬৮৭০. প্রশ্ন

আমাদের পাশের গ্রামের পরিচিত একজন গরিব বৃদ্ধ মানুষ অনেক দিন যাবৎ অসুস্থ। এখন পুরাপুরি শয্যাশায়ী। তার বৃদ্ধা স্ত্রী ছাড়া সব সময় তার খেদমত করার মতো কেউ নেই। প্রাকৃতিক প্রয়োজনগুলো তাকে নিজের রুমেই সারতে হয়। তিনি ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে সক্ষম নন। প্রায়ই শরীরে, কাপড়ে, বিছানায় নাপাকী থেকে যায়।

তিনি জানতে চেয়েছেন, এ অবস্থায় নামায পড়লে তা আদায় হবে কি না? সম্মানিত মুফতি সাহেবের কাছে মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটি নিজ সক্ষমতা অনুযায়ী পবিত্রতা অর্জনের চেষ্টা করবে। নিজ সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী পবিত্রতা অর্জনের পর শরীরে, কাপড়ে নাপাকী রয়ে গেলেও নামায আদায় হয়ে যাবে।

* >الفتاوى الخانية< ১/১৭৩ : مريض تحته ثياب نجسه، إن كان لا يبسط شيئا إلا ويتنجس من ساعته، يصلي على حاله، وكذا إذا لم يتنجس الثاني، لكنه يلحقه زيادة مشقة بالتحويل.

ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১১৪; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩৭২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬৭৮; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০৩

শেয়ার লিংক

শাব্বির - পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়

৬৮৭১. প্রশ্ন

গত রমযানে একদিন আমরা দুই ভাই রাস্তা দিয়ে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ রাস্তার পাশের খেত থেকে একটি ছোট পোকা এসে আমার মুখে ঢুকে যায়। সাথে সাথেই গলা পর্যন্ত চলে যায়। অনেক চেষ্টা করেও বের করতে পারিনি। পরে তা পেটে চলে যায়।

জানার বিষয় হল, এতে কি আমার রোযাতে কোনো সমস্যা হয়েছে?

উত্তর

না, এ কারণে আপনার রোযার কোনো ক্ষতি হয়নি। তা আদায় হয়ে গেছে। কোনো পোকা, মশা-মাছি ইত্যাদি অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর চলে গেলে রোযা নষ্ট হয় না।

মুজাহিদ রাহ. থেকে বর্ণিত

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ؛ فِي الرَّجُلِ يَدْخُلُ حَلْقَهُ الذُّبَابُ، قَالَ : لاَ يُفْطِرُ.

(রোযা অবস্থায়) কারও গলায় মাছি চলে গেলে এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এতে তার রোযা ভাঙবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৯৮৮৬)

* >بدائع الصنائع< ২/২৩৮ : ولو دخل الذباب حلقه لم يفطره؛ لأنه لا يمكنه الاحتراز عنه، فأشبه الناسي، ولو أخذه فأكله فطره؛ لأنه تعمد أكله، وإن لم يكن مأكولا، كما لو أكل التراب.

আলজামিউস সগীর, পৃ. ১৪০; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/৯৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৮২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫

শেয়ার লিংক

রাশেদুল ইসলাম - ফরিদপুর

৬৮৭২. প্রশ্ন

রমযানে রোযা অবস্থায় ওযু বা কুলি করার পর মুখের ভেতর পানির ভেজা ভাব থেকে যায়। এজন্য আমি বারবার থুথু ফেলি। অনেক সময় থুথু ফেলার পরও মুখে পানির আর্দ্রতা থেকে যায়। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? পানির এই ভেজা ভাব গলায় গেলে কি আমার রোযা ভেঙে যাবে?

উত্তর

কুলি করে পানি ফেলে দেওয়ার পর মুখে পানির যে সামান্য ভেজা ভাব থাকে, সেজন্য রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। তা দূর করার জন্য বারবার থুথু ফেলা অনর্থক কাজ। এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।

* >الفتاوى البزازية< ১/১০০: وكذا إذا بقي بعد المضمضة ماء، فابتلعه بالبزاق، لم يفطر، لتعذر الاحتراز.

আলহাবিল কুদসী ১/৩১৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩৮; ফাতহুল কাদীর ২/২৫৮; গুনইয়াতু যাবিল আহকাম ১/২০২; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ৩৬১

শেয়ার লিংক

আরশাদ - মিরপুর, ঢাকা

৬৮৭৩. প্রশ্ন

বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় আমার খালুর অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এতে তিনি অনেক টাকা ঋণী হয়ে যান। তিনি এখন তেমন কোনো উপার্জনও করতে পারছেন না। এদিকে শৌখিন জীবনযাপনে অভ্যস্ত থাকায় হাতে টাকা এলেই ঋণ আদায় না করে নিজের কাজে খরচ করে ফেলেন। আমরা ঋণ আদায় করে দিতে চাইলে বলেন, আমার কাছে দাও। আমি আদায় করে দেব। কিন্তু পরে আর আদায় করেন না। তিনি এখন যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত।

এখন আমরা চাচ্ছি, আমাদের যাকাতের টাকা থেকে তার ঋণগুলো তাকে না জানিয়ে পরিশোধ করে দেব।

জানার বিষয় হল, এভাবে যাকাত আদায় করলে কি আমাদের যাকাত আদায় হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

না, তার সম্মতি না নিয়ে যাকাতের টাকা দিয়ে তার ঋণ পরিশোধ করে দিলে এতে আপনাদের যাকাত আদায় হবে না; বরং যাকাতের টাকা দ্বারা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তির ঋণ আদায় করতে চাইলে ঋণ পরিশোধ করার আগেই তার থেকে অনুমতি নেওয়া জরুরি। অবশ্য এক্ষেত্রে যাকাতের টাকা দ্বারা ঋণ আদায়ের কথা তাকে জানানো জরুরি নয়; বরং তার থেকে শুধু এতটুকু সম্মতি নিলেই হবে যে, তার অমুক ঋণ আপনারা আদায় করে দিচ্ছেন। এতেই আপনাদের যাকাত আদায় হয়ে যাবে।

* >فتح القدير< ২/২০৮: (قوله: لأن قضاء دين الغير لا يقتضي التمليك منه) ... ومحمل هذا أن يكون بغير إذن الحي، أما إذا كان بإذنه وهو فقير، فيجوز عن الزكاة، على أنه تمليك منه، والدائن يقبضه بحكم النيابة عنه، ثم يصير قابضا لنفسه.

ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৮০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৩

শেয়ার লিংক

মুসআব উমায়ের - বেলাব, ঘোড়াশাল

৬৮৭৪. প্রশ্ন

আমার ওপর এ বছর যাকাত ফরয হয়েছে। আমার ইচ্ছা হল, এ বছর যাকাত আদায় না করে ব্যবসায় খাটিয়ে রাখব। আর সামনের বছর এ বছরের যাকাতসহ আদায় করে দিব।

আমার জানার বিষয় হল, এ বছরের যাকাত সামনের বছর পর্যন্ত বিলম্ব করা যাবে কি না?

উত্তর

না, আপনার জন্য এমনটি করা ঠিক হবে না। যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পর বিলম্ব না করে যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে যাকাত আদায় করে দেওয়াই শরীয়তের বিধান। যাকাত আদায়ে কিছু যুক্তিসংগত সময় বিলম্বের অবকাশ থাকলেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত অযথা বিলম্ব করা গুনাহ। তাই আরেকটি যাকাতবর্ষ এসে যাওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা ঠিক হবে না।

* >شرح مختصر الكرخي< للقدوري ২/৬৩৭ : قال أبو الحسن: إنها تجب على الفور، وعن أبي يوسف ما يدل عليه، وهو قول الشافعي. وذكر الحاكم في المنتقى: إذا كان له مائتا درهم، فحال عليها حولان، فلم يزكها، فقد أساء وأثم، ولم يحل له ما صنع، وعليه زكاة حول واحد. وقال محمد: من لم يؤد الزكاة، لم تقبل شهادته، وروي عنه: أن التأخير لا يجوز.

আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়েখ, পৃ. ১২৪; আলমুহীতুর রাযাবী ১/৪৮৪; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/৩১৪; ফাতহুল কাদীর ২/১১৪; রদ্দুল মুহতার ২/২৭২

শেয়ার লিংক

আশিকুল্লাহ - জয়দেবপুর, গাজীপুর

৬৮৭৫. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমার বাবা প্রত্যেক বছর যে পরিমাণ যাকাত ওয়াজিব হয় তা আত্মীয়স্বজন ও গরিব লোকদের মাঝে ধীরে ধীরে পুরো বছরে আদায় করে দেন। এ বছর বাবার যাকাত এসেছে পঞ্চাশ হাজার টাকা। তিনি এ টাকাগুলো আলাদা করে রাখেন এবং এখান থেকে বিশ হাজার টাকা আদায় করে দেন। বাকি টাকাগুলো আদায় করার আগেই বাবার ইন্তেকাল হয়ে যায়। অবিশিষ্ট যাকাত আদায় করে দেওয়ার কথাও কাউকে বলে যেতে পারেননি।

জানার বিষয় হল, উক্ত টাকায় ওয়ারিশদের করণীয় কী? তা কি যাকাত হিসেবে আদায় করা জরুরি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বাবার যাকাত হিসেবে এই টাকাগুলো সদকা করে দেওয়া আপনাদের ওপর জরুরি নয়। তবে আপনার বাবা যেহেতু যাকাত আদায়ের নিয়তে এই টাকাগুলো পৃথক করে সেখান থেকে যাকাত আদায় করে যাচ্ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করে ইন্তেকাল করার কারণে বাকি টাকাগুলো সদকা করতে পারেননি। আর সেই পরিমাণ টাকা সদকা না করা হলে তার জিম্মায় এ পরিমাণ যাকাত অনাদায়ি থেকে যাবে, তাই এক্ষেত্রে আপনাদের জন্য তা আপনার বাবার পক্ষ থেকে যাকাতের নিয়তে সদকা করে দেওয়াই উত্তম হবে। যাতে করে তার অবশিষ্ট যাকাত আদায় হয়ে যায়।

অবশ্য ওয়ারিশদের কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকলে তার অংশ থেকে সদকা করা যাবে না। তখন প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশগণ সেই অংশ তাদের থেকে দিবে।

* >الحجة على أهل المدينة< ১/২৯২ : قال أبو حنيفة في رجل هلك، ولم يؤد زكاة ماله، وقد وجبت عليه ... فإن لم يأمر بها الميت، ولم يوص بوصية، ففعل أهله ذلك، فهو أقرب إلى الصواب، وإن لم يفعلوا لم يلزمهم أن يفعلوا.

ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৩; আলইখতিয়ার ১/৩৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২১১; আননাহরুল ফায়েক ১/৪১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩

শেয়ার লিংক

বায়েযীদ হাসান নাঈম - ফুলপুর, ময়মনসিংহ

৬৮৭৬. প্রশ্ন

একবার রাতে নফল তাওয়াফ করছিলাম। ছয় চক্কর তাওয়াফের পর আমার ইস্তেঞ্জার জরুরত হয়। তখন সাত চক্কর পূর্ণ করে ইস্তেঞ্জা করতে যাই। ওযু-ইস্তেঞ্জা থেকে ফারেগ হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে পুনরায় মাতাফে এসে দ্বিতীয় তাওয়াফ শুরু করি।

দ্বিতীয় তাওয়াফের দুই চক্কর দেওয়ার পর মনে পড়ে যে, প্রথম তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়া হয়নি। কিন্তু যেহেতু দ্বিতীয় তাওয়াফ শুরু করে দিয়েছি, তাই এই তাওয়াফও পূর্ণ করি। তারপর দুই তাওয়াফের জন্য দুই-দুই করে চার রাকাত নামায পড়ি।

জানতে চাই, আসলে এক্ষেত্রে মাসআলা কী? তাওয়াফের দুই রাকাত না পড়ে কেউ যদি ভুলে দ্বিতীয় তাওয়াফ শুরু করে, তাহলে তার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয় তাওয়াফ পূর্ণ করে আগের তাওয়াফের নামায আদায় করা ঠিক হয়েছে। কেননা তাওয়াফ পরবর্তী দুই রাকাত নামাযের কথা ভুলে যদি কেউ আরেক তাওয়াফ শুরু করে দেয়, অতঃপর এক চক্কর বা এর বেশি পূর্ণ করার পর আগের তাওয়াফের নামাযের কথা মনে পড়ে, তাহলে নিয়ম হল, সে চলতি তাওয়াফটি পূর্ণ করে নেবে। অতঃপর উভয় তাওয়াফের নামায পড়ে নেবে। আর যদি পরবর্তী তাওয়াফের এক চক্কর পূর্ণ করার আগেই পূর্ববর্তী তাওয়াফের নামাযের কথা মনে পড়ে, তাহলে সে ওই তাওয়াফ পূর্ণ না করে আগে পূর্বের তাওয়াফের নামায পড়ে নেবে।

উল্লেখ্য, তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামায তাওয়াফ শেষ করার পর বিলম্ব না করে আদায় করা, বিশেষ করে পরবর্তী তাওয়াফের আগে পড়ে নেওয়া সুন্নত। কোনো ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত এক তাওয়াফের নামায না পড়ে আরেক তাওয়াফ আদায় করা মাকরূহ।

* >فتح القدير< ২/৩৬০: لو نسيهما، فلم يتذكر إلا بعد أن شرع في طواف آخر، إن كان قبل إتمام شوط رفضه. وبعد إتمامه لا، لأنه دخل فيه، فيلزمه إتمامه، وعليه لكل أسبوع منهما ركعتان.

আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৪৮; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/২৯৩; আলবাহরুল আমীক ২/১২৪৫, ১২১৪৭; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী, পৃ. ১৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৯; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃ. ১১৬-১১৭

শেয়ার লিংক

মোহাম্মাদ ইলিয়াস হোসাইন - গুরুদাসপুর, নাটোর

৬৮৭৭. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের মসজিদটি ওয়াকফকৃত জমিতে নির্মিত হয়েছে, তার উত্তর দেওয়ালের সাথে লাগোয়া ওযুখানা ও গোসলখানা এবং টয়লেট মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গাতেই তৈরি। কিন্ত এটা মসজিদের অংশ নয়।

এখন প্রশ্ন হল, এই ওযুখানা ও টয়লেটের ছাদে ইমাম সাহেবের জন্য ফ্যামিলি কোয়ার্টার তৈরি করা যাবে কি?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মসজিদের ওযুখানা, টয়লেটের অংশের ছাদে ইমামের জন্য ফ্যামিলি কোয়ার্টার তৈরি করা যাবে। এতে অসুবিধা নেই।

* >المحيط البرهاني< ৯/১২৭ : في الحاوي وفي المنتقى: إذا بنى الرجل مسجدا، وبنى فوقه غرفة، وهو في يده، فله ذلك، وإن كان حين بناه خلى بينه وبين الناس، ثم جاء بعد ذلك يبنى، لا يترك.

খিযানাতুল আকমাল ৪/৪৬৫; মিরাজুদ দিরায়া ৫/৫৫৩; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৪৫; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৫৮

শেয়ার লিংক

আহমদ হাসান - ঢাকা

৬৮৭৮. প্রশ্ন

আমি একটি ব্যবসা পরিচালনা করি। ব্যবসাটা সম্পূর্ণ লিজিং পদ্ধতিতে হয়। আমি একজনের থেকে জমি লিজ নিয়ে আরেক জায়গায় লিজ দেই।

বিষয়টা ঠিক এরকম, আমি খালেদের উকিল হয়ে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে তার মালিকানাধীন জমি নগদ ১ লক্ষ টাকায় ১ বছরের জন্য খালেদের নামেই লিজ নিই। অতঃপর খালেদের কাছ থেকে সেই জমি আমি আমার জন্য বাকিতে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় ১ বছরের জন্য লিজ নিই। অতঃপর আমি এই জমিটিকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় সম্পূর্ণ তৃতীয় আরেক ব্যক্তির কাছে বাকিতে ১ বছরের জন্য লিজ দেই। এখন তৃতীয় ব্যক্তি এক বছর ধরে চাষাবাদ করে সে আমাকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। আমি খালেদেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করি।

এই ব্যবসা প্রক্রিয়া শরীয়তসম্মত কিনা?

উত্তর

প্রশ্নে আপনি যে লিজিং কারবারের বিবরণ দিয়েছেন, এতে খালেদ নামক প্রথম ব্যক্তি জমিটি লিজ নেওয়ার পর সে যদি তাতে কোনো সংস্কারমূলক কাজ না করে জমিটি যে অবস্থায় ভাড়া নিয়েছে সেভাবেই আপনার কাছে অতিরিক্ত ভাড়ার বিনিময়ে তা লিজ দেয় এবং আপনিও সংস্কারমূলক কোনো কাজ না করে এভাবেই তৃতীয় ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত ভাড়ার বিনিময়ে জমিটি লিজ দেন, তাহলে আপনাদের এই বাড়তি ভাড়ায় লিজ দেওয়া বৈধ হবে না। কেননা কোনো কিছু ভাড়া নিয়ে তাতে সংস্কারমূলক কোনো কাজ না করে সেটি যেভাবে ভাড়া নেওয়া হয়েছে সে অবস্থায়ই অন্যের কাছে বাড়তি ভাড়ায় লিজ দেওয়া জায়েয নয়; বরং তাতে ভাড়াগ্রহীতা সংস্কার/উন্নয়নমূলক কোনো কাজ করলে কেবল তখনই তার জন্য বাড়তি ভাড়া নেওয়া জায়েয হবে।

কাতাদা রাহ. বর্ণনা করেন

عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَابْنِ عُمَرَ : أَنَّهُمَا كَانَا يَكْرَهَانِ إذَا اسْتَأْجَرَ الرَّجُلُ الشَّيْءَ أَنْ يُؤَاجِرَهُ بِأَكْثَرَ مِمَّا اسْتَأْجَرَهُ.

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. কোনো কিছু ভাড়া নেওয়ার পর তা বাড়তি ভাড়ায় (অন্যের কাছে) ভাড়া দেওয়াকে পছন্দ করতেন না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২৩৭৬০)

ইমাম আবদুর রায্যাক রাহ. বলেন

أَخْبَرَنَا الثَّوْرِيُّ، وَسَأَلَهُ عَنِ الرَّجُلِ يَسْتَأْجِرُ ذَلِكَ، ثُمَّ يُؤَاجِرُهُ بِأَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ، وَحُصَيْنٌ عَنِ الشَّعْبِيِّ، وَرَجُلٌ عَنْ مُجَاهِدٍ: أَنَّهُمْ كَانُوا يَكْرَهُونَهُ، إِلَّا أَنْ يُحْدِثَ فِيهِ عَمَلًا.

সুফিয়ান সাওরী রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, কোনো কিছু ভাড়া নেওয়ার পর তা বাড়তি ভাড়ায় অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার কী হুকুম?

তিনি বলেন, ইবরাহীম নাখায়ী, শাবী ও মুজাহিদ রাহ. তারা সকলে (কোনো কিছু ভাড়া নেওয়ার পর) তাতে (সংস্কারমূলক) কোনো কাজ না করে বাড়তি টাকায় ভাড়া দেওয়াকে পছন্দ করতেন না। (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ১৪৯৭১)

* كتاب >الأصل< ৩/৪২৮: محمد عن أبي يوسف عن حصين بن عبد الرحمن عن عامر الشعبي: أنه قال في رجل استأجر بيتا فآجره بأكثر مما استأجره، فقال عامر: لا بأس بذلك، إذا كان يفتح بابه ويغلقه ويخرج متاعه فلا بأس بالفضل. وقال أبو حنيفة: إذا أصلح في البيت شيئا فلا بأس بالفضل، وإن لم يصلح فيه شيئا بتطيين أو تجصيص أو لا يزيد فيه شيئا فلا خير في الفضل، ويتصدق به.

আলমাবসূত, সারাখসী ১৫/১৩০; খিযানাতুল আকমাল ৩/৮২; আয্যাখীরাতুল বুরহানিয়া ১১/৪৭৭; আলবাহরুর রায়েক ৭/৩০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪২৫

শেয়ার লিংক

ফারিহা মাহজাবিন - ঢাকা

৬৮৭৯. প্রশ্ন

আমি একজন মহিলাকে প্রতিদিন পড়াব। এর বিনিময়ে তিনি আমাকে প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা। তার স্বামী ব্যাংকে চাকরি করেন। স্বামীর বেতন থেকেই তিনি আমাকে এ টাকা দেবেন।

আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় কি তার কাছ থেকে বেতন গ্রহণ করা আমার জন্য বৈধ হবে?

আমার সন্দেহের জায়গাটা হচ্ছে, মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার কারণে কি এ টাকার হাইছিয়্যত পরিবর্তন হয়ে যাবে না? لك صدقة ولنا هدية এর মতো এক্ষেত্রেও কি এটাকে হালাল বলা যেতে পারে না? অনুগ্রহ করে স্পষ্টভাবে জানাবেন।

আর যদি তার অন্য কোনো হালাল ইনকাম থাকে (থাকলেও সেটা হয়ত খুব সামান্যই হয়ে থাকবে) সেক্ষেত্রে কি হুকুমে কোনো পরিবর্তন আসবে?

বিষয়টি নিয়ে খুব পেরেশানীতে ভুগছি। তাকে পড়ানো না পড়ানোর সিদ্ধান্ত এটার ওপর নির্ভর করছে। অনুগ্রহ করে দ্রুত জানাবেন। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি নিশ্চিতভাবেই জানেন যে, ব্যাংকের চাকুরি থেকে প্রাপ্ত আয় থেকেই আপনাকে বেতন দেওয়া হবে, তাই আপনার জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কোনো টাকার বিষয়ে যদি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে যে, তা হারামভাবে অর্জিত, তবে তা কোনো শ্রম বা পণ্যের বিনিময় হিসেবে গ্রহণ করাও বৈধ নয়।

আর যদি তাদের হালাল আয়ও থাকে এবং আপনাকে সরাসরি হালাল অর্থ থেকেই পারিশ্রমিক প্রদান করে, তাহলে আপনি তা নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনি তাকে বিষয়টি এভাবে বুঝিয়ে দেবেন, যেন সে সব সময় তার হালাল আয় থেকেই আপনার বেতন প্রদান করে।

* >غمز عيون البصائر< ১/৩৪৫ : لرجل مال حلال، اختلطه مال من الربا أو الرشاة أو الغلول أو السحت، أو من مال الغصب أو السرقة أو الخيانة أو من مال يتيم، فصار ماله كله شبهة، ليس لأحد أن يشاركه أو يبايعه أو يستقرض منه أو يقبل هديته أو يأكل في بيته.

আলমুলতাকাত ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ২৬৮; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ৭/৩৩০; আলআশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ১২৫; রদ্দুল মুহতার ৫/৯৮

শেয়ার লিংক

মুআয - কুমিল্লা

৬৮৮০. প্রশ্ন

আমার বাড়ি কুমিল্লা। আমি ঢাকায় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করি। কিছুদিন আগে বাড়িতে যাওয়ার সময় কয়েকজন সাথি আমার কাছে কুমিল্লার রসমালাই আনার জন্য টাকা দেয়। আমি আমার চাচার দোকান থেকে তাদের জন্য রসমালাই নিয়ে আসি। কিন্তু চাচা আমার থেকে রসমালাইয়ের মূল্য রাখেননি।

প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে কি ওই সাথিদেরকে তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দিতে হবে? আমি যদি তাদেরকে ওই টাকা ফেরত না দিয়ে নিজে রেখে দেই, তাহলে তা বৈধ হবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচা রসমালাইগুলো আপনাকেই দিয়েছেন। এ কারণে আপনি এর মালিক হয়ে গেছেন। এখন আপনার সাথিদেরকে আপনি তা বিনামূল্যেও দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাদেরকে তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন। আবার চাইলে তা নির্ধারিত মূল্যেও দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ওই টাকা তাদেরকে ফেরত দিতে হবে না। ওই টাকা মূল্য বাবদ আপনি নিজে রেখে দিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, আপনার উচিত ছিল, চাচাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া যে, আপনি অন্যের অর্ডারে তাদের জন্য পণ্যগুলো নিচ্ছেন, তখন হয়তো চাচা এর ন্যায্য মূল্য রেখেই তা দিতেন। তাই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্কতা কাম্য।

* كتاب >الأصل< للشيباني ১১/২৮৮ : وإن حط عنه من الثمن شيئا، فإن الوكيل يحط مثل ذلك عن الآمر. ولو وهب البائع الثمن كله للوكيل،كان للوكيل أن يأخذ الثمن كله من الآمر.

আলমুহীতুর রাযাবী ৮/১৩২-১৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ১৫/৬৫; আলবাহরুর রায়েক ৭/১৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৫৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৫১৬

শেয়ার লিংক

ইয়াসিন - ঢাকা

৬৮৮১. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের একজন বলেছে, আকীকা সপ্তম দিনেই আদায় করতে হয়। এর পর করলে সেটা আকীকা হিসেবে আদায় হয় না; বরং সাদকা হয়ে যাবে।

আমার জানার বিষয় হল, সপ্তম দিনেই কি আকীকা করা সুন্নত? যদি সাত দিনের মধ্যে আকীকা করতে না পারে তাহলে অন্য কোনো সময় আদায় করলে কি তা আদায় হবে? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আকীকার সর্বোত্তম সময় সন্তান জন্মের সপ্তম দিন। তবে সন্তান জন্মের সপ্তম দিনের পর আকীকা করলেও তা আকীকা হিসেবেই আদায় হয়; সাধারণ সাদকা হিসেবে নয়। এক হাদীসে সপ্তম দিনের পরও আকীকা করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন

وَلْيَكُنْ ذَاكَ يَوْمَ السَّابِعِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَفِي أَرْبَعَةَ عَشَرَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَفِي إِحْدَى وَعِشْرِينَ.

আকীকা সপ্তম দিন করবে। সপ্তম দিনে করা না গেলে চৌদ্দতম দিনে করবে। আর তাও না করা গেলে একুশতম দিনে করবে। (মুস্তাদরাকে হাকেম, বর্ণনা ৭৬৬৯)

ফকীহগণ বলেছেন, এভাবে পরবর্তীতে যে কোনো দিন আকীকা করলেও আকীকা আদায় হয়ে যাবে এবং সেক্ষেত্রে যথাসম্ভব সপ্তম দিনের খেয়াল করে যে বারে তার জন্ম এর আগের দিন করবে।

তবে আকীকার সর্বোত্তম সময় সন্তান জন্মের সপ্তম দিনই। হাদীস শরীফে সাধারণত সেই দিন আকীকার কথাই বর্ণিত হয়েছে। তাই বিশেষ কোনো ওজর না থাকলে আকীকা সন্তান জন্মের সপ্তম দিনই করে ফেলা উচিত।

উল্লেখ্য, আকীকার জন্য যিয়াফত বা উৎসব করার কিছু নেই; বরং আকীকার নিয়তে পশু জবাই দিলেই তা আদায় হয়ে যাবে।

* >العقود الدرية في تنقيح الفتاوى الحامدية< ২/২৩২ : ولو قدم يوم الذبح قبل يوم السابع أو أخره عنه جاز، إلا أن يوم السابع أفضل.

জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫২২; আসসিরাজুল ওয়াহ্হাজ ১১/৫৩৫; ফয়জুল বারী ৪/৩৩৭; তুহফাতুল মাওদূদ, পৃ. ৬৪; ইলাউস সুনান ১৭/১১৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৩৬ 

শেয়ার লিংক