আবদুল হালীম - চিটাগাং রোড, নারায়ণগঞ্জ

৬৮৮২. প্রশ্ন

আমার পায়ে আঘাত লাগার কারণে ব্যান্ডেজ বাঁধা। ওযুতে আমি ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করে থাকি। তবে মাঝে মাঝে বেখেয়ালিতে ব্যান্ডেজের অল্প অংশ মাসেহ থেকে বাদ থেকে যায়, যা পরে বুঝতে পারি।

জানার বিষয় হল, এতে কি আমার ওযুতে কোনো সমস্যা হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ওযু সহীহ হয়ে যাবে। ওযু-গোসলে ব্যান্ডেজের পুরো অংশের ওপর মাসেহ করা জরুরি নয়; বরং অধিকাংশ ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করলেও মাসেহ সহীহ হয়ে যায়। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কিছু অংশ মাসেহ থেকে বাদ থেকে গেলেও ওযু-গোসলে সমস্যা হবে না।

* >الفتاوى الخانية< ১/৫০ : وإذا مسح على الجبيرة، هل يشترط فيه الاستيعاب؟ ذكر الشيخ الإمام المعروف بخواهر زاده رحمه الله تعالى أنه لا يشترط فيه الاستيعاب. وإن مسح على الأكثر جاز، وإن مسح على النصف وما دونه، لا يجوز.

বাদায়েউস সানায়ে ১/৯১; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৬; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/৩৩৮; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ১/৪০৫; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৩৪৯; আননাহরুল ফায়েক ১/১২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৮২

শেয়ার লিংক

মাহমুদ হাসান - টাকশাল, গাজীপুর

৬৮৮৩. প্রশ্ন

আমার ফুফু দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। ডাক্তার পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তাই তাকে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করতে হয়।

জানার বিষয় হল, একটি মাটির টুকরা দিয়ে কি একাধিকবার তায়াম্মুম করা যাবে?

উত্তর

হাঁ, একটি মাটির টুকরার ওপর একাধিকবার তায়াম্মুম করা যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। প্রত্যেকবার তায়াম্মুমের জন্য নতুন মাটি জরুরি নয়।

* كتاب >الأصل< للشيباني ১/১০২: قلت: أرأيت رجلا وضع يديه على الصعيد، فتيمم به، ثم إن آخر تيمم بما تيمم به الأول من الصعيد؟ قال: يجزيه.

আলমাবসূত, সারাখসী ১/১২১; আলমুহীতুর রাযাবী ১/১৬৫; আলহাবিল কুদসী ১/১৩০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৩৬; আননাহরুল ফায়েক ১/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩১

শেয়ার লিংক

রাবেয়া বসরী - মুগদা, ঢাকা

৬৮৮৪. প্রশ্ন

আমার সাধারণত প্রতি মাসের শুরুর দিকে সাত দিন হায়েয হয়ে থাকে। কিন্তু গত মাসে সপ্তম দিন হায়েয বন্ধ না হয়ে বারোতম দিন পর্যন্ত চালু থাকে। এরপর বন্ধ হয়।

জানার বিষয় হল, গত মাসে আমার কতদিন হায়েয গণ্য হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাত দিনের পর রক্ত বন্ধ না হয়ে যেহেতু দশ দিন অতিক্রম করে গেছে, তাই এক্ষেত্রে আগের মাসের তারিখ অনুযায়ী সাত দিনই হয়েয গণ্য হবে। এরপর থেকে অতিরিক্ত দিনগুলো ইস্তেহাযা গণ্য হবে। সুতরাং সপ্তম দিনের পরের দিনগুলোতে আপনি যদি নামায না পড়ে থাকেন, তাহলে সেগুলো কাযা করে নেওয়া জরুরি।

* كتاب >الأصل< ১/২৮৮: قلت: أرأيت امرأة كان حيضها خمسة أيام في كل شهر، ثم زاد يوما، أتصلي ذلك اليوم؟ قال: لا، وهي فيه حائض. قلت: وكذلك لو زادت خمسة أيام؟ قال: نعم. قلت: فإن زادت على العشرة الأيام يوما أو يومين؟ قال: هذه مستحاضة فيما زادت على عشرة أيام، فتكون مستحاضة فيما زاد على أيام أقرائها. قلت: فهل عليها قضاء ما زادت على أيام أقرائها؟ قال: نعم.

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮৭; তুহফাতুল ফুকাহা ১/৩৪; আলইখতিয়ার ১/১০৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৭৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২১২; আননাহরুল ফায়েক ১/১৩৮

শেয়ার লিংক

নুসাইবা তাসনীম - সাভার, ঢাকা

৬৮৮৫. প্রশ্ন

আমি এক মহিলা মাদরাসায় হিফজ বিভাগে শিক্ষকতা করি। আমাকে মাসিকের দিনগুলোতেও ছাত্রীদের সবক, সাত সবক, আমুখতা শুনতে হয়।

আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় কি তাদের সবক ইত্যাদি শোনা যাবে? এক্ষেত্রে ছাত্রীরা যদি ভুল করে, তাহলে কীভাবে শুধরে দেব?

উত্তর

মাসিক  স্রাব চলা অবস্থায় কুরআন মাজীদ স্পর্শ না করে অন্যের থেকে তিলাওয়াত শোনা জায়েয আছে। এতে সমস্যা নেই। তবে এ অবস্থায় কাউকে সবক বলে দেওয়ার জন্যও কোনো আয়াত পড়া নিষেধ। তাই মহিলাগণ ওজরের সময় কুরআন মাজীদ শুধু শুনতে পারবেন। কিন্তু পুরো আয়াত বলবেন না। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে এক-দুই শব্দ বলে দিতে পারবেন। পুরো আয়াত বা বড় কোনো বাক্য বলবেন না।

* >الفتاوى الولوالجية< ১/৫৭: المعلمة في حالة الحيض تعلم الصبيان حرفا حرفا، ولا تعلمهم آية كاملة؛ لأن الضرورة تندفع بالأول، والمسقط هي الضرورة.

আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ১/৪১; ফাতহুল কাদীর ১/১৪৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/৩৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২০০

শেয়ার লিংক

মুহা. নাজমুল হাসান নাদীম - মালিবাগ, ঢাকা

৬৮৮৬. প্রশ্ন

আমাদের মাদরাসার ডান পাশে একটি মসজিদ আছে। পাশে বলতে মসজিদের নামাযের কাতারগুলো মাদরাসার কাতারের সাথে লাগানো আছে। প্রথম তলায় মাদরাসার ভেতর দিয়েই মসজিদে যাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় তলাতেও মসজিদের কাতারের সাথে মাদরাসার কাতারের এভাবে মিল রয়েছে যে, ওই তলা থেকেই সরাসরি মাদরাসা থেকে মসজিদে যাওয়া যায়। ওয়াক্তিয়া নামাযের সময় ইমাম সাহেব প্রথম তলায় নামায পড়ান। আমরা মাদরাসার দ্বিতীয় তলায় মসজিদের কাতারের সাথে মিলিয়ে কাতার করে দাঁড়াই। তখন মাদরাসার প্রথম তলায় ও মসজিদের দ্বিতীয় তলায় কোনো মুসল্লী থাকে না।

জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমাদের নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

এভাবে মসজিদের মূল জামাতের জায়গা খালি কিংবা অপূর্ণ রেখে সংযুক্ত ভবনে মসজিদের জামাতের সাথে নামায আদায় করা ঠিক নয়। বরং আপনাদের দায়িত্ব, মূল মসজিদে এসে নামায আদায় করা। যথাসম্ভব মসজিদের যে ফ্লোরে ইমাম দাঁড়ান সে ফ্লোরে এসে দাঁড়ানো। আর বিশেষ ওজর হলে অন্তত দ্বিতীয় তলায় মাদরাসার অংশে না দাঁড়িয়ে মসজিদের অংশে দাঁড়ানো। অন্যথায় কাতার ফাঁকা রাখার কারণে তা দূষণীয় হবে।

অবশ্য আপনাদের মাদরাসা ও মসজিদ ভবন যেহেতু সংযুক্ত, এমনকি মাদরাসা ভবনের নামাযের কাতার মসজিদের কাতারের সাথেই মেলানো, তাই মাদরাসার দ্বিতীয় তলা থেকে মসজিদের সাথে মিলিয়ে কাতার করে এতদিন যে নামাযগুলো পড়েছেন, তা আদায় হয়ে গেছে।

* >بدائع الصنائع< ১/৩৬২: وكذلك لو كان على سطح بجنب المسجد، متصل به، ليس بينهما طريق، فاقتدى به صح اقتداؤه عندنا.

খিযানাতুল আকমাল ১/৫৪; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৯৪; যাদুল ফাকীর, পৃ. ১৫৯; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৩৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৮৭; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭০

শেয়ার লিংক

জুনায়েদ - উত্তরা, ঢাকা

৬৮৮৭. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমি আমার এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। রাতে ঘুমানোর আগে আমি আমার কামরায় এশার নামায পড়তে দাঁড়াই। নামাযের মাঝে আমার বন্ধু কামরায় এসে আমাকে দেখে বলে, তুমি উত্তর দিকে ফিরে নামায পড়ছ। তার কথা শুনে আমি সাথে সাথে পশ্চিম দিকে ফিরে যাই। নামাযের শুরুতে আমি উত্তর দিককেই কিবলার দিক ভেবে দাঁড়িয়েছিলাম।

জানার বিষয় হল, আমার ওই নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

না, আপনার ওই নামায সহীহ হয়নি। কেননা এক্ষেত্রে কিবলার দিক সম্পর্কে কাউকে জিজ্ঞাসা না করে নিজে ধারণা করে ভুল দিকে যে নামাযটি শুরু করা হয়েছে, তা শুরু থেকেই সহীহ হয়নি। এক্ষেত্রে নামাযের ভেতর কিবলার দিক জানার পর নামায ছেড়ে দিয়ে কিবলামুখী হয়ে পুনরায় শুরু থেকে নামায পড়া আপনার ওপর জরুরি ছিল। এখন আপনাকে ওই নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

* >بدائع الصنائع< ১/৩০৯: وإن كان عاجزا بسبب الاشتباه، وهو أن يكون في المفازة في ليلة مظلمة، أو لا علم له بالأمارات الدالة على القبلة، فإن كان بحضرته من يسأله عنها لا يجوز له التحري لما قلنا، بل يجب عليه السؤال، فإن لم يسأل وتحرى وصلى فإن أصاب جاز، وإلا فلا.

তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৬৬; ফাতহুল কাদীর ১/২৩৬; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ২২২; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৩৩

শেয়ার লিংক

যুবায়ের - জামালপুর

৬৮৮৮. প্রশ্ন

আমি ঘরে বিতিরের নামায পড়ছিলাম। পেছন থেকে আমার ভাই এসে আমাকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করল। আমি মুখে কিছু না বলে সামান্য মাথা নেড়ে হাঁ-সূচক উত্তর দেই।

জানার বিষয় হল, নামাযের মধ্যে ইশারায় তার কথার উত্তর দেওয়ায় কি নামায ভেঙে গেছে?

উত্তর

আপনার ওই নামায আদায় হয়ে গেছে। পুনরায় পড়তে হবে না। মাথার দ্বারা সামান্য ওই ইশারার কারণে নামায নষ্ট হয়নি। তবে খুব বেশি ওজর ছাড়া নামাযে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

ইবনে জুরাইজ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

قُلْتُ لِعَطَاءٍ: أَفَتَكْرَهُ كُلَّ شَيْءٍ مِنَ الْإِيمَاءِ فِي الْمَكْتُوبَةِ؟ إِذَا جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ: أَصَلَّيْتَ الصَّلَاةَ؟ كَرِهْتَ أَنْ أُشِيرَ إِلَيْهِ بِرَأْسِي؟ قَالَ: نَعَمْ، أَكْرَهُ كُلَّ شَيْءٍ مِنْ ذلِكَ.

আমি তাবেয়ী আতা রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি ফরয নামাযে যে-কোনো ইশারা অপছন্দ করেন? কোনো ব্যক্তি এসে আমাকে নামায পড়েছ কি না জিজ্ঞেস করলে আমি মাথার ইশারায় তার কথার উত্তর দেওয়াকে কি আপনি অপছন্দ করেন?

তিনি (আতা রাহ.) উত্তরে বললেন, হাঁ, আমি ইশারাকে অপছন্দ করি। (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৩২৮৪)

আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৬৯; আলগায়া, সারুজী ৪/১৩৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৫; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪১৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৪৪৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/২৭২; ইলাউস সুনান ৫/৪০

শেয়ার লিংক

সাদ মুহাম্মাদ সাইজুদ্দীন - সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

৬৮৮৯. প্রশ্ন

হুজুরের কাছে মায়্যেতের দাফন সংক্রান্ত দুইটি মাসআলা জানতে চাই

ক. দাফনের সময় উপস্থিত লোকদের কবরে মাটি দেওয়ার বিধান কী? অনেক এলাকায় রেওয়াজ আছে, দাফনের সময় উপস্থিত লোকেরা কবরে তিনবার করে মাটি দেয়।

জানতে চাই, এটি কি শুধুই প্রথা, নাকি শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি আছে?

খ. দাফনের পর কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে সূরা-কেরাত পাঠ করে। এটি কি শরীয়তসম্মত?

উত্তর

ক. মায়্যেতকে দাফন করার সময় উপস্থিত লোকদের জন্য কবরে তিন মুষ্টি করে মাটি দেওয়া মুস্তাহাব। এটি নিছক কোনো প্রথা নয়; বরং হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আমল।

আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন

أَنَّ رَسُوْلَ اللهِصلى الله عليه وسلم صَلى عَلَى جِنَازَةٍ، ثُمَّ أَتَى قَبْرَ الْمَيِّتِ، فَحَثَى عَلَيْهِ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ ثَلَاثًا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযা পড়েছেন। এরপর জানাযা শেষে মৃত ব্যক্তির কবরের কাছে এসে মাথার দিক থেকে তিনবার মাটি দিয়েছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৫৬৫)

আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

مِنْ تَمَامِ أَجْرِ الْجِنَازَةِ أَنْ يَحْثُوَ فِي الْقَبْرِ.

জানাযার সওয়াবের পূর্ণতার একটি অংশ হল, কবরে হাত দিয়ে মাটি দেওয়া। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১৮৩৬)

আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/১৪১; আযযিয়াউল মানাবী ২/৫০৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৬; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৬৩৭

খ. দাফনের পর কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে সূরা বাকারার শুরু ও শেষের আয়াতগুলো পাঠ করাও মুস্তাহাব। এ আমলটিও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

আবদুর রহমান ইবনে লাজলাজ রাহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে

قَالَ لِيْ أَبِيْ: يَا بُنَيَّ، إذَا أَنَا مِتُّ فَالْحَدْ لِيْ لَحْدًا، فَإذَا وَضَعْتَنِيْ فِيْ لَحْدِيْ فَقُلْ: بِسْمِ اللهِ، وَعَلَى مِلَّةِ رَسُوْلِ اللهِ، ثُمَّ سَنَّ التُّرَابَ عَلَيَّ سَنَّا، أَيْ وَضَعَه وَضْعًا سَهْلًا، ثُمَّ اقْرَأ عِنْدَ رَأسِيْ بِفَاتِحَةِ الْبَقَرَةِ وَخَاتِمَتِهَا، فَإنِّيْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ ذٰلِكَ.

আমার বাবা আমাকে (অসিয়ত করে) বলেছেন, হে আমার ছেলে, আমি যখন মারা যাব, তখন তুমি আমার জন্য বুগলী কবর খনন করবে। অতঃপর যখন তুমি আমাকে কবরে রাখবে তখন

بِسْمِ اللهِ، وَعَلى مِلَّةِ رَسُوْلِ اللهِ.

-বলে কবরে রাখবে। এরপর তুমি আমার কবরে মাটি দেবে। অতঃপর দাফন শেষে আমার মাথার দিকে সূরা বাকারার প্রথম এবং শেষের কয়েকটি আয়াত পাঠ করবে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এগুলো পাঠ করতে দেখেছি। (আলমুজামুল কাবীর, তবারানী ১৯/২২০)

* >الجوهرة النيرة< ১/১৪১:  ويستحب إذا دفن الميت أن يجلسوا ساعة عند القبر بعد الفراغ بقدر ما ينحر جزور ويقسم لحمها، يتلون القرآن ويدعون للميت. قال في سنن أبي داود: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا فرغ من دفن الميت وقف على قبره، وقال: استغفروا لأخيكم، واسألوا الله له التثبيت؛ فإنه الآن يسأل. وكان ابن عمر يستحب أن يقرأ على القبر بعد الدفن أول سورة البقرة وخاتمتها.

আলআযকার, নববী, পৃ. ২৭৭; আযযিয়াউল মানাবী ২/৫০৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৭

শেয়ার লিংক

আমাতুল্লাহ - গাজীপুর

৬৮৯০. প্রশ্ন

রমযান মাসে কখনো রোযা রাখা অবস্থায় আমার হায়েয শুরু হয়ে যায়।

হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, রমযান মাসে রোযা রাখা অবস্থায় হায়েয শুরু হয়ে গেলে বাকি দিন আমি পানাহার করতে পারব?

 

উত্তর

 হাঁ, হায়েয শুরু হওয়ার পর থেকে ওই দিনের বাকি সময় পানাহার করতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যেদিন হায়েয বন্ধ হয়ে যায়, সেই দিন অবশিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। আর কোনো দিন রোযা রাখা অবস্থায় হায়েয শুরু হয়ে গেলে সেদিনের রোযারও কাযা করে নিতে হবে।

* >خلاصة الفتاوى< ১/২৬৩: والأصل أن كل من صار على صفة في آخر النهار، لو كان عليها في أول النهار يلزمه الصوم، كان عليه الإمساك في بقية اليوم عندنا. ... وأجمعوا على أنه لا يجب التشبه على الحائض والنفساء، ولا على المريض والمسافر.

আলমুহীতুর রাযাবী ২/৩৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮; আলবিনায়া ৪/৩৫৯; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৬৯৪; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৩৭০

শেয়ার লিংক

রাবেয়া খাতুন - ময়মনসিংহ

৬৮৯১. প্রশ্ন

আমার সাধারণত মাসের দশ তারিখে হায়েয শুরু হয়। গত রমযানে দশ তারিখ আসলে হায়েয শুরু হয়ে যাবে, এই ভেবে আমি সকালে রোযা ভেঙে ফেলি। কিন্তু সেদিন আমার হায়েয শুরু হয়নি।

জানার বিষয় হল, আমাকে ওই দিনের রোযার কাযা করার পাশাপাশি কাফ্ফারাও কি আদায় করতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু রোযাটি রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলেছেন, তাই আপনাকে ওই রোযার কাযা এবং কাফ্ফারা দুটোই আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু হায়েয আসার সম্ভাবনার ভিত্তিতে রোযাটি ভেঙে ফেলা বড় ভুল ও গুনাহের কাজ হয়েছে। তাই রোযাটির কাযা-কাফ্ফারা আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার দরবারে কায়মনোবাক্যে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। আর সামনে এ ধরনের ভুল যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

* >الفتاوى الخانية< ১/২০৩: وكذا إذا أفطرت المرأة على ظن أن يومها يوم حيض، فلم تحض في ذلك اليوم كان عليها الكفارة، لوجود الإفطار في يوم ليس فيه شبهة الإباحة.

আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৩; আসসিরাজুল ওয়াহ্হাজ ৪/৩৮৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭

শেয়ার লিংক

মুস্তাফিজ - ঢাকা

৬৮৯২. প্রশ্ন

অনেক মসজিদে রমযানে ইতিকাফের সময় নামাযের সময়টুকু ছাড়া ইতিকাফকারীগণ তাদের অবস্থানের অংশটুকু চাদর বা পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখেন এবং সেই চাদর ঘেরা অংশে তারা অবস্থান করেন।

হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এর হুকুম কী? এটি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত?

উত্তর

ইতিকাফের সময় মসজিদে নিজের অবস্থানের অংশ চাদর বা অন্য কিছু দিয়ে আবৃত করে রাখা জায়েয আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম থেকে এটি প্রমাণিত।

একটি হাদীসে এসেছে, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلميَعْتَكِفُ فِي العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، فَكُنْتُ أَضْرِبُ لَهُ خِبَاءً، فَيُصَلِّي الصُّبْحَ ثُمَّ يَدْخُلُهُ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং ইতিকাফের সময় (মসজিদে তার অবস্থানের জন্য) আমি তাঁবু স্থাপন করতাম। ফজর পড়ে তিনি ওই তাঁবুতে প্রবেশ করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২০৩৩)

তবে লক্ষ রাখতে হবে, যাতে এর কারণে অন্য মুসল্লীদের কষ্ট না হয় এবং মসজিদের আদব পরিপন্থি কোনো কাজ না হয়। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় মুসল্লীদের নামায আদায়ে কোনো সমস্যা না হয়।

মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৮০১৫; আলমুইয়াসসির শরহু মাসাবীহিস্ সুন্নাহ ২/৫৮৫; মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/৪২৯; ফাতহুল মুলহিম ৩/১৯৮

শেয়ার লিংক

আবদুল হামিদ - বিজয়নগর, ঢাকা

৬৮৯৩. প্রশ্ন

আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের প্রয়োজন বিবেচনা করে বাড়ির নিচতলায় একটি নামাযঘর করা হয়েছে। বিভিন্ন ওজরের কারণে মসজিদে ইতিকাফ করা আমার জন্য কষ্টকর। তাই আমি চাচ্ছি, আগামী রমযানে এই নামাযঘরে ইতিকাফ করব। এখানে ইতিকাফ করলে কি আমার ইতিকাফ শুদ্ধ হবে?

উত্তর

অ্যাপার্টমেন্টের ওই নামাযঘরটি যদি স্থায়ীভাবে মসজিদ হিসেবে ওয়াকফ করা না হয়, তাহলে সে ঘরে ইতিকাফ সহীহ হবে না। কেননা ইতিকাফ সহীহ হওয়ার জন্য ওয়াকফকৃত মসজিদ শর্ত। অস্থায়ী নামাযঘর শরয়ী মসজিদ নয়। তাতে ইতিকাফ আদায় হবে না।

* كتاب >الأصل< ২/১৮৩: وبلغنا عن حذيفة أنه قال: لا اعتكاف إلا في مسجد جماعة.

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৯৭৬৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪১৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪০

শেয়ার লিংক

যাকারিয়া - বনানী, ঢাকা

৬৮৯৪. প্রশ্ন

রাজশাহীতে আমার দুতলা একটি বাড়ি আছে। কয়েক বছর আগে পরিবারসহ আমি ঢাকায় চলে আসি এবং বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার নিয়ত করি। কিন্তু এখনো বাড়িটি বিক্রি হয়নি।

জানার বিষয় হল, ওই বাড়িটির যাকাত কি আমাকে আদায় করতে হবে?

উত্তর

ওই বাড়িটি আপনি বিক্রি করে দেওয়ার নিয়ত করলেও এর দ্বারা সেটি যাকাতযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়নি। আপনাকে ওই বাড়িটির যাকাত আদায় করতে হবে না। অবশ্য বাড়িটি বিক্রি করার পর বিক্রয়লব্ধ অর্থ যাকাতযোগ্য সম্পদ বলে বিবেচিত হবে।

* >الفتاوى السراجية< ص ২৪: إذا كان في ملكه عروض أو عبيد ونحو ذلك، فنواه للتجارة، لا يصير للتجارة ما لم يبعها، فيكون في الثمن زكاة مع ما له من النصاب.

আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৯৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭২

শেয়ার লিংক