ওমর ফারুক - মধ্যবাড্ডা, ঢাকা

৪৬৪৬. প্রশ্ন

আমার কাকা বিদেশ থাকেন। তিনি টাকা-পয়সা আমার ব্যাংক একাউন্টে পাঠান। তিনি এ টাকা আমার একাউন্টে আমানত হিসাবে রাখেন। ঐ টাকা আমার একাউন্টে দীর্ঘদিন থেকে যায়। ফলে আমি কাকার অনুমতি নিয়ে ঐ টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা আমার ব্যবসায় খরচ করি। এতে আমার কিছু লাভও হয়। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে আমার ব্যবসায় বিপুল পরিমাণে লস হলে মূলধনেরও অনেক ক্ষতি হয়। যার ফলে অনেকদিন ব্যবসা বন্ধ থাকে।

এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার কাকা যেহেতু ঐ টাকা আমার একাউন্টে আমানত হিসাবে রেখেছেন এবং আমি তার অনুমতি নিয়েই তা ব্যবসায় খরচ করেছি। আমাকে কি ঐ টাকা কাকাকে ফিরিয়ে দিতে হবে? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কাকার পূর্ণ টাকা তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। কেননা আপনার কাকার ঐ টাকা প্রথমে আমানত হিসাবে থাকলেও পরবর্তীতে যেহেতু তার অনুমতিক্রমে আপনি তা নিজ ব্যবসায় লাগিয়েছেন, তাই ঐ টাকা আপনার জিম্মায় করজ হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসায় লাভ-লোকসান যাই হোক, আপনাকে তার টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৬/৫৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৮৫; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ৩/১৩; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৭৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/১৪৪

শেয়ার লিংক

লাবীব আবদুল্লাহ - সাভার, ঢাকা

৪৬৪৫. প্রশ্ন

আমার ফুফাতো ভাই একটি দোকান দিয়েছে। সে এতে ৬ লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। কিছুদিন পর তার টাকার প্রয়োজন হলে সে আমার কাছে ঋণ চায়। আমি তাকে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনাক্রমে তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করি। বিনিয়োগকৃত টাকার পরিমাণ ছিল ৪ লক্ষ। এক্ষেত্রে আমাদের মাঝে এভাবে চুক্তি হয় যে, ব্যবসা সে দেখাশোনা করবে। আর দোকানের সব খরচ বাদ দিয়ে যা লাভ হবে তা দু’জনের মাঝে অর্ধার্ধি হারে বণ্টন হবে। আর লোকসান হলে উভয়ে মূলধন অনুপাতে বহন করবে।

এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত চুক্তিটি শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না? দয়া করে জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার পুঁজি কম। যে ব্যবসা পরিচালনা করবে এবং শ্রম দিবে তার পুঁজি বেশি। এক্ষেত্রে অর্ধার্ধি হারে লাভ বণ্টনের চুক্তি সহীহ নয়। কোনো ব্যবসায় শ্রম না দিয়ে কেবল মূলধন বিনিয়োগ করে মূলধনের আনুপাতিক হারের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ নেওয়া জায়েয নয়।

অতএব, আপনার জন্য বিনিয়োগকৃত মূলধনের আনুপাতিক হারে সর্বোচ্চ ৪০% লভ্যাংশ গ্রহণ করা বৈধ হবে। এর অতিরিক্ত নেওয়া যাবে না। তাই বৈধভাবে কারবার করতে চাইলে চুক্তিটি সংশোধন করে নিতে হবে।

উল্লেখ্য যে, কোনো কারবার শুরু করার আগে কারবারের সাথে সংশ্লিষ্ট জায়েয-নাজায়েয বিষয়ক অনেক মাসআলা রয়েছে। তাই এ ধরনের কারবার শুরু করার পূর্বে বিষয়গুলো বিজ্ঞ কোনো আলেম থেকে জেনে নেওয়া কর্তব্য।

-কিতাবুল আছল ৪/৫২; আলমাবসূত, সারাখসী ১১/১৫৮; আলইনায়াহ ৫/৩৯৭; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৭৫; দুরারুল হুক্কাম ৩/৩৯২

শেয়ার লিংক

আবু তালহা - সদর, যশোর

৪৬৪৪. প্রশ্ন

আমি কয়েকটি কবুতর পুষি। মাঝেমধ্যে অচেনা কবুতর এসে আমার কবুতরের সাথে জোড়া বাঁধে এবং ডিম দেয়। সে ডিম থেকে বাচ্চা হয়। এখন ঐ অচেনা কবুতর এবং ডিম ও বাচ্চার হুকুম কী হবে?

উত্তর

অন্য কারো কবুতর চলে আসলে কবুতরটিকে তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে। আর যদি মালিকের সন্ধান পাওয়া না যায় এবং কবুতরটি আপনার খাঁচায় ডিম পাড়ে ও তা থেকে বাচ্চা হয় সেক্ষেত্রে এই ডিম ও বাচ্চার মালিক কবুতরের উক্ত মালিকই হবে। তাই মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে ডিম ও বাচ্চাসহ কবুতরটি তাকে দিয়ে দিতে হবে। আর সন্ধান পাওয়া না গেলে সদকা করে দিবেন। অবশ্য এক্ষেত্রে আপনি যদি গরীব হন তাহলে আপনি নিজেও তা ভোগ করতে পারবেন।

-আলবাহরুর রায়েক ৫/১৫৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৪২০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৪৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৮৪

শেয়ার লিংক

মুয়াজ নূর - মোমেনশাহী

৪৬৪৩. প্রশ্ন

শহরে বাসা-বাড়ি পরিবর্তন করার জন্য বিশেষ লেবার পাওয়া যায়। যারা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আসবাপত্র স্থানান্তর করে  দেয়। তাদের হাতে কোনো জিনিস ভেঙে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের থেকে কি তার ক্ষতিপূরণ নেওয়া যাবে?

 

উত্তর

তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বস্তু নষ্ট করলে কিংবা তাদের কোনো অবহেলা বা ত্রুটির কারণে নষ্ট হলে তার ক্ষতিপূরণ নেওয়া বৈধ হবে। কিন্তু আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার পিছনে যদি তাদের কোনো ত্রুটি বা অবহেলা না থাকে; বরং স্বাভাবিক নিয়মে সতর্ক হয়ে কাজ করার পরও যদি কোনো কিছু নষ্ট হয়ে যায় তবে তাদের থেকে এর ক্ষতিপূরণ নেওয়া জায়েয হবে না।

-আলইখতিয়ার ২/১৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/২৮২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৫০০; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দা ৬১০

শেয়ার লিংক

হাফেজ জুবাইর আহমদ - চাটখিল, নোয়াখালী

৪৬৪২. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের মসজিদে কিছু মুসল্লী গরমের মৌসুমে যোহরের নামায পড়ে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়েন। কারণ এ সময়ে গ্রামের মানুষ সাধারণত কাজকর্ম থেকে এসে নামায পড়ে। তাই শারীরিকভাবে খুব ক্লান্ত থাকে। তাদেরকে নিষেধও করা যায় না।

এখন মুহতারামের কাছে জানতে চাই, এভাবে মসজিদে শুয়ে পড়ার অবকাশ আছে কি?

উত্তর

মুসল্লীদের নামায পড়তে এসে ক্লান্তির কারণে মসজিদে শোয়া নাজায়েয নয়। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো নামাযী বা ইবাদতকারীর অসুবিধা না হয়। এছাড়া মসজিদ ইবাদতের জায়গা, ঘুমানোর জায়গা নয়। তাই মসজিদকে নিয়মিত শোওয়ার স্থান বানানো যাবে না।

-জামে তিরমিযী, হাদীস ৩২১; উমদাতুল কারী ৪/১৯৮; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/৩৬৯; শরহুল মুনয়া পৃ. ৬১২; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬; রদ্দুল মুহতার ১/৬৬২

শেয়ার লিংক

গোলাম রব্বানী - ময়নামতি, কুমিল্লা

৪৬৪১. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে ঈদগাহ সংলগ্ন সরকারি জায়গার উপর প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং এতে দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর যাবৎ জামাতের সাথে নামায পড়া হচ্ছে এবং জুমার নামাযসহ মসজিদ কেন্দ্রিক সব ধরনের কার্যক্রমও পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইদানিং একটি মহল (নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে) একথা প্রচার করছে যে, ঐ জায়গাটি যেহেতু সরকারি তাই এটা মসজিদ হিসাবে গণ্য হবে না এবং এতে ইতেকাফ ও অন্যান্য আহকাম (যা মসজিদে করা জরুরি) এতে সহীহ হবে না। কারণ হিসাবে তারা বলছে, মসজিদ হওয়ার জন্য তার জায়গা ওয়াকফ করা জরুরি। আর এ জায়গা ওয়াকফ করা হয়নি।

এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমাদের জানার বিষয় হল, এ সকল লোকদের কথা কি ঠিক? এবং মসিজদ হওয়ার জন্য ওয়াকফ করা জরুরি কি না? সর্বোপরি আমাদের মসজিদটি ‘শরয়ী মসজিদ’ কি না? বরাতসহ জানালে উপকৃত হব। আল্লাহ তাআলা আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মসজিদটি যদি সরকারি কর্তৃপক্ষ থেকে যথাযথ অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা ‘শরয়ী মসজিদ’ হওয়ার ব্যাপারে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। আর যদি সরকারি কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া মসজিদটি নির্মাণ করা হয়ে থাকে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ অবগত হওয়ার পরও নির্মাণাধীন সময়ে বা নির্মাণ পরবর্তী এ দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরের মধ্যে কোনো বাধা প্রদান না করে থাকে, তাহলে এ দীর্ঘ সময় তাদের চুপ থাকা ও বাধা না দেওয়া মৌনসম্মতি ও অনুমোদন বলে ধর্তব্য হবে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের মসজিদে নিয়মিত জামাতের সাথে নামায পড়া হতে থাকলে তাও ‘শরয়ী মসজিদ’ বলে গণ্য হয়। এবং তাতে ইতিকাফসহ মসজিদ সংক্রান্ত সব ধরনের বিধি-বিধান কার্যকর হবে।

তবে লক্ষণীয় যে, সরকারী কর্তৃপক্ষ থেকে যথাসম্ভব লিখিতভাবে মসজিদের স্থায়ী অনুমোদন নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা কর্তব্য। যেন ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। কিংবা অন্য কোনো মহল কোনো সুযোগ গ্রহণ করতে না পারে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৯০; ফাতহুল কাদীর ২/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৪৫৫; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৪৮; ইসলাম কা নেযামে আরাযী, মুফতী মুহাম্মাদ শাফী রাহ. পৃ. ১৫৮

শেয়ার লিংক

মাসুম আহমাদ - হবিগঞ্জ, সিলেট

৪৬৪০. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় জামে মসজিদে বেশ কিছুদিন যাবৎ দেখে আসছি, শুক্রবার জুমার নামাযের সময় ইমাম সাহেব বয়ান করেন। বয়ানের পর চার রাকাত কাবলাল জুমা পড়তে বলেন। তারপর ইমাম সাহেব মিম্বারে বসা অবস্থায় সানি আযানের পূর্বমুহূর্তে মসজিদে দান বাবদ আসা মুরগী, ডিম, নারিকেল ইত্যাদি নিলামে তোলা হয়।

ঐ ধরনের কর্ম মসজিদের ভিতরে করা যাবে কি না? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১০৭৯)

অন্য হাদীসে হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِي المَسْجِدِ فَقُولُوا: لَا أَرْبَحَ اللهُ تِجَارَتَكَ.

অর্থাৎ তোমরা মসজিদে কাউকে বেচা-কেনা করতে দেখলে তাকে বল, আল্লাহ তোমার ব্যবসাকে অলাভজনক করুন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৩২১)

ইমাম মালেক রাহ. সূত্রে বর্ণিত যে, আতা ইবনুল ইয়াসার রাহ.-এর পাশ দিয়ে মসজিদে ক্রয়-বিক্রয়কারী কোনো ব্যক্তি অতিক্রম করলে তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করতেন, তোমার সাথে কী আছে এবং তোমার উদ্দেশ্য কি? সে ব্যবসার উদ্দেশ্য প্রকাশ করলে তিনি তাকে বলতেন-

عَلَيْكَ بِسُوقِ الدُّنْيَا. فَإِنَّمَا هذَا سُوقُ الآخِرَةِ.

অর্থাৎ তুমি দুনিয়ার বাজারে যাও; কেননা মসজিদ তো কেবল আখেরাতের বাজার। (মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ৬০১)

উপরোক্ত হাদীস-আসারের আলোকে ফকীহগণ পণ্য নিয়ে এসে মসজিদে বেচা-কেনা করতে বারণ করেছেন। আর মসজিদে দানকৃত পণ্য বা মসজিদের মালিকানাধীন বস্তুর হুকুম একই। এছাড়া মসজিদের ভিতর মুরগী নিয়ে আসলে মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশংকা থাকে।

আর নামাযের পূর্বের সময়টি যিকির-আযকার এবং নামাযের জন্য বাহ্যিক ও আত্মিক প্রস্তুতির সময়। এ সময় নিলাম কাজে ব্যস্ত হওয়া খুবই অন্যায়। বিশেষত জুমার আযানের পর কেনা-বেচা করতে কুরআন মাজীদে নিষেধ করা হয়েছে। সে হুকুমেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نُوْدِیَ لِلصَّلٰوةِ مِنْ یَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلٰی ذِكْرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الْبَیْعَ  ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ.

হে মুমিনগণ!  যখন জুমার দিনে (জুমার) নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। [সূরা জুমুআ (৬২) : ০৯]

অতএব, আপনাদের মসজিদ কর্তৃপক্ষের এবং মুসল্লীদের জন্য জরুরি হল, মসজিদে উক্ত নিলাম বিক্রি থেকে বিরত থাকা। মসজিদের মালিকানাধীন বা দানকৃত কোনো কিছু বিক্রি করতে চাইলে জুমার পর মসজিদের বাইরে মসজিদের উঠান ইত্যাদিতে বিক্রি করবে। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২২৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮৭; রদ্দুল মুহতার ২/৩১২

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১০৭৯)

অন্য হাদীসে হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِي المَسْجِدِ فَقُولُوا: لَا أَرْبَحَ اللهُ تِجَارَتَكَ.

অর্থাৎ তোমরা মসজিদে কাউকে বেচা-কেনা করতে দেখলে তাকে বল, আল্লাহ তোমার ব্যবসাকে অলাভজনক করুন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৩২১)

ইমাম মালেক রাহ. সূত্রে বর্ণিত যে, আতা ইবনুল ইয়াসার রাহ.-এর পাশ দিয়ে মসজিদে ক্রয়-বিক্রয়কারী কোনো ব্যক্তি অতিক্রম করলে তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করতেন, তোমার সাথে কী আছে এবং তোমার উদ্দেশ্য কি? সে ব্যবসার উদ্দেশ্য প্রকাশ করলে তিনি তাকে বলতেন-

عَلَيْكَ بِسُوقِ الدُّنْيَا. فَإِنَّمَا هذَا سُوقُ الآخِرَةِ.

অর্থাৎ তুমি দুনিয়ার বাজারে যাও; কেননা মসজিদ তো কেবল আখেরাতের বাজার। (মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ৬০১)

উপরোক্ত হাদীস-আসারের আলোকে ফকীহগণ পণ্য নিয়ে এসে মসজিদে বেচা-কেনা করতে বারণ করেছেন। আর মসজিদে দানকৃত পণ্য বা মসজিদের মালিকানাধীন বস্তুর হুকুম একই। এছাড়া মসজিদের ভিতর মুরগী নিয়ে আসলে মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশংকা থাকে।

আর নামাযের পূর্বের সময়টি যিকির-আযকার এবং নামাযের জন্য বাহ্যিক ও আত্মিক প্রস্তুতির সময়। এ সময় নিলাম কাজে ব্যস্ত হওয়া খুবই অন্যায়। বিশেষত জুমার আযানের পর কেনা-বেচা করতে কুরআন মাজীদে নিষেধ করা হয়েছে। সে হুকুমেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نُوْدِیَ لِلصَّلٰوةِ مِنْ یَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلٰی ذِكْرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الْبَیْعَ  ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ.

হে মুমিনগণ!  যখন জুমার দিনে (জুমার) নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। [সূরা জুমুআ (৬২) : ০৯]

অতএব, আপনাদের মসজিদ কর্তৃপক্ষের এবং মুসল্লীদের জন্য জরুরি হল, মসজিদে উক্ত নিলাম বিক্রি থেকে বিরত থাকা। মসজিদের মালিকানাধীন বা দানকৃত কোনো কিছু বিক্রি করতে চাইলে জুমার পর মসজিদের বাইরে মসজিদের উঠান ইত্যাদিতে বিক্রি করবে। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২২৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮৭; রদ্দুল মুহতার ২/৩১২

শেয়ার লিংক

আবূ সাঈদ - জামালপুর (ওয়েব থেকে প্রাপ্ত)

৪৬৩৯. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদান করে। এরপর তার স্ত্রীর সাথে চার মাস বার দিন কোনো যোগাযোগ বা অন্য কোনো সম্পর্ক রাখেনি। ইতিমধ্যে তার স্ত্রীর ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যায়। এরপর তাকে মৌখিক ও লিখিতভাবে কাজী ও উকিলের মাধ্যমে তিন তালাক প্রদান করে। এখন প্রশ্ন হল-

ক. ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর যে তিন তালাক প্রদান করা হয়েছে তা কার্যকর হয়েছে কি?

খ. যদি তিন তালাক কার্যকর না হয় তাহলে তারা কীভাবে আবার বৈবাহিক সম্পর্কে ফিরে আসতে পারবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বারের দেওয়া তিন তালাক কার্যকর হয়নি। কারণ এর পূর্বেই মহিলার ইদ্দত শেষ হয়ে যাওয়ার দ্বারা পূর্বের দেওয়া তালাক দুটি বায়েনে পরিণত হয়েছে এবং তালাকদাতার সাথে তার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। সুতরাং ঐ ব্যক্তি পুনরায় এ মহিলাকে বিবাহ করতে চাইলে নতুন মহর ধার্য করে দুইজন সাক্ষীর সামনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৯১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/৩০৬; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৯৫; রদ্দুল মুহতার ৩/৩০৫

শেয়ার লিংক

আবুল ফাইয়াজ - উত্তরা, ঢাকা

৪৬৩৮. প্রশ্ন

আমি গত বছরের শেষ দিকে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছি। সিকিউরিটি এডভান্স হিসেবে এক লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। এ এক লক্ষ টাকা বাসা ছেড়ে দেওয়ার সময় শেষ তিন মাসের ভাড়া হিসেবে কর্তন করা হবে।

প্রতি বছর আমি আমার যাকাতযোগ্য সকল সম্পদ হিসাব করে তা থেকে দেনা বাদ দিয়ে বাকি সম্পদের ২.৫% যাকাত দিয়ে থাকি।

এখন আমি জানতে চাচ্ছি, সিকিউরিটি এডভান্স হিসেবে দেওয়া এই এক লক্ষ টাকার যাকাত আমাকে দিতে হবে কি না? দেওয়া লাগলে কত দিন দিয়ে যেতে হবে? বিষয়টি বিস্তারিত জানানোর বিনীত অনুরোধ রইল।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এডভান্স হিসেবে দেওয়া এক লক্ষ টাকা যেহেতু শেষ তিন মাসের ভাড়া হিসেবে ধর্তব্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাই তা অগ্রিম ভাড়া হিসাবেই গণ্য হবে। এক্ষেত্রে এ টাকার মালিক হবে বাড়ির মালিক। এ কারণে এ টাকার যাকাত তাকেই আদায় করতে হবে। আপনাকে (ভাড়াটিয়াকে) সে টাকার যাকাত দিতে হবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩৯; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/৮৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২৪৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রবিউল কারীম - নাটোর

৪৬৩৭. প্রশ্ন

আমার এক নিকটাত্মীয় হাসপাতালে দু’দিন বেহুঁশ থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন। এই সময়ে তার যে নামাযগুলো ছুটে গিয়েছে সেগুলোর জন্য কি ফিদয়া দেওয়া লাগবে?

উত্তর

না, আপনার আত্মীয়ের উক্ত দুই দিনের নামাযের ফিদয়া দিতে হবে না। কেননা তিনি মৃত্যুর পূর্বে দু’দিন বেহুঁশ ছিলেন। আর মৃত্যুর পূর্বে চব্বিশ ঘণ্টার  চেয়ে বেশি সময় বেহুঁশ থাকলে ঐ সময়ের ছুটে যাওয়া নামায মাফ হয়ে যায়। তার কাযা বা কাফফারা কিছুই দিতে হয় না।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ৬৬৫৪; কিতাবুল আছল ১/১৯০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩১; শরহুল মুনয়া পৃ. ২৬৩

শেয়ার লিংক

ইসমাঈল হুসাইন - নওয়াপাড়া, যশোর

৪৬৩৬. প্রশ্ন

আমার দাদাবাড়ি মাদারীপুর। আমরা ঢাকাতে থাকি। এখানেই আমার বাবা বাড়ি করেছেন। গ্রামে আমার বাবার ঘর-বাড়ি কিছুই নেই। বছরে এক-দুইবার আমার বাবা সেখানে চাচাদের বাড়িতে বেড়াতে যান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমার বাবা সেখানে গিয়ে কি নামায কসর করবেন, না পূর্ণ নামায পড়বেন?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী  আপনার বাবা যেহেতু নিজ পিত্রালয় একেবারে ছেড়ে এসেছেন এবং সেখানে তার বসবাসের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা নেই, আর এখন ঢাকাতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তাই আপনারা মাদারীপুরে আপনাদের চাচাদের বাড়িতে মুসাফির গণ্য হবেন এবং নামায কসর করবেন। তবে পনেরো দিন বা এর চেয়ে বেশি দিন থাকার নিয়ত থাকলে  পূর্ণ নামায পড়বেন।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫১৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২; রদ্দুল মুহতার ২/১৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৫

শেয়ার লিংক

সুলতান আহমাদ - চাটখিল, নোয়াখালী

৪৬৩৫. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয় অসুস্থ হওয়ার কারণে হাসপাতালে তার সাথে সারাক্ষণ থাকতে হচ্ছিল। তাই একদিন জুমার নামাযের সময় হয়ে যাওয়ার পরও জুমাতে শরীক হতে পারিনি। যোহর আদায় করতে হয়েছে। কারণ, অন্য কাউকে তখন রোগীর কাছে রেখে যাওয়ার মতো পাইনি।

এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, ঐদিন জুমার নামাযে শরীক না হওয়াটা কি অন্যায় হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা যদি বাস্তবেই এত খারাপ হয়ে থাকে যে, সার্বক্ষণিক তার তত্ত্বাবধানে আপনার থাকাটা অপরিহার্য ছিল, তাকে রেখে জুমায় যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছিল, তাহলে জুমার নামাযে অংশগ্রহণ না করে যোহর পড়া দূষণীয় হয়নি। তবে এমন ক্ষেত্রে জুমা ফরয নয় এমন কাউকে রাখা সম্ভব হলে, সেই ব্যবস্থা করা আবশ্যক। যথাযথ ওজর ছাড়া জুমা ত্যাগ করা গুনাহ।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৫২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৩; শরহুল মুনয়াহ পৃ. ৫৪৯; আননাহরুল ফায়েক ১/৩৬১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শরীফ - আশুলিয়া, ঢাকা

৪৬৩৪. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে এক তা‘লিমী হালকায় এক ভাই নামাযের মাসায়েলের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন- ‘ভুলবশত ফরয নামাযের তৃতীয়-চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে সূরা মিলিয়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু করা আবশ্যক হয় না।’ জানার বিষয় হল, তার এই কথা কি ঠিক?

উত্তর

হাঁ, তার কথা ঠিক। ফরয নামাযের তৃতীয়-চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু আবশ্যক হয় না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১০; ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ পৃ. ১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭৬; মুখাতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩৫৩

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - কোনাপাড়া, ঢাকা

৪৬৩৩. প্রশ্ন

আমি এ বছর আইয়ামে তাশরীকে একদিন আসর নামাযে মাসবুক হই। নামায শেষে হালকা আওয়াজে তাকবীরে তাশরীক বলি। তখন আমার পাশের এক ভাই বললেন, মাসবুকের তো তাকবীরে তাশরীক বলতে হয় না।

এখন আমার জানার বিষয় হল, ঐ ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক? সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

লোকটির কথা ঠিক নয়। মাসবুকেরও তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। তাই আপনি ঐ সময় তাকবীরে তাশরীক বলে ঠিকই করেছেন।

-কিতাবুল আছল ১/৩২৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৫৬; মাজমাউল আনহুর ১/২৬০

শেয়ার লিংক

আলমগীর হোসেন - পটুয়াখালী, বরিশাল

৪৬৩২. প্রশ্ন

আমার আম্মা যোহরের নামায পড়ছিলেন। নামাযের মধ্যে তার দাঁতের পাশে লেগে থাকা একটু গোস্ত গলার ভিতরে চলে যায়। এখন জানার বিষয় হল এর দ্বারা কি আম্মার নামায নষ্ট হয়ে গেছে?

উত্তর

দাঁতের ভিতরে লেগে থাকা গোস্তের উক্ত টুকরাটি যদি একটি চানা বুটের দানা থেকে ছোট হয় তাহলে তা গিলে ফেলার দ্বারা নামায নষ্ট হয়নি; বরং তা আদায় হয়ে  গেছে। আর যদি চানা বুটের সমান বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে তা গিলে নেওয়ার দ্বারা উক্ত নামায নষ্ট হয়ে গেছে। ঐ নামায পুনরায় পড়ে নিবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৯৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৬৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭৫

শেয়ার লিংক

সাইফুল ইসলাম - মত্তপাড়া, যশোর

৪৬৩১. প্রশ্ন

আমি যোহরের নামাযে প্রথম বৈঠকে ভুলে পুরা দরূদ শরীফ পড়ে ফেলি। কিন্তু সিজদায়ে সাহু করতে ভুলে যাই। দ্বিতীয় সালামের পরই সিজদায়ে সাহুর কথা মনে পড়ে। এরপর আমি নামায পুনরায় পড়ে নেই। এখন জানার বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় সালামের পরপরই বা এক সালামের পর যদি সিজদায়ে সাহুর কথা স্মরণ হয় তাহলে এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী?

উত্তর

দুই দিকে সালাম ফেরানোর পর নামায পরিপন্থী কোনো কাজ না হলে তখনও সিজাদায়ে সাহু  করা যায়। তাই আপনার জন্য দুই দিকে সালাম ফেরানোর পরও সিজদায়ে সাহু করার সুযোগ ছিল। পুরো নামায পুনরায় পড়ার  প্রয়োজন ছিল না। তবে আপনি যেহেতু সাহু সিজদা করেননি তাই দ্বিতীয়বার নামায পড়ে নেওয়া আপনার জন্য ঠিকই হয়েছে।

-কিতাবুল আছল ১/২০০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩২৭; ফাতাওয়া কাযীখান ১/১২৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১০৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৯

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ আকরাম - পাহাড়তলি, চিটাগাং

৪৬৩০. প্রশ্ন

আমি একদিন জানাযার নামাযে শরীক হই। কিন্তু নামাযে উপস্থিত হতে বিলম্ব হওয়ায় তিনটি তাকবীর ছুটে যায়। এখন আমার প্রশ্ন হল, নামায শেষে আমার ছুটে যাওয়া তাকবীর আদায়ের সময় দুআ পড়া লাগবে? না শুধু তাকবীর বললে হবে?

উত্তর

কোনো মুসল্লীর জানাযার নামাযের তাকবীর ছুটে গেলে করণীয় হল,  ইমাম  সালাম ফেরানোর পর খাটিয়া উঠানোর আগে মাসবুক তার ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো বলে নামায শেষ করবে। এক্ষেত্রে দুআ পড়া আবশ্যক নয়। অবশ্য যদি মৃতের খাটিয়া উঠানোর আগে আগে দুআ ও তাকবীর উভয়টি পড়ার সময় পাওয়া যাবে বলে মনে হয় তাহলে পড়বে। আর খাটিয়া উঠিয়ে ফেলার আশংকা থাকলে দুআ পড়বে না; বরং শুধু তাকবীরগুলো বলে নিবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৫১; হাশিয়াতুশ শুরুমবুলালী আলাদ্দুরার ১/১৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩; মাজমাউল আনহুর ১/২৭৩

শেয়ার লিংক

যোবায়ের আমীন - বসিলা, মুহাম্মাদপুর

৪৬২৯. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলে একদিন অযু ছাড়া নামায পড়ান। সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ হয়। তখনই তিনি তার ছোট ভাইকে বলেন, তুমি আবার নামায পড়িয়ে দাও। তার ছোট ভাই নামায পড়ালেন। কিন্তু পুনরায় ইকামত দেওয়া হয়নি। এটা কি ঠিক হয়েছে?

 

উত্তর

হাঁ,  এক্ষেত্রে ইকামত না দেওয়াটা ঠিকই হয়েছে। কেননা ইকামত দেওয়ার পর কোনো নামায ফাসেদ হয়ে গেলে বিলম্ব না করে এবং অন্য কাজে লিপ্ত না হয়ে যদি উক্ত নামায পুনরায় পড়া হয় তাহলে দ্বিতীয়বার ইকামত দেওয়া লাগে না। পূর্বের ইকামত দ্বারাই নামায পড়া যায়।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৫; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯০

শেয়ার লিংক

আমাতুর রহমান - শরীয়তপুর

৪৬২৮. প্রশ্ন

আমার আম্মু যোহরের নামায পড়ছিলেন। নামাযের মধ্যে কয়েকটি চুল ওড়নার পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। আমার বোন দেখে বললেন, আম্মু! আপনার নামায হয়নি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমার বোনের কথা কি ঠিক? আম্মুর নামায কি হয়নি? এতটুকু চুল বের হওয়ার দ্বারা কি নামায ভেঙ্গে যাবে?

উত্তর

আপনার আম্মুর উক্ত নামায নষ্ট হয়নি। তা আদায় হয়ে গেছে। কারণ মাথার এক চতুর্থাংশের চুল বেরিয়ে পড়লে এবং তা তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে কেবল তখনই নামায নষ্ট হয়। পক্ষান্তরে যদি এক চতুর্থাংশের কম চুল বের হয় (যেমন, পাঁচ-দশটি চুল বের হয়) তবে নামায নষ্ট হবে না।

প্রকাশ থাকে যে, না  জেনে দ্বীনী বিষয়ে মন্তব্য করা অন্যায়। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

-আলজামেউস সাগীর পৃ. ৮২; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭০; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৪৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহিম - বরিশাল

৪৬২৭. প্রশ্ন

একদিন আমি আসরের পরে মসজিদে কাযা নামায পড়ছিলাম। আমার এক প্রতিবেশী বললেন, আছরের পরে নামায পড়া মাকরূহ। তাই আসরের পরে কাযা নামায পড়া যাবে না। হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি আসরের পরে কাযা নামায পড়া নিষেধ? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আসরের পর সূর্য হলুদ বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কাযা নামায পড়া জায়েয। এ সময় কাযা নামায পড়া মাকরূহ নয়। হাঁ, এ সময় কোনো নফল নামায পড়া মাকরূহ। তবে এ সময় মসজিদে কাযা নামায পড়বে না। কারণ এতে অন্য কেউ ভুল বুঝতে পারে। তাই আসরের পর কাযা আদায় করতে চাইলে তা ঘরে পড়াই ভাল হবে। আর সূর্য হলুদ বা নিস্তেজ হয়ে গেলে কাযা নামায বা যে কোনো নফল পড়া নাজায়েয।

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ১/৫৪৩; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৬৫৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১০; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫১; রদ্দুল মুহতার ১/৩৭৫

শেয়ার লিংক

মিসবাহ উদ্দীন - চট্টগ্রাম

৪৬২৬. প্রশ্ন

আমার বাবার দাঁত কিছুটা দুর্বল। পেয়ারা, আপেল ইত্যাদি শক্ত কিছু কামড়ে খাওয়ার সময় তাতে রক্তের হালকা ছাপ পড়ে।

হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এমন অবস্থায় কি নতুন করে অযু করতে হবে? নাকি পূর্বের অযু দ্বারাই তিলাওয়াত, নামায ইত্যাদি আদায় করতে পারবেন?

উত্তর

আপনার বাবা ফল কামড়ে খেলে তাতে যেহেতু খুব সামান্য রক্তের ছাপ দেখা যায়, তাই এর দ্বারা তার অযু ভঙ্গ হবে না। এক্ষেত্রে নতুন অযু করার প্রয়োজন নেই। পূর্ববর্তী অজু দ্বারাই তিনি তিলাওয়াত, নামায ইত্যাদি আদায় করতে পারবেন।

প্রকাশ থাকে যে, অযু ভাঙ্গার জন্য গড়িয়ে পড়া পরিমাণ রক্ত শরীর থেকে বের হওয়া আবশ্যক। সামান্য রক্ত দৃশ্যমান হলে অযু নষ্ট হয় না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৮; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/১৪৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/১২৫; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৩৭৭; শরহুল মুনয়াহ, পৃ. ১৩২

শেয়ার লিংক

আবদুস সাত্তার - নড়িয়া, শরীয়তপুর

৪৬২৫. প্রশ্ন

আমি শুক্রবার সকালে চামড়ার মোজা পরিধান করি এবং ঐ মোজার উপর মাসাহ করে জুমার নামায আদায় করি। এরপর সফরে বের হই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কত দিন পর্যন্ত এই মোজার উপর মাসাহ করতে পারব?

উত্তর

আপনি তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত মাসাহ করতে পারবেন। কারণ মুকিম ব্যক্তি চামড়ার মোজা পরিধানের পর মাসাহের সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই সফরে বের হলে মোট তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত মাসাহ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, তিন দিনের হিসাব শুরু হবে মোজা পরিধানের পর সর্বপ্রথম অযু ভেঙ্গে যাওয়ার সময় থেকে।

-কিতাবুল আছল ১/৭৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৮০; আলইখতিয়ার ১/৯৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪১৬; রদ্দুল মুহতার ১/২৭৮

শেয়ার লিংক

হাফসা - মতলব, চাঁদপুর

৪৬২৪. প্রশ্ন

ঋতুস্রাব চলাকালীন মহিলারা শেখানোর উদ্দেশ্যে কুরআন শরীফের এক আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করতে পারবে কি? আমি একজন থেকে শুনেছি, শেখানোর উদ্দেশ্যে এক আয়াত এক আয়াত করে তিলাওয়াত করা জায়েয হবে। কিন্তু একজন আলেম বললেন, শেখানোর উদ্দেশ্যেও এক আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করা জায়েয হবে না।

হযরতের কাছে সঠিক মাসআলাটি জানতে চাচ্ছি। দলীলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ঋতুস্রাব অবস্থায় মহিলাদের জন্য অন্যকে শেখানোর উদ্দেশ্যেও কুরআন মাজীদ পড়া জায়েয হবে না। এমনকি এক আয়াত এক আয়াত করেও পড়া যাবে না।

এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত হাসান বসরী রাহ. ও হযরত কাতাদা রাহ. বলেন, ঋতুমতি নারী ও যার উপর গোসল ফরয হয়েছে সে কুরআনের কোনো অংশই পড়বে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১৩০২

এছাড়াও হযরত ওমর রা., হযরত জাবের রা. ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা., ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. প্রমুখ সাহাবা ও তাবেয়ীন থেকেও এ ব্যাপারে বহু হাদীস ও আসার বর্ণিত হয়েছে। এসব দলীলের আলোকে ফকীহগণ বলেন, ঋতুমতি নারীদের জন্য এক আয়াত পরিমাণও পড়া জায়েয নয়। এমনকি শেখানোর উদ্দেশ্যেও জায়েয নয়।

সুতরাং কুরআন মাজীদ শেখা-শেখানোর সাথে সম্পৃক্ত মহিলাগণও ওজরের দিনগুলোতে কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকবেন। অবশ্য একান্ত প্রয়োজন হলে পূর্ণ আয়াত তিলাওয়াত না করে এক-দুই শব্দ করে বলে দিতে পারবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/১৫০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৮০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৯

শেয়ার লিংক

আহরার আহমাদ - নরসিংদী

৪৬২৩. প্রশ্ন

আমাদের নামায-ঘরটি নদীর খুব নিকটে। আমরা মূলত চরে বসবাস করি। নামায-ঘরে প্রায়ই পানির ব্যাঙ ঢুকে জায়নামাযে পেশাব করে দেয়। জানতে চাই, একারণে জায়নামায কি নাপাক হয়ে যাবে?

উত্তর

না, পানির ব্যাঙের পেশাব নাপাক নয়। তাই বাস্তবেই যদি সেটি পানির ব্যাঙ হয়ে থাকে তাহলে এর কারণে জায়নামায নাপাক হবে না।

অবশ্য আপনাদেরকে যাচাই করে দেখতে হবে, যেসব ব্যাঙ সেখানে যাতায়াত করে সেগুলো পানির ব্যাঙ কি না। কেননা স্থলের ব্যাঙের পেশাব নাপাক।

-আলবাহরুর রায়েক ১/৮৮; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া পৃ. ২৮; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৪৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৭৫

শেয়ার লিংক

হাসান ফিরোজ - সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা

৪৬২২. প্রশ্ন

অনেক সময় রাস্তাঘাটে টাকা-পয়সা পাওয়া যায়। খোঁজাখুঁজির পরও যদি মালিক না পাওয়া যায় তাহলে কী করা হবে? অনেকে বলে, মসজিদে দিয়ে দিতে। মসজিদে দেয়া কি জায়েয হবে? অন্যথায় করণীয় কী?

উত্তর

রাস্তা-ঘাটে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা-পয়সার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হল, যদি টাকার পরিমাণ এত কম হয় যে, মালিক তা অনুসন্ধান করবে না বলে মনে হয় তবে কোনো ফকীরকে তা সদকা করে দিবে। আর যদি অনেক টাকা বা মূল্যবান কোনো বস্তু পাওয়া যায় এবং মালিক এর খোঁজে থাকবে বলে মনে হয় তাহলে ঐ স্থান ও আশপাশ এবং নিকটবর্তী জন-সমাগমের স্থানে (যথা মসজিদের সামনে, বাজারে, স্টেশনে ইত্যাদিতে) প্রাপ্তির ঘোষণা দিতে থাকবে এবং প্রকৃত মালিক পেলে তার কাছে হস্তান্তর করে দিবে। কিন্তু এরপরও যদি মালিক না পাওয়া যায় এবং মালিকের সন্ধান পাওয়া যাবে না বলে প্রবল ধারণা হয় তাহলে তা কোনো গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দিবে। প্রাপক দরিদ্র হলে সে নিজেও তা রেখে দিতে পারবে। আর কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মসজিদে দেওয়া যাবে না। প্রশ্নের ঐ কথা ঠিক নয়।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৮৯; আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৭৮; ফাতহুল কাদীর ২/২০৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১৭১

শেয়ার লিংক

আবু হাতেম মুস্তফা - রানীর বাজার, কুমিল্লা

৪৬২১. প্রশ্ন

আমাদের পাশের বাড়িতে এক হিন্দু পরিবার থাকে। আর্থিকভাবে তারা অসচ্ছল। খেটে খাওয়া মানুষ। গত কয়েকদিন আগে ঐ পরিবারের বড় ছেলে অসুস্থ হয়ে যায়। অফিস থেকে রাতে বাসায় ফিরলে আমার স্ত্রী বলল, রাকেশ বাবুর বড় ছেলেটা খুব অসুস্থ। বেচারা গরিব মানুষ। হয়ত চিকিৎসাও করতে পারবে না। যদি একটু দেখে আসতেন। কথাটা খুব যৌক্তিক মনে হল। তাই বাজার থেকে কিছু ফলমূল ও শুকনো খাবার নিয়ে ছেলেটাকে দেখতে গেলাম। আর আসার সময় ছেলেটিকে ভালো ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য বেশ কিছু টাকাও দিয়ে এলাম।

কিন্তু পরের দিন ফজর নামাযের পর আমার এক চাচাতো ভাই বলল, আপনি নাকি রাকেশ বাবুর ছেলেকে ফলমূল ইত্যাদি নিয়ে দেখতে গেছেন এবং আর্থিক সাহায্যও করেছেন? আমি বললাম, হাঁ। সে বলল, তারা তো হিন্দু, মুশরিক। এরা তো ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু। আপনি অনেক বড় গুনাহ করেছেন। আপনার তওবা করা উচিত। তাই মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, তাদেরকে সহযোগিতা করায় আমার কি গুনাহ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

উত্তর

প্রতিবেশী অমুসলিম হলেও তার সাথে সদাচরণ করা, বিপদাপদে সাহায্য-সহযোগিতা করা, অসুস্থ হলে খোঁজ-খবর নেওয়া ও সাহায্য করা ইসলামের শিক্ষা। এটিও প্রতিবেশীর হকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

لَا یَنْهٰىكُمُ اللهُ عَنِ الَّذِیْنَ لَمْ یُقَاتِلُوْكُمْ فِی الدِّیْنِ وَلَمْ یُخْرِجُوْكُمْ مِّنْ دِیَارِكُمْ اَنْ تَبَرُّوْهُمْ وَ تُقْسِطُوْۤا اِلَیْهِمْ، اِنَّ اللهَ یُحِبُّ الْمُقْسِطِیْنَ.

দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজেদের দেশ থেকে বের করে দেয়নি তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেননি। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন। [সূরা মুমতাহিনা (৬০) : ৮]

হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আনাস রা. বলেন-

أَنّ غُلاَمًا لِيَهُودَ كَانَ يَخْدُمُ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، فَمَرِضَ فَأَتَاهُ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَعُودُهُ، فَقَالَ: أَسْلِمْ، فَأَسْلَمَ.

এক ইহুদী বালক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করত। একবার সে অসুস্থ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। অতপর তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। ফলে সে মুসলমান হয়ে  গেল। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৬৫৭

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হিন্দু ছেলেটাকে দেখতে যাওয়া ও আর্থিক সহযোগিতা করা অন্যায় হয়নি; বরং প্রতিবেশীর হক আদায়ের কারণে তা প্রসংশনীয় গণ্য হবে।

তবে অসুমলিমদের সাথে ঘনিষ্ঠতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়া নিষেধ। কুরআনুল কারীমে এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

-ফাতহুল বারী ৩/২৬২; ১০/১২৫; উমদাতুল কারী ২১/২১৮; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৮;

শেয়ার লিংক

আবু আহমাদ - পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা

৪৬২০. প্রশ্ন

কয়েক বছর আগে আমাদের পাশের মহল্লায় একটি খ্রিস্টান পরিবারের একটি মেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। কিছুদিন পূর্বে তার পিতা খ্রিস্টান অবস্থায় মারা যায়। এর কিছুদিন পর মেয়েটিও মারা যায়।

মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাই, এই মেয়েটি কি তার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে অংশ পাবে? এবং মেয়েটির সম্পত্তি থেকেও কি তার খ্রিস্টান ভাই-বোনেরা অংশ পাবে?

 

উত্তর

না, মেয়েটি তার খ্রিস্টান পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে অংশ পাবে না। তেমনি মেয়েটির খ্রিস্টান ভাই-বোনেরাও মেয়েটির ওয়ারিস হবে না। উসামা বিন জায়েদ রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لاَ يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ وَلاَ الكَافِرُ المُسْلِمَ.

মুসলমান কোনো কাফিরের ওয়ারিস হবে না, তেমনি কাফিরও কোনো মুসলমানের ওয়ারিস হবে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস  ৬৭৬৪)

-আলমাবসূত, সারাখসী ২৯/১৩৮; আলইখতিয়ার ৪/৫০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৫৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২০/২১৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৭৬৭

শেয়ার লিংক

নুরুল হুদা - বাখরাবাদ, কুমিল্লা

৪৬১৯. প্রশ্ন

আমার আব্বুর দুই সংসার। প্রথম সংসারে আমরা দুই ভাই তিন বোন। আর দ্বিতীয় সংসারে এক ভাই দুই বোন। আব্বুর সম্পদ বলতে ১০ শতাংশের একটা বাড়ি। আর ২০ শতাংশের এক খ- জমি। আব্বু মারা যাওয়ার প্রায় দুই বছর আগে এ পুরো সম্পত্তি সবার মাঝে বণ্টন করে দিয়ে যান। দুই আম্মুকে এক শতাংশ করে দুই শতাংশ বাড়ি দিয়েছেন। আর বাকি সম্পত্তি আমাদের ৮ ভাই-বোনের মাঝে সমানহারে বণ্টন করে দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রত্যেকে ১ শতাংশ করে বাড়ি এবং আড়াই শতাংশ করে জমি পেয়েছে। আর আব্বুর জীবদ্দশাতেই আমরা নিজেদের জায়গায় ঘর করি এবং গাছ-গাছালি লাগিয়ে দেই।

 

এখন মুফতী সাহেবের কাছে প্রশ্ন হল, এভাবে সম্পত্তি বণ্টনের পর আব্বুর জীবদ্দশায় কি আমরা তার মালিক হয়েছি? নাকি আব্বুর মৃত্যুর পর তা মিরাসী সম্পত্তি হিসাবে পুনরায় বণ্টন করতে হবে? আর ভাই-বোনদেরকে এভাবে সমানহারে সম্পত্তি দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

আপনার পিতা সম্পত্তি বণ্টন করে প্রত্যেককে তার অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার দ্বারাই সকলে নিজ অংশের মালিক হয়ে গেছে। সুতরাং পিতার মৃত্যুর পর সেগুলো মিরাসী সম্পত্তি বলে গণ্য হবে না। পূর্বের বণ্টন অনুযায়ী প্রত্যেকের নিজ নিজ অংশের মালিকানা বহাল থাকবে। আর আপনার পিতার জন্য আপনাদের সকল ভাই-বোনকে সমান হারে সম্পত্তি দেওয়া বৈধ হয়েছে। কেননা জীবদ্দশায় ছেলে-মেয়েদেরকে সমান হারে সম্পত্তি দেওয়াও জায়েয আছে।

-মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ২৭৮৩; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৮৬, ২৮৮; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দা ৮৬১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৯১; রদ্দুল মুহতার ৫/২৯৬

শেয়ার লিংক

আবু দাউদ তাওহীদ - মাদারীপুর

৪৬১৮. প্রশ্ন

আমার বড় ভাই স্ত্রীসহ কানাডা থাকেন। এবছর কুরবানী ঈদের আগে কিছু টাকা পাঠিয়ে আমাকে তাদের দু’জনের পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী করতে বলেছিলেন। আমি ঐ টাকা দিয়ে দু’টি খাসি কিনে তাদের পক্ষ থেকে কুরবানী করে দিয়েছি। তবে খাসি কেনার সময় এবং পরে যবাইয়ের সময় কোনটা কার জন্য তা নির্দিষ্ট করিনি। গ্রামের এক ব্যক্তি বলছে, এভাবে নির্দিষ্ট না করার কারণে তাদের কারো কুরবানী আদায় হয়নি। সম্মানিত মুফতী সাহেবের কাছে ঐ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দুজনের পক্ষ থেকে যেহেতু দুটি খাসি কুরবানী করা হয়েছে তাই উভয়ের কুরবানী সহীহ হয়ে গেছে। কেননা এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা না হলেও প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি করে খাসি কুরবানী হয়েছে। ‘নির্দিষ্ট না করায় কুরবানী সহীহ হয়নি’ প্রশ্নের এ কথা ঠিক নয়। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেকের কুরবানীর পশু নির্দিষ্ট করে নেওয়াই উত্তম ছিল।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৫৫

শেয়ার লিংক

ফয়সাল - লালমোহন, ভোলা

৪৬১৭. প্রশ্ন

আমরা ছয় ভাই। প্রতি ঈদে আমরা সবাই মিলে একটি গরু কুরবানী করি। গরুটির ছয় ভাগ ছয় ভাইয়ের নামে আর এক ভাগ ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে মাতা-পিতার নামে কুরবানী করা হয়। আমরা সকলে সে এক ভাগের মূল্য সমানহারে বহন করি। বণ্টনের সময় গরুটি ছয় ভাগে ভাগ করে সকলে সমান সমান অংশ নিয়ে যাই। প্রশ্ন  হল, উক্ত পদ্ধতিতে কুরবানী করা শরীয়তসম্মত কি না? দ্রুত মাসআলাটির সমাধান চাই।

 

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে কুরবানী করা জায়েয। এভাবে ছয় শরীক মিলে এক সপ্তমাংশ এক বা একাধিক মৃতের জন্য ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানী করা জায়েয আছে। তবে উত্তম হল এক ভাগ একাধিকজন মিলে না দিয়ে এক জনেই দেওয়া।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭; ফাতাওয়া উসমানী ৪/১১৩

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement