মুহাম্মাদ আবদুস সবুর - বগুড়া

৪৭০৫. প্রশ্ন

ইসলামী ব্যাংকে লেনদেন প্রসঙ্গে :

১. বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক নামে যেসমস্ত ব্যাংক পরিচালিত এই ব্যাংকগুলোতে যে কোনো মেয়াদী ডিপিএস রাখা, তার লভ্যাংশ গ্রহণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয কি না?

২. এফডিআর নির্দিষ্ট অংকের টাকা যে কোনো মেয়াদী জমা রেখে ব্যাংক কর্তৃক যে মুনাফা বা লভ্যাংশ দেয় তা নেওয়া যাবে কি না? শরীয়তের দৃষ্টিতে দলীলসহ  সমাধান দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।

উত্তর

আমাদের দেশে বর্তমানে শরীয়া মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবিদার ইসলামী ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগে যথাযথভাবে শরীয়তের নীতিমালা অনুসারণ করে না। তাই শরীয়তের এ সংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে পালনের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত এসব ব্যাংকে ডিপিএস, এফডিআর বা অন্য কোনো সেভিং একাউন্টে টাকা রেখে অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে না। হালাল-হারাম বেছে চলতে চায় এমন মানুষের জন্য এধরনের টাকা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকাই বাঞ্ছনীয়। মুনাফার নামে দেওয়া এ ধরনের টাকা সদকা করে দেওয়াই নিরাপদ।

শেয়ার লিংক

আমীনুল ইসলাম - রাজবাড়ী

৪৭০৪. প্রশ্ন

সুদী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খুললে মাসে মাসে সুদ জমা হয় বলে তা হারাম। এখন কেউ যদি সুদের টাকা নিয়ে ভোগ না করে দরিদ্রদেরকে সদকা করার নিয়তে সঞ্চয়ী হিসাব খোলে তাহলে কি তার জন্য তা জায়েয হবে?

উত্তর

না, গরিবকে সুদের টাকা সদকা করে দেওয়ার নিয়তেও সুদী একাউন্ট খোলা জায়েয হবে না। কেননা সুদী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলার অর্থই হল সুদী চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া। আর নিজে সুদ ভোগ করার ইচ্ছা না থাকলেও সুদী চুক্তিতে জড়িত হওয়া গোনাহ। হাদীসে সুদী কারবারে জড়িত সকলের উপর অভিসম্পাত করা হয়েছে।

জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ .

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদীচুক্তির লেখক ও এর স্বাক্ষীদয়ের উপর অভিসম্পাত করেছেন। এবং তিনি বলেছেন, তারা সবাই সমান। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮)

উল্লেখ্য যে, সুদের টাকা সদকা করতে হয় হারাম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য। সদকা করার নিয়তে সুদ কামাই করার বিধান শরীয়তে নেই।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তারেক - বাঁশখালি, চট্টগ্রাম

৪৭০৩. প্রশ্ন

আমাদের পুরো গ্রামে মাত্র একটি মসজিদ। গ্রামটি অনেক বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ। আর মসজিদটি গ্রামের একেবারে দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। তাই উত্তর পাশের লোকদের নামাযে আসতে অনেক কষ্ট হয়। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে মসজিদে আসা একেবারে কঠিন হয়ে যায়। এ কারণে এলাকার মুরুব্বীরা চাচ্ছেন উত্তর পাশে অবস্থিত মসজিদের একটি জমির উপর যা এক ব্যক্তি মসজিদের খরচ নির্বাহের জন্য দান করেছিল- এ পাশের লোকদের জন্য একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করতে। যাতে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামায এখানে আদায় করতে পারেন। আর ঈদ ও জুমা মূল মসজিদে গিয়েই আদায় করবেন। জানার বিষয় হল, এলাকাবাসীর জন্য কি এমনটি করা জায়েয হবে? মসজিদের জায়গায় আরেকটি মসজিদ বানাতে কোনো অসুবিধা আছে কি না?

উত্তর

না, কোন মসজিদের উন্নয়নের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করা বৈধ হবে না। কেননা ওয়াকফিয়া জায়গা যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা হয়েছে তা সে কাজেই ব্যবহার করা জরুরি। অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা জায়েয নয়। পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন হলে আলাদা জমির ব্যবস্থা করতে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৫; আলইখতিয়ার ২/৫২৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৬

শেয়ার লিংক

আলতাফ হুসাইন - কুমিল্লা

৪৭০২. প্রশ্ন

জনৈক মহিলা তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে তার অনুমতি ছাড়া পিত্রালয়ে চলে যায়। কিছুদিন পর স্বামী পিত্রালয় থেকে স্ত্রীকে আনতে গেলে সে আসতে অস্বীকার করে এবং তালাকের দাবি করে। ফলে স্বামী তাকে এক তালাকে বায়েন দিয়ে দেয়। এখন স্ত্রী তার পিত্রালয়েই আছে।

জানতে চাই, এই ইদ্দতকালীন সময়ে স্ত্রী তার স্বামী থেকে ভরণ-পোষণ পাবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামী থেকে ইদ্দতকালীন সময়ের ভরণ-পোষণ পাবে না। কারণ সে পূর্ব থেকেই স্বামীর অবাধ্য হয়ে পিত্রালয়ে চলে গেছে এবং সেখানে থেকেই স্বামী থেকে তালাক চেয়ে নিয়েছে। এবং ইদ্দতও সেখানেই পালন করছে। আর শরীয়তের দৃষ্টিতে স্বামীর অবাধ্য হয়ে স্ত্রী পিত্রালয়ে থাকলে ভরণ-পোষণ পায় না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪২৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৭৯; ফাতহুল কাদীর ৪/২১৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৬০৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তানভীর - নীলক্ষেত, ঢাকা

৪৭০১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার একটি মেয়ে তার পছন্দের একটি ছেলেকে বিবাহ করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তার মা-বাবা অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেন। বিবাহের দিন তার মতামত জানতে চাইলে মেয়ে হাঁ-না কিছুই না বলে চুপ থাকে। তবে মনে মনে সে নারাজ ছিল। এ অবস্থায় তার আকদ হয়ে যায়। এবং মেয়েটি নারাজ থাকলেও মা-বাবার কথায় স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। এবং দু‘মাস তার সাথে সংসার করে। এরপর একদিন হঠাৎ সে পালিয়ে গিয়ে পূর্বোক্ত ছেলেটির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তার সাথে ঘর-সংসার শুরু করে। এটা নিয়ে এলাকায় অনেক তোলপাড় চলছে। মেয়েটির দাবি, সে প্রথম বিবাহে রাজি ছিল না। তাই তা সহীহ হয়নি। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মেয়েটির কথা কি ঠিক? তার প্রথম বিবাহ সহীহ হয়েছে কি না? এবং সে যে দ্বিতীয় বিবাহ করল এর হুকুম কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত প্রথম বিবাহটি সহীহ হয়েছে। কুমারী মেয়ের জন্য বিয়ের (ইযন) অনুমতি চাওয়ার পর চুপ থাকাই সম্মতির আলামত। এক্ষেত্রে বিয়ে সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়ার পর প্রত্যাখ্যান না করে চুপ থেকে সম্মতির প্রমাণ দিয়েছে। বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে মনে মনে নারাজ থাকা বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য প্রতিবন্ধক নয়। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

الْأَيِّمُ أَحَقّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا، وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا، وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا.

... কুমারী থেকে তার (বিবাহের) ব্যাপারে অনুমতি নিতে হবে। আর তার নীরব থাকাই তার সম্মতি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪২১)

এ বিয়েতে সে যদি বাস্তবেই সম্মত না থাকত তাহলে তার উচিত ছিল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া। সে যেহেতু তা করেনি, বরং চুপ থেকেছে তাই প্রথম বিবাহ সহীহ হয়ে গেছে। অতএব প্রথম বিবাহে থাকা অবস্থায় তার দ্বিতীয় বিবাহ সহীহ হয়নি। এখন দ্বিতীয় ছেলের সাথে  মেয়েটির ঘর-সংসার করা সম্পূর্ণ হারাম ও ব্যাভিচারের শামিল হচ্ছে। বিষয়টির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে মেয়েটির এই ছেলেকে ছেড়ে তার প্রকৃত স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়া এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা ইস্তেগফার করা কর্তব্য। আর যদি তার স্বামীর সাথে ঘর-সংসার না করতে চায় তবে তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদ হতে হবে। তালাক ছাড়া এমনি আলাদা থাকলে বিবাহ ভেঙ্গে যাবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৫০৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/২৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৩৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৩৭

শেয়ার লিংক

আবদুল কাইয়ূম - শামীমাবাদ, সিলেট

৪৭০০. প্রশ্ন

হজ্ব বা উমরাহ করার পর হালাল হওয়ার জন্য কতটুকু পরিমাণ চুল কাটা আবশ্যক? মাথার চারপাশের কয়েক জায়গা থেকে অল্প অল্প করে চুল কেটে নিলে তার দ্বারা কি হালাল হওয়া যাবে?

উত্তর

পুরুষের জন্য হালাল হওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলক অর্থাৎ পুরো মাথা মু-িয়ে ফেলা। আর কসর করার দ্বারাও হালাল হওয়া যায়। কসর হচ্ছে পুরো মাথার চুল আঙুলের এক গিরা পরিমাণ কেটে খাটো করা। হালাল হওয়ার সুন্নাহসম্মত নিয়ম এ দু’টিই। অবশ্য মাথার চার ভাগের একভাগের চুল হলক করলে বা ঐ পরিমাণ জায়গার চুল আঙুলের এক গিরা বরাবর করে ছেটে ফেললেও ইহরাম থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। কারো মাথায় অসুস্থতা বা কোনো ওজর থাকলে সে এ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে। তবে ওজর ছাড়া এমনটি করা যাবে না। হাদীসে এক অংশের চুল কেটে অন্য অংশ রেখে দেওয়াকে নিষেধ করা হয়েছে। আর এক চতুর্থাংশের কম মু-ানো বা ছাটা হলে কোনোক্রমেই হালাল হবে না।

তাই মাথার কয়েক জায়গা থেকে অল্প অল্প করে চুল কেটে নিলে তা যদি মাথার এক চতুর্থাংশ পরিমাণ না হয় তাহলে তা দ্বারা সে ইহরাম মুক্ত হবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৯৬; আলবাহরুল আমীক ৩/১৭৯৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৩০; রদ্দুল মুহতার ২/৫১৫; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ১৭৩

শেয়ার লিংক

আবদুল আলীম - নাটোর

৪৬৯৯. প্রশ্ন

আমার এক দরিদ্র প্রতিবেশীর নিকট তার প্রবাসী এক চাচাত ভাই যাকাতের কিছু টাকা পাঠায় গরিবদের বণ্টন করে দেওয়ার জন্য। সেই প্রতিবেশী উক্ত টাকা  থেকে নিজ স্ত্রী, বিবাহিত এক ছেলে ও ছোট এক মেয়ের জন্য কিছু টাকা রেখে বাকি টাকা অন্যান্য গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেয়, তবে সে নিজের জন্য কিছুই গ্রহণ করেনি।

তো আমার প্রশ্ন হল, উক্ত প্রতিবেশী প্রতিনিধি হিসেবে নিজ পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু রেখে যে বণ্টন করেছে তা কি সহীহ হয়েছে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

যাকাত বণ্টনের প্রতিনিধি নিজ পরিবারের গরীব সদস্যদের যাকাত দিতে পারে। তাই প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনার যাকাত বণ্টনকারী প্রতিবেশীর স্ত্রী ও বিবাহিত ছেলে যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়, তাহলে উক্ত প্রতিবেশীর জন্য নিজ ছোট মেয়েকে এবং স্ত্রী ও বিবাহিত ছেলেকে যাকাতের টাকা দেওয়া বৈধ হয়েছে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২২৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২২৭; হশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৯৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাইমুন আহমাদ - চরফ্যাশন, ভোলা

৪৬৯৮. প্রশ্ন

আমার পিতা একজন ব্যবসায়ী। প্রতি বছর তার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয় শাওয়ালের ৫ তারিখ। আর এ মাসেই তিনি যাকাত আদায় করে দেন। এ বছর রমযানে তার ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য টাকা লাভ হয়েছে । তিনি বলেছেন, এ বছর রমযানে যে টাকা লাভ হয়েছে তার যাকাত আগামী রমযানে আদায় করব। আমি আব্বুকে বললাম, নিয়ম তো এ বছরই সব টাকার যাকাত আদায় করে দেওয়া। তিনি বলেন, রমযানের টাকার উপর তো বছর অতিবাহিত হয়নি, তাহলে তার উপর কেন যাকাত আসবে?

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমার আব্বুর রমযানে যে টাকা অর্জিত হয়েছে, সেগুলোর যাকাত কি এ বছরই শাওয়ালে অন্যান্য সম্পদের সাথে আদায় করতে হবে? নাকি আগামী রমযানে যখন তার উপর বছর অতিবাহিত হবে? যদি এ বছরই তার উপর যাকাত ফরয হয় তাহলে সম্পদের উপর বছর অতিবাহিত হওয়ার অর্থ কী? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রমযানে অর্জিত টাকাও এ বছরের শাওয়ালের যাকাতের হিসাবের সাথে গণ্য হবে। যাকাতের ক্ষেত্রে বছর অতিবাহিত হওয়ার বিষয়টি শুধু নেসাব পরিমাণ সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পর বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যাকাতযোগ্য যত সম্পদ অর্জিত হবে বছর শেষে যা থাকবে তার পুরোটারই যাকাত দিতে হবে। বছরের মাঝে যোগ হওয়া টাকার জন্য পৃথক ভাবে বছর পুরো করার নিয়ম নেই।

-কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২৭০; কিতাবুল আছল ২/৭৯; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/৩৩৮; ফাতহুল কাদীর ২/১৬৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৩; ইলাউস সুনান ৯/৪৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু বকর - সদর, মোমেনশাহী

৪৬৯৭. প্রশ্ন

আমার স্বর্ণের এক দোকান আছে। প্রতি বছর রমযানের ১০ তারিখে আমার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয়। এ বছর মুহাররম মাসে আমার দোকানের সব স্বর্ণ চুরি হয়ে যায়। ফলে আমি অনেক অসহায় ও মানুষের কাছে ঋণী হয়ে যাই। আমার বড় মামা আমেরিকায় থাকেন। তিনি এ সংবাদ শুনে আমাকে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন। আমি  সেই টাকা দিয়ে পুনরায় ব্যবসা শুরু করি। আল্লাহর রহমতে বছর শেষে আমি আবার নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে যাই।

এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় কি আমার উপর যাকাত ফরয? নাকি পরবর্তী বছরে ফরয হবে?

উল্লেখ্য যে, উক্ত সম্পদ ছাড়া আমার কাছে যাকাতযোগ্য কোনো সম্পদ ছিল না।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী বছরের মাঝখানে যেহেতু আপনার উক্ত সম্পদের পুরোটাই চুরি হয়ে গেছে। এমনকি আপনি ঋণী হয়ে গেছেন এবং ঐ সময়ে আপনার কাছে যাকাতযোগ্য কোনো সম্পদও ছিল না, তাই এ বছরের শেষে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেও আপনার উপর বিগত বছরের যাকাত ফরয নয়; বরং বছরের যে সময় থেকে আপনি পুনরায় নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন, তখন থেকে নতুন করে যাকাত বর্ষের হিসাব শুরু হবে এবং তখন থেকে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর আপনি যাকাত দিবেন।

-আলমাবসুত, সারাখসী ২/১৭২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৮; ফাতহুল কাদীর ২/১৬৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩০২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাদেক আলী - বরিশাল

৪৬৯৬. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমি নিজ গ্রামে মৃতদের গোসল দিয়ে থাকি। কখনো কখনো গোসলের পর মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে নাপাক বের হয়। তখন বেশ সমস্যায় পড়ি। কেউ বলে পুনরায় গোসল করাতে। আর কেউ বলে শুধু অযু করালে চলবে। এক্ষেত্রে আসলে শরীয়তের বিধান কী? দলীলসহ জানালে খুব উপকৃত হতাম।

উত্তর

মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে কোনো নাপাক বের হলে শুধু নাপাকীর জায়গা ধুয়ে ফেলতে হবে। পুনরায় গোসল কিংবা অযু করানো লাগবে না।

শো‘বা রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

قُلْتُ لِحَمّادٍ : الْمَيِّتُ إذَا خَرَجَ مِنْهُ الشّيءُ بَعْدَ مَا يُفْرَغُ مِنْهُ. قَالَ: يُغْسَلُ ذلِكَ الْمَكَانُ.

আমি হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করলাম, গোসলের পর মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে কোনো কিছু নির্গত হলে কী করণীয়? তিনি উত্তরে বললেন, সেই স্থানটা ধুয়ে ফেলতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১০৩৯)

হাসান বসরী রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

إن خَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ أُجْرِيَ عَلَيْهِ الْمَاءُ، وَلَمْ يُعَدْ وُضُوؤُهُ.

মৃতব্যক্তির শরীর থেকে কোনো কিছু বের হলে তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। পুনরায় অযু করানো লাগবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১০৪০)

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/১২৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৭; ফাতহুল কাদীর ২/৭৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম - যশোর

৪৬৯৫. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মহিলা মারা গেলে সাধারণত দাফনের সময় কবর পর্দা দিয়ে ঘেরা হয় না। ইদানীং এক ভাইয়ের কাছে শুনলাম, মায়্যেত মহিলা হলে দাফনের সময় কবর পর্দা দিয়ে ঘিরে রাখতে হয়। কথাটি কতটুকু যথার্থ? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

মায়্যেত মহিলা হলে কবরে নামানোর সময়  থেকে নিয়ে মাটি দেওয়ার আগ পর্যন্ত চাদর বা এজাতীয় অন্য কিছু দ্বারা কবরকে আবৃত করে রাখা মুস্তাহাব। তবে মাটি দেওয়ার পর কাপড় উঠিয়ে নেবে। সাহাবী-তাবেঈদের বর্ণনা ও ফিকহের কিতাবাদীর বিভিন্ন বক্তব্য দ্বারা বিষয়টি প্রমাণিত।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১৭৮৫; কিতাবুল আছল ১/৩৯৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩২৫; ইলাউস সুনান ৮/৩১৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল খালেক - বেনাপোল, যশোর

৪৬৯৪. প্রশ্ন

আমি বেনাপোলে থাকি। একদিন একটা প্রয়োজনে যশোর শহরে যাওয়ার দরকার হয়। শহরে পৌঁছার পর আব্বু ফোন করে বললেন, তোমার আপুর বাসা খুলনা থেকে ঘুরে আসো। তাই আমি যশোর থেকে খুলনায় যাই এবং সেখানে এক দিন অবস্থান করি।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আমি খুলনায় গিয়ে কি কসর না পূর্ণ নামায পড়ব? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উল্লেখ্য যে, বেনাপোল থেকে যশোরের দূরত্ব সফর পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। অনুরূপভাবে যশোর থেকে খুলনার দূরত্বও সফর পরিমাণ তথা ৭৮ কি. মি. নয়। কিন্তু বেনাপোল থেকে খুলনার দূরত্ব সফর পরিমাণের চেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় ৮০/৮১ কি. মি. বা তার চেয়ে বেশি।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু বেনাপোল থেকে বের হওয়ার সময় আপনার খুলনায় যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না; বরং যশোর পৌঁছার পর খুলনায় যাওয়ার নিয়ত করেছেন। আর যশোর থেকে খুলনার দূরত্ব সফর পরিমাণ নয়। তাই সফরসম দূরে যাওয়ার নিয়ত না করায় খুলনায় গিয়েও আপনি মুকিম থাকবেন এবং পূর্ণ নামায পড়বেন। তবে ফেরার পথে আপনি সরাসরি বেনাপোলে গেলে রাস্তায় মুসাফির গণ্য হবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৩; ফাতহুল কাদীর ২/২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫০৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৭; রদ্দুল মুহতার ২/১২২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুস সামাদ - হেমায়েতপুর, সাভার

৪৬৯৩. প্রশ্ন

আমি আল্লাহ তাআলার তাওফীকে প্রতিদিন কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করি। তাই অনেক সময় সিজদার আয়াতও পড়া হয়। সাধারণত আমি সিজাদায়ে তিলাওয়াতে কোনো দুআ পড়ি না। কিছু দিন আগে আমাদের প্রতিবেশী এক আলেম বললেন, নামাযের সিজদার মত সিজদায়ে তিলাওয়াতেও তাসবীহ পড়তে হয়। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, আসলেই কি নামাযের সিজদার ন্যায় সিজদায়ে তিলাওয়াতেও তাসবীহ পড়া নিয়ম? যদি পড়ার বিধান থাকে তাহলে سبحان ربي الأعلى ছাড়া অন্য কোনো দুআ পড়া যাবে কি না? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

উক্ত আলেম ঠিকই বলেছেন। নামাযের সিজদার ন্যায় সিজদায়ে তিলাওয়াতেও কমপক্ষে তিনবার উক্ত তাসবীহ পড়া সুন্নত। ফরয নামাযে যদি সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করে তাহলে প্রসিদ্ধ তাসবীহ ছাড়া অন্য কোনো দুআ ইত্যাদি না পড়াই ভালো। আর নফল নামাযে কিংবা নামাযের বাইরে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করলে তখন তাসবীহ ছাড়াও হাদীসে বর্ণিত অন্যান্য দুআ ও তাসবীহ পড়তে পারবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/১০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৬৩; ফাতহুল কাদীর ১/৪৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৬; রদ্দুল মুহতার ২/১০৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল ওহাব - গোড়াপাড়া, যশোর

৪৬৯২. প্রশ্ন

অনেক সময় আমি আসর ও এশার আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ি। অন্যান্য নামাযের মত এ নামাযেও প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়ি না। কিছু দিন আগে আমার এক মাদরাসা পড়–য়া ছাত্র প্রতিবেশী বললেন, এসকল নামাযের প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়তে হয়। অনুরূপভাবে তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর পুনরায় সানা, আউযুবিল্লাহও পড়তে হয়। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? এ ব্যাপারে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হাঁ, মাদরাসার ছাত্রটি ঠিকই বলেছেন। নফল ও সুন্নতে গায়রে মুআক্কাদা নামাযের প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ ও দুআ মাছুরা পড়া উত্তম। এরপর তৃতীয় রাকাতের শুরুতে সানা ও আউযুবিল্লাহও পড়া উত্তম। তবে আপনি যেভাবে পড়তেন সে নামাযও আদায় হয়েছে। যদিও তা মুস্তাহাব নিয়ম অনুযায়ী হয়নি। উল্লেখ্য যে, যোহর ও জুমার চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নামাযের প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়বে; দরূদ শরীফ পড়বে না। অনুরূপভাবে তৃতীয় রাকাতের শুরুতে সানা ও আউযুবিল্লাহও পড়বে না।

-ফাতহুল কাদীর ১/৩৯৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৩২; শরহুল মুনয়াহ পৃ. ৩৯৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৫৬; মারাকিল ফালাহ পৃ. ২১৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৬; ইমদাদুল আহকাম ১/৬১১

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - খুলনা

৪৬৯১. প্রশ্ন

আমার এক ছেলে হেফজখানায় পড়ে। মাঝেমধ্যে সে বাড়িতে আসে। বাড়িতে সে অনেক সময় কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করে। প্রায়ই আমি তার তিলাওয়াত শুনি। একদিন সে তিলাওয়াত করছিল। আর আমি পাশে বসে শুনছিলাম। তিলাওয়াতের মাঝে সে একবার বলে উঠল, আম্মু! সিজদার আয়াত পড়েছি। আপনাকেও সিজদা করতে হবে। মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমি ঐ সময় হায়েয অবস্থায় ছিলাম। এ অবস্থায় সিজদার আয়াত শোনার কারণে কি আমার উপর সিজদা ওয়াজিব হয়েছে? পবিত্র হওয়ার পর তা আদায় করতে হবে? এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হায়েয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার উপর সিজদা ওয়াজিব হয়নি। অতএব পবিত্র হওয়ার পর তা আদায় করতে হবে না। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. থেকে বর্ণিত আছে-

عَنْ إبْرَاهِيمَ أَنّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْحَائِضِ تَسْمَعُ السّجْدَةَ، قَالَ: لاَ تَسْجُدُ، هِيَ تَدَعُ مَا هُوَ أَعْظَمُ مِنَ السّجْدَةِ، الصّلاَة الْمَكْتُوبَةَ.

অর্থাৎ তিনি বলতেন, হায়েয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা করবে না। তার তো এর চেয়ে বড় বিধান ফরয নামাযই পড়তে হয় না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৪৩৪৭

হাম্মাদ রাহ. বলেন-

سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ وَإِبْرَاهِيمَ عَنِ الْحَائِضِ تَسْمَعُ السّجْدَةَ. فَقَالاَ: لَيْسَ عَلَيْهَا سُجُودٌ، الصّلاَة أَكْبَرُ مِنْ ذلِكَ.

অর্থাৎ আমি সাঈদ বিন জুবায়ের ও ইবরাহীম রাহ.-কে ঋতুমতী নারীর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম, যে সিজদার আয়াত শোনে (তাকে কি সিজদা করতে হবে?) তাঁরা বললেন, ঋতুমতী নারীর উপর সিজদা অপরিহার্য নয়। নামায তো এর চেয়েও বড় বিধান (তা সত্ত্বেও নামায তার উপর ফরয নয়)। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৪৩৪৮)

-কিতাবুল আছল ১/২৭২; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৬৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৯; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৮১

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - চাটখিল, নোয়াখালী

৪৬৯০. প্রশ্ন

আযানে حي على الصلاةحي على الفلاح বলার সময় ডানে বামে মুখ ফেরানোর বিধান কী? আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব প্রায় সময় ডানে বামে মুখ ফেরান না। এতে কোনো সমস্যা হবে কি?

নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার সময়ও কি ডানে বামে মুখ ফেরাতে হবে?

 

উত্তর

আযানে حي على الصلاة বলার সময় ডানে এবং حي على الفلاح বলার সময় বামে চেহারা ফেরানো সুন্নত। তাই ওজর না থাকলে ডানে-বামে চেহারা ফেরাবে। অবশ্য চেহারা না ফেরালেও আযান শুদ্ধ হবে। আর নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার সময়ও ফিকহের কিতাবাদিতে একই নিয়মে ডানে-বামে চেহারা ফেরানোর কথা বলা হয়েছে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫০৩; শরহে মুসলিম, নববী ৪/২১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৮৮; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৮; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩৭৪; রদ্দুল মুহতার ১/৩৮৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু বকর - শার্শা, যশোর

৪৬৮৯. প্রশ্ন

একদিন মসজিদে নামায পড়ছিলাম। নামাযের পর এক মুছল্লী বললেন, নামাযে সিজদা অবস্থায় উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ স্বাভাবিকভাবে রাখার নিয়ম। সিজদা অবস্থায় আপনার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলানো ছিল। এটা নিয়মপরিপন্থী। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

না, উক্ত ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। নামাযে সিজদা অবস্থায় উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়েই রাখতে হয়। হযরত ওয়ায়েল বিন হুজর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

كَانَ إِذَا سَجَدَ ضَمّ أَصَابِعَهُ.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে রাখতেন। (সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ৬৪২)

-হালবাতুল মুজাল্লী ২/১৬৪; আলবাহরুর রায়েক ১/৩২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৪; মারাকিল ফালাহ পৃ. ১৫৪

শেয়ার লিংক

ইমদাদুল্লাহ - কুমিল্লা

৪৬৮৮. প্রশ্ন

একবার আমার প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হয়। ডাক্তার বলেছিলেন ঘুম থেকে উঠার পর প্রস্রাব করে একটি বোতলে নিয়ে আসবেন। আমি তা নিয়ে ল্যাবে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যাওয়ায় আমি বোতলটি পকেটে রেখেই নামায পড়ে ফেলি। পরে আমার সন্দেহ হল যে, পকেটে প্রস্রাব রেখে নামায আদায় হয়েছে কি না। মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা, আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?

উত্তর

পকেটে ঐ বোতলটি রেখে নামায পড়ার কারণে আপনার নামায আদায় হয়নি। পুনরায় তা পড়ে নিতে হবে।

-ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ১/৮৭; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৯৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬৩

শেয়ার লিংক

আবদুল করীম - টেকনাফ

৪৬৮৭. প্রশ্ন

কিছু দিন আগে ডাক্তারের নিকট গিয়ে কয়েকটি দাঁত ওয়াশ করাই। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী বাসায় এসে গরম পানি দিয়ে কুলি করলে বেশ সময় পর রক্ত বন্ধ হয়। নামাযের সময় হওয়ায় বাসা থেকে অযু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হই। মসজিদের কাছে গিয়ে থুথু ফেলে দেখি তা লালবর্ণ ধারণ করে ছিল। সন্দেহ হওয়ায় সতর্কতাবশত নতুন অযু করে নামায পড়ি।

এখন আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি তখন আমার অযু ভেঙ্গে গিয়েছিল? এক্ষেত্রে শরীয়তের মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ  হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নতুন করে অযু করা ঠিক হয়েছে। কেননা থুথুতে রক্তের পরিমাণ বেশি হলে তার কারণে অযু ভেঙ্গে যায়। অবশ্য যদি রক্তের পরিমাণ কম হয় অর্থাৎ থুথুতে রক্তের স্বাদ পাওয়া না যায় কিংবা লাল বর্ণের না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে অযু নষ্ট হবে না।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৩৪১; বাদায়েউস সানায়ে ১/১২৪; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/১৪৭; ফাতাওয়া খানিয়াহ ১/৩৮; রদ্দুল মুহতার ১/১৩৮

শেয়ার লিংক

শিহাব খান - মেজর ঢিলা, সিলেট

৪৬৫৭. প্রশ্ন

বর্তমানে গজল বা নাশীদকে ইসলামী সংগীত বলা হয় এবং এই ইসলামী সংগীতের নামে অনেক শিল্পী সেই সংগীতে মিউজিক ব্যবহার করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অনেক পরিচিত মুখ রয়েছে। এই ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?

উত্তর

বাদ্য-বাজনা শোনা নাজায়েয। তাই হামদ-নাতের সাথে বাদ্য-বাজনা থাকলে ঐ হামদ-নাত শোনা জায়েয হবে না। এছাড়া হামদ-নাত, গজলের সাথে এটা যুক্ত করা বেয়াদবিও বটে। তাই এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। তবে হামদ-নাত, গজল যদি সম্পূর্ণ বাজনা ও মিউজিক মুক্ত হয় এবং তার কথা যদি সহীহ হয়, শরীয়তের কোনো আকীদা বা নির্দেশের পরিপন্থী না হয় তাহলে তা বলা ও শোনা জায়েয।

উল্লেখ্য যে, যারা হামদ-নাত বা ইসলামী ধাঁচের গজল পরিবেশন করবে তাদের দায়িত্ব হল এতে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা এবং গানের সুরে তা না বলা। তদ্রƒপ এসব ক্ষেত্রে অন্যদের পরিভাষা যেমন কনসার্ট, গান ইত্যাদি শব্দও পরিহার করা উচিত।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৯০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৬৮৫; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৬৯০৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৪৫; ফাতহুল কাদীর ৬/৪৮১; আলবাহরুর রায়েক ৭/৮৮; ইসলাম আওর মূসিকী, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.

শেয়ার লিংক

ইদ্রিস হাসান - মাদারিপুর

৪৬৫৬. প্রশ্ন

এক ব্যক্তির সন্তানরা তার দেখাশোনা করে না এবং তাকে খরচাদিও দেয় না। তাই সে চাচ্ছে তার সম্পদ থেকে সন্তানদেরকে বঞ্চিত করে সমুদয় সম্পত্তি স্ত্রীর নামে লিখে দিতে। এটা জায়েয হবে কি না?

উত্তর

সম্ভাব্য কোনো ওয়ারিসকে বঞ্চিত করে সমুদয় সম্পত্তি কাউকে দিয়ে দেওয়া অবৈধ। সন্তানরা বাবার খোঁজ না নেওয়া ও তাকে না মানা অন্যায়। কিন্তু এ কারণে তাদেরকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া যাবে না।

সন্তানদের কর্তব্য, পিতামাতার দেখাশোনা করা ও খোঁজ-খবর রাখা এবং তাদের অবাধ্য না হওয়া। পিতামাতার অবাধ্যতাকে হাদীসে কবীরা গুনাহ বলা হয়েছে। হযরত আবু বাকরাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الكَبَائِر؟ قُلْنَا: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: الإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ...

আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহের কথা বলে দিব না? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই (বলে দিন)। বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া,...। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৭৬)

উল্লেখ্য, মীরাস হচ্ছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার মৃত্যুপরবর্তী সম্পদ বণ্টনের পদ্ধতি। বান্দার উচিত এতে নিজ থেকে হস্তক্ষেপ না করা এবং এমন কিছু না করা, যাতে তার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী পুরোপুরি বঞ্চিত হয়ে যায়। অবশ্য কখনো কোনো সন্তানের ফাসেকী বা অবাধ্যতা চরম পর্যায়ে চলে গেলে সেক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্বে ভুক্তভোগী নিজে কোনো ফতোয়া বিভাগে গিয়ে অবস্থা বর্ণনা করে তাদের মাসআলা অনুযায়ী আমল করবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩১৬৮৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪০০; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৩৭

শেয়ার লিংক

আলী হায়দার - সদর, সিলেট

৪৬৫৫. প্রশ্ন

আমার বড় ভাইয়ের শাশুড়ি তার ছেলেদের সাথে ঝগড়া-বিবাদের কারণে আমাদের বাড়িতে চলে আসেন। আমার ভাই তার যাবতীয় ভরণ-পোষণ ও দেখাশুনার দায়িত্ব নেন। এতে তিনি খুশি হয়ে তার যাবতীয় সম্পত্তি ভাইকে মৌখিকভাবে দিয়ে দেন। এবং ভাই চাইলে যে কোনোদিন তা রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলেন। (নগদ কোনো অর্থ তার কাছে না থাকলেও রাস্তার পাশে তার একটি জমি রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা) মানুষ কী বলবে এ কারণে ভাই প্রথমে এটাকে তেমন গুরুত্ব দেননি।  পরে তার বারবার বলাতে রাজি হয়ে যান। এবং সামনের মাসে জমি রেজিস্ট্রি করতে যাবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেন। এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং গত ২৮/০৬/১৮ ঈ. ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর ছেলেরা জমি দিতে নারাজ। জানার বিষয় হল, স্বেচ্ছায় দানকৃত এ জমি আমার ভাইয়ের প্রাপ্য কি না? তিনি যদি জোরপূর্বক জমি নিতে চান তাহলে এতে শরয়ী সমস্যা হবে কি না?

উত্তর

যদি শাশুড়ির জীবদ্দশায় আপনার ভাই ঐ জমির দখল বুঝে না নিয়ে থাকেন তাহলে এই দান কার্যকর হয়নি। এবং এর দ্বারা উক্ত জমিতে আপনার ভাইয়ের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেক্ষেত্রে ঐ মহিলার মৃত্যুর পর তার ছেলে এবং অন্যান্য ওয়ারিসরা মিরাছ হিসাবে উক্ত জমির হক্বদার হবে। এক্ষেত্রে ওয়ারিসরা চাইলে আপনার ভাইকে পুরো জমি বা তার অংশবিশেষ দিতে পারে। আর তাদের মায়ের কথা রক্ষা ও তার খেদমত করার কারণে ছেলেরা মার সম্পত্তি থেকে আপনার ভাইকে যদি কিছু দিয়ে দেয় তবে তা উত্তম হবে। আর যদি শাশুড়ির জীবদ্দশায় আপনার ভাই তার জমিগুলোর দখল বুঝে নিয়ে থাকে তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে এর মালিক আপনার ভাই হবে। ওয়ারিসগণ এক্ষেত্রে উক্ত সম্পদের কোনো অংশ পাবে না।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৫০২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৮৮; ফাতাওয়া খানিয়া ২/২৫৬; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৯০; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৪৭১

শেয়ার লিংক

পারভেজ - ধানমণ্ডি, ঢাকা

৪৬৫৪. প্রশ্ন

আকীকা করার সময় একটি মেয়ে শিশুর নাম রাখা হয়েছিল ‘শীলা আহমাদ’। নামটি আরবী-বাংলা মিশ্রিত। বাচ্চার অভিভাবক এখন এই ভুল বুঝতে পেরেছে। তারা সম্পূর্ণ আরবী নাম রাখতে চায়। আকীকা করার পর কি আবার নাম পরিবর্তন করা যাবে? আর পরিবর্তন করলেও যেহেতু ডাক নাম শীলা পরিচিত হয়ে গেছে সুতরাং এটি থাকলে কোনো অসুবিধা আছে কি?

উত্তর

আকীকার পরেও প্রয়োজনে নাম পরিবর্তন করা যায়। এতে আকীকার কোনো ক্ষতি হয় না। আর অসুন্দর বা ভুল নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখা সুন্নাহসম্মত কাজ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন (পুরুষ ও নারী) সাহাবীর নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রেখে দিয়েছিলেন।

সহীহ বুখারীসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে এ মর্মে একটি অধ্যায়ই রয়েছে-

باب تحويل الاسم إلى اسم هو أحسن منه

‘নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রেখে দেওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়।’ এ অধ্যায়ের অধীনে মুহাদ্দিসীনে কেরাম ঐসকল হাদীস জমা করেছেন, যেগুলোতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সাহাবায়ে কেরামের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

অতএব প্রশ্নোক্ত  ঐ মেয়েটির বর্তমান নাম পরিবর্তন করে একটি সুন্দর নাম রাখা উত্তম হবে। এক্ষেত্রে সুন্দর ও অর্থপূর্ণ নাম নির্বাচনের জন্য কোনো আলেমের সহযোগিতা নিতে পারেন। এরপর সামনে থেকে ঐ সুন্দর নামেই তাকে ডাকবেন। পূর্বের নামে ডাকবেন না।

শেয়ার লিংক

আহমাদুল্লাহ - মতিঝিল, ঢাকা

৪৬৫৩. প্রশ্ন

আমার একটি ফটো স্টুডিও আছে, এর আয় দিয়ে আমার পরিবার চলে। একদিন আমার এক আত্মীয়কে আমাদের বাড়ীতে দাওয়াত দিলে সে বলে, আপনার আয় হারাম, তাই আমি দাওয়াত গ্রহণ করতে পারব না।

জানতে চাই, আমার এ ব্যবসা ও তা থেকে প্রাপ্ত আয় বৈধ কি না?  বৈধ না হলে এখন আমার করণীয় কী?

উত্তর

প্রচলিত ফটো স্টুডিওগুলোর অধিকাংশ কাজই নাজায়েয। মানুষ সাধারণত শখের বশবর্তী হয়ে ছবি তোলে। বড় বড় ছবি টানানো হয়, বেপর্দা নারীর ছবি তোলা হয়। এসবই নাজায়েয। তাই এ ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ও নাজায়েয। সুতরাং ঐ ব্যক্তির দাওয়াত গ্রহণ না করা ঠিকই হয়েছে। অবশ্য পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং এর চেয়ে ছোট ছবি, যা অফিসিয়াল প্রয়োজনে তোলা হয় তা জায়েয এবং এ থেকে অর্জিত আয়ও জায়েয। কিন্তু স্টুডিওতে এর পরিমাণ খুবই কম। তাই স্টুডিওতে আপনার অধিকাংশ কাজ নাজায়েয এবং অধিকাংশ উপার্জনও নাজায়েয। অতএব আপনার কর্তব্য এ ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্য কোনো হালাল ব্যবসা করা। তবে যদি স্টুডিওটি এমন পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারেন যে, তাতে শুধু মানুষের পাসপোর্ট বা স্ট্যাম্প সাইজের প্রয়োজনীয় ছবিই তোলা হবে, যেমন কোনো কোনো ভূমি রেজিষ্ট্রি অফিসে দেখা যায়; তাহলে সেক্ষেত্রে ঐ কাজ জায়েয হবে এবং এর ইনকামও হালাল হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৪৮; মাজমাউল আনহুর ৩/৫৩৩; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫০; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/১৬৪

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - উত্তরা, ঢাকা

৪৬৫২. প্রশ্ন

আমি একটি কোম্পানিতে ১৫ বছর যাবৎ চাকরি করি। কয়েক মাস পূর্বে কোম্পানির একটা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য আমি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অংকের ঘুষ নিয়ে প্রজেক্টটি তাদেরকে দেই। এখন আমি ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। আমি এ গুনাহ থেকে মুক্ত হতে চাচ্ছি। আমার সম্পদকে হারাম থেকে পবিত্র করতে চাচ্ছি। কিন্তু কোম্পানিকে এ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। এতে আইনি জটিলতাসহ চাকরি নিয়ে সমস্যার আশংকা আছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকেও ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

বিষয়টি নিয়ে আমি খুব পেরেশানিতে আছি। আমার সম্পদকে কীভাবে হারাম থেকে পবিত্র করতে পারি? দ্রুত সমাধান জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠান থেকে আপনি ঘুষ নিয়েছেন সে প্রতিষ্ঠানকেই টাকাগুলো ফেরত দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরাসরি তাদের নিকট ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে ভিন্ন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন ঐ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্টে জমা করে দিতে পারেন, বা প্রেরকের নাম উল্লেখ না করে খামে ভরে মালিক পক্ষের নিকট পাঠিয়ে দিতে পারেন কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিও অবলম্বন করা যেতে পারে। কেননা মালিক জানা থাকলে তাকেই দিতে হবে। এক্ষেত্রে সদকা করা যথেষ্ট নয়।

-আলবাহরুর রায়েক ৬/২৬২; রদ্দুল মুহতার ৬/৪২৩

শেয়ার লিংক

আলহাজ্ব কাফিলুদ্দিন - চান্দিনা, কুমিল্লা

৪৬৫১. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমি আমার দুই তলা বাড়ীর ছাদে সাইনবোর্ড লাগানোর জন্য একটি খুঁটি তৈরি করি। কিছুদিন পূর্বে একটি কোম্পানির সাথে তাতে সাইনবোর্ড লাগানোর জন্য দুই বছরের ভাড়া চুক্তি হয়। এরপর প্রায় দেড় বছর কেটে গেছে। এরি মাঝে এ মাসের শুরুতে প্রচন্ড বাতাসে সেটি ভেঙে যায়। এখন কোম্পানি আমাকে বলছে এটি নতুন করে তৈরি করে দিতে। কিন্তু আমি চাচ্ছি,  তাদেরকে বাকি কয়েক মাসের টাকা ফেরত দিয়ে খুঁটিটি এখন  আর তৈরি না করতে। এখন আমার কী করণীয়? আমি কি খুঁটিটি তৈরি করে দিতে বাধ্য।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু উক্ত কোম্পানির সাথে দুই বছর চুক্তি করেছেন, তাই আপনার জন্য খুঁটিটি নতুন করে নির্মাণ করে দিয়ে চুক্তি পূর্ণ করা উত্তম হবে। অবশ্য কোনো ওজরের কারণে যদি আপনি তা নির্মাণ করতে না চান, সেক্ষেত্রে ভাড়াগ্রহীতা আপনাকে তা নির্মাণে বাধ্য করতে পারবে না; বরং আপনি চাইলে ভাড়া চুক্তিটি বাতিল করে দিয়ে বাকি মাসের ভাড়া (অগ্রিম নিয়ে থাকলে) ফেরত দিতে পারবেন।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩৬৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১৪৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৫৫

শেয়ার লিংক

আহমদ শাহজাদ - সিলেট

৪৬৫০. প্রশ্ন

আমার মামার বড় একটি লাইব্রেরী রয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি বিদেশ চলে যান। যাওয়ার সময় আমাকে লাইব্রেরীর দায়িত্বশীল বানিয়ে যান। তার সাথে আমার এভাবে চুক্তি হয় যে, লাইব্রেরী দিয়ে মুযারাবার ভিত্তিতে আমি স্বাধীনভাবে ব্যবসা করব। অর্জিত লভ্যাংশের ৪০% আমি ও ৬০% তিনি পাবেন। বিষয়টি শুনে আমার এক পরিচিত আলেম বললেন, চলমান  ব্যবসা দিয়ে এভাবে কারবার করা সহীহ নয়। মুহতারামের কাছে আমার জানার বিষয় হল, তার এ কথাটি কি ঠিক? বাস্তবে এমন হলে এখন আমাদের করণীয় কী?

উত্তর

মুযারাবা ব্যবসা নগদ টাকা-পয়সা দ্বারা করাই নিয়ম। পণ্য সামগ্রী বা চলমান ব্যবসা দ্বারা মুযারাবা চুক্তি করা ঠিক নয়। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে কেউ এমনটি করতে চাইলে কোনো কোনো ফকীহের মতে তা সহীহ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে দোকানে যা মালামাল রয়েছে তার যথাযথ হিসাব করে এর পাইকারী ন্যায্যমূল্য ঠিক করতে হবে। এরপর সে পরিমাণ টাকা ব্যবসার মূলধন হিসাবে গণ্য করবে।

-কিতাবুল আছল ৪/১৩৭; আলমাবসূত, সারাখসী ২২/৩৩; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৭/১২৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৪৯৫

শেয়ার লিংক

ফয়সাল আহমাদ - কানাইঘাট, সিলেট

৪৬৪৯. প্রশ্ন

আমি বিদেশ থাকা অবস্থায় আমার ভাগিনাকে মুযারাবা ব্যবসা করার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। চুক্তি হয়েছিল যে ৬০% আমি ও ৪০% লভ্যাংশ সে পাবে। কিছুদিন পর ব্যবসায় আরো ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু আমি টাকা দিতে পারছিলাম না। সে আমার সাথে পরামর্শ করে নিজের পক্ষ থেকে একলক্ষ টাকা ব্যবসায় লাগায়। জানার বিষয় হল, এখন আমাদের হিসাবের পদ্ধতিটা কী হবে? তার বিনিয়োগকৃত টাকার জন্য কি তাকে অতিরিক্ত মুনাফা দিতে হবে? নাকি পূর্ব নির্ধারিত হারেই লভ্যাংশ বণ্টন করা যাবে।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ভাগিনা নিজ থেকে যে পরিমাণ টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে সে টাকার লাভ এককভাবে সে পাবে। আর আপনার বিনিয়োগকৃত অর্থের লভ্যাংশ দু’জনের পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে বণ্টন করে  নিবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৩৬; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ ১৪১৭; শরহুল মাজাল্লাহ, আতাসী ৪/৩৪৯

শেয়ার লিংক

ডা. মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ময়মনসিংহ

৪৬৪৮. প্রশ্ন

কোনো ব্যক্তি ব্যাংকে তার জমাকৃত টাকার উপর বছরে ২০০০ টাকা সুদ/মুনাফা পেল। ব্যাংক তার বিভিন্ন চার্জ বাবদ বছরে ১০০০ টাকা কেটে রাখল। এখন গরীবদেরকে দেওয়ার সময় মোট ২০০০ টাকা দিতে হবে নাকি ১০০০ টাকা দিতে হবে।

উত্তর

ব্যাংকে যে সুদ/মুনাফা জমা হয় সে টাকা থেকে তৎক্ষণাৎ ১০% বা ১৫% সরকারি কর হিসাবে কেটে নেওয়া হয়। কর কেটে নেওয়ার পর যে নীট সুদ/মুনাফা একাউন্ট হোল্ডারদের একাউন্টে জমা থাকবে তার সবটুকুই সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবদের দিয়ে দিতে হবে। অন্যান্য চার্জ বাবদ ব্যাংক যে টাকা কেটে রাখে অথবা সরকার এক্সেস ডিউটি বাবদ আলাদাভাবে যে টাকা একাউন্ট থেকে নিয়ে থাকে তা সুদের টাকা দ্বারা আদায় করা যাবে না; বরং তা একাউন্ট হোল্ডারদের জমাকৃত মূল টাকা থেকেই নেওয়া হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। কেননা ব্যাংক একাউন্ট হোল্ডারদেরকে বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের বিনিময় হিসাবেই বিভিন্ন চার্জ নিয়ে থাকে। তাই সুদ থেকে ব্যাংকের চার্জ  আদায় করা সুদ দ্বারা ফায়দা গ্রহণেরই অন্তর্ভুক্ত। তাই তা জায়েয হবে না।

-সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৫/৩৫০; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৮

শেয়ার লিংক

মাওলানা আবদুল জাব্বার - দেবিদ্বার, কুমিল্লা

৪৬৪৭. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয় কিছুদিন আগে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল যে, হুযুর আমি ব্যাংকে ৫ লক্ষ টাকা রেখেছি। এখন তা বেড়ে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হয়েছে। আমি এখন এইসব টাকা কীভাবে উঠাতে পারি? উদ্দেশ্য ছিল বৈধ কোনো পথ বলে দেওয়া। উত্তরে সে আলেম তাকে বললেন, আপনি ব্যাংক থেকে ৪ লক্ষ টাকা উঠাবেন। আর বাকি ১ লক্ষ টাকার পরিবর্তে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার যে ডলার হয় তা উঠাবেন তাহলে জায়েয হয়ে যাবে। অতপর সে আলেম তার কথার পক্ষে দলিল হিসেবে বললেন, টাকা এবং ডলারের মাঝে কমবেশ করা জায়েয। যেমন সোনা-রূপার মাঝে কমবেশ করা জায়েয।

এখন আমার প্রশ্ন হল, উক্ত আলেমের কথা ঠিক কি না? এবং এভাবে টাকার পরিবর্তে ডলার উঠালে বৈধ হবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, উক্ত পদ্ধতিটি অবলম্বন করা হয়েছে জমা টাকার উপর অতিরিক্ত যে ৮০ হাজার টাকা সুদ এসেছে তা বৈধ হিসাবে গ্রহণ করার জন্য। এক্ষেত্রে ডলারদাতা এবং গ্রহীতা উভয়ে ভালো করেই জানে যে, প্রদত্ত ডলার ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার পরিবর্তে। শুধু ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নয়। সুতরাং যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটেও থাকে, তবে ১ লক্ষ টাকার  সমপরিমাণ ডলার আপনার আত্মীয়ের জন্য হালাল আর ৮০ হাজার টাকার সমপরিমাণ ডলার হারাম। জমা টাকার অতিরিক্ত গ্রহণ করাই সুদ। চাই অতিরিক্ত অংশের টাকা সরাসরি গ্রহণ করা হোক বা ডলারের মাধ্যমে গ্রহণ করা হোক।

প্রকাশ থাকে যে, ‘সুদ’ হল নিকৃষ্টতম হারাম। আর এর চেয়ে আরো মারাত্মক ও জঘন্যতম অপরাধ হল, হীলাবাহানা ও ছুতার মাধ্যমে এ নিকৃষ্টতম হারামকে বৈধ মনে করে গ্রহণ করা। অতএব সুদকে হারাম জেনে সর্বাবস্থায় তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

উল্লেখ্য যে, প্রশ্নের বর্ণনায় মনে হচ্ছে ঐ মাসআলাদাতা ব্যক্তির সাধারণ জ্ঞানও নাই। কারণ সাধারণত ব্যাংকগুলোতে এভাবে নিজ একাউন্টের টাকার বদলে ডলার গ্রহণ করার নিয়ম নেই।

-ইলাউস সুনান ১৪/৫১২; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬৭

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement