মাও. সালিম বিন আবদুল মালিক - দলরইগাও, সিলেট

৬৯৮১. প্রশ্ন

বর্তমান সময়ে বাসা-বাড়িতে সাধারণত গোসলখানার ভেতরই টয়লেট থাকে। মাঝে কোনো আড়াল থাকে না। তবে টয়লেটের ফ্লোর গোসলখানার ফ্লোর থেকে একটু উঁচু থাকে। আমাদের বাড়িতেও এমনই।

জানার বিষয় হল, এ ধরনের গোসলখানায় কি ওযু-গোসল করা যাবে? গেলে সেখানে ওযু-গোসলের দুআ পড়া যাবে কি না?

উত্তর

এ ধরনের গোসলখানায় ওযু-গোসল করতে অসুবিধা নেই। আর গোসলখানা যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে এবং টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ না আসে, তাহলে সেখানে ওযু-গোসলের দুআও পড়া যাবে। কিন্তু তাতে যদি ময়লা থাকে কিংবা টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ আসে, তাহলে সেখানে শব্দ করে দুআ পড়বে না; বরং নিঃশব্দে পড়বে।

আর যদি এমন গোসলাখানা না হয়; বরং শুধু টয়লেট হয়, তাহলে এর ভেতর ওযু করলে সেক্ষেত্রেও মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে পড়বে।

* >الفتاوى الخانية< ১/১৬২: وأما قراءة القرآن في الحمام، إن لم يكن فيه أحد مكشوف العورة، وكان الحمام طاهرا، لا بأس بأن يرفع صوته بالقراءة، وإن لم يكن كذلك فإن قرأ في نفسه ولا يرفع صوته لا بأس به.

—কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ২৭৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১২৩২; মিরকাতুল মাফাতীহ ২/৫০; রদ্দুল মুহতার ২/১৯৪

শেয়ার লিংক

মালিহা মাহবুবা - আজিমপুর, ঢাকা

৬৯৮২. প্রশ্ন

আমি সর্বদাই গুরুত্বের সাথে আযানের জবাব দিয়ে থাকি। মাসিক চলাকালীনও এই আমল চালু রাখি। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে এ সময় আযানের জবাব দিতে নিষেধ করেন। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, মাসিক অবস্থায় আযানের জবাব দেওয়ার বিধান কী? এটি কি তখন নিষেধ?

উত্তর

ঋতুস্রাব চলাকালেও আযানের জবাব দেওয়া জায়েয আছে। এতে অসুবিধা নেই। তখন আযানের জবাব দেওয়াকে নিষেধ মনে করা ভুল ধারণা। মাসিক চলাকালীন কুরআন তিলাওয়াত নিষেধ। কিন্তু দুআ, যিকির-আযকার নিষেধ নয়।

* >الفتاوى الهندية< ১/৩৮: ويجوز للجنب والحائض الدعوات وجواب الأذان ونحو ذلك.

—মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ১৩০২; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৮; আলগায়া, সারূজী ২/২৫৭; উমদাতুল কারী ৫/১১৭; ফাতাওয়া নাবুলসী ১/৪১০; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৩

শেয়ার লিংক

জুবায়ের বিন আজাদ - মুলাদি, বরিশাল

৬৯৮৩. প্রশ্ন

আমাদের মাদরাসার কামরায় মাগরিবের সময় অনেক মশা থাকে। একদিন নামাযের মধ্যে সিজদায় যাওয়ার সময় একটি মশা আমার হাঁটুর নিচে পড়ে যায় এবং রক্ত বেরিয়ে তা আমার কাপড়ে লেগে যায়।

এখন জানার বিষয় হচ্ছে, রক্ত লাগার কারণে ওই কাপড়ে কি আমার নামায হবে?

উত্তর

মশার রক্ত নাপাক নয়। তা কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হয় না।

আশআস ইবনে সাওওয়ার রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

كَانَ الْحَسَنُ لَا يَرَى بِدَمِ الذُّبَابِ وَالْبَعُوْضِ وَالْبَرَاغِيْثِ بَأْسًا.

হাসান বসরী রাহ. মাছি, মশা ও ‘বারাগিছ’ (রক্ত শোষণকারী এক প্রকার ক্ষুদ্র কীট)-এর রক্তকে নাপাক মনে করতেন না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৩২)

তাই মশার রক্ত লেগে থাকা কাপড়ে নামায পড়লে তা আদায় হয়ে যাবে।

* كتاب >الأصل< للشيباني ১/৫৪: قلت: أرأيت دم البراغيث والبق والحلم يكون في الثوب؟ قال: أما دم البق والبراغيث فليس به بأس.

—মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৩১; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৪২; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/১৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৬; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ১৫৬

শেয়ার লিংক

কাওসার মাহমুদ - রায়পুর, লক্ষ্মীপুর

৬৯৮৪. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে একটি বাচ্চা আমার কাপড়ে পেশাব করে। তারপর কাপড়টি শুকিয়ে যায়। আমি ভুলে সে কাপড় পরে চার ওয়াক্ত নামায আদায় করে ফেলি। এখন এ নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

আপনার ওই চার ওয়াক্ত নামায আদায় হয়নি। সেগুলো পুনরায় পড়ে নিতে হবে। কেননা নামায সহীহ হওয়ার জন্য পরিহিত বস্ত্র পাক থাকা আবশ্যক। ভুলেও নাপাক কাপড়ে নামায পড়ে ফেললে তা আদায় হয় না। স্মরণ হওয়ার পর ওই নামায পুনরায় আদায় করা জরুরি।

* >بدائع الصنائع< ১/১৭৩: وأجمعوا على أنه لو صلى في ثوب نجس ناسيا، أو توضأ بماء نجس ناسيا، ثم تذكره لا يجزئه.

—আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/৪৭০; খিযানাতুল আকমাল ১/১৭৫; আলবিনায়া ১/৪৫৬; আস্সিআয়া ১/৭০৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদুল্লাহ হাফীজ - সদর, গোপালগঞ্জ

৬৯৮৫. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে ওয়াক্তিয়া নামাযে গরমের সময় এসি চালানো হয়। তখন মসজিদের ভেতরের দরজা বন্ধ থাকে। মাঝেমধ্যে দেখা যায় যে, কোনো কোনো মুসল্লী ঠান্ডা-সর্দি ইত্যাদি সমস্যার কারণে মসজিদ সংলগ্ন বারান্দায় একাকী দাঁড়িয়ে সেখান থেকে ইক্তেদা করে নামায পড়েন।

জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে ভেতরের দরজা বন্ধ থাকার কারণে বারান্দার মুসল্লীদের ইক্তেদায় কোনো সমস্যা হবে কি না?

উত্তর

মসজিদের ভেতরের দরজা বন্ধ থাকলেও মসজিদের বারান্দা থেকে ইক্তেদা করা সহীহ আছে। ইমামের ওঠা-বসা, রুকু-সিজদার তাকবীর বারান্দা থেকে ভালোভাবে শোনা গেলে ভেতরের দরজা বন্ধ থাকলেও বারান্দা থেকে ইক্তেদা করতে কোনো সমস্যা নেই। তাই আপনাদের মসজিদে ঠান্ডা-সর্দিতে আক্রান্তদের ভেতরে না দাঁড়িয়ে বারান্দা থেকে ইক্তেদা করে নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে। তবে ওজর ছাড়া ভেতরে খালি রেখে বারান্দায় দাঁড়ানো যাবে না। এমনটি করলে মাকরূহে তাহরীমী হবে।

* >الفتاوى الهندية< ১/৮৮: وأما إذا كان الحائط صغيرا ..، ولكن لا يخفى حال الإمام، فمنهم من قال: يصح الاقتداء، وهو الصحيح. هكذا في المحيط.

* >بدائع الصنائع< ১/৩৬২: ولو اقتدى بالإمام في أقصى المسجد، والإمام في المحراب جاز؛ لأن المسجد على تباعد أطرافه جعل في الحكم كمكان واحد.

—ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৪; যাদুল ফাকীর, পৃ. ১৫৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫২৪; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/২৪৬; রদ্দুল মুহতার ১/৫৮৬

শেয়ার লিংক

জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ - গাজীপুর

৬৯৮৬. প্রশ্ন

যে সমস্ত নামাযে জোরে কেরাত পড়তে হয় সেখানে একাকী নামায আদায় করার সময় আস্তে আস্তে কেরাত পড়লে কি নামায আদায় হবে?

উত্তর

হাঁ, উচ্চৈস্বঃর বিশিষ্ট ফরয নামায একাকী আদায় করা হলে কেরাত আস্তেও পড়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে উত্তম হল, একেবারে নিঃশব্দে না পড়ে কিছুটা জোরে কেরাত পড়া।

—আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৭; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৯১; আলমুহীতুর রাযাবী ১/২৩৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩২৭; দুরারুল হুক্কাম ১/৮০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩৩

শেয়ার লিংক

জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ - গাজীপুর

৬৯৮৭. প্রশ্ন

যে সমস্ত নামাযে জোরে কেরাত পড়তে হয়, তার কাযা আদায়ের সময়েও কি জোরে কেরাত পড়তে হবে?

উত্তর

না, এসব নামাযের কাযা একাকী পড়া হলে তাতে কেরাত উচ্চৈস্বঃরে পড়া জরুরি নয়; বরং নিম্নস্বরেও পড়া যাবে। হাঁ, কাযা নামায জামাতের সাথে আদায় করলে তখন এ সকল নামাযে কেরাত সশব্দে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে নিঃশব্দে পড়া যাবে না।

—কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ১৬৮; শরহুল জামিইস সগীর, বাযদাবী ১/১৬৪; শরহুল জামিইস সগীর, কাযীখান ১/১৪২; আলকাফী শরহুল ওয়াফী ১/৩৭৬; আননাহরুল ফায়েক ১/২২৮; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল হক - সিলেট

৬৯৮৮. প্রশ্ন

একবার আমি বাংলাদেশের বড় এক মসজিদে জুমার নামায পড়ি। প্রথম রাকাতে ইমাম সাহেব সূরা বাকারার শেষ পৃষ্ঠা থেকে পড়েন। সেখানে—

كُلٌّ آمَنَ بِاللهِ وَمَلَائِكَتِهِ...وَرُسُلِهِ

-এর মধ্যে وَكُتُبِهِ শব্দটা তিনি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে আমি ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নামায হয়ে যাবে।

আদবের সাথে জানার বিষয় হল, সত্যিই কি নামায হয়ে যাবে?

 

উত্তর

হাঁ, ওই নামায আদায় হয়ে গিয়েছে। আয়াত থেকে وَكُتُبِهِ শব্দটি ছুটে যাওয়ার কারণে নামায নষ্ট হয়নি।

—আলমুলতাকাত ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ৬৬; আলহাবিল কুদসী ১/২১৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১১২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫০৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৯

শেয়ার লিংক

হুম্মাম কাদের - বহদ্দারহাট, চিটাগাং

৬৯৮৯. প্রশ্ন

আমি মাঝে মাঝে তাকবীরে তাহরীমার পরে সানার পরিবর্তে তাশাহহুদ পড়ে ফেলি। এতে কি আমার নামাযের কোনো অসুবিধা হবে?

 

উত্তর

তাকবীরে তাহরীমার পরে সূরা ফাতেহার আগে সানার স্থানে তাশাহহুদ পড়ে ফেললে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। তবে এ সময় তাশাহহুদ পড়া সুন্নত পরিপন্থি। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা যাবে না। অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেন এমনটি বারবার না হয়, এর জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

* >فتح القدير< ১/৪৩৯: ولو قرأ التشهد في الركوع أو السجود لا سهو عليه؛ لأنه ثناء وهما محله، بخلاف قراءة القرآن فيهما؛ فإن فيه السهو. ولو قرأه في القيام، إن كان قبل الفاتحة لا سهو، أو بعدها فعليه، لأن ما قبلها محل الثناء، وهذا يقتضي تخصيصه بالركعة الأولى.

—উয়ূনুল মাসায়িল, পৃ. ২৬; আলআজনাস, নাতেফী ১/৯৩; আলফাতাওয়াস সুগরা ১/১১০; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৮৮

শেয়ার লিংক

সারওয়ার আহমাদ - বরিশাল

৬৯৯০. প্রশ্ন

আমি একদিন ভুলে পকেটের ভেতরে একটি ছবিযুক্ত বই রেখে নামায পড়ে ফেলি। বইটির প্রচ্ছদে স্পষ্টভাবে মানুষের রঙিন ছবি ছিল।

জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় কি আমার নামাযে কোনো সমস্যা হয়েছে?

উত্তর

ছবিটি যেহেতু পকেটের ভেতরে ছিল; দৃশ্যমান ছিল না, তাই এ কারণে নামাযে কোনো সমস্যা হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রাণীর কোনো স্পষ্ট ছবি ঘরে বা অন্য কোথাও দৃশ্যমান অবস্থায় রাখা যাবে না।

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

لَا تَدْخُلُ المَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيْهِ كَلْبٌ وَلَا تَصَاوِيْرُ.

যে ঘরে কুকুর থাকে অথবা কোনো (প্রাণীর) ছবি থাকে, সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৪৯)

তাই বইয়ের প্রচ্ছদে বা অন্য কোথাও প্রাণীর স্পষ্ট ও দৃশ্যমান কোনো ছবি থাকলে, সেটাকে কোনো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখবে অথবা সম্ভব হলে মুছে ফেলবে। উন্মুক্ত রেখে দেওয়া যাবে না।

—মাআলিমুস সুনান, খাত্তাবী ৪/১২০; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১১; আলমুহীতুর রাযাবী ১/২৬০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২০৩; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২৯৭; রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৮

শেয়ার লিংক

শুয়াইব শাকের - সাভার, ঢাকা

৬৯৯১. প্রশ্ন

বৃষ্টির কারণে গত ঈদের নামায আমাদেরকে মসজিদে আদায় করতে হয়। মানুষ বেশি হওয়ায় জায়গা হচ্ছিল না। ফলে দুইজন ব্যক্তি মসজিদের কোণে রাখা একটি খাটের ওপর দাঁড়িয়ে ঈদের নামায আদায় করেন। খাটের উচ্চতা ছিল এক হাত।

এখন জানার বিষয় হল, ইমাম থেকে উঁচু স্থানে নামায আদায় করায় তাদের নামায কি আদায় হবে? না হলে এখন কী করণীয়?

উত্তর

তাদের নামায আদায় হয়ে গেছে। উঁচুতে দাঁড়ানোর কারণে নামাযে কোনো সমস্যা হয়নি। ইমামের সাথে মুসল্লী থাকলে কিছু মুসল্লী ইমাম থেকে ওপরে বা নিচে দাঁড়ালেও সমস্যা নেই।

* >المحيط الرضوي< ১/২৫৭: هذا إذا كان وحده على الدكان أو على الأرض، فإن كان بعض القوم معه قيل يكره، والأصح أنه لا يكره، وبه جرت العادة في جوامع المسلمين في أغلب الأمصار.

—কিতাবুল আছল ১/১৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৩৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৬৩; ফাতহুল কাদীর ১/৩৬০; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৪৬

শেয়ার লিংক

নাবীল সাদী - চরফ্যাশন, ভোলা

৬৯৯২. প্রশ্ন

কয়েকদিন পূর্বে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব জুমার নামাযের মাসায়েল বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন, জুমার নামাযে কোনো ব্যক্তি যদি ইমামের সাথে কোনো রাকাত না পায়, তাহলে তাকে ইমামের সালাম ফেরানোর পর চার রাকাত নামায আদায় করতে হবে। এতে আমাদের মনে বেশ দ্বিধা-সংশয় তৈরি হয়।

তাই জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবের উক্ত কথা কি সঠিক? জুমার নামাযের কোনো রাকাত না পেলে কি তা চার রাকাত আদায় করতে হবে?

উত্তর

কোনো ব্যক্তি জুমার নামাযে ইমামের সাথে বৈঠকে শরীক হতে পারলেও সে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে দুই রাকাতই আদায় করবে; চার রাকাত আদায় করবে না।

শুবা রাহ. বলেন—

سَأَلْتُ الْحَكَمَ وَحَمَّادًا عَنِ الرَّجُلِ يَجِيْءُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَبْلَ أَنْ يُّسَلِّمَ الإِمَامُ؟ قَالَا: يُصَلِّيْ رَكْعَتَيْنِ.

আমি হাকাম ও হাম্মাদ রাহ.-কে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে জুমার দিন ইমাম সালাম ফেরানোর পূর্বে এসে নামাযে শরীক হয়। তারা উভয়েই বললেন, এক্ষেত্রে সে দুই রাকাতই পড়বে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৩৯৮)

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে অর্থাৎ জুমার নামাযের কোনো রাকাত না পেলে ইমামের সালামের পর চার রাকাত পড়ে নেওয়ার একটি মতও রয়েছে। আপনাদের ইমাম সাহেব সম্ভবত ওই মতটির কথাই বলেছেন। তবে হানাফী মাযহাবের অধিকাংশ ফকীহ প্রথম মতটিই গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপরই ফতোয়া এবং এতদঞ্চলে সেই মতের ওপরই আমল চলে আসছে। তাই এ বিষয়ে ভিন্ন মাসআলা দিলে মানুষের মাঝে সংশয় ও ফেতনা সৃষ্টি হতে পারে। এহেন কাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

—মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৪০০; কিতাবুল আছল ১/৩১৩; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, জাস্সাস ২/১১৮; আলআসরার, দাবূসি ২/৬৭; উমদাতুল ফাতাওয়া, পৃ. ১০৬; ফাতহুল কাদীর ২/৩৬; রদ্দুল মুহতার ২/১৫৭

শেয়ার লিংক

জাবের চৌধুরি - ঢাকা

৬৯৯৩. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমি আমার বাবার সাথে আমেরিকায় আমাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাই। তবে আমার জানা ছিল না যে, এখানে আমরা ১৫ দিনের বেশি থাকব, নাকি ১৫ দিনের কম। বিষয়টি তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করারও সুযোগ ছিল না। ইতিমধ্যে আসরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে আমি মুসাফির হিসেবে আসর নামায কছর করি। পরে জানতে পারি যে, আমরা এখানে ১৫ দিনের বেশি থাকব।

জানার বিষয় হল, আমার ওই দিনের আসর নামায কি আদায় হয়েছে? আর এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী ছিল?

উত্তর

আপনার যেহেতু সেখানে ১৫ দিনের বেশি থাকার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা ছিল না বিধায় তখন আপনি সেখানে ১৫ দিন বা এর বেশি থাকার নিয়ত করেননি, তাই এর আগ পর্যন্ত আপনি মুসাফিরই ছিলেন। অতএব, আপনার ওই আসর নামায কছর করাটা ঠিক হয়েছে এবং আপনার সেদিনের আসর নামায আদায় হয়ে গেছে। আর বিষয়টি জানার পর থেকে আপনি মুকীম হয়ে গেছেন। অতএব, এরপর থেকে কছর না করে পূর্ণ নামায পড়বেন।

* >معراج الدراية< ২/২৫৪: ولو نوى المتبوع الإقامة، ولم يعلم بها التابع، فهو مسافر حتى يعلم، كالوكيل إذا عزل، وهو الأصح.

—উয়ূনুল মাসায়িল, পৃ. ২৮; তুহফাতুল ফুকাহা ১/১৫২; আলমুহীতুর রাযাবী ১/৩৮১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৩০; রদ্দুল মুহতার ২/১৩৩-১৩৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রাসেল - ওয়াশপুর, কেরানীগঞ্জ

৬৯৯৪. প্রশ্ন

সিজারে আমার ছেলের জন্ম হয়। ডাক্তারের বর্ণনা অনুযায়ী জন্মের সময় তার হালকা শ্বাস-প্রশ্বাস চালু ছিল। কিন্তু তেমন একটা নড়াচড়া বা আওয়াজ করতে দেখা যায়নি। এরপর চার-পাঁচ ঘণ্টা আইসিও-তে রাখার পর মারা যায়। এখন কি আমরা তার জানাযা নামায পড়ব?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী জন্মের সময় নবজাতক শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস চালু ছিল, তাই সে অনুযায়ী শিশুটি জীবিত অবস্থায়ই জন্মগ্রহণ করেছে। তাই অন্যান্য মায়্যেেতর মতোই তার জানাযা নামায পড়তে হবে।

—কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ২৫৯; কিতাবুল আছল ১/৩৪৬; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, জাস্সাস ২/১৯৭; মি‘রাজুদ দিরায়া ২/৪৮৩; ফাতহুল কাদীর ২/৯২; আদ্দুররুল মুখতার ২/২২৭

শেয়ার লিংক

মানিক চৌধুরি - চুয়াডাঙ্গা

৬৯৯৫. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে একটি জানাযার নামাযে উপস্থিত হতে কিছুটা বিলম্ব হয়ে যায়। উপস্থিত হতে হতে ইমামের দ্বিতীয় তাকবীর বলা শেষ হয়ে যায়। তখন কী করব বুঝতে না পেরে তৎক্ষণাৎ তাকবীর বলে নামাযে শরীক হয়ে যাই। এরপর ইমাম যখন সালাম ফেরান, আমিও তার সাথে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করে ফেলি।

জানার বিষয় হল, আমার জানাযার নামাযটি কি শুদ্ধ হয়েছে? আর এক্ষেত্রে সঠিক তরীকা কী?

উত্তর

জানাযা নামাযের চার তাকবীরই ফরয। এর কোনো একটি তাকবীর না বললেও জানাযা নামায সহীহ হয় না।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার করণীয় ছিল, ইমামের সালামের সাথে সালাম না ফিরিয়ে খাটিয়া মাটি থেকে ওঠানোর আগেই নিজে নিজে ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো বলে সালাম ফেরানো। এমনটি করলে আপনার জানাযা নামায আদায় হয়ে যেত। কিন্তু আপনি যেহেতু ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো না বলে ইমামের সাথেই সালাম ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাই আপনার ওই জানাযা নামায সহীহ হয়নি।

—কিতাবুল আছল ১/৩৫১; আলমুহীতুর রাযাবী ১/৪৫৭; আলমুজতাবা, যাহেদী ২/১০০; আলগায়া, সারূজী ৫/৬০২; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৮৭; রদ্দুল মুহতার ২/২১৭

শেয়ার লিংক

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী - এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা

৬৯৯৬. প্রশ্ন

আমার নানু সিলেটে থাকেন। কয়েকদিন আগে তিনি ঢাকায় আমাদের বাসায় বেড়াতে আসেন। আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। ঢাকায় আসার পরে তার অসুস্থতা বেড়ে গেলে আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। কয়েকদিন পরে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আমরা তাকে ঢাকায় দাফন করতে চাচ্ছি। কারণ নানুর অধিকাংশ আত্মীয়স্বজন ঢাকায় থাকেন। তারা নিয়মিত তার কবর যিয়ারত করতে পারবেন। কবরের দেখাশোনা করতে পারবেন। কেউ কেউ সিলেটে নানুর নিজ বাড়িতে দাফন করার কথা বলছেন। কিন্তু সেখানে নিয়মিত তার কবরের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। এখন জানতে চাচ্ছি, নানুকে কোথায় দাফন করলে ভালো হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সার্বিক বিবেচনায় আপনার নানুকে সিলেট অপেক্ষা ঢাকায় দাফন করাই উত্তম হবে। গোসল, কাফন-দাফনের কাজ সহজে আঞ্জাম দেওয়া গেলে বিনা জরুরতে মায়্যতেকে দূরে না নিয়ে যাওয়াই উত্তম। উপরন্তু যেহেতু আপনার নানুর বেশিরভাগ আত্মীয়স্বজন ঢাকাতেই থাকেন, তাকে এখানে দাফন করা হলে সকলের জন্য কবর যিয়ারতও সহজ হবে, তাই সিলেট না নিয়ে তাকে ঢাকায় দাফন করাই উচিত হবে।

* >الفتاوى الخانية< ১/১৯৫: ويستحب في القتيل والميت دفنه في المكان الذي مات في مقابر أولئك القوم، وإن نقل قبل الدفن إلى قدر ميل أو ميلين فلا بأس به، كذا لو مات في غير بلده، يستحب تركه.

—জামে তিরমিযী, বর্ণনা ২/২৫৮; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/২৮৩; আননাহরুল ফায়েক ১/৪০৩; মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/১৬১; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ৩৩০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৯

শেয়ার লিংক

সালমান - নোয়াখালী

৬৯৯৭. প্রশ্ন

আমি একজন ব্যবসায়ী। গত বছর মে মাস থেকে আমার যাকাত বর্ষ শুরু হয়। তখন আমার কাছে ছিল, চার লক্ষ টাকা। পরে ব্যবসায় উন্নতি হয়ে বর্ষ পূর্ণ হওয়ার সময় টাকা হয়, ছয় লক্ষ টাকা।

জানার বিষয় হল, বছরের মাঝখানে যে টাকা আয় হয়েছে, এর হিসাব কীভাবে করব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যাকাত বর্ষ যেদিন পূর্ণ হবে সেদিন আপনার হাতে যত টাকা থাকবে, সে পুরো টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। কেননা যাকাত আদায়ের জন্য প্রত্যেক টাকার ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়; বরং যেদিন যাকাত বর্ষ পূর্ণ হবে, সেই দিন তার মালিকানায় যাকাতযোগ্য সম্পদ যাই থাকবে, এর পুরোটারই যাকাত দিতে হবে।

উল্লেখ্য, যাকাত হিজরী বর্ষ ও চান্দ্রমাস হিসাবে দিতে হয়। সৌর তথা ইংরেজি বর্ষ চান্দ্রবর্ষ থেকে বছরে ১১ দিন বড় হয়ে থাকে। তাই সে হিসাবে যাকাত দিলে আদায়কৃত যাকাত কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়টি লক্ষ রাখা আবশ্যক।

* كتاب >الأصل< ২/৮৯: قلت: أرأيت التاجر تصيبه في ماله الآفات، ثم يحول عليه الحول، وقد زادها له في سعر غلاء أو غير ذلك، فارتفع في يديه، فيزكيه، فهل يحط عنه من الزكاة شيء لما أصابته من الآفات؟ قال: يقوم ماله كله يوم حال عليه الحول، فيزكيه بقيمته يومئذ، لا ينظر إلى ما كان من نقصان فيه من قبل تلك الآفات ولا من زيادة.

—ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৯২; আলবিনায়া ৪/৭২; মাজমাউল আনহুর ১/৩০৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২২২; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৮৮

শেয়ার লিংক

মামুন - ঢাকা

৬৯৯৮. প্রশ্ন

আমার এক ভাই ছোটবেলা থেকেই পাগল। আমার বাবা অনেক সম্পদশালী। হঠাৎ আমার বাবা মারা যান। মিরাস বণ্টনের পর আমার ওই ভাইও প্রচুর সম্পদের মালিক হন।

জানার বিষয় হল, তার এ সম্পদের ওপর কি যাকাত আসবে?

উত্তর

পাগলের ওপর যাকাত ফরয নয়। তাই আপনার ওই ভাই নেসাবের মালিক হলেও তার সম্পদের যাকাত দিতে হবে না। হাঁ, সুস্থ হওয়ার পর থেকে যাকাতের হিসাব শুরু হবে।

—কিতাবুল আছল ২/৬৮; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৬২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮২; মাজমাউল আনহুর ১/২৮৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২

শেয়ার লিংক

জেসমিন আকতার - ধামরাই, ঢাকা

৬৯৯৯. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয়ের দুই তলা বাড়ি আছে। ওপর তলা বসবাসের জন্য আর নিচ তলায় ভাড়া দিয়ে সাত হাজার টাকা মাসিক আয় হয়। তার কোনো পুত্র সন্তান নেই খরচ দেওয়ার মতো। তিন মেয়ের মধ্যে দুইজন বিবাহিতা। ঋণ আছে দশ লক্ষ টাকার মতো। ঘরে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, সোফা, ফ্রিজ আছে। আগে বেসরকারি চাকরি করতেন। এখন তিনি নিজে অসুস্থ। ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, আলসার— এগুলোতে আক্রান্ত। তার স্ত্রীও অসুস্থ। একজন অবিবাহিত মেয়ে আছে। সে পড়াশোনা করে। বাসা ভাড়ার সাত হাজার টাকা ছাড়া আর কোনো আয় নেই। অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এমতাবস্থায় তিনি কি যাকাত নিতে পারবেন?

উত্তর

প্রশ্নে লোকটির আর্থিক অবস্থার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী যেহেতু তার প্রয়োজনীয় উক্ত সম্পদ ব্যতীত অতিরিক্ত আর সম্পদ নেই, উপরন্তু তিনি বেশ টাকার ঋণীও, তাই তিনি যাকাত গ্রহণ করতে পারবেন।

—শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, জাস্সাস ২/৩৯০; শরহুল জামিইস সগীর, বাযদাবী ১/৩৬২; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১০২; খুলাসাতুদ দালায়িল ১/৫৫৬; ফাতহুল কাদীর ২/২০২; রদ্দুল মুহতার ২/৩৩৯

শেয়ার লিংক

মিনহাজুল ইসলাম - চাঁদপুর

৭০০০. প্রশ্ন

আমি একজন ছাত্র। পড়াশোনা করি। আমার বিয়ের জন্য বাবা-মা একজন মেয়ে দেখছেন। মেয়ের পরিবারও রাজি, আমার পরিবারও রাজি। কিন্তু আমি বলে দিয়েছি যে, আমি পড়া শেষ করে বিয়ে করব। উভয় পরিবার এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। বাবা-মা বলেছেন, পড়া শেষ হলে এই মেয়ের সাথেই বিয়ে দেবেন।

আমার জানার বিষয় হল, পড়া শেষ করার আগ পর্যন্ত তার সাথে দেখা করা বা কথা বলা কতটুকু শরীয়ত-সম্মত হবে?

উত্তর

বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার আগে ওই মেয়ের সাথে দেখাসাক্ষাৎ করা কিংবা শরীয়ত-সম্মত প্রয়োজন ছাড়া তার সাথে ফোনে কথা বলা আপনার জন্য জায়েয হবে না। আপনাদের মাঝে বিবাহের কথাবার্তা চূড়ান্ত হলেও যেহেতু এখনও বিবাহ হয়নি, তাই আপনার জন্য এখনও সে বেগানা নারী। অতএব বেগানা নারীর মতোই বিয়ের আগ পর্যন্ত তার সাথে পূর্ণ পর্দার বিধান পালন করা, ফোনে কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

—আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/৩১৯; উমদাতুল কারী ৭/২৭৯; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ২৬৯; গুনইয়াতু যাবিল আহকাম ১/৩১৪; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৬৯

শেয়ার লিংক

শামছুল হুদা - সুনামগঞ্জ

৭০০১. প্রশ্ন

প্রাতিষ্ঠানিক কারণে স্ত্রীকে দুধ বোন বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়েছি। এজন্য বৈবাহিক কোনো ক্ষতি হবে?

উত্তর

না, এ কারণে আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে মিথ্যা বলার কারণে বড় গোনাহ হয়েছে। তাই আল্লাহ তাআলার নিকট এ থেকে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

 

* >فتح القدير< ৪/২৫৩: فقد صرحوا بأن قوله لزوجته يا أخية مكروه. وفي حديث رواه أبو داود عن أبي تميمة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سمع رجلا يقول لامرأته: يا أخية، فكره ذلك ونهى عنه. ... لكن الحديث المذكور أفاد كونه ليس ظهارا، حيث لم يبين فيه حكما سوى الكراهة والنهي عنه.

—খিযানাতুল আকমাল ১/৫৫২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫০৭; রদ্দুল মুহতার ৩/৪৭০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আযীযুল হক - বাগবাড়ী, তেরিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ

৭০০২. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একটি জামে মসজিদ রয়েছে। মসজিদটি সাড়ে ৪ শতক ওয়াকফকৃত জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায, জুমার নামায ও অন্যান্য ইবাদত আদায় হয়ে থাকে। বর্তমানে একজন ব্যক্তি ৬ শতক জমি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করতে ইচ্ছুক। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, বর্তমান সাড়ে ৪ শতক ওয়াকফকৃত মসজিদটি নতুন ৬ শতক জমিতে স্থানান্তর করতে হবে। অর্থাৎ মসজিদ স্থানান্তর করা হলে তবেই তিনি নতুন জমি ওয়াকফ করবেন। স্থানান্তরের পক্ষে কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন যে, বর্তমানে মসজিদে মুসল্লীদের সংকুলান হয় না এবং ভবিষ্যতে আরও জায়গার প্রয়োজন হবে। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে মুসল্লীদের সংকুলানের তেমন সমস্যা নেই। তাছাড়া ভবিষ্যতে প্রয়োজন দেখা দিলেও বিদ্যমান ওয়াকফকৃত জমির ওপর দোতলা বা বহুতল নির্মাণের সুযোগ রয়েছে এবং প্রয়োজনে পাশের দিকে সম্প্রসারণেরও সম্ভাবনা আছে। আর ওই জমিতে আরেকটি মসজিদ হোক এটাও এলাকাবাসী চাচ্ছেন না।

আমাদের প্রশ্ন হল—

১. শরীয়তের দৃষ্টিতে কেবল ভবিষ্যতে বড় জায়গার প্রয়োজন হতে পারে— এই আশঙ্কায় একটি ওয়াকফকৃত মসজিদ অন্যত্র স্থানান্তর করা কি জায়েয?

২. বর্তমান ওয়াকফকৃত মসজিদকে সম্প্রসারণ বা বহুতল নির্মাণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নতুন জায়গায় মসজিদ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কি শরীয়ত-সম্মত?

৩. ‘বর্তমানের মসজিদ স্থানান্তর করলে তবেই আমি ৬ শতক জমি ওয়াকফ করব’— এ ধরনের শর্ত দিয়ে ওয়াকফ করা কি সহীহ ও জায়েয?

৪. এক্ষেত্রে শরীয়তের দৃষ্টিতে আমাদের করণীয় কী?

কুরআন-সুন্নাহ ও হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবের আলোকে দলীলসহ উত্তর প্রদান করলে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

না, অতিরিক্ত জমির জন্য ওই মসজিদটিকে স্থানান্তর করা জায়েয হবে না; বরং তা স্বস্থানে বহাল রেখে মসজিদ হিসেবে আবাদ রাখা জরুরি। ভালোভাবে মনে রাখতে হবে, মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ওই স্থানটি স্থায়ীভাবে মসজিদের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। এরপর ওই স্থানকে মসজিদ হিসেবে আবাদ রাখা জরুরি। মসজিদ সেখান থেকে সরিয়ে ওই জায়গা কারও ব্যক্তিগত ব্যবহারে নিয়ে আসার কোনো অবকাশ থাকে না।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এই মসজিদের জন্য অন্য স্থানে আরও বেশি জায়গা দেওয়া হলেও বর্তমান স্থান থেকে মসজিদটিকে স্থানান্তর করা কিছুতেই জায়েয হবে না।

অতএব যারা উক্ত আবাদ মসজিদটিকে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য উক্ত শরীয়তবিরোধী চিন্তা থেকে সরে আসা জরুরি। ভবিষ্যতে এই মসজিদে মুসল্লী সংকুলান না হলে এর সাথেই অতিরিক্ত জায়গা ব্যবস্থা করে পূর্বের জায়গাসহ সেখানেই মসজিদ সম্প্রসারণ করবে অথবা এটি বহুতল ভবন হিসেবে পুননির্মাণও করা যেতে পারে। কিন্তু মুসল্লী সংকুলান না হওয়া বা অন্য কোনো অজুহাতে মসজিদটি স্থানান্তর করার কোনোই সুযোগ নেই। আর মসজিদে জায়গা দেওয়ার প্রত্যয়কারীর জন্যও আরেকটি মসজিদকে তার জায়গায় স্থানান্তরের শর্তারোপ করা জায়েয নয়।

* >الأجناس< للناطفي ১/৫৪৯: ولو كان مسجدا في محلة ضاق بأهله لا يقدرون أن يزيدوا فيه، فسألهم بعض الجيران أن يجعلوا ذلك المسجد له يدخله داره، ويعطيهم مكانه عوضا من داره ما هو خير منه، ويسع فيه أهل المحلة، قال (الإمام محمد): لا يسعهم ذلك.

—আলহাবিল কুদসী ১/৫৪৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৮; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৪৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৭; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৫৮

শেয়ার লিংক

সাব্বির আহমদ - মিরপুর ১২, ঢাকা

৭০০৩. প্রশ্ন

আমি একটি প্রতিষ্ঠানের ছোট-বড় কেনাকাটার দায়িত্বে আছি। সেখানে মাঝেমধ্যে পে-স্লিপ আর মূল খরচের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়। যেমন, মিটিংয়ের জন্য খাবার নিয়ে এলাম। অর্ডার করে এডভান্স করার সময় যে টাকার বিল করেছে হোটেল থেকে, এর বাকি টাকা পরিশোধ করার সময় হোটেল থেকেই কিছু টাকা কম রাখা হয়। ধরুন, ১২ হাজার টাকা বিল করা ছিল; কিন্তু রাখল ১১ হাজার ৯ শত টাকা। এই বাড়তি ১০০ টাকা অফিস নেবে না। কারণ, বিলে ১২,০০০ টাকা লেখা। আর বিলে কাটাকাটি করা যাবে না। কারণ এতে অডিটে আপত্তি আসে। মাঝেমধ্যে এমন বাড়তি টাকা হাতে থাকে। জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই টাকা যদি দোকান-কর্তৃপক্ষ আপনাকেই উদ্দেশ্য করে (টিপস বা বখশিশের মতো) দিয়ে থাকে; মোট মূল্য (Total Amount) থেকে ডিসকাউন্ট বাবদ কর্তন না হয়, তাহলে ওই টাকা আপনি চাইলে নিতে পারবেন এবং আপনার জন্য তা ভোগ করাও বৈধ হবে। এক্ষেত্রে তা প্রতিষ্ঠানে ফেরত দিতে হবে না। তবে সতর্কতার দাবি হল, ভবিষ্যতে দোকানিকে বলে দেওয়া যে, আপনারা পরে যে টাকা কম রাখবেন, তা আগেই বিলে ডিসকাউন্ট দিয়ে দেবেন। আমাকে আলাদাভাবে দেওয়ার দরকার নেই।

আর যদি এই টাকা মোট মূল্য থেকে ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় ধরে ফেরত দেয়, তাহলে তা প্রতিষ্ঠানের; আপনার জন্য এই টাকা ভোগ করা বৈধ হবে না। বরং কোনোভাবে কর্তৃপক্ষকে তা পৌঁছে দেওয়ার বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে খরচ করার চেষ্টা করতে হবে। এর কোনোটাই সম্ভব না হলে দরিদ্রদের সদকা করে দেবেন।

—কিতাবুল আছল ১১/২৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ১২/১৯১, ১৫/৬৫; জামিউল ফুসূলাইন ২/৫২; ফাতহুল কাদীর ৬/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৮৩, ৫/৯২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইউসুফ - টঙ্গী, গাজীপুর

৭০০৪. প্রশ্ন

আমাদের প্রায় ২০ জন সদস্যের একটি সমিতি আছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, মাসে মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমিয়ে পরে জমি কিনে ফ্ল্যাট করা। সমিতির জমানো টাকা একটা ব্যাংকে ডিপোজিট করা হয় এবং বছর শেষে ব্যাংক থেকে যে সুদ বা অতিরিক্ত অর্থ আসে, তা সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। আমি ওই সুদের অংশ গ্রহণ করতে চাই না।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এ অবস্থায় আমি সুদের অংশ না নিলেই কি দায়মুক্ত হব, নাকি সুদভিত্তিক এ ব্যবস্থায় টাকা রাখা শরীয়তের দৃষ্টিতে উচিত নয়? এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? দয়া করে কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে দিকনির্দেশনা দিলে উপকৃত হব।

উত্তর

সমিতির জমা টাকা যদি আপনার অবগতিতেই ব্যাংকে ডিপোজিট করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তো আপনি জেনেশুনে সুদি চুক্তিতে জড়িয়েছেন। যা কিছুতেই বৈধ হয়নি। আর যদি আপনার অজান্তেই সমিতির অন্য সদস্যরা সুদ নেওয়ার উদ্দেশ্যে অ্যাকাউন্ট খুলে থাকে এবং এ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর আপনার সম্মতি না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে সুদি অ্যাকাউন্ট খোলার গোনাহ আপনার হবে না। কিন্তু এই অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানার পর তা সচল রাখা আপনাদের কারও জন্যই বৈধ হবে না। বরং চেষ্টা করতে হবে তা বন্ধ করে দিয়ে সুদ বিহীন কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে। যদি চেষ্টার পরও তা করা সম্ভব না হয়, তাহলে যার যার অংশের প্রাপ্ত সুদ সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দিতে হবে এবং দিল থেকে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রশ্নের বর্ণনায় মনে হচ্ছে ওই সমিতিতে যুক্ত থাকা আপনার জন্য অপরিহার্য কিছু নয়। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তাহলে আপনি অন্য সদস্যদেরকে বোঝানোর পরও যদি তারা সুদি অ্যাকাউন্ট ত্যাগ না করে, তাহলে আপনার কর্তব্য হবে ওই সমিতি থেকে বেরিয়ে আসা।

—সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২১০৭৮; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/৩৫১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৬০; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২; ইলাউস সুনান ১৪/৫১৪

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - সিলেট

৭০০৫. প্রশ্ন

এক ছাত্র ভর্তি ফি দেওয়া ছাড়া একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি না জানায় সে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। এখন সে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। তাই তার ফি দিতে চাচ্ছে।

জানার বিষয় হল, ভর্তি ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভর্তি ফি-র টাকা বলে দেওয়া কি জরুরি, না সাধারণ দান হিসেবে দিলেও আদায় হয়ে যাবে?

উত্তর

ওই টাকা উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ফান্ডে রশিদ করে পৌঁছে দিলেও আর্থিকভাবে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। তবে তার এ কাজটি মারাত্মক অন্যায় হয়েছে। তাই ওই টাকা উক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিশোধ করে দেওয়ার সাথে সাথে তওবা-ইস্তেগফারও করতে হবে।

* >بدائع الصنائع< ৬/১৪২: الأصل أن المالك يصير مستردا للمغصوب بإثبات يده عليه؛ لأنه صار مغصوبا بتفويت يده عنه، فإذا أثبت يده عليه، فقد أعاده إلى يده فزالت يد الغاصب ضرورة، ... سواء علم المالك أنه ملكه أو لم يعلم؛ لأن إثبات اليد على العين أمر حسي لا يختلف بالعلم أو الجهل.

—আলমাবসূত, সারাখসী ১১/৯৯-১০০; জামিউল ফুসূলাইন ২/৫১-৫২; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/১৭১

শেয়ার লিংক

আশেক এলাহী - সন্দ্বীপ

৭০০৬. প্রশ্ন

সন্দ্বীপে গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসবের সময় বাসায় নার্স নিয়ে এসে প্রসবের ব্যবস্থা করা হয় বা নার্সদের বাসায় তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্বীপে মুসলিমা নার্সদের পাশাপাশি কয়েকজন হিন্দু মহিলা নার্সও রয়েছে। নার্সদের বয়স, অভিজ্ঞতা ও গর্ভবতী মায়েদের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় কখনও কখনও কয়েকজন হিন্দু নার্সকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

ভালো চিকিৎসা, অভিজ্ঞতা, বাস্তবতা এবং মানসিক প্রশান্তির বিবেচনায় প্রসবের সময় হিন্দু মহিলা নার্সকে কম অভিজ্ঞ মুসলিমা নার্সের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া কিংবা বাসায় নিয়ে আসা কতটুকু অনুমোদিত? নাকি একেবারেই অনুমতি নেই? অনুগ্রহ করে জানাবেন।

উত্তর

প্রয়োজনে অমুসলিম চিকিৎসক থেকে চিকিৎসা নিতে সমস্যা নেই। তাই আপনাদের এলাকায় অমুসলিম নার্সরা অধিক পারদর্শী হলে মুসলিম নারীরা তাদের থেকে চিকিৎসা নিতে পারবে এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে তাদেরকে বাসায় নিয়ে আসতেও সমস্যা নেই।

* >البحر الرائق< ২/২৮২: وفيه إشارة إلى أن المريض يجوز له أن يستطب بالكافر فيما عدا إبطال العبادة.

—ফাতহুল বারী ১০/২০৭; আননাহরুল ফায়েক ২/৮২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২২

শেয়ার লিংক