যুবায়ের হাসান - ঢাকা

৬৯১৮. প্রশ্ন

তাকবীরে তাশরীক নিয়ে আমাদের মাঝে একটি গোলযোগ সৃষ্টি হয়। একজন বলেন, প্রত্যেক নামাযের পরে তিনবার তাকবীর পড়া সুন্নত; একবার ওয়াজিব। এখন জানার বিষয় হল, তিনবার পড়া সুন্নত এ কথা কি প্রমাণিত?

উত্তর

নয় যিলহজ্ব ফজর থেকে তেরো যিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব। কিন্তু তা তিনবার বলা সুন্নত-মুস্তাহাব নয়। এক্ষেত্রে পুরো তাকবীরে তাশরীক তিনবার পড়া সুন্নত হওয়ার কথা কেউ বলেননি। কোনো কোনো কিতাবে এক্ষেত্রে ‘তাকবীর’ তিনবার বলার কথা আছে এবং এর সপক্ষে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর আছার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেখানে ‘তাকবীর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, শুধু اَللهُ أَكْبَرُ বলা। অর্থাৎ তাকবীরে তাশরীকের শুরুতে সাধারণত আমরা اَللهُ أَكْبَرُ দুইবার বলে থাকি। সেখানে اَللهُ أَكْبَرُ শব্দটি তিনবার বলার কথা এসেছে; পুরো তাকবীরে তাশরীকই তিনবার বলা উদ্দেশ্য নয়।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর আছারটি নিম্নরূপ

নাফে‘ রাহ. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সম্পর্কে বর্ণনা করেন

أَنَّه كَانَ يُكَبِّرُ مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ يَوْمَ النَّحْرِ إِلَى صَلَاةِ الْفَجْرِ مِنْ آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيْقِ، يَقُوْلُ: اللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ.

অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ইয়াউমুন্ নাহ্রের দিন যোহর থেকে আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন ফজর পর্যন্ত তাকবীর বলতেন। তিনি বলতেন

اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَه، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ.

আলআওসাত, ইবনুল মুনযির, বর্ণনা ২২০২

স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, এখানে শুধু প্রথমে اَللهُ أَكْبَرُ  তিনবার বলা হয়েছে। এর পরে তাকবীরে তাশরীকের ভিন্ন একটি পাঠের বর্ণনা করা হয়েছে।

অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামও এই দিনগুলোতে কীভাবে তাকবীরে তাশরীক বলতেন, তা হাদীসের কিতাবগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। সেখানেও একাধিকবার তাকবীরে তাশরীক পড়ার কথা নেই।

প্রখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন

كَانُوْا يُكَبِّرُوْنَ يَوْمَ عَرَفَةَ وَأَحَدُهُمْ مُسْتَقْبِلٌ الْقِبْلَةَ فِيْ دُبُرِ الصَّلاَةِ : اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ.

অর্থাৎ আরাফার দিন সাহাবায়ে কেরাম রা. নামাযের পর কিবলামুখী থাকাবস্থায় তাকবীরে তাশরীক পড়তেন। আর তা এভাবে যে

اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ.

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৬৯৬

শারীক রাহ. বলেন

قُلْتُ لأَبِيْ إِسْحَاقَ : كَيْفَ كَانَ تَكْبِيْرُ عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللهِ؟ فَقَالَ : كَانَا يَقُوْلاَنِ : اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ.

আমি আবু ইসহাক রাহ.-এর কাছে আলী রা. ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. কীভাবে তাকবীরে তাশরীক পড়তেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, তারা এভাবে তাকবীরে তাশরীক পড়তেন

اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ.

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৬৯৯

অতএব এই দিনগুলোতে ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক একবার পড়াই শরীয়তের বিধান। তবে কেউ যদি তিনবার পড়াকে সুন্নত মনে না করে একবার পড়ার পর যিকির হিসেবে আরও কয়েকবার পড়ে, তাহলে সেটি দূষণীয় হবে না। কোনো কোনো ফকীহ সুন্নত মনে করে একবারের বেশি তাকবীরে তাশরীক পড়াকে খেলাফে সুন্নত বলেছেন।

* >الجامع الصغير< ص ১১৪: وهو أن يقول >الله أكبر الله أكبر لا إله الا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد< مرة واحدة.

* >حاشية الطحطاوي على المراقي< ص ২৯৪: (ويأتي به مرة) وما زاد فهو مستحب، قاله البدر العيني في شرح التحفة، وأقره في الدر، وفي الحموي عن القراحصاري: الإتيان به مرتين خلاف السنة، وفي مجمع الأنهر: إن زاد فقد خالف السنة اهـ ولعل محله ما إذا أتى به على أنه سنة، وأما إذا أتى به على أنه ذكر مطلق فلا.

তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৪৪; ফাতহুল কাদীর ২/৪৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫; মাজমাউল আনহুর ১/২৬০; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/২৯০; আলমাজমূ ৫/৪৭

শেয়ার লিংক

আমানুল্লাহ - বনানী, ঢাকা

৬৯১৯. প্রশ্ন

ফরয নামাযের আগে-পরে যে সুন্নত নামাযগুলো আছে, সেগুলো কি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? রেফারেন্স-সহ জানাবেন।

এই উত্তরের ওপর একটি সফটওয়্যার কোম্পানির অনেক ইঞ্জিনিয়ারের সুন্নত পড়া না পড়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। তাই একটু দ্রুত জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

ফজরের ফরয নামাযের আগে দুই রাকাত, যোহরের ফরযের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের ফরযের পর দুই রাকাত এবং এশার ফরযের পর দুই রাকাত এই বারো রাকাত নামায সুন্নতে মুআক্কাদা। বহু সহীহ হাদীসে এ নামাযগুলোর গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। কিছু হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হল।

উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবীবা রা. বর্ণনা করেন

سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ صَلّٰى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، بُنِيَ لَه بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ.

قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ: فَمَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

وَقَالَ عَنْبَسَةُ: فَمَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ أُمِّ حَبِيبَةَ.

وَقَالَ عَمْرُو بْنُ أَوْسٍ: مَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ عَنْبَسَةَ.

وَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ سَالِمٍ: مَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ.

 যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে বারো রাকাত  (সুন্নত) নামায পড়বে, এর প্রতিদানে জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।

উম্মে হাবীবা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই নামায সম্পর্কে শোনার পর থেকে আর কখনও তা পরিত্যাগ করিনি।

আমবাসা ইবনে আবু সুফিয়ান রাহ. বলেছেন, আমি উম্মে হাবীবা রা.-এর কাছে এই নামায সম্পর্কে শোনার পর থেকে আর ওই নামাযগুলো কখনও পরিত্যাগ করিনি।

আমর ইবনে আওস রাহ. বলেছেন, আমি আমবাসা ইবনে সুফিয়ানের কাছে এই নামায সম্পর্কে শোনার পর থেকে আর কখনও তা পরিত্যাগ করিনি।

নু‘মান ইবনে সালেম রাহ. বলেছেন, আমি আমর ইবনে আওসের কাছ থেকে এ হাদীসটি শোনার পর আর কখনও তা পরিত্যাগ করিনি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭২৮)

আরও বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

مَنْ صَلّٰى فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بُنِيَ لَه بَيْتٌ فِي الجَنَّةِ: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلَاةِ الْفَجْرِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ.

দিন ও রাতে যে ব্যক্তি বারো রাকাত (সুন্নত) নামায পড়বে, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। (সেগুলো হল,) যোহরের আগে চার রাকাত, যোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৪১৫)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন

مَنْ ثَابَرَ عَلَى ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً مِنَ السُّنَّةِ بَنَى اللهُ لَه بَيْتًا فِي الجَنَّةِ، أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الفَجْرِ.

যে ব্যক্তি বারো রাকাত সুন্নত নামায নিয়মিত আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য আল্লাহ তাআলা একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (তা হল) যোহরের আগে চার রাকাত, যোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৪১৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১১৪০)

আয়েশা রা. বর্ণনা করেন

لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلى شَيْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مِنْهُ تَعَاهُدًا عَلى رَكْعَتَيِ الفَجْرِ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য সকল নফল নামাযের চেয়ে ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং তা নিয়মিত আদায় করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১১৬৯)

আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

لَا تَدَعُوهُمَا، وَإِنْ طَرَدَتْكُمُ الْخَيْلُ.

তোমরা (ফজরের) দুই রাকাত (সুন্নত নামায) ছাড়বে না। যদিও তোমাদের পেছনে ঘোড়া (অশ্বারোহী) ধাওয়া করে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯২৫৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১২৫২)

আয়েশা রা. বর্ণনা করেন

أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الغَدَاةِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের আগে চার রাকাত নামায ও ফজরের আগে দুই রাকাত নামায (কখনও) ছাড়তেন না। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১১৮২)

আলী রা. বর্ণনা করেন

كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের আগে চার রাকাত ও যোহরের পরে দুই রাকাত নামায পড়তেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৪২৪)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَاتَتْهُ الْأَرْبَعُ قَبْلَ الظُّهْرِ، صَلَّاهَا بَعْدَ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত না পড়তে পারলে তা ফরয ও দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের পর পড়ে নিতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১১৫৮; জামে তিরমিযী, হাদীস ৪২৬)

এছাড়া জুমার ফরয নামাযের আগে চার রাকাত ও পরে চার রাকাত এই আট রাকাত নামাযও সুন্নতে মুআক্কাদা।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

مَنِ اغْتَسَلَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ، فَصَلّٰى مَا قُدِّرَ لَه، ثُمَّ أَنْصَتَ حَتّٰى يَفْرُغَ مِنْ خُطْبَتِه، ثُمَّ يُصَلِّي مَعَهُ، غُفِرَ لَه مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى، وَفَضْلُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ.

যে গোসল করে জুমায় আসে, এরপর তাওফীক মতো নামায পড়ে, এরপর ইমাম খুতবা শেষ করা পর্যন্ত চুপ থাকে এবং তার সাথে নামায পড়ে। তার পরবর্তী জুমা পর্যন্ত ও আরও অতিরিক্ত তিন দিনের (গোনাহ) মাফ করে দেওয়া হয়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৫৭)

আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন

إِذَا صَلّٰى أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبَعًا.

যে জুমা পড়ল, সে যেন জুমার পর চার রাকাত নামায পড়ে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৮১)

তাবেয়ী আবু আবদুর রহমান আসসুলামী রাহ. বর্ণনা করেন

كَانَ عَبْدُ اللهِ يَأْمُرُنَا أَنْ نُصَلِّيَ قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا، وَبَعْدَهَا أَرْبَعًا، حَتّٰى جَاءَنَا عَلِيٌّ فَأَمَرَنَا أَنْ نُصَلِّيَ بَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَرْبَعًا.

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমার আগে চার রাকাত এবং জুমার পরে চার রাকাত নামায পড়ার আদেশ করতেন। পরে যখন আলী রা. আগমন করলেন, তখন তিনি আমাদেরকে জুমার পরে প্রথমে দুই রাকাত এরপর চার রাকাত নামায পড়ার আদেশ করেন। (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৫৫২৫)

কাতাদা রাহ. বর্ণনা করেন

أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يُصَلِّيْ قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَبَعْدَهَا أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ.

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. জুমার আগে চার রাকাত নামায পড়তেন। জুমার পরেও চার রাকাত নামায পড়তেন। (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৫৫২৪)

এই সুন্নত নামাযগুলো সুন্নতে মুআক্কাদা। নিয়মিত এগুলো আদায় করতে হবে। বিনা ওজরে ছাড়া যাবে না।

নামাযের আগে-পরে এই সুন্নতে মুআক্কাদাগুলো ছাড়া আরও কিছু সুন্নত-নফল নামাযের কথা হাদীস-আছারে এসেছে। যেমন, যোহরের পরের দুই রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদার পর দুই রাকাত নফল নামায। (দ্রষ্টব্য : জামে তিরমিযী, হাদীস ৪২৮)

আসরের ফরয নামাযের আগে চার রাকাত সুন্নত। (দ্রষ্টব্য : মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৫৯৮০; জামে তিরমিযী, হাদীস ৪৩০)

মাগরিবের পরের দুই রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদার পর দুই রাকাত নফল। (দ্রষ্টব্য : মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৪৭২৮)

এশার ফরযের আগে চার রাকাত সুন্নত ও এশার পর দুই রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা ছাড়া আরও দুই রাকাত নফল। (দ্রষ্টব্য : সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১২৯৭; কিয়ামুল লাইল, মারওয়াযী, পৃ. ৫৮; আদদিরায়া, ইবনে হাজার ১/১৯৮)

জুমা পরবর্তী চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদার আগে দুই রাকাত সুন্নত। (দ্রষ্টব্য : সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৮২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১২৩; মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৫৫২৫)

সুন্নতে মুআক্কাদার পাশাপাশি এই সুন্নত-নফলগুলো আদায় করাও অনেক সওয়াবের কাজ।

কিতাবুল আছল ১/১৩১; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৫৬-১৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৩৬-৬৩৯; আলহাবিল কুদসী ১/১৯৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৩৩-৩৩৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৪৭-৫০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২-১৪; ই‘লাউস সুনান ৭/৩-২০

শেয়ার লিংক

শেখ ইমরান - বারাবন, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

৬৯২০. প্রশ্ন

আমি একটি স্থানে যাওয়ার সময় প্রায় ৬০ কি. মি. (হেঁটে, বাসে এবং ট্রেনে) এবং সেখান থেকে ফেরার সময় প্রায় ৮০ কি. মি. (পরপর তিনটি বাস চেঞ্জ করে এবং হেঁটে) অতিক্রম করি, তাহলে নামায কি কসর করতে হবে?

উত্তর

শরয়ী সফরের দূরত্ব ৪৮ মাইল (৭৮ কি. মি. প্রায়)। অতএব ওই জায়গায় আপনি ৬০ কিলোমিটারের রাস্তায় গমন করলে, তখন আপনি সেখানে মুকীমই থাকবেন; মুসাফির গণ্য হবেন না। কিন্তু ফেরার সময় ৮০ কি. মি.-এর পথে আসলে, তখন আপনি সেখান থেকে রওয়ানা হওয়ার পর ফেরার পথে রাস্তায় মুসাফির গণ্য হবেন। আর কখনও যদি আপনি সেই জায়গায় যাওয়ার সময়ও ৮০ কি. মি.-এর রাস্তায় গমন করেন, তাহলে তখন আপনি যাওয়ার পথে মুসাফির থাকবেন এবং সেই জায়গা আপনার আবাসস্থল না হলে এবং সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত না থাকলে, সেখানে পৌঁছার পরও আপনি মুসাফির থাকবেন।

* >المحيط البرهاني< /৩৮৫ : وفي نوادر ابن سماعة: في مصر له طريقان: أحدهما مسيرة يوم، والآخر مسيرة ثلاثة أيام ولياليها، إن أخذ في الطريق الذي هو مسيرة يوم، لا يقصر الصلاة، وإن أخذ في الطريق الذى هو مسيرة ثلاثة أيام ولياليها، قصر الصلاة.

ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৫; আলমুজতাবা, যাহেদী ১/৩৯৪; আলকিফায়া ২/৫; মাজমাউল আনহুর ১/২৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৩

শেয়ার লিংক

আহনাফ - মিরপুর, ঢাকা

৬৯২১. প্রশ্ন

আমি তামাত্তু হজ্বের ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসেছি এবং উমরা করে হালাল হয়েছি। হজ্বের এখনও বেশ কয়েকদিন বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে ইচ্ছা করলে আরও উমরা করা সম্ভব। তাই আমার ইচ্ছা, আরও এক-দুটি উমরা করব।

জানতে চাই, তা কি করা যাবে? একজন বলেছেন, তামাত্তু হজ্ব আদায়কারীর জন্য উমরা থেকে হালাল হওয়ার পর হজ্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত আর উমরা করার সুযোগ নেই। এ সময়টাতে শুধু নফল তাওয়াফ করা যাবে। তার কথাটি কি সঠিক? অনুগ্রহ করে দ্রুত জানাবেন।

উত্তর

না, ওই কথাটি ঠিক নয়। তামাত্তুকারীর জন্য উমরার ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার পর হজ্বের ইহরামের পূর্বে আরও উমরা করা জায়েয আছে। এতে অসুবিধা নেই। তাই আপনি চাইলে হজ্বের আগের সময়গুলোতে মসজিদে আয়েশা বা হিলের অন্য কোনো স্থান থেকে ইহরাম করে আরও নফল উমরা করতে পারবেন। তবে অতিরিক্ত নফল উমরা করার তুলনায় বেশি বেশি তাওয়াফ করাই উত্তম।

* >منحة الخالق< /৩৬৮: والظاهر أن المتمتع بعد فراغه من العمرة لا يكون ممتنعا من إتيان العمرة؛ فإنه زيادة عبادة.

আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১৭৮; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী, পৃ. ২৭১; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃ. ২০০, ২১৫

শেয়ার লিংক

মাহবুবুর রহমান - লাকসাম, কুমিল্লা

৬৯২২. প্রশ্ন

আমি এগারো তারিখ দুপুরে তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করছিলাম। তৃতীয় চক্করের শুরুতে আমার ওযু ছুটে যায়। আমি তৎক্ষণাৎ ওযু করে এসে পাঁচটি চক্কর পূর্ণ করি। পরে একজন জানালেন যে, তাওয়াফের তিন চক্কর পূর্ণ হওয়ার আগেই ওযু ছুটে গেলে আবার প্রথম থেকে তাওয়াফ শুরু করতে হয়। কিন্তু আমি তো ওযু করে আসার পর নতুন করে সাতটি চক্কর পূর্ণ করিনি।

তাই আমার জানার বিষয় হল, আমার উক্ত তাওয়াফ কি আদায় হয়েছে?

উত্তর

হাঁ, আপনার উক্ত তাওয়াফ আদায় হয়ে গেছে। তাওয়াফের মাঝে ওযু ছুটে গেলে (চার চক্করের আগে হোক বা পরে) সর্বাবস্থায় ওযু করে অবশিষ্ট চক্করগুলো পূর্ণ করে নিলে তাওয়াফ আদায় হয়ে যায়; ওযু করে পুনরায় প্রথম থেকে তাওয়াফ শুরু করা জরুরি নয়।

তবে চার চক্কর পূর্ণ হওয়ার আগে ওযু ছুটে গেলে ওযু করে আসার পর উত্তম হল, নতুন করে শুরু থেকে সাত চক্কর পূর্ণ করা।

কিতাবুল হুজ্জাহ, ইমাম মুহাম্মাদ ১/৫১৫; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১০; ফাতহুল কাদীর ২/৩৮৯; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী, পৃ. ১৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৯৭; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃ. ১২৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মামুন - কুমিল্লা

৬৯২৩. প্রশ্ন

আমার চোখের পাতার ভেতরে ফোসকার মতো কিছু একটা উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের ড্রপ ব্যবহার করেছি। কিন্তু বিশেষ কোনো ফায়েদা হয়নি। একজন সুরমা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর থেকে নিয়মিত সুরমা ব্যবহার করছি। আলহামদু লিল্লাহ ফায়েদাও পাচ্ছি। এ বছর আমার হজ্বের সফরে যাওয়ার কথা।

তাই জানতে চাই, ইহরাম অবস্থায় সুরমা ব্যবহারের বিধান কী? এ অবস্থায় কি আমি সুরমা ব্যবহার করতে পারব?

উত্তর

ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিমুক্ত সুরমা ব্যবহার করা জায়েয আছে।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন

يَكْتَحِلُ الْمُحْرِمُ بِأَيِّ كُحْلٍ شَاءَ، مَا لَمْ يَكُنْ فِيْهِ طِيْبٌ.

অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় যে-কোনো সুরমা ব্যবহার করা যাবে, যদি তাতে সুগন্ধি না থাকে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৫০৮২)

কিন্তু সুরমা যদি সুগন্ধিযুক্ত হয়, তবে ইহরাম অবস্থায় তা ব্যবহার করা যাবে না।

* >المبسوط< للسرخسي / ১২৪ : ولا بأس بأن يكتحل المحرم بكحل ليس فيه طيب، فإن كان فيه طيب فعليه صدقة، إلا أن يكون كثيرا فعليه الدم.

বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৩৭; আলমাসালিক ফিল মানাসিক ২/৭৪২; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী, পৃ. ৩১৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহমুদুল হাসান - বারহাট্টা, নেত্রকোণা

৬৯২৪. প্রশ্ন

আমার দুধ-বাবার সাথে আমার স্ত্রীর দেখা করা কি জায়েয আছে?

উত্তর

হাঁ, আপনার দুধ-পিতার সঙ্গে আপনার স্ত্রী দেখা করতে পারবে। কেননা স্বামীর দুধ-পিতা মাহরামের অন্তর্ভুক্ত।

* كتاب >الأصل< ৪/৩৬২ : وكذلك امرأة الأب من الرضاعة تحرم كما تحرم امرأة الابن من الرضاعة.

আলমাবসূত, সারাখসী ৪/২০০; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩৮; ফাতহুল কাদীর ৩/১২১; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৪; ফয়যুল বারী ৩/৩৮৫

শেয়ার লিংক

নাজমুল - ঢাকা

৬৯২৫. প্রশ্ন

আমি একদিন আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলছিলাম। একপর্যায়ে তার কথা শুনে আমি তাকে বলি, তুমি তো এই কথাটি আমার মায়ের কথার মতো বললে, এভাবে তো আমার মা মাঝে মাঝে বলে।

জানার বিষয় হল, এতে কি আমার ওপর কাফ্ফারা আসবে? কাফ্ফারা যদি আসে, তাহলে তা কীভাবে আদায় করব? কাফ্ফারার টাকা কত? তা কি এতীমখানায় দিলে আদায় হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথায় দূষণীয় কিছুই নেই। এটি স্বাভাবিক কথাবার্তা। এর কারণে কাফ্ফারা বা কোনো কিছু আসবে না। তাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনারা স্বাভাবিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবেন।

বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৬৩, ৩৬৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/১৯৭; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ২/৮১; আলবাহরুর রায়েক ৪/৯৪

শেয়ার লিংক

আসলাম হুসাইন - ইন্দ্রা, বাঘারপাড়া, যশোর

৬৯২৬. প্রশ্ন

জায়েদ আমরের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ঋণ নিতে চায়। কিন্তু আমর এক লক্ষ টাকায় দশ হাজার টাকা লাভ গ্রহণ ছাড়া ঋণ দিতে নারাজ। আবার উভয়ের ইচ্ছা হল, সুদ থেকে বেঁচে থেকে এই লেনদেন সম্পন্ন করা। তাই তারা নিম্নোক্ত পন্থায় হীলা গ্রহণ করল

জায়েদ নিজের চাচাতো ভাই খালেদকে উপস্থিত করে বলল, তুমি তোমার মোটরসাইকেলটি আমরের কাছে এক লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দাও। খালেদ তার মোটরসাইকেল আমরের কাছে এক লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিল। আমর খালেদকে এক লক্ষ টাকা দিয়ে গাড়িটি হস্তগত করে নিল। অতঃপর আমর কিস্তির চুক্তিতে উক্ত গাড়িটি জায়েদের কাছে এক লক্ষ দশ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিল। জায়েদ গাড়িটি আয়ত্ত করে পূর্বের মালিক খালিদের নিকট এক লক্ষ টাকায় বিক্রি করল এবং নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে নিল। যা খালিদ মোটরসাইকেলের বিক্রয়মূল্য হিসেবে আমরের কাছ থেকে পেয়েছিল।

ফল দাঁড়াল এই, গাড়িওয়ালা তার গাড়ি পেয়ে গেল। ঋণ গ্রহীতাও তার ঋণ পেয়ে গেল। আর ঋণদাতা পেয়ে গেল তার লাভের দশ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, এখানে গাড়িটি বিক্রয় করা বা ক্রয় করার ইচ্ছা প্রকৃতভাবে কারও ছিল না, শুধুমাত্র হীলারূপে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে।

এখন আমার জানার বিষয় হল, এভাবে হীলা গ্রহণ করা এবং আমরের জন্য উক্ত হীলার মাধ্যমে দশ হাজার টাকা লাভ গ্রহণ করা কি শরীয়তসম্মত হবে? শরয়ী দলীলের ভিত্তিতে হানাফী মাযহাবের সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত লেনদেনটি জায়েয নয়। এই পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করা অর্থাৎ যিনি পণ্যের মূল মালিক, কয়েক হাত বদল হলেও পণ্য তার কাছেই থেকে যাবে এটি শরীয়তনিষিদ্ধ ‘বাইয়ে ঈনা’-র কাছাকাছি একটি লেনদেন। এতে বাহ্যত পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় উদ্দেশ্য থাকে না। যেমনটি প্রশ্নে বলা হয়েছে। এমনকি মাঝে আসা সাজানো ক্রেতারা পণ্য হস্তগত করলেও শেষ পর্যন্ত যেহেতু সেই পণ্য মূল মালিকের কাছেই থেকে যায়, তাই শরীয়তের দৃষ্টিতে বাস্তবে এটি ক্রয়-বিক্রয় নয়; বরং পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের বাহানা করে এটি মূলত ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করার একটা অপকৌশল। হাদীস-আছারে ‘ঈনা’ (عينة) ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ: إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِيْنَةِ، وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ، وَرَضِيْتُمْ بِالزَّرْعِ، وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ، سَلَّطَ اللهُ عَلَيْكُمْ ذُلاًّ لَا يَنْزِعُه حَتّٰى تَرْجِعُوْا إِلى دِيْنِكُمْ.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা ‘ঈনা’ পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হয়ে যাবে, ষাড়ের লেজ ধরে থাকবে এবং কৃষি কাজে লিপ্ত থাকার কারণে জিহাদ পরিত্যাগ করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর এমন লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন যে, যতক্ষণ না তোমরা দ্বীনের ওপর পূর্ণরূপে প্রত্যাবর্তন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তোমাদের থেকে এই লাঞ্ছনা দূর করবেন না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৫৬)

মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রাহ.-এর কাছে ‘ঈনা’-র কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন

نُبِّئْتُ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ كَانَ يَقُولُ: دِرْهَمٌ بِدِرْهَمٍ وَبَيْنَهُمَا حَرِيْرَةٌ.

আমার নিকট খবর পৌঁছেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ‘ঈনা’-র ব্যাখ্যায় বলতেন, মাঝখানে একটি কাপড়কে মাধ্যম বানিয়ে এটি মূলত টাকার বিনিময়ে টাকার চুক্তি। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৫২৭)

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আমরের জন্য উক্ত হীলা পদ্ধতি অবলম্বন করে অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা গ্রহণ করা জায়েয হবে না। এ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

* >المحيط البرهاني< ১০/৩৬৯ : وقال بعضهم: تفسيرها أن يدخلا بينهما ثالثا، فيبيع المقرض ثوبه من المستقرض باثنتي عشرة درهما، ويسلمه إليه، ثم يبيع المستقرض من الثالث الذي أدخلاه بينهما بعشرة، ويسلم الثوب إليه، ثم إن الثالث يبيع الثوب من صاحب الثوب، وهو المقرض بعشرة، ويسلم الثوب إليه ويأخذ منه العشرة، ويدفعها إلى طالب القرض، فيحصل لطالب القرض عشرة دراهم، ويحصل لصاحب الثوب عليه اثنى عشر درهما، وهذا حيلة من حيل الربا.

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৫২৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১৪/৩৬; ফাতাওয়া খানিয়া ২/২৭৯; ফাতহুল কাদীর ৬/৩২৪; আননাহরুল ফায়েক ৩/৫৭৫; রদ্দুল মুহতার ৫/৩২৫

শেয়ার লিংক

নূরে জান্নাত - বি. বাড়িয়া

৬৯২৭. প্রশ্ন

আমার আব্বু আমাদের বাসায় একমাত্র উপার্জনক্ষম। দোকান ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। তার মধ্যে একটা দোকানে লাইভ বেকারির আইটেম বিক্রি হয়। এই মাসেই চালু হয়েছে। আমি আজকে জানতে পারলাম, এখানে অন্যান্য বেকিং আইটেমের সাথে জন্মদিন বা বিভিন্ন নাজায়েয অনুষ্ঠান (গায়ে হলুদ, বিবাহ বার্ষিকী, নববর্ষ ইত্যাদি)-এর কেকও বিক্রি হবে।

১. যেহেতু তারা নাজায়েয অনুষ্ঠানের কেকও বিক্রি করবেন, এক্ষেত্রে আমাদের জন্য তাদের থেকে ভাড়া নেওয়া হালাল হবে কি না? কেননা ভাড়ার টাকার একটা অংশ তো জন্মদিনের কেক থেকেও আসবে।

২. আমি নিজে জন্মদিন পালন বা এই সংক্রান্ত কেউ কিছু দিলে কোনো কিছু গ্রহণ করি না। যদিও আমার বাবা হয়তো তাদেরকে জন্মদিনের কেক সেল করার বিষয়ে কিছু বলবেন না। আমার জন্য এই ভাড়া থেকে খাওয়া-পড়া হালাল হবে কি না? ফতোয়া দিয়ে সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের জন্য ওই দোকানের ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণ করা এবং তা ভোগ করা জায়েয হবে। কারণ বিভিন্ন বিদআত ও রসম-রেওয়াজকে কেন্দ্র করে কেক কেনা, তা কাটা শরীয়ত বিরোধী হলেও যেহেতু কেক একটি হালাল পণ্য, তাই দোকানী হারাম উপার্জন করছে বলে ধর্তব্য হবে না। যদিও মুসলমান ব্যবসায়ীদের কর্তব্য, এ ধরনের অযথা ও অপসংস্কৃতিমূলক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে খাবার তৈরি না করা।

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২২৫৭২, ২২৫৭৬; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২২৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৬; আলআশবাহ ওয়াননাযায়ের, পৃ. ৩৯; ই‘লাউস সুনান ১৪/৪৭৯

শেয়ার লিংক

শাকিল মিয়া - চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা

৬৯২৮. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার প্রচলন এরকম যে, কুরবানীর দিন ইমামগণ নিজ নিজ মহল্লার কুরবানীর পশু জবাই করে থাকেন। প্রতি গরুতে তাদেরকে ২০০/৩০০ টাকা দেওয়া হয়। যা মসজিদ কমিটি কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত থাকে। কেউ ইমামকে দিয়ে জবাই করাতে চাইলে এত টাকা দিতে হবে। আর চাইলে সে নিজেও বা অন্য কোনো লোক দিয়েও কুরবানী করতে পারে।

জানার বিষয় হল, এভাবে কুরবানীর পশু জবাইয়ের বিনিময়ে টাকা নেওয়া কি বৈধ হবে?

উত্তর

হাঁ, কুরবানীর পশু জবাইয়ের বিনিময় নেওয়া বৈধ আছে। এটি জবাইয়ের কাজের পারিশ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত। তাই মসজিদ কমিটি এই পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ার পর কেউ যদি তাকে জবাইয়ের জন্য নিয়ে যায়, তাহলে তাকে ন্যূনতম সেই টাকা দিতে হবে। আর চাইলে এর থেকে বেশিও দেওয়া যাবে। তবে এর বিনিময়ে কুরবানীর পশুর কোনো অংশ দেওয়া যাবে না। কুরবানীর পশুর অংশ দিতে চাইলে ভিন্নভাবে তার পারিশ্রমিক পরিপূর্ণ বুঝিয়ে দেওয়ার পর অতিরিক্ত হাদিয়া হিসেবে দিতে পারবে।

* >المبسوط< للسرخسي ১৬/৪০ : فالحاصل أن عند محمد يجوز الاستئجار على ذلك كله؛ لأنه عمل معلوم بمحله وإقامته جائز شرعا فيجوز الاستئجار عليه كذبح الشاة.

আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭১, ১১/৩৬০; খিযানাতুল আকমাল ৩/৫৩৫; হাশিয়াতুশ শিলবী ৬/৪৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৫৪

শেয়ার লিংক

কামাল চৌধুরী - বরিশাল

৬৯২৯. প্রশ্ন

আমরা কুরবানীর সময় একজন কসাই আনি। তার সাথে আগেই চুক্তি করা থাকে যে, গরু প্রস্তুত করার বিনিময়ে সে এত টাকা পাবে। কিন্তু কাজ শেষ করার পর বাবা তাকে পূর্ণ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি খাওয়ার জন্য কিছু গোশতও দেন।

প্রশ্ন হল, আমরা তো জানি, কসাইকে কুরবানীর গোশত দেওয়া যায় না। তো আমার বাবা যে তাকে টাকার পাশাপাশি গোশতও দিয়েছেন এতে কি কোনো সমস্যা হবে?

উত্তর

কসাইকে চুক্তিকৃত পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার পর হাদিয়া হিসেবে তাকে কুরবানীর গোশত দেওয়া জায়েয আছে। এতে সমস্যা নেই। তবে কসাইকে পারিশ্রমিকের অংশ হিসেবে কুরবানীর গোশত দেওয়া জায়েয নয়।

* >معراج الدراية في شرح الهداية< /৩৪ : قوله: (ولا يعطي أجرة الجزار من الأضحية) عند أهل العلم، ... أما لو أعطاه لفقره أو على سبيل الهدية، فلا بأس به.

খিযানাতুল আকমাল ৩/৫৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭১; হাশিয়াতুশ শিলবী ৬/৪৮৬; তাকমিলাতুল বাহরির রায়েক ৮/১৭৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৮

শেয়ার লিংক

জামশেদ - পঞ্চগড়

৬৯৩০. প্রশ্ন

আমাদের পালিত একটা গরু আছে। গত বছর গরুটার কানে পোকা ধরে। তখন বাধ্য হয়ে কানের ওই অংশ কেটে ফেলতে হয়। যা কানের অর্ধেকের চেয়ে কিছু কম হবে। এখন গরুটি পূর্ণ সুস্থ। তবে কানের ওই অংশটা কাটা। আমরা এ বছর ওই গরু কুরবানী করতে চাচ্ছি।

হুজুরের নিকট জানার বিষয় হল, এই গরু দিয়ে কি কুরবানী করা যাবে? কানের ওই অংশ কাটা থাকার কারণে কি কোনো সমস্যা হবে?

উত্তর

হাঁ, ওই গরু দিয়ে কুরবানী সহীহ হবে। কেননা কুরবানীর পশুর কানের কর্তিত অংশ যদি অর্ধেকের কম হয় এবং অর্ধেকের বেশি অংশ বাকি থাকে, তবে তা দিয়েও কুরবানী সহীহ আছে।

কিতাবুল আছল ৫/৪০৯; মুখতাসারুত তাহাবী, পৃ. ৩০৩; আলআজনাস, নাতেফী ১/৫১২; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৬; গায়াতুল বয়ান ১৫/৩৪২; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩

শেয়ার লিংক

যাকারিয়া - ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

৬৯৩১. প্রশ্ন

আমরা তিন ভাই প্রতি বছর একসাথে কুরবানী দিই। আমরা তিনজনই সামর্থ্যবান। গত কয়েকদিন আগে আমরা একটি গরু কিনে আনি। গরুটি বেশ তেজি। একদিন গরুটি রশি ছিঁড়ে দৌড়ে গিয়ে মাথা দিয়ে দেয়ালে আঘাত করে। ফলে গরুটির একটি শিং গোড়া থেকে ভেঙে যায়।

হুজুরের কাছে জানতে চাই, এখন এই গরু দিয়ে আমাদের কুরবানী করা কি সহীহ হবে? না হলে এখন আমাদের কী করণীয়?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গরুটির শিং গোড়া থেকে ভেঙে গেলেও এ কারণে যদি এর মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে থাকে, তাহলে তা দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে। কিন্তু যদি এর ফলে গরুটির মস্তিষ্ক পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তবে তা দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে না।

বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬; আলমুজতাবা, যাহেদী ৫/৪৭; জামিউর রুমূয ৩/৩৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩

শেয়ার লিংক