মুহাম্মাদ আবু সাদেক নূর - বসুন্ধরা, ঢাকা

১৬১৩. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন একদিন ফজরের নামাযের সময় হয়েছে ভেবে আযান দিয়ে দেয়। পরবর্তীতেও স্থির করা যায়নি যে, আযান সময়মতো দেওয়া হয়েছে না পরে। তবে আগে হয়েছে বলেই প্রবল ধারণা। এরপর আমরা ফজরের ওয়াক্তের মধ্যে ঐ আযান দ্বারা নামায আদায় করি।  আমাদের নামায সহীহ হয়েছে কি না?

 


উত্তর

ওয়াক্তের পূর্বে আযান দিলে আযান সহীহ হয় না। প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনাদের আযান হয়নি। এক্ষেত্রে ওয়াক্ত হওয়ার পর আবার আযান দেওয়া উচিত ছিল। আযান না দেওয়ার কারণে মাকরূহ হয়েছে। অবশ্য আযান ছাড়া ফরয নামায পড়লেও যেহেতু নামায হয়ে যায় তাই আপনাদের ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে। 

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫২২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮১; মাবসূত সারাখসী ১/১৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৮৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরমান - খিলগাও, ঢাকা

১৬১২. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি যোহরের নামায আদায় করেন। সালাম ফিরানোর পর তার পাশে নামায আদায়কারী ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি তিন রাকাত পড়েছেন। তখন তিনি বললেন, না। আমি চার রাকাতই পড়েছি। নিজের কথার উপর এখনও অসুস্থ। জানতে চাই, তিনি এখন নিজের উপর ভরসা করবেন, নাকি ঐ ব্যক্তির কথা অনুযায়ী আমল করবেন?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির কথা শোনার পরও যদি নিজের কথা অর্থাৎ চার রাকাত পড়া হয়েছে-এ ধারণাই প্রবল থাকে তাহলে নামায পরিপূর্ণ হয়েছে বলেই গণ্য হবে। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির কথা ধর্তব্য হবে না এবং তদনুযায়ী আমল করাও জরুরি হবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; হাশিয়াতুত্ত্বাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ২৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - উত্তরা, ঢাকা

১৬১১. প্রশ্ন

আমার কয়েক রাকাত তারাবীর নামায ছুটে যায়। ছুটে যাওয়া রাকাতগুলি ইমামের সাথে বিতর আদায়ের পর পড়ে নিয়েছি। কিন্তু আমার জানা নেই যে, ছুটে যাওয়া তারাবীর নামাযগুলো বিতরের আগে পড়তে হয় না পরে পড়তে হয়। সুতরাং আমার জানার বিষয় হল, আমার নামায সহীহ হয়েছে কী?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় বিতর নামায জামাতে পড়ার পর ছুটে যাওয়া তারাবী পড়া নিয়মসম্মতই হয়েছে এবং পরবর্তী তারাবীগুলোও সহীহ হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যদিও বিতর নামায তারাবীর পরে পড়াই উত্তম; কিন্তু এক্ষেত্রে জামাতের সাথে বিতর পড়ার স্বার্থে তারাবির বাকি অংশ বিতরের পরে পড়ে নেওয়া ঠিকই হয়েছে।

- হিদায়া ১/১৫১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৫; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ১/২৯; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪০৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭, বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৫২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হুসাইন আহমদ - কাপাসিয়া, গাজীপুর

১৬১০. প্রশ্ন

আমি ইটের ব্যবসা করি। ইটের ভাটা আছে। জানতে চাই, ভাটার যাকাত আদায় করব কীভাবে? কিছু ইট কাঁচা কিছু ইট ভাটায় পুড়ছে আর কিছু পরিপূর্ণ ইট। আবার মাটিও কিনে রাখি। লাকড়ি ও কয়লার স্টক থাকে। এগুলোর উপর যাকাত দিতে হবে কি না? দিলে কী উপায়ে।

 


উত্তর

কাঁচা, পাকা ইট এবং যে ইট পুড়ছে এগুলোর যাকাত দিতে হবে। তদ্রূপ ইট তৈরির জন্য যে মাটির মজুদ রাখা হয়েছে তারও যাকাত দিতে হবে। এসব কিছু পাইকারী বিক্রি করে দিলে যে দাম পাওয়া যায় সে হিসেবে যাকাত দিবে।

আর ভাটার জ্বালানী হিসাবে যে কয়লা বা লাকড়ির স্টক থাকবে তার যাকাত দিতে হবে না।

-হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৪০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২, ১৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৮; আননাহরুল ফায়েক ১/৪৩৯; ফাতহুল কাদীর ২/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৫

শেয়ার লিংক

আরমান - নান্দাইল, ময়মনসিংহ

১৬০৯. প্রশ্ন

আমার পিতা বার্ধক্যের দরুণ রোযা রাখার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। জানতে চাই, তার ফিদয়া আদায় করতে হবে কি না? আমার পিতার উপর যাকাত ফরয নয়। তিনি খুব একটা স্বচ্ছল নন। এ অবস্থায় কি তাকে ফিদয়া আদায় করতে হবে? এক রোযার ফিদয়া একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া জায়েয হবে কি না?

 


উত্তর

হ্যাঁ, তাকে রমযানের প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে ফিদয়া আদায় করতে হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- (তরজমা) আর যাদের রোযা রাখার সামর্থ্য নেই তারা একজন মিসকীনের খানা সমপরিমাণ ফিদয়া দিবে। (সূরা বাকারা : ১৮৪)

এমন ব্যক্তির উপর যাকাত ফরয না হলেও ফিদয়া দিতে হবে। কারণ ফিদয়া দেওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা জরুরি নয়। আর এক রোযার ফিদয়া একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া যায়। তবে একজনকে দেওয়া উত্তম।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪২৭

শেয়ার লিংক

মাওলানা আবুল কালাম - গাজিপুর

১৬০৮. প্রশ্ন

 

একব্যক্তি দরিদ্র লোককে যাকাতের নিয়ত ছাড়া এমনি সদকা করেছে। পরক্ষণেই লোকটির হাতে টাকা থাকতেই সে তা যাকাত হিসাবে দেওয়ার নিয়ত করল। এর দ্বারা তার যাকাত আদায় হবে কি না?

 


 

উত্তর

লোকটি ঐ টাকা খরচ করার আগেই দাতা যদি প্রদত্ত টাকা যাকাত হিসেবে নিয়ত করে তবে তা যাকাত হিসাবে গণ্য হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২১০; আননাহরুল ফায়েক ১/৪১৮; মাজমাউল আনহুর ১/২৯০; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খালেদ - বাসাইল, টাঙ্গাইল

১৬০৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এ পদ্ধতিতে ধান বেচাকেনা হয় যে, আপনি ১০০০/-টাকা দিবেন। ৪ বা ৫ মাস পরে আপনাকে ৩ বা ৪ মণ ধান দেবে। আলেমগণ এভাবে ধান বেচাকেনাকে জায়েয বলেন। আমরা শুনেছি যে, ধান ক্ষেত থেকে এভাবে বিক্রি করা নাকি নাজায়েয। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন। আমাদের এলাকার ওই পদ্ধতিতে ধান বেচাকেনা শরীয়তসম্মত হবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ওই কারবারটি বাইয়ে সালামের (আগাম খরিদ) অন্তর্ভুক্ত। বাইয়ে সালাম জায়েয হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে।  যেমন-

১. পণ্য ও মূল্য সুনির্দিষ্ট করা। অর্থাৎ ধান বেচাকেনার ক্ষেত্রে ধানের প্রকার, গুণগত মান এবং পরিমাণ সুনির্ধারিত হওয়া এবং সে অনুযায়ী মূল্যও চূড়ান্ত হওয়া।

২. পূর্ণ মূল্য চুক্তির সময়ই হস্তগত করা এবং পণ্য প্রদানের তারিখ ও স্থান নির্ধারিত করে নেওয়া।

৩. কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেতের ধান দেওয়ার শর্ত না করা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট ক্ষেতের ধান দেওয়ার শর্ত করে আগাম বেচাকেনা করলে চুক্তি নাজায়েয হয়ে যাবে। সুতরাং প্রশ্নের শোনা কথাটি ঠিক আছে।

এখানে আরো উল্লেখ্য যে, বাইয়ে সালাম তথা আগাম বেচাকেনার ক্ষেত্রেও মূল্য হওয়া উচিত যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ের। অগ্রিম দাম দেওয়ার কারণে মূল্যের মধ্যে অনেক বেশি তফাত করা ঠিক নয়। এটি শরীয়তের ভাষায়  গাবনে  ফাহেশের অন্তর্ভুক্ত। ১০০০/-টাকার বিনিময়ে ৫/৬ মাস পরে ৩/৪ মণ ধান দেওয়ার বিষয়টি এ পর্যায়ে পড়ে।

-ইলাউস সুনান ১৪/৪১২; আলবাহরুর রায়েক ৬/১৬০; রদ্দুল মুহতার ৫/২১৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খুরশিদ - অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ

১৬০৬. প্রশ্ন

মক্কায় অবস্থানকারী এক ব্যক্তি যার বাড়ি বাংলাদেশে সে জুমাদাল উলা মাসে বাংলাদেশ থেকে মক্কা মুকাররমা যায়। উমরার নিয়ত করে প্রবেশ করে। এরপর সে রমযানে মদীনা মুনাওয়ারা যায়। সেখানে ইতিকাফ করে। এরপর সে শাওয়াল মাসে মক্কা মুকাররমা যেতে চায়। এ ব্যক্তির এ বছর হজ্ব করার ইচ্ছা। যেহেতু হজ্বের আর মাত্র দুই মাস বাকি আছে, আর মক্কাতে প্রবেশের সময় ইহরাম করে প্রবেশ করেতে হবে, তাই তামাত্তুর উদ্দেশ্যে ওমরার ইহরাম করতে পারবে কি না? তার জন্য কি তামাত্তু করা জায়েয হবে? শুনেছি, মক্কীদের জন্য নাকি তামাত্তু করা জায়েয নেই। তামাত্তু করলে দমে জেনায়েত ও দমে শোকর দেওয়া লাগবে কি না?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তির জন্য তামাত্তু করা জায়েয। অর্থাৎ শাওয়াল মাসে মক্কা মুকাররমা প্রবেশের সময় তামাত্তুর নিয়তে উমরা করতে পারবে এবং এক্ষেত্রে তার উপর তামাত্তুর দমে শোকর ওয়াজিব হবে। জেনায়েত আসবে না। কারণ মক্কায় অবস্থানকারী ব্যক্তি যদি শাওয়ালের আগেই মীকাত থেকে বের হয়ে যায় তাহলে আফাকী তথা মক্কার বাইরে অবস্থানকারীদের হুকুমে হয়ে যায়। তাই ওই ব্যক্তি মক্কীর হুকুমে থাকবে  না। তার জন্য কিরান-তামাত্তু সবই করা জায়েয।

-মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৮/৬৯০ হাদীস : ১৫৬৩২; মানাসিকে মোল্লা আলী পৃ. ১৭৬, ২৮১; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৫/৩৫৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ দুস্তাম - হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ

১৬০৫. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় সরিষার বিনিময়ে সরিষার তেল আদানপ্রদান করা হয়। এককেজি সরিষা দিলে ২০০ গ্রাম তেল দেয়। মিলে গিয়ে ভাঙ্গানো ঝামেলা, তাই এমন কারবারের প্রচলন হয়েছে। এককেজি সরিষা ভাঙ্গালে প্রায় ২২০ থেকে ২২৫ গ্রাম তেল হয়।

এখন জানতে চাই, আমাদের এলাকার কারবারটি বৈধ কি না?

 


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনাদের এলাকার ওই কারবারটি বৈধ নয়। তা সুদি কারবারের অন্তর্ভুক্ত। কারণ সরিষার বিনিময়ে সরিষার তেল নিতে চাইলে সরিষা ভাঙ্গালে যতটুকু তেল পাওযা যাবে তার চেয়ে বেশি তেল দিয়ে লেনদেন করতে হবে। তাই এক কেজি সরিষার বিনিময়ে ২২০ বা ২২৫ গ্রামের বেশি তেল দিতে হবে। যেন সরিষার মধ্যে যতটুকু তেল আছে সেটারও বিনিময়ে সমপিরিমাণ তেল  হয়ে যায়। আর অতিরিক্ত যতটুকু থাকবে তা খোলের পরিবর্তে হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আপনারা সরিষা ও তেলে লেনদেন না করে উভয়টি টাকার মোকাবেলায় বেচাকেনা করতে পারেন। অর্থাৎ সরিষার দাম নির্ধারণ করে টাকায় তা বিক্রি করবেন। এর পর তা দ্বারা তেল ক্রয় করবেন।

-আলবাহরুর রায়েক ৬/১৩৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪১৩; ফাতহুল কাদীর ৬/১৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৮৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবুল কাসেম - দুর্গাপুর, নেত্রকোনা

১৬০৪. প্রশ্ন

জনৈকা মহিলা নিজ ঘরেই সুন্নত ইতিকাফ শুরু করেছে। তিন দিন পর তার মাসিক শুরু হয়ে যায়। এখন তার করণীয় কী? পরবর্তী সময়ে এই ইতিকাফের অবশিষ্ট দিনগুলো কাযা করতে হবে কি না?

 


উত্তর

মাসিক শুরু হওয়ার কারণে তার ইতিকাফ ভেঙ্গে গেছে। যে দিন মাসিক শুরু হয়েছে শুধু সেই একদিনের ইতিকাফ কাযা করে নেওয়া জরুরি। এই এক দিন কাযা করার নিয়ম হল, একদিন সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফ শুরু করতে হবে। পরবর্তী দিন রোযা থাকতে হবে। সূর্যাস্তের পর ইতিকাফ শেষ হবে। এভাবে একদিন রোযাসহ ইতিকাফ করলেই কাযা আদায় হয়ে যাবে। পুরো দশ দিনের ইতিকাফ কাযা করতে হবে না।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭; জামিউর রুমুয ১/৩৮৫; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৫; আলজাওহারা পৃ. ১৮৬; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৭/২৮৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদুল্লাহ - ডিআইটি প্লট গেন্ডারিয়া, ঢাকা

১৬০৩. প্রশ্ন

নামাযে মোবাইল বেজে উঠলে যদি নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে তা বন্ধ করা হয় তাহলে নামাযের হুকুম কী হবে? কোন সুরতে নামায ভাঙ্গবে আর কোন সুরতে ভাঙ্গবে না। জানালে উপকৃত হব।

১. পাঞ্জাবি বা প্যান্টের পকেটে মোবাইল আছে। তা বের করা ছাড়াই পকেটের উপর থেকে চাপ দিয়ে কিংবা হাত ঢুকিয়ে সেখানেই এক হাত দ্বারা তা বন্ধ করা।

২. পাঞ্জাবি বা প্যান্টের সাইড পকেট থেকে বের করে এনে দেখে দেখে বন্ধ করা।

৩. বুক পকেট থেকে এনে দেখে বন্ধ করা।

৪. পকেট থেকে ফোল্ডিং সেট বের করে খুলে তারপর বন্ধ করা।

 


উত্তর

১. মোবাইলের দিকে না তাকিয়ে এক হাত দিয়ে দ্রুত বন্ধ করে দিলে নামায ফাসেদ হবে না। চাই পকেটের উপর থেকে বন্ধ করা হোক বা ভেতরে হাত দিয়ে বন্ধ করা হোক। নামায অবস্থায় মোবাইল বেজে উঠলে তা বন্ধ করার এটি উত্তম ব্যবস্থা।

২. পকেট থেকে বের করে দেখে দেখে বন্ধ করলে, এক হাত দিয়ে বন্ধ করলেও নামায ভেঙ্গে যাবে। কারণ এ অবস্থায় কোনো আগন্তুক তাকে দেখলে সে নামাযে নেই বলেই প্রবল ধারণা করবে।

৩. বুক পকেট থেকে বের করে দেখে দেখে বন্ধ করলেও নামায ভেঙ্গে যাবে।

৪. ফোল্ডিং সেটও না দেখে এক হাত দ্বারা দ্রুত বন্ধ করে দিলে নামায ভাঙ্গবে না। কিন্তু যদি দুই হাত ব্যবহার করে কিংবা দেখে দেখে বন্ধ করে তবে নামায ভেঙ্গে যাবে। তেমনিভাবে এক হাত দিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে যদি তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় ব্যয় হয়ে যায় তবুও নামায ফাসেদ হয়ে যাবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৬৪; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১১, ১২; রদ্দুল মুহতার ১/৬২৪, ৬২৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমীনুল হক - কোতয়ালী, ময়মনসিংহ

১৬০২. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি বজ্রপাতে মারা গেছে। যেহেতু এ ধরনের লাশ চুরি হয়ে যায়। তাই ওয়ারিশগণ স্থানীয় আলেমের পরামর্শে তার কবরের উপর চওড়া কাঠের তক্তা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর মাটি দিয়েছে। জানতে চাই, আমাদের এ কাজ কি ঠিক হয়েছে?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লাশের হেফাযতের উদ্দেশ্যে কবরের উপর কাঠের তক্তা ব্যবহার করা ঠিক হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ অবস্থায় কবরে কাঠ ব্যবহার করা ঠিক নয়।

-মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৬/৩৫১-৩৫২ হাদীস নং ১১৮৯২, ১১৮৮৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৬৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৪; মাজমাউল আনহুর ১/২৭৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৬

শেয়ার লিংক

মাওলানা আবদুল্লাহ - মাদানী নগর মাদরাসা

১৬০১. প্রশ্ন

আমার দাদা আমার অসুস্থতার সময় মান্নত করেছিলেন যে, নাতি ভালো হলে মসজিদের মুসল্লীদেরকে মিষ্টি খাওয়াব।

আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ হয়েছি। এখন আমার দাদার ওই মান্নত কি পূরণ করা জরুরি? জানতে চাই, এ মসজিদের সর্বস্তরের মুসল্লীগণ তা খেতে পারবে কি? নাকি শুধু গরীব শ্রেণীর লোকজন খেতে পারবে? বিস্তারিত জানাবেন।

 


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ওইভাবে বলার দ্বারা গরীব মুসল্লীদের অংশ পরিমাণ মান্নত হয়েছে। তাই তা পূর্ণ করা জরুরি। আর মসজিদের সর্বস্তরের মুসল্লীদেরকে দেওয়া হলে ধনী-গরীব সকলেই ওই মিষ্টি খেতে পারবে। কারণ এক্ষেত্রে ধনীদের অংশ হাদিয়া গণ্য হবে। আর গরীবদের অংশ মান্নত ধর্তব্য হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৫৫৯-৫৬০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শরীফুল্লাহ - ডিওএইচএস, বনানী, ঢাকা

১৬০০. প্রশ্ন

একাধিক সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতে চাইলে উত্তম নিয়ম কী? প্রত্যেক সিজদার জন্য কি দাঁড়াতে হবে? তিলাওয়াতে সিজদার তাকবীর বলা কি ফরয? দাঁড়ানোর হুকুম কী? সিজদা আদায়ের পর না দাঁড়ালে কোনো সমস্যা আছে কি? সিজদার আয়াত পড়ার পর যদি কেউ সাথে সাথে সিজদা না করে তবে  কোনো  অসুবিধা  আছে  কি?  বিস্তারিত জানতে চাই।

 


উত্তর

তিলাওয়াতের সিজদার সময় দাঁড়ানো থেকে সিজদায় যাওয়া এবং সিজদা করে আবার দাঁড়িয়ে যাওয়া উভয়টিই মুস্তাহাব। তাই একাধিক তিলাওয়াতের সিজদা আদায় করতে চাইলেও এভাবেই করা উচিত। তবে বসে বসে সিজদা করলেও সিজদা আদায় হয়ে যাবে। আর তিলাওয়াতের সিজদার জন্য তাকবীর অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যাওয়া সুন্নত। আর সিজদার আয়াত পড়ে তৎক্ষণাৎ সিজদা করা সম্ভব হলে তা করে নেওয়াই ভালো। পরে করলেও কোনো গুনাহ নেই।

-মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৩/৩৮৩ হা: ৪২০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৬; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলালমারারকী ২৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফেরদৌস আলী - চরমোনাই, বরিশাল

১৫৯৯. প্রশ্ন

 

আমি গত বছর ভীষণ অসুস্থ ছিলাম। তখন আমি মান্নত করেছিলাম যে, যদি আমি সুস্থ হই তবে গরীব-দুঃখীকে একটি ছাগল ছদকা করব। সে অনুযায়ী গত সপ্তাহে আমাদের এলাকার সেলিম ফকিরকে একটি এক বছর বয়সী ছাগল ছদকা করি। সে তা নিজের কাছে রেখে বড় করার নিয়ত করে। কিন্তু ঘটনাক্রমে গত রাতে তার বাড়ি থেকে ছাগলটিকে শিয়াল খেয়ে ফেলে। এখন জানতে চাই, আমার মান্নত পূর্ণ হয়েছে কি না? আমার উপর ছাগল যবাই করে গোশত করে দেওয়া জরুরি ছিল কি? এলাকার কেউ কেউ এমন মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন।

 


 

উত্তর

ওই গরীব ব্যক্তিকে ছাগলটি দেওয়ার দ্বারাই আপনার মান্নত পূর্ণ হয়ে গেছে। তা যবাই করে গোশত করে দেওয়া আপনার উপর জরুরি ছিল না। সুতরাং তাকে দেওয়ার পর শিয়াল নিয়ে যাওয়ার কারণে আপনার মান্নত আদায়ে কোনো ত্রুটি আসেনি। 

-আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫১; আননাহরুল ফায়েক ৩/৬২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৪০; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২০

শেয়ার লিংক

আবুল কালাম - গাজীপুর

১৫৯৮. প্রশ্ন

আমি শুনেছি যে, ছেলে আর মেয়ে শুধু তারা দুজনে এক হয়ে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিবাহ করলে তা জায়েয হবে। কথাটি কতটুকু সত্যি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

না, এভাবে বিবাহ সংঘটিত হবে না। বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্তত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার উপস্থিতিতে তাদেরকে শুনিয়ে ইজাব কবুল হওয়া আবশ্যক। অন্যথায় বিবাহ শুদ্ধ হবে না। 

-ইলাউস সুনান ১১/১৭; জামে তিরমিযী ১/২১০; ফাতহুল কাদীর ৩/১১০; আলবাহরুর রায়েক ৩/৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুস্তাফিযুর রহমান - তামীরুল হায়াত ইনস্টিটিউট মিরপুর, ঢাকা

১৫৯৭. প্রশ্ন

মসজিদের ইমাম সাহেব মাসআলার আলোচনায় বললেন, নামাযে কেরাতের তারতীব ঠিক রাখা ওয়াজিব। আমরা জানি যে, ওয়াজিব তরক করলে সাহু সিজদা করতে হয়। এক্ষেত্রে সাহু সিজদা করতে হবে কি না? যদি সাহু সিজদা করতে না হয় তাহলে নামাযে সূরার তারতীব ঠিক রাখা ওয়াজিব হল কীভাবে? বিস্তারিত জানাবেন।

 


উত্তর

নামাযে সূরাসমূহের তারতীব ঠিক রাখা উত্তম। নামাযে সূরার তারতীব ঠিক রাখা ওয়াজিব হওয়ার কথা ঠিক নয়। হ্যাঁ, এটা ইলমে তাজবীদের মাসআলা হতে পারে। কিন্তু এটি নামাযের ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই ফরয-ওয়াজিব নামাযে ইচ্ছাকৃত সূরার তারতীব ভঙ্গ করা মাকরূহ তানযীহী। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত হয়ে গেলে মাকরূহ  হবে না। সুতরাং এর কারণে সাহু সিজদাও ওয়াজিব হবে না।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৫৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৯৪; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলালমারাকী ১৯৩; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ওমর ফারুক মিয়াজী - শাহরাস্তি, চাঁদপুর

১৫৯৬. প্রশ্ন

আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি আমার দোকানের কাস্টমারের কারো কাছ থেকে বেশি মূল্য রাখি। অর্থাৎ ন্যায্যমূল্য রাখি। আবার একান্ত আপনজনদের কাছে খুব কমমূল্যে বিক্রি করি। এভাবে বেশিকম করে বিক্রি করা জায়েয হবে কি? এর জন্য কি হাশরের ময়দানে জবাবদিহি করতে হবে?


উত্তর

আপনজনদের থেকে ন্যায্যমূল্যের কম রাখা এবং সাধারণ ক্রেতাদের থেকে ন্যায্যমূল্য নেওয়া দোষনীয় নয়। তবে বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি যেন না নেওয়া হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

-সূরা নিসা : ২৯; তাফসীরে মাযহারী ২/৮৭; হেদায়া ৩/৭৫; ফাতহুল কাদীর ৬/১৪৩; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল মালেক - মির্জাপুর, টাঙ্গাইল

১৫৯৫. প্রশ্ন

 

বর্তমান বিশ্বে বিড়িসিগারেটের ব্যাপক ব্যবহার চলছে। এ ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী? দ্বিতীয়ত বিড়ি-সিগারেট খাওয়া ও বিক্রির ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী?

 


 

উত্তর

বিড়িসিগারেট পান করা নাজায়েয। কেননা এতে নিজের শারীরিক ক্ষতি তো আছেই, পাশাপাশি অন্যেরও ক্ষতি করা হয়। মুখের দুর্গন্ধের দরুন মানুষ ও ফেরেশতাকে কষ্ট দেওয়া হয়। অপচয়ের বিষয়টিও রয়েছে। তাই তা যেমনিভাবে পান করা যাবে না। তেমনিভাবে তা বিক্রি করাও যাবে না।

-আদ্দররুল মুখতার ৬/৪৫৯; রদ্দুল মুহতার ৫/২৯৫; তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/২২৭; ফাতাওয়া ফী শুরবিন দুখান

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রকিব খান - ঢাকা

১৫৯৪. প্রশ্ন

 

আমাদের প্রকল্পের ভেতর সাবেক জমির মালিক থেকে কোম্পানির ক্রয়কৃত জমিতে প্রায় ১০/১২ বছর পূর্বে ৩টি কবর ছিল। গত ২ মাস আগে এলাকার নিরীহ লোক কোম্পানির অনুমতি ব্যতীত আরেকটি কবর স্থাপন করে। জায়গাটিতে এখন ভবন করা প্রয়োজন। আমাদের প্রকল্পে কোম্পানির নির্ধারিত কবরস্থান ও মসজিদের জায়গা রয়েছে। সেহেতু কোম্পানি উক্ত কবর ৪টি স্থানান্তর করে কোম্পানির নির্ধারিত কবরস্থানে পুনরায় দাফন করতে চাচ্ছে। অতএব এ বিষয়ে কুরআন হাদীসের সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


 

উত্তর

জমির মালিক তথা কোম্পানির অনুমতি ব্যাতীত এলাকাবাসীর জন্য সেখানে নতুন করে কবর দেওয়া  বৈধ হয়নি। আর ঐ জমি যেহেতু কোম্পানির মালিকানাধীন তাই কোম্পানি কর্তৃপক্ষের জন্য নতুন কবরগুলো স্থানান্তর করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে ওয়ারেশদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে স্থানান্তরের কাজ করা ভালো।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; খানিয়া ১/১৯৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাল মারাকী ৩৩৭; শরহুল মুনইয়াহ ৬০৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ আলী - ৩/৬ পাটুয়াটুলী লেন, ঢাকা

১৫৯৩. প্রশ্ন

 

আমি একজন উলূমুল হাদীস অধ্যয়নরত ছাত্র। আমি কিছু দ্বীনী কিতাবে নখ কাটার তারতীবের মধ্যে সুন্নত আছে বলে পেয়েছি। এরপর উক্ত বিষয়ে আমি নিজে তাহকীক করি। কিন্তু কোনো স্পষ্ট হাদীস বা আছার পাইনি। এ সম্পর্কে কোনো দলীল-প্রমাণ থাকলে কিংবা উক্ত বিষয় সুন্নত কী না জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

 

 


 

 

উত্তর

হুফফায ও নুক্কাদে হাদীস যেহেতু দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, এ বিষয়ে কোনো কিছুই প্রমাণিত নেই; তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, এ বিষয়ে যা কিছু লোকমুখে প্রসিদ্ধ আছে  বা যা কিছু সনদ ও হাওয়ালাবিহীন আছে সবই ভিত্তিহীন। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত গবেষণার প্রয়োজন নেই। অতএব নখ কাটার কোনো মাসনুন তরীকা থাকলে তা শুধু এই যে, এ কাজটি ডানদিক থেকে শুরু করবে। হাদীস শরীফে এসেছে- 

كان النبي صلى الله عليه وسلم يعجبه التيمن في تنعله وترجله وطهوره وفي شانه كله


সহীহ বুখারী ১/২৯; মুসনাদে আহমদ ১৭/৬২২; সুনানে বায়হাকী ১/৮৬; শরহুল মুহাযযাব ১/৩৩৯; ফাতহুল বারী ১০/৩৫৭; উমদাতুল কারী ২২/৪৫; ফাতহুল মুলহিম ১/৪১৯; আলমাসনূ’ ফী মারেফাতিল হাদীসিল মাওযূ’ পৃ. ১৩০; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১০৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪০৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তোফাজ্জল - উত্তরা, ঢাকা

১৫৯২. প্রশ্ন

আমি একটি এনজিওতে কর্মসূচি সংগঠক পদে চাকরি করছি। এই চাকরির উপর আমার পরিবার নির্ভরশীল। আমার কাজ হল, মানুষের মাঝে টাকা ঋণ দেওয়া এবং সে টাকা কিছু বেশিতে আদায় করা। যেমন কাউকে ৫,০০০/-টাকা ঋণ দিলে তার কাছ থেকে কিস্তির মাধ্যমে ৬,০০০/- টাকা আদায় করা হয়। আর এ কাজের জন্য আমাকে মাসিক ৭,০০০/-টাকা বেতন দেওয়া হয়। আমার প্রশ্ন হল, এ বেতন ও এই ধরনের চাকরি কি বৈধ হবে? এ টাকা দিয়ে জীবন ধারণ করে ইবাদত করলে তা কি গ্রহণযোগ্য হবে?

  

উত্তর

আপনি যে পন্থায় লেনদেন করে থাকেন তা সুদেরই একটি প্রকার। আর সুদ হচ্ছে নিকৃষ্টতম হারাম। তাই এ পদে চাকরি করা জায়েয হবে না এবং এর বেতন ভোগ করাও নাজায়েয। অতএব যত দ্রুত সম্ভব আপনাকে উপার্জনের কোনো বৈধ পন্থা খুঁজে বের করতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

-সূরা বাকারা : ২৭৫; সহীহ বুখারী ১/২৮০; সুনানে আবু দাউদ ২/১১৭; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬৬; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ১/৬১৯; বুহুছ ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআছিরা ১/৩৩৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান - খুলনা

১৫৯১. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের বাড়িতে একটি ব্যক্তিগত পুরাতন কবরস্থান রয়েছে। তাতে ১০ থেকে ৩০ বছরের পুরানো কবর আছে। এখন আমি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করতে চাচ্ছি। এটি ছাড়া বাড়ি করার উপযোগী আর কোনো স্থান নেই। জানার বিষয় হল, সে স্থানে বাড়ি করতে শরীয়তের কোনো নিষেধ আছে কি না?

 


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ কবরস্থানটি যেহেতু অধিক পুরাতন এবং আপনাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন তাই কবরগুলো সমান করে দিয়ে তাতে বাড়ি নির্মাণ করা জায়েয হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৮

শেয়ার লিংক

তাহিয়া তাসকীন - ময়মনসিংহ

১৫৯০. প্রশ্ন

কিছুদিন পূর্বে আমি ভীষণ অসুস্থ থাকার কারণে দুদিন পর্যন্ত ফরয-ওয়াজিব নামায ব্যতিত কোনো সুন্নত নামায আদায় করতে পারিনি। এখন আমি সুস্থ, কিন্তু সুন্নত পরিত্যাগের কারণে খুব খারাপ লাগছে। জানতে চাই, এর ক্ষতিপূরণের কোনো উপায় আছে কি?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ছুটে যাওয়া সুন্নত নামাযগুলো আদায় করতে হবে না। আর অসুস্থতার সময় সুন্নত না পড়ার কারণে কোনো গুনাহ হবে না; বরং হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী সুস্থতার সময় যত আমল করা হত অসুস্থতার কারণে উক্ত আমল ছুটে গেলেও আল্লাহ তাআলা  সুস্থতার আমলের পরিমাণ সওয়াব দান করবেন। তাই এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়ার প্রয়োজন নেই।

-সহীহ বুখারী ১/৪২০; ফাতহুল বারী ৬/১৫৯; উমদাতুল কারী ১৪/৩৪৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১২; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৯৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সানাউল্লাহ - ধুনট, বগুড়া

১৫৮৯. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মৃতের রূহের মাগফিরাত কামনার উদ্দেশ্যে তিন, সাত, একুশ ও চল্লিশ ইত্যাদি তারিখে কুরআন খতম, মিলাদ ও দুআর অনুষ্ঠান করা হয় এবং জাঁক-জমকের সাথে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়, যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে বোঝা যায় না যে, রূহের মাগফিরাত না, বিবাহর অনুষ্ঠান। এ ধরনের অনুষ্ঠানে আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, গ্রামবাসী ও এলাকার বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিবর্গ, যেমন চেয়ারম্যান, মেম্বার, মাতবর, পার্টির নেতাসহ সবাইকে দাওয়াত করা হয়। এমনকি অনুষ্ঠানের দিন-ক্ষণ পর্যন্ত দৈনিক পত্রিকায় ঘোষণা করা হয়। যা আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় তামদারী, মজলিস, বেপার, ফয়তা, মিদুনী ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। যে এলাকাতে যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, উদ্দেশ্যে অভিন্ন।

একশ্রেণীর আলেম এ ধরনের অনুষ্ঠান যথারীতি করে যাচ্ছেন। আরেক শ্রেণীর আলেম এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। ভালো মন্দ কিছুই বলেন না। আরেক শ্রেণীর আলেম এই অনুষ্ঠানগুলোকে বিদআত ও নাজায়েয বলে থাকেন। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। কোনটা সহীহ আর কোনটা ভুল তা পার্থক্য করতে পারছে না। এখন প্রশ্ন এই যে, এই পদ্ধতি শরীয়তসম্মত কি না। সহীহ পদ্ধতি কোনটা তা জানালে আমরা বিভ্রান্তির বেড়াজাল হতে বের হয়ে সেভাবে আমল করার জন্য সচেষ্ট থাকব।



উত্তর

মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের জন্য দুআ করা এবং বিভিন্ন নফল ইবাদত যেমন-দান-সদকা, তাসবীহ-তাহলীল, তেলাওয়াত ইত্যাদি করে তার সওয়াব মৃতকে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল, যা হাদীস শরীফের বহু দলীল দ্বারা প্রমাণিত। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত আমল। কোনো দিন-তারিখ ও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই যখন ইচ্ছা তখনই এ আমল করা যায়।

কিন্তু বর্তমানে এই সহজ আমলটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দান করে অনেক ক্ষেত্রেই তাকে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের কাজে রূপান্তর করা হয়ে থাকে। যেমন-

১. তিন দিনা, সাত দিনা,একইশা, চল্লিশা এ সকল নামে এ অনুষ্ঠান যথাক্রমে মৃত্যুর ৩য়, ৭ম, ২১ শ ও ৪০ তম তারিখে করাকে জরুরি মনে করা হয় বা কমপক্ষে এরূপ ধারণা রাখা হয় যে, এ তারিখগুলোর বিশেষত্ব রয়েছে। অথচ শরয়ী দলীল-প্রমাণ ছাড়া বিশেষ দিন-তারিখ নির্ধারণ করে নেওয়া বিদআত ও নাজায়েয।

২. ঈসালে সাওয়াবের প্রচলিত পন্থায় আরেকটি বড় আপত্তিকর দিক হল এতে যিয়াফত তথা আড়ম্বরপূর্ণ দাওয়াত অনুষ্ঠানকেই ঈসালে সওয়াবের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। অথচ শরীয়র্তে যিয়াফতের আয়োজনের কথা তো আছে আনন্দের মুহূতে, মুসিবতের মুহূর্তে নয়। হাদীস শরীফে এসেছে-হযরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ আলবাজালী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (তরজমা) আমরা (সাহাবাগণ) দাফনের পর মৃতকে কেন্দ্র করে সমবেত হওয়া ও খাবারের আয়োজন করাকে নিয়াহা বলে গণ্য করতাম। (মুসনাদে আহমদ ২/২০৪; ইবনে মাজাহ ১৬১২)

কোনো দিন-তারিখ নির্ধারিত না করে গরীব-মিসকীনদেরকে খানা খাওয়ানোটাও ঈসালে সাওয়াবের একটি বৈধ পন্থা। কিন্তু এমন যিয়াফতের আয়োজন করা যাতে অনেক ক্ষেত্রে সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরকে  প্রাধান্য দেওয়া হয় এটি আদৌ ঈসালে সাওয়াবের গ্রহণযোগ্য পন্থা নয়।

৩. হাফেযদের দ্বারা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরআন খতম করা হয়। অথচ এক্ষেত্রে কুরআন পড়ার বিনিময় দেওয়া-নেওয়া নাজায়েয।

৪. অনেক ক্ষেত্রেই এর ব্যয়ভার নির্বাহ করা হয় মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া এজমালী সম্পদ থেকে, ওয়ারিশদের মাঝে কোনো নাবালেগ থাকলেও তার সম্পদ বাদ দেওয়া হয় না। অথচ নাবালেগের সম্পদ তার অনুমতি নিয়েও খরচ করা নাজায়েয। এমনিভাবে বালেগ ওয়ারিশদের ক্ষেত্রেও এটা লক্ষ রাখা হয় না যে, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি আছে কি না।

৫. এ ধরনের অনুষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই লোক দেখানোর জন্য বা সামাজিক রেওয়াজে প্রভাবিত হয়ে করা হয়। এটাও নাজায়েয। শরীয়ত বিরোধী এ জাতীয় আরো কর্মকান্ড এসব অনুষ্ঠানে হয়ে থাকে। ফলে এর দ্বারা মৃত ব্যক্তির উপকার হওয়া তো দূরের কথা উল্টো ব্যবস্থাকারীগণ গুনাহগার হয়ে থাকে।

সুতরাং ঈসালে সাওয়াবের প্রশ্নোক্ত পন্থা সম্পূর্ণরূপে পরিহারযোগ্য। মৃতের মাগফিরাত কামনা ও তাকে সাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগতভাবে দান-সদকা, তেলাওয়াত, যিকির-আযকার ও নফল ইবাদতই যথেষ্ট এবং এটাই করণীয়। আর নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখের অপেক্ষা না করে নিজ নিজ তাওফীক অনুযায়ী এগুলো মাঝে মধ্যেই করা দরকার। দান-সদকা করার ক্ষেত্রে গরীব দুঃখীদেরকে নগদে প্রদান করা ভালো এবং সদকায়ে জারিয়া হয় এমন খাতে ব্যয় করা উত্তম।

-মুসনাদে আহমদ ২/২০৪; ইবনে মাজাহ পৃ. ১১৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/১৭০; শিফাউল আলীল ১/১৭৫; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ১/৮১; রদ্দুল মুহতার ২/২৪০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রবিউল ইসলাম - মগবাজার

১৫৮৮. প্রশ্ন

আমার হজ্ব করার খুবই শখ কিন্তু হজ্ব করার মতো টাকা নেই। তাই আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে টাকা করয করে হজ্ব আদায় করি। টাকাগুলো কয়েক বছরে আদায় করে ফেলি। বর্তমানে আমার আর্থিক অবস্থা খুব ভালো যে, আমি হজ্ব করতে পারি।

মাননীয় মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই যে, আমার অস্বচ্ছল অবস্থায় আদায়কৃত হজ্ব ফরয হজ্ব হিসাবে আদায় হয়েছে কি? স্বচ্ছল অবস্থায় কি পুনরায় হজ্ব করতে হবে?

 


উত্তর

অস্বচ্ছল অবস্থায় আদায়কৃত হজ্বটি ফরয হজ্ব হিসাবেই আদায় হয়েছে। এখন হজ্ব করলে তা নফল হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৪; মানাসিকে মোল্লা আলী পৃ. ৪২; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ৩২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মনজুর আহমদ - বিক্রমপুর

১৫৮৭. প্রশ্ন

আমাদের বাড়ি থেকে জামে মসজিদ কিছুটা দূরে। সেখানে ইতিকাফে বসলে খানা আনা-নেওয়ার সমস্যা। তাই বাড়ি সংলগ্ন একটি পাঞ্জেগানা নামায-ঘরে ইতিকাফে বসতে চাই। এ নামায-ঘরটি আমাদের জায়গায়। মসজিদ দূরে হওয়ার কারণে আমার বাবা অস্থায়ী নামাযের ব্যবস্থা করেছেন। এখানে ইতিকাফে বসলে ইতিকাফ সহীহ হবে কি?


উত্তর

পুরুষের ইতিকাফ সহীহ হওয়ার জন্য শরয়ী মসজিদ হওয়া জরুরি। নামায-ঘরে ইতিকাফ সহীহ হবে না। তাই ইতিকাফে বসতে চাইলে মসজিদেই বসতে হবে। খানা আনা-নেওয়ার জন্য কেউ না থাকলে ইতিকাফ অবস্থায় খানা নেওয়ার জন্য বাড়ি যেতে পারবেন। তবে খানা নিয়ে দ্রুত মসজিদে ফিরে যেতে হবে। বাইরে বিলম্ব করা যাবে না।

-সূরা বাকারা ১৮৭; সুনানে আবু দাউদ ৩৩৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১১; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শামুসল ইসলাম - কুষ্টিয়া

১৫৮৬. প্রশ্ন

আমি আমার বাবা-মার সাথে হজ্ব করেছি। তখন আমি নাবালেগ ছিলাম, আমার বয়স নয় বছর ছিল। বর্তমানে বড় হয়েছি এবং হজ্ব করার মতো আর্থিক সঙ্গতিও আছে। জানিয়ে বাধিত করবেন যে, নাবালেগ অবস্থায় আদায়কৃত হজ্বটি ফরয হিসাবে গণ্য হয়েছে কি?

 


উত্তর

নাবালেগ অবস্থায় আদায়কৃত হজ্বটি নফল হয়েছে। তা দ্বারা আপনার ফরয হজ্ব আদায় হয়নি। তাই আপনাকে এখন ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে।

-মানাসিকে মুল্লা আলী পৃ. ৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৫; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ১৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কাউসার - কচুয়া, চাদপুর

১৫৮৫. প্রশ্ন

আমাদের দেশে অনেক সময় ফুটপাত বা নিম্ন মানের দোকানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে পণ্যের দরকষাকষি হয়। ক্রেতা একটি দাম বলে কিন্তু দেখা যায় যে, ক্রেতা তার কাঙ্খিত দামে পণ্যটি না পেয়ে সেখান থেকে চলে আসে। কিছু দূরে আসার পর বিক্রেতা ঐ দামেই পণ্যটি নেওয়ার জন্য ক্রেতাকে ডাকতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা ফিরে না আসলে তাকে বকাবকি পর্যন্ত করে থাকে। আমার প্রশ্ন হল, এরূপ ক্ষেত্রে শরীয়তের দৃষ্টিতে ক্রেতা ওই পণ্যটি ক্রয় করতে বাধ্য কি না? এবং ক্রয় না করলে সে ভৎর্সনার যোগ্য হবে কি না?

 


উত্তর

ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একপক্ষ পণ্যের মূল্য প্রস্তাব করার পর অপর পক্ষ তাতে সম্মত না হলে ঐ প্রস্তাব বাতিল  হয়ে যায়। তদ্রূপ একপক্ষ মূল্য প্রস্তাবের পর অপর পক্ষ সম্মত হওয়ার পূর্বে দুজনের কেউ প্রস্থান করলে বা অস্বীকৃতি জানালেও ঐ প্রস্তাব বাতিল গণ্য হয়।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের উভয় দিক পাওয়া গেছে। তাই ক্রেতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়ে গেছে। ফলে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়নি। সুতরাং পরবর্তীতে বিক্রেতা ঐ মূল্যে বিক্রির জন্য রাজি হওয়াটা তার পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাব বলে বিবেচিত হবে। অতএব এখন ক্রেতা ঐ মূল্যে পণ্যটি ক্রয় করতে বাধ্য নয়; বরং এক্ষেত্রে সে পূর্ণ স্বাধীন। ঐ মূল্যে সে ক্রয় করতেও পারে এবং নাও করতে পারে। ক্রয় না করলে তাকে ভৎর্সনা করা বকাবকি করা অন্যায় হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩২৪; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৭২; হিদায়া ২/২৩; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫২৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম - ঢাকা

১৫৮৪. প্রশ্ন

আমি হজ্বের এহরাম অবস্থায় একদিন পায়ের গোছা খুব চুলকাই। এতে আমার ৬/৭টি পশম পড়ে যায়। জানতে চাই যে, এতে কি আমার কোনো কাফফারা দিতে হবে? দিতে হলে তা কি দেশে দেওয়া যাবে?

 


উত্তর

উক্ত কারণে আপনার উপর একটি ফেতরা পরিমাণ খাদ্যশস্য বা তার মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। এই সদকা আপনি এখানেও আদায় করতে পারেন। তবে হরম এলাকায় দেওয়া উত্তম।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৪২২; মানাসিকে মুল্লা আলী পৃ. ৩২৭; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ২৬৩,২৫৬

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement