মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ - নেত্রকোণা

১৬৩৯. প্রশ্ন

রোযা রাখা অবস্থায় গোসল করতে গিয়ে আমার কানে পানি ঢুকে গেছে। এতে আমার রোযার কোনো সমস্যা হয়েছে কি? দয়া করে জানাবেন।

 

উত্তর

রোযা অবস্থায় কানের ভেতর পানি গেলে রোযার ক্ষতি হয় না। তাই আপনার ঐ রোযা আদায় হয়ে গেছে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রহিমা খাতুন - বরিশাল

১৬৩৮. প্রশ্ন

আমার স্বামী মৃত্যুশয্যায় শায়িত। আমি সবসময় তার খেদমতে নিয়োজিত। এখন আমার একান্ত ইচ্ছা, তার ইন্তিকালের পর তাকে নিজ হাতে গোসল দিব। আমি জানতে চাই, আমার জন্য এটা জায়েয হবে কি?

 

উত্তর

হ্যাঁ, আপনার মৃত স্বামীকে আপনি গোসল দিতে পারবেন। বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তিকালের পর তার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস রা. তাকে গোসল দিয়েছিলেন। 

(মুআত্তা মালিক, পৃ: ১৭৯); সুনানে আবু দাউদ ৪/৩০, হাদীস : ৩১৩৩; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/২০৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৩; আলমাবসূত সারাখসী ২/৬৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৪; রদ্দুল মুহতার ২/১৯৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রশীদ আহমদ - সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা

১৬৩৭. প্রশ্ন

আমার বন্ধু সাঈদ। তার বাড়ি কুমিল্লা লাকসাম। সে চট্টগ্রামে এক ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করে। বাড়ি থেকে ঐ কোম্পানির দূরত্ব প্রায় দুইশত কিলোমিটার। তাই ওখানে অস্থায়ীভাবে একটি বাড়ি নির্মাণ করে এবং সেখানে সাত, আট দিন থাকার নিয়তে কুমিল্লা থেকে বের হয় এবং সাত আট দিন থাকার পর পরই কুমিল্লায় ফিরে আসে। এখন জানতে চাই, ঐ বাড়িতে থাকা অবস্থায় সে কি মুকীম হবে, নাকি মুসাফির? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। উল্লেখ্য, ঐ বাড়িতে সে একাই থাকে।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার বন্ধু চট্টগ্রামের ঐ বাড়িতে এক নাগাড়ে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত মুসাফির থাকবে। সুতরাং একবার যদি তিনি সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করেন তাহলে পরবর্তীতে ঐ এলাকার বসবাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত অল্প সময়ের জন্যও সেখানে গেলে মুকীম গণ্য হবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৮, ১/১৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; মাজমাউল আনহুর ১/২৪৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - মিরপুর, ঢাকা

১৬৩৬. প্রশ্ন

আমি প্রায় দুই সপ্তাহ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম। জ্বরের তীব্রতায় কয়েক ওয়াক্ত নামায বসে আদায় করেছি। মাঝে একদিন শরীর হালকা লাগছিল তাই দাঁড়িয়ে নামায শুরু করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ক্লান্তি ও চোখে অন্ধকার বোধ করায় অর্ধেক নামায বসে আদায় করি। এভাবে আমার নামায আদায় হয়েছে কি?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর বাকি নামায বসে পড়ার কারণে নামাযের কোনো ক্ষতি হয়নি। কেননা দাঁড়িয়ে নামায পড়া অধিক কষ্টকর হলে বসে নামায পড়া জায়েয। এমনকি নামাযের মাঝে দাঁড়ানো কষ্টকর হয়ে গেলেও অবশিষ্ট নামায বসে আদায় করা জায়েয।

-সহীহ বুখারী ১/১৫০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৬; মাবসূত, সারাখসী ১/২১৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহবুবুর রশীদ - ৩৬ পূর্ব কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

১৬৩৫. প্রশ্ন

মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে আমাদের অফিসেই জামাতের সাথে নামায আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আযান না দিয়ে অফিসে জামাতের সাথে নামায আদায় করা সহীহ হবে কি?

 

উত্তর

বাসা বা অফিসে জামাতের জন্য মহল্লার মসজিদের আযানই যথেষ্ট। তাই অফিসে আযান না দিয়েও জামাতে নামায পড়া যাবে। অবশ্য এক্ষেত্রেও আযান দেওয়া মুস্তাহাব।

উল্লেখ্য, ছাতার ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ বৃষ্টির কারণে মসজিদের জামাত ত্যাগ করা উচিত নয়। কেবল প্রবল বর্ষণের ক্ষেত্রেই মসজিদের জামাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি রয়েছে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/৩৫৯; মাবসূত, সারাখসী ১/১৩৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৮

শেয়ার লিংক

এম এ হান্নান ভুইয়া - ১০/এ-২ তল্লাবাগ, ঢাকা

১৬৩৪. প্রশ্ন

যোহর ও আসরের নামায কাযা হয়েছে। মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার ২/৩ মিনিট বাকি আছে। এক্ষেত্রে কোন ওয়াক্তের নামায আগে আদায় করবে?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি মাগরিব শেষ হতে মাত্র দুই তিন মিনিটই বাকি থাকে তাহলে মাগরিবের ফরয নামাযটি আগে আদায় করে নিবে। যেন মাগরিবের নামাযও কাযা না হয়ে যায়। এরপর যোহর ও আসরের কাযা নামাযগুলো পড়বে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৮২; শরহুল মুনয়াহ ৫৩০

শেয়ার লিংক

বিনতে ইহসান - নেত্রকোণা

১৬৩৩. প্রশ্ন

 

ঋতুস্রাব চলাকালে গিলাফ সহকারে বা অন্য কোনো পবিত্র কাপড় দিয়ে কুরআন মজীদ স্পর্শ করতে কোনো সমস্যা আছে কি? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

 

 

উত্তর

ঋতুকালে বা অপবিত্র অবস্থায় কুরআন মজীদ স্পর্শ করা নাজায়েয। হ্যাঁ, এ অবস্থায় কুরআন মজীদ ধরার প্রয়োজন হলে গিলাফ বা অন্য কোনো পবিত্র কাপড় দিয়ে ধরা যাবে। তবে পরিহিত বস্ত্রের আঁচল বা তার অন্য কোনো অংশ দ্বারা স্পর্শ করা উচিত নয়।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১/৪০২; রদ্দুল মুহতার ১/২৯৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম - দিনাজপুর

১৬৩২. প্রশ্ন

 

আমি কুরবানীর পশু খরিদ করার জন্য হাটে যাই। অসতর্কতাবশত একটি গরুর পায়ের নিচে পা পড়ে আমার পায়ের অগ্রভাগ মারাত্মক জখম হয়। ডাক্তার ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন। তিনি ব্যান্ডেজ খোলা ও সেখানে পানি লাগাতে নিষেধ করেছেন। এ অবস্থায় আমি কীভাবে অযু করব?

 

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অযু-গোসলের জন্য ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করবেন এবং পায়ের অবশিষ্ট সুস্থ অংশটুকু সম্ভব হলে অন্যান্য অঙ্গের ন্যায় ধুয়ে নিবেন। আর যদি তা ধুতে গেলে ব্যান্ডেজ ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে পায়ের এ অংশও মাসেহ করতে পারবেন।

-সুনানে বায়হাকী ১/২২৮; আলমুহীতুল বুরহানী ১/৩৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৯০; শরহুল মুনইয়া ১১৬-১১৭; আলবাহরুর রায়েক ১/১৮৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরিফ - ঢাকা

১৬৩১. প্রশ্ন

আমাদের বাড়িতে বালতিতে পানি রাখা থাকে। সাধারণত আমি বালতি থেকে বদনা বা মগ দিয়ে পানি নিয়ে অযু করি।  মাঝেমধ্যে তাড়াহুড়ার কারণে বা পাত্র না পাওয়ার কারণে বালতিতে ডান হাত (কব্জি পর্যন্ত) ডুবিয়ে পানি নিয়ে অযুর জন্য হাত ধুই। একদিন আমাকে এভাবে অযু করতে দেখে আমার এক আত্মীয় বললেন, পানিতে হাত ডুবানোর কারণে তো পানি মুস্তামাল ও ব্যবহৃত হয়ে গেল। সুতরাং সেই পানি দ্বারা তো আর অযু হবে না। প্রশ্ন হল, আমি এভাবে অযু করে যে নামাযগুলো আদায় করেছি সেগুলো দোহরাতে হবে কিনা। জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

পানি নেওয়ার জন্য কোনো পাত্রে হাত ঢুকালেই তা ব্যবহৃত হয়ে যায় না। তাই এক্ষেত্রে আপনার ঐ সকল অযু ও নামায সহীহ হয়েছে। অবশ্য এক্ষেত্রে প্রথমে ছোট কোনো পাত্র দিয়ে পানি নিয়ে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নেওয়া ভালো।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১/২৮০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৫; রদ্দুল মুহতার ১/১১২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহাদাত হুসাইন - চিটাগাং বিল্ডার্স মেশিনারী লি.

১৬৩০. প্রশ্ন

অনেক লোক আছে, যারা নামায পড়ে, নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবি করে এবং তাওহীদে বিশ্বাসী, তথাপি তারা মনে করে, বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট দূর করা ও কল্যাণ সাধনের ক্ষেত্রে পীর-বুযুর্গদের অনেক ক্ষমতা আছে। তাই তারা সরাসরি মৃত ও জীবিত পীরের নিকট প্রার্থনা করে, সাহায্য চায় এবং তাদের কাছে মুক্তি চায়। অথচ আমরা জানি, এ ধরনের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। সঠিক বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

কল্যাণ-অকল্যাণ, ভালো-মন্দ, উপকার-অপকার, দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ রাববুল আলামীন। তিনি ব্যতীত অন্য কারো এ ধরনের কোনো ক্ষমতা নেই। এর উপর ঈমান ও বিশ্বাস রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। তাই বিপদ-আপদ বা দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া বা কল্যাণ-অকল্যাণে সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে মুমিনের কর্তব্য হল, একমাত্র আল্লাহ রাববুল আলামীনের শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া। এগুলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে চাওয়া শিরক। কোনো পীর-বুযুর্গের নিকট বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি লাভের জন্য এ মর্মে প্রার্থনা করা যে, আপনি আমাকে অমুক বিপদ থেকে উদ্ধার করেন বা অমুক বিষয়ে সাহায্য করেন-এটা সম্পূর্ণ শিরকি ও কুফরী কাজ।

উপায়-উপকরণের উর্ধ্বের কোনো বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক ফিল ইসতিআনা, যা  اياك  نستعين এর অঙ্গীকার পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাযত করুন।

তবে যদি জীবিত কোনো হক্কানী পীর-বুযুর্গ বা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের নিকট এ মর্মে দুআ চাওয়া হয় যে, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করেন যেন আল্লাহ তাআলা আমাকে বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধার করে দেন এবং এক্ষেত্রে দুআপ্রার্থীর এ বিশ্বাস থাকে যে, তিনি আল্লাহর মাহবুব ও নৈকট্যভাজন বান্দা হিসেবে আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর  দুআ কবুল করবেন। তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। বরং এটি হাদীস ও সাহাবীগণের আমল দ্বারা প্রমাণিত।-ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ৬০-৬২

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাক, আমি তোমাদের দুআ কবুল করব।-সূরা মুমিন : ৬০

অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, বলে দাও, আমি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)  তোমাদের কোনো ক্ষতি করার এখতিয়ার রাখি না এবং কোনো উপকার করারও না।-সূরা জিন : ২১

অপর এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো কষ্ট দেন তবে এমন কেউ নেই তিনি ছাড়া, যে তা দূর করবে আর তিনি যদি তোমার কোনো মঙ্গলের ইচ্ছা করেন তবে এমন কেউ নেই, যে তার অনুগ্রহ রদ করবে। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। তিনি অতিক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।-সূরা ইউনুস : ১০৭

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সম্বোধন করে বলেছেন, হে বৎস! তুমি যদি ( কোনো কিছু) চাও তবে আল্লাহর নিকট চাও। আর যদি সাহায্য প্রার্থনা কর তবে আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর। জেনে রেখো, যদি সকল মানুষ সংঘবদ্ধভাবে তোমার উপকার করতে চায় তবে তারা ততটুকু উপকারই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর যদি তারা তোমার ক্ষতি সাধন করতে চায় তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৫১৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৬৬৯; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৬/১২৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ৩৭৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফিরোজ আহমদ - বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

১৬২৫. প্রশ্ন

জনৈকা মহিলা ইন্তেকালের সময় ওয়ারিশ বলতে শুধু দুজন ভাই ও একজন দুধ মেয়ে রেখে যান। আমাদের জানার বিষয় হল, দুধ মেয়ে ওয়ারিশ হিসেবে ঐ মহিলার কোনো সম্পত্তি পাবে কি না? কেউ বলছে পাবে আবার কেউ বলছে পাবে না। এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি।

 

উত্তর

দুধ সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজন মীরাস পায় না। তাই দুধ মেয়ে উক্ত মৃতের রেখে যাওয়া সম্পদের কোনো হিস্যা পাবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২৮৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/৪৮৮; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/৩৭০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৬২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খালেদ - পীরেরবাগ, ঢাকা

১৬২৪. প্রশ্ন

ঢাকা শহর ও তার আশপাশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানোর জন্য আমরা একটি মাইক্রোবাস ভাড়া নিই। চুক্তি ছিল, তেলখরচ ছাড়াও গাড়ির মালিককে এক দিনের জন্য ১৫,০০/- টাকা ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু বিশেষ কারণে আমরা যেতে পারিনি। গাড়িটি বিকেল পর্যন্ত আমাদের বাসার সামনে অপেক্ষায় ছিল। আমাদের না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গাড়িটি ফেরত যায়। জানতে চাই, এখন আমাদের কি ব্যবহার না করা সত্ত্বেও এর নির্ধারিত ভাড়া আদায় করতে হবে?

 


উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গাড়িটি ব্যবহার না হলেও চুক্তিকৃত ১৫,০০/- টাকাই আদায় করতে হবে। তবে যেহেতু গাড়ি ব্যবহার হয়নি তাই তেল খরচ দিতে হবে না।

-আলআশবাহ ওয়াননাযাইর পৃ. ৩২০; শরহুল মাজাল্লাহ খালিদ আতাসী ২/৫৫৪; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩৭১; মাজাল্লাহ পৃ. ৮৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/১১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খালেদ সাইফুল্লাহ - পল্লবী, ঢাকা

১৬২৩. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে যে, শীতকালে গাছিরা খেজুর গাছ ভাড়া নেয়। পুরো শীত মৌসুমে খেজুরের রস বিক্রি করে যে টাকা আয় হয় তা থেকে তারা মালিকের ভাড়া পরিশোধ করে। প্রশ্ন হল, উক্ত কারবারটি শরীয়তের দৃষ্টিতে সহীহ কি না?

 


উত্তর

রসের উদ্দেশ্যে খেজুর গাছ ভাড়া দেওয়া-নেওয়া জায়েয নয়। উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত কারবারটি শরীয়তসম্মতভাবে করতে চাইলে এভাবে করতে পারবে যে, গাছি গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে দিবে এবং তা বিক্রি করে দিবে আর তার পরিশ্রমের বিনিময়ে সে মালিক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক নিবে। এক্ষেত্রে রস বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যাবে তা পাবে গাছের মালিক।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - মিরপুর, ঢাকা

১৬২২. প্রশ্ন

আমি একবার জামাতে নামায আদায় করতে গিয়ে মাসবুক হলাম। ইমাম সাহেব নামায শেষে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা দিলেন। কিন্তু তিনি যে সাহু সিজদা দিবেন এটা বুঝতে না পারার কারণে তার সালাম ফিরানোর সাথে সাথেই আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বাকি নামায আদায় করতে লাগলাম। পরে তার সিজদা দেওয়া দেখেও আমি আর সিজদা দেইনি। তবে নামায শেষে সাহু সিজদা দিয়েছি। আমার নামায হয়েছে কি? এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী ছিল?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নামায শেষে সাহু সিজদা করার কারণে আপনার নামায আদায় হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে (অর্থাৎ ছুটে যাওয়া নামায আদায়ের জন্য দাড়ানোর পর যখন ইমামকে সাহু সিজদা করতে দেখলেন তখন) আপনার উচিত ছিল ফিরে এসে ইমামের সাথে সিজদা করা এবং ইমামের সালামের পর অবশিষ্ট নামায যথানিয়মে আদায় করা। উল্লেখ্য, ইমামের উভয় দিকে সালাম ফিরানো শেষ হওয়ার পর মাসবুক ছুটে যাওয়া রাকাতের জন্য দাঁড়াবে। এটাই উত্তম নিয়ম।

-কিতাবুল আসল ১/২৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯২; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ১/৬৩; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৬৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৭৪২; মাজমাউল আনহুর ১/২২২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - রাজশাহী

১৬২১. প্রশ্ন

 

জনৈক ব্যক্তি আসরের নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর চুপ থেকে ভাবতে লাগল যে, কোন সূরা পড়বে। ভাবতে ভাবতে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় কেটে গেল। তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে কি? সাহু সিজদা না দিয়ে থাকলে তার করণীয় কী?

 


 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তিন তাসবীহ পরিমাণ চুপ থাকার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। সুতরাং সাহু সিজদা না দিয়ে থাকলে ঐ নামায পুনরায় পড়তে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০২; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৩৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৭৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৯৩ ও ১/৪৫৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খালেদ - কেরানিগঞ্জ, ঢাকা

১৬২০. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি বিতর নামাযে দ্বিতীয় রাকাতের পরে ভুলবশত বৈঠক করেনি। আবার তৃতীয় রাকাতে দোয়ায়ে কুনূতও পড়তে ভুলে যায় এবং শেষে সাহু সিজদা করেছে। জানতে চাই, তার বিতর নামায সহীহ হয়েছে কি না? তা কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

 


উত্তর

ঐ বিতর নামায সহীহ হয়েছে। পুনরায় পড়া লাগবে না। কারণ ভুলে একাধিক ওয়াজিব ছুটে গেলেও সবগুলোর জন্য একটি সাহু সিজদাই যথেষ্ট। এক নামাযে একাধিক সাহু সিজদা দেওয়ার বিধান নেই।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭-২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৪৭ ও ১/৭৪১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩০০ ও ২/৯২,৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৬৫-৬৮; আলমুগনী ইবনে কুদামা ২/৪৩৭; আলমাবসূত সারাখসী ১/২২৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল গাফফার - বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ

১৬১৯. প্রশ্ন

আমি একদিন মাগরিবের নামাযে  প্রথম রাকাতে সূরা ইখলাছ ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফীল পড়েছি। আমার নামায সহীহ হয়েছে কি? না হলে কী করতে হবে?

 


উত্তর

আপনার নামায সহীহ হয়েছে। তবে ফরয নামাযে ইচ্ছাকৃতভাবে সূরার ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ করা অনুত্তম। অবশ্য ভুলবশত হলে ক্ষতি নেই।

-শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৯৪; ফাতহুল কাদীর ১/২৯৯; আলমুগনী ২/১৬৯; ইলাউস সুনান ৪/১৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬-৫৪৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবুল বাশার শিকদার - মোড়েলগঞ্জ, বাগেরহাট

১৬১৮. প্রশ্ন

 

আমি একজন ড্রাইভার। ঢাকায় থাকি। কিন্তু দৈনিক গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া করতে হয়। সেখানে নামায কসর পড়ব না পূর্ণ পড়ব? উল্লেখ্য, সেখানে আমার থাকার নির্ধারিত স্থান নেই। হোটেলে থাকি।

 


 

উত্তর

চট্টগ্রাম সফরকালে পথিমধ্যে আপনি মুসাফির  গণ্য হবেন।  আর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে এক এলাকায় ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত না থাকলে সেখানেও মুসাফির হিসাবে নামায কসর করবেন।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর

১৬১৭. প্রশ্ন

 

এক ব্যক্তি মাগরিবের ফরযের মধ্যে এক রাকাতে সূরা কুরাইশ ও সূরা মাউন পড়েছে এবং মাঝে বিসমিল্লাহও পড়েছে। এভাবে এক রাকাতে একাধিক সূরা পড়লে কোনো সমস্যা আছে কি না?

 


 

উত্তর

একই রাকাতে পর পর দুই বা ততোধিক সূরা পড়লে নামাযের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে ফরয নামাযে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটা না করাই ভালো।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৭; আননাহরুল ফায়েক ১/২৩৭; তাতারখানিয়া ১/৪৫২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাকিল খান - ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

১৬১৬. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার খতীব খুতবা ছাড়াই জুমার নামায পড়িয়েছেন। জানতে চাই,এ জুমার নামায আদায় হয়েছে কি না এবং জুমার দিন খুতবা পড়ার কী হুকুম?

 


উত্তর

জুমার নামায সহীহ হওয়ার জন্য খুতবা অন্যতম শর্ত। খুতবা ব্যতীত জুমার নামায আদায় হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে জুমার নামায আদায় হয়নি। সকলকে ঐ দিনের যোহরের নামায কাযা করে নিতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৪৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮২; মাজমাউল আনহুর ১/২৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আম্মার হুসাইন - কটিয়াদি, কিশোরগঞ্জ

১৬১৫. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি বাস থেকে পড়ে কপালে খুব আঘাত পেয়েছে, তাই সে কপালের উপর সিজদা করতে সক্ষম নয়। সে নাকের উপর সিজদা করে। জানতে চাই, ঐ ব্যক্তির নাকের উপর সিজদা করার কারণে তার নামায হয়েছে কি না?

 


উত্তর

সিজদায় কপাল এবং নাক রাখা জরুরি। কোনো ওযরের কারণে সিজদায় কপাল জমিনে রাখা সম্ভব না হলে শুধু নাক দ্বারা সিজদা করা জায়েয। প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ ব্যক্তি যেহেতু কপাল রাখতে সক্ষম নয় তাই তার জন্য শুধু নাকের উপর সিজদা করা জায়েয হয়েছে এবং তার নামায সহীহ হয়েছে।

-আলমাবসূত সারাখসী ১/২১৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩৫; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ২৮৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - বাগেরহাট, খুলনা

১৬১৪. প্রশ্ন

আমার বাড়ি কুমিল্লা। সেখানে আববা, আম্মাসহ পরিবারের অন্যরা থাকে। আমি ঢাকায় মাদরাসায় পড়ি। সেখানে আমার থাকা-খাওয়ার পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে। যেহেতু ঢাকায় পনেরো দিনের বেশি থাকা হয় তাই ওয়াতনে ইকামত হিসাবে পূর্ণ নামায পড়ি। মাঝেমধ্যে কিছু দিনের জন্য কুমিল্লায় যাওয়া হয় এবং কয়েক দিন সেখানে থাকি। জানার বিষয় হল, কুমিল্লায় যাওয়ার কারণে ঢাকার ওয়াতনে ইকামত বাতিল হয়ে যায় কি না? আর পনেরো দিনের কম থাকার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা হলে নামায কসর করব কি না?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কুমিল্লায় সাময়িক সময়ের জন্য যাওয়ার কারণে ঢাকার ওয়াতনে ইকামত বাতিল হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত ঢাকা পরিপূর্ণ ত্যাগ করার নিয়তে মালপত্র নিয়ে যাওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঢাকা ওয়াতনে ইকামত হিসেবে বহাল থাকবে।

আর ঢাকা যেহেতু ওয়াতনে ইকামত হিসাবে বহাল থাকছে তাই এখানে পনেরো দিনের কম থাকার উদ্দেশ্যে আসা হলেও পুরো নামায পড়তে হবে। কসর করা যাবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; মাজমাউল আনহুর ১/২৪৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু সাদেক নূর - বসুন্ধরা, ঢাকা

১৬১৩. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন একদিন ফজরের নামাযের সময় হয়েছে ভেবে আযান দিয়ে দেয়। পরবর্তীতেও স্থির করা যায়নি যে, আযান সময়মতো দেওয়া হয়েছে না পরে। তবে আগে হয়েছে বলেই প্রবল ধারণা। এরপর আমরা ফজরের ওয়াক্তের মধ্যে ঐ আযান দ্বারা নামায আদায় করি।  আমাদের নামায সহীহ হয়েছে কি না?

 


উত্তর

ওয়াক্তের পূর্বে আযান দিলে আযান সহীহ হয় না। প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনাদের আযান হয়নি। এক্ষেত্রে ওয়াক্ত হওয়ার পর আবার আযান দেওয়া উচিত ছিল। আযান না দেওয়ার কারণে মাকরূহ হয়েছে। অবশ্য আযান ছাড়া ফরয নামায পড়লেও যেহেতু নামায হয়ে যায় তাই আপনাদের ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে। 

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫২২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮১; মাবসূত সারাখসী ১/১৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৮৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরমান - খিলগাও, ঢাকা

১৬১২. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি যোহরের নামায আদায় করেন। সালাম ফিরানোর পর তার পাশে নামায আদায়কারী ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি তিন রাকাত পড়েছেন। তখন তিনি বললেন, না। আমি চার রাকাতই পড়েছি। নিজের কথার উপর এখনও অসুস্থ। জানতে চাই, তিনি এখন নিজের উপর ভরসা করবেন, নাকি ঐ ব্যক্তির কথা অনুযায়ী আমল করবেন?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির কথা শোনার পরও যদি নিজের কথা অর্থাৎ চার রাকাত পড়া হয়েছে-এ ধারণাই প্রবল থাকে তাহলে নামায পরিপূর্ণ হয়েছে বলেই গণ্য হবে। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির কথা ধর্তব্য হবে না এবং তদনুযায়ী আমল করাও জরুরি হবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; হাশিয়াতুত্ত্বাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ২৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - উত্তরা, ঢাকা

১৬১১. প্রশ্ন

আমার কয়েক রাকাত তারাবীর নামায ছুটে যায়। ছুটে যাওয়া রাকাতগুলি ইমামের সাথে বিতর আদায়ের পর পড়ে নিয়েছি। কিন্তু আমার জানা নেই যে, ছুটে যাওয়া তারাবীর নামাযগুলো বিতরের আগে পড়তে হয় না পরে পড়তে হয়। সুতরাং আমার জানার বিষয় হল, আমার নামায সহীহ হয়েছে কী?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় বিতর নামায জামাতে পড়ার পর ছুটে যাওয়া তারাবী পড়া নিয়মসম্মতই হয়েছে এবং পরবর্তী তারাবীগুলোও সহীহ হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যদিও বিতর নামায তারাবীর পরে পড়াই উত্তম; কিন্তু এক্ষেত্রে জামাতের সাথে বিতর পড়ার স্বার্থে তারাবির বাকি অংশ বিতরের পরে পড়ে নেওয়া ঠিকই হয়েছে।

- হিদায়া ১/১৫১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৫; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ১/২৯; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪০৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭, বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৫২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হুসাইন আহমদ - কাপাসিয়া, গাজীপুর

১৬১০. প্রশ্ন

আমি ইটের ব্যবসা করি। ইটের ভাটা আছে। জানতে চাই, ভাটার যাকাত আদায় করব কীভাবে? কিছু ইট কাঁচা কিছু ইট ভাটায় পুড়ছে আর কিছু পরিপূর্ণ ইট। আবার মাটিও কিনে রাখি। লাকড়ি ও কয়লার স্টক থাকে। এগুলোর উপর যাকাত দিতে হবে কি না? দিলে কী উপায়ে।

 


উত্তর

কাঁচা, পাকা ইট এবং যে ইট পুড়ছে এগুলোর যাকাত দিতে হবে। তদ্রূপ ইট তৈরির জন্য যে মাটির মজুদ রাখা হয়েছে তারও যাকাত দিতে হবে। এসব কিছু পাইকারী বিক্রি করে দিলে যে দাম পাওয়া যায় সে হিসেবে যাকাত দিবে।

আর ভাটার জ্বালানী হিসাবে যে কয়লা বা লাকড়ির স্টক থাকবে তার যাকাত দিতে হবে না।

-হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৪০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২, ১৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৮; আননাহরুল ফায়েক ১/৪৩৯; ফাতহুল কাদীর ২/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৫

শেয়ার লিংক

আরমান - নান্দাইল, ময়মনসিংহ

১৬০৯. প্রশ্ন

আমার পিতা বার্ধক্যের দরুণ রোযা রাখার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। জানতে চাই, তার ফিদয়া আদায় করতে হবে কি না? আমার পিতার উপর যাকাত ফরয নয়। তিনি খুব একটা স্বচ্ছল নন। এ অবস্থায় কি তাকে ফিদয়া আদায় করতে হবে? এক রোযার ফিদয়া একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া জায়েয হবে কি না?

 


উত্তর

হ্যাঁ, তাকে রমযানের প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে ফিদয়া আদায় করতে হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- (তরজমা) আর যাদের রোযা রাখার সামর্থ্য নেই তারা একজন মিসকীনের খানা সমপরিমাণ ফিদয়া দিবে। (সূরা বাকারা : ১৮৪)

এমন ব্যক্তির উপর যাকাত ফরয না হলেও ফিদয়া দিতে হবে। কারণ ফিদয়া দেওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা জরুরি নয়। আর এক রোযার ফিদয়া একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া যায়। তবে একজনকে দেওয়া উত্তম।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪২৭

শেয়ার লিংক

মাওলানা আবুল কালাম - গাজিপুর

১৬০৮. প্রশ্ন

 

একব্যক্তি দরিদ্র লোককে যাকাতের নিয়ত ছাড়া এমনি সদকা করেছে। পরক্ষণেই লোকটির হাতে টাকা থাকতেই সে তা যাকাত হিসাবে দেওয়ার নিয়ত করল। এর দ্বারা তার যাকাত আদায় হবে কি না?

 


 

উত্তর

লোকটি ঐ টাকা খরচ করার আগেই দাতা যদি প্রদত্ত টাকা যাকাত হিসেবে নিয়ত করে তবে তা যাকাত হিসাবে গণ্য হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২১০; আননাহরুল ফায়েক ১/৪১৮; মাজমাউল আনহুর ১/২৯০; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খালেদ - বাসাইল, টাঙ্গাইল

১৬০৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এ পদ্ধতিতে ধান বেচাকেনা হয় যে, আপনি ১০০০/-টাকা দিবেন। ৪ বা ৫ মাস পরে আপনাকে ৩ বা ৪ মণ ধান দেবে। আলেমগণ এভাবে ধান বেচাকেনাকে জায়েয বলেন। আমরা শুনেছি যে, ধান ক্ষেত থেকে এভাবে বিক্রি করা নাকি নাজায়েয। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন। আমাদের এলাকার ওই পদ্ধতিতে ধান বেচাকেনা শরীয়তসম্মত হবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ওই কারবারটি বাইয়ে সালামের (আগাম খরিদ) অন্তর্ভুক্ত। বাইয়ে সালাম জায়েয হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে।  যেমন-

১. পণ্য ও মূল্য সুনির্দিষ্ট করা। অর্থাৎ ধান বেচাকেনার ক্ষেত্রে ধানের প্রকার, গুণগত মান এবং পরিমাণ সুনির্ধারিত হওয়া এবং সে অনুযায়ী মূল্যও চূড়ান্ত হওয়া।

২. পূর্ণ মূল্য চুক্তির সময়ই হস্তগত করা এবং পণ্য প্রদানের তারিখ ও স্থান নির্ধারিত করে নেওয়া।

৩. কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেতের ধান দেওয়ার শর্ত না করা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট ক্ষেতের ধান দেওয়ার শর্ত করে আগাম বেচাকেনা করলে চুক্তি নাজায়েয হয়ে যাবে। সুতরাং প্রশ্নের শোনা কথাটি ঠিক আছে।

এখানে আরো উল্লেখ্য যে, বাইয়ে সালাম তথা আগাম বেচাকেনার ক্ষেত্রেও মূল্য হওয়া উচিত যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ের। অগ্রিম দাম দেওয়ার কারণে মূল্যের মধ্যে অনেক বেশি তফাত করা ঠিক নয়। এটি শরীয়তের ভাষায়  গাবনে  ফাহেশের অন্তর্ভুক্ত। ১০০০/-টাকার বিনিময়ে ৫/৬ মাস পরে ৩/৪ মণ ধান দেওয়ার বিষয়টি এ পর্যায়ে পড়ে।

-ইলাউস সুনান ১৪/৪১২; আলবাহরুর রায়েক ৬/১৬০; রদ্দুল মুহতার ৫/২১৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খুরশিদ - অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ

১৬০৬. প্রশ্ন

মক্কায় অবস্থানকারী এক ব্যক্তি যার বাড়ি বাংলাদেশে সে জুমাদাল উলা মাসে বাংলাদেশ থেকে মক্কা মুকাররমা যায়। উমরার নিয়ত করে প্রবেশ করে। এরপর সে রমযানে মদীনা মুনাওয়ারা যায়। সেখানে ইতিকাফ করে। এরপর সে শাওয়াল মাসে মক্কা মুকাররমা যেতে চায়। এ ব্যক্তির এ বছর হজ্ব করার ইচ্ছা। যেহেতু হজ্বের আর মাত্র দুই মাস বাকি আছে, আর মক্কাতে প্রবেশের সময় ইহরাম করে প্রবেশ করেতে হবে, তাই তামাত্তুর উদ্দেশ্যে ওমরার ইহরাম করতে পারবে কি না? তার জন্য কি তামাত্তু করা জায়েয হবে? শুনেছি, মক্কীদের জন্য নাকি তামাত্তু করা জায়েয নেই। তামাত্তু করলে দমে জেনায়েত ও দমে শোকর দেওয়া লাগবে কি না?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তির জন্য তামাত্তু করা জায়েয। অর্থাৎ শাওয়াল মাসে মক্কা মুকাররমা প্রবেশের সময় তামাত্তুর নিয়তে উমরা করতে পারবে এবং এক্ষেত্রে তার উপর তামাত্তুর দমে শোকর ওয়াজিব হবে। জেনায়েত আসবে না। কারণ মক্কায় অবস্থানকারী ব্যক্তি যদি শাওয়ালের আগেই মীকাত থেকে বের হয়ে যায় তাহলে আফাকী তথা মক্কার বাইরে অবস্থানকারীদের হুকুমে হয়ে যায়। তাই ওই ব্যক্তি মক্কীর হুকুমে থাকবে  না। তার জন্য কিরান-তামাত্তু সবই করা জায়েয।

-মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৮/৬৯০ হাদীস : ১৫৬৩২; মানাসিকে মোল্লা আলী পৃ. ১৭৬, ২৮১; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৫/৩৫৭

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement