মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম - দুয়ারী পাড়া, মিরপুর

১৮১৬. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি হজ্বে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এ বছর হজ্ব এজেন্সীর কাছে টাকা জমা করেছিলেন। গত সপ্তাহে হঠাৎ তার ইন্তেকাল হয়ে যায়। এখন জানতে চাই, তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্বের জন্য প্রেরণ করা জরুরি কি না? ওয়ারিসগণ কাউকে দিয়ে বদলী হজ্ব না করিয়ে এ টাকা নিজেরা নিতে পারবে কি না? প্রকাশ থাকে যে, মৃত ব্যক্তি হজ্ব করার ব্যাপারে কোনো ওসিয়ত করে যাননি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওয়ারিসদের উপর মৃতের পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করানো জরুরি নয়। ওয়ারিসগণ মৃতের সকল পরিত্যক্ত সম্পদের এমনকি হজ্ব এজেন্সির নিকট জমা দেওয়া ঐ টাকারও মালিক হয়ে গেছে। অবশ্য সকল ওয়ারিশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে চাইলে মৃতের পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করাতে পারে। তবে ওয়ারিশদের মধ্যে নাবালেগ থাকলে এক্ষেত্রে তার সম্পদ নেওয়া যাবে না।

রদ্দুল মুহতার ২/৫৯৯; ফাতহুল কাদীর ৩/৭৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭

শেয়ার লিংক

মাওলানা জুবাইর - মক্কা মুকাররামা

১৮১৫. প্রশ্ন

আমরা ৪ জন তামাত্তু হজ্বের নিয়তে উমরার ইহরাম করে মক্কা এসেছি। আমরা মক্কাতে প্রায় ১৫ দিন থাকলাম। এখন মদীনা মুনাওয়ারা যাচ্ছি। মদীনা থেকে হজ্বের ১/২ দিন আগে মক্কা ফিরব। জানতে চাই, যারা মদীনা থেকে হজ্বের ইহরাম করবে তাদেরকে কি তাওয়াফে কুদূম করতে হবে?

উত্তর

না। তাদের তাওয়াফে কুদূম করতে হবে না। আপনারা যেহেতু এই সফরেই তামাত্তু হজ্বের উদ্দেশ্যে উমরা করেছেন তাই আপনারা তামাত্তুকারী। আর তামাত্তুকারীর উপর তাওয়াফে কুদূম নেই। তাওয়াফে কুদূম কেবল ইফরাদ ও কিরান হজ্বকারীদের জন্য সুন্নত। তামাত্তুকারীদের জন্য নয়।

মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ১৪১; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ১০৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৯২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফয়সাল - কুমিল্লা

১৮১৪. প্রশ্ন

যদি নামাযী ব্যক্তির সামনে কোনো সুতরা না থাকে এবং এ অবস্থায় কেউ অজ্ঞাতসারে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে তার করণীয় কী? সে কি তাকে বাঁধা দিবে, নাকি দিবে না? এক্ষেত্রে কোনটি উত্তম? আর বাঁধা দিলে কীভাবে দিবে?

উত্তর

নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে হাতের ইশারা কিংবা তাসবীহ জোরে পড়ে সতর্ক করা জায়েয আছে। তবে নামাযীর জন্য এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াই শ্রেয়।

উল্লেখ্য, নামাযীর সামনে দিয়ে কারো অতিক্রম করার আশঙ্কা থাকলে সুতরা সামনে রাখা সুন্নত।

সুনানে আবু দাউদ ১/১০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮; হাশিয়া তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২০১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২১৩; ফাতহুল কাদীর ১/৩৫৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৯; মাজমাউল আনহুর ১/১৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহীন - টাঙ্গাইল

১৮১৩. প্রশ্ন

আমার একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করার দুই দিন পর ইন্তিকাল করেছে। তার আকীকা করিনি। কেউ কেউ আকীকা করার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রশ্ন হল, এই সন্তানেরও কি আকীকা করা সুন্নত?

উত্তর

ঐ সন্তানের পক্ষ থেকে আকীকা করা লাগবে না। কারণ সন্তানের বয়স ৭ দিন পূর্ণ হলে আকীকার সময় হয়। এর আগে নয়। অবশ্য অভিভাবক চাইলে এমন সন্তানেরও আকীকা করতে পারেন।

জামে তিরমিযী ১/২৭৮; আলইসতিযকার ১৫/৩৭৫; ফাতহুল বারী ৯/৫০৯; তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/৯৭; ইরশাদুস সারী ১২/২২৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ আলী - নাটোর

১৮১২. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি হালাল-হারাম উভয় ধরনের সম্পদ দ্বারা একটি ঘর তৈরি করেছে এবং এতে হারাম মালের পরিমাণ কম। জানতে চাই, সে ঘর ব্যবহার করা শরীয়তসম্মত কি না? শরীয়তসম্মত না হলে জায়েয হওয়ার কোনো পন্থা আছে কি?

উত্তর

হারাম মাল অল্প হোক বা বেশি তা ভোগ করা যাবে না। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঘরটি তৈরিতে যেহেতু কম হলেও হারাম মালের মিশ্রণ রয়েছে; তাই পূর্ণ হালাল উপায়ে উপকৃত হতে চাইলে যে পরিমাণ হারাম মাল ব্যয় করা হয়েছে তার মালিক জানা থাকলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আর মালিক জানা না থাকলে তার পক্ষ হতে ঐ পরিমাণ অর্থ সদকা করে দিতে হবে। এ পন্থা অবলম্বন করলে ঐ ঘর থেকে উপকৃত হওয়া বৈধ হবে।

মাবসূত সারাখসী ১০/১৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪২; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯২; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৯২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হারুন - মালিবাগ, ঢাকা

১৮১১. প্রশ্ন

আমি কুরবানীর সময় আমার মরহুম আব্বার পক্ষ থেকেও কুরবানী দিতে ইচ্ছুক। প্রশ্ন হচ্ছে, এ কুরবানীর গোশত কি সদকা করে দিতে হবে?

উত্তর

না। মৃতের রূহে ছওয়াব পৌঁছানোর জন্য যে কুরবানী করা হয় এর গোশত সদকা করে দেওয়া জরুরি নয়। এ গোশত নিজের কুরবানীর মতো নিজে খেতে পারবে এবং অন্যকেও দিতে পারবে।

ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নূরুদ্দীন - কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা

১৮১০. প্রশ্ন

দাড়ি এক মুষ্ঠি রাখা ওয়াজিব। তা কি চার আঙ্গুল পরিমাণ রাখলেই যথেষ্ট কি না? কেউ বলেন, পাঁচ আঙ্গুলে এক মুষ্ঠি। তাই পাঁচ আঙ্গুল পরিমাণ লম্বা হতে হবে। এখন এর শরয়ী সমাধান কী? উত্তর দিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

মুষ্ঠি আর চার আঙ্গুল এক কথা নয়। হাতের মুষ্ঠি চার আঙ্গুলের চেয়ে লম্বা। হাদীসে মুষ্ঠি দাড়ির অতিরিক্ত কাটার কথা আছে। তাই থুতনির নিচ থেকে দাড়ি মুঠ করে ধরে মুষ্ঠির নিচের দাড়ি কাটতে পারবে।

সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৮৯২; ফাতহুল বারী ১০/৩৬২; উমদাতুল কারী ২২/৪৭; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১৩/১১২; শরহু মুসলিম নববী ১/১২৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪০৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮০, ৮/২০৪; ফাতহুল মুলহিম ১/৪২১

শেয়ার লিংক

আফিফা - চৌধুরী বাজার, হবিগঞ্জ

১৮০৯. প্রশ্ন

আমার চেহারায় গোঁফের স্থানে বড় আকারে লোম রয়েছে এবং আমার ভ্রূ কিছুটা চওড়া। আমার স্বামী সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আমার ভ্রূ জোড়া চিকন করতে ও চেহারার অন্যান্য লোমগুলো তুলে ফেলতে বলছেন। জানতে চাই, এভাবে ভ্রূতে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা ও চেহারার অন্যান্য লোম তুলে ফেলার অনুমতি আছে কি না?

উত্তর

মহিলাদের গোঁফ, দাড়ি বা এর আশপাশের স্থানে কোনো লোম গজালে তা তুলে ফেলার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ভ্রূ চিকন করা বৈধ নয়। স্বামী চাইলেও তা করা জায়েয হবে না। কেননা হাদীস শরীফে এ জাতিয় মহিলাদের উপর অভিসম্পাত করা হয়েছে।

সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৩৯; সহীহ মুসলিম হাদীস : ৫৫২৯; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/১৯৫; ফাতহুল বারী ১০/৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৭৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৫; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৮৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইফতেখার খন্দকার - আজমপুর, উত্তরা

১৮০৮. প্রশ্ন

আমরা কখনো রিকশা বা সিএনজি নির্দিষ্ট গন্তব্যের জন্য ভাড়া করি। এরপর একাকী যাত্রা করে পথিমধ্যে পরিচিত কারো সঙ্গে দেখা হলে তাকে ডেকে নিই। এধরনের ক্ষেত্রে রেওয়াজ আছে যে, চালক কোনো আপত্তিও করে না এবং বাড়তি ভাড়াও দেওয়া হয় না। জানার বিষয় এই যে, এভাবে পরবর্তীতে কোনো আরোহী নেওয়া শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে অনুমতি আছে কি না?

উত্তর

রিকশা ভাড়া নেওয়ার সময় চালকের সাথে যতজন আরোহীর চুক্তি হয় ততজনই তাতে আরোহণ করতে পারবে। পরে কাউকে নিতে চাইলে ভাড়ার সময় বলে নেওয়া উচিত। পূর্ব অবগতি ছাড়া একে তো চালকের সম্মতি নিতে হবে। আর অতিরিক্ত আরোহীর কারণে কিছু ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া কর্তব্য হবে। তবে কোনো এলাকায় যদি একজন ও দু’জন আরোহীর বেলায় কোনো তারতম্য না করা হয় তাহলে চালকের অনুমতি নিয়ে পরবর্তীতে একজনকে বিনা ভাড়ায় নিতে পারবে।

সিএনজি/অটোরিক্সায় সাধারণত যতজন যাত্রী আরোহন করা নিয়মসম্মত পরবর্তীতে সে সংখ্যক যাত্রী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শরহুল মাজাল্লা খালিদ আতাসী ২/৪৯০, মাদ্দা : ৪২৭-৪২৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৪-৩৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৭২; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সুলতান - কুমিল্লা

১৮০৭. প্রশ্ন

নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় কোনো ধরনের দুআ করা জায়েয আছে কি না? এক আলেমের মুখে শুনেছি, নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় বাংলাতেও দুআ করা জায়েয আছে। তার এ কথা কতটুকু সঠিক?

উত্তর

নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দুআসমূহ পড়া যাবে। তবে নফল হোক কিংবা অন্য কোনো নামাযে অনারবী ভাষায় দুআ করা নিষিদ্ধ।

সুনানে আবু দাউদ ১/১২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫২১; আননাহরুল ফায়েক ১/২২৪; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর পৃ. ১/২২৯; আসসিআয়াহ ২/২৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শারফুদ্দীন - রায়পুরা, নরসিংদী

১৮০৬. প্রশ্ন

আজ থেকে প্রায় আট-নয় বছর পূর্বে আমাদের এলাকায় একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এর জন্য কোনো স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা না হওয়ায় অস্থায়ীভাবে একটি ঘরে এক দুই মাস পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার পর একটি স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা হয়। জায়গাটি এক বৃদ্ধা মহিলার ছিল। তিনি এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার ও সাবাহী (প্রভাতী) মকতব পড়ানোর জন্য স্থায়ী অনুমতি দিয়ে দেন। ফলে এলাকাবাসী এই জায়গা ও দক্ষিণ পাশ থেকে (অন্য মালিকানাধীন) আরো কিছু জায়গা নিয়ে এখানে একটি ঘর করেন এবং নির্দিষ্ট একজন হুজুরের মাধ্যমে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও সাবাহী মকতব চলতে থাকে। কিছুদিন পর বৃদ্ধার জায়গাটিকে সাবাহী মকতবের নামে ওয়াকফ করে লিখিত আকারে দলীল করে দেন। কিন্তু বর্তমানে জনসংখ্যা ও মুসল্লী বৃদ্ধির কারণে সামাজিকভাবে এখানে একটি জামে মসজিদ করা অতি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশপাশে কোথাও আলাদাভাবে জামে মসজিদ করার মতো উপযোগী জায়গা না থাকায় এলাকাবাসী পাঞ্জেগানা মসজিদ-মকতবের নামে ওয়াকফকৃত উক্ত জায়গা এবং দক্ষিণ পাশে আরো এই পরিমাণ জায়গা (এটির মালিক ঐ জায়গা মসজিদের নামে ওয়াকফ করতে প্রস্তুত) সহ এখানে একটি জামে মসজিদ করতে চাচ্ছে। তারা সাবাহী মকতবের জন্য মসজিদের বারান্দাকে নির্দিষ্ট করে দিবে।

জানার বিষয় হল, বৃদ্ধা মহিলা কর্তৃক লিখিত আকারে মকতবের নামে ওয়াকফকৃত উক্ত পাঞ্জেগানা মসজিদ ও মকতবের জায়গা মসজিদের সীমানায় নিয়ে এলাকাবাসীর প্রয়োজনে

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনারা যেভাবে উক্ত পাঞ্জেগানা মসজিদ ও সাবাহী মকতবের জায়গাসহ নতুন জায়গা মিলিয়ে জামে মসজিদ বানাতে চাচ্ছেন তা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে মসজিদের বারান্দা সাবাহী মকতবের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। তা সর্বদা সাবাহী মকতবের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং তা লিখিত আকারে রাখতে হবে। যেন পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কোনো জটিলতা না হয়। অবশ্য মকতবের সময় ছাড়া অন্য সময় বারান্দাটি মসজিদের কাজে ব্যবহার করা যাবে।

উল্লেখ্য যে, দানকারিনী মহিলা যেহেতু লিখিতভাবে ওয়াকফ করার পূর্বেই জায়গাটি মসজিদ ও মকতবের জন্য যৌথভাবে দান করেছিলেন তাই পরবর্তীতে শুধু মকতবের নামে ওয়াকফ করলেও তা মসজিদ ও মকতব উভয়ের জন্য ওয়াকফ হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে মকতবের একক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে না।

আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৭৮-৩৭৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৭; ফাতহুর কাদীর ৫/৪৪৫; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৯২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৮৪১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহমুদ হাসান - বিক্রমপুর

১৮০৫. প্রশ্ন

যদি কোনো মুকীম ব্যক্তি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযে কোনো মুসাফির ইমামের পিছনে ইকতিদা করে তাহলে মুসাফির ইমামের নামায শেষ করার পর অবশিষ্ট রাকাতদ্বয়ে মুকীম মুকতাদীকে কেরাত পড়তে হবে কি না?

উত্তর

চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামযের শেষ দুই রাকাতে কারো জন্যই কেরাত নেই। মুসাফির ইমামের পেছনে মুকীম মুকতাদীর জন্যও একই হুকুম। তবে সে সূরা ফাতেহা পড়বে কি না এ বিষয়ে মতানৈক্য আছে। বিশুদ্ধ মত হল, এক্ষেত্রে মুকীম মুকতাদী শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতিহাও পড়বে না।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩২; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৫; ফাতহুল কাদীর ২/১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২০১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২১৩; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৫৪৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুস্তাকীম - ঢাকা

১৮০৪. প্রশ্ন

ঘরবাড়িতে মহিলারা যখন নামায পড়ে তখন সেখানে অধিকাংশ সময় মাহরাম আত্মীয় স্বজন ছাড়া অন্য কেউ থাকে না। তখনও কি তাদের উপর পুরো শরীর ঢেকে নামায পড়া জরুরি?

উত্তর

মহিলাদের চেহারা, কব্জি পর্যন্ত দুই হাত ও গিরা পর্যন্ত দুই পা ব্যতীত অবশিষ্ট সম্পূর্ণ শরীর নামাযে সর্বাবস্থায় ঢেকে রাখা জরুরি। এটা নামায অবস্থার সতর। একা ঘরে নামায পড়লেও এভাবে ঢেকে নামায পড়তে হবে। আর উভয় পা খোলা রাখা জায়েয, কিন্তু তাও ঢেকে রাখা উত্তম।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪১৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৪; ইলাউস সুনান ২/১৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩০৬; মাজমাউল আনহুর ১/১২২; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৯; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ২১০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহমুদ হাসান - ধানমণ্ডি, ঢাকা

১৮০৩. প্রশ্ন

এক খতীব সাহেবকে জুমআর বয়ানে বলতে শুনেছি যে, মোজার উপর মাসেহ বৈধ হওয়ার জন্য তা চামড়ার হওয়া জরুরি নয়। বরং আমাদের দেশে প্রচলিত সব ধরনের মোজার উপর মাসেহ করা জায়েয। চাই তা সুতার হোক বা পশমের হোক বা অন্য কোনো কিছুর হোক। জানতে চাই, তার এ কথা কতটুকু সঠিক?

উত্তর

খতীব সাহেবের ঐ কথা ঠিক নয়। চামড়ার মোজার উপর মাসেহ জায়েয আছে। কিন্তু চামড়া ছাড়া সুতা বা পশমের তৈরি যেসব মোজা সচরাচর পাওয়া যায় এর উপর মাসেহ সহীহ নয়। তবে সুতা বা পশমের মোজায় নিম্নোক্ত শর্তগুলো পাওয়া গেলে তার উপর মাসেহ জায়েয হবে। শর্তগুলো হচ্ছে :
ক) মোজা এমন মোটা ও পুরু হওয়া যে, জুতা ছাড়া শুধু মোজা পায়ে দিয়ে তিন মাইল পর্যন্ত হাঁটা যায়। এতে মোজা ফেটে যায় না এবং নষ্টও হয় না। খ) পায়ের সাথে কোনো জিনিস দ্বারা বাঁধা ছাড়াই তা লেগে থাকে এবং তা পরিধান করে হাঁটা যায়।
গ) মোজা এমন মোটা যে, তা পানি চোষে না এবং তা ভেদ করে পানি পা পর্যন্ত পৌঁছায় না।
ঘ) তা পরিধান করার পর মোজার উপর থেকে ভিতরের অংশ দেখা যায় না। সচরাচর ব্যবহৃত সুতা বা পশমের মোজায় যেহেতু এসব শর্ত পাওয়া যায় না তাই এর উপর মাসেহ জায়েয হবে না।

জামে তিরমিযী ১/১৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৮৩; আলবাহরুর রায়েক ১/১৮২; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৬৯; আলমুহীতুল বুরহানী ১/৩৪৩-৩৪৪; ফাতহুল কাদীর ১/১৩৮; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ১২০; মাজমাউল আনহুর ১/৭৫; আননাহরুল ফায়েক ১/১২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ঢাকা

১৮০২. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি নামাযের জামাতে রুকুতে এমন সময় শামিল হল যে, একবারও পূর্ণভাবে রুকুর তাসবীহ পড়তে পারেনি। এ অবস্থায় সে রুকু ও রাকাত পেয়েছে বলে ধরা হবে কি না? নাকি একবার পূর্ণ তাসবীহ পড়ার সুযোগ পেলে রাকাত পাওয়া গণ্য করা হবে?

উত্তর

রাকাত পাওয়ার জন্য রুকু পাওয়া জরুরি। আর রুকু পাওয়ার জন্য এক মুহূর্ত হলেও ইমামের সাথে রুকুতে শরিক হতে হবে। ইমামের সাথে রুকুর তাসবীহ পাওয়া জরুরি নয়। কিন্তু যদি ইমামকে রুকু অবস্থায় অল্প সময়ের জন্যও না পাওয়া যায় তাহলে এ রাকাত পায়নি বলে বিবেচিত হবে।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ২৫৩৭-২৫৩৭; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩০৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০; ফাতহুল কাদীর ১/৪২০; মাজমাউল আনহুর ১/২১২; হাশিয়া তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আকবর খান - হবিগঞ্জ

১৮০১. প্রশ্ন

লোকমুখে শোনা যায় যে, আহার অবস্থায় সালাম দেওয়া ঠিক নয়। এমনিভাবে আগন্তুক এসে ঘরের লোকজনকে আহার অবস্থায় পেলে সালাম দিতে হয় না। প্রশ্ন হল, এই প্রচলিত কথাগুলো কি সঠিক?

উত্তর

আহারকারী অন্যকে সালাম দিতে পারবে। এ সময় অন্যকে সালাম দেওয়া নিষিদ্ধ নয়। তদ্রূপ আহারকারীকেও সালাম দেওয়া বৈধ। তবে এ সময় সালাম দেওয়া যদি তার কষ্ট বা বিরক্তির কারণ হয় তাহলে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা, এমন হলে সে অবস্থায় সালাম দেওয়া মাকরূহ হবে।

রদ্দুল মুহতার ১/৬১৭, ৬/৪১৫; আলমাজমূ’ ৪/৪৬৯; ফাতহুল বারী ১১/১৯-২১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কাসেম - মিরপুর, ঢাকা

১৮০০. প্রশ্ন

আমি সাহরী খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করি। প্রায়ই দেখা যায়, এ অবস্থায় আযান হয়ে যায়। জানতে চাই এতে কি আমার রোযার কোনো ক্ষতি হবে?

উত্তর

রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন ব্যবহার করা মাকরূহ তানযীহী। আর যদি তা গলায় বা পেটের ভেতর চলে যায় তবে তো রোযা নষ্টই হয়ে যাবে। তাই সাহরীর সময় শেষ হয়ে গেলে পেস্ট বা মাজন জাতীয় কোনো কিছু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

রদ্দুল মুহতার ২/৪১৫-৪১৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৪; হিদায়া ১/২২০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - ফরিদাবাদ, ঢাকা

১৭৯৯. প্রশ্ন

হাদীস শরীফে আছে, যে ব্যক্তি কোনো মৃতের কাফন-দাফনসহ তার জানাযায় শরীক হল সে এক কীরাত ছওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি দাফন হওয়া পর্যন্ত থাকল সে দুই কীরাত ছওয়াব পাবে। অন্য এক হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি কুকুর লালন করে তার আমলনামা থেকে দৈনিক এক কীরাত করে ছওয়াব কমতে থাকে। জানতে চাই, হাদীসে উল্লেখিত কীরাত দ্বারা কী উদ্দেশ্য? উভয় হাদীসেই কি একই অর্থ বুঝানো হয়েছে?

উত্তর

জানাযায় অংশগ্রহণ সম্পর্কিত হাদীসে কীরাত দ্বারা কি উদ্দেশ্য তা মুসলিম শরীফের হাদীসেই উল্লেখ আছে।

এক হাদীসে আছে-‘কীরাত দু’টি বড় পাহাড় সমতুল্য।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘কীরাত হল উহুদ পাহাড় সমান।’-সহীহ মুসলিম ১/৩০৭ আর কুকুর লালনের ক্ষেত্রে এক কীরাত ছওয়াব কমে যায় এখানে কীরাত দ্বারা উদ্দেশ্য আমলের এক অংশ। ইমাম নববী রাহ. বলেন, এখানে কীরাত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ যা আল্লাহ তাআলা জানেন। উদ্দেশ্য আমলের একটি অংশ।

শরহে মুসলিম নববী ১০/২৩৯; উমদাতুল কারী ৫/১৫৮; মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার ৪/২৫৫; ইকমালুল মুলিম ৫/২৪৬ #

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসীহুর রহমান - নারায়ণগঞ্জ

১৭৯৮. প্রশ্ন

আমাদের এখানে প্রতি বছর জলসা হয়। এক বক্তা বললেন, হাদীসে আছে, হযরত সুলায়মান আ.-এর আংটিতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ লেখা ছিল। একথার দলীল জানতে চাই। কেউ কেউ বিষয়টি মানতে চায় না। হাদীসটি কোন কিতাবে আছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি ভিত্তিহীন। হাদীস বিশারদগণ এ সম্পর্কিত বর্ণনাকে মিথ্যা ও প্রক্ষিপ্ত বলেছেন।

আলকামিল ৪/৪৭; কিতাবুল মাজরূহীন ১/৩৬৪; আল মাওযূআত ইবনুল জাওযী ১/১৪৩; আললাআলিল মাসনূআ ১/১৭১; মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/২৭১ হা.: ৮৭২৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - জামিআতুস সুন্নাহ

১৭৯৭. প্রশ্ন

জুমার খুতবা নামাযের আগে আর ঈদের খুতবা নামাযের পরে এর কারণ কী? এর মধ্যে কি কোনো ঘটনা ও তাৎপর্য আছে? জুমার খুতবাও নাকি পরে ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে খুতবার সময় একদিন বণিক দল আসলে খুতবা ছেড়ে মুসল্লীগণ সেখানে চলে যায়। এ ঘটনার পর থেকে নাকি খুতবাকে নামাযের আগে নেওয়া হয়েছে। এর সত্যতা কতটুকু? এ সম্পর্কিত হাদীস বরাতসহ বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

জুমার খুতবা নামাযের পূর্বে হওয়া এবং ঈদের খুতবা পরে হওয়ার বিষয়টি শরীয়তের বহু দলীল দ্বারা প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন সকলেই জুমার খুতবা নামাযের পূর্বে এবং ঈদের খুতবা নামাযের পরে প্রদান করতেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা এবং এ সম্পর্কিত হাদীস ও আছারের আলোকে জুমার খুতবা আগে হওয়া এবং ঈদের খুতবা পরে হওয়া প্রমাণিত। ঈদের খুতবা নামাযের পর : সহীহ বুখারী ১/১৩১; সহীহ মুসলিম ১/১৩১; জামে তিরমিযী ১/৭০; ফাতহুল বারী ২/৫২৬, জুমআর খুতবা নামাযের পূর্বে : সহীহ বুখারী ১/১২৮; সহীহ মুসলিম ১/২৮৩; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/১০৯

উল্লেখ্য, প্রশ্নে যে ঘটনাটির কথা বলা হয়েছে তা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমসহ হাদীসের অন্যান্য কিতাবে রয়েছে, যার সারমর্ম হল, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়িয়ে জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন ইতিমধ্যে হযরত দিহয়া রা.-এর ব্যবসায়ী কাফেলার আগমনের সংবাদ পেয়ে কিছু সংখ্যক সাহাবী ছাড়া সকলেই ঐ ব্যবসায়ী কাফেলার দিকে ছুটে গেলেন যার প্রেক্ষিতে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, (তরজমা) যখন তারা ব্যবসা ও কৌতুক দেখল তখন তারা আপনাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে তার দিকে ছুটে গেল। বলুন, আল্লাহর নিকট যা আছে তা ক্রীড়া-কৌতুক ও ব্যবসা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।-সূরা জুমআ : ১১

ঘটনা এ পর্যন্ত-ই। কিন্তু মারাসিলে আবু দাউদ (পৃ.৪৭) এ মুকাতিল ইবনে হাইয়ান এর বক্তব্যে রয়েছে যে, উক্ত ঘটনার পর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার খুতবা নামাযের আগে নিয়ে আসেন।

কিন্তু হাফেয ইবনে হাজার রাহ., আল্লামা আইনী রাহ. প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ মুকাতিলের এ বক্তব্য প্রমাণিত নয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাফসীরে রুহুল মাআনীর গ্রন্থকার আল্লামা আলুসী রাহ. বলেন, (তরজমা) আমি এই বক্তব্যের সত্যতা পাইনি। প্রকাশ্য তো এটাই যে, জুমার খুতবা শুরু থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের আগেই প্রদান করতেন।-

রুহুল মাআনী ২৮/১০৫; ফাতহুল বারী ২/৪৯৩; উমদাতুল কারী ৬/২৪৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হানীফ - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

১৭৯৬. প্রশ্ন

আমরা বিভিন্ন ওয়াজে শুনি যে, যখন হযরত নূহ আ.-কিশতীতে আরোহণ করলেন তখন তাঁর এক সন্তান, যে কাফের ছিল সে বন্যাতে ডুবে গিয়েছিল। জানতে চাই, নূহ আ.-এর ঐ সন্তানের নাম কী? কেউ বলেন, ‘ইয়াম’ কেউ বলেন, কিনআন। সঠিক কোনটি?

উত্তর

ঐ সন্তানের নাম কিনআন এবং ইয়াম উভয়টিই। তারীখ ও তাফসীরের গ্রন'সমূহে দুটি নামই এসেছে। কেউ কিনআন বলেছেন আবার কেউ বলেছেন ইয়াম। তবে তারীখের সুপ্রসিদ্ধ গ্রন' ‘আলকামিল ফিততারীখ’ এ বলা হয়েছে, ঐ সন্তানের নাম কিনআন, যাকে ইয়ামও বলা হয়।

আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ১/১৭৬; আলকামিল ফিততারীখ ১/৭৩; আলকাশশাফ যমখশারী ২/৩৯৬; তাফসীরে তাবারী ৭/৪৫; তাফসীরে মাযহারী ৫/৮৮; মাআরিফুল কুরআন ৪/৬২৪; তাফসীরে কুরতুবী ৯/৩৮; তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৪৮৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - সিলেট

১৭৯৫. প্রশ্ন

কালিমা তাইয়্যিবার সঙ্গে দরূদ পড়া যাবে কি? এ বিষয়ে দুই ধরনের বক্তব্যই শুনতে পাওয়া যায়।

উত্তর

দরূদ শরীফ কালিমা তাইয়্যিবার অংশ নয়। কালিমা তাইয়্যিবা হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম উচ্চারণ করলে দরূদ পড়তে হয় এই নিয়ম হিসাবে কালিমা তাইয়্যিবার পর দরূদ শরীফ পড়া যাবে। তবে কিছুটা বিরতি দিয়ে পড়বে। যেন দরূদ শরীফ কালিমার অংশ বলে মনে না হয়।

ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আফজাল - চট্টগ্রাম

১৭৯৪. প্রশ্ন

কাফেরদের সন্তান যদি নাবালেগ অবস্থায় মারা যায় তাহলে তারা জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে? এ বিষয়ে আমাদের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। দয়া করে বরাতসহ জানাবেন।

উত্তর

কাফের-মুশরিকদের নাবালেগ সন্তান মারা গেলে তাদরে সাথে কি আচরণ করা হবে-এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মত রয়েছে। জান্নাতে যাবে-এ মতটি অধিক শক্তিশালী। তবে এর সঠিক ফয়সালা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যা জানার উপর শরীয়তের কোনো আমল নির্ভরশীল। তদ্রূপ এটা এমন কোনো আকীদাগত বিষয় নয়, যা জানা জরুরি; বরং এ জাতীয় বিষয় নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া ঠিক নয়। এটা অনর্থক কাজে লিপ্ত হওয়ার অন-র্ভুক্ত।

উমদাতুল কারী ৮/২১২-২১৩, তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৫/৫০২; লামিউদ দারারী ২/১৩৭; রদ্দুল মুহতার ২/১৯২; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফয়জুর রহমান - ঝিগাতলা, ঢাকা

১৭৯৩. প্রশ্ন

একটি দোকানে আমরা কয়েকজন উপস্থিত ছিলাম। তখন জামাতের সময় হয়ে গেলে আমাদের একজন দোকানদারকে নামাযের দাওয়াত দিল। আমরা জানি সে মুসলমান। কিন্তু সে উত্তরে বলল, আমি নামায পড়ব না। আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু। তাকে বলা হল, আপনি এটা কেমন কথা বলছেন? সে আরো জোরের সঙ্গে বলল, হাঁ, আমি হিন্দু। যান, যান। প্রশ্ন হল, এ কথা বলার পর সে মুসলমান থাকবে কি না?

উত্তর

‘আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু’ এ ধরনের বাক্য কুফরী কথার অন্তর্ভুক্ত। স্বেচ্ছায় কেউ এমন কথা বললে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব এ কথা বলার কারণে ঐ ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে। বিবাহিত হলে বিবাহ ভেঙ্গে গেছে। অতএব এক্ষুণি কালিমা শাহাদাত পড়ে ঈমান আনতে হবে এবং বিয়েও দোহরিয়ে নিতে হবে।

ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৪৫৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৫৭, ২৬৮ ও ২৭৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/১২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন - শানি-বাগ, ঢাকা

১৭৯২. প্রশ্ন

জনৈক আলেম বলেছেন, সূরা বাকারার ১৯৬ নং আয়াত শুধু তামাত্তু হজ্বকারীর জন্য প্রযোজ্য। তার কথা কতটুকু সঠিক জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আয়াতটিতে হজ্বে তামাত্তু ও হজ্বে কিরান দু’টোরই হুকুম বলা হয়েছে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-(তরজমা) যে ব্যক্তি হজ্বের প্রাক্কালে উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায়, সে যা সহজলভ্য তা দ্বারা কুরবানী করবে।-সূরা বাকারা : ১৯৬

হজ্বের প্রাক্কালে উমরার দ্বারা লাভবান হওয়ার সুযোগ কিরান এবং তামাত্তু উভয় ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। কেননা উভয় ক্ষেত্রেই একই সফরে উমরা ও হজ্ব আদায় করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সকল তাফসীরগ্রনে' হজ্বে কিরানকেও ওই আয়াতের মর্মার্থের অন-র্ভুক্ত করা হয়েছে। অতএব শুধু তামাত্তু হজ্বকে একমাত্র মর্মার্থ বলা ঠিক হবে না।

তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/২৫০; তাফসীরে মাযহারী ১/২২৬; তাফসীরে তাবারী ২/২৫৫; আহকামুল কুরআন মুফতী শফী রাহ. ১/৩১৮; মাআরিফুল কুরআন ১/৪৮২; তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ১/৩৪০; তাফসীরে আবুস সাউদ ১/২৫০; আদ্দুররুল মানছূর ১/২১৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ - ঢাকা

১৭৯১. প্রশ্ন

কুরআন মজীদের সূরা কাহাফের তাফসীরে ‘আসহাবে কাহাফের’ ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে অনেককে বলতে শোনা যায় যে, ‘আসহাবে কাহাফের’ সঙ্গী কুকুরটি জান্নাতে যাবে। এই কথা কতটুকু সঠিক? কুরআন, হাদীস ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রনে'র আলোকে উত্তর কাম্য।

উত্তর

কুরআন মজীদ বা কোনো সহীহ হাদীসে এ বিষয়টি উল্লেখ নেই। কোনো সাহাবী থেকেও সহীহ সনদে তা পাওয়া যায় না।

তবে তাফসীরে আবুস সউদ, তাফসীরে মাযহারী ও রূহুল মাআনী ইত্যাদি তাফসীর-গ্রন্থের লেখকগণ প্রখ্যাত তাবেয়ী খালেদ ইবনে মা’দান রাহ. এর উদ্ধৃতিতে আসহাবে কাহাফের সঙ্গী কুকুরটির জান্নাতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এর কোনো সনদ বা সূত্র পাওয়া যায় না।

উল্লেখ্য যে, এ বিষয়টি যেহেতু কোনোকীদা বা আমলের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় তাই এ নিয়ে প্রশ্নোত্তর, আলোচনায় মূল্যবান সময় ব্যয় করা উচিত নয়।

তাফসীরে আবুস সাউদ ৪/১৭৮; তাফসীরে মাযহারী ৬/২১; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৮/২২৮; হায়াতুল হাইওয়ান ২/২৬২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহাদাত হুসাইন - ঢাকা

১৭৯০. প্রশ্ন

আমরা শুনেছি যে, হযরত উসমান রা.- যে রসমে খতে কুরআন মজীদ লিখিয়েছেন তা পরিবর্তন করা জায়েয নয়। প্রশ্ন হল, কোনো বিষয়ের উপর লিখতে গিয়ে যদি কুরআনের এক দুই আয়াত লিখতে হয় এক্ষেত্রেও কি কুরআনে যেভাবে আছে সেভাবেই লেখা জরুরি?

উত্তর

কুরআন মজীদের অল্প সংখ্যক আয়াত, যা উদ্ধৃতি বা কোনো প্রয়োজনে লিখতে হয় এতে উসমানী রাসমুল খত-এর অনুকরণ জরুরি নয়। অন্যান্য আরবী রাসমুল খত ব্যবহার করাও জায়েয। এছাড়া বড় সূরা বা পুরো কুরআন মজীদ লেখার ক্ষেত্রে ‘উসমানী রসমুল খত’-এর অনুকরণ অপরিহার্য। এ বিষয়ে মুসলিম উম্মাহর ইজমা রয়েছে।

আলইতকান ২/৪০৮; ফিকহুন নাওয়াযিল ১/১৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমরান হুসাইন - কচুয়া, চাঁদপুর

১৭৮৯. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। আমরা স্থায়ীভাবে সেখানেই বসবাস করি। বর্তমানে আমি ঢাকার মিরপুর ১২ এর একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করি। বিভিন্ন সময় ছুটিতে বাড়ি যাই। আর বাকি সময় ঢাকাতেই থাকি।

প্রশ্ন হল, বাড়িতে যাওয়ার সময় পথে আমাকে নামায পূর্ণ পড়তে হবে নাকি কসর? আর কসর করলে কখন থেকে শুরু করব এবং কোথায় গিয়ে কসর করা বন্ধ করব?

উত্তর

ঢাকা থেকে চাঁদপুরের দূরত্ব সফরসম। তাই এ পথে সফর অবস্থায় নামায কসর পড়তে হবে। আপনার বর্তমান আবাসস্থল ঢাকার সিটি কর্পোরেশনের সীমানা অতিক্রম করার পর থেকে মুসাফির গণ্য হবেন। অর্থাৎ নদীপথে পোস্ত-গোলা ব্রীজ এলাকা এবং সড়ক পথে যাত্রাবাড়ি-শনির আখড়া এলাকা অতিক্রম করলে (ঢাকা সিটির দক্ষিণাঞ্চলের জন্য) মুসাফিরের হুকুম শুরু হবে। শেষ হবে আপনার স্থায়ী বসবাসের এলাকা গ্রামে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত। নিজ গ্রাম বা শহরে প্রবেশ করলেই মুকীম হয়ে যাবেন।

ইলাউস সুনান ৭/৩১০; ফাতহুল বারী ২/৪৭১; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৬২; মাবসূত সারাখসী ১/২৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৫৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭১; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ লুৎফুর রহমান - রাজশাহী

১৭৮৮. প্রশ্ন

আমি নফল হজ্ব আদায়ের ইচ্ছা করলে আমার বৃদ্ধ পিতা বললেন, আমি যেন তাঁর পক্ষ হতে উমরা করি। এরপর আমি তামাত্তুর নিয়তে বাবার কথামতো প্রথমে তার পক্ষ হতে উমরা আদায় করেছি এরপর যথানিয়মে হজ্ব করেছি। জানার বিষয় হল, উক্ত পদ্ধতিতে হজ্ব আদায় করা শুদ্ধ হয়েছে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ঐ হজ্বটি তামাত্তুই হয়েছে। ঐভাবে তামাত্তু করাটা দোষণীয় নয়।

গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ২১৪; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃৃ. ২৮৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শামসুল হুদা - ঢাকা

১৭৮৭. প্রশ্ন

আমি একবার খুব জটিল রোগে আক্রান্ত হলাম। অসুস্থ অবস্থায় মান্নত করলাম যে, আল্লাহ তাআলা যদি আমাকে সুস্থ করেন তাহলে আমি হজ্ব করব। তখন আমার আর্থিক অবস্থা এমন ছিল যে, আমার উপর হজ্ব ফরয়।

প্রশ্ন হল, আমার উপর আগে থেকেই হজ্ব ফরয হয়ে আছে এখন যদি হজ্ব করি তাহলে কি এর দ্বারা আমার ফরয হজ্ব এবং মান্নতের হজ্ব উভয়টি আদায় হবে? এক সফরেই উভয় হজ্ব আদায়ের কোনো পদ্ধতি আছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি নিজের ফরয হজ্ব এবং মান্নতের হজ্ব উভয়টির আদায়ের নিয়তে হজ্ব করবেন। এতে এক সাথে দুটি দায়িত্বই আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যদি আপনি যে কোনোটি নির্দিষ্ট করে আদায় করেন তাহলে যেটির নিয়ত করবেন শুধু সেটিই আদায় হবে। অন্যটি আদায় হবে না।

গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৩৪৮; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৪৬৭-৪৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭

শেয়ার লিংক