যিলহজ্জ্ব ১৪৩০ || ডিসেম্বর ২০০৯

মুহাম্মাদ হাফিয ইবনে সোহরাব - হাটহাজারী মাদরাসা চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

আমি দাওরায়ে হাদীসের একজন ছাত্র। সহীহ বুখারীর জন্য ফাতহুল বারী, সহীহ মুসলিমের জন্য ফাতহুল মুলহিম এবং জামে তিরমিযীর জন্য দরসে তিরমিযী মুতালাআ করার ইচ্ছা করেছি। কিন্তু ফাতহুল বারী পরিপূর্ণভাবে মুতালাআ করার সময় পাই না। সুতরাং ফাতহুল বারী ও ফাতহুল মুলহিম মুতালাআর সময় কোন কোন বিষয়ের প্রতি অধিক দৃষ্টি রাখব? আশা করি, জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

খুবই উত্তম নির্বাচন। তবে জামে তিরমিযীর জন্য ‘মাআরিফুস সুনান’ মুতালাআ করাও জরুরি। উল্লেখিত কিতাবগুলো হচ্ছে উলূম ও মাআরিফ এবং আসরার ও রুমূয-এর ভাণ্ডার। তাই সেসব আলোচনা আত্মস্থ' করার জন্য বারবার মুতালাআ করতে হবে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে। এখন আপনি যা মুতালাআ করবেন তা হবে প্রাথমিক মুতালাআ। তাই চেষ্টা করুন, যেন কিতাবগুলোর ‘ফন্নী বহছসমূহ’ ফন্নী উসূল ও আন্দায মোতাবেক বোঝার যোগ্যতা পয়দা হয়। এর জন্য অবশ্য ওই ফনগুলোর সঙ্গে আপনার মোটামুটি সম্পর্ক থাকতে হবে, যা এসব কিতাবের আলোচনায় প্রয়োগ করা হয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট ফনের সঙ্গে মুনাছাবাত রাখেন এমন কোনো উস্তাদের নেগরানীতে প্রত্যেক কিতাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘বহছ’ মুযাকারা ও তাকরার করে নেওয়াও প্রয়োজন। এরপর তার খোলাছা মৌখিক বা লিখিত আকারে তাঁর সামনে পেশ করবেন। সব তালিবে ইলমের জন্য তো দাওরায়ে হাদীসের বছর এসব কিতাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আগাগোড়া মুতালাআ করা সম্ভব নয়। তবে আল্লাহ তাআলা যাদেরকে ‘কিতাবী ইসতি’দাদ’ দান করেছেন তাদের জন্য জরুরি হল একটু মেহনত করে এসব কিতাবের সাহায্যে ‘ফন্নী ইসতি’দাদ’ তৈরি করে নেওয়া। আপাতত এই মৌলিক কথাটি বলেই শেষ করছি। আপনার যদি আগ্রহ হয় তাহলে এই কিতাবগুলো থেকে এমন কিছু ‘বহছ’ নির্বাচন করুন, যা ফন্নীভাবে বোঝা আপনার কাছে কঠিন মনে হয়। অতঃপর সে সম্পর্কে ‘আলকাউসারে’ প্রশ্ন করুন। তবে এক চিঠিতে একটি প্রশ্নের বেশি লিখবেন না। আল্লাহ তাআলার তাওফীক অনুযায়ী সাহায্য করার চেষ্টা করব।

এই সংখ্যার অন্যান্য শিক্ষা পরামর্শসমূহ পড়ুন