মুহাম্মাদ মুস্তাফিজুর রহমান মাসুমপুর - মাসুমপুর, সিরাজগঞ্জ মাদরাসা

প্রশ্ন

আমি শরহে বেকায়া জামাতের একজন ছাত্র। আমার শিক্ষা-জীবনের শুরু হতে এই পর্যন্ত কোনো একটি দিন মন ভারাক্রান্ত ব্যতিত অতিবাহিত হয়নি। কারণ, আমার স্মরণশক্তি কম, কোনো কিতাবই বুঝে আসে না, إعراب   লাগাতে পারি না...। আল্লাহ আপনাকে হায়াতে তাইয়েবাহ দান করুন।

উত্তর

ভাই মুস্তাফিজুর রহমান আপনি ঘাবড়াবেন না। যারা আপনাকে নিরুৎসাহিত করতে চেয়েছে তারা খুবই খারাপ করেছে। আপনার লেখা দেখে তো মনে হয়, আপনি এত দুর্বল নন। আপনি যদি তাকওয়া ও তাহারাতের ব্যাপারে যত্নবান হন এবং ইখলাসের সাথে মেহনত জারি রাখেন তাহলে ইনশাআল্লাহুল আযীয অবশ্যই সফল হবেন। আপনার জন্য অপেক্ষা করছে দ্বীন ও ইলমের খেদমতের বিশাল ও বিস্তৃত ময়দান। এজন্য জরুরী হল, আপনার কোনো অভিজ্ঞ ও মেহেরবান উস্তাযকে তালীমী মুরুববী হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাঁর পরামর্শ ও নেগরানীতে মেহনত করতে থাকা। পাশাপাশি আপনি চিঠিপত্রের মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। কখনো সুযোগ হলে সাক্ষাতও করতে পারেন। আপনি সবসময় মন ও শরীরকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করবেন। আমি দুআ করছি আল্লাহ তাআলা যেন আপনার যেহেন খুলে দেন এবং রুসুখ ফিল ইলম ও তাফাক্কুহ ফীদ্দীন নসীব করেন। আপনিও আল্লাহ তাআলার দরবারে কাকুতি-মিনতিসহ দুআ করবেন।

رب زدني علما نافعا، رب اشرح لي صدري.... اللهم إني أسألك علما نافعا ورزقا طيبا وعملا متقبلا

দুআগুলো বেশি বেশি পাঠ করবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দিন এবং কবুল করুন, আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ - হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

 

সঠিক ও বাস্তবসম্মতভাবে উসূলে ফিকহের ইজরা-পদ্ধতি জানতে চাই। মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন বলে আশা রাখি। আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন, আমীন।

 

উত্তর

উসূল ও কাওয়ায়েদ আয়ত্ত করার পর ইজরা ও তাতবীক (উদাহরণ ও অনুশীলন)-এর প্রতি যত্ন নেয়া উচিত। এবিষয়ে কিতাব ও উপকরণ কম থাকায় কিছু বাড়তি মেহনত করতে হবে। কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত এবং আহাদীস মুতালাআর সময় বিভিন্ন উসূলের তাতবীক ও ইজরার চেষ্টা করা যেতে পারে। এখন আপনি উসূলুশ শাশী পড়ার সময় থানবী রাহ. রচিত আত তালখীসাতুল আশারাহ-এর অন্তর্ভূক্ত পঞ্চম রিসালা আল মাদার লিহাল্লিল মানার-এর সহযোগিতা নিতে পারেন। এরপর সম্ভব হলে ড. মুহাম্মাদ আকবার রচিত الواضح في أصول الفقه দেখতে পারেন। তাছাড়া আপনার কোনো উস্তাযের তত্ত্বাবধানেও আপনি কিছুদিন অনুশীলন অব্যাহত রাখতে পারেন।

শেয়ার লিংক

উবাইদুল্লাহ - জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা

প্রশ্ন

(ক) আমরা তো চারই মাযহাবকে হক বলে স্বীকার করি। তাহলে হিদায়ার মধ্যে অন্যান্য মাযহাবের মাসআলাগুলো খন্ডন করা হয় কেন? শুধু আমাদের মাযহাবটা সাব্যস্ত করলেই তো চলে। হক কথাকে খন্ডন করার কী প্রয়োজন?

(খ) হিদায়ার হাদীসের তাখরীজসমূহের মধ্যে ইবনে হাজার রাহ.-এর তাখরীজে অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে। আর نصب الراية   দীর্ঘ হওয়ার কারণে প্রতিটি হাদীস সেখানে দেখা সম্ভব হয় না। তাই আমি জানতে চাই, হিদায়ার এমন কোনো সংক্ষিপ্ত তাখরীজ আছে কি না যাতে হাদীসের তাখরীজ করা হয়েছে হানাফী মুহাদ্দিসগণের কিতাব থেকে। প্রতিটি হাদীস বর্ণনা করার সাথে সাথে হানাফীদের পরিভাষা অনুযায়ী তা  خبر واحد    না    مشهورনা   متواتر তা বর্ণিত থাকবে। 

 

 

 

 

উত্তর

 

 

 

 


(খ) আদদিরায়া ফী মুনতাখাবি তাখরীজি আহাদিসিল হিদায়া নামে হাফেজ ইবনু হাজার রাহ. হেদায়ার হাদীসের তাখরীজ লিখেছেন। এটি তাঁর নিজের স্বতন্ত্র ও মৌলিক তাসনীফ নয়। বরং নসবুর রায়া-এরই একটি উত্তম খোলাসা ও সারসংক্ষেপ। সুতরাং নাসবুর রায়া গ্রন্থের অনেক বৈশিষ্ট্য স্বত্ত্বেও হেদায়ার হাদীসের তাখরীজের ক্ষেত্রে যে কয়েকটি বিষয়ের অভাব ও শুন্যতা রয়েছে তা এর খোলাসা আদদিরায়াতেও রয়েছে। তবে পার্থক্য হল, নসবুর রায়ায় অনেক হাদীস ও রেওয়ায়েতেরই শুধু তাখরীজ করা হয়েছে, হুকুম ও মান উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু আদদিরায়ায় সংক্ষেপে প্রায় সকল রেওয়ায়েতের হুকুমও বয়ান করা হয়েছে। তবে হেদায়া কিতাবের হাদীস ও রেওয়ায়েতের তাখরীজ এবং সেগুলোর আসল মান ও অবস্থান জানার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট মাসআলার দলীলযোগ্য অন্যান্য হাদীস ও আছার জানার জন্য এ কিতাবটি কোনক্রমেই যথেষ্ট নয়। এর জন্য এ বিষয়ে আহাদীসুল আহকাম এবং হানাফী মুহাদ্দিস ও ফকীহদের সংকলিত হাদীস ও ফিকহে মুদাল্লাল-এর কিতাবের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।

আপনি আপাতত সহজ ও সংক্ষেপে হাদীসসমূহের তাখরীজ-উৎস-উদ্ধৃতি জানার জন্য আদদিরায়া দেখতে পারেন। কোনো সময় তাফসীল প্রয়োজন হলে নসবুর রায়াতেও হাদীসটির তাখরীজ দেখে নিবেন। আর হাদীসের হুকুম ও মান জানার জন্য এবং দলীলযোগ্য অন্যান্য রেওয়ায়েত জানার জন্য ফতহুল কাদীর মুতালাআয় রাখতে পারেন। কারণ এ কিতাবটি মৌলিকভাবে হেদায়ার ফিকহী শর্হ হওয়ার পাশাপাশি হেদায়ার হাদীস ও আছারের মাঝারি কলেবরের তাখরীজও বটে। তাখরীজের ক্ষেত্রে এর মূল উৎসই হচ্ছে নসবুর রায়াএ কিতাবের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হল যে, এতে হাদীসের তাসহীহ তাযঈফের ক্ষেত্রে মানহাজুল মুহাদ্দিসীন ও মানহাজুল ফুকাহা-এর সমন্বয় ঘটেছে।

বেশ কিছু হাদীসের ক্ষেত্রে হাফেয যাইলাঈ রাহ. হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. উভয়েই বলেছেন যে, এই হাদীস আমরা পাইনি বা হাদিসটি আমরা এই শব্দে পাইনি। এধরনের ক্ষেত্রে ফতহুল কাদীর-এর সাথে সাথে কাসেম ইবনে কুতলুবুগা রাহ.-এর

منية الألمعي فيما فات من تخريج أحاديث الهداية للزيلعي

  এবং আদদিরায়া-এর দ্বিতীয় অংশের উপর তাঁর টীকা দেখা যেতে পারে। এরপর প্রয়োজন হলে আহাদীসুল আহকাম ও ফিকহে মুদাল্লাল-এর অন্যান্য কিতাবের মুরাজাআত করতে হবে। এক্ষেত্রে মাওলানা যফর আহমদ উসমানী রা.-এর ইলাউস সুনান কিতাবটি মুতালাআয় রাখা যেতে পারে।

 

 

শেয়ার লিংক