আব্দুল্লাহ আল মামুন - আশরাফুল উলূম মাদরাসা, নেত্রকোণা

প্রশ্ন

 

আমি আগামী বছর জামাতে জালালাইন শরীফ পড়ব ইনশাআল্লাহ। আপনার কাছে আততাখাসসুস ফী উলূমিল হাদীসিশ শারীফপড়তে ভীষণ আগ্রহী। শাইখ মুহিউদ্দীন আওয়ামার মিন সিহাহিল আহাদিসিলি কিসারএক তৃতীয়াংশ হিফজ করেছি। শরহে বেকায়ার সাথে শায়েখ নিমাবী রাহ.-এর আসারুস সুনানঅল্প অল্প মুতালাআ করেছি। এছাড়া হাদীস সম্পর্কিত অন্যান্য কিতাবাদি খুব একটা মুতালাআ করিনি। এখন হযরতের কাছে আমার করণীয় কী জানতে চাচ্ছি। জাযাকাল্লাহু খায়রান।

. শায়েখ যাহেদ আলকাউসারী রাহ., শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ., শায়েখ আবদুল্লাহ বিন বায রাহ. প্রমুখ আলেমদের জীবনী তাসনীফাত সম্বলিত একটি প্রবন্ধ আলকাউসারে ছাপা হলে খুব উপকৃত হব।  

. শাইখ নাসীরুদ্দিন আলবানী রাহ. মুহাক্কিক আলেমদের কাছে নির্ভরযোগ্য কি না এবং কেন। জাযাকাল্লাহু খায়রান।  



 

উত্তর

 

() আল্লাহ তাআলা আপনাকে কামিয়াব করুন। দেখুন কোনো ফনের তাখাসসুসের পূর্ব শর্ত হল, কিতাব বোঝার পরিপক্ক যোগ্যতা, ইলমী নিমগ্নতা এর প্রতিবন্ধক সকল বিষয় থেকে মুক্ত থাকা, উদ্দীষ্ট ফনের প্রতি মনের আগ্রহ ফিতরি যওক, সেই ফনের সাথে পরিচয় ঘনিষ্টতা এবং তাকওয়া-তাহারাত। সুতরাং গুণগুলো হাসিল করার চেষ্টা করা একান্ত প্রয়োজন।  

কিতাব বোঝার যোগ্যতা হাসিল হচ্ছে কি না তা নিজ উস্তাযের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং তাঁর পরামর্শেই ইলমী সফর জারি রাখতে হবে। আগামী বছর আপনি জালালাইন জামাতে পড়বেন, এরপর মিশকাত দাওরায়ে হাদীসে পড়বেন। তো এসব জামাতের কিতাবাদী কীভাবে পড়বেন এবং সেগুলোর সাথে ইযাফী মুতালাআ কী কী করবেন সে সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা তালিবানে ইলম : পথ পাথেয়নামক বইটিতে পেতে পারেন।  

মনে রাখবেন, আপনি কোন্ বিষয়ে তাখাসসুস করবেন, কোথায় ভর্তি হবেন, কী মুতালাআ করবেন, কীভাবে করবেন সবকিছুই আপনার উস্তাযের পরামর্শের উপর মওকূফ।  

() দুআ করুন, ইনশাআল্লাহ আলকাউসারে এই মনীষীদের জীবনী সম্পর্কে লেখা প্রকাশ করার চেষ্টা করা হবে।  

() ২০০৫-এর আলকাউসারের দুটি সংখ্যায় শায়েখ আলবানী রাহ. সম্পর্কে লেখা হয়েছে।

 

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ বুরহানুদ্দীন বিন সা‘দ - জামিয়া মাদানিয়া, ফেনী

প্রশ্ন

 

আল্লাহ হুযুরকে আজীবন সুস্থতার সাথে ইলমে দ্বীনের খেদত আঞ্জাম দেওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন। হুযুর! আমাকে নি¤œ সমস্যাগুলোর সমাধান দিয়ে বাধিত করবেন। () কুদূরী কিতাবটি কীভাবে পড়লে কিতাবটি পড়ার উদ্দেশ্য অর্জিত হবে?

() আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন যে, আরবী সাহিত্যে মাহারাত অর্জন করবো। কিন্তু আরবী চর্চার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় মনটা প্রায় সময় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। তাই হুযুরের কাছে বিনীত নিবেদন এই যে, কীভাবে আরবী চর্চা করলে আমি আরবী সাহিত্যে পূর্ণ মাহারাত অর্জন করতে পারবো?

() আমাদেরকে মাওলানা সফিউল্লাহ ফুয়াদ ছাহেব-এর তালীকযুক্ত কাসাসুন নাবিয়্যীন ৩য় ৪র্থ - পড়ানো হয়। কিতাবদ্বয় কীভাবে পড়লে ফায়দা হবে?

() মুজাআফের জন্য হরফে ইল্লত না হওয়া কি শর্ত? حيى   শব্দটি কি মুজাআফ হতে পারে?


 


 

উত্তর

 

 

() মুখতাসারুল কুদূরী রচনার উদ্দেশ্য হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী মাসআলাসমূহ বোঝা এবং সেগুলো মুখস্থ করা। তাই কিতাবে আপনার প্রধান কাজ হবে  -   প্রথমে আপনি কিতাব হলকরবেন এবং সুস্পষ্টভাবে কিতাবের মাসআলাগুলো বুঝে নিবেন। এরপর মুযাকারা আলোচনার মাধ্যমে বা খাতায় নোট করে মাসআলাগুলো মুখস্থ করবেন। কিতাবে ব্যবহৃত ফিকহী পরিভাষাসমূহ এবং সেগুলোর অর্থ উদ্দেশ্য যথাযথভাবে বুঝে নিবেন এবং মুখস্থ করবেন। 

মোটকথা, কুদূরীর মাসায়েল পরিভাষা ভালোভাবে বুঝে কণ্ঠস্থ করাই আসল কাজ। এর সাথে ভিন্ন মুতালাআর দরকার নেই। দরসেই উস্তাযের কাছ থেকে মাসআলাসমূহ ভালোভাবে বুঝে নিবেন।  

()  মূল বিষয় হলো, কিতাব বোঝার যোগ্যতা এবং অন্যকে বোঝানো কিতাবের বিষয়গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপনের যোগ্যতা। দুটি যোগ্যতা যদি কারো মধ্যে থাকে তাহলে এরপর আরবী সাহিত্যে মাহারাত অর্জনের জন্য প্রয়োজন হবে সাহিত্যের ফিতরি যওক, আরবী সাহিত্যের কিছু গ্রন্থের ইযাফী মুতালাআ। বলা লেখার অনুশীলন এবং আদবী যওকের অধিকারী কোনো ব্যক্তির সোহবত। আরবী আদবের ইযাফী মুতালাআ এবং তামরীন তো আপনি আপনার অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত এমন একজন মুশফিক উস্তাযের নেগরানীতে জারি রাখতে পারেন। এরপর যখন সুযোগ হবে তখন উস্তাযের পরামর্শে কোনো আদীবের সোহবতে থেকে ইস্তেফাদা করতে পারেন। আলকাউসারের গত জানুয়ারী সংখ্যায় আরবী সাহিত্য চর্চা : কিছু কথাশিরোনামে যে লেখাটি ছাপা হয়েছে তা থেকেও আপনি আরবী সাহিত্য চর্চার একটি ধারণা পেতে পারেন।

() কাসাসুন নাবিয়্যীনকিতাব কীভাবে পড়তে হবে সে সম্পর্কে কিছু কথা কিতাবের শুরুতে মাওলানা সফীউল্লাহ ফুয়াদ সাহেবের ভূমিকায় রয়েছে। কিতাবের প্রধান উদ্দেশ্য হল, বিশুদ্ধ আরবী পঠন কিতাবে বর্ণিত ঘটনাবলী এবং সেগুলোর শব্দ ভাষা, তাবীর বাকরীতি আত্মস্থ করা। কিতাবটির পঠন-পাঠনের পদ্ধতি সম্পর্কে আলকাউসারের (যিলকদ ১৪৩৬/ সেপ্টেম্বর ২০১৫) শিক্ষার্থীদের পাতায় মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম-এর দিকনির্দেশনামূলক লেখা ছাপা হয়েছে, আপনি তা দেখে নিতে পারেন।

() সরফ শাস্ত্রের পরিভাষায় মুজাআফশব্দটি ব্যবহৃত হয় এমন সহীহশব্দের জন্য যার মূল হরফের মধ্যে একই হরফ তাকরার হয়। আর মুতাল’ (হরফে ইল্লত বিশিষ্ট) শব্দের মূল হরফের মধ্যে হরফে ইল্লত যদি তাকরার হয় তবে তাকে পরিভাষায় লাফিফবলা হয়। এখন হরফে ইল্লত দুটি যদি আলাদা আলাদা বসে তবে তাকে বলা হয় লাফিফে মাফরূক যেমন: وقى، وعي আর যদি পাশাপাশি একসাথে বসে তবে তাকে বলা হয় লাফিফে মাকরূন সুতরাং عيّ، حيّ، جوّ এই শব্দগুলোকে পরিভাষায় লাফিফে মাকরূন বলা হয়। দ্রষ্টব্য: আসসরফুল কাফী ৪৪-৪৫ তাইসীরুল সরফ পৃ. ৩১।

 

 

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাবের হোসাইন - শাহরাস্তি, চাঁদপুর

প্রশ্ন

 

প্রথমে হুযুরের সিহহাত আফিয়াত কামনা করছি। তারপর জানাচ্ছি-

() আমি শরহে বেকায়ার একজন তালিবে ইলম। আমরা জানি সাহাবীগণ রা. মুকতাদা হওয়ার বিষয়টি স্বীকৃত এবং বিষয়ে আমরা অনেককে এই হাদীসটিও পেশ করতে শুনি - 

أصحابي كالنجوم، بأيهم اقتديتم اهتديتم .

 মিশকাত শরীফের كتاب المناقب باب مناقب الصحابة، رقم الحديث ৩০১৭

- এই হাদিসটিকে رواه رزين বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তো হুযুরের কাছে হাদীসের তাখরীজ এবং সনদের মান জানতে চাই।

() রাযীন-কে? তার পরিচয় জানতে আগ্রহী।

() সাহাবাদের মুকতাদা হওয়ার বিষয়ে কিছু নির্ভরযোগ্য মাওয়াদ জানতে চাই। আল্লাহ তাআলা হুযুরের ইলমে, আমলে, আওকাতে এবং সবকিছুতে বরকত দান করুন। আমীন।

 

 

 

উত্তর

 

 

 

() আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসটি বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন, মুসনাদু আবদ ইবনু হুমাইদ (হাদীস নং ৭৮৩), গারায়িবু মালিক, দারাকুতনী, মুসনাদুশ শিহাব, কিতাবুস সুন্নাহ আবু যর হারাবী ইত্যাদি। হাদীসটির বিস্তারিত তাখরীজ উদ্ধৃতি জানার জন্য নিম্নের কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে।  

. আলবদরুল মুনীর, ইবনুল মুলাক্কিন /৫৮৪-৫৮৮ (কিতাবুল কাযা) 

. আততালখীসুল হাবীর, ইবনু হাজার আসকালানী /১৮৮-৩১৯ (কিতাবুল কাযা) 

. তাখরীজু আহাদিসিল কাশশাফ, যায়লায়ী /২২৯-২৩২ 

আর হাদীসটির সনদের মান এবং হুকুম সম্পর্কে আব্দুল হাই লাখনাবী রাহ. تحفة الأخيار بإحياء سنة سيد الأبرار   কিতাবে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করেছেন।  এই রেওয়ায়েতটি বিভিন্ন শব্দে একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে। তবে সবকটি সনদই যয়ীফ। কিন্তু এর যে মর্ম তা সহীহ সনদে বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন আবু মূসা আশআরী রা.-এর সূত্রে বর্ণিত-

النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ، فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ أَتَى السَّمَاءَ مَا تُوعَدُ، وَأَنَا أَمَنَةٌ لِأَصْحَابِي، فَإِذَا ذَهَبْتُ أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ، وَأَصْحَابِي أَمَنَةٌ لِأُمَّتِي، فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمَّتِي مَا يُوعَدُونَ.

--সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৩১

() রযীনহলেন ষষ্ঠ শতকে মালেকী মাযহাবের একজন আলেম। পূর্ণ নাম রযীন ইবনু মুআবিয়া আল-আবদারী। তাঁর জন্মস্থান আন্দালুস, তবে তিনি মক্কা মুকাররমার অভিবাসী ছিলেন। তিনি ৫২৫ হিজরী সনে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী জানার জন্য দেখা যেতে পারে- আল ইকদুছ ছামীন ফী তারীখিল বালাদিল আমীন, তাকীউদ্দীন ফাসী, /৩৯৮ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা, যাহাবী ২০/২০৪

মিশকাতের মুসান্নিফ উপরোক্ত স্থানে রযীনের যে কিতাবটির প্রতি ইশারা করেছেন সেটি হল, تجريد الصحاح والسنن নামক কিতাব। এতে তিনি সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযী, সুনানে আবূ দাউদ , সুনানে নাসায়ী এবং মুয়াত্তা এই ছয় কিতাবে বর্ণিত হাদীসসমূহ সনদ ছাড়া শুধু মতনকে একত্রে সংকলন করেছেন। পূর্বোক্ত ছয় কিতাবের হাদীসসমূহ একত্রে সংক্ষেপে সংকলন করতে গিয়ে রযীন রহ. বিভিন্ন প্রসঙ্গে নিজের থেকে এমন কিছু রেওয়ায়েতও সংযোজন করেছেন যা উপরোক্ত কিতাবগুলোতে নেই। তিনি নিজের সংযোজিত রেওয়াতগুলোকে সাধারণত সনদ বর্ণনা করা ছাড়াই এবং উৎসগ্রন্থের উদ্ধৃতি ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। প্রশ্নোক্ত হাদীসটিও রযীন রহ. তাঁর কিতাবে সনদ এবং কিতাবের হওয়ালা ছাড়াই বর্ণনা করেছেন।

রযীন এবং তাঁর কিতাবের পর্যালোচনার জন্য শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবূ গুদ্দাহ রহ. এর সারগর্ভ আলোচনা পড়ে নিতে পারেন, যা তিনি مبادئ علم الحديث وأصوله কিতাবের ৬৫৭-৬৫৯ নং পৃষ্ঠায় নং হাশিয়ায় লিখেছেন। এটি মূলত হযরত শাব্বির আহমদ উসমানী রহ. রচিত ফতহুল মুলহিম গ্রন্থের মুকাদ্দিমাহ; যা পরবর্তীতে শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ রহ. নিজ তাহকীক তালীকসহ ভিন্নভাবে উপরোক্ত নামে ছেপেছেন।

 () বিষয়ে স্বতন্ত্র অনেক কিতাব রিসালা রয়েছে। এছাড়া আকায়েদ তাফসীর, হাদীস, উসূলে হাদীস, উসূলে ফিকহ এবং সিয়ারুস সালাফ বিষয়ক কিতাবেও বিষয়ের আলোচনা পাওয়া যাবে। আমি এখন কেবল তিনিটি কিতাবের কথা উল্লেখ করছি- . লামুল মুয়াক্কিয়ীন, শায়খ ইবনুল কায়্যিম রাহ.

. মাকামে সাহাবা, মুফতী শফী রাহ.

. শিয়া-সুন্নী ইখতেলাফ আওর সিরাতে মুস্তাকীম, মাওলানা ইউসুফ লুধিয়ানবী রাহ. কিতাবের ইত্তেবায়ে সাহাবা সংক্রান্ত আলোচনা অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং অনন্য সাধারণ।

 

 

 

 

 

শেয়ার লিংক

শামীমা সোবহা - সিলেট

প্রশ্ন

আমি মেশকাত জামাতের ছাত্রী। আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে আমার সমস্যার কথা জানাচ্ছি। আমার অনেক আশা, আমি পরিপূর্ণ মনোযোগ নিয়ে দরসে বসবো এবং প্রতিটি বিষয়ের তাকরীর মন দিয়ে শুনবো। আমার আশা অনুযায়ী দরসের মধ্যে পূর্ণ মনোযোগ নিয়ে বসি। কিন্তু আফসোসের বিষয় হল, দরস চলাকালীন অবস্থায় কোত্থেকে যে একেকটা বিষয় এসে মনের মধ্যে উদয় হয় আর সব মনযোগ নষ্ট করে দেয়। এরপর আর কিছুতেই দরসে মন বসাতে পারি না। আমি কীভাবে দরসে মন বসাতে পারি? জানিয়ে সহযোগিতা করবেন।


উত্তর

অপ্রাসঙ্গিক চিন্তা-ভাবনা কমানোর উপায় হলসকল অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে দূরে থাকা এবং যথাসম্ভব নিজেকে ইলম ছাড়া অন্য সকল ঝামেলা ও ব্যস্ততা থেকে মুক্ত রাখা এবং অন্তরকে ইলমের মুহাব্বতে পরিপূর্ণ করা। এ ছাড়া অপ্রাসঙ্গিক চিন্তা দূর করার জন্য নিম্নোক্ত দুআ নিয়মিত পাঠ করতে পারেন- 

رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَّحْضُرُوْنَ. اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَسَاوِسِ الصَّدْرِ، وَشَتَاتِ الْأَمْرِ.

আর যদি কোনো দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থাকে তবে তার চিকিৎসা হলনিজেকে আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু করুন এবং নিজের সকল বিষয়কে আল্লাহ তাআলার সোপর্দ করে ভারমুক্ত হোন এবং পড়াশোনায় মগ্ন থাকুন। সকাল-সন্ধা নিম্নোক্ত মাছুর দুআটি পাঠ করুন।

اللّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ، وَقَهْرِ الرِّجَالِ.

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - কাফিয়া জামাত, ঢাকা

প্রশ্ন

একটি দীর্ঘ চিঠি।

 

উত্তর

লেখা পড়ার বিষয়ে বিভিন্ন পেরেশানীর কথা উল্লেখ করে আপনার একটি দীর্ঘ চিঠি আমি পেয়েছি। আপনি সুযোগ করে সরাসরি সাক্ষাৎ করুন। সাক্ষাতে বিস্তারিত অবস্থা শুনে পরামর্শ দেওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। আসার পূর্বে যোগাযোগ করে সময় নির্ধারণ করে আসবেন।

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ বিন সোহরাব - জামিয়া আরাবিয়া মিনহাজুল উলূম , শাহাবাজপুর, জামালপুর

প্রশ্ন

আল্লাহ তাআলা হযরতকে নেক হায়াত দান করুন। আমি নাহবেমীর জামাতের একজন ছাত্র। হযরতের কাছে একটি বিষয় জানার আবেদন করছি- আলকাউসারের মার্চ ২০১৬ ঈ. সংখ্যার শিক্ষা পরামর্শবিভাগের নং প্রশ্নের ()-এর উত্তরে বলা হয়েছে, পরিভাষায় مضاعف  শব্দটি ব্যবহৃত হয় এমন সহীহশব্দের জন্য যার মূল হরফের মধ্যে একই হরফ তাকরার হয়।

এই হিসাবে حي শব্দটিকে লাফিফবলা হয়েছে মুযাআফবলা হয়নি। কিন্তু ইলমুস সিগাহ কিতাবে বাবে সুওয়াম-এর ২য় ফছলের কিসমে চাহারাম-এর বাবুত্তাফাঊল-এর গরদানের আলোচনায় التحيِيَة-কে التحِيَّة করা হয়েছে। লাফীফ-এর আইন কালিমায় তালীল হয় না। এটা সত্ত্বেও মুযাআফ হিসেবে عين كلمة-এর হরকতকে ফা-কালেমাতে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে শব্দটিকে لفيف-এর সাথে مضاعف বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং التحِيَّة শব্দটি حرف صحيح না হওয়া সত্ত্বেও কি مضاعف হবে? না لفيف হবে? বিষয়টির ব্যাখ্যা জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।


উত্তর

দেখুন মূলত মুযাআফ’ এবং মুতাল’ শব্দের মাঝে কোনো বৈপরিত্য নেই। মুযায়াফ’ শব্দের সারকথা হলশব্দের যে মূল মাদ্দা রয়েছে তাতে কোনো হরফের তাকরার ও পুনরুক্তি থাকা। পুনরুক্ত হরফটি যেমন হরফে ইল্লত হতে পারে তেমনি অন্য কোনো হরফে সহীহও হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলসরফের মুসান্নিফদের পরিভাষায় মুযায়াফ’ শব্দটি কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে?

মশহুর পরিভাষা হলযে শব্দে হরফে সহীহ-এর তাকরার হয় তাকে মুযায়াফ’ বলা হয়ে থাকে। আর যে শব্দে হরফে ইল্লতের তাকরার হয় তাকে সাধারণত কেবল লাফিফ’ নামে নামকরণ করা হয়। কিন্তু কোনো কোনো মুসান্নিফের পরিভাষায় মুযায়াফ’ শব্দটি আরেকটু ব্যাপক। হরফে সহীহ ও হরফে ইল্লত উভয়ের তাকরারের ক্ষেত্রেই মুযায়াফ শব্দটি ব্যবহারকরে থাকেন।  হল নাম বা পরিভাষার কেবল প্রয়োগিক বৈচিত্র্যবৈপরীত্য নয়। একারণেই তো বলা হয় لا مشاحة في الاصطلاح

শেয়ার লিংক

আবুল ফারাহ - মোহাম্মাদপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

ক : মুহতারাম! আমি দুই বছর আগে হেদায়াতুন্নাহু কিতাবটি পড়েছি। এখন দুই বছর পরে দেখছি, কিতাবটির অনেক কায়দাই আমার মনে নেই। সব কায়দা যাতে সহজেই মনে রাখতে পারি এজন্য আমি কী পদ্ধতি অনুসরণ করবো?

খ : একালে মানতেক শাস্ত্র পড়ার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু এবং কী পরিমাণ পড়া যথেষ্ট? আর এ বিষয়ে নিজে নিজে মুতালাআ করতে চাইলে আমি আরবী ও উর্দূ ভাষায় সহজ কোন কিতাব পড়তে পারি? আল্লাহ তাআলা হযরতকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।


উত্তর

(ক) : মুতালাআর একটি প্রকার  হচ্ছে ইলম তাজা রাখার উদ্দেশ্যে মুতালাআ। তাই কোনো বিষয় দরসে পড়ার পরও সেই বিষয়ের বুনিয়াদি কাওয়ায়েদ ও মাসায়েল মনে রাখার জন্য ঐ বিষয়ের কোনো একটি মতনকে ইলমী যিন্দেগীর সঙ্গীরূপে সাথে রাখা প্রয়োজন হয়। তো আপনিও নাহবের কাওয়ায়েদ ও মাসায়েলের ইয়াদকে তাজা রাখার জন্যহেদায়াতুন্নাহু’ কিতাবটি মাঝেমধ্যে সুযোগ মতো মুতালাআ করে নিতে পারেন। পূর্ণ কিতাব কিংবা যে অংশটি আপনার ইয়াদ নেই অথবা যে অংশটি আপনার কাছে তুলনামূলক জটিল বলে মনে হয় সে অংশটি বারবার মুতালাআ করা। আর যখনই যে কায়দা বা মাসআলার ব্যাপারে সন্দেহ দেখা দেয় তখনই তা কিতাব খুলে দেখে নেয়াকেবল ধারণার উপর নির্ভর না করা। এছাড়া আপনি যখন আরবী কিতাবাদি পড়বেন তখন তাতে নাহবের কায়দা-কানুন খুব যতœ সহকারে সঠিকভাবে প্রয়োগ করবেন। এভাবেই ইনশাআল্লাহ নাহবের ইলম তাজা থাকবে।

(খ) এ সম্পর্কে একাধিকবার শিক্ষার্থীর পাতায় লেখা হয়েছে। এজন্য আপনি তালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয়’ বইটি থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তর পড়ে নিতে পারেন। দেখুনএ যামানায় মানতেক শাস্ত্র সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা এবং এর কাওয়ায়েদ ও পরিভাষাসমূহ স্পষ্টভাবে বুঝে নেওয়াই যথেষ্ট। আর এর জন্য এ বিষয়ের কোনো একটি কিতাব মুতালাআও যথেষ্ট হতে পারে। এজন্য আপনি মুতালাআ করতে পারেন উর্দূ ভাষায় মাওলানা সাঈদ আহমদ পালনপুরী (দা. বা.)-কৃত আসান মানতিকযা মূলত তাইসীরুল মানতিক’-এর পরিমার্জিত সংস্করণ। আর আরবী ভাষায় তালখীসুল মিরকাত’ যা হযরত থানবী রাহ. রচিত আত্তালখীছাতুল আশ্র’ কিতাবের প্রথম রিসালা- সেটিও মুতালাআ করতে পারেন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জহীরুল ইসলাম - মদীনাতুল উলূম মাদরাসা, নোয়াখালী

প্রশ্ন

হযরতের নিকট নিম্নোক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান কামনা করছি।

ক. নূরুল আনওয়ারের ৩৯-৪০ পৃষ্ঠায় احتياطا  দ্বারা দুটো হুকুম ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে। তদ্রূপভাবে শরহে বিকায়া ছানীর ৩৪ পৃষ্ঠায় تجب العدة احتياطا আছে। এখন অধমের জিজ্ঞাসা হল, ওয়াজিব সাধারণত সাব্যস্ত হয় দলীলে যন্নী দ্বারা। তাহলে "احتياطا" দ্বারা কীভাবে ওয়াজিব সাব্যস্ত হবে?

. যদি احتياطا দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয় তাহলে শুধু কি عبادة مقصودة-এর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না কী?

. নূরুল আনওয়ারের তিন নাম্বার পৃষ্ঠার ১নং হাশিয়াতে লিখা আছে- "قال في

نتائج الأفكار ناقلا عن غاية البيان" কওলের কায়েল কে? এবং نتائج الأفكار কিতাব হলে তার পরিচিতি জানতে চাচ্ছি।


 

উত্তর

(-) الفقه المجرد হল সংক্ষিপ্ততার জন্য দলীল-প্রমাণ উল্লেখ ছাড়া শুধু ফিকহী হুকুম বয়ান করা। মুতুনের কিতাবগুলো প্রকারের অন্তর্ভূক্ত। যেমন মুখতাসারুল কারখী, মুখতাসারুত তহাবী, মুখতাসারুল কুদূরী ইত্যাদি। الفقه المدلل হল ফিকহী মাসায়েল দলীল-প্রমাণ উল্লেখসহ আলোচনা করা। আর الفقه المقارن হল কোনো ফিকহী মাসআলায় দলীল-প্রমাণের আলোকে ফুকাহায়ে কেরামের বিভিন্ন মাযহাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ। ধরনের কিছু কিতাব যেমন ইমাম মুহাম্মাদ রাহ.-এর কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ, ইমাম কুদূরীর আত তাজরীদ এবং শরহু মুখতাসারিল কুদূরী। আবু বকর রাযী আল জাস্সাস-এর শরহু মুখতাসারিত তহাবী, হেদায়া এবং বাদায়েউস সানায়ে ইত্যাদি।

() এটি আধুনিক উসলূবের মুতাওয়াসসিত স্তরের ফিকহে মুদাল্লালের কিতাব। দরসে নেযামীর শরহে বেকায়া কিতাবটি যে স্তরে পড়ানো হয় সে স্তরের কিতাব এটি। কিতাবটি সহজ মুফীদ, তবে তাতে তাহকীক ইতকানের কিছু অভাব রয়েছে।

() এজন্য তো আল ফিকহুল মুদাল্লাল এবং আল ফিকহুল মুকারান-এর কিতাবসমূহের উযহিয়াঅধ্যায় দেখতে পারেন। এছাড়া ইলাউস সুনানকিতাব থেকেও উযহিয়াঅধ্যায়টি মুতালাআ করতে পারেন।

 


শেয়ার লিংক

মুরশিদুল আলম - তারাগঞ্জ, রংপুর

প্রশ্ন

আমি শিক্ষা পরামর্শবিভাগের একজন নিয়মিত পাঠক। আমি এই বিভাগের প্রশ্ন-উত্তরগুলো পাঠ করে ছাত্রজীবনের অনেক সমস্যার সমাধান খুঁজে পাই। তাই আমি আপনাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। তবে আপনাদের কাছে আমার একটি বিশেষ অনুরোধ, এই বিভাগের পাতা আরও বৃদ্ধি করা হোক।

এই পত্রে আমি আপনাদের কাছে দুটি প্রশ্ন রাখলাম। দয়া করে প্রশ্ন দুটির উত্তর দিয়ে আমাকে চিন্তামুক্ত করবেন।

(ক) আমি যেহেতু একজন কওমী মাদরাসার ছাত্র সেহেতু আমার অন্তরে উর্দূ ভাষা সম্পর্কে একটি প্রশ্ন উদয় হয় যে, কওমী মসাদরাসার দরসে উর্দূ ভাষার প্রতি এত গুরুত্বারোপ কেন, যেমনটি বাংলা ভাষার প্রতি নেই। তবে ঢাকা ও ঢাকা প্রতিবেশী জেলাগুলির কওমী মাদরাসাগুলোতে বাংলা ভাষার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমার জানার বিষয় হল, উর্দূ ভাষার প্রতি কওমী মাদরাসাগুলোতে এত আসক্তি কেন?

(খ) অনেকেই তাবলীগ জামাতের বিরোধিতা করে বলে যে, তারা তরবারির জিহাদ করে না শুধু নফসের জিহাদ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরবারির জিহাদও করেছেন এবং তার প্রতি উম্মতকে উৎসাহ দিয়েছেন। এখন আমি আপনাদের কাছে উক্ত প্রশ্নের জবাব চাই। দয়া করে উত্তর জানিয়ে আমাকে বাধিত করবেন।


উত্তর

(ক) মেরে ভাই! উর্দূ ভাষায় তো অনেক দিন ধরে দ্বীনী কিতাবাদির এক বিশাল ভাণ্ডার গড়ে উঠেছে। কুরআনে কারীমের তরজমা ও তাফসীরহাদীসের তরজমা ও তাশরীহ,ফিকহ ও ফতোয়াসীরাত ও তারীখমালফুজাতমাকতুবাতখুতুবাতবিভিন্ন ইলম ও ফনের বুনিয়াদি কিছু কিতাব এবং দ্বীনী রাসায়েলের এক বিশাল ভাণ্ডার। এসব রচনাবলী এই উপমহাদেশের মুসলমানদের মৌরুসী সম্পদ। এসব থেকে উপকৃত হতে হলে উর্দূ ভাষা জানার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে এদেশের আহলে ইলমগণ উর্দূ ভাষা থেকে বে-নিয়ায হতে পারেন না। এই হচ্ছে উর্দূ ভাষার প্রতি তাঁদের অনুরাগের কারণ।

বলার অপেক্ষা রাখে নাবাংলা আমাদের মাতৃভাষাএ ভাষায় আমরা দৈনন্দিন কথা বলি। এদেশের মানুষের মাঝে দাওয়াতের কাজ করতে হলে বাংলা ভাষায় করতে হবে। এদেশের মানুষের জন্য কুরআনে কারীমের তরজমা ও তাফসীরহাদীসের ব্যাখ্যা এবং দ্বীনী বই-পুস্তক বাংলা ভাষাতেই রচনা করতে হবে। সুতরাং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চার প্রতি অবহেলা অবাঞ্ছনীয়। তবে ছাত্রদের জন্য তা হতে হবে উস্তাযের তত্ত্বাবধানে এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায়।

(খ) মেরে দোস্ত! শুধু তাবলীগ জামাতের উপর আপত্তি কেনদ্বীনী খেদমতের নানা অঙ্গনে কর্মরত সকলেই কি শরয়ী জিহাদ আঞ্জাম দিচ্ছেনএছাড়া শরয়ী জিহাদের সকল শর্ত ও ক্ষেত্র পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান আছে কি না তা দেখার কি প্রয়োজন নেইআর তাবলীগ জামাতের তো এমন কোনো উসূল নেই যাতে বলা হায়েছে যেশরয়ী জিহাদের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে তাবলীগ জামাতের সাথে জড়িত কেউ কেউ যে জিহাদ বিষয়ক আয়াত ও হাদীসকে কোনোরূপ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই সরাসরি দাওয়াতের কাজের পক্ষে পেশ করে থাকেন তা গ্রহণযোগ্য নয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাজহারুল ইসলাম - জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রশ্ন

 হুযুর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। আমি ইসলামী জীবন যাপন করতে খুবই আগ্রহী ও ইসলামী শরীয়ত মেনে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু ওলামায়ে কেরামের সাথে আমাদের সম্পর্ক না থাকার দরুণ আমরা ইসলাম সম্পর্কে পূর্ণরূপে জেনে মানতে পারি না। কিন্তু আমার জানা মতে অন্য দেশের ছাত্ররা ওলামায়ে কেরামের সাথে সম্পর্ক রাখা ও তাদের কিতাবাদি অধ্যয়নে রাখার কারণে অনেক ধর্মপরায়ণ। আর আমাদের বাংলাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যা কিছু অধ্যয়ন করে তা অধিকাংশই মওদুদী বা মওদুদীপন্থী বা ভ্রান্ত লেখকদের বই। তাই হুযুরের কাছে আমার সনির্বন্ধ আবেদন বাংলা ভাষায় ইসলামী জীবন ব্যবস্থারউপর হক্কানী ওলামায়ে কেরামের লিখিত একটি বিস্তারিত তালিকা দিয়ে দ্বীনী ইলম অন্বেষণের পথে আমাদের সহায়তা করবেন বলে আশা রাখি।


উত্তর

দ্বীনের সঠিক বোধ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং দ্বীনের উপর অটল-অবিচল থাকার জন্য জরুরি হলআহলে হক আলেমদের এবং আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং তাঁদের পরামর্শ অনুসারে চলা। এর পাশাপাশি তাদের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে দ্বীনী গ্রন্থ ও বই-পুস্তক অধ্যয়ন করাও জরুরি। গ্রন্থ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে কেবল ব্যক্তিগত অধ্যয়ন যথেষ্ট নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী শিখতে হবেএবং নিজস্ব ধারণার উপর তাদের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আপনি দ্বীনী বই-পুস্তকের একটি বিস্তারিত তালিকা পেশ করতে বলেছেন। তো এই মুহূর্তে বিস্তারিত তালিকা পেশ করা কঠিন। এটি সময় সাপেক্ষ বিষয়। এছাড়া অধ্যয়নযোগ্য বিষয়াবলী তো অনেক। এরপর প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে একাধিক কিতাব। আহলে হক ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের রচিত নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। প্রতি শ্রেণীর সকল পর্যায়ের পাঠক সকল গ্রন্থ আত্মস্থ করতে পারবে- এমনটি অপরিহার্য নয়। সর্বপরি অধ্যয়নকারীর যোগ্যতাবয়স ও অবস্থার ভিন্নতা ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ই এমনযে কারণে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অবস্থা অনুযায়ী কোনো বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শে গ্রন্থ নির্বাচন করা প্রয়োজন। তো এখন এখানে আপাতত সংক্ষেপে বিষয়ভিত্তিক কিছু গ্রন্থ ও পুস্তিকার তালিকা পেশ করছি।

 

তরজমা ও তাফসীর

১. এমদাদিয়া লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত বঙ্গানুবাদ কুরআন শরীফযা মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ সাহেব,মাওলানা আব্দুল মজীদ প্রমূখ কর্তৃক সম্পাদিত।

২. তাফসীরে তাওযীহুল কুরআনমুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানীঅনুবাদ : মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম।

৩. মাআরিফুল কুরআনমুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. অনুবাদ : মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রাহ. (আট খণ্ডে)

৪. তাফসীরে উছমানীমাওলানা শাব্বির আহমদ উসমানী। (৪ খণ্ডে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত)

৫. সংক্ষিপ্ত তাফসীরে উছমানীঅনুবাদ : প্রফেসর মাওলানা গিয়াসুদ্দীনথানবী লাইব্রেরী।

 

হাদীস

১. মাআরিফুল হাদীসমাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানীঅনুবাদ : ইসলামিক ফাউন্ডেশন অথবা এমদাদিয়া লাইব্রেরী।

২. আল আদাবুল মুফরাদইমাম বুখারীঅনুবাদ : মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী।

 

ফিকহ-মাসায়েল

১. বেহেশতী জেওরঅনুবাদ : মাওলানা আহমদ মায়মূনউস্তাযজামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ। ২. ফাতাওয়া ও মাসাইলইসলামিক ফাউন্ডেশন। ৩. হাদীস ও মাসায়েলে আহনাফইসলামিক ফাউন্ডেশন। ৪. নবীজীর নামাজঅনুবাদ : মাওলানা যাকারিয়া আবদুল্লাহ। ৫. দলীলসহ নামাযের মাসায়েলমাওলানা আবদুল মতীন।

 

আকাঈদ

১. ফুরুউল ঈমানহাকীমুল উম্মত থানবী রাহ.অনুবাদ : মাওলানা মুহাম্মাদ জালালুদ্দীনমাকতাবাতুল আশরাফ থেকে প্রকাশিত। ২. ঈমান ও আকীদাহাকীমুল উম্মত থানভী রাহ. ৩. ঈমান সবার আগে,মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক।

সীরাত -শামায়েল

১. সীরাতে খাতামুল আম্বিয়ামুফতী শফী রাহ. ২. নবীয়ে রহমতআবুল হাসান আলী নদবী রাহ. ৩. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সভ্য পৃথিবীর ঋণ স্বীকারআবুল হাসান আলী নদভী রাহ.

৪. সীরাতে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামইদরীস কান্ধলভী রাহ. ৫. আসাহহুস সিয়ারমাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম অনুদিতএমদাদিয়া থেকে প্রকাশিত। ৬. উসওয়ায়ে রাসূলে আকরামড. আবদুল হাই আরেফী।

 

বিবিধ

১. তাযকিরাতুল আখেরাহপ্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান। ২. তাসাওউফ : তত্ত্ব ও বিশ্লেষণমাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক। ৩. কুরআনের ডাক ও আমাদের জীবনপ্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান। ৪. ইসলামকে জানতে হলেমাওলানা আবু তাহের মেসবাহ। ৫. ইসলামের ডাকপ্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান। ৬. প্রচলিত ভুলমারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা থেকে মুদ্রিত। ৭. প্রচলিত জাল হাদীস,মারকাযুদ দাওয়াহ থেকে প্রকাশিত। ৮. উম্মাহর ঐক্য : পথ ও পন্থামাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক। ৯. মাযহাব কী ও কেনমুফতী তাকী উসমানীঅনুবাদক : মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ। ১০. খেলাফত ও রাজনীতি : ইসলামী দৃষ্টিকোণমাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ।

এছাড়া দ্বীনী বিভিন্ন বিষয়ের উপর আকাবিরে উলামায়ে কেরামের রচনাবলী অধ্যয়ন করা বেশ উপকারী। যেমন হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রাহ.মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানী রাহ.আবুল হাসান আলী নদবী রাহ. এবং মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম প্রমূখের লিখিত বই-পুস্তক,মাওয়ায়েজ এবং বয়ানসমগ্র। এখানে নমুনাস্বরূপ কয়েকটি উল্লেখ করা হলো : 

আশরাফ আলী থানবী রাহ.-এর

১. ইসলাহী নেসাব, (দশটি কিতাবের সংকলন) ২. মাওয়ায়েজে আশরাফিয়াঅনুবাদ : এমদাদিয়া লাইব্রেরীচকবাজার। ৩. মাজালিসে হাকীমুল উম্মতমুফতী শফী রাহ. (সংকলিত) ৪. মুনাজাতে মাকবুল,মাওলানা যাকারিয়া আবদুল্লাহ অনুদিত।

৫. বাসায়েরে হাকীমুল উম্মত।

মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানী রাহ.-এর

১. ইসলাম কী ও কেন২. দ্বীন ও

শরীয়ত। ৩. নামাজের হাকীকত। ৪. কুরআন আপনাকে কী বলে?

মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রাহ.-এর

১. আরকানে আরবাআহঅনুবাদ : মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ। ২. ইসলামী জীবন বিধানঅনুবাদ : মাওলানা ফরীদুদ্দীন মাসউদ।

তাকী উসমানী দা. বা.-এর

১. ইসলাহী মাজালিস। ২. ইসলাম ও আমাদের জীবন, (নির্বাচিত রচনা ও বয়ান সমগ্র১৪ খণ্ডে) ৩. যিক্র ও ফিকর। ৪. কুরআন সুন্নাহর আলোকে পরিবার ব্যবস্থা।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ওসমান গণি - নাসির মেমোরিয়াল কলেজ, ফেনী

প্রশ্ন

মুহতারাম, আমি নূরানী ৩য় জামাত পর্যন্ত পড়ার পর স্কুলে লেখাপড়া করি। বর্তমানে আমি ইন্টার ২য় বর্ষের ছাত্র। হুযুরের নিকট কয়েকটি বিষয়ে জরুরি পরামর্শ চাচ্ছি।

এক. দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও পূর্ণ বুঝ অর্জনের জন্য আমি কী অধ্যয়ন করতে পারি এ ব্যাপারে আপনার দিক-নির্দেশনা কামনা করছি।

দুই. ছোট বেলায় মাদরাসায় পড়ার কারণে আমি কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতে পারি। নিয়মিত কিছু কিছু তিলাওয়াত করার চেষ্টা করি। কিন্তু আরবী ভাষা-জ্ঞান না থাকার কারণে কুরআন মাজীদের অর্থ ও মর্ম অনুধাবন করতে পারি না। এ কারণে আমার ভেতরে একটি কষ্ট অনুভব হয়। কখনো সে কষ্ট পানি হয়ে চোখ থেকে ঝরে পড়ে। তাই তিলাওয়াতের সাথে সাথে অর্থ ও মর্ম বুঝার জন্য আমি কী করতে পারি? কীভাবে আমি এ পথে অগ্রসর হব? কলেজের শিক্ষার পাশপাশি কিংবা চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার পর কিছু সময় দিয়ে আমি যেন কুরআন বুঝার এ নিআমতের অধিকারী হতে পারি এ ব্যাপারে হুযুরের মূল্যবান দিকনির্দেশনার প্রত্যাশায় আছি। আল্লাহ হুযুরকে দ্বীনের উত্তম থেকে উত্তম খেদমতের জন্য কবুল করুন। আমীন।


উত্তর

(ক) পূর্বোক্ত প্রশ্নের উত্তরটি পড়ুন।

(খ) কুরআনের ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের জন্য হযরত মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ দামাত ববারাকাতুহুমের আততরীকু ইলাল আরাবিয়্যাহ (এসো আরবী শিখি) বেশ উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ। এর সাথে যদি আত তামরীনুল কিতাবী আলাত তরীকি ইলাল আরাবিয়্যাহ অনুশীলনের সাথে পড়া যায় তাহলে তো আরো ভালো হয়। এরপর তাঁর কিতাব অততরীকু ইলাল কুরআনিল কারীম (এসো কুরআন শিখি) কিছু কিছু করে অধ্যয়ন করতে পারেন। মনে রাখতে হবেএই কিতাবগুলোর ছবক কোনো উস্তাযের কাছে পড়তে পারলে অধিক ফলপ্রসূ হবে। এই পড়াশোনার কাজ আপনি প্রতিদিন অল্প কিছু সময় করে যেমন এক ঘণ্টা বা আধাঘণ্টাছুটির দিনগুলোতে এবং পরীক্ষা পরবর্তী বিরতির দনিগুলোতে আঞ্জাম দিতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে কামিয়াব করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তানভীর আহমাদ - রহমতপুর, কুমিল্লা

প্রশ্ন

আমি মাদানী নেসাবের চতুর্থ বর্ষের একজন ছাত্র। আমি হাদীসশাস্ত্র অধ্যয়নে আগ্রহী। তাই প্রাথমিকভাবে হাদীস অধ্যয়নে একজন মধ্যম পর্যায়ের ছাত্রের জন্য কী করণীয়? অর্থাৎ প্রাথমিক অধ্যয়ন পদ্ধতি ও প্রাথমিক পর্যায়ের কী কী কিতাব পড়া জরুরি। এক্ষেত্রে হিফযুল হাদীস’-এর গুরুত্ব কতটুকু এবং এর পরিমাণ কেমন হতে পারে? হাদীস অধ্যয়নে ও হিফযে কী কী বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে?


উত্তর

এজন্য আপনি উস্তাযের তত্ত্বাবধানে ধারাবাহিকভাবে কিছু ইযাফী মুতালাআ ও কাজ করতে পারেন। এখন আপনি ইমাম নববী রাহ.-এর রিয়াযুস সালেহীন’ দ্বারা মুতালাআ শুরু করতে পারেন। এ কিতাব থেকেই আপনি হাদীসের হিফ্যও করতে পারেন। এর পূর্বে সম্প্রতি শায়েখ মুহিউদ্দীন আওয়ামাহ সংকলিত মিন সিহাহিল আহাদিসিল কিসার’ সংক্ষিপ্ত রিসালা  থেকেও আপনি হিফজ শুরু করতে পারেন। এ রিসালাটির বাংলা অনুবাদ হয়েছে এবং এর শুরুতে হিফযুয নুসূস’ সংক্রান্ত একটি ভূমিকা রয়েছেএটি আপনি পড়ে দেখতে পাড়েন। এরপর হেদায়ার সাথে হেদায়ার হাদীসের তাখরীজ নসবুর রায়াহ’ মুতালাআয় রাখতে পারেন। আর আহাদিসুল আহকামের মুতালাআ ও হিফজের জন্য তো আসারুস সুনান’ রয়েছে। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রেজা বিন শরীফ - মুন্সিগঞ্জ

প্রশ্ন

আমি মেশকাত জামাতের ছাত্র। ছোট থেকেই বড় হওয়ার স্বপ্ন। যখন আমি আলকাউসারমাদরাসায় নাহবেমীর জামাতে পড়ি তখন আমার একজন উস্তাযে মুহতারাম একটি বিষয়ে পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, তুমি যদি মাওলানা আবদুল মালেক ছাহেব দা. বা.-এর মত হতে চাও তাহলে ... করো। তারপর আমি উস্তাযে মুহতারামের পরামর্শের উপর অটল থাকি। এ কথাটি আমার প্রায় মনে পড়ে। কিন্তু হতাশা যেন আমাকে একদমই ছেয়ে ফেলে। পরক্ষণেই কালামুল্লাহর لا تقنطوا من رحمة الله  আয়াতটি সান্ত¡নার পরশ বুলিয়ে দেয়। তাই আজও যামানার হাফেজ্জী, ফরিদপুরী, মাদানী রাহ. প্রমূখের মতো হওয়ার স্বপ্ন লালন করি। কিন্তু তা দিনে দিনে যেন ভাটার পথে। কারণ, আমি এমন একজন ছাত্র যে, পড়লে মনে থাকে না। পড়া-লেখা তেমন একটা পারি না। অপর দিকে আসাতেযায়ে কেরামের নেক নজর বা ডাক-খোঁজ প্রাপ্ত ছাত্রদের মধ্য থেকেও নই। আমি বুঝাতে চাচ্ছি, আমার অবস্থাটা এমন, ‘না ঘারকা, না ঘাটকা তাই কবুলিয়্যাত ও কাবিলিয়্যাত (যা আসাতেযায়ে কেরামের মুখ থেকে শুনেছি) এ দুপথে পূর্ণ সফলতা অর্জনের জন্য আমার কী করণীয়? অনুগ্রহপূর্বক হুযুরের পরামর্শ বা দিক-নির্দেশনা পেলে কৃতজ্ঞ থাকব।


উত্তর

আল্লাহ তাআলা আপনাকে সফল করুন। আপনি উস্তাযের পরামর্শ ও নেগরানীতে হিম্মতের সাথে মেহনত করতে থাকুন।

উস্তাযকে নিজের বিস্তারিত অবস্থা অবহিত করুন এবং তাঁর মাধ্যমেই নিজের ইস্তিদাদের পরীক্ষা নিন ও নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করুন। এরপর উস্তাযের ব্যবস্থা অনুসারে চলতে থাকুন। সবসময় উস্তাযের সাথে সম্পর্ক রাখুন এবং তাঁকে জীবনের রাহবার হিসাবে গ্রহণ করুন। ইলম অন্বেষণের সকল প্রতিবন্ধকতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন।

শেয়ার লিংক

তারেক আজিজ - নোয়াখালী

প্রশ্ন

মুহতারাম, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন। মুহতারামের কাছে আমার দুটি প্রশ্ন :

১. মহাগ্রন্থ আলকুরআনের এমন একটি বাংলা তাফসীর গ্রন্থের নাম জানতে চাই, যাতে আয়াত বা অংশভিত্তিক বিষয়ের শানে নুযুল এবং নাযিলের সময় থাকবে।

২. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তথ্যনির্ভর বাংলায় কোনো কিতাব আছে কি না? থাকলে নাম জানতে চাই।


উত্তর

(ক) হযরত মুফতী শফী রাহ.-এর মাআরিফুল কুরআনঅনুবাদ : মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (আট খণ্ডে)। তাফসীরের এই কিতাব থেকে আপনি সংশ্লিষ্ট আয়াতের শানেনুযুল সম্পর্কে জানতে পারবেন।

(খ) কাসাসুল কুরআনমাওলানা হিফজুর রহমান সিউহারবীঅনুবাদ : এমদাদিয়া লাইব্রেরী। এ কিতাবটিতে কুরআনে কারীমে বর্ণিত আম্বিয়ায়ে কেরামের জীবনী ও ঘটনাবলী সম্পর্কে তথ্যপূর্ণ আলোচনা ও বিশ্লেষণ রয়েছে। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সানাউল্লাহ - দশম শ্রেণি, আজিমুদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় কিশোরগঞ্জ

প্রশ্ন

আমি কিশোরগঞ্জ আজিমুদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। আমার বড় ভাই রহমাতুল্লাহ মারকাযুদ দাওয়াহ ঢাকা-এর ছাত্র হওয়ার সুবাদে মারকাযুদ দাওয়াহ ঢাকা এবং তা থেকে প্রকাশিত পত্রিকা মাসিক আলকাউসারের সাথে আমার পরিচয়। সেখানে শিক্ষা পরামর্শ নামে একটি বিভাগ দেখে খুব প্রফুল্ল হয়েছি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, কারবালার ইতিহাস সম্পর্কে লোকমুখে অনেক ধরনের গল্প শুনি। একেকজন একেক রকম গল্প বলে। সঠিক ইতিহাস সম্বলিত বাংলায় লিখিত কয়েকটি গ্রন্থের নাম বললে উপকৃত হব। আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আমীন


উত্তর

বাংলা ভাষায় কারবালার ইতিহাস সম্পর্কে তথ্যপূর্ণ বিশ্লেষণমূলক এবং নির্ভরযোগ্য কোনো বই রচিত হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে সংক্ষেপে জানার জন্য মুফতী শফী রাহ. রচিত শহীদে কারবালা’ পড়তে পারেন। এর বাংলা অনুবাদ হয়েছে কি না- খোঁজ করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

আবদুর রহীম - মীরপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

 

মোল্লা আলী ক্বারী রাহ. শরহে নুখবার শরাহ- شرح الشرح    -حافظ , حجة   حاكم -এর সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন-

إن الحافظ : هو من أحاط علمه بمئة ألف حديث، ثم بعده الحجة وهو من أحاط علمه بثلاث مئة ألف حديث، ثم الحاكم وهو الذي أحاط علمه بجميع الأحاديث المروية متنا وإسنادا، جرحا وتعديلا وتاريخا. كذا قالت جماعة من المحققين.

কিন্তু সদ্য প্রকাশিত উলূমুল হাদীসের  একটি বই হাতে পেলাম। যা তাকমীল মারহালার উলূমুল হাদীস বিষয়ক পরীক্ষার জন্য বেফাক বোর্ডের সকল প্রশ্নের সহজ বাংলা উত্তর সম্বলিত।

উক্ত বইয়ের ৪৩ পৃষ্ঠায় حافظ এর পূর্বোল্লিখিত সংজ্ঞাটি লিখে বি. দ্র.-এ বলা হয়েছে-

মুহাক্কিক উলামাদের মতে এ অর্থটি সঠিক নয়। এবং ৪৪ পৃষ্ঠায় حجة -এর সংজ্ঞা লিখে একই মন্তব্য করা হয়েছে। এবং حاكم -এর সংজ্ঞা লিখে বলা হয়েছে, উক্ত অর্থটি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভুল। আসলেই কি এ সংজ্ঞাগুলোতে তাসামুহ হয়েছে ? আশা করি বিস্তারিত জানিয়ে আমাদের সংশয় দূর করবেন।

 

উত্তর

 

পরিভাষাগুলোর সংজ্ঞা বর্ণনায় মোল্লা আলী কারী (রাহ.)-এর তাসামুহ হয়ে গেছে। আর তিনি যে এই সংজ্ঞাগুলোর নিসবত একদল মুহাক্কিক আলিমের দিকে করেছেনমুহাক্কিক আলিমগণ এর কোনো বাস্তবতা খুঁজে পাননি। এ বিষয়ে শায়েখ আবদুল্লাহ বিন সিদ্দীক আলগুমারী রাহ. তাঁর কিতাব  توجيه العناية إلى تقسيم علم الحديث إلى رواية ودراية   -এ এবং শায়েখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. তাঁর রিসালা أمراء المؤمنين في الحديث -এ তাম্বীহ করেছেন।

বস্তুতঃ الحافظ শব্দটি বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিসদের উপাধি। হাফেজ ইবনে হাজার রাহ. নুযহাতুল আলবাব ফীল আলক্বাব’ গ্রন্থে (১/১৮৮) বলেছেন,لقب من مهر في معرفة الحديث  তিনি এ উপাধিটির আরো  বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও পরিচয় পেশ করেছেন তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব النكت على مقدمة ابن الصلاح -এর الفائدة الثانية من النوع الأول  -এ-

للحافظ في عرف المحدثين شروط، إذا اجتمعت في الراوي سموه حافظا، وهو الشهرة بالطلب والأخذ من أفواه الرجال لا من الصحف، والمعرفة بطبقات الرواة ومراتبهم، والمعرفة بالتجريح والتعديل، وتمييز الصحيح من السقيم، حتى يكون ما استحضره أكثر مما لا يستحضره مع استحضار الكثير من المتون.

الحجة শব্দটি রাবীকে تعديل وتوثيق করার ক্ষেত্রে একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। এর অর্থ হলোযিনি হাদীস বর্ণণার ক্ষেত্রে হুজ্জত বা যার বর্ণনা দ্বারা দলীল পেশ করা যায়। এ ছাড়া এটি আইম্মায়ে হাদীসের লক্বব বা উপাধি হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে  অর্থ হবে র্জাহ-তাদীল,তাসহীহ-তাজয়ীফ-এর ক্ষেত্রে যিনি প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব। আর الحاكم শব্দটি তো মুহাদ্দিসীনে কেরামের উপাধিই নয়বরং এটি কাযী বা বিচারকদের একটি উপাধিহাদীস মুখস্থ বা বর্ণনার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। 

 

শেয়ার লিংক

তকী উদ্দীন - ফরিদাবাদ মাদরাসা

প্রশ্ন

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। এক কিতাবে পড়লাম, সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. আরবী সাহিত্যের পাঠ গ্রহণের যামানায় তিনটি কিতাব খুব বেশি পড়েছেন এবং বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। যথা : নাহজুল বালাগাহ, হামাসা এবং দালাইলুল ইজায। আমার আবেদন হলো, হযরত যদি এই কিতাব তিনটির পরিচয় কী এবং কিতাবত্রয় ক্রয় করলে কোন নোসখা ভালো হবে। এবং এর থেকে কোন্ পদ্ধতিতে পূর্ণাঙ্গ ফয়েদা অর্জন করতে পারবো- জানা বড়ই উপকৃত হবো এবং হযরতের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

 

 

উত্তর

 

 

নাহযুল বালাগাহ’ কিতাবের পরিচয় : এটি হযরত আলী রা.-এর বিভিন্ন বাণীবক্তৃতাকবিতা এবং চিঠি-পত্রের সংকলন। এ কিতাবের সংকলক কে সে বিষয়ে কিছুটা মতবিরোধ রয়েছে। অনেকে বলেছেনএর সংকলক হলেনশরীফ রাযী মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন (মৃত্যু ৪০৬ হি.)। আবার কেউ কেউ বলেছেনএর সংকলক হলেন শরীফ রাযীর ভাই শরীফ মুরতাযা আলী ইবনুল হুসাইন (মৃত্যু ৪৩৬ হি.)। এঁরা উভয়ই শীয়া ইমামিয়্যাহ ফেরকার আলেম। 

উল্লেখ্যএ কিতাবটিতে যেসব বিষয় আলী রা.-এর প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে তার কোনো সনদ সাধারণত উল্লেখ করা হয়নি। মূলত এর অনেক কথাই আলী রা. থেকে প্রমাণিত নয়। এতে সংকলিত কিছু কিছু কথা তো বানোয়াট ও ভিত্তিহীন হওয়া স্পষ্টযা আলী রা.-এর নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এতে এমন অনেক বাণী ও বিষয়ও সংকলিত হয়েছে যেগুলো নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত এবং নির্ভরযোগ্য কিতাবে রয়েছে। 

যাহোক এ কিতাবটি আরবী আদবের একটি নমুনা। তাই এ কিতাব থেকে আদবী ইস্তেফাদা করা যেতে পারে। কিন্তু এর কোনো কথাকে আলী রা.-এর কথা হিসেবে বর্ণনা করতে হলে তা প্রমাণিত কি না সে তাহকীক করা জরুরি। এটি মুতালাআর সময় সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এর সংকলক হলেন শীয়া মতাবলম্বী। এতে অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আলী রা.-এর প্রতি সম্বন্ধকৃত বিভিন্ন বানোয়াট ও মিথ্যা মন্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। 

এ কিতাবটির ব্যাপারে আহলে ইলমের মন্তব্য ও পর্যালোচনা জানার জন্য নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে।

১. মিনহাজুস সুন্নাহহাফেজ ইবনু তাইমিয়া৭/৮৬৮/৫৩-৫৬

২. সিয়ারু আলামিন নুবালাহাফেয যাহাবী ১৩/৩৮৩ (শরীফ মুরতাযা আলী ইবনুল হুসাইন-এর জীবনী)

৩. মীযানুল ইতিদালহাফেয যাহাবী ৩/১২৪ (শরীফ মুরতাযার জীবনী)।

৪. তারীখুল আদাবিল আরাবীড. আহমদ হাসান যায়্যাতপৃ. ১৩৬

৫. আল মুরতাযা’, মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভীপৃ. ২৮৫-২৮৭

হামাসা’ কিতাবের পরিচয়

আরবী কাব্য সাহিত্যে হামাসা’ নামে একাধিক কিতাব রয়েছে। যেগুলো বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন আরব কবিগণ সংকলন করেছেন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ হলআবু তাম্মাম (২৩১ হি.) সংকলিত দিওয়ানুল হামাসা। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর বাল্যকালের আরবী সাহিত্য বিষয়ক পাঠ্যপুস্তকের তালিকায় আমরা যে হামাসা’-এর উল্লেখ পাইসেটিও আবু তাম্মাম রচিত এইদিওয়ানুল হামাসা

আবু তাম্মাম হলহাবীব ইবনে আওস ইবনে হারেছ আত্বায়ী (জন্ম : ১৮৮ হি. মৃ. ২৩১ হি)। তৃতীয় শতাব্দীর সুপ্রসিদ্ধ একজন আরব শায়ের। আরবের প্রাচীন কাব্যভা-ার থেকে তাঁর পছন্দেরকাব্যমালা’-কে এ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। এটি দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়টির শিরোনামআল-হামাসা’ যার অর্থ বীরত্ব।  পরবর্তীতে এই প্রথম অধ্যায়ের নামেই কিতাবটি প্রসিদ্ধি লাভ করে। আবু তাম্মাম রচিত আরেকটি কিতাব হল : আলওয়াহশিয়্যাত। এটি ديوان الحماسة الصغرى  নামে পরিচিত। তবে শুধু আলহামাসা’ বলে প্রথমটিকেই বোঝানো হয়।

দ্রষ্টব্য : কাশফুয যুনুন ১/ ৬৯১-৬৯২আলআলামযিরিকলী ২/১৬৪মুজামুল মুআল্লিফীনউমর রেযা কাহহালাহ ৩/১৮৩

দালায়েলুল ইজায’ কিতাবের পরিচয়

দালায়েলুল ইজায বালাগাত শাস্ত্রের অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ’ কিতাব। বিশেষ করে ইজাযুল কুরআন বিষয়ে একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ। পঞ্চম শতাব্দীর বালাগাত শাস্ত্রের ইমাম আবদুল কাহের ইবনে আবদুর রহমান আলজুরজানী রাহ. (মৃ. ৪৭১ হি.)-এর একটি শ্রেষ্ঠ রচনা। এ কিতাবে তিনি ভাষা ও সাহিত্যের বিচারে কুরআনে কারীমের মুজিযা ও অলৌকিকত্বের দিকগুলোর বিশ্লেষণ পেশ করার চেষ্টা করেছেন।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যুবাইর হুসাইন - ঢাকা

প্রশ্ন

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

() ছোটদের হাদীস শিক্ষায় আপনার লিখিত উৎসাহমূলক ভূমিকা পড়ে আহকাম সম্পর্কিত নুসূসগুলো হিফজ করতে উদ্দীপ্ত হয়েছিলাম। তাই উক্ত বিষয়ের কোনো খাছ কিতাবের নাম বলে দিলে বহুত বড় এহসান হত। 

() প্রিয় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ইয়াসিনের ফযীলত বর্ণণা করতে গিয়ে বলেছেন, একবার সূরা ইয়াসীন পাঠ করা ১০ বার কুরআন খতমের সমান সাওয়াব রাখে। এমনিভাবে বার সূরা ইখলাস পড়া বার কুরআন খতমের সাওয়াব রাখে। জানার বিষয় হল, তাহলে কি সূরা ফাতেহা থেকে নাস পর্যন্ত  পড়া আর বার সূরা ইখলাস পড়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই? বিস্তারিত উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ থাকব। 

() মুহতারাম গোস্তাখী মাফ করবেন, আমরা গ্রামের ছাত্র, আলকাউসার আমাদের কাছে মাস পরেও পৌঁছে। অধিকন্তু ইলমী ইস্তেফাদামূলক আমাদের লিখিত প্রেরিত অনেক চিঠি হয়ত মধ্যস্থ গোলযোগের কারণে আপনার হাতে পৌঁছেনি। ফলে আমরা বারংবার মাহরুম নিরাশ হয়েছি তাই আপনার নিকট আকুল আবেদন, যদি কোনো খাস মোবাইল নম্বর দিতেন তাহলে আমরা খুশি হতাম। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। 


 

উত্তর

 

() আহকাম বিষয়ক হাদীসের হিফ্জ আপনি নীমাবী রাহ.-এর আছারুস সুনান কিতাবটি থেকে করতে পারেন।

() দেখুন সওয়াব লাভ করা তিলাওয়াতের একটি ফায়েদা, একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। কুরআনে কারীম তিলাওয়াতের ঈমানী, ইলমী, আমলী এবং হেদায়েতী বহুবিধ উদ্দেশ্য উপকারিতা রয়েছে। এরপর যে কোনো নেক আমল ইবাদতের সওয়াব দুধরনের হয়ে থাকে। এক. আমলের মূল সওয়াব। দুই. আমলের তাযয়ীফ বা বর্ধিত সওয়াব, যা আল্লাহ তাআলা অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে মূল সওয়াব থেকে বাড়িয়ে দেন। তো আপনি প্রশ্নে সূরা ইয়াসীন এবং সূরা ইখলাসের ফযীলত সংক্রান্ত যে হাদীস দুটির প্রতি ইশারা করেছেন তার মধ্যে সূরা ইখলাসের ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসটির সনদ সহীহ, যা সহীহ বুখারী সহীহ মুসলিমসহ অন্য অনেক কিতাবে রয়েছে। আর সূরা ইয়াসীনের ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসটির সনদ জয়ীফ, সুনানে তিরমিযীতে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।

তবে সূরা ইখলাস সংক্রান্ত হাদীসটি আপনি যেভাবে উল্লেখ করেছেন সেভাবে মূলত বর্ণিত হয়নি। قل هو الله أحد تعدل ثلث القرآن   অর্থ কুলহু ওয়াল্লাহু আহাদ এই সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের বরাবরএই শব্দে বা এর সমার্থক শব্দে বর্ণিত হয়েছে। তিনবার সূরা ইখলাস পড়ার সওয়াব একবার পূর্ণ কুরআন খতমের সওয়াবের বরারবসরাসরি এভাবে নয়।

যা হোক সূরা ইখলাসের তিলাওয়াতকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তিলওয়াতের বরাবর এবং সূরা ইয়াসীনের  তিলাওয়াতকে দশবার পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াতের বরাবর বলার উদ্দেশ্য সর্বদিক থেকে সম্পূর্ণ বরাবর হওয়া নয়। কোন্ দিক থেকে বরাবর সে বিষয়ে একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা অনুসারে সওয়াবের দিকটি ধরা হলে তার উদ্দেশ্য হবে- সূরা ইখলাস তিলাওয়াতের মূল সওয়াব বর্ধিত সওয়াব মিলে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তিলাওয়াতের মূল সওয়াবের বরাবর। সুতরাং এখন যদি কুরআনে কারীমের এক তৃতীয়াংশ তিলওয়াতের সাথে তার বর্ধিত সওয়াবকে যোগ করা হয় তবে তো তা সূরা ইখলাস তিলাওয়াতের মূল সওয়াব থেকে অনেক বেশি হবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, কুরআনে কারীমের প্রতিটি সূরা, প্রতিটি আয়াতের রয়েছে নিজস্ব হেদায়েত, শিক্ষা, বিধান এবং ঈমানী আমলী বহু ফায়দা। তাই এসব ফায়েদা অর্জনের জন্য কুরআনের সব সূরা আয়াত তিলাওয়াত করা অত্যাবশ্যক।

() প্রেরিত চিঠিপত্র সাধারণত ঠিকভাবেই পৌঁছে থাকে। কিন্তু চিঠির জবাব লিখতে আমার দেরি হয়ে যায়। আপনি চিঠিপত্র পাঠাতে থাকুন। ইনশা আল্লাহ সামনে থেকে চিঠিপত্রের জবাব আরো দ্রুত দিতে চেষ্টা করব। আপনি খাস মোবইল নম্বরের কথা বলেছেন। তো আমার কোনো খাস মোবাইল নম্বর নেই। একটি সাধারণ মোবাইল নম্বর রয়েছে; যা ইতিপূর্বে আল কাউসারে ছাপা হয়েছে।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইসমাঈল বিন আবদুল হালীম - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

প্রশ্ন

 

রদ্দুল মুহতারের ইবারতের শেষাংশে বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে আল্লামা শামী রাহ. রুমুয হিসেবে (ط) (ح  ) ব্যবহার করেছেন, এর দ্বারা তিনি কোনদিকে ইশারা করে থাকেন- জানালে উপকৃত হবো।


 

উত্তর

 

কিতাবের শুরুতে আল্লামা ইবনু আবিদীন রাহ.-এর ভূমিকা খেয়াল করে পড়লে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। তিনি সেখানে লিখেছেন-

ضاما إلى ذلك ما حرره العلامة الحلبي والعلامة الطحطاوي  .

যে বক্তব্যের শেষে তিনি (ط) বা (ح) ব্যবহার করেছেন তা তিনি দুই হাশিয়া থেকে নিয়েছেন এবং রুমুয ব্যবহার করে এর হাওয়ালা দিয়েছেন।

(ط) দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন আল্লামা তাহতাবী রাহ.-কে, যার حاشية الطحطاوي على الدر খুবই প্রসিদ্ধ। আর (ح) দ্বারা বুঝিয়েছেন আল্লামা হালাবী রাহ.-কে, যার পূর্ন নাম ইবরাহীম ইবনে মুস্তফা হালাবী, ওফাত ১১৯০ হিজরীতে। আদ্দুররুল মুখতারেরউপর তার হাশিয়া রয়েছে تحفة الأخيار على الدر المحتار

দেখুন : ইযাহুল মাকনূন ফিয যাইলি আলা কাশফিয যুনূন /২৪০

আর হালাবী রাহ.-এর জীবনীর জন্য দেখুন সিলকুদ দুরার ফী ইয়ানিল করনিছ ছানীয়া আশার মুহাম্মাদ খলীল মুরাদী /৩৭-৩৯

উল্লেখ্য, হালাবী গুনইয়াতুল মুতামাল্লী-এর লেখক হালাবী নন। তার নাম হলো ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ হালাবী, যার ওফাত ৯৫৬ হিজরীতে। আদ্দুররুল মুখতারের উপর তার হাশিয়া হবে কীভাবে? মুসান্নিফ হাসকাফী রাহ.-এর ওফাত হলো ১০৮৮ হিজরীতে।

 

শেয়ার লিংক

জনৈক তালিবে ইলম - ঢাকা

প্রশ্ন

 

প্রশ্ন : আমাদের উপমহাদেশে বুযুর্গদের নামে যে শাজারা প্রচলিত আছে তাতে আমরা সাধারণত বুঝে থাকি যে, কোনো বুযুর্গ ব্যক্তি তার মুরশিদের সান্নিধ্যে থেকে ফয়েয-বরকতে ধন্য হয়েছেন এবং তার থেকে খেলাফতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাই সেসব বুযুর্গদের খেলাফতের ধারাবাহিকতা জানার জন্য এই শাজারা তৈরি করা হয়েছে। কিন্ত এই শাজারার ব্যাপারে কিছু জায়গায় কোনো কোনো উলামায়ে কেরাম আপত্তি করে বলে থাকেন- যেমন, হাসান বসরী রাহ. হযরত আলী রা. থেকে খেলাফতপ্রাপ্ত এবং আলী রা. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খেলাফতপ্রাপ্ত হয়েছেন। কথাটি ভিত্তিহীন। বিশেষ করে হাসান বসরী রাহ. সম্পর্কে বলে থাকেন যে, তিনি ২২ হিজরীতে মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বয়স যখন ১৩ বছর তখন ৩৫ হিজরীতে আলী রা. খলীফা নিযুক্ত হন এবং খিলাফতের কেন্দ্র মদীনা থেকে কুফায় স্থানান্তরিত করেন। এরপর আলী রা.-এর সাথে তার আর সাক্ষাৎ হয়নি। তাহলে হাসান বসরী রাহ. আলী রা. থেকে কীভাবে খেলাফত পেলেন? এখন জানার বিষয় হলো, উল্লেখিত আলোচনায় কোন্টি সঠিক- জানালে কৃতজ্ঞ হবো। 


 

উত্তর

 

দেখুন হাসান বসরী রাহ. প্রসিদ্ধ তাবিয়ী ইমাম। তিনি অনেক সাহাবীর সোহবত তরবিয়াত লাভে ধন্য হয়েছেন। তিনি যে হযরত আলী ইবনু আবী তালিব রা.-এরও দর্শন সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাঁর সোহবত সাহচর্য লাভে ধন্য হয়েছেন - বিষয়টি অবশ্যই প্রমাণিত। এটাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ তিনি জন্মগ্রহণ করেন মদীনায় ২১ হিজরী সনে, যখন হযরত উমর রা.-এর খেলাফত কালের দু বছর বাকি ছিল। হাসান বসরী রাহ.-এর মাতা ছিলেন উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা.-এর বাদী। তাই হাসান বসরী রাহ. শৈশবে উম্মে সালামাহ রা.-এর কোলে লালিত পালিত হয়েছেন। বর্ণিত হয়েছে, মায়ের অনুপস্থিতিতে তিনি কাঁদলে উম্মুল মুমিনীন তাকে দুধ পান করিয়েছিলেন এবং তিনি তালীম তারবিয়াতের জন্য তাকে সাহাবায়ে কেরামের মজলিসে পাঠাতেন। তিনি তো উসমান রা.-কেও দেখেছেন। ৩৫ হিজরী সনের যুলহজ্জ মাসে যখন উসমান রা.-কে শহীদ করা হয় তখন তিনি মদীনায় ছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল চোদ্দ-পনের বছর।  সময় পর্যন্ত হযরত আলী রা.- মাদীনায় অবস্থান করছিলেন। উসমান রা.-এর শাহাদাতের পর আলী রা. খলীফা মনোনীত হন এবং মদীনায় খেলাফতের বায়আত গ্রহণ করেন। সময় হাসান বসরী রাহ. তো মদীনার অধিবাসী ছিলেন। ৩৬ হিজরী সনের জুমাদাল আখিরাহ মাসে জামাল যুদ্ধের পর আলী রা. কুফায় স্থানান্তরিত হন। সুতরাং আমরা সহজেই বুঝতে পারছি যে, হাসান বসরী রাহ. মদীনায় থাকাকালীন তার চৌদ্দ পনের বছর বয়স পর্যন্ত আলী রা. মদীনায় অবস্থান করেছেন। এই সময়ের মধ্যে এটাই স্বাভাবিক যে, হাসান বসরী রাহ. আলী রা.-কে দেখেছেন, তাঁর মজলিসে বসেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছেন। শুধু সম্ভাবনার কথা নয়, বরং একাধিক রেওয়ায়েত থেকে কথা সুস্পষ্টভাবে বুঝে আসে। হযরত আলী রা.-কে হাসান বসরী রাহ. দেখেছেন- কথা অনেক মুহাদ্দিসই বলেছেন। তবে তিনি হযরত আলী রা থেকে সরাসরি শুনে কোনো হাদীস বয়ান করেছেন কি না- সে বিষয়ে অনেক মুহাদ্দিসের দ্বিমত রয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েকজন মুহাদ্দিস কথাকেই সহীহ অগ্রগণ্য বলেছেন যে, হাসান বসরী রাহ. আলী রা. থেকে সরাসরি হাদীস শুনেছেন। দ্রষ্টব্য : তাহযীবুল কামাল, মিয্যি /২৯৭; তাহযীবুত তাহযিব /২৬৩; ইকমালু তাহযিবিল কামাল, মুগলাতাঈ /৭৮; ইতহাফুল ফিরকাহ বিরাফওইল খিরক্বাহ, সুয়ূতী (আলহাবী লিল ফাতাওয়া-এর অন্তর্ভুক্ত) /২৬৮-২৭১; আলী ইবনু আবী তালিব ইমামুল আরিফীন, আহমদ আলগুমারী ২০০-২২৫; আত তাবিউনাস সিকাত আলমুতাকাল্লাম ফী সামাইহিম মিনাস্ সাহাবাহ, মুবারাক বিন সাইফ পৃ. ৩০০; তারিখুল ইসলাম, হাফেয যাহাবী /২৫

কিন্তু এর পাশাপাশি এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, তাসাওউফের শাজারা থেকে কথা বুঝাও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যে, হযরত আলী রা. হাসান বসরী রাহ.-কে এবং শাজারায় উল্লিখিত প্রত্যেক ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি পরবর্তী ব্যক্তিকে পারিভাষিক অর্থে ইজাযত খেলাফত প্রদান করেছেন। কেননা সালাফের যামানায় তাসাওউফের ক্ষেত্রে বর্তমানের পারিভাষিক ইজাযত খেলাফত প্রদানের রীতি ছিল না। সালাফের যুগে তো ইসলাহ তাযকিয়ার জন্যে আল্লাহওয়ালাদের সংশ্রব সাহচর্য, তাঁদের মুহাব্বত এবং অনুসরণ-অনুকরণের পদ্ধতিই প্রচলিত ছিল। এটাই হল তাসাওউফের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। এর জন্য প্রচলিত বাইআত এবং ইজাযত খেলাফত প্রদান শর্ত নয়।

সুফিয়ায়ে কেরামের মাঝে পরবর্তী যুগে যখন নির্দিষ্ট কোনো শায়েখের হাতে বাইআত হওয়া এবং তাসাওউফের আনুষ্ঠানিক ইজাযত খেলাফত প্রদানের ব্যাপক প্রচলন ঘটে তখনো সুন্নাতের অনুসারী হক্কানী সুফিয়ায়ে কেরামের কাছে এগুলো তাসাওউফ তথা ইসলাহ তাযকিয়ার অপরিহার্য শর্ত প্রতিপাদ্যরূপে পরিগণিত হয়নি।

দেখুন, আওয়ারিফুল মাআরিফ, উমর ইবনু মুহাম্মদ সুহরাওয়ার্দী (মৃত্যু : ৬৩২) /১৫৯; আলী ইবনু আবী তালিব ইমামুল আরেফীন পৃ. ১১১-১১৯; ইলাউস সুনান ১৮/৪৪৯-৪৫০; ইমদাদুল আহকাম /৩০৮; রিসালাতুল মুসতারশিদীন ৭২-৭৩ এবং ১০২-১০৮; তাসাওউফ : তত্ত্ব বিশ্লেষণ,পৃ. ৭৫-৭৮

যাহোক সালাফে সালিহীনের যুগে তাযকিয়া ইসলাহের জন্য আল্লাহওয়ালাদের সোহবত গ্রহণের পদ্ধতিই প্রচলিত ছিল এবং সে যুগে সোহবতের তাছীর প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর শক্তিশালী। এর সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন সাহাবায়ে কেরাম রাযিআল্লাহু আনহুম। কেননা তাঁরা ঈমান মুহাব্বতের সাথে রাসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সোহবত লাভে ধন্য হয়েছিলেন। ঈমানের সাথে অল্প সময়ের সোহবত এমনকি একবারের দর্শনের দ্বারাও তাঁরা সাহাবী হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমাম সুবকী রাহ. লিখেছেন-

و ذلك لشرف الصحبة و عظم رؤية النبي صلى الله عليه وسلم، وذلك أن رؤية الصالحين لها أثر عظيم، فكيف رؤية سيد الصالحين؟! فإذا رآه مسلم و لو لحظة، انطبع قلبه على الاستقامة، لأنه بإسلامه متهيء للقبول، فإذا قابل ذلك النور العظيم أشرق عليه وظهر أثره في قلبه وعلى جوارحه  .

দ্রষ্টব্য : আল ইবহাজ ফী শরহিল মিনহাজ /, আরো দ্রষ্টব্য : লামাহাত মিন তারিখিস সুন্নাহ ওয়া উলূমিল হাদীস, শায়েখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ পৃ. ৪৯-৫১

এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-

طوبى لمن رآني وآمن بي، وطوبى لمن رأى من رآني، ولمن رأى من رآني وآمن بي (رواه الحاكم في المستدرك ৪/৯৬ و الضياء المقدسي في الأحاديث المختارة ৯/৯৯ وهو حديث ثابت وله طرق كثيرة)

সালীহীন নেককারদের সোহবতের তাছীর ফযীলত সম্পর্কে হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-

خير جلساءكم من يذكركم الله رؤيته، وزاد في علمكم منطقه، وذكركم الآخرة عمله.

অর্থাৎ তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট সঙ্গী সে, যাকে দেখলে আল্লাহ তাআলার কথা স্মরণ হয়, যার কথায় ইলম বৃদ্ধি পায়, যার কাজ তোমাদেরকে পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। -মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ, হাদীস নং ৬৩১; মুসনাদে আবী ইয়ালা, ২১৯৯

তো বহু সাহাবীর সোহবত তারবিয়াত লাভে ধন্য হাসান বসরী রাহ.-এর মত ব্যক্তিত্ব  শৈশবে কৈশরে আলী রা.-এর মত ইমামুল আরেফীনের অল্প সময়ের সোহবত দর্শন লাভের বরকতে তাযকিয়া ইসলাহের উচ্চ মার্গে উন্নীত হন- তবে তো তা খুব স্বাভাবিক বিষয়। খোদ হাসান বসরী রাহ. সম্পর্কে তাঁর জীবনীতে হাফেজ ইবনে কাছীর রাহ. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া কিতাবে ইউনুস ইবনে উবাইদের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন-

كان الرجل إذا نظر إلى الحسن انتفع به، وإن لم يسمع من كلامه ولم ير عمله.

সার কথা তাসাওউফের শাজারাটি মূলত সোহবত এবং তালীম-তারবিয়তের সিলসিলাহ। তবে পরবর্তী যে যুগে পারিভাষিক ইজাযত খেলাফত প্রদানের রীতি প্রচলিত হয়েছে, সে যুগের মাশায়েখদের মাঝে সোহবত তারবিয়তের পাশাপাশি পারিভাষিক ইজাযত খেলাফতও ছিল। অন্যথায় শাজারাটি মূলত কেবল সোহবত লাভের বিবরণী। কারণে শাজারার সিলসিলায় যদি হাসান বসরী রাহ.-এর উপরে অন্য কোনো সাহাবীর নাম উল্লেখ করা হত যার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ সোহবত প্রমাণিত, তবে তাতেও কোনো সমস্যা ছিল না।

 

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ আল মামুন বিন আব্দুল বারী - আশরাফুল উলূম, সুতারপুর, নেত্রকোণা

প্রশ্ন

হুযুর! আল্লাহ তাআলা আপনাকে সিহহাত-আফিয়াতের সাথে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। আমীন। হুযুরের কাছে কয়েকটি বিষয় জানতে চাই।

(ক) মাকতাবাতুল আযহার কর্তৃক প্রকাশিত মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রাযযাক কাসেমী দা.বা. (উসতায, জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া কাসিমুল উলূম জামে মসজিদ, আমরুহা, ইউপি, ভারত) কর্তৃক তালীককৃত তালীমুল মুতাআল্লিমকিতাবের ৪৩ নাম্বার পৃষ্ঠায় ইমাম বুরহানুদ্দীন যারনুজী রাহ. বলেন-

وكان يحكى أن محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله تعالى كان بدأ بكتاب الصلاة على محمد بن الحسن رحمه الله تعالى  إلخ

এখানে আমার জানার বিষয় হলো, এই মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান কে? তার জীবনী কোথায় পাব? তিনি ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান শাইবানী নাকি অন্য কেউ? তালীমুল মুতাআল্লিম কিতাবের সবচেয়ে উত্তম নুসখা কোনটি?

(খ) এই কিতাবের ১৯ নাম্বার পৃষ্ঠায় আছে-

وقد صنف الشيخ الإمام الأجل الشهيد ناصر الدين أبو القاسم رحمه الله تعالى كتابا في الأخلاق  إلخ

এই الأخلاق  কিতাবটি কোথায় পাওয়া যাবে? এটি প্রকাশিত কি না।

২৮ নাম্বার পৃষ্ঠায় আছে-

وينبغي لطالب العلم أن يحصل كتاب "الوصية" إلخ

কিতাবুল ওসিয়্যাটি মূল মতনসহ (হিন্দুস্থানের) কোন্ মাকতাবা থেকে প্রকাশিত জানতে চাই। আমার ইলমী-আমলী তারাক্কীর জন্য হুযুরের কাছে দুআর দরখাস্ত। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

উত্তর

(ক) মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান নামে ইমাম বুখারী রাহ.-এর প্রসিদ্ধ কোনো উস্তাযের কথা আমার জানা নেই। খুব সম্ভবতালীমুল মুতাআল্লিম’ কিতাবের উপরোক্ত ইবারতে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান’ নামটি নুসখার ভুলআসলে হবে আহমদ ইবনু হাফ্স। অথবা মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান’ নামের আগে আহমদ ইবনু হাফস’ এই নামটি ছিল। কেননা ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুুল হাসান রাহ.-এর প্রসিদ্ধ শাগরিদ হলেন আবূ হাফ্স কাবীর আহমদ ইবনু হাফ্স আল বুখারী রাহ. (মৃত্যু : ২১৭ হি.),যিনি ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আলবুখারী রাহ.-এর খাস উস্তায এবং তাঁর বাবা ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীমের বন্ধু। ইমাম বুখারী রাহ. কিশোর বয়সে তাঁর কাছে জামে সুফিয়ান ছাওরী’-এর পাঠ গ্রহণ করেছেন। আর আবূ হাফ্স কাবীরের পুত্র মুহাম্মাদ ইবনু আহমদ ইবনু হাফ্স (মৃত্যু: ২৬৪হি.) ছিলেন ইমাম বুখারী রাহ.-এর সহপাঠী। দ্রষ্টব্য : তারীখে বাগদাদ ২/১১সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/১৫৭ (আহমদ ইবনু হাফসের জীবনী)১২/৪২৫৪৪৭ (ইমাম বুখারীর জীবনী);আল-ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যহইবনু মাজাহ আওর ইলমে হাদীসমাওলান মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নুমানী রাহ.পৃ. ১০৮-১০৯১৮৫-১৮৬

(খ) আবূল কাসিম নাসিরুদ্দীন রাহ.-এর পূর্ণ নাম মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ। তিনি সমরকন্দের অধিবাসীহানাফী ফকীহ ও মুহাদ্দিস। ৫৫৬ হিজরী সনে তিনি ইন্তেকাল করেন। রিয়াযুল আখলাক’ বা রিযাযাতুল আখলাক’ নামে তাঁর  একটি কিতাবের কথা তাঁর জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কিতাবটি মুদ্রিত বা পাণ্ডুলিপি আকারে কোথাও আছে কি না তা আমার জানা নেই। মুসান্নিফের জীবনী সম্পর্কে দ্রষ্টব্য : হাদিয়্যাতুল আরিফীন ১/৪৯৩আল-আলামযিরিকলী ৭/১৪৯ 

(গ) ইমাম আবূ হানীফা রাহ.-এর ওসীয়ত’ নামে একাধিক রিসালা তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করা হয়ে থাকে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা রাহ. পর্যন্ত সেসব ওসিয়্যাতের সবগুলোর সহীহ সনদ জানা যায় না। সেসব ওসিয়্যাতনামার মধ্যে একটি হল ইউসুফ ইবনু খালিদ আস- সামতির উদ্দেশ্যে ইমাম আবূ হানীফা রাহ.-এর ওসিয়্যাত ও উপদেশ।

এই ওসিয়্যাতটির পাঠ সনদসহ মুয়াফফাক ইবনু আহমদ আলমাক্কী (মৃত্যু ৫৬৮ হি.) তাঁর কিতাব মানাকিবুল ইমাম আজম’-এ (২/১০৭২৫ তম অধ্যায়ে) উল্লেখ করেছেন। এটি ইবনুল বাযযাযী আল-কারদারী (মৃত্যু ৮২৭ হি.) তাঁর কিতাব মানকিবুল ইমাম আজম’-এও উল্লেখ করেছেন। বাযযাযীর এই কিতাবটি মূলত মুয়াফফাক আলমাক্কীর কিতাবের তালখীস ও সারসংক্ষেপ।

ওসিয়্যাতটির শুরুতে একটি দীর্ঘ ঘটনা ও কাহীনিরও উল্লেখ রয়েছেযাতে বেশ কিছু মুনকার ও অপত্তিকর কথাবার্তাও রয়েছে। আর এর সনদটিতে রয়েছে একজন মাজহুল’ রাবী। সুতরাং এই ওসিয়্যাতটি ইমাম আবূ হানীফা রাহ. থেকে প্রমাণিত- এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

 

যাহোকএ ওসিয়্যাতটি এবং ইমাম আবূ হানীফা রাহ.-এর প্রতি সম্বন্ধকৃত ভিন্ন আরো চারটি ওসিয়্যাত একত্রে মাওলানা মুহাম্মাদ আশেক ইলাহী বুলন্দশহরী রাহ.-এর তারতীব ও তরজমাসহ হিন্দুস্তানের মাকতাবাতুন নূর থেকে ওয়াসায়া ইমাম আজম’ নামে ছেপেছে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল আযীয নাঈম - হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

মুহতারাম, আশা করি আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রেখেছেন, আমি ইতিহাস সম্পর্কে কিছু জানতে চাই।

(ক) একজন আলিমের জন্য ইতিহাস জানা কতটুকু প্রয়োজন, জানতে হলে তা কোন্ ধরনের ইতিহাস হতে হবে।

(খ) ইতিহাসের কিতাবাদীতে অনেক এমন ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় যা অসম্ভব কিংবা অবাস্তব মনে হয়। তাই এমন কিছু ইতিহাসের কিতাবের নাম জানতে চাই যেগুলোতে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস পাওয়া যাবে এবং সেসব কিতাবের হাওয়ালা দিয়ে ঘটনা বলা বা লেখা যাবে।

(গ) ইতিহাসের কিতাবাদীতে যখন কোনো ঘটনা বর্ণনা করা হয়, দেখা যায়, অনেক ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়- অমুকে এ কাজ করেছেন, অমুকে প্রধান ছিলেন, তাদের সংখ্যা এত ছিল ইত্যাদি। এবং সন, তারিখ ও বারের নামও উল্লেখ করা হয়। এখন জানার বিষয় হলো, ইতিহাস কখন থেকে লেখা শুরু হয়?

(ঘ) আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের পর যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর সনদ তো সাহাবা-তাবেয়ীন পর্যন্ত পৌঁছে। আবার দেখা যায় পৃথিবীর শুরু থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানার মধ্যবর্তী সময়ের যেসব ইতিহাস লেখা হয় সেগুলোর সদনও সাহাবা-তাবেয়ীন পর্যন্ত পৌঁছে। প্রশ্ন হলো, তাঁরা যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন সেই সনদ কোথায়, সেই সনদ তো কোনো কিতাবেই পাওয়া যায় না, তাহলে ঐ সব ঘটনা বা ইতিহাস তাঁদের কাছে কীভাবে পৌঁছলো- আমরা এ সনদহীন বিষয় কীভাবে বর্ণনা করবো বা সঠিক মনে করবো?

 

উত্তর

(ক) তারীখ ও ইতিহাসশাস্ত্রের বিভাগ ও উপবিভাগ অনেক। ইসলামী ইতিহাসবিশ্ব-ইতিহাসদেশীয় ও আঞ্চলিক ইতিহাস,সভ্যতা ও সংস্কৃতির ইতিহাসজ্ঞান ও শাস্ত্রের ইতিহাসজীবন-চরিত ইত্যাদি। প্রয়োজন ও গুরুত্বের বিচারে এসবের মাঝে তারতম্য রয়েছে।

শুধু ইসলামী ইতিহাসেরও রয়েছে অনেক শাখা-প্রশাখা। যেমনসীরাতমাগাযীসালাফ তথা সাহাবাতাবেয়ীনআইম্মায়ে দ্বীন প্রমুখের জীবনীদ্বীনের দায়ী ও মুজাহিদদের জীবনীখেলাফাত ও সালতানাতের ইতিহাসআসমাউর রিজাল বা রিজালশাস্ত্রীয় ইতিহাসকাসাসুল কুরআনকাসাসুল আম্বিয়াতারীখু আরাদিল কুরআনতারীখু আরাদিল হাদীসতারীখু আরাদিত তারীখিল ইসলামী। ইসলামী ইতিহাসশাস্ত্রের এসব শাখা-প্রশাখার প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। এগুলোর প্রত্যেকটির নিজস্ব গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে।

দ্বীনীঈমানীফিকরীআখলাকী এবং ইলমী বহুবিধ ফায়েদা ও প্রয়োজনীয়তা এগুলোর সাথে জড়িত। আর  এ ছাড়া মানব জাতির দ্বীন ও দুনিয়ার বহুমুখী কল্যাণের উৎস হিসেবে পৃথিবীর সাধারণ ইতিহাস ও ভূগোলশাস্ত্রেরও স্বতন্ত্র স্থান ও মর্যাদা রয়েছে। উম্মতের স্মরণীয় বরণীয় আলিমগণ মানব জাতির উত্থান-পতনসভ্যতার ক্রমবিকাশদেশ-শাসক ও জ্ঞান সেবক স্মরণীয় ব্যক্তিদের বিচিত্র জীবনকাহিনী এবং বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশ-মহাদেশের বিবরণ সম্বলিত সাধারণ ইতিহাস ও ভূগোল চর্চায় মনোনিবেশ করে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছিলেন। হাফেয আব্দুর রহমান সাখাবী রাহ. (মৃত্যু: ৯০২হি.) الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التاريخ গ্রন্থে ইতিহাসের বিভিন্ন কল্যাণ ও উপকারিতা এবং এ সম্পর্কে উলামায়ে উম্মতের বিভিন্ন মন্তব্য ও বক্তব্য এবং অবদান ও কীর্তি অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। ইসলামে ইতিহাসের স্থান ও গুরুত্ব সম্পর্কে মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.-এর সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ আলোচনাযা তিনি মাকামে সাহাবা’ পুস্তিকার শুরুতে উল্লেখ করেছেন তাও পড়ে দেখার মত।

(খ) আপনি নির্ভরযোগ্য এমন কিছু ইতিহাসগ্রন্থের নাম জানতে চেয়েছেনযাতে কোনো অবাস্তব কিছু থাকবে না। তো এখানে প্রথমে মনে রাখতে হবেসাধরণভাবে ইতিহাসের উৎস গ্রন্থগুলোতে নির্বিচারে সহীহ-গায়রে সহীহ ও সবল-দুর্বল বর্ণনা সংকলিত হয়েছে। কারণ সাধারণভাবে ইতিহাস সংকলকদের উদ্দেশ্য থাকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সব ধরনের বর্ণনারাজি একত্র করা। রেওয়ায়েত ও বর্ণনার যাচাই-বাছাই এবং সহীহ-যয়ীফের পার্থক্য নিরূপণের প্রতি তারা লক্ষ রাখেন না। অনেক ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতাগণ স্পষ্ট বলেছেন যে, “বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কযুক্ত যত বর্ণনা ও তথ্য তাঁরা পেয়েছেন সবই সন্নিবেশিত করেছেন। বর্ণনার শুদ্ধাশুদ্ধি বিচারের কাজ তারা করেননি। এসব বর্ণনা দ্বারা যারা কোনো বিষয় প্রমাণ করতে চায় বর্ণনার শুদ্ধাশুদ্ধি যাচাই করে নেওয়া তাদের দায়িত্ব।

তবে তারীখ ও রিজালশাস্ত্রের কোনো কোনো বরেণ্য ইমাম ইতিহাস সংকলণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে নির্বাচিত তথ্য-উপাত্ত সংকলন করেছেন। ফলে তাদের সংকলিত ইতিহাসগ্রন্থ অন্যান্য ইতিহাসগ্রন্থের তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এটাও বাস্তব সত্য যেইতিহাসের সনদের ক্ষেত্রে তারা হাদীসশাস্ত্রের ন্যায় কঠিন বিচার বিশ্লেষণ প্রয়োগ করেননি। অধিকন্তু কোনো কিতাব নির্ভরযোগ্য হওয়ার অনিবার্য অর্থ এই নয় যেএ কিতাবে উল্লেখিত প্রত্যেক কথাই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য;বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর অর্থ এই যেসার্বিক বিচারে কিতাবটি নিভর্রযোগ্য। এজন্য আকাঈদ ও আহকামের সঙ্গে নিকটবর্তী বা দূরবর্তী সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো বিষয় সেখানে আসলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাহকীক করা জরুরি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য মাকামে সাহাবামুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.হযরত মুয়াবিয়া আওর তারীখী হাকাইক,মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী এবং শহীদে কারবালা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.-এর ভূমিকা ও পরিশিষ্ট অংশ অধ্যয়ন উপকারী হবে।

সমষ্টিগত বিবেচনায় নির্ভরযোগ্য প্রসিদ্ধ কয়েকটি ইতিহাসগ্রন্থের নাম নিম্নে উল্লেখ করা হল।

১. আল-কামিল ফীত তারীখইযযুদ্দীন ইবনুল আছীর (মৃত্যু : ৬৩০ হি.)

২. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াইবনু কাসীর ( মৃত্যু : ৭৪৪ হি.)

৩. তারীখুল ইসলামহাফেজ যাহাবী (মৃত্যু : ৭৪৮ হি.)

৪. দুয়ালুল ইসলামহাফেজ যাহাবী (মৃত্যু : ৭৪৮ হি.)

৫. ইমবায়ুল গুমর ফী আমবায়িল উমরইবনু হাজার আসকালানী (মৃত্যু : ৮৫২ হি.)

৬. শাযারাতুয যাহাবাইবনুল ইমাদআলহাম্বলী (মৃত্যু : ১০৮৯ হি.)

৭. আখতাউন ইয়াজিবু আন তুসাহহাহা ফিত তারীখ’-এর সিরিজসমূহযা জামাল আব্দুল হাদী ও ওয়াফা মুহাম্মাদ রিফাআত জুমুআহ কর্তৃক রচিত।

৮. আলী মুহাম্মাদ সাল্লাবী রচিত ইতিহাসের কিতাবসমূহ

৯. তারীখে দাওয়াত ওয়া আযীমাতমাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী

(গ) ইতিহাস কখন থেকে লেখা শুরু হয়আপনার এ প্রশ্নটি যদি ব্যাপক এবং সারা পৃথিবী সম্পর্কে হয় তবে তার সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত জবাব দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ইতিহাসের ঘটনাবলী সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ধারা অতি প্রাচীন। দেশ-জাতি-অঞ্চল নির্বিশেষে পৃথিবীর সর্বত্র মানুষের অতীত ঘটনা ও কাহিনী তাদের মুখে মুখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে এসেছে। ক্ষেত্রবিশেষ লিপিবদ্ধ আকারেও সংরক্ষিত হয়েছে।

যুগে যুগে আল্লাহ তাআলা নবীদের উপর যেসব কিতাব নাযিল করেছেন তাতে উপদেশ ও শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশ্যে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল-কুরআনুল কারীমের অন্যতম আলোচ্য বিষয় কাসাসুল আম্বিয়া এবং অতীতের বিভিন্ন জাতির ঘটনাবলি। এছাড়া ইসলামী ইতিহাসের প্রধান ও মৌলিক অংশ সীরাতে নববী। সীরাতের সবচেয়ে বড় ও সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস হাদীস শরীফ। আর হাদীস শরীফ গ্রন্থাকারে সংকলন শুরু হয়েছে অনেক আগে। সাহাবা-তাবিয়ীনের যুগে সতন্ত্রভাবে সীরাত সংকলকদের মধ্যে বিশিষ্ট তাবিয়ী উরওয়া ইবনুয যুবাইর রা. (জন্ম : ২২ হি.-মৃত্যু : ৯৪ হি.) অন্যতম।

ইসলামপূর্ব যুগেও ইতিহাসের চর্চা ছিল। আরব ভূখণ্ডে আরবদের মাঝে আইয়ামুল আরব এবং ইলমুল আনসাবের চর্চা হত। প্রধানত আরবী পদ্য আকারে আবার কখনো গদ্য আকারে। এগুলোকে তারা প্রধানত সংরক্ষণ করত স্মৃতিতে এবং কখনো লিপিতে। এভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাদের মাঝে এসবের চর্চা ছিল। সে সময় আরবে আহলে কিতাব- ইয়াহুদী খ্রীস্টানদেরও বসবাস ছিল। তাদের কাছেও ছিল ইতিহাসের লিখিত ও মৌখিক বিভিন্ন উপাদান। এ ছাড়া সে সময়ের রাজা-বাদশাহদের রাজনামারাজ ফরমানরাজকীয় দলীল-দস্তাবেজ ছাড়াও তাদের রাজপ্রাসাদে এবং রাজগ্রন্থাগারে ইতিহাসের নানা উপাদান ছিল। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানাবার জন্য আলমুফাসসাল ফী তারীখিল আরব কবলাল ইসলামড. জাওয়াদ আলী; ‘নাশআতু ইলমিত্ তারীখ ইনদাল আরব’,  ড. আব্দুল আযীয আদদুরী; ‘আলমাদখাল ইলাত তারীখিল ইসলামী’, ড. মুহাম্মাদ ফাতহী উছমান দেখা যেতে পারে।

(ঘ) সাহাবা-তাবিয়ীগণ থেকে ইসলামপূর্ব যুগের যেসব ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে সেগুলো কয়েক ভাগে বিভক্ত।

১. যেসব রেওয়ায়েতের সনদ সাহাবী-তাবিয়ী পর্যন্ত সহীহ নয়,  এ ধরনের রেওয়ায়েতগুলো যদি ভিন্ন সূত্রেও প্রমাণিত না হয়বরং অসত্যতা প্রমাণিত হয় তবে তো তা পরিত্যাজ্য এবং বর্ণনাযোগ্য না হওয়া স্পষ্ট।

২. এ ধরনের অনেক রেওয়ায়েতের উৎস হলইসরাঈলী রেওয়ায়েত। ইসরাঈলী রেওয়ায়েত বলা হয় সেসব রেওয়ায়েতকেযেগুলো ইহুদী বা নাসারা থেকে এসেছে। সেগুলো কিছু সরাসরি বাইবেল বা তালমুদ থেকে গৃহীতকিছু এসবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকেআর কিছু আছে মৌখিক রেওয়ায়েত যা আহলে কিতাবের মাঝে আগে থেকেই বর্ণিত হয়ে আসছিল এবং আরবের ইহুদী-নাসারাদের মাঝে প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ ছিল।

আর ইসরাঈলী রেওয়ায়েতের হুকুম হলযেসব রেওয়ায়েতের অসারতা কুরআন-হাদীস বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য দলীলের মাধ্যমে প্রমাণিত সেগুলো বিশ্বাস করা জায়েয নেই। আর যেসব ইসরাঈলী রেওয়ায়েত এমনকুরআন হাদীসে সেসবের স্বপক্ষেও কোনো কিছু নেই আবার বিপক্ষেও কোনো কিছু নেইএসব রেওয়ায়েতের ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করা জরুরি। এ ধরনের রেওয়ায়েত সম্পর্কে এই ঈমান রাখা জরুরি যেএর প্রকৃত ইলম আল্লাহ তাআলাই জানেন। দৃঢ়তার সঙ্গে আমরা একে না সত্য বলব না মিথ্যা।

ঈসরাঈলী রেওয়ায়েত সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য ড. মুহাম্মদ আবু শাহবাহকৃত আলইরাঈলিয়্যাত ওয়াল মাউযূআত ফী কুতুবিত তাফাসীর এবং মারকাযুদ দাওয়াহ থেকে প্রকাশিত এসব হাদীস নয়’ প্রথম খ-/ প্রথম খণ্ডের ভূমিকা মুতালাআ করতে পারেন। সাহাবা-তাবিয়ীন থেকে বর্ণিত বিভিন্ন ঈসরাঈলী রেওয়ায়েত সম্পর্কে হাফেয ইবনু কাসীর রাহ. তাঁর তাফসীরগ্রন্থে এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে আলোচনা করেছেন।

৩. আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং পূর্ববর্তী কোনো কওম সম্পর্কে তাদের যেসব রেওয়ায়েতের উৎস হল মারফূ হাদীস। অর্থাৎ তারা তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন। তবে কোন রেওয়ায়েতটির ভিত্তি মারফূ হাদীস তার স্বপক্ষে ভিন্ন কোনো সহীহ মারফূ রেওয়ায়েত বা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য দলীল থাকা আবশ্যক। আর এ বিষয়ে একমাত্র নাকিদ মুহাদ্দিসগণের সিদ্ধান্তই গ্রহণযোগ্য।

৪. যেসব রেওয়ায়েতের সম্পর্ক আরব জাহিলিয়্যাতের যামানা- আইয়ামূল আরব ও আনসাবুল আরবের সাথেকিংবা ভিন্ন কোনো জাতি ও অঞ্চলের ঘটনা ও ইতিহাসের সাথেএসব রেওয়ায়েতে বর্ণিত বিষয়াবলীর কোনো কোনোটা তারা নিজেরা প্রত্যক্ষ করেছেন বা প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে শুনেছেন। অনেক দূরবর্তী যামানার বিষয় হলে সেগুলোকে তারা তাদের মধ্যে প্রচলিত মৌখিক বর্ণনা পরম্পরা থেকে জেনেছেন বা ভিন্ন কোনো উৎস থেকে জেনেছেন। যা হোক এ সবই হল সাধারণ ইতিহাসের উপাদান। ইতিহাস বিচারের যে নীতিমালা সে আলোকে এসবের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।

ইতিহাসের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছায়ের উসূল ও নীতিমালাঐতিহাসিকের মধ্যে কী কী গুণ ও বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরি এবং ইতিহাস লেখার আদব ও নিয়ম-কানুন- এগুলো স্বতন্ত্র ও দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। এসব বিষয়ে অনেক কিতাব ও বই-পুস্তক রয়েছে।

কয়েকটির নাম এখানে উল্লেখ করা হল-

مقدمة ابن خلدون

الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التاريخ

مقدمة السيرة النبوية الصحيحة، للدكتور أكرم ضياء العمري

مقدمة سيرة النبي، للعلامة شبلي النعماني والسيد سليمان الندوي

المدخل إلى التاريخ الإسلامي، للدكتور محمد فتحي عثمان

المسلمون وكتابة التاريخ، للدكتور عبد العليم عبد الرحمن خضر، المنشور من المعهد العالمي للفكر الإسلامي

المفصل في تاريخ العرب قبل الإسلام، للدكتور جواد علي ১৩৭-১৪০

مقام صحابہ، مفتي محمد شفيع  رحمه الله

حضرت معاويہ اور تاريخى حقائق، مفتي محمد تقي عثماني

১০شهيد كربلاء، مفتى محمد شفيع (مقدمه اور خاتمه)

১১. مقدمات رسائل مولانا محمد عبد الرشيد النعمانى : يزيد كى شخصيت اهل سنت كے نظر مين، ناصبيت تحقيق كے بهيس مين، حضرت على اور قصاص عثمان، شهداء كربلاء پر افتراء

শেয়ার লিংক

আবু নোমান - শর্শদি মাদরাসা, ফেনী

প্রশ্ন

শ্রদ্ধেয় উস্তাদজী!

بارك الله في حياتك مع الصحة والعافية

ইমাম তিরমিযী রাহ. রচিত আশশামায়েল কিতাবটির সঠিক ও পূর্ণ নাম কী- তালাশ করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি নাম পেয়েছি। এখন আমি জানতে চাই-

১. কাশফুয যুনূন-এর মধ্যে এই কিতাবের নাম লেখা হয়েছে-

الشمائل النبوية والخصائل المصطفوية

২. আল্লামা ইবরাহীম আলবাজুরী তাঁর রচিত শামায়েলের শরহে এই কিতাবের নাম الشمائل المحمدية  উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর শরহের নাম উল্লেখ করতে গিয়ে লেখেন-

وسميتها "المواهب اللدنية على الشمائل المحمدية".

শায়েখ মুহাম্মাদ আওয়ামা দা. বা.-ও আলমাওয়াহিবুল্ লাদুন্নিয়্যাহ-এর ভূমিকায় এই কিতাবের নাম الشمائل المحمدية উল্লেখ করেছেন।

সাইয়েদ ইমরানের তাহকীক তাখরীজকৃত শামায়েলে তিরমিযীর নুসখাতেও এই কিতাবের নাম الشمائل المحمدية উল্লেখ করা হয়েছে, যা দারুল হাদীস, কায়রো থেকে মুদ্রিত।

৩.শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. কাওয়াইদ ফী উলূমিল হাদীস-এর টীকায় এক আলোচনা প্রসংগে এই কিতাবের নাম  الشمائل النبوية উল্লেখ করেছেন।

শায়েখ মুহাম্মাদ আওয়ামাহ দা. বা. আলমাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ-এর ভূমিকায় শায়েখ আব্দুল ফাতাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর নুসখা থেকে তাঁর লিখিত একটি মন্তব্য হুবহু উল্লেখ করেছেন, সেখানেও শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. এই কিতাবের নাম الشمائل النبوية উল্লেখ করেছেন।

মাকতাবায়ে শামেলায় ইমাম তিরমিযী রাহ.-এর জীবনী আলোচনায় তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের তালিকায় এই কিতাবের নাম الشمائل النبوية উল্লেখ করা হয়েছে।

আমার হাতের কাছে যে সকল মাওয়াদ আছে সেগুলোতে উপরোক্ত তিন ধরনের নাম পেয়েছি, তাই জানতে চাই- সঠিক নাম কোনটি?


উত্তর

ইমাম তিরমিযী রাহ.-এর এই কিতাবটি সংক্ষেপে  الشمائل নামেই প্রসিদ্ধ। তবে বিভিন্ন ভাষ্যকার ও টীকাকার এবং প্রকাশকগণ উপরোক্ত নামের সাথে আরো কোনো অংশ যোগ করে থাকেন, যার কিছু বিবরণ আপনি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আসলে কিতাবটির পূর্ণ নাম কী তা নিশ্চিতভাবে বলতে হলে আরো তাহকীকের প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন রয়েছে প্রাচীনতম এমন কোনো মুতকান নুসখা ও অনুলিপির, যার মুত্তাসিল সনদ রয়েছে মুসান্নিফের নুসখা পর্যন্ত।

তবে কুতুবে হাদীসের বিভিন্ন আছবাত-এ কিতাবটির নাম এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-

كتاب شمائل النبي صلى الله عليه وسلم

দ্রষ্টব্য : ফিহরিসতু ইবনে খায়ের, পৃ.১২৮; আলগুনইয়াহ, কাযী ইয়ায, পৃ. ১৩২; আত-তাহবীর ফীল মুজামিল কাবীর, সাময়ানী, পৃ. ১৯৬; ইছারাতুল ফাওয়াইদ, সালাহুদ্দীন আলায়ী, পৃ. ২২৭; মাশইখাতু ইবনিল জাওযী, পৃ. ১৪২

তাই আপতত আমার খেয়ালে অর্থ ও উসলূবের বিচারে পূর্ণাঙ্গ নাম হিসেবে শেষোক্ত নামটিকেই অধিক মুনাসিব মনে হয়। অর্থাৎ-

كتاب شمائل النبي صلى الله عليه وسلم

আর এ নামেই আরবের কোনো কোনো মাকতাবা থেকে কিতাবটি ছাপা হয়েছে।

শেয়ার লিংক

তাসনীম আরেফীন - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

প্রশ্ন

 

আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হচ্ছে সব মিলিয়ে হাদীসের কিতাবের সংখ্যা কত?


 

উত্তর

হাদীসের সংকলন ও উৎসগ্রন্থের সংখ্যা তো প্রচুর এবং হাদীস শরীফ বিভিন্ন গ্রন্থে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। হাদীসগ্রন্থের মোট সংখ্যা কত তা কীভাবে বলা সম্ভব। কারণ, হাদীসের বহু গ্রন্থ এখনো পান্ডুলিপি আকারে বিশে^র বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত রয়েছে, যা এখনো ছাপেনি। আর  যেসব গ্রন্থ ছাপা হয়েছে তার সবগুলো সবার কাছে নেই। তবে যেসব হাদীসের গ্রন্থ মুহাদ্দিসীন ও উলামায়ে কেরামের নযরে এসেছে এবং তাদের নাগালে রয়েছে তাতে সমষ্টিগতভাবে দ্বীন ও শরীয়তের উৎস ও ভিত্তি সকল হাদীস ও আছার সন্নিবেশিত রয়েছে। সেসব হাদীস গ্রন্থের তালিকা ও পরিচয় জানার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিবলিওগ্রাফী, ক্যাটালগ ও গ্রন্থপঞ্জীর সহযোগিতা নেয়া যায়। এ ধরনের কয়েকটি গ্রন্থ ও পুস্তিকার নাম এখানে উল্লেখ করছি।

১. الرسالة المستطرفة، لمحمد بن جعفر الكتاني

২. دليل مؤلفات الحديث الشريف المطبوعة القديمة والحديثة

৩. المعجم المصنف لمؤلفات الحديث الشريف، لمحمد خير رمضان

শেয়ার লিংক

ইবনু হামিদ - ঢাকা

প্রশ্ন

হযরত! আল্লাহ তাআলা আপনার মেহনতকে কবুল কুরন। আমার দিলী তামান্না আপনার সাথে তাআল্লুক রাখা। আপনি মাঝে-মধ্যে চিঠির মাধ্যমে তাআল্লুক রাখার মশওয়ারা দিয়ে থাকেন।

আমি অনেকবার চিঠি পাঠানোর ইচ্ছা করেছি। কিন্তু চিঠি-পত্র প্রেরণের আদব-কায়দা সম্পর্কে কিছু জানি না বিধায় পাঠাতে পারি নাই। তাই যদি সম্ভব হয় চিঠি লেখার আদব-কায়দা প্রবন্ধ আকারে পেশ করলে আমার মতো অনেকেরই ফায়দা হবে ইনশাআল্লাহ।


উত্তর

চিঠিপত্র লেখার কিছু উসূল ও আদব তো আপনারও জানা থাকার কথা। আর আপনি আপনার উস্তাযকে জিজ্ঞাসা করেও তা জেনে নিতে পারেন এবং অনুশীলনের জন্য প্রথমে চিঠি লিখে উস্তাযকে দেখিয়ে সংশোধন করে নিতে পারেন। আমি এখানে এমন কিছু সাধারণ আদবের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, যা যেকোনো চিঠিপত্র লেখার সময় অনুসরণ করা দরকার-

১. চিঠির বিষয়বস্ত্ত স্পষ্ট ভাষায় এবং স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লেখা।

২. চিঠির শুরুতে অবশ্যই বিসমিল্লাহ লেখা এবং সালাম পেশ করা।

৩. চিঠি লেখার দিন-তারিখ শুরুতে বা শেষে উল্লেখ করা।

৪. বড়দের কাছে পরামর্শের জন্য চিঠি লিখলে এবং চিঠির মাধ্যমে জওয়াব পেতে হলে চিঠির সাথে জওয়াবী খাম নাম-ঠিকানা লিখে পাঠানো। সম্ভব হলে খামে টিকিট লাগিয়ে দেওয়া।

৫. পরামর্শ চেয়ে লিখলে তা বাংলায় লিখলে পৃষ্ঠার বাম পাশে লেখা এবং ডান পাশ খালি রাখা, আর আরবী বা উর্দুতে লিখলে পৃষ্ঠার ডান পাশে লেখা এবং বাম পাশ খালি রাখা।

৬. পরামর্শ চেয়ে যে চিঠি লেখা হয় তাতে নিজের কোনো হালত ও অবস্থা অস্পষ্ট না রাখা।

৭. চিঠির শেষে নিজের পূর্ণ নাম ও ঠিকানা লেখা।

হযরত থানবী রাহ.-এর আদাবুল মুআশারা নামক রিসালায় চিঠিপত্র পাঠানোর কয়েকটি আদবের কথা উল্লেখ রয়েছে সেগুলো দেখে নিতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম - মুহাম্মাদনগর মাদরাসা, খুলনা

প্রশ্ন

১.আল্লাহ তাআলা হযরতকে নেক হায়াত দান করুন। আমি কাফিয়া জামাতের ছাত্র। ভবিষ্যতে আমার ইলমে তাফসীরে তাখাসসুস করার নিয়ত আছে, ইনশাআল্লাহ। আমি এখন থেকে কোন্ কোন্ কিতাব মুতালাআয় রাখতে পারি? এবং কুরআন তরজমা কীভাবে হল করব।

২. তাফসীরে ইবনে কাসীরের কোন্ নুসখা আমাদের জন্য অধিক উপকারী এবং সহজলভ্য।

৩. উলূমুল কুরআনের বিস্তারিত নির্ভরযোগ্য সহজলভ্য কোন্ কিতাব মুতালাআয় রাখতে পারি।

৪. হায়াতুস সাহাবার মিশরীয় ছাপাগুলোর কোন্টি বেশি মুহাক্কাক এবং তাখরিজ সম্বলিত?

হযরতের নিকট দুআ কামনা করছি।

উত্তর

(১) আল্লাহ তাআলা আপনার নিয়ত কবুল করুন এবং ভরপুর তাওফীক দান করুন। আপনি যে নিয়ত করেছেন তা বাস্তবায়নের জন্য উস্তাযের নেগরানীতে মেহনত জারি রাখতে হবে। কাফিয়া জামাত থেকে পরবর্তী আরো দুই জামাতে তরজমায়ে কুরআন পড়ানো হয়। তাই এই জামাতগুলোতে কুরআনে  কারীমের সহীহ তরজমা শেখা এবং আয়াতের মর্ম বুঝার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য আপনি তরজমায়ে শাইখুল হিন্দ এবং ফাওয়ায়েদে উছমানী নিয়মিত মুতালাআ করতে পারেন। বাংলা তরজমার মধ্যে এমদাদিয়া লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত বঙ্গানুবাদ বা সদ্য প্রকাশিত আসান তরজমায়ে কুরআন (অনুবাদ : মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম) থেকে সহযোগিতা নিতে পারেন। পাশাপাশি সম্ভব হলে আবু তাহের মেসবাহ দা.বা. রচিত الطريق إلى القرآن الكريم দেখতে পারেন। আর কুরআনের গরীব-বিরল ও কঠিন শব্দসমূহের জন্য রাগেব আস্ফাহানী রাহ.-এর  المفردات في غريب القرآن  বা মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নোমানী রাহ.-এর لغات القرآن দেখতে পারেন। বিশদ তাফসীর পড়ার আগে কুরআনের সহীহ তরজমা শেখা এবং সহজ-সরলভাবে অর্থ ও মর্ম বোঝা বেশি জরুরি। তাই এ বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগ দিন। আর সাথে সাথে প্রত্যেক জামাতে যে যে ইলম ও ফনের কিতাব রয়েছে তারও হক আদায় করে বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন।

(২) এখন বিভিন্ন মাকতাবায় তাফসীরে ইবনে কাসীরসহ অনেক কিতাবের একাধিক নুসখা ও ছাপা রয়েছে। সবগুলোর খোঁজ-খবর আমার জানা নেই। নিজে দেখে কোনো একটি নির্বাচন করুন।

(৩) আপনি এখন এই মুতালাআ মুফতী তাকী উছমানী দামাত বারাকাতুহু-এর উলূমুল কুরআন দ্বারা শুরু করতে পারেন। আর এ ফনের বুনিয়াদী কিতাবসমূহের মধ্যে বদরুদ্দীন যারকাশী রাহ.-এরالبرهان في علوم القرآن এবং জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ.-এর الإتقان في علوم القرآن তো খুবই প্রসিদ্ধ ও সহজলভ্য। এ দুটো কিতাব আরো পরে সুযোগ মত মুতালাআ করতে পারেন।

(৪) হায়াতুস সাহাবা কিতাবটি শায়েখ বাশশার আওয়াদ মারুফের তাহকীক এবং সংক্ষিপ্ত তাখরীজ ও তালীকসহ মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বায়রুত থেকে পাঁচ খ-- ছেপেছে। আপনি এই নুসখাটি সংগ্রহ করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হুযাইফা - রংপুর

প্রশ্ন

তালীম ও তারবীয়াত সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ প্রশ্ন।


উত্তর

আপনি ফেরত খামসহ অথবা সরাসরি সাক্ষাৎ করে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

শিব্বির আহমদ - মোমেনশাহী

প্রশ্ন

মুহতারাম, আল্লাহ তাআলা আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন এবং আপনার থেকে আমাদেরকে আরও বেশি উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করুন।

কয়েকটি বিষয়ের সমাধান বুঝে আসছে না, আশা করি জানিয়ে উপকৃত করবেন।

ক. সূরা জিন্ন দ্বারা বুঝা যায়, জিনেরা আল্লাহ তাআলার উপর ঈমান এনেছে তারপরও নাকি জিনদের জান্নাতে যাওয়া নিয়ে ইমামদের মাঝে মতভেদ আছে। বিষয়টি মতভেদসহ বিস্তারিত জানতে চাই।

খ. কুরআন শরীফে অনেক জমার সীগা আলিফ ছাড়া কেন? যেমন- ১ নং পারার ৮ পৃষ্ঠায় بَاءُوْ  শব্দটি ও ২ নং পারার ১৫ নং পৃষ্ঠায় فَاءُوْ শব্দটি।

আবার অনেক শব্দ অহেদের সীগা কিন্তু আলিফসহ কেন? যেমন : সূরা বায়িন্যাহ يَتْلُوْا শব্দটি।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।


উত্তর

ক. জিন্ন জাতি শরীয়তের মুকাল্লাফ অর্থাৎ ঈমান আনা ও শরীয়ত মান্য করা তাদের উপরও ফরয- এ বিষয়ে কারো কোনো ইখতেলাফ নেই। এমনিভাবে জিন্নদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে না এবং যারা আল্লাহর নাফরমানী করবে তারা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে এ বিষয়েও কোনো ইখতিলাফ নেই। কুরআনে কারীমের সুস্পষ্ট আয়াত ও সহীহ হাদীস দ্বারা এসব কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং এ বিষয়ে উম্মতের ইজমা রয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হল জিনদের মধ্যে যারা মুমিন ও নেককার তাদেরকে আখেরাতে কী প্রতিদান দেয়া হবে। এ ব্যাপারে সঠিক কথা হল, নেককার জিনরা মানুষের মতই জান্নাত লাভ করবে। জুমহুর ও অধিকাংশ আহলে ইলম থেকে এ কথাই বর্ণিত হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী কোনো কোনো আহলে ইলম থেকে একথাও বর্ণিত হয়েছে যে, মুমিন ও নেককার জিনদের প্রতিদান হল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ এবং আখেরাতে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভ। কিন্তু জান্নাতের যেসব নায-নিআমতের প্রতিশ্রম্নতি মানুষকে দেয়া হয়েছে তাতে জিনেরা শামিল হবে না, বরং তাদেরকে অন্যান্য প্রাণীর মত মাটি বানিয়ে দেয়া হবে।

শেষোক্ত এই মতটি যাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়, যেমন, ইমাম আবূ হানীফা রাহ.-এর প্রতি; তাদের প্রতি এ কথার সম্বন্ধ সন্দেহযুক্ত। কারণ তাদের পর্যন্ত এ কথার সহীহ কোনো সনদ আমাদের জানা নেই। অধিকন্তু এ মতটির পক্ষে শক্তিশালী কোনো দলীলও নেই। সুতরাং প্রথমোক্ত জুমহুরের মতটিই সহীহ ও অগ্রগণ্য। কেননা এ সংক্রান্ত কুরআন-সুন্নাহর নুসূসের জাহির ও ব্যাপকতা থেকে প্রথমোক্ত কথাই প্রতীয়মান হয় এবং এর খেলাফ কোনো শক্তিশালী দলীল বিদ্যমান নেই।

দ্রষ্টব্য : তাফসীরু ইবনু কাছীর, তাফছীরু কাশশাফ, তাফসীরু আবিস সাউদ (সূরা আহকাফের ৩১ নং আয়াতের তাফসীর), তাফসীরে মাযহারী, (সূরা জিনের তাফসীর), কিতাবুন নুবুওয়াহ, ইবনু তাইমিয়া পৃ. ৩/১২৩৬

খ. দেখুন, আরবী লেখার সাধারণ رسم الخط বা লিখন পদ্ধতি এবং কুরআনে কারীমের রসমুল খতের মাঝে পার্থক্য রয়েছে।

বিভিন্ন মাসলেহাত ও কারণে কুরআনে কারীমের রসমুল খত "المصحف الإمامতথা হযরত উছমান রা. কর্তৃক সংকলিত মুসহাফের মত রাখা জরুরি। এর উপরই সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর কর্মধারা বিদ্যমান রয়েছে। তাই একে অপরিবর্তিত রাখাই সর্বস্বীকৃত বিষয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মফিজুর রহমান - মোহাম্মাদ নগর মাদরাসা, খুলনা

প্রশ্ন

 

আল্লাহ হযরতের নেক ছায়াকে দীর্ঘায়িত করুন। হযরতের নিকট নিমেণাক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান কামনা করছি।

ক. মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন দরবেশকৃত ইরাবুল কুরআন, যা দারু ইবনে কাছীর  থেকে ৯ খ-- প্রকাশিত হয়েছে। তার ৬ষ্ঠ খ--র ১৯২ পৃষ্ঠায় بين المعتزلة وأهل السنة   শিরোনামে আলোচনার শেষদিকে  লিখেছেন-

وغالب الشافعية أشاعرة، والغالب في الحنفية معتزلة، والغالبة في المالكية قدرية، والغالب في الحنابلة حشوية .

উল্লেখিত ইবারতের বক্তব্যের বাস্তবতা কতটুকু এবং এ ব্যাপারে কোনো দলীল থাকলে জানালে ভাল হয়।

খ. সাথে সাথে মুসান্নিফ রাহ. তার উক্ত কিতাবের মধ্যে ফাওয়াইদ শিরোনামে বহু ইখতিলাফ উল্লেখ করেছেন, যা নাহুর কায়েদার ব্যাপারে নয়; তার উপর আমরা কতটুকু নির্ভর করতে পারি। উক্ত কিতাবের মান লেখকের মান এবং মাজহাব সম্পর্কে জানতে চাই।

গ. হযরতের সনদে ছাত্র ভাইদের মুখে শোনা যায় যে, কাফিয়ার ছাত্রদের জন্য কাফিয়া এবং শরহে জামী অপেক্ষা قطر الندى পড়াই বেশি উত্তম। কাফিয়ার ছাত্রদের জন্য নাহুর বিস্তারিত মাসায়েল এবং মুতালাআয় রাখার মত নির্ভরযোগ্য জাদিদ কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করলে ভাল হয়।

হযরতের নিকট দুআ কামনা করছি, আল্লাহ যেন আমাদেরকে ইলমের ময়দানে কবুল করেন। আমীন।


 

উত্তর

ক. উপরোক্ত ইবারতের ঢালাও বক্তব্য বাস্তবসম্মত নয়। স্থান, কাল, ব্যক্তি ও শ্রেণীর সীমারেখা উল্লেখ ছাড়া গড়পড়তা এমন মন্তব্য সঠিক হতে পারে না।

হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী হল চারটি ফিকহী মাযহাব ও তার অনুসারীদের উপাধি। এ সকল ফিকহী মাযহাবের সংকলক ইমামগণ সকলেই আকীদা ও উসূলুদ্দ্বীনের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর ইমাম ছিলেন।

মূলত সকল আইম্মায়ে দ্বীন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর অন্তর্ভুক্ত। ইমাম আবূ মানসুর আব্দুল কাহের বাগদাদী রাহ. (মৃত্যু ৪২৯ হি.) উসূলুদ্দীন কিতাবে তাঁর যামানা পর্যন্ত বিভিন্ন যুগের ফিকহ, হাদীস, তাসাওউফ এবং নাহ্ব ও লুগাহ শাস্ত্রের ইমামদের সম্পর্কে আলোচনা করার পর বলেছেন,

وفي هذا دليل على أن جميع أئمة الدين في جميع العلوم من أهل السنة.

দ্রষ্টব্য : প্রগুক্ত, পৃ. ৩১২-৩১৭

বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রসিদ্ধ চার ফিকহী মাযহাব অনুসারে যারা যুগে যুগে আমল করে আসছেন, তাদের মাঝে বিভিন্ন অঞ্চলে নানা স্তরের, নানা শ্রেণীর এবং নানা পেশার মানুষ রয়েছেন। এঁদের অধিকাংশই মৌলিকভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন যুগে এমন অনেক ব্যক্তি ও দলের আবির্ভাব হয়েছে, যারা ফিকহী মাসাআলার ক্ষেত্রে উপরোক্ত চার মাযহাবের কোনো একটির অনুসরণ করত বা অনুসরণের দাবি করত; কিন্তু আকীদা-বিশ্বাস ও উসূলুদ্দীনের ক্ষেত্রে তারা চার ইমামের কারো অনুসরণ করত না, বরং ভিন্ন কোনো বিদআতী আকীদা পোষণ করত। নির্দিষ্ট কোনো যুগে বা স্থানে, বিশেষ কোনো শ্রেণীর মাঝে বা পরিম-লে উপরোক্ত ধরনের বিদআতী আকিদা পোষণকারী ব্যক্তিদের কখনো হয়তো প্রাধান্য ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ফিকহী মাযহাবের অনুসারীদের মাঝে সব যুগে, সব স্থানে, সব শ্রেণীর মাঝে বিদআতী আকীদা পোষণকারীদের প্রাধান্য ছিল এ কথা সত্য নয়।

এ ব্যাপারে ইমাম তকীউদ্দীন সুবকী রাহ.-এর নিমেণাক্ত বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য-

والفرقة الأشعرية هم المتوسطون في ذلك، وهم الغالبون من الشافعية والمالكية والحنفية وفضلاء الحنابلة وسائر الناس وأما المعتزلة فكانت لهم دولة في أوائل المائة الثالثة، ساعدهم بعض الخلفاء، ثم انخذلوا، وكفى الله شرهم.

দ্রষ্টব্য: আস-সাইফুস ছাকীল, ইমাম সুবকী পৃ. ২২

খ. ইরাবুল কুরআন ওয়া বায়ানুহু কিতাবের মুসান্নিফ মুহিউদ্দীন দরবেশ রাহ. সিরিয়ার বিখ্যাত আরব সাহিত্যিক ও কবি ছিলেন। তিনি কোন্ ফিকহী মাযহাবের অনুসারী তা নির্দিষ্টভাবে আমার জানা নেই।

আর তার উপরোক্ত কিতাবটি আদ্যপান্ত আমার পড়ার সুযোগ হয়নি। তবে এর বিভিন্ন স্থান মুরাজাআত করার সুযোগ হয়েছে। তাতে মনে হয়েছে যে, এতে তিনি নির্বিচারে সব কথা উল্লেখ করেননি, বরং বাছাই করে তথ্য উপাত্ত সন্নিবেশিত করেছেন। এ হিসাবে কিতাবটি ভালোই মনে হয়। এ কিতাব থেকে ইস্তেফাদাহ করা যেতে পারা। তবে নির্দিষ্ট কোনো কথা শায ও আপত্তিকর হলে তা অবশ্যই তাহকীক করা জরুরি।

গ. আপনি আমার ব্যাপারে যে কথাটি শুনেছেন তা আমি সবার ব্যাপারে ব্যাপকভাবে বলিনি। ব্যাপকভাবে এমন কথা আমি বলতে পারি না। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য তার বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে আমি হয়তো সে কথা বলেছি।

কাফিয়া কিতাবটি একটি জামে মুখতাসার মতন। মূল কিতাবটিই বুঝে পড়া দরকার। এর সাথে অতিরিক্ত কোনো জাদীদ কিতাব তালিবে ইলমদের জন্য আমি মুনাসিব মনে করি না।

শেয়ার লিংক

(নামবিহীন) - ঢাকা

প্রশ্ন

মুহতারাম, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছেন। আমি শরহে বেকায়া জামাতের ছাত্র এবং মাসিক আলকাউসারের নিয়মিত পাঠক।

হুযুরের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর কামনা করছি। প্রশ্নগুলো বিস্তৃত হলেও দ্রুত উত্তর প্রদানে বাধিত করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সর্বদা সিরাতে মুসতাকিমে অবিচল রাখুন। আমীন। প্রশ্নগুলো এই :

ক. অনুবাদ প্রসঙ্গে : আরবী আদব ও কুরআন-হাদীসের অর্থ কীভাবে তুলতে হয় এবং অর্থ তোলার ক্ষেত্রে যে সকল নিয়ম আছে সেগুলোর উদাহরণসহ কামনা করছি। অনুবাদ প্রসঙ্গে কোনো কিতাব লেখা হলে তার নামও কামনা করছি।

খ. আরবী আদবের কিতাব সম্পর্কে :

আরবী আদবের এমন কী কী কিতাব আছে, যাতে সহজ সহজ আরবী تعبيرات রয়েছে এবং তাবীরগুলোর বাংলায় অনুবাদও রয়েছে।

গ. বাংলা থেকে আরবী লুগাত হিসাবে কোনটি বেশি ভালো? যাতে শব্দের অর্থের সাথে সাথে ব্যবহার দেওয়া হয়েছে?

ঘ. অনেক সময় দেখা যায় আরবী হরফসমূহ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু নাহবের কিতাবসমূহে এমনকি লুগাতসমূহেও তার এমন অর্থ পাওয়া যায় না। যেমন,  فصيحة- فاء অর্থে, تفريع - حتى  অর্থে ইত্যাদি।

তো এগুলোর জন্য কোনো কিতাব আছে কি না? তার নাম কামনা করছি।

ঙ. আরবী বালাগাত শাস্ত্রের কি এমন কোনো কিতাব রয়েছে, যাতে শুধু আরবী বালাগাতের কায়দাসমূহ এবং মূল মূল আলোচনা রয়েছে এবং তাতে কোনো ইখতিলাফ নেই- তার নাম কামনা করছি। সাথে সাথে তার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ও?

৬. মাকামাতুল হারীরী কিতাবের শব্দার্থ থেকে সঠিক অর্থ কীভাবে তোলা যায় এবং ভাবানুবাদের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মানতে হয়?

উত্তর

(ক) অনুবাদ শেখার জন্য নমুনা হিসেবে হযরত মাওলানা আবু তাহের মেসহাব দামাত বারাকাতুহুম এর ‘আত-তরীক ইলাল কুরাআনিল কারীম’ দেখতে পারেন। এমনিভাবে ‘কাসাসুন নাবীয়্যীন’ কিতাবের যে নুসখাটি হযরত আবু তাহের মেসবাহ দামাত বারাকাতুহুমের পরিশিষ্ট ও অনুশীলনীসহ ছেপেছে সেটির সহযোগিতা নিতে পারেন। এর শুরুতে হযরতের যে ভূমিকাটি রয়েছে তা ভালোভাবে পড়–ন।

(খ) এর জন্য আসল করণীয় হল, নিজে আরবী ভাষার ইস্তেদাদ ও যওক হাসিল করা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের রুচিবোধ অর্জন করা।

(গ) বাংলা থেকে আরবী বা আরবী থেকে বাংলা মানসম্মত ও সমৃদ্ধ অভিধানের বড়ই অভাব। আপনি হযরত মাওলানা আবূ তাহের মেসবাহ দামাত বারাকাতুহুমের ‘আল-মানার’ বাংলা-আরবী অভিধানটির সহযোগিতা নিতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, তালিবে ইলমের জন্য আসল করণীয় হল, সরাসরি আরবী লুগাত ও আদবের কিতাব থেকে ইস্তেফাদা করা। আর বাংলা প্রতিশব্দ ও বাকধারা এবং বাকরীতি জানার জন্য নিজে মেহনত করা এবং উস্তাযের সহযোগিতা নেয়া।

(ঘ) হুরুফুল মায়ানী সম্পর্কে স্বতন্ত্র কিতাব রয়েছে। যেমন ইমাম আহমদ ইবনু আব্দিন নূর আল-মালাকী (৭০৬ হি.) রচিত- رصف المباني في شرح حروف المعاني । এছাড়া ইমাম ইবনে হিশাম নাহবী রাহ.-এর المغني গ্রন্থেও হুরুফুল মায়ানী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

(ঙ) আপনি বালাগাতের যে ধরনের কিতাব তালাশ করছেন, নেসাবভূক্ত دروس البلاغة কিতাবটি তো সে ধরনেরই একটি কিতাব। আপনি এর সাথে মিসর থেকে প্রকাশিত البلاغة الواضحة কিতাবটি পড়তে পারেন। এটি প্রায়োগিক বালাগাতের দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত, অনুশীলনভিত্তিক গ্রন্থ।

(চ) মাকামাতুল হারীরী কিতাবের যে বাংলা অনুবাদটি মাওলানা আহমদ মায়মুন সাহেব করেছেন তা থেকে ইস্তেফাদা করতে পারেন।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement