মুহাম্মাদ ফাহীম - চান্দগাও আ/এ, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

বিগত কোনো আলোচনায় আপনি বলেছিলেন, দরসী তালীমের প্রথম উদ্দেশ্য হবে তাফাক্কুহ ফিদ্দীন ও রুসূখ ফিল ইলম হাসিল করা। কিন্তু আমি অধম এখনো জানি না  তাফাক্কুহ ফিদ্দীন ও রুসূখ ফিল ইলম দ্বারা কী বোঝানো হয়? আর সেগুলো কীভাবে অর্জন করতে হয় তা তো জানি-ই না। তাই হযরতের নিকট সবিনয় আরয, তাফাক্কুহ ফিদ্দীন ও রুসূখ ফিল ইলম-এর বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়ে তা অর্জনের পন্থাটিও বলে আমাকে ধন্য করবেন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে দ্বীনী খিদমতের সাথে সুন্দর-দীর্ঘ জীবন দান করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।

 

উত্তর

‘আততাফাক্কুহ ফিদ্দীন’ অর্থ ‘দ্বীনী বোধ’ লাভ করা। এখানে ‘বোধ/সমঝ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল স্পষ্ট/স্বচ্ছ, পূর্ণ, গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ বোধ-চিন্তা। এই বোধ ও চিন্তার বিভিন্ন স্তর ও বিভিন্ন দিক রয়েছে। এই সকল দিক ও সর্বোচ্চ স্তর অর্জন করা সকলের জন্য জরুরি নয় এবং সাধারণভাবে তা সম্ভব নয়। তবে তালিবানে ইলমের এদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত যে, তলব যত বাড়বে বোধ ও

চিন্তার গভীরতাও যেন সে অনুপাতে বাড়ে।

এই তাফাক্কুহের প্রাথমিক স্তর হল আমাদের মধ্যে শিষ্টাচার ও ভারসাম্য সৃষ্টি হতে থাকা। আমি নির্দিষ্টভাবে ওয়াদা করছি না। তবে ইনশাআল্লাহ কয়েক মাসের মধ্যে আলকাউসারে ‘আলফিকহুল আম লিদ্দীন’ এবং ‘তাওয়াসসুত ও ভারসাম্য’ সম্পর্কে দুটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হবে। আশা করি, তা মুতালাআ করার দ্বারা আপনার এই বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

‘আররুসূখ ফিল ইলম’-এর অর্থ হল ইলমটা দৃঢ় ও পরিপক্ক হওয়া। অর্থাৎ কোনো বিষয়ে এত দৃঢ় ও প্রামাণিক ইলম অর্জন করা যে, এর বিপরীতে যত সংশয়ই ছড়ানো হোক কিংবা যত অপপ্রচার করা হোক নিজের ইলমের মধ্যে কোনো সংশয় সৃষ্টি হয় না এবং কোনো দোদুল্যমানতা বা অস্থিরতার শিকার হতে হয় না; বরং যারা এসবের শিকার হয়েছে আল্লাহ তাআলার মদদ ও রহমতে তাদেরকে ইলমীভাবে আশ্বস্ত করা যায়। তবে রুসূখ ফিল ইলমের এই স্তর তখনই অর্জিত হয় যখন তালিবে ইলমের মধ্যে ‘তাফাক্কুহ ফিদ্দীন’ ও তাকওয়া পয়দা হবে। সুতরাং এই বৈশিষ্ট্য লাভের জন্য আমাদেরকে তাকওয়ার জীবন অবলম্বন করতে হবে এবং আহলে দিল ও আহলে ফিকহ উলামা-মাশায়েখের সোহবত লাভ করতে হবে। জীবিতদের সোহবত তো সরাসরি আর যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের সোহবত তাদের মুহাক্কাক ও মুতকান কিতাবসমূহের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।

আপনি আমার জন্য যে দুআ করেছেন আল্লাহ তাআলা তা আমার জন্য, আপনার জন্য এবং সকল তালিবে ইলমের জন্য কবুল করুন। আমীন। 

শেয়ার লিংক

আসাদুজ্জামান - ঢাকা

প্রশ্ন

আমি জানি, দরসী পড়া দ্বারা ভালো আলেম হওয়া যায় না। খারেজী মুতালাআর প্রয়োজন আছে। কিন্তু আমাদের জামাতে কিছু ছাত্র আছে, যারা দরসের পড়ার প্রতি তেমন গুরুত্ব দেয় না, পরীক্ষার জন্য রেখে দেয়। সারাদিন খারেজী কিতাব মুতালাআ করে। আমিও আগে এমন করতাম। যার কারণে হেদায়াতুন্নাহু, কাফিয়া জামাতের কিতাবগুলো ভালোভাবে আয়ত্ব নেই। তাদের অবস্থা এমন যে, যদি এই খারেজী কিতাবগুলো নেসাবভুক্ত করা হত তবে তারা ভিন্ন কিতাব পড়ত। তাই এখন তলাবুল কুল ফাওতুল কুল হচ্ছে বলে মনে হয়। কোনটা ফরয, কোন্টা নফল তা জানা না থাকার কারণে এমনটি হচ্ছে।

তাই আমার জানার বিষয় হল, এই মুতালাআ কি উপকারী হবে? আর মুতালাআর ক্ষেত্রে কোনটা ফরয, কোনটা নফল জানাবেন। দরসী কিতাব কোনটা কী পরিমাণ আয়ত্ব করার পর খারেজী কিতাব পড়ব? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

‘খারেজী মুতালাআ’-এর তুলনায় ‘ইযাফী মুতালাআ’ শব্দটি আমার কাছে বেশি পছন্দের। ইযাফী মুতালাআ সম্পর্কে অনেকবার লেখা হয়েছে যে, এর পরিমাণ, ধরন ও কিতাব নির্বাচন সবকিছু তালীমী মুরববীর নেগরানী ও তাদের পরামর্শ মোতাবেক হওয়া জরুরি। এমনকি তিনি যদি কারো জন্য শুধু দরসী কিতাবগুলোর উপর ক্ষান্ত থাকা ও ইযাফী মুতালাআ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার সিদ্ধান্ত দেন তাহলে তার জন্য এটা মেনে নেওয়াই জরুরি।

এটা তো সবাই জানে যে, তালিবে ইলমীর যামানায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল দরসী কিতাবগুলো আত্মস্ত করা। দরসের আগেই দরসী কিতাবগুলো মুতালাআ করা, মনোযোগ সহকারে সবকে উপস্থিত থাকা, এরপর তাকরার ও সবক সম্পর্কে উস্তাদগণের দেওয়া বিভিন্ন কাজ, তামরীন, কোনো মাকালা লেখা কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো আলোচনা উস্তাদের স্থিরকৃত কিতাব থেকে মুতালাআ করা-এসব কাজ হল তালিবে ইলমের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য।

এসব কর্তব্য পালনের পর যদি সময় পাওয়া যায় তাহলে অতিরিক্ত সময়ের কিছু অংশ যিকির, নফল নামায ইত্যাদিতে ব্যয় করা উচিত। তারপর কিছু অংশ ইযাফী মুতালায়। তবে আমি আগেও বলেছি, ইযাফী মুতালাআর বিষয়বস্ত্ত, কিতাব  ইত্যাদি তালীমী মুরববীই নির্ধারণ করে দিবেন।

যে তালিবে ইলম নিজের ইচ্ছামতো মুতালাআ করতে চায় নিঃসন্দেহে সে নিজেকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিবে। পাঠ তো কেবল তখনই উপকারী হয় যখন তা পবিত্র হয় এবং পাঠ্যবস্ত্ত তালিবে ইলমের বয়স ও সার্বিক অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। আর এ তো বলাই বাহুল্য যে, এমন নির্বাচন শুধু মুরববীর পক্ষেই করা সম্ভব। তালিবে ইলম তো উপকারীর পরিবর্তে মজাদার বিষয়কেই প্রাধান্য দিবে। সমূহ সম্ভাবনা আছে যে, এই মজাদার ও চটকদার বিষয়ই তার জন্য আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াবে।

এজন্য তালিবে ইলমদের প্রতি আমার অনুরোধ, তারা যেন নিজ ইচ্ছামতো মুতালাআ করা থেকে বিরত থাকেন। দরসী কিতাবগুলোর সব হক আদায় করে কিতাব বুঝার যোগ্যতাকে পোক্ত করেন এবং ইযাফী মুতালাআকে সীমিত রাখেন ও তা সম্পূর্ণই উস্তাদের পরামর্শের সাথে সীমাবদ্ধ রাখেন। যারা ইযাফী মুতালাআর পিছনে পড়ে দরসী কিতাব থেকে উদাসীন থাকে তাদের ইস্তিদাদ সাধারণত অপরিপক্ক থেকে যায়। আর ইস্তিদাদ অপরিপক্ক থাকা তো সারা জীবনের ক্ষতি, সারা জীবনেও এর ক্ষতিপূরণ প্রায় অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সব ধরনের প্রান্তিকতা থেকে হেফাযত করুন এবং সঠিক পন্থা অবলম্বনের তাওফীক দান করুন। আমীন।

আপনার জামাতের যে কিতাবগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন ক্রমান্বয়ে এর সবগুলোই জরুরি। এর প্রতিটি কিতাব আত্মস্থ করা এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট অনুশীলনমূলক যেসব কাজ উস্তাদগণ দিয়ে থাকেন তা করাও জরুরি। অবশ্য শরহে জামী ও শরহে তাহযীব-এর দীর্ঘ শরাহ মুতালাআর পিছনে বেশি সময় ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। শুধু কিতাব হল্ করে নেওয়াই যথেষ্ট। 

শেয়ার লিংক

রফিউদ্দীন রাফী - চাটখিল, নোয়াখালি

প্রশ্ন

আমি ফযীলত জামাতের ছাত্র। আল্লাহর রহমতে মিশকাত শরীফ পড়ছি। আমার জানার বিষয় হল, হাদীসের কোনো বর্ণনায়-

عن سعيد بن زيد رضي الله عنه قال :    কোনো কোনো বর্ণনায়-

عن ابن عباس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم :

আবার কোনো বর্ণনায়

عن عبد الله بن زيد رضي الله عنه أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم :

দেখতে পাই। তাছাড়া যে সকল হাদীসে সাহাবীর নামের পর أنه বা أنها শব্দ নেই সেখানেও কোনো কোনো
উস্তাদ أنه বা أنها শব্দ যোগ করে হাদীস পাঠ করেন। এর উদ্দেশ্য উক্ত বর্ণনাসমূহের মতনের ভিন্নতা সম্পর্কে জানতে চাই। আর হাদীস শরীফের রেওয়ায়েত পাঠের সঠিক নিয়ম বিষয়ে বিশেষ হেদায়েত দানের আবেদন করছি।

আমার জানা দুআসমূহের মধ্যে সবচেয়ে পছন্দনীয় দুআটি আপনার দ্বীনের সকল কর্মতৎপর ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে করছি। আল্লাহ তাআলা দ্বীনের যে কাজ আপনার  আপনাদের দ্বারা করতে পছন্দ করেন সে কাজের পূর্ণ তাওফীক দান করুন এবং গায়েবী খাযানা থেকে আপনাদের অন্তরের সকল নেক মাকসাদ পূরণের সর্বপ্রকার ব্যবস্থা করে দিন। আর আপনাদের সকল নেক দুআয় আমাকে শরিক করে দিন। 

 

উত্তর

আপনি ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’ পড়ছেন। তাহলে তো ইনশাআল্লাহ যেকোনো আরবী কিতাব থেকে উপকৃত হওয়া আপনার জন্য সহজ হয়ে থাকবে। আপনার প্রশ্নের বিস্তারিত  পূর্ণ উত্তর আপনিমুকাদ্দামাহ ইবনুস সালাহয় পেয়ে যাবেন।  কিতাবের ২৪ থেকে ২৮ নম্বর অধ্যায় পর্যন্ত বিষয়গুলোর আলোচনা পাঠ করুন। ইনশাআল্লাহ এখানে  জাতীয় সব প্রশ্নের সমাধান আপনি পাবেন।আরো কিছু জরুরি আলোচনা নববী রাহ.-এর ‘শরহে সহীহ মুসলিমে ভূমিকা  সহীহ বুখারীর শুরুতে মাওলানা আহমাদ আলী সাহারানপুরী রাহ.-এর লেখা ভূমিকাতেও পাবেন।

মুকাদ্দামা ইবনুস সালাহর পরিবর্তে উপরোক্ত বিষয়সমূহের আলোচনা সুয়ূতী রাহ.-এর ‘তাদরীবুর রাবী’ থেকেও মুতালাআ করতে পারেন।

মত্নে হাদীস পাঠ করার বিষয়ে মৌলিক কথা এই যেবিশুদ্ধভাবে পাঠ করতে হবে এবং এত দ্রুত না পড়া চাইযার দ্বারা শ্রোতাদের বুঝতে অসুবিধা হয় কিংবা পাঠকারীর অন্তরে মহববত আযমতের কমি আছে বলে মনে হয়। বিস্তারিত জানার জন্য সুনানে দারেমীর ‘কিতাবুল ইলম’, জামালুদ্দীন কাসেমী রাহ.-এর ‘কাওয়াইদুত তাহদীস’  খালেদ মাহমুদ-এর ‘আছারুল হাদীসমুতালাআ করতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা আপনার নেক দুআ কবুল করুন এবং দুনিয়া  আখিরাতে এর যথাযথ মর্যাদা  বিনিময় দান করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

ফাতাহ জুবাইদ - জামিয়া ইকরা বাংলাদেশ, চৌধুরী পাড়া, ঢাকা

প্রশ্ন

) আমি মিশকাত জামাতের ছাত্র। প্রাথমিক শিক্ষায় যেহনী ফিকির ভিত্তিমূলক দুর্বলতা থাকলেও এখন কিছুটা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি। দরসের সব বিষয়ের আলোচনা মোটামুটি গ্রহণ করতে পারছি। কিন্তু তারপরও একটা শঙ্কা ভিতরে ভিতরে কাজ করে। তবে এটা শুধু দরসী বিষয়েই। ভয় হয় আল্লাহ তাআলা কবুল করেন কি না। শঙ্কা থেকে কীভাবে মুক্তি পেতে পারি?

) আপনাকে মোবারকবাদ। আলমাদখাল ফী উলূমিল হাদীস রচনার জন্য। আল্লাহ তাআলা আপনাকে দীর্ঘায়ু করুন। কিতাবটির মুকাদ্দামা মুতালাআ করে উলূমুল হাদীসের গুরুত্ব সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। আমার মনে হয় বিষয়ে একটি আলাদা কিতাব লেখা হলে এই ফিকিরটি আরো বেগবান হত। বিষয়ে কোনো কিতাব লেখার ইচ্ছা হযরতের আছে কি? অথবা বিষয়ে কোন্ কিতাব মুতালাআ করতে পারি জানিয়ে বাধিত করবেন। 

 

উত্তর

) কবুল করা তো আল্লাহ তাআলার কাজ। আর নিজ দয়ায় তিনি কবুল করেই থাকেন।

ومن اراد الآخرة وسعى لها سعيها وهو مؤمن فاولئك كان سعيهم مشكورا.

তরজমা : যারা মুমিন হয়ে আখেরাত কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে তাদের প্রচেষ্টা পুরস্কারযোগ্য। -সূরা ইসরা (১৭) : ১৯

তবে মুমিনের শান তো হলসর্বদা ভয়  আশার মধ্যে থাকা। সুতরাং আপনার এই অবস্থা প্রশংসনীয়কোনো মন্দ আশঙ্কা নয়। এর জন্য চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

) হাদীস  সুন্নাহর গুরুত্ব তো অবিসংবাদিত। হুজ্জিয়তে হাদীসমাকানাতে হাদীস  তিসাম বিলহাদীস বিষয়ক সকল কিতাবের সারকথা তো এটাই। এই গুরুত্ব যে অনুধাবন করতে পারে সেকখনো উলূমুল হাদীসের গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারে না। আপনি খালেদ মাহমুদ ছাহেব-এর ‘আছারুল হাদীস’ মুতালাআ করুন। এতে ইনশাআল্লাহ আপনার জ্ঞানও সমৃদ্ধ হবে এবং আরো কিছুনির্দেশনাও পেয়ে যাবেন।

শেয়ার লিংক

শাবিবর আহমাদ - জালালাইন জামাত, জামিআ মাহমুদিয়া মাদরাসা নবাবগঞ্জ

প্রশ্ন

আমি জালালাইন জামাতের ছাত্র। আমার কতগুলো মানসিক সমস্যা থাকার কারণে চিঠি লিখতে বাধ্য হয়েছি। সমস্যাগুলো হল-

) আমি একজন সাধারণ ছাত্র। কিতাবাদি মোটামুটি বুঝি। কিন্তু তারকীব কিতাবের ইবারত ভালোভাবে পড়তে পারি না। কীভাবে তারকীব ইবারত সহীহ পড়তে পারব জানালে কৃতজ্ঞ হব।

) আরবী ভাষা শেখা আরবীতে কথা বলার খুব আগ্রহ। তবে ছাত্র কম থাকায় মুনাসিব কোনো সাথী পাচ্ছি না, যার সাথে সর্বদা আরবীতে কথোপকথন করব। আরবী ভাষা কীভাবে তাড়াতাড়ি আয়ত্ত্ব করতে পারব দয়া করে জানাবেন।

) দরসের কিতাবগুলো সবকের পর আর পড়া হয় না। হুজুর চাপ দিলেও কখনো ধরা হয়, না হলে পরীক্ষার সময় ধরা হয়। তাই কিতাবগুলো কিভাবে পড়লে হল করতে পারব দয়া করে জানাবেন।

) কখনো কোনো বাধা-বিপত্তি এলে মনমানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়। যেমন, ছাত্রদের মাঝে কোনো সমস্যা হল কিংবা মাদরাসা বা বাড়ির কোনো সমস্যা ইত্যাদি। তখন পড়ালেখায় একেবারে মন বসে না। হতাশ হয়ে যাই। তাই নির্ঝঞ্ঝাট পড়ালেখা করার কোনো পদ্ধতি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

 

উত্তর

)  মুহূর্তে আপনার প্রধান কাজ হল সবকের আগে মুতালাআ করাসবকে হাজির থাকা  মনোযোগ দিয়ে উস্তাদজীর আলোচনা শোনা। এরপর তাকরার করা। এই তিন কাজ করার পর সম্ভবহলে নিযামুল আওকাত থেকে ১৫-২০ মিনিট সময় বের করুন এবং অল্প অল্প করে প্রতিদিন ‘আততরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ’ পড়তে থাকুন। এটি শেষ হলে ‘আততরীক ইলাল কুরআনিল কারীমশুরু করুন। ইনশাআল্লাহ এটি সহীহ-শুদ্ধ ইবারত পাঠ  তারকীব বুঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

) এটি কোনো বড় কাজ নয়। আবার কোনো কঠিন কাজও নয়। আপনি এখন শুধু দরসী কিতাবগুলোর প্রতি মনোযোগ দিন। আর ইযাফী মুতালাআ হিসেবে (যদি সুযোগ পাওয়া যায়উপরোক্তকিতাব দুটি মুতালাআ করুন।  দুটি কিতাব আত্মস্থ হয়ে গেলে আরবীতে কথা বলার যোগ্যতা তৈরি হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

)  তো শুনেছি বাচ্চাদের স্বভাব। তাদের পিছনে লেগে না থাকলে হয় না। আপনি তো মাশাআল্লাহ বড় মানুষ। জালালাইন জামাতের তালিবে ইলম। আপনার তো নিজ আগ্রহেই পড়া উচিত।ইলমের সাথে মহববত হয়ে গেলে এই অভিযোগ থাকবে না।

) দুনিয়া তো সমস্যারই নাম। এখানে কাজ করার পদ্ধতিই হল সব সমস্যা থেকে চোখ ফিরিয়ে নিজের কাজে লেগে থাকা। যারা কাজ করেছেন সবাই এভাবেই করেছেন।

إذا كان يؤذيك حر المصيف *

ويبس الخريف وبرد الشتاء

ويلهيك حسن زمان الربيع *

فأخذك للعلم قل لي متى.

শরতের শুষ্কতা এবং শীত-গ্রীষ্মের ঠান্ডা-গরম যদি তোমাকে বিচলিত করে/আর বসন্তের রূপ-সৌন্দর্য তোমাকে উদাসী করে রাখে তাহলে বলকখন তুমি ইলম অর্জন করবে?

আর আপনি যে সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন তা তো কোনো সমস্যাই নয়। তালিবে ইলমের জন্য এসব জিনিসকে নিজের সমস্যা মনে করা একেবারেই নির্বুদ্ধিতা।

من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه

 ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হল অনর্থক কাজ পরিহার করা।

এই হাদীসের উপর আমল করুন। তাহলে কোনো দুশ্চিন্তা হবে না।

আমার উদ্দেশ্য এই নয় যেকোনো সাথী অসুস্থ হলে তার সেবা  খেদমত করবেন না। অবশ্যই খেদমত করবেন। এতে আপনার ইলমে বরকত হবে। তবে এটাকে কোনো সমস্যা মনে করবেন না।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মারূফ - আলজামিআ আলমাদানিয়া ফেনী

প্রশ্ন

 

ফয়যুল বারীর প্রথম খন্ডে باب من أدرك ركعة من العصر قبل المغرب   এর প্রথম হাদীসের আলোচনার শেষ দিকে تخريج الهداية، للزيلعي   এর উদ্ধৃতিতে কয়েক লাইন উল্লেখ করা হয় এবং انتهى বলে সমাপ্ত করা হয়। কিন্তু দারুল কিবলা থেকে মুদ্রিতনসবুর রায়াহয় উক্ত লাইনগুলো পাওয়া যায় না। ফয়যুল বারীতে উল্লেখিত প্রথম লাইনটির মাফহুম এভাবে উল্লেখ করা হয়-

ومنهم من يفسره بالمأموم ويشهد له رواية الدارقطني ... الخ

সুতরাং انتهى বলে সাধারণত যা বুঝানো হয় তা স্থানে কতটুকু প্রযোজ্য? আর অধ্যায়ের উক্ত আলোচনাটি ভালোভাবে বোঝার জন্য কোন্ কোন্ কিতাব সহায়ক হবে। সম্পর্কে হুজুরের পথনির্দেশনা কামনা করছি।

 

 

উত্তর

 

আপনার হাওয়ালাগুলোতে তরজমাতুল বাবের সাথে কিতাবের খন্ড  পৃষ্ঠা নম্বরও উল্লেখ করা উচিত ছিল। সংশ্লিষ্ট আলোচনাটি ‘ফয়যুল বারী প্রথম খন্ডে আছে নাকি দ্বিতীয় খন্ডে? 

ফয়যুল বারীতে (খন্ড : পৃষ্ঠা : ১২৪) ‘নসবুর রায়াহ ইবারত উল্লেখ করা হয়নি। তবে একটি কথার হাওয়ালা দেওয়া হয়েছে- 

وفي تخريج الهداية، للزيلعي ـ ولا يوجد هذا النقل عند غيره ـ أن الحديث محمول على المسبوق عند بعض العلماء.

আর নসবুর রায়াহ (খন্ড : পৃষ্ঠা : ২২৯থেকে আপনি যে ইবারত উল্লেখ করেছেন তা থেকে এই বিষয়টি বোঝা যায়।

পরের কথাগুলো শাহ ছাহেব রাহ.-এর নিজেরনসবুর রায়াহ নয়। আর انتهى শব্দটি তিরমিযীর হাওয়ালার সাথে সম্পৃক্তযার হাওয়ালা স্বয়ং শাহ ছাহেব রাহ. দিয়েছেন।

কোনো ইবারতের সঠিক মর্ম বোঝার জন্য ধৈর্য্য  স্থিরতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তাড়াহুড়া একদম অনুচিত। উপরোক্ত ইবারত কোনো জটিল ইবারতও নয়। এতে  ধরনের ভুল না হওয়া উচিত।আল্লাহ তাআলা আপনার ইলমে বরকত দান করুন এবং আপনাকে বিস্তৃত স্মরণশক্তি  দৃঢ় বোধশক্তি দান করুন। আমীন। 

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাজহারুল ইসলাম - লালমাটিয়া মাদরাসা

প্রশ্ন

আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছোট ভাই কুরআনের হাফেয হয়েছে। এখন তাকে মাদরাসায় ভর্তি করানোর কথা ভাবছি। কিন্তু আমাদের দেশে কওমী মাদরাসার দুটি সিলেবাস রয়েছে : . লং কোর্স . শর্ট কোর্স। শর্ট কোর্স হল মাদানী নেসাব। শুনেছি, এখানে ভালো পড়াশুনা হয়। তবে এতে শুধু আরবী ভাষা নিয়ে গবেষণা করা হয়। উর্দু ফার্সী ভাষা এতে পড়ানো হয় না।

তাই এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না যে, ছোট ভাইকে কোন্ নেসাবে পড়াব। বিষয়ে খুব চিন্তিত। সুপরামর্শ দিলে কৃতজ্ঞ হব।

 

উত্তর

আপনার ‘লং’  ‘শর্ট’ শব্দ দ্বারা আমার কষ্ট হয়েছে।  আফসোসের  বিষয় এই যেআমরা নিজেদেরবাংলা ভাষার উচ্চারণই ঠিক করতে পারিনিঅথচ বিনা প্রয়োজনে ইংরেজদের শব্দ-পরিভাষা ব্যবহার করতেআনন্দ বোধ করি।

আপনি আপনার ভাইকে কোন নেসাবের মাদরাসায় পড়াবেন তা আপনার তালীমী মুরববীর সাথে মাশওয়ারাকরে নির্ধারণ করুন। তবে মাদানী নেসাব সম্পর্কে আপনার ধারণা ঠিক নয়। এটি সংক্ষিপ্ত নেসাব নয়বরংমোট ষোল বছরের নেসাব। সঠিক বিষয়টি জানার জন্য আপনি দারুল কলম থেকে প্রকাশিত ‘আততরীকইলাল বালাগাহ’  ‘আততরীক ইলাল উরদিয়্যাহ’-এর ভূমিকা বার বার মনোযোগ সহকারে পাঠ করুন।(দারুল কলম থেকে প্রকাশিতএসব কিতাবের ভূমিকা থেকে উর্দূ  ফারসী ভাষা শেখার বিষয়ে এইনেসাবের দৃষ্টিভঙ্গিও জানতে পারবেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ঢাকা

প্রশ্ন

আলমাদখালে (পৃষ্ঠা : ৯৩) আল্লামা তুরিবিশতী রাহ.-এর মৃত্যুসন ৬৬১ হিজরী উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আলবিযাআতুল মুযজাতে (পৃষ্ঠা : ৭৩) আল্লামা তুরিবিশতী রাহ.-এর একটি বাণী এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে-

وقع الفراغ من إنشاء هذا الكتاب في آخر جزء من أجزائه بالنهار من يوم الجمعة السادس من صفر سنة ست وستين وست مائة، ...

 এর দ্বারা বোঝা যায়, তাঁর মৃত্যু ৬৬৬ হিজরী বা এর পরে হয়েছে। বিষয়ে পথনির্দেশনা কামনা করছি।

 

উত্তর

‘‘আলমাদখাল’’-এর মধ্যে যা লেখা হয়েছে তা হুবহু ফকীর মুহাম্মাদ জাহলামী রাহ.-এরহাদাইকুল হানাফিয়্যাহ’ (প্রকাশনায় : মাকতাবায়ে হাসান সুহাইল লিমিটেডউর্দূ বাজারলাহোর)-এর২৮৫ পৃষ্ঠায় আছে। এছাড়াও যিরিকলী রাহ.-এর ‘আলআলাম’ (খন্ড : ,  পৃষ্ঠা : ১৫২ ইসমাঈল পাশাবাগদাদী রাহ.-এর ‘হাদিয়াতুল আরেফীনে (খন্ড : পৃষ্ঠা : ৮২১তা আছে।

আপনি আলবিযাআতুল মুযজাত-এর উদ্ধৃতিতে তুরাবিশতী-এর যে ইবারত উল্লেখ করেছেন তাহায়দারাবাদে সংরক্ষিত ‘‘আলমুয়াসসার’’-এর পান্ডুলিপি- উদ্ধৃতিতে লেখা হয়েছে। কিন্তু মুদ্রিত নুসখায়, (যার মূল পান্ডুলিপি প্রকাশকের ভাষ্যমতে মাহাদুল মাখতূতাতকায়রোতে আছেইবারতটি এভাবে আছে-

وقع الفراغ من إنشاء هذا الكتاب في آخر جزء من آخر النهار من يوم الجمعة السادس من صفر سنة ستين وست مئة، والحمد لله رب العالمين.

এতে ৬৬৬ এর পরিবর্তে ৬৬০ আছে। এই দিক থেকে উপরোক্ত মৃত্যুসনকে ভুল বলা যাবে না।

এখন  বিষয়টি ফয়সালা করতে হবে যেউপরোক্ত দুই তারিখের মধ্যে কোন তারিখটি মুসান্নিফেরসংশোধিত নুসখায় ছিল।  মুহূর্তে আমার জন্য এটি তাহকীক করা কঠিন। হয়তো কখনো এর সমাধান বেরহয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। والله تعالى أعلم

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মারূফ - আলজামিআ আলমাদানিয়া ফেনী

প্রশ্ন

ফয়যুল বারীর প্রথম খন্ডে باب من أدرك ركعة من العصر قبل المغرب এর প্রথম হাদীসের আলোচনার শেষ দিকে تخريج الهداية، للزيعلي এর উদ্ধৃতিতে কয়েক লাইন উল্লেখ করা হয় এবং انتهى বলে সমাপ্ত করা হয়। কিন্তু দারুল কিবলা থেকে মুদ্রিতনসবুর রায়াহয় উক্ত লাইনগুলো পাওয়া যায় না। ফয়যুল বারীতে উল্লেখিত প্রথম লাইনটির মাফহুম এভাবে উল্লেখ করা হয়-

ومنهم من يفسره بالمأموم ويشهد له رواية الدارقطني ... الخ

সুতরাং انتهى বলে সাধারণত যা বুঝানো হয় তা স্থানে কতটুকু প্রযোজ্য? আর অধ্যায়ের উক্ত আলোচনাটি ভালোভাবে বোঝার জন্য কোন্ কোন্ কিতাব সহায়ক হবে। সম্পর্কে হুজুরের পথনির্দেশনা কামনা করছি।

 

উত্তর

আপনার হাওয়ালাগুলোতে তরজমাতুল বাবের সাথে কিতাবের খন্ড  পৃষ্ঠা নম্বরও উল্লেখ করা উচিতছিল। সংশ্লিষ্ট আলোচনাটি ‘ফয়যুল বারী প্রথম খন্ডে আছে নাকি দ্বিতীয় খন্ডে?

ফয়যুল বারীতে (খন্ড : পৃষ্ঠা : ১২৪) ‘নসবুর রায়াহ ইবারত উল্লেখ করা হয়নি। তবে একটি কথারহাওয়ালা দেওয়া হয়েছে-

وفي تخريج الهداية، للزيعلي ـ ولا يوجد هذا النقل عند غيره ـ أن الحديث محمول على المسبوق عند بعض العلماء.

আর নসবুর রায়াহ (খন্ড : পৃষ্ঠা : ২২৯থেকে আপনি যে ইবারত উল্লেখ করেছেন তা থেকে এই বিষয়টিবোঝা যায়।

পরের কথাগুলো শাহ ছাহেব রাহ.-এর নিজেরনসবুর রায়াহ নয়। আর انتهى শব্দটি তিরমিযীর হাওয়ালারসাথে সম্পৃক্তযার হাওয়ালা স্বয়ং শাহ ছাহেব রাহদিয়েছেন।

কোনো ইবারতের সঠিক মর্ম বোঝার জন্য ধৈর্য্য  স্থিরতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তাড়াহুড়া একদম অনুচিত।উপরোক্ত ইবারত কোনো জটিল ইবারতও নয়। এতে  ধরনের ভুল না হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলাআপনার ইলমে বরকত দান করুন এবং আপনাকে বিস্তৃত স্মরণশক্তি  দৃঢ় বোধশক্তি দান করুন। আমীন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আক্কাস বিন আইয়ুব - ফরিদাবাদ মাদরাসা ঢাকা

প্রশ্ন

.

عن عكرمة رضي الله عنه عن ابن عباس رضي الله عنه قال : المسألة ... والاستغفار أن تشير بإصبع واحدة الخ، رواه أبو داود وكذا في المشكاة صـ ١٩٦

 উল্লেখিত হাদীসের রেখাযুক্ত অংশটুকুর মতলব এবং ছুরত হল করার জন্য অনেক শরাহ দেখা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আলেমের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। তবুও জায়গাটা হল হয়নি।

এখন হুজুর মেহেরবানী করে উক্ত অংশটুকুর মতলব ছুরত জানিয়ে বাধিত করবেন বলে আশাবাদী।

. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর পিতা অর্থাৎ মাসউদ সাহাবী ছিলেন কি না হাওয়ালাসহ জানতে চাই। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে কবুল করুন।

 

উত্তর

) সুনানে আবু দাউদে প্রশ্নের হাদীসটির তিনটি রেওয়ায়াত রয়েছে। দেখুন : বাবুদ দুআ ১৪৮৪১৪৮৫,১৪৮৬ নং হাদীস) মিশকাত শরীফে আবু দাউদের উদ্ধৃতিতে হাদীসটি যে শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে তামূলত প্রথম রেওয়ায়াতের শব্দ। ইমাম আবু দাউদ রাহদ্বিতীয় রেওয়ায়াতের আংশিক মতন উল্লেখ করেএবং তৃতীয় রেওয়ায়াতের কেবল সনদ উল্লেখ করার পর পূর্ণ মতন প্রথম রেওয়ায়াতের ওপর হাওয়ালাকরেছেন। দ্বিতীয় রেওয়ায়াতটি অভিন্ন সনদে মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক (/২৫০হাদীস : ৩২৪৭নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণিত হয়েছে-

قال ابن عباس رضي الله عنه : الابتهال هكذا ـ وبسط ظهورها إلى وجهه، والدعاء هكذا ـ ورفع يديه حتى لحيته، والإخلاص هكذا، يشير بإصبعه.

উল্লেখ্য আবদুর রাযযাকের এই রেওয়ায়াতটি মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকের বরাতে হুবহু শব্দে কানযুলউম্মাল (/৬২১৪৯০৮ নং হাদীস)-এও রয়েছে।

আর তৃতীয় রেওয়ায়াতটি একই সনদে ইমাম বায়হাকীর ‘আসসুনানুল কুবরা’ গ্রন্থে রয়েছে। দেখুন /১৩৩

كتاب الصلاة ـ باب ما ينوي المشير بإشارته في التشهد এখানেও الاستغفار এর স্থলে الإخلاص শব্দ এসেছে।মুসনাদে আহমদ (৩১৫২মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ (৮৫১৫৩০৩০০), আসসুনানুল কুবারবায়হাকী(/৩৩)-এই কিতাবগুলোতে ইবনে আববাস রাথেকে সমার্থক আরেকটি রেওয়ায়াত বর্ণিত হয়েছে-

سئل ابن عباس عن قول الرجل بإصبعه هكذا ـ يعني في الصلاة، قال : ذاك الإخلاص

এই রেওয়ায়াতটিআলোচ্য হাদীসের দ্বিতীয়  তৃতীয় রেওয়ায়াত এবং  বিষয়ক অন্যান্য হাদীস  আছারথেকে  কথাই প্রমাণিত হয় যেআলোচ্য হাদীসটির মতনে মূল শব্দ হলো الإخلاص  আর الاستغفار -শব্দটিখুব সম্ভব নীচের কোনো রাবীর নিজস্ব শব্দ যা الإخلاص -শব্দ থেকে ‘তাসহীফ’ হয়েছে। আর ইখলাস দ্বারাউদ্দেশ্য হলো তাওহীদের শাহাদাত। والله أعلم

সুতরাং প্রশ্নে উল্লিখিত হাদীসের অংশটির মতলব হলোমৌখিকভাবে যখন তাওহীদ  ইখলাসের সাক্ষ্যদেয়া হয় তখন শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করেও এই সাক্ষ্য দেয়া।

যেমন এর একটি স্থান হলোনামাযে ‘আত্তাহিয়্যাতু মধ্যে কালেমায়ে শাহাদাত পড়ার সময় বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমা দ্বারা গোলক বানিয়ে আর কনিষ্ঠা  অনামিকা হাতের তালুর সঙ্গে যুক্ত রেখে শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারাইশারা করা। নামাযের বাহিরে এর একটি দৃষ্টান্ত হলোরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবারমধ্যে তাশাহহুদের সময় শাহাদাত আঙ্গুলি উঠিয়ে ইশারা করতেন।  বিষয়ের আরো অন্যান্য হাদীস আছার জানার জন্যে নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে।-

١. المصنف، عبد الرزاق: باب رفع اليدين في الدعاء ٢/٢٤٧ ـ ٢٥٢

٢. المصنف، ابن أبي شيبة : باب الدعاء في الصلاة بإصبع

٣. سنن ابي داود : باب رفع اليدين على المنبر

٤. السنن الكبرى للبيهقي : باب ما ينوي المشير بإشارته في التشهد ٢/١٣٢ ـ ١٣٣

٥. معارف السنن ٣/١٠٤ ـ ١٠٨

) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি.-এর পিতা ‘মাসউদ’ সাহাবী হওয়া প্রমাণীত নয়। সাহাবীদেরপরিচয়  জীবন সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোতে তার নাম উল্লেখ নেই।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - টুমচর মাদরাসা লক্ষ্মীপুর

প্রশ্ন

আমি আলিয়া মাদরাসার দশম শ্রেণীর ছাত্র। আমার তামান্না একজন খুব ভালো আলেম হওয়া। এর জন্য সকল চেষ্টা মেহনত করার জন্য আমি ইনশাআল্লাহ প্রস্ত্তত। কিন্তু আমাদের এখানে সবকের পড়ার বাইরে অন্য কিতাব পড়ার সুযোগ কম থাকে। তাই কওমী মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

আলী মিয়া নদভী রাহ.-এর জীবনপথের পাথেয় পড়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়ালেখার যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আমি হেদায়াতুন্নাহু কিতাব পড়েছি। এখন ভবিষ্যত জীবন আলোকিত উজ্জ্বল করার জন্য কোন্ কোন্ কিতাব কী পরিমাণ অধ্যয়ন করতে পারি-জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

আল্লাহ তাআলা আপনার নেক নিয়ত কবুল করুনআপনাকে হিম্মত দান করুন এবং আপনার জন্যপ্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণের ব্যবস্থা করে দিন। আমীন। আপনি ছুটির দিনগুলোতে দারুল কলমআশরাফাবাদ ঢাকা থেকে প্রকাশিত আততরীক ইলাল আরাবিয়্যাহআততামরীনুল কিতাবীআততরীকইলাছ ছরফআততরীক ইলান নাহবআততরীক ইলাল কুরআনিল কারীম-এই পাঁচটি কিতাবকেঅনুশীলনের সাথে অধ্যয়ন করুন। এতে ইনশাআল্লাহ ইস্তিদাদ পোক্ত হবে। পরবর্তী কোনো সময় আরোকিছু পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু জাফর - জামিআ রাহমানিয়া

প্রশ্ন

বাইতুল্লাহর মুসাফির’-এর ভূমিকায় হযরত বলেছেন যে, অনেক সফরনামা এমন আছে যাতে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য ঘটনা আছে। তো হযরতের নিকট আবেদন জাতীয় কিছু আরবী বাংলা সফরনামার বই এর নাম দিলে উপকৃত হব।

 

উত্তর

ইতিহাস এবং ‘জুগরাফিয়া’ বা ভূগোল বিষয়ক গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করলে দেখা যাবে যেবিভিন্নসফরনামা বা পর্যটকদের উদ্ধৃতিতে বহু তথ্য-উপাত্ত পেশ করা হয়েছে। শুধু আল্লামা ইয়াকূত হামাবী রহ. (৬২৬ হি.) এর ‘মুজামুল বুলদান’ অধ্যয়ন করলেও সেখান থেকে অনেক পর্যটক  তাঁদের সফরনামার নামসংগ্রহ করা যাবে। ‘মুরুজুয যাহাব ওয়া মায়াদিনুল জওহর’ কিতাবের রচয়িতা আল্লামা আবুল হাসানমাসয়ূদী (মৃত্যু ৩৪৫ হি:) ছিলেন প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ  পর্যটক। তিনি নিজে যেমন বহু বিষয়ে নিজ সফরেরউদ্ধৃতি দিয়েছেন তেমনিভাবে পরবর্তী অনেক ইতিহাসবিদ তাঁর সফরনামার উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। এখানেআমি বিখ্যাত কিছু সফরনামার নাম উল্লেখ করছি।

. ‘সফরনামা’ নাসির খসরু (জন্ম ৩৯৪ হি:)

تحفة النظار في غرائب الأمصار وعجائب الأسفار মুহাম্মাদ ইবনে আব্দিল্লাহ ওরফে ইবনু বাতূতাহ (মৃত্যু ৭০৩ হি:)

اعتبار الناسك في ذكر الآثار الكريمة والمناسكÑ আবূল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে জুবাইর আন্দালুসী (৬১৪ হি:)

نزهة المشتاق في اختراق الآفاق -আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মদ আলইদরীসী (মৃত্যু ৫৬০ হি:)

 مِلْءُ العيبة بما جمع بطول الغيبة في الوجهة الوجيهة إلى الحرمين مكة وطيبة

আল ইমামুল মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনু ওমর ইবনু রুশাইদ (মৃত্যু ৭২১ হি:) স্পেনের مكتبة الاسكوريال  এর একটিপান্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে। এর কয়েকটি খন্ড শায়খ হাবীব আল খওজাহ এর তাহকীকে প্রকাশিত হয়েছে।

نخبة الأذهان في عجائب البلدان -আবূ হামিদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দির রহীম আল মাযিনী (মৃত্যু ৫৬৫ হি:)

আর বাংলা ভাষায় রচিত সফর  ভ্রমণ বিষয়ক বইগুলোর নাম আপনি অতি সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন।এজন্য বাংলা একাডেমীসহ বাংলা বইপত্রের অভিজাত লাইব্রেরীগুলোতে খোঁজ করতে পারেন বা তাঁদেরপ্রকাশনার ক্যাটালগ সংগ্রহ করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সিরাজুস সালেকীন - মাদানীনগর, ঢাকা

প্রশ্ন

ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর ইবাদত যুহদের আলোচনা করতে গিয়ে যে কথাটি বেশি বলা হয় তা হল, তিনি ৪০ বছর এশার অযু দিয়ে ফজরের নামায পড়েছেন। আরবী বাংলা অনেক কিতাবে এর বর্ণনা পাওয়া যায়। এর সনদগত শুদ্ধতা বা অশুদ্ধতা সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমার কাছে এটা ভুল মনে হয়। কারণ আলখায়রাতুল হিসান-এর ৭৪ পৃষ্ঠায় তাঁর রাত্রি জাগরণের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে-

سبب إحيائه أنه سمع رجلا يقول لآخر : هذا أبو حنيفة الذي لا ينام، فقال لأبي يوسف : سبحان الله ألا ترى الله تعالى نشر لنا هذا الذكر، أو ليس بقبيح أن يعلم الله منا ضد ذلك، والله لا يتحدث الناس عني بما لم أفعل، فكان يحيي الليل صلاة وتضرعا ودعاء.

  দ্বারা বুঝা গেল, তাঁর রাত্রি জাগরণ শুরু হয়েছে আবু ইউসুফ রাহ. তার শিষ্যত্ব গ্রহণের পর। আর তিনি দরসদানের কাজ শুরু করেছেন তাঁর উস্তায হাম্মাদের মৃত্যুর পর। আর শাযারাতুয যাহাবে হাম্মাদ রাহ.-এর মৃত্যুর সন বলা হয়েছে ১২০ হি. দ্বারা বুঝা যায় তাঁর রাত্রি জাগরণ শুরু হয় ১২০ হিজরীর পর। তিনি ইন্তেকাল  করেছেন ১৫০ হিজরীতে। সুতরাং তিনি রাত্রি জাগরণ করেছেন বেশি হলে ৩০ বছর। এর বেশি নয়। এতে তাঁর প্রশংসা বুঝা গেলেও আরেক দিকে অপবাদের মত মনে হয়। তিনি কি তার স্ত্রীর হক আদায় করেননি? উপরের কথাগুলো কতটুকু সঠিক হয়েছে আমার জানা নেই, তবে আশা করি, আপনি ব্যাপারে সঠিক কথাটি জানাবেন। উল্লেখ্য, সীরাতে নুমানে কথাকে ভুল বলা হয়েছে।

 

উত্তর

 কথা তো অসংখ্য সূত্রে প্রায় তাওয়াতুরের পর্যায়ে প্রমাণিত যেইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর অনেক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হলইবাদতগুযারী এবং রাতে নফল নামাযতিলাওয়াত  দুআয়মশগুল থাকা। এটি ছিল তাঁর জীবনের প্রায় শুরুর দিক থেকে সারা জীবনের সাধারণ চিত্র। এজন্য হাফেয যাহাবী রাহঅত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাষায় বলেছেন-

قد تواتر قيامه الليل وتهجده وتعبده رحمه الله.

 (মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ২০এবং হাম্মাদ ইবনে আবী সুলাইমান রাহ. (মৃত্যু ১২০ হি.) যাঁর সোহবতে দীর্ঘ দিন ইমাম আবু হানীফা রাহকাটিয়েছেন তিনি একদিন কোনো প্রসঙ্গেফিকহের ব্যাপারে তাঁর বিচক্ষণতা  পারদর্শীতার প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছিলেন,

هذا مع فقهه يحيي الليل ويقومه

 (আলইনতিকা ফী ফাযায়িলিল আইম্মাতিল ফুকাহাইবনু আবদিল বার ১৯৪মুয়াফফাক আলমক্কীমানাকিবু আবী হানীফা পৃ২১৬)

এশার পর থেকে ফজর পর্যন্ত না ঘুমিয়ে পুরো সময় ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকতেন। ফলে ফজরের নামাযের জন্য নতুন অযুর প্রয়োজন হত না-একথাও অনেক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আমলটিও তাঁর যিন্দেগীর এক দীর্ঘ সময়ে পরিব্যাপ্ত। এমনকি যখন তিনি তাঁর উস্তায আমর ইবনে মুররা আলকুফী রাহ. (ওফাত : ১১৬ হি.)-এর দরসে শরিক হতেন তখনও তিনি এর ওপরআমল করতেন।  প্রসঙ্গে তাঁর সমসাময়িক মুহাদ্দিস আবূ সিনান ইবনে সিনান আলকূফী বলেন-

كنا نختلف إلى عمرو بن مرة، فكان أبو حنيفة يصلي العشاء والفجر بطهور واحد

অর্থাৎ আমরা আমর ইবনে মুররার মজলিসে যাতায়াত করতামতখন আবূ হানীফা এশা  ফজর একই ওযুতে আদায় করতেন।

(ফাযায়িলু আবী হানীফাআবূল কাসিম ইবনু আবিল আওয়াম পৃ৫৭)

তবে এভাবে মোট কতদিন এশার ওযুতে ফজর পড়েছেন সে সম্পর্কে তারীখ  মানাকেবের কিতাবে তাঁর শাগরিদ বা সমসাময়িক ব্যক্তিদের উদ্ধৃতিতে একাধিক সূত্রে বিভিন্ন হিসাব বর্ণিত হয়েছে।সেসব হিসাবের একটি হলোযা আপনি প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ চল্লিশ বছর। এই চল্লিশ বছরের কথাটিও একাধিক রেওয়ায়েতে রয়েছে। এর মধ্যে আসাদ ইবনে আমর রাহ.-এর উদ্ধৃতিতেবর্ণিত রেওয়ায়াতটি তো দলিলযোগ্য নয়- কথা শায়খ যাহেদ আলকাওছারী রাহউল্লেখ করেছেন। কারণ এর সনদে দুজন মাজহুল রাবী এবং এর মতনে নাকারাত রয়েছে। দেখুন : যাহাবী,মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা পৃষ্ঠা ২৩-২৪ (টীকা)

আর ইমাম আবূ ইউসুফ রাহ.-এর সূত্রে ইমাম আবূ হানীফা রাহ.-এর কোনো প্রবীণ শাগরিদ বা সমসাময়িক ব্যক্তি থেকেও চল্লিশ বছরের একটি রেওয়ায়াত রয়েছে। কিন্তু এর সনদে ইবনেআতিয়্যাহ নামে একজন রাবী আছেনযিনি জারহ-তাদীলের ইমামদের মতে নির্ভরযোগ্য নন।

(আখবারু আবী হানীফাহুসাইন আসসয়মারী ৪৪-৪৫)

 দুটি রেওয়ায়াত ছাড়াও চল্লিশত্রিশপঁয়তাল্লিশ এবং অনির্দিষ্টভাবে অনেক বছর একই ওযুতে এশা  ফজরের নামাজ আদায় করার ব্যাপারে আরো কয়েকটি রেওয়ায়াত এখন আমার সামনেরয়েছে। কিন্তু সেসব রেওয়ায়াতের তাহকীক করার  সুযোগ আমার  মুহূর্তে হয়নি। কারণ এর কোনো কোনোটির পূর্ণ সনদ সম্পর্কে এখনো আমি জানতে পারিনি বা কোনো কোনো সনদেরতাহকীকের জন্য তারীখ  তারাজীমের যেসব কিতাব প্রয়োজন তা এখন আমাদের সংগ্রহে নেই।

তবে তারীখে বাগদাদে (১৩/৩৫৪ইমাম আবূ হানীফা রাহ.-এর জীবনীতে তাঁর সমসাময়িক  ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হাসান ইবনে উমারা রহ.-এর উদ্ধৃতিতে একটি রেওয়ায়াত রয়েছে যা সনদ মতনসহ নিম্নরূপ-

أخبرني الحسين بن محمد أخو الخلال، حدثنا إسحاق بن محمد بن حمدان المهلبي ببخارى، حدثنا عبد الله بن محمد بن يعقوب، حدثنا قيس بن أبي قيس، حدثنا محمد بن حرب المروزي، حدثنا إسماعيل بن حماد بن أبي حنيفة عن أبيه قال : لما مات أبي سألنا الحسن بن عمارة أن يتولى غسله فغسل، فلما غسله قال : رحمك الله وغفر لك لم تفطر منذ ثلاثين سنة ولم تتوسد يمينك بالليل منذ أربعين سنة وقد أتعبت من بعدك وفضحت القراء.

হাম্মাদ ইবনে আবী হানীফা বলেনআমার পিতা যখন মারা গেলেন তখন আমরা হাসান ইবনে উমারাহকে দরখাস্ত করলাম যেতিনি যেন আমার পিতাকে গোসল করানোর দায়িত্ব নেন। তিনি তাইকরলেন এবং গোসল করানোর সময় বললেনআল্লাহ আপনার উপর রহম করুন এবং মাগফেরাত নসীব করুন। আপনি তো ত্রিশ বছর পর্যন্ত রোযা বর্জন করেননি এবং চল্লিশ বছর পর্যন্ত রাতেবিছানায় শোননি।

উল্লেখ্যএই রেওয়ায়াতটির সনদে কোনো মাতরুক  জয়ীফ (পরিত্যাজ্য  অনির্ভরযোগ্যরাবী নেই।

সনদটি কমপক্ষে হাসান পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে হয়। তবে এই রেওয়ায়াতটিতে অবশ্য একই ওযুতে এশা  ফজর পড়ার কথা স্পষ্টভাবে নেই। যাহোকএখানে আমাদেরকে বিশেষভাবেকয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে-

এক. আপনি অবশ্যই লক্ষ্য করেছেন যেউপরোক্ত রেওয়ায়াতগুলি মূলত ত্রিশ-চল্লিশ বা সুনির্দিষ্টভাবে কত বছর একই ওযুতে এশা  ফজর পড়েছেন- বিষয়ে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা রাহ.তাঁর জিন্দেগীতে দীর্ঘকাল রাতে না ঘুমিয়ে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থেকেছেনফলে অনেক সময়ই এশার ওজুতেই ফজর পড়েছেন একথা একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত।

 বিষয়ের রেওয়ায়াত নিম্নোক্ত কিতাবগুলোতে পাওয়া যাবে-

ফাযায়িলু আবী হানীফা

আবুল কাসিম ইবনু আবীল আওয়ামপৃ৫৭-৬১

আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী

কাযী আবু আব্দিল্লাহ আসসয়মারীপৃ৪১-৪৬

তারীখু বাগদাদ ১৩/৩৫২-৩৫৭

মানাকিবু আবী হানীফা

মুয়াফফাক আলমাক্কীপৃ২০৭-২৩৩

মানাকিবু আবী হানীফা

হাফেয যাহাবীপৃ২১-২৪

উকুদুল জুমান

মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ আসসালেহীপৃ২১১-২২৩

দুই. উপরোক্ত বর্ণনাগুলির কোনোটিই ইমাম আবূ হানীফা রাহএর নিজের বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়নিবরং এগুলো তাঁর বিভিন্ন শাগরিদ  সমসাময়িক ব্যক্তিদের উক্তিযা তাদের নিজ নিজজানাশোনা  ধারণার উপর নির্ভরশীল। সুতরাং তাদের পরস্পরের বিবরণে পার্থক্য থাকা খুবই স্বাভাবিক।

তিন. বিশেষভাবে লক্ষণীয় যেরেওয়ায়াতসমূহে মাগরিবের ওযুতে ফজরের নামায আদায়ের কথা বলা হয়নিএশার ওযুতে ফজর পড়ার কথা বলা হয়েছে। মনে রাখতে হবে সলফ এশার নামাযআমাদের মতো মাগরিবের কিছু সময় পরেই আদায় করতেন না বরং সাধারণত আরো বিলম্ব করে পড়তেন।

চার. মূল সুন্নত তো সেটাই যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত বাণীতে বলেছেন-

صم وأفطر وقم ونم، فإن لجسدك عليك حقا وإن لعينك عليك حقا وإن لزوجك عليك حقا.

অর্থাৎ কখনো রোযা রাখবেআবার কখনো রোযা ছাড়া থাকবে। রাতে কিছু সময় ইবাদতে মশগুল থাকবে আর কিছু সময় ঘুমাবে। কারণ তোমার উপর রয়েছে তোমার নিজ দেহের হকচোখের হকএবং তোমার স্ত্রীর হক।সহীহ বুখারীহাদীস : ১৯৭৫

কিন্তু কারো যিম্মায় অন্যের হক না থাকার কারণে অথবা খুব কম থাকার কারণে যদি সারা রাত ইবাদতে মশগুল থাকে তবে তা নিষিদ্ধও নয়যদি এতে তার কোনো ফরয বা ওয়াজিব আমল ছুটেনা যায় এবং কারো কোনো হক নষ্ট না হয়। সলফ তথা সাহাবীতাবিয়ীন  তাবে তাবিয়ীনদের মধ্যে  ধরনের অনেক নজির রয়েছে।

সাহাবা-তাবিয়ীন থেকে শুরু করে পরবর্তী যামানায় আল্লাহর নেক বান্দাদের বিস্ময়কর  কষ্টসাধ্য আমল  ইবাদত-বন্দেগীর ঘটনাবলি এবং  সবের শরয়ী হুকুম জানার জন্যে নিম্নোক্তকিতাবগুলো দেখা যেতে পারে-

হিলয়াতুল আওলিয়াহাফেজ আবু নুয়াঈম আসফাহানী

ইকামাতুল হুজ্জাহ আলা আন্নাল ইকছারা ফীত তাআববুদি লাইছা বিল বিদআহমাওলানা আবদুল হাই লখনবী (১৩০৪ হি.)

আলকালামুল মুফীদ ফী ইছবাতিত তাকলীদমাওলানা সরফরায খান সফদার রাহ.

আলউলামাউল উযযাবশায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবূ গুদ্দাহ রাহ.

বাকি থাকল আপনি ইমাম আবূ ইউসুফ রাহ.-এর উদ্ধৃতিতে যে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। মূলত  ঘটনাটি চল্লিশ বছরের রেওয়ায়াতের পরিপন্থী নয়। কারণ  ঘটনার আগেও যে তিনি সারারাতজেগে ইবাদতে মগ্ন থাকতেনতা এতে নাকচ করা হয়নি। বরং ঘটনার বিবরণ থেকে বুঝা যায় যে ঘটনার আগেই অনেক মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ ছিল যেআবূ হানীফা রাহরাতে না ঘুমিয়েইবাদতে মশগুল থাকতেন। আর ১২০ হিজরীর আগেও যে তার  আমল ছিল তা তো আবূ সিনান সাঈদ ইবনে সিনান-এর উপরোল্লিখিত বক্তব্য থেকেও প্রমাণিত হয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ - যাত্রাবাড়ি মাদরাসা

প্রশ্ন

একটি হাদীসের উপর চূড়ান্ত হুকুম লাগানোর জন্য কয়টি মারহালা অতিক্রম করতে হয় এবং তা কী কী? প্রত্যেক মারহালায় কী ধরনের কাজ করতে হয়? একটু বিস্তারিত জানতে চাই। আল্লাহ তাআলা আপনার ইলম আমলে বরকত দান করুন এবং আপনাকে হায়াতে তাইয়েবা দান করুন। আমীন।

উত্তর

কোনো রেওয়ায়াত সম্পর্কে চূড়ান্ত হুকুম নির্ধারণ করা আইম্মায়ে হাদীসের কাজ। আর আইম্মায়ে হাদীসের ইলমী মিরাছ থেকেইস্তিফাদা করার পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ‘আলমাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ’  ‘লামাহাত মিন তারীখিসসুন্নাহ ওয়া উলূমিল হাদীস’ কিতাবে রয়েছে। তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা আপনাকে এবং আমাদের সকলকেতাওফীক দান করুন। আমীন। ইয়া রাববাল আলামীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ - যাত্রাবাড়ি মাদরাসা

প্রশ্ন

ক. জরহ ও তাদীল সম্পর্কে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কী কী কিতাব আছে? সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ জানালে উপকৃত হব।

খ. আল্লামা যাহাবী কর্তৃক রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর পরিচিতি ও ইস্তেফাদার পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করলে আমিসহ আরো অনেকে উপকৃত হবে বলে আশা করছি।

উত্তর

জারহ ও তাদীল সংক্রান্ত কিতাবসমূহের পরিচিতি জানার জন্য তো আপনি সায়্যেদ মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আলকাত্তানী (১৩৪৫ হি.)-এর আররিসালাতুল মুসতাতরাফা ফী বায়ানি মাশহুরি কুতুবিস সুন্নাতিল মুশাররাফা, ড. আকরাম জিয়া ওমারীর বুহুছ ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ, আবদুল মাজেদ গওরীর কুতুবুর রিজাল : তারীফুহা ও আনওয়াউহা-এগুলোর যে কোনটি দেখতে পারেন। আর এখন তো ইসতিখরাজুল হাদীস ও দিরাসাতুল আসানীদ বিষয়ক অনেক স্বতন্ত্র কিতাব প্রকাশিত হয়েছে; যাতে জরহ ও তাদীলের কিতাবগুলোর পরিচিতিও তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়াও অনেক লাইব্রেরীতে রিজাল ও জারহ ও তাদীল সংক্রান্ত কিতাবাদি রয়েছে, আপনি সেখানে গিয়ে কিতাবগুলোর সাথে পরিচিত হতে পারেন। সেগুলোর ভূমিকা অংশেও সংশ্লিষ্ট বহু কিতাবের নাম ও পরিচিতি পেয়ে যাবেন।

খ. সিয়ারু আলামিন নুবালা-নামটি থেকেও এ গ্রন্থের বিষয়বস্ত্ত বুঝে আসে যে, এটি বিখ্যাত মনীষীগণের জীবনীগ্রন্থ। এতে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সীরাত ও তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনের জীবনচরিত সন্নিবিষ্ট হয়েছে। এরপর নববী যুগ থেকে গ্রন্থাকারে সমসাময়িক যুগ পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বে যেসব প্রথিতযশা মনীষীর জন্ম ও মৃত্যু হয় তাঁদের জীবনী, তবাকার ক্রমানুসারে উপস্থাপিত হয়েছে।

উলামা-মাশায়েখ, কবি-সাহিত্যিক, দার্শনিক-চিন্তাবিদের পাশাপাশি খলীফা-সুলতান, উযীর-আমীর প্রমুখ খ্যাতিমানদের জীবনী এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

মনে রাখতে হবে, কোনো কিতাব থেকে যথাযথ ইস্তেফাদার জন্যে কিতাবটির নাম ও আলোচ্য বিষয় এবং মুসান্নিফের পরিচয় জানার পর তার তারতীব ও বিন্যাসরীতি এবং মানহাজ ও উসলূব সম্পর্কে অবহিত হওয়াও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিয়ারু আলামিন নুবালা গ্রন্থে যেহেতু কুতুবুত তবাকাত (তবাকা ও স-রভিত্তিক জীবনীগ্রম')-এর বিন্যাসরীতি অনুসরণ করা হয়েছে তাই তবাকা শব্দের ব্যবহার ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে হবে। তবাকা শব্দটির ব্যবহার-বৈচিত্র রয়েছে তবে মুহাদ্দিসের পরিভাষায় তবাকা বলতে সাধারণত বুঝানো হয়, একই যুগে বসবাসকারী ব্যক্তিবর্গ যাঁদের পরস্পরে সাদৃশ্য রয়েছে বয়সের এবং সমকালীন আসাতিযা ও মাশায়েখগণের শিষ্যত্ব লাভের। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্যে বুহুছ ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফা বা আততবাকাত লিখালীফা ইবনিল খায়্যাত-এর মুকাদ্দিমায় ড. আকরাম জিয়া ওমারীর আলোচনা, শায়খ শুয়াইব আরনাউতের তাহকীকসহ প্রকাশিত সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর শুরুতে রয়েছে তা দেখে নেয়া যেতে পারে।

(শায়খ বাশশার আওয়াদ মারুফের প্রবন্ধ আযযাহাবী ও কিতাবুহু সিয়ারু আলামিন নুবালা (৯৭-১০৯)

গ্রন্থকার শামসুদ্দীন যাহাবী রাহ. (৬৭৩-৭৪৮ হি.) তো অষ্টম শতকের প্রখ্যাত হাফেজে হাদীস ও নাকিদ মুহাদ্দিস। তাঁর রচনাবলির দৃঢ়তা ও গভীরতা, নিরপেতা ও বস্ত্তনিষ্ঠা, সুপ্রাজ্ঞ ভাষা ও উপস্থাপনা এবং ফন ও ইলমের সফল প্রতিনিধিত্ব ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জল। সিয়ারু আলামিন নুবালা গ্রন্থে তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত, দৃষ্টি উন্মোচক ও সম্প্রসারক ইলমী নকদ ও সমালোচক ব্যক্তিত্ব, বিস্তৃত জ্ঞানদৃষ্টি এবং শাস্ত্রীয় বুৎপত্তির প্রতিফলন ঘটেছে। কোনো সচেতন ও উদ্যমী তালেবে ইলম যদি গ্রন্থটি আদ্যোপান্ত অধ্যয়ন করেন তবে তা থেকে যেমন ফনের বিশুদ্ধ রুচি ও মেজায এবং তাহকীক ও গবেষণার অনেক উপাদান ও দিকনির্দেশনা আহরণ করতে পারবেন তেমনি জীবনীগ্রন্থ হিসেবে এখান থেকে সালাফের আদাব ও আখলাক, যুহদ ও তাকওয়া এবং সমুন্নত ফিকির ও চিন্তার অসংখ্য নমুনা ও উদাহরণ সংগ্রহ করতে পারবেন।

অতএব সাধারণভাবে তাহকীক ও গবেষণায় আগ্রহী যে কোনো তালিবে ইলমের জন্য এবং বিশেষত উলূমে হাদীসের তালিবে ইলমের জন্য এই কিতাবের সাথে মুমারাসাত তৈরি করা এবং তা থেকে ইস্তেফাদা করা থেকে বঞ্চিত থাকা উচিত নয়।

 

প্রথমত পুরো কিতাবটির উপর দ্রুত নজর বুলিয়ে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু অংশ পাঠ করে এবং এর তবাকা ভিত্তিক তারতীব ও উসলূবের সাথে পরিচিত হোন। অতপর বিভিন্ন সুযোগে ও প্রসঙ্গে কিতাব থেকে জীবনী অধ্যয়ন করুন এবং এতে সন্নিবেশিত ইলমী ফাওয়ায়েদ নোট করতে  থাকুন। এ কিতাব থেকে কোনো তরজমা ও জীবনী বের করার সময় বর্ণনাক্রমিক সূচির সাহায্য না নিয়ে সরাসরি নিজে কিতাবের মূল তারতীব তবাকা হিসেবে বের করার অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি উপকারী। এতে করে যেমন আহলে ইলমের তবাকা সম্পর্কে ধারণা বাড়তে থাকবে তেমনি উদ্দিষ্ট জীবনী অনুসন্ধান করতে গিয়ে আগে পরে আরো কিছু জীবনীর উপর নজর বুলোনোর সুযোগ হবে। আর সম্ভব ও সুযোগ হলে নিজের তালীমী মুরববীর পরামর্শক্রমে এ কিতাবকে কিছুদিনের জন্য নিয়মিত অধ্যয়ন করা যেতে পারে। আর এ কিতাব থেকে আহরণ করার মতো বহু ধরনের ইলমী ফাওয়ায়েদ তো রয়েছেই এবং একে কেন্দ্র করে করার মতো কাজও অনেক রয়েছে, যা নিজে চিন্তা-ভাবনা করে বা অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলাই তাওফীক দাতা। ষ

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক - যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

প্রশ্ন

ইমাম আবু হানীফা রহ. ও ইমাম বুখারী রহ.-এর নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ লেখকের নামসহ জানালে খুশি হব।

উত্তর

ইমাম আযম আবু হানীফা রহ. (১৫০ হি.)-এর জীবনীর উপর স্বতন্ত্র জীবনীগ্রন্থ প্রচুর লিখিত হয়েছে। ইমাম ত্বহাবী (৩২১) রহ. হতে এখন পর্যন্ত অনেক আলেমই এই বিষয়ে কিতাব লিখেছেন, লিখে চলেছেন। তন্মধ্যে প্রকাশিত কটি মাত্র গ্রন্থের নাম তুলে ধরা হল।

১. ফাযায়িলু আবী হানীফাহ ওয়া আখবারুহু ওয়া মানাকিবুহু -আবুল কাছেম ইবনু আবিল আওয়াম

(৩৩৫ হি.)।

২. আখ্বারু আবি হানীফা ওয়া আস্হাবিহী -কাযী আবু আবদুল্লাহ হুসাইন বিন আলী সাইমারী রহ.

(৪৩৬ হি.)।

৩. আলইনতিকা ফী ফাযায়িলিল আয়িম্মাতিস সালাসাতিল ফুকাহা - ইমাম ইবনু আবদিল বার (৪৬৩ হি.)।

৪. মানাকিবুল ইমামিল আযম - ইমাম মুয়াফফাক বিন আহমদ মক্কী রহ. (৫৬৮ হি.)

৫. মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ শিহাব ইবনে বাযযায কারদারী (৮২৭ হি.) রহ.। ইমাম মুয়াফফাক ও কারদারী রহ.-এর উভয় কিতাব দুই খন্ডে এক ভলিউমে প্রকাশিত হয়েছে।

৬. মানাকিবুল ইমাম আবী হানিফা ওয়া সাহিবাইহি - হাফিয মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান যাহাবী হাম্বলী (৭৪৮ হি.) রহ.। এটি হায়দারাবাদের লাজনাতু ইহইয়ায়িল মাআরিফিন

নুমানিয়া হতে মাওলানা আবুল ওয়াফা আফগানী ও যাহেদ কাউসারী রহ.-এর তাহকীক-তালীকে খুব উত্তম ও সুন্দরভাবে ছাপা হয়েছে। 

৭. তাবয়ীযুয সহীফা বি-মানাকিবিল ইমাম আবী হানীফা-আবুল ফজল জালাল উদ্দীন আবদুর রহমান সুয়ুতী শাফেয়ী (৯১১ হি.) রহ.।

৮. উকুদুল জুমান ফী মানাকিবিল ইমাম আবী হানীফাতান নুমান  - মুহাম্মদ বিন ইউসুফ সালেহী শাফেয়ী রহ. (৯৪২ হি.)। এটি একটি সুন্দর ও বিস্তৃত কিতাব।

৯. আল্-খায়রাতুল হিসান ফী মানাকিবিল ইমাম আবী হানীফাতান নুমান - শায়খ শিহাব উদ্দীন আহমদ ইবনে হাজার হায়তামী মক্কী শাফেয়ী (৯৭৩ হি.) রহ.।

১০. আবু হানীফা : হায়াতুহু ওয়া আসরুহু ওয়া ফিকহুহু ওয়া আরাউহু - শায়খ আবু যাহরা মিসরী রহ.।

এখানে প্রকাশিত প্রসিদ্ধ দশটিমাত্র কিতাবের নাম উল্লেখ করা হল। তাছাড়া ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর জীবনের একেকটি দিক নিয়ে বিস্তর কিতাব বের হয়েছে ও হচ্ছে। যেমন ইলমে হাদীসে ইমাম আবূ হানীফার মাকাম সম্পর্কে

 

উস্তাযে মুহতারাম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রশীদ নুমানী রহ.-এর কিতাব -মাকানাতুল ইমাম আবী হানীফা ফীল হাদীস ও শায়খ মুহাম্মদ আমীনের কিতাব-মাসানীদুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া আদাদু মারবিয়াতিহি। বেশ কয়েক বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে মাওলানা আব্দুশ শহীদ নুমানাীর -ইমাম আবূ হানীফা কী তাবিইয়্যাত। আর আবূ হানীফাতাল মুফতারা আলাইহি নামেও একটি কিতাব পান্ডুলিপি আকারে আমার কাছে রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা অতি শীঘ্রই যেন এর যথাযথ নজরে ছানী ও পরিমার্জনের পর ছাপানোর তাওফীক দান করেন। আমীন।  

শেয়ার লিংক

আব্দুল করীম - ঢাকা

প্রশ্ন

১. ক) আমি মেশকাত জামাতে পড়ি, ভবিষ্যতে ফিকহের উপর তাখাসসুস করার ইচ্ছা আছে, তাই আমি এখন থেকে তাখাস্সুসের জন্য কিভাবে প্রস্ত্ততি নিতে পারি?

খ) আমি হিদায়া আওয়ালাইন পড়ার সময়  ফাতহুল কাদীর  মুতালাআয় রাখতাম, এখনও হেদায়া ছালিছের সাথে ফাতহুল কাদীর মুতালাআ করি। কিন্তু হিদায়া ৪র্থ খন্ডের জন্য নাতাইজুল আফকার পড়ে তৃপ্তি পাই না। আমার মনে হয় হিদায়ার শরাহ করার চেয়ে বিভিন্ন কিতাবের সমালোচনা করাই এতে প্রাধান্য পেয়েছে। তাই আমি জানতে চাই, হিদায়া ৪র্থ খন্ডের জন্য কোন্ কিতাব পড়া বেশি উপযোগী হবে?

গ) যাদের ইফতা পড়ার ইচ্ছা আছে তাদের শরহে নুখবায় এর সাথে উলূমুল হাদীস-এর কোন্ কোন্ কিতাব পড়া জরুরি?

২. ফিকহের জন্য মুতাকাদ্দিমীনের কিতাবের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? এবং সেগুলো কোথায় পাওয়া যাবে? আমি অনেক কিতাবের নাম পাই কিন্তু তা কোনো মাকতাবায় পাই না।


উত্তর

 

ক) তাখাসসুসের উদ্দেশ্য, যোগ্যতা ও প্রস্ত্ততি সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বিক্ষিপ্ত আকারে শিক্ষার্থীদের পাতায় ইতোপূর্বে লেখা হয়েছে। তালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয় বইটিতে নিম্নোক্ত তিনটি প্রবন্ধ দেখতে পারেন।

 

১. নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনা (পৃ ৬০-৬৯।)

২. ইলমের জন্য চাই পিপাসা, কিছু প্রতিবন্ধক ভুল ধারণা (পৃ. ১৪৪-১৫৩। )

৩. আসাতিযার সঙ্গেই দৃঢ় ও স্থায়ী সম্পর্কের প্রয়োজন. পৃ ৮৪-৮৯।

 

খ) নাতাইজুল আফকার শরাহটি ইবনুল হুমাম (রহ.) কৃত ফতহুল কাদীর-এর তাকমিলাহ ও পরিশিষ্টরূপে রচিত হলেও এ দুয়ের মাঝে রয়েছে আকাশ পাতাল তফাত। ইবনুল হুমামের মানহাজ অনুসরণ করতে হলে তো আরেকজন ইবনুল হুমামই লাগবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর কোনো বান্দাকে এ কাজ করার দাওফীক দান করুন।

পেরেশানির কারণ নেই, হেদায়া তৃতীয় খন্ড পর্যন্ত কোনো তালিবুল ইলম যদি ফাতহুল কাদীরআদ্যোপান্ত বা উল্লেখযোগ্য অংশ মোটামুটি বুঝে মুতালাআ করেন, এতে উল্লেখিত দালায়েল ও উজুহে ইস্তেদলালের বয়ান এবং দালায়েলের পারস্পরিক নক্দ ও তাবসিরার মানহাজ ও উসূলের সঙ্গে পরিচিত হন এবং হেদায়ার অবশিষ্টাংশ বোঝার চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয় তাহলে এতেও বেশ ফায়দা হবে।

কিতাবের ইবারত হল করা, এবং দালায়েলের তাখরীজ ও তাফসীলের জন্য তো বদরুদ্দীন আইনী (রহ.)-এর আল-বিনায়াহ-তেও অনেক তথ্য মজুদ রয়েছে। আর সংক্ষেপে মতলব বোঝার জন্য তো আকমালুদ্দীন বাবরতী রহ. এর আল-ইনায়া খুবই উপকারী। পাশাপাশি হেদায়া ৩য় ও ৪র্থ খন্ডের উপর আব্দুল হালীম লাখনবী (রহ.)-এর হাশিয়াটিও মুতালাআয় রাখা যায়। এরপর রাজেহ ও মুফতাবিহী কওল নির্ণয়ের জন্য এবং মাসআলার তাফসীল ও শরহের জন্য পরবর্তী যামানার মুহাক্কিক ফকীহ আলেমদের রচিত নির্ভরযোগ্য শরাহ ও হাশিয়াসমূহের মধ্যে তাবয়ীনুল হাকায়েক, আল বাহরুর রায়েক, রদ্দুল মুহতার ইত্যাদির সাহায্য নেয়া যায়।

আর হেদায়ার চতুর্থ খন্ডে ফিকহের যেসব অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যথা মুয়ামালাতের কিছু অংশ, কাযা ও আদালত, দন্ডবিধি, কুরবানী ও পশু যবেহ এবং বিভিন্ন বিষয়ের হালাল-হারাম সংক্রান্ত মাসায়েল। এসব পরিচ্ছেদের মাসায়েলগুলো সুষ্পষ্টভাবে বোঝার জন্য এসব মাসায়েল ও মাবাহেসের ওপর লিখিত স্বতন্ত্র ও মানসম্পন্ন রচনাবলী অনুসন্ধান করে বিভিন্ন সুযোগে পড়ে নেয়া উচিত। হেদায়া সংক্রান্ত অনেক প্রশ্নের উত্তর ইতোপূর্বে দেয়া হয়েছে। আপনি সেগুলো দেখতে পারেন।

গ) আপনার এ প্রশ্নটির উত্তর তালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয় বইটিতে শরহে নুখবা, উলূমুল হাদীস এবং দাওরায়ে হাদীস সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরগুলো পড়লে পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।


২. কোনো ফনের মাসায়েলের তফসীল, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, অসম্পূর্ণ বিষয়াবলি সম্পূর্ণ করা এবং যামানার নতুন চাহিদা ও মেযাজ অনুসারে মাসায়েল উপস্থাপন ইত্যাদি ক্ষেত্রে মুহাক্কিক, মুতকিন মুতাআখখিরীন আহলে ফনের খেদমত ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফন-এর রাসেখ ও সুদৃঢ় ইলম এবং তাফাক্কুহ ও গভীরতা অর্জনের ক্ষেত্রে মুতাকাদ্দিমীন আহলে ফনের কিতাবসমূহের প্রভাব ও কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। এছাড়া ফনের মাসাদিরে আসলিয়্যাহ ও মাসাদিরে কাদীমার শরণাপন্ন হওয়া তো তাহকীক ও তানকীহের একটি প্রধান সোপান। সলফ ও মুতাকাদ্দিমীনের ফযীলত ও অগ্রগণ্যতা সম্পর্কে ইমাম শাতেবী রহ. (মৃত্যু ৭৯০ হি.) এর আল-মুয়াফাকাত গ্রন্থের (দ্বাদশ মুকাদ্দিমা ১/৮৬-৮৮) আলোচনা এবং হাফেজ ইবনু রজব রহ.-এর

فضل علم السلف على علم الخلف

  রিসালাটি মুতালাআ করতে পারেন।

মুতাকাদ্দিমীনের রচনাবলির বিশাল অংশ মুদ্রিত বা অমুদ্রিত পান্ডুলিপি রূপে বিদ্যমান রয়েছে। ওইসব কিতাবের কোন্টি মুদ্রিত আর কোন্টি অমুদ্রিত এবং তা কোন্ কুতুবখানায় পাওয়া

যাবে এসব ব্যাপারে মাখতূতাত ও মাতবূআত সমূহের (অমূদ্রিত পান্ডুলিপি ও মূদ্রিত কিতাব) পরিচয় সম্বলিত ফাহারিস ও গ্রন্থপঞ্জিসমূহ বিভিন্ন গ্রন্থাগারের ক্যাটালগ এবং বাণিজ্যিক কুতুবখানা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সমূহের মজুত তালিকার সহায়তা নিতে পারেন। নতুন আঙ্গিকে তাহকীকসহ ফিকহের যেসব কিতাব মুদ্রিত হয়েছে সেগুলোর ফিহরিসিল মাসাদির মুতালাআ করলেও এ সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন।

প্রশ্ন : ৩. ক) শুনেছি,তাখাস্সুস নাকি শুধু এক বিষয়েই করতে হয়। এর কারণ কী? অথচ আমাদের আকাবিরের অনেকের জীবনীতে দেখা যায় যে, তিনি সকল বিষয়ে দক্ষ ছিলেন, তাহলে আমাদের একাধিক বিষয়ে তাখাস্সুস করতে বাধা কোথায়?

উত্তর : ক) তাখাসসুস-এর উদ্দেশ্য হলো, ফন্নী ইখতেসাস-শাস্ত্রীয় বুৎপত্তি ও বিশেষজ্ঞতা অর্জন। অর্থাৎ বিশেষভাবে কোনো ফনের উসূল ও ফুরু সম্পর্কে ব্যাপক, বিস্তৃত, গভীর ও পোখতা ইলম অর্জন করা। এ স্তরের জ্ঞানের মাধ্যমেই ফনের তাহকীক-তানকীহ ও গবেষণা করা যায় এবং ফনের সুরক্ষা তথা সকল হ্রাস-বৃদ্ধি, অপব্যখ্যা  ও অন্যায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা যায়। এই ফন্নী ইখতেসাস দু-তিন বছরের কোনো কোর্স সম্পন্ন করার নাম নয়। বরং এর জন্য প্রয়োজন, পূর্ণ অভিনিবেশ, নিরন্তর চর্চা ও সাধনা এবং আহলে ফন ও আহলে ফিকহ এর বিশেষ ও দীর্ঘ সোহবত। এজন্য ইলম ও জ্ঞান সাধনায় নিযুক্ত বিশেষজ্ঞগণ নিজ বিষয়ে গভীরতা ও প্রাজ্ঞতা লাভের প্রয়োজনে এবং নিজ ফনের বহুমুখী মৌলিক ও প্রায়োগিক খেদমত যথাযথভাবে আঞ্জাম দেয়ার প্রয়োজনে সাধনার মূল ক্ষেত্রকে সঙ্কুচিত করে থাকেন। কারণ, এক ব্যক্তির পক্ষে একাধিক বিষয়ে ইখতেসাস পর্যায়ের ইলম অর্জন করা যদিও অসম্ভব নয়, কিন্তু দুঃসাধ্য বটে। এরপর একাধিক বিষয়ে ইখতেসাস অর্জিত হলেও সব বিষয়ের ইখতেসাস মানে ও পরিমাণে সমান হয় না বা বাস্তবক্ষেত্রে তিনি একাধিক ফনের খেদমত সমান্তরালভাবে করার ফুরসত পান না। আমি এ পর্যায়ে সালাফের কয়েকজন ব্যক্তির দিকে কেবল

ইঙ্গিত করছি।

ইমাম শাফেয়ী রহ. তাঁর কোনো শাগরিদকে লক্ষ করে বলেছিলেন

أتريد أن تجمع بين الفقه والحديث، هيهات

হাফেয আবু বকর খতীবে বাগদাদী রহ. ইলমে হাদীস সম্পর্কে বলেছেন

إنه علم لا يعلق إلا من قصر نفسه عليه ولم يضم غيره من الفنون إليه

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাফেয আব্দুর রহমান সাখাবী রহ. আত্মজীবনীতে নিজের সম্পর্কে এবং তার শায়েখ হাফেজ ইবনে হাজার রহ. সম্পর্কে যে কথা বলেছেন তা তাঁর কিতাব আয্যওউল লামি(৮/৫-৬)-তে দেখতে পারেন। এ ছাড়াও দেখা যেতে পারে। বাসায়ের ওয়াইবার, ২/৫৭৪-৫৭৯, মাওলানা ইউসুফ বান্নুরী রহ.।

এ জন্য আমাদের পূর্ববর্তী আকাবির ও আসলাফের যুগেও সমান্তরালভাবে একাধিক বিষয়ের ফন্নী ইখতিসাসের অধিকারী মণীষীর সংখ্যা খুবই কম। ফকীহ, মুহাদ্দিসীন, মুফাসসিরীন, উদাবা প্রমূখ আহলে ইলমের ভিন্ন ভিন্ন তবাকা ও শ্রেণী তো কোনো অস্পষ্ট বিষয় নয়। আর আমাদের এই (কহতুর রিজাল)-এর যামানায় একাধিক বিষয় তো দূরের কথা এক বিষয়ের আহলে ইখতেসাসের দৃষ্টান্ত ও দুষ্প্রাপ্য। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কোনো ফনের ইখতেসাস লাভের উদ্দেশ্যে সে ফনের অনুশীলন চর্চায় ফারেগ ও অভিনিবিষ্ট হওয়ার প্রয়োজনীয়তা যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি স্বতন্ত্র প্রয়োজনীয়তা এবং ইলম ও ফনের শাখাসমূহের পারষ্পরিক নির্ভরতার কারণে অন্যান্য জরুরী উলূম ও মাআরিফ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে জ্ঞানের দিগন্তের ক্রমসম্প্রসারণের আবশ্যকতাও অস্বীকার করা যায় না।

তাফাক্কুহ ফিদ্দীন, রুসূখ ফিল ইলম বা দ্বীন ও শরীয়তের গভীর ও পরিপক্ক জ্ঞান এবং মুফাক্কির ও দাঈ পর্যায়ের যোগ্যতা লাভের জন্য তো শুধু ইলমী তাখাসসুস যথেষ্ট নয়, বরং শরয়ী ইলম ও ফনের সকল গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উলূম ও মাআরিফ সম্পর্কে ইলম অর্জন করতে হবে। এবং সজাগ সচেতন আহলে ফিকহ এর সাহচর্যের মাধ্যমে সচেতনতা , প্রাজ্ঞতা, চিন্তা ও কর্মে ভারসাম্য, আদাবুল মুআশারার জ্ঞান ও অনুশীলন ইত্যাদি অর্জন করতে হবে। সর্বোপরি আহলে দিলের সোহবত গ্রহণ করে তাকওয়া ও অন্তরের পরিচ্ছন্নতা অর্জন করাও অপরিহার্য।

সর্বশেষ কথা হল, শুধুমাত্র তাখাসসুস বা ভিন্ন কোনো নামের দু-তিন বছরের প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স সম্পন্ন করা কোনো ফনের ইখতেসাস বা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাহারাত অর্জন তো দূরের কথা বুনিয়াদী ও জরুরী ইলম অর্জনেরও নিশ্চয়তা দেয় না। সব তালিবে ইলমের হালত ও সুযোগ এক রকম হয় না এবং সবার জন্য সব পদ্ধতী উপযোগীও নয়। সুতরাং কোনো ফনের তাখাসসুসের পাশাপাশি অন্যান্য উলূম ও মাআরিফের মাহারাত লাভের পদ্ধতি কী হবে তা তালেবে ইলম তার তালীমী মুরুববী এবং মাহির ও মুশফিক উস্তাজের নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ইলমের মনযিলে মকসুদ তাফাক্কুহ ফিদ্দীন ও রুসূখ ফিল ইলম নসীব করুন। আমীন। 

শেয়ার লিংক

মুহা: আতাউল্লাহ মাকবুল - ফরিদাবাদ, ঢাকা

প্রশ্ন

জিহাদ বিষয়ক জামে-মানে একটি কিতাব বা বইয়ের দিকনির্দেশনা দিবেন যাতে জিহাদ বিষয়ক সঠিক জ্ঞান ও সময়োপযোগী বিধি বিধান জানতে পারি। এবং ধাপে ধাপে এ বিষয়ে গভীর জ্ঞানার্জনে কি কি বই মুতালাআ করতে পারি তাও জানাবেন।

 

উত্তর

শরয়ী জিহাদ হলো ইসলামের ইজতেমায়ী ফরয আমলসমূহের মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ফরয। সুতরাং শরয়ী জিহাদ সম্পর্কে আলেম ও তালিবে ইলমদের জানার অনেক দিক রয়েছে। যথা-

১. জিহাদের অর্থ ও হাকীকাত

২. জিহাদের তাৎপর্য ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য

৩. জিহাদের আহকাম ও মাসায়েল

৪. আদাবুল জিহাদ

৫. জিহাদের ফাযায়েল

৬. জিহাদের তারীখ ও ইতিহাস

৭. মুজাহিদদের জীবনী

এসব বিষয়ে সঠিক ও বিশদ জ্ঞান লাভের জন্যে আয়াতুল জিহাদ ও আহাদীসুল জিহাদ অধ্যয়ন করতে হবে নির্ভরযোগ্য তাফসীর ও শরহে হাদীসের আলোকে। ফিকহ ও ফতওয়ার নির্ভরযোগ্য কিতাবে জিহাদ ও সিয়ার অধ্যায় মুতালাআ করতে হবে। সিয়ার ও মাগাযী বিষয়ক স্বতন্ত্র কিতাবগুলোতে জিহাদের ইতিহাস পড়তে হবে এবং তারীখ তারাজিমের কিতাবে মুজাহিদদের জীবনী অধ্যয়ন করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, শরয়ী জিহাদ পরিচালনা করা ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রিয় দায়িত্বসমূহের অন্যতম।

সুতরাং 

السياسة الشرعية

বা

 الأحكام السلطانية

সম্পর্কেও জানা জরুরী। এ বিষয়ে যেসব স্বতন্ত্র কিতাব রয়েছে তা বুঝে পড়তে হবে। শরয়ী জিহাদ হলো নুসরতে দ্বীন ও খেদমতে দ্বীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং আল-আমরু বিল মারুফ ওয়ান নাহ্য়ি আনিল মুনকার ও দাওয়াত ইলাল্লাহ-এর একটি প্রকার। সুতরাং এসব বিষয়ের তাৎপর্য এবং শরয়ী আহকাম ও আদাব জানাও শরয়ী জিহাদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভের জন্য একান্ত প্রয়োজন।

আর জিহাদের বিভিন্ন দিক নিয়ে তো স্বতন্ত্র অনেক কিতাব ও রিসালাও রচিত হয়েছে এবং হচ্ছে। তবে আপনি প্রাথমিকভাবে জিহাদ বিষয়ক মুতালাআ শুরু করার জন্য নিম্নোক্ত কিতাব ও রিসালাগুলো দেখতে পারেন।

১. কিতাবুল জিহাদ ইবনুল মুবারক রহ.-এর অনুবাদের শুরুতে আমার লিখিত ভূমিকাটি।

২. মাসিক আলকাউসারের শিক্ষা পরামর্শ বিভাগে ইতোপূর্বে জিহাদ বিষয়ক প্রশ্নোত্তরগুলো আপনিতালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয় নামে সংকলিত বইটিতেও পাবেন।

৩. মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. এর জিহাদ বিষয়ক রিসালা যা তাঁর জাওয়াহিরুল ফিকহিসংকলনটিতেও রয়েছে।

৪. উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা তকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) এর তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম-এ কিতাবুল জিহাদের শুরুতে তাঁর মুকাদ্দিমা এবং এ অধ্যায়ের হাদীসসমূহের শরাহ।

এছাড়াও উস্তাযে মুহতারামের জিহাদে ইকদামী বিষয়ক একটি মাকালা যা তাঁর ফিকহী মাকালাত কিতাবটিতে সন্নিবেশিত হয়েছে।

শেয়ার লিংক

রুহুল আমীন - মাদানীনগর

প্রশ্ন

(ক) আমি একজন জামাতে শরহে জামীর ছাত্র, আমাদের দরসের পাঠ্য কিতাবগুলো হচ্ছে, শরহে তাহযীব, শরহে জামী, তরজমাতুল কুরআন (২১-৩০), লামিয়াতুল মুজিযাত, কানযুদ্দাকায়েক, নূরুল আনওয়ার ও মাআরিফুল হাদীস। এগুলোর মধ্য থেকে শরহে জামী, শরহে তাহযীব ও নূরুল আনওয়ারের এমন কিছু বহছ রয়েছে যা সহজে বুঝতে সক্ষম হই না.....

খ) বর্তমান সময়ে অনেক ছাত্র-উস্তাযের মাঝে ইলমে বালাগাত ও ইলমে মান্তেকের প্রতি অনিহা দেখা যাচ্ছে, আসলেই কি এখন এই দুই ফনের জ্ঞানের প্রয়োজন নেই? নাকি তারা ধোকার মধ্যে আছে। বর্তমান যামানায় উক্ত দুই ফনের উপর কী পরিমাণ জ্ঞান রাখা দরকার এবং আমরা কীভাবে এখন সফল হতে পারবো এ বিষয়ে মুহতারামের নিকট পরামর্শ কামনা করছি।

গ) বুযুর্গরা বলে থাকেন রাস্তা-ঘাটে চলতে ফিরতে যিকিরে ফিকিরে চলা। কিন্তু একজন তালিবে ইলমের জন্য তালিবে ইলম হাইছিয়্যাতে কোন্ দুআটি পড়লে ইলমে-আমলে তারাক্কি হবে এবং রিযায়ে ইলাহীর মাধ্যম হবে? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

(ক ও খ) আপনার প্রশ্নের উল্লেখিত বিষয়সমূহ এবং মানতেক সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব ইতোপূর্বে শিক্ষাপরামর্শ বিভাগে কয়েকবার দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয় নামে মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে প্রকাশিত বইটিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপরামর্শগুলো দেখতে পারেন। বাকী থাকল ইলমুল বালাগাতের প্রসঙ্গ। তো বালাগাত অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ফন। কারণ, আল্লাহর কালাম কুরআনের মূল إعجاز  হলো বালাগাত। সুতরাং বালাগাতের পরিপূর্ণ জ্ঞান ও রুচি অর্জন ছাড়া কালামুল্লাহর إعجاز    অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এছাড়াও যে কোনো আরবী ইবারত ও নুসুসের সঠিক ভাব ও মর্ম উদ্ধার এবং সহীহ ও সুন্দর অনুবাদের ক্ষেত্রে বালাগাতের জ্ঞান প্রয়োজন হয়। তাফসীর ও শরহে হাদীসের অনেক কিতাবে ইলমুল বালাগাতের পরিভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। আর আদব ও সাহিত্যের অঙ্গনে তো বালাগাতের রুচিবোধ অপরিহার্য বিষয়। এসব কারণে একজন তালিবে ইলমের জন্য তত্ত্বীয় ও প্রায়োগিক উভয় দিক থেকে বালাগাত শাস্ত্রের সাথে সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা বাঞ্চনীয়।

উত্তর : গ) একজন তালিবুল ইলমের কর্তব্য হলো, দরস, মুতালাআ ও তামরীনের বাইরেও ইবাদত-বান্দেগী ও নির্ধারিত মামুলাত আদায়ের পর সর্বাবস্থায় অর্থাৎ চলতে ফিরতে, উঠতে-বসতে, এমনকি ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাওয়ার পর ঘুম আসা পর্যন্ত ইলমের চর্চা ও ইলমের ফিকিরে মশগুল থাকা। যেমন- কোনো মাসায়েল মুখস্ত করতে থাকবে বা চিন্তা করতে থাকবে, জটিল কোনো মাসাআলার সমাধান নিয়ে ভাববে আর একজন তালেবে ইলম হিসেবে বিভিন্ন সময়ের ও অবস্থার মাসনূন দুআগুলোর পাশাপাশি ইলম ও আমলের উন্নতির জন্যও বেশি বেশি দুআ করবে। এ বিষয়েও অনেক মাসনূন ও মাছূর দুআ রয়েছে। যেমন-

اللهم إني أسئلك علما نافعا ورزقا طيبا وعملا متقبلا

(মুসনাদে আহমাদ, ৬/২৯৪; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলা, নাসায়ী ১০২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৯২৫)

اللهم انفعني بما علمتني وعلمني ما ينفعني وزدني علما

(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, হাদীস: ৩০০০৬; জামে তিরমিযী, হাদীস: ৩৫৯৯

اللهم إني أعوذ بك من علم لا ينفع ومن قلب لا يخشع ومن نفس لا تشبع ومن دعوة لا يستجاب لها

 (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৭২২)

শেয়ার লিংক

মুহা: আতাউল্লাহ মাকবুল - ফরিদাবাদ, ঢাকা

প্রশ্ন

জিহাদ বিষয়ক জামে-মানে একটি কিতাব বা বইয়ের দিকনির্দেশনা দিবেন যাতে জিহাদ বিষয়ক সঠিক জ্ঞান ও সময়োপযোগী বিধি বিধান জানতে পারি। এবং ধাপে ধাপে এ বিষয়ে গভীর জ্ঞানার্জনে কী কী বই মুতালাআ করতে পারি তাও জানাবেন।


উত্তর

শরয়ী জিহাদ হলো ইসলামের ইজতেমায়ী ফরয আমলসমূহের মধ্যে অতিগুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ফরয। সুতরাং শরয়ী জিহাদ সম্পর্কে আলেম ও তালিবে ইলমদের জানার অনেক দিক রয়েছে। যথা-

১. জিহাদের অর্থ ও হাকীকাত

২. জিহাদের তাৎপর্য ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য

৩. জিহাদের আহকাম ও মাসায়েল

৪. আদাবুল জিহাদ

৫. জিহাদের ফাযায়েল

৬. জিহাদের তারীখ ও ইতিহাস

৭. মুজাহিদদের জীবনী-

এসব বিষয়ে সঠিক ও বিশদ জ্ঞান লাভের জন্যে আয়াতুল জিহাদ ও আহাদীসুল জিহাদ অধ্যয়ন করতে হবে নির্ভরযোগ্য তাফসীর ও শরহে হাদীসের আলোকে। ফিকহ ও ফতওয়ার নির্ভরযোগ্য কিতাবে জিহাদ ও সিয়ার অধ্যায় মুতালাআ করতে হবে। সিয়ার ও মাগাযী বিষয়ক স্বতন্ত্র কিতাবগুলোতে জিহাদের ইতিহাস পড়তে হবে এবং তারীখ তারাজিমের কিতাবে মুজাহিদদের জীবনী অধ্যয়ন করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, শরয়ী জিহাদ পরিচালনা করা ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রিয় দায়িত্বসমূহের অন্যতম। সুতরাং السياسة الشرعية বা الأحكام السلطانية  সম্পর্কেও জানা জরুরি। এ বিষয়ে যেসব স্বতন্ত্র কিতাব রয়েছে তা বুঝে পড়তে হবে। শরয়ী জিহাদ হলো নুসরতে দ্বীন ও খেদমতে দ্বীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং আল-আমরু বিল মারুফ ওয়ান নাহ্য়ি আনিল মুনকার ও দাওয়াত ইলাল্লাহ-এর একটি প্রকার। সুতরাং এসব বিষয়ের তাৎপর্য এবং শরয়ী আহকাম ও আদাব জানাও শরয়ী জিহাদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভের জন্য একান্ত প্রয়োজন।

আর জিহাদের বিভিন্ন দিক নিয়ে তো স্বতন্ত্র অনেক কিতাব ও রিসালাও রচিত হয়েছে এবং হচ্ছে। তবে আপনি প্রাথমিকভাবে জিহাদ বিষয়ক মুতালাআ শুরু করার জন্য নিম্নোক্ত কিতাব ও রিসালাগুলো দেখতে পারেন।

১. কিতাবুল জিহাদ ইবনুল মুবারক রহ.-এর অনুবাদের শুরুতে আমার লিখিত ভূমিকাটি।

২. মাসিক আলকাউসারের শিক্ষা পরামর্শ বিভাগে ইতোপূর্বে জিহাদ বিষয়ক প্রশ্নোত্তরগুলো আপনিতালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয় নামে সংকলিত বইটিতেও পাবেন।

৩. মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.-এর জিহাদ বিষয়ক রিসালা যা তাঁর জাওয়াহিরুল ফিকহিসংকলনটিতেও রয়েছে।

৪. উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা তকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) এর তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম-এ কিতাবুল জিহাদের শুরুতে তাঁর মুকাদ্দিমা এবং এ অধ্যায়ের হাদীসসমূহের শরাহ। এছাড়াও উস্তাযে মুহতারামের জিহাদে ইকদামী বিষয়ক একটি মাকালা যা তাঁর ফিকহী মাকালাত কিতাবটিতে সন্নিবেশিত হয়েছে।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - বাইতুল উলূম ঢালকানগর

প্রশ্ন

হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, হাদীসে মুসালসাল-এর যে রেওয়াজ চলছে আমাদের মাঝে, ইলমী দৃষ্টিকোণ থেকে এর গুরুত্ব কতটুকু এবং এর ফয়েদাই বা কী?

বিশেষ করে যখন এর মধ্যে মওযূ হাদীসের সংখ্যা প্রচুর।

হাদীসুল মুসালসালাত-এর ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।


উত্তর

উলূমুল হাদীসের একটি উপশাখার আলোচ্য বিষয় হল, হাদীসে মুসালসাল সংক্রান্ত আলোচনা। এর বিভিন্ন ধরন ও প্রকার রয়েছে। হাদীস বর্ণনার সময় আনুষাঙ্গিক কোনো বিষয় বা ঘটনার অবতারণা বা উল্লেখের তাসালসুল ও ধারাবাহিকতা সাহাবায়ে কেরাম থেকেই শুরু হয়েছে। তবে প্রথমে তা ঘটেছিল স্বাভাবিক নিয়মে, যা পরবর্তী রাবীগণ নকল ও অনুকরণ করেছেন কৃত্রিমরূপে।

এই তাসালসুল রক্ষা করা কোনো ওয়াজিব বা অপরিহার্য বিষয় নয়। এটি মূলত ইকতিদা ও অনুকরণের জযবা, বরকত লাভের আশা এবং রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে তাফান্নুন ও বৈচিত্র সৃষ্টির প্রবণতা থেকে উৎসারিত।

তাসালসুল যদি সহীহও প্রমাণিত হয় তবে তা সনদের একটি গুণ ও বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে তাসালসুলের কোনো কোনো প্রকার এ কথার নিশ্চয়তা প্রদান করে যে, সনদটি সব ধরনের ইনকেতা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্ত। অনুরূপভাবে তাসালসুলের কোনো কোনো প্রকার অর্থাৎ হাদীস বর্ণনার সময় সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ প্রমাণ বহন করে যে, রাবী মূল হাদীসটি সঠিকভাবে যবত করেছেন ও মনে রেখেছেন।

বাকি থাকল আসরুর রিওয়ায়াত এর পরেও বর্তমান যমানা পর্যন্ত হাদীসে মুসালসালের দরস ও রেওয়ায়েতের রেওয়াজ চালু রাখার প্রসঙ্গ। তো এর কারণ হচ্ছে বিশেষ ধরনের এই সনদের ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে নিছক বরকত লাভের আকাঙ্খা। কিন্তু বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই বরকত লাভের জন্যও জরুরি হল, মূল হাদীসের রেওয়ায়েত ও এর তাসালসুল সহীহ ও প্রমাণিত হওয়া। কারণ কোনো মওযূ বা অবাস্তব তাসালসুলের মাধ্যমে বরকত লাভ হতে পারে না। হাদীসে তাসালসুল সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে : ১. যফারুল আমানীতে মুসালসালের বহছ, শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর তালীকসহ।

২. আলওজীয ফীমা ইয়াবতাগীহিল মুসতাজিয, শায়খ যাহেদ আলকাউসারী রাহ.-এর মুকাদ্দিমা।

৩. আলআওয়াইলুস সুনবুলিয়াহ-এর শুরুতে শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর মুকাদ্দিমা।

৪. ইমাম সুয়ূতী রাহ.-এর জিয়াদুল মুসালসালাত কিতাবের শুরুতে শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামাহ এবং শায়খ মাজ্দ আলমক্কী-এর মুকাদ্দিমা। 

শেয়ার লিংক

খালেদ যামান - খতীব, কদমরসূল জামে মসজিদ, ঢাকা

প্রশ্ন

দালায়েলুল খায়রাত কিতাবের মুসান্নিফ কে? উক্ত কিতাব কত সালে লিখিত? কিতাবটি পড়ার ফযীলত কী? পড়ার পদ্ধতি কী? মুয়াল্লিমীনদের নিকট কতটুকু গ্রহণযোগ্য? মুসান্নিফ কোন মাযহাবের অনুসারী ছিলেন? এ ছাড়াও কিতাবটির সম্পর্কে আরো কোনো তথ্য থাকলে অনুগ্রহপূর্বক জানাবেন।


উত্তর

কিতাবটির পূর্ণ নাম দালাইলুল খায়রাত ওয়া শাওয়ারিকুল আনওয়ার ফী যিকরিস সালাতি আলান্নাবিয়্যীল মুখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কিতাবের মুসান্নিফ হলেন আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান আলজুযূলী (জন্ম ৮০৭ হি., মৃত্যু : ৮৭০ হি.)। তিনি বর্তমান আফ্রিকা মহাদেশের মরক্কোর অধিবাসী ছিলেন। মরক্কোর জুযূলাহ নামক অঞ্চলে বা গোত্রে জন্মগ্রহণের কারণে জুযূলী নিসবতে পরিচিত। তিনি ছিলেন মালিকী মাযহাবের একজন আলেম এবং তৎকালীন প্রসিদ্ধ ওলি ও বুযুর্গ। আরো বিস্তারিত জানার জন্য নিম্নের কিতাবগুলো দ্রষ্টব্য : আযযওয়ুল লামে, হাফেয সাখাবী ৭/২৫৮-২৫৯; কাশফুয যুনূন ১/৭৫৯; আলআলাম, যিরিকলী ৬/১৫১

তাঁর আলোচ্য কিতাবটি হল সালাত ও সালাম তথা দরূদ শরীফের সংক্ষিপ্ত কিতাব। এতে তিনি দরূদের ফযীলত ও দরূদের বিভিন্ন পাঠ উল্লেখ করেছেন। হাদীসে বর্ণিত দরূদের মাছূর শব্দের পাশাপাশি পরবর্তী বুযুর্গদের নিজস্ব শব্দে পঠিত দরূদকে এ কিতাবে সংকলন করা হয়েছে। এতে দরূদের ফাযায়েল সম্পর্কে যেসব হাদীস ও রেওয়ায়েত উল্লেখ রয়েছে তাতে সহীহ, যয়ীফ, মুনকার ও মওযূ সবধরনের রেওয়ায়েতই স্থান পেয়েছে।

যাহোক, দরূদ শরীফ পাঠ যে স্বতন্ত্র একটি ইবাদত এবং অনেক ছওয়াব ও বরকতপূর্ণ আমল তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে উক্ত কিতাবে সহীহ হাদীস থেকে নেওয়া দরূদের যেসব শব্দ উল্লেখ রয়েছে সেগুলো অগ্রগণ্য এবং অধিক নূর ও বরকতপূর্ণ। কারণ তা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেখানো এবং ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত। আর পরবর্তী কোনো ব্যক্তির নিজস্ব শব্দের যেসব দরূদ এতে উল্লেখ রয়েছে সেগুলোতে কোনো মুনকার ও আপত্তিকর শব্দ না থাকলে পড়তে নিষেধ নেই। এতেও দরূদ পাঠের ফযীলত লাভ হবে। কিন্তু এগুলোকে মাছূর ও হাদীসের দরূদের সমপর্যায়ের মনে করা উচিত নয়। 

শেয়ার লিংক

বিনতে আবদুল হান্নান - গওহরডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ

প্রশ্ন

আমি হেদায়েতুন্নাহব জামাতের একজন ছাত্রী। শুনেছি, সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীদের মধ্যে এবং পরবর্তী যুগেও মহিলাদের মধ্যে অনেক বড় বড় আলেম ছিলেন। মুফতী ছিলেন, মুহাদ্দিস ছিলেন। এ যুগে কি মহিলাদের জন্য তাদের মতো বড় আলেম, মুফতী, মুহাদ্দিস হওয়া সম্ভব? সম্ভব হলে কীভাবে?

মন চায় তাদের মতো বড় মুফতী হতে। এখন আমার জন্য কী করণীয়?

আমার তো একটুও পড়তে মন চায় না। শুধু পেরেশানি লাগে যে এত পড়া কীভাবে পড়ব! আমি তো কিছুই পারি না! পড়তে বসলে ঘুম আসে। আমার জন্য কী করণীয়?

তরজমাতুল কুরআন বুঝার জন্য কীভাবে মেহনত করতে পারি? এখনতো হুজুর যে অর্থ পড়ান তা পুরা মুখস্থ করে ফেলি। শাব্দিক অর্থ বুঝি না। এভাবেই পড়তে থাকব, না অন্যভাবে? আরবী-বাংলা ভালো লুগাতুল কুরআন আছে কি? আমরা তো উর্দু পড়ি নাই এবং আরবীও ভালো পারি না। তাই বাংলা হলে ভালো হয়। আমাদের কাছে আলকাউসার প্রকাশনী থেকে ছাপা একটা আরবী-বাংলা লুগাতুল কুরআন আছে। শুনেছি, তাতে নাকি অনেক ভুল আছে। বাস্তবেই কি তাতে অনেক ভুল আছে? আর ওটার মান কেমন? মানসম্মত একটা আরবী-বাংলা লুগাতুল কুরআন খুঁজছি। আশা করি সন্ধান দিয়ে ধন্য করবেন।

আমি ভালো আরবী পারি না। ভালো আরবী পারার জন্য কী করতে পারি?

আমার জন্য একটু খাস করে দুআর দরখাস্ত করছি। আল্লাহ তাআলা যেন কবুল করেন। এবং পূর্বযুগের বড় বড় আলেমদের ন্যায় তাফাক্কুহ ফিদ্দীন অর্জন করার তাওফীক দান করেন। আমীন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আমীন।

 

উত্তর

আপনি সঠিক শুনেছেন। সলফের যমানায় তালীমের ব্যাপক ও বিস্তৃত আয়োজনের কারণে নারীদের পক্ষেও ঘরোয়া পরিবেশে পূর্ণ পর্দার সাথে উচ্চতর তালীম লাভের সুযোগ হতো। কিন্তু বর্তমান যমানায় কিছু প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে তা কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে। তবে তা এখনো অসম্ভব বা নজীর বহির্ভুত নয়।

ইলমের উচ্চাকাঙ্খার জন্য আপনাকে মোবারকবাদ। আল্লাহ তাআলা আপনার হিম্মতকে বাড়িয়ে দিন এবং ইলমের মনযিলে মকসূদে পৌঁছার তাওফীক দান করুন। আমীন।

ইলমের বিস্তৃতি ও গভীরতা চিন্তা করে তা হাসিলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা কাম্য। এত পড়া কীভাবে পড়ব! এই চিন্তা ও পেরেশানি অবান্তর। কারণ অনেকেই তো তা পড়েছে এবং পড়ছে। সুতরাং আপনিও পারবেন। আর সব পড়া তো এক সাথে পড়তে হবে না; বরং কিছু কিছু করে পর্যায়ক্রমে পড়তে হবে।

আপনি তরজমায়ে কুরআন বুঝার জন্য কীভাবে মেহনত করবেন জিজ্ঞাসা করেছেন। এজন্য তো উত্তম সহযোগী হচ্ছে মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম রচিত আততরীক ইলাল কুরআনিল কারীম (এসো কুরআন শিখি), যা এ পর্যন্ত চার খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। সম্ভব হলে কোনো উস্তাযের তত্ত্বাবধানে কিতাবটি মুতালাআ করবেন।

আরবী-বাংলা কোনো মানসম্মত লুগাতুল কুরআনের কিতাব আমার জানা মতে এখনো তৈরি হয়নি। তরজমা বুঝার জন্য আততরীক ইলাল কুরআনিল কারীম-এর সহযোগিতা নেওয়া হলে বাংলা লুগাতুল কুরআনের সহযোগিতা আর তেমন প্রয়োজন হবে না।

আর আরবী পড়া ও বুঝার জন্যও মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম রচিত আততরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ-এর সবকটি খন্ড বুঝে বুঝে পড়েন এবং মশক করেন তবে ফায়েদা হবে। এ কিতাবটি যদি আপনি আগে একবার পড়েও থাকেন তবুও তা পুনরায় সবকটি খন্ড পড়তে হবে। ভালো হয় যদি কোনো উস্তাযের সহযোগিতা নিতে পারেন। এর পাশাপাশি আপনাকে আততামরীনুল কিতাবী আলাত তরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ অনুসারে অনুশীলন জারি রাখতে হবে।

এছাড়া আপনার দরসে যেসব আরবী কিতাব পড়ানো হয় সেগুলো যদি কোনো বাংলা বা উর্দূ শরাহ ও তরজমার সহযোগিতা না নিয়ে নিজেই একটু কষ্ট করে বুঝে বুঝে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেন তবে এক সময় ইনশাআল্লাহ আরবী ইবারত পড়া ও বুঝার যোগ্যতা তৈরি হবে। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইসমাঈল আব্দুল ওয়াহ্হাব - নন্দীগ্রাম, বগুড়া

প্রশ্ন

 

মুহতারাম! আমিশরহে বেকায়াজামাতে পড়ছি। হাদীসের আলো কিতাবটি মোটামুটি মুখস্থ করেছি। কিছু কিছু মনে আছে আর কিছু ভুলে গেছি। একটু পড়লে আবার ইয়াদ হয়। হালতে আমি এখন কিতাবের উপর সীমাবদ্ধ থাকবো না কী করবো?

() অন্য কিতাব পড়লে কীভাবে পড়বো। কীভাবে সময় দিবো ইত্যাদি জানতে চাই।  

মুহতারাম, আপনার কাছে উলূমে হাদীস পড়ার আশা রাখি। তাই আমাকে কীভাবে কী করতে হবে ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়ে ধন্য করলে ভাল হয়।  


 

উত্তর

 

মাশাআল্লাহ, আপনিহাদীসের আলোকিতাবটি হেফজ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা আপনার ইলম আমলে বরকত নসীব করুন। এখন আপনি সামনে উক্ত কিতাবের হেফজকে মাঝে-মধ্যে তাজা করার পাশাপাশিআহাদীসুল আহকামবিষয়ক কোনো একটি কিতাব মুতলাআয় রাখতে পারেন এবং এর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হেফজ করতে পারেন। এজন্য আপনিইলাউস সুনানকিতাবের মূল মতন যাজামেউল আহাদীসনামে পৃথকভাবে ছাপা হয়েছে অথবা কমপক্ষে আল্লামা নীমাবী রহ. এরআসারুর সুনানকিতাবের মতনকে নির্বাচন করতে পারেন। আপনি এই মুতালাআ হিফজের জন্য সম্ভব হলে প্রতিদিন কিছু সময় অন্যথায় সপ্তাহে কিছু সময় এবং বিরতির দিনগুলোর কিছু সময় বরাদ্দ করতে পারেন।

আর আপনি ভবিষ্যতে উলূমুল হাদীস নিয়ে পড়াশুনা করার আশা ব্যক্ত করেছেন। তো এর জন্য প্রথমত প্রধান শর্ত হচ্ছে পাকাপোক্ত কিতাবী ইসতেদাদ অর্জন করা এবং ইলমের অনির্বাণ তৃষ্ণা ইলমের জন্য বিলীন হওয়ার মানসিকতা তৈরি করা। সুতরাং আপনাকে নিজ উস্তাজের তত্ত্বাবধানে কিতাবী ইসতেদাদ হাসিলে সচেষ্ট হতে হবে। এবং বারবার নিজের ইসতেদাদ যাচাই করতে হবে।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুহিববুল্লাহ - মাদানী নগর মাদরাসা

প্রশ্ন

 

মুহতারাম, বর্তমানে আমি শরহে বেকায়া জামাতে অধ্যয়নরত। প্রশ্ন হলো, কুরআন শরীফের বহু জায়গায় হযরত আদম হাওয়া . এর গন্দম খেয়ে বেহেশত থেকে দুনিয়ায় আসার ঘটনা বর্ণিত হলেও পরিপূর্ণ ঘটনাটি আমার জানা নেই। তাই খুব বিব্রতকর অবস্থায় আছি।

তাই মুহতারামের নিকট আকুল আবেদন এই যে, পূর্ণ ঘটনাটি বিশুদ্ধ মাসাদের সমূহের উদ্ধৃতিসহ জানালে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।  


 

উত্তর

আপনি আপাতত উর্দূ ভাষায় রচিত মাওলানা হিফজুর রহমান সিহালবী রহ. এরকাসাসুল কুরআন’- হযরত আদম (আলাইহি ওয়া আলা নাবিয়্যিনা আস সালাতু ওয়াস সালাম) সংক্রান্ত আলোচনাটি পড়তে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইউসুফ - জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া তেজগাঁও, ঢাকা

প্রশ্ন

হাদীসের কিতাবে শিশু-কিশোর বাচ্চাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিভিন্ন বাণী ঘটনা পাওয়া যায়। সাহিত্যে যেমন শিশুদের উপযোগী করেশিশু সাহিত্যরচনা বা সংকলন করা হয়, হাদীসের ক্ষেত্রেও যদিশিশুদের নিয়ে হাদীস’ ‘শিশুদের জন্য রাসূলবাশিশুদের রাসূলইত্যাদি শিরোনামে সংকলন তৈরী করা হয় তাহলে এক্ষেত্রে হযরতের অভিমত কী? অর্থাৎ এই পরিকল্পনা উদ্যোগটা কেমন এবং এর প্রয়োজন কতটুকু আছে বলে হযরত মনে করেন?

 

উত্তর

 বিষয়ে আপনাকে সরাসরি সাক্ষাতে পরামর্শ করতে হবে।


শেয়ার লিংক

আসাদুল্লাহ - জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদরাসা, ঢাকা

প্রশ্ন

যে বিষয়টি উপলক্ষ করে আপনাকে কষ্ট দেয়ার ইচ্ছা করেছি, তা হল বরেণ্যদের স্মৃতিচারণ নামক গ্রন্থের ৮৭ পৃষ্ঠার ২টি আলোচনা বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল।

. তিনি হযরত মাওলানা মুফতী জামীল আহমদ ছাহেব থানভীর ছোট ভাই ছিলেন। যিনি হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী রহ. এর মুহতারামা স্ত্রীর জামাতা।

. কুরআনী আয়াত থেকে আরবী বর্ণের গাণিতিক মান অনুপাতে মানুষের

মৃত্যু তারিখ উদ্ভাবনে তাঁর বিস্ময়কর যোগ্যতা ছিল।


উত্তর

() হযরত আশরাফ আলী থানভী রহ. এর নিজের কোনো সন্তান ছিলো না। হযরত রহ. দ্বিতীয় বিবাহ করেছিলেন এক বিধবা মহিলাকে। যাঁর প্রথম স্বামীর ঔরসে একটি কন্যাসন্তান ছিলো। এই কন্যাসন্তানটি হযরত থানভী রহ. এর ঘরেই লালিত-পালিত হয়েছে। এবং পরবর্তীতে মাওলানা জামীল আহমাদ সাহেবের সাথে তার বিবাহ হয়েছে। সূত্রেই জামীল আহমদ সাহেব হলেন থানভী রহ. এর দ্বিতীয় স্ত্রীর জামাতা। আপনি বিষয়টি স্পষ্ট বুঝতে পারবেন উক্ত কিতাবে হযরতের স্ত্রীর এবং জামীল আহমদ সাহেবের জীবনী পাঠ করলে।

) উদ্ধৃত অংশটির সাথেই এর যে বাস্তব দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়েছে তা খেয়াল করে পড়লেই উক্ত বাক্যের অর্থ পরিষ্কার বুঝে আসবে। এর অর্থ হচ্ছে, তিনি কারো মৃত্যুর পর তার মৃত্যু তারিখ সংরক্ষণ প্রকাশের জন্য সাংকেতিক কোনো শব্দ বা বাক্য উদ্ভাবনে পারঙ্গম ছিলেন। আর এজন্য তিনি কুরআনে কারীমের কোনো শব্দকেই নির্বাচন করতেন এবং তা করতেন আরবী বর্ণের গাণিতিক মান অনুপাতে, যা حساب الجمل নামে পরিচিত।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ - কানাইঘাট, সিলেট

প্রশ্ন

আশা করি হুজুর ভাল আছেন। দুআ করি আল্লাহ সুস্থতার সাথে যেন দীর্ঘজীবী করেন। হুজুর! আমি নূরুল আনওয়ার কিতাবের কিতাবুল্লাহ অধ্যায়ে লেখা  عند الخصاف     এবং সুন্নাহ অধ্যায়েরমাশহুরএর আলোচনায়  قال الجصاص নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। আমার জানার বিষয় হলো উভয় স্থানের বিষয়বস্ত্ত এক নাকি ভিন্ন? যদি এক হয় তাহলে উভয় নাম একজনের না দুজনের? যদি দুইজনের হয় তাহলে তাদের পরিচয় কী? আর যদি একজন হন তাহলে কোন নাম ঠিক? বিস্তারিত জানতে চাই। তাছাড়া যা প্রশ্নে আসেনি অথচ তা আমার জন্য উপকারী তাও জানতে আগ্রহী।

 


উত্তর

জ্বী, উভয় স্থানের আলোচ্য বিষয় অভিন্ন। তবে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিতনুরুল আনওয়ারকিতাবেকিতাবুল্লাহঅধ্যায়েকিতাবুল্লাহ’-এর তারীফ সংক্রান্ত আলোচনায় ‘‘ইনদাল খাসসাফ’’  শব্দটি মুলত নাসেখের অনিচ্ছাকৃত তাহরীফ ভুল। সঠিক হলো ‘‘ইনদাল জাসসাস’’ কারণ খবরের যে প্রকারটি হানাফী মাযহাবের পরবর্তী অধিকাংশ উসূলে ফিকহের মুসান্নিফগণের পরিভাষায়মাশহুরসেটিকেমাশহুরনা বলে খবরে মুতাওয়াতির-এর একটি প্রকার হিসেবেমুতাওয়াতিরনামেই নামকরণ করেছিলেন ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনু আলী আররাযী (জন্ম ৩০৫ মৃত্যু ৩৭০ হি.) যিনি ফিকহে হানাফীর কিতাব সমূহেজাসসাসনামে প্রসিদ্ধ। আহকামুল কুরআন, আলফুসুল ফীল উসূল, শারহু জামিয়িস সগীর (মাখতুত) শরহু মুখতাসারিত তহাবী (মুদ্রিত) শরহু মুখতাসারিল কারখী (মাখতুত) তাঁর প্রসিদ্ধ তাসনীফ। আলোচ্য মাসআলাটি তিনি আলফুসুল ফীল উসূল (/৩৭-৫০) কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং পরবর্তী মুসান্নিফগণ তাঁরই উদ্ধৃতিতে নকল করেছেন।নুরুল আনওয়ারেরসুন্নাহ অধ্যায়েও উল্লেখ রয়েছে। প্রসঙ্গে ইমাম খাস্সাফের নাম কেউই উল্লেখ করেননি। সুতরাং নামটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক এবং নাসিখের তাহরীফ বৈ কিছু নয়।

ইমামখাসসাফহলেন ইমামজাসসাস-এর এক শতাব্দী আগের। পুরো নাম আহমদ ইবনুল আমর আশ শায়বানী (মৃত্যু ২৬২ হি.) তিনি

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহ ইমাম মুহাদ্দিস এবং ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ-এর সমসাময়িক। আদাবুল কাযী, কিতাবুশ-শুরুত এবং আহকামুল ওয়াকফ ইত্যাদি তাঁর প্রসিদ্ধ তাসনীফ।

ইমাম জাসসাস এর জীবনীর জন্য দ্রষ্টব্য:তারীখে বাগদাদ /৩১৪; আলজাওয়াহিরুল মুযিয়্যাহ, আব্দুল কাদের কুরাইশী /২২০; তাজুত তারাজিম, ইবনু কুতলুবুগা, পৃ ; আল ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ পৃ ২৭।

আর ইমাম খাসসাফ এর জীবনীর জন্য দ্রষ্টব্য: আল জাওয়াহিরুল মুযিয়্যাহ /২৩০; আলওয়াফি বিল ওফায়াত /২৬৬; তাজুত তারাজিম পৃ ; আল ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ পৃ ২৯।

যা হোক এখানে একটি বিষয় তাম্বীহযোগ্য, তা হলোনুরুল আনওয়ারকিতাবের সুন্নাহ অধ্যায়েখবরে মাশহুরএর আলোচনায় যে বলা হয়েছে, ‘এর অস্বীকারকারীকে বিশুদ্ধতম মতে কাফের বলা যাবে না বরং গোমরাহ বলা হবে। কিন্তু ইমাম জাসসাস এর মতে মাশহুরের অস্বীকারকারীকে কাফের বলা হবে, কারণ তাঁর মতে মাশহুর মুতাওয়াতিরের মতই ইলমুল ইয়াকিন এর ফায়েদা দেয়।

উপরোক্ত এই বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ, ইমাম জাসসাসমাশহুরযা তার পরিভাষায়মুতাওয়াতিরের দ্বিতীয় প্রকার-এর অস্বীকারকারীকে কাফের বলেননি। বরং তিনি মুতাওয়াতিরের প্রথম প্রকার যা অন্যদের মতে একমাত্র মুতাওয়াতির সেটির অস্বীকারকারীকে কাফের বলেছেন। এছাড়াও তিনি তো ইমাম ঈসা ইবনু আবান রাহ. এর উদ্ধৃতিতে খবরে মাশহুরের একাধিক প্রকার বয়ান করেছেন, এর অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে তাফসীলী হুকুম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তা সমর্থন করেছেন। কিন্তু এর কোনো এক প্রকারের অস্বীকারকারীকেও তিনি কাফের বলে আখ্যায়িত করেননি। দেখুন: আলফুসুল ফিল উসূল /৪৮-৪৯।

সুতরাং সর্বসম্মতিক্রমেই খবরে মাশহুরের অস্বীকারকারীকে কাফের বলা হয় না। বিষয়টি অনেকেই তাম্বীহ করেছেন। দেখুন: উসূলুস সারাখসী /২৯২ কাশফুল আসরার, আলাউদ্দীন বুখারী; আততাহরীর মাআ শারহিহি, ইবনুল হুমাম; তাওজীহুন নজর, তাহের জাযায়িরী /১১৪।

এখানে মূলত পরবর্তী মুসান্নিফগণ খবরের যে প্রকারটিকেমশহুরনামে আখ্যায়িত করেছেন সেটিকে জাস্সাস রাহ. মুতাওয়াতিরের দ্বিতীয় প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন। কেবল জন্য যে, এই প্রকারটি তাঁর মতেইলমুল ইয়াকীনএর ফায়েদা দেয়। যদিওইলমুল ইজতেরারীপর্যায়ের নয় যার অস্বীকারকারীকে কাফের বলা যায়। বরং ইলমুল ইয়াকীনইস্তেদলালী নযরীএর পর্যায়ের। দেখুন: আল ফুসুল ফিল উসূল /৩৭,৪৮।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন - জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

() সায়্যেদ মুহাম্মাদ মিয়াঁ সাহেব রাহ. রচিত তারীখুল ইসলাম কিতাবের প্রথম খন্ডেপয়দায়েশ মোবারকঅধ্যায়ে আরবী ইংরেজি সনের সাথে যে সনটার উল্লেখ আছে, সেটা কি প্রচলিত বাংলা সন নাকি অন্য কোনো সন?

() আহলে হাদিস কারা? তাদের ইতিহাস জানার জন্য কোন কোন কিতাব মুতালাআয় রাখতে পারি?

() ‘বাহরে শরীয়তনামে কোনো কিতাব সম্পর্কে আপনার জানা আছে

কি না?


উত্তর

() এখানে হিজরী ঈসায়ী সনের পাশাপাশি (৬২৮ বিক্রমী) যে সনটির কথা উল্লেখ রয়েছে তা প্রচলিত বাংলা সন নয়। এটি ভারতীয় রাজা বিক্রমাদিত্য কর্তৃক অব্দ বিশেষ। এটি উত্তর ভারতের একটি বহুল প্রচলিত অব্দ এবং নেপালের জাতীয় অব্দ। এর আরম্ভ হয় ৫৮ (আটান্ন) ঈসায়ী পূর্বাব্দে এর বাংলা উচ্চারণ বিক্রমসংবৎ। (সূত্র: উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট সংস্করণ, শিশু-বিশ্বকোষ. বাংলাদেশ শিশু একাডেমী)

যা হোক, ঈসায়ী সনের সঙ্গে বিক্রমসংবৎ সনের ব্যবধান ৫৮ বৎসর। সুতরাং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম সন যদি ৫৭০ ঈসায়ী সন হয় তবে বিক্রমসংবৎ সন হবে ৬২৮।

() আহলে হাদীস এটি মূলত ইসলামী উপাধী। হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ আলেমদেরকে আহলে হাদীস বলা হয়। এর সমার্থ উপাধি হলো মুহাদ্দিস। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো হিন্দুস্তানে নবউদ্ভূত একটি মাকতাবে ফিক্র যারা ফিকর ফিকহের ক্ষেত্রে কিছু শায মুনকার বিষয়ের অনুসরণ করে থাকেন, তারা এই ইলমী উপাধিকে নিজেদের নাম হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। যদিও তারা সাধারণভাবে লা-মাযহাবী বা গায়রে মুকাল্লিদ নামে সর্বাধিক পরিচিত। বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে :

. মাজমূআতুর রাসায়েল, মাওলানা আমীন সফদার /১৭৭-২৫৩

.তাহকীকে আহলে হাদীস, মাওলানা হাবীবুর রহমান আজমী।

. মারকাযুদ দাওয়াহ থেকে প্রকাশিতআহলে হাদীস সে যুগে যুগেপুস্তিকাটি দেখতে পারেন।

() ‘বাহরে শরীয়তনামে বেরলবীদের (রেজাখানীদের) একটি ফতোয়ার কিতাব রয়েছে। এর মুসান্নিফ আমজাদ আলী খোদা বখশ (মৃত্যু ১৩৬৮ হি.)

শেয়ার লিংক

রিদওয়ান - উত্তরা, ঢাকা

প্রশ্ন

অনেকদিন আগের কথা। তখন উত্তরায় এক কওমী মসাদরাসায় পড়াশুনা করি। আমাদেরকে একজন উস্তায একদিন আসবাবে ইলমের তাযীম সম্পর্কে কিছু আলোচনা করেন। সেখানে তিনি সর্বাগ্রে কলমের প্রসঙ্গে কথা বলেন। এরপর থেকে আমি আসবাবে ইলমের বিশেষ করে কলমের আদব রক্ষার চেষ্টা করি। আর কলম শেষ হয়ে গেলে তা না ফেলে জমানো শুরু করি। এর সাথে সাথে মিসওয়াক আর কাগজের টুকরার ক্ষেত্রেও নীতি অবলম্বন করি। কিন্তু এগুলো এখন জমতে জমতে অনেক বেশি হয়ে গেছে। কলম প্রায় এক বক্স। কাগজ মিসওয়াকেরও একই অবস্থা। এগুলো এখন কোথাও রেখে শান্তি পাচ্ছি না। তাই এখন কী করতে পারি? জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

মাশাআল্লাহ। ইলমের আদব রক্ষার জন্য আল্লাহ তাআলা আপনার ইলম  আমলে বরকত নসীবকরুন। আপনার জমানো কাগজের টুকরোগুলোর যদি কোনো প্রয়োজন না থাকে তবে সেগুলোআগুনে জ্বালিয়ে দিতে পারেন। আর ব্যবহৃত কলম  মেসওয়াকগুলো মাটির নিচে দাফন করতেপারেন। ইচ্ছে করলে কলমগুলো কোনো ভাংগারির দোকানে বিক্রি করতে পারেন যদি তারা তা ক্রয়করেন।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement