মুহাম্মাদ আহমদুল্লাহ - মাদানী নগর, ঢাকা-১৩৬১

প্রশ্ন

 প্রশ্ন : ক) আমি এ বছর শরহে বেকায়া জামাতে অধ্যয়নরত। ইদানীং লক্ষ্য করেছি, আমার কিছু ছাত্র ভাই হাদীস মুখস্থ করছে। তাই আমি যাদুত তালেবীন কিতাবটির হাদীসসমূহ মুখস্থ করতে চাচ্ছি। আমি কি এ কিতাবের হাদীস মুখস্থ করব, না অন্য কোনো কিতাব থেকে মুখস্থ করব? আর সহজ কিছু হাদীসের কিতাবের নাম জানিয়ে উপকৃত করবেন। প্রশ্ন : খ) হাদীস মুখস্থ করার সহজ নিয়ম ও এ সময় লক্ষ্যণীয় বিষয়সমূহ জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

উত্তর : ক ও খ) আপনি শায়খ মুহিউদ্দীন মুহাম্মাদ আওয়ামার পুস্তিকা মিন সিহাহিল আহাদীসিল কিসার দ্বারা হিফয শুরু করুন। এই কিতাবটি মাকতাবাতুল আশরাফ, বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে অনুবাদসহ প্রকাশিত হয়েছে। এর শুরুতে বান্দার একটি দীর্ঘ ভূমিকা আছে। আশা করি, তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তারিফুজ্জামান - জামিয়া মুহিউসসুন্নাহ মাদরাসা বাঘারপাড়া, যশোর

প্রশ্ন

 

মুহতারাম মুহাদ্দিস সাহেব হজুর দামাত বারাকাতুহুম। আশা করি, আপনি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন এবং আমিও আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে ভালো আছি। হুজুরের নিকট নিম্নলিখিত প্রশ্নের সমাধান দেওয়ার বিনীত আবেদন রইল।

প্রশ্ন : ক) হযরত আশরাফ আলী থানভী রাহ. তাঁর তালীম-তরবিয়তের তরীকা নামক কিতাবে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজকাল তালীমের জন্য তো লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা হয় এবং এজন্য বহু সময়ও ব্যয় করা হয়, কিন্তু সোহবতে সালেহর জন্য কেউ একটি মাসও দেয় না। তাই জানার বিষয় হল, ছাত্রজীবনে আল্লাহ ওয়ালাদের কাছে মুরীদ হওয়া কি জরুরি? 

প্রশ্ন : খ)  হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রাহ.-এর জীবনী সম্পর্কে জানতে হলে সঠিক তথ্যনির্ভর কোন কিতাব অধ্যয়ন করতে পারি?  


 

উত্তর

 

এতটুকু ইহসান তো করেছেন যে, আপনি শুধু মুহাদ্দিস লিখেছেন, মুফতী লেখেননি। প্রিয় ভাই! উপাধি প্রয়োগের বিষয়ে আমাদের সাবধান হওয়া জরুরি। বাস্তবেই যিনি কোনো উপাধির যোগ্য তাকেও যদি ঐ উপাধি দ্বারা সম্বোধন না করা হয় তাহলেও তো ক্ষতি নেই। তাই ভারী উপাধিগুলো খুব কম ব্যবহার করা উচিত। 

আমার এমনিতেও উপাধি পছন্দ নয়, বিশেষত মুফতীর মতো ভারী ও দায়িত্বপূর্ণ উপাধি। কেউ যদি সুধারণার কারণে আমাকে এসব উপাধির যোগ্যও মনে করেন তবু কি আমার অপছন্দের দিকটি সদয় বিবেচনা করে আমার সম্পর্কে এসব উপাধি প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে পারেন না? আল্লাহ তাআলা এমন লোকদেরকে আমার পক্ষ থেকে জাযায়ে খায়র দান করুন। আমীন।  

আপনার প্রশ্নের সমাধান নিচে দেওয়া হল।

ক) আপনি হযরত থানভী রাহ.-এর যে কথা উদ্ধৃত করেছেন তাতে তো মুরীদ হওয়ার কথা নেই, আছে সোহবতের কথা। আপনি এখন থেকেই তালীমী মুরববীর পরামর্শক্রমে কোনো মুত্তাবিয়ে সুন্নত মুসলিহের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন এবং মাঝে মাঝে তার সোহবতে বসুন, তার কাছে যান। অন্যথায় নিজ তালীমী মুরববীর সোহবতেই প্রতিদিন পাঁচ মিনিট হলেও সময় কাটাতে থাকুন।  

খ) হযরত আবুল হাসান নদভী রাহ.-এর কিতাব তারীখে দাওয়াত ওয়া আযীমত ও হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ.-এর আসসুন্নাতুল জালিয়্যাহ ফিল চিশতিয়্যাতিল আলিয়্যাহ কিতাব দুটি অধ্যয়ন করুন। দ্বিতীয় কিতাবটি জীবনী-গ্রন্থ নয়, তবে অতি উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।

আপনি অন্য একটি চিঠিতে তাফসীরে তাওযীহুল কুরআনের মাকাম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। জানি না, আপনি কিতাবের শুরুতে হযরত মুসান্নিফের ভূমিকাটি পড়েছেন কি না। প্রথম ও তৃতীয় খন্ডে আরো কয়েকটি ভূমিকা আছে। ঐ ভূমিকাগুলো পড়ে নিলে সম্ভবত এই প্রশ্ন জাগত না। 

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহমুদ হাসান - বড় মসজিদ, মোমেনশাহী

প্রশ্ন

আমি এ বছর শরহে বেকায়া জামাতে ভর্তি হয়েছি। ইতিপূর্বে কখনো কোনো কিতাবের কোনো শরাহ সংগ্রহ করিনি। বেশি প্রয়োজন হলে অন্যেরটা দেখে নিতাম। কিন্তু এ বছর অন্যদের দেখে আমি ভাবলাম কিছু শরাহ কেনা দরকার। এজন্য বড় ভাইদের থেকে শরাহর নামও জেনে নিয়েছি। এরপর অপর এক ভাইয়ের কাছে বিষয়টা জানালে তিনি পরামর্শ দিলেন, দরস ও তাকরারের পর যে সময়টুকু পাওয়া যায় তাতে মূল কিতাব পড়ে শরাহ দেখার সময় কোথায়? তার কথা শুনে শরাহ আর কেনা হয়নি। এখন আমি শরাহ কেনার বিষয়ে কোন দিক অবলম্বন করব। আর যদি কিনতে হয় তাহলে কোন কিতাবের কোন শরাহ বেশি উপযোগী হবে, জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

এখন পড়ার সময় নেই-এ কথা ভেবে কোনো কিতাব সংগ্রহ করা থেকে বিরত থাকা অনুচিত। এখন সময় না থাকলেও পরে সময় হবে। তাছাড়া পুরো কিতাব পড়ার সুযোগ না হলেও প্রয়োজনের সময় তা থেকে সহযোগিতা নেওয়া যাবে কিংবা আল্লাহর অন্য কোনো বান্দার কাজে আসতে পারে। ভবিষ্যত বংশধরদের মাঝে এ কিতাবের পাঠক তৈরি হতে পারে। এজন্য আল্লাহ তাআলা যাকে কিতাব সংগ্রহের সামর্থ্য দিয়েছেন তার এ থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। 

শরহে বেকায়ার জন্য আসসিআয়াহ, আলইযাহ, ফাতহু বাবিল ইনায়াহ ও জামিউর রুমূয সংগ্রহ করতে পারেন। আর সহযোগী হিসেবে আলফিকহুল হানাফী ফী ছাওবিহিল জাদীদ ও আলহাদী ইলা আহাদীসিল আহকাম কিংবা জামিউ আহাদীসিল আহকাম (ইলাউস সুনানের মতন)ও সংগ্রহে রাখতে পারেন। 

আপনার মাদরাসায় শরহে বেকায়া জামাতে আর কী কী কিতাব আছে জানালে আরো কিছু পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ মাসুম - জামিয়া ফয়জুর রহমান রাহ. বড় মসজিদ, মোমেনশাহী

প্রশ্ন

নুসূস হিফযের প্রতি আমার বেশ আগ্রহ অনেক আগে থেকেই। কুরআন তরজমা পড়ার সময় বিষয়ভিত্তিক আয়াত একত্র করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে সুন্দর সুন্দর অনেক সংকলন আছে জানতে পেরে তা আর করা হয়নি।

এখন আমি এমন একটি আরবী সংকলনের প্রয়োজন অনুভব করছি, যার মধ্যে পূর্ণ কুরআন মজীদকে আলোচনাভিত্তিক পৃথক শিরোনামে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ সংকলন করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।


উত্তর

আপনি একটি নেক কাজের ইচ্ছা করার পরও অন্যের কথায় কেন তা থেকে ফিরে এলেন? আপনি কি তালীমী মুরববীর সাথে পরামর্শ করেছিলেন? আপনার এ প্রশ্ন তো তার কাছেই করা উচিত যিনি আপনাকে বলেছেন যে, এ বিষয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর সংকলন মজুদ আছে! তার থেকে কোনো উত্তর পাওয়া পর্যন্ত আমার দরখাস্ত এই যে, আপনি মিন সিহাহিল আহাদীসিল কিসার লিননাশিআতিস সিগার-এর বাংলা অনুবাদের ভূমিকায় উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করতে থাকুন। এরপর কোনো সময় আমাকে জানান যে, আপনার কাজ কতটা অগ্রসর হয়েছে এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন ভাষা ও বিভিন্ন যুগে সংকলিত কতগুলো কিতাবের নাম আপনি জানতে পেরেছেন।

শেয়ার লিংক

ইবনে সাইর - জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মাদপুর, ঢাকা-১২০৭

প্রশ্ন

ক) আগামী কিছু দিনের মধ্যে কুতুবে সিত্তাহর শুরূহাত সংগ্রহের ইচ্ছা করেছি। কিন্তু আমার নিকট নির্ভরযোগ্য শুরূহাতের কোনো তালিকা নেই। তাছাড়া শরহু মাআনিল আসারের মতো হাদীসের যে সকল কিতাবে মাসআলার সাথে সাথে হানাফী মাযহাবের দলীল-প্রমাণাদি উদ্ধৃত হয়েছে তারও একটি তালিকা হলে সংগ্রহ করা সহজ হবে।

প্রশ্ন : খ) আমরা আপনার যবানে ও কলমে অনেকবার শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. (মৃত্যু ১৪১৭ হি.)-এর কথা শুনেছি। আমার দিলের তামান্না, শায়খ রাহ.-এর জীবনী (বিশেষত পাকিস্তানে অবস্থানকালীন তিন মাসের আলোচনা) ধারাবাহিকভাবে প্রিয় মাজাল্লাহ মাসিক আলকাউসারে প্রকাশ হোক।


 

উত্তর

ক) ১৪২৬ হি. মোতাবেক ২০০৫ ঈ. বর্ষের বিভিন্ন সংখ্যায় কয়েকবার এ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ শরাহসমূহের তালিকা দেওয়া হয়েছে। আর ফিকহে হানাফীর দলিল-প্রমাণ সম্বলিত অনেক কিতাবের নাম আলমাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ (পৃষ্ঠা : ১৪০-১৪১)

طريقة قريبة لمعرفة الصحيح والضعيف في الجملة

 শিরোনামের অধীনে উল্লেখ হয়েছে। আপনি তা দেখে নিন। ইমাম আবু বকর জাসসাসের কিতাব শরহু মুখতাসারিত তহাবী এখন ৮ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তা সংগ্রহ করুন ও মনোযোগ দিয়ে মুতাআলা করুন।

খ) আরো কয়েক বন্ধুও এই আবেদন করেছেন। কিছুটা বিলম্ব হলেও আমরা তা পালনের চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।  

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক -

প্রশ্ন

আমি ফতোয়া, তাফসীর ও তারীখের কিছু কিতাব কিনতে ইচ্ছুক। তাই কোন কিতাবগুলো কিনলে ভালো হবে এবং বুঝতে সহজ হবে জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

এই প্রশ্নের সাথে আপনার নাম, ঠিকানা, কোন জামাতে পড়ছেন এবং আপনার ইসতিদাদ কেমন ইত্যাদি সবকিছু জানানো প্রয়োজন ছিল। তাহলে সে হিসেবে আপনার উপযোগী কিতাব নির্বাচন করা যেত। এখন সংক্ষেপে তিনটি কথাই বলতে পারি :

১. আপনার তালীমী মুরববীর সাথে পরামর্শ করুন।

২. কোনো ইলমী কুতুবখানা বা কোনো বড় ব্যবসায়িক কুতুবখানায় চলে যান। সংশ্লিষ্ট ফনের নতুন তাহকীককৃত কয়েকটি কিতাবের তথ্যপঞ্জি/মাসাদির-মারাজি দেখে সেখান থেকে একটি তালিকা আপনি নিজেও প্রস্ত্তত করে নিতে পারেন। এরপর ঐসব কিতাব খুঁজে ভূমিকা, সূচি ও বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু কিছু মুতালাআ করে কিতাবটি সম্পর্কে অনুমান করার চেষ্টা করুন। এভাবে কয়েকটি কিতাব নির্বাচন করে মুতালাআ করুন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফীক দান করুন।

তবে ফাতাওয়ার কিতাবাদি সম্পর্কে সচেতন তালিবে ইলমের কুতুবখানায় নিম্নোক্ত কিতাবগুলো থাকা উচিত।

১. রদ্দুল মুহতার (সম্ভব হলে শায়খ হুসামুদ্দীন ইবনে মুহাম্মাদ সালেহ ফুরফুরের তাহকীককৃত কিতাব)

২. ফাতাওয়া তাতারখানিয়া (পূর্ণাঙ্গ এডিশন, মাওলানা শাববীর আহমদের তাহকীককৃত)

৩. আলমুহীতুল বুরহানী (২৫ খন্ডে প্রকাশিত ও ইদারাতুল কুরআন থেকে তাহকীককৃত)

৪. আলমুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা (খায়রুল কুরূনের ফকীগণের ফতোয়া জানার জন্য)

৫. আলআওসাত, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনযির (ফুকাহায়ে সালাফ ও আইম্মায়ে আরবাআর ফতোয়া জানার জন্য)

৬. আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আলকুয়াইতিয়্যাহ (৪৫ খন্ডে প্রকাশিত। ফিকহুল মুকারান সম্পর্কিত একটি সহজ মওসূআ)

৭. ফিকহুন নাওয়াযিল (আধুনিক মাসআলার জন্য)। সংকলন ও বিন্যাস : মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন জিযানী। এ কিতাবে বিভিন্ন দেশের ফিকহ বোর্ডের সিদ্ধান্ত সংকলন করা হয়েছে।

৮. জাদীদ ফিকহী মাবাহিছ, মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম কাসেমী

৯. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের কিতাবসমূহ

১০. ফাতাওয়া উসমানী, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী

১১. কিফায়াতুল মুফতী (তাখরীজকৃত সংস্করণ)

১২. ফাতাওয়া রহীমিয়া (তাখরীজকৃত সংস্করণ)

১৩. আহসানুল ফাতাওয়া, মুফতী রশীদ আহমদ লুধিয়ানভী রাহ.।

তবে যেসব মাসআলায় হযরত মুফতী ছাহেব এককভাবে ভিন্ন কোনো ফয়সালা দিয়েছেন সেসব মাসআলা সম্পর্কে মুফতীগণের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।

তাফসীরের আরবী কিতাবসমূহের মধ্য থেকে ৫টি কিতাব দিয়ে কুতুবখানা শুরু করুন, যে পাঁচটি কিতাব হযরত উস্তাদ মুহতারাম উলূমুল কুরআন-এ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

উর্দু তাফসীরের জন্য বয়ানুল কুরআন, মাআরিফুল কুরআন, তাফসীরে উসমানী ও তাওযীহুল কুরআন সংগ্রহ করুন।

তারীখের কিতাবের জন্য আলবিদায়াহ ওয়ান নিহায়া, শাযারাতুয যাহাব, আলী মুহাম্মাদ ছাল্লাবীর কিতাবসমূহ, দারুল মুসান্নিফীন আযমগড়ের কিতাবসমূহ।

তবে প্রথমে মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর কিতাবসমূহ ও হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের কিতাবসমূহ সংগ্রহ করুন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমদাদুল্লাহ - তাকমীল, জামিয়া ইসলামিয়া, পটিয়া

প্রশ্ন

ইমাম বুখারী রাহ. থেকে সহীহ বুখারী রেওয়ায়েতকারী তাঁর একজন বিশেষ শাগরিদ হলেন হাম্মাদ ইবনে শাকের রাহ.। ইরশাদুস সারী (১/৩৯) ও ফাতহুল বারী (১/৫)-এর নুসখায় তার নিসবত النسوي   ওয়াও-এর সাথে বলা হয়েছে। কিন্তু সিয়ারু আলামিন নুবালায় (৫/১৫) তা আছে ফা-এর সাথে। অর্থাৎ আননাসাফী।

শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. তাহকীকু ইসমাইস সহীহাইন পুস্তিকায় (পৃ. ১৫, টীকা : ৩) বলেছেন, আননাসাফী ফা-এর সাথে তাহরীফ। কিন্তু আল্লামা যাহিদ কাওছারী রাহ. ‘‘শুরূতুল আইম্মাতিল খামসাহ লিল হাযিমী’’র টীকায় (পৃ. ১৫৩) হাম্মাদ ইবনে শাকির আননাসাফী (ফা-এর সাথে) উল্লেখ করার পর বলেছেন-

وهو الصواب এখানে শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. বলেন, তাঁর মন্তব্য-وهو الصواب ইঙ্গিত করে যে, হাম্মাদের নিসবতের ক্ষেত্রে আননাসাফী-ই সঠিক। আননাসাভী (ওয়াও-এর সাথে) সঠিক নয়, যেমন ফাতহুল বারী ও ইরশাদুস সারীতে রয়েছে।

আমার প্রশ্ন এই যে, শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর দুই মন্তব্যের কোনটি সঠিক। হুজুরের নিকট সমাধান কামনা করছি। আল্লাহ হুজুরকে দীর্ঘ হায়াতে তাইয়্যিবাহ দান করে আমাদেরকে উপকৃত করুন। আমীন।

 

উত্তর

হাম্মাদ ইবনে শাকির রাহ. নাসাফের অধিবাসী ছিলেন। তারীখু নাসাফ কিতাবে তাঁর তরজমা আছে। শামসুদ্দীন যাহাবী রাহ. তারীখু নাসাফের বরাতে সিয়ারু আলামিন নুবালায় তাঁর তরজমা লিখেছেন। তাঁর মৃত্যু-সনও সুনির্দিষ্ট করে বলেছেন। সম্ভবত হাফেয ইবনে হাজার রাহ.-এর সামনে তাঁর বিস্তারিত তরজমা ছিল না। তাই তাঁর মৃত্যু-সন সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে পারেননি। যাইহোক, হাম্মাদ ইবনে শাকির রাহ.-এর সহীহ নিসবত আননাসাফী (ফা-এর সাথে)।

শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. তাহকীকু ইসমাইস সহীহাইনের যে নুসখা আরো সম্পাদনা ও টীকা সংযোজনের জন্য নিজের কাছে রেখেছিলেন, তাতে এ বিষয়টি সংশোধন করেছিলেন। ঐ সময় বান্দা হযরত শায়খের খেদমতে ছিলাম।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফাহীম - চান্দগাও, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

 

 

প্রশ্ন : ...। 

 


 

উত্তর

 

آمين، ولك مثل ذلك

আপনার চিঠিতে দুটি প্রশ্ন আছে। প্রথম প্রশ্নে আপনি সম্ভবত আলিয়া মাদরাসায় পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন। এটা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আর সাধারণত যে সকল প্রেরণা থেকে এ কাজ করা হয় তা খুবই নিন্দনীয় ও মারাত্মক। এগুলো থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য। 

এ সম্পর্কে আরো কিছু জানার থাকলে জুমাবার ছাড়া অন্য কোনো দিন বেলা এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে এই নাম্বারে ফোন করতে পারেন-০১৭১২-৮৪১৮৪৭। 

দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল পত্রিকা পড়া সম্পর্কে। সম্ভবত দৈনিক পত্রিকা ও সাধারণ ম্যাগাজিন বোঝাতে চেয়েছেন। তালিবে ইলমীর যমানায় এইসব থেকে দূরে থাকা ফরয এবং নিঃসন্দেহে ফরয। এ জাতীয় পত্রিকা পড়ার কুফল সম্পর্কে শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রাহ.-এর আপবীতীর আলোচনাটি পাঠ করুন।

ইলমী ইসতিদাদ পয়দা হওয়ার জন্য ইনহিমাক ও একাগ্রতার কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখবেন, ইনহিমাক, ইখলাস ও ইসতিখলাস ছাড়া তালিবে ইলম তো দূরের কথা,ছাত্রও হওয়া যায় না।

যারা বিভিন্ন যুক্তি ও উপযোগিতার ছূতায় এ জাতীয় পত্র-পত্রিকায় লিপ্ত হয় তাদের কর্তব্য, নিজের তালীমী মুরববীর সাথে পরামর্শ করা। এখানে প্রয়োজনীয় কিছু থাকলে তা অর্জনের এমন কোনো উপায় তাঁরা বলে দেবেন, যা তালিবে ইলমের একাগ্রতা নষ্ট করবে না। 

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলী আকবর - জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা, ছোটবন গ্রাম, রাজশাহী

প্রশ্ন

মুহতারাম! আপনি কেমন আছেন? আমার বিশ্বাস আল্লাহ তাআলার অপার অনুগ্রহে নিশ্চয়ই ভালো আছেন। কারণ যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা তালিবানে ইলমের মুজাদ্দিদানা খেদমত নিচ্ছেন তাকে কি তিনি অশান্তিতে রাখতে পারেন। আমার খুব ইচ্ছা, আপনার কাছ থেকে কিছু পরামর্শ ও নির্দেশনা নিব। তাই নিবেদন করছি।

ক) হুজুর, আমি জামাতে শরহে বেকায়াতে পড়ি। আমাদের নেসাবে আছে যথাক্রমে : কুরআন তরজমা (১-১৫), শরহে বেকায়া, মুয়াত্তা, মুখতাসারুল মাআনী, নূরুল আনওয়ার (কিতাবুল্লাহ), সিরাজী, মাকামাতে হারীরী ও আত তরীক ইলাল ইনশা (১-৩)। এ কিতাবগুলো কোন সময় ও কীভাবে মুতালাআ করলে ভালো হবে এবং সহায়ক হিসেবে কী কী শরাহ মুতালাআ করা যায় জানতে চাই।

খ) আমি আরবী শরাহ মুতালাআ করতে ইচ্ছুক। উল্লেখিত কিতাবগুলোর কী কী আরবী শরাহ মুতালাআ করা যেতে পারে। জানালে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।


উত্তর

اللهم ما أمسى بي من نعمة أو بأحد من خلقك فمنك وحدك لا شريك لك فلك الحمد ولك الشكر جزاك الله تعالى خيرا.

আল্লাহ তাআলা আপনার সুধারণা কবুল করুন।

আপনার প্রথম প্রশ্ন ছিল, নেসাবের কিতাবগুলো কীভাবে ও কোন সময় পড়বেন। এটা তো আসলে মাদরাসার নিয়মের বিষয়। মাদরাসার নেযামুল আওকাত অনুযায়ী মুতালাআ ও তাকরার করবেন।

যদি প্রশ্ন হয় নাশাত ও উদ্যমের সময় কোন কিতাব পড়া চাই, তাহলে মূলনীতি এই যে, সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ কিতাব ঐ সময় পড়া চাই, যখন মন-মস্তিষ্ক প্রফুল্ল থাকে এবং উদ্যম ও আগ্রহ পরিপূর্ণ থাকে। যেমন প্রথমে তারজামাতু মাআনিল কুরআনিল কারীম, এরপর মুখতাসারুল মাআনী, এরপর শরহে বিকায়া ...।

আর কীভাবে মুতালাআ করব-এটা একটা অস্পষ্ট প্রশ্ন। তবে বেশ প্রচলিত। প্রশ্ন অস্পষ্ট হলে উত্তরও তো অস্পষ্টই হবে। যাই হোক, এ বিষয়ে সাধারণ কিছু কথা আরজ করছি।

১. যা কিছু পড়ুন, বুঝে পড়ুন। অন্তত বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন। যে কিতাবে অনুশীলন জরুরি, তাতে গুরুত্বের সাথে অনুশীলন করুন। যেমন আততরীক ইলাল ইনশা কিতাবটি অনুশীলন ছাড়া পড়লে কি কোনো ফায়েদা হবে, তা যত বারই পড়া হোক? ইনশার জন্য এখন নতুন নতুন কিতাব এসেছে। সেগুলোর সহযোগিতা নিতেও কোনো বাধা নেই।

২. নিজের সাথে বা কোনো সহপাঠীর সাথে আলোচনা করুন যে, ইবারতের যে তরজমা করলেন তা কীভাবে করলেন। তরজমাটি কি ইবারতের সাথে মিলাতে পারেন, না শুধু অনুমান করে তরজমা করেছেন?

৩. যা বুঝলেন তা মাঝে মাঝে উস্তাদকে শুনিয়ে দেখুন, ঠিক বুঝলেন, না ভুল; পুরা বুঝলেন, না অর্ধেক।

৪. যে ইবারতের অর্থ বুঝে আসেনি,

চিন্তা করুন, কেন বুঝে আসেনি-

ক) কোনো শব্দের অর্থ না জানার কারণে? তাহলে গরীবুল ফিকহ (লোগাতুল ফিকহ)-এর কোনো কিতাব কিংবা কোনো সাধারণ ও নির্ভরযোগ্য লোগাতের কিতাবের সহায়তা নিন।

খ) তারকীব না বোঝার কারণে? তাহলে বার বার চিন্তা করুন। কারো সাথে আলোচনা করুন। কিংবা নাহব-সরফের কিতাবের সহায়তা নিন।

গ) কিতাবের আলোচনা-ভঙ্গির সাথে পরিচিত না হওয়ার কারণে? তাহলে বারবার মুতালাআ করে কিতাবের সাথে উন্স ও ভাব পয়দা করুন।

ঘ) বিষয়টি জটিল হওয়ার কারণে? তাহলে নির্ভরযোগ্য কোনো শরাহর সহায়তা নিন এবং সবশেষে উস্তাদের শরণাপন্ন হোন।

ঙ) ফনটি আপনার জন্য নতুন হওয়ার কারণে? তাহলে প্রথমেই চিন্তা করুন, ফনটি যদি জরুরি হয় তাহলে এর সাথে পরিচয় না থাকা কত লজ্জার কথা! সুতরাং তালীমী মুরববীর মশোয়ারা অনুযায়ী ঐ ফনের কোনো সহজ ও আকর্ষণীয় কিতাব পাঠ করুন এবং ফনটির সুফল ও প্রয়োজন চিন্তা করে তার সাথে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি করুন।

চ) না বোঝার কারণ কি কিতাবী ইসতিদাদের দুর্বলতা? তাহলে ধীরে ধীরে এই দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করুন। এর জন্য কোনো প্রাজ্ঞ ও স্নেহশীল উস্তাদের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী মেহনত করতে হবে এবং মেহনত জারি রাখতে হবে। হিম্মত হারানো যাবে না। মেহনত ও দুআ এবং তাকওয়া ও ইনাবত ইলাল্লাহ জারি থাকলে মাহরূম হওয়ার কারণ নেই।

والذين جهدوا فينا لنهدينهم سبلنا، وان الله لمع المحسنين

প্রথম প্রশ্নের দ্বিতীয় কথা ছিল, ঐ সকল কিতাবের সহায়ক হিসেবে কী কী শরাহ মুতালাআ করা যায়।

তরজমাতু মাআনিল কুরআনিল কারীমের জন্য আততরীক ইলাল কুরআনিল কারীমের তিন হিস্যা মুতালাআ করে বোঝার চেষ্টা করুন। এই দরসে আপনাকে কোন কোন বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি হযরতুল উস্তাযের তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন, অনুবাদ : হযরত মাওলানা আবুল বাশার ছাহেব, নিয়মিত মুতালাআয় রাখুন। শরহে বেকায়া ও অন্যান্য কিতাবের জন্য কিতাবের সাথে যুক্ত আরবী হাশিয়াই যথেষ্ট। প্রথমে সরাসরি কিতাব হল করার চেষ্টা করুন। খুব প্রয়োজন হলে হাশিয়ার সহায়তা নিন। কিতাব হল হয়ে যাওয়ার পর যদি সময় থাকে তাহলে আরো জানার জন্য, কোনো গলতির ইসলাহের জন্য, কিংবা কোনো অস্পষ্ট বিষয় পুরাপুরি বোঝার জন্য শুরূহ ও হাওয়াশীর সহায়তা নিন।

শুরূহ ও হাওয়াশীর মুতালাআ সঠিক উদ্দেশ্যে হওয়া চাই। শুধু রসম হিসেবে কিংবা ইসতিদাদের কমতি পুরা করার জন্য না হওয়া চাই। অর্থাৎ যে কিতাব পড়ার জন্য যে পরিমাণ ইসতিদাদ জরুরি তা হাসিল না করেই কিতাব শুরু করা হল এবং ইসতিদাদের কমতি শুরূহ-হাওয়াশী; বরং বাংলা তরজমা ও নোটবই দ্বারা পূরণ করার চেষ্টা করা হল! মনে রাখবেন, এটা একটা ব্যর্থ চেষ্টা। এজন্য প্রত্যেক তালিবে ইলম ভাইয়ের কাছে আমার দরখাস্ত, প্রথম জামাত থেকেই মেহনত করে পড়ুন এবং প্রথম থেকেই নিজের সম্পর্কে দায়িত্বশীল হোন।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, নেসাবী কিতাবসমূহের আরবী শরহ মুতালাআ করতে  চান। জানতে চাচ্ছেন, কোন কিতাবের মুনাসিব আরবী শরহ কোনটি।

আরবী শরাহর প্রতি আপনার আগ্রহ মোবারকবাদ পাওয়ার যোগ্য। একজন তালিবে ইলমের কুতুবখানায় সাধ্য অনুযায়ী শুরূহ ও হাওয়াশী থাকা উচিত। তবে সেসবের মুতালাআ নেযাম অনুযায়ী হতে হবে। যেন তালাবুল কুল্ল ফওতুল কুল্ল এর দৃষ্টান্ত স্থাপিত না হয়। কিংবা আলআহাম ফালআহাম নীতির বিপরীত না হয়।

তরজমাতু মাআনিল কুরআনিল কারীম-এর জন্য রাগিব আসফাহানীর মুফরাদাতুল কুরআনতাইসীরুল কারীমিল মান্নান, বা আইসারুত তাফাসীর, কিংবা তাফসীরে ইবনে কাছীর সংগ্রহ করতে পারেন।

শরহে বেকায়া সম্পর্কে ইতিপূর্বে লেখা হয়েছে।

মুখতাসারুল মাআনীর ক্ষেত্রে কিতাব হল করার মাকসাদ তাজরীদ দ্বারা হাসিল হতে পারে। আর ফন্নী বহসগুলোর জন্য তালখীসূল মিফতাহ-এর ফন্নী শুরূহ এবং মাআনী-বয়ানের ফন্নী কিতাবসমূহ সংগ্রহ করতে হবে। এর একটি তালিকা আপনি নিজে প্রস্ত্তত করে কোনো সময় দেখিয়ে নিতে পারেন।

নূরুল আনোয়ারের জন্য কাশফুল আসরার (আলমানারের উপর খোদ মুসান্নাফের শরহ) সংগ্রহ করুন এবং উসূলে ফিকহের নতুন পুরাতন যত কিতাব পান সংগ্রহ করুন। জাসসাস রাহ.-এর আলফুসূল, সারাখসী-এর উসূল ও আলাউদ্দীন বুখারী রাহ.-এর কাশফুল আসরার শরহ উসূলিল বাযদভী ইত্যাদি আগে থেকেই মুদ্রিত আছে। আর এখন তো মাশাআল্লাহ আরো অনেক প্রাচীন কিতাব মুদ্রিত হয়েছে এবং নতুন নতুন অনেক কিতাব ছাপা হয়ে আসছে।

সিরাজীর জন্য আমাদের উস্তাদগণ হাশিয়ায়ে শরীফিয়্যাহ পাশে রাখার পরামর্শ দিতেন। এখন নতুন প্রেক্ষাপটে ফিকহুল মাওয়ারীছের নতুন কিতাবাদিও সংগ্রহ করা জরুরি। তাছাড়া আপনার জানা থাকার কথা যে, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ফিকহ-ফতোয়ার সকল গ্রন্থেই ফারাইয-অধ্যায় আছে। তাছাড়া তাফসীরের কিতাবসমূহে আছে মীরাছ-সংক্রান্ত আয়াতসমূহের উপর আলোচনা এবং শুরূহে হাদীসে আছে মীরাছ বিষয়ক হাদীসসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ।

মাকামাত সম্পর্কে সম্ভবত আগেও লিখেছে। জনাব মাওলানা আহমদ মায়মূন দামাত বারাকাতুহুম মাকামাতের যে বাংলা শরহ লিখেছেন তার ভূমিকা পাঠ করুন, ইনশাআল্লাহ জরুরি নির্দেশনা পাবেন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলমগীর মাহমুদ - মনোহরদী, নরসিংদী

প্রশ্ন

আমি গত বছর শরহে বেকায়া পড়েছি। এ বছর জালালাইন জামাতে ভর্তি হয়েছি। হুজুরের নিকট সবিনয় নিবেদন এই যে, উল্লেখিত জামাতের সংশ্লিষ্ট (জালালাইন, হেদায়া ইত্যাদি) কিতাবে কাঙ্খিত যোগ্যতা লাভের জন্য আমাকে কোন কোন পদ্ধতিতে কী ধরনের মেহনত করা উচিত? এবং বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুপাতে জালালাইন জামাতের একজন ছাত্র হিসেবে আমার আর কী করা দরকার? দয়া করে এ বিষয়ে আমার রাহবরী করবেন। জাযাকাল্লাহু খায়রান।


উত্তর

জালালাইন ও হিদায়া সম্পর্কে আলকাউসারের এই বিভাগে কয়েকবার লেখা হয়েছে। অনুগ্রহ করে তা পাঠ করুন। আলহামদুলিল্লাহ বিগত সংখ্যাগুলোর প্রবন্ধ ও শিক্ষা পরামর্শগুলো তালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয় নামে গ্রন্থাকারে মাকতাবাতুল আশরাফ বাংলাবাজার ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ঐ সংকলনেও বিষয়টি দেখতে পারেন।

আপনি তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন অবশ্যই মুতালাআ করুন। তাহযীবু তাফসীরিল জালালাইন পাওয়া গেলে তাও সাথে রাখুন। হিদায়ার সাথে ইলাউস সুনান ওবিদায়াতুল মুজতাহিদের মুতালাআ জারি রাখুন যদি সময় থাকে এবং আপনার মুরববীর ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না থাকে। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তাহমীদুল ইসলাম - জামাতে কাফিয়া, বাইতুল ফালাহ মাদরাসা, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা-১২০৭

প্রশ্ন

হযরত! আমি কাফিয়া জামাতের একজন ছাত্র। আমাদের নেসাবে ফিকহের কিতাব হচ্ছে কুদূরী। আর উসূলে ফিকহের কিতাব উসূলুশ শাশী। এ কিতাবগুলোতে বহু মাসআলা রয়েছে গোলাম-বাদী সম্পর্কিত। বিশেষ করে উসূলে ফিকহে গোলাম-বাদীর মাসআলা দ্বারাই অধিকাংশ উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা জানি, গোলাম-বাদীর হুকুম ইসলাম রহিত করেছে। কিন্তু তারপরও কেন তা আমাদের নেসাবের কিতাবসমূহে দীর্ঘকাল ধরে বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে বুঝে আসছে না। আমরা কেন এই রহিত আইন পড়ব? এর মূল কারণ জানতে আগ্রহী এবং গোলাম-বাদীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সম্পর্কে (কখন এবং কীভাবে এর হুকুম রহিত করা হয়েছে) কিঞ্চিত আলোকপাত করলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।


উত্তর

আল্লাহর বান্দা! কে আপনাকে বলেছে যে, ইসলামে দাস-বিধান রহিত হয়ে গিয়েছে। আপনি কি কুরআন কারীমে

او ما ملكت ايمانكم

এর আয়াতসমূহ পড়েননি? তেমনি সীরাতের কিতাবে দেখেননি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

ইন্তেকালের সময় বলেছিলেন-

الصلاة وما ملكت أيمانكم

তাহলে এই বিধান মানসূখ কীভাবে হল?

ইসলামের আগে দাস-প্রথা ছিল নিপীড়নমূলক। ইসলাম একে ন্যায় ও সাম্যের রূপে পরিবর্তন করেছে। আলকাউসারের প্রথম ভলিউমে (২০০৫ সালের ভলিউমে) রবীউস সানী/জুমাদাল উলা ২৬ (জুন ০৫) ও জুমাদাল উখরা ২৬ (জুলাই ০৫) দুই সংখ্যায় মাওলানা আবদুল গাফফার ছাহেব দামাত বারাকাতুহুমের বিস্তারিত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তা মনোযোগের সাথে পাঠ করুন। এর সাথে তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম-এর কিতাবুল ইতাক-এর শুরুতে হযরতুল উস্তাযের প্রবন্ধটিও অধ্যয়ন করুন।

মনে রাখবেন, উদাহরণের উদ্দেশ্য শুধু মাসআলাকে স্পষ্ট করে বোঝানো। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহের রচনা-কালও সামনে রাখা জরুরি। শুধু ক্ষুব্ধ হয়ে কী লাভ? একটি কথা আগেও বারবার বলেছি যে, নেসাবের সংস্কার সম্পর্কে তালিবে ইলমদের মাথা খাটানো ঠিক নয়।

এখন অনুশীলনীযুক্ত কত কিতাব এসে গেছে। আপনি উসূলুশ শাশীর সাথে ঐসব কিতাবও পাঠ করুন এবং সরাসরি আয়াত ও হাদীসে ঐসব কায়েদা প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন। আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দিন। আমীন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আনওয়ার - সরকারী মাদরাসা-ই আলিয়া ঢাকা

প্রশ্ন

একজন মাদরাসার ছাত্র হিসেবে মাতৃভাষায় আমার কতটুকু দক্ষতা অর্জন করা জরুরি? তথাকথিত কলমবাজদের কলমবাজী দেখে কলম যুদ্ধে লিপ্ত হতে আমার বড়ই ইচ্ছে হয়। তাই বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব কতখানি এ ব্যাপারে হুজুরের সুপরামর্শ কামনা করছি।


উত্তর

আল্লাহ তাআলা আপনার নেক জযবাকে কবুল করুন। দ্বীন প্রচারের জন্য মাতৃভাষায় পারদর্শিতা খুবই জরুরি। আমার মশোয়ারা এই যে, আপনি মাওলানা আবু তাহের মিসবাহর সাহিত্য-সংকলনগুলোকে দিশারী হিসেবে গ্রহণ করে মেহনত করতে থাকুন। পুষ্পসমগ্রের উভয় খন্ড সংগ্রহ করুন এবং এসো কলম মেরামত করির অধ্যয়ন ও অনুশীলন অব্যাহত রাখুন। তাঁর রূহানী ও আদবী সফরনামা-বাইতুল্লাহর মুসাফির সম্ভবত পাঠ করেছেন। তবে প্রয়োজন হল বারবার অধ্যয়ন, ধীরে ধীরে অধ্যয়ন এবং গ্রহণের জন্য অধ্যয়ন। 

শেয়ার লিংক

একজন তালিবুল ইলম - ইফতা, প্রথম বর্ষ মিরপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

গত জানুয়ারি ২০১২ আলকাউসারের ৪২ পৃষ্ঠায় ফাতাওয়ার কিতাবে একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। আমরা তো আগে জানতাম যে, বাদায়েউস সানায়ে, ফাতহুল কাদীর, তাবয়ীনুল হাকায়েক ও ইমাম মুহাম্মাদ, তহাবী, জাসসাস রাহ.-এর কিতাবসমূহের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি এবং ফাকাহাত তৈরির ক্ষেত্রেও বেশি উপযুক্ত।

এমনিভাবে শাখাগত মাসআলার দিক থেকে আলবাহরুর রায়েক, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ইত্যাদি কিতাব প্রসিদ্ধ এবং এগুলোর গ্রহণযোগ্যতাও কম নয়। এবং দলিলের আলোকেও উপরোক্ত কিতাবগুলো ভালো। তাহলে এই সকল কিতাব বাদ দিয়ে অন্য কিতাবের নির্বাচন করার কারণ জানতে ইচ্ছুক। এখানে কি অন্য কোনো দিক বিবেচনা করে তালিকা প্রস্ত্তত করা হয়েছে, নাকি বাস্তবে এই কিতাবগুলো থেকে ঐ কিতাবগুলো বেশি ভালো, কিন্তু আমাদের জানাটা ভুল? জানালে খুশি হব। এমনিভাবে আমরা জানি, উর্দু ফাতাওয়ার মধ্যে ইমদাদুল ফাতাওয়ার গ্রহণযোগ্যতা বেশি, কিন্তু ওটাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমাদের জানাটা কি ভুল? না অন্য কোনো কারণ আছে?

মওসূআতুল ফিকহিয়্যার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু? এর কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করার দরখাস্ত করছি।

আল্লাহ তাআলা আপনার নেক হায়াতকে বাড়িয়ে দিন এবং আপনাকে সিহহত ও আফিয়তের সাথে রাখুন এবং ইলম-আমল, যুহদ ও তাকওয়ায় খুব বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে আপনার থেকে খুব বেশি উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।


উত্তর

এই অধম সম্পর্কে আপনার দুআগুলো আল্লাহ তাআলা কবুল করুন এবং আপনাকে জাযায়ে খায়র দান করুন।

আপনি যদি উত্তরের পূর্বাপর লক্ষ্য করতেন তাহলে হয়ত এই প্রশ্ন সৃষ্টি হত না। সেখানে তো এই প্রশ্ন ছিল না যে, কোন কোন কিতাব দ্বারা তাফাক্কুহ অর্জন হয় আর কোন কোন কিতাব দ্বারা জুযইয়াতের জ্ঞান লাভ হয়। আবার সরাসরি মতন ও শরহ সম্পর্কেও প্রশ্ন ছিল না। প্রশ্ন ছিল, প্রশ্নকারীর বুঝতে সহজ হয় এমন কিছু ফতোয়ার কিতাব প্রশ্নকারী ক্রয় করতে চান।

রদ্দুল মুহতার ছাড়া অন্য সব কিতাবের ক্ষেত্রে সহজতার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। আর শায়খ ফুরফুরের তাহকীক ও টীকা সম্বলিত সংস্করণ হলে  রদ্দুল মুহতার থেকেও ইসতিফাদা অন্যান্য সংস্করণের তুলনায় সহজ। রদ্দুল মুহতার শুরূহের অন্তর্ভুক্ত হলেও তা ফতোয়ার এমন এক উৎসগ্রন্থ, যা থেকে এ যুগে কোনো হানাফী অমুখাপেক্ষী নয়। অথচ বাস্তবতা এই যে, দাওরায়ে হাদীসের তালাবা ফাতহুল কাদীর, তাবয়ীনুল হাকায়েক, শরহুল কানয, আলবাহরুর রায়েক অনেক সময় সংগ্রহ করলেও রদ্দুল মুহতারকে তাখাসসুসের সাথে খাছ মনে করে তার ধারেকাছেও যায় না। 

প্রশ্নের উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য করে দেখুন তো এখানে এমন কোনো কিতাবের নাম দেওয়া হয়েছে কি যা মুনাসিব নয়?

চিন্তা করলে দেখা যাবে, প্রতিটি কিতাব উল্লেখ করার পেছনে কোনো না কোনো হেকমত রয়েছে, যেদিকে কখনো সংক্ষেপে ইঙ্গিতও করা হয়েছে।

ইসতিকসা ছাড়া কোনো কিছু উল্লেখ করার সময় কোনো একটিকে উল্লেখ না করার অর্থ কখনো এই নয় যে, তা থেকে বিমুখ থাকা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহি তাআলা মিন যালিকা। এর একটি দৃষ্টান্ত এই যে, আপনি ইমদাদুল ফাতাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ফকীহুন নফস হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী রাহ. (মৃত্যু : ১৩২৩ হি.)-এর ফতোয়া সংকলন-তালীফাতে রশীদিয়ার কথা উল্লেখ করেননি।

তারপরও আমরা আপনার পুরো প্রশ্নটি প্রকাশ করলাম। আশা করি, এতে তলাবায়ে কেরামের সামনে ঐসব কথাও এসে যাবে, যা জবাবে উল্লেখ করা হয়নি। ইনশাআল্লাহ এতেও ফায়েদা হবে। আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আমীন।

আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আলকুয়াইতিয়্যাহ সম্পর্কে এখন কিছু লিখলাম না। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দিলে এ সম্পর্কে পরবর্তী কোনো প্রসঙ্গে কিছু লেখার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তালিব - কুমিল্লা

প্রশ্ন

আলমুতলাকু ইয়াজরী আলা ইতলাকিহীআলমুতলাকু ইয়ানছারিফু ইলাল ফারদিল কামিল এই কায়েদা দুটির বিধান কী? কোনটা কখন জারি হবে?


উত্তর

নূরুল আনোয়ার কিতাবেই বিষয়টির সুন্দর ব্যাখ্যা আছে। তা পাঠ করুন। এরপরও কিছু বোঝার থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে লিখুন। ইনশাআল্লাহ হল করার চেষ্টা করব। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শেখ আবু বকর বিন হারুন - জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া

প্রশ্ন

বর্তমানে আমি জামাতে সানাভী আউয়ালে অধ্যয়নরত। দীর্ঘদিন যাবত তাকরার করার প্রতি আমার একটা অনিহা রয়ে গেছে। এছাড়া তাকরার দ্বারা আমার খুব একটা ফায়েদা হয় এমন নয়। বরং ঘণ্টায় সবক শোনা এবং জিজ্ঞাসা করা দ্বারা যতটুকু বুঝে আসে ততটুকুই। তাকরার দ্বারা বিশেষ কোনো ফায়েদা আমি অনুভব করি না। তবে যতটুকু বুঝে আসে তা অন্যকে বুঝাতে কোনো জড়তা বা সংশয় সৃষ্টি হয় না। এজন্য বর্তমানে আমি শুধু কঠিন বা একটু জটিল সবকগুলো তাকরার করছি এবং তাকরারের বাকি সময়টুকু আরবী ইনশা, বাংলা সাহিত্য ও ইংরেজি অনুশীলনের জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছি। এতে ধীরে ধীরে উল্লেখিত বিষয়গুলোতে উন্নতি লাভ করছি এবং এতে কিতাব বুঝার ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে না। তো আমি কি এভাবেই মেহনত চালিয়ে যাব, না প্রতিটি কিতাব তাকরার করার পেছনে সময় ব্যয় করব। পরামর্শের মাধ্যমে দ্বীনী সহায়তা  প্রদান করলে কৃতজ্ঞ থাকব।


উত্তর

তাকরার করা ও শ্রবণ করা দু টোই উপকারী। বিশেষত তাকরার করার উপকারিতা তো খুবই স্পষ্ট। কোনো বিষয় সহজ ও সাধারণ শ্রোতার বোধগম্য করে উপস্থাপনের যোগ্যতা এমন এক গুণ, যাতে সামান্য উন্নতিও অনেক ভালো। এটা তো হল একটি ফায়েদা। এছাড়া চিন্তাশীলদের জন্য তাকরারের আরো ফায়েদাও আছে, যা এর চেয়েও বেশি।

তবে বিশেষ অবস্থায় এমন হতে পারে যে, আপনি কোনো কিতাবের তাকরারে অংশগ্রহণ করলেন আবার কোনোটিতে করলেন না। তবে এজন্য আপনার মাদরাসার উসূল ও নিযাম অনুসরণ অপরিহার্য। আর নিজ তালীমী মুরববীর সাথে পরামর্শ করা তো সর্বাবস্থায় আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা আপনার সহায় হোন। তাফাক্কুহ ফিদদীন, রূসুখ ফিল ইলম এবং তাকওয়া ও তহারাত নসীব করুন। আমীন। 

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা

প্রশ্ন

 ...।


উত্তর

আপনি নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নয় তাই আপনার প্রশ্নটিও প্রকাশ করছি না।

প্রিয় ভাই! আপত্তির প্রবণতা ভালো নয়। কিছু বোঝার থাকলে আদবের সাথেও জিজ্ঞাসা করা যায়। আর যোগ্যতা থাকলে আদবের সাথে নকদও করা যায়, কিন্তু আপত্তি ও দোষ ধরার প্রবণতা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।

আমাকে মাফ করবেন, আমার মনে হচ্ছে, আপনার মধ্যে এই প্রবণতাটা আছে। এটা দূর করতে হবে। আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দিন এবং কবুল করুন। আপত্তির স্বভাব দূর করে আল্লাহ তাআলা আপনাকে বুদ্ধি ও বিনয় দ্বারা গুণান্বিত করুন।

আপনি চেষ্টা করুন যেন উস্তাদের সাথে উনস ও ভাব পয়দা হয়। তাদের উপর আপনার কী হক্ব আছে সে চিন্তার পরিবর্তে আপনি তাঁদের কী হক্ব আদায় করছেন সে মুহাসাবা করুন।

আপনি চিঠিতে যে আপত্তিটি করেছেন এ ধরনের চিন্তাও তো উস্তাদদের হক্ব তালাফির শামিল। তাঁদের মুহাসাবা তাঁরাই করবেন। আর আপনি যে বিষয়টির উপর আপত্তি করেছেন তা আমাদের সময়েও-অথচ আমি তো এ যুগেরই মানুষ-উস্তাদদের ইহসান মনে করা হত। আপনি এটাকে তাঁদের শফকতও মনে করতে পারতেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে নিজের দোষ আর অন্যের গুণ, বিশেষত বড়দের গুণ দেখার তাওফীক দান করুন। আমীন।

আপনার উপর যখন তাদরীসী যিম্মাদারী আসবে তখন যেন আল্লাহ আপনার সাহায্য করেন এবং নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ানুবর্তিতার তাওফীক দান করেন। আল্লাহ করুন, ঐ সময় যেন এই চিঠির কথা আপনার মনে পড়ে। আমীন ইয়া রাববাল আলামীন।

শেয়ার লিংক

আবদুল কাইয়ুম - ঢালকানগর, ঢাকা

প্রশ্ন

 ...।


উত্তর

আপনার ৭-৫-১১ ঈ. তারিখের চিঠিটি পেলাম। আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন এবং আপনার নেক জযবা কবুল করুন। মারকাযুদ দাওয়াহ সম্পর্কে আপনার সুধারণা আল্লাহ তাআলা সত্য করুন। আমীন।

আপনি জনসাধারণকে জিহাদ ও জঙ্গিবাদের পার্থক্য বোঝানোর চেষ্টা করতে বলেছেন। আমরা আপনার মশোয়ারা অনুযায়ী আমল করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন। আমীন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবাদ - মিরপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

আশা করি ভালো আছেন। আল্লাহ পাক আপনাকে চিরজীবন ভালো রাখুন। হুজুর! আমি তাখাসসুস ফিলফিকহের সালে আওয়ালের একজন ছাত্র। আমি ফন্নী মাহারাত হাসিল করতে চাই এবং এ ফন্নকে আমার গোটা জীবনের সাথীরূপে গ্রহণ করতে চাই। এই ফন্নকে আমি অর্জন করবই ইনশাআল্লাহ। তা যেভাবেই হোক এবং যতদিনেই হোক। আর এর জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন আমি তা করতে প্রস্ত্তত। কিন্তু আমি তো বুঝি না এবং কিছুই জানি না যে, আমাকে কি করতে হবে? হুজুরের কাছে বিনীত দরখাস্ত, দয়া করে আমাকে রাহনুমায়ি করবেন। আমাকে আমার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য কি করতে হবে? আমাদের এ ফাতরায় মুতালাআর কিতাব হল, ফাতাওয়া উছমানী (প্রথম খন্ড), রদ্দুল মুহতার (কিতাবুত তাহারাত), ইখতিলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুসতাকীম, ইখতিলাফুল আইম্মাহ, আলমুখতার (প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড) এবং ফিকহু আহলিল ইরাক ওয়া হাদীসুহুম।

আর দরসের কিতাব হল, উসূলুল ইফতা, আদ্দুররুল মুখতার (ভূমিকা), আলইহকাম লিলকারাফী। কিতাবগুলো কীভাবে পড়লে ভালো হবে এবং এগুলো মুতালাআর সময় কোন বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে? এই মানহাজের বাইরে আমাকে আর কী কী কাজ করতে হবে? বিস্তারিত লিখলে এই গাফেলের জন্য সহজ হবে। আল্লাহ তাআলা আপনাকে ইলম, আমল, তাকওয়া, সিহহত ও আফিয়ত সব দিক দিয়ে সর্বোচ্চস্তরে পৌঁছে দিন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান ফিদদুনয়া ওয়াল আখিরাহ। আরো অনেক দুআ করতে ইচ্ছা হয়, কিন্তু কী দুআ করব জানি না।


উত্তর

তাখাসসুসের কোনো তালিবে ইলমের পক্ষ হতে এ ধরনের চিঠি সম্ভবত এটিই প্রথম। অথচ এ বিভাগে পত্র পাঠিয়ে কোনো কোনো মুদাররিসও বিভাগটিকে ধন্য করেছেন।

প্রথম কথা এই যে, এই উপমহাদেশের, বিশেষত আমাদের দেশে তাখাসসুস শিরোনামে যা কিছু হচ্ছে একে সফল অনুশীলন বলাও কঠিন। এ কারণে শুধু নামের দ্বারা প্রতারিত হবেন না।

দ্বিতীয় কথা এই যে, আপনি অতি ভারি প্রশ্ন করেছেন। এর জবাব অনেক দীর্ঘ। আপাতত এটুকু আরজ করছি যে, আপনি উসূলুল ইফতার ঐ নুসখা পাঠ করুন, যা হযরতুল উস্তাদের রচনা, উসূলুল ইফতা ওয়া আদাবুহু নামে প্রকাশিত হয়েছে। এটি মনোযোগের সাথে পাঠ করলে আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর পেয়ে যাবেন। ফাতাওয়া উছমানী থেকে ফতোয়া লেখার ভঙ্গি শেখার চেষ্টা করুন। ইখতিলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকীমথেকে আদাবুল ইখতিলাফ বোঝার চেষ্টা করুন। মতভেদপূর্ণ মাসআলার গভীরে পৌঁছার এবং তা সহজ ভাষায় আলোচনা করার যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করুন। আরো কিছু করতে চাইলে মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ও শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ইমাম আবু বকর জাসসাস থেকে দৈনিক দশ-পনের মিনিট করে মুতালাআ করুন।

সাথে সাথে ইহতিমামের সাথে দুআ করুন-

اللهم علمني الكتاب والحكمة وفقهني في الدين، اللهم اجعلني من الراسخين في العلم، اللهم إني أسألك علما نافعا ورزقا طيبا وعملا متقبلا وشفاء من كل داء، اللهم إني أعوذ بك من علم لا ينفع ومن قلب لا يخشع ومن نفس لا تشبع ومن دعوة لا يستجاب لها ونعوذ بك من هؤلاء الأربع رب زدني علما.

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নেয়ামতুল্লাহ - হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

হুজুরের দীর্ঘায়ু ও নেক হায়াত কামনা করে বলছি, আপনার পরামর্শ ও লেখাগুলো আমার খুব ভালো লাগে। এজন্য নিম্নোক্ত বিষয়ে পরামর্শ চাচ্ছি।

ক) বর্তমানে ফুনূনাত পড়ার প্রয়োজন কতটুকু?


খ) উসূলে ফিকহ সহজে আয়ত্ব করার পদ্ধতি কী? এই বিষয়ে ইসতিদাদ হয়েছে কখন বুঝব? এবং এই বিষয়ে কোন কোন কিতাব বেশি উপকারী। পরিশেষে হুজুরের শিক্ষাজীবন জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

ক) ফুনূনাত (ফুনূন)-এর তালিকা দিন। কোন কোন ফন্ন ও কোন কোন কিতাব সম্পর্কে জানতে চান লিখে পাঠালে ইনশাআল্লাহ জবাব লেখার চেষ্টা করব।

খ) আপনি উসূলুল ফিকহের কী কী কিতাব পড়েছেন লিখে পাঠান। ইনশাআল্লাহ মশোয়ারা দিব।

আমি নিজের জন্য দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাকে যেন ইলমী জীবন দান করেন। এমন ইলম, যা আমার জন্য উপকারী হবে, আমার প্রক্ষে দলীল হবে, আমার বিপক্ষে দলীল হবে না। জাযাকুমুল্লাহ তাআলা। 

শেয়ার লিংক

ইবনে সাইর - ইসলামপুর রোড, নওগা

প্রশ্ন

 

আমি আপনার পরামর্শ অনুযায়ী উসূলে হাদীসের কিতাব নুখবাতুল ফিকারের (হাফেয ইবনে হাজার রাহ. (মৃত্যু : ৮৫২ হি.) সাথে তাদরীবুর রাবী (জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. (মৃত্যু : ৯১১ হি.) মুতালাআয় রেখেছি। আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ইস্তিফাদা করছি। বারাকাল্লাহু ফী হায়াতিকা ওয়া ইলমিকা। ইবনে হাজার রাহ. তাঁর কিতাবে যে আততাকসীমুস সাবয়ী করেছেন সে সম্পর্কে হযরতের মন্তব্য জানতে চাই।

খ) সন্ত্রাস দমনে ইসলাম-এ বিষয়ে কোন আরবী কিতাব থেকে আমরা মাওয়াদ সংগ্রহ করতে পারি? বাংলা ভাষায় লিখিত কোনো নির্ভরযোগ্য কিতাব থাকলে তাও জানতে চাই। একটি ফিহরিস্ত জানালে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

 

 

উত্তর

ক) তাকসীমে সাবয়ী বিষয়ে আপনি তাওযীহুন নাযার-এর হাশিয়া এবং ছালাছু রাসাইল ফী মুসতালাহিল হাদীছ-এর হাশিয়াগুলো মুতালাআ করুন। আর সংক্ষিপ্ত চাইলে ফতহুল কাদীরের বাবুন নাওয়াফিল ও বাবুল ঈলা মুতালাআ করতে পারেন।

খ) ইচ্ছা করলে আপনি নিজেও এ বিষয়ে মাওয়াদ জমা করতে পারেন। জিহাদ, আমর বিল মারুফ, নাহি আনিল মুনকার, তালীম, তাযকিয়া, দাওয়াত ইত্যাদি বিষয়ে আয়াত-হাদীস ও সালাফের ঘটনাবলী অধ্যয়ন করুন। হুকুকুল ইবাদ ও হুকুকুল খালক সংক্রান্ত আয়াত-হাদীস জমা করুন। এগুলোই তো মাওয়াদ

তিলাওয়াতের সময় প্রাসঙ্গিক আয়াতগুলো নোট করুন এবং তাফসীরের কিতাব মুতালাআ করুন। এভাবে হাদীস-সীরাত ও হায়াতুস সাহাবার কোনো কিতাব মুতালাআয় রাখুন। ড. খলীল ইবনে ইবরাহীম মোল্লা খাতির রাহ.-এর এ দুটি কিতাবও পাঠ করতে পারেন-

الرحمة المهداة صلى الله عليه وسلم

رحمة النبي الكريم صلى الله عليه وسلم بالكفار


শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - বায়তুস সালাম মাদরাসা উত্তরা, ঢাকা

প্রশ্ন

আমি মাদানী নেসাবের চতুর্থ বর্ষের একজন ছাত্র। এ বছর দ্বিতীয় ছয় মাসে আমাদের নেসাব অনুযায়ী আমরা মুখতাসারুল মাআনী পড়ব। হেফযখানা থেকেই শুনে আসছি, এ কিতাব খুবই দুর্বোধ্য। এজন্য কিতাবটি কীভাবে পড়লে বেশি ফায়েদা পাব এবং কিতাবের উদ্দেশ্যও অর্জিত হবে সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিলে খুব উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ।

আরেকটি বিষয় হল, কোনো কোনো মাদরাসায় কিতাবটি থেকে শুধু মুকাদ্দামাই পড়ানো হয় (যেমন আমাদের এখানে)। আবার কোনো কোনো মাদরাসায় মুকাদ্দিমা রেখে মূল আলোচনা পড়ানো হয়। তাহলে আসলে কোনটি উচিত ও মুফীদ জানালে খুশি হব। আল্লাহ তাআলা আপনার খায়র করুন। আমীন।


উত্তর

মুখতাসারুল মাআনী খুব মজাদার কিতাব। উসলুব কিছুটা কঠিন হলেও কিছুদিন পর যখন ভাব হয়ে যাবে তখন শুধু আনন্দ আর আনন্দ। আপনি যা শুনেছেন তা সঠিক নয়। এর শরহ তাজরীদ ও শায়খুল হিন্দ রাহ.-এর হাশিয়া কিতাব হল্ করার জন্য যথেষ্ট। এর পর কোথাও কিছু বুঝে না আসলে অন্যান্য কিতাবের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

এই কিতাব সম্পর্কে মূল প্রশ্ন হচ্ছে, এর দ্বারা ফন্নী যওক পয়দা হয় কি না। এই প্রশ্নের সমাধানের জন্য মাআনী ও বায়ানের অনুশীলনযুক্ত কোনো কিতাব সাথে রাখতে পারেন। ইবনুল কাইয়্যিমের দিকে মানসূব-আলফাওয়াইদও মুতালাআ করতে পারেন।

আমি বারবার বলেছি, নেসাব কী হবে-এ বিষয়ে তালিবে ইলমের চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন নেই। এটা বড়দের ও দায়িত্বশীলদের কর্তব্য।

من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নেসার উদ্দীন - কামিল ১ম বর্ষ নোয়াখালি ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা

প্রশ্ন

ক) আমি কামিল ১ম বর্ষের একজন ছাত্র। আমাদের নেসাবের একটি কিতাব তিরমিযী শরীফ। তিরমিযী শরীফের শরাহ হিসেবে দরসে তিরমিযী ও মাআরিফুস সুনান নিয়েছি। কিন্তু কোনোটিই পূর্ণ শরাহ হিসেবে বের হয়নি। তাই একটি পূর্ণাঙ্গ আরবী শরাহ হিসেবে তোহফাতুল আহওয়াযী নিয়েছি। কিন্তু তাতে বিভিন্ন স্থানে ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর মাযহাব সম্পর্কে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। তাই তিরমিযী শরীফের কিছু পূর্ণাঙ্গ আরবী শরাহর নাম জানতে চাই, যা আমাদের মাযহাবের মুয়াফিক। শরাহ হিসেবে তোহফাতুল আহওয়াযী থেকে ফায়েদা হাসিলের প্রয়োজনীয় দিকগুলো জানানোর আরজ করছি।


খ) সুনানে আবু দাউদের শরাহ হিসেবে বাযলূল মাজহূদআওনুল মাবূদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাই। বর্তমানে যে সমস্ত কুতুবখানা থেকে কিতাব দুটি ছাপা হয়েছে তাদের কোনটি নির্ভরযোগ্য এবং সংগ্রহে রাখতে পারি। উপরোক্ত দুটি শরাহ ছাড়া আমাদের জন্য মুফীদ আরবী শরাহ আর কী আছে তাও জানানোর আবেদন রইল।


উত্তর

ক) মাআরিফুস সুনানের তাকমিলা লেখা হচ্ছে। ফয়সালাবাদের মাওলানা যাহিদ ছাহেব লিখছেন। এর এক খন্ড প্রকাশিত হয়েছে, মাশাআল্লাহ চকৎকার কিতাব।

দরসে তিরমিযী যদিও পুরা হয়নি, কিন্তু যদ্দুর জানি, মুফতী সায়ীদ আহমদ পালনপুরী দামাত বারাকাতুহুমের তুহফাতুল আলমায়ী পুরা হয়েছে। তা থেকে ইস্তিফাদার চেষ্টা করুন।

তোহফাতুল আহওয়াযী শরহ হিসেবে মাঝারি মানের মনে হয় তবে ইখতিলাফী মাসায়েলের ক্ষেত্রে আদব ও ইনসাফের সাথে আলোচনা করার তাওফীক সবার হয় না। এরপরও ইলমী মুনাকাশা ও বিতর্ক দেখে বিরক্ত হওয়া কিংবা কারো সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা ও নিন্দা-সমালোচনা করা ঠিক নয়। এসবের দ্বারা চিন্তা-ভাবনার সুযোগ হয়। আর ইখলাস থাকলে উভয় পক্ষের জন্য প্রান্তিকতা পরিহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

 

খ) এ বিষয়ে আপনি বযলুল মাজহূদের শুরুতে শায়খ বানূরী রাহ. (মৃত্যু : ১৩৯৬ হি.) ও শায়খ আবুল হাসান আলী নাদাভী রাহ. (মৃত্যু : ১৩২০ হি.)-এর ভূমিকা মনোযোগের সাথে পাঠ করুন। আর সব ক্ষেত্রে তুলনার কী প্রয়োজন। যেখানে যে ফায়েদা পাওয়া যায় সেখান থেকে তা গ্রহণ করুন।

বাযলুল মাজহূদের সাহারানপুরের ছয় খন্ডের নুসখাটিও ভালো। বৈরুত থেকে তাকী উদ্দীন নদভী ছাহেবের তাহকীককৃত নুসখাও সম্ভবত মুনাসিব।

আউনুল মাবূদের প্রাচীন হিন্দুস্তানী নুসখা পাওয়া গেলে ভালো হত। এখন আমার জানা মতে, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুতের নুসখা ভালোই হবে।

শুনেছি, ইবনে রাসলানের শরহটি সুনানে আবু দাউদের ভালো শরহ, যার একটি মাখতূতা (পান্ডুলিপি) মাযাহিরুল উলূম সাহারানপুরে সংরক্ষিত আছে। সম্প্রতি প্রকাশিতআলমানহালুল আযবুল মাওরূদ শরহটিও মুনাসিব হবে। খাত্তাবী রাহ. (মৃত্যু : ৩৮৮ হি.)-এর মাআলিমুস সুনান দ্বারা তাফাককুহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা হয়। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যোবায়ের আহমদ - জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া, নারায়ণগঞ্জ

প্রশ্ন

আমি মিশকাত জামাতের ছাত্র। আলকাউসারের নিয়মিত পাঠক। আলকাউসারে দেওয়া হযরতের পরামর্শে অনেক উপকৃত হই। দুআ করি, তালেবানে ইলমের জন্য আল্লাহ তাআলা হযরতকে সার্বক্ষণিক সুস্থতা ও দীর্ঘ হায়াত দান করুন। হযরতের নিকট নিচের শব্দগুলোর সঠিক উচ্চারণ এবং এ মনীষীদের পূর্ণ পরিচয় মাযহাবসহ জানতে চাই।

شمني، التوربشتي، الطيبي، الخطابي، البغوي.

 


উত্তর

উপরোক্ত নামগুলোর যব্ত নিম্নরূপ :

১. الشُّمُنِّيُّ (তাকী উদ্দীন আশশুমুন্নী।) তিনি হানাফী ছিলেন।

২.   التُّوْرْبِشْتِيُّ তিনিও হানাফী।

৩. الخَطَّابِيُّ

৪. البَغَوِيُّ

৫. الطِّبِيُّ.

শেষোক্ত তিনজন শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।

এ সকল মনীষীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উদ্ধৃতিসহ লিখে আপনি আলকাউসারের পাঠকবৃন্দকে উপকৃত করুন। কার জীবনী কীভাবে খুঁজতে হয় তা জানার জন্য আলমাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ দেখতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যাইনুল আবেদীন - সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

প্রশ্ন

হযরতের সুস্থতা কামনা করছি। এরপর আরয এই যে-

(ক) আল্লামা তীবী রাহ. কি ছাহেবে মিশকাত-এর উস্তাদ ছিলেন?


(খ) শরহুস সুন্নাহ কিতাবটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

(ক) আল্লামা তীবী রাহ. ছাহেবে মিশকাতের উস্তাদ ছিলেন।

البضاعة المزجاة لمن يطالع المرقاة، الكاشف عن حقائق السنن.

এর শুরুতে যে ভূমিকা আছে তাতে তাদের দুজনের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

(খ) শরহুস সুন্নাহ হচ্ছে মাসাবীহুস সুন্নাহ-এর সংকলক মুহিউস সুন্নাহ আলবগভী রাহ.-এর কিতাব। কিতাবটি মুদ্রিত ও সহজলভ্য। ঢাকাতেই এ কিতাবের অনেক নুসখা আপনি পাবেন। আপনি নিজেই তা মুতালাআ করুন এবং মুহাক্কিকের ভূমিকার সহায়তা নিন।

 

শেয়ার লিংক

হাবীবুর রহমান - সাতক্ষীরা

প্রশ্ন

আপনি আলকাউসারের শিক্ষার্থীদের পাতায় একবার আদাব সম্পর্কে লিখতে শুরু করেছিলেন। এটা জারি থাকা দরকার। আমি হাদীস ও আছারের আলোকে আদাবে ইসলামিয়াহ বিষয়ে মুতালাআ করতে চাই। কিছু কিতাবের নাম লিখে দিন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন।


উত্তর

আলআদাবুল মুফরাদ ইমাম বুখারী, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবার সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলো, আলআদাবুশ শারইয়্যাহ, ইবনে মুফলিহ, আলমুহাযযাব মিন ইহইয়াই উলূমিদ্দীন, ছালিহ আহমদ শামী ও হায়াতুস সাহাবা ইত্যাদি কিতাবের যে কোনোটি মুতালাআ করতে পারেন। 

শেয়ার লিংক

নূর মুহাম্মাদ - শাহরাস্তি, চাদপুর

প্রশ্ন

মুখতাসারুল কারখী এবং মুখতাসারুত তহাবীর নাম শুনেছি। এই কিতাব দুটি কোথায় পেতে পারি। এগুলোর ভালো কোনো শরহ থাকলে জানানোর আবেদন করছি। কোনো কোনো কিতাবে যে শরহুত তহাবীর হাওয়ালা আসে এটি কোন কিতাব?


উত্তর

যদ্দুর জানি, মুখতাসারুল কারখী এখনো পান্ডুলিপি আকারে আছে। এর উপর ইমাম কুদূরী রাহ.-এর দলিলপ্রমাণের আলোচনা বিশিষ্ট ভালো শরহ আছে, যার পান্ডুলিপি বা পান্ডুলিপির ফটোকপি লাজনাতু ইহইয়াইল মাআরিফিন নুমানিয়া, হায়দরাবাদ দকন-এ সংরক্ষিত আছে।

মুখতাসারুত তহাবী তো অনেক দিন আগে মাওলানা আবুল ওয়াফা আফগানী রাহ.-এর তাহকীক-সম্পাদনায় মিসর থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে। এর ফটোমুদ্রণ এখন পাওয়া যায়। ঢাকায়ও কখনো কখনো পাওয়া যায়।

এর শানদার শরহ, যা আবু বকর আলজাসসাস রাহ. (৩৭০ হি.) কৃত, বৈরুত থেকে আট জিলদে প্রকাশিত হয়েছে। নাম-শরহু মুখতাসারিত তহাবী, তাহকীক-সাইদ বকদাওয়াশ ও তাঁর সঙ্গীবৃন্দ। 

শেয়ার লিংক

আমীনুল হক - পাবনা

প্রশ্ন

আমার কাছে আলহিযবুল আযম, মোল্লা আলী কারীর একটি নুসখা আছে, কিন্তু এর কোনো দুয়ায় হাওয়ালা নেই। এই দুআগুলোর হাওয়ালা কোথায় পাব? এই কিতাবের সব দুআর সনদ কি সহীহ?

 

উত্তর

মোল্লা আলী কারী রাহ. নিজের মাসাদির ও মারাজি সম্পর্কে বলেছেন। যেমন,আলহিসনুল হাসীন ইবনুল জাযারী; আলআযকার নববী এবং আলকালিমুত তাইয়িবজালালুদ্দীন সুয়ূতী ইত্যাদি।

এই কিতাবগুলোতে প্রায় সকল দুআর হাওয়ালা পেয়ে যাবেন। ওখানে হাদীসের যে কিতাবগুলোর হাওয়ালা দেওয়া আছে তা খুলে দেখলে ঐ হাদীসগুলোও সনদসহ পেয়ে যাবেন যাতে এই দুআগুলো বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসগুলোর অধিকাংশই সহীহ বা হাসান।

উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা আবদুর রশীদ নুমানী রাহ. ফাতহুল আআযযিল আকরাম নামে আলহিযবুল আযমের তাখরীজ লিখেছেন, যা জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউন-এর মজলিসুদ দাওয়াহ ওয়াত তাহকীক থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তারীফুজ্জামান - জামিয়া মুহিউস সুন্নাহ কওমী মাদরাসা যশোর

প্রশ্ন

 

মুহতারাম, আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। নিম্নে লিখিত প্রশ্নের সমাধান দেওয়ার আবেদন রইল।

) কিছু কিছু শিক্ষিত ভাইকে দ্বীনী দাওয়াত দেওয়ার আমার বিশেষ আগ্রহ। এজন্য তাফসীর ফী যিলালিল কুরআনের প্রণেতা সাইয়্যেদ কুতুবের জীবনী সম্পর্কে জানতে চাই। বিষয়ে কোন কোন কিতাবের সহযোগিতা নিতে পারি? সঠিক নির্দেশনা দিলে উপকৃত হব।

) শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর জীবনী সম্পর্কে জানার জন্য কোন কিতাব অধ্যয়ন করতে পারি?


 

উত্তর

 

উত্তর : সাইয়্যিদ কুতুব শহীদের জীবন  কর্ম সম্পর্কে জানার জন্য পড়তে পারেন-‘‘সাইয়েদ কুতব মিনাল মীলাদ ইলাল ইসতিশহাদ’’, সালাহ আবদুল ফাত্তাহখালেদী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘ইসলামী বিশ্বকোষদেখতে পারেন। তাঁর রচনা  কর্মের মূল্যায়ন  পর্যালোচনা সম্পর্কে নিচেররিসালাগুলো পাঠ করতে পারেন-

ইয়াতিমাতুল বায়ান ..., মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী রাহ.

আসরে হাজের মে দ্বীন কী তাফহীম ওয়া তাশরীহ। অথবা এর আরবী অনুবাদআততাফসীরুস সিয়াসী লিলইসলামমাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.

পুরানে চেরাগ/২৩-৩৮মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.

দুআতুন লা কুযাতহাসান আল হুদায়বী রাহ. (যিনি শহীদ হাসানুল বান্নারাহ.-এর শহীদ হওয়ার পর ইখওয়ানুল মুসলিমীন-এর আমীর নির্বাচিত হন।)

المورد الزلال على أخطاء تفسير الظلال

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আদদরবেশ।

مطاعن سيد قطب في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم

রবী ইবনে হাদী আলমাদখালি

 

উত্তর : শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর জীবনী সম্পর্কে ইতিমধ্যে বেশকয়েকটি কিতাব প্রকাশিত হয়েছে এবং আরো হবে ইনশাআল্লাহ। একাধিকবিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর কর্ম  অবদান সম্পর্কে বহু গবেষণাপ্রবন্ধ তৈরি হয়েছে। আপনিসহজেই যেসব কিতাবে তাঁর জীবনী পাঠ করতে পারেন তা হল-

শায়খ আবদুল ফাত্তাহ রাহ.-এর তাহকীক  তালীকসহ প্রকাশিত ‘লিসানুলমীযান’-এর মুকাদ্দিমা এবং তাঁর সংকলিত ‘সাফাহাত মিন সাবরিল উলামা আলাশাদাইদিল ইলমি ওয়াত তাহসীল’-এর ষষ্ঠ সংস্করণের ভূমিকাযা তাঁর সুযোগ্য পুত্রশায়খ সালমান আবদুল ফাত্তাহ লিখেছেন।

ইমদাদুল ফাত্তাহ বিআসানীদিশ শায়খ আবদুল ফাত্তাহশায়খ মুহাম্মাদ আর রশীদ।

আশশাযযাল ফাওয়াহ ফী আখবারি সাইয়িদি- শায়খ আবদুল ফাত্তাহশায়খমাহমূদ সায়ীদ মামদূহ।

নুকূশে রফতেগাঁমাওলানা তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম।

শাখসিয়াত ওয়া তাআসসূরাতমাওলানা ইউসুফ লুধিয়ানভী রাহ.

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ লোকমান - সদর, নোয়াখালী

প্রশ্ন

আমি শরহে বেকায়া জামাতের একজন ছাত্র। হেদায়াতুন্নাহব থেকে লেখাপড়া ভালোভাবে না করায় এখন কিতাব বুঝতে হিমশিম খাচ্ছি। ইবারত পড়াও দুষ্কর লাগছে। তাই ভাবছিলাম, আলিয়ায় গিয়ে ভর্তি হব। কিন্তু আমার একজন শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আমাকে বললেন আগামী বছর নাহু-ছরফ মাদরাসায় গিয়ে ভর্তি হতে। এখন জানতে ইচ্ছুক আগামী বছর আমি কি নাহু-সরফ মাদরাসায় গিয়ে ভর্তি হব, না এখন থেকে রমযান মাস পর্যন্ত সময়কে গনীমত মনে করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। কিভাবে কাজে লাগালে আমার সমস্যা দূর হবে অর্থাৎ শুদ্ধভাবে ইবারত পড়তে পারব এবং কিতাব বুঝতে সক্ষম হব দয়া করে জানিয়ে উপকৃত করবেন।


উত্তর

এজন্য আলিয়ায় ভর্তি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার মনোবলআরো দৃঢ় করুন এবং অনতিবিলম্বে সহীহ তরীকায় মেহনত শুরু করুন। ইনশাআল্লাহআপনার দুর্বলতা অবশ্যই দূর হবে। সংক্ষেপে বলা যায়আপনি প্রথমে নিসাবেরকিতাবগুলো থেকে কিছু ইবারত আপনার কোনো উস্তাযকে শুনিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জেনেনিনইবারত না বুঝার ক্ষেত্রে আপনার দুর্বলতা কোন জায়গায় এবং তা কী ধরনের?এরপর তা দূর করার জন্য দৈনিক কিছু সময় ব্যয় করুন। এক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী তাআপনার উস্তাযের কাছ থেকে জেনে নিন অথবা ‘তালেবানে ইলম : পথ  পাথেয়’ থেকেসংশ্লিষ্ট পরামর্শগুলো দেখে নিন। কোনো মুরবিবর তত্ত্বাবধানে দৈনিক একটু একটু করেমেহনত চালিয়ে যাওয়াই আপনার সমস্যার সমাধান। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন এবংতাওফীক নসীব করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শিহাবুদ্দীন - আলহাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া

প্রশ্ন

 

) আমি জরহ-তাদীলের ইমামগণের তবকা সম্পর্কে জানতে চাই। বিষয়ে কী কী কিতাব মুতালাআ করতে পারি। আল্লাহ তাআলা আপনাকে দীর্ঘায়ু দান করুন। আমীন।

) হাদীস সংকলনের ইতিহাস বিষয়ে আমি দীর্ঘ পড়াশোনার ইচ্ছা করেছি এবং বিষয়ে আমার একটি গ্রন্থ রচনার ইচ্ছা আছে। তাই বিষয়ে আরবী,উর্দু, বাংলা ইংরেজিতে লিখিত কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করলে উপকৃত হব।


 

উত্তর

জরহ-তাদীল-এর ইমামগণের পরিচয়মাকাম  মর্যাদা এবং তাবাকা  যামানাইত্যাদি বিষয়ে অবহিত হওয়া উলূমুল হাদীস-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি নিম্নোক্তকিতাবগুলোতে বিষয়টি অধ্যয়ন করতে পারেন :

তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তাদীলইমাম ইবনু আবী হাতিম (২৪০-৩২৭ হি.)

আলকামিল ফী জুয়াফাইর রিজালআবু আহমদ ইবনে আদী (২৭৭-৩৬৫ হি.)-এরমুকাদ্দিমাপৃষ্ঠা : ১১৭-২৪১

কিতাবুল মাজরূহীনমুহাম্মাদ ইবনে হিববান আলবুসতী (২৭০-৩৫৪ হি.)-এর মুকাদ্দিমা,পৃষ্ঠা : ৩৪-৬০

কিতাবুল মুযাক্কীন লিরুয়াতিল আখবারহাকেম আবু আবদিল্লাহ

নিশাপুরী (৩২১-৪০৫ হি.)  কিতাবটির কথা লেখক নিজে তার কিতাব ‘মারিফাতু উলূমিলহাদীস’-এর অষ্টাদশ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।

যিকরু মান ইউতামাদু কওলুহূ ফিল জারহি ওয়াত তাদীলহাফেয শামসুদ্দীন আযযাহাবী(৬৭৩-৭৪৮ হি.) রাহ.

হাফেয মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আসসাখাবী রাহরচিত ‘আলইলান বিততাওবীখলিমান যাম্মাত তারীখ’ (শেষ অনুচ্ছেদ

المتكلمون في الرجال

এবং ফাতহুল মুগীছ-এর ‘মারিফাতুছ ছিকাত ওয়ায যুয়াফা’ অধ্যায়। সাখাবী রাহ.-এর আলোচনা এবং যাহাবী রাহ.-এর উপরোক্ত রিসালা শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহরাহ.-এর তাহকীক-তালীকসহ প্রকাশিত ‘আর্রাফউ ওয়াত তাকমীল ’কিতাবে রয়েছে।

শায়খ আবদুল ফাত্তাহ রাহ.-এর তাহকীক-তালীকসহ প্রকাশিত ‘আররাফউওয়াততাকমীল’, মাওলানা আবদুল হাই লখনবী রাহ. (সংশ্লিষ্ট আলোচনা টীকাসহ)

. ‘উমারাউল মুমিনীনা ফিলহাদীস’, শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (১৩৩৬-১৪১৭ হি.)

এছাড়াও ইমাম আবু ইয়ালা খলীলী রাহ.-এর-

الإرشاد في معرفة علماء الحديث

হাফেয যাহাবী রাহ.-এর

تذكرة الحفاظ مع الذيول عليها

এবং ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’-এই কিতাবগুলোতে মুহাদ্দিসীন  নুক্কাদে হাদীসের জীবনীপাঠ করলেও তাঁদের তবাকা  মাকাম সম্পর্কে অনেক মালুমাত হাসিল হবে।

উত্তর : تاريخ صيانة السنة وتدوين الحديث

হাদীস  সুন্নাহর সংরক্ষণ  সংকলনের ইতিহাস সুদীর্ঘ  সু-প্রাচীন। হাদীস  সীরাত,উলূমুল হাদীস,  তারীখুল উলূম এবং ইতিহাস  জীবনী-গ্রন্থের বিপুল সম্ভারে  বিষয়েরঅনেক আলোচনা এবং বহু তথ্য-উপাত্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আর ইসতিশরাক  ইনকারেহাদীসের ফিতনা আরম্ভ হওয়ার পর তার মোকাবেলায় উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন ভাষায় এতবই-পুস্তক  প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা করেছেন যে বিষয়ে আলাদা একটি গ্রন্থাগার প্রস্ত্তত হয়েগেছে। এখানে আমি কয়েকটিমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কিতাব  প্রবন্ধের নাম উল্লেখ করছি

ابتداء التدوين في صدر الإسلام

মুহাম্মাদ আব্দুল হাই কাত্তানী রাহ. (১৩০৩-১৩৮২ হি.)

. ‘আলহাদীস ওয়াল মুহাদ্দিসূন’, শায়খ মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ আবু যাহু (১৩২৭-১৪০৩ হিজরী)

. ‘আসসুন্নাহ কাবলাত তাদবীন’, মুহাম্মাদ আজাজ আলখাতীব

صحائف الصحابة رضي الله عنهم وتدوين السنة المشرفة

আহমদ আবদুর রহমান আসসুইয়ান

دلائل التوثيق المبكر للسنة والحديث

ইমতেয়াজ আহমদকরাচী ইসলামী ইউনিভার্সিটিপাকিস্তান।

. ‘আলওসাইকুস সিয়াসিয়্যাহ’, মুহাম্মদ হামীদুল্লাহ (১৩২৬-১৪২৩ হি.)

. ‘রাসূলে আকরাম কী সিয়াসী যিন্দেগী’, মুহাম্মদ হামীদুল্লাহ

.‘আসসুন্নাহ ফী আসরিন নবুওয়াহ’,  শায়খ আল আহমদী আব্দুল ফাত্তাহ খলীল এবং তাঁরআরেকটি কিতাব ‘আসসুন্নাহ বাদা আসরিন নুবুওয়াহ

معرفة النسخ والصحف الحديثية

শায়খ বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ

১০. ‘তাদবীনে হাদীস’ (মূল উর্দূমাওলানা মানাযির আহসান গিলানী (১৩১০-১৩৭৬ হি.)

এর আরবী অনুবাদ করেছেন আব্দুর রাযযাক ইস্কান্দার। এতে নববী যুগ থেকে খলীফায়েরাশেদ আলী রা.-এর যুগ পর্যন্ত হেফাজত হাদীসের ইতিহাস সন্নিবেশিত হয়েছে।

১১دراسات في الحديث النبوي وتاريخ تدوينه

মুহাম্মদ মুস্তফা জমী। এটি হাদীস সংকলনের ইতিহাস সংক্রান্ত একটি প্রামাণ্য তথ্যবহুল গ্রন্থ।

الإمام ابن ماجه وكتابه السنن

বা

ما تمس إليه الحاجة لمن يطالع سنن ابن ماجه

 (এক কিতাবের দুই নামএবং ‘ইবনে মাজাহ আওর ইলমে হাদীস’, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুররশীদ নুমানী রহএই কিতাব দুটি হাদীস  ফিকহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ  তথ্যের পাশাপাশিসাহাবাতাবেয়ীন  তাবে-তাবেঈনের যুগে হাদীসের ইতিহাসহাদীস শাস্ত্রে তাঁদের মানহাজ পরবর্তী যুগের তুলনামূলক বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ে সারগর্ভ  নির্ভরযোগ্য স্বতন্ত্র কিতাবেরমর্যাদা রাখে।

১৩লাহোর থেকে প্রকাশিত মাসিক উর্দূ পত্রিকা ‘মাহনামা মুহাদ্দিস’-এর ‘ইনকারে হাদীসবিষয়ক সংখ্যা। এতে হাদীস অস্বীকারের ফেতনাহাদীসের হেফাজত  সংকলনের ইতিহাসসম্পর্কে প্রবন্ধ-নিবন্ধ ছাড়াও উপমহাদেশে ইনকারে হাদীসের ফিতনার প্রেক্ষাপটে  সংক্রান্তযত গ্রন্থলিটারেচার  গবেষণাপত্র লেখা হয়েছে তার তালিকা  নির্ঘণ্ট পেশ করা হয়েছে।এছাড়া

حجية الحديث ومكانة السنة

বিষয়ে লিখিত কিতাবাদি এবং  বিষয়ে মুনকিরীনে হাদীস  মুসতাশরিকীনের সৃষ্ট বিভিন্নসন্দেহ  সংশয়ের খন্ডনে রচিত কিতাবসমূহ থেকেও হাদীস সংকলনের ইতিহাস পাঠ করাযায়। যেমন-

মুস্তফা সিবায়ী রাহ.-এর

السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي

আবদুর রাযযাক হামযা (১৩০৮-১৩৯২ হি.)-এর

ظلمات أبي رية أمام أضواء السنة المحمدية

শায়খ আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আলমুয়াল্লিমী (১৩১৩-১৩৮৬ হি.) লিখিত

الأنوار الكاشفة لما في كتاب أضواء على السنة من الزلل والتضليل والمجازفة

শায়খ আবদুল গনী আবদুল খালেক (১৩২৬-১৪০৩ হি.)-এর ‘হুজ্জিয়াতুস সুন্নাহ

মাওলানা হাবীবুর রহমান আজমী (১৩১৯-১৪১২ হি.)-এর

نصرة الحديث في الرد على منكري الحديث

 (মূল উর্দু ভাষায় রচিতআরবী অনুবাদ করেছেন মাসউদ আহমদ আজমী)

মুহাম্মাদ আবু শাহবাহ-এর

دفاع عن السنة

এবং  জাতীয় আরো অনেক কিতাব।

আলোচ্য বিষয়ে আরো বিস্তৃত  গবেষণামূলক পড়াশোনার জন্যে আপনাকে আরো কী কীকরতে হবে তা উপরোক্ত দুই ধরনের কিতাব মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করলে জানতেপারবেন ইনশাআল্লাহুল আযীয। আমি এখানে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি

ইঙ্গিত করছি-

হাদীস  আছার এবং সিয়ার  শামায়েলের কিতাবগুলো হাদীস সংকলনের ইতিহাসেরমৌলিক উপাদান।

ঐসব কিতাবে  খায়রুল কুরূনের ইতিহাস সম্পর্কিত সকল কিতাবে হাদীস সংকলন সংক্রান্তবিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্যমান রয়েছে।

সিয়ার  মাগাযী যেহেতু মূলত ইলমুল হাদীসেরই একটি অংশ তাই এর ইতিহাসওআপনাকে পাঠ করতে হবে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে।

অনুরূপভাবে আততাফসীর বিলমাছূরও ইলমুল হাদীসেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এরইতিহাস  ক্রমবিকাশও হাদীস সংকলনের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সাহাবীতাবেয়ী  তাবে তাবেয়ী তথা সালাফের আছার এবং ফিকহ  ফতোয়াওহাদীসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সুতরাং ফিকহুস সলফের ইতিহাসও ইলমুল হাদীসের ইতিহাসেরইএকটি অধ্যায়।

সাহাবায়ে কেরাম  পরবর্তী যুগের আহলে ইলমের ‘ইলমী যিন্দেগী’ অধ্যয়ন করলেওঅনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা যাবে।

সাহাবাতাবেয়ীন  তাবে-তাবেয়ীন যুগের তালীম  তারবিয়াতের ইতিহাসের উপর বেশকিছু কিতাবও রচিত হয়েছে। সেগুলো থেকেও সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

.‘গ্রন্থ  গ্রন্থাগার’ একটি স্বতন্ত্র ফন  শাস্ত্র।  বিষয়ে যেসব কিতাব রচিত হয়েছে তাথেকেও ইস্তিফাদা করা যেতে পারে।

বিশ্বের প্রাচীন কুতুবখানাগুলোর মাখতূতাত তথা পান্ডুলিপিসমূহ এবং মাতবূয়াত তথামুদ্রিত কিতাবসমূহের পরিচিতি  ইতিহাসের উপর লিখিত গ্রন্থগুলোও আলোচ্য বিষয়েরগুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র।

শেয়ার লিংক