মুহাম্মাদ ওমর ফারূক - জামিয়া আরাবিয়া ফরিদাবাদ

প্রশ্ন

(ক) আমি একজন তালিবুল ইলম। দরসের পাশাপাশি ইতিহাসগ্রন্থ অধ্যয়ন করা আমার অভ্যাস। আমার চারজন মুজাহিদের জীবনী ও অবদান সম্পর্কে জানার খুব ইচ্ছা। তারা হলেন : ১. মুসলমানদের প্রথম কেবলা পুনরুদ্ধারকারী হযরত সালাহুদ্দীন আইয়ূবী রাহ.। ২. ক্রুসেডারদের আতঙ্ক নূরুদ্দীন জঙ্গী রাহ.। ৩. মূর্তি-সংহারক সুলতান মাহমুদ গযনভী রাহ. এবং কনস্টান্টিনোপোল বিজয়ী সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ রাহ.। দুঃখের বিষয় আমি শুধু তাদের নিয়ে রচিত কোনো ইতিহাসের বইয়ের নাম জানি না। হুজুরের নিকট আমার অনুরোধ, উল্লেখিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে লিখিত ইতিহাসের বইয়ের নাম, লেখকের নামসহ পত্রিকায় উল্লেখ করবেন। প্রশ্ন : খ) হযরত আবুল হাসান আলী নাদভী রা. তার ‘‘তারীখে দাওয়াত ও আযীমত’’-গ্রন্থে সালাহুদ্দীন আইয়ূবী রাহ. ও নূরুদ্দীন জঙ্গী রাহ. এর অবদান সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে কাযী বাহাউদ্দীন শাদ্দাদ কর্তৃক রচিত ‘‘আননাওয়াদিরুস সুলতানিয়া’’ থেকে অনেক তথ্য পেশ করেছেন, কিন্তু আমি অনেক অনুসন্ধান করেও বইটি পাইনি। হুজুরের নিকট বিনীত অনুরোধ, কিতাবটি কোথায় পাওয়া যেতে পারে, জানিয়ে বাধিত করবেন। প্রশ্ন : গ) হযরত আদীব ছাহেব হুজুর দা.বা. প্রাথমিক সাহিত্যচর্চার জন্য তার লিখিত বই পড়তে বলেন। আলহামদুলিল্লাহ। শুধু সাহিত্যচর্চার জন্য নয়; বরং তালিবে ইলমের অনেক অভাব পূরণে তার বইয়ের কোনো তুলনা নেই। কিন্তু আমরা তার বইসমূহের নাম না জানার কারণে অনেক অপূর্ণতায় ভুগছি। বাজারে বই কিনতে গেলে অকল্পনীয়ভাবে তার বই পাচ্ছি। কিন্তু আমরা যদি তার সকল বইয়ের নাম জানতাম তাহলে আমাদের অনেক উপকার হত। তাই হুজুরের নিকট আমাদের আকুল আবেদন, আদীব ছাহেব হুজুরের লিখিত, অনূদিত ও সম্পাদিত সকল বইয়ের তালিকা, প্রকাশনীর নামসহ আলকাউসারে প্রকাশ করে উপকৃত করবেন। সবশেষে হুজুরের নিকট দুআর আবেদন, আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে ও আমার ছোট ভাইকে তাকী উসমানী (দা.বা.)-এর মতো মুহাক্কিক আলিম, আদীব হুজুরের (দা.বা.)-এর মতো লেখক এবং সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর (রাহ.)-এর মতো মুজাহিদ হওয়ার তাওফীক দান করেন।

উত্তর

ইতিহাসের প্রতি ঝোঁকের জন্য আপনাকে মোবারকবাদ। তবে খেয়াল রাখা উচিত যে, এতে করে যেন মৌলিক পড়ালেখায় কোনো ত্রুটি বা অবহেলা না হয়। আলকুদস বিজয়ী ইউসুফ বিন আইয়ূব শাযী (৫৩২-৫৮৯ হি., মোতাবেক ১১৩৭-১১৯৩ ঈ.) যিনি সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী নামেই সমধিক প্রসিদ্ধ, তারীখ, রিজাল ও আলামের বিভিন্ন কিতাব ছাড়াও স্বতন্ত্র তাঁর জীবনের উপর অনেক কিতাব রচিত হয়েছে। তন্মধ্যে ১. ইবনে শাদ্দাদের ‘‘আননাওয়াদিরুস সুলতানিয়াহ ওয়াল মাহাসিনিল ইউসুফিয়্যাহ’’ (প্রকাশিত) যাকে ‘‘সীরাতে সালাহুদ্দীন’’ও বলা হয়, ইমাদ উদ্দীন কাতেবের দু’টি কিতাব ‘‘আল-বারকুশ শামী’’ এবং ‘‘আন-নাফহুল ক্বাসী ফিল ফাতহিল কুদসী’’ ও সমসাময়িকদের মধ্যে মুহাম্মাদ ফরীদ আবু হাদীদ এর ‘‘সালাহুদ্দীন আলআইয়ূবী ওয়া আসরুহু’’, ও আহমদ বিলী আল মিরীর ‘‘হায়াতু সালাহুদ্দীন আল-আইয়ূবী’’ উল্লেখযোগ্য। আর একই যুগের ন্যায়পরায়ণ শাসক নূরুদ্দীন মাহমুদ বিন ইমাদুদ্দীন জঙ্গী (৫১১-৫৬৯ হি., মোতাবেক ১১১৮-১১৭৪ ঈ.)-এর জীবনের উপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসাবে মুহাম্মাদ বিন আবু বাকার বিন কাযী শাহবার কিতাব ‘‘আদদুররুস সামীন’’ এবং সমসাময়িকদের মধ্যে ড. আলী মুহাম্মাদ আস সাল্লাবীর রচিত দুটি কিতাব ‘‘আলকায়িদুল মুজাহিদ নূরুদ্দীন মাহমুদ জনকী’’ এবং ‘‘আসরুদ দাওলাতিল যানকিয়্যা’’ উল্লেখযোগ্য। এখানে উল্লেখ্য যে, এই দু’জন মনীষীর জীবন ও তাদের রাষ্ট্র পরিচালনাকালীন ঘটনার জন্য নির্ভরযোগ্য ও সর্বপ্রাচীন গ্রন্থ হল ইমাম আবু শামা (৫৯৯-৬৬৫ হি.) লিখিত ‘আর রাওযাতাইন ফী আখবারিদ দাওলাতাইন’ নামক কিতাবটি, যা বৈরুতের ‘মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ’ কর্তৃক পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। আর ভারতে অভিযান পরিচালনাকারী ‘ইয়ামিনুদ দাওলাহ’ সুলতান মাহমুদ বিন সুবাগতিগীন (৩৬১-৪২১ হি., মোতাবেক ৯৭১-১০৩০ ঈ.) এর জীবনের উপর মুহাম্মাদ বিন আবদুল জব্বার উতবীর লিখিত কিতাব ‘আল ইয়ামিনী’ দ্বাদশ শতাব্দীর আহমদ বিন আলী আলমানিনী দুই খণ্ডে যার ব্যাখ্যা লিখেছেন-মৌলিক কিতাব। চুতর্থ মুসলিম বীর সুলতান ‘মুহাম্মদ’ সানী (৮৩৩-৮৮৬ হি., মোতাবেক ১৪২৮-১৪৮১ ঈ.) যিনি ফাতেহ উপাধিতেই প্রসিদ্ধ। তিনি ছিলেন খোলাফায়ে ওসমানিয়ার সপ্তম খলীফা। তিনি পরবর্তী যুগের হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবনের উপর তখনকার যুগের ঐতিহাসিকরা খুব কমই লিখেছেন। এই বিষয়টি আফসোস করে বলেছেন মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উছমানী। তিনি তাঁর তুরষ্কের সফরনামায় লেখেন, ‘আফসোসের কথা হল, বর্তমানে ওসমানীয় খলীফাদের ইতিহাসের অধিকাংশ সূত্র ইংরেজিতে। এই বিষয়ের মৌলিক গ্রন্থগুলি ঐসব পশ্চিমা ইতিহাসবিদদেরই লেখা অথবা ঐ সব ইংরেজি গ্রন্থাদি থেকেই আহরণ করা নতুবা তা তুর্কী ভাষায় রচিত, যা থেকে তুরষ্কের বাইরের মুসলিম পাঠক উপকৃত হতে পারে না। এজন্য না জানি কত ‘হাকীকত’ এখনও পর্দার আড়ালে রয়ে গেছে, যে পর্যন্ত আমরা এখনও পৌঁছতে পরিনি। (জাহানে দীদাহ পৃ. ৩২৯) তবু ইদানীং আরবী ভাষায় তার জীবনের উপর স্বতন্ত্র কিতাব ‘মুহাম্মদ আল-ফাতিহ’ এসেছে, যার লেখক হলেন, ড. আলী মুহাম্মদ আস সাল্লাকী। এছাড়াও তার কিতাব ‘আদ-দাওলাতুল উসমানিয়া আওয়ামিলুন নুহুদ ও আসবাবুস সুকুত’ও একটি ভালো কিতাব। প্রশ্নোক্ত চারজন মনীষীর মূল নাম ও মৃত্যুসন লিখে দেওয়াতে এখন আপনি সহজে উল্লেখিত স্বতন্ত্র কিতাব ছাড়াও ‘আলাম’ ও ‘তারীখ’ সংক্রান্ত যে কোনো নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে পারেন। মনে রাখবেন, এই গ্রন্থগুলোও তাদের জীবনীর মৌলিক উৎস। উত্তর : খ) হ্যাঁ, ৭ম হিজরীর প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ আবুল মাহাসিন বাহাউদ্দীন ইউসুফ বিন রাফে বিন তামীম মাওসীলি (৬৩৫ হি.) যিনি কাযী শাদ্দাদ নামে সমধিক প্রসিদ্ধ, এর লিখিত এই কিতাবটি যার পূর্ণ নাম আমি কিছু আগেই উল্লেখ করেছি এটি প্রকাশিত হয়েছে অনেক আগেই। এটি ড. জামাল উদ্দীন আশশায়্যাল এর তাহকীকে মিসরের কায়রোর প্রসিদ্ধ মাকতাবাতুল খানজী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। উত্তর : গ) এখানে উল্লেখ করার তো প্রয়োজন নেই। আপনি একদিন ‘মাদরাসাতুল মদীনা’ আশরাফাবাদ অথবা বাংলা বাজারস্থ ইসলামী টাওয়ারে ‘সাবআ সানাবিল’ বা ‘দারুল কলম’ প্রকাশনীতে গিয়ে সাধ্যমতো অনুসন্ধান করে নিজেই একটি তালিকা তৈরি করে নিতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুহসিন উদ্দীন - ঝিনাইদহ

প্রশ্ন

প্রশ্ন : ২. ক) আমি একজন শরহে জামী জামাতের ছাত্র। আমাদের জামাতে ক. তরজমাতু মাআনিল কুরআন (শেষ ১০ পারা), খ. কানযুদ দাকাইক গ. নূরুল আনোয়ার (সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস) ঘ) শরহে জামী ঙ. শরহে তাহযীব চ. তালখীসুল মিফতাহ পড়ানো হয়। হযরতের নিকট আবেদন এই যে, আমরা উক্ত কিতাবগুলো কীভাবে পড়লে আয়ত্ত করা সম্ভব এবং কিতাবগুলোর সাথে কোন কোন শরাহ মুআলাআ করলে উপকৃত হতে পারব। প্রশ্ন : খ) ইরাবুল কুরআন বিষয়ক মুদ্রিত কিছু কিতাবের নাম নভেম্বর ’০৯ সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছিল। তার মধ্যে কোনটি আমাদের জন্য বেশি উপকারী হবে তা উল্লেখ করলে হযরতের নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

ক) কিতাবী ইসতি’দাদ তৈরির প্রাথমিক ও মৌলিক স্তরটি আপনি পেরিয়ে এসেছেন। নেসাবভুক্ত কিতাবগুলোর দিকে নজর বুলালে আপনি দেখতে পাবেন, এখানে নাহব-ছরফের কোনো কিতাব নেই। শরহে জামী যদিও নাহুর কিতাব, তবে আমি একে ‘ফালসাফায়ে নাহু’র কিতাব বলাটাই শ্রেয় মনে করি। প্রায়োগিক ক্ষেত্রে যে ফালসাফার তেমন কোনো দখল নেই। যাই হোক, যেহেতু ‘কিতাবী ইসতিদাদ’ তৈরির মৌলিক স্তরটি আপনি পেরিয়ে এসেছেন এখন আপনার প্রধান কাজ হবে বাস-বক্ষেত্রে আপনার এই ইসতিদাদ কতটুকু অর্জিত হয়েছে তা যাচাই করে দেখা। আপনার পাঠ্যতালিকাভুক্ত সব কিতাবই যেহেতু আরবী ভাষায়, তাই সব কিতাবই এমনভাবে পড়তে হবে যাতে নাহবী-ছরফী কোনো দুর্বলতা আর না থাকে। কিতাবের সঠিক মর্ম ও মুসান্নিফের উদ্দেশ্য অনুধাবনে সব সমস্যা যাতে কাটিয়ে উঠতে পারেন এ জন্য নোটের সাহায্য নেওয়া একেবারে পরিত্যাগ করতে হবে। প্রত্যেকটি কিতাবের আরবী ‘মুআররা’ নুসখা পাশে রাখুন। প্রয়োজনে আরবী শরাহ, হাশিয়া ও সংশ্লিষ্ট উস্তাদের সহযোগিতা নিন। এ গেল একটি মৌলিক কথা। এবার আপনার নেসাবভুক্ত কিতাবগুলোর ব্যাপারে কিছু আরয করতে চাই। প্রথমত আপনাকে এজন্য মুবারকবাদ দেই যে, আপনি জামাতের কিতাবের মধ্যে ‘তারজমাতু মাআনিল কুরআন’-এর কথাই আগে উল্লেখ করেছেন। বাস্তবেও তা বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। কিন্তু হায়! আজ তা বড় অমনোযোগ ও অবহেলার শিকার। যেহেতু শেষের দশ পারার পুরোটাই আপনার এই বছরের নেসাবভুক্ত তাই দীর্ঘ কোনো তাফসীরের পেছনে না পড়ে আপনার উচিত হবে, নিয়মিতভাবে প্রত্যেকটি আয়াতের অর্থ ও মর্ম অনুধাবনে সচেষ্ট হওয়া। যাতে একটি আয়াতও ছুটে না যায়। আর এজন্য আরবী ভাষায় জাবির জাযায়েরীকৃত ‘আয়সারুত তাফাসীর’ এবং ‘তাফসীরে উসমানী’ বা মাওলানা মুফতী তাকী উছমানী দা.বা.-কৃত ‘আছান তরজমায়ে কুরআন’ নিয়মিত পড়ুন। উর্দূ না বুঝলে এই দুটির বঙ্গানুবাদ অথবা এমদাদিয়া লাইব্রেরী কর্তৃক প্রকাশিত বঙ্গানুবাদ তো আপনার হাতের নাগালেই আছে। প্রাসঙ্গিক কোনো প্রয়োজনে ‘তাফসীরে ইবনে কাসীরের’ সাহায্য নিন। তবে শেষ দশ পারায় যে বিশেষ কাজটির প্রতি আপনাকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে তা হল, শেষ দিকের সূরাগুলোর গরীব শব্দগুলোর অর্থ ও তাহকীক ভালোভাবে আত্মস্থ করা। এজন্য লোগাতুল কুরআন বিষয়ের কোনো কিতাব সংগ্রহ করতে পারেন। দ্বিতীয় কিতাব কানযুদ দাকায়েক। এটি হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ মতন। এটি পড়ার সময় কিতাবের মর্মার্থ বুঝার সাথে সাথে মুসান্নিফের নিজস্ব রুমুয ও ইশারাগুলো খুব ভালোভাবে বুঝতে চেষ্টা করবেন। সুরতে মাসআলা, হুকুম এবং ইখতেলাফে উলামা (যদিও তা দলীল ছাড়াই হোক না কেন) আত্মস্থ করতে হবে। আর শরাহর কথা বললে হিন্দুস্থানী নুসখার আরবী হাশিয়া ও আল বাহরুর রায়েক নিয়মিত মুতআলাআ করার মতো। নূরুল আনওয়ার (সুন্নাহ) এর মতনেই তো মানার-এর মূল মতনের বিস্তৃত ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রয়োজনের সময় কামরুল আকমার তো আছে। তবে উসূলে ফিকহ যেহেতু ইলমে দ্বীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফন আর দরসে নেযামীর প্রায় শেষদিকের একটি কিতাব হল নূরুল আনওয়ার তাই কিতাবের মূল মতন ‘আলমানার’ হল করার জন্য এবং ফনের সঙ্গে তাআল্লুক গড়ে তোলার জন্য আল্লামা নাসাফী রাহ.-এরই লিখিত মানারের শরাহ ‘কাশফুল আসরার’ আর আবদুল মাজীদ তুরকমানীর সদ্য লিখিত কিতাব ‘দিরাসাতুন ফী উসূলিল হাদীস আলা মানহাজিল হানাফিয়্যাহ’ সংগ্রহ করে নিয়মিত মুতালাআ করতে পারলে ভালো হবে বলে মনে করি। আর শরহে জামীর জন্য হাওয়াশী মুতাফাররাকা ও শরহে তাহযীবের জন্য ‘তুহফায়ে শাহাজাহানী’ অনেকটা সহজ ও সাবলীল বলে মনে হয়। ‘তালখীসুল মিফতাহ’র জন্য সুবকী-কৃত ‘আরুসুল আফরাহ’ তাফতাযানীর ‘মুখতাছার’ থেকেও কিছুটা সহজ। এটিও আপনি সংগ্রহ করতে পারেন। উত্তর : খ) কোনটি বেশি উপকারী হবে-তা বলার জন্য আপনার ইসতিদাদ এবং এই বিষয়ে মুতালাআর জন্য কতটুকু সময় আপনি বের করতে পারবেন তা জানা জরুরি। তবুও বলি, মুহিউদ্দীন আদ-দরবেশ লিখিত ‘ইরাবুল কুরআনিল কারীম ওয়াবায়ানুহু’ একটি সহজলভ্য কিতাব। এই কিতাবে ‘ইরাব’ ছাড়াও লুগাত, বালাগাত-বয়ান ও কিছু ফাওয়ায়েদও পাওয়া যায়, যা একটি বাড়তি লাভ। আর যদি সংক্ষিপ্ত কোনো কিতাবের কথা বলেন তাহলে বৈরুতের দারুন নাফায়িস থেকে এক খণ্ডে প্রকাশিত মুহাম্মাদ আত-তাইয়িব আল-ইবরাহীমের ‘‘ইরাবুল কুরআনিল কারীম’’ সংক্ষিপ্ত অথচ সহজ একটি কিতাব। এটিও আপনি সংগ্রহ করতে পারেন। তবে ভালো হয় আপনার হাতের কাছে যদি এ বিষয়ক কয়েকটি কিতাব থাকে তবে আপনি নিজেই একটি আয়াত নিয়ে কয়েকটি কিতাব থেকে ইরাব সংক্রান্ত বহস পড়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোনটির উসলুব আপনার জন্য সহজ হবে এবং তরজমা বোঝার জন্য সহায়ক হবে। এরপর তা আপনি নিয়মিত মুতালাআ করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আজিজুল্লাহ - জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

প্রশ্ন : ৩. আমি জামাতে চাহারমের ছাত্র। শিক্ষা-পরামর্শে হুজুরের মাশওয়ারা মতো আরবী হাশিয়া ও শরাহগুলো পড়তে চেষ্ট করি। আলহামদুলিল্লাহ, প্রায়ই বুঝি। কিন্তু মাঝে মধ্যে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হই। ভেবেছি, এখন থেকে যে সব বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন বেশি হই এগুলোর জন্য হুজুরের শিক্ষা-পরামর্শের সাহায্যে নেব। সেই হিসাবে আজ একটি সমস্যার কথা উল্লেখ করছি। আশা করি, সমাধান দিয়ে উপকৃত করবেন। সমস্যাটা হল, কোনো শব্দের তাহকীক করতে গিয়ে বিভিন্ন শরাহ বা হাশিয়ার মধ্যে المعجمة، المهملة، الموحدة، المثناة، المثلثة، التحتانية، الفوقانية ইত্যাদি শব্দ লেখা থাকে। এ শব্দগুলির অর্থ কী? এগুলো কেন লেখা হয়?

উত্তর

মাশাআল্লাহ, আপনার মেহনতের কথা শুনে খুশি হলাম। আপনি মেহনত চালিয়ে যান। অবিরাম মেহনতের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ একদিন ‘রুসূখ ফিল ইলম ও তাফাক্কুহ ফিদ্দীন’ অর্জন করতে পারবেন। আল্লাহ তাওফীক দিন। আমীন। আপনি প্রশ্নে যেসব শব্দ উল্লেখ করেছেন এই পরিভাষাগুলো সাধারণত আরবী শব্দের ‘জবতে’র ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আরবী ভাষার লেখারূপের সূচনালগ্নে আরবী আর আযমীদের জন্য এই নূকতা বলেই হয়তো এই সব নূকতাওয়ালা বর্ণের নাম দেওয়া হয় ‘আলমু’জামাহ’ আর কিছু বর্ণ রাখা হয় নূকতাবিহীন। এর নাম রাখা হয় ‘আলমুহমালা’। সে যাই হোক, কোনো কোনো মাক্ষী নবীশের কবলে পড়ে বা অন্য কোনো কারণে এই নুকতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি থেকে রক্ষার জন্য ‘জবতটাকে আরো স্পষ্ট করার জন্য বলে দেওয়া হয় নুকতাটা বর্ণের উপরে হবে না নিচে। উপরে হলে ‘আলফাওকিয়্যহ’ বা ‘আলফাওকানিয়া’ বা ‘ফাওকা’ আর নিচে হলে ‘আত-তাহতিয়্যাহ’ বা ‘আত-তাওতানিয়া’ বা ‘তাহতা’ বলা হয়। এরপর আবার নুকতা কয়টি হবে। একটি হলে ‘আলমুওয়াহহাদা’। আর দুটি হলে ‘আলমুছান্নাহ’ আর তিনটি হলে ‘আলমুছাললাছাহ’ বলে জবত করা হয়। যেমন আরবী বর্ণমালার নিচে এক নুকতাওয়ালা ‘বা’ কে ‘মুওয়াহহাদা’ আর উপরে দু নুকতা ওয়ালা ‘তা’ ‘মুছান্নাহ-ফাওকা’ আর নিচে দু নুকতা ওয়ালা ‘ইয়া’ কে ‘মুছান্না তাহতা’ অথবা ‘মুছান্নাত তাহতিয়্যাহ’ আর তিন নুকতাওয়ালা ‘সা’ কে ‘মুছাল্লাছাহ’ আর নুকতাওয়ালা ‘খা’ ‘জাল’ ‘সীন’ ‘যাদ’ ‘গাইন’ ইত্যাদি বর্ণকে ‘আলমুহমালাহ’ বলে। এমনিভাবে রায়ে মুহমালাকে যায়ে মুজামা থেকে পার্থক্য করণের জন্য প্রথমটিকে ‘হামযা বা’দা আলিফ’ আর দ্বিতীয়টি যায়ে মু’জামাকে ‘মুছান্নাহ তাহতা বা’দা হামযাহ’ বলা হয়ে থাকে। (দেখা যেতে পারে আলমুগনী পৃ. ২) উপরোক্ত কথাটি মাথায় রেখে শরাহ-হাশিয়ার জবতগুলোতে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিন। বিষয়টি সহজ হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তানিম আন্দালিব - ৪২/পি আজিমপুর এষ্টেট, ঢাকা-১২০৫

প্রশ্ন

আমরা লোকমুখে একটা ঘটনা শুনে থাকি যে, ইমাম বুখারী রাহ. যখন বোখারা শহরে বিভিন্ন মাসআলায় ফতোয়া দিতেন তখন জনৈক হানাফী ইমাম তাঁকে বারণ করেছিলেন। তবু তিনি ফতোয়া দিতে থাকেন। একসময় তিনি এক প্রশ্নের জবাবে দু’জন শিশুর একই বকরীর দুগ্ধপানের দ্বারা দুধের সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে বলে ফতোয়া দেন। তার এই ফতোয়াকে কেন্দ্র করে বোখারাতে নাকি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। প্রশ্ন এই যে, উপরোক্ত বর্ণনাটি কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আমাদের জানা মতে, যে সমস্ত কিতাবে উপরোক্ত ঘটনাটি পাওয়া যায় সেখানে এর কোনো সনদ বা সূত্রের উল্লেখ নেই। তাই ইমাম বুখারী রাহ.-এর মতো একজন ইমামের ক্ষেত্রে সনদবিহীন একটি ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. বলেন, ولكنه لم يذكر سندها لا هو ولا غيره فيما أعلم ففي نسبتها للإمام البخاري وقفة অর্থাৎ আমার জানা মতে, কেউই এই ঘটনার সূত্র উল্লেখ করেননি। অতএব ইমাম বুখারী রাহ.-এর সঙ্গে এই ঘটনা যুক্ত করার বিষয়ে আমার দ্বিধা রয়েছে। (টীকা : আল-ইমাম ইবনু মাজাহ ওয়া কিতাবুহুস সুনান পৃ. ১২৯) ইমাম বুখারী রাহ.-এর সংকলিত সহীহ বুখারী ও অন্যান্য হাদীস-সংকলন পাঠকের সামনে রয়েছে। এসব গ্রন্থ থেকে তাঁর যে পাণ্ডিত্য প্রমাণ হয় এতে এ ধরনের ভুল অবিশ্বাস্যই মনে হয়। বিশেষত সহীহ বুখারীর ‘রাযা’ বা শিশুর দুগ্ধপান বিষয়ক অধ্যায়গুলোতে এর কাছাকাছি কোনো মাসআলারও অস্তিত্ব নেই। আল্লামা আবদুল হাই লাখনাভী রাহ. বলেন, وهي حكاية مشهورة في كتب أصحابنا ذكرها أيضا صاحب العناية وغيره من شراح الهداية لكني استبعد وقوعها بالنسبة الى جلالة قدر البخاري ودقة فهمه وسعة نظره وغور فكره مما لا يخفى على من انتفع بصحيحه وعلى تقدير صحتها فالبشر يخطئ এমনিভাবে শায়খুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রাহ. লামেউদ দারারীর (১/১৩) ভূমিকায় লিখেছেন, ‘‘ওয়া ইসতিবআদুহা যাহিরুন।’’ অর্থাৎ এই ঘটনা বাস্তবতা বিরোধী মনে হওয়াই স্বাভাবিক। অতএব ইমাম বুখারী রাহ.-এর মতো জলীলুল কদর ইমামের সঙ্গে এ ধরনের সনদ ও সূত্রহীন ঘটনা যুক্ত করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ফরিদাবাদ, ঢাকা-১২০৪

প্রশ্ন

...

উত্তর

আপনি এই সমস্যার ব্যাপারে আপনার তালীমী মুরব্বীর শরণাপন্ন হোন। অথবা ফোনে বা সরাসরি সাক্ষাতে যোগাযোগ করলে কোনো পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

যুবায়ের আহমদ - জামিআ মুহাম্মাদিয়া বনানী, ঢাকা

প্রশ্ন

আমি এ বৎসর জামাআতে জালালাইন পড়ছি। শুরু থেকেই মতনের পাশাপাশি কিতাবের হাশিয়া, হাশিয়াতুস সবী, ছফওয়াতুত তাফাসীর, ই’রাবুল কুরআনিল কারীম, তাফসীরুল কুরআনিল কারীম লিইবনি কাছীর, ফাতহুল কাদীর, কাশফুল আছরার ফী শারহিল মুসান্নাফি আলাল মানার ইত্যাদি কিতাব পড়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু ইদানীং অনেকের কাছে শুনতে পাচ্ছি, তাফসীরে জালালাইনের হাশিয়া ও হাশিয়াতুস সবীতে অনেক জাল বর্ণনা আছে। এক্ষেত্রে কি তা পড়া ছেড়ে দিব, না কী করব?

উত্তর

ছেড়ে দিবেন কেন? এই কিতাবগুলোতে জাল ও ইসরাঈলিয়াতের পাশাপাশি সহীহ ও তাফসীরের ক্ষেত্রে ‘মাকবুল হাদীসের সংখ্যাও তো কম নয়। এছাড়া কুরআন মাজীদের অর্থ অনুধাবন, তাফসীর ও জালালাইনের মূল ইবারত ‘হল’ সংক্রান্ত আরো যে সব বিষয় ঐ দুই হাশিয়ায় রয়েছে-তা থেকে বঞ্চিত হবেন কেন? হ্যাঁ, আপনার এই সমস্যার জন্য যা করণীয় তা হল, আপনি প্রত্যেকটি সবক মূল জালালাইন, সংশ্লিষ্ট হাশিয়া ও হাশিয়াতুস সবীতে পড়ার পর তাফসীরে ইবনে কাসীর যা আপনি মুতালাআ করছেন বলে প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন- এর মুতালাআ অবশ্যই নিয়মিত জারি রাখবেন। যে রেওয়ায়েতগুলো অন্য কিতাবে পেয়েছেন তা তাফসীরে ইবনে কাসীরে আছে কি না আর ঐ রেওয়ায়েতের ব্যাপারে ইবনে কাসীর রাহ. কী রায় পেশ করেছেন তা মনোযোগের সাথে পড়তে ও বুঝতে চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, তাফসীর বিররিওয়াহর ক্ষেত্রে তাফসীরে ইবনে কাসীর সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য কিতাব। আর ড. আবু শাহবার আলইসরাইলিয়াত ওয়াল মাওযূআত ফী কুতুবিত তাফসীর, তো একটি অনন্য কিতাব। কোনো এক অবসরে এটি অথবা এর আলোকে ‘আসির আদরবী’ লিখিত উর্দূ কিতাবটি পড়ে নিলে আপনার এই পেরেশানী অনেকটাই লাঘব হয়ে যাবে বলে আশা রাখি। তবে যে রেওয়ায়েতগুলো তাফসীরে ইবনে কাসীরে পাবেন না বা রেওয়ায়ত পেলেও এই সম্পর্কে ইবনে কাসীর রাহ.-এর কোনো আলোচনা পাবেন না সেসব রেওয়ায়েতের শুদ্ধাশুদ্ধি কোনো আহলে ফনের শরণাপন্ন হয়ে যাচাই করে নিবেন। আল্লাহ আপনার সহায় হোন। আমীন

শেয়ার লিংক

যুবায়ের আহমদ - জামিআ মুহাম্মাদিয়া বনানী, ঢাকা

প্রশ্ন

নবীদের ঘটনা ও তাদের নসব সম্পর্কে জানতে কী কী কিতাব মুতালাআ করা যেতে পারে?

উত্তর

আল্লাহর প্রেরিত পূর্ববর্তী নবীগণ ও তাদের ঘটনাবলির যে অংশ আমাদের জানা প্রয়োজন তা কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসে আছে। একজন মুমিনের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। আর এ বিষয়ে এই কুরআন-হাদীসই হচ্ছে প্রধান সূত্র।। দ্বিতীয় পর্যায়ে তারীখ বিষয়ক কিতাব বিশেষত আল্লামা হাফেয ইবনে কাসীর রাহ.-এর আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া এর প্রথম দুই খণ্ড, যা কাসাসুল আম্বিয়া শিরোনামে স্বতন্ত্রভাবেও ছেপেছে তা অধ্যয়ন করতে পারেন। কাসাসুল কুরআন সম্পর্কিত কিতাবগুলোর মধ্যে মাওলানা হিফযুর রহমান সিওহাররী এর কাসাসুল কুরআন অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

শেয়ার লিংক

যুবায়ের আহমদ - জামিআ মুহাম্মাদিয়া বনানী, ঢাকা

প্রশ্ন

কুরআন মজীদে পেয়েছি ... كل آمن بالله وملائكته وكتبه ورسله ... আর রিয়াযুস সালেহীনে পড়েছি, لللإيمان : أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله ... ঈমানে মুফাসসালে বলে থাকি آمنت بالله وملائكته وكتبه ورسله ... এই সবখানে ‘রুসুলুহু’ দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু আমরা তো জানি, আল্লাহর প্রতি, নবীগণের প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি ... ঈমান আনা, জানতে চাই, তাহলে আয়াতে কারীমা বা হাদীসের ব্যাখ্যা কী হবে? মেহেরবানি করে জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নে যতটুকু বুঝেছি তার আলোকে আপনাকে কুরআন মজীদের নিম্নোক্ত দু’টি আয়াত ও দু’টি হাদীসের অংশ বিশেষ পড়ার জন্য অনুরোধ করব। আয়াতটির মধ্যে প্রথম আয়াতটি সূরা বাকারার ১৭৭ নং আয়াত ليس البر ان تولوا وجوهكم قبل المشرق والمغرب ولكن البر من آمن بالله واليوم الآخر والملائكة والكتاب والنبيين আর দ্বিতীয় আয়াতটিও একই সূরার ১৩৬ নং আয়াত قولوا آمنا بالله وما آنزل الينا وما انزل إلى ابراهيم واسماعيل واسحاق ويعقوب والاسباط وما اوتى موسى وعيسى وما اوتى النبيون من ربهم لا نفرق بين أحد منهم ونحن له مسلمون আর যে হাদীস দুটির কথা বললাম, তা হাদীসে জিবরীলেরই দু’টি ভিন্ন রেওয়ায়েত। হযরত ইবনে আব্বাস রা. ও হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত উভয় রেওয়ায়েতেই নিম্নোক্ত বাক্যটি রয়েছে। الايمان أن تؤمن بالله واليوم الآخر والملائكة والكتاب والنبيين দেখুন : মুসনাদে আহমদ ১/৩১৯, হাদীস : ২৯২৪; মুসনাদে বাযযার-মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৮-৪০ আমার ধারণা, আপনার মনে উপরোক্ত প্রশ্ন জাগার পিছনে কারণ হল নবী ও রাসূলের মধ্যকার ইসতিলাহী ফরকটি। মনে রাখবেন, সেটি একটি ইসতিলাহ ছাড়া আর কিছুই নয়। অন্যথায় কুরআনে নবী শব্দ রাসূল অর্থে এবং রাসূল শব্দ নবী অর্থে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। আশা করি, আপনার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবুও কোনো প্রশ্ন থাকলে আবার লিখতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুঈনুদ্দীন - রাহাত হোসাইন তাহফিযুল কুরআন মাদরাসা, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

প্রশ্ন

আমি হিফয বিভাগের একজন ছাত্র। শুনেছি আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদকে সহজ করে দিয়েছেন। সূরা কামারে একাধিকবার আল্লাহ তাআলা তা ইরশাদ করেছেন। অথচ কুরআন মজীদ ইয়াদ করলেও তা স্মরণে থাকে না। আমরা আরো শুনেছি, কুরআন মজীদ ইয়াদ করে ভুলে গেলে পরকালে কঠিন আযাব হয়। তাই কুরআন মজীদ ইয়াদ করার পদ্ধতি কী? আর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তা কীভাবে ইয়াদ রাখা যায়- এ বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিবেন।

উত্তর

আপনি ভয় পাচ্ছেন কেন। হিম্মত রাখুন এবং মেহনত করুন। প্রতি বছর হাজার হাজার তালিবে ইলম কুরআন হেফয করছে আর আলহামদুলিল্লাহ ছোটখাটো কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই তা ইয়াদও রাখছে। সাময়িকভাবে কোনো আয়াত হেফয থেকে ছুটে গেলে সামান্য দেখেই তারা আবার তা ইয়াদ করে ফেলছেন। সহজ বলেই তো যুগ যুগ ধরে অসংখ্য মুসলমান কালামুল্লাহ হেফয করতে পেরেছেন। এখনও করে চলেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। পৃথিবীর অন্য কোনো গ্রন্থের বেলায় এর নজীর নেই। মনে রাখবেন, তিনি সহজ করে না দিলে যত মেধাই হোক এই মহান কালামুল্লাহ কোনো মাখলুকের পক্ষে পড়া, হিফয করা ও বুঝা সম্ভব ছিল না। এই যে, আপনি কালামুল্লাহ তিলাওয়াত করতে পারছেন, সামান্য সামান্য হলেও ইয়াদ করতে পারছেন তাতো তাঁর বিশেষ ফযল ও করমে সহজ করে দেওয়ার বদৌলতেই সম্ভব হচ্ছে। আর নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত অব্যাহত রাখা ও কুরআনের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক রাখা সত্ত্বেও ইয়াদ না থাকলে মাওলা তো গাফুরুর রাহীম। তিনিই অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির উপর ক্ষমার চাদর ঢেলে দেবেন বলে আশা করা যায়। এরপরও আমার পরামর্শ হল, আপনার হিফযের উস্তাদের কাছে নিজের পুরো অবস্থা খুলে বলুন। তিনি আপনার মেধা ও স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে সম্যক অবগত বলে সুন্দর একটি পরামর্শ দিতে পারবেন। আল্লাহ তাআলা আপনার যেহেন খুলে দিন এবং চিন্তামুক্ত হয়ে তাঁর মহান কালাম হিফয করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - মিরপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

ক) আমি শরহে বেকায়া জামাতের একজন ছাত্র। নাহব, ছরফে বেশ দুর্বল। এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য আমি কী করতে পারি? আরবী ইবারত সহীহ-শুদ্ধভাবে পড়ার মূল নীতিমালা উল্লেখ করলে কৃতজ্ঞ হব।
খ) নবী-রাসূল, আকাবির-আওলিয়া বিশেষত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন-চরিত জানার জন্য নির্ভরযোগ্য বাংলা গ্রন্থগুলোর নাম জানতে চাই।
গ) আরবী, বাংলা, উর্দূ-ইংরেজি সব লেখায় আমার ভুল হয়ে থাকে। এ সমস্যা সমাধানের উপায় কী?
ঘ) হেদায়া কিতাবের সবচেয়ে ‘জামে মানে’ শরাহ কোনটি?

উত্তর

ক) প্রশ্নোক্ত বিষয়ে আলকাউসারের বিগত সংখ্যাগুলোতে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূল কথা হল, এই বিষয়ে দক্ষতা অনুশীলনের মাধ্যমে আসে, মৌখিক কিছু কায়দা-কানুন মুখস্থ করে নেওয়া কোনোক্রমেই যথেষ্ট নয়। নাহব-ছরফে দুর্বল-এটা অনেকটা অস্পষ্ট কথা। ঐসব বিষয়ের কোন কোন জায়গায় আপনার দুর্বলতা রয়েছে, তা নির্ধারণ করা জরুরি। তাহলে আপনার চিন্তাও স্বার্থক হবে, মেহনতও ফলপ্রসূ হবে। তবে আপনি অনতিবিলম্বে দু’টি কাজ করতে পারেন। প্রথমত : নাহব-ছরফের উপর বর্তমান সময়ে রচিত ‘আননাহবুল ওয়াযেহ’ বা এ জাতীয় কোনো কিতাব, যার উপস্থাপনাও সহজ এবং যাতে প্রতি সবকের সঙ্গে অনুশীলন রয়েছে, নির্বাচন করুন। নিজে চিন্তা-ভাবনা করে অথবা কোনো অভিজ্ঞ উস্তাদের সাহায্যে ঐ কিতাবের এমন বহসগুলো চিহ্নিত করে নিন, যা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে আপনার বেশি প্রয়োজন হবে। অথচ তাতে আপনার দুর্বলতা আছে। তারপর এক একটি বহস বুঝে শুনে পড়ুন এবং হাতে কলমে অনুশীলনের মাধ্যমে অবিরাম মেহনত জারি রাখুন। দ্বিতীয়ত : আপনার নেসাবী কিতাবসমূহের কোন একটি আরবী কিতাব প্রত্যেক সবকের সাথে বা আগে সম্ভব হলে আরবী হাশিয়াসহ গভীরভাবে মুতালাআ করবেন। অতঃপর আপনার একজন মুহসিন ও শফীক উস্তাদের কাছে গিয়ে নিয়মিত শুনাবেন। আপনি পড়বেন, আর উস্তাদ শুনে শুনে যে সব সংশোধনী ও দুর্বলতার দিক চিহ্নিত করে দিবেন, তা দূর করার চেষ্টা করবেন হতাশার কিছু নেই। এই দুই তরীকায় মেহনত করতে থাকুন। অবশ্যই সফল হবেন ইনশাআল্লাহ। খ) ইসলামিক ফাউণ্ডেশন কর্তৃক অনুদিত ও প্রকাশিত হাফেয ইবনে কাসীর রাহ.-এর ‘আলবিদায়া ওয়াননিহায়া’য় সাধারণ ইতিহাসের পাশাপাশি নবী-রাসূল ও আকাবির-আওলিয়ার জীবনী রয়েছে। আর শুধু সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়ে বাংলাভাষায় রচিত কবি গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’, প্রফেসর আবদুল খালেকের ‘সাইয়িদুল মুরসালীন’ এর কথা অনেকে উল্লেখ করে থাকেন। তদ্রূপ আরবী ও উর্দু ভাষার বেশ কিছু মৌলিক ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থও বাংলায় অনুদিত হয়েছে। তন্মধ্যে ইবনুল কাইয়্যিম রাহ.-এর যাদুল মাআদ, শিবলী নুমানী ও সাইয়েদ সুলায়মান নদভী রাহ.-এর ‘সীরাতুন্নবী’ ও ইদরীস কান্ধলভী রাহ.-এর ‘সীরাতুল মোস্তফা’, মাওলানা আবদুর রউফ দানাপুরীর ‘আসাহহুস সিয়ার’, মাওলানা আবুল হাসান আলী মিয়া নদভী রাহ.-এর ‘নবীয়ে রহমত’ এবং মাওলানা সফীউর রহমান মুবারকপুরীর ‘আররহীকুল মাখতূম’ ইত্যাদি সংগ্রহে রাখার মতো গ্রন্থ। গ) ‘লেখায় ভুল হয়ে থাকে’ বলে সম্ভবত বানানের ভুলই আপনার উদ্দেশ্য। তাই যদি হয় তবে এই সমস্যার সমাধান একটিই। তা হল, যা পড়বেন, মনোযোগের সাথে পড়ুন। যে ভাষাতেই হোক, প্রতিটি শব্দ পড়ার সময় খেয়াল করবেন যেন, এই শব্দটি আপনি মুখস্থও লিখতে পারেন। শুধু এতটুকু কাজ করলেই আপনার এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে। এরপরও কিছু জটিলতা বাংলা বানানের ক্ষেত্রে থেকে যেতে পারে। সে জন্য বাংলা একাডেমীর অভিধান বা অন্য কোনো অভিধানের সাহায্য নিতে থাকুন। সাথে প্রতিদিন তিন-চারটি করে শব্দ বানানশুদ্ধির জন্য নিয়মিত লিখুন এবং হযরত মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুমের ‘এসো কলম মেরামত করি’ থেকে বানান সংক্রান্ত লেখাগুলো ভালো করে পড়ুন। এভাবে ধীরে ধীরে এই দুর্বলতাও কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা রাখি। ঘ) এই সম্পর্কে আলকাউসারের বিগত সংখ্যাগুলোতে বেশ কয়েকবার লেখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত লিখিত শরাহগুলোর মধ্যে ‘ফাতহুল কাদীর’ কে একটি অনন্য শরাহ বলা যায়। এর সাথে কিতাব হলের জন্য আল্লামা আইনী রাহ.-এর ‘আলবিনায়া’ যা ষোল খণ্ডে মুলতান থেকে ছেপেছে এবং সংক্ষেপে ‘মতলব’ বোঝার জন্য ‘ফাতহুল কাদীর’-এর টীকায় প্রকাশিত বাবেরতীকৃত আলইনায়া’ও মুতালাআয় রাখতে পারেন। আর মুহাক্কিক আলেমদের জন্য পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত ইবনে আবিল ইয্‌ হানাফী রাহ,.-এর ‘আততানবীহ আলা মুশকিলাতিল হিদায়া’ অধ্যয়নযোগ্য।

শেয়ার লিংক

ইবনে সাইর - জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মাদপুর ঢাকা-১২০৭

প্রশ্ন


আমি হেদায়া আওয়ালাইন জামাতে পড়ি, যা দরসে নিযামীর মাসআলা বিষয়ক প্রায় শেষ স্তরের কিতাব। এর প্রথম খণ্ডে ত্বহারাত, ইবাদাত সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, ফুরূআত বিলআদিল্লা আয়ত্ত করার চেষ্টা করছি, কিন্তু আমার প্রশ্ন হল : ক) দ্বিতীয় খণ্ডে কিছু বাব রয়েছে যেমন তাফবীযে তালাক, ফসলূন ফিল ইখতিয়ার ফিল আমরি বিল ইয়াদ ইত্যাদিতে উল্লেখিত আরবী আলফাযগুলো সম্পর্কে দীর্ঘ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ জানার ফায়েদা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু? এবং কীভাবে পড়লে ফায়দা বেশি হবে?

আগামীতে শেষ দুটি খণ্ড পড়ার নিয়ত আর তার সাথে অনেক আধুনিক মাসাইলের সম্পর্ক রয়েছে। যেমন ইলমুল ইকতিসাদে বিশেষ করে মাহারাত অর্জন করার খেয়াল, যেমন শাইখুল ইসলাম দা.বা. বলেছেন। এজন্য এখন থেকেই কোন পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে পরিচিতির জন্যে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পরি এ ব্যাপারে হযরতের সুপরামর্শ কামনা করি।

উত্তর


আপনি যেসব অধ্যায়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করেছেন সেখানে আরবী ইসতিলাহ ছাড়াও অনেক ফিকহী হুকুম আহকাম ও দলীলাদিও বিদ্যমান রয়েছে। এগুলোর ফায়েদা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। তাছাড়া প্রশ্নোক্ত আরবী ইসতিলাহগুলোও ফিকহে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ অবিচ্ছেদ্য অংশ। কুরআন ও সুন্নাহ থেকেই যার আহকাম উৎসারিত হয়েছে। অতএব আরবী এই ইসতিলাহ বা পরিভাষার আলোকে স্থান ও কাল ভেদে বিভিন্ন ভাষায় প্রচলিত এর সম অর্থের পরিভাষা ও ইংগিত ইশারার অর্থ অনুধাবন করে এর শরয়ী হুকুম আহকাম জেনে নিতে হবে। এক্ষেত্রে ফিকহে জাদীদ কখনো ‘ফিকহে ক্বাদীম’ থেকে ‘বে-নিয়ায হতে পারে না। হিদায়া পড়ুয়া একজন তালেবে ইলমের উচিত, প্রথমত উস্তাযের কাছ থেকে হেদায়ার মূল আরবী পরিভাষাগুলো বোঝার পর আমাদের দেশে প্রচলিত পরিভাষা ও ইশারা-ইঙ্গিত এবং প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইনের বিবাহ-তালাক সংক্রান্ত আইন ও নিয়মগুলো জেনে নেওয়া। সাথে সাথে ঐ পারিবারিক আইনের যে সব ধারা-উপধারা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক, তার জন্য মাওলানা মুফতী তাকী ওসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর অনন্য কিতাব ‘হামারে আয়েলী মাসায়েল’ও পড়ে নেয়া জরুরি। দ্বিতীয়ত কিফায়াতুল মুফতী, ইমদাদুল ফাতাওয়া বা এই ধরনের উপমহাদেশে সংকলিত অন্য কোনো ফাতাওয়ার কিতাবের এই সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো অধ্যয়ন করা। এছাড়া দেশ বা অঞ্চল ভেদে এই সংক্রান্ত আরো যে সব ইসতিলাহ প্রচলিত, প্রয়োজনের সময় সেগুলোও কোনো বিজ্ঞ মুফতী সাহেবের শরণাপন্ন হয়ে জেনে নিতে হবে। তাহলে সহজে হিদায়ার এই ধরনের মাসআলাগুলোর প্রয়োগ-ক্ষেত্র ও উপকারিতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ হবে ইনশাআল্লাহ।
এই জন্য আপনি হেদায়ার শেষ দুই খণ্ডের সাথে ফাতহ মুহাম্মাদ লাখনোভীর ‘ঈতরে হিদায়া’ নিয়মিত মুতালাআয় রাখার চেষ্টা করবেন। আর ইলমুল ইকতিসাদ বিষয়ের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে মাওলানা হিফযুর রহমান সিওহারবী রাহ. রচিত ‘ইসলাম কা ইকতিসাদী নেযাম’ (ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা) পড়ে নিন। আরো ভালো হয়, ইসলামী অর্থনীতির পাঠের সাথে সাধারণ অর্থনীতির কোনো বই অধ্যয়নে রাখা, যাতে ইসলামের সাথে প্রচলিত অর্থনীতি ও এর অসমতা সম্পর্কেও আপনি ধারণা লাভ করতে পারেন। এজন্য সাধারণ অর্থনীতির উপর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারী সিলেবাসভুক্ত কোনো অর্থনীতির বইও অধ্যয়ন করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ওমর ফারূক - ফরিদাবাদ মাদরাসা

প্রশ্ন

ক) আল্লামা তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম তাঁর জাহানে দীদাহ গ্রন্থে কনস্টান্টিনোপলের বিজয় সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি কোন কিতাবে আছে এবং তার সনদ কোন পর্যায়ের?
খ) নাসবুর রায়া’র মুকাদ্দামায় যে হাদীসগুলো ‘তাখরীজ’ করা হয়েছে, সেগুলো সবই কি সহীহ?

উত্তর

ক) জাহানে দীদাহর ঐ স্থানে দুটি হাদীস উল্লেখিত হয়েছে। কায়সারের (রোম) শহর বিজয় নিয়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভবিষ্যদ্বাণী বর্ণিত হয়েছে হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রা.-এর সূত্রে, যা সহীহ বুখারীর কিতাবুল জিহাদের রোমের সাথে যুদ্ধ সংক্রান্ত অধ্যায়ে (১/৪০৯-৪১০, হাদীস ২৯২৪) রয়েছে। আর হযরত বিশর খাসআমী রা. হতে বর্ণিত দ্বিতীয় হাদীসটি হল, لتفتحن القسطنطنية فلنعم الأمير أميرها ولنعم الجيش ذلك الجيش সম্ভবত আপনি এই হাদীসটি সম্পর্কেই জানতে চেয়েছেন। এই হাদীসটি মুসনাদে আহমদ ৪/৩৩৫, হাদীস : ১৮৯৫৭; মুসতাদরাকে হাকেম ৫/৬০৩, হাদীস : ৮৩৪৯; মুজামে কাবীর, তাবারানী, হাদীস : ১২১৬ ইত্যাদি কিতাবে রয়েছে। হাফেয নূরুদ্দীন হায়সামী রাহ. ‘মাজমাউয যাওয়ায়েদ’ কিতাবে (৬/২১৯, হাদীস : ১০৩৮৪) বলেন, ‘রিজালুহূ সিকাত’।
খ) নাসবুর রায়া’র মুকাদ্দামা বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন জানি না। আমার জানা মতে, হাফেয যায়লায়ী রাহ. তাঁর কিতাবের কোনো মুকাদ্দিমা লিখেননি। শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা দামাত বারাকাতুহুম-এর তাহকীকে সৌদী থেকে ‘নসবুর রায়া’র যে সংস্করণটি প্রকাশিত হয়েছে-যা এই কিতাবের সর্বোত্তম সংস্করণও বটে-এর শুরুর প্রথম খণ্ডটিতে ভূমিকা স্বরূপ তিনটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব সন্নিবেশিত হয়েছে। আল্লামা যাহিদ কাওছারী রাহ., শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা দামাত বারাকাতুহুম ও হাফেয কাসেম ইবনে কুতলুবুগা রাহ.-এর যথাক্রমে ‘ফিকহু আহলিল ইরাক’, ‘দিরাসাহ’ ও ‘মুনয়াতুল আলমায়ী’ দিয়েই এই প্রথম খণ্ডটি সমাপ্ত হয়েছে। তেমনি শেষ খণ্ডটিতে হল শুধু ফাহারিস। এই দুই খণ্ড ছাড়া মূল ‘নাসবুর রায়া’ হল চার খণ্ডে। আমার মনে হচ্ছে, মুকাদ্দিমা নয়; বরং মূল নাসবুর রায়ায় তাখরীজকৃত হাদীসগুলো সম্পর্কে আপনি জানতে চেয়েছেন। সে হিসাবে আরয করব, হিদায়া ফিকহে মুকারানের কিতাব। তাই হিদায়ায় প্রায় সব মাযহাবের দলীল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সে নকলী দলীল হোক কিংবা আকলী। সে জন্য যায়লায়ী রাহ.ও হিদায়ার সব হাদীসের তাখরীজ বিশদভাবে করেছেন-তা যে মাযহাবের দলীলই হোক না কেন। চাই ঐ হাদীসটিকে সরাসরি মাযহাবের ইমাম দলীল হিসেবে পেশ করুন কিংবা ঐ ইমামের অনুসারী পরবর্তী কোনো ফকীহ পেশ করুন। এই হিসাবে তাঁর তাখরীজে সহীহ, হাসান, যয়ীফসহ প্রায় সব মানের হাদীসই রয়েছে। আর স্বয়ং যায়লায়ী রাহ.ও অনেক জায়গায় হাদীসের মান ও রাবীদের ‘জারহ-তা’দীল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করে থাকেন। এগুলো দেখে আপনি আঁচ করতে পারবেন যে, এই হাদীসগুলোর সবগুলোর মান একপর্যায়ের নয়। অতএব সুনির্দিষ্ট কোনো হাদীসের মান জানতে যায়লায়ী রাহ. আলোচনা পড়া ও অন্যান্য কিতাবে এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ মুতালাআ কিংবা বিজ্ঞ কোনো আহলে ফনের দ্বারস্ত হতে হবে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নূর মুহাম্মাদ - মধুপুর, টাঙ্গাইল

প্রশ্ন

...

উত্তর

উত্তর : এই বিষয়ে ফোনে অথবা সরাসরি সাক্ষাতে কোনো পরামর্শ দেব। অন্যথায় আপনার কোনো উস্তাদ বা মুরব্বীর সাথে মাশওয়ারা করে নিন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল মালিক - ময়মনসিংহ

প্রশ্ন

আমি তাফসীরে জালালাইন জামাতের ছাত্র। আমার সমস্যা হল, দরসের কিতাবাদি বোঝার জন্য আমার নীরব, আওয়াজবিহীন মুতালাআর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেটা আমি করতেই পারি না। পারলেও দশ মিনিটের বেশি কখনো নয়। কারণ ওভাবে বসলেই আমার চোখে ঘুম নেমে আসে। অনেকের কাছে আমি সমস্যাটির সমাধান চেয়েছি। কেউ বলেছেন, চোখ ধুয়ে নিতে, কেউ মাথা ধুয়ে নিতে। কিন্তু বিশেষ ফল পাইনি। আবার কেউ কেউ পরামর্শ দিয়েছেন যে, খাবার কমিয়ে ফেলতে। আসলে যে খাবার গ্রহণ করি তা এমন বেশি নয় যে, তা থেকে খুব একটা কমানো যায়। তবু কাজটি আমি করেছি। ফল একেবারে শূন্যই। উল্টো শারীরিক দুর্বলতার কারণে ঘুম বহু গুণে বেড়ে গেছে। এখন হযরতের নিকট আরজ, আমার সমস্যার কোনো সমাধান দিয়ে প্রকৃত তালিবুল ইলম হওয়ার সাহস যোগাবেন।

উত্তর

উত্তর : আপনার এই সমস্যা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকতে পারে। প্রথমত : জীবন যাপনে নেযামের অভাব। মনে রাখবেন, প্রকৃত তালিবে ইলম সেই হতে পারে, যার প্রতিটি কাজ-কর্ম নেযাম মোতাবেক হয়। হযরত মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দা.বা. যথার্থই বলেন, ‘নেযামুল আওকাত’ ছাড়া কোনো তালিবে ইলমের যিন্দেগী বনতে পারে না।’ অতএব আপনি দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় ঘুমের জন্য নির্ধারণ করুন। এছাড়া একটি নেযামুল আওকাতের পাবন্দী করে নির্দিষ্ট সময়ে সব কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ‘ঘুমের সময় পড়া আর পড়ার সময় ঘুমের’ অভ্যাস থাকলে তা একেবারে পরিহার করুন। দ্বিতীয়ত : রাতে বা দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর পরও যদি আপনার একই সমস্যা হয় তাহলে এ বিষয়ে একটি সমাধান আমি পেয়েছি হযরত থানভী রাহ.-এর মালফুযাত, মাকতুবাত ও রাসায়েল থেকে চয়নকৃত ‘উস্তায শাগরিদ কে হুকুক’ নামক কিতাবে। হিম্মত হলে আপনি আমল করে দেখতে পারেন। হযরত থানভী রাহ. বলেন, এই ব্যাপারে আমার একটি প্রস্তাব হল, গোল মরিচ পকেটে রাখবে। যখন ঘুমের প্রকোপ বাড়বে তখন একটি মরিচ চাবাতে থাকবে। এটি দেমাগের জন্যও ‘মুকাব্বী’। তাতে ক্ষতি নেই। কারণ প্রয়োজনমতো পূর্ণ ঘুমানোর পরও যার ঘুম আসে তার এই ঘুমের কারণ হল অলসতা। তাছাড়া কম খেলে ঘুম কম আসে আর বেশি খেলে বেশি। খানা যখন উদর পুরে খাবে তখন ঘুমও চোখ ভরে নামবে। (উস্তাদ শাগরিদ কে হুকুক ৭৬-৭৭) তৃতীয়ত : কারো সামনে বিশাল বড় কোনো কাজ থাকলে কিংবা মাথার উপর গুরুত্বপূণ কোনো কাজ চেপে বসলে তার নিদ্রা তো দূরে থাক, এর চিন্তাও আসতে পারে না। আর তালিবে ইলমের জন্য ইলম অর্জনের চেয়ে বিশাল কোনো কাজ তো পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। অতএব আপনিও ইলমের মর্যাদা ও ওলামাদের মাহাত্ম এবং ইলমের ব্যাপ্তি ও প্রশস্ততার কথা বারবার ভাবুন। নিজের মধ্যে ইলমের জন্য অনির্বাণ জ্বালা ও সীমাহীন তড়প পয়দা করুন। ইলমের জন্য যারা পূর্ণ জীবন-যৌবন উৎসর্গ করেছেন, সকল আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করেছেন, তাদের জীবনী পড়ুন। এতেও ফায়দা পেতে পারেন। তবে এ কথাও ঠিক যে, এই ধরনের সমস্যা অনেক সময় শারীরিক কোনো অসুস্থতার ফলেও হয়ে থাকে। এজন্য আপনি কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। সুযোগ ও সামর্থ্য থাকলে কুষ্টিয়ার ডাক্তার তানভীর এর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা তাঁর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে পারেন। তাঁর মোবাইল নম্বরটি এই ০১৭১৭-২৮৭২২৭। ইনশাআল্লাহ ভালো কোনো পরামর্শ পাবেন বলে আশা রাখি।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবুল কালাম - ধুনট, বগুড়া

প্রশ্ন

মুহতারাম, একজন মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার প্রয়োজনে জামাতে ইসলামী ও এর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আলা মওদুদী সম্পর্কে জানা আমার খুব প্রয়োজন। এজন্য কোন কোন কিতাবের সাহায্য নিতে পারি, জানালে খুশি হব।

উত্তর

উত্তর : এ বিষয়ে আপনি নিম্নোক্ত কিতাবগুলো নিজে পড়তে পারেন এবং ‘হিকমত’ ও ‘মাওয়িযায়ে হাসানাহ’র মাধ্যমে এবং ‘ওয়া জাদিলহুম বিল্লাতি হিয়া আহসান’ এর উসূলের ভিত্তিতে তার কাছে দাওয়াত পেশ করতে পারেন। কিতাবগুলো নিম্নরূপ : ১. ‘ফিতনায়ে মওদুদিয়ত’ বা ‘জামাতে ইসলামী : এক লামহায়ে ফিকরিয়্যাহ’, শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রাহ.। ২. আসরে হাযের মে দ্বীন কি তাফহীম ওয়া তাশরীহ (ইসলামের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ), মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.। ৩. আল উসতায আলমাওদুদী, মাওলানা ইউসুফ বানুরী রাহ.। ৪. তানক্বীদ আওর হক্বে তানক্বীদ, মাওলানা ইউসুফ লুধিয়ানভী রাহ.। ৫. হযরত মুআবিয়া আওর তারীখি হাক্বায়িক (ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মুআবিয়া), মাওলানা মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম। ৬. মওদুদী সাহেব, আকাবিরে দেওবন্দ কী নজর মে, মাওলানা হাকীম মুহা্ম্মাদ আখতার দামাত বারাকাতুহুম। ৭. মাওলানা মওদুদী কে সাথ মেরী রেফাকত কী সারগুযাশত আওর আব মেরা মাওকাফ (মাওলানা মওদুদীর সাথে আমার সাহচর্যের ইতিবৃত্ত), মাওলানা মানযুর নুমানী রাহ.। ৮. তা’বীর কী গলতী, মাওলানা ওয়াহিদুদ্দীন খান। উপরোক্ত কিছু কিতাব বাংলাতেও অনূদিত হয়েছে। সেগুলো হাদিয়া দেওয়ার মাধ্যমেও তাকে দাওয়াত দিতে পারেন। সর্বোপরি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে দ্বীনের সহীহ ‘সমঝ’ দান করেন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু হানীফ - বাগেরহাট, খুলনা

প্রশ্ন

আমি একজন তালিবে ইলম। আমি ও আমার মতো অনেকেই এ অবস্থার শিকার যে, আমরা যখনই আসাতিযায়ে কেরামের মুখ থেকে বয়ান ও নসিহত শুনি, আমাদের অন্তরে তা উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং পড়াশোনায় বেশ বরকত হতে থাকে। কিন্তু পুনরায় তা হ্রাস পেতে থাকে এবং একসময় আমরা আগের অবস্থায় ফিরে আসি। হুজুরের কাছে বাংলা, উর্দু, কিংবা সহজ আরবী ভাষায় রচিত এমন কিছু কিতাবের নাম জানতে চাই, যেগুলো নিয়মিত মুতালাআ করলে পড়াশোনার প্রতি সর্বদা আগ্রহ জাগরুক থাকবে। প্রশ্ন : খ) দারুল উলূম দেওবন্দের প্রথম দিকের মুরব্বীদের আলোচনা যখনই শুনি তখনই তাদের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি এবং তাদের মতো হওয়ার জন্য মনে সাধ জাগে। কিন্তু তাদের সম্পর্কে যত আলোচনা শুনি তার বেশির ভাগই তাদের পরিণত সময়ের অথচ আমাদের বেশি জানার দরকার তাদের প্রাথমিক জীবনের কথা। তাদের ছাত্রজীবনের কথা। কীভাবে তারা পড়াশোনা করেছেন এবং নিজেদের জীবন গড়েছেন। হুজুরের কাছে আমি এমন কিছু কিতাবের তালিকা জানতে চাই, যেগুলোতে তাদের প্রাথমিক জীবনের কথা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।

উত্তর

উত্তর : ক) এ বিষয়ে ছোট-বড় অনেক কিতাব রচিত হয়েছে। তন্মধ্যে নিম্নোক্ত কিতাবগুলি অধ্যয়ন করতে পারেন। ১. পা-জা ছুরাগে যিন্দেগী (জীবনপথের পাথেয়), মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.। ২. আপ কৌন হ্যায়, কিয়া হ্যায়, আওর আপকা মানসাব ও মানযিল কিয়া হ্যায়। মাওলানা মনযুর নুমানী রাহ.। ৩. ওলামায়ে সালাফ আওর না-বীনা ওলামা, মাওলানা হাবীবুর রহমান খাঁন শিরওয়ানী। ৪. সাফাহাত মিন সাবরিল ওলামা আলা শাদাইদিল ইলমি ওয়াত তাহসীল, শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.। ৫. কীমাতুয যামান ইনদাল ওলামা, শায়খ মুহাম্মাদ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.। আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জন্য মাওলানা আসলাম শায়খুপুরীর ‘বড়ো কে বাচপান’ (বড়দের ছেলেবেলা) এবং শায়খুল হাদীস মাওলানা যাকারিয়া কান্ধলভী রাহ.-এর ‘আপ বীতি’ অনন্য কিতাব। ‘আপ বীতি’ মুতালাআ করা প্রত্যেক তালিবে ইলমের একান্ত কর্তব্য।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম - জামিআতুল আবরার, কামরাঙ্গিরচর, ঢাকা

প্রশ্ন

হযরত তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-কৃত উলূমুল কুরআন-এর ৩৩০ পৃষ্ঠায় ‘তাফসীরুল কুরআন বিলকুরআন’ এর একটি নীতি উল্লেখ করা হয়েছে। তা এই যে, কখনো কোনো বিষয় এক কিরাতে মুবহাম থাকলে অন্য কিরাত দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন : فاغسلوا وجوهكم وايديكم الى المرافق وامسحوا برؤوسكم وارجلكم الى الكعبين. এই আয়াতে ارجلكم শব্দে ‘জর’ ও ‘নসব’ দুই কিরাত রয়েছে। জরের সূরতে তরজমা দুই ভাবে হয় : ক. তোমরা মাথা মাসেহ কর এবং পা ধৌত কর, খ. মাথা ও পা মাসেহ কর। অতএব আয়াতের মর্ম মুবহাম। কিন্তু নসবের ক্ষেত্রে তরজমা নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট। ফলে তা জরের সূরতের অস্পষ্টতাকে দূর করেছে। অর্থাৎ জরের সূরতে প্রথম অর্থই উদ্দেশ্য। এখন প্রশ্ন হল, জরের সূরতে দ্বিতীয় তরজমা তো رؤوسكم এর উপর আতফ হিসাবে। কিন্তু প্রথম তরজমা (তোমরা মাথা মাসেহ কর এবং পা ধৌত কর) কীভাবে হয়েছে-তা বুঝতে পারছি না। দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

বিষয়টি উলূমুল কুরআনে কিছুটা সংক্ষিপ্ত আকারে বলা হয়েছে। পূর্ণ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়নি। সেজন্য আপনি উস্তাদে মুহতারামের তাকরীরের সংকলন ‘দরসে তিরমিযী’র (উর্দূ) ১/২৫৩-২৫৬ পর্যন্ত আলোচনাটি পড়তে পারেন। বিষয়টি সহজেই বোধগম্য হবে বলে আশা রাখি।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ বিন আলতাফ - জামিয়া মাদানিয়া ফেনী

প্রশ্ন

‘আলমাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ’ কিতাব বিষয়ে সার্বিক দিকনির্দেশনা দিলে বা কোথায় তা পাওয়া যাবে তা জানালে অত্যন্ত উপকৃত হব। উক্ত কিতাবের ২য় সংস্করণের ১০৫নং পৃষ্ঠার টীকায় একটি বিষয়ের জন্য ‘আছারুল হাদীসিশ শরীফ’ এর ১৪১-১৫১ পৃষ্ঠা জরুরি ভিত্তিতে দেখার জন্য বলা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বার সাথে পেয়েছি। কিন্তু এখানে السبب الثالث বলে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তার সাথে পূর্বের আলোচনার মিল খুঁজে পাচ্ছি না। তাই প্রশ্ন এই যে, মাদখালের হাওয়ালায় কি السبب الثالث উদ্দেশ্য, নাকি অন্য কোনো নুসখার হাওয়ালা দেওয়া হয়েছে? বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

মাদখালের হাওয়ালাটি ‘আছারুল হাদীসের দ্বিতীয় সংস্করণের। কিন্তু যে সংস্করণটি আপনি দেখেছেন তা আছারুল হাদীসের পঞ্চম সংস্করণ। তাই এই সমস্যা হয়েছে। অতএব আপনি চতুর্থ ‘সাবাবে’র উপর আরোপিত তিনটি সন্দেহ-সংশয়ের মধ্যে তৃতীয় সংশয়-সম্পর্কিত পূর্ণ আলোচনাটি পড়ে নিন। মাদখালে এই আলোচনার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা মুসান্নাফের সাথে মুদ্রিত পঞ্চম সংস্করণের ২০৮ হতে ২২২ পৃষ্ঠায় রয়েছে। আলোচনাটি আছারুল হাদীসের চতুর্থ সংস্করণে ১৮২-১৯২ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান আছে। আর মাদখাল যে উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে তা সঠিকভাবে অর্জন করতে হলে অবশ্যই ‘তাদাররুবে আমলী’রও প্রয়োজন। বিশেষত যে সকল কিতাবের আলোচনা মাদখালে করা হয়েছে, সরাসরি ঐসব কিতাবের ভূমিকা ও পরিশিষ্ট পড়তে হবে, কিতাবের বিভিন্ন সংস্করণ ও এর বৈশিষ্ট্যাবলির সাথে পরিচিত হতে হবে, মুহাক্কিকদের আলোচনা পড়তে হবে সর্বোপরি ঐসব কিতাব থেকে ফায়দা হাসিলের পথ ও পদ্ধতি জেনে কিতাবের সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক গড়ে তুললেই মাদখাল লেখা ও পড়ার পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়।

শেয়ার লিংক

আহমদ - মালিবাগ, ঢাকা

প্রশ্ন

আমি আগামী বছর মিশকাত জামাতে পড়ব ইনশাআল্লাহ। তাই এ বছর উলূমুল হাদীস বিষয়ে কিছু কিতাব মুতালাআ করার ইচ্ছা করেছি। কিন্তু কোন কিতাব মুতালাআ করব তা বুঝতে পারছি না। আমার সংগ্রহে তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস, আলমাদখাল ইলা উলুমিল হাদীসিশ শরীফ, যাফারুল আমানী, আসসুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত্‌ তাশরীয়িল ইসলামী, দিফাউন আনিস সুন্নাহ, নুখবাতুল ফিকার, ছালাছু রাসাইলা ফী ইলমি মুসতালাহিল হাদীস, তারীখে হাদীস ও মুহাদ্দিসীন নামক কিতাবগুলো আছে। এগুলি থেকে কোনটি আগে কোনটি পরে বা কীভাবে পড়ব কিংবা উলূমুল হাদীস বিষয়ে আর কী কী উপকারী কিতাব আছে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আপনার সংগৃহীত কিতাবগুলো থেকে আপনি ‘আলমাদখাল’ দিয়ে আপনার মুতালাআ শুরু করতে পারেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ড. আমর আবদুল মুনঈমের ‘তাইসীরু উলূমিল হাদীস; সংগ্রহ করে পড়ুন। এরপর আবদুল হাই লাখনোভী রাহ.-এর ‘আলআজবিবাতুল ফাযিলা’ (মুহাক্কাক নোস্‌খা) সংগ্রহ করুন। এটি এবং এর সাথে আপনার সংগৃহীত ‘সালাসু রাসাইল’টাও পড়ে নিন। আর শায়খ আবু যুহরা-এর ‘তারীখে হাদীস ও মুহাদ্দিসীন’সহ আপনার সংগৃহীত অন্যান্য কিতাব পরবর্তী মুনাসিব সময়ে পড়ে নিতে পারেন। আল্লাহই তাওফীকদাতা।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মারূফ - জামিয়া মাদানিয়া ফেনী

প্রশ্ন

আমি এ বছর শরহে বেকায়া জামাতে পড়ছি। আগামী বছর উলূমুল হাদীস-এর জন্য ওয়াকফ করার ইচ্ছা করছি। আল্লাহ সহায় হোন। এজন্য এখন থেকে উক্ত শাস্ত্রের সাথে পরিচিতি লাভের জন্য এখন ও পরবর্তী জীবনে আমার কী করণীয়? বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ রইল। হুজুরের নিকট বিশেষ দোয়ার দরখাস্ত রইল।

উত্তর

মাশাআল্লাহ। আপনার এই জযবা অবশ্যই মুবারকবাদ পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহ তাআলা আপনাকে ও আমাদের সবাইকে কবুলিয়াত ও মাকবুলিয়াত দান করুন। আমীন। আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়ে পরামর্শ হল, আপনি এখন আপনার দরসী কিতাবগুলোর মুতালাআয় পূর্ণ মনোনিবেশ করুন। বিভিন্ন আরবী শরহ-হাশিয়া মন্থন করে কিতাবী ইসতি’দাদ অর্জনে নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখুন। বিশেষত শরহে বেকায়ার উপর লিখিত আল্লামা লাখনোভী রাহ.-এর হাশিয়া ও গুরুত্বপূর্ণ মুকাদ্দামাটি অবশ্যই পড়ে নিবেন। এর সাথে যদি সময় ও সুযোগ মিলে তাহলে আপনাদের মাদরাসার কুতুবখানায় হাদীস ও উলূমুল হাদীস সংক্রান্ত যেসব কিতাবাদি রয়েছে সেগুলোর সাথে ধীরে ধীরে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু দাউদ - মাদানী নগর, ঢাকা

প্রশ্ন

নবী-রাসূল, সাহাবায়ে কেরাম এবং আসলাফে উম্মতের প্রতি যাদের অন্তরে, আমাদের ধারণায়, পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে, তাদের লেখায়ও দেখি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, রাযিয়াল্লাহু আনহু ও রহমাতুল্লাহি আলাইহ না লিখে তাঁরা নবী, সাহাবী ও সালাফের আলোচনা করেন। উদাহরণস্বরূপ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর কাসাসুন নাবিয়্যিন ও আলকিরাআতুর রাশিদার কথা উল্লেখ করা যায়। তো এ অবস্থায় তরজমা করার সময় আমরা কী করব? মূলে যেভাবে আছে সেভাবেই বলব? নাকি উপযোগী দোআ উচ্চারণ করে ইবারতের অর্থ করব? উপরন্তু অনুশীলনের উদ্দেশ্যে এ ধরনের লেখার আদলে যখন নিজেরা নতুন লেখা তৈরি করব তখন নিজেদের লেখায় তাদের নাম কীভাবে লিখব? এ ব্যাপারে মূলনীতি কী জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আরে ভাই এটা তো কাতেব আর প্রকাশকের উদাসীনতা কিংবা কাগজ বাঁচানোর খোঁড়া ফন্দি হতে পারে। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এমনটাই হয়ে থাকে। আবার ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ. কখনো নবীজীর উপর সালাত ও সালাম মুখে উচ্চারণ করে নিতেন। কলমে লিখতেন না। কিন্তু অন্যান্য সালাফ লিখায় লিখতেন, সঙ্গে মুখেও উচ্চারণ করতেন। সালাত-সালাম, তারাজ্জী ও তারাহহুম লেখায় এবং কথায় বর্জন করা অনুচিত। বিশেষত সালাত-সালাম তো পূর্ণাঙ্গ লেখা ও বলা উচিত। সময়ও কাগজস্বল্পতার অজুহাত এক্ষেত্রে একান্ত না-বরকতী ও মাহরূমীর কারণ হতে পারে। আর এজন্য من صلى علي واحدة صلى الله عليه عشرا খোশখবরী যেমন রয়েছে তেমনি البخيل من ذكرت عنده ولم يصل علي এর মতো ধিক্কারও রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের অনেক উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। এটা খুবই আফসোসের বিষয়। হাদীসের সব কিতাবের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলো দেখুন, কাগজ-কলম-কালির যথেষ্ট সমস্যা সেই প্রাচীন যুগে ছিল। তবুও তাঁরা একবারের জন্যও এই বিষয়ে কাপর্ণ্যের পরিচয় দেননি। অথচ প্রতি লাইনে লাইনে তা তাকরার হয়েছে। আল্লামা খতীব বাগদাদী রাহ.-এর কিতাব আলজামে (১/২৭০-১৭২) এ এরকম একাধিক ঘটনা রয়েছে যে, কোনো মুহাদ্দিস ইন্তেকাল করলেন। অন্য কোনো মুহাদ্দিস তাকে স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি সবুজ-সুন্দর কাপড় পরে নায-এর সাথে পায়চারী করছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, আল্লাহ আপনার সাথে কী মুআমালা করেছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। প্রশ্ন করা হল, কী আমলের বদৌলতে? তিনি বললেন, আমি হাদীস লিখতাম। যখনই আমার সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম আসত আমি প্রত্যেক বারই (পূর্ণাঙ্গভাবে) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখতাম। আল্লাহ শুধু এরই বদৌলতে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কবি খুব সুন্দর বলেছেন- ما ہرچہ خواندہ ايم فراموش كردہ ايم الا حديث يار كہ تكرار مى كنيم অতএব যতবারই নবীজীর নাম আসুক সংক্ষেপে নয়; বরং পূর্ণাঙ্গভাবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখা উচিত।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কাউসার বিন হাবীব ও ইবনে জসিম -

প্রশ্ন

ক) ইনশাআল্লাহ আগামী বছর মিশকাত জামাতে পড়ব। আমাদের মাদরাসায় উক্ত জামাতে মিশকাত, হেদায়া (৩য় ও ৪র্থ খণ্ড), শরহে আকাঈদ, তাফসীরে বায়যাবী, দেওবন্দ আন্দোলন, নুখবাতুল ফিকার ইত্যাদি কিতাব পড়ানো হয়। জানতে চাই এসব কিতাব কোন পদ্ধতি অধ্যয়ন করব এবং কোন কোন শরাহ পড়লে উপকৃত হব।
খ) অনেক সময় লেখাপড়ায় মন বসে না এবং দরস চলা অবস্থায় মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। এ বিষয়ে আমার করণীয় কী?

উত্তর

ক) এই বিষয়ে আগেও লেখা হয়েছে। আপনি আলকাউসারের বিগত সংখ্যাগুলো দেখতে পারেন। তাছাড়া একসাথে অনেকগুলো কিতাব ও সেগুলোর অধ্যয়নপদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন না করে এক দুটি কিতাব সম্পর্কে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে সহজ হয়। মিশকাতের জন্য মিরকাত ও ফযলুল্লাহ তুরবিশতী রাহ. লিখিত মাসাবিহর চার খণ্ডে সদ্য প্রকাশিত শরহ আল-মুয়াসসির’; শরহে আকাইদের জন্য নিবরাস; বয়যাবীর জন্য মুহিউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন মুসলিহুদ্দীন মুস্তফা প্রকাশ শায়খযাদা রাহ. (৯৫১ হি.) লিখিত হাশিয়ায়ে শায়খযাদা এবং নুখবাতুল ফিকারের জন্য শায়খ আকরাম নাসরবুরীর ইমআনুন নাযর প্রভৃতি কিতাব অধ্যয়ন করতে পারেন।
খ) কোনো বিষয়ের গুরুত্ব ও মাহাত্মের অনুভূতি হৃদয়ে জাগ্রত থাকলে তা থেকে মানুষের খেয়াল ফেরানোই মুশকিল। একজন তালিবে ইলমের যিন্দেগীতে ইলম অর্জন অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর কী হতে পারে? তালেবে ইলমী যিন্দেগীর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসে এমন সমস্যা আপনার তিনটি কারণে হতে পারে। প্রথমত ইলমের গুরুত্ব ও আযমতের অনুভূতি হ্রাস পাওয়া। দ্বিতীয়ত মানযিল বা ভবিষ্যত কর্মক্ষেত্র নির্ধারণে হতাশা ও দুশ্চিন্তা। তৃতীয়ত কিতাবী ইসতিদাদ যথাযথ অর্জিত না হওয়া। যাইহোক, যেহেতু কাছেই থাকেন কোনো এক অবসরে এলে আপনার সার্বিক অবস্থা ও সমস্যা বিস্তারিত জেনে কোনো পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তারীফুজ্জামান - বাঘারপাড়া, যশোর

প্রশ্ন

ক) আমি হেদায়াতুন্নাহু জামাতের ছাত্র। বিভিন্ন জুমলার তারকীবের বিষয়ে বেশ দুর্বল। এ কারণে অনেক সময় ইবারত বুঝতে কষ্ট হয়। এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য আমি কী করতে পারি কিংবা কোন কিতাব অধ্যয়ন করতে পারি জানালে কৃতজ্ঞ হব।
খ) বাংলা সাহিত্যের আমি একজন নতুন পাঠক। এ স্তরে কোন ধরনের বই পড়লে আমি সফল হতে পারি? প্রাথমিক বই পড়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ রইল।

উত্তর

ক) এই সমস্যার ব্যাপারে আলকাউসার জুমাদাল উলা ৩১ হি. মোতাবেক মে ১০ সংখ্যায় একটি মাশওয়ারা দেওয়া হয়েছে। আপনিও সে অনুযায়ী আমল শুরু করুন। ইনশাআল্লাহ, সুফল পাবেন বলে আশা রাখি।
খ) হযরত মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দা.বা.-এর পুষ্পসমগ্র সংগ্রহ করে পড়ুন। তাঁরই সম্পাদিত শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা পুষ্প ও নিয়মিত পড়তে থাকুন। মূলত নবীনদের জন্যই তাঁর উদ্যোগ। তাছাড়া তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকর্ম বিশেষত সীরাত সিরিজ, আকীদা সিরিজ ও ফাযাইল সিরিজ এবং মরহুম মাওলানা আখতার ফারূক ও মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের প্রথম দিককার লিখিত বিভিন্ন বইও পড়তে পারেন। ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম - আশরাফাবাদ, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা

প্রশ্ন

আমি জামাতে জালালাইনের একজন ছাত্র। আমাদের জামাতে জালালাইন, হিদায়া, আলফাওযুল কাবীর (এটা শেষ হয়ে আবার শুরু হয়েছে), আলইতকান ফী উলূমুল কুরআন, উলূমুল কুরআন (মাওলানা তাকী উসমানী), আহকামুল কুরআন জাসসাস (নির্বাচিত অংশ), সফওয়াতুত তাফাসীর (নির্বাচিত অংশ) এই কিতাবগুলো পড়ানো হয়। যেহেতু আমাদের মাদরাসার এই নিসাবটি অন্যান্য মাদরাসা থেকে অনেকটা ভিন্ন তাই (সদ্য আরম্ভকৃত) আলইতকান, আহকামুল কুরআন ও সফওয়াতুত তাফাসীর কিতাবগুলো থেকে ফায়দা হাসিলের পদ্ধতি সম্পর্কে আমার জানা নেই। অতএব এই কিতাবগুলো পড়া ও ফায়দা হাসিলের পদ্ধতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উস্তাদই ভালো পরামর্শ দিতে পারবেন। সংক্ষেপে এতটুকু বলা যেতে পারে যে, ইমাম আবু বকর জাসসাস রাহ. (৩৭০হি.)-এর কিতাবটি আহকামুল কুরআন বিষয়ে মৌলিক, প্রাচীন ও বিস্তৃত একটি কিতাব। ফিকহু আহকামিল কুরআন ছাড়াও এই কিতাবে তাফসীর, হাদীস, উসূলে হাদীস ও উসূলে ফিকহসহ বিভিন্ন ইলমের বৈচিত্রময় সমাবেশ ঘটেছে। এই কিতাবের একটি দীর্ঘ ভূমিকাও লিখেছেন, যা আলফুসূল ফিলউসূল নামে চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এটি উসূলে ফিকহেরও স্বতন্ত্র একটি কিতাব। এমনিভাবে আলইতকান কিতাবটিও উলূমুল কুরআন বিষয়ে একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ কিতাব। উল্লেখিত উভয় কিতাবই উলূম ও মাআরিফের ভাণ্ডার। তবে আলোচনাগুলো বোঝা ও আত্মস্থ করার জন্য উভয় কিতাবের ভাষা ও উসলুবের সাথে পরিচিত হতে হবে। এই ক্ষেত্রে হযরত থানভী রাহ. যে কোনো দরসী কিতাব বোঝার জন্য যে সাধারণ পরামর্শ দিয়েছেন প্রথমত তার উপর আমল করতে হবে। তিনি বলেন, তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া চাই : এক. সবকের পূর্বে মুতালাআ করা। দুই. সবক বুঝে পড়া, বোঝা ছাড়া সামনে না বাড়া। তিন. সবক পড়ার পর কমপক্ষে একবার তাকরার করা। চাই একাকী হোক কিংবা জামাতে। (উস্তাদ ওয়া শাগরিদ কে হুকুক পৃ. ১৪৯) দ্বিতীয়ত এই চেষ্টা করতে হবে যেন এই কিতাবগুলোর ফন্নী বহছসমূহ ফন্নী উসূল ও আন্দায মোতাবেক বোঝার যোগ্যতা পয়দা হয়। এইজন্য সংশ্লিষ্ট ফনের সঙ্গে মুনাছাবাত রাখেন এমন কোনো উস্তাদের নেগরানীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বহছ চিহ্নিত করে মুযাকারা ও তাকরার করে নেওয়া প্রয়োজন। এরপর তার খোলাসা মৌখিক ও লিখিত আকারে তার সামনে পেশ করবেন। তৃতীয়ত এই দুটি কিতাবের উসলুব ছাড়াও মূল ফনের সাথে পরিচিতি অর্জন করতে হলে আহকামুল কুরআনের জন্য মুহাম্মাদ আলী সাবুনীকৃত রাওয়ায়েউল বয়ান এবং ইতকানের জন্য তাহির জাযায়েরীকৃত আততিবয়ান লিবা যিল মাবাহিসিল মুতাআল্লিকা বিলকুরআন আলা তরীকিল ইতকান’ মাঝে মাঝে মুতালাআ করে সহযোগিতা নিতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আনিস বেদার - চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

ক) আমি আগামী বছর জালালাইন-মিশকাত জামাতে পড়ব ইনশাআল্লাহ। আমাদের মাদরাসায় উক্ত জামাতে তাফসীরে জালালাইন, মিশকাতুল মাসাবীহ, নুখবাতুল ফিকার, শরহুল আকাইদ, আলখিয়ালী আলা শরহিল আকাইদিন নাসাফিয়্যাহ ও আকীদাতুত তাহাবী কিতাব পড়ানো হয়। এই কিতাবগুলো ভালোভাবে বোঝার জন্য কোন কোন শরাহ মুতালাআ করতে পারি জানালে কৃতজ্ঞ হব। এ বিষয়ক আরবী, উর্দূ ও বাংলা ভাষার কিছু অনুবাদ ও শরহগ্রন্থের তালিকা জানালে ভালো হয়।
খ) ...।

উত্তর

ক) আসলে এইসব কিতাবের কত শরহ, অনুবাদ ও নোট বের হয়েছে তা আমার নিজেরও জানা নেই। আর তার তেমন দরকারও নেই। প্রতিদিনই তো কত ধরনের নোট বাজারে আসছে। আসলে প্রয়োজন মুতকান শরহ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের, যা কিতাব হল করা, ফনের সাথে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি এবং মুসান্নিফের মাকসাদ নির্ধারণে সহায়তা করে। একজন তালিবে ইলম এই ধরনের শরহ সংগ্রহ করতে পারে এবং পড়তে পারে। যাই হোক, প্রশোক্ত কিতাবগুলোর জন্য উল্লেখিত মানে শরহ-ই খোঁজ করুন। এই জন্য আলকাউসারের বিগত সংখ্যাগুলোর সহায়তা নিন। কিন্তু একটি কথা সবসময় মনে রাখবেন যে, একজন তালিবে ইলমের এই পরিমাণ কিতাবী ইসতিদাদ অবশ্যই থাকা উচিত যে, সে কোনো ধরনের শরহের সাহায্য ছাড়াই কিতাব হল করতে পারে। শরহ প্রয়োজন তো হয় মূলের কোনো কথা একেবারে অস্পষ্ট হলে তা হল করা কিংবা মূলের চেয়ে অতিরিক্ত কোনো ফায়দা হাসিলের জন্য। তাই সরাসরি মূল কিতাব হল করার জন্য মেহনত না করে একজন তালিবে ইলমের শরহের পেছনে পড়ে থাকা কোনোমতেই উচিত নয়। আর নোট জাতীয় বইপত্রের পেছনে পড়ার তো প্রশ্নই আসে না। খ) অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা যদি না থাকে তাহলে আল্লাহর উপর ভরসা করে আপনি চিল্লায় বের হতে পারেন। আর কুরআন মজীদের হিফয ঠিক রাখার জন্য আপনি এই ব্যবস্থাও করতে পারেন যে, আমীর সাহেবের পরামর্শসাপেক্ষে চিল্লার মধ্যে আপনার যে সব সাথীরা থাকবে, তাদের মধ্যে দু’একজনকে নিয়ে আপনি আলাদা তারাবীর ইন্তিজাম করে নিবেন। জামাতে আপনার মতো আরেকজন হাফেযে কুরআন পেলে তো কোনো কথাই নেই। তবে লক্ষ্য রাখবেন যেন এর দ্বারা অন্য কারো কোনো সমস্যা না হয়। বিশেষত এলাকার মসজিদের মুসল্লীদের। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুঈনুদ্দীন - রাহাত হুসাইন তাহফীযুল কুরআন মাদরাসা, মিরপুর-১৩, ঢাকা

প্রশ্ন

ক) আমরা কয়েকজন মিলে দ্বীনের প্রচারের উদ্দেশ্যে আলোর কাফেলা ইসলামী পাঠাগার নামে একটি ইসলামী পাঠাগার গড়ে তুলেছি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো আমাদের প্রতিষ্ঠানেরও একটি মূলনীতি প্রয়োজন। তাই জানতে চাই, এ বিষয়ে কোনো কিতাবের সাহায্য নিতে হবে কি? অন্যথায় স্বয়ং হুজুর একটি মূলনীতি বাতলে দিলে কৃতজ্ঞ হব।
খ) বিশ্বময় ইসলামের জাগরণ সৃষ্টিকারী সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমীন প্রতিষ্ঠাতা শহীদ হাসানুল বান্না রাহ.-এর জীবনী জানতে চাই।
গ)দরসে ইবরত পুস্তকের লেখক মুফতী শফী রাহ. মুফতী আযম পাকিস্তান এর জীবনী সম্পর্কিত কোনো কিতাব আছে কি? না থাকলে তাঁর জীবনী জানতে চাই।

উত্তর

ক) আপনি আল্লাহর রহমতে সবেমাত্র হিফয করছেন। এই সময়ে এত ব্যাপক চিন্তাধারা আপনার লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশ করবে বলে আশঙ্কা হয়। খুব বেশি হলে আপনি দূর থেকে তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারেন। কিন্তু সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে সংবিধান ও মূলনীতি প্রণয়ন, পাঠাগার পরিচালনা ইত্যাদি কাজে সংশ্লিষ্ট হলে আপনার তালেবে ইলমী যিন্দেগীর মাকসাদ অর্জনে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। অতএব প্রথমে অর্জনের চিন্তা করুন, পরে বিতরণের। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।
খ) শায়খ শহীদ হাসানুল বান্না রাহ. জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৩২৪ হিজরী মোতাবেক ১৯০৬ ঈসায়ী সনে মিসরের সীমান্তবর্তী আলেকজান্দ্রিয়া অঞ্চলে। কায়রোর দারুল উলূম মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। এরপর ইসমাঈলিয়া শহরে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবনের শুরু। সেখানেই তিনি আলইখওয়ানের কার্যক্রম শুরু করেন। যখন তাঁর এই বিপ্লবী দাওয়াত নর-নারী সকলের মাঝে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করে এবং যুবকশ্রেণী সশস্ত্র প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত হতে থাকে তখন সরকার ভীত হয়ে তাদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং বিপ্লবী নেতাদের জেলে বন্দী করে। প্রধান নেতা হাসান আলবান্নার উপর বিভিন্ন বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয় এবং তাকে নজরবন্দী করা হয়। এরই মাঝে একটি গুপ্ত হামলায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এটি ছিল ১৩২৬ হিজরী মোতাবেক ১৯৪৯ ঈসায়ীর ঘটনা। শাহাদাতকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৪৩ বছর। তার জীবনের উপর আহমদ আনাস হিযাজীর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে روح وريحانة من حياة داع ودعوة নামে।
গ) তাঁর জীবনী নিয়ে মাসিক আলবালাগ-এর আলবালাগ-মুফতীয়ে আযম নম্বর নামে বিশাল একটি সংখ্যা বের হয়েছে। তারই অংশবিশেষ হযরত মাওলানা মুফতী রফী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর হায়াতে মুফতীয়ে আযম এবং হযরত মুাওলানা মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর মেরে ওয়ালেদ, মেরে শায়খ নামে দুটি গ্রন্থ ভিন্নভাবেও ছেপেছে। এগুলো পড়ে আপনি তাঁর কর্মময় বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে জনতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহী বিন আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইসমাঈল হুসাইন -

প্রশ্ন

ক) আমরা যে উদ্দেশ্যে মাদরাসায় পড়ছি তার অন্যতম হল মানুষের কাছে আল্লাহর দ্বীনকে পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে আমাদেরকে সাধারণত ৪টি ভাষায় এই ইলম শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আরবী, উর্দূ, বাংলা ও ফার্সী। প্রশ্ন হল, যুগ চাহিদানুযায়ী কোনটির উপর কী পরিমাণ দক্ষতা অর্জন করা উচিত।
খ) ইলমে মানতেক কতটুকু প্রয়োজন? কিতাব বোঝার জন্য এই ইলম বোঝা শর্ত কি না?
গ) নাহু-ছরফে কী পরিমাণ পাণ্ডিত্য অর্জন করা জরুরি।

উত্তর

ক) আপনাদের মাদরাসায় যে ভাষাটিকে যতটুকু পরিমাণে পড়ানো হয় এই মুহূর্তে ততটুকু ভালোভাবে পড়া আপনাদের কর্তব্য। আরবী ভাষা দ্বীন ও ইলমের ভাষা। আরবী ভাষা কুরআন, সুন্নাহ ও শরীয়ার মৌলিক জ্ঞান অর্জনের জন্য চাবিকাঠি। তাই তা একজন তালিবে ইলমের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার দাবী রাখে। সাথে সাথে আপনার আর আপনার কওমের মধ্যকার দাওয়াতী ও দ্বীনী সম্পর্ক তৈরি করতে বাংলা ভাষারও কোনো বিকল্প নেই। আর ভারত উপমহাদেশের আকাবিরদের লেখা অসংখ্য উলূম ও মাআরিফ এখনও রয়ে গেছে উর্দূ ভাষায়। তাদের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ার জন্য উর্দূ ভাষারও প্রয়োজন। বাকি রইল ফার্সী ভাষা। দ্বীনের মৌলিক পর্যায়ের কোনো বিষয় এর উপর মাওকূফ নয়, কিন্তু তাসাওউফ, মারেফাত ও হিকমতের অনেক কিছু ফার্সী রচনাবলিতেও রয়েছে। উৎসাহী কারো জন্য এই ভাষা শিক্ষা করাও ফায়দা থেকে খালি নয়। যাই হোক, প্রত্যেক ভাষা অর্জনের মূল মাকসাদ বলে দেওয়ায় আপনি সহজে বুঝতে পারবেন যে, কোনটি অর্জনে কতটুকু মেহনত করা দরকার। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন। আমীন।
খ) এ বিষয়ে আলকাউসারে আকাবিরদের হাওয়ালায় লেখার তাওফীক হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। অনুগ্রহ করে আপনারা উভয়ে তা পড়ে নিন।
গ) নাহু-ছরফ অসীলা পর্যায়ের ইলম। সঠিকভাবে আরবী পড়া, বোঝা ও নির্ভুলভাবে লিখতে পারা তথা আরবী ভাষাজ্ঞানকে সু-সংহত করার জন্যই আরবী ব্যাকরণ বা নাহু-ছরফের প্রয়োজন হয়। অতএব কিতাবী ইসিদাদকে পাকা করার জন্য যতটুকু ব্যাকরণ প্রয়োজন তা প্রত্যেক আলেমে দ্বীনের অর্জন করা জরুরী।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহবুবে এলাহী - চাঁদপুর

প্রশ্ন

আমি একটি মাদরাসায় আততাখাসসুস ফিল ফিকহ বিভাগে অধ্যায়নরত। অনেক আশা নিয়ে ফিকহ বিভাগে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু দিনে দিনে আমার সব আশা দুরাশায় পরিণত হচ্ছে। কারণ ...।

উত্তর

এই ব্যাপারে কোনো পরামর্শ দেওয়ার জন্য আপনার সামগ্রিক অবসন্থা বিশেষত কিতাবী ইসতিদাদ সম্পর্কে জানা জরুরি। তাই দ্রুত আপনার তালীমী মুরব্বীর শরণাপন্ন হোন। তিনি এই বিষয়ে আপনাকে সুন্দর পরামর্শ দিতে পারবেন বলে আশা রাখি।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - সরসপুর, কুমিল্লা

প্রশ্ন

আমি জামাতে শরহেজামী পড়ি। নাহু, ছরফ, বালাগাতে আমার কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। ফারেগ হওয়ার পর ফিকহ পড়ার ইচ্ছা আছে। তাই আগামী বছর আদব পড়ার সাথে সাথে শরহে বেকায়া জামাতে পড়ার ইচ্ছা করেছি। এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ কামনা করছি।

উত্তর

শরহে বেকায়া জামাতের সাথে সাথে আদবও পড়ার আপনার এই পরিকল্পনাটি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। আর আদব তো একটি স্বতন্ত্র বিষয়। এই বিষয়টি নাহু-ছরফের দুর্বলতা দূরীকরণের জন্য নয়। যেকোনো ভাষার সাহিত্য এক জিনিস আর ব্যাকরণ ভিন্ন জিনিস। যাই হোক, এখন আপনার প্রধান কর্তব্য হল, কিতাবী ইসতিদাদ তৈরিতে মনোনিবেশ করা। এক্ষেত্রে প্রশ্নে বর্ণিত সমস্যাটিকে যদি বাধা মনে হয় তাহলে আলকাউসার জুমাদাল উলা ৩১, মে ১০ সংখ্যার পরামর্শ অনুযায়ী আমল শুরু করুন। আপনার পূর্ণ ইতমিনানের জন্য প্রয়োজনে ০১৭১২-৮৪১৮৪৭ নাম্বারে শুক্রবার ছাড়া অন্য যেকোনোদিন বেলা ১১টা থেকে ১২ টার মধ্যে যোগাযোগ করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যাকারিয়া সিরাজী - মাদরাসা আলী ইবনে আবী তালিব রা. , কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

প্রশ্ন

 আমরা জানি যে, ফেয়েলের জমআ মুযাক্কার গায়েব ও হাযেরের ওয়াও-এর পরে (নূন না থাকলে) আলিফ লিখতে হয়। ওয়াহিদের সীগার পর আলিফ লিখতে হয় না। অথচ কুরআন মজীদের সূরা বাইয়্যিনাতে    يتلو          এবং সূরা বাকারার ২৩ নং আয়াতে       يعفو                   

এই ওয়াহিদের সীগা দুটির ওয়াও-এর পর আলিফ লেখা হয়েছে। আবার কুরআন মজীদেরই বহু আয়াতে ওয়াহিদের সীগার ওয়াও-এর পরে আলিফ লেখা হয়নি। এর কারণ কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। 

উত্তর

ইমলার নিয়ম-কানূন অনুযায়ী প্রশ্নে বর্ণিত নিয়মটি সঠিক এবং সাধারণ লিখায়ও এটি অনুকরণীয় কিন্তু  প্রশ্নোক্ত ব্যতিক্রম দুটি এবং এই ধরনের আরো কিছু ব্যতিক্রম কুরআন মজীদে রসমে খতে’ দৃশ্যনীয়। আর এটা তো জানা কথাকুরআন মজীদের রসমে খত’ বেশ কিছু ক্ষেত্রেই সাধারণ ইমলার উসূল থেকে ভিন্ন ও ব্যতিক্রম। এবং এ নিয়ম-কানূনের উর্ধ্বে।

সাধারণ আরবী লিখন-পদ্ধতি ও কুরআন মজীদের লিখন পদ্ধতি বা রসমে খত’-এর মাঝে ছয় প্রকারের ভিন্নতা রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হল, ‘আয যিয়াদাহ।’ অর্থাৎ কুরআনী রসমে খতে এমন কিছু অক্ষর যায়েদ রয়েছেযা ওয়াসল বা ওয়াকফ কোনো হালতেই উচ্চাণ আসে না। অথচ সাধারণ আরবী লেখায় এই যিয়াদাহ নেই। যেমন আলিফওয়াওইয়া।

প্রশ্নোক্ত আলিফ দুটিও এ ধরনের। হক্কুত তিলাওয়া’ গ্রন্থের ভাষায়-

أشكوا، أدعوا، لن ندعوا، نبلوا، وما كان مثله

(হক্কুত তিলাওয়াত ৩৭৪) আরো দেখুন : আলইতকানসুয়ূতী ২/৪আযযিয়াদাতু ওয়াল ইহসানইবনে আকীলা মক্কী ২/৪৭১-৪৭২;

কিন্তু কুরআন মজীদের কিছু আয়াতে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন সূরা আম্বিয়া ৯৯ নং আয়াত-

عسى الله ان يعفو عنهم

এর রসমে খতে ওয়াও এর পর আলিফ নেই।

এখানে মূলকথা এই যেযে আয়াতে যে শব্দ ও অক্ষর যেরূপে আলমুসহাফুল ইমাম’ বা মুসহাফে উসমানীতে লিপিবদ্ধ হয়েছে হুবহু তারই অনুকরণ করতে হবে। কারণ কুরআনের এই বিশেষ রসমে খত ওহীর আলোকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সরাসরি আদেশ ও তত্ত্বাবধানে লিখিত হয়েছে। পরিভাষায় একে তাওকীফী’ বলা হয়। অতএব এতে সামান্যতম পরিবর্তনও করা যাবে না। এবং আরবী লেখার সাধারণ নিয়ম-কানূনের অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না।

উপরোক্ত কথাগুলো সহ কুরআনী রসমে খত নিয়ে উলূমুল কুরআন ও ইলমুত তাজবীদ ওয়াল কিরাআহ বিষয়ে রচিত কিতাবাদিতে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। শুধু কুরআনী রসমে খত নিয়েও স্বতন্ত্র কিতাবপত্র রচিত হয়েছে। দেওবন্দের কারী আবুল হাসান আাজমী তার রসমুল মাসহাফ আওর উসকে মাসাদিরপুস্তিকায় এ বিষয়ে মোট ৬০ টি কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর নিজেরও কুরআনী ইমলা আওর রসমুল খত’ নামে কিতাব আাছে। এই কিতাবগুলো অধ্যয়ন করলে এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন। ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement