নূর মুহাম্মাদ - চাঁদপুর

প্রশ্ন

অনেক আরব আলিমকে দেখা যায়, মুখে দাড়ি নেই কিংবা খাটো দাড়ি। অথচ দাড়ি লম্বা করা সুনানে হুদার অন্তর্ভুক্ত এবং এক মুষ্ঠির চেয়ে খাটো না করা ওয়াজিব। শুনেছি, আপনি আরব আলেমদের কাছেও পড়েছেন। তারাও কি এমন ছিলেন? আরও শুনেছি যে, আপনার একজন বিশেষ উস্তাদ, যিনি অনেক কিতাবপত্র লিখেছেন, তারও অবস্থা নাকি এমন ছিল। আপনারই এক ছাত্রের সূত্রে একজন আমাকে বলেছে যে, আপনি নিজেই নাকি তাকে এই তথ্য দিয়েছেন। সে একথাও বলেছে যে, আপনি তাকে বলেছেন, তাঁর কিতাব পড়লে ইলম পাবে, তাহকীক পাবে, কিন্তু আমল-আখলাক কিছুই নেই!


উত্তর

আরবে যদিও অনেক আলিমের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছে, কিন্তু তাঁদের মধ্যে আমার উস্তাদ শুধু দুজন : ১. শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.। ২.তাঁর শাগরিদ শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা দামাত বারাকাতুম।

শায়খ আবদুল ফাত্তাহ রাহ.কে দেখেছেন এমন হাজার-হাজার মানুষ আরবে-আজমে রয়েছেন। সবাই জানেন যে, শায়খ রাহ.-এর চেহারা ছিল পূর্ণ মাসনূন শ্মশ্রুশোভিত। দাড়ি তো সুন্নতে ওয়াজিবা, সাধারণ সুন্নত ও আদাবেরও যে গুরুত্ব শায়খের মাঝে ছিল তা জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাঁর কিতাবাদি থেকেই অনুমান করতে পারেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল : মিন আদাবিল ইসলাম, আসসুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাদলূলুহাশ শরয়ী, মুকাদিমায়ে তুহফাতুল আখয়ার বি ইহইয়াই সুন্নাতি সাইয়িদিল আবরার ইত্যাদি। আর যারা শায়খ রাহ.কে সরাসরি দেখেছেন তাদের তো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাই রয়েছে।

উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উছমানী দামাত বারাকাতুহুম লিখেছেন, আমি তাঁর (হযরত শায়খ আবদুল ফাত্তাহ) নাম প্রথম শুনি ১৯৫৬ সালে। আমার ওয়ালিদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. মুতামারে আলমে ইসলামীর সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য সিরিয়া, জর্দান, লেবানন ও ফিলিস্তিন সফর করেছিলেন। দামেস্ক থেকে হযরত ওয়ালিদ ছাহেবের যে চিঠি আসে তাতে সিরিয়ার উলামা-মাশাইখের আলোচনা ছিল। ওই চিঠিতে তিনি বিশেষভাবে হযরত শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর কথা লিখেছিলেন। ফিরে আসার পরও হযরত ওয়ালিদ ছাহেব তাঁর কথা বলতেন অত্যন্ত মুহববতের সঙ্গে। অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বলতেন যে,ইলম ও তাহকীকের অঙ্গনে যোগ্য ব্যক্তি এখনও আরবে অনেক আছেন, কিন্তু এমন ব্যক্তিত্ব খুবই কম, যারা একই সঙ্গে গভীর ইলম ও ইত্তেবায়ে সুন্নতের অধিকারী এবং যাদের আচার-আচরণে সালাফে সালেহীনের স্মৃতি জেগে ওঠে। হযরত শায়খ আবদুল ফাত্তাহ ওই দুর্লভ ব্যক্তিদেরই অন্যতম। ...

পৃথিবীতে এই নিয়মই কার্যকর যে, যারা আসার তারা আসছে আর যারা বিদায় নেওয়ার তারা বিদায় নিচ্ছে, কিন্তু এমন ব্যক্তিত্ব বিরল, যাঁদের বিদায়ে পূর্ব-পশ্চিমের সকল মানুষের হৃদয় কাঁদে। অনাত্মীয়রাও তার তিরোধানে স্বজন হারানোর বেদনা অনুভব করে। নিঃসন্দেহে হযরত শায়খ রাহ. এমন ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। একে তো এখন জ্ঞান ও পান্ডিত্যের অবনতিও দৃশ্যমান। কিন্তু তবুও কিছু ব্যক্তি এ অঙ্গনে তৈরি হচ্ছেন কিন্তু ইলম যাদের কথা ও কাজে বিকশিত, যাদের জীবন ও আচরণ ইত্তেবায়ে সুন্নত ও সালাফে সালেহীনের অনুসরণে প্রদীপ্ত, বিনয় ও খোদাভীতি এবং ভদ্রতা ও সহনশীলতায় প্রজ্জ্বোল, এমন ব্যক্তিত্বের দেখা পাওয়া তো এখন কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। এঁদের কেউ যখন বিদায় নেন তখন তো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাদের শূন্যতা পূর্ণ হয় না। (নুকূশে রফতেগাঁ, পৃ. ৩৮৯, ৩৯৩)

আমার খুব কষ্ট হয়েছে! একজন আলমী শায়খ ও মুরববী এবং মুতাওয়াতিরুল আদালাহ ওয়াস সালাহ ব্যক্তিত্বের নির্দোষিতা সম্পর্কে লিখতে হল!

শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা দামাত বারাকাতুহুম, আলহামদুলিল্লাহ, এখনও বা-হায়াত আছেন এবং ইলমে দ্বীনের  খিদমতে মগ্ন আছেন।

এখন তাঁর বয়স তিয়াত্তর বছর। গভীর ইলম, উত্তম আখলাক এবং ইত্তেবায়ে সুন্নতের বৈশিষ্ট্যে তিনি শায়খ রাহ.-এর নমূনা। বাংলাদেশ থেকে যেসব আলিম-উলামা হজ্ব ও যিয়ারতের জন্য যান এবং আরবের উলামা-মাশাইখের  সঙ্গে মুলাকাত করেন তাঁদের কাছ থেকেও জানা যেতে পারে যে, শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামাহর মুখমন্ডল মাসনূন দাড়িতে শোভিত। দীর্ঘ সময় পরে (যখন তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল ফোনে এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমে) গত দুই সফরে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ মুলাকাত হয়েছে এবং নতুন করে শায়খ রাহ.-এর স্মৃতি জাগ্রত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে হায়াতে তাইয়েবা দান করুন। আমীন।

মোমেনশাহীর একজন বড় আলিম তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পর মদীনা মুনাওয়ারা থেকে মক্কা মুকাররমায় আমাকে ফোন করে বলেছিলেন যে, আমার অন্তর সাক্ষ্য দিয়েছে যে, ইনি একজন বুযুর্গ ব্যক্তি। আরেকজন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতে গিয়েছিলেন। তাঁর মাসনূন শ্মশ্রুশোভিত নূরানী চেহারা দেখে তিনি নির্বাক হয়ে যান এবং দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত শুধু কাঁদতেই থাকেন। শেষে বহু কষ্টে কান্না থামিয়ে সালাম দেন।

তো এঁদের সম্পর্কে যে মিথ্যা কথার প্রসঙ্গে আপনি আমার উদ্ধৃতি দিয়েছে এটা পরিষ্কার বুহতান।আপনার তো এটা শুনেই বলা উচিত ছিল, সুবহানাকা হাযা বুহতানুন আযীম।

এর কারণ হল কখনও কখনও ইলম শেখার জন্য কিছু জাহেল লোকও আসে এবং তালীম-তরবিয়ত গ্রহণ না করে জাহেলই বের হয়ে যায়। এ ধরনের লোকদের পক্ষে তো এমন কথা তৈরি করা অসম্ভব নয়।

আপনি আরেকটি বিষয় চিন্তা করুন। শুধু দাড়ি না থাকার বা ছোট থাকার উপর ভিত্তি করে কীভাবে একজনকে বেআমল ও বেআখলাক বলে দেওয়া হল? কারো সম্পর্কে এই কথা সঠিক হলেও তো এ কারণে তাকে দাড়িহীন বলা যায় কিংবা বলা যায়, দাড়ির মতো একটি সুন্নতে ওয়াজিবার তরককারী। কিন্তু একেবারে আমল-আখলাক কিছুই নেই এটা কীভাবে বলা যায়? তারা যেন অনুগ্রহ করে উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা তকী উছমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর সহীহ বুখারীর দরসী তকরীর ইনআমুল বারী প্রথম খন্ডে বাব আদ্দীনু ইউসরুন পড়ে নেন। ইনশাআল্লাহ এর দ্বারা গুলূ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে এবং     চিন্তা-ভাবনায় ভারসাম্য আসবে।

সেখানে হযরত একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। চেচনিয়ায় রূশবাহিনীর আক্রমণ চলছিল। সেখানকার মজলুম মুসলমানদের জন্য সাহায্যের বিভিন্ন প্রচেষ্টা চলছে। এ সময় হযরতের একজন পুরানো দোস্ত, অত্যন্ত দ্বীনদার, সাক্ষাতের জন্য আসেন। আলোচনা প্রসঙ্গে হযরত তাকে বললেন,চেচেনিয়ার মুসলমানদের জন্য কিছু সাহায্য পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, ইচ্ছে হলে তুমিও এতে শামিল হতে পার। ওই দোস্ত বললেন, এই চেচেনিয়ার লোকেরা তো দ্বীনদার নয়! না মুখমন্ডলে দাড়ি আছে, না তাকওয়া-পরহেযগারীর কোনো চিহ্ন, কিছুই নেই!

হযরত বলেন, আমার এত বিরক্তি লাগল যে, খোদার বান্দা, মানুষের সম্পর্কে কুধারণারও তো একটা সীমা-পরিসীমা থাকে!

ওই মুসলমানরা বছরের পর বছর রাশিয়ার জুলুম-অত্যাচারের শিকার, শুধু এই জন্য যে, তারা কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে, আর তুমি বল, তাদের দাড়ি নেই!

আল্লাহকে ভয় কর, একজন কালেমা পাঠকারী শুধু কালেমার কারণে জুলুম-অত্যাচারের শিকার হচ্ছে, আর তুমি বলছ,  দাড়ি নেই, তাই সে সাহায্য পেতে পারে না। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

এই ঘটনা উল্লেখ করে হযরত রাহ. বলেন, এমন কেন? শরীয়তে (র  বিধানাবলিতে) কি কোনো পর্যায়ক্রম নেই? সবচেয়ে বড় জিনিস দাড়ি! এটা থাকলেই চলে! এরপর গীবত করুক, মিথ্যা অপবাদ দিক, লেনদেনে হাজার সমস্যা থাকুক, অন্যের হক মারুক, যা ইচ্ছা করুক, দাড়ি যেহেতু আছে অতএব দ্বীনদারদ্বীনদারের অর্থ আমরা ধরে নিয়েছি দাড়িওয়ালা। দ্বীনদার অর্থ দ্বীনের অনুসারী। তো এরা দ্বীনদারির সম্পূর্ণ অর্থ দাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে! যেন অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে দ্বীনের কোনোই সম্পর্ক নেই। নাউযুবিল্লাহ!!

আমি আরজ করছি যে, ইসলামে দাড়ি সুন্নতে ওয়াজিবা। প্রত্যেকের জন্য এটা ওয়াজিব। কিন্তু ইসলাম এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের মধ্যে একটা প্রবণতা দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে যে, আমরা দ্বীনকে বাহ্যিক বিষয়াদির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছি। এটা অত্যন্ত জঘন্য ধরনের গুলূ

তিনি আরো বলেন, এই কথাগুলো স্মরণ রাখা উচিত। আমাদের (মাদরাসার) পরিবেশে আমরা দাড়ি রাখলাম, কুর্তা পরলাম, পাজামা টাখনুর উপরে ওঠালাম তো আমরা দ্বীনদার, আর যারা বাইরে আছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, চাকুরি করছে তারা দুনিয়াদার!

কিছুদিন আগে এখান থেকে শিক্ষাসমাপণকারী একজন চিঠি লিখল। তার শব্দ এই ছিল যে, আমি এখন যে মাদরাসায় পড়ানো আরম্ভ করেছি সেখানে আমার মন বসছে না। আমার ভাই বলেন, তুমি কোনো চিন্তা করো না, দ্বীনের কাজ করতে থাক, তোমার সব খরচপত্র আমি বহন করব। কিন্তু আমার ভাই একজন দুনিয়াদার মানুষ। আমি তার কথা মানতে পারি কি?

আমি বললাম, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ! তোমার ভাই তোমার দ্বীন রক্ষার জন্য নিজের উপার্জিত অর্থ দ্বারা তোমাকে সহযোগিতা করছেন, তাকে তুমি বলছ দুনিয়াদার! আর নিজে হয়ে গেছ দ্বীনদার!! ... (ইনআমুল বারী ১/৫০১-৫০২)

যাই হোক, এই কথাগুলো প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করলাম। শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. সম্পর্কে কথা হচ্ছিল। তাঁর আখলাক সম্পর্কে শুধু একটি মন্তব্য উল্লেখ করে কথা শেষ করছি। সিরিয়ার অবিসংবাদিত বুযুর্গ আল্লামা সাইয়েদ আহমদ ছকর্ একবার বলেছিলেন, ‘‘আখলাককে যদি বলা হয়, মূর্ত হও তাহলে দেখা যাবে আবদুল ফাত্তাহ দাড়িয়ে আছেন!’’ (লিসানুল মিযান, প্রকাশকের ভূমিকা ১/৫৮)

আল্লাহ যদি চিন্তাশক্তি দান করেন তো এই এক বাক্য থেকেই অনেক কিছু অনুধাবন করা যাবে।#

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাসান - কেরানীগঞ্জ

প্রশ্ন

আমি একজন হেদায়াতুন্নাহুর ছাত্র। উক্ত কিতাবের কয়েকটি মাসআলা আমাকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাই প্রিয় বন্ধু আলকাউসারের সহযোগিতায় মহোদয়ের শরণাপন্ন হলাম। আশা রাখি প্রশান্তি পাব।

১. এই কিতাবের ৩নং পৃষ্ঠায় আছে-

أما المقدمة ففي المبادي التي يجب تقديمها

এখানে মুকাদ্দামা ও মাবাদী উভয়ের মাফহুম এক তাই যরফিয়্যাতুশ শাই লিনাফসিহ লাযেম আসে। এর জবাব আরবী-উর্দু শরাহগুলোতে এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, মুকাদ্দামা দ্বারা আলফাযে মাখছুছা এবং মাবাদী দ্বারা মাআনী মাখছুছা উদ্দেশ্য। অথবা এর বিপরীতও হতে পারে। আমার প্রশ্ন হল : ক) আলফাযে মাখছুছা ও মাআনী মাখছুছা দ্বারা বাস্তবে আমি কী বুঝতে পারি?

খ) বিষয়টা তো কোনো ফরযী বিষয় নয়। মুসান্নিফ নিজেই বলেছেন, ‘‘ওয়ারাততাবতুহু আলা মুকাদ্দিমাতিন ...’’ তাহলে তারতীব দেওয়া একটি বিষয় আলফাযে মাখছুছাও হতে পারে আবার তার বিপরীতও হতে পারে কীভাবে?

গ) কোনো কোনো উস্তাদ বলেন যে, মুকাদ্দিমাটি আম অর্থাৎ মুকাদ্দামাতুল ইলমও হতে পারে আবার মুকাদ্দিমাতুল কিতাবও হতে পারে। আর মাবাদী খাছ শুধু মুকাদ্দিমাতুল ইলম এর জন্য। তাই কোনো প্রশ্ন থাকে না।

এক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হল, মুকাদ্দিমাতুল ইলম ও মুকাদ্দিমাতুল কিতাব বাস্তবে কোন জিনিসগুলো। কিতাবে প্রদত্ত সংজ্ঞা থেকে পূর্ণ বুঝা যাচ্ছে না। আর মাবাদী আশারা যাকে বলা হয় তা কি মুকাদ্দিমাতুল ইলম-এর অন্তর্ভুক্ত না দুটোরই?

ঘ) আবার কোনো উস্তাদ বলেন, এখানে মুকাদ্দিমা শব্দটি শাব্দিক অর্থে ব্যবহৃত। অর্থাৎ যা কিছুই প্রথমে আলোচনা করা হবে অথবা আলোচনার জন্য স্থান বরাদ্ধ থাকবে তাই মুকাদ্দিমা। অতএব এখানে মুকাদ্দিমা বা অগ্রকথার স্থানে মাবাদীর কিছু অংশ আলোচনা করেছেন।

কিন্তু এই জবাবের সাথে আমি একমত নই এজন্য যে, তা কোনো কিতাবে পাইনি। এছাড়া তারতীবকৃত বস্ত্তর অস্তিত্ব থাকা তো জরুরি।

ঙ) আবার কোনো কোনো উস্তাদ বলেন, কাওয়ায়েদ এর আলোকে উভয় জবাব সহীহ। তাই আমি কোনটি মানব?

২. ১৭ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, তারকীবের জন্য শর্ত হল তারকীবে ইসনাদী না হওয়া। যেমন-شاب قرناها

 বাক্যটি ফিল ও ফায়েল দ্বারা গঠিত হয়েছে তাই তা মাবনী। এখন প্রশ্ন হল-حضر موت

অর্থাৎ حضر موت صالح

এ বাক্যটিও তো তারকীবে ইসনাদী দ্বারা গঠিত। সেটা গায়রে মুনছারিফ কেমন করে হল?

মহোদয়ের কাছে আশা রাখি, সব কটি প্রশ্নের বিস্তারিত সমাধান দিয়ে পেরেশানি দূর করবেন।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।


উত্তর

১. অত্যন্ত ধৈর্য্য ব্যয় করে আপনার চিঠিটা পড়লাম এবং আরো ধৈর্য্য ধারণ করে তা প্রকাশও করছি। বিষয়বস্ত্ত বুঝে আসার পর শাব্দিক ঘোরপ্যাচে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। সময় অতি মূল্যবান এবং তাকে ফলপ্রসূ কাজে ব্যয় করা কর্তব্য। আমার দরখাস্ত এই যে, যখন আপনি এই সব চিন্তা-ভাবনার জন্য সময় পাবেন তো সময়টা এই সব কাজে ব্যয় না করে হযরত মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ-এর কিতাব আতত্বরীক ইলাল কুরআন অধ্যয়ন করবেন এবং সে কিতাবের আলোকে কুরআন মজীদের আয়াতসমূহে নাহবী কায়েদা-কানূন প্রয়োগ করে আয়াতের অর্থ ও মর্ম বোঝার চেষ্টা করবেন।

আরো সময় থাকলে তাঁর কিতাব আততামরীনুল কিতাবীর সাহায্যে ইনশা চর্চা করবেন। এর মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ আপনার ইলম ও ফাহমে বরকত হবে এবং ইসতিদাদ তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

আপনার কোনো কোনো বাক্য থেকে কিল্লতে আদবের রেশ পাওয়া যায় যেমন-এই বাক্যটি-কিন্তু এ জওয়াবের সঙ্গে আমি একমত নই এজন্য যে, তা কোনো কিতাবে পাইনি!!

আমি বলি না যে, ইচ্ছাকৃতভাবে আপনি এমন করেছেন, কিন্তু সতর্ক না করে দিলে ইসলাহ কীভাবে হবে? এজন্য বিষয়টার দিকে শুধু একটুখানি ইশারা করে দিলাম।

২. حضر موت শব্দের যবত করতে গিয়ে ইয়াকুত হামাভী (৬২৬ হি.) মুজামুল বুলদান (খন্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৩১৩) গ্রন্থে লেখেন-

بالفتح ثم السكون وفتح الراء والميم

অর্থাৎ উচ্চারণটা হল হাদরা মাওত। তাহলে এটা জুমলায়ে ফিলিয়্যাহ হল? এরপর কী দলীলের ভিত্তিতে এর তরজমা حضر موت صالح করেছেন?

কোনো নবী সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য দলীল ছাড়া কোনো কিছু বলে দেওয়া ঠিক নয়।

বুলদান বিষয়ক গ্রন্থাদিতে এবং লুগাত-এর বিস্তারিত গ্রন্থসমূহে এই শব্দের তাহকীক দেখলে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, শব্দটা গায়রে মুনসারিফ হওয়াই নির্ধারিত নয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নেয়ামতুল্লাহ ফরীদী - ফরিদাবাদ মাদরাসা

প্রশ্ন

...


উত্তর

আপনার প্রশ্ন পেয়েছি, কিন্তু যেহেতু তা সুওয়ালনামা আকারে বড়দের প্রতি এক অভিযোগনামা। তাই তা প্রকাশ করা সমীচীন মনে হল না। আপনার কাছে দরখাস্ত এই যে, আপনি মাওলানা যায়েদ মাজাহেরী নদভীকৃত ইসলামী হুকূমত আওর দুসতূরে মামলাকাত (যা হাকীমুল উম্মত রাহ.-এর গ্রন্থাদি এবং তাঁর খুতবাত ও মালফূযাত থেকে নির্বাচিত বিষয়বস্ত্তর দ্বারা প্রস্ত্তত করা হয়েছে) অধ্যয়ন করুন।

কিতাবুল জিহাদ ইবনুল মুবারক এর অনুবাদের শুরুতে আমার লিখিত ভূমিকাটিও অধ্যয়ন করুন। এরপর যদি কোনো ইলমী প্রশ্ন বাকি থাকে তাহলে সে সম্পর্কে লিখবেন। ইনশাআল্লাহ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। আর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিষয় জানতে চাইলে সাক্ষাতে আলোচনা করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ এবং দ্বীনী গায়রত দান করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহেদ মাহমুদ - শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ

প্রশ্ন

আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া। তাঁর অনুগ্রহে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। অনেক কিতাব পড়ে থাকলেও জিহাদের মাসায়েল সম্পর্কে তেমন অবগত হতে পারিনি। তাই এমন কিছু কিতাবের নাম জানাবেন, যার দ্বারা উক্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারি। না থাকলে হযরতের নিকট আবেদন, বিষয়ে বিস্তারিতভাবে কিতাব লিখতে।

 

 

খ) আমি মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে প্রকাশিত কিতাবুল জিহাদ-এ আপনার লেখা ভূমিকা  পড়েছি। এখন আমার প্রশ্ন, আজ দেখা যায়, তাবলীগ জামাতের সাধারণ ব্যক্তি থেকে নিয়ে মুরুবিবগণ পর্যন্ত জিহাদের আয়াত ও হাদীস তাবলীগের ফযিলত, গুরুত্ব বর্ণনার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকেন। তাছাড়া সাহাবাদের জিহাদী সফরের ইতিহাসকে এমনভাবে বর্ণনা করেন যেন সাহাবাগণ রা. কেবল দাওয়াতের কাজই করেছেন। জিহাদ করেননি। তাই এই বিশাল জামাত কুরআন, হাদীসের অপব্যাখ্যার গুনাহে জড়িত নয় কি? এজন্য আলেম সমাজের কর্তব্য কী?

 

 

 

 

 

উত্তর

উস্তাদ মুহতারাম হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম তাকমিলা ফাতহুল মুলহিমে (খন্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ১৪) জিহাদের অর্থ ও তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উল্লেখ করে দুটি কিতাবের কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। 

আহাম্মিয়্যাতুল জিহাদ ফী নাশরিদ দাওয়াতিল ইসলামিয়া ড. আলী ইবনে নুফাই;আশশারীয়াতুল ইসলামিয়া ওয়াল-কানূনুদ দুওয়ালিয়্যুল আম ড. আব্দুল কারীম যাইদান। 

এটা তাঁর মাজমূআতু বুহূছিন ফিকহিয়্যাতে শামিল রয়েছে। 

দারুল মানারা, জিদ্দা থেকে একটি কিতাব প্রকাশিত হয়েছে আলজিহাদু ফী সাবীলিল্লাহ হাকীকাতুহু ওয়া-গায়াতুহু, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আলকাদেরী। কিন্তু এটা তেমন উন্নতমানের গ্রন্থ নয়। 

বস্ত্তত জিহাদের অর্থ, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং এর মৌলিক মাসায়েল সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করাই হল প্রয়োজনীয় বিষয়। এ বিষয়ে আয়াতুল জিহাদ আহাদীসুল জিহাদ মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়ন করা জরুরি। সংক্ষিপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর এবং শরহে হাদীসের আলোকে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাগাযী, খুলাফায়ে রাশেদীনের গযওয়াসমূহ এবং সাহাবা-তাবেয়ীন যুগের গযওয়াসমূহ মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়ন করা চাই। এরপর খিলাফত বিলুপ্ত হওয়ার পর মুসলিহীনে উম্মাহর জীবনী এবং তাদের দাওয়াত ও জিহাদের ইতিহাসও অধ্যয়ন করা জরুরি। তাহলে এ বিষয়ে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা অর্জন করা সম্ভব হবে। সব ধরনের প্রান্তিক চিন্তাভাবনা থেকে মুক্ত থাকার জন্য উপযুক্ত অধ্যয়ন ও বিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের সাহচর্য গ্রহণের বিকল্প নেই।

মাসায়িলের জন্য নির্ভরযোগ্য ফিকহগ্রন্থের রাহনুমায়ী জরুরি। যেমন শরহুস সিয়ারিল কাবীর সারাখসী, আলমুহীতুল বুরহানী, ফাতহুল কাদীর, রদ্দুল মুহতার এবং তার মৌলিক সূত্র-মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকও অধ্যয়ন করা চাই।

তবে শর্ত হল ফিকহে মুদাল্লাল ও ফিকহে মুকারান অধ্যয়নের ইসতিদাদ থাকতে হবে।

আপনি এ বিষয়ে লিখতে বলেছেন, দুআ করুন, আল্লাহ তাআলা যেন, কলব, কলম ও সময়ে বরকত দান করেন, সিহহত, আফিয়ত এবং হায়াতে তাইয়্যেবা তবীলা নসীব করেন। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ হলে এ বিষয়ে লেখার ইচ্ছা আছে।

আমার জানা মতে জিহাদের পারিভাষিক অর্থে যেসব আয়াত ও হাদীস এসেছে মুরববীরা  সেগুলোর অর্থ শুধু দাওয়াত বলেন না। তবে তারা সাবীলুল্লাহর ফযীলত বিষয়ক নুসূখের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা অবলম্বন করেন। আর এটা তো স্পষ্ট যে, লুগাত ও উরফ-দুই দিক থেকেই সাবীলুল্লাহ শব্দটা ব্যাপক। (দেখুন রফীক আমজাদ কাসেমীকৃত আওয়া লাইসা ফী সাবীলিল্লাহি ইল্লা মান কুতিল।) কিন্তু যেখানে পূর্বাপর দ্বারা জিহাদের বিশেষ অর্থ (ফিকহী পরিভাষার জিহাদ) নির্ধারিত হয়ে যায় সেখানে সম্প্রসারিত অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই।

জিহাদ দাওয়াতেরই একটি প্রকার। মানুষকে দ্বীনের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য সাহাবায়ে কেরামের জিহাদের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করার অর্থ জিহাদকে অস্বীকার করা হয় না কিংবা সাহাবায়ে কেরামের জিহাদের ঘটনাবলি বিকৃত করে দাওয়াতের ঘটনাও বানানো হয় না। আপনি হযরত মাওলানা ইউসুফ ছাহেব রাহ.-এর কিতাব হায়াতুস সাহাবা অধ্যয়ন করুন। তাতে দাওয়াত, হিজরত, নুসরত, জিহাদ ইত্যাদির জন্য ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় আছে। জিহাদের ওয়াকেআতের উপর দাওয়াত শিরোনাম লাগানো হয়নি।

এরপর থাকল আম মানুষের অতিরঞ্জন সেটা হিকমতের সঙ্গে সংশোধনের চেষ্টা করা কর্তব্য। এ প্রসঙ্গে একটি প্রচেষ্টা হল, মাদরাসাগুলোর মানগত উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া। এ বিষয়ে তাবলীগী ভাইরাও আরো অধিক সহযোগিতা করুন। যাতে অধিক পরিমাণে যোগ্যতাসম্পন্ন আলিম তৈরি হয় এবং যাতে যোগ্যতাসম্পন্ন ও উন্নত আখলাকের অধিকারী মুদাররিসের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি একটি সমন্বিত নিয়মের অধীনে তাবলীগের মারকাযসমূহে এবং সাল ও তিন চিল্লার জামাতগুলোতে যোগ্যতাসম্পন্ন আলিমের অভাবও পূরণ হয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান - বাগেরহাট, খুলনা

প্রশ্ন

 আলকাউসারের বিগত কয়েক সংখ্যায় মাওলানা আতাউর রহমান খান রাহ.-এর প্রবন্ধ বা বয়ান ছাপা হয়েছে। আমি নিয়মিত তা পড়েছি এবং আল্লাহর শোকর অনেক উপকৃত হয়েছি। তবে এ ব্যাপারে আমার কয়েকটি প্রশ্ন রয়েছে।

১. এ আলোচনা কি হযরতের কোনো বয়ান না প্রবন্ধ? বয়ান হলে তা কোথায় হয়েছিল?

২. আলোচনার শেষ অংশে তিনি তাবলীগ জামাতে চিল্লা লাগানোর জন্য তাগিদ করেছেন। এজন্য ভালো লেগেছে। কিন্তু তাঁর এ কথাটা ভালো লাগেনি যে, এখন তো শায়েখও নেই, মুরীদও নেই। ইসলাহও নেই। কাজেই এখন পথ হল তাবলীগে কিছুটা সময় দিয়ে নিজের ইসলাহ করা। এতে কি এ যুগে সুলূক ও তাযকিয়াকে একেবারে নফী করা হচ্ছে না? আর বাস্তবেই তাবলীগ জামাতের দ্বারা কি সুলূক ও তাযকিয়ার প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায়? আশা করি বিস্তারিত উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

(ক) এটি তাঁর একটি দীর্ঘ বয়ান, যা রেকর্ড করা হয়েছিল। সামান্য সংক্ষেপ করে-বলতে গেলে হুবহু-ই ছাপা হয়েছে। গত অক্টোবর ২০০৮ ঈ. সংখ্যায় তাঁর ওফাতের উপর তাঁর ছাহেবযাদার নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। তার ভূমিকাতে আমি লিখেছিলাম তাঁর এই বয়ান মারকাযুদ দাওয়াহ্য় হয়েছিল। আমার অনুরোধে তিনি পুরো বয়ান একই বিষয়ের উপর করেছিলেন। নিজের কথা না বলে তিনি তাঁর আকাবিনেরর কথা বলেছিলেন। বর্তমানে যা খুবই কম।

(খ) এই বক্তব্যটি আপনার কাছে এজন্য ভালো লাগেনি যে, আপনি একে সম্পূর্ণ শাব্দিক অর্থে গ্রহণ করেছিলেন। অথচ এ যুগে তাযকিয়ার প্রয়োজন অস্বীকার করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না কিংবা শুধু চিল্লা লাগানোর দ্বারা তাযকিয়া ও ইসলাহে নফসের কাজ হয়ে যায়, আলাদা মেহনতের প্রয়োজন নেই একথা বলাও উদ্দেশ্য ছিল না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যদি তাবলীগের চিল্লা উসূল মোতাবেক লাগানো হয় এবং চিল্লার মধ্যে স্বীয় নফসের ফিকির বেশি করা হয় তাহলে ঈমান ও আমলের উন্নতি হয় এবং নফসেরও ইসলাহ হয় কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তাযকিয়া ও সুলূকের জন্য ভিন্নভাবে মেহনত করার এবং বুযুর্গদের সোহবত গ্রহণ করার কোনো দরকার নেই।

মনে রাখা দরকার, এ রকম ধারণা ঠিক নয়। তাবলীগ জামাতের মুরুববীদের কর্মপদ্ধতি ও তাঁদের দিকনির্দেশনা দ্বারাও এরকম ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।

হযরত মাওলানা ইলিয়াস দেহলভী রাহ. (১৩০৩-১৩৬৩ হি.) প্রথমে হযরত গাঙ্গুহী রাহ.-এর হাতে বাইয়াত হয়েছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর হযরত শাইখুল হিন্দ রাহ. (১৩৩৯ হি.)-এর পরামর্শে হযরত মাওলানা খলীল আহমদ সাহারানপুরী রাহ. (১২৬২-১৩৪৫ হি.)-এর হাতে বাইয়াত হয়ে তাঁর তারবিয়াত ও নেগরানিতে থেকে সুলূকের স্তরগুলো অতিক্রম করেন এবং খেলাফত লাভ করেন। (হযরত মাওলানা ইলিয়াস আওর উনকী দ্বীনী দাওয়াত পৃ. ৫৪,৫৭)

দ্বিতীয় হযরতজী মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ কান্ধলভী রাহ. (১৩৩৫-১৩৮৪ হি.) হযরত মাওলানা ইলিয়াস রাহ.-এর হাতে বাইয়াত হয়েছিলেন এবং তাঁর খলীফা ও ইজাযতপ্রাপ্ত ছিলেন। (সাওয়ানেহে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ কান্ধলভী রাহ. পৃ. ১৯০-২০৭)

তৃতীয় হযরতজী মাওলানা এনামুল হাসান রাহ. (১৩৩৬-১৪১৫ হি.) ও হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস দেহলভীর হাতে বাইয়াত ছিলেন এবং তিনিও তাঁর ইজাযতপ্রাপ্ত খলীফা ছিলেন। (সাওয়ানেহে হযরতজী ছালিছ খ. ১, পৃ. ২২২-২২৯)

ইতিহাস সাক্ষী যে, তাঁরা দাওয়াতী কাজের শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও তাযকিয়া ও সুলূকের কাজকে গুরুত্ব দিতেন এবং নিজেদের লোকদেরকে এর গুরুত্ব বোঝাতেন।

হযরত দেহলভী রাহ.-এর যুগে তাবলীগী মেহনতের সঙ্গে জড়িত অনেক বুযুর্গই হযরত মাওলানা আবদুল কাদের রায়পুরী রাহ.-এর হাতে বাইয়াত ছিলেন। হযরত দেহলভী রাহ. চিঠির মাধ্যমে তাদেরকে স্ব স্ব ওযীফা ও যিকর আদায় করার তাগিদ দিতেন। স্বয়ং তিনি নিজেও ফুরসত না পাওয়া সত্ত্বেও রায়পুর খানকায় এবং সাহারানপুরের দরসগাহে সময় দিতেন। এর ধারাবাহিকতা পরবর্তী দুই হযরতজীর সময়ও বজায় ছিল।

বাকি রইল একটি প্রশ্ন, অর্থাৎ পূর্বে যেমন আকাবির মুসলিহ ছিলেন এখন তো তেমন নেই, তার উত্তর হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ. এভাবে দিয়েছেন যে, হাদীসের উস্তাদদের মধ্যে যেমন এখন বুখারী ও মুসলিম নেই (ফিকহের ক্ষেত্রে আবু হানীফা ও মালিক নেই) তেমনি তাসাওউফের শায়েখদের মধ্যে জুনাইদ ও শিবলীও নেই।

কিন্তু এখনও যে সমস্ত উস্তাদ ও মাশায়েখ আছেন তাদের দ্বারাই প্রয়োজন পূরণ হচ্ছে। যদি তাসাওউফের  ক্ষেত্রে জুনাইদ  ও শিবলী থাকা জরুরি মনে করা হয় তাহলে হাদীসেও তো বুখারী ও মুসলিম থাকা জরুরি মনে করতে হবে। এ রকম হলে তার অর্থ দাঁড়াবে বর্তমানে কোনো ইলমই হাসিল করা যাবে না ...!! (আপবীতী খ. ৬, পৃ. ৪৩৫-৪৩৭; ইফাযাতে ইয়াউমিয়াহ খ. ২, পৃ. ২৩২)

হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রাহ. আপবীতী-তে আরো লিখেছেন যে, একটি জরুরি বিষয়ে খুবই গুরুত্বের সাথে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আকাবিরের চলে যাওয়ার পর কিংবা কোনো শায়খের ইন্তেকালের পর অনেক লোক পরবর্তী ওয়ালাদের মধ্যে ঐ গুণগুলো দেখতে চায় যেগুলো শায়খের মধ্যে ছিল। অথচ এটা তো স্পষ্ট যে, প্রত্যেক উত্তরসূরীর যোগ্যতা তার পূর্বসূরী থেকে কম হয় (ব্যতিক্রমও হয় যদি আল্লাহ চান) এজন্য যারা আগের বুযুর্গদের সিফাত পরবর্তী বুযুর্গদের মধ্যে দেখতে না পেয়ে তাদের সাহচর্য থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখে, তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদেরকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। 

চাচাজান (হযরতজী দেহলভী) রাহ.-এর পরে অনেক লোক আমার কাছে মৌলবী ইউসুফের ব্যাপারে অভিযোগ করতে লাগল যে, তাঁর মধ্যে তো ঐ গুণগুলো নেই যা হযরত দেহলভী রাহ.-এর মধ্যে ছিল।

আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা ঠিকই বলেছ, কিন্তু হযরত দেহলভীর মধ্যেও হযরত সাহারানপুরী রাহ.-এর গুণাবলি ছিল না। তোমাদের একথা সত্য যে, চাচাজানের মধ্যে যে গুণাবলি ছিল তা মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফের  মধ্যে নেই, কিন্তু তোমরা তার সমসাময়িকদের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখবে তার পরবর্তী ওয়ালাদের মধ্যেও ঐ গুণাবলি নেই যেগুলো মৌলবী ইউসুফের মধ্যে আছে।

এখন মাওলানা এনামুল হাসান রা.-এর যুগে বেশি পরিমাণে একথা শুনছি যে, তার মধ্যে মাওলানা ইউসুফ রাহ.-এর গুণাবলি নেই।

তো আমি বলি, আরে দোস্ত! এর পরে যে আসবে তার মধ্যে ঐ গুণাবলিও থাকবে না যা মাওলানা এনামুল হাসানের মধ্যে আছে। যে যায় সে তো ফিরে আসে না। কিন্তু পূর্ববর্তীদের মধ্যে যা ছিল তা বর্তমান ব্যক্তিদের মধ্যে নেই এই ধারণার কারণে বর্তমানদের নিকট থেকে ফায়দা হাসিল করা থেকে বিরত থাকা নিজের ক্ষতি করা ছাড়া আর কিছুই নয়। (আপবীতী খ. ৪, পৃ. ৫-৬) 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইদুর রহমান - জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

(ক) বর্তমানে অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে পড়াশোনার জন্য ছাত্রদেরকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়। ফলে ছাত্ররা বিরাট চিন্তার সম্মুখীন হয় এবং ভাবতে থাকে একসঙ্গে এতগুলো বিষয়ের ইলম কীভাবে অর্জন করা সম্ভব। ফলে দেখা যায়, কিতাবী যোগ্যতা খুব কমই হয়। জনাবের নিকট আমার প্রশ্ন হল, এ বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জনের মূল সময় কোনটি? কখন থেকে এ বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা আমাদের জন্য  উপযোগী হবে?

(খ) অর্থনীতি বিষয়টা অন্যের কাছে কেমন জানি না তবে আমার কাছে খুবই জটিল মনে হয়। এ সম্পর্কে বাংলায় অনেক বই আছে কিন্তু তা পড়ে কিছুই বুঝে আসে না। শত চেষ্টা করেও কোনো বিষয় আয়ত্ব করতে পারি না। তাই প্রাথমিক অবস্থায় কোন ধরনের বই পড়লে উপকৃত হতে পারি জানালে খুশি হব।


উত্তর

(ক)  ইলম হাসিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হচ্ছে, ধারাবাহিকতা ও পর্যায়ক্রম। সালাফ বলেছেন, যে একসঙ্গে সবকিছু অর্জন করতে চায় সে সব হারায়। এজন্য এ নিয়ে  চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনি ভাবছেন কেন যে, সব কিছু আপনাকে এখনই হাসিল করতে হবে। ইলম হাসিলের সময় তো দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত। তবে কখন কোন বিষয়টা পড়তে হবে তার ফয়সালা প্রত্যেক তালিবে ইলমের তালীমী মুরববীই করতে পারেন। আপনিও আপনার তালীমী মুরববীর সঙ্গে পরামর্শ করুন।

এই বিষয়ের প্রাথমিক অধ্যয়ন কুদূরী-কানযের সঙ্গেই হতে পারে। তবে এই জামাতের উপযুক্ত মানসম্মত কিতাব পাওয়া যাবে কি না-এটাই প্রশ্ন। হিদায়া ছালিছের সঙ্গে এই বিষয়ের অধ্যয়ন অবশ্যই শুরু করা উচিত। তবে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ মেহনত প্রয়োজন। সেজন্য তো গোটা জীবনই রয়েছে। শর্ত হচ্ছে আগ্রহ ও নিযামুল আওকাতের পাবন্দী।

আপনার এই কথা ঠিক যে, প্রাথমিক পর্যায়ে তালিবে ইলমের জন্য মূল বিষয় হচ্ছে কিতাবী ইসতিদাদ পয়দা করা। যে তালিবে ইলমের জন্য যে কাজ এই বিষয়ে প্রতিবন্ধক হয় তার কর্তব্য হচ্ছে ওই বিষয় পরিহার করে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে ইসতিদাদ তৈরির চেষ্টা করা।

(খ) মানুষের স্বভাব ও যোগ্যতা এক হয় না। তাই এমন হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে, এক ব্যক্তি কোনো এক বিষয়ে খুবই আগ্রহী অথচ অন্য বিষয়ে মন দেওয়া তার জন্য খুবই কঠিন। তবে বিষয়টি যদি প্রয়োজনীয় হয় তাহলে নিজের উপর বল প্রয়োগ করে হলেও প্রয়োজন পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা উচিত। এখন আপনার জন্য কোন কিতাব উপযোগী হবে তা আপনার তালীমী মুরববীর নিকট থেকে জেনে নিন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফীক দিন এবং ইলমের দ্বার আপনার জন্য উন্মুক্ত করে দিন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - ফরিদাবাদ মাদরাসা

প্রশ্ন

(ক) আমি মিশকাতের ছাত্র। আমার অবস্থা হল, আমি তরজমা ছাড়া ইবারত পড়তে পারি না। তরজমা জানলে ইবারত সহজেই পড়তে পারি। ইবারত থেকে মুবতাদা-খবর, হাল, মুতাআল্লিক ইত্যাদি নির্দিষ্ট করতে দেরি হয়।


(খ) আমার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ খুবই কম। আগ্রহের সময় অনেক পৃষ্ঠা পড়ে ফেলতে পারি। তবে অধিকাংশ সময়ই আগ্রহ থাকে না। অতএব কীভাবে সব সময় আগ্রহ নিয়ে পড়তে পারি তার উপায় জানাবেন।


(গ) আমাদের উস্তাদে মুহতারাম হাফেযে হাদীস মাওলানা যিকরুল্লাহ সাহেব হুজুর মাদরাসায়, মসজিদে উলূমুল হাদীসসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর অনেক দরস দেন কিন্তু আমার দরসি কিতাব হল করতে অনেক সময় লেগে যায়। তাছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ আছে যেন পরীক্ষায় সিরিয়ালে থাকি।

এজন্য দরসী কিতাবের পিছনে সময় দিতে গিয়ে হুজুরের মজলিসে বসতে পারি না। অপর দিকে মনে খুব আফসোসও হয়। এ ক্ষেত্রে আমি কী করতে পারি?


উত্তর

(ক) তরজমার মোটামুটি ধারণা না থাকলে তো কোনো ইবারতই সঠিকভাবে পড়া সম্ভব নয়। মর্ম সম্পর্কে কিছুটা আঁচ করতে না পারলে আমিলমামূল ও মামূলের প্রকার কীভাবে নির্ণয় করবেন? আর কিছুটা বিলম্বে হলেও তো চিন্তা-ভাবনার দ্বারা মুবতাদা-খবর, হাল, মুতাআল্লিক ও অন্যান্য বিষয় নির্ণয় করতে পারেন। এটাও তো সামান্য নয়। ইনশাআল্লাহ মুতালাআ যত বাড়বে এবং যত বেশি চিন্তাভাবনা করা হবে ততই তা সহজ হতে থাকবে। ওয়াল্লাহুল মুয়াফফিক্ব।

 

(খ) অপ্রাসঙ্গিক চিন্তা ও ব্যস্ততা যত কম হবে এবং ইলমের সঙ্গে  সম্পর্ক ও মুহাববত যত গভীর হবে ততই আগ্রহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাবে। যে পরিমাণ আগ্রহ বিদ্যমান রয়েছে তা পূর্ণরূপে কাজে লাগালে তা বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপনার সামান্য অংশও বিনষ্ট করবেন না। আর যখন উদ্দীপনা থাকে না তখন আল্লাহর কথা স্মরণ করে সবর ও ধৈর্য্যের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এভাবে কাজ করতে থাকলে একসময় আল্লাহ তাআলা জীবনকে কর্মোদ্দীপনায় পূর্ণ করে দিবেন এবং উদ্দীপনাহীন সময়েও কাজ করে যাওয়ার হিম্মত দান করবেন।

 

(গ) যদি দুটোর মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা না যায় তাহলে সর্বাবস্থায় দরসী কাজকর্মকেই প্রাধান্য দিতে হবে। গায়রে দরসী কাজের ব্যাপারে মা লা ইউদরাকু কুল্লুহু লা ইউতরাকু কুল্লুহু  নীতি অনুসরণ করবেন।

আপনার কাছে একটি দরখাস্ত এই যে, নিজ উস্তাদের নিকট থেকেই ইলমী লকবসমূহের মর্ম ও প্রয়োগের নিয়মনীতি সম্পর্কে জেনে নিন এবং এটাও জেনে নিন যে, হাফিযুল হাদীসের সর্বনিম্ন পর্যায় কী?

শেয়ার লিংক

মাওলানা আদিল কাউছারী - চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

 ...


উত্তর

আপনি সরাসরি সাক্ষাতে উত্তর জেনে নিবেন। 

শেয়ার লিংক

হাবীবা বিনতে আবদুস সামাদ - ৯৭/৮ পাটগুদাম ব্রীজ মোড়, ময়মনসিংহ

প্রশ্ন

জুমাদাল উলা ২৮হি. সংখ্যায় আপনার কাছে পরামর্শ নিয়ে কুরআন বোঝার মেহনত করছিলাম। আততরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ, তামরীন, ছরফ, নাহব শেষ করে এখন আততরীক ইলাল কুরআন পড়ছি। পাশাপাশি তাফসীরুল কুরআন লিল আতফাল পড়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু সমস্যা হল, তাফসীরুল কুরআনের অর্থ বুঝতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ, ইবারতের যে অসুবিধা ছিল তা অনেকটা কেটে গেছে। ইবারত পড়তে পারি, কিন্তু অর্থ করতে পারি না। অনেক সময় এমন হয়, অর্থটা বুঝতে পারছি কিন্তু প্রকাশ করতে পারছি না। যেসব শব্দের অর্থ জানা নেই সেসব শব্দার্থ অভিধান দেখে তো বের করি কিন্তু পুরো বাক্যের অর্থ সাজাতে পারি না। সমস্যাটা আমার জন্য খুব জটির হয়ে যাচ্ছে। কীভাবে এই কিতাবের উপর মেহনত করব তারপর অন্যান্য কিতাব পড়ব বুঝতে পারছি না। হুজুর যদি এ ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দিতেন তাহলে অত্যন্ত উপকৃত হতাম।


উত্তর

আপনার তালীমী হালত যা জানালেন তাতে তাফসীরুল কুরআন লিলআতফাল এত কঠিন হওয়ার কথা নয়। তবে একথাও ঠিক যে, কোনো নতুন কিতাব শুরু করলে তাতে কিছু জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে যাওয়ার কারণ নেই। এ ধরনের সমস্যা উস্তাদের নিকট থেকে সমাধান করা যায়। এরপর কিতাবের সঙ্গে পরিচয় বৃদ্ধি পেলে সকল জটিলতা ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাবে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ এনামুল হাসান - ফরিদপুর

প্রশ্ন

শরহে হাদীসের কিতাবে দুটো নাম পাওয়া যায় : ইবনুল কাত্তানআলকাত্তান। এঁরা কি দুজন না এক ব্যক্তি? দুজন হলে কি এঁরা পিতা-পুত্র না এদের মধ্যে এমন কোনো সম্পর্ক নেই?


উত্তর

এরা দুজন ভিন্ন ব্যক্তি। আলকাত্তান উপাধীতে প্রসিদ্ধ হলেন ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ আলকাত্তান আলকূফী। তাঁর ইন্তেকাল ১৯৮ হিজরীতে। তিনি ইলমুল জরহ ওয়াত তাদীলের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। ইবনুল মাদীনী, ইবনে মায়ীন, আহমদ ইবনে হাম্বল ও তাদের সহপাঠীদের উস্তাদ। আর তাঁর   উস্তাদদের মধ্যে ইমাম আবু হানীফা রাহ. অন্যতম। তিনি ইমাম ছাহেবের ফিকহের অনুসারী ছিলেন।

পক্ষান্তরে ইবনুল কাত্তান নামে অধিক প্রসিদ্ধ ব্যক্তি হলেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ আলফাছী। তাঁর মৃত্যু ৬২৮হিজরীতে।

তাঁর গ্রন্থাবলীর মধ্যে বয়ানুল ওয়াহামি ওয়াল ঈহাম আলওয়াকিআইনি ফী কিতাবিল আহকাম (লিআব্দিল হক আলইশবীলী) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গ্রন্থটি মুদ্রিত ও প্রকাশিত। #

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ - গোপালগঞ্জ

প্রশ্ন

আর কদিন পরেই পরীক্ষার পর কওমী মাদরাসাগুলোতে দীর্ঘ ছুটি আরম্ভ হবে। এই সময় ছাত্রদের জন্য কী কী করণীয় তার একটি তালিকা দিলে ভালো হত। বিশেষ করে মুতালাআর ব্যাপারে রাহনুমায়ী অবশ্যই দিবেন।


উত্তর

এ বিষয়ে আমি বিগত বছরগুলোতে কয়েকবার লিখেছি। মৌলিক কথা এই যে, প্রত্যেক তালিবে ইলম স্বীয় তা’লীমী মুরববীর মশওয়ারা অনুযায়ী ছুটির সময়গুলো কাজে লাগাবে। এ সময়ে পিতা-মাতার খেদমত করবে, তাঁদের সান্নিধ্যে থাকবে। দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করবে। ইলমী ত্রুটি-অপূর্ণতাগুলো দূর করার চেষ্টা করবে কিংবা অধিক তারাক্কীর জন্য মুতালাআর কোনো তারতীব তৈরি করবে। সুলূক ও ইহসানের জন্য শায়খের সোহবতে থাকবে। মোটকথা, বিভিন্নভাবে ছুটিকে কাজে লাগানো যায়। যার জন্য যেটা অধিক উপযুক্ত তার সেটাই করা উচিত। বিশেষ কোনো কাজের পরিকল্পনা না থাকলে রমযানের ছুটির সর্বোত্তম আমল হল, তেলাওয়াতে কুরআন, তাদাববুরে কুরআন এবং পিতা-মাতার খেদমত। নেযামুল আওকাত (রুটিন) তৈরি করে কিছুটা সময় মুতালাআর জন্য রাখা ভালো। এক্ষেত্রে পরবর্তী তা’লীমী সালের জন্য প্রস্ত্ততিমূলক মুতালাআ সবচেয়ে উপকারী।

প্রস্ত্ততিমূলক মুতালাআ বলতে পরবর্তী বছরের নেসাবভুক্ত কিতাবাদি, সেগুলোর মুসান্নিফ, শরাহ-হাশিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে অবগতি লাভ করা। কোন কিতাবটি আদ্যোপান্ত মুতালাআ করার মতো, কোনটা মূল কিতাব হল করার জন্য অধিক উপযোগী তা নির্ধারণ করা। নতুন কোনো ফন আসলে তার সাথে পরিচিত হওয়া। কোনো কিতাবের শুরুতে মুসান্নিফ বা শারেহের পক্ষ থেকে লেখা বিস্তারিত মুকাদ্দিমা মুতালাআ করা। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইকবাল হুসাইন - যশোর

প্রশ্ন

আমি মাদানী নেসাবের ২য় বর্ষের ছাত্র। বর্তমানে বাড়িতে আববা কঠিন রোগে আক্রান্ত, আম্মাও পূর্ব থেকেই অসুস্থ। ভাইয়েরা দ্বীনী ইলম না থাকায় যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাই পরিবার থেকে আমার প্রতি চাপ হল, তাড়াতাড়ি পড়াশুনা শেষ করে মা-বাবার খেদমতে নিয়োজিত হও। তাই আমার প্রশ্ন, কীভাবে ৫ বছরের অবশিষ্ট নেসাব ৩/৪ বছরে শেষ করতে পারি? একটি সুপরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করছি।


উত্তর

মেহেরবানী করে স্বীয় তা’লীমী মুরববীর সঙ্গে আলোচনা করুন কিংবা সরাসরি সাক্ষাত করুন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান - বাগেরহাট

প্রশ্ন

আমি ইনশাআল্লাহ আগামী বছর দাওরায়ে হাদীসে ভর্তি হব। আমি আপনার কাছ থেকে দুটি বিষয় জানতে চাই।

ক) শামায়েলে তিরমিযীর কোনো ভালো শরাহ থাকলে জানাবেন। তা উর্দু হোক বা আরবী।

খ) দাওরায়ে হাদীসের নেসাবের মধ্যে ত্বহাবী শরীফ রয়েছে। কিন্তু আমার মনে পড়ে কোথাও আমি তহতাবী নামেও একটি কিতাব দেখেছিলাম। প্রশ্ন হল, দুটো কি একই কিতাব না ভিন্ন ভিন্ন? নাকি আমি ভুলে ত্বহাবীকে তহতাবী পড়েছি?


উত্তর

ক) ইমাম তিরমিযী রাহ. কর্তৃক সংকলিত ‘আশশামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ’ গ্রন্থের প্রসিদ্ধ শরাহ কয়েকটি। যেমন, মোল্লা আলী ক্বারী রাহ. (১০১৪ হি.) কৃত ‘জমউল ওয়াছাইল’, তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজার মক্কী হাইতামী রাহ. (৯৭৪ হি.) কৃত ‘আশরাফুল ওয়াছাইল’, আল্লামা আবদুর রউফ মুনাভী (১০০৩ হি.) এরও একটি শরাহ রয়েছে যা ‘জমউল ওয়াছাইল’-এর সাথে হাশিয়ায় ছাপা হয়েছে। তাছাড়া রয়েছে ইবরাহীম বাজূরী (১১৯৮-১২৭৭ হি.) কৃত ‘আলমাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ’। এ সবগুলোই মুদ্রিত এবং সংগ্রহ করাও কঠিন নয়। মোল্লা আলী ক্বারী রাহ.-এর শরাহ অধিক বিস্তারিত আর রাজূরী রাহ.-এর শরাহ সহজ ও সংক্ষিপ্ত। এর উপর শায়েখ মুহাম্মাদ আউয়ামার সংক্ষিপ্ত তা’লীকও রয়েছে।

উর্দূতে শায়খুল হাদীস মাওলানা যাকারিয়া রাহ. (১৪০২ হি.)-এর ‘খাসাইলে মুহাম্মদী’ একটি প্রসিদ্ধ শরাহ। এছাড়া শামায়েল বিষয়ে সালেহ আহমদ শামীকৃত ‘মিন মায়ীনিশ শামাইল’ খুবই চমৎকার একটি কিতাব। শামায়েল সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য সীরাতের বিস্তারিত আলোচনা সংবলিত কিতাবগুলোর পাশাপাশি ‘ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন’-এর সংশ্লিষ্ট অধ্যায় মুতালাআ করে নিলে ভালো।

খ) ইমাম আবু জা’ফর তহাভী রাহ. হাদীস, তাফসীর ও ফিকহ বিষয়ে মুজতাহিদ পর্যায়ে উন্নীত  ছিলেন। তিনি হাদীসের প্রসিদ্ধ ছয় ইমামের সমসাময়িক। জন্ম ২৩৯ হিজরীতে এবং ওফাত ৩২১ হিজরীতে।

পক্ষান্তরে সাইয়েদ আহমদ তহতাবী তেরো শতকের একজন আলিম। তার ওফাত ১২৩১ হিজরীতে। ফিকহ বিষয়ে মারাকিল ফালাহ শরহু নূরুল ইযাহ এবং আদদুররুল মুখতার শরহু তানবীরুল আবছার-এর উপর লিখিত হাশিয়া গ্রন্থটি সুপরিচিত এবং সমাদৃত। আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রাহ. রদ্দুল মুহতারের বহু জায়গায় তাঁর বরাত দিয়েছেন এবং দ্ব বর্ণ  দ্বারা তাঁর দিকে ইশারা করেছেন।

ইমাম তহাবী রাহ. মিশরের সাঈদ শহরের নিকটবর্তী ‘তহা’ নামক গ্রামের দিকে মানসূব আর তহতাবী মিশরের ‘সুয়ূত’ শহরের নিকটবর্তী একটি গ্রাম ‘তহতা’-এর দিকে মানসূব্ আহমদ তহতাবী রাহ. প্রকৃত পক্ষে তুরষ্কের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পিতা ‘তহতা’-এর কাযী নিযুক্ত হয়ে সেখানে প্রেরিত হন। (তথ্যসূত্র : শরহু মুশকিলিল আছার মুকাদ্দিমাতুত তাহকীক; আল আ’লাম খায়রুদ্দীন যিরিকলী) #

শেয়ার লিংক

একজন ছাত্র -

প্রশ্ন

হযরতের কাছে একটু দুআ চাচ্ছি আর নিম্নোক্ত তিনটি বিষয়ের যেসব কিতাব বাজারে পাওয়া যাবে তার শুধু নামগুলো লিখে দেওয়ার আবেদন করছি। চাই তা মুস-াকিল কিতাব হোক অথবা কোনো তাফসীরের কিতাব হোক। ‘আততারীখুল ইসলামী’, ‘ই’রাবুল কুরআন’, ‘মুফরাদাতুল কুরআন’।

উত্তর

আল্লাহ তাআলা আপনার দুআ কবুল করুন। আমার জন্য, আপনার জন্য এবং সকলের জন্য। আমীন। কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করা হল। ক. মুফরাদাতুল কুরআন ১. আলমুফরাদাত ফী গরীবিল কুরআন, রাগিব আসফাহানী (৫০২ হিজরী) ২. আলগরীবাইন, আবু উবাইদ আলহারাভী (৪০১ হিজরী) ৩. মাআনিল কুরআনি ওয়া ই’রাবুহ্, আবু ইসহাক আযযাজ্জাজ (৩১১ হিজরী) ৪. মা‘আনিল কুরআন, আবু যাকারিয়্যা আলফাররা (২০৭ হিজরী) ৫. তাফসীরু গরীবুল কুর‘আনিল আযীম, আবু আবদুল্লাহ আররাযী (৬৬৬ হিজরী) (ইনি ফখরুদ্দীন আররাযী নন।) ৬. কালিমাতুল কুরআন, হাসানাইন মুহাম্মাদ মাখলূফ (১৪১০ হিজরী) ৭. লুগাতুল কুরআন (উর্দূ) হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ নু’মানী রাহ. (শেষ দুই পারা মাওলানা সাইয়েদ আবদুল দা-ইম জালানী করেছেন।) খ. ই’রাবুল কুরআন ১. মুশকিলু ই’রাবিল কুরআন ২. ই’রাবু ছালাছীনা সূরাতাম মিনাল কুরআনিল কারীম, ইবনে খালূয়াহ (৩৭০ হিজরী) ৩. ইমলাউ মা মান্না বিহির রাহমান, আবুল বাকা আলউকবারী (৬১৬ হিজরী) ৪. আদ্দুররুল মাসূন ফী উলূমিল কিতাবিল মাকনূন, আসসামীন আলহালাবী (৭৫৬ হিজরী) ৫. ই’রাবুল কুরআন ওয়া বয়ানুহু ওয়া ছরফুহ, মাহমুদ সাফী ৬. আল জাদওয়াল ফী ই’রাবি কিতাবিল্লাহিল মুরাততাল ৭. ই’রাবুল কুরআন, মুহিউদ্দীন আদদারবেশ গ. আততারীখুল ইলামী ১. তারীখুল ইসলাম, শামসুদ্দীন যাহাবী (৭৪৮ হিজরী) ২. আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাছীর আদদিমাশকী (৭৭৪ হিজরী) ৩.ইরবাউল গুম্র ফী আম্বাইল উম্র, ইবনে হাজার আসকালানী (৮৫২ হিজরী) ৪. শাযারাতুয যাহাব, ইবনুল ইমাদ আল হাম্বলী ( ১০৮৯) ৫. তারীখে মিল্লাত ৬. আখতাউন ইয়াজিবু আন তুসাহহাহা ফিততারীখ, জামাল আবদুল হাদী ও ওয়াফা মুহাম্মাদ রিফআত। ৭. তারীখে দাওয়াত ওয়া আযীমত, মাওলানা আবুল হাসান আলী নাদাভী।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আহমদ আবদুল্লাহ - সিলেট

প্রশ্ন

ক) আমি আগামী বছর ‘কাফিয়া’ জামাতে পড়ব। হুজুরের কাছে পরামর্শ চাচ্ছি যে, মাহে রমযান কিভাবে কাটাব। কোন কিতাবগুলো পড়লে ভালো হবে? কাফিয়ার কোন শরাহটি পড়লে ভালো হবে? কার লেখা তরজমায়ে কুরআন পড়ব? জানিয়ে উপকৃত করবেন। এ জামাত সম্পর্কিত সকল পরামর্শ দান করবেন বলে আশা রাখি। খ) আলহামদুলিল্লাহ আমার পড়া তাড়াতাড়ি মুখস' হয়, কিন' বেশিক্ষণ স'ায়ী থাকে না, ভুলে যাই। এ সম্পর্কে করণীয় কী? জানালে খুশি হব।

উত্তর

ক) আপনি যখন এই লেখাটি পড়বেন তখন হয়তো শাওয়াল শুরু হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে রমযানুল মুবারকের খায়র ও বরকত নসীব করুন। মূল উত্তরের আগে একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তা এই যে, আপনি প্রথমে ‘কাফিয়া’র কথা উল্লেখ করেছেন। এরপর ‘তরজমায়ে কুরআন’ সম্পর্কে। অথচ উচিত ছিল, প্রথমে ‘তরজমায়ে কুরআন’কে উল্লেখ করা। বাংলা তরজমাসমূহের মধ্যে এমদাদিয়া থেকে প্রকাশিত তরজমা, যা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ রাহ. ও মাওলানা আবদুল মজীদ ঢাকুবী প্রমুখ আলিমগণ কর্তৃক সম্পাদিত একটি নির্ভরযোগ্য অনুবাদ। ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের অনুবাদটিও তুলনামূলক ভালো। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। তা এই যে, ‘তরজমাতুল কুরআন’ শব্দের চেয়ে ‘তরজমাতু মা‘আনিল কুরআন’ শব্দ ব্যবহার করা অধিক সমীচীন। কেননা, কুরআন কারীমের পূর্ণাঙ্গ ও যথার্থ অনুবাদ মানুষের সাধ্যের বাইরে। ‘কাফিয়া’র সঙ্গে ‘শরীফ’ যুক্ত করার প্রয়োজন ছিল না। কাফিয়ার সংক্ষিপ্ত হাশিয়াগুলোর মধ্যে আমার মতে ‘যীনী যাদাহ’ উপকারী হবে। তবে রযীউদ্দীন ইস-ারাবাদী কৃত শরাহটি, যা শরহুর রাযী নামে পরিচিত, কাফিয়ার ফন্নী শরাহ, যা বিস-ারিত ও প্রামাণিক আলোচনা সমৃদ্ধ। আসাতিযায়ে কেরাম নাহবী মা’লূমাত বৃদ্ধি ও ফনের পরিপক্কতার জন্য কাফিয়ার মূল সূত্র-‘আলমুফাসসাল’ ও তার শুরুহ অধ্যয়ন করতে পারেন। কাফিয়া জামাত হচ্ছে মৌলিক ইসতি’দাদ তৈরির শেষ জামাত। তাই নিজের তা’লীমী মুরব্বীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের ইসতি’দাদ পরীক্ষা করুন এবং এ প্রসঙ্গে যা কিছু করণীয় যত্নের সঙ্গে করতে থাকুন। খ) মুখস'কৃত বিষয় ভালোভাবে মনে রাখার জন্য বারবার পড়া, অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং বিভিন্ন প্রসঙ্গে তা আলোচনায় আনা-এই কৌশলগুলোই অনুসরণ করতে হয়। জরুরি বিষয়গুলো যদি আলোচনায় রাখা হয় খাতায় নোট করা হয় এবং মাঝে মাঝে তাতে নজর বুলানো হয় তাহলে ধীরে ধীরে স্মৃতিতে বসে যাবে ইনশাআল্লাহ। তবে ভুলে গেলেও সাহস হারানো ঠিক নয়। অতি প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ব্যক্তিও সব কিছু স্মরণ রাখতে পারে না। কিছু জিনিস সেও ভুলে যায়। সর্বোপরি ‘ইনসান’ কীভাবে ‘নিসইয়ান’ থেকে পূর্ণমুক্তি পাবে?

শেয়ার লিংক

সুগরা বিনতে সিদ্দীক - শহীদ বাড়িয়া

প্রশ্ন

আমি হেদায়া আওয়ালাইন পড়ছি। আগামী বছর মেশকাত (সাথে জালালাইনও) পড়ব ইনশাআল্লাহ। আগামী বছরের কিতাবগুলো, বিশেষত তাফসীর ও হাদীস বিষয়ক, ভালোভাবে আয়ত্ত করার জন্য কি কি গ্রন' সহায়ক হতে পারে এবং রমযানের দীর্ঘ ছুটিতে আমাদের এ স-রের ছাত্রীদের জন্য করণীয় কী? উল্লেখ্য, আমি আরবী ও উর্দূ কিতাবাদি পড়লে মোটামুটি বুঝি।

উত্তর

আপনার চিঠি সম্ভবত দেরিতে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা পাঠকবৃন্দের সামনে আসতে আসতে রমযানুল মুবারক বিদায় নিয়ে যাবে। রমযানুল মুবারকের মূল কাজ তো হল সিয়ামে রমযান, কিয়ামে রমযান (তারাবী, তাহাজ্জুদ), তিলাওয়াতে কুরআন, মুতালাআয়ে কুরআন, তাওবা-ইসি-গফার ও অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকর। অন্যান্য কাজ শুধু প্রয়োজন পরিমাণে হওয়া চাই। আর যদি আমাদের পূর্বসূরীদের মতো রমযান মাসে রমযানের জন্যই ফারিগ ও সকল ঝামেলা থেকে মুক্ত হওয়া যায় তবে তো নূরুন আলা নূর। মিশকাত-জামাতের কিতাবসমূহের বিষয়ে আমি বেশ কয়েকবার লিখেছি। এখন শুধু এটুকু বলছি যে, আপনি অধিক মনোযোগ দিন যেন হাদীস শরীফের শুদ্ধ ও প্রাঞ্জল তরজমা করতে পারেন এবং তার সঠিক মর্ম অনুধাবন করতে পারেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনমতো অন্যান্য ‘ইলমী বহছ’ অধ্যয়ন করুন। উপরোক্ত দুই বিষয়ে সহযোগী গ্রন'সমূহ সম্পর্কে জানতে চাইলে অনুগ্রহপূর্বক আলকাউসারের বিগত সংখ্যাগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাতায় দেখুন অথবা আপনার আসাতিযায়ে কেরাম থেকে জেনে নিন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - নাগড়া, গোপালগঞ্জ

প্রশ্ন

...

উত্তর

যে বিষয়ে আপনি সংশয়ে ভুগছেন তা আপনার তা’লীমী মুরব্বীর সামনে পেশ করুন। তিনিই আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবেন। তবে আপনার নিম্নোক্ত বাক্য সম্পর্কে একটু ভাবুন তো - ‘আমি কোন দিকে যাব, আমার মত গ্রহণ করব না হুজুরের’!!

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলী - আলজামিয়া আলমাদানিয়া ফেনী

প্রশ্ন

আমি একজন মুতাওয়াসসিত দরজার ছাত্র। বর্তমানে হিদায়া আওয়ালাইন পড়ছি। আমার স্বপ্ন দ্বীনের বড় খিদমত করা, কিন' কিভাবে তা বাস-বায়িত হবে এ নিয়ে বেশ চিন-ায় রয়েছি। কারণ আমার মাঝে কয়েকটি বিষয় আড়াল হয়ে রয়েছে। ক) আমি কিতাবাদি কিছুটা বুঝলেও নিজ চেষ্টায় পূর্ণ বুঝি না। কারণ আমি ইলমে নাহুতে দুর্বল। নাহুর সাধারণ মাসআলাগুলো বুঝলেও জটিল মাসআলাগুলো কম বুঝে আসে এবং স্মরণও বেশি থাকে না। এ দুর্বলতার কারণে অনেক সময় আমার ইবারত বুঝতে কষ্ট হয়ে যায়। এ অবস'ায় আমি নাহুর এই দুর্বলতা কাটানোর জন্য এবং ইবারতের ঘাটতি পূরণের জন্য নাহুর কোন কিতাবটি পুনরায় পড়ব এবং কিভাবে পড়ব। কিভাবে তামরীন করলে এ সকল সমস্যার সমাধান হবে। খ) আমার দরসে মন তেমন বসে না। নানা প্রকার চিন-া আসে। তাই কিতাব বুঝতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। অনেক সময় একেবারেই মুতালাআ করতে ইচ্ছা করে না। এমনকি মনে হয় যেন আমি ছাত্র জীবনে মুতালাআকে আসল উদ্দেশ্য বানাতে পাড়ছি না। ফলে আমি মুতালাআর স্বাদ পাই না। অতএব কিভাবে অধ্যয়ন করতে হবে এবং কি আমল করতে হবে? গ) মনে হয় যেন আমি পরিপূর্ণ ইসতি’দাদ, তাফাক্কুহ ও রুসূখ ফিল ইলম অর্জন করতে পারছি না। এগুলো অর্জনের জন্য আমাকে কি পদ্ধতিতে মেহনত করতে হবে বিস-ারিত জানিয়ে বাধিত করবেন। ঘ) হুজুরের নিকট আমার জন্য একটু খাসভাবে দুআর দরখাস- রইল। আমিও হুজুরের জন্য আন-রিকভাবে দুআ করছি এবং করতে থাকব ইনশাআল্লাহ।

উত্তর

ক) সমস্যা সম্পর্কে আপনার অনুমান যদি সঠিক হয় তাহলে এর জন্য করণীয় হচ্ছে, ‘আননাহবুল ওয়াজিহ’ বা ‘আতত্বরীক ইলান নাহব’ তামরীনসহ পড়-ন। অর্থাৎ যেভাবে কিতাবে তামরীণ করতে বলা হয়েছে সেভাবে তা করতে থাকুন যেন তা এমনভাবে আত্মস' হয়ে যায় যে, কিতাবের বাইরের মিছালসমূহেও তা প্রয়োগ করতে পারেন। এরপর কোনো উস-াদের নিকটে ‘ হেদায়াতুন্নাহব’ কিতাবটি বুঝে বুঝে পড়-ন ও আত্মস' করার চেষ্টা করুন। খ) এর জন্য চিন-া-ভাবনা কমানোর পন'া অবলম্বন করতে হবে। এর সাধারণ কৌশল হল সকল অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে দূরে থাকা এবং যথাসম্ভব নিজেকে ইলম ছাড়া অন্য সকল ঝামেলা ও ব্যস-তা থেকে মুক্ত রাখা। আর রূহানী চিকিৎসা এই যে, অন-রকে আল্লাহর মহব্বতে পরিপূর্ণ করুন। দুশ্চিন-া দূর করার জন্য মাছূর কিছু দুআ সর্বদা অযীফা আকারে পাঠ করুন। সঙ্গে সঙ্গে একাগ্রতার পক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয়-গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার এবং তাওবা-ইসি-গফারের পাবন্দী করার চেষ্টা করুন। আরেকটি রূহানী চিকিৎসা এই যে, নিজের মধ্যে ইলমের মহব্বত পয়দা করার চেষ্টা করা, যার জন্য সম্ভবত ১০ টি কৌশল আলকাউসারের বিগত কোনো সংখ্যায় লেখা হয়েছিল। গ) এ বিষয়েও ইতিপূর্বে কয়েকবার সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা হয়েছে। আগামী কোনো সুযোগে বিস-ারিতভাবেও লেখার ইচ্ছা আছে। ঘ) আমীন ওয়া লাকা মিছলু যালিকা ওয়া আয‘আফুহু।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হুসাইন আহমদ - বাইতুস সালাম

প্রশ্ন

অনেক সময় অনেক কষ্ট করেও মুতালাআয় মন বসাতে পারি না। জানতে চাই, মুতালাআয় মন বসানোর জন্য কোনো আমল আছে কি না?

উত্তর

মন কেন বসে না? নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। অন্যান্য ব্যস-তা কিংবা দুশ্চিন-া-দুর্ভাবনা। যদি প্রথম কারণ হয় তাহলে সেসব অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। ইলমের জন্য একনিষ্ঠতা ও ঐকানি-কতা অপরিহার্য। অন্য সকল ব্যস-তা পরিহার করুন ইনশাআল্লাহ মন বসতে থাকবে। আর যদি দুশ্চিন-া ও দুর্ভাবনার কারণে ইলমের প্রতি মনোনিবেশ করতে না পারেন তাহলে তার চিকিৎসা এই যে, আল্লাহ তাআলার দিকে রুজূ করুন। নিজেকে ও নিজের সকল বিষয়কে আল্লাহ তাআলার সোপর্দ করে ভারমুক্ত হোন এবং পড়াশোনায় মগ্ন হয়ে যান। সকাল-সন্ধ্যা নিম্নোক্ত মাছূর দুআ পাঠ করুন : মনে রাখবেন, মন বসে না বলে বসে থাকা রোগবৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। মন বসে না-এই ওয়াসওয়াসাই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। মন বসালেই বসবে, জোর করে কাজে লেগে গেলেই মন বসবে। এজন্য ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজে লেগে যান এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করুন। কখনো মুতালাআয় বিরক্তি সৃষ্টি হলে কিছুক্ষণ ইসে-গফার ও দরূদ পাঠ করুন। কোনো সংক্ষিপ্ত সূরা তেলাওয়াত করুন। এরপর পুনরায় মুতালাআ শুরু করুন ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাফিয ইবনে সোহরাব - হাটহাজারী মাদরাসা চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

আমি দাওরায়ে হাদীসের একজন ছাত্র। সহীহ বুখারীর জন্য ফাতহুল বারী, সহীহ মুসলিমের জন্য ফাতহুল মুলহিম এবং জামে তিরমিযীর জন্য দরসে তিরমিযী মুতালাআ করার ইচ্ছা করেছি। কিন্তু ফাতহুল বারী পরিপূর্ণভাবে মুতালাআ করার সময় পাই না। সুতরাং ফাতহুল বারী ও ফাতহুল মুলহিম মুতালাআর সময় কোন কোন বিষয়ের প্রতি অধিক দৃষ্টি রাখব? আশা করি, জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

খুবই উত্তম নির্বাচন। তবে জামে তিরমিযীর জন্য ‘মাআরিফুস সুনান’ মুতালাআ করাও জরুরি। উল্লেখিত কিতাবগুলো হচ্ছে উলূম ও মাআরিফ এবং আসরার ও রুমূয-এর ভাণ্ডার। তাই সেসব আলোচনা আত্মস্থ' করার জন্য বারবার মুতালাআ করতে হবে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে। এখন আপনি যা মুতালাআ করবেন তা হবে প্রাথমিক মুতালাআ। তাই চেষ্টা করুন, যেন কিতাবগুলোর ‘ফন্নী বহছসমূহ’ ফন্নী উসূল ও আন্দায মোতাবেক বোঝার যোগ্যতা পয়দা হয়। এর জন্য অবশ্য ওই ফনগুলোর সঙ্গে আপনার মোটামুটি সম্পর্ক থাকতে হবে, যা এসব কিতাবের আলোচনায় প্রয়োগ করা হয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট ফনের সঙ্গে মুনাছাবাত রাখেন এমন কোনো উস্তাদের নেগরানীতে প্রত্যেক কিতাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘বহছ’ মুযাকারা ও তাকরার করে নেওয়াও প্রয়োজন। এরপর তার খোলাছা মৌখিক বা লিখিত আকারে তাঁর সামনে পেশ করবেন। সব তালিবে ইলমের জন্য তো দাওরায়ে হাদীসের বছর এসব কিতাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আগাগোড়া মুতালাআ করা সম্ভব নয়। তবে আল্লাহ তাআলা যাদেরকে ‘কিতাবী ইসতি’দাদ’ দান করেছেন তাদের জন্য জরুরি হল একটু মেহনত করে এসব কিতাবের সাহায্যে ‘ফন্নী ইসতি’দাদ’ তৈরি করে নেওয়া। আপাতত এই মৌলিক কথাটি বলেই শেষ করছি। আপনার যদি আগ্রহ হয় তাহলে এই কিতাবগুলো থেকে এমন কিছু ‘বহছ’ নির্বাচন করুন, যা ফন্নীভাবে বোঝা আপনার কাছে কঠিন মনে হয়। অতঃপর সে সম্পর্কে ‘আলকাউসারে’ প্রশ্ন করুন। তবে এক চিঠিতে একটি প্রশ্নের বেশি লিখবেন না। আল্লাহ তাআলার তাওফীক অনুযায়ী সাহায্য করার চেষ্টা করব।

শেয়ার লিংক

হাবীবুল্লাহ, সাইফুল্লাহ - রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

আমরা হিদায়াতুন নাহু জামাতের ছাত্র। দরসে নিযামীর শুরু থেকেই পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হিদায়াতুন নাহু কিতাবটির লেখক কে এবং তিনি কোথাকার লোক? এই তথ্য আমরা সঠিকভাবে জানতে পারিনি। এ সম্পর্কে সামর্থ্য অনুযায়ী যেসব তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছি তা প্রশ্নের সঙ্গে সংযুক্ত করা হল। আশা করি, এ বিষয়ে যথাযথ ও তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা করে আমাদেরকে বিভ্রান্তি মুক্ত করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন। আমীন।

উত্তর

মাশাআল্লাহ, অনেক মেহনত করেছেন। আল্লাহ তাআলা আরো তারাক্কী দান করুন। আমীন। সংযুক্ত কাগজটিতে এক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, ‘আবু হাইয়ান নাহবী’কে ‘হেদায়াতুন নাহু’ কিতাবের মুসান্নিফ বলা হয়েছে। এটা যে ভুল এতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা, তাঁর রচনাবলির উসলূবই আলাদা। আর এ পর্যন্ত যত তথ্য এসেছে তার আলোকে চূড়ান্ত কোনো রায় দেওয়া যায় না। আরো তাহকীকের প্রয়োজন। আর তার জন্য যেসব কিতাব ও মাছাদির প্রয়োজন তার অধিকাংশই মারকাযের বিশাল কুতুবখানাতেও নেই। ইনশাআল্লাহ অনুসন্ধান ও তালাশের কাজ অব্যাহত রাখব এবং এ কিতাবের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিসমূহ থেকে তথ্যও যোগাড় করার চেষ্টা করব।

তবে তা সময়সাপেক্ষ কাজ এবং এ জন্য ধৈর্য্যের প্রয়োজন। কোনো তাহকীকী নতীজা সামনে এনে আপনাদের অবগত করব ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান - খুলনা

প্রশ্ন

হিসনে হাসীনের লেখকের নামের উচ্চারণ কী?। তার নামের জীম হরফে কাসরা হবে নাকি ফাতহা? সাধারণত লোকজন ‘ইবনুল জিয্রী’ উচ্চারণ করে। জানা নেই কোনটা সঠিক? আর ‘আলআযকার’-এর লেখক জানার আগ্রহ থাকলেও এ বিষয়ে কোনো দিক-নির্দেশনা পাইনি। আশা করি, এ বিষয়ে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

শব্দটি ইবনুল জাযারী অর্থাৎ জীমে ফাতহা হবে। আর আলআযকার-এর মুসান্নিফের নিসবত দুটোই ঠিক এবং প্রচলিত। ইবনুল জাযারী-এর নিসবত ‘জাযিরাতু ইবনে ওমর’-এর দিকে। দিমাশকের একটি গ্রামের নাম ‘নাওয়া’। এর দিকে ইমাম নববীকে নিসবত করা হয়েছে। দু’জনই প্রসিদ্ধ ইমাম। বহু কিতাবে তাঁদের জীবনী উল্লেখিত হয়েছে। ইমাম নববীর জীবনী ‘তবাকাতুশ শাফেইয়্যাতিল কুবরা’তে রয়েছে। ইবনুল জাযারী রাহ. সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে ইবনে ফাহদ মক্কীর ‘যাইলু তাযকিরাতিল হুফফায’ গ্রন্থে। আল্লামা সাখাভীর ‘আয-যাওউল লামি’ তেও তাঁর তরজমা দেখা যেতে পারে। নিসবতের তাহকীকের জন্য দেখুন আল্লামা ইবনুল আছীরের ‘আললূবাব’ বা আল্লামা সুয়ূতীর ‘লুব্বুল লুবাব’।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান - বাগেরহাট, খুলনা

প্রশ্ন

আমি মিযান পড়ব এবং আমার ভাই নাহবেমির পড়ছে। আমাদেরকে একজন এই দুই কিতাবের এবারত মুখস্ত করার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু আমি ভালোভাবে ফারসি জানি না। আমাদের জন্য কি এ দুই কিতাবের ইবারত মুখস্ত করা ফলদায়ক হবে? সঠিক রাহনুমায়ী দান করে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

এই কিতাব দুটির এবারত তো মূল উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হল কিতাবের কাওয়ায়েদগুলো নিজের ভাষায় ভালোভাবে বুঝে নেওয়া এবং প্রচুর গর্দান ও মিছালের মাধ্যমে তামরীন করা। এভাবে কাজ করলে এবং ছীগাসমূহ চেনার ও তারকীব বোঝার যোগ্যতা পয়দা হলে এই কিতাবের মাকছাদ হাসিল হবে। ফারসী ইবারত শব্দে শব্দে না বুঝলেও কোনো সমস্যা নেই। এর পরিবর্তে তামরীনে সময় দিন এবং যথাসম্ভব অধিক পরিমাণে তামরীন করুন। এতেই উপকার হবে ইনশাআল্লাহ। উর্দূ-ফারসী ইবারত শুধু সেই মুখস্ত করতে পারে যার দু’এক বার পড়লেই ইবারতসহ মুখস্ত হয়ে যায়। কিন্তু যাকে আলাদা মেহনত করে মুখস্ত করতে হয় তার জন্য এটা মুনাসিব নয়। তাই উপরের পরামর্শ মোতাবেক কাজ করতে থাকুন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ওই কিতাবগুলোর ইবারত মুখস্ত করেছিলাম, কিন্তু এখন কিছুই মনে নেই। তামরীন ও ইজরার মাধ্যমে যে ফায়দা হয়েছিল তার দ্বারাই এখন কাজ চলছে। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

হযরত মাওলানা সরফরায খান ছফদর রাহ.-এর তাসানীফের তালিকা -

প্রশ্ন

মুহাম্মাদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ (পূর্ব প্রকাশিতের পর আলকাউসার শাবান-রমযান ৩০ ও শাওয়াল ’৩০ সংখ্যায় তাঁর ২১টি কিতাবের নাম সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ উল্লেখ করা হয়েছিল। এ সংখ্যায় আরো কিছু কিতাবের নাম দেওয়া হল।

উত্তর

২২. শওকে হাদীস হাদীস শরীফের অন্বেষণ ও সংরক্ষণের বিষয়ে মুহাদ্দিসীনে কেরামের অতুলনীয় ত্যাগ ও কুরবানী এবং তাঁদের সততা, সত্যবাদিতা ও সূক্ষ্মদর্শিতা সম্পর্কে এ কিতাবে আলোচনা করা হয়েছে। হাদীস সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি ও তার সফলতা এবং মুনকিরীনে হাদীসের বিভিন্ন অসার আপত্তির ব্যাপারেও সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হয়েছে। ২৪ রবিউছ ছানী ১৩৬৯ হিজরী মোতাবেক ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫০ ঈসায়ী তারিখে কিতাবটির রচনা শুরু হলেও মাঝে দীর্ঘ সময় তা মুলতবী থাকে। তাই দীর্ঘ দিন পর ২ যিলকদ ১৩৯০ হিজরী, মোতাবেক ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭০ ঈসায়ী তা সমাপ্ত হয়। ২০০২ ঈসায়ী পর্যন্ত এর তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৭৮। ২৩. নূর ওয়া বাশার এটি তাঁর স্বলিখিত রচনা নয়। ফাইযায় আহমদ ছাওয়াতী হযরত মাওলানা রাহ.-এর বিভিন্ন কিতাব থেকে তা সংকলন করেন। সফর ১৪১১হিজরীর দিকে তা সমাপ্ত হয়। পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৩০। ২৪. ‘মাসআলায়ে কুরবানী’ কুরবানী সম্পর্কে মুনকিরীনে হাদীস গোষ্ঠীর প্রোপাগাণ্ডা খণ্ডন করে লিখিত। হজ্বের কুরবানী ছাড়াও সাধারণ কুরবানীর বিধানও যে কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত তা এই কিতাবের আলোচ্য বিষয়। এই মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি একটি শাখাগত মাসআলা-কুরবানী কতদিন করা যায় এ সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন। সমাপ্তির তারিখ ১৩ রবীউল আওয়াল ১৩৭৪ হিজরী, মোতাবেক ৯ নভেম্বর ১৯৫৪ ঈসায়ী। আগস্ট ১৯৮৩ ঈসায়ী পর্যন্ত এর তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪২। ২৫. খাযাইনুস সুনান তাঁর তিরমিযী শরীফের দরসী তাকরীর। মাওলানা রশীদুল হক খান তা সংকলন করেন। ২৬. দিল কা ছুরূর কুরআন-সুন্নাহ, আছারে সাহাবা ও জুমহুরে সালাফ ও খালাফের উদ্ধৃতিতে প্রমাণ করা হয়েছে যে, বিশ্বজগতে একমাত্র আল্লাহ তাআলাই হলেন মুখতারে কুল। তাঁরই আদেশে বিশ্বজগতের সকল কিছু পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় তাদের অসার যুক্তিসমূহের স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। এছাড়া আরো কিছু কিতাব, যা সরাসরি সৌভাগ্য না হলেও মাকতাবায়ে ছফদরিয়ার প্রকাশনার তালিকা থেকে তা উল্লেখ করছি। ছামায়ে মাওতা দরূদ শরীফ পড়নে কা শরয়ী তরীকা ইহসানুল বারী তাবলীগে ইসলাম চেরাগ কী-রৌশ্নী ঈসাইয়্যাত কা পছমানযার মাকালায়ে খতমে নবুওয়ত বানিয়ে দারুল উলূম দেওবন্দ রাহে হেদায়েত ইতমামুল বুরহান ফী রাদ্দি তাওযীহিল বয়ান হিলয়াতুল মুসলিমীন ইনকারে হাদীস কে নাতাইজ আলকালামুল হাভী।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান - বাগেরহাট

প্রশ্ন

তাফসীর ও তরজমায়ে কুরআনের কিতাব সব ভাষাতেই এত বিপুল পরিমাণে লিখিত হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্বাচন করা অত্যন্ত কঠিন। হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উছমানী দামাত বারাকাতুহুম ‘উলূমুল কুরআন’-এ কয়েকটি কিতাব নির্বাচন করে দিয়েছেন, কিন্তু তার সংখ্যাও কম নয়। আপনি আমাকে শুধু চারটি কিতাবের নাম বলুন এবং উর্দূ ভাষায় লিখিত একটি বা দুটি কিতাবের নাম। যেন আমি কুরআন হাকীম বুঝতে পারি এবং কুরআনী পয়গাম অনুধাবন করতে পারি। কোনোটির নির্ভরযোগ্য বাংলা অনুবাদ হয়ে থাকলে তা-ও জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আপনি নিম্নোক্ত কিতাবগুলি অধ্যয়ন করতে পারেন :

  • ১. তাফসীরে ইবনে কাছীর
  • ২. তাফসীরে আবুস সাউদ, বা মুখতাসারু তাফসীরিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
  • ৩. মুফরাদাতুল কুরআন, রাগিব আসফাহানী
  • ৪. তাইসীরুল কারীমির রহমান, আবদুর রহমান আসসা’দী বা আইসারুত তাফসীর, আবু বকর জাবির আলজাযাইরী

উর্দূতে আপনি ‘তাফসীরে উছমানী’ হযরত শায়খুল ইসলাম শাব্বীর আহমদ উছমানী রাহ. এবং ‘আসান তরজমায়ে কুরআন’ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উছমানী (দামাত বারাকাতুহুম) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বারবার পাঠ করতে পারেন। ইসলামিক ফাউণ্ডেশন থেকে তাফসীরে উছমানীর বাংলা অনুবাদ চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম দুই খণ্ড জামেয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকা-এর শায়খ জনাব মাওলানা আবুল বাশার ছাহেব (আ.ব.ম. সাইফুল ইসলাম) করেছেন। ‘আসান তরজমায়ে কুরআন’-এর অনুবাদও তিনিই করছেন। আশা করি, তা একটি প্রাঞ্জল ও নির্ভরযোগ্য অনুবাদ হবে এবং ইনশাআল্লাহ অচিরেই মুদ্রিত হয়ে পাঠকের সামনে এসে যাবে।

আসলে শুধু কিতাবের নাম জেনে নেওয়াতে বিশেষ কোনো ফায়েদা নেই। মূল কাজ হচ্ছে প্রতিদিন অল্প করে হলেও নিয়মিত মুতালাআ করা। এতে জাহেরী ও বাতেনী অনেক বরকত হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মাওলানা সুফিয়ান - চাঁদপুর

প্রশ্ন

কিছু তালিবে ইলমের যিম্মাদারী আমার উপর রয়েছে। তাইসীর থেকে হেদায়াতুন্নাহব ও কাফিয়া পর্যন্ত প্রায় প্রতি জামাতে কিছু তালিবে ইলম আছে, যাদের যিম্মাদারী তাদের অভিভাবকরা আমার উপর অর্পণ করেছেন। তাদের বিষয়ে আমার করণীয় কী জানতে চাই। তাদেরকে মীযান, নাহবেমীর ইত্যাদি কিতাবের ফার্সী ইবারতও কি মুখস্ত করতে বলব? মোটকথা, আপনি এ বিষয়ে আমাকে কিছুটা বিস্তারিত পরামর্শ দিবেন, যেন আমি এই যিম্মাদারী সঠিকভাবে আঞ্জাম দিতে পারি।

উত্তর

কিছু তালিবে ইলমের যিম্মাদারী আমার উপর রয়েছে। তাইসীর থেকে হেদায়াতুন্নাহব ও কাফিয়া পর্যন্ত প্রায় প্রতি জামাতে কিছু তালিবে ইলম আছে, যাদের যিম্মাদারী তাদের অভিভাবকরা আমার উপর অর্পণ করেছেন। তাদের বিষয়ে আমার করণীয় কী জানতে চাই। তাদেরকে মীযান, নাহবেমীর ইত্যাদি কিতাবের ফার্সী ইবারতও কি মুখস্ত করতে বলব? মোটকথা, আপনি এ বিষয়ে আমাকে কিছুটা বিস্তারিত পরামর্শ দিবেন, যেন আমি এই যিম্মাদারী সঠিকভাবে আঞ্জাম দিতে পারি। উত্তর : মাশাআল্লাহ বোঝা যাচ্ছে, আপনার মাঝে দায়িত্বের অনুভূতি রয়েছে। বর্তমানে এই অনুভূতির শূন্যতাই ইলমী, ফিকরী ও আখলাকী অবনতির বড় কারণ। এ প্রসঙ্গে দরখাস্ত এই যে-

১. সর্বদা স্মরণ রাখুন যে, এই শিশুরা আপনার কাছে আমানত। তাই এ বিষয়ে কোনোরূপ শিথিলতা খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত। আর এই আমানত রক্ষার পদ্ধতি এই নয় যে, আপনি তাদেরকে কোনো মাদরাসায় ভর্তি করে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে রইলেন। আপনাকে সরাসরি তাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে হবে। আলাদাভাবে প্রত্যেকের আদব-আখলাক, ফাহম-ইসতি’দাদ, ইনহিমাক ও মনোযোগ এবং অন্যান্য বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে হবে। কখনো বলুন, অমুক কিতাব নিয়ে এস, অমুক বহছটি শোনাও, অমুক বহছ কিতাব থেকে পড়ে শোনাও, এই আয়াতের সরফী তাহকীক কর, এই আয়াতের নাহবী তাহকীক বল, ঐ হাদীসের তরজমা করে দেখাও। গত সপ্তাহের রোযনামচা দেখাও। তাদের হাতের লেখা দেখুন, বানান দেখুন, ভাষার মান লক্ষ করুন।

ইখলাস, তাকওয়া, আদব ও ইলমের জন্য ফানাইয়াত হচ্ছে তাফাককুহ হাসিল হওয়ার বুনিয়াদী শর্ত। এটা তালিবে ইলমদের বোঝানোর চেষ্টা করুন। তাদের বলুন যে, আসাতিযার সঙ্গে শুধু নিয়মের সম্পর্ক যথেষ্ট নয়, মহব্বত ও আযমত এবং সোহবত ও তালাক্কীর সম্পর্ক থাকা অপরিহার্য। অনুসরণীয় উস্তাদের রঙ্গে নিজেকে রঙ্গীন করার মানসিকতা থাকা অপরিহার্য।

এই আসবাব ও ওসাইল গ্রহণের পর সালাতুল হাজত পড়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে তাদের জন্য কেঁদে কেঁদে দুআ করুন, আল্লাহ যেন তাদের কবুল করেন এবং শরহে সদরের নেয়ামত দান করেন। পাশাপাশি তাদেরকেও উদ্বুদ্ধ করুন। যখন তালিবে ইলম, পিতামাতা, নেগরান ও আসাতিযা সবাই মিলে আল্লাহ তাআলার দরবারে কাঁদতে থাকবে তখন অবশ্যই আল্লাহর রহমত তাদের বেষ্টন করে নিবে। শর্ত এটুকুই যে, সকল উদাসীনতা ও হেঁয়ালীপনা পরিত্যাগ করে সচেতনতা ও মুহাসাবার যিন্দেগী গ্রহণ করতে হবে।

আপনি মীযান-নাহবেমীর প্রভৃতি কিতাবের ইবারত মুখস' করানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন, না এটা মোটেও প্রয়োজন নেই। কাওয়ায়িদ ও আবনিয়া ভালোভাবে বুঝিয়ে অধিক পরিমাণে তামরীন করানোই হচ্ছে মূল কাজ। আপনি আত্‌তরীক ইলাস সরফ, আসসারফুল কাফী, আরবী ইলমুস সীগা তদ্রূপ আত্‌তরীক ইলান নাহব, আননাহবুল ওয়াজিহ ও আরবী নাহবেমীর মুতালাআ করে তামরীন করানোর পদ্ধতি শিখে নিন। এরপর যত বেশি সম্ভব তামরীন করাতে থাকুন। কুরআন কারীম ও আলআহাদীসুল কিসার (মুহিউদ্দীন মুহাম্মাদ আওয়ামা) থেকে আয়াত ও হাদীসের বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য দ্বারা তামরীন করাতে থাকুন। এটাই মূল কাজ।

ইবারত মুখস্ত করাতে হলে কুরআন-হাদীসের নুসূস মুখস্ত করাবেন। আদবী জুমলা, তাবীরাত ও ইবারত মুখস্ত করাবেন। এর জন্য আত্‌তরীক ইলাল আরাবিয়্যা থেকে সহযোগিতা নিতে পারেন। এরপর শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা-এর পুস্তিকা ‘আলমুখতার মিন ফারাইদিন নুকূলি ওয়াল আখবার’ থেকে সহজ সহজ হেকায়েত নির্বাচন করে খাতায় লেখাবেন এবং ইয়াদ করাবেন।

শেয়ার লিংক

ইবনে আবদুল হাকীম - খুলনা

প্রশ্ন

হুজুর, আমি জালালাইন, হিদায়া ও অন্যান্য কিতাব পড়ি। আলহামদুলিল্লাহ, ইবারত বিশুদ্ধভাবে পড়তে পারি এবং তারকীবও বুঝে এসে যায়। মুফরাদাত-এর অর্থও বুঝতে পারি এবং মনে হয় যে, বিষয়বস্তুও বুঝতে পেরেছি। সহপাঠীদের সাথে তাকরারও করি, কিন্তু যখন উস্তাদকে শোনাতে যাই তখন তিনি বলেন যে, তুমি আলোচনাটা যেভাবে বুঝেছ তা সঠিক নয়। অনুগ্রহ করে জানাবেন, এখন আমি কী করতে পারি? তারকীব বোঝার পরও আলোচনা সঠিকভাবে কেন বুঝতে পারছি না?

উত্তর

যথার্থ প্রশ্ন। আজকাল ছাত্ররা ব্যাপকভাবে এ অসুবিধার শিকার হচ্ছে। এর একাধিক কারণ রয়েছে। যথা : ১. নাহবী তারকীব অসম্পূর্ণ বোঝা। অনেক সময় এমন হয় যে, তারকীব বুঝেছেন বলে আপনার মনে হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে বোঝেননি। শুধু ইবারত সহীহ পড়তে পারা যায়-এ পরিমাণ নাহবী জ্ঞান সঠিকভাবে তারকীব বোঝার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। এজন্য নাহবের সঙ্গে আরো অধিক মুনাসাবাত প্রয়োজন। ২. লোগাতের জ্ঞান অসম্পূর্ণ হওয়া। বিষয়বস্তু বোঝার জন্য শুধু শব্দার্থ জানা যথেষ্ট নয়। লুগাতের আরবী কিতাবসমূহের সাহায্যে ‘লফয’ ও ‘তা’বীরে’র উদ্দিষ্ট অর্থ নির্ণয় করার অভ্যাস করাও প্রয়োজন। ৩. উপস্থাপনা-ভঙ্গির সঙ্গে পরিচয় না থাকা। কোনো ইবারতের মর্মোদ্ধারের জন্য ছরফী তাহকীক, নাহবী তাহকীক ও মুফরাদাতের ইলম থাকাও যথেষ্ট নয়। আরবী ভাষার উপস্থাপন-ভঙ্গির সঙ্গেও পরিচয় থাকতে হয়। দেখুন, এ প্রসঙ্গে ইলমে বয়ানে যেসব আলোচনা আছে সেগুলো বোঝারও প্রয়োজন আছে, কিন্তু আমি এখানে তা বলচি না। আমার উদ্দেশ্য হল আরবী ভাষায় একটি ভাব কীভাবে প্রকাশ করে সে সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এটা এমন এক জিনিস যে, ইবারতের মৌলিক শব্দগুলোর অর্থ জানা থাকলে, নাহবী তারকীব না বুঝলেও ইবারতের সহজ-সরল অর্থ বুঝে এসে যায়। এজন্য ইবারত বোঝার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভাষার ভাবপ্রকাশের ভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আরবী কিতাব সম্পর্কে কথা হচ্ছে তাই বলতে পারি যে, আরবী আদব বা আরাবিয়্যাতের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ইবারতের ভাবার্থ বোঝার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক বিষয়। আরবী আদবের প্রাণই হচ্ছে ‘আরাবিয়্যতের যওক’। আল্লাহপ্রদত্ত মেধা ও রুচি তো প্রথম শর্ত। এটা থাকলে অবশিষ্ট উন্নতির জন্য এই মেহনত করুন যে, ‘আত-তরীক ইলাল আরাবিয়্যা’ দ্বারা উস্তাদ ও তালিবে ইলম উভয়ে সহীহ তরীকায় নিজ নিজ মেহনত জারী রাখুন। ‘আরবী আদব’ শব্দ থেকে এই ভুল ধারণা করবেন না যে, আমি আপনাকে ‘আদীব’ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি বা বলতে চাচ্ছি যে, ইবারত বোঝার জন্য আপনার প্রচলিত ইলমে আদব শিক্ষা করা জরুরি। না এমন নয়। আফসোস, আমি আপনাকে সম্পূর্ণরূপে বিষয়টি বোঝাতে পারিনি। আসলে তা পত্রিকার পাতায় লিখে বোঝানোও যায় না, এটা হচ্ছে সামনে বসিয়ে হাতে কলমে বোঝানোর বিষয়। ৪. চতুর্থ যে জিনিসটি কিতাব বোঝার জন্য প্রয়োজন তা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ফনের সঙ্গে মুনাসাবাত। কিতাবটি যে ফনের সে ফনের সঙ্গে অপরিচিতি দূর হয়ে ইসতিলাহাত, কাওয়াইদ ও মওযূআত-এর সঙ্গে মুনাসাবাত পয়দা হয়ে যাওয়া জরুরি। আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ফনের সঙ্গে মুনাসাবাত তো কিতাবের দ্বারা হবে এখন কিতাবই যদি বুঝে না আসে? তাছাড়া ফনের প্রথম কিতাব ‘হল’ হবে কীভাবে? এই প্রশ্ন এজন্য ঠিক নয় যে, ফনের সঙ্গে মুনাসাবাত শুধু কিতাব দ্বারা হয় না, আর আমরা এখানে শুধু ফনের প্রথম কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করছি না। কিতাব বোঝার ক্ষেত্রে শেষোক্ত বিষয় দুটির প্রয়োজন অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর এই দুই বিষয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শফীক ও বা-যওক উস্তাদের সোহবত। উস্তাদের সঙ্গে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বা দরসগাহের সম্পর্ক যথেষ্ট নয়। আপনি লিখেছেন যে, ‘কিতাবের কোনো সন্তান উস্তাদকে শোনালে তিনি বলেন, তুমি সঠিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারনি।’ আমার পরামর্শ এই যে, আপনি ওই উস্তাদের সঙ্গেই আপনার ইলমী তাআল্লুক গড়ে তুলুন। তাঁর নিকটে বারবার যান এবং বোঝার চেষ্টা করুন, আপনার বোঝা কেন সঠিক নয়, কোথায় ভুল হওয়ার কারণে আপনার বোঝাটা সঠিক হচ্ছে না এবং কোন বিষয়টি অনুধাবন না করার কারণে সঠিক ভাবার্থ বুঝতে পারছেন না। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন।

শেয়ার লিংক

আবু সালেহ মুহাম্মাদ মুসা - মিরপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ একটি খুতবা শুনে এসেছি। কিছু দিন আগে কোনো এক কাজে ইমাম বায়হাকীর ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ দেখার প্রয়োজন হয়েছিল। তাতে (৫/২৪১-২৪২) খুতবাটি দেখতে পেলাম। ইমাম বায়হাকী সনদসহ উল্লেখ করেছেন যে, গযওয়ায়ে তবুকের সময় তবুকে পৌঁছার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাটি প্রদান করেছিলেন। তবে দালাইলুন নুবুওয়াহর টীকাকার হাফেয ইবনে কাছীর থেকে এই রেওয়ায়েত সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন, জানার বিষয় এই যে, খুতবাটি হাদীস হিসেবে বর্ণনা না করে নিছক খুতবা হিসেবে পাঠ করা যাবে কি না? হাফেয ইবনে কাছীর রাহ.-এর মন্তব্য ‘ওয়াফীহি নাকারাতুন’-এর কারণে কিছুটা সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন এবং হায়াতে তাইয়েবা নছীব করুন। আমীন।

উত্তর

আমরা দালাইলুন নুবুওয়াহ ও আলবিদায়াহ ওয়ান নিহায়া (ইবনে কাছীর) দেখেছি। উপরোক্ত খুতবা হাদীস হিসেবে উল্লেখ না করে শুধু খুতবা হিসাবে পাঠ করতে অসুবিধা নেই। এর বক্তব্য সহীহ। ‘ফীহি নাকারাতুন’-এর সম্পর্ক খুৎবাটির পূর্ণ কাঠামো এবং এভাবে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, খুতবার বক্তব্য সহীহ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে নয়। অবশ্য শেষ শব্দটি এর পরিবর্তে পড়া উচিত।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফী উদ্দীন রাফি - চাটখিল, নোয়াখালী

প্রশ্ন

আমার এক বোন লন্ডনে থাকে, সে ইসলামী বইপত্র পাঠে আগ্রহী। এজন্য ইংরেজি ভাষার কিছু ধর্মীয় বইয়ের নাম জানতে চেয়েছে। আপনার কাছে নির্ভরযোগ্য কিছু বইয়ের নাম জানতে চাচ্ছি। অনুগ্রহ করে বইয়ের নাম জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

এ উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত বইগুলো উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ। ১. ইসলাম ক্যায়া হ্যায় (What Islam Is), মাওলানা মুহাম্মাদ মানযুর নু’মানী রাহ. ২. দ্বীন ও শরীয়ত (Islamic Faith and Practice), মাওলানা মুহাম্মাদ মানযুর নু’মানী রাহ. ৩. আরকানে আরবাআ (The Four Pillers of Islam), মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদাভী ৪. উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (The ways of the Holy Prophet Muhammad (Peach be upon him)), ডা. মুহাম্মাদ আবদুল হাই আরেফী রাহ. ৫. তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন (Ma’ariful Quran), মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.। ৬. নবীয়ে রহমত (Muhammad Rasulullah) মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদাভী ৭. তারীখে দাওয়াত ওয়া আযীমত (Saviours of Islamic Spirit), মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদাভী ৮. মাআরিফুল হাদীস (Meaning and Message of the traditions), মাওলানা মুহাম্মাদ মানযুর নু’মানী রাহ. ৯. ইসলাম আওর জিদ্দত পছন্দী (Islam and Modernism), মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী। ১০. হুজ্জিয়্যতে হাদীস (The authority of Sunnah), মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী ১১. The glorious Caliphate, সাইয়েদ আতহার হুসাইন ১২. কুরআন আপ ছে ক্যায়া কেহতা হ্যায় (The Quran and you), মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নু’মানী রাহ. ১৩. বেহেশতী যেওর, (Heavenly Ornaments), হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রাহ. ১৪. মালাবুদ্দা মিনহু (Essential Islamic Knowledge), কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথী রাহ. ১৫. ইখতিলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকীম (Differences in Ummah and the Straight Path), মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ লুধিয়ানবী রাহ. ১৬. The legal status of following a Madhab, মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী ১৭. Comtemporary Fatawaa, প্রাগুক্ত ১৮. Islahi Khutbaat Discourses on Islamic way of Life, প্রাগুক্ত ১৯. First Things of First, খালেদ বেগ। আরো জানার জন্য স্থানীয় হক্কানী উলামায়ে কেরামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে এবং ইন্টারনেটে ‘মাসিক আলবালাগ ইন্টারন্যাশনাল ও মাসিক আলফারূক, করাচী ভিজিট করা যেতে পারে।

শেয়ার লিংক

ইবনে সুফিয়ান - চাদপুর

প্রশ্ন

আমি নূরুল আনওয়ার জামাতের তালিবে ইলম। ফিকহ ও উসূলে ফিকহ সম্পর্কে আমার আগ্রহ আছে। আমি উসূলে ফিকহ-এর মাসাইলগুলো দালায়েল ও সালাফের নূসূসের আলোকে মুতালাআ করতে চাই। এ ব্যাপারে কোন কোন কিতাবের সাহায্য নিতে পারি?

উত্তর

আমি নূরুল আনওয়ার জামাতের তালিবে ইলম। ফিকহ ও উসূলে ফিকহ সম্পর্কে আমার আগ্রহ আছে। আমি উসূলে ফিকহ-এর মাসাইলগুলো দালায়েল ও সালাফের নূসূসের আলোকে মুতালাআ করতে চাই। এ ব্যাপারে কোন কোন কিতাবের সাহায্য নিতে পারি? উত্তর : এমন কিতাব তো অনেক রয়েছে। এ মুহূর্তে আপনি তিনটি কিতাব থেকে সাহায্য নিতে পারেন। ১. আললুবাব ফী উসূলিল ফিকহ, সফওয়ান আদনান, প্রকাশক : দারুল কলম, দিমাশক। ২. আলফুসূল ফিল উসূল, আবু বকর জাসসাস ও ৩. মানহাজুছ ছাহাবা ফিততারজীহ। প্রকৃতপক্ষে উসূলে ফিকহ উপরোক্ত পদ্ধতিতে পড়া অনেক উত্তম, কিন' তা একটু কঠিন ও নাযুকও বটে। এ জন্য আপনি এই ফনের কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির সোহবতে থেকে চর্চা অব্যাহত রাখুন।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement