মুহাম্মাদ ইউসুফ - টঙ্গী, গাজীপুর
৭০০৪. প্রশ্ন
আমাদের প্রায় ২০ জন সদস্যের একটি সমিতি আছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, মাসে মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমিয়ে পরে জমি কিনে ফ্ল্যাট করা। সমিতির জমানো টাকা একটা ব্যাংকে ডিপোজিট করা হয় এবং বছর শেষে ব্যাংক থেকে যে সুদ বা অতিরিক্ত অর্থ আসে, তা সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। আমি ওই সুদের অংশ গ্রহণ করতে চাই না।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এ অবস্থায় আমি সুদের অংশ না নিলেই কি দায়মুক্ত হব, নাকি সুদভিত্তিক এ ব্যবস্থায় টাকা রাখা শরীয়তের দৃষ্টিতে উচিত নয়? এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? দয়া করে কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে দিকনির্দেশনা দিলে উপকৃত হব।
উত্তর
সমিতির জমা টাকা যদি আপনার অবগতিতেই ব্যাংকে ডিপোজিট করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তো আপনি জেনেশুনে সুদি চুক্তিতে জড়িয়েছেন। যা কিছুতেই বৈধ হয়নি। আর যদি আপনার অজান্তেই সমিতির অন্য সদস্যরা সুদ নেওয়ার উদ্দেশ্যে অ্যাকাউন্ট খুলে থাকে এবং এ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর আপনার সম্মতি না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে সুদি অ্যাকাউন্ট খোলার গোনাহ আপনার হবে না। কিন্তু এই অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানার পর তা সচল রাখা আপনাদের কারও জন্যই বৈধ হবে না। বরং চেষ্টা করতে হবে তা বন্ধ করে দিয়ে সুদ বিহীন কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে। যদি চেষ্টার পরও তা করা সম্ভব না হয়, তাহলে যার যার অংশের প্রাপ্ত সুদ সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দিতে হবে এবং দিল থেকে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রশ্নের বর্ণনায় মনে হচ্ছে ওই সমিতিতে যুক্ত থাকা আপনার জন্য অপরিহার্য কিছু নয়। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তাহলে আপনি অন্য সদস্যদেরকে বোঝানোর পরও যদি তারা সুদি অ্যাকাউন্ট ত্যাগ না করে, তাহলে আপনার কর্তব্য হবে ওই সমিতি থেকে বেরিয়ে আসা।
—সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২১০৭৮; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/৩৫১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৬০; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২; ইলাউস সুনান ১৪/৫১৪