রবিউল আখির-জুমাদাল উলা ১৪৪৮ || অক্টোবর ২০২৬

মুহাম্মাদ আযীযুল হক - বাগবাড়ী, তেরিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ

৭০০২. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একটি জামে মসজিদ রয়েছে। মসজিদটি সাড়ে ৪ শতক ওয়াকফকৃত জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায, জুমার নামায ও অন্যান্য ইবাদত আদায় হয়ে থাকে। বর্তমানে একজন ব্যক্তি ৬ শতক জমি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করতে ইচ্ছুক। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, বর্তমান সাড়ে ৪ শতক ওয়াকফকৃত মসজিদটি নতুন ৬ শতক জমিতে স্থানান্তর করতে হবে। অর্থাৎ মসজিদ স্থানান্তর করা হলে তবেই তিনি নতুন জমি ওয়াকফ করবেন। স্থানান্তরের পক্ষে কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন যে, বর্তমানে মসজিদে মুসল্লীদের সংকুলান হয় না এবং ভবিষ্যতে আরও জায়গার প্রয়োজন হবে। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে মুসল্লীদের সংকুলানের তেমন সমস্যা নেই। তাছাড়া ভবিষ্যতে প্রয়োজন দেখা দিলেও বিদ্যমান ওয়াকফকৃত জমির ওপর দোতলা বা বহুতল নির্মাণের সুযোগ রয়েছে এবং প্রয়োজনে পাশের দিকে সম্প্রসারণেরও সম্ভাবনা আছে। আর ওই জমিতে আরেকটি মসজিদ হোক এটাও এলাকাবাসী চাচ্ছেন না।

আমাদের প্রশ্ন হল—

১. শরীয়তের দৃষ্টিতে কেবল ভবিষ্যতে বড় জায়গার প্রয়োজন হতে পারে— এই আশঙ্কায় একটি ওয়াকফকৃত মসজিদ অন্যত্র স্থানান্তর করা কি জায়েয?

২. বর্তমান ওয়াকফকৃত মসজিদকে সম্প্রসারণ বা বহুতল নির্মাণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নতুন জায়গায় মসজিদ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কি শরীয়ত-সম্মত?

৩. ‘বর্তমানের মসজিদ স্থানান্তর করলে তবেই আমি ৬ শতক জমি ওয়াকফ করব’— এ ধরনের শর্ত দিয়ে ওয়াকফ করা কি সহীহ ও জায়েয?

৪. এক্ষেত্রে শরীয়তের দৃষ্টিতে আমাদের করণীয় কী?

কুরআন-সুন্নাহ ও হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবের আলোকে দলীলসহ উত্তর প্রদান করলে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

না, অতিরিক্ত জমির জন্য ওই মসজিদটিকে স্থানান্তর করা জায়েয হবে না; বরং তা স্বস্থানে বহাল রেখে মসজিদ হিসেবে আবাদ রাখা জরুরি। ভালোভাবে মনে রাখতে হবে, মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ওই স্থানটি স্থায়ীভাবে মসজিদের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। এরপর ওই স্থানকে মসজিদ হিসেবে আবাদ রাখা জরুরি। মসজিদ সেখান থেকে সরিয়ে ওই জায়গা কারও ব্যক্তিগত ব্যবহারে নিয়ে আসার কোনো অবকাশ থাকে না।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এই মসজিদের জন্য অন্য স্থানে আরও বেশি জায়গা দেওয়া হলেও বর্তমান স্থান থেকে মসজিদটিকে স্থানান্তর করা কিছুতেই জায়েয হবে না।

অতএব যারা উক্ত আবাদ মসজিদটিকে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য উক্ত শরীয়তবিরোধী চিন্তা থেকে সরে আসা জরুরি। ভবিষ্যতে এই মসজিদে মুসল্লী সংকুলান না হলে এর সাথেই অতিরিক্ত জায়গা ব্যবস্থা করে পূর্বের জায়গাসহ সেখানেই মসজিদ সম্প্রসারণ করবে অথবা এটি বহুতল ভবন হিসেবে পুননির্মাণও করা যেতে পারে। কিন্তু মুসল্লী সংকুলান না হওয়া বা অন্য কোনো অজুহাতে মসজিদটি স্থানান্তর করার কোনোই সুযোগ নেই। আর মসজিদে জায়গা দেওয়ার প্রত্যয়কারীর জন্যও আরেকটি মসজিদকে তার জায়গায় স্থানান্তরের শর্তারোপ করা জায়েয নয়।

* >الأجناس< للناطفي ১/৫৪৯: ولو كان مسجدا في محلة ضاق بأهله لا يقدرون أن يزيدوا فيه، فسألهم بعض الجيران أن يجعلوا ذلك المسجد له يدخله داره، ويعطيهم مكانه عوضا من داره ما هو خير منه، ويسع فيه أهل المحلة، قال (الإمام محمد): لا يسعهم ذلك.

—আলহাবিল কুদসী ১/৫৪৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৮; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৪৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৭; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৫৮

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন