নাজমুল - নড়াইল
৬৯০২. প্রশ্ন
ক. পুরুষের জন্য কোনো আংটি ব্যবহার করা কি জায়েয আছে?
খ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আংটি ব্যবহার করেছেন? আশা করি উত্তরটি দলীলসহ জানাবেন।
উত্তর
ক. পুরুষদের জন্য রুপার আংটি ব্যবহার করা জায়েয। শর্ত হল, রুপা এক মিছকাল (৪.৩৭৪ গ্রাম) থেকে কম হতে হবে। রুপা ব্যতীত অন্য ধাতবের আংটি ব্যবহার করা পুরুষের জন্য বৈধ নয়।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ، فَنَزَعَه فَطَرَحَه، وَقَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ، فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِه.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে স্বর্ণের আংটি দেখতে পেয়ে সেটি খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আগুনের টুকরা সংগ্রহ করে তার হাতে রাখে! (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২০৯০)
আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন–
أَنَّ رَجُلًا، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ‘صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ خَاتَمٌ مِنْ شَبَهٍ، فَقَالَ لَهُ: مَا لِي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ الْأَصْنَامِ فَطَرَحَهُ، ثُمَّ جَاءَ وَعَلَيْهِ خَاتَمٌ مِنْ حَدِيدٍ، فَقَالَ: مَا لِي أَرَى عَلَيْكَ حِلْيَةَ أَهْلِ النَّارِ، فَطَرَحَه، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ أَتَّخِذُهُ؟ قَالَ: اتَّخِذْه مِنْ وَرِقٍ، وَلَا تُتِمَّهُ مِثْقَالًا.
এক ব্যক্তি পিতলের আংটি পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এল। তিনি তাকে বললেন, আমি যে তোমার থেকে মূর্তির গন্ধ পাচ্ছি!
এ কথা শুনে লোকটি তা খুলে ফেলে দেয়। এরপর সে একটি লোহার আংটি পরে এল।
তখন নবীজী তাকে বললেন, আমি তোমাকে জাহান্নামবাসীর অলংকার পরা অবস্থায় দেখছি।
লোকটি তখন তা খুলে ফেলে দেয় এবং বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে আমি কী ধরনের আংটি ব্যবহার করব?
তিনি বলেন, তুমি রুপার আংটি ব্যবহার কর আর তা এক মিছকাল পূর্ণ করো না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২২০)
তবে পুরুষের জন্য এই পরিমাণ রুপার আংটি ব্যবহার করা জায়েয হলেও প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার না করাই উত্তম।
খ. হাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আংটি ব্যবহার করেছেন।
আলী ইবেন আবী তালেব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–
أَنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يَلْبَسُ خَاتَمَهُ فِي يَمِينِه.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান হাতে আংটি পরতেন। (শামায়েলে তিরমিযী, বর্ণনা ৯৫)
–ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৭৫; শরহুল জামিইস সগীর, বযদবী ৩/৩৫১; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪১২; আলইখতিয়ার ৪/১২৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৫৮