শাওয়াল ১৪৪৭ || এপ্রিল ২০২৬

উসমান - রাজশাহী

৬৯০০. প্রশ্ন

আমার এক সহপাঠি ইন্ডিয়া সফরে গিয়েছে। সে আমাকে তার সফরের কাহিনী শোনানোর সময় বলেছে, সেখানে এক জায়গায় মেহমানদারিতে তাকে খরগোশের গোশত দিয়েছে এবং সে তা খেয়েছে। বিষয়টি আমার কাছে অন্যরকম মনে হল। কারণ আমাদের দেশে তো সচরাচর মানুষ খরগোশ খায় না।

হুজুরের কাছে জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে খরগোশ খাওয়া কি জায়েয?

উত্তর

খরগোশ হালাল প্রাণী। তাই কোনো মুসলিম শরীয়তসম্মতভাবে জবাই করলে তার গোশত খেতে অসুবিধা নেই।

হাদীস শরীফে এসেছে, আনাস রা. বলেন

أَنْفَجْنَا أَرْنَبًا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ، فَسَعَى القَوْمُ، فَلَغَبُوا، فَأَدْرَكْتُهَا، فَأَخَذْتُهَا، فَأَتَيْتُ بِهَا أَبَا طَلْحَةَ، فَذَبَحَهَا وَبَعَثَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللهِصلى الله عليه وسلم بِوَرِكِهَا أَوْ فَخِذَيْهَا، قَالَ: فَخِذَيْهَا، لاَ شَكَّ فِيهِ، فَقَبِلَهٗ.

আমরা ‘মাররুয যাহরান’ নামক স্থানে একটি খরগোশ ধাওয়া করলাম। তখন লোকজনও এর পেছনে ছুটল এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। এরপর আমি সেটিকে ধরতে সক্ষম হলাম এবং আবু তালহা রা.-এর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি খরগোশটি জবাই করলেন এবং তার পেছনের অংশ বা দুই রান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠালেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৩৫)

অন্য হাদীসে এসেছে, মুহাম্মাদ ইবনে সফওয়ান রা. বলেন

أَصَبْتُ أَرْنَبَيْنِ فَلَمْ أَجِدْ مَا أُذَكِّيهِمَا بِه فَذَكَّيْتُهُمَا بِمَرْوَةٍ، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذٰلِكَ فَأَمَرَنِي بِأَكْلِهِمَا.

আমি দুইটি খরগোশ ধরলাম। কিন্তু তা জবাই করার মতো কিছু পেলাম না। পরে আমি ধারালো পাথর দিয়ে খরগোশ দুটি জবাই করি। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে তা খেতে বলেন। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩১৩)

কিতাবুল আছার, ইমাম আবু ইউসুফ, পৃ. ৩৬৯; শরহু মুখতাসারিল কারখী, কুদূরী ৬/২৭২; আলমুহীতুর রাযাবী ৬/৩৩; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, ইসবীজাবি ৪/১৯২১; মাজমাউল আনহুর ৪/১৬২; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩০৭

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন