জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪১ || ফেব্রুয়ারি ২০২০

শাকিল আহমাদ - সাদুল্লাপুর, পাবনা

৫০২১. প্রশ্ন

মুহতারাম, গত ২৩শে আগস্ট আমার এক নিকটাত্মীয় মারা যায়। সেই মায়্যেতকে গোসল করানোর জন্য আমি ও গ্রামের ইমাম সাহেবসহ আরেকজন ছিলাম। গোসল শেষে ইমাম সাহেব হালকাভাবে চেহারাটা মুছে মায়্যেতকে অযু করিয়ে দিলেন। তারপর পুরো চেহারা ভালোভাবে না মুছিয়েই দাফন করাতে চাইলেন। তখন আমি বললাম পুরো শরীর মুছবেন না কেন? কারণ আমার জানা মতে পূর্ণ শরীর মুছতে হবে। তখন ইমাম সাহেব বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক সাহাবী মারা যাওয়ার পর জান্নাতের পানি দ্বারা তাকে গোসল করালেন এবং শরীর থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছিল। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দাফন করে দিলেন। (অর্থাৎ কাফন পরিয়ে) দিলেন। সুতরাং পুরো শরীর ভালোভাবে মুছার প্রয়োজন নেই।

এখন হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল-

১. মায়্যেতকে গোসলের পর অযু করানো যাবে কি না? না হলে এর বিধান কী?

২. মায়্যেতকে গোসলের পর পুরো শরীর ভালোভাবে মুছতে হবে কি না? এবং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের কথা সহীহ কি না? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

১. মায়্যেতকে গোসলের আগেই যথানিয়মে অযু করিয়ে দেওয়া সুন্নত। গোসলের পর অযু করানোর নিয়ম নেই। তাই আগে অযু করানো না হলে পরে আর করাবে না। কেননা গোসলের দ্বারা অযুও হয়ে যায়। সহীহ বুখারীর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, উম্মে আতিয়্যাহ রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক মেয়ের ইন্তেকালের পর তার গোসল প্রসঙ্গে মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন-

ابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا، وَمَوَاضِعِ الوُضُوءِ مِنْهَا.

অর্থাৎ তোমরা (গোসল করানোর ক্ষেত্রে) তাঁর ডান দিক থেকে এবং অযুর স্থানসমূহ দ্বারা শুরু করো। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১২৫৫)

উক্ত হাদীসের আলোকে ইমাম আবু বকর জাসসাস রাহ. বলেন-

يوضأ وضوءه للصلاة أولاً.

অর্থাৎ মায়্যেতকে প্রথমে নামাযের অযুর মত অযু করাবে। (শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/১৮৭)

প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

يُبْدَأُ بِالْمَيِّتِ فَيُوَضّأُ وُضُوءَهُ لِلصّلاَةِ ثُمّ يَبدَأ بِمَيَامِنِه.

মায়্যেতকে (গোসলের শুরুতে) প্রথমে নামাযের অযুর ন্যায় অযু করাবে। এরপর তার ডান দিক থেকে (ধোয়া) শুরু করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১১০০১)

২. উক্ত কথা ঠিক নয়। নিয়ম হল, গোসল দেয়ার পর তার পুরো শরীর শুকনো পবিত্র কোনো কাপড় দিয়ে মুছে দেওয়া। ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. মায়্যেতের গোসলের বিবরণ দেওয়ার পর বলেন-

ثم تنشفه في ثوب.

অর্থাৎ এরপর কোনো কাপড় দিয়ে তার শরীর মুছে দিবে। (কিতাবুল আছল ১/৩৪৭)

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সাহাবীকে জান্নাতের পানি দ্বারা গোসল করিয়েছেন- এ কথাই ঠিক নয়। হাদীসের কিতাবে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না; বরং হাদীস শরীফে এসেছে, হামযা ও হানযালা রা. গোসল ফরয অবস্থায় যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে বলেছেন-

رَأَيْتُ الْمَلَائِكَةَ تُغَسِّلُهُمَا.

‘আমি তাদের দুজনকে ফেরেশতাদের গোসল করাতে দেখেছি।’ (আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ১২০৯৪)

-কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২২৫; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৯

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন

advertisement
advertisement