জুমাদাল উলা ১৪৪০ || ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মোস্তফা জব্বার - কানাইঘাট, সিলেট

৪৭১২. প্রশ্ন

আমার আব্বুর এক ব্যক্তির সাথে খুবই আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে আব্বু আমাদের নিয়ে তাকে দেখতে যান। তিনি আব্বুকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে যান। এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার জীবনে আব্বুর বিভিন্ন অবদানের কথা স্মরণ করে আব্বুকে তার পেনশনের টাকা ওঠানোর পর এ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। উপস্থিত ছেলেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা  আব্বুকে দিবে বলে জানায়। কিন্তু এর সপ্তাহখানেক পরই হঠাৎ আব্বু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এর কিছুদিন পর আব্বুর ঐ বন্ধুও মারা যান।

কয়েক মাস পর আমরা মৃতের ছেলেদের সাথে ওসিয়তের টাকার জন্য যোগাযোগ করলে তারা বলে, আমরা এ টাকা আঙ্কেলের নামে সদকা করে দিয়েছি। আব্বু তো তোমাদের জন্য ওসীয়ত করেননি। আঙ্কেলের জন্যই ওসীয়ত করেছিলেন।

হযরত মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা হল, আব্বুর নামে ওসিয়তকৃত টাকা আমাদের প্রাপ্য ছিল কি না? আমাদের না জানিয়ে এভাবে সদকা করে দেওয়া কি জায়েয হয়েছে?

উত্তর

যার জন্য ওসিয়ত করা হয়েছে তিনি যদি ওসিয়তকারীর আগে মারা যান তাহলে ওসিয়তটি বাতিল হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু আপনার বাবা তার ওসিয়তকারী বন্ধুর আগেই মারা গিয়েছেন তাই তার জন্য কৃত ওসিয়তটি বাতিল হয়ে গিয়েছে। ওসিয়তকৃত টাকায় তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং উত্তরাধীকারী হিসাবে আপনারাও এর মালিক হননি। তাই আপনারা ঐ টাকার দাবি করতে পারবেন না।

সুতরাং ওসিয়তকারীর ছেলেদের জন্য তা সদকা করে দেওয়া অন্যায় হয়নি।

-বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪১৭; আলবাহরুর রায়েক ৮/৪৫৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৯৩

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন

advertisement
advertisement