আবদুল আযীয - মোমেনশাহী

৩৯৭৯ . প্রশ্ন

 

রমযানের পূর্বে ট্রেনে এক জায়গায় যাচ্ছিলাম। মাঝে ফজরের সময় এক স্টেশনে ট্রেনটি থামে। স্টেশনে ট্রেন সাধারণত একটু দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। তাই আমি পস্নাটফরমের এক কামরায় ফজরের জামাতে শরিক হই। আমরা যখন বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ছি তখন ট্রেন ছাড়ার জান্য সংকেত দেওয়া হয়। তাই আমি তাড়াহুড়ো করে ইমামের আগেই সালাম ফিরিয়ে ট্রেনে উঠি। ইমামের আগে সালাম ফিরানোর কারণে কি আমার নামায নষ্ট হয়ে গেছে? নামায কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

 


 

উত্তর

আপনি যদি তাশাহহুদ পড়ার পর সালাম ফিরিয়ে থাকেন তাহলে আপনি যেহেতু ওজরবশতকরেছেন তাই আপনার নামায আদায় হয়ে গেছে। আর যদি তাশাহহুদ পড়ার পূর্বে সালাম ফিরিয়েথাকেন তাহলে  নামায আদায় হয়নি। তা পুনরায় আদায় করে নিতে হবে।

প্রকাশ থাকে যেমুকতাদির জন্য নামাযের সালামেও ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। বিনাওজরে ইমামের পূর্বে সালাম ফেরানো মাকরূহে তাহরীমী। বিনা ওজরে এমনটি করলে উক্ত নামাযপুনরায় আদায় করতে হবে। 

-হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ১৬৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/২৩০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫২৫

শেয়ার লিংক

মোস্তফা আলমাসউদ - নান্দাইল, মোমেনশাহী

৩৯৭৮ . প্রশ্ন

 

রমযান মাসে আমাদের মসজিদে খতম তারাবীহ হয়। হাফেয সাহেবগণ খুব ধীরে-সুস্থে তিলাওয়াত করেন। সময় দীর্ঘতার কারণে অনেক মুসল্লিই বসে বসে তারাবীহ আদায় করেন। জানার বিষয় হল, এভাবে কোনো প্রকার ওজর ছাড়াই বসে তারাবীহ পড়ার বিধান কী?


 

উত্তর

দীর্ঘ কিরাতের কারণে দাঁড়ানো বেশি কষ্টকর হলে তারাবীহ বসেও পড়া যাবে। 

বিশেষত বৃদ্ধ অসুস্থদের জন্য বসে পড়ার অবকাশ আছে। 

তবে কোনো প্রকার ওজর ছাড়া তারাবীহ বসে পড়াসুন্নাহপরিপন্থী 

এবং সালাফের স্বীকৃত নীতি পরিপন্থী।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩৪২৯, ৩৪২৪, ৩৪২৫, ৩৪২৬; মাবসূত, সারাখসী ২/১৪৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৫৫; রদ্দুল মুহতার ১/৪৪৫

শেয়ার লিংক

শরীফ - দাউদকান্দি, কুমিল্লা।

৩৯৭৭ . প্রশ্ন

 

আমি একদিন যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত নামাযের প্রথম বৈঠকে বসে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়তে শুরু করি। কয়েক আয়াত পড়ার পর মনে হতেই তাশাহহুদ পড়ে নেই এবং যথানিয়মে বাকি নামায শেষে সাহু সিজদা করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব ছিল? এবং সাহু সিজদা করার দ্বারা কি আমার নামায হয়ে গেছে?


 

উত্তর

জী হাঁউক্ত ভুলের কারণে তাশাহহুদ পড়তে বিলম্ব হওয়ায় সাহু সিজদা করা ওয়াজিব হয়েছে। 

তাইআপনার সাহু সিজদা করা ঠিক হয়েছে এবং নামায শুদ্ধ হয়েছে। 

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৪৪

শেয়ার লিংক

ফরীদুদ্দীন - বরিশাল

৩৯৭৬ . প্রশ্ন

আমি একদিন একাকী নামায পড়ার সময় রুকুতে গিয়ে ভুলে কিরাত পড়তে শুরু করি। দুয়েক আয়াত পড়ার পর মনে হওয়ামাত্র রুকুর তাসবীহ পড়ে যথানিয়মে বাকি নামায শেষে সাহু সিজদা করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে সাহু সিজদা করে কি আমি ঠিক করেছি?


উত্তর

হাঁ, সাহু সিজদা করে ঠিক করেছেন। কেননা রুকুতে পরিমাণ কেরাত পড়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৮০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯৭; রদ্দুল মুহতার ২/৮১; হালাতুল মুজাল্লী ২/৪৪৪

শেয়ার লিংক

ফুয়াদ হাসান - খুলনা

৩৯৭৫ . প্রশ্ন

 

গত রমযানের প্রথম দিন আমাদের মুয়াযযিন সাহেব ওয়াক্ত আসার আগেই ইশার নামাযের আযান দিয়ে দেন। আমাদের মসজিদে তাবলীগে এসেছেন এমন একজন আলেম ওয়াক্ত আসার পর মুয়াযযিন সাহেবকে পুনরায় আযান দিতে বললে তিনি অসম্মতি প্রকাশ করেন এবং বলেন, আযান একবার দিলেই হয়ে যায়। পুনরায় দিতে হবে না এবং তিনি পুনরায় আযান দেননি।

জানার বিষয় হল, ওয়াক্ত আসার পূর্বে আযান দেওয়ার বিধান কী? এক্ষেত্রে পুনরায় আযান দিতে হবে কি? 


 

উত্তর

 

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায আযান দেওয়া কর্তব্য ছিল। 

 কারণ ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিলে তা সহীহ হয় না।

উল্লেখ্যমুয়াযযিনের উচিত নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে সচেতন থাকা।

 হাদীস শরীফে এসেছেনবীকারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

الْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَن

মুয়াযযিন (নামাযের সময়ের ব্যাপারেনির্ভরতার প্রতীক। 

 

-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮৯০৯; কিতাবুল আছল ১/১১০; কিতাবুল হুজ্জাহ ১/৬১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৪৭; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৭৭

শেয়ার লিংক

আহমাদ কবীর - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৯৭৪ . প্রশ্ন

 

মুসাফির ব্যক্তি যদি মুকীম ইমামের পিছনে মাসবুক হয় তবে সে দুই রাকাত পেলে কি আরো দইু রাকাত একাকী পড়বে, নাকি দইু রাকাতেই নামায শেষ করবে? আর যদি এক রাকাত পায় তাহলে কয় রাকাত পড়বে?


উত্তর

মুসাফির ব্যক্তি মুকীম ইমামের পিছনে ইক্তেদা করলে চার রাকাত পড়া জরুরি হয়ে যায়।

  তাই মুকীমইমামের পেছনে মাসবুক হলেও তাকে চার রাকাতই পড়তে হবে। 

 আবু মিজলায রাহবলেন,

قلت لابن عمر : ادركت ركعة من صلاة المقيمين وأنا مسافر؟ قال : صل بصلاتهم.

আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলামমুসাফির অবস্থায় যদি আমি মুকীমের পেছনে এক রাকাত পাই তাহলে করণীয় কী

 জবাবে তিনি বললেনমুকীমের মতো (পুরানামায পড়বে।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৪৩৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩৮৭৫; কিতাবুল আছল ১/২৫৬; বাদায়েউস সনায়ে ১/২৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রুম্মান - হাতিয়া, নোয়াখালী

৩৯৭৩ . প্রশ্ন

 

আমি জনৈক আলেমকে বলতে শুনেছি যে, জুমা ঈদের সময় খতীব সাহেবের জন্য ডান-বাম দিকে চেহারা ফিরিয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত তরীকা নয়। সুন্নত তরীকা হল সামনের মুসল্লিদের দিকে ফিরে খুতবা দেওয়া। জানার বিষয় হল, আলেমের কথা কি ঠিক?


উত্তর

হাঁ আলেম ঠিক বলেছেন। খুতবার সময় ডানে বামে চেহারা না

 ঘুরিয়ে সামনের দিকে ফিরে খুতবাদেওয়া  সুন্নত।

-আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/১৭৮; কিতাবুল উম্ম ১/২৩০; মাআরিফুস সুনান ৪/৩৬৫; উমদাতুল কারী ৬/২২১; রদ্দুল মুহতার ২/১৪৯

শেয়ার লিংক