মুহাম্মাদ মুর্তজা রহমান - ব্লক-ডি, রোড-৪, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা

২৫৬৮. প্রশ্ন

হযরত ফাতেমা রা.-এর ইন্তিকালের পর হযরত আবু যর গিফারী রা. ফাতেমা রা.-এর কবরে নেমে বললেন, হে কবর! তুমি কি জান, আজ তোমার মাঝে কাকে রাখা হবে? তিনি হলেন খাতুনে জান্নাত, হাসান-হুসাইনের মা, নবীজীর কলিজার টুকরা। তিনি তিন বার এ কথাগুলো বললেন। পরে কবর আওয়াজ দিল, আমি এগুলো কিছুই চিনি না। আমল যদি ভালো হয় তাহলে আমি তার জন্য প্রশস্ত হয়ে যাব। আর আমল যদি খারাপ হয় তাহলে তাকে এমনভাবে চাপ দিব ...। এই ধরনের কোনো রেওয়ায়েত সহীহ কি না এবং তা কোথায় পাওয়া যাবে?


উত্তর

উক্ত রেওয়ায়েত সম্বন্ধে মাসিক আলকাউসার, মার্চ ২০০৭ ঈ. সংখ্যায় প্রচলিত ভুল বিভাগে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার সারসংক্ষেপ হল, এটি একটি ভিত্তিহীন কেচ্ছা। বাস্তবতার সাথে এর দূরবর্তী সম্পর্কও নেই। আমাদের জানামতে কোনো নির্ভরযোগ্য হাদীস বা ইতিহাস গ্রন্থে এর কোনো সনদ উল্লেখ নেই। সাহাবায়ে কেরাম তো অনেক উর্ধ্বে, সাধারণ মুসলমানও কাউকে দাফন করার সময় এ ধরনের কথা বলতে পারে না। কেননা, আখিরাতে হিসাব-কিতাবের বিষয়টি যে ঈমান ও আমলের ভিত্তিতেই হবে তা দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা। এছাড়া রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায়ই প্রিয়তম কন্যা ফাতেমা রা.কে বলে গেছেন-

يا فاطمة! أنقذي نفسك من النار، فإني لا أملك ضرا ولا نفعا.

হে ফাতিমা! জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা কর। কেননা, আমি উপকার-অপকারের মালিক নই। (সহীহ মুসলিম ২/১১৪)

অতএব রেওয়ায়েতটি যেহেতু সহীহ নয় তাই তা বর্ণনা করা যাবে না। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তানভীর আহমদ - নতুন কোর্টপাড়া, কুষ্টিয়া

২৫৬৭. প্রশ্ন

 

লোকমুখ শুনেছি, মুসা আ. আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত হওয়ার জন্য। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেননি। এ কথা ঠিক কি না জানালে খুশি হব।


 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটির যথেষ্ট জনশ্রুতি থাকলেও তা সঠিক নয়। বিখ্যাত হাদীস শাস্ত্রজ্ঞ হাফেয যাহাবী রাহ.সহ একাধিক হাদীস বিশারদ এ সংক্রান্ত বর্ণনাটিকে জাল আখ্যা দিয়েছেন।

-মীযানুল ইতিদাল ২/১৫২; লিসানুল মীযান ৩/৪৪; তানযীহুশ শরীয়াতিল মারফুআহ ১/২৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম - লাকসাম, কুমিল্লা

২৫৬৬. প্রশ্ন

আমার পিতা গত কয়েক দিন আগে ইন্তিকাল করেছেন। আমরা চার ভাই। চার ভাইয়ের মধ্যে ছোটজন পিতামাতার অবাধ্য এবং মদপানসহ বিভিন্ন প্রকার গুনাহর সাথে জড়িত। তাই পিতা তার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন। এজন্য ইন্তিকালের এক মাস পূর্বে তাকে সামনে রেখে আমাদেরকে বললেন যে, তোমরা আমার সম্পদ থেকে তাকে কোনো অংশ দিবে না। আমি তাকে ত্যাজ্য করে দিলাম। তবে তিনি সম্পদ অন্যদের মাঝে বণ্টন করে দেননি। জানার বিষয় হল, পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে  ঐ ভাই কি হিস্যা পাবে? না পিতার ত্যাজ্য করার কারণে মিরাস থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার ঐ ভাইও অন্যদের মতো সমান মিরাস পাবে। পিতা তাকে ত্যাজ্য করার কারণে তার মিরাস বাতিল হয়ে যায়নি। তাই চার ভাইয়ের মধ্যে সমানভাবে সম্পদ বণ্টন করতে হবে।

উল্লেখ্য, কোনো সন্তান যদি পিতার অবাধ্য হয় এবং শরীয়াহ অনুযায়ী না চলে তাহলে পিতার জন্য তাকে অন্যদের তুলনায় সম্পদ কম দেওয়ার অধিকার আছে। তবে সেক্ষেত্রে শর্ত হল, পিতা তার জীবদ্দশায় সকল সম্পদ বণ্টন করে প্রত্যেককে দখল বুঝিয়ে দিবে। কিন্তু কোনো ওয়ারিসকে একেবারে সমুদয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা বৈধ নয়।

-সূরা নিসা (৪) : ১১; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১৬/২১৫; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১০০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৬৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৩৬৪; মাবসূত সারাখসী ১১/৪৮

শেয়ার লিংক

কাজী ফরিদ আহমেদ - নবাবপুর রোড, ঢাকা

২৫৬৫. প্রশ্ন

 

আমার ৩ কাঠার একটি জায়গা আছে, যার বিবরণ হল, পূর্ব পার্শ্বে আনুমানিক ১৬ ফিট রাস্তা। আমার জায়গার উত্তর পার্শ্বে ৩য় তলা মসজিদ অবস্থিত। মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে কবর স্থান আছে। আমার জায়গার পশ্চিম পার্শ্বে লাগোয়া মসজিদের আরো ৩ কাঠা খরিদকৃত জমি উন্মুক্ত/খালি অবস্থায় আছে। আর আমার জায়গার দক্ষিণ পার্শ্বে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত আনুমানিক ১ কাঠা জায়গায় টিনশেড ঘর আছে। এ অবস্থায় আমি মসজিদের এবং মসজিদের মুসল্লিদের সার্বিক সুবিধার্থে, মসজিদের গঠন সুন্দর হওয়ার জন্য আমার জায়গার সাথে মসজিদের খরিদকৃত সম্পত্তি ও ওয়াকফকৃত সম্পত্তির সাথে বদল করে মসজিদের একেবারে দক্ষিণ দিকে সমপরিমাণ জায়গায় অবস্থান নিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতে চাই। মানব সমাজের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় এ ব্যাপারে ইসলাম ধর্মের ফতোয়া প্রার্থনা করছি।


 

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা মতে বাস্তবেই যদি প্রশ্নোক্ত ওয়াকফিয়া জমিটি আপনার জমির সাথে পরিবর্তন করলে সার্বিকভাবে মসজিদ লাভবান হয় এবং এর দ্বারা ওয়াকফিয়া সম্পদ কোনো প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে ওয়াকফিয়া জমিটি আপনার জমির সাথে পরিবর্তন করার অবকাশ আছে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রে রেজিষ্ট্রি সংক্রান্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে নেওয়া আবশ্যক।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩০৬; আলবাহরুর রায়েক ৫/২২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু আফফান - নেত্রকোণা

২৫৬৪. প্রশ্ন

আমার চাচা তার একটি দোতলা বাড়ি মাদরাসার নামে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। ওয়াকফ দলিলে লিখেছেন, বাড়িটি ভাড়া দিয়ে যে আয় হবে তা মাদরাসার কল্যাণে ব্যয় হবে। দলিলে এ শর্ত লিখেছেন যে, যত দিন জীবিত থাকবেন ততদিন তিনি দোতলার একটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করবেন।

তার মৃত্যুর পর আত্মীয়দের কেউ তা ব্যবহার করতে পারবে না। তা মাদরাসার কল্যাণে ব্যয় হবে। আমার প্রশ্ন হল, চাচা একটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করবেন এ শর্তে ওয়াকফ সহীহ হয়েছে কি? ওয়াকফ হয়ে থাকলে তিনি ফ্ল্যাট ব্যবহার করতে পারবেন কি না?


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার চাচার ঐ দোতলা বাড়িটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করা সহীহ হয়েছে। আর এক্ষেত্রে চাচার জীবদ্দশায় বাড়িটির একটি ফ্ল্যাট নিজে ব্যবহার করার শর্ত করাও জায়েয হয়েছে।

সুতরাং তিনি যতদিন জীবিত থাকবেন ততদিন দোতলার একটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করতে পারবেন। তার মৃত্যুর পর ঐ ফ্ল্যাটটিও পূর্ণরূপে মাদরাসার হয়ে যাবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/৩৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/২২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৯৯; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৮৪; ইলাউস সুনান ১৩/১৩৯, ১৪৪; ফাতহুল বারী ৫/৪৯৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আনসারী - ফেনী

২৫৬৩. প্রশ্ন

আমি একজনের বাড়িতে গেলে সে আমাকে ভাত খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করে। আমি তার বাড়িতে খাব না এজন্য মিথ্যা কসম করে বলি, আমি খানা খেয়ে এসেছি। এতে আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে কি?


উত্তর

কোনো বিষয়ে মিথ্য কসম করা নিকৃষ্টতর কবীরা গুনাহ। প্রশ্নোক্ত মিথ্যা কসমের কারণে আপনার কবীরা গুনাহ হয়েছে।

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবীরা গুনাহ হল, আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতাপিতার অবাধ্যতা করা, মানুষ হত্যা করা ও মিথ্যা কসম করা।-সহীহ বুখারী ২/৯৮৭

অতএব ঐ গুনাহ থেকে কায়মনোবাক্যে তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। অবশ্য প্রশ্নোক্ত মিথ্যা কসমের কারণে আপনার উপর কোনো কাফফারা ওয়াজিব হয়নি। কাফফারা ওয়াজিব হয় ভবিষ্যতে কোনো বিষয়ের কসম করে তা ভঙ্গ করলে।

-আসসুনানুল কুবরা ১০/৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৭; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৪৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে মুনীর - কমলনগর

২৫৬২. প্রশ্ন

রাশেদ ৫০০/- টাকার বিনিময়ে একটি ঘড়ি কিনেছে। কিন্তু বাসায় এসে জানতে পারল যে, বাসায় এখন ঘড়ির প্রয়োজন নেই। তাই সে ঘড়িটি ফেরত দিতে চাচ্ছে, কিন্তু সে যখন দোকানদারকে ঘড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা জানাল তখন দোকানদার বলল যে, আমাদের দোকানে বিক্রিত মাল ফেরত নেওয়া হয় না। তখন সে দোকানদারকে বলল, আপনি ৫০ টাকা কম দিন এবং ঘড়িটি রেখে দিন। দোকানদার ঘড়িটি রেখে তাকে ৪৫০/-টাকা দিয়ে দিল। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত বেচাকেনা সহীহ হয়েছে কি?


উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ৫০/- টাকা কমে ঐ লেনদেন করা জায়েয হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে দোকানদারের জন্য উত্তম কাজ হত পুরো মূল্যই ফেরত দেওয়া। হাদীস শরীফে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি অনুতপ্ত ক্রেতার সাথে ইকালা করবে অর্থাৎ পূর্বের বিক্রির সমমূল্যে পণ্য ফেরত নিবে আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ মাফ করে দিবেন।

-সুনানে আবু দাউদ ২/৪৯০; আসসুনানুল কুবরা, ইমাম বায়হাকী ৬/৫১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে মুনীর - লক্ষীপুর

২৫৬১. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি এক ব্যবসায়ী থেকে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১ হাজার গেঞ্জি চার মাস পর হস্তান্তর করার চুক্তিতে ক্রয় করেছে এবং বেচা-কেনার সময়ই তার মূল্য পরিশোধ করে দিয়েছে। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তার টাকার প্রয়োজন হয়েছে। তাই সে অন্য ব্যবসায়ীর নিকট গেঞ্জিগুলো বিক্রি করতে চাচ্ছে। জানার বিষয় হল, এই বেচা-কেনা জায়েয হবে কি না?


উত্তর

না, ওই গেঞ্জিগুলো হস্তগত হওয়ার পূর্বে অন্য কারো কাছে বিক্রি করা জায়েয হবে না। এ ব্যাপারে সরাসরি হাদীসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

হাকীম ইবনে হিযাম রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করি। এর কোন পন্থাটি হালাল কোনটা হারাম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তুমি কোনো পণ্য ক্রয় করবে তখন তা হস্তগত হওয়ার পূর্বে অন্যত্র বিক্রয় করবে না। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৫৩১৬)

হযরত উমর রা. বলেন, যখন তুমি বস্ত্ততে সালাম-চুক্তি করবে তখন তা হস্তগত হওয়ার আগে অন্যত্র বিক্রি করবে না। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১১/৩২)

-মুসনাদে আহমদ ৩/৪০২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১১/৩২; হেদায়া ৩/৯৭; ফাতহুল কাদীর ৬/১৩৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩৯৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আনোয়ার - বি. বাড়িয়া

২৫৬০. প্রশ্ন

বি.বাড়িয়া জেলায় আমাদের (মালিক সমিতির) একটি সিএনজি-স্কুটারের গ্যারেজ আছে। সেখান থেকে সিএনজি-স্কুটার ভাড়া দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ট্রাফিক আইন অনুযায়ী এক জেলার গাড়ি অন্য জেলায় যাওয়ার অনুমতি থাকলেও ট্রাফিকরা অনেক সময় দুর্নীতি করে। বি.বাড়িয়ার সিএনজি কুমিল্লা বা অন্য কোনো জেলায় গেলে ভুয়া কারণ দেখিয়ে জরিমানা করে। জরিমানা না দিলে কখনো মিথ্যা মামলা দিয়ে গাড়ি আটক করে রাখে। এজন্য আমরা মালিক কর্তৃপক্ষ আমাদের সিএনজির সকল ড্রাইভারকে (যারা সিএনজি ভাড়া নিয়ে থাকে তাদেরকে) বি.বাড়িয়া জেলার বাইরে যেতে নিষেধ করে দিয়েছি, কিন্তু ড্রাইভাররা মাঝেমধ্যে জেলার বাইরে চলে যায়, ফলে কখনো কখনো ট্রাফিকদের অন্যায় জরিমানার সম্মুখীন হয়। তখন ড্রাইভাররা বলে যে, আমরা তো ট্রাফিক আইন অমান্য করিনি। তারপরও ট্রাফিকরা জরিমানা করেছে। তাই এর কিছু অংশ আপনাদের মালিক সমিতিরও বহন করতে হবে। জানার বিষয় হল, উক্ত জরিমানা কি আমাদেরকেও বহন করতে হবে?


উত্তর

সিএনজি মালিক কর্তৃপক্ষ যেহেতু পূর্ব থেকেই সকল ড্রাইভারকে জেলার সীমানা অতিক্রম করতে নিষেধ করে দিয়েছে তাই ড্রাইভারদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা বৈধ নয়। সুতরাং ড্রাইভাররা যদি মালিকদের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে জেলার সীমানা অতিক্রম করে এবং এ কারণে কোনো জরিমানার সম্মুখীন হয় তাহলে তা ড্রাইভারকেই দিতে হবে। এই জরিমানা বা তার অংশ বিশেষ মালিক পক্ষ দিতে বাধ্য থাকবে না।

উল্লেখ্য, বিনা কারণে কারো উপর জরিমানা করা মারাত্মক অন্যায় ও গুনাহর কাজ। সংশ্লিষ্ট সকলের এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া জরুরি।

-মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়া, মাদ্দা : ৬০০, ৬০১; আলজাওহারাতুন নাইয়িরা ১/৩৩৯; মাজমাউল আনহুর ৩/৫২৫; শরহু মুখতাসারিত তাহাভী ৩/৩৯৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফয়জুদ্দীন ইবনে আবদুল বার - কুনিয়া, নেত্রকোণা

২৫৫৯. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক কৃষক থেকে ২০০/- টাকা দরে ৫০ মণ পাইজম ধান ক্রয় করেছি। চুক্তিটি এভাবে হয়েছে যে, আমি তাকে নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনি প্রতি ছয়মাস পর পর ৫ মণ করে ধান দিবেন। ৫ বছরে সম্পূর্ণ ধান পরিশোধ করবেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম কিস্তি দেওয়ার সময় ৩ মণ ধান দিতে চাচ্ছেন এবং বলছেন, ক্ষেতে ধান কম হয়েছে তাই ৩ মণ ধান দিবেন। আর ২ মণ ধানের (বর্তমান বাজার মূল্য হিসেবে) মূল্য দিয়ে দিবেন। এখন আমার জন্য ঐ দুই মণ ধানের মূল্য নেওয়া জায়েয হবে কি?


উত্তর

না, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য ধানের মূল্য নেওয়া জায়েয হবে না। বরং তার থেকে ধানই নিতে হবে। তার কাছে না থাকলে বাজার থেকে খরিদ করেও দিতে পারে।

প্রসিদ্ধ সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ আগাম খরিদ চুক্তিতে কোনো পণ্য ক্রয় করে তাহলে সে যেন ক্রয়কৃত পণ্যের পরিবর্তে অন্য কোনো বস্ত্ত গ্রহণ না করে।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩৪৬৮

বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, যদি আগাম চুক্তিতে কোনো বস্ত্ত ক্রয় কর তাহলে ক্রয়কৃত বস্ত্তটি গ্রহণ কর। অথবা (ঐ বস্ত্ত দিতে সক্ষম না হলে) যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলে তা নিয়ে নাও।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৮/১৪

প্রকাশ থাকে যে, প্রশ্নোক্ত লেনদেনে এক মণ ধানের মূল্য ২০০/- টাকা ধরা হয়েছে। এটি বাজার মূল্য থেকে অনেক কম (এমনকি কিস্তির ক্ষেত্রেও), অথচ শরীয়তে বাজারমূল্য থেকে বেশি তারতম্য করা নিষেধ। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তি করতে হলে এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩৪৬৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৮/১৪; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১১৯; আদ্দুররুল মুখতার ৫/২১৮-২১৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম - বানারিপাড়া, বরিশাল

২৪৫৮. প্রশ্ন

একজন ব্যক্তি এক জায়গায় শিক্ষকতা করতেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি বাড়ি যাওয়ার পর তার অভিভাবকগণ আত্মীয় এক মেয়ের সাথে তাকে বিয়ে পড়িয়ে দেন। বিয়ের আকদের পরই তিনি আবার চাকরিস্থলে চলে আসেন। ঐ মেয়ের সাথে তার স্বামী-স্ত্রীসূলভ কোনো আচরণ, এমনকি নির্জনবাসও হয়নি। কিন্তু চাকরিস্থলে আসার পর তার হঠাৎ ইন্তেকাল হয়ে যায়। এখন জানার বিষয় হল, বিয়ের পর তাদের মাঝে তো নির্জনবাসও হয়নি। তাই এখন তার স্ত্রী কি মোহর পাবে? যদি পায় তাহলে পুরোটা পাবে, না আংশিক? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির স্ত্রী পূর্ণ মোহরই পাবে। কেননা বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর কেউ মারা গেলে যদিও তা নির্জনবাসের পূর্বে হয় স্ত্রী পুরো মোহরই পায়।

-আল আওসাত ৮/৩৬৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৮৪; ফাতহুল কাদীর ৩/২০৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৪৩; রদ্দুল মুহতার ৩/১০২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সানাউল্লাহ - আজীমুদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় কিশোরগঞ্জ

২৪৫৭. প্রশ্ন

আলহামদুলিল্লাহ, আমি প্রতি বছর দুই-তিন লক্ষ টাকা যাকাত দিয়ে থাকি। আমি কি যাকাতের টাকা মসজিদ নির্মাণ বা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে যেমন-সেতু নির্মাণ, নদী খনন, রাস্তা মেরামত, নলকূপ স্থাপন ইত্যাদি কাজে ব্যয় করতে পারব? জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

যাকাতের টাকা দরিদ্রের হক। তাদেরকে এ টাকার নিরঙ্কুশ মালিক বানিয়ে দেওয়া জরুরি। কাউকে মালিক না বানিয়ে জনকল্যাণমূলক খাতে খরচ করলে তা দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। সুতরাং মসজিদ নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, নদী খনন, রাস্তা মেরামত, নলকূপ স্থাপন ইত্যাদি জনকল্যাণমূলক কাজে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

-সূরা বাকারা (২) : ৬০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২০; তুহফাতুল ফুকাহা ১/৩০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল ওয়াহিদ - আদালতপাড়া, টাঙ্গাইল

২৪৫৬. প্রশ্ন

আমি আমাদের দেশের এক অসহায় ব্যক্তিকে মুসলিম মনে করে যাকাতের কিছু অর্থ দিয়েছি। পরে জানতে পারলাম যে, সে অমুসলিম। এখন জানার বিষয় হল, আমার যাকাত কি আদায় হয়েছে, না পুনরায় তা আদায় করতে হবে?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার যাকাত আদায় হয়ে গেছে। কেননা কাউকে যাকাতের উপযুক্ত মুসলমান মনে করে যাকাত দেওয়ার পর পরর্বতীতে লোকটি অমুসলিম বলে প্রকাশ পেলেও যাকাত আদায় হয়ে যায়। ঐ যাকাত পুনরায় আদায় করতে হয় না। কিন্তু জেনেশুনে কোনো অমুসলিমকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। জেনে শুনে দিলে যাকাত আদায় হবে না।

-হিদায়া ১/২০৭; ইনায়াহ ২/২১৪; রদ্দুল মুহতার ২/৩৫২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু বকর - মনোহরদী

২৪৫৫. প্রশ্ন

এক লোকের কাছে আমার কিছু টাকা পাওনা আছে। তবে তা পাওয়ার তেমন আশা নেই। জানতে পেরেছি, লোকটি গরীব। যাকাতগ্রহণের উপযুক্ত। এখন ঐ টাকা যদি যাকাত আদায়ের নিয়তে ক্ষমা করে দিই তাহলে  আমার যাকাত আদায় হবে কি না।


উত্তর

না, এভাবে আপনার যাকাত আদায় হবে না। কেননা যাকাত আদায়ের জন্য শর্ত হল, যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিকে দেওয়ার সময়ই যাকাতের নিয়ত করা। প্রথমে অন্য নিয়তে দিয়ে পরে তা যাকাত হিসেবে ধরে নিলে এতে যাকাত আদায় হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে যাকাত দিতে হলে সরাসরি তাকে যাকাতের অর্থ প্রদান করতে হবে। এরপর তার থেকে নিজের পাওনা উসূল করে নিতে পারবেন।

-রদ্দুল মুহতার ২/২৭০-২৭১; আলবাহরুর রায়েক ২/২১১

শেয়ার লিংক

সুমাইয়া - মাদারীপুর

২৪৫৪. প্রশ্ন

 

শুনেছি, হাদীসে আরাফার দিনে রোযা রাখার যে কথা এসেছে তা হল যারা হজ্বে যায়নি তাদের জন্য। আর যারা হজ্বে আছেন তাদের জন্য এদিন রোযা রাখা ঠিক নয়। জানতে চাই, এ কথাটি কি সঠিক?

 


 

উত্তর

 

আরাফার দিনের রোযা সম্পর্কিত হাদীসটির তরজমা নিম্নরূপ : আবু কাতাদা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, এর বিনিময়ে তিনি ঐ দিনের পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।-সহীহ মুসলিম ১/৩৬৭ 

উপরোক্ত হাদীসটিতে আরাফার বাইরে অবস্থানকারী বা আরাফায় অবস্থানকারী কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। অতএব যারা হজ্বে যাননি শুধু  তাদের জন্য এ হাদীস প্রযোজ্য-এমনটি নয়। সকলের জন্যই এই হাদীসের উপর আমল করার সুযোগ রয়েছে। তবে যারা হজ্বে আছেন তাদের যেহেতু এদিন আরাফায় লম্বা সময় দুআ-মুনাজাতে ব্যস্ত থাকতে হয় এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতেও হজ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল আদায় করতে হয় যেগুলো বেশ কষ্টসাধ্য তাই হাজীদের জন্য বিশেষ হুকুম হল, রোযা রাখার কারণে দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তারা রোযা রাখবে না। এমন লোকদের জন্য রোযা রাখা মাকরূহ। কেননা এই দিনের রোযার চেয়ে হজ্বের আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উম্মতকে এই মাসআলা শিক্ষা দেওয়ার জন্য স্বয়ং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্বে আরাফার রোযা রাখেননি। খুলাফায়ে রাশেদীনসহ অনেক সাহাবী আরাফায় অবস্থানকালে রোযা রাখেননি। 

অবশ্য সুস্থ, সামর্থ্যবান ব্যক্তি, যে এই দিনে রোযা রাখলেও দুর্বল হবে না এবং হজ্বের কোনো কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না বলে  আশ্বস্ত থাকে তার জন্য রোযা রাখার অনুমতি রয়েছে। কেউ কেউ তাদের জন্যও রোযা রাখাকে উত্তমও বলেছেন। সুতরাং যারা হজ্বে আছেন তাদের জন্য রোযা রাখা ঠিক নয়-এই কথাটি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রা., উসমান ইবনে আবুল আস রা., আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. এবং আতা রাহ. প্রমুখ

সাহাবা-তাবেয়ী থেকে এই দিন আরাফায় অবস্থানকালে রোযা রাখার প্রমাণ রয়েছে। এবং তাদের থেকে এটিও স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, শরীর দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে এদিন রোযা রাখতে কোনো অসুবিধা নেই। নিম্নে এ সংক্রান্ত আছারগুলো পেশ করা হল।

১. কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ রাহ. বলেন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. (হজ্ব করতে গিয়ে) আরাফার দিনে রোযা রাখতেন।-মুয়াত্তা মালেক, পৃ. ১৪৬; আলইসতিযকার ৩/৫৩৪

২. আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর আরাফার দিনে আয়েশা রা-এর নিকট গেলেন তখন আয়েশা রা. রোযা ছিলেন। তিনি তাকে বললেন, আপনি ইফতার করুন (রোযা ভাঙুন)। আয়েশা রা. জবাবে বললেন, আমি কীভাবে ইফতার করব। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই আরাফার দিনের রোযার বিনিময়ে পূর্বের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৪৭৭০

৩. ইবনে জুরাইজ বলেন, আমি আতা রাহ.কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি হজ্বের সময় আরাফার দিনে রোযা রাখেন? তিনি বললেন, আমি শীতকালে রোযা রাখি। গ্রীষ্মকালে এই দিন রোযা রাখি না।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৭৮২২

হাফেয ইবনে আবদুল বার রাহ. বলেন, গ্রীষ্মকালে তিনি এজন্য রোযা রাখতেন না যে, এদিন যেন দুআ (ও হজ্বের অন্যান্য আমল আদায়ে) তিনি দুর্বল না হন।-আলইসতিযকার

৪. কাতাদাহ বলেন, আরাফার দিন দুআ (ও অন্যান্য আমল) আদায়ে যদি সমস্যা না হয় তবে এদিন রোযা রাখতে অসুবিধা নেই।

 

-প্রাগুক্ত মাবসূত সারাখসী ৩/৮১; বাদায়েউস সানায়ে ২/২১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬২; রদ্দুল মুহতার ২/৩৭৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১০০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ উবায়দুল্লাহ - শরীয়তপুর

২৪৫৩. প্রশ্ন

জনৈক বৃদ্ধা মহিলার উপর হজ্ব ফরয, কিন্তু তিনি এত দুর্বল যে, নিজে হজ্ব করতে সক্ষম নন। তিনি চাচ্ছেন কাউকে দিয়ে বদলি হজ্ব করাতে। এক্ষেত্রে তার আত্মীয়র মধ্যে দুই জন রয়েছে, যারা বদলি হজ্ব করতে ইচ্ছুক। এক. বৃদ্ধার ছেলে, যার উপর হজ্ব ফরয, কিন্তু এখনো সে নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেনি। আর সে আলেমও নয়। অপরজন বৃদ্ধার নাতি। তার উপর হজ্ব ফরয নয় এবং সে হজ্বও করেনি। উক্ত নাতি মেশকাত জামাতে পড়ে।

এক্ষেত্রে জানার বিষয় হল, উপরোক্ত দুই ব্যক্তি থেকে কার মাধ্যমে বদলি হজ্ব করানো ভালো হবে? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

বদলি হজ্ব এমন ব্যক্তির দ্বারা করানো উচিত, যিনি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছেন এবং হজ্বের আহকাম সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন। তিনি আত্মীয় হোন বা না হোন। নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেনি এমন কাউকে দিয়ে বদলি হজ্ব করানো মাকরূহ।

জেনে রাখা দরকার যে, সুন্দরভাবে হজ্ব আদায়ের জন্য মাসআলার জ্ঞান এং পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, ৬/১৮৭; ফাতহুল কাদীর ৩/৭৯; মানাসিক ৪৫৩; গুনইয়াতুন নাসিক ৩৩৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মমিনুল ইসলাম - নন্দীগ্রাম, বগুড়া

২৪৫২. প্রশ্ন

গত রমযানের ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়। সেহরীর সময় বাকি আছে ধারণা করে সেহরী খেয়ে নেই। কিন্তু পরে জানতে পারি যে, ঐ সময় সুবহে সাদিক  হয়ে গিয়েছে। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত অবস্থায় আমার উপর কি রোযা বা কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার ঐ রোযা সহীহ হয়নি। তাই রোযাটি কাযা করে নেওয়া জরুরি। তবে কাফফারা আদায় করতে হবে না। উল্লেখ্য, এ ধরনের ক্ষেত্রে রোযা সহীহ না হলেও পুরো দিন রোযা অবস্থায় থাকতে হবে।

-কিতাবুল আসল ২/১৮৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম - হাটাহাজারী, চট্টগ্রাম

২৪৫১. প্রশ্ন

আমি এক রমযানে ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। গাড়িতে খুব দুর্গন্ধ থাকায় অস্বস্তি বোধ করি এবং একপর্যায়ে বমির ভাব হয়। বমি না হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা সত্ত্বেও বমি হয়ে যায়। জানতে চাই, এ কারণে আমার রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? কাযা বা কাফফারা কোনটি ওয়াজিব হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।

উল্লেখ্য, আমার বমিটা মুখ ভরে হয়েছিল। বমি হওয়ার পরও সারা দিন আমি কিছু খাইনি। একেবারে ইফতারির সময় খেয়েছি।


উত্তর

অনিচ্ছাকৃত বমি হলে রোযা ভাঙ্গে না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার ঐ রোযা নষ্ট হয়নি; বরং তা আদায় হয়ে গেছে।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ৭২০; কিতাবুল আসল ২/১৯২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ বিন মুনীর - কমলনগর

২৪৫০. প্রশ্ন

 

আমাদের মসজিদে একটি নাবালেগ ছেলে ইতিকাফ করেছে। ঐ নাবালেগ ছেলে ব্যতীত অন্য কেউ ইতিকাফ করেনি। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় এলাকাবাসী কি সুন্নত ইতিকাফ না করায় গুনাহগার হয়েছে? শুধু নাবালেগ ইতিকাফ করার দ্বারা কি সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে?


 

উত্তর

বুঝমান নাবালেগের ইতিকাফ সহীহ। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্য থেকেই ইতিকাফে বসা উচিত। কেননা রমযানের শেষ দশকের ইতিকাফ অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ইবাদত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গুরুত্ব সহকারে আদায় করতেন। তাই এ ব্যাপারে উদাসীনতা মোটেই ভালো নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১১; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শামসুল আরেফীন - উত্তরা, ঢাকা

২৪৪৯. প্রশ্ন

 

আমাদের ফ্যাক্টরির ভেতরই কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা আছে। মুরগীর জন্য মহাক্ষতিকর ভাইরাসজনিত সমস্যার কারণে কর্মচারীদের বাইরে যাওয়া নিষেধ থাকে। ফলে সকলেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফ্যাক্টরির ওয়াক্তিয়া নামায ঘরেই আদায় করে থাকে। একই সমস্যার কারণে তাদেরকে জুমআর জন্যও বাইরের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। এখন তাদের জন্য ফ্যাক্টরির ওয়াক্তিয়া নামায ঘরে জুমআ পড়া জায়েয হবে কি না? না কি যোহর পড়তে হবে। নামায ঘরটি ওয়াকফিয়া মসজিদ নয়। অনেকের ধারণা, জুমআ আদায়ের জন্য জামে মসজিদে যেতে হবে। শুধু মসজিদ হলেও চলবে না। এটা ঠিক কি না?


 

উত্তর

 

প্রশ্নোক্ত কারণে কর্মচারী ও ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে অবস্থানকারী অন্যান্য মুসল্লিদের জন্য উক্ত নামায ঘরে জুমআ আদায় করা সহীহ হবে। জুমআর জন্য ওয়াকফিয়া মসজিদ হওয়া শর্ত নয়।  তদ্রূপ জামে মসজিদ হওয়াও শর্ত নয়। তবে নিয়ম হল, যে কোনো ফরয নামাযই ওয়াকফকৃত শরয়ী মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করা। তদ্রূপ জুমআর ক্ষেত্রেও সাধারণ নিয়ম হল, ছোট ছোট জামাত না করে একত্রে এলাকার বড় কোনো জামে মসজিদে আদায় করা। 

উল্লেখ্য, ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে জুমআ পড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জুমআ না পড়ে যোহর পড়া জায়েয হবে না। কারণ যে জায়গার জন্য জুমআর বিধান প্রযোজ্য সেখানে মুকীমদের জন্য জুমআ পড়া ফরয। বিনা ওযরে জুমআ না পড়ে যোহর পড়া বৈধ নয়।

 

-সহীহ বুখারী ১/৪৭; ফাতহুল বারী ১/৫৭১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫১; রদ্দুল মুহতার ২/১৫২; মিনহাতুল খালিক ২/১৫১; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - গেন্ডারিয়া, ঢাকা

২৪৪৮. প্রশ্ন

নামাযে কীভাবে মন স্থির রাখা যায়। খুশু-খুযুর গুরুত্ব কী? খুশু-খুযুর সাথে নামায পড়ার উপায় কী? বিস্তারিত জানালে খুব উপকৃত হব।


উত্তর

নামাযে খুশু-খুযু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন-হাদীসে এ সম্পর্কে অনেক তাকীদ করা হয়েছে। খুশু-খুযুর দুটি অংশ রয়েছে : এক. নামাযে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা। দুই. মনোযোগ ও একাগ্রতা রক্ষা করা। এ দুটি বৈশিষ্ট্যের সাথে যে নামায আদায় করা হয় তাকে খুশু-খুযুযুক্ত নামায বলে। এ দুটি বৈশিষ্ট্য কীভাবে অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল।

এক. বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা। যেমন হাত, পা এবং শরীরকে নামাযের বাইরের কোনো কাজে ব্যবহার না করা। অনর্থক নড়াচড়া থেকে বিরত থাকা। সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের নবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সাতটি (অঙ্গের) উপর সিজদা করে এবং নামাযে চুল বা কাপড় না গুটায়।-সুনানে আবু দাউদ ২/১৪, হাদীস : ৮৮৬

নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন মনে হত একটি কাঠ মাটিতে গেড়ে দেওয়া হয়েছে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৭৩২২

প্রখ্যাত তাবেয়ী আমাশ রাহ. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. যখন নামাযে দাঁড়াতেন তাকে দেখে মনে হত যেন একটি পড়ে থাকা কাপড়।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৩৩০৩

তদ্রূপ এদিক সেদিক না তাকানো; নামায অবস্থায় যখন যেখানে দৃষ্টি রাখা নিয়ম সেখানে দৃষ্টি রাখাও বাহ্যিক খুশু-খুযুর অন্তর্ভুক্ত।

আম্মাজান আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছি যে, নামাযে এদিক সেদিক তাকানোর ব্যাপারে আপনি কী বলেন? জবাবে তিনি বলেছেন, এটা হল শয়তানের ছোঁ মারা, যা দ্বারা শয়তান আল্লাহর বান্দাদেরকে নামায থেকে গাফেল ও উদাসীন করে ফেলে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৭৫১

বিশিষ্ট সাহাবী আবু যর রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নামাযের সময় আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি সর্বক্ষণ (রহমতের) দৃষ্টি রাখেন যতক্ষণ নামাযী অন্য কোনো দিকে দৃষ্টি না দেয়। যখন সে অন্য দিকে চেহারা ফেরায় তখন আল্লাহ তাআলা তার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২১৫০৮

দুই. নামাযে মনোযোগ ও একাগ্রতা রক্ষা করা।

ক) এমন মনোভাব নিয়ে নামায আদায় করা যে, এটিই তার জীবনের শেষ নামায।

বিশিষ্ট সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আল্লাহর রাসূল! আমাকে সংক্ষিপ্তভাবে দ্বীনের কিছু কথা বলে দিন। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন নামায পড় তখন জীবনের শেষ নামায আদায়কারীর মতো নামায পড়।-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৪৭১

খ) পুরো নামায এ অনুভূতি নিয়ে আদায় করা যে, আল্লাহ তাআলা আমাকে দেখছেন, আমি তার সামনে দন্ডায়মান।

প্রসিদ্ধ হাদীসে-জিবরীলে এসেছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি এমনভাবে ইবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। আর তুমি যদি আল্লাহকে না-ও দেখ তবে আল্লাহ তো তোমাকে অবশ্যই দেখছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮

গ) সাথে সাথে এ খেয়াল করবে যে, আমি আল্লাহ তাআলার সম্মুখে দাঁড়িয়েছি এবং তাঁর সাথে কথা বলছি। কেননা নামায হল আল্লাহ তাআলার সাথে একান্তে কথোপকথন করা।

সহীহ বুখারীতে এসেছে, সাহাবী আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন সে আল্লাহর সাথে একান্তে কথা বলে; যতক্ষণ সে তার নামাযের জায়গায় থাকে।-সহীহ বুখারী,

হাদীস : ৪১৬

উপরে বর্ণিত পন্থাগুলো অবলম্বনের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার কাছে একাগ্রতা অর্জনের জন্য নামাযের বাইরে বিভিন্ন সময় দুআও করতে হবে।

মনোযোগ রাখার আরেকটি সহজ পন্থা হল, নামাযের কিরাত ও আযকারের দিকে মনোযোগ রাখা। অর্থ বুঝলে অর্থের দিকেও ধ্যান রাখা। কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যদিকে খেয়াল চলে গেলে ক্ষতি নেই। তবে স্মরণ হওয়ামাত্র পুনরায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে হবে। স্মরণ হওয়ার পরও অন্য কিছু খেয়াল করতে থাকা বা ইচ্ছাকৃত অন্য কিছুর খেয়াল আনা নিষিদ্ধ। তাই এ থেকে বিরত থাকতে হবে। এভাবে নামায পড়লে ইনশাআল্লাহ তা খুশু-খুযু বিশিষ্ট নামায বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য যে, সাহাবা-তাবেয়ীন ও বুযুর্গানে দ্বীনের নামাযের বিবরণ পাঠ করাও খুশু-খুযু হাসিলের ক্ষেত্রে সহায়ক। তবে তাদের যেসব ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের খুশু-খুযুর বিবরণ পাওয়া যায় সেসব ঘটনা পাঠ করে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কারণ খুশু-খুযুর বিভিন্ন পর্যায় আছে এবং চেষ্টা অব্যাহত রাখলে আল্লাহ তাআলার ফযল ও করমে ধীরে ধীরে উচ্চ পর্যায়ের খুশু-খুযুও হাসিল হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ঐ পর্যায়ের খুশু-খুযু অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন।

-আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/২৫২; তাফসীরে কুরতুবী ১/২৫৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তুহিন - কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা

২৪৪৭. প্রশ্ন

নামাযের মধ্যে কি হাতঘড়ি বা দেওয়ালঘড়ি দেখা যাবে? আর ঘড়ি কোন হাতে পরা ভালো? আমি তো ডান হাতে পরি, অনেক মানুষ আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে আমি বলেছি, ডান হাতে পরা সুন্নত।


উত্তর

নামাযে অনিচ্ছাকৃত ঘড়িতে দৃষ্টি পড়লে তাতে নামাযের ক্ষতি হবে না। তবে নামাযে ইচ্ছাকৃত ঘড়ি বা অন্য কিছুর দিকে তাকানো মাকরূহ। আর প্রয়োজনে ঘড়ি রাখা মুবাহ। কেউ তা হাতে রাখতে চাইলে যেকোনো হাতেই রাখতে পারে। ডান হাতে ঘড়ি পরা সুন্নত-এ ধারণা ঠিক নয়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১২৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৪; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৪; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ২৪/৩৭১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খায়রুল বাশার - ঝালকাঠি

২৪৪৬. প্রশ্ন

একজন বললেন, যদি ফরয বা ওয়াজিব নামায কাযা হয়ে যায় তবে তা তওবা করলেও মাফ হবে না। আদায় করা জরুরি। কেননা যে কাজের কারণে গুনাহ লেখা হয় তা তাওবার দ্বারা মাফ হবে ঠিক কিন্তু যে কাজের জন্য আযাব লেখা হয় সেটা তওবা দ্বারা মাফ হয় না। যেমন নামায না পড়লে লেখা হয় আযাব, গুনাহ নয়। সুতরাং নামায পুনরায় পড়া ছাড়া শবে কদর পেলেও পরিত্রাণ না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। উপরোক্ত কথাগুলো কুরআন-হাদীসসম্মত কি না। সঠিক বিষয় জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

ফরয বা ওয়াজিব নামায ছুটে গেলে, তা পরবর্তীতে কাযা করে নেওয়া জরুরি। শুধু তাওবা করে নেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রশ্নের এ কথাটি সঠিক। কিন্তু প্রশ্নে এর কারণ হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ঠিক নয়। কাযা নামায আদায় করা জরুরি এ বিষয়টি একাধিক সহীহ হাদীস এবং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর আমল দ্বারা প্রমাণিত।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২১; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬২; ইলাউস সুনান ৭/১৪১, ১৪৩

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement