মুহাম্মাদ খাইরুল ইসলাম - ভালুকা, ময়মনসিংহ

২০৩৭. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি বলেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর ও ঘাম থেকে কুদরতিভাবে সুগন্ধি বের হত। আর তিনি যে পথে চলতেন সে পথ সুরভিত হয়ে যেত। জানতে চাই, এ কথাটি সঠিক কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি বৈশিষ্ট্য এই ছিল যে, তাঁর শরীর মুবারক ও ঘাম অত্যন্ত সুরভিপূর্ণ ছিল। এ বিষয়ে কয়েকটি হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হল।

হযরত আনাস রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘ্রাণ মেশক-আম্বরের সুঘ্রাণ থেকে অধিক সুবাসিত পেয়েছি। (সহীহ মুসলিম ২/২৫৭; সহীহ বুখারী ১/৫০৩; সুনানে দারেমী ১/৩৪)

হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইম রা.-এর ঘরে (দুপুর বেলা) ঘুমালেন। উম্মে সুলাইম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘাম নিয়ে শিশিতে সংরক্ষণ করলেন এবং ঘরের সুগন্ধির সাথে মিশিয়ে রাখলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কী করছ? তিনি বললেন, আপনার ঘাম আমাদের আতরের সাথে মিশিয়ে রাখছি। কেননা, তা সকল আতরের চেয়ে অধিক সুবাসিত। (সহীহ মুসলিম ২/২৫৭)

হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘাম এত সুবাসিত ছিল যে, তিনি কোনো পথ অতিক্রম করার পর অন্য কোনো ব্যক্তি যদি ওই পথ অতিক্রম করত তাহলে সে বুঝতে পারত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই পথ অতিক্রম করেছেন।-সুনানে দারেমী ১/৩৪; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ১৪০৫৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাহিয়ান - পুষ্পকানন পাঠাগার, ফেনী

২০৩৬ . প্রশ্ন

আমাদের এলাকার একজন আলেম সালাম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আসসালামু কাবলাল কালাম কথাটিকে হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আসলেও কি কথাটি হাদীস? হাদীস হলে তা কোন কিতাবে আছে উদ্ধৃতিসহ জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

উক্ত বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সনদে (বিশুদ্ধ সূত্রে) প্রমাণিত নয়। ইমাম তিরমিযী রাহ. তাঁর জামে তিরমিযীতে উক্ত বাক্যটি উল্লেখ করার পর বলেন,

هذا حديث منكر          অর্থাৎ এটি মুনকার রেওয়ায়েত। অতএব বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে সহীহ হাদীস হিসেবে বলা যাবে না। তবে সাধারণ আরবী বাক্য হিসেবে বলা যাবে। উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত বাক্যটি হাদীস না হলেও সাক্ষাতের সময় প্রথমে সালাম দেওয়ার বিষয়টি শরীয়তের অন্যান্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৮৪২; আততালখীসুল হাবীর ৪/১৯২১, হাদীস : ৪১৯৯; কাশফুল খাফা ১/৪০২; আলকামিল ফিযযুআফা, ইবনে আদী ৬/২০৪, ৫/২৯১; আলফুতুহাতুর রব্বানিয়া ৫/৩২৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইয়াসীন হাবীব - পল্লবী, ঢাকা

২০৩৫. প্রশ্ন

একটি ছোট্ট বইয়ে পড়েছি, খালি ঘরে প্রবেশের সময় এভাবে সালাম দেওয়া মুস্তাহাব-আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। কথাটি কি সঠিক? কোন হাদীস থাকলে বরাতসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হ্যাঁ, কথাটি সঠিক। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, খালি ঘরে বা মসজিদে প্রবেশকালে এভাবে সালাম দিবে-আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন।’’

বিখ্যাত তাবেয়ী ইকরিমা রাহ. থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১৩/২২৩; আলআদাবুল মুফরাদ পৃ. ১০৫৫; ফাতহুল বারী ১১/২২; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাজমুল হক - তাড়াইল, টাঙ্গাইল

২০৩৪. প্রশ্ন

করআন মজীদ তিলাওয়াতের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র নাম এলে তিলাওয়াত বন্ধ করে তাৎক্ষণিক দরূদ পড়তে হবে কি না?

উত্তর

উত্তম হল তিলাওয়াত বন্ধ না করা এবং তিলাওয়াত শেষে দরূদ পড়া। কারণ পরে পড়লেও দরূদ পড়ার হক আদায় হয়ে যায়। এছাড়া তিলাওয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম এলে দরূদ পড়া জরুরি নয়।


রদ্দুল মুহতার ১/৫১৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/২২৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাবির হুসাইন - নওগা, রাজশাহী

২০৩৩. প্রশ্ন

সূরা হজ্বের ১৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, (তরজমা) এই দুই বাদী-বিবাদী তাদের রবের ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। এই আয়াতে দুই দল বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে? তাদের নাম ও প্রেক্ষাপট সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করার অনুরোধ রইল।

উত্তর

এই আয়াতটি ওই দুই পক্ষ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা বদর যুদ্ধে রণক্ষেত্রে মুখোমুখি হয়েছিল। মুসলমানদের পক্ষ থেকে হযরত আলী রা., হামযা রা. ও ওবায়দা রা.। আর কাফেরদের পক্ষ থেকে ওতবা ইবনে রবীয়া, তার পুত্র ওলিদ ও তার ভাই শায়বা। কাফের পক্ষের তিনজনই রণক্ষেত্রে মারা গিয়েছিল। আর মুসলমানদের মধ্যে হযরত আলী রা. ও হযরত হামযাহ রা. অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছিলেন। আর হযরত ওবায়দা রা. গুরুতর আহত অবস্থায় রণক্ষেত্র থেকে ফিরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে শাহাদত বরণ করেন।

-সহীহ বুখারী ২/৫৬৫; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৩৪০; মাআরিফুল কুরআন ৬/২৪৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ বরকতুল্লাহ - দনিয়া, ঢাকা

২০৩২. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব তারাবীর সময় ঘোষণা করলেন যে, প্রথম রাকাতে সিজদা আছে। কিন্তু তিনি সেজদার আয়াত পর্যন্ত পৌঁছার আগেই আয়াত ভুলে যান। যেহেতু তিনি সেজদার কথা ঘোষণা করেছেন তাই সেজদার আয়াত না পড়েও ইচ্ছা করে সেজদা করেছেন। তারপর অন্য আয়াত থেকে পড়ে নামায শেষ করেন এবং সাহু সেজদাও করেননি। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামায সহীহ হয়েছে কি না?

উত্তর

সেজদার আয়াত পড়া ছাড়া ইচ্ছাকৃত সেজদা করা গুনাহের কাজ হয়েছে। তবে এর কারণে নামায ভঙ্গ হবে না; বরং সকলের নামায আদায় হয়ে গেছে। ইমামের উচিত তার ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৭৫; রদ্দুল মুহতার ১/৬২৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৯১; আলমিনহাতুল খালিক ২/৯১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুনকাদীর - বি.বাড়িয়া

২০৩১. প্রশ্ন

আমি এ বছর হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছি। ৫ যিলহজ্ব আমার ফ্লাইট। যেহেতু হজ্বের আগে দীর্ঘ সময় থাকতে হবে না তাই আমি হজ্বে কিরান করতে চাচ্ছি। যদি সৌদিতে খুব ঠাণ্ডা পড়ে তবে আমি কি ইহরাম অবস্থায় হাত, পা ও চেহারা চাদর দিয়ে ঢেকে ঘুমাতে পারব?

উত্তর

ইহরাম অবস্থায় মাথা ও চেহারা ব্যতীত শরীরের বাকি অংশ চাদর দিয়ে ঢাকা জায়েয। আর বিনা ওজরে পূর্ণ একদিন বা এক রাত মাথা বা চেহারা ঢেকে রাখলে দম ওয়াজিব হবে। হ্যাঁ, কোনো ওজরের কারণে ঢাকার অনুমতি আছে। যেমন প্রচণ্ড শীতের কারণে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হলে চেহারা ও মাথা ঢেকে রাখতে পারবে তবে এক্ষেত্রেও পূর্ণ এক দিন বা এক রাত চেহারা ঢেকে রাখলে দমে তাখয়ীর ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ তিন পদ্ধতির যেকোনো একটি পদ্ধতিতে দম আদায় করা যাবে : ১. বকরি বা দুম্বা জবাই করা ২. তিন সা’ অর্থাৎ ৯.৮১৬ কেজি গম, আটা বা তার সমপরিমাণ মূল্য ছয় জন মিসকীনকে সদকা করে দেওয়া ৩. অথবা তিনটি রোযা রাখা। উল্লেখ্য, পূর্ণ এক দিন বা পূর্ণ এক রাতের কম সময় ঢাকা থাকলে এক ফিৎরা পরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে।

-মানাসিক, মোল্লা আলী পৃ. ৩০৮, ৩৯২; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃ. ২৫৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৮৮; তাকরীরাতে রাফেয়ী ২/১৫৯; মিনহাতুল খালিক (আলবাহরুর রায়েক) ২/৩২৪; উমদাতুল ফিকহ ৫/১১৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন - আশকোনা, উত্তরা, ঢাকা

২০৩০. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মান্নত করেছে যে, মসজিদে একটি মুরগি দিবে। জানার বিষয় হল, ঐ মুরগি সে কীভাবে দিবে? বিক্রি করে টাকা মসজিদে দিবে? নাকি গরিবদেরকে দিবে?

উত্তর

ঐ ব্যক্তি ইচ্ছা করলে মুরগি বিক্রি করে তার মুল্য মসজিদে দিতে পারে। আবার মুরগিও দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মসজিদকর্তপক্ষ তা বিক্রি  করে মসজিদের কাজে লাগাবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৮/১৩৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৮; মাজমাউল আনহুর ২/২৭৪; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৪; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬-২৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৩৫; আলমাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ৪০/১৪৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - কুমিল্লা

২০২৯. প্রশ্ন

রাশেদ তার বোনের কাছে ২৮০০/- টাকা পেত। কিন্তু বোন সে টাকা দিতে অস্বীকার করে। তাই রাশেদ তার দায়িত্বে থাকা বোনের ২৪টি শেয়ারের ৭টি বিক্রি করে ২৮০০/-টাকা উসুল করে নেয়। বাকি টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়। বোন যখন বিষয়টি জানতে পারে তখন সে দাবি করে যে, ২৮০০/-টাকা রেখে সেই সাত শেয়ারের বর্তমান দাম অনুযায়ী সব টাকা ফেরত দিতে হবে।

উল্লেখ্য, যখন শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে তখন প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ৪২০০/-টাকা। বর্তমানে যার মূল্য ৭৮০০/-টাকা। এখন রাশেদ কি বর্তমান মূল্য অনুযায়ী সব টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে নাকি তার হাতে যে অবশিষ্ট টাকা আছে তা দিয়ে দিলেই দায়মুক্ত হবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যদি      বাস্তবেই ঐ মহিলা তার ভাইয়ের পাওনা দিতে অস্বীকার করে থাকে তাহলে রাশেদের জন্য বোনের শেয়ার বিক্রি করে নিজের পাওনা নিয়ে নেওয়া বৈধ হয়েছে। সুতরাং বিক্রিত মূল্য থেকে নিজের পাওনা রেখে অবশিষ্ট অংশ বোনকে ফেরত দিলেই সে দায়মুক্ত হবে। এক্ষেত্রে শেয়ারের বর্তমান মূল্য দিতে বাধ্য নয়।

-আননুতাফ ফিলফাতাওয়া পৃ. ৪৫২; রদ্দুল মুহতার ৬/১৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/১৩৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু হুরায়রা - চট্টগ্রাম

২০২৮. প্রশ্ন

আমার কাছে নগদ ১ লক্ষ টাকা ২ বছর যাবত আছে। তবে তার যাকাত আদায় করা হয়নি। জানতে চাই, দ্বিতীয় বছর কত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে, সাড়ে সাতানব্বই হাজার টাকার, নাকি পুরো ১লক্ষ টাকার?

উত্তর

আপনি দ্বিতীয় বছরে সাড়ে সাতানব্বই হাজার টাকার যাকাত আদায় করবেন। উল্লেখ্য, ওযর ব্যতীত যাকাত আদায়ে এমন বিলম্ব করা ঠিক নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬০; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৪; হেদায়া (ফাতহুল কাদীর) ১২/১১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২-১৭৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ছারওয়ার হোসেন - সাবালিয়া, টাঙ্গাইল

২০২৭. প্রশ্ন

আমাদের দাদারা আমাদের গ্রামের বাড়ির সম্মুখে দক্ষিণ পার্শ্বে ৫৩ শতাংশ জমি মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য দান করে গিয়েছেন। জমিটি পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা। উক্ত জমির উত্তরাংশে পূর্ব দিকে একটি টিনের মসজিদ ঘর এবং মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে তারা ব্যবহার করে আসছেন, যার উত্তর দিকে পূর্ব পশ্চিমে লম্বা এবং পূর্ব পার্শ্ব দিয়ে উত্তর দক্ষিণে লম্বা নিজ বাড়িতে ও মসজিদে চলাচলের রাস্তা আছে। রাস্তার উত্তর পার্শ্বে প্রায় চার একর জমির উপর দাদাদের বসতবাড়ি। মসজিদ-কবরস্থানের উল্লেখিত ৫৩ শতাংশ প্লটের অবশিষ্ট প্রায় অর্ধেক অংশে পূর্ব পার্শ্বে মসজিদের জন্য বিরাট ইঁদারা এবং ইঁদারার পশ্চিম পার্শ্বের অবশিষ্ট জায়গা খালি পড়ে ছিল। পরবর্তীতে বাপ-চাচাদের আমলে ইঁদারার পশ্চিম পার্শ্বের খালি জায়গায়  মসজিদ ঘরটি স্থানান্তর করা হয়। আর ঐ সময় থেকে অদ্যাবধি মসজিদের সাবেক জায়গাটি খালি পড়ে আছে।

আমাদের জামানায় ১৯৯২ ঈ.সালে এলাকায় সর্বশেষ ভূমিজরিপ হলে আমরা উক্ত ৫৩ শতাংশ জমি মসজিদ ও কবরস্থানের নামে ২৭ ও ২৬ শতাংশ করে আলাদা আলাদা ভাগ করে রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত করে দেই এবং যেহেতু দক্ষিণ পার্শ্বে ইঁদারা ও মসজিদ ঘর স্থানান্তরিত হয়েছে সে হিসাবে দক্ষিণের অংশ মসজিদের নামে এবং উত্তরের অংশ কবরস্থানের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে মসজিদের সাবেক জায়গাটি কবরস্থানের অংশে পড়ে গিয়েছে। মসজিদ ও কবরের জায়গা মেপে বুঝ করতে গিয়ে দেখা গেল যে, মসজিদ ও কবরস্থানের উত্তর পার্শ্বে আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটিও সম্পূর্ণ মসজিদ ও কবরস্থানের জায়গায় পড়ে গিয়েছে। এমনকি রাস্তার উত্তর পার্শ্বে আমাদের বাড়ির সিমানা মনে করে আমাদের ভাইয়েরা (শরিক) সারিবদ্ধভাবে যে সমস্ত ফলের ও কাঠের গাছ লাগিয়েছিলেন সেগুলোও সারিবদ্ধভাবে মসজিদ-কবরস্থানের জায়গায় পড়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় ভাইয়েরা মসজিদ-কবরস্থানের উল্ল্লেখিত জায়গা ছেড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের লাগানো কিছু গাছ কেটে কাজে লাগিয়েছেন এবং কিছু গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন। অবশিষ্ট গাছগুলিও কেটে ফেলে জায়গাটি খালি করে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন। আর আমাদের বাড়িতে ও মসজিদে চলাচলের যে সরু রাস্তাটি আছে, উক্ত রাস্তাটি প্রশস্ত করে অন্য বড় এক রাস্তার সাথে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ এখন মাপের পর দেখা গেছে যে, রাস্তাটি মসজিদ-কবরস্থানের সিমানার অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে।

এখন আমাদের জানার বিষয় হল :

ক) মসজিদ ও কবরস্থানের উল্লেখিত ৫৩ শতাংশ জায়গা আমরা যেভাবে ১৯৯২ সালের রেকর্ডে ভাগ করে দিয়েছি তা সঠিক হয়েছে কি না? না হয়ে থাকলে এখন করণীয় কী? আর মসজিদের সাবেক স্থানটি কবরস্থানের জায়গায় পড়ে গিয়েছে সে বিষয়ে করণীয় কী?

খ) বর্তমানে মসজিদটি বড় ও পাকা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় যদি কবরস্থানের কিছু জায়গা ব্যবহার করতে হয় তাহলে তা করা যাবে কি না?

গ) মসজিদ ও কবরস্থানের সিমানায় ভাইদের লাগানো গাছগুলো তারা কেটে ব্যবহার করেছে ও বিক্রি করেছে তা সঠিক হয়েছে কি না? না হয়ে থাকলে এখন করণীয় কী? আর অবশিষ্ট গাছের হুকুম কি?

ঘ) মসজিদ-কবরস্থানের সিমানায় পড়ে যাওয়া উল্লেখিত রাস্তাটি সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আরও প্রশস্ত করে অন্য বড় রাস্তার সাথে মিলানো যাবে কি না? যদি না যায় তাহলে মসজিদ-কবরস্থানের অর্ধেক এবং আমাদের বাড়ির অংশ থেকে অর্ধেক জায়গার মাধ্যমে রাস্তাটি করা যাবে কি না? আর যদি তাও না হয় তাহলে যেভাবে রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছি অন্তত সেভাবে ব্যবহার করতে পারব কি না?

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিষয়গুলোর সমাধান দিলে ইনশাআল্লাহ আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উত্তর

ক ও খ) প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ওয়াক্‌ফকারীগণ যেহেতু ৫৩ শতাংশ জায়গা মসজিদ ও কবরস্থান উভয়টির জন্য যৌথভাবে ওয়াক্‌ফ করেছেন তাই মসজিদ এবং কবরস্থান উভয়ের জন্য সমান ভাগে অর্থাৎ সাড়ে ছাব্বিশ শতাংশ করে ভাগ করতে হবে। আর ওয়াক্‌ফকারীগণ প্রথমে যে স্থানে মসজিদ করেছিলেন সেটিকেই মসজিদ হিসেবে বহাল রাখা জরুরি। পাকা মসজিদ বানালে পুরাতন মসজিদের স্থানেই বানাতে হবে। সুতরাং উত্তর-পূর্ব দিকের পুরাতন মসজিদের আশপাশে উত্তর-দক্ষিণে কিংবা পূর্ব-পশ্চিমে যেভাবে সুবিধা হয় সাড়ে ছাব্বিশ শতাংশ মসজিদের জন্য রেখে বাকি অর্ধেক কবরস্থানের জন্য নির্দিষ্ট করে নিতে হবে। অতএব দক্ষিণ-পশ্চিমে নতুন করে যে মসজিদ বানানো হয়েছে তা মসজিদ থাকবে না। সেটা কবরস্থানের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। আর ১৯৯২ সালের রেকর্ড শুদ্ধ হয়নি। উপরে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে তা সংশোধন করে নেওয়া জরুরি।-সহীহ বুখারী ১/৩৮২; হেদায়া ২/৬৪৫; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৩৯

গ) ভাইদের লাগানো গাছগুলো নিজেদের ব্যবহারে নেওয়া বা বিক্রি করা সঠিক হয়েছে। অবশিষ্ট গাছগুলো দ্রুতি সরিয়ে ফেলতে হবে। আর মসজিদ ও কবরস্থানের জায়গায় গাছ লাগানোর কারণে জায়গার ন্যায্য ভাড়া দিয়ে দিতে হবে।-তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ২/১৮২

ঘ) ওয়াক্‌ফের জায়গা যথাসম্ভব রাস্তার জন্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজস্ব জমিতে রাস্তা বের করা সম্ভব হলে সেটাই করতে হবে। একান্ত ওয়াক্‌ফের জমি থেকে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়লে ওয়াক্‌ফ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এভাবে ইনসাফ অনুযায়ী নিতে পারবে।-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৬৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তামিম রায়হান - গোপালগঞ্জ

২০২৬. প্রশ্ন

রমযান মাসে তারাবীর নামায নাবালেগ হাফেযের পিছনে পড়া জায়েয আছে কি? যদি না থাকে তাহলে যে নামাযগুলো নাবালেগ হাফেযের পিছনে পড়া হয়েছে তা কি কাযা করতে হবে কি? গত রমযানে আমাদের দুই হাফেযের একজন নাবালেগ ছিল।

উত্তর

তারাবীর নামাযেও নাবালেগের পিছনে বালেগের ইকতিদা সহীহ নয়। অবশ্য তারাবীর যেহেতু কাযা নেই তাই বিগত দিনের তারাবী কাযা করতে হবে না।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩/২০৬; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৯৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৪৬; হাশিয়া তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ২৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৫৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইউনুস - বারাহীপুর, ফেনী

২০২৫. প্রশ্ন

ক) জনৈক মহিলা হায়েয ও নিফাসের করণে বিগত ৭/৮ বছর কিছু রোযা রাখতে পারেনি এবং কোন বছরের কয়টি রোযা অনাদায়ী রয়েছে তাও স্মরণ নেই। এখন এ রোযাগুলো কীভাবে আদায় করা হবে? 

খ) মুসল্লির সামনে কয় হাত জায়গার ভিতর চলাচল করলে গুনাহ   হয় এবং সুতরা কত হাত সামনে        রাখতে হয়?

গ) যদি নামাযের সামনে দিয়ে কাপড়/রুমাল ঝুলিয়ে অতিক্রম করা হয় তবে তা বৈধ হবে কি?

ঘ) যদি ২ফুট উুঁচ খাটের উপর নামায পড়ে তবে তার সামনে দিয়ে চলাচর করা যাবে কি না? 

উত্তর

ক) ঐ মহিলা হায়েয ও নেফাস সাধারণত যতদিন থাকে ততদিন হিসাব করে পেছনের বছরের রোযা কাযা করবে। যদি একেক মাসে একেক রকম হয় তাহলে সতর্কতামূলক অধিক দিন ধরে হিসাব করবে।-হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ২৪৩রদ্দুল মুহতার ২/৭৬-৭৭

 খ) যে মসজিদের প্রশস্ততা ৪০ হাতের বেশি এমন মসজিদে নামাযরত ব্যক্তির দুই কাতার সামনে দিয়ে অতিক্রম করা জায়েয। আর এর চেয়ে ছোট মসজিদে মুসল্লীর সামনে দিয়ে সুতরা ছাড়া অতিক্রম করা যাবে না। সুতরা সিজদার জায়গা থেকে সামান্য সামনে রাখবে। কোনো কোনো কিতাবে মুসল্লী থেকে তিন হাত দূরে রাখার কথা আছে।-মাবসূতসারাখসী ১/১৯২আলবাহরুর রায়েক ২/১৭ফাতহুল কাদীর ১/৩৫৪রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৭

গ) এভাবে রুমাল ঝুলিয়ে দেওয়াটা সুতরা হিসাবে যথেষ্ট হয় না। তবে বিশেষ ওজরের মুহূর্তে সামনে রাখার মতো কোনো কিছু পাওয়া না গেলে ঐভাবে যাওয়া যাবে।-শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৬৭বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৯

ঘ) নাএক্ষেত্রেও নামাযীর সামনে দিয়ে সুতরা ছাড়া অতিক্রম করা যাবে না। তবে খাটের সমতলের নীচ দিয়ে অতিক্রম করলে (যেন শরীরের অংশ উপরে না উঠে) কোনো অসুবিধা নেই।-সহীহ বুখারী ১/৭১;ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৪ফাতহুল কাদীর ১/৩৪৫আলবাহরুর রায়েক ২/১৭আদ্দুররুল মুহতার ১/৬৩৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহীম - সাতরাস্তা, মগবাজার

২০২৪. প্রশ্ন

হাফেয সাহেবগণ রমযান মাসে তারাবীর নামাযে কুরআন খতম করার পর সূর বাকারার কিছু অংশ পড়ে থাকেন। এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী

উত্তর

হাদীস শরীফে কুরআন মজীদ একবার খতম হলে পুনরায় তা শুরু করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এ নিয়মটি নামাযের বাইরের তেলাওয়াতে যেমন মুস্তাহাব তেমনিভাবে নামাযের খতমেও অনুসরণীয়। অবশ্য ১৯ তম রাকাতে খতম করে ২০ তম রাকাতে শুরু থেকে পড়ার চেয়ে উত্তম হল, ১৮ তম রাকাতে খতম করে শেষ দুই রাকাতে শুরু থেকে কিছু অংশ তিলাওয়াত করা। যেন প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের ধারাবাহিকতা বহাল থাকে।


-জামে তিরমিযী ২/১৪৩; আলইতকান ১/৩০০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম - গফরগাও, ময়মনসিংহ

২০২৩. প্রশ্ন

আমি একজন শ্বাসকষ্টের রোগী। শীত-গ্রীষ্ম সারা বছর আমাকে ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়। রাতে এবং দিনে মোট চারবার ইনহেলার নিতে হয়। তাই জানতে চাই, ইনহেলার ব্যবহারের দ্বারা রোযার কোনো ক্ষতি হয় কি না? যদি রোযা ভেঙ্গে যায় তাহলে আমি কি রোযা রাখতে পারব না? আমি কি দিনের বেলা খানাপিনা করতে পারব? এ বিষয়ে আমি খুবই চিন্তিত। একেকজন একেক ধরনের মত দিয়ে থাকে। 

উত্তর

রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোযা ভেঙ্গে যায়। তাই সাহরীর শেষ সময় এবং ইফতারের প্রথম সময় ইনহেলার ব্যবহার করলে যদি চলে তবে রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। তবে      অসুস্থতা বেশি হওয়ার কারণে দিনেও ব্যবহার করা জরুরি হলে তখন ব্যবহার করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় হল  :

১. আপনি রমযানের রোযা রাখবেন।

২. উক্ত উযরে ইনহেলার ব্যবহার করলেও অন্যান্য পানাহার থেকে বিরত থাকবেন।

৩. পরবর্তীতে রোগ ভালো হলে এর কাযা করে নিবেন।

৪. ওজর যদি সারা বছর থাকে তাহলে ফিদয়া আদায় করবেন।


সূরা বাকারা : ১৮৪; ফাতহুল কাদীর ২/২৮২; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬১;রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; মাজাল্লাতুল মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা ১০, ভলিয়ম ২, পৃষ্ঠা ৩১-৬৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরিফ বিল্লাহ - দারুল আফকার চট্টগ্রাম

২০২২. প্রশ্ন

ক) আমরা জানি যে, ব্যভিচার প্রমাণ হওয়ার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রয়োজন। কিন্তু একজন ব্যক্তি এমন দৃশ্য দেখে মোবাইলে তা ভিডিও করেছে। ফলে অপকর্মটা অনেকেই দেখতে পাচ্ছে। এমতাবস্থায় কি তাদের ব্যভিচার প্রমাণ হবে, আদালতের উপর ভিত্তি করে। তাদের উপর কি হদ কায়েম করতে পারবে

খ) বর্তমানে কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে এমন সুবিধা গ্রহণ করা যায় যে, দুজন দু প্রান্তে থেকে একে অন্যকে সুস্পষ্ট দেখতে পায়। প্রশ্ন হল, বর-কনে ও সাক্ষীগণ যদি উপস্থিত থেকে দুই প্রান্তে বিয়ে পড়ানো হয় তাহলে এ বিয়ের হুকুম কী? বিয়ে কি সম্পন্ন হবে? এখানে তো স্পষ্টভাবে সবাইকে দেখা যাচ্ছে।

উত্তর

(ক) একজন দেখে মোবাইলে ভিডিও করে নিলেও তা দ্বারা হদের শাস্তি দেওয়া যাবে না। কেননা, এ শাস্তি প্রয়োগের শর্ত পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষেত্রবিশেষে বিচারক এ ধরনের প্রমাণ দ্বারা তাযীর (লঘু শাস্তি) প্রয়োগ করতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, হদ, রজম ইত্যাদি একমাত্র ইসলামী রাষ্ট্রের আদালতই দিতে পারে।

-সূরা নিসা : ১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/১৪৩; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৫০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৭৩

(খ) না, এভাবে বিয়ে সহীহ হবে না। বিয়ের জন্য সাক্ষীদের সরাসরি সম্মুখে তাদেরকে শুনিয়ে ইজাব-কবুল হওয়া জরুরি। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পাত্র বা পাত্রী তার পক্ষ থেকে বিবাহ সম্পন্ন করার জন্য কাউকে প্রতিনিধি বানাবে। ঐ প্রতিনিধি অপর পক্ষকে নিয়ে দুই সাক্ষীর সামনে বিবাহ সম্পন্ন করবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৯৪, ২৬৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫২৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১ 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ - নগরকান্দা, ফরিদপুর

২০২১. প্রশ্ন

আমরা রমযানে ও তাবলীগের চিল্লার জন্য বের হয়ে থাকি। চিল্লা থেকে ফিরে এসে মাদরাসায় ২/৩ দিন থাকতে হয়। আমরা জানি, মাদরাসা ওয়াতনে ইকামাত। অপর দিকে ওয়াতনে আছলী মাদরাসা থেকে মুদ্দতে সফর থেকেও বেশি দূরে। এখন প্রশ্ন হল, তাবলীগের সফর দ্বারা ওয়াতনে ইকামাত বাতিল হবে কি না এবং মাদরায় ফিরে এসে ২/৩ দিন থাকলে কসর করতে হবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় মাদরাসায় অল্প সময়ের জন্য ফিরে এলেও আপনি মুকীম হবেন। কেননা, মাদরাসা আপনার জন্য ওয়াতনে ইকামত। আর ওতনে ইকামত শুধু সফর দ্বারা বাতিল হয় না; আপনি ঐ স্থান একেবারে ত্যাগ করার নিয়তে সামানপত্র নিয়ে সফর করলে তখনই এখানকার ইকামত বাতিল হবে।

 

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ - দাগনভুঞা ফেনী

২০২০. প্রশ্ন

ক) জনৈক ব্যক্তি ইমামের সাথে নামায আদায় করছিল। দাড়ানো অবস্থায় তার ঘুম এসে যায়। এদিকে ইমাম সাহেব রুকু শেষে সিজদায় যাচ্ছিলেন। তখন সে জেগে উঠে এবং নিজে নিজে রুকু করে ইমামের সাথে সিজদায় শরিক হয়। জানার বিষয় হল, এই ব্যক্তির নামায হয়েছে কি

খ) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলে শপথ করলে শপথ হবে কি না? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ক) ঐ ব্যক্তির নামায সহীহ হয়েছে। নামাযে থাকা অবস্থায় ইমামের সাথে কোনো রোকন আদায় করা না হলে ছুটে যাওয়া রোকন একাকী আদায় করে  ইমামের সাথে শরিক হওয়াই নিয়ম। তবে নামাযে এভাবে ঘুমিয়ে পড়া উদাসীনতার অন্তর্ভুক্ত। তাই আর কখনো এমনটি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ঘুমের চাপ নিয়ে নামাযে না দাঁড়ানোই উচিত।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯২; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৪

খ) হ্যাঁ, এভাবে কালিমা পড়ে শপথ করলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে কসম বলে গণ্য হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৭১৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল মালিক - নোয়াখালী

২০১৯. প্রশ্ন

আমার আব্বা আমার ফুফা থেকে বিশ ডিসিম জমি ক্রয় করেছিলেন। তবে তা রেজিষ্ট্রি করা হয়নি। নিকটাত্মীয় ও বিশ্বস্ত মনে করে টাকা দিয়েছেন এবং এর সাক্ষীও রয়েছে অনেক। জমিটি প্রায় ১৫ বছর ধরে আব্বার দখলে আছে। কিন্তু  পরে ফুফা তা  বিক্রির কথা অস্বীকার করেন। আর টাকা নেয়ার কথাও অস্বীকার করেন। কিছুদিন পর তার মৃত্যু হয়। এরপর ওয়ারিশগণ কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি।

 

তার জানাযায় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলে যে, অমুক ব্যক্তির (আমার পিতা) নিকট মৃত ব্যক্তি কিছু জমি পাবে বলে আমাকে ওসিয়ত করে গেছে। সন্তানদেরকে তা নেয়ার জন্য বলে। ফলে তাদের সঙ্গে আমাদের বিবাদ সৃষ্টি হয়। 

এখন আমার প্রশ্ন, শরীয়তের দৃষ্টিতে তার সঠিক সমাধান কী? দয়া করে তা অবগত করলে কৃতজ্ঞ হব।

 

উত্তর

বাস্তবেই যদি আপনার আব্বা ফুফা থেকে ঐ  জমিটি ক্রয় করে থাকেন এবং সমুদয় মূল্যও পরিশোধ করে থাকেন তবে ঐ জমি আপনার আব্বারই। আপনার ফুফার এবং পরবর্তীতে তার ওয়ারিশদের এই জমি নিজেদের বলে দাবি করা মারাত্মক অন্যায়। তাদের কর্তব্য হল ঐ জমি আপনার আব্বার নামে রেজিষ্ট্রি করে দেওয়া।

 

প্রকাশ থাকে যে, সকল লেনদেন নিয়মমতো করা জরুরি। লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা এবং আস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় দলীল করে নেওয়া এবং লিখিত প্রমাণাদি রাখা জরুরি। এটা শরীয়তেরও হুকুম। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এই হুকুম লঙ্ঘন করার কারণে বিবাদ হচ্ছে।

 

হচ্ছে।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১৬; মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ : ২৬৬; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ২/১৯৪; রদ্দুল মুহতার ৪/৫৬১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু বকর - হাজিগঞ্জ, চাঁদপুর

২০১৮. প্রশ্ন

ক) তিওয়ালে মুফাসসাল, আওসাতে মুফাসসাল ও কিসারে মুফাসসাল দ্বারা কি কিরাতের পরিমাণ বোঝানো হয়েছে নাকি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে এই সূরাগুলি পাঠ করা সুন্নত বোঝানো হয়েছে। একজন মুফতী সাহেব বলেছেন, এই সূরাগুলি পাঠ করা সুন্নত, একথা বোঝানো হয়নি; বরং কিরাতের পরিমাণ বোঝানো হয়েছে।

খ) কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি দুই হাজার ভর্তি-ফরম বিক্রি হয়, আর প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্য হয় যে, তারা ৯০/১০০ ছাত্র ভর্তি করবেন। তাহলে দুই হাজার ফরম বিক্রি করা জায়েয হবে কি? আর প্রতিটি ফরম কি ১০০ টাকা করে বিক্রি করা জায়েয হবে ?

 

উত্তর

ক) ফজর ও যোহর নামাযে তিওয়ালে মুফাসসাল (অর্থাৎ সূরা হুজুরাত থেকে সূরা বুরুজ পর্যন্ত), আছর ও ইশাতে আওসাতে মুফাসসাল (অর্থাৎ সূরা বুরুজ থেকে সূরা লাম ইয়াকুন  পর্যন্ত), আর মাগরিবে কিসারে মুফাসসাল (অর্থাৎ সূরা লাম ইয়াকুন থেকে সূরা নাস পর্যন্ত) অংশ থেকে পড়া সুন্নত। মাসনুন কেরাত বলতে  মুফাসসালাতের নির্ধারিত এই সূরাসমূহ এবং এর পরিমাণ দুটোই উদ্দেশ্য। তাই   মাসনুন কেরাত অনুসরণ করতে হলে অধিকাংশ সময় মুফাসসালাতের সূরাগুলো থেকে পূর্ণ সূরা পড়া উচিত। তবে কখনো ঐ পরিমাণকে ঠিক রেখে কুরআন মজীদের অন্য স্থান থেকে কিরাত পড়লেও তা অনুত্তম বা সুন্নত পরিপন্থী বলা যাবে না। কারণ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম থেকেও মাঝে মধ্যে মুফাসসালাতের বাইরে থেকে পড়া প্রমাণিত আছে। তবে অধিকাংশ সময় মুফাসসালাত থেকেই পড়া সুন্নত। সুতরাং মুফাসসালাত বলতে শুধু পরিমাণ বোঝানা হয়েছে, নির্দিষ্ট সূরা থেকে পড়া বোঝানো হয়নি-প্রশ্নের এ কথা ঠিক নয়। এছাড়া মুফাসসালাতের সূরা ও পরিমাণ কোনোটি ঠিক না রেখে কিরাত পড়লে সে নামাযও আদায়  হয়ে যাবে।

-জামে তিরমিযী ১/৪১; ইলাউস সুনান ৪/৩২; আসসিআয়া ২/১৮৬; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪০-৪১

খ) যদি ভর্তির আবেদরকারী বেশি হয় এবং তাদের সকলকে ভর্তি ফরম দেওয়ার উদ্দেশ্য এই হয়ে থাকে যে, তাদের থেকে যাচাই করে নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্র ভর্তি করা হবে তবে যতজন ছাত্র ভর্তি করা হবে এর চেয়ে বেশি ফরম বিতরণ ও বিক্রি জায়েয। কারণ এক্ষেত্রে ফরম দেওয়ার অর্থ হয় ফরম-গ্রহিতাকে ভর্তির জন্য যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। কিন্তু উপরোক্ত উদ্দেশ্য ছাড়া নিছক অর্থ লাভের জন্য ফরম বিক্রি করা জায়েয হবে না। আর ফরমের মূল্য হতে হবে এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক খরচাদির সাথে সামঞ্জস্য রেখে।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement