মুহাম্মাদ ওমর ফারূক - মোমেনশাহী

১৭২৮. প্রশ্ন

আমি দীর্ঘ দশ/বার দিন অসুস' ছিলাম। মাথা দ্বারা ইশারা করেও নামায আদায় করতে সক্ষম ছিলাম না। কিন' আমার হুঁশ বাকি ছিল। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত দিনগুলোতে ছুটে যাওয়া নামাযের কাযা করতে হবে কি না? উল্লেখ্য, হিদায়া গ্রনে'র প্রথম খণ্ডের ১৬১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, এ অবস'ায় ছুটে যাওয়া নামায কাযা করতে হবে।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছুটে যাওয়া নামাযগুলোর কাযা জরুরি নয়। তবে কাযা করে নেওয়া ভালো। হেদায়া গ্রনে'র ঐ উক্তিটি গ্রহণযোগ্য মত নয়। কেননা, ফাতাওয়ার প্রসিদ্ধ কিতাবাদির পাশাপাশি স্বয়ং হিদায়ার লেখকও তার কিতাব ‘আততাজনীস ওয়াল মাযীদ’-এ কাযা জরুরি না হওয়ার ফতোয়া প্রদান করেছেন। নিম্নে এ সংক্রান- হাওয়ালাসমূহ পেশ করা হল।

আলমু’জামুল আওসাত তবরানী ৫/১১; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/১৭৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০১; ইলাউস সুনান ৭/২০০; হাশিয়াতু তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৩৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৭২; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১২৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৫; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ২৬৫; রদ্দুল মুহতার ২/৯৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ - ঢাকা

১৭২৭. প্রশ্ন

আমার দাদী খুবই অসুস'। বসেও নামায পড়তে পারেন না। এখন তিনি কীভাবে নামায পড়বেন শায়িত অবস'ায় কি নামায পড়া যায়, পড়া গেলে এর নিয়ম কী? সবিস-রে জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস'ায় আপনার দাদী শুয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে আদায় করবেন। তবে রুকুর তুলনায় সিজদার জন্য মাথা বেশি ঝুঁকাতে হবে। শায়িত অবস'ায় নামায পড়ার কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। ১. পা পশ্চিম দিকে, মাথা পূর্ব দিক দিয়ে চিত হয়ে শয়ন করবে। সম্ভব হলে পিঠ ও মাথার নিচে বালিশ ইত্যাদি কিছু দিয়ে উঁচু করে নিবে যেন সিনা ও চেহারা কিবলামুখী হয়ে থাকে। পা পশ্চিম দিকে বিছিয়েও দিতে পারে তবে সম্ভব হলে হাঁটু ভাজ করে রাখবে। শায়িত অবস'ায় নামায আদায়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিই অগ্রগণ্য। ২. মাথা উত্তর দিকে এবং পা দক্ষিণ দিকে রেখে শুবে। এভাবে ডান কাতে শুয়ে সিনা ও চেহারা কিবলার দিক করে রাখবে। ৩. মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা উত্তর দিকে করে শুবে। এভাবে বাম কাত হয়ে শুয়ে চেহারা ও সিনা কিবলার দিকে রাখবে। উল্লেখ্য, এ সকল পদ্ধতির কোনোটি সম্ভব না হলে যেভাবে শোয়া সম্ভব সেভাবে শুয়ে মাথা নেড়ে রুকু-সিজদা করবে। এসকল ক্ষেত্রে সিজদার জন্য রুকুর চেয়ে মাথা কিছুটা বেশি ঝুকাবে। মাথা নাড়ার ক্ষমতা থাকা পর্যন- নামায আদায় করতে হবে।

হবে।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৪৭৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৭; হিদায়া ১/১৬১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১২৩; মাবসূত সারাখসী ১/২১৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০১; হাশিয়াতু তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩১৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আনোয়ার - বরিশাল

১৭২৬. প্রশ্ন

আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রচলন আছে যে, কাউকে তার পক্ষ থেকে ডাকতে হলে বলে দেয় যে, তাকে গিয়ে আমার সালাম বলবে। এরূপ বললে তিনি বুঝতে পারেন যে, তাকে ডাকা হচ্ছে তখন তিনি চলে আসেন। আবার কখনো সাধারণভাবে কাউকে ডাকতে পাঠালেও সে গিয়ে বলে, অমুকে সালাম জানিয়েছেন। আমার প্রশ্ন এই যে, সালামের এরূপ ব্যবহার জায়েয আছে কি না? এক্ষেত্রে সালামের জবাব দেওয়া জরুরি কি না? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

কাউকে ডাকার জন্য ‘অমুক আপনাকে সালাম জানিয়েছেন’ এভাবে বলা জায়েয হলেও তা ঠিক নয়। কারণ ‘সালাম’ শরীয়তের একটি বিশেষ পরিভাষা। শরীয়তের নির্ধারিত ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কাউকে ডাকার জন্য এভাবে সালাম শব্দ ব্যবহার না করে অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। আর এক্ষেত্রে যেহেতু সালাম দেওয়া বা পাঠানো উদ্দেশ্য থাকে না তাই এর জবাব দেওয়াও জরুরি হবে না।

মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ১৩/২২১; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৩২; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - উত্তরা, ঢাকা

১৭২৫. প্রশ্ন

বাচ্চা দুধ পান করা অবস'ায় অনেক সময় মায়ের কোলে বমি করে দেয়। আবার কখনো দুধ পান করার পর বমি করে দেয়। বমির পরিমাণ কখনো বেশি হয় কখনো কম। প্রশ্ন এই যে, এই কাপড় পরিধান করে নামায পড়া যাবে কি?

উত্তর

দুধের শিশুর বমিও বড়দের মতো একই হুকুমের অন-র্ভুক্ত। অর্থাৎ মুখ ভর্তি বমি হলে তা নাপাক। আর মুখ ভর্তি না হলে নাপাক নয়। উল্লেখ্য, দুধ পান করার পরক্ষণে বমি করলেও উপরোক্ত হুকুম প্রযোজ্য হবে। হ্যাঁ, খাবার গিলে ফেলার আগেই মুখ থেকে বের করে দিলে এর কারণে কাপড় বা শরীর নাপাক হবে না।

হাশিয়াতু তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৪৯; ফাতহুল কাদীর ১/১৭৯; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৪; আসসিয়াআহ ১/২১৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৩৭

শেয়ার লিংক

নূরুল আমীন - বরিশাল

১৭২৪. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযান মাসে সফর করার কারণে কয়েক দিনের রোযা রাখতে পারেনি। রমযানের শেষ দিকে সে অসুস' হয়ে পড়ে এবং অনেক দিন অসুস' থাকার পর মারা যায়। প্রশ্ন এই যে, উক্ত ব্যক্তির এই রোযার উপর কি কোনো ধরনের কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব?

উত্তর

ঐ রোযাগুলোর কাফফারা দিতে হবে না। কারণ সফর শেষে লাগাতার অসুস'তার দরুণ সে কাযা আদায়ের সুযোগ পায়নি। আর কাযা আদায়ের মতো সুস'তা ফিরে না পেলে ফিদয়া বা কাফফারা কোনোটি ওয়াজিব হয় না।

মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২৩৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৬৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৩; হাশিয়াতু তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৭৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৩-৪২৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম - শরীয়তপুর

১৭২৩. প্রশ্ন

আমার এক প্রতিবেশী যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। আমি তাকে যাকাত দিতে চাই। কিন' যাকাত বলে দিতে লজ্জা হয়। এখন আমি যদি যাকাতের টাকা যাকাতের কথা উল্লেখ না করে যাকাতের নিয়তে তাকে প্রদান করি তবে আমার যাকাত আদায় হবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, এভাবেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। যাকাত আদায়ের জন্য গ্রহীতাকে যাকাত দেওয়া হচ্ছে একথা বলা জরুরি নয়। যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিকে যাকাতের কথা উল্লেখ না করেও যাকাতের টাকা দেওয়া যায়।

আলবাহরুর রায়েক ২/২১২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৬৬; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৯০; মাজমাউল আনহুর ১/২৯০; আননাহরুল ফায়েক ১/৪১৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলইমরান - মিরপুর-১৪, ঢাকা

১৭২২. প্রশ্ন

আমার কাছে এ পরিমাণ টাকা আছে, যার উপর যাকাত ফরয হয়। অপর দিকে যাকাত গ্রহণের যোগ্য এক ব্যক্তির কাছে অনেক টাকা ঋণ পাই। তার কাছে টাকা চাইলে বলে, আজ নয় কাল দেব, কাল নয় পরশু। আমার জানার বিষয় হল, আমার কাছে বিদ্যমান টাকার উপর যে পরিমাণ যাকাত ফরয হয়েছে তা যদি আমি যাকাত আদায়ের নিয়তে ঐ ঋণের টাকা হতে মাফ করে দেই তবে আমার যাকাত আদায় হবে কি? অথবা ঐ ঋণের টাকার উপর যে পরিমাণ যাকাত ফরয হয়েছে তা যদি আমি ঐ ঋণের টাকা হতে যাকাতের নিয়তে মাফ করে দেই তবে আমার যাকাত আদায় হবে কি?

উত্তর

ঋণ মাফ করে দেওয়ার দ্বারা যাকাত আদায় হয় না। তাই ঋণের পুরোটা বা আংশিক যাকাতের নিয়তে ছেড়ে দিলে যাকাত আদায় হবে না। তবে ঋণ গ্রহীতাকে যাকাতের টাকা নগদ দান করার পর তার থেকে আপনার পাওনা উসূল করে নিতে পারেন। এতে আপনার যাকাতও আদায় হবে এবং তার ঋণমুক্তির ব্যাপারে সহযোগিতাও করা হবে।

বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২১১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৩; হাশিয়া শালবী ১/২৫৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৪; রদ্দুল মুহতার ৩/১৯০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কামাল বিন ইউসুফ - কুমিল্লা

১৭২১. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি যাকাত গ্রহণের যোগ্য হওয়ার ব্যাপারে আমার সন্দেহ হয়েছিল, পরবর্তীতে প্রবল ধারণা হয়েছিল যে, সে আর্থিক দিক থেকে যাকাত গ্রহণের যোগ্য তাই আমি তাকে যাকাত দিয়েছি। কিন' পরে প্রকাশ পেল যে, আসলে সে যাকাত গ্রহণের যোগ্য ছিল না। এখন জানার বিষয় হল, আমার এই যাকাত আদায় হবে কি না, নাকি পুনরায় এই যাকাত দিতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আপনি যেহেতু প্রবল ধারণা অনুযায়ী যাকাত গ্রহণের যোগ্য মনে করেই তাকে যাকাত দিয়েছেন তাই আপনার যাকাত আদায় হয়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে ভুল বুঝা গেলেও তা পুনরায় আদায় করতে হবে না। সামনে থেকে যাকাত দেওয়ার পূর্বে যথাসম্ভব ভালোভাবে যাচাই করে নিবেন।

সহীহ বুখারী ১/১৯১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯-১৯০; হিদায়া (ফাতহুল কাদীর) ২/২১৪-২১৫; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৯৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু তাহের - ঢাকা

১৭২০. প্রশ্ন

আমি ঈদগাহে গিয়ে দেখি, ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে কেরাত পড়ছেন। এ অবস'ায় আমি নামাযে শরিক হয়েছি। আমার জানার বিষয় হল, ঈদের নামাযের তাকবীরগুলো আমি কখন আদায় করব?

উত্তর

উক্ত অবস'ায় আপনি তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায শুরু করার পরপরই অতিরিক্ত তাকবীরগুলো ধারাবাহিকভাবে আদায় করে নিবেন।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৯২-৯৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ঢাকা

১৭১৯. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছিলেন। তিন দিন পর তিনি অযু-ইসে-ঞ্জার প্রয়োজন ছাড়া শুধূ সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হলেন এবং মসজিদের অযুখানায় গোসল করলেন। জানার বিষয় হল, ইতিকাফ অবস'ায় সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয আছে কি না? বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হবে কি না?

উত্তর

রমযান মাসের শেষ দশকের ইতিকাফ অবস'ায় সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয নেই। বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি সাধারণ গোসলের জন্য বের হওয়ার কারণে তার সুন্নত ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে। যেদিন গোসলের জন্য বের হয়েছে ঐ দিনের ইতিকাফ কাযা করে নেওয়া জরুরি। আর এই ইতিকাফটি নফল ইতিকাফ হিসাবে গণ্য হবে।

মারাকিল ফালাহ পৃ. ৩৮৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০১; আননাহরুল ফায়েক ২/৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইকবাল হুসাইন - চাঁদপুর

১৭১৮. প্রশ্ন

রমযান মাসে অনেক সময় কোনো কোনো রোযাদারকে ভুলে পানাহার করতে দেখা যায়। পানাহারের সময় তাদেরকে বারণ করা বা না করা সম্পর্কে করণীয় কী জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

রমযান মাসে কোনো সুস' সবল লোককে ভুলে পানাহার করতে দেখলে তাকে রোযার কথা স্মরণ করিয়ে দিবে। তবে কোনো দুর্বল বা বৃদ্ধকে ভুলে পানাহার করতে দেখলে রোযার কথা স্মরণ না করানোই উত্তম।

আলবাহরুর রায়েক ২/২৭১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৮৪; ফাতহুল কাদীর ২/২৫৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩২২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আনাস - ঢাকা

১৭১৭. প্রশ্ন

আমার পিতা বার্ধক্যের দরুণ রোযা রাখার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। জানতে চাই, এক রোযার ফিদয়া একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, এক রোযার ফিদয়া একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয। তবে একজনকে পুরো একটি ফিদয়া দেওয়া উত্তম।

আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রাযযাক - ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

১৭১৬. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফে বসেছিলেন। কয়েকদিন পর তিনি অসুস' হয়ে পড়লেন এবং রোযা ভেঙে ফেললেন। জানতে চাই যে, রোযা ভেঙে ফেলার কারণে তার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে কি না?

উত্তর

রমযানের শেষ দশদিনের সুন্নত ইতিকাফের জন্য রোযা শর্ত। রোযা ব্যতীত সুন্নত ইতিকাফ আদায় হয় না। তাই উক্ত ব্যক্তি রোযা ভেঙে ফেলার কারণে তার সুন্নত ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে। অবশ্য তিনি যেহেতু মসজিদ থেকে বের হয়ে যাননি তাই তার ইতিকাফ নফল হিসাবে গণ্য হবে। নফল ইতিকাফের জন্য রোযা শর্ত নয়।

মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/৩৫৪; হিদায়া ১/২২৯; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪১০,৪১৩; আলবাহরুল রায়েক ২/২৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪২

শেয়ার লিংক

হাসিনা আক্তার - আরামবাগ, ঢাকা

১৭১৫. প্রশ্ন

একজন বলল, রমযান মাসে রোযা অবস'ায় মাসিক শুরু হলে বাকি দিন অনাহার থাকা জরুরি। একথা কি ঠিক?

উত্তর

না, ঐ কথা ঠিক নয়। রোযা অবস'ায় মাসিক শুরু হলে বাকি দিন পানাহার করতে পারবে। তদ্রূপ যতদিন মাসিক চলবে ততদিন রমযানের দিনের বেলায় পানাহার করা জায়েয। তবে অন্যদের সামনে খাবে না। অবশ্য রমযান মাসে দিনের বেলায় মাসিক বন্ধ হলে বাকি দিন পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/২২০; আলজাওয়াহারা ১/১৮৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইসমাঈল আবরার - মিরপুর, ঢাকা

১৭১৪. প্রশ্ন

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয কি না? এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন দিলে জায়েয হবে কি না? কেউ কেউ বলেন, ফরয নামাযের ইমামতির বিনিময় যখন জায়েয তখন খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণও জায়েয হবে। এছাড়া হাফেজ সাহেবকে যদি দু’এক ওয়াক্ত ফরয নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হয় তবে তো নাজায়েয হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের একথা ঠিক কি না? ইমামতির হীলা হোক বা অন্য কোনো উপায়ে তারাবীর বিনিময় বৈধ কি না?

উত্তর

খতম তারাবীর বিনিময় দেওয়া-নেওয়া দুটোই নাজায়েয। হাদিয়ার নামে দিলেও জায়েয হবে না। এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন হিসাবে দিলেও জায়েয নয়। কারণ এক্ষেত্রেও প্রদেয় বেতন তারাবীহ এবং খতমের বিনিময় হওয়া স্বীকৃত। মোটকথা, খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণের জন্য হিলা অবলম্বন করলেও তা জায়েয হবে না। কারণ খতমে তারাবীহ খালেস একটি ইবাদত, যা নামায ও রোযার মতো ‘ইবাদতে মাকসূদা’-এর অন্তর্ভুক্ত। আর এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় বা বেতন দেওয়া-নেওয়া উম্মতে মুসলিমার ঐকমত্যের ভিত্তিতে নাজায়েয। এতে না কোনো মাযহাবের মতপার্থক্য আছে, না পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাঝে কোনো মতভেদ আছে।

ইমামতির বেতন ঠিক করা এবং তা আদায় করা যদিও পরবর্তী ফকীহগণের দৃষ্টিতে জায়েয, কিন্তু খতম তারাবীর বিনিময়টা ইমামতির জন্য হয় না; বরং তা মূলত খতমের বিনিময়ে হয়ে থাকে। আর তেলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করা সকল ফকীহ্র নিকট হারাম। অধিকন্তু পরবর্তী ফকীহ্গণ যে ইমামতির বেতন জায়েয বলেছেন সেটা হল ফরযের ইমামতি। সুন্নাত জামাতের ইমামতি এর অন-র্ভুক্ত নয়।

আর হাফেযদের দেওয়া বিনিময়কে জায়েয করার জন্য এই হিলা অবলম্বন করা যে, শুধু রমযান মাসের জন্য তার উপর দু-এক ওয়াক্ত নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হবে-এটা একটা বাহানামাত্র; যা পরিহার করা জরুরি। কারণ এই হিলার যে বিমিনয়টা তাকে ফরযের ইমাতির জন্য দেওয়া হচ্ছে আর তারাবীর খতম সে বিনিময়হীনভাবেই করে দিচ্ছে। কিন' আপনার মনকে একটু প্রশ্ন করে দেখুন, যদি ওই হাফেয সাহেব তার দায়িত্বে অর্পিত ফরয নামাযের ইমামতি যথাযথ গুরুত্বের সাথেও আদায় করেন আর খতম তারাবীতে অংশগ্রহণ না করেন তবে কি তাঁকে ওই বিনিময় দেওয়া হবে, যা খতম তারাবী পড়ালে দেওয়া হত? এ কথা সুস্পষ্ট যে, কখনো তা দেওয়া হবে না। বোঝা গেল, বিনিময়টা মূলত খতম তারাবীর, ফরযের ইমামতির নয়। এ জন্যই আকাবিরের অনেকে এই হিলা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর দলীলের ভিত্তিতেও তাঁদের ফতওয়াই সহীহ। দেখুন : ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২২; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৬৪

সারকথা হল, কুরআন তেলাওয়াত, বিশেষত যখন তা নামাযে পড়া হয়, একটি খালেস ইবাদত, যা একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন'ষ্টির জন্যই হওয়া চাই। তাতে কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্য শামিল করা গুনাহ। নিচে এ বিষয়ে কিছু হাদীস, আছারের অনুবাদ ও ফিকহের উদ্ধৃতি পেশ করা হল।

  • ১. হযরত আবদুর রহমান ইবনে শিবল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড় তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না এবং তার প্রতি বিরূপ হয়ো না। কুরআনের বিনিময় ভক্ষণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ কামনা করো না।’-মুসনাদে আহমদ ৩/৪২৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৪০; কিতাবুত তারাবীহ
  • ২. ‘ইমরান ইবনে হোসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড় এবং আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা কর। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে, যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে।’-মুসনাদে আহমদ ৪/৪৩৭; জামে তিরমিযী ২/১১৯
  • ৩. ‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মা’কিল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এক রমযান মাসে লোকদের নিয়ে তারাবীহ পড়লেন। এরপর ঈদের দিন উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ রাহ. তাঁর কাছে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচশ দিরহাম পাঠালেন। তখন তিনি কাপড় জোড়া ও দিরহামগুলো এই বলে ফেরত দিলেন যে, আমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না।’-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৩৭

আরো দেখুন : ফাতাওয়া শামী ৬/৫৭; তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮; আলইখতিয়ার লিতা’লীলিল মুখতার ২/৬২; শিফাউল আলীল ওয়াবাল্লুল গালীল (রাসায়েলে ইবনে ইবনে আবেদীন) ১/১৫৪-১৫৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩১৫-৩১৯ ও ৩২২; রাফেউল ইশকালাত আনহুরমাতিল ইসি-জার আলাত্তাআত, মুফতিয়ে আযম হযরত মাওলানা মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ.।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আসগর আলী - নীলফামারী, রংপুর

১৬৯৯. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে স্বীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়েছে এবং এক পর্যায়ে সে স্বপ্নে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিয়েছে। জানতে চাই, এই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে স্বপ্নে তালাক দেওয়ার কারণে তালাক হয়েছে কি না?


উত্তর

ঘুমন্ত অবস্থায় বা স্বপ্নে স্ত্রীকে তালাক দিলে তা কার্যকর হয় না । অতএব প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির স্বপ্নে দেওযা তালাকও কার্যকর হয়নি। তাদের বিবাহ পূর্বের মতো যথারীতি বহাল রয়েছে।

-সুনানে নাসায়ী ৬/১৫৬; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৬/৪১১; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৯১; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ২/১১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৫৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালীমুদ্দীন ফেনবী - সিলোনিয়া, ফেনী

১৬৯৮. প্রশ্ন

কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, সালাম দিলে উত্তরে শুধু মাথা নাড়ায়। মুখে জওয়াব দেয় না। প্রশ্ন হল, শুধু মাথা নাড়ালেই সালামের জওয়াব আদায় হবে কি না? জানাবেন।


উত্তর

সালামদাতাকে জওয়াব শুনিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। জওয়াব না শুনিয়ে নিম্ন স্বরে দেওয়া যথেষ্ট নয়। আর মৌখিক জওয়াব না দিয়ে শুধু মাথা নাড়ানোর দ্বারা সালামের উত্তর আদায় হয় না। উল্লেখ্য যে, যদি সালামদাতা বধির হয় কিংবা দূরে থাকে যেখানে আওয়াজ পৌঁছবে না। তাহলে মৌখিক জওয়াবের পাশাপাশি ইশারাও করবে। যেন সালামদাতা বুঝতে পারে যে, তার সালামের জওয়াব দেওয়া হয়েছে।

-সূরা নিসা : ৮৬; সহীহ বুখারী ২/৯২৪; জামে তিরমিযী ২/৯৯; উমদাতুল কারী ২২/২৩০; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪২৩; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৩৫৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৩৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - সিলোনিয়া, ফেনী

১৬৯৭. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি বালেগ হওয়ার পর থেকে তিন বছর যাবৎ ঈদের নামায ব্যতিত অন্য কোনো নামায পড়েনি। এখন সে দ্বীনী বুঝ আসার পর নামায পড়া আরম্ভ করেছে। আর বিগত জীবনের নামাযগুলো কাযা করতে চায়। তবে কিভাবে পড়বে জানে না। অনুগ্রহ করে জানাবেন বিগত জীবনের নামায আদায় করার জন্য নিয়ত করবে কিভাবে?


উত্তর

ঐ ব্যক্তি বিগত দিনের কাযা নামাযগুলোর জন্য এভাবে নিয়ত করবে, আমার জীবনের অনাদায়ী প্রথম ফজর আদায় করছি। পরবর্তী ফজরও প্রথম অনাদায়ী ফজরের নিয়তে আদায় করবে। যোহর, আসর ইত্যাদি ওয়াক্তও একই নিয়মে পড়বে। অর্থাৎ অনাদায়ী প্রথম যোহর পড়ছি, অনাদায়ী প্রথম আসর পড়ছি ইত্যাদি।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১১০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯১; মাজমাউল আনহুর ১/২১৬; রদ্দুল মুহতার ২/৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মোস্তফা হোসাইন - দেবিদ্বার,কুমিল্লা

১৬৯৬. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে ইমাম সাহেব তারাবীর নামাযের শেষ বৈঠকে এ পরিমাণ বসার পর সালাম ফিরিয়ে দেন যে সময়ে  শুধু তাশাহহুদ পড়া যায়। দুরূদ ও দুআ পড়া যায় না। এখন আমার জানার বিষয় হল, তারাবীর নামাযে ইমামের জন্য দরূদ ও দুআ পড়ার কি হুকুম? পড়বে, না পড়বে না।


উত্তর

অন্য নামাযের মতো তারাবীতেও শেষ বৈঠকে দুরূদ ও দুআ পড়া সুন্নত। ইমাম-মুক্তাদী সকলের জন্যই সুন্নত। ইমামের উচিত শেষ বৈঠকে দুআ-দুরূদ এমন ধীর গতিতে পড়া যেন ঐ সময়ের মধ্যে মুক্তাদীদের দুরূদ ও দুআ পড়া সম্ভব হয়। তারাবীহ নামাযে এগুলো পড়তে হবে না এমন কোনো নিয়ম নেই। ইমাম-মুক্তাদী সকলের জন্য তা পড়া সুন্নত।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৬৯; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৪০৮-৪০৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৭৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রিয়াজুল ইসলাম - শাহরাস্তি, চাঁদপুর

১৬৯৫. প্রশ্ন

সাধারণত পুরুষদের লাশে সুগন্ধি লাগানো হয়। এখন জানার বিষয় হল, মহিলাদের লাশেও কি সুগন্ধি লাগানো যাবে?


উত্তর

হ্যাঁ, মহিলাদের লাশেও সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪১৬; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৫৭৯; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৬৭; আননাহরুল ফায়েক ১/৩৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - খিলগাও, ঢাকা

১৬৯৪. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু একটি  রোপার আংটি দিয়েছে যার উপর হীরার পাথর লাগানো আছে। আমর জানার বিষয় হল, পুরুষের জন্য কি হীরার ঐ আংটি ব্যবহার করা জায়েয আছে? দয়া করে জানিয়ে উপকার করবেন।


উত্তর

হ্যাঁ, হীরার পাথর বিশিষ্ট রোপার আংটি ব্যবহার করা পুরুষের জন্যও জায়েয।

-জামে তিরমিযী ৪/২১৮; আলজামিউস সগীর ৪৭৭; হিদায়া (ফাতহুল কাদীর) ৮/৪৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৩৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৬০

শেয়ার লিংক

শাফায়াত আহমদ - লাকসাম, কুমিল্লা

১৬৯২. প্রশ্ন

কুরআন শরীফ পড়ার সময় যখন সিজদার আয়াত আসে তখন মাঝে মাঝে আমি তা মনে মনে পড়ি। আমার জানার বিষয় হল, মনে মনে সিজদার আয়াত পড়ার দ্বারা সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হবে কি না?


উত্তর

আয়াতে সিজদা মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে জপলে সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হয় না। তাই যে সকল ক্ষেত্রে সিজদার আয়াত মনে মনে পড়েছেন ঐ সকল ক্ষেত্রে সিজদা ওয়াজিব হয়নি। উল্লেখ্য, তেলাওয়াতের মাঝে  সিজদার আয়াত আসলে তা স্বাভাবিকভাবে তিলাওয়াত না করে মনে মনে পড়ে নেওয়া ঠিক নয়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩২; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩২২; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৫০০; রদ্দুল মুহতার ২/১০৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু হুরায়রা - নেত্রকোণা

১৬৯১. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি রমযানের প্রথম রোযার দিন এই নিয়ত করে যে, আমি পূর্ণ এক মাসের রোযা রাখার নিয়ত করলাম। জানার বিষয় হল, উক্ত ব্যক্তির এই নিয়তের দ্বারা পূর্ণ এক মাসের রোযা আদায় হবে কি না? রমযান মাসে আমরা সেহরী খাই কিন্তু রোযার নিয়ত করি না। সেহরী খাওয়ার দ্বারাই কি রোযার নিয়ত হয়ে যাবে?


উত্তর

রমযান মাসের প্রত্যেক রোযার জন্য প্রতিদিন পৃথক পৃথক নিয়ত করা শর্ত। এক সাথে পুরো মাসের নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। তবে রোযার উদ্দেশ্যে  সেহরী খাওয়াও রোযার নিয়তের অন্তর্ভুক্ত। মৌখিক নিয়ত করা জরুরি নয়।

-সহীহ বুখারী ১/২; ফাতাওয়া হিন্দিয় ১/১৯৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০০-২০১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৭৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - মালিবাগ, ঢাকা

১৬৯০. প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশে একটি বড় বাজার আছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এ বাজারে আসে। অনেকেই সাইকেলে করে বাজারে আসেন এবং এক ব্যক্তির দোকানে হেফাযতের জন্য রাখেন। দোকানের মালিক এর জন্য সময় অনুপাতে নির্ধারিত ফি নিয়ে থাকে। যেমন ঘন্টা প্রতি ১/২ টাকা। জানতে চাই, সাইকেল জমা রেখে এভাবে ফি গ্রহণ করা জায়েয হবে কি না?


উত্তর

হ্যাঁ, সাইকেল হেফাযতের জন্য ঘন্টা হিসাবে বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ হবে।

-মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ মাদ্দা : ৭৭৭; শরহুল মাজাল্লাহ খালিদ আতাসী ৩/২৪২; শরহুল মাজাল্লাহ, সীলম বায ১/৪৩১; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৬৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - কাফরুল, ঢাকা

১৬৮৯. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে তাবলীগ জামাতের গাস্তের দিন এক ব্যক্তি ঈমান-একিনের কথা শুনার জন্য এক হিন্দু ব্যক্তিকে মসজিদে নিয়ে আসে এবং সে দীর্ঘ সময় মসজিদে বসে দ্বীনী কথা শুনে। এখন আমার জানার বিষয় হল, অমুসলিম ব্যক্তির জন্য কি মসজিদে প্রবেশ করা জায়েয আছে? এবং উক্ত ব্যক্তি জেনেশুনে অমুসলিম ব্যক্তিকে মসজিদে এনে কি ঠিক কাজ করেছেন? জানিয়ে উপকৃত করবেন।


উত্তর

দ্বীনী উদ্দেশ্যে হিন্দু বা বিধর্মীকে মসজিদে নিয়ে আসা জায়েয। হাদীস শরীফে এসেছে,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু ছাকিফ গোত্রের কাফের প্রতিনিধি দলকে মসজিদে রেখেছিলেন, যাতে তারা কুরআন শুনে দ্বীনের দিকে ধাবিত হয়। অতএব ঐ হিন্দু লোকটিকে মসজিদে নিয়ে এসে সে কোনো অন্যায় করেনি।

-শরহুস সিয়ারুল কাবীর ১/৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৭; আলজামিউস সগীর ৪৮২; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৩; আহকামুল কুরআন জাসসাস ৩/৮৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আনাস - মিরপুর, ঢাকা

১৬৮৮. প্রশ্ন

 

কামাল সাহেব তিন পুত্র রেখে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তার মালিকানায় শুধুমাত্র ১টি সাবানের ফ্যাক্টরি ছিল। তার তিন ছেলে দীর্ঘ দিন যাবৎ ফ্যাক্টরির যা আয় হত তা সমানভাগে বন্টন করে নিত। বর্তমানে এক ছেলে পারিবারিক কলহে লিপ্ত হয়ে ফ্যাক্টরিটি বন্টন করতে চাচ্ছে। কিন্তু যদি তা বন্টন করা হয় তাহলে তা থেকে কোনো আয়ের সম্ভাবনা নেই। তাই অন্য ভাইরা বন্টনে সম্মত নয়। এ অবস্থায় এক ভাইয়ের দাবি অনুযায়ী ফ্যাক্টরিটি বন্টন করা জরুরি কি না? দয়া করে জানাবেন।


 

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু কারখানাটি উৎপাদন উপযোগী রেখে বন্টন করা সম্ভব নয় তাই এ পরিস্থিতিতে সকল মালিকের সম্মতি ছাড়া তা বন্টন করা যাবে না। শুধু একজনের দাবি মেনে তা বন্টন করা জরুরি নয়। কেউ অংশিদার না থাকতে চাইলে কারখানার ন্যায্য মূল্য হিসাব করে অন্য অংশিদারগণ তাকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিবে। কিংবা শরীকদের সম্মতিতে অন্য কারো কাছে তার শেয়ার বিক্রিও করে দিতে পারে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২০৪; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৪৬৬; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/১৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/২৫৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহফুয - চাঁদপুর

১৬৮৭. প্রশ্ন

আমার এক খালাত ভাই মুদীব্যবসায়ী। সে কিছুদিন আগে দু লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করার সময় আমাকে বলে, তুমি আমার দোকানে টাকা বিনিয়োগ কর। তোমার টাকার যা লাভ হবে তার পুরোটাই তুমি পাবে এবং ব্যবসায় তোমাকে কোনো শ্রমও দিতে হবে না। আমি এ শর্তে তার ব্যবসায় এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসার এক তৃতীয়াংশের অংশীদার হয়ে যাই।

জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত চুক্তি বৈধ হয়েছে কি না? আর চুক্তি অনুযায়ী লাভের এক তৃতীয়াংশ আমি নিতে পারব কি না? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি বৈধ হয়েছে এবং চুক্তি অনুযায়ী পুরো ব্যবসার লাভের এক তৃতীয়াংশ আপনি নিতে পারবেন। আর ব্যবসায় লোকসান হলে আপনার মূলধন অনুযায়ী ক্ষতি বহন করতে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩২০; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৮৩; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৭৭; মিনহাতুল খালেক ৫/১৭৫; রদ্দুল মুহতার ৪/৩১৩ ও ৫/৬৪৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম - ফরিদাবাদ মাদরাসা

১৬৮৬. প্রশ্ন

সৎ দাদী (তথা আপনা দাদী নয়) কে যাকাত ও ফেতরা দেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, সৎ দাদীকে যাকাত-ফেৎরা দেওয়া যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; ফাতহুল কাদীর ২/২০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম - ফরিদাবাদ মাদরাসা

১৬৮৫. প্রশ্ন

আমাদের দেশে একটি কোম্পানি রয়েছে, যারা এম. এল. এল. পদ্ধতি অনুযায়ী লোক ভর্তি করার মাধ্যমে তাদের কোম্পানিকে পরিচালিত করে আসছে এবং তারা সদস্যদেরকে এই আশা দিয়ে থাকে যে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করলে প্রতি মাসে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা অর্জন করা যাবে।

আমাদের এলাকায় এর কার্যক্রম বেশ প্রচলিত। অনেকেই সদস্য হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমাকেও অনেকে এ কাজ করতে বলছে। আমারও মাসিক বেতন এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা হবে বলে আশা দিচ্ছে।

এখন আমার প্রশ্ন হল এই যে, উক্ত কোম্পানির সদস্য হয়ে তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা উপার্জন করা বৈধ হবে কি? বিস্তারিত দলীল-প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।




উত্তর

এম.এল.এল. পদ্ধতি বহু কারণে শরীয়তসম্মত নয়। এ পদ্ধতির ব্যবসা শরীয়ত সমর্থন করে না। সুতরাং এ পদ্ধতি অনুসৃত সকল কোম্পানির ব্যবসা নাজায়েয।

উল্লেখ্য. দেশের বিজ্ঞ মুফতীদের সমন্বয়ে গঠিত বেফাকুল মাদারিস মুফতী বোর্ড ঢাকা দীর্ঘ গবেষণা ও পর্যালোচনার পর উক্ত এম.এল.এল কারবারকে সম্পূর্ণ শরীয়ত বিরোধী ও নাজায়েয হওয়ার ফতওয়া প্রদান করেছে। উক্ত ফতওয়া দেশের নির্ভরযোগ্য ফতওয়া বিভাগ এবং বড় বড় মাদরাসার মুফতীদের স্বাক্ষরসহ পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়েছে। যাত্রাবাড়ির কাজলায় অবস্থিত বেফাক অফিস থেকে পুস্তিকাটি সংগ্রহ করে পড়লে এ সম্পর্কিত শরয়ী দলিলাদি সহজেই জানা সম্ভব।

শেয়ার লিংক

হাম্মাদ রবীউল আওয়াল - পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ

১৬৮৪. প্রশ্ন

 ...।


উত্তর

আপনার প্রশ্নের উত্তর সরাসরি কিংবা ফোনে জেনে নিন।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement