মুহাম্মাদ আবু মুসা - নেত্রকোনা

১৫৬৯. প্রশ্ন

পুরুষের মতো কি মহিলাদের জন্যও মিসওয়াক করা সুন্নত? হাদীসে মহিলাদের মিসওয়াক করা সম্পর্কে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় কি?


উত্তর

মহিলাদের জন্যও মিসওয়াক করা সুন্নত। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-আমার উম্মতের উপর কষ্টের আশঙ্কা না হলে তাদের উপর প্রত্যেক নামাযে মিসওয়াক করা জরুরি করে দিতাম। (সহীহ বুখারী ১/১২২)

সুনানে আবু দাউদের ১/৮ এক বর্ণনায় আম্মাজান হযরত আয়েশা রা.-এর মিসওয়াক করার কথা উল্লেখ আছে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আহসান হাবীব - ডেমরা, ঢাকা

১৫৬৮. প্রশ্ন

আমি একটি পাঞ্জাবি ধোয়ার জন্য বালতির পানিতে ভিজিয়ে রাখি। কিছুক্ষণ পর বলতি থেকে উঠিয়ে তা ধুয়েই নিই। একটু পর আমার অনুপস্থিতিতে আমার এক সহপাঠি এসে বালতির ঐ পানি দ্বারা অযু করে নামায আদায় করে। জানার বিষয় হল, তার নামায কি আদায় হয়েছে? উল্লেখ্য, ঐ পাঞ্জাবিটা অপবিত্র ছিল না।

 


উত্তর

ব্যবহৃত পাক কাপড় পানিতে ভিজানোর দ্বারা ঐ পানি ব্যবহৃত পানির হুকুমে হয় না বা নাপাকও হয় না। তাই ঐ ব্যক্তির অযু হয়ে গেছে এবং ঐ অযু দ্বারা আদায়কৃত নামাযও সহীহ হয়েছে।

-সহীহ মুসলিম ১/৩৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৫০; উমদাতুল ফিকহ ১/২৪৫

শেয়ার লিংক

শরীফ হোসাইন - লালবাগ

১৫৬৭. প্রশ্ন

আমি একটি বইয়ে পড়েছি যে, তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে জায়নামাযে দাড়িয়ে ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ... দুআটি পড়তে হয়। একে জায়নামাযের দুআ বলে। এ সম্পর্কে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এই দুআটি পড়া ঠিক নয়। জানার বিষয় হল, বইয়ের কথা ঠিক নাকি ইমাম সাহেবের কথা ঠিক? সঠিক সমাধান দিয়ে সঠিক আমলের সুযোগ দিবেন।

 


উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত দুআটি জায়নামাযে দাড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে পড়াটা প্রমাণিত নয়। হাঁ, হাদীস শরীফে নফল নামাযে তাকবীরে তাহরীমার পর পড়ার কথা রয়েছে। এ সংক্রান্ত হাদীসের আলোকে ফিকাহবিদগণ নফল নামাযে তাকবীরে তাহরীমার পর সানার পূর্বে এ দুআ পড়াকে উত্তম বলেছেন।

-সুনানে নাসাঈ ১/১০৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৭১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আতাউল মুহসিন - ঢাকা

১৫৬৬. প্রশ্ন

আমি যোহরের নামাযের শেষ বৈঠকে ছিলাম। এ সময় আমার দুই বছরের ছোট ছেলেটি কোলে এসে বসে পড়ে এবং এ অবস্থায় পেশাব করে দেয়। কিন্তু তার পরনে যেহেতু পেম্পারস ছিল তাই পেশাব পেম্পারসের ভিতরই থেকে যায়। তাই আমার গায়ে  মোটেও পেশাব লাগেনি। এ অবস্থায় আমার নামাযটি কি সহীহ হয়েছে?

 


উত্তর

হ্যাঁ, সহীহ হয়েছে। ঐ শিশুর অপবিত্রতার কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়নি।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭৮

শেয়ার লিংক

রুকাইয়া সুমি - বাসাবো, ঢাকা

১৫৬৫. প্রশ্ন

আমার একটা ছাগল আছে। সামনের ঈদে ১০/১১ মাস পূর্ণ হবে। আমার প্রশ্ন হল মোটাতাজা হওয়ার কারণে দেখতে ১ বছর ছাগলের মতো লাগলে। সামনের ঈদে কুরবানী দিতে পারব কি?

 


উত্তর

ছাগল কুরবানীর যোগ্য হওয়ার জন্য পূর্ণ এক বছর বয়স হওয়া জরুরি। এক বছরের কম বয়সের ছাগল মোটাতাজা হওয়ার কারণে দেখতে এক বছর বয়সী মনে হলেও তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে না। অতএব প্রশ্নোক্ত ছাগল দ্বারা আগামী ঈদে কুরবানী সহীহ হবে না।

-সহীহ মুসলিম ২/১৫৪; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৬

শেয়ার লিংক

আবদুল মুমিন - রাজশাহী

১৫৬৪. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কুরবানীর পশু সাধারণত ইমাম সাহেব বা অন্য কোনো হুজুরকে দিয়ে জবাই করানো হয়। ইমাম সাহেব একটু কাটার পরই বাকিটুকু কসাই জবাই করে। এখানে আমার প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে উভয়কেই বিসমিল্লাহ বলতে হবে নাকি শুধু ইমাম সাহেব বললেই চলবে?

 


উত্তর

জবাইকারী একাধিক হলে প্রত্যেককে পৃথক পৃথক বিসমিল্লাহ বলতে হবে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব জবাই সম্পন্ন না করে কসাই বা অন্য কাউকে দিয়ে দিলে দ্বিতীয় ব্যক্তিকেও বিসমিল্লাহ বলতে হবে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয়জন ইচ্ছাকৃত বিসমিল্লাহ না বললে জবাই সহীহ হবে না এবং এ পশুর গোশত খাওয়া যাবে না। কুরবানীর ও সহীহ হবে না। অবশ্য প্রথম ব্যক্তিই যদি জবাইয়ের মৌলিক পর্ব শেষ করে ফেলে (অর্থাৎ খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং শাহরগের কোনো একটি কেটে ফেলে) তাহলে এরপর অন্য কেউ ছুরি চালালে তার বিসমিল্লাহ বলা জরুরি নয়, তবে বলে নেওয়া ভালো। 

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৫৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৩০২

শেয়ার লিংক

ইমাদুদ্দীন - লালমনিরহাট

১৫৬৩. প্রশ্ন

আমার অনেক সময় জামাতে এক দুই রাকাত ছুটে যায়। জানার বিষয় হল, ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করার সময় শুরুতে সূরা ফাতেহা পাঠ  করব নাকি সানা পড়ে তারপর সূরা ফাতিহা পড়ব?

 


উত্তর

ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের সময় সানা দিয়ে শুরু করা উত্তম।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - লালবাগ

১৫৬২. প্রশ্ন

আমাদের ঘরে ব্যাঙের উপদ্রব একটু বেশি। একদিন মেঝেতে পড়ে থাকা আমার গেঞ্জির মধ্যে একটি ব্যাঙ প্রস্রাব করে দেয় এবং প্রায় পাঁচ আঙ্গুল পরিমাণ ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর আমি তা না ধুয়ে পরিধান করে আসরের নামায আদায় করি। আমার নামায কি আদায় হয়েছে?

 


উত্তর

ডাঙ্গায় বসবাসকারী ব্যাঙের প্রস্রাব নাজাসাতে গলীজা। তাই প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী গেঞ্জিটি নাপাক হয়ে গেছে। অতএব ঐ গেঞ্জি পরিধান করে যে নামায পড়া হয়েছে তা সহীহ হয়নি। ঐ নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।

-আননাহরুল ফায়েক ১/১৪৮; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৪৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৭৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল হাফীয - চট্টগ্রাম

১৫৬১. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি ভোরে ঘুম থেকে উঠতে না পারায় সেহরী না খেয়েই সকালে নফল রোযা রাখার নিয়ত করেছে। আমার প্রশ্ন হল, সেহরী না খেয়ে রোযা রাখার দ্বারা রোযাটি হয়েছে কি?

 


উত্তর

রোযার জন্য সেহরী খাওয়া জরুরি নয়; বরং মুস্তাহাব। সেহরী না খেলেও রোযা হয়ে যায়। রোযার কোন ক্ষতি হয় না।

-সহীহ বুখারী ১৯২৩; উমদাতুল কারী ১০/৩০০; রদ্দুল মুহতার ২/৪১৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাছুম - জকিগঞ্জ, সিলেট

১৫৬০. প্রশ্ন

শীতকালে আমার হাত-পা ফেটে যায়। তাই শীতকাল এলে হাত-পায়ে বেশি করে তেল বা লোশন মাখতে হয়। জানার বিষয় হল, অযু করার সময় যেহেতু পানি তেল লোশনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তাই এতে কি অযু শুদ্ধ হবে?

 


উত্তর

হ্যাঁ, তেল বা লোশন ব্যবহারের পর তৈলাক্ত অঙ্গসমূহে স্বাভাবিকভাবে পানি পৌঁছালেই অযু হয়ে যাবে। তৈলাক্ততা দূর করে পানি পৌঁছানো জরুরি নয়।

-আদ্দুররুল মুখতার ১/১৫৪; ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ৭০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু সুফিয়ান - চাদপুর

১৫৫৯. প্রশ্ন

গাড়ি দুর্ঘটনায় আমার বাম হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত ক্ষত হয়। ডাক্তার ক্ষত অংশটুকুসহ আরো কিছু অংশ  ব্যান্ডেজ করে দেন। কনুই পর্যন্ত বাকি অংশ খোলা আছে। অযুর সময় ব্যান্ডেজটি খুলে ক্ষত স্থানের আশপাশ ধৌত করাও বেশ কষ্টকর। অযুর সময় আমার করণীয় কী?


উত্তর

এধরনের ক্ষেত্রে অযু-গোসলের নিয়ম হল, ব্যান্ডেজকৃত অংশের উপর মাসেহ করা। অর্থাৎ ভেজা হাত দিয়ে পুরো ব্যান্ডেজের উপর মুছে দেওয়া। ভালো অংশের ব্যান্ডেজের উপরও মাসেহ করবে। তা খোলার প্রয়োজন নেই। আর ঐ হাতের অবশিষ্ট খোলা অংশ ধৌত করবে।

-সুনানে আবু দাউদ ৪৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জুনায়েদ বিন আবদুশ শাকুর - জকিগঞ্জ, সিলেট

১৫৫৮. প্রশ্ন

বাজারে যে নূরানী হাফেজী কুরআন মজীদ পাওয়া যায় তার উপরে প্লাস্টিকের কভার থাকে। বিনা অযুতে কি এই কভারের উপর দিয়ে কুরআন মজীদ স্পর্শ করা যাবে?

 


উত্তর

না, অযু ছাড়া এই কভারের উপর স্পর্শ করা যাবে না।

-রদ্দুল মুহতার ১/১৭৩-১৭৪; ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ১৪৬

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - সিলেট

১৫৫৭. প্রশ্ন

একদিন আসরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব তিনটি সেজদা করে। কিছু মুকতাদী তৃতীয় সেজদায় ইমাম সাহেবের অনুসরণ করেন। আর কিছু মুকতাদী অনুসরণ করেননি। ইমাম সাহেব নামায শেষে সেজদায়ে সাহুও করেননি। এখন তাদের নামাযের হুকুম কী?

 


উত্তর

ইমাম সাহেব অতিরিক্ত সেজদা করার কারণে  ইমাম এবং সকল মুকতাদীর উপর সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু সেজদায়ে সাহু না করার কারণে ইমাম মুক্তাদী সকলের জন্য নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ না করাই নিয়ম। কিন্তু অনুসরণ না করলেও ইমামের ভুলের কারণে সকলের উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬১; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫২৮, ৪৫৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৫৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - সিলেট

১৫৫৫. প্রশ্ন

আমার বন্ধু খালেদ অযু করে বাসে আরোহন করে সায়েদাবাদের উদ্দেশ্যে। কিছুক্ষণ পর ঝিমুনি আসলে সে সিটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। প্রায় দশ মিনিট ঘুমানোর পর জাগ্রত হয় এবং একটু পরই গন্তব্যস্থলে নেমে মাগরিবের  নামায পূর্বের অযুতেই আদায় করে। তার নামায কি সহীহ হয়েছে?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সিটে বসে ঘুমানো অবস্থায় লোকটির কোমরের নিচের অংশ সিটের সাথে ভালোভাবে এঁটে লেগে থাকলে তার অযু নষ্ট হয়নি বলে ধরা হবে। এক্ষেত্রে ঐ অযু দিয়ে মাগরিবের নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে। তবে এধরনের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক পুনরায় অযু করে নেওয়া ভালো। আর যদি ঘুমন্ত অবস্থায় সিট থেকে কোমরের নীচের অংশ পৃথক হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে অযু নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধরা হবে। এক্ষেত্রে ঐ নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/১৩৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ আল আমীন - শাহমদপুর, সিরাজগঞ্জ

১৫৫৪. প্রশ্ন

সমাজের বাস্তবতা হল মেয়েদেরকে পিতার মীরাছ থেকে বঞ্চিত করা হয়। যদি কেউ কখনও তার প্রাপ্য সম্পদ দাবি করে বা নিয়ে নেয় তাহলে তার জন্য ভাইদের দখলে থাকা বাপ-দাদার ভিটায় যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ভাইদের কাছে বোনদের কোনো মূল্য থাকে না। ছেলে-মেয়েরা মামার বাড়িতে গিয়ে আদর পায় না। অনেক সময় এমন কথাও শুনতে হয়, যা পাওয়ার তা তো নিয়েই গেছ। এখন আবার জ্বালাতন করতে আস কেন?

এসব ভেবে অনেক মেয়েই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার প্রাপ্য সম্পদ দাবি করে না এবং ভাইয়েরাও দেওয়ার কোনো আগ্রহ প্রকাশ করে না। আর দিলেও সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এমন করা ঠিক কি না? বাড়ির ভিটার অংশ মেয়েরা পাবে কি না?

 


উত্তর

পিতা-মাতার সকল সম্পদে ছেলের হিস্যা যেমন নিশ্চিত তেমনিভাবে মেয়ের হিস্যাও নিশ্চিত। পিতামাতার মৃত্যুর সাথে সাথে পরিত্যাক্ত সকল সম্পদে ছেলে-মেয়ে সবাই নিজ নিজ হিস্যা অনুযায়ী মালিক হয়ে যায়। সুতরাং বোনদের প্রত্যেকের অংশ পুরোপুরি দিয়ে দেওয়া ভাইদের উপর ফরয। বাড়ির ভিটা বসতবাড়িসহ মৃতের রেখে যাওয়া সব কিছুই মিরাছের অন্তর্ভুক্ত। যা নির্ধারিত হিস্সা অনুযায়ী বন্টনের নিয়ম অনুসারে প্রত্যেককে বুঝিয়ে দিতে হবে। তাদের অংশ দিতে যদি বিলম্ব করা হয় কিংবা কম দেওয়া হয় তবে তাদের হক নষ্ট করার গুনাহ হবে। অন্যের সম্পদ আটকে রাখাটা অনেক বড় গুনাহ, যা জাহান্নামে যাওয়ারও কারণ হতে পারে। তাই বোনদের প্রাপ্য অংশ অবিলম্বে দিয়ে দেওয়া জরুরি। আর তাদের প্রাপ্য অংশ দিয়ে দিলে তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাও মারাত্মক গুনাহ। হাদীস শরীফে আছে-কিয়ামতের দিন আত্মীয়তার সম্পর্ক নিজেই সম্পর্ক ছিন্নকারীর বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআলার দরবারে অভিযোগ করবে। তাই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

-সূরা নিসা ৭-১৪; ফাতাওয়া রহীমিয়া ১০/২৫৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাসছুজ্জামান - ২০০ লালবাগ রোড (২য় তলা) (ভাট মসজিদ), ঢাকা

১৫৫৩. প্রশ্ন

 

আসসালামু আলাইকুম। মেহেরবানী করে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর কুরআন-হাদীস অনুযায়ী যথার্থ উত্তর প্রদানের  জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

ক : বদলি হজ্ব করার জন্য যার পক্ষ থেকে হজ্ব করা হবে ইহরাম বাধার সময় তার পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে। কিন্তু মক্কা শরীফে পৌঁছার পর কাবা ঘর তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করা, মিনায় জামারাসমূহে কংকর নিক্ষেপ করার সময় প্রতিটি কাজেই যার পক্ষ থেকে হজ্ব করা হচ্ছে তার পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে কি না? আর যদি ঐসব প্রতিটি কাজে তার পক্ষ থেকে নিয়ত করা দরকার না হয় অথচ কেউ বদলী হজ্ব করার সময় প্রতিটি কাজেই তার পক্ষ থেকে নিয়ত করে আদায় করে তবে হজ্বের কোনো ক্ষতি হবে কি না?

খ) পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন বা অন্য কারো পক্ষ থেকে বাইতুল্লাহ শরীফ (কাবা ঘর) নফল তওয়াফ এবং নফল উমরা হজ্ব আদায় করলে যার পক্ষ থেকে আদায় করা হবে তার পক্ষ থেকেই নিয়ত করা কর্তব্য বা উচিত কি না। আর যদি এরূপ সঠিক না হয় তবে সঠিক নিয়ম বা পদ্ধতি কী? তাদের পক্ষ থেকে নিয়ত করে আদায় করলে কি ভুল হবে বা আদায় হবে না?

গ) ইহরামের কাপড় এবং ইহরাম অবস্থায় ব্যবহৃত অন্যান্য কাপড় যেমন গলায় রাখার ব্যাগ, বেল্ট, টাকা রাখার ব্যাগ ইত্যাদি জেট পাউডার, হুইল পাউডার বা এ জাতীয় কোনো সাবান বা পাউডার দ্বারা ধুয়ে হজ্বে ব্যবহার করা যাবে কি না?

ঘ) ঢাকা শহরের সাপ্লাই করা পানির স্বাদ ও রং মোটামুটি ঠিক বা কোনো কোনো সময় সামান্য ঘোলাটেও হয় এবং সামান্য দুর্গন্ধ লাগে। সেই পানি দ্বারা অযু করা, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যববহার করা কেমন? আর শহরে বসবাস করে ঐ পানি ব্যবহার করা ব্যতীত বিকল্প কোনো উপায়ও নেই। এ ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

ঙ) বর্তমানে ঢাকা শহরে বা সব জায়গাতেই গোসল খানা ও পায়খানা একই কক্ষে বা রুমে থাকে। পায়খানা বা লেট্রিনের কাজের জন্য একটি পানির ট্যাপ এবং গোসল ও অন্যান্য কাজের জন্য আলাদা পানির ট্যাপ থাকে। আর সেই জায়গাগুলো সাধারণত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। তবে কদাচিত লেট্রিনের গ্যাসের সামান্য দুর্গন্ধ দেখা দেয়। এ অবস্থায় এরূপ গোসলখানায় অযু-গোসলের দুআ উচ্চারণ করে পড়া কেমন?

চ) অনেক মসজিদে মূল মসজিদের বাইরে বড় বারান্দা বা চত্বর থাকে। কোনো কোনো মসজিদ দোতলা বা তিন তলায়। এখন প্রশ্ন হল, মসজিদে ঢোকার দুআ কোনখানে পড়তে হবে?

ছ) গরু-ছাগল লালন-পালনের  জন্য ভাগে দেওয়া কেমন? এ ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ কী?

জ) কোনো অসুস্থ লোকের যে কোনো কারণে গোসল ফরয হলে এবং গোসল করা সম্ভব না হলে প্রতি ওয়াক্ত নামায আদায়ের জন্য ফরয গোসল ও অযুর জন্য আলাদাভাবে তায়াম্মুম করতে হবে কি না?

ঝ) মুখের থুথু বা সর্দি হাতে বা কাপড়ে লাগলে শরীয়তের বিধান কী? আঙ্গুলের মাথায় মুখের থুথু লাগিয়ে কুরআন শরীফের পাতা উল্টানো কেমন?


 

উত্তর

ক) শুধু ইহরামের সময় উক্ত নিয়ত করা যথেষ্ট। প্রতিটি কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে না। তবে এভাবে নিয়ত করলেও হজ্বের কোনো ক্ষতি হবে না।-বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৯৮

খ) যে কোনো নফল আমলের সওয়াব অন্যকে দিতে চাইলে আমল করার সময়ও তাকে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়তে করা যেতে পারে। আবার আমল সম্পন্ন করার পরও উক্ত আমলের সওয়াব তাকে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। সুতরাং নফল তাওয়াফ বা উমরার সওয়াবও কাউকে দিতে চাইলে তা আদায় করার সময় যেমন ঐ ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায়ের নিয়ত করা যাবে তেমনি আদায়ের পরও তাকে সওয়াব পৌঁছে দেওয়ার নিয়ত করা যাবে। উভয় অবস্থায়ই সে উক্ত আমলের সওয়াব পেয়ে যাবে।-আলবাহরুর রায়েক ৩/৫৯; রদ্দুল মুহতার ২/৫৯৫

গ) ইহরাম অবস্থায় মুহরিমের জন্য জেড পাউডার, হুইল পাউডার বা এ জাতীয় যে কোনো সুগন্ধিযুক্ত পাউডার কিংবা সুগন্ধিযুক্ত সাবান কোনো কাজে ব্যবহার করা জায়েয নেই। তবে ইহরামের পূর্বে এ ধরনের পাউডার বা সাবান দ্বারা ধোয়া কাপড় বা অন্যান্য আসবাবপত্র হজ্বে তথা ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে।-আলবাহরুর রায়েক ৩/২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৮৭

ঘ) ওয়াসার সাপ্লাই করা পানি তখনই নাপাক বলে গণ্য হবে যখন তার দুর্গন্ধ বা রং ইত্যাদি থেকে নাপাকি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত বলে মনে হবে। অন্যথায় শুধু সামান্য দুর্গন্ধ বা সামান্য ঘোলাটে হলেই সন্দেহের ভিত্তিতে তা নাপাক বলা যাবে না। কারণ এখানে নাপাকির মিশ্রণ ছাড়াও দুর্গন্ধ বা ঘোলাটে হওয়ার ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সুতরাং যতক্ষণ তা নিশ্চিত নাপাকি বলে মনে না হবে ততক্ষণ তা অযু-গোসল বা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে।-আলবাহরুর রায়েক ১/৮৬; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৮৬

ঙ) গোসলখানা যদি বড় হয় এবং টয়লেটের প্যান বা কমোড অযুর বেসিন বা ট্যাপ থেকে কিছুটা দূরত্বে থাকে তাহলে সেখানে অযু-গোসলের সময় দুআ পড়া যাবে। আর যদি একই জায়গায় হয় তবে মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে দুআ পড়ার অবকাশ রয়েছে।-মাআরিফুস সুনান ১/৭৭; রদ্দুল মুহতার ১/৩৪৪

চ) মসজিদে প্রবেশের দুআ যেখান থেকে মসজিদের অংশ শুরু সেখানে প্রবেশের সময়ই পড়বে। চাই তা বারান্দা বা দোতলা-তিন তলা যাই হোক না কেন। অবশ্য আমাদের দেশে বারান্দাগুলো সাধারণত মসজিদের    অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে চত্বর মসজিদের অন্তর্ভুক্ত থাকে না। তাই এর ব্যতিক্রম হলে মসজিদ কর্তৃপক্ষের উচিত হবে তারা যেন মসজিদ শুরুর সীমানা এমনভাবে চিহ্নিত করে রাখেন, যাতে সাধারণ মানুষের এ বিষয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।-আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৫৭

ছ) গরু-ছাগল ভাগে দেওয়ার প্রচলিত অনেক পন্থাই নাজায়েয। আপনি সুনির্ধারিত কোনো পন্থার কথা উল্লেখ করেননি। তবে কারো নিকট গরু-ছাগল পালতে দিয়ে তাকে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক প্রদান করলে সে কারবার জায়েয।

জ) গোসলের জন্য তায়াম্মুম করার পর নতুন করে আবার গোসল ফরয না হলে যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত ওযর বিদ্যমান থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ তায়াম্মুমই যথেষ্ট। তবে উক্ত তায়াম্মুমের পর অযু ভঙ্গের কোনো কারণ পাওয়া গেলে শুধু অযু করে নিতে হবে। আর যদি অযু করতেও সক্ষম না হয় তাহলে অযুর পরিবর্তে তায়াম্মুম করে নিবে।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩০; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৩২

ঝ) মানুষের থুথু ও সর্দি নাপাক নয়। অতএব তা শরীর বা কাপড়ে লেগে গেলে নাপাক হবে না। আর আঙ্গুলের মাথায়  থুথু লাগিয়ে কুরআন শরীফের পৃষ্ঠা উল্টানো যদিও নাজায়েয নয় তবে এমনটি করা অনুচিত।-সহীহ বুখারী ১/৩৮; ফাতহুল বারী ১/৪২০; উমদাতুল কারী ৩/১৭৬; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩০৫

 


শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলম - বগুড়া

১৫৫২. প্রশ্ন

আমার মামা তার সৎ খালাকে বিবাহ করেছে। আমার নিজের নানী অর্থাৎ মামার আপন মা মারা যাওয়ার পর, নানা আরেকটি বিবাহ করেন এবং সেই নানীর আপন ছোট বোনকে মামা বিবাহ করেন। উল্লেখ্য, সে নানা মারা যাওয়ার পর তারা বিবাহ করে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, তাদের এই বিবাহ শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না? তাদের ঘরে দুটি সন্তান হয়েছে। তাদের বিবাহ যদি শরীয়তসম্মত না হয় তবে ক) তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রাখা যাবে কি না? খ) তাদের ভুল হয়েছে বলে তাদের জানানোর পরও যদি তারা বিবাহ বিচ্ছেদ না করে তবে তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করব কি না? গ) তাদের বিবাহ নাজায়েয হলে তাদের সঙ্গে কিভাবে এটা উপস্থাপন করব। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন এবং এই অবস্থায় তারা ইবাদত-বন্দেগী করলে তা কবুল হবে কি? তাদের সন্তানদের বয়স ১০ ও ৪ বছর। এদের সৎভাবে চলতে আমাদের করণীয় কী?


 


উত্তর

সৎ মায়ের বোন মাহরাম নয়। তাকে বিবাহ করা জায়েযের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফতোয়ার কিতাবে লেখা রয়েছে। তাই আপনার মামার জন্য সৎ মার বোনকে বিবাহ করা জায়েয হয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে আপনার আত্মীয় ও পার্শ্ববর্তী লোকদের মধ্যে যারা এই মাসআলা নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছে তাদেরকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া আপনাদের কর্তব্য। যাতে এ নিয়ে কোনো প্রকার ঝামেলার সৃষ্টি না হয়।

বি. দ্র. : আপনি বিশেষ প্রশ্ন শিরোনামে একটি প্রশ্ন করেছেন। এটির উত্তর বিশ্লেষণ সাপেক্ষ। স্বল্প পরিসরে তা দেওয়া সম্ভব নয়। এ সম্পর্কে বিভিন্ন কিতাব পাওয়া যায়। সম্ভব হলে সেগুলো দেখতে পারেন। আলকাউসারে এ ব্যাপারে কোনো এক সময় লেখা আসবে ইনশাআল্লাহ। আর বিশেষ প্রয়োজনে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন।

-সূর নিসা ২৪; আহকামুল কুরআন জাসসাস ২/১৩৯; রদ্দুল মুহতার ৩/৩১; ইমদাদুল আহকাম ২/২৪৭

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ঢাকা

১৫৫১. প্রশ্ন

প্রায় এক যুগ গত হল আমি আমার এক নিকটাত্মীয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ( বেতনভুক্ত) করছি। আমি ব্যবসা পরিচালনার পর যে পরিমাণ মুনাফা আসে ইতিপূর্বে মালিক তার পিতা, ভাই-বোনদের নিয়ে ঐ পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। তাই  মালিক আমাকে খুব বিশ্বাস করে এবং অনেক দিক দিয়ে সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে।

কয়েক বছর পূর্বে আমার মালিক ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে মহা বিপদে পড়েন এবং ঐ বিপদ থেকে উদ্ধারে আমি সবচেয়ে বেশি মেহনত করে উদ্ধার করে আনি। ঐ সময় আমি আমার মালিকের সাথে তার বাসায় দেখা করতে গেলে তিনি সুস্থ, সজ্ঞান অবস্থায় আমাকে বললেন, আজ থেকে তুমি আমার দোকানের ও ব্যবসার চার আনা পার্টনার। তোমাকে কিছু দিনের মধ্যে দলিল করে দিব। এরপর আমি এই পর্যন্ত লজ্জায় তাকে দলিল করতে বলিনি। তিনিও আমাকে দলিল করে দেননি। কিন্তু আমি চার আনা মালিক/পার্টনার হিসেবে টাকা হিসেব করে নিচ্ছি। আমার প্রশ্ন হল, ক) আমি কি তার কথার দ্বারা পার্টনার হয়ে গেছি? খ) টাকা নেওয়া কি ঠিক হচ্ছে? গ) আমার পার্টনার কত দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে? আমার মৃত্যুর পর কি পার্টনার বহাল থাকবে? ঘ) শেয়ার/পার্টনার হওয়ার জন্য কি কাগজের দলিল থাকা শর্ত? উপরোক্ত প্রশ্নগুলো বিস্তারিত জানিয়ে হারাম থেকে বেঁচে থাকার উপায় বাতলে দিবেন।


 


উত্তর

আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদানের জন্য আরো কিছু তথ্য জানা প্রয়োজন। আপনি যেহেতু ঢাকাতেই আছেন তাই সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। অন্যথায় ফোনেও যোগাযোগ করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাবিল - কুমিল্লা

১৫৫০. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযান মাসে বিতর নামাযের তৃতীয় রাকাতে রুকুতে ইমামের সাথে শরীক হয়েছে। সে দুআ কুনূত পড়ার সুযোগ পায়নি। প্রশ্ন হল, তার ছুটে যাওয়া রাকাতদ্বয় আদায়ের সময় তাকে দুআ কুনূত পড়তে হবে কি না?

 


উত্তর

ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের সময়  তাকে আর দুআ কুনূত পড়তে হবে না। কারণ তৃতীয় রাকাতের রুকু পাওয়ার কারণে সে দুআ কুনূত পেয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

-হাশিয়াতুত্ত্বাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২০৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসরুর - সাভার

১৫৪৯. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি বার্ধক্যের কারণে রমযানের রোযা রাখতে অক্ষম। অপরদিকে সে দরিদ্র ও অসচ্ছল। যার দরুণ রোযার ফিদয়া আদায় করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় তার জন্য রোযার দায়মুক্ত হওয়ার কোনো পন্থা আছে কি?


উত্তর

এ পরিস্থিতিতে ঐ ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার দরবারে ইস্তিগফার করবে। পরবর্তীতে কখনও কাযা করার কিংবা ফিদয়া আদায়ের সামর্থ্য ফিরে পেলে তখন কাযা বা ফিদয়া আদায় করে নিতে হবে।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৩৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রাশেদ ইকবাল - ঢাকা

১৫৪৮. প্রশ্ন

আমার একটি গাড়ির গ্যারেজ আছে। সেখানে বিভিন্ন কাজের জন্য মাসিক বেতন হিসেবে কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু মাঝে মাঝে দেখা যায় যে, মাসে ৭/৮ দিন পর্যন্ত কোনো কাজ থাকে না। ফলে কর্মচারীরা বেকার বসে থাকে। এতে কাঙ্খিত আয়ের চেয়ে অনেক কম আয় হয়। এখন জানার বিষয় হল, যদি কোনো মাসে এমন হয় তাহলে কর্মচারীদের মাসিক বেতন হতে বেকার দিনগুলোর টাকা কেটে রাখা বৈধ হবে কি?

 


উত্তর

যদি কর্মচারীগণকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তারা ডিউটির নির্দিষ্ট সময় চাকুরীস্থলে উপস্থিত থাকে ও কাজের জন্য প্রস্ত্তত থাকে তাহলে কাজ না থাকলেও পূর্ণ সময়ের বেতন দিতে হবে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে  মাস শেষে তারা পূর্ণ মাসের বেতনই পাবে। কাজ না থাকায় বেকার দিনগুলোর বেতন কম দেওয়া বৈধ হবে না।

-মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়া মাদ্দাহ ৪২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৫০০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাবেদ হুসাইন - হাজীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

১৫৪৭. প্রশ্ন

من صام رمضان وأتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر

এই হাদীসটির সঠিক তরজমা কী? কেউ যদি الدهر শব্দের অর্থ এক যুগ করে তাহলে তা কি সহীহ হবে?

 


উত্তর

হাদীসটির অর্থ-যে ব্যক্তি পুরো রমযান এবং এর পরে শাওয়ালের ছয়টি রোযা রাখল সে যেন পুরো এক বছর রোযা রাখল।

প্রশ্নোক্ত হাদীসে الدهر  শব্দটি দ্বারা এক বছর বুঝানো হয়েছে। কেননা শাওয়ালের ছয় রোযার ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত সুনানে নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ-এর এক বর্ণনায় الدهر এর পরিবর্তে আসসানাহ অর্থাৎ এক বৎসর এসেছে। অতএব এখানেও الدهر দ্বারা আসসানাহ বা এক বৎসরই উদ্দেশ্য হবে। এক যুগ নয়।

উল্লেখ্য, আভিধানিকভাবে الدهر  শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট সময় বুঝায় না। তাই الدهر এর অর্থ যুগ নয়। আভিধানিকভাবে الدهر শব্দের যে সব অর্থ পাওয়া যায় তা নিম্নরূপ :

(১) পুরো জীবন।

(২) দীর্ঘ সময়।

(৩) উল্লেখযোগ্য অনির্দিষ্ট সময়।

(৪) হাজার  বছর

(৫) এক লক্ষ বছর।

উল্লেখ্য যে, হাদীসটিতে الدهر এর অর্থ যেমনিভাবে ১ বছর করা হয়েছে তেমনি কেউ কেউ পুরো জীবন অর্থেও তা ব্যবহার করেছেন। মূলত : এ দুটি কথায় কোনো বিরোধ নেই। কারণ একটি নেক আমলের ছওয়াব দশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। সে হিসেবে শাওয়ালের ছয়টিসহ ছত্রিশটি রোযা রাখা মানে তিনশ ষাট দিনই অর্থাৎ ১ বছর রোযা রাখা। অতএব যে ব্যক্তি এভাবে প্রতি বছর ছত্রিশটি রোযা রাখল সে বস্ত্তত পুরো জীবনই রোযা রাখল।

-ইকমালুল মু’লিম ৪/১৩৯; মাআরিফুস সুনান ৫/৪৪৪; ফয়যুল কাদীর ৬/১৬১; ফাতহুল মুলহিম ৩/১৮৭; আউনুল মা’বুদ ৭/৬৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আয়নাল - ঢাকা

১৫৪৬. প্রশ্ন

আমি গত রমযানে রোযা রেখে বিনা ওজরে তা ভেঙ্গে ফেলেছিলাম। ফলে আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। আমি অত্যন্ত মাজুর বিধায় ষাটটি রোযা রাখতে সমর্থ নই। তাই মিসকীনদেরকে সদকা ফিতর পরিমাণ খাদ্য দিতে চাচ্ছি। এখন জানার বিষয় হল, ষাটজন মিসকীনকেই দিতে হবে? নাকি ঐ পরিমাণ খাদ্য একজনকে দিলেও চলবে?

 


উত্তর

রোযার কাফফারা আদায়ের সামর্থ্য না থাকলে ষাট রোযার পরিবর্তে ষাটজন প্রাপ্তবয়স্ক মিসকীনকে দু বেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়াতে হবে  কিংবা ষাটজনের প্রত্যেককে এক ফিতরা পরিমাণ খাদ্য বা তার মূল্য দিতে হবে। এই ষাট রোযার পরিবর্তে একজনকে খাদ্য দিতে চাইলে এক ফিৎরা করে ষাট দিনে দিতে হবে। এক দিনে এক ব্যক্তিকে ষাট  ফিতরা পরিমাণ একত্রে দিলে তার দ্বারা ষাট রোযার ফিদয়া আদায় হবে না।

-সহীহ বুখারী ১/২৬০; উমদাতুল কারী ১১/৩১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/১২; রদ্দুল মুহতার ৩/৪৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫১৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবুল হাশেম - ঢাকা

১৫৪৫. প্রশ্ন

আমি গ্রামের এক লোকের নিকট বিশ শতাংশ জমি পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া দেই। তিনি সেই  জমি অন্য একজনের নিকট বর্গা দেন। আমার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় আমি তাকে বললাম, আপনি বর্গা হিসাবে এই জমি থেকে যে পরিমাণ ফসল পান ঐ পরিমাণ ফসল আমি আপনাকে দিয়ে দিব। তবে এ জমিটা পুনরায় অন্য একজনকে ভাড়া দিতে চাই। জানতে চাই, এ প্রস্তাবে তিনি সম্মত হলে এমন করা জায়েয হবে কি?

 


উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, আপনাদের কারবারটি প্রকারান্তরে এমনই হয়ে যাচ্ছে যেন মালিক তার জমির ভাড়াটিয়া থেকে আবার ভাড়া নিচ্ছে। আর মালিকের জন্য নিজের জিনিস ভাড়া নেওয়ার কোনো বৈধতা ফিকহে ইসলামীতে নেই।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১১/২৭০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৯১

শেয়ার লিংক

মাও. নুরুজ্জামান - টঙ্গিবাড়ি

১৫৪৪. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক লোক প্রায় সময়ই আযান দেন। এভাবে ১০/১২ বছর যাবত আযান দিচ্ছেন। মুসল্লীরা তাঁকে মুয়াযযিনের মতো মনে করেন। তিনি আল্লাহু আকবার এর হামযাকে এক আলিফ পরিমাণ লম্বা করেন এবং আকবার এর বা কেও এক আলিফ পরিমাণ লম্বা করে থাকেন। আমরা তাঁকে এ সংক্রান্ত মাসআলা শুনিয়েছি এবং অনেকবার আযান মশকও করিয়েছি। কিন্তু তিনি সহীহভাবে আযান দিতে পারেন না। জানতে চাই, এভাবে আযান দিলে কোনো সমস্যা হবে কি না। বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

আযানে আল্লাহু আকবার এর হামযা অথবা বা কে টেনে বা মদ করে পড়লে আযান মাকরূহ হবে। এমন অশুদ্ধ উচ্চারণকারীর আযান দেওয়া ঠিক নয়। আযানের জন্য এমন লোক নির্বাচন করতে হবে, যিনি শুদ্ধভাবে সুন্নত তরীকায় আযান দিতে পারেন।

-সুনানে আবু দাউদ ১/৮৭; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৩৭৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫১৭; আলমুগনী ইবনে কুদামা ২/৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৬; আসসিআয়াহ২/১৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৮৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম - বরিশাল

১৫৪৩. প্রশ্ন

আমি একটি প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষক। আমার একটি কারখানাও রয়েছে। মাঝে মধ্যে ব্যস্ততার কারণে স্কুলে ক্লাস নিতে যেতে পারি না। তখন আমার ছোট ভাইকে (বি.এ অনার্স) ক্লাস নিতে পাঠাই। প্রশ্ন হল, আমার ভাইকে দিয়ে ক্লাস করালে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা আছে কি না?

 

 

উত্তর

স্কুল কর্তৃপক্ষ যেহেতু আপনাকে নিয়োগ দিয়েছে তাই আপনাকেই ক্লাস নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ভাই বা অন্য কাউকে দিয়ে ক্লাস করানো জায়েয হবে না এবং এর দ্বারা আপনি দায়িত্বমুক্ত হতে পারবেন না। অবশ্য স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি আপনার অপারগতায় আপনার ভাইকে ক্লাস করার অনুমতি দেয় তবে তাকে দিয়ে ক্লাস করানো বৈধ হবে।

-শরহুল মাজাল্লা খালেদ আতাসী ২/৬৭১, মাদ্দাহ ৫৭১; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩২১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/১৮

শেয়ার লিংক

মাও. হাসান - চট্টগ্রাম

১৫৪২. প্রশ্ন

আমি এক মসজিদের ইমাম। জনৈক মুসল্লী আমাকে তার জমি চাষাবাদ করার জন্য সাময়িক সময়ের জন্য দিয়েছে। আমি চাচ্ছি, নিজে চাষাবাদ না করে এ জমি অন্য কাউকে ভাড়ায় দিব। প্রশ্ন হল, আমার জন্য কি তা বৈধ হবে?

 


উত্তর

জমির মালিক অনুমতি দিলে জমিটি অন্যত্র ভাড়া দিতে পারবেন। মালিকের অনুমতি ছাড়া ভাড়া দেওয়া  জায়েয হবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩২০; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৮১; মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ ৮২৩-৮৩২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৯০; আলজামেউস সগীর পৃ. ৪৩৩; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৭৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুস্তাকিম - যশোর

১৫৪১. প্রশ্ন

আমি এক বাড়িতে ভাড়া থাকি। বাড়িতে কয়েকটি পুরাতন টিনের ঘর রয়েছে। একবার ঝড়-তুফান হলে একটি ঘরে বৃষ্টির সময় পানি পড়া শুরু হয় এবং টয়লেটটি পড়ে যায়। বাড়ির মালিক শহরে থাকে। এক বছর পরপর এসে ভাড়া নিয়ে যায়। তাকে ফোন করে জানালে তিনি মিস্ত্রি এনে ঠিক করে নিতে বলেন। আমি মিস্ত্রি এনে  ঠিক করে নেই। কিন্তু মালিক পরবর্তীতে এ খরচ দিতে চাচ্ছে না। জানতে চাই, এ খরচ কার দায়িত্বে হবে?

 


উত্তর

ভাড়া ঘরবাড়ি মেরামতের দায়িত্ব মালিকের। প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনি যেহেতু মালিকের অনুমতিতেই মেরামতের কাজ করেছেন তাই এই খরচ মালিককেই দিতে  হবে।

উল্লেখ্য, ভাড়াটিয়ার ত্রুটির কারণে কোনো কিছু নষ্ট হয়ে থাকলে শুধু এর ক্ষতিপূরণ তাকে দিতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১৪৮; মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ ৫২৯; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ এনামুল হক - ফরিদপুর

১৫৪০. প্রশ্ন

ঈদের নামাযে ছানা কখন পড়বে? চার তাকবীরের পরে নাকি প্রথম তাকবীরের পরে? জনৈক আলেম বলেছেন, অতিরিক্ত তাকবীরের পরে পড়বে। এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানতে চাই।

 


উত্তর

বিশুদ্ধ মতানুযায়ী ঈদের নামাযেও তাকবীরে তাহরীমার পরে অতিরিক্ত তাকবীরের আগেই ছানা পাঠ করবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৮০; তাহতাবী আলামারাকী পৃ. ২৯১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাজমুল হক - বরিশাল

১৫৩৯. প্রশ্ন

 

বর্তমানে বাজারে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে লাকি কুপন ছাড়া হয়। ক্রেতা নির্দিষ্ট পরিমাণ মাল কিনলে তাকে একটি কুপন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রশ্ন হল, এ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা-বেচা করা কি জায়েয হবে? লটারিতে বিজয়ী হলে পুরস্কার গ্রহণ করা যাবে কি?

 


 

উত্তর

যদি পুরস্কারের কুপন ছাড়ার কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা না হয় কিংবা এর কারণে ক্রেতাদেরকে কোনোরূপ ধোঁকা দেওয়ার অভিপ্রায় না থাকে যথা-নিম্নমানের মাল চালিয়ে দেওয়া ইত্যাদি এবং ক্রেতা শুধু পুরস্কার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই ক্রয় করে না থাকে। তাহলে এ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা-বেচা করা এবং লটারিতে বিজয়ী হলে পুরস্কার গ্রহণ করাও জায়েয হবে। এটি মূলত মূল্যছাড়েরই একটি পদ্ধতি।

উল্লেখ্য, পণ্যের অধিক প্রচারের জন্য এভাবে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা পছন্দনীয় নয়; বরং পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে পছন্দনীয় নিয়ম হল, ব্যাপকভাবে মূল্যছাড় দেওয়া কিংবা পূর্বের মূল্য বহাল রেখে পণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া কিংবা পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।

-বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যা মুআছিরাহ ২/২৩২; ফাতাওয়া মুআছিরাহ ২/৪২০

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement