আবদুল হালীম - চিটাগাং রোড, নারায়ণগঞ্জ

৬৮৮২. প্রশ্ন

আমার পায়ে আঘাত লাগার কারণে ব্যান্ডেজ বাঁধা। ওযুতে আমি ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করে থাকি। তবে মাঝে মাঝে বেখেয়ালিতে ব্যান্ডেজের অল্প অংশ মাসেহ থেকে বাদ থেকে যায়, যা পরে বুঝতে পারি।

জানার বিষয় হল, এতে কি আমার ওযুতে কোনো সমস্যা হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ওযু সহীহ হয়ে যাবে। ওযু-গোসলে ব্যান্ডেজের পুরো অংশের ওপর মাসেহ করা জরুরি নয়; বরং অধিকাংশ ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করলেও মাসেহ সহীহ হয়ে যায়। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কিছু অংশ মাসেহ থেকে বাদ থেকে গেলেও ওযু-গোসলে সমস্যা হবে না।

* >الفتاوى الخانية< ১/৫০ : وإذا مسح على الجبيرة، هل يشترط فيه الاستيعاب؟ ذكر الشيخ الإمام المعروف بخواهر زاده رحمه الله تعالى أنه لا يشترط فيه الاستيعاب. وإن مسح على الأكثر جاز، وإن مسح على النصف وما دونه، لا يجوز.

বাদায়েউস সানায়ে ১/৯১; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৬; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/৩৩৮; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ১/৪০৫; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৩৪৯; আননাহরুল ফায়েক ১/১২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৮২

শেয়ার লিংক

মাহমুদ হাসান - টাকশাল, গাজীপুর

৬৮৮৩. প্রশ্ন

আমার ফুফু দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। ডাক্তার পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তাই তাকে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করতে হয়।

জানার বিষয় হল, একটি মাটির টুকরা দিয়ে কি একাধিকবার তায়াম্মুম করা যাবে?

উত্তর

হাঁ, একটি মাটির টুকরার ওপর একাধিকবার তায়াম্মুম করা যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। প্রত্যেকবার তায়াম্মুমের জন্য নতুন মাটি জরুরি নয়।

* كتاب >الأصل< للشيباني ১/১০২: قلت: أرأيت رجلا وضع يديه على الصعيد، فتيمم به، ثم إن آخر تيمم بما تيمم به الأول من الصعيد؟ قال: يجزيه.

আলমাবসূত, সারাখসী ১/১২১; আলমুহীতুর রাযাবী ১/১৬৫; আলহাবিল কুদসী ১/১৩০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৩৬; আননাহরুল ফায়েক ১/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩১

শেয়ার লিংক

রাবেয়া বসরী - মুগদা, ঢাকা

৬৮৮৪. প্রশ্ন

আমার সাধারণত প্রতি মাসের শুরুর দিকে সাত দিন হায়েয হয়ে থাকে। কিন্তু গত মাসে সপ্তম দিন হায়েয বন্ধ না হয়ে বারোতম দিন পর্যন্ত চালু থাকে। এরপর বন্ধ হয়।

জানার বিষয় হল, গত মাসে আমার কতদিন হায়েয গণ্য হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাত দিনের পর রক্ত বন্ধ না হয়ে যেহেতু দশ দিন অতিক্রম করে গেছে, তাই এক্ষেত্রে আগের মাসের তারিখ অনুযায়ী সাত দিনই হয়েয গণ্য হবে। এরপর থেকে অতিরিক্ত দিনগুলো ইস্তেহাযা গণ্য হবে। সুতরাং সপ্তম দিনের পরের দিনগুলোতে আপনি যদি নামায না পড়ে থাকেন, তাহলে সেগুলো কাযা করে নেওয়া জরুরি।

* كتاب >الأصل< ১/২৮৮: قلت: أرأيت امرأة كان حيضها خمسة أيام في كل شهر، ثم زاد يوما، أتصلي ذلك اليوم؟ قال: لا، وهي فيه حائض. قلت: وكذلك لو زادت خمسة أيام؟ قال: نعم. قلت: فإن زادت على العشرة الأيام يوما أو يومين؟ قال: هذه مستحاضة فيما زادت على عشرة أيام، فتكون مستحاضة فيما زاد على أيام أقرائها. قلت: فهل عليها قضاء ما زادت على أيام أقرائها؟ قال: نعم.

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮৭; তুহফাতুল ফুকাহা ১/৩৪; আলইখতিয়ার ১/১০৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৭৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২১২; আননাহরুল ফায়েক ১/১৩৮

শেয়ার লিংক

নুসাইবা তাসনীম - সাভার, ঢাকা

৬৮৮৫. প্রশ্ন

আমি এক মহিলা মাদরাসায় হিফজ বিভাগে শিক্ষকতা করি। আমাকে মাসিকের দিনগুলোতেও ছাত্রীদের সবক, সাত সবক, আমুখতা শুনতে হয়।

আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় কি তাদের সবক ইত্যাদি শোনা যাবে? এক্ষেত্রে ছাত্রীরা যদি ভুল করে, তাহলে কীভাবে শুধরে দেব?

উত্তর

মাসিক  স্রাব চলা অবস্থায় কুরআন মাজীদ স্পর্শ না করে অন্যের থেকে তিলাওয়াত শোনা জায়েয আছে। এতে সমস্যা নেই। তবে এ অবস্থায় কাউকে সবক বলে দেওয়ার জন্যও কোনো আয়াত পড়া নিষেধ। তাই মহিলাগণ ওজরের সময় কুরআন মাজীদ শুধু শুনতে পারবেন। কিন্তু পুরো আয়াত বলবেন না। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে এক-দুই শব্দ বলে দিতে পারবেন। পুরো আয়াত বা বড় কোনো বাক্য বলবেন না।

* >الفتاوى الولوالجية< ১/৫৭: المعلمة في حالة الحيض تعلم الصبيان حرفا حرفا، ولا تعلمهم آية كاملة؛ لأن الضرورة تندفع بالأول، والمسقط هي الضرورة.

আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ১/৪১; ফাতহুল কাদীর ১/১৪৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/৩৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২০০

শেয়ার লিংক

মুহা. নাজমুল হাসান নাদীম - মালিবাগ, ঢাকা

৬৮৮৬. প্রশ্ন

আমাদের মাদরাসার ডান পাশে একটি মসজিদ আছে। পাশে বলতে মসজিদের নামাযের কাতারগুলো মাদরাসার কাতারের সাথে লাগানো আছে। প্রথম তলায় মাদরাসার ভেতর দিয়েই মসজিদে যাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় তলাতেও মসজিদের কাতারের সাথে মাদরাসার কাতারের এভাবে মিল রয়েছে যে, ওই তলা থেকেই সরাসরি মাদরাসা থেকে মসজিদে যাওয়া যায়। ওয়াক্তিয়া নামাযের সময় ইমাম সাহেব প্রথম তলায় নামায পড়ান। আমরা মাদরাসার দ্বিতীয় তলায় মসজিদের কাতারের সাথে মিলিয়ে কাতার করে দাঁড়াই। তখন মাদরাসার প্রথম তলায় ও মসজিদের দ্বিতীয় তলায় কোনো মুসল্লী থাকে না।

জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমাদের নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

এভাবে মসজিদের মূল জামাতের জায়গা খালি কিংবা অপূর্ণ রেখে সংযুক্ত ভবনে মসজিদের জামাতের সাথে নামায আদায় করা ঠিক নয়। বরং আপনাদের দায়িত্ব, মূল মসজিদে এসে নামায আদায় করা। যথাসম্ভব মসজিদের যে ফ্লোরে ইমাম দাঁড়ান সে ফ্লোরে এসে দাঁড়ানো। আর বিশেষ ওজর হলে অন্তত দ্বিতীয় তলায় মাদরাসার অংশে না দাঁড়িয়ে মসজিদের অংশে দাঁড়ানো। অন্যথায় কাতার ফাঁকা রাখার কারণে তা দূষণীয় হবে।

অবশ্য আপনাদের মাদরাসা ও মসজিদ ভবন যেহেতু সংযুক্ত, এমনকি মাদরাসা ভবনের নামাযের কাতার মসজিদের কাতারের সাথেই মেলানো, তাই মাদরাসার দ্বিতীয় তলা থেকে মসজিদের সাথে মিলিয়ে কাতার করে এতদিন যে নামাযগুলো পড়েছেন, তা আদায় হয়ে গেছে।

* >بدائع الصنائع< ১/৩৬২: وكذلك لو كان على سطح بجنب المسجد، متصل به، ليس بينهما طريق، فاقتدى به صح اقتداؤه عندنا.

খিযানাতুল আকমাল ১/৫৪; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৯৪; যাদুল ফাকীর, পৃ. ১৫৯; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৩৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৮৭; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭০

শেয়ার লিংক

জুনায়েদ - উত্তরা, ঢাকা

৬৮৮৭. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমি আমার এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। রাতে ঘুমানোর আগে আমি আমার কামরায় এশার নামায পড়তে দাঁড়াই। নামাযের মাঝে আমার বন্ধু কামরায় এসে আমাকে দেখে বলে, তুমি উত্তর দিকে ফিরে নামায পড়ছ। তার কথা শুনে আমি সাথে সাথে পশ্চিম দিকে ফিরে যাই। নামাযের শুরুতে আমি উত্তর দিককেই কিবলার দিক ভেবে দাঁড়িয়েছিলাম।

জানার বিষয় হল, আমার ওই নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

না, আপনার ওই নামায সহীহ হয়নি। কেননা এক্ষেত্রে কিবলার দিক সম্পর্কে কাউকে জিজ্ঞাসা না করে নিজে ধারণা করে ভুল দিকে যে নামাযটি শুরু করা হয়েছে, তা শুরু থেকেই সহীহ হয়নি। এক্ষেত্রে নামাযের ভেতর কিবলার দিক জানার পর নামায ছেড়ে দিয়ে কিবলামুখী হয়ে পুনরায় শুরু থেকে নামায পড়া আপনার ওপর জরুরি ছিল। এখন আপনাকে ওই নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

* >بدائع الصنائع< ১/৩০৯: وإن كان عاجزا بسبب الاشتباه، وهو أن يكون في المفازة في ليلة مظلمة، أو لا علم له بالأمارات الدالة على القبلة، فإن كان بحضرته من يسأله عنها لا يجوز له التحري لما قلنا، بل يجب عليه السؤال، فإن لم يسأل وتحرى وصلى فإن أصاب جاز، وإلا فلا.

তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৬৬; ফাতহুল কাদীর ১/২৩৬; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ২২২; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৩৩

শেয়ার লিংক

যুবায়ের - জামালপুর

৬৮৮৮. প্রশ্ন

আমি ঘরে বিতিরের নামায পড়ছিলাম। পেছন থেকে আমার ভাই এসে আমাকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করল। আমি মুখে কিছু না বলে সামান্য মাথা নেড়ে হাঁ-সূচক উত্তর দেই।

জানার বিষয় হল, নামাযের মধ্যে ইশারায় তার কথার উত্তর দেওয়ায় কি নামায ভেঙে গেছে?

উত্তর

আপনার ওই নামায আদায় হয়ে গেছে। পুনরায় পড়তে হবে না। মাথার দ্বারা সামান্য ওই ইশারার কারণে নামায নষ্ট হয়নি। তবে খুব বেশি ওজর ছাড়া নামাযে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

ইবনে জুরাইজ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

قُلْتُ لِعَطَاءٍ: أَفَتَكْرَهُ كُلَّ شَيْءٍ مِنَ الْإِيمَاءِ فِي الْمَكْتُوبَةِ؟ إِذَا جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ: أَصَلَّيْتَ الصَّلَاةَ؟ كَرِهْتَ أَنْ أُشِيرَ إِلَيْهِ بِرَأْسِي؟ قَالَ: نَعَمْ، أَكْرَهُ كُلَّ شَيْءٍ مِنْ ذلِكَ.

আমি তাবেয়ী আতা রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি ফরয নামাযে যে-কোনো ইশারা অপছন্দ করেন? কোনো ব্যক্তি এসে আমাকে নামায পড়েছ কি না জিজ্ঞেস করলে আমি মাথার ইশারায় তার কথার উত্তর দেওয়াকে কি আপনি অপছন্দ করেন?

তিনি (আতা রাহ.) উত্তরে বললেন, হাঁ, আমি ইশারাকে অপছন্দ করি। (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৩২৮৪)

আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৬৯; আলগায়া, সারুজী ৪/১৩৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৫; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪১৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৪৪৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/২৭২; ইলাউস সুনান ৫/৪০

শেয়ার লিংক