মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন - মাদারীপুর

২১৯২. প্রশ্ন

আমার একটি দোকান আছে। আমি বিভিন্ন পণ্য পাইকারি ক্রয় করে খুচরা মূল্যে বিক্রি করি। ইদানীং একটি শ্যাম্পু কোম্পানি দুই শত টাকার এক বোতল শ্যাম্পু ক্রয় করলে একটি ডোভ সাবান ফ্রি দেয়। বোতলের গায়ে একটি স্টিকারে সাবান ফ্রি লেখা থাকে। সাবানটির মূল্য ৫০/-টাকা। আমি স্টিকার উঠিয়ে শ্যাম্পুটি বিক্রি করি ২০০/-টাকায়। আর সাবানটি বিক্রি করি ৫০/-টাকায়। আমার জন্য উক্ত কাজটি বৈধ হচ্ছে কি না?

 

উত্তর

কাজটি অবৈধ। কারণ কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য ঠিক রেখে ক্রেতার অগোচরে পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া বা অংশবিশেষ রেখে দেওয়া প্রতারণার শামিল। প্রতারণার মাধ্যমে মূল্যেও বৃদ্ধি ঘটছে। ৫০০ মি.লি. শ্যাম্পুর বোতল থেকে ১০০ মি. লি. কমিয়ে দিয়ে গায়ের মূল্যে বিক্রি করা যেমন স্পষ্ট প্রতারণা তেমনি সাবান ফ্রির স্টিকার উঠিয়ে সাবান রেখে দিয়ে শ্যাম্পুর গায়ের মূল্যে বিক্রি করাও প্রতারণা। অতএব এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-রদ্দুল মুহতার ৬/২২-২৩, ৫/১৪৫; আলগারার ওয়া আছারুহু ফিল উকূদ ৫৯; আলমুসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ৯/৫১

শেয়ার লিংক

ইবনে সুলতান কাউছার - মিরপুর, ঢাকা

২১৯১. প্রশ্ন

আমি একজন চাকরিজীবী। চাকরির পয়সায় মাস চালাতে চরম হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু একটি সংস্থা সম্মেলন করার জন্য আমাদের থেকে প্রতি বছর টাকা নিয়ে থাকে। গত বছর কোনো কথা ছাড়াই বেতন থেকে টাকা কেটে নিয়েছে। পরে কর্মচারীরা তা জানতে পারে। এই বছর একটু বলা হয়েছে যে, কত টাকা নেয়া হবে। আমরা আলিমদের মুখে শুনেছি যে, কারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া নেওয়া বৈধ নয়। ইসলামী সম্মেলনের জন্য এভাবে টাকা নেওয়া কতটুকু বৈধ? আশা করি জানাবেন।


উত্তর

মাসিক বেতনের নিরঙ্কুশ মালিক হচ্ছেন চাকুরিজীবীরা। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি ছাড়া বেতনের টাকা কেটে রাখা  জায়েয হবে না। কর্তন করলে তা ফেরত দিতে হবে।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৫৪৮৮, ২৩৬০৫; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া, মাদ্দাহ : ৪২৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৬৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আসআদ - কানাইঘাট, সিলেট

২১৯০. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি হজ্ব করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাওয়াফে যিয়ারত না করেই মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে দেশে চলে এসেছেন। এখন তার করণীয় কী?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তার কর্তব্য হল, নতুন করে কোনো ইহরাম করা ছাড়া পুনরায় মক্কা মুকাররমা গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করা। এছাড়া তার কোনো গত্যন্ত নেই। আর ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের পূর্বে তাওয়াফটি আদায় না করার কারণে একটি জরিমানা দম আদায় করা তার উপর ওয়াজিব।

উল্লেখ্য, তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করার পূর্বে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া যাবে না। মিলিত হয়ে থাকলে পৃথকভাবে আরো একটি জরিমানার দম আদায় করতে হবে।

-কিতাবুল আসল ২/৩৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১৬; ফাতহুল কাদীর ২/৪৬৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৩৭০; আলবাহরুল আমীক ৩/১৮৩৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২০; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫৩, ৫৬০; মানাসিক পৃ. : ৩৪৫, ৩৪১; গুনয়াতুন নাসিক ২৭০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ - হবিগঞ্জ, সিলেট

২১৮৯. প্রশ্ন

আমাদের বাড়িতে ছোট একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ আছে। তাতে আমরা জুমার নামায ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করতাম। জুমার নামায পাশের বড় মসজিদে গিয়ে আদায় করতাম। কিছু দিন পর কয়েকজন মুসল্লী এখানে জুমার নামাযও পড়া শুরু করে। অথচ এখানে মুসল্লি খুব কম। কারণ ওয়াক্তিয়া নামাযেই এই মসজিদের মুসল্লী কম হয়। আবার জুমআর দিন অনেক মুসল্লী বড় মসজিদে চলে যায়। তাই আমরা সকলে সমবেত হয়ে ছোট মসজিদে জুমআ বন্ধ করে আগের মতো বড় মসজিদে গিয়ে জুমআর নামায আদায় করতে চাই।

আমরা কি তা করতে পারি? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

এলাকার ছোট ছোট মসজিদগুলোতে জুমআ না পড়ে সকল লোক বড় মসজিদে একত্র হয়ে জুমআ আদায় করা উত্তম। এলাকার ছোট বড় সব মসজিদে জুমআ পড়তে হবে-এটা জরুরি নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ছোট মসজিদে জুমআর জামাত বন্ধ করে পার্শ্ববর্তী বড় জামে মসজিদে গিয়ে জুমআ আদায় করাই বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে  বড় জামাতে পড়ার কারণে বেশি ছওয়াব হবে। অবশ্য সেখানে না গিয়ে এ ছোট মসজিদে জুমআ পড়ে নিলেও জুমআ আদায় হয়ে যাবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/১২০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৮৬; আলইখতিয়ার ১/৮৯; শরহুল মুনইয়া ৫৫১; রদ্দুল মুহতার ২/১৪৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৩৯; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/১০৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল আযীয - রংপুর

২১৮৮. প্রশ্ন


এক লোক মান্নত করেছে যে, তার চাকুরি হলে ৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি ছাগল ফকীরদেরকে সদকা করবে। চাকুরি হওয়ার পর মান্নত আদায়ের জন্য লোকটি তার এক নিকটাত্মীয় থেকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি ছাগল ক্রয় করে, যার বাজার মূল্য চার হাজার টাকা। এখন সে জানতে চায়, ৪ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল ৩ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে তা সদকা করলে মান্নত আদায় হবে কি না?


উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী বাস্তবেই যদি ঐ ছাগলের বাজারমূল্য ৪ হাজার টাকা হয়ে থাকে তাহলে সেটি সদকা করলেও তার  মান্নত আদায় হয়ে যাবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৬২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৫২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম - ময়মনসিংহ

২১৮৭. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মান্নত করেছে, পরীক্ষায় পাশ করলে আজীবন দৈনিক দু রাকাত নফল নামায আদায় করবে। এখন পরীক্ষায় পাশ করার পর জানতে চাচ্ছে, প্রতিদিন দু রাকাত নফল নামায পড়া কি তার জন্য জরুরি? নামায না পড়ে কাফফারা দিলে কি যথেষ্ট হবে? দ্রুত জানতে আগ্রহী।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রতিদিন মান্নতের দুই রাকাত নামায পড়া জরুরি।  কাফফারা দেওয়া যথেষ্ট হবে না। অসুস্থতা বা কোনো কারণে কোনে দিন ছুটে গেলে ঐ নামায কাযা করে নিতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪১-২৪২; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৫৫৬; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৯/২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বারী - কুনিয়া, নেত্রকোণা

২১৮৬. প্রশ্ন

ক) এক এলাকায় ফসলী জমি ভাগে দেওয়ার একটি পদ্ধতি চালু আছে। তা এই যে, জমির মালিক কৃষককে ১০ কাঠা জমি চাষ করতে দিলে এক মওসুমে মালিককে ১৫ মণ ধান দিতে হবে। আর জমিটি কৃষক নিজের খরচে চাষ করবে।

এভাবে জমি ভাগে দেওয়া জায়েয হবে কি না? উল্লেখ্য, ধান দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকের ইচ্ছা। যে কোনো ক্ষেতের ধান সে দিতে পারে। নির্ধারিত কোনো ক্ষেতের ধান দেওয়ার শর্ত থাকে না।

খ) জনৈক প্রাইভেটকার ব্যবসায়ী ৮ লক্ষ টাকা মূল্যে একটি প্রাইভেটকার বিক্রি করেছেন। ক্রেতা নগদ ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। আর চুক্তি করেছেন যে, বাকি ৪ লাখ টাকা ৬ মাস পর পর ১ লাখ টাকা করে দিয়ে ২ বছরে পরিশোধ করবে। প্রশ্ন হল, এ ব্যবসায়ীকে বাকি ৪ লাখ টাকার যাকাত আদায় করতে হবে কি না।


গ) আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি ধানের ব্যবসা করেন। তিনি নগদ ও বাকিতে ধান বিক্রি করে থাকেন। বাকিতে বিক্রির একটি পদ্ধতি হল, তিনি জ্যৈষ্ঠ মাসে ক্রেতাকে ৫ মণ ধান দিয়ে দিলেন এবং বলে দিলেন যে, কার্তিক মাসে এ ধরনের ধানের যা মূল্য হবে তা পরিশোধ করতে হবে। এ পদ্ধতিতে ধান বিক্রি করা জায়েয হবে কি না?

ঘ) অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান হওয়ার পর যে স্রাব নির্গত হয় তা নেফাসের রক্ত বলে গণ্য হবে কি না?


উত্তর

ক) প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে চাষের জন্য জমি দেওয়া জায়েয। এই লেনদেনটি হচ্ছে জমি ভাড়া বা লিজ দেওয়া, ভাগে দেওয়া নয়। এক্ষেত্রে জমির মালিককে যে ১৫ মণ ধান দেওয়ার কথা হয়েছে তা জমির ভাড়া। ভাড়া যেমন টাকা হতে পারে তেমনি কোনো পণ্যও হতে পারে। পণ্য দ্বারা ভাড়া আদায় করলে কোন ধরনের পণ্য এবং তার পরিমাণ কি তা চুক্তির সময় নির্ধারণ করে নিতে হবে। কিন্তু এ জমির বা কোনো নির্দিষ্ট জমির ফসল থেকে দেওয়ার শর্ত করলে তা জায়েয হবে না। বরং কোন প্রকারের ধান দিবে তা নির্ধারিত করতে হবে।-হেদায়া ৪/৩০৬, ২৯৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৪, ৬০; মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ : ৪৫১-৪৫৩, ৪৬৪, ৪৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৩৫; বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৫৪, ২৫৮

খ) হ্যাঁ, ঐ ব্যবসায়ীকে গাড়ির বাকি মূল্য ৪ লক্ষ টাকারও যাকাত দিতে হবে। বছর শেষে ইচ্ছা করলে অন্যান্য সম্পদের যাকাত আদায় করার সময় ঐ ৪ লক্ষ টাকার যাকাতও আদায় করে দিতে পারবে। অথবা প্রতি কিস্তি হস্তগত হওয়ার পর ঐ কিস্তির বর্তমান ও বিগত বছরের যাকাতও আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, ব্যবসার সম্পদ এমনিতেই যাকাতযোগ্য। তাই কারটি যদি বিক্রি না হয়ে দোকানে পড়েও থাকত তবুও তার যাকাত দিতে হত।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৪৮৪, ৪৮৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০-৯১; মাবসূত সারাখসী ২/১৯৭; ফাতহুল কাদীর ২/১২৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৫

 

গ) বাকি ক্রয়-বিক্রয়ের একটি শর্ত হল, বেচা-কেনার সময়ই পণ্যের মূল্য চূড়ান্ত করে নেওয়া। অন্যথায় লেনদেন নাজায়েয হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত লেনদেনে বিক্রয়ের সময় ধানের মূল্য যেহেতু নির্দিষ্ট করা হয় না তাই এ পদ্ধতিতে বেচাকেনা জায়েয হবে না।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩৫৫; হেদায়া ৩/২০; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৬৭; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ৪/৫২৯; মাজাল্লাহ ২৩৭-২৩৯; শরহুল মাজাল্লাহ ২/১৫৮-১৫৯

ঘ) হ্যাঁ, অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান হওয়ার পরও রক্তস্রাব চালু হলে তা নেফাস হিসেবে গণ্য হবে।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৭; রদ্দুল মুহতার ১/২৯৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২১৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৩৮৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ মামুন - জামালপুর, সদর

২১৮৫. প্রশ্ন

 

জনৈক ব্যক্তি যাকাতের টাকা থেকে একটি কাপড় ক্রয় করে তার সৎ মাকে দিয়েছে। জানতে চাই যে, সৎ মাকে যাকাত দেওয়া জায়েয কি না এবং দিলে যাকাত আদায় হবে কি না?


 

উত্তর

হ্যাঁ, সৎ মা যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন তাহলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। যাকাত ও অন্যান্য ওয়াজিব সদকা দরিদ্র আত্মীয়দেরকে দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - মিরপুর-১৪, ঢাকা

২১৮৪. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি ফরয নামাযে তিন আয়াত শুদ্ধ করে পড়ার পর এমন ভুল কিরাত পড়েছে, যা নামায নষ্ট করে দেয়। অতপর পরক্ষণে সে উক্ত ভুল কিরাত শুদ্ধ করে পড়ে নিয়েছে। এখন জানার বিষয় হল, ঐ ব্যক্তির নামায শুদ্ধ হয়েছে নাকি হয়নি?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি যদি ঐ রাকাতে রুকুর পূর্বে ভুল পঠিত কিরাত শুদ্ধ করে পড়ে থাকে, তাহলে তার নামায আদায় হয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, তিন আয়াত পরিমাণ পড়ার আগে বা পরে ভুল হওয়ার হুকুম একই। অর্থ বিকৃত হয়ে যায় এমন ভুল নামাযের যে পর্যায়েই হোক নামায নষ্ট হয়ে যাবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮২; হাশিয়াতুশ শারওয়ানী ২/২০৬; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/১৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - মিরপুর-১৪. ঢাকা

২১৮৩. প্রশ্ন

একজন বলল যে, নখ বড় থাকলে অযু সহীহ হয় না। এ কথা কি ঠিক?


উত্তর

না, এ কথা ঠিক নয়। কেননা নখ বড় থাকা সত্ত্বেও যদি নখের গোড়ায় পানি পৌঁছে যায় তাহলে অযু সহীহ হয়ে যাবে। তবে নখ বড় হওয়ার কারণে তাতে আটা বা ময়লা জমে থাকার কারণে যদি নখের গোড়ায় পানি না পৌঁছে তাহলে অযু সহীহ হবে না। উল্লেখ্য, নখ বড় রাখা সুন্নতের খেলাফ। তাই নিয়মিত নখ কেটে ছোট করে রাখতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২; ফাতহুল কাদীর ১/১৩; আলমুহীতুল বুরহানী ১/১৬৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৯০; মারাকিল ফালাহ ৩৫; আলবাহরুর রায়েক ১/১৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসউদুযযামান - কেরাণীগঞ্জ

২১৮২. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি যোহরের চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে দ্বিতীয় সিজদা করতে ভুলে যায়। তৃতীয় রাকাতে রুকুর পর স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে তা আদায় করে নেয়। এরপর যথা নিয়মে বাকি নামায শেষ করে। তবে কোনো সাহু সিজদা করেনি। আমার জানার বিষয় হল, ওই ব্যক্তির উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে কি? হলে সেই নামাযের হুকুম কী? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সিজদা যথাসময়ে আদায় না করার কারণে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু সে যেহেতু সাহু সিজদা করেনি তাই উক্ত নামাযটি পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব।

-শরহুল মুনইয়াহ ২৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫১০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৫৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আদীব - ডেমরা, ঢাকা

২১৮১. প্রশ্ন

একাধিক জানাযা একত্রিত হলে নামায পড়ার পদ্ধতি কী হবে? প্রত্যেকটির জন্য পৃথকভাবে নামায পড়া আবশ্যক? না একসাথে পড়ারও সুযোগ আছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

একাধিক জানাযা একত্র হলে প্রত্যেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন নামায পড়া উত্তম। তবে সবগুলো একত্র করে একসাথে নামায পড়ে নেওয়ারও অবকাশ আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহুদ প্রান্তরে একত্রে দশ-দশজন শহীদের জানাযা নামায পড়িয়েছেন। হযরত ওসমান বিন আফফান রা., আবদুল্লাহ বিন ওমর রা ও হযরত আবু হুরায়রা রা. প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীদের থেকেও একাধিক মাইয়্যেতের একত্রে জানাযা পড়ানো প্রমাণিত আছে।

-সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ১০৯; মারাসীলে আবু দাউদ ৪২৭-৪৩৫; শরহু মাআনিল আছার ৩২২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৪৪৮, হাদীস : ৩২৮২২; মুয়াত্তা মালেক ১/২৩০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪৬৫; সুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৪/৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৫৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম - নারায়ণগঞ্জ

২১৮০. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে এক ব্যক্তি যাকাতের নেসাবের চেয়ে অধিক টাকা-পয়সা ঋণ নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করার কথা থাকলেও সে আদায় করেনি। ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করতে অস্বীকারও করেনি, আবার সে গরীবও নয়। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত সম্পদের উপর যাকাত ফরয হবে কি না? আর যদি ঋণ গ্রহীতা তা পরিশোধ করে দেয় তাহলে বিগত বছরগুলোর অনাদায়ী যাকাত আদায় করতে হবে কি না?


 

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঋণদাতাকে উক্ত সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে। তবে ঋণ উসুল হওয়ার আগে ঐ টাকার যাকাত আদায় করা জরুরি নয়। পাওনা হস্তগত হওয়ার পর যাকাত আদায় করলেই চলবে। তবে কোনো যাকাতবর্ষ পার হয়ে যাওয়ার পর হস্তগত হলে অনাদায়ী বছরেরও যাকাত আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়ম হল, প্রথম বছরের যাকাত গোটা সম্পদ থেকে আদায় করবে। দ্বিতীয় বছরে প্রথম বছরের যাকাতের পরিমাণ বাদ দিয়ে অবশিষ্টকে মূল সম্পদ ধরে যাকাত আদায় করবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৯৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৮৪; ফাতহুল কাদীর ২/১২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৪-১৭৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৫; মাবসূত, সারাখসী ২/১৯৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম - নোয়াখালী

২১৭৯. প্রশ্ন

যোহরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব ভুলবশত তিনটি সিজদা করেন। তৃতীয় সিজদার সময় কিছু মুক্তাদী ইমামের অনুসরণ করেছে। আর কিছু অনুসরণ করেনি। অতপর ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করা ব্যতীত নামায শেষ করেন। জানার বিষয় হল, উক্ত নামাযের হুকুম কী?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ভুলের কারণে ইমাম ও সকল মুসল্লির উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। সাহু সিজদা না করার কারণে সকলের জন্য নামাযটি পুনরায় পড়া ওয়াজিব ছিল।&

উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যে সকল মুকতাদি অতিরিক্ত সিজদায় ইমামের অনুসরণ করেনি তারা ঠিকই করেছেন। এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ না করাই নিয়ম। তবে তারা ভুল না করলেও ইমামের ভুলের কারণে তাদের উপরও সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। অতএব এখন তাদেরকেও ঐ নামায কাযা করে নিতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬১; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/৯২; রদ্দুল মুহতার ২/৮২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খাইরুল ইসলাম - ডেমরা, ঢাকা

২১৭৮. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি হজ্ব আদায়ের জন্য মক্কা মুকাররমায় গমন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহে হজ্বের কার্যাবলি যথাযথভাবে সম্পন্ন করে, কিন্তু হজ্বের শেষ পর্যায়ে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যার কারণে আইয়্যামে নহর তথা যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করতে পারেনি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করা কি জরুরি? না এর পরিবর্তে দম দিলেই যথেষ্ট হবে? আর তাওয়াফের নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে আদায় করলে দম দেওয়া ওয়াজিব হবে কি?

 

উত্তর

তাওয়াফে যিয়ারত হজ্বের অন্যতম ফরয। তাই যেকোনোভাবেই হোক এবং যখনই হোক তা অবশ্যই আদায় করতে হবে। এই তাওয়াফ না করলে যত দমই দেওয়া হোক হজ্ব আদায় হবে না। অধিক অসুস্থতার কারণে পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করতে না পারলে হুইল চেয়ার বা অন্য যে কোনো পদ্ধতিতে স্বয়ং ঐ ব্যক্তিকেই তাওয়াফ করতে হবে। কাউকে দিয়ে বদলী করানোরও সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য যে, ১২ তারিখ সূর্যাস্তের মধ্যে তাওয়াফে যিয়ারত সম্পন্ন করা ওয়াজিব। বিনা ওজরে বিলম্ব করলে দম ওয়াজিব হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু অসুস্থতা ছিল তাই বিলম্বের কারণে কোনো দম বা জরিমানা দিতে হবে না।

-সহীহ বুখারী ১/২২১; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ২৩২, ৩৪৮; সহীহ মুসলিম ১/৪১৩; মুসনাদে আহমদ ৩/৩১৭; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/১৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৫, ৪৪৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১১-৩১৬; গুনইয়াতুন নাসিক ২৩৯, ২৭৩; মাবসূত, সারাখসী ৪/৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৪৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সায়েম - পটুয়াখালি

২১৭৭.. প্রশ্ন

কোনো ব্যক্তির ৪৮ মাইল ব্যবধানে দুটি বাড়ি আছে। সে দুই বাড়িতেই বসবাস করে। তবে প্রথম বাড়ির তুলনায় দ্বিতীয় বাড়িতে বেশি দিন অবস্থান করে। আমি জানতে চাই, সে তার কোনো বাড়িতে মুসাফির হবে কি না?

 

উল্লেখ্য, আমি জানি যে, ওয়াতনে আসলী দ্বারা ওয়াতনে আসলী বাতিল হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এ হুকুম প্রযোজ্য হবে কি? 

 

 

উত্তর

উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী যেহেতু ওই ব্যক্তি দুই বাড়িতেই বসবাস করে থাকে, কোনোটিকে পরিত্যাগ করেনি তাই লোকটি উভয় বাড়িতেই মুকিম থাকবে। এক্ষেত্রে উভয় বাড়িই তার জন্য ওয়াতনে আসলী বলে গণ্য হবে। কেননা, এক ব্যক্তির একাধিক ওয়াতনে আসলী হতে পারে। আর ওয়াতনে আসলী তখনই বাতিল হয় যখন সেটাকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করার নিয়ত করা হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সে কোনোটিকে পরিত্যাগ করেনি।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২১৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯; শরহুল মুনইয়াহ ৫৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমীনুল ইসলাম - আড়াই হাজার

২১৭৬.. প্রশ্ন

এক ব্যক্তির বাম পা মারাত্মকভাবে যখম হওয়ায় ডাক্তার তার পা ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। তাই সে অযু করার সময় ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করে নামায পড়ে। জানার বিষয় হল, তাকে যদি ফরয নামাযের ইমাম বানানো হয় আর সুস্থ লোকজন তার ইকতিদা করে তাহলে কি সুস্থ লোকদের নামায সহীহ হবে?


 

  

 

 

উত্তর

হ্যাঁ, ব্যান্ডেজের উপর মাসহকারী ইমাম হতে পারে এবং তার পিছনে সুস্থ লোকদের ইকতিদা সহীহ হবে। তবে  যে ব্যক্তির ক্ষতস্থান থেকে সর্বদা রক্ত বা পুঁজ ঝরতে থাকে তার জন্য ইমামতি করা সহীহ হবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৫০, ৩৫৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৪৭; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৮৫; শরহুল মুনইয়াহ ৫১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৮৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফাহিম - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

২১৭৫. প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে মাত্র তিন তাকবীর বলেই সালাম ফিরিয়েছেন। তাকে জানানোর পর তিনি বলেন, সমস্যা নেই। তাকবীর কম হলে নামায অশুদ্ধ হয় না। কিন্তু মৃতের অভিভাবকগণ এতে সন্তুষ্ট না হয়ে পরের দিন অন্য ইমাম এনে কবরকে সামনে নিয়ে নামায পড়েছে। জানার বিষয় হল, প্রথম জানাযার নামায সহীহ ছিল কি না? আর কবরকে সামনে রেখে দ্বিতীয় নামায পড়া উচিত হয়েছে কি না?

 

  

 

উত্তর

জানাযার নামাযে চার তাকবীর বলা ফরয। একটি তাকবীর কম হলেও নামায আদায় হয় না। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব যেহেতু  চতুর্থ তাকবীর না বলেই সালাম ফিরিয়েছেন তাই উক্ত নামায সহীহ হয়নি। এক্ষেত্রে দাফনের পূর্বেই পুনরায় সহীহ তরীকায় নামায পড়ে নেওয়া জরুরি ছিল। যেহেতু পড়া হয়নি তাই পরের দিন কবরকে সামনে নিয়ে জানাযার  নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে। কেননা জানাযা না দিয়ে দাফন করা হলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে কবরকে সামনে নিয়ে জানাযা পড়ার বিধান রয়েছে।

-সহীহ বুখারী ১/১৭৭-১৭৮; জামে তিরমিযী ১/১২১; সহীহ মুসলিম ১/৩০৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮২; ফাতহুল কাদীর ২/৮৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২২৩; শরহুল মুনইয়াহ ৫৮৬; বাদায়েউস সানায়ে২/৫১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২০৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কবীর আহমদ - চাঁদপুর

২১৭৪. প্রশ্ন

 হাবশার বিখ্যাত বাদশা নাজাসী যিনি মুসলমানদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং নিজেও মুসলমান হয়েছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়েছিল কি? অর্থাৎ তিনি কি সাহাবী? জানতে চাই। 

 

উত্তর

হাবশার বাদশা নাজাশী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যেহেতু তার সাক্ষাৎ হয়নি তাই তিনি সাহাবী নন; বরং তাবেয়ী। কেননা সাহাবী হওয়ার জন্য শর্ত হল, ঈমানের সাথে জীবদ্দশায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাত হওয়া।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৭২৭৬; আলইসাবা ১/২০৫; শরহুল মুহাযযাব ৫/২১০; উসদুল গাবা ১/১১৮; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪/১১৪; রাফউ শানিল হুবশান ১২০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমরান হুসাইন - মিরপুর, ঢাকা

২১৭৩. প্রশ্ন

 হাশরের ময়দানে সবাই উলঙ্গ অবস্থায় উঠবে। এদের মধ্যে সর্বপ্রথম কাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে? 

উত্তর

 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ইবরাহীম আ.কে বস্ত্র পরিধান করানো হবে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৩৪৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৮৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম - উত্তরা, ঢাকা

২১৭২. প্রশ্ন

 জনৈক ওয়ায়েয এক ওয়াজ মাহফিলে বলেছেন, আল্লাহ তাআলার কাছে একশতটি মহববত আছে। তার মধ্যে নিরানববইটি মহববত নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। আর একটিমাত্র মহববত দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, যার কারণে দুনিয়ায় মানুষ একে অপরকে মহববত করে এবং মা তার সন্তানকে মহববত করে। তেমনি পশুপাখি তাদের শাবক ও ছানাদেরকে মহববত করে। জানিয়ে বাধিত করবেন যে, তার এই কথা কি কোনো সহীহ হাদীসে আছে? বরাতসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব। 

উত্তর

 হ্যাঁ, ওই ব্যক্তির কথার মর্ম সঠিক। সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে সহীহ সনদে তা বর্ণিত হয়েছে। তবে হাদীসে মহববত শব্দটি নেই; বরং রহমত শব্দ আছে। নিম্নে হাদীসটির তরজমা দেওয়া হল। হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা রহমতকে এক শত ভাগ করেছেন। তন্মধ্য থেকে নিরানববই ভাগ রহমত নিজের কাছে রেখেছেন। আর একভাগ রহমত জমিনে অবতীর্ণ করেছেন। যার কারণে সমস্ত সৃষ্টি একে অপরের প্রতি দয়া করে থাকে। এমনকি ঘোড়া তার পায়ের খুর এই আশংকায় উঠিয়ে রাখে যে, তার দ্বারা বাচ্চা ব্যথা পাবে।

-সহীহ বুখারী ২/৮৮৭

শেয়ার লিংক

মাওলানা মুশাররফ - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

২১৭১. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, নবীজীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমানায় চন্দ্র দ্বি খন্ডিত হয়েছিল এ সম্পর্কে কোনো সহীহ হাদীস নেই। তার এ কথা কি সহীহ? বরাতসহ জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। 

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার কথা কুরআন মজীদে ও সহীহ হাদীসে আছে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-(তরজমা) কেয়ামত আসন্ন এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাগত যাদু। (সূরা কমর : ১-৩) আর এ সম্পর্কে অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসীর রাহ. এ সম্পর্কিত হাদীসকে মুতাওয়াতির বলেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/২৭৬) নিম্নে কয়েকটি হাদীস উদ্ধৃত করা হল। ১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমরা মিনায় রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। হঠাৎ চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হল এবং এক খন্ড পাহাড়ের পশ্চাতে চলে গেল ও এক খন্ড পাহাড়ের উপরে রইল। তখন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সাক্ষী থেকো। (সহীহ বুখারী ১/৫৪৬; সহীহ মুসলিম ২/৩৭৩) ২. হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বর্ণনা করেন, মক্কাবাসীরা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোনো নিদর্শন দেখতে চাইল। তখন আল্লাহ তাআলা চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করে দেখিয়ে দিলেন। তারা দেখতে পেল যে, চাঁদের দুই খন্ড হেরা পাহাড়ের দুই পার্শ্বে চলে গিয়েছে।

-সহীহ বুখারী ১/৫৪৫; সহীহ মুসলিম ২/৩৭৩; জামে তিরমিযী ৩২৮৫; মুসনাদে আহমদ ৩/১৬৫; দালাইলুন নুবুওয়াহ ২/২৬২-২৬৮; আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৩৫৪, ৩৬১; ফাতহুল বারী ৭/২২১; আততাহরীর ওয়াত তানবীর ২৭/১৬৩; আদ্দুররুল মানসুর ৬/১৩২-১৩৪; তাফসীরে কুরতুবী ১৭/১২৫-১২৮; তাফসীরে মাযহারী ৯/১৩৫

শেয়ার লিংক

জিয়াউদ্দীন আকন্দ - বিয়ানীবাজার, সিলেট

২১৭০. প্রশ্ন

 আমাদের মসজিদের খতীব সাহেব আল্লাহর মহববতের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দাকে মহববত করেন তখন জিবরাঈল আ.কে ডেকে বলেন যে, আমি অমুক ব্যক্তিকে মহববত করি। তুমিও তাকে মহববত কর। অতপর জিবরাঈল আ. আসমানে ঘোষণা করেন, অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা মহববত করেন। সুতরাং তোমরা তাকে মহববত কর। তখন আসমানবাসী তাকে মহববত করতে থাকে। অতপর জমিনেও তার প্রতি কবুলিয়ত ঢেলে দেওয়া হয়। আর আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দাকে অপছন্দ করেন তখন জিবরাঈল আ.কে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে অপছন্দ করি। সুতরাং তুমিও তাকে অপছন্দ কর। তখন জিবরাঈল আ. তাকে অপছন্দ করতে থাকেন। অতপর তিনি আসমানবাসীদের কাছে ঘোষণা করেন যে, অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন তোমরাও তাকে অপছন্দ করো। তখন আসমানবাসীরাও তাকে অপছন্দ করতে থাকে। অতপর জমিনে তার প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে। খতীব সাহেবের উপরোক্ত বয়ান সহীহ কি না এবং সহীহ হলে তার কবুলিয়্যাত ঢেলে দেওয়া হয়-এ কথার অর্থ কী?

 

উত্তর

হ্যাঁ, খতীব সাহেবের ঐ বক্তব্য সঠিক। সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে সহীহ সনদে তা বর্ণিত আছে। আর উক্ত হাদীসে যে কবুলিয়াতের কথা বলা হয়েছে তার অর্থ হল, ভূপৃষ্ঠে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় বান্দা হওয়ার কারণে নেককার মানুষও তাকে মহববত করে এবং সর্বজনের অন্তরে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জন্মে।

-সহীহ বুখারী ৬০৪০; সহীহ মুসলিম ২/৩৩১; ইকমালুল মুলিম ৮/১১৬; ফাতহুল বারী ১০/৪৭৬; জামে তিরমিযী ২/১৪৯; মুসনাদে আহমদ ৫/২৭৯; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৫/৪৫৯; তাফসীরে কুরতুবী ৪/৬৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম - চান্দিনা, কুমিল্লা

২১৬৯. প্রশ্ন

হজ্ব শিক্ষার একটি বইয়ে পড়েছি, হাজরে আসওয়াদ একটি জান্নাতী পাথর, যা প্রথমে খুব সাদা ছিল। এরপর মানুষের গুনাহের কারণে তা কালো হয়ে যায়। মানুষের গুনাহ যদি তাকে স্পর্শ না করত তাহলে যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি তাকে স্পর্শ করামাত্র সুস্থ হয়ে যেত। আমি জানতে চাই, কথাগুলো সহীহ কি না? হাদীস বা আছারে এ ধরনের কথা আছে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, কথাগুলো সহীহ। সহীহ সূত্রে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ জান্নাতের পাথর। প্রথমে এটি দুধের চেয়েও অধিক সাদা ছিল। পরে মানুষের গুনাহ তাকে কালো করে দিয়েছে। (জামে তিরমিযী, হাদীস : ৮৭৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা ৪/২২০; মুসনাদে আহমাদ ১/৩০৭, ৩২৯, ৩৭৩)

অন্য হাদীসে আছে, মানুষের গুনাহ যদি হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের পাথরকে স্পর্শ না করত তাহলে যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি তা স্পর্শ করলে (আল্লাহর পক্ষ হতে) তাকে সুস্থতা দান করা হত। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৫/৭৫; শরহুল মুহাযযাব ৮/৫১)

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রাকীব - কুমিল্লা

২১৬৮. প্রশ্ন

  সূরা বনী ইসরাইলের ৭৯ নং আয়াতে ‘মাকামে মাহমুদ’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য? আযানের দুআয়ও শব্দটি আছে। এর দ্বারা কি জান্নাতের বিশেষ কোনো স্তর বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

‘মাকামে মাহমুদ’ দ্বারা শাফায়াতে কুবরা (বড় সুপারিশ) উদ্দেশ্য। একাধিক হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী হাশরের দিন হাশরবাসীর জন্য সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৪৭১৮, ৭৫১০; ফাতহুল বারী ৮/২৫২, ১১/৪৩৫) সর্বপ্রথম শাফাআতের এই মর্যাদা অন্য কোনো নবী প্রাপ্ত হবেন না। আল্লাহ প্রদত্ত সুপারিশের এ অধিকারকেই আয়াত ও হাদীসে মাকামে মাহমুদ বলা হয়েছে। এর দ্বারা জান্নাতের বিশেষ কোনো স্তর বোঝানো হয়নি।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শামসুল হক - উত্তর কাফরুল, ঢাকা

২১৬৭. প্রশ্ন

শুনেছি, কারূনের ধনভান্ডারের চাবি সত্তরটি উট বহন করত। কথাটি কি সহীহ? কুরআন-হাদীসে কি এর প্রমাণ আছে? 

উত্তর

কুরআন মজীদে কারূনের ধন সম্পদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে- اتينا من اتينا من الكنوز ما ان مفاتحه كنتوا بالعصبة أولى القوةوة অর্থ : এবং আমি তাকে এত অধিক পরিমাণ ধণভান্ডার দান করেছিলাম যে, তার চাবিসমূহ বহন করতে গিয়ে একদল শক্তিশালী মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ত। (সূরা কাছাছ : ৭৬) এ সম্পর্কে এরচেয়ে বেশি কিছু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণী তথা হাদীস শরীফে পাওয়া যায় না। তাই কুরআন মজীদে যতটুকু আছে এর বেশি কিছু বলা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। উপরন্তু বিষয়টি যেহেতু কোনো আকীদা বা আমলের সাথেও সম্পৃক্ত নয় তাই উল্লেখিত তথ্যের সত্যাসত্য যাচাইয়ের জন্য সময় ব্যয় করারও প্রয়োজ নেই।

-তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৬৩৬; তাফসীরে কুরতুবী ১৩/২০৬; তাফসীরে কাবীর ৯/১৫; তাফসীরে তাবারী ১০/১০১; তাফসীরে রুহুল মাআনী ২০/১১১; আদ্দুররুল মানসুর ৫/১৩৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমদাদুল্লাহ - কুমিল্লা

২১৬৬. প্রশ্ন

আমরা অনেক সময় আমাদের   উস্তাদ এবং মুরববীদের খেদমত করতে চাই। এ উদ্দেশ্যে অযুর সময় তাঁদেরকে পানি ঢেলে দেই। অযু তাঁরা নিজ হাতে করেন। কিন্তু কোনো কোনো সময় তাঁরা অযুর ক্ষেত্রে এতটুকু খেদমত নিতেও পছন্দ করেন না; বরং  স্পষ্টভাবে নিষেধ করেন।

জানার বিষয় হল, কোনো ওজর না থাকলে অযুর মধ্যে অন্যের দ্বারা শুধু পানি ঢালার সহযোগিতা নেওয়া কি অনুচিত? শরীয়তের দৃষ্টিতে তা কি অপছন্দনীয়? হাদীস-আছার ও নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির বরাতসহ বিষয়টির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

কোনো ওজর না থাকলেও অন্যের দ্বারা শুধু অযুর পানি ঢেলে দেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা নেওয়া জায়েয। এটি মাকরূহ নয়। একাধিক সহীহ হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিভিন্ন সময় অযুর পানি ঢেলে দেওয়া হত আর তিনি নিজে অযু করতেন। তদ্রূপ অনেক সাহাবী-তাবেয়ী থেকেও অযুর ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতা নেওয়ার কথা হাদীসের কিতাবে আছে।

-সহীহ বুখারী ১/৩০; সুনানে ইবনে মাজাহ ২৩; সুনানে নাসাঈ ১/১২; সহীহ মুসলিম ১/১৩৩, ৪১৬; ইলাউস সুনান ১/১৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়অ ১/১১২; আলমুহীতুল বুরহানী ১/১৭৮; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮; ফাতহুল কাদীর ১/৩১; আদ্দুররুল মুখতার ১/১২৭; শরহুল মুনইয়াহ ৩১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - মাদানী নগর মাদরাসা

২১৬৫. প্রশ্ন

 

 অনেককে ফরয নামাযের পর মাথায় হাত রেখে      يا قوي           পড়তে দেখা যায়। জানতে চাই, এ আমলের কথা নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে আছে কি?

 

উত্তর

হাদীস, আছার ও আদইয়া-আযকারের কিতাবসমূহে আমরা প্রশ্নোক্ত আমলের কথা পাইন। এটি কোনো বুযুর্গের পরীক্ষিত আমল হয়ে যাবে। তাই একে মাসনুন মনে করা ঠিক নয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালাহুদ্দীন - সাভার, ঢাকা

২১৬৪. প্রশ্ন

আমি একজন চাকরিজীবি। গত কুরবানীর সময় আমার বেতনের ৩০ হাজার টাকা আমার প্রতিষ্ঠানের নিকট বকেয়া ছিল। কুরবানীর সময় আমার নিকট কুরবানী দেওয়ার মতো কোনো নগদ অর্থ বা অন্য কোনো সম্পদ ছিল না। তখন আমি একজন আলেমের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলাম। তিনি আমাকে বললেন, উক্ত বকেয়া বেতনের কারণে আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব। কিন্তু তারপরও তখন আমার নিকট টাকা না থাকার কারণে আমি কুরবানী করিনি।

এখন জানার বিষয় এই যে, উক্ত বকেয়া বেতনের কারণে কি আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব ছিল? ওয়াজিব হয়ে থাকলে গত কুরবানীর সময় কুরবানী না করার কারণে আমার কি গুনাহ হয়েছে? বর্তমানে আমার করণীয় কি? আশা করি, সঠিক বিষয়টি জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার বেতনের বকেয়া ৩০ হাজার টাকার কারণে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি। উক্ত বেতন উসূল হওয়ার পর থেকেই কেবল তার উপর যাকাত-কুরবানী ইত্যাদি বিধান প্রযোজ্য হবে। উসূলের আগে নয়। অতএব বিগত কুরবানীর সময় কুরবানী না করার করারণে আপনি গুনাগার হবেন না। উল্লেখ্য যে, বেতন উসূল হওয়ার আগ পর্যন্ত তা কর্মচারীর একটি হক তথা প্রাপ্য হিসেবে গণ্য হয়। তাতে কর্মচারীর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর যাকাত-কুরবানী ইত্যাদির সম্পর্ক মালিকানার সাথে। হক্বের সাথে নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৯, ৪/৬১; মাবসূত, সারাখসী ২/১৯৬; হেদায়া ৩/২৭৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৮, ৭/৩০০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৬; রদ্দুল মুহতার ৬/১০; জাদীদ মাসায়েল কে শরঈ আহকাম, মুফতী শফী রাহ. ৬৪-৬৫

শেয়ার লিংক

সাওতা কারিয়ার পাড়া মসজিদের মুসল্লীদের পক্ষে ডা. মুহাম্মাদ আবদুল জলীল ডা. মুহাম্মাদ আবদুল জামাল - সাওতা কারিয়ার পাড়া

২১৬৩. প্রশ্ন

 

 

বিভিন্ন মসজিদে ফজর বা অন্য নামাযের সময় নামাযের পাঁচ/দশ মিনিট আগে মসজিদের মাইক থেকে নামাযের আর মাত্র  পাঁচ মিনিট বাকি আছে বা এ জাতীয় অন্য কিছু বলে মুসল্লীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। জামাতের কথা আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

আমাদের এলাকায় এ নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। মুফতী সাহেবের সমীপে আমার প্রশ্ন হল, এটা কী শরীয়তসম্মত?জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

 

উত্তর

নামাযের জামাতের প্রতি মুসল্লীদেরকে আহবানের জন্য শরীয়ত আযানের বিধান দিয়েছে। সুতরাং অবগতি এবং প্রস্ত্ততির জন্য আযানকেই যথেষ্ট মনে করা উচিত। তাই আযানের পর নামাযের জন্য নিয়মিত মাইকে ডাকাডাকি করা বা ঘোষণা দেওয়া সমীচীন নয়। এ থেকে বিরত থাকা উচিত। হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে আযানের পর পুনরায় ঘোষণার প্রয়োজন দেখা দিলে তা জায়েয আছে। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই এ ধরনের ডাকাডাকিকে নিয়মে পরিণত করা যাবে না। এতে আযানের মাহাত্ম ও গুরুত্ব কমে যাবে এবং নিজ থেকে শরীয়তে নুতন নিয়ম সংযোজন করা হবে, যা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

-জামে তিরমিযী ১/২৮; আলমাবসূত সারাখসী ১/১৩১; ফাতহুল কাদীর ১/২১৪; আযযখীরাহ ২/৪৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৬৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৬; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬০-২৬১; কিফায়াতুল মুফতী ৩/৫৪; ইমদাদুল মুফতীন ২৬৯; ইমদাদুল আহকাম ১/৪৩৩

শেয়ার লিংক