মুহাম্মাদ আবদুল কাদের - ঢাকা

১৯১৫. প্রশ্ন

একবার বাসে বসা ছিলাম। একজন হকার কিছু কাচের শো-পিস নিয়ে আমাদের বাসে উঠল। সে বলছিল, প্রত্যেকটির দাম দশ টাকা। যে কেউ হাতে নিয়ে দেখতে পারেন, কিনতে হবে না। যাত্রীদের অনেকেই হাতে নিয়ে দেখছিল। হঠাৎ বাস জোরে ব্রেক করলে এক যাত্রীর হাত থেকে একটি শো-পিস পড়ে ভেঙ্গে যায়। তখন হকার উক্ত যাত্রীর কাছে মূল্য দাবি করে এবং উক্ত যাত্রীর অস্বীকৃতি সত্ত্বেও তাকে মূল্য দিতে বাধ্য করে। আমার জানার বিষয় হল, ভাঙ্গা শো-পিসটির মূল্য দেওয়া উক্ত যাত্রীর জন্য জরুরি ছিল কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ভেঙ্গে যাওয়া ঐ শো-পিসটির জরিমানা দেওয়া জরুরি ছিল না। কারণ প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী সেটি ভেঙ্গে যাওয়ার পিছনে তার ত্রুটি ছিল না।

ফাতাওয়া খানিয়া ২/২৬৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫৭৪; আলবাহরুর রায়েক ৬/১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইয়াসীন - মাদারীপুর

১৯১৪. প্রশ্ন

আমি একটি মসজিদের মুআযযিন। মসজিদ কমিটি আমাকে সকালে মক্তবে পড়ানোর দায়িত্বও দিয়েছে। আমার বেতন ধার্য করা হয়েছে চার হাজার টাকা, যা দিয়ে আমার সংসার কোনো মতে চলে যায়। একবার আমি বিপদে পড়ে মান্নত করি, বিপদ কেটে গেলে আমি এক মাস ইতেকাফ করব। আল্লাহ তাআলা আমার বিপদটি দূর করে দিয়েছেন। তাই মান্নত আদায়ের জন্য মসজিদে ইতেকাফে বসি। ইতেকাফের কারণে আমি মক্তবে পড়ানো বন্ধ করে দেই। কেননা, মক্তবটি মসজিদের বাহিরে অবস্থিত। কিন্তু মসজিদ কমিটি আমাকে বলল, প্রয়োজনে মসজিদে বসে মক্তব পড়ান। এক মাস পড়া বন্ধ রাখতে পারেন না। অন্যথায় আপনার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হবে। বেতন বন্ধ হলে বা কমে গেলে আমার সংসার চালানো মুশকিল হবে। তাই আমি মসজিদে বসে মক্তব পড়ানো শুরু করি। কোনো এক ব্যক্তি বলল, মসজিদে পড়িয়ে বিনিময় নেওয়া ঠিক নয়। আমার প্রশ্ন হল, উল্লেখিত কারণেও কি আমি মসজিদে পড়িয়ে পারিশ্রমিক নিতে পারব না? দয়া করে সঠিক বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

উল্লেখিত ওযরের কারণে আপনি ইতেকাফের দিনগুলোতে মসজিদে পড়াতে পারবেন এবং আপনার নির্ধারিত বেতনও নিতে পারবেন।

হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৮৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ - হাজারীবাগ, ঢাকা

১৯১৩. প্রশ্ন

কয়েক মাস আগে আমি কেয়ারটেকারের একটি চাকুরি নিয়েছি। আমার মালিক একজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা। আমি অবগত হয়েছি যে, তার আয়ের একটি অংশ হচ্ছে সুদ-ঘুষ। জানতে চাই, এ মালিকের চাকুরি করার কী হুকুম হবে?

উত্তর

আপনার কর্তা যেহেতু একজন উচ্চপদস্থ অফিসার। তাই তার বেতনও বেশি হবে। যা থেকে আপনার বেতন দেওয়া সহজেই সম্ভব। এ হিসাবে সেখানে চাকুরি করা এবং তার দেওয়া বেতন গ্রহণ করা অবৈধ হবে না। হ্যাঁ, কখনো হারাম উপার্জন থেকে দেওয়া হচ্ছে এটা নিশ্চিত হলে তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। সেক্ষেত্রে হালাল উপার্জন থেকে আপনার প্রাপ্য দেওয়ার আবেদন জানাতে পারেন।

আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৮৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪২; ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২৯/২৪২; হাশিয়া শরহে বেকায়া, ফাতাহ লখনভী ৪/৫৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ বুরহান - কচুয়া, চাদপুর

১৯১২. প্রশ্ন

বিয়েতে যে সাক্ষী রাখা হয় তার জন্য কী কী শর্ত রয়েছে? একজন বললেন, মেয়ের মাহরামদের থেকে একজনকে সাক্ষী রাখা আবশ্যক। আরেক ব্যক্তি বললেন, সাক্ষী একজন ছেলের পক্ষ থেকে একজন মেয়ের পক্ষ থেকে রাখতে হয়। উক্ত শর্তগুলো কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য সাক্ষীর মাঝে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা আবশ্যক। ক) জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া খ) প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া গ) মুসলমান হওয়া ঘ) শ্রবণশক্তিসম্পন্ন হওয়া ঙ) দুইজন পুরুষ, অন্যথায় একজন পুরুষ ও দুইজন নারী হওয়া ও চ) উভয় সাক্ষী একত্রে একই বৈঠকে সরাসরি ইজাব-কবুল শ্রবণ করা। বর বা কনেপক্ষ থেকে সাক্ষী থাকতেই হবে-এটা আবশ্যকীয় নয়। এ ধরনের শর্তের কোনো শরয়ী ভিত্তি নেই। সাক্ষী বর ও কনেপক্ষ থেকে না হয়ে অন্য কেউ হতে পারে।

মাবসূত সারাখসী ৫/৩১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৭; রদ্দুল মুহতার ৩/২১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আহমদ আমীন - ফুলপুর, মোমেনশাহী

১৯১১. প্রশ্ন

আমাদের বাড়িতে একটি নির্দিষ্ট স্থানে গরুর গোবর জমা করা হয়। এভাবে বেশ কয়েক মাস জমা করার পর তা নার্সারির কাছে উপযুক্ত দামে বিক্রি করা হয়। জানতে চাই, এভাবে নাপাক বস্তু বিক্রি করা জায়েয কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, গোবর বিক্রি করা জায়েয। কেননা, নাপাক হলেও তা ব্যবহারের অনেকগুলো বৈধ ক্ষেত্র রয়েছে। যেমন সার হিসাবে, জ্বালানী কাজে ইত্যাদি।

খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৫৩; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১০২; আলইনায়া ৮/৪৮৬; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৮৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৯৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাসান - জুরাইন, ঢাকা

১৯১০. প্রশ্ন

গায়রে মাহরাম মহিলার ঝুটা খাওয়া পুরুষের জন্য জায়েয কি না? এর হুকুম কী? তদ্রূপ পুরুষের ঝুটা গায়রে মাহরাম মহিলার খাওয়ার হুকুম কী?

উত্তর

গায়রে মাহরাম পুরুষ বা মহিলার ঝুটাও পাক। তবে কেউ গায়রে মাহরামের অবশিষ্ট খাবার বা পানীয় গ্রহণে স্বাদ বা আকর্ষণ বোধ করলে তার জন্য মাকরূহ হবে। আর আকর্ষণ না হলে, স্বাদ নেওয়ার উদ্দেশ্য না থাকলে মাকরূহ হবে না।

ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/২২২; আলবাহরুর রায়েক ১/১২৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/১২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমদাদুল্লাহ - কচুয়া, চাদপুর

১৯০৯. প্রশ্ন

নামাযের মধ্যে কতটুকু অংশ জোরের জায়গায় আস্তে বা আস্তের জায়গায় জোরে পড়লে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে?

উত্তর

ছোট তিন আয়াত বা বড় এক আয়াত পরিমাণ আস্তে পড়ার স্থানে জোরে বা জোরে পড়ার স্থানে আস্তে তিলাওয়াত করলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।

তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৯৪; ফাতহুল কাদীর ১/৪৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ লুৎফুর রহমান (হাফিজ) - নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ

১৯০৮. প্রশ্ন

আমি যেখানে থাকি সেখানে কয়েকটি অমুসলিম পরিবার রয়েছে। তাদের কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া যাবে কি? এক্ষেত্রে শরয়ী কোনো বাধা আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

অমুসলিম প্রতিবেশী বা আত্মীয়দের কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া, খোঁজখবর নেওয়া শুধু জায়েযই নয়; বরং ইসলামের নির্দেশ ও প্রতিবেশীর হক হিসাবে গণ্য। নিষিদ্ধ হল অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়া, বা এমনভাবে মেলা-মেশা করা যে, নিজের দ্বীনের ক্ষতি হয়। তবে সেখানে গিয়ে নাজায়েয কোনো কিছুর সম্মুখীন হতে হলে যাবে না। এক্ষেত্রে দূর থেকেই খোঁজখবর নিবে। প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতাও করতে পারবে।

মুসনাদে আহমদ ৩/১৭৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৭১; হেদায়া (ফাতহুল কাদীর) ৮/৪৯৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৩৫; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৪; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৮ আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৮৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ঢাকা

১৯০৭. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি ধনী মানুষ। তার উপর যাকাতও ফরয। কিন্তু তার স্ত্রীর কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। স্বামীর কাছ থেকে যে পরিমাণ মহর পেয়েছিল তা খরচ হয়ে গেছে। জানার বিষয় এই যে, ঐ মহিলাকে যাকাত দেওয়া যাবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ মহিলাকে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে তার ভরণ-পোষণ ও জরুরি ব্যয় যদি স্বামী যথাযথভাবে দিয়ে থাকে তাহলে তাকে যাকাত না দিয়ে প্রয়োজন আছে এমন কোনো দরিদ্রকে দেওয়াই শ্রেয়।

মাবসূত সারাখসী ৩/১২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৮৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৫৮; হেদায়া ২/২০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; ফাতহুল কাদীর ২/২১১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৪২৮; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৯৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসউদ - নেত্রকোণা

১৯০৬. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি দু’বছর পূর্বে তার এক আত্মীয়ের বদলী হজ্ব করেছে। তখন তার উপর হজ্ব ফরয ছিল না। এখন তার কাছে হজ্ব করার মতো টাকা-পয়সা আছে। হজ্ব করার সামর্থ্য আছে। জানার বিষয় এই যে, এখন কি তাকে হজ্ব করতে হবে, না পূর্বে যে বদলী হজ্ব করেছিল তাই তার জন্য যথেষ্ট হবে?

উত্তর

তাকে এখন নিজের ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে। অন্যের বদলী হজ্ব করার দ্বারা নিজের ফরয হজ্ব আদায় হয় না।

সহীহ বুখারী ১/২০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭; মাবসূত সারাখসী ৪/১৪৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৭৩; হেদায়া ২/২৯৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৪৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৫; ফাতহুল কাদীর ৩/৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ময়মনসিংহ

১৯০৫. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির দাড়ি নাড়ানো অভ্যাস। প্রায় সময় সে দাড়ি নাড়াচাড়া করে। নামাযের মধ্যেও মাঝে মধ্যে অভ্যাসগত কারণে দাড়িতে চলে যায়। অবশ্য তিনি এ জন্য এক হাতই ব্যবহার করে থাকেন। জানতে চাই, এ কারণে তার নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি? আর তার জন্য কী করণীয়?

উত্তর

নামাযে খুশ-খুযু তথা নামাযের প্রতি পূর্ণ নিবিষ্টচিত্ত থাকা জরুরি। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) মুমিনগণ সফলকাম, যারা নিজেদের সালাতে বিনয়-নম্র।’ (সূরা মুমিনুন : ১-২) হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামায অবস্থায় দাড়ি নিয়ে খেলা করতে দেখে ইরশাদ করেন-যদি তার অন-র নিবিষ্ট থাকত তবে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও নিবিষ্ট হত। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/২৬৩) সুতরাং নামায অবস্থায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া হাত, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। নামায অবস্থায় অযথা দাড়িতে হাত দেওয়া মাকরূহ। তাই এ অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

সূরা মুমিনুন : ১-২; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৫; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৩৪৫ ও ৪৪১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯ ও ২/১১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৭; রদ্দুল মুহতার ১/৬২৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ওমর ফারূক - ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

১৯০৪. প্রশ্ন

একবার আমার বোন খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আমার মা শাহজালালের মাজারে একটি ছাগল মেনেছিল। বোন পরে সুস্থ হয়েছে। কিন্তু মার মান্নতটি এখনো পূর্ণ করা হয়নি। জানতে চাই, আমাদের এখন কী করা উচিত। বিলম্বের কারণে কোনো গুনাহ হচ্ছে কি না?

উত্তর

‘মান্নত’ একটি ইবাদত। নামায, রোযা, দুআ করা এগুলো যেমন ইবাদত, যা একমাত্র আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যেই তাকে সন্তুষ্ট করার জন্যই করা জরুরি। তদ্রূপ ‘মান্নত’ও কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে তাঁর নামেই হতে হবে। কোনো মাজার, পীর বা কোনো সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বা তার সন্তুষ্ট কামনার্থে মান্নত করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তাই মাজারের জন্য ছাগল মানা সম্পূর্ণ নাজায়েয হয়েছে। শিরকি হয়েছে। এ থেকে বিরত থাকা জরুরি। অতএব মাজারে বা অন্য কোনো মাজারে ছাগল দেওয়া জায়েয হবে না। উপরন্তু মাজারে দেওয়ার নিয়তের কারণে আল্লাহ তাআলার দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। সুনানে আবু দাউদ ২/৪৬৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৬; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ১৩/৬৪৩ প্রকাশ থাকে যে, কোনো মাখলুক, অলী-পীর বা মাজারবাসী কারো কোনো প্রয়োজন পূরণ করতে পারে না। কাউকে সুস্থতা দিতে পারে না। আরোগ্য দান করা, মসীবত দূর করা এগুলো কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলারই বৈশিষ্ট্য। কোনো মাখলুকের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য আছে মনে করা শিরক। মাজারে মান্নত করলে মাজারওয়ালা খুশি হবেন, অসুখ ভালো হয়ে যাবে এমন ধরাণা সম্পূর্ণ শিরক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) আল্লাহ যদি তোমাদের উপর কোনো কষ্ট আরোপ করতে চান তাহলে তিনি ব্যতীত তা খণ্ডানোর মতো কেউ নেই। আর যদি তিনি কোনো কল্যাণ দিতে চান তাহলে তাঁর অনুগ্রহ রহিত করার মতো কেউ নেই। তিনি স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন । তিনিই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।-সূরা ইউনুস : ১০৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - রায়পুরা, নরসিংদী

১৯০৩. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক মুসলিম সন্তান গত দুর্গা পুজায় হিন্দুদের সাথে তালে তালে মূর্তিদের নাম নিয়ে তাদের মতো করে নমষ্কার করে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায় যে, এগুলো দুষ্টুমি করে করেছি। জানতে চাই, এতে কোনো ক্ষতি হবে কি না?

উত্তর

পূজার সময় সেখানে অংশগ্রহণ করা মূর্তির সামনে তাদের মতো আচরণ করা এবং মূর্তির নাম নিয়ে নমষ্কার জানানো সব কিছুই কুফরি কাজ। দুষ্টুমি করে করলেও ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ঐ ব্যক্তিকে এক্ষুণি কৃত কর্মের জন্য তওবা-ইস্তেগফার করতঃ পুনরায় ঈমান আনতে হবে। এরপর সে বিবাহিত হয়ে থাকলে বিয়েও দোহরাতে হবে।

আলমুহীতুল বুরহানী ৭/৩৯৭; শরহুল ফিকহিল আকবার ১৮৬; আলবাহরুর রায়েক ৫/১২৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহমুদ হাসান - পটিয়া, চট্টগ্রাম

১৯০২. প্রশ্ন

আমরা ওয়াযে শুনে থাকি, নবীজী একবার আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করলে হযরত আবু বকর রা. নিজের সমুদয় সম্পদ পেশ করেছিলেন। আর হযরত ওমর রা. তার সম্পদের অর্ধেক পেশ করেছিলেন। এই কথাটি সহীহ হাদীসে আছে কি না? থাকলে সেই প্রসঙ্গটি কী ছিল? জানালে খুশি হব।

উত্তর

হ্যাঁ, এটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। পূর্ণ হাদীসটি এই, ওমর রা. বলেন, নবীজী একদিন আমাদের সদকার আদেশ দিলেন। সে সময় আমার সম্পদের পরিমাণও ভালো ছিল। আমি মনে মনে বললাম, আজ আমি ছওয়াবের কাজে আবু বকরের চেয়ে অগ্রগামী হতে পারব। অতএব আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে এলাম। নবীজী আমাকে বললেন, তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য কী রেখেছ? আমি বললাম, এর সমপরিমাণ। এরপর বলেন, হযরত আবু বকর তাঁর সমুদয় সম্পদ নিয়ে হাযির হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ? তিনি বললেন, আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি। হযরত ওমর রা. বলেন, আমি বললাম, খোদার কসম! আমি কখনো তাঁকে অতিক্রম করতে পারব না।

ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ-হাসান পর্যায়ের।-জামে তিরমিযী হাদীস ৩৯২১

শেয়ার লিংক

ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ - ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট

১৯০১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক লোক বলে, বিতর নামাযে আমরা যে দুআয়ে কুনূত পড়ে থাকি (আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা) তা নাকি ভিত্তিহীন, হাদীস ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। হাদীসের দুআ হল, আল্লাহুম্মাহদিনা ফীমান হাদাইতা ...। এ বিষয়ের হাদীস ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক সমাধান জানতে চাই।

উত্তর

ঐ লোকের কথা ঠিক নয়। আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ...’ এ দুআটি সহীহ হাদীস এবং সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের আমল দ্বারা প্রমাণিত। এক হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিবরীলে আমীন এসে কুনূত হিসাবে উক্ত দুআটি শিখিয়েছেন।-সুনানে কুবরা ২/২১০; মারাসীলে আবু দাউদ পৃ. ৮; ইলাউস সুনান ৬/১০৭ হযরত উমর রা. বিতরের কুনূতে রুকুর পূর্বে উক্ত দুআটি পড়তেন।-কিয়ামুল লায়ল পৃ. ৩০০ হযরত আবু আবদুর রহমান বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে কুনূতের দুআয় আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ... দুআটি পড়ার তালীম দিয়েছেন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা (নতুন সংস্করণ) ৪/৫১৮ হযরত সুফিয়ান রাহ. বলেন, পূর্বসূরীগণ কুনূতের দুআয় আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ...’ দুআটি পড়তেন।-আদ্দুররুল মানছুর ৬/৪২২ হযরত যুবায়ের ইবনে আদী রাহ. বলেন, হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বিতরের কুনূতে উক্ত দুআটি পড়তে পছন্দ করতেন।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/১২১ অতএব দুআটি সুপ্রমাণিত। এ বিষয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি করা অন্যায়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইয়ামীন - পল্লবী, ঢাকা

১৯০০. প্রশ্ন

প্রত্যেক ফরয নামাযের পর মাথায় হাত দিয়ে যে দুআ পড়া হয় সেটি কোন দুআ? তা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কি না জানতে চাই।

উত্তর

একটি দুর্বল বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে তাঁর ডান হাত মাথায় বুলাতেন এবং নিম্নোক্ত দুআটি পড়তেন بسم الله الذي لا إله الا هو الرحمن، اللهم اذهب عني الهم والحزن বর্ণনাটির সনদ যেহেতু অনেক বেশি দুর্বল নয় আর বিষয়টিও নামাযের পর যিকির ও দুআর, যা মৌলিকভাবে অনেক দলীল দ্বারা প্রমাণিত তাই এর উপর আমল করার অবকাশ রয়েছে। উল্লেখ্য যে, উক্ত হাদীসে নামাযের পর দুআটি পড়ার কথা এসেছে। শুধু ফরয নামাযের পর পড়ার কথা আসেনি। অতএব ফরয, নফল সব নামাযের পরই তা পড়া যাবে।

তবারানী, আওসাত ৪/১২৬, হাদীস ৩২০২; মাজমাউয যাওয়াইদ, হায়ছামী ১০/১৪৪; তারীখে বাগদাদ ১২/৪৮০; নাতাইজুল আফকার ২/২০৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন (আরকাম) - বরুড়া, কুমিল্লা

১৮৯৯. প্রশ্ন

সূরা জুমআর ৯ নং আয়াতে জুমার আযানের পর ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করা হয়েছে। এখানে কোন আযান উদ্দেশ্যে প্রথম আযান নাকি দ্বিতীয় আযান? যদি প্রথম আযান উদ্দেশ্য হয় তাহলে প্রশ্ন হল, অনেক এলাকায় প্রথম আযান হয় সোয়া বারোটায় আর খুতবার আযান হয় একটায় বা সোয়া একটায়। তাহলে কি এ সময়ের ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই গোনাহগার হবে?

উত্তর

জুমআর আযানের পর ক্রয়-বিক্রয় নাজায়েয। আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) ‘হে মুমিনগণ, জুমআর দিন যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটিই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। (সূরা জুমআ : ৯) উক্ত আয়াতে আহ্বান বলতে মৌলিকভাবে দ্বিতীয় আযান (খুতবার আযান) উদ্দেশ্য হলেও। শব্দের ব্যাপকতার মাঝে জুমআর প্রথম আযানও অন্তর্ভুক্ত। তাই তাফসীরবিদ ও ফিকহবিদগণের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী প্রথম আযানের পরও জুমআর প্রস্তুতিমূলক কাজ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া উক্ত আয়াতের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। অতএব তা নাজায়েয ও গুনাহের কাজ।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/১২০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/২০৫; আদ্দুররুল মানছুর ২/২১৯; বয়ানুল কুরআন ৩/৫৪৭; তাফসীরে মাযহারী ১০/২৮১; তাফসীরে শায়খুল হিন্দ পৃ. ৭১৮; আহকামুল কুরআন, ইমাম ইসমাঈল ইবনে ইসহাক ২৮৬; রদ্দুল মুহতার ২/১৬১; আততাসহীহ ওয়াত তারজীহ ১৮৫; ইলাউস সুনান ৮/৮৬; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৭৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নূরুল্লাহ - পল্লবী, ঢাকা

১৮৯৮. প্রশ্ন

জনশ্রুতি আছে যে, হযরত বেলাল রা. আযানে ‘আশহাদু’-এর শীনকে ছীন-এর মতো উচ্চারণ করতেন। তাই তাকে একবার আযান দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। তিনি ফজরের আযান না দেওয়ার কারণে নাকি সেদিন সূর্য উদিত হয়নি। একথা কি ঠিক? একাধিক বক্তাকে এমন বলতে শুনেছি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ঘটনা সত্য নয়। আল্লামা ইবনে কাসীর, মোল্লা আলী কারী, হাফেয সাখাভী প্রমুখ মনীষীগণ একে সম্পূর্ণভিত্তিহীন বলেছেন।

আলমাওযূআতুল কুবরা পৃ. ৪১, ৭৫; আলমাসনূ ১১৩; আলমাকাসিদুল হাসানা ৩৯৭

শেয়ার লিংক

খন্দকার ছরওয়ার হোসেন গং - সাবালিয়া বটতলা, টাঙ্গাইল

১৮৯৭. প্রশ্ন

আমাদের দাদারা আমাদের গ্রামের বাড়ির সম্মুখে দক্ষিণ পার্শ্বে ৫৩ শতাংশ জমি মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য দান করে গিয়েছেন। জমিটি পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা। উত্তরাংশে পূর্ব দিকে একটি টিনের মসজিদ ঘর এবং মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে তারা ব্যবহার করে আসছেন। যার উত্তর দিক দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা এবং পূর্ব পার্শ্ব দিয়ে উত্তর দক্ষিনে লম্বা নিজ বাড়িতে ও মসজিদে চলাচলের রাস্তা আছে। রাস্তার উত্তর পার্শ্বে প্রায় চার একর জমির উপর দাদাদের বসতবাড়ি। মসজিদ-কবরস্থানের উল্লেখিত ৫৩ শতাংশ প্লটের অবশিষ্ট প্রায় অর্ধেক অংশে পূর্ব পার্শ্বে মসজিদের জন্য বিরাট ইঁদারা এবং ইঁদারার পশ্চিম পার্শ্বের অবশিষ্ট জায়গা খালি পড়েছিল। পরবর্তীতে ইঁদারার পশ্চিম পার্শ্বের খালি জায়গাটায় মসজিদ-ঘরটি স্থানান্তর করেন। ঐ সময় থেকে অদ্যাবধি মসজিদের সাবেক জায়গাটি খালি পড়ে আছে। আমাদের জামানায় ১৯৯২ ঈ. সালে এলাকায় সর্বশেষ ভূমিজরিপ এলে আমরা উক্ত ৫৩ শতাংশ জমি মসজিদ ও কবরস্থানের নামে ২৭ ও ২৬ শতাংশ করে আলাদা আলাদা ভাগ করে রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত করে দেই এবং যেহেতু দক্ষিণ পার্শ্বে ইঁদারা এবং মসজিদ-ঘর স্থানান্তরিত করা হয়েছে সে হিসাবে দক্ষিণের অংশ মসজিদের নামে এবং উত্তরের অংশ কবরস্থানের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু মসজিদের সাবেক জায়গাটি কবরস্থানের অংশে পড়েছে। মসজিদ এবং কবরের জায়গা মেপে বুঝ করতে গিয়ে দেখা গেল যে, মসজিদ ও কবরস্থানের উত্তর পার্শ্বে আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটি সম্পূর্ণ মসজিদ ও কবরস্থানের জায়গার মধ্যে পড়ে গিয়েছে। এমনকি রাস্তার উত্তর পার্শ্বে আমাদের বাড়ির সীমা মনে করে আমাদের ভাইয়েরা (শরিক) সারিবদ্ধভাবে যে সমস্ত ফলের ও কাঠের গাছ লাগিয়েছিলেন সেগুলোও সারিবদ্ধভাবে মসজিদ-কবরস্থানের জায়গায় পড়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় ভাইয়েরা মসজিদ-কবরস্থানকে উল্লেখিত জায়গা ছেড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের লাগানো গাছগুলোর কিছু গাছ কেটে কাজে লাগিয়েছে এবং কিছু গাছ বিক্রি করে দিয়েছে। অবশিষ্ট গাছগুলোও কেটে ফেলে জায়গাটি খালি করে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর আমাদের বাড়িতে ও মসজিদে চলাচলের যে সরূ রাস্তাটি আছে, উক্ত রাস্তাটি প্রশস্ত করে অন্য বড় এক রাস্তার সঙ্গে সংযোগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ এখন মাপের পর দেখা যাচ্ছে যে, রাস্তাটি মসজিদ-কবরস্থানের সীমার অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে। এখন আমাদের জানার বিষয় হল : ১. মসজিদ ও কবরস্থানের উল্লেখিত ৫৩ শতাংশ জায়গা আমরা যেভাবে ১৯৯২ সালের রেকর্ডে ভাগ করে দিয়েছি তা সঠিক হয়েছে কি না? না হয়ে থাকলে এখন কী করণীয়? আর মসজিদের সাবেক স্থানটি কবরস্থানের জায়গায় পড়ে গিয়েছে, সে বিষয়ে করণীয় কী? ২. বর্তমানে মসজিদটি বড় ও পাকা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় যদি কবরস্থানের কিছু জায়গা ব্যবহার করতে হয় তাহলে তা করা যাবে কি না? ৩. আমার ভাইয়েরা মসজিদ-কবরস্থানের সীমায় পড়ে যাওয়া তাদের লাগানো গাছগুলো কেটে ব্যবহার করেছে ও বিক্রি করেছে। এটি সঠিক হয়েছে কি না? না হলে এখন কী করণীয়? আর অবশিষ্ট গাছের হুকুম কী? ৪. মসজিদ-কবরস্থানের সীমানায় পড়ে যাওয়া উল্লেখিত রাস্তাটি সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আরও প্রশস্ত করে অন্য বড় রাস্তার সঙ্গে মিলানো যাবে কি না? যদি না যায় তাহলে মসজিদ-কবরস্থানের অর্ধেক এবং আমাদের বাড়ির অংশ থেকে অর্ধেক জায়গার মাধ্যমে রাস্তাটি করা যাবে কি না? আর যদি তাও না হয় তাহলে যেভাবে রাস্তাটি ব্যবহার করে এসেছি অন্তত সেভাবে ব্যবহার করতে পারব কি না? কুরআন মজীদ ও হাদীসের আলোকে বিষয়গুলোর সমাধান দিলে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উত্তর

(ক ও খ) প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ওয়াকফকারীগণ যেহেতু ৫৩ শতাংশ জায়গা মসজিদ এবং কবরস্থান উভয়ের জন্য যৌথভাবে ওয়াকফ করেছেন তাই মসজিদ এবং কবরস্থান উভয়ের জন্য সমান ভাগে অর্ধাঅর্ধি অর্থাৎ সাড়ে ছাব্বিশ শতাংশ করে ভাগ করতে হবে। আর ওয়াকফকারীগণ প্রথমে যে স্থানে মসজিদ করেছিলেন সেটিকেই মসজিদ হিসাবে বহাল রাখা জরুরি। উত্তর-দক্ষিণে কিংবা পূর্ব-পশ্চিমে যেভাবে সুবিধা হয় সাড়ে ছাব্বিশ শতাংশ মসজিদের জন্য রেখে বাকি অর্ধেক কবরস্থানের জন্য নির্দিষ্ট করে নিতে হবে। অতএব দক্ষিণ-পশ্চিমে নতুন করে যে মসজিদ বানানো হয়েছে তা মসজিদ থাকবে না। সেটা কবরস্থানের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। আর ১৯৯২ সালের রেকর্ড শুদ্ধ হয়নি। উপরে যেভাবে বলা হয়েছে সে অনুযায়ী সংশোধন করে নেওয়া জরুরি। উত্তর : (গ) আপনার ভাইদের লাগানো গাছগুলো নিজেদের ব্যবহার করা বা বিক্রি করা সঠিক হয়েছে। অবশিষ্ট গাছগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। আর মসজিদ কর্তৃপক্ষ চাইলে তাদের কাছ থেকে মসজিদের জমি ব্যবহারের জন্য ভাড়া নিতে পারবে। উত্তর : (ঘ) ওয়াকফের জায়গা যথাসম্ভব রাস-ার জন্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সেহেতু ব্যক্তিগত জমিতে রাস্তা বের করা সম্ভব হলে সেটাই করতে হবে। আর সম্ভব না হলে পূর্বে যতটুকু রাস্তা ব্যবহার করা হয়েছে তা ব্যবহার করা যাবে। রাস্তা বড় করতে চাইলে আপনাদের প্রস্তাব অনুযায়ী অর্ধেক বা বাকি অংশ নিজেদের জায়গা থেকে দিতে হবে। তবে সর্বাবস্থায় লক্ষণীয় যে, ওয়াকফের জায়গা থেকে এত বেশি জমি রাস্তার জন্য নেওয়া যাবে না যা ওয়াকফের ক্ষতি হয়।

প্রথম মাসআলা : সহীহ বুখারী ১/৩৮২;হেদায়া ২/৬৪৫; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৩৯ তৃতীয় মাসআলা : তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ২/১৮২ চতুর্থ মাসআলা : ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৬৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ঢাকা

১৮৯৬. প্রশ্ন

আমি দোকান থেকে এক হালি ডিম কিনে বাসায় নিয়ে আসি। ডিমগুলো ভাঙ্গার পর দেখা গেল, দুইটি ডিম নষ্ট, খাওয়ার উপযোগী নয়। জানার বিষয় হল, নষ্ট দুটি ডিমের টাকা দোকানির কাছ থেকে ফেরত নেওয়া জায়েয হবে কি না? উল্লেখ্য, বাসায় আনার সঙ্গে সঙ্গেই ডিমগুলো ভাঙ্গা হয়েছে।

উত্তর

হ্যাঁ, নষ্ট ডিমের টাকা দোকানি থেকে ফেরত নেওয়া জায়েয হবে।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৮৪; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১২৩; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/১২৫; হেদায়া ৩/৪৩; ফাতহুল কাদীর ৬/১৮; আলবাহরুর রায়েক ৬/৫৪; রদ্দুল মুহতার ৫/২৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ঈসা নূর - মাদারীপুর

১৮৯৫. প্রশ্ন

কোনো মসজিদে একবার তারাবী হয়ে গেলে পুনরায় তারাবীর জামাত করা সহীহ কি না?

উত্তর

মসজিদে তারাবীর দ্বিতীয় জামাত করাও মাকরূহ।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৪; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪০৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হেলাল উদ্দীন - ঢাকা

১৮৯৪. প্রশ্ন

আমি একটি মসজিদের মুআযযিন। আমার কামরা মসজিদের বাইরে উত্তর পার্শ্বে মসজিদের সাথে লাগানো। আযান দেওয়ার জন্য মাইক্রোফোন আমার কামরায় স্থাপন করা হয়েছে। আমি কি ইতেকাফ অবস্থায় আযান দেওয়ার জন্য মসজিদ হতে বের হয়ে আমার কামরায় যেতে পারব?

উত্তর

হ্যাঁ, ইতিকাফ অবস্থায় আযান দেওয়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবেন এবং আযান শেষ হলে অন্য কাজে লিপ্ত না হয়ে আবার মসজিদে ফিরে আসবেন। এতে আপনার ইতেকাফ নষ্ট হবে না।

বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪১২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৩; আলমাবসূত সারাখসী ৩/১২৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৩; ফাতহুল কাদীর ২/৩১১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদুল্লাহ - কচুয়া, চাদপুর

১৮৯৩. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে ফাতেহা না পড়ে ভুলে সূরার ৩-৪ আয়াত পড়ে ফেলেছে। এ সময় তার স্মরণ হয়েছে যে, ফাতেহা পড়া হয়নি। এখন তার কী করণীয়? এ ভুলের জন্য কি সিজদায়ে সাহু দিতে হবে?

উত্তর

এক্ষেত্রে স্মরণ হওয়ামাত্র সে সূরা ফাতেহা পড়বে। তারপর সূরা মিলাবে এবং এ ভুলের জন্য সিজদায়ে সাহু করবে।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩০৯; ফাতহুল কাদীর ১/৪৩৮; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৬; আসসিআয়াহ ২/১৩০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২১; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ঢাকা

১৮৯২. প্রশ্ন

আমার গলায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। নামাযে কিরাত পড়ার সময় কয়েক শব্দ পর পর কেশে গলা পরিষ্কার করে নিতে হয়। আমার জানার বিষয় হল, এত বেশি কাশার কারণে নামায নষ্ট হয় কি না? আর নামায নষ্ট না হলে আমি ইমামতি করলে কোনো সমস্যা আছে কি? দয়া করে জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

কেরাত সঠিকভাবে উচ্চারণ করার জন্য ইচ্ছা করে কাশলেও নামায নষ্ট হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অধিক কাশার কারণে নামায নষ্ট হবে না। তবে যে ব্যক্তির নিয়মিত এমন সমস্যা হয় তার জন্য ইমামতি করা উচিত নয়। কেননা এতে মুসল্লীদের নামাযে একাগ্রতা নষ্ট হতে পারে।

সুনানে নাসায়ী ৩/১২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাসান মাসুদ - ঢাকা

১৮৯১. প্রশ্ন

আমার অনেকগুলো রিকশা আছে। অনেকে দুই বেলার জন্য ভাড়া নেয় আবার অনেকে এক বেলার জন্য। আমি তাদেরকে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেই। দুই বেলা চালালে এত দিতে হবে আর এক বেলা চালালে এত দিতে হবে। জানিয়ে বাধিত করবেন যে, এই পন্থায় ভাড়া দেওয়া-নেওয়া এবং লাভবান হওয়া জায়েয আছে?

উত্তর

হ্যাঁ, ঐভাবে ভাড়া দেওয়া-নেওয়া বৈধ হয়েছে।।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪২৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৯-৩০; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া পৃ. ৩৩৮-৩৩৯; আলবাহরুর রায়েক ৮/১০২; শরহুল মাজাল্লা খালিদ আতাসী ২/৬৮৬; রদ্দুল মুহতার ৬/২৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাদেকুল ইসলাম - মাদানী নগর, ঢাকা

১৮৯০. প্রশ্ন

আমি চাকুরিজীবী। অনেক সময় কাজের ঝামেলা থাকে। তখন আমার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মসজিদে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ার কারণে অফিস কক্ষে একাকী নামায আদায় করি। জানিয়ে বাধিত করবেন যে, এক্ষেত্রে আমি কি আযান-ইকামত দিয়ে নামায পড়তে পারব? না আযান-ইকামত ছাড়া পড়ব? শরয়ী সমাধান কী?

উত্তর

মসজিদের বাইরে একাকী নামায পড়ার সময় নিচু শব্দে আযান ও ইকামত দিয়ে নামায পড়া মুস্তাহাব। আর আযান-ইকামত না দিলেও নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ এলাকার মসজিদের আযান-ইকামত এলাকাবাসীর নামাযের জন্য যথেষ্ট।

মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১/৫১০; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৭৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৫; আলমাবসূত সারাখসী ১/১৩৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৯৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১০১; ফাতহুল কাদীর ১/২২২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৫২৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩; রদ্দুল মুহতার ১/৩৯০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ মামুন - নোয়াখালী

১৮৮৯. প্রশ্ন

কোনো অমুসলিম মারা গেলে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলা যাবে কি? আর প্রতিবেশী হলে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া যাবে কি?

উত্তর

‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়তে হয় বিপদ-আপদ ও মসিবতের সময়। এতে মৃতের জন্য কোনো দুআ নেই। তাই অমুসলিম যদি বাহ্যত সমাজসেবী ও সৎ লোক হয় যার মৃত্যু মুসলমান আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের জন্য বাহ্যত মুসিবতের কারণ তাহলে সেক্ষেত্রেও ঐ দুআ পড়ার অবকাশ আছে। অবশ্য ভূপৃষ্ঠ থেকে কাফেরের সংখ্যা কমল এবং নাফরমানী হ্রাস পেল এসব বিবেচনায় ঐ দুআ না পড়ারও অবকাশ আছে। সুতরাং ঐ দুআ পড়া বা না পড়া নির্ভর করে দৃষ্টিভঙ্গি ও নিয়তের উপর। আর কোনো অমুসলিম পড়শী মারা গেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারস্থ লোকদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার অবকাশ রয়েছে।

তাফসীরে রূহুল মাআনী ২/২৩; তাফসীরে কুরতুবী ২/১১৯ ও ১৮/৪০; আহকামুল কুরআন ৫/৪৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১৩/৫৬৫ ও ৭/৩৭৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৬/৪২; ইতহাফু সাদাতিল মুত্তাকীন ৬/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আলমাবসূত সারাখসী ২/৫৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম - ঢাকা

১৮৮৮. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু বলেছে যে, আমাকে একটি প্লট কিনে দে। আমি তাকে আমার এলাকার একটি প্লট দেখিয়েছি। তা সে পছন্দ করেছে এবং দর-দাম ঠিক করে বায়না করেছে। তখন আমি তাকে বলেছি যে, তোকে আমি জায়গা কিনে দিলাম তুই আমাকে চার রুমের বিদ্যুত সরবরাহের ক্ষমতা ধারণ করে এমন একটি আইপিএস কিনে দে। সে বলেছে যে, জায়গা বুঝে নেই তারপর কিনে দিব। তো সে আমাকে একটি আইপিএস দিয়েছে। জানালে কৃতজ্ঞ হব যে, আমার জন্য কি তা নেওয়া ঠিক হয়েছে? আমি কি তা ব্যবহার করতে পারি?

উত্তর

হ্যাঁ, আপনার বন্ধু সন্তুষ্ট চিত্তে দিলে তা নেওয়া বৈধ হয়েছে। এক্ষেত্রে এটি আপনার কাজের পারিশ্রমিক গণ্য হবে। উল্লেখ্য, এ ধরনের কারবারে পারিশ্রমিক গ্রহণের ইচ্ছা থাকলে তা কাজের আগেই নির্ধারণ করে নেওয়া জরুরি। যেন পরবর্তীতে এ নিয়ে দ্বন্দ না হয়।

হ্যাঁ, আপনার বন্ধু সন্তুষ্ট চিত্তে দিলে তা নেওয়া বৈধ হয়েছে। এক্ষেত্রে এটি আপনার কাজের পারিশ্রমিক গণ্য হবে। উল্লেখ্য, এ ধরনের কারবারে পারিশ্রমিক গ্রহণের ইচ্ছা থাকলে তা কাজের আগেই নির্ধারণ করে নেওয়া জরুরি। যেন পরবর্তীতে এ নিয়ে দ্বন্দ না হয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম - ঢাকা

১৮৮৭. প্রশ্ন

আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরি করি। অফিসিয়াল কাজের জন্য আমাকে কোম্পানি থেকে একটি কম্পিউটার দিয়েছে। ঐ কম্পিউটারে কোম্পানির ফাইল রয়েছে, যা বিভিন্ন লোকের কাছে প্রিন্ট করে বিক্রি করা হয়। আমার জন্য তা দেখার অনুমতি আছে তাই আমি পেনড্রাইভ দিয়ে ঐ ফাইলটি নিজস্ব কম্পিউটারে তাদের অনুমতি ছাড়া কপি করে নিয়েছি। আমার জন্য কি তা জায়েয হয়েছে? না হলে এখন করণীয় কী? উল্লেখ্য, আমার উদ্দেশ্য ব্যবসা নয়। কোনো সময় প্রয়োজন হলে নিজের জন্য ব্যবহার করামাত্র।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু তারা অফিসিয়াল কাজের জন্যই অফিসে প্রোগ্রামটি দেখার অনুমতি দিয়েছে, বাসায় বা অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার এবং কপি করার অনুমতি দেয়নি, তাই কোম্পানির অনুমতি ছাড়া নিজস্ব কম্পিউটারে ফাইলটি কপি করা জায়েয হয়নি। এখন আপনার করণীয় হল ফাইলটি নিজের কম্পিউটার থেকে ডিলিট করে দেওয়া।

আননুতাফ ফিলফাতাওয়া পৃ. ৩৫১; মাবসূত সারাখসী ১১/১১০, ১১১, ১১৯; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩১২; হেদায়া ৩/২৭৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৮০-২৮১; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৭৩; আদ্দুররুল মুখতার ৫/২২৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সোহেল চৌধুরী - মগবাজার, ঢাকা

১৮৮৬. প্রশ্ন

আমি কম্পিউটারের কিছু প্রোগ্রাম শেখার জন্য এক সেন্টারে ৩ মাসের জন্য ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভর্তি হয়েছিলাম। আমি প্রোগ্রামগুলো শেখা শুরু করি। কিন্তু দশ দিন যাওয়ার পর আমার কাছে আর তা ভালো লাগেনি। তাই সেখানকার প্রধানকে বলেছি যে, আমি শুধু দশ দিনের প্রোগ্রাম ফি দিব। সে এতে রাজি হয়েছে। জানালে কৃতজ্ঞ থাকব যে, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী আমার প্রস্তাব কি ঠিক হয়েছে? নাকি পুরা ৩ মাসের ফি দিতে হবে?

উত্তর

সেন্টার-প্রধান যেহেতু দশ দিনের ফি নিতে রাজি হয়েছেন তাই আপনি ঐ দিনগুলোর ফি দিলে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবেন।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪১৩; শরহুল মাজাল্লাহ খালিদ আতাসী ২/৫৮৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১০৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/৪

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement