মারজানা আক্তার - বেগুনবাড়ি

৪৭৯১. প্রশ্ন

আমি এবং আমার স্বামী ২০১৯ সালে হজে¦ যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছি। এখন থেকেই আমি প্রয়োজনীয় মাসআলা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আপনাদের কাছে আমি কয়েকটি বিষয় জানতে চাচ্ছি।

ক. আমি সাধারণত হাতে-গলায় মিলিয়ে ২/৩ ভরি স্বর্ণ ব্যবহার করে থাকি। ইহরাম অবস্থায় কি এগুলো ব্যবহার করতে পারব?

খ. ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা-পামোজা পরলে কোনো সমস্যা হবে কি না?

গ. সাধারণত সবাই ইহরামের জন্য সাদা কাপড় ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে মহিলাদের জন্যও কি সাদা বোরকা পরতে হবে?

উত্তর

ক. ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য অলংকার ব্যবহার করা জায়েয। প্রখ্যাত তাবেয়ী নাফে রাহ. বলেন-

أَنّ نِسَاءَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ وَبَنَاتِهِ كُنّ يَلْبَسْنَ الْحُلِيّ وَهُنّ مُحْرِمَاتٌ.

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর স্ত্রী এবং মেয়েরা ইহরাম অবস্থায় স্বর্ণ-রূপার অলংকার ব্যবহার করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ১৪৪১৪)

খ. মহিলারা ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা-পামোজা পরিধান করতে পারবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন-

تَلْبَسُ الْمُحْرِمَةُ الْقُفّازَيْنِ وَالسّرَاوِيلَ.

ইহরাম অবস্থায় মহিলারা হাতমোজা ও পাজামা পরিধান করতে পারবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ১৪৪৪০)

সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি তার কন্যাদেরকে ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পরার নির্দেশ দিতেন। (কিতাবুল উম্ম ২/২২৩)

শু‘বা রাহ. বলেন-

سَأَلْتُ الْحَكَمَ وَحَمّادًا عَنِ الْقُفّازَيْنِ. فَقَالاَ : لاَ بَأْسَ بِهِ.

আমি হাকাম ও হাম্মাদ রাহ.-কে (ইহরাম অবস্থায়) হাতমোজা পরার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তারা উভয়ে বললেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা  ১৪৪৪১)

সালেম রাহ. বলেন-

أَنّ عَبْدَ اللهِ يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ كَانَ يَصْنَعُ ذَلِكَ يَعْنِي يَقْطَعُ الْخُفّيْنِ لِلْمَرْأَةِ الْمُحْرِمَةِ. ثُمّ حَدّثَتْهُ صَفِيّةُ بِنْتُ أَبِي عُبَيْدٍ، أَنّ عَائِشَةَ حَدّثَتْهَا، أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَدْ كَانَ رَخّصَ لِلنِّسَاءِ فِي الْخُفّيْنِ، فَتَرَكَ ذَلِكَ.

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মুহরিম মহিলাদের পামোজা কেটে দিতেন। কিন্তু সফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ রা. তাঁর কাছে যখন আয়েশা রা.-এর এ হাদীস বর্ণনা করলেন যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম মহিলাদের পামোজা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন’ এরপর থেকে আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মুহরিম মহিলাদের পামোজা কেটে দিতেন না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৮৩১)

গ. ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য সাদা বোরকা পরা জরুরি নয়। বরং স্বাভাবিক সময় কালো বা অন্য যে রঙের বোরকা ব্যবহার করে তা পরতে পারবে। তবে অন্য সময়ের মত হজে¦র সফরেও বোরকার রঙ কালো অথবা এমন হওয়া উচিত, যাতে আলাদা আকর্ষণ তৈরি না হয়। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ১৪৪১৯; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৩৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮৬; ফাতহুল কাদীর ২/৪০৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৫৫; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী পৃ. ১১৫

শেয়ার লিংক

কাউসার আহমাদ - বসুন্ধরা, ঢাকা

৪৭৯০. প্রশ্ন

আমার চাচা দুবাইতে থাকেন। সেখানে তার একটি আতরের দোকান আছে। গত বছর বসুন্ধরা সিটিতে আরেকটি আতরের দোকান কিনেছেন। আমি সেই দোকান দেখাশোনা করি। মাঝে মাঝে চাচা এসে হিসাব নেন। এখন জানার বিষয় হচ্ছে, যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে আমার চাচার এই দেশের দোকানের আতরের হিসাব কোন্ দেশের মূল্য অনুযায়ী করবেন, দুবাইয়ের  নাকি বাংলাদেশের?

 

উত্তর

যাকাতযোগ্য সম্পদ যে স্থানে থাকে সেই স্থানের বাজারমূল্য অনুযায়ী উক্ত সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। তাই আপনার চাচা বিদেশে থাকলেও তার বাংলাদেশের দোকানের আতরগুলোর মূল্য বাংলাদেশের বাজারমূল্য হিসেবেই হিসাব করতে হবে।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৭৮; ফাতহুল কাদীর ২/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৮৬

শেয়ার লিংক

মারুফ হাসান - পুলপার, মুহাম্মাদপুর

৪৭৮৯. প্রশ্ন

আমার ভগ্নিপতি ইতালিতে থাকেন। তিনি তার যাকাতের টাকা থেকে বিশ হাজার টাকা আমার নিকট পাঠান তার অসুস্থ ফুফুকে দেওয়ার জন্য। আমার পরীক্ষা থাকায় টাকা পৌঁছাতে এক দিন দেরি হয়ে যায়। আর সেদিনই আমি যাওয়ার পূর্বে তার ফুফু হাসপাতালে মারা যান। এখন জানার বিষয় হচ্ছে, তার ফুফু কি এই টাকার মালিক হয়ে গিয়েছিল? যার ফলে টাকাগুলো তার সন্তানদের দিয়ে দিতে হবে? নাকি অন্য জায়গায় দেওয়া যাবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে টাকাগুলো যেহেতু আপনার ভগ্নিপতির ফুফুকে পৌঁছাতে পারেননি তাই তিনি উক্ত টাকার মালিক হননি। বরং টাকাগুলো আপনার ভগ্নিপতির মালিকানাতেই থেকে গেছে। সুতরাং ঐ মহিলার সন্তানদেরকে টাকাগুলো দেওয়া আবশ্যক হবে না; বরং এক্ষেত্রে ঐ মহিলার সন্তানদের দিতে চাইলে আপনার ভগ্নিপতির অনুমতি লাগবে। কিংবা তার অনুমতিক্রমে উক্ত টাকা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত অন্য কাউকেও দেওয়া যাবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবরাহীম - মিরপুর-২, ঢাকা

৪৭৮৮. প্রশ্ন

আমার এক মামাতো বোন দেড় লক্ষ টাকার সম্পদের (ব্যবসার জন্য কেনা সুপারির) মালিক। যার উপর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। উক্ত টাকা আমার গত বছরের যাকাতের টাকা হতে দেওয়া হয়েছিল। তিনি টাকাটা এজন্যই জমা রেখেছিলেন যে, আরো কিছু টাকা হলে তিনি তার বাড়ি নির্মাণ কাজে হাত দেবেন। আমি তাকে  এই বছরের যাকাতের টাকা হতে আরো কিছু টাকা দিব বলে আশ্বস্ত করেছিলাম। এখন তার একটি বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন। যার জন্য আমি তাকে আমার এই বছরের যাকাতের টাকা হতে দুই লক্ষ টাকা দিতে চাই। হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, তার বাড়ি নির্মাণের জন্য আমার এই বছরের যাকাতের টাকা হতে কি দেওয়া যাবে? দ্রুত জানানোর অনুরোধ রইল। 

 

উত্তর

আপনার মামাতো  বোনের হাতে এখন যে সম্পদ আছে এতে তার উপরই যাকাত ফরয। তাই এখন আর তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না। যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। তবে মহিলাটি যদি দেড় লক্ষ টাকার ঐ সম্পদ দ্বারা বাড়ির নির্মাণসামগ্রী ক্রয় করে ফেলে এবং তার মালিকানায় প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ অন্য কোনো টাকা/সম্পদ না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১০৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইয়াছিন - নারায়ণগঞ্জ

৪৭৮৭. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি যাকাতের ফান্ড থেকে কিতাব কেনার জন্য কিছু টাকা দিয়েছে। এই টাকা দিয়ে ল্যাপটপ কিনে কিতাব মুতালাআ করা যাবে কি? এবং এই টাকা নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে কি?

উত্তর

আপনি যাকাত গ্রহণের যোগ্য হলে আপনাকে যাকাতের টাকা দেওয়ার পর আপনি এর মালিক হয়ে গেছেন। এ টাকা আপনার জন্য যে কোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করা বৈধ। সেক্ষেত্রে ল্যাপটপও খরিদ করতে পারবেন। তবে দাতা যদি আপনাকে কিতাব কেনার জন্যই দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ঐ টাকা দিয়ে ল্যাপটপ কেনা হয়েছে জানলে তিনি ভুল বুঝতে পারেন, তাই ল্যাপটপ থেকে কিতাব পড়ার বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলা ভালো হবে। কেননা অন্যের ভুল ধারণা হতে পারে- এমন কাজ থেকে বেঁচে থাকাও মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

-আননাহরুল ফাইক ১/৪৬২; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৫, ৪/৫০২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭০

শেয়ার লিংক

আমাতুল আজীজ - ময়মনসিংহ

৪৭৮৬. প্রশ্ন

আমার প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ আছে। ২/৩ ভরি সাধারণত ব্যবহার করি। বাকি স্বর্ণ কেবল বিশেষ উপলক্ষে ব্যবহার করি। এক বোন বললেন, ‘যে স্বর্ণ নিয়মিত ব্যবহার করা হয় তার যাকাত দিতে হয় না।’ এব্যাপারে আমাদের সমাজে বহু বিভ্রান্তি ছাড়ানো হয়।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, ঐ বোনের কথাটি কি ঠিক? এ বিষয়ে ইসলামী শরীয়াহর বিধান বিস্তারিত দলীলসহ জানালে বাধিত হব।

উত্তর

আপনার বোনের কথা ঠিক নয়। একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, স্বর্ণ বা রূপার অলংকার ব্যবহৃত হলেও তার যাকাত দিতে হয়। নিম্নে কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা হল :

সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে, এক মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন। মেয়েটির হাতে দুটি স্বর্ণের চুড়ি ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এ অলংকারের যাকাত আদায় কর? মহিলা বললেন, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-

أَيَسُرّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللهُ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ؟

তুমি কি পছন্দ কর যে, এ দুটি চুড়ির বদলে তোমাকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন আগুনের দুটো চুড়ি পরাবেন? (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৬৩, হাদীসটিকে ইবনুল কাত্তান, মুনযিরি, যাইলায়ী প্রমুখ হাদীস বিশারদগণ সহীহ বলেছেন। নাসবুর রায়াহ ২/৩৭০; বায়ানুল ওয়াহামি ওয়াল ঈহাম ৫/৩৬৬)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন-

دَخَلَ عَلَيّ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فَرَأَى فِي يَدَيّ فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ، فَقَالَ: مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟ فَقُلْتُ: صَنَعْتُهُنّ أَتَزَيّنُ لَكَ يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: أَتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنّ؟، قُلْتُ: لَا، أَوْ مَا شَاءَ اللهُ،

قَالَ: هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম আমার কাছে আসলেন, তখন আমার হাতে রূপার দুটো চুড়ি ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা কী আয়েশা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যেন আপনার সামনে সেজেগুজে থাকতে পারি এজন্য এগুলো বানিয়েছি। তিনি বললেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত আদায় কর? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, এগুলোই তোমাকে জাহান্নামে নেয়ার জন্য যথেষ্ট হবে।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৬৫; হাকেম, ইবনু দাকীকিল ঈদ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।  মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১৪৭৭; নাসবুর রায়াহ ২/৩৭১)

উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. বলেন, আমি স্বর্ণের এক প্রকার অলংকার ব্যবহার করতাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, এটা কি কানযের  অন্তর্ভুক্ত? (কুরআনুল কারীমে যার জন্য শাস্তির কথা এসেছে) তিনি বললেন-

مَا بَلَغَ أَنْ تُؤَدّى زَكَاتُهُ، فَزُكِّيَ فَلَيْسَ بِكَنْزٍ.

যাকাতের নেসাব পরিমাণ হলে যদি তার যাকাত আদায় করা হয় তাহলে তা কানযের অন্তর্ভুক্ত থাকে না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৬৪;  ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম নববী বলেন, হাদীসটি হাসান। মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১৪৭৮; আল মাজমু ৫/৫১৭)

এজাতীয় বর্ণনাকে সামনে রেখে বড় বড় ফকীহ সাহাবী ও তাবেয়ীগণ স্বর্ণ বা রূপার অলংকার ব্যবহৃত হলেও তার যাকাত দেওয়ার ফাতোয়া দিয়েছেন।

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতে বর্ণিত আছে, উমর রা. আবু মূসা আশআরী রা.-এর নামে এ মর্মে চিঠি লেখেন যে-

مُرْ مَنْ قِبَلَك مِنْ نِسَاءِ الْمُسْلِمِينَ أَنْ يُصَدِّقْنَ حُلِيّهنّ.

আপনি আপনার আশপাশের মুসলিম মহিলাদেরকে তাদের অলংকারের যাকাত আদায় করার আদেশ দিন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ১০২৫৭, ইমাম বুখারী বর্ণনাটিকে মুরসাল বলেছেন। -আত-তারীখুল কাবীর ৪/২১৭)

আরেক হাদীসে এসেছে, এক মহিলা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে নিজ অলংকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললেন, এগুলোর কি যাকাত দিতে হবে? তিনি বলেন-

إِذَا بَلَغَ مِائَتَيْ دِرْهَمٍ فَزَكِّيهِ.

যদি দুইশত দিরহাম (অর্থাৎ যাকাতের নেসাব) পরিমাণ হয় তাহলে এর যাকাত আদায় কর। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৭০৫৫, আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৯৫৯৪; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ৪৩৫৮)

এছাড়াও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা., আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. প্রমুখ সাহাবী এবং ইবনে সীরীন, ইবনুল মুসায়্যিব, সাঈদ ইবনে জুবাইর, আতা, মুজাহিদ, যুহরী, আলকামা, আসওয়াদ ও উমর ইবনে আবদুল আযীয প্রমুখ তাবেয়ী অনুরূপ ফতোয়া দিতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৫৪, ৭০৫৯, ৭০৬০, ৭০৬৫, ৭০৫৭)

একারণেই প্রখ্যাত তাবেয়ী আতা, যুহরী ও মাকহুল বলেন-

قَالُوا: فِي الْحُلِيِّ زَكَاةٌ. وَقَالُوا : مَضَتِ السّنّةُ أَنّ فِي الْحُلِيِّ الذّهَبِ وَالْفِضّةِ زَكَاةً.

স্বর্ণ ও রূপার অলংকারে যাকাত দিতে হয়। এটি পূর্ব থেকে চলে আসা সুন্নত। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১০২৬৭)

মোটকথা, উপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, স্বর্ণ বা রূপার অলংকার ব্যবহৃত হলেও তার যাকাত দিতে হয়।

ব্যবহৃত অলংকারের যাকাত দিতে হয় না- এ মর্মে সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতটি সনদের দিক থেকে সহীহ নয়। দেখুন, আলখিলাফিয়্যাত, বাইহাকী ৪/৩৭৪; তানকীহুত তাহকীক, ইবনু আব্দিল হাদী ২/২১০; নাসবুর রায়াহ ২/৩৭৪

এক্ষেত্রে যারা বলেন, অলংকারের যাকাত দিতে হবে না, তারা দলীল হিসাবে কিছু আছার উল্লেখ করেন। তবে অলংকারের যাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি যেহেতু বিভিন্ন হাদীস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত, তাই এ মতটিই দলীলের বিচারে অধিক শক্তিশালী।

-কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২৮৩; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/৩১৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/১০১; ফাতহুল কাদীর ২/১৬২; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৬

শেয়ার লিংক

আবদুর রাহমান - বি. বাড়িয়া

৪৭৮৫. প্রশ্ন

রমযানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে রাখলে উভয়টি আদায় হবে কি? এবং কাযা ও নফল রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

উত্তর

রযমানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে নিয়ত করলে শুধু রমযানের কাযা রোযা আদায় হবে। শাওয়ালের ছয় রোযা আদায় হবে না। শাওয়ালের ছয় রোযা রাখতে হলে পৃথকভাবে শুধু এর নিয়তে রোযা রাখতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭৯; ফাতহুল কাদীর ২/২৪৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৭

শেয়ার লিংক

খালেদ - বরিশাল

৪৭৮৪. প্রশ্ন

আমি একটি হোটেলে রান্না করি। রমযান মাসে রান্নার সময় লবণ চেখে দেখার প্রয়োজন হয়। অনুমান করে দিলে মাঝে মাঝে লবণ কম-বেশি হয়ে যায়। তখন ম্যানেজার ধমক দেন। তো রমযান মাসে যদি লবণ দেখার জন্য সামান্য ঝোল মুখে নিয়ে সাথে সাথে কুলি করে ফেলি এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তরকারির লবণ দেখার জন্য জিহ্বায় সামান্য দিয়ে আবার থু থু করে ফেলে দিবেন। আপনার জন্য এভাবে লবণ দেখা জায়েয হবে। এভাবে করলে রোযা নষ্ট হবে না। প্রয়োজনে এর পর পানি দিয়ে কুলি করে ফেলে দিবেন।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ৯৩৮৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; আততাজনীস ওয়ালমাযীদ ২/৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৯

শেয়ার লিংক

নাঈম হালীম - নিউজার্সি

৪৭৮৩. প্রশ্ন

আমার মামা আমেরিকা প্রবাসী। তার দুটো কিডনী প্রায় অচল। তাকে এক দিন পরপর ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কেবল নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ করতে পারেন। তার হাই প্রেসারও আছে। তাকে প্রতিদিন কিডনীর জন্য এবং হাই প্রেসারের জন্য বেশ কিছু ওষুধ খেতে হয়। গত রমযান মাসে সবাই নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি প্রথম রোযা রাখেন। সারাদিন রোযা রাখায় তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েন। বেশি সমস্যা হয়- নিয়ম মাফিক ওষুধ না খাওয়ার কারণে। এতে তার প্রেসার হাই হয়ে যায়। আর রমযান মাসে আমেরিকায় দিন দীর্ঘ (প্রায় ১৬/১৭ ঘণ্টা) হওয়ার কারণে কেবল রাতে ওষুধ খেলে হয় না। তাই বেশিরভাগ দিনই তার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি রোযা রাখতে পারেননি। মাঝে খুব কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ১/২টি রোযা তিনি রেখেছেন।

আমার জানার বিষয় হল, তিনি কি তার রোযার পরিবর্তে ফিদয়া দিতে পারবেন? আর ফিদয়া দিলে কীভাবে আদায় করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার মামার জন্য রোযা রাখা যেহেতু খুবই কষ্টকর এবং দৃশ্যত তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ তাই তিনি রোযার পরিবর্তে ফিদয়া দিতে পারবেন।

ফিদয়া হল, প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে দু’বেলা খাবার খাওয়ানো কিংবা এমন কোনো ব্যক্তিকে দু’বেলা খাবারের মূল্য সদকা করা।

প্রকাশ থাকে যে, আপনার মামা যেহেতু আমেরিকা থাকেন তাই তিনি মূল্য দিয়ে ফিদয়া আদায় করতে চাইলে সেখানকার মূল্য হিসাবেই আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, এভাবে ফিদয়া আদায়ের পর তিনি যদি কখনো সুস্থ হয়ে যান তাহলে ঐ রোযাগুলো তিনি কাযা করে নিবেন।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫০৫; কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২৫৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯, ৩৬১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৫; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৪৫৯, ৪৬৪; ফাতহুল কাদীর ২/২৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৬; রদ্দুল মুহতার ২/৪২৭

শেয়ার লিংক

আব্দুল খালেক - টঙ্গী, ঢাকা

৪৭৮২. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার এক চাচাতো ভাই ইন্তিকাল করে। আমি, আমার মামা এবং আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব মিলে  গোসল দেই। গোসল শেষে মামা চাচাতো ভাইকে কাফনের কাপড় পরিয়ে সুগন্ধি লাগায়, মাথার চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে দেয় এবং বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলির বেশ বড় দুটো নখ কেটে অন্যান্য নখের সমান করে দেয়। মুয়াযযিন সাহেব চুল আঁচড়ানো এবং নখ কাটতে বাধা দিলে তিনি তা মানেননি; বরং বিভিন্ন ধরনের যুক্তির আশ্রয় নেন।  তো আমার জানার বিষয় হল-

ক. মৃত ব্যাক্তির মাথার চুল আঁচড়ানো এবং নখ টাকার ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?

খ. কেউ যদি ভুলে বা মাসআলা না-জানার কারণে এমনটি করে ফেলে, তবে ঐ কর্তিত নখের ব্যাপারে করণীয় কী? তা কি সাধারণ ময়লার মত ফেলে দেওয়া হবে, নাকি মৃতের কবরে দাফন করা হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম।

 

উত্তর

মায়্যিতের নখ কেটে দেওয়া এবং চুল আঁচড়ানো নাজায়েয হয়েছে। মায়্যিতের নখ, মাথার চুল বা শরীরের অন্য কোনো পশম কাটা এবং চুল দাড়ি আঁচড়ানো নাজায়েয। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি কিছু লোককে মায়্যিতের চুল আঁচড়িয়ে দিতে দেখে আপত্তি করে বলেন, তোমরা মায়্যিতের চুল আঁচড়িয়ে দিচ্ছ কেন? (কিতাবুল আছার, আবু ইউসুফ, বর্ণনা ৩৮২)

কেউ ভুলে নখ বা চুল এগুলোর কোনোটি কেটে ফেললে কর্তিত চুল, নখগুলো মায়্যিতের কাফনের ভিতর দিয়ে দিতে হবে। কারণ, মায়্যিতের দেহের সব অংশসহই দাফন করা সুন্নত।

-কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ ১/২৪২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ ৭/১৩৯, হাদীস ১১০৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৫৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৯; শরহুল মুনয়া, পৃ. ৫৭৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৩১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৮

শেয়ার লিংক

আবদুল হাই - বি. বাড়িয়া

৪৭৮১. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার বড় মামা ইন্তিকাল করেন। আমি, ছোট মামা ও এক মুরুব্বী মিলে বড় মামাকে গোসল দেই। গোসল দেওয়া শেষে হাত-পা ধুয়ে শরীরের কাপড় পরিবর্তন করি। পূর্ব থেকে অযু থাকায় নতুন অযু না করেই জানাযার নামাযে শরীক হই। নামায শেষে এলাকার এক ভাই বেশ আপত্তি করে বলে, তোমার জানাযার নামায শুদ্ধ হয়নি। কারণ, তুমি গোসল করনি। পরে এবিষয়ে একাধিক ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাই। ফলে পেরেশানি আরো বেড়ে যায়, তাই মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঐ ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক?

উত্তর

মায়্যিতকে গোসল দিলেই গোসলদাতার অযু-গোসল করতে হয়’ এ ধারণা ঠিক নয়। হাদীসের কিতাবে আছে-

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَعَائِشَةَ، كَانَا لَا يَرَيَانِ عَلَى مَنْ غَسّلَ مَيِّتًا غُسْلًا.

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ও আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তারা মৃতব্যক্তির গোসলদাতার জন্য গোসল করা জরুরি মনে করতেন না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৬১০৫)

সুতরাং আপনার ঐ দিনের জানাযার নামায আদায় হয়ে গেছে। এ নিয়ে সংশয়ের প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য যে, মৃতের শরীরে যেহেতু নাপাকি থাকার আশঙ্কা থাকে এবং গোসলের ছিটা গোসলদাতার শরীর বা কাপড়ে লাগারও আশঙ্কা থাকে, তাই ফকীহগণ গোসলদাতার জন্য সাধারণ অবস্থায় গোসল করা উত্তম বলেছেন।

মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পর নিজের গোসল করা আবশ্যক হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তের সঠিক মাসআলা কী? -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৩/৪০৬; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৮২; ফাতহুল কাদীর ২/৭৬; আলবাহরুর রায়েক ১/৯১; রদ্দুল মুহতার ২/২০২

শেয়ার লিংক

বিপ্লব - কুড়িগ্রাম

৪৭৮০. প্রশ্ন

কেউ যদি প্রসাব  করার পর শুধু টিস্যু বা মাটির ঢিলা ব্যবহার করে শুকিয়ে নেয়, পানি ব্যবহার না করে, তারপর অযু করে নামায পড়ে, তবে কি তার নামায হবে না? পানি ব্যবহার না করার কারণে সে কি নাপাক থেকে যাবে?

আমাদের এলাকার একজন মুসল্লী বলেন যে, পানি থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি পানি ব্যবহার না করে,  তবে সে নাপাক থেকে যাবে, তার অযু হবে না। প্রশ্ন হল, কথাটা কতটুকু সঠিক? মাসিক আলকাউসারে উত্তর দিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

পেশাবের পর পানি ব্যবহার না করলে নাপাক থেকে যায় এবং তার অযুও হবে না- এ কথা ঠিক নয়। বরং শুধু মাটির ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহার করলেও পাক হয়ে যাবে। এবং এরপর অযু করে নামায পড়াও সহীহ হবে। তবে ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পর পানিও ব্যবহার করা যে ভালো তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

-কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ১৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ৩৯৭৮, ৩৯৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/১০৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৮; রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৮

শেয়ার লিংক

আযীযুল হক - ফার্মগেট, ঢাকা

৪৭৭৯. প্রশ্ন

আমার অসুস্থতার কারণে ডাক্তার প্রস্রাবের রাস্তার সাথে ক্যাথেটার লাগিয়ে দিয়েছে। তাই এক মাওলানা সাহেবের কথামতো আমি নামাযের প্রত্যেক ওয়াক্তে নতুন করে অযু করে নামায পড়ছি। প্রশ্ন হল, আমি এই ওযর থাকা অবস্থায় চামড়ার মোজা পরলে প্রতি ওয়াক্তের অযুর সময় পা না ধুয়ে মোজার উপর মাসাহ করতে পারব কি না?

উত্তর

মাযূর ব্যক্তি এবং সুস্থ ব্যক্তির মোজার উপর মাস্হের হুকুমের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। মাযূর অবস্থায় পা-মোজা পরলে প্রতি ওয়াক্তের নতুন অযুর সময় মোজা খুলে পা ধুতে হবে। এক্ষেত্রে চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করতে পারবে না। তবে মাযূর অবস্থায় কোনো ওয়াক্তে একবার অযু করার পর মোজা পরলে ঐ ওয়াক্তের মধ্যে অন্য কারণে ওযু ভঙ্গ হলে তখন অযু করার সময় পা ধৌত না করে মোজার উপর মাসাহ করা যাবে। সুতরাং আপনি মাযূর থাকা অবস্থায় মোজা পরলে আপনার ক্ষেত্রে উক্ত হুকুম প্রযোজ্য হবে। আপনি সুস্থ মুকীম ব্যক্তিদের মত এক দিন এক রাত মাসাহ করতে পারবেন না।

প্রকাশ থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি সুস্থাবস্থায় পূর্ণ অযু করে মোজা পরিধান করে অতপর সে মাযূর হয়ে যায় তাহলে সে মুকীম হলে এক দিন এক রাত পর্যন্ত সুস্থ ব্যক্তির মত মাসাহ করতে পারবে।

-কিতাবুল আছল ১/৮৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১০৫; আলবাহরুর রায়েক ১/১৬৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৮; ফাতাওয়া তাতারখখানিয়া ১/৪১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৭১

শেয়ার লিংক

আয়েশা - যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

৪৭৭৮. প্রশ্ন

আমার বাবা একজন নওমুসলিম। বাবার বংশের সবাই বৌদ্ধ। মাস দেড়েক আগে আমার এক বৌদ্ধ ফুফু ও ফুফাত ভাই আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খাই। খাওয়ার একপর্যায়ে পানি পানের জন্য ফুফুর পান করা পানির গøাসে মুখ দিতে গেলে মা ইশারা দিয়ে নিষেধ করেন। ফলে আমি অন্য গøাস দিয়ে পানি পান করি। পরে মা আমাকে বিষয়টি খুলে বলেন- ‘তোমার ফুফু ঐ গ্লাসে মুখ দিয়ে পানি পান করার কারণে অবশিষ্ট পানি নাপাক হয়ে গেছে। কারণ, অমুসলিম হল অপবিত্র।’

তো প্রশ্ন হল, আমার মার আপত্তিটি কি ঠিক? এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

আপনার মার কথাটি ঠিক নয়। অমুসলিমদের মুখের লালা অপবিত্র নয়। তাই অমুসলিমদের খাদ্য-পানীয়ের অবশিষ্টাংশ নাপাক নয়।

উল্লেখ্য যে, কুরআনুল কারীমে কাফেরদেরকে যে নাপাক বলা হয়েছে তা তাদের আকীদা ও বিশ্বাসের অপবিত্রতার কারণে; এজন্য নয় যে তাদের শরীরে নাপাকি না থাকলেও তা নাপাক গণ্য হবে।

-মাবসুত, সারাখসী ১/৪৭; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৬৬; বাদায়েউস সনায়ে ১/২০১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/২২২

শেয়ার লিংক

আখতার বিন কামাল - মিরপুর, ঢাকা

৪৭৭৭. প্রশ্ন

সম্মানিত মুফতী সাহেব হুজুর! আমাদের জানার বিষয় হল :

১. ‘আল্লাহ’ এই সম্মানিত নামটির পরে  আমরা যে ‘তাআলা’ শব্দটি ব্যবহার করি, যেমন ‘আল্লাহ তাআলা’- এই তাআলা ব্যবহার করা কি সহীহ, না শুধু আল্লাহই বলব বা লিখব।

২. আর ‘আল্লাহ’ এই সম্মানিত নামটির পর যে ‘তাআলা’ ব্যবহার করি, এই তাআলার অর্থ কী? আর ‘তাআলা’ যদি না লিখি বা না বলি তবে কি ভুল বা গুনাহ হবে? একজন জ্ঞানী বলেন, আল্লাহ তো আল্লাহই; কেন আবার আল্লাহর নামের সাথে তাআলা ব্যবহার করা। যাক যেটা সঠিক সেটাই আমাদের জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

‘তাআলা’ অর্থ মহান, শ্রেষ্ঠ ও সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। ‘আল্লাহ তাআলা’ অর্থ আল্লাহ মহান, আল্লাহ সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। এটি আল্লাহর পবিত্রতা ও মর্যাদাসূচক শব্দ। যা তার নামের সাথে ব্যবহার হয়ে থাকে।

‘আল্লাহ’র নামের সাথে এভাবে সম্মানসূচক ও গুণবাচক কোনো শব্দ যোগ করে বলা বা লেখা মুস্তাহাব। এটা আদবের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ তাআলা, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইত্যাদি। অবশ্য শুধু ‘আল্লাহ’ বলা বা লিখাও জায়েয।

-ফাতাওয়া বাযযাযিয়াহ ৬/৩৫৪; ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ পৃ. ৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩১৫

শেয়ার লিংক

ইবনে জাওয়াদ - চট্টগ্রাম

৪৭৭৬. প্রশ্ন

আমার আম্মা প্রগতি লাইফ ইনসিওরেন্স দশ বছর মেয়াদী একটি বীমা করেন। মাসে ২০০ টাকা করে দশ বছরে ২৪০০০ টাকা জমা হয়। ইনসিওরেন্স কোম্পানি এ টাকার সাথে আরোও ১৬০০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৪০০০০ টাকা দিয়েছে। যা একটি ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে। তিনি এখন জানতে চাচ্ছেন যে, তার এ টাকার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে কি না? কেউ কেউ বলেছে, ইনসিওরেন্স ডিভিডেন্ড হারাম। তাই তার উপর কুরবানী আসবে না। আবার কেউ বলেছে, যেহেতু অধিকাংশ টাকা হালাল, তাই এর উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। সঠিক মাসআলাটি  জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ইনসিওরেন্স কোম্পানি মূল জমার অতিরিক্ত যে টাকা দিয়েছে তা সম্পূর্ণ হারাম। আর হারাম টাকা নেসাবের অন্তর্ভুক্ত হয় না। এবং সে টাকার উপর কুরবানীও ওয়াজিব হয় না। বরং হারাম টাকা পুরোটাই সদকাযোগ্য। অতএব আপনার মায়ের জমাকৃত ২৪,০০০ টাকা ছাড়া তার নিকট যদি অন্য কোনো সম্পদ না থাকে তাহলে এ টাকার কারণে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে না।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২৩৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৯১; আততাকরীরুল মুখতার, রাফেয়ী ২/১৩৩

শেয়ার লিংক

জাহাঙ্গীর - ভোলা

৪৭৭৫. প্রশ্ন

আমি আমাদের এলাকার ‘উদয়ন সমবায় সমিতির’ একজন সদস্য। আমাদের সমিতিতে বেশ কিছু টাকা জমা হলে কোষাধ্যক্ষ সাহেবকে মুযারাবার ভিত্তিতে ব্যবসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। তিনি প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে ঝামেলা হবে ভেবে রাজি হচ্ছিলেন না। তাই সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করবেন, ব্যবসার উপকারার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নিবেন- এতে কারো আপত্তি থাকবে না। তিনি (একথা ভেবে যে, ব্যবসায় তার অভিজ্ঞতা নেই তাই লাভ না হতে পারে) তার এক আমানতদার বন্ধুকে সমিতির টাকা মুদারাবা চুক্তিতে দুই বছরের জন্য দিয়ে দেন। শতকরা হারে লাভের ৩০% সে পাবে ৭০% সমিতি পাবে। এক্ষেত্রে বিষয়টি তিনি দু-একজনের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের থেকে অনুমতি নেননি।

ঘটনাটি জানাজানি হলে অনেক সদস্য এতে অসন্তুষ্ট হন। তারা টাকা ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক ঝামেলা হচ্ছে। সভাপতি চাচ্ছেন কোনোভাবে চলতি বছর শেষ করতে। কিন্তু অন্যান্যরা এখনই টাকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন।

মুফতী সাহেবের কাছে নিবেদন হল, নিজে ব্যবসা না করে এভাবে অন্যের সাথে চুক্তি করা কি জায়েয হয়েছে? সদস্যদের অভিযোগের কারণে এখনই তিনি চুক্তি ভঙ্গ করতে বাধ্য কি না? এক্ষেত্রে  এক বছর শেষ করার দাবি কি শরীয়তসম্মত? এ সময় ব্যবসায় কোনো লোকসান হলে এর দায়ভার কে নিবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু ঐ ব্যক্তিকেই মুদারাবা ব্যবসা করার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছিল তাই সমিতির সদস্যদের অনুমতি ছাড়া তার জন্য অন্যজনের সাথে মুদারাবা চুক্তি করা সহীহ হয়নি। এখন সদস্যরা এতে আপত্তি জানালে তাকে টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তি বহাল রাখার সুযোগ নেই। অবশ্য যেহেতু সে অন্যজনের সাথে চুক্তি করে ফেলেছে এবং তা ব্যবসায়িক স্বার্থেই করেছে তাই সমঝোতার ভিত্তিতে তাকে কিছু সময় দেওয়া উচিত। আর লোকটি যেহেতু সমিতির সদস্যদের অনুমতি ছাড়া এমনটি করেছে তাই ব্যবসায় কোনো লোকসান হলে এর ক্ষতিপূরণ তাকে একাই বহন করতে হবে।

-মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ ১৪১৫; শরহুল মাজাল্লাহ ৪/৩৪৪; আলমুহীতুল বুরহানী ১৮/১৭৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/৪৩১; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৪৯

শেয়ার লিংক

আশরাফুল আলম - মিরপুর, ঢাকা

৪৭৭৪. প্রশ্ন

আমি শুনেছি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে চাকরি করা হারাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রেও কি একই বিধান? বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম অন্যান্য ব্যাংকের মত নয়। এরা কাউকে (ব্যক্তিগতভাবে) ঋণ দেয় না, আমানতও নেয় না। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেয় অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কাজ ও প্রতিষ্ঠার কারণ দেশের আর্থিক ব্যবস্থা ঠিক রাখা ও ভারসাম্য রক্ষা করা। এক্ষেত্রে এখানে চাকরি করা কি হারাম হবে? যদি উত্তর দেয়া হয় তাহলে খুব উপকৃত হব।

উত্তর

বাংলাদেশ ব্যাংক সকল সুদী ব্যাংকের পরিচালক। সুদী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করাই তার মূল কাজ। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করা সুদী অর্থব্যবস্থায় সহযোগিতার নামান্তর। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, তাদের আয়ের সিংহভাগই সুদ থেকে অর্জিত। তাই প্রশ্নোক্ত ব্যাংকে চাকুরি করার হুকুম অন্যান্য ব্যাংকে চাকরি করার মতই।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ১/২১৯

শেয়ার লিংক

মাহবুবুর রহমান মারুফ - বরিশাল

৪৭৭৩. প্রশ্ন

আমরা জানি, একজাতীয় জিনিস সমান সমান করা ব্যতীত কমবেশি করে লেনদেন করা অথবা বিনিময় করা জায়েয নেই।

এখন প্রশ্ন হল, আমরা যখন মোবাইলে টাকা রির্চাজ করার জন্য দোকানদারকে বিশ টাকা দেই, তখন সে ১ টাকা কম ১৯ টাকা রির্চাজ করে দেয়। এক্ষেত্রে আমাদের এই লেনদেন কমবেশি করার কারণে সুদী লেনদেন হবে কি না?

আর যদি সুদ হয় তাহলে বিগত দিনগুলোতে যে লেনদেন করা হয়েছে তাতে উভয়ের কী হুকুম? বিস্তারিত জানালে আমরা সকলেই উপকৃত হতাম।

উত্তর

মোবাইলে টাকা রিচার্জের ক্ষেত্রে কম বেশি লেনদেন করা সুদ নয়। কারণ এক্ষেত্রে একজাতীয় জিনিসের লেনদেন হয় না। কেননা মোবাইলে টাকা রির্চাজ করার মানে হচ্ছে টেলি যোগাযোগ সেবা ক্রয় করা। সুতরাং একদিকে টাকা অন্যদিকে মোবাইল অপারেটরের সেবা ক্রয় করা হচ্ছে। টাকার মোকাবেলায় টাকা হচ্ছে না। তাই মোবাইলে কম টাকা রির্চাজ হলেও তা সুদ হবে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১০২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৭২

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ আলহাসান - জামেয়া মাদানিয়া, সিলেট

৪৭৭২. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের একটি জমি দীর্ঘদিন থেকে মহল্লার এক ব্যক্তির দখলে ছিল এবং সে জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছিল। ২০০৬ সালে সে জমিটি আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। লোকটি তাতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। ২০০৭ সালে আমরা ক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করি। সে নানা অপকৌশলে মামলার রায় তার পক্ষে নিয়ে যায়। ২০০৯ সালে আরেক সূত্র ধরে আমরা পুনরায় মামলা করি। দীর্ঘদিন পরে গত বছর আদালত মসজিদের পক্ষে রায় দেয়। সে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। বিষয়টির এভাবে কোনো নিষ্পত্তি না দেখে এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি একটি সমঝোতা করতে চাচ্ছেন যে, যেহেতু সে বাড়ি নির্মাণ করে ফেলেছে তাই জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য মসজিদকে দিয়ে দিবে। জানার বিষয় হল, জমির বিপরীতে এভাবে মূল্য নেওয়া বৈধ হবে কি না? এক্ষেত্রে ঐ লোক কি মূল বিক্রেতা থেকে ক্ষতিপূরণ নিতে পারবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ ব্যক্তির জন্য মসজিদের জায়গাটি কেনা এবং তাতে বাড়ি নির্মাণ করা বৈধ হয়নি। এখন তার কর্তব্য, মসজিদের জমিটি মসজিদের জন্য ফেরত দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত করা। এক্ষেত্রে তার নির্মিত ঘরটি সে  সরিয়ে নিতে পারবে। আর মসজিদ কর্তৃপক্ষ চাইলে ঘরটি তার থেকে কিনেও  রাখতে পারবে। কিন্তু বর্তমান ক্রেতা যদি জমি দিতে অস্বীকার করে এবং কোনোভাবে তা উদ্ধার করা সম্ভব না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে মসজিদ কর্তৃপক্ষের জন্য জমির মূল্য বাবদ যা পায় তা নেওয়া বৈধ হবে। এভাবে টাকা আদায় হলে এর দ্বারা অন্যত্র মসজিদের জন্য স্থায়ী সম্পদ খরিদ করবে। আর ঐ ক্রেতা তার বিক্রেতার কাছ থেকে এ ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ২৭৬৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়াহ ৬/২৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৪৮; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৪২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশিক - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪৭৭১. প্রশ্ন

মুহতারাম, ইহরাম অবস্থায় আমি ৮ তারিখ রাতে এশার নামাযের পর চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। এই অবস্থায় যেহেতু মাথা ও মুখ ঢাকা যায় না, তাই আমি বুক পর্যন্ত চাদর গায়ে দিয়েছিলাম। ফযরের আগে ঘুম থেকে ওঠার সময় খেয়াল করলাম, ঘুমের ভিতরে অজান্তে পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী আমি চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেছি। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? এরকম অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে কি কাফফারা দিতে হয়?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু ১২ ঘণ্টার কম সময় মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। তাই আপনাকে এক সদকাতুল ফিতর পরিমাণ সদকা করতে হবে। এক্ষেত্রে দম ওয়াজিব হবে না। আর কাজটি অনিচ্ছাকৃত হলেও সদকা আদায় করা আবশ্যক।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১২৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮৮; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী পৃ. ৩০৭; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ২৫৪

শেয়ার লিংক

ইমাম হাসান - নাটোর

৪৭৭০. প্রশ্ন

আল্লাহর রহমতে আমার গত বছর হজ্বে যাওয়ার সুযোগ হয়। ১২ই যিলহজ্ব মাগরীবের পর রাস্তায় এক বৃদ্ধের সাথে দেখা হয়। তিনি বললেন, বাবা, আমি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি। আমার বাসাটা একটু খুঁজে দেবে? তার বাসা খুঁজতে খুঁজতে আলাপচারিতায় জানতে পারলাম তিনি তখনও তাওয়াফে যিয়ারত করেননি। মিনা থেকে ১২ই যিলহজ্বের কংকর মারার পর কাফেলার সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ভিড়ে কাফেলা থেকে বিছিন্ন হয়ে যান। কাফেলাকে খুঁজে না পেয়ে শেষে একাই মাগরীবের সময় মক্কায় এসে পৌঁছান। আমি বললাম, ১২ই যিলহজ¦ সূর্যাস্তের আগে তাওয়াফ না করার কারণে আপনার উপর তো দম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তিনি বললেন, আমি তো বিকালের আগেই তাওয়াফ করার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু পথ ও কাফেলা হারিয়ে ফেলায় দেরি হয়ে গেছে। এখন এশার সময়ই তাওয়াফ করে নিচ্ছি। তাহলেও কি আমার দম দিতে হবে?

মুফতী সাহেবের কাছে প্রশ্ন হল, এধরনের ক্ষেত্রেও কি দম ওয়াজিব হবে? কাফেলা খুঁজতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে তাওয়াফে যিয়ারত না করতে পারলে যদি পরে করে নেওয়া হয় তাহলেও কি দম দিতে হবে?

উত্তর

তাওয়াফে যিয়ারাতের সময় ১০ই যিলহজ্ব সুবহে সাদিক থেকে ১২ই যিলহজ্বের সূর্যাস্ত পর্যন্ত। শরীয়তসম্মত ওজর ব্যতীত এসময়ের ভিতর তাওয়াফে যিয়ারত না করে পরে করলে জরিমানা হিসাবে দম ওয়াজিব হয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির উপর দম ওয়াজিব হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ‘পথ হারিয়ে যাওয়া’ এক্ষেত্রে ওজর হিসাবে ধর্তব্য হবে না। তিনি তো আরো আগেই ঘর থেকে বের হতে পারতেন। তবে পথ হারিয়ে যাওয়ার কারণে বিলম্বের গুনাহ হবে না। তবে তাকে দম দিতে হবে।

আর দম অর্থ এক বছর বয়সী ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা জবাই করা কিংবা গরু, মহিষ বা উটের সাত ভাগের এক ভাগ দেওয়া। আর দমের পশু হেরেম এলাকাতেই জবাই করতে হবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ১৩২২৭; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৪১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৯৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬০৬; খিযানাতুল ফিকহ পৃ. ৯৪; রদ্দুল মুহতার ১/৫০৭; মানাসিকে মোল্লা আলী আলকারী পৃ. ৩৪৮, ৩৯৩; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ২৩৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাঈফ আলআরেফিন - মিরপুর, ঢাকা

৪৭৬৯. প্রশ্ন

আমার অতি নিকটাত্মীয় কয়েকজন ২০১৩ সাল হতে তাদের আত্মীয়দের যাকাত দিয়ে আসছে। কিন্তু যাদেরকে যাকাত দিচ্ছে তারা সবাই যাকাত পাওয়ার মত গরিব নয়। মাসআলা না জানার কারণেই এমনটা হচ্ছে। তাই জানতে চাই, কেমন গরিবকে যাকাত দেওয়া যায়। যাকাতের যোগ্য না হওয়া সত্তে¡ও এতদিন যা দেওয়া হয়েছে তার হুকুম কী? যাকাত প্রদানকারীরা মহিলা। তাদের সঠিক মাসআলা জানা নেই এবং জানার আগ্রহও নেই।

উত্তর

শরীয়তে সম্পদশালী ব্যক্তির উপর যাকাত ফরয হওয়ার বিধানের পাশাপাশি কাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে তাও সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% যে কাউকে দিয়ে দেওয়ার দ্বারাই যাকাত আদায় হয়ে যাবে না; বরং উপযুক্ত খাতে যাকাত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করাও যাকাতদাতার কর্তব্য। এবং কাকে যাকাত দেওয়া যাবে, কাকে দেওয়া যাবে না- এ সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করাও কর্তব্য।

আর প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার দায়িত্ব হল আপনার নিকটাত্মীয়দের এ বিষয়টি বোঝানো যে, যাকাত গরিবদের হক। কেউ নেসাব পরিমাণ তথা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সমপরিমাণ প্রয়োজন-অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না। এ কাজটি আপনি নিজেও করতে পারেন। অন্য কারো মাধ্যমেও করাতে পারেন।

এছাড়াও ঐ মহিলাদেরকে যাকাতের মাসায়িল বিষয়ক নির্ভরযোগ্য দ্বীনী কিতাবাদি পড়তে দিতে পারেন।

উল্লেখ্য, অভাবী আত্মীয়-স্বজন যাকাত গ্রহণের মতো গরিব না হলেও যাকাত ছাড়া সামর্থ্য অনুযায়ী নফল দান থেকে তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা যেতে পারে। কেননা, সামর্থ্যবানদের সম্পদে ফরয, ওয়াজিব দান ছাড়াও দরিদ্র প্রতিবেশীদের ও আত্মীয়দের হক রয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-

وَ فِیْۤ اَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّآىِٕلِ وَ الْمَحْرُوْمِ.

আর তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে সাহায্যপ্রার্থী ও বঞ্চিতদের হক। -সূরা যারিয়াত (৫১) : ১৯

আর মাসআলার জ্ঞান না থাকার কারণে  যে যাকাতের যোগ্য নয় তাকে যাকাত দিয়ে দিলে আদায় হবে না। ঐ যাকাত পুনরায় আদায় করতে হবে। তবে হাঁ, সাহায্য চাওয়ার কারণে প্রকৃত হকদার মনে করে যাকাত দিয়ে থাকলে তা আদায় হয়ে যাবে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৯৫; জামে তিরমিযি, হাদীস ৬৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৫৭, ১৬২-১৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১২, ২১৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৫-৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩৪৮, ৩৫৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রাকিব - সিলেট

৪৭৬৮. প্রশ্ন

আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক। প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠানের যাকাত আমি হিসাব করে বের করি। এই বছর যাকাত বের করলে বস আমাকে যাকাতের কিছু টাকা দিয়ে বললেন, এই টাকাগুলো তোমার জানাশোনা গরীব লোকদের দিয়ে দিও। আমার এক খালা খুব গরীব। আমি কি তাকে এই টাকাগুলো দিতে পারব?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার খালাকে যাকাতের টাকাগুলো প্রদান করতে পারবেন। কেননা যাকাত আদায়ের প্রতিনিধি তার গরিব আত্মীয়কে যাকাত দিতে পারে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; ফাতাওয়া বাযযাযিয়াহ ৪/৮৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাঈম - বাগেরহাট

৪৭৬৭. প্রশ্ন

গত মাসে আমার দোকানের ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার কিছুদিন পর দুর্ঘটনাক্রমে দোকানে আগুন লেগে অনেক মাল পুড়ে যায়। আর কিছু মাল বাকি থাকে। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হল- এরূপ অবস্থায় আমাকে কি পুরো মালের যাকাত দিতে হবে?

 

উত্তর

না, এক্ষেত্রে পুড়ে যাওয়া পণ্যগুলোর যাকাত দেওয়া লাগবে না। অবশিষ্ট মালের যাকাত দিলেই চলবে।

-কিতাবুল আছল ২/১০৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ পৃ. ২৫; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৪৪৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সা‘দ - কুমিল্লা

৪৭৬৬. প্রশ্ন

আমার বাবার দশ লাখ টাকা ব্যাংকে ছিল। তিনি প্রতি বছর এই টাকাগুলোর যাকাত আদায় করতেন। এই বছর যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পর তা আদায়ের পূর্বে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পূর্বে তিনি আমাদেরকে এই বিষয়টি অবহিত করে যাকাত আদায় করার ওছিয়ত করেছিলেন। কিন্তু এই নিয়ে ওয়ারিছদের মাঝে মতপার্থক্য হয়। মুহতারামের নিকট প্রশ্ন হল-

ক. আমাদের জন্য কি এই টাকার যাকাত দেওয়া আবশ্যক?

খ. বাবার একাউন্টে এই টাকার উপর যে সুদ জমা হয়েছে তা কি আমরা মিরাছ হিসেবে নিতে পারব?

উত্তর

ক. আপনার বাবা যেহেতু যাকাতবর্ষ শেষ হওয়ার পর মারা গেছেন এবং তিনি যাকাত আদায় করার ওছিয়াতও করেছেন তাই তার রেখে যাওয়া সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে উক্ত যাকাত আদায় করে দেওয়া আপনাদের উপর জরুরি। -আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৮৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ, পৃ. ২৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৪

খ. ইসলামে সুদ হারাম। সুদে অর্জিত সম্পদ পুরোটাই সদকাযোগ্য। এতে মীরাস জারী হয় না। অতএব আপনারা মীরাস হিসেবে ঐ সম্পত্তি থেকে কিছুই পাবেন না। এই টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া পুরোটাই সদকা করে দেওয়া আবশ্যক। 

  -আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০১; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৬

শেয়ার লিংক

শামছুল হুদা - নোয়াখালী

৪৭৬৫. প্রশ্ন

আমি আবুধাবিতে থাকি। রমযানের ঈদের পরে দেশে এসেছি। আসার সময় যাকাতের অর্থ সাথে নিয়ে আসি। এরপর তা এলাকার গরীবদের দিয়ে দেই। পরে জানতে পারি, আমার ছোট খালুর কিডনিতে পাথর ধরা পড়েছে। অপারেশন করতে হবে। ৬৫ হাজার টাকা লাগবে। সে গরীব মানুষ। এত টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার মা বললেন, যাকাতের টাকা থেকে হলেও তুমি তাকে সহযোগিতা করো। কিন্তু আমার তো গত বছরের যাকাতের টাকা শেষ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আমি কি আমার খালুকে আগামী বছরের যাকাতের অর্থ থেকে দিতে পারব?

উত্তর

আপনার খালু যদি বাস্তবেই যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন তাহলে তাকে আপনি আগামী বছরের অগ্রিম যাকাতের নিয়তে টাকা দিতে পারবেন। কেননা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পরে বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেও যাকাত আদায় করা যায়। এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত আলী রা. বলেন-

أَنّ الْعَبّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطّلِبِ سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فِي تَعْجِيلِ صَدَقَتِهِ قَبْلَ أَنْ تَحِلّ فَرَخّصَ لَهُ فِي ذَلِكَ.

আব্বাস রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে অগ্রিম যাকাত আদায় করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আদায়ের অনুমতি দিলেন। (সহীহ ইবনে খুযায়মা, বর্ণনা ২৩৩০)

অবশ্য এক্ষেত্রেও ঐ বছর শেষে সম্পদের হিসাব করতে হবে। যদি অগ্রিম আদায়কৃত অর্থ যাকাতযোগ্য সমুদয় সম্পদের ২.৫% -এর কম হয় তাহলে অবশিষ্ট অংশ আদায় করে দিতে হবে।

-কিতাবুল আছল ২/১২৩; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/২৬৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ১/১৯৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৩

শেয়ার লিংক

আবদুল আহাদ - ফেনী

৪৭৬৪. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার জামে মসজিদে পূর্ণ দশ দিন ইতিকাফে বসার জন্য কেউ প্রস্তুত হয়নি। অবশ্য তিন জন মিলে ভাগ করে থাকতে চেয়েছে। জানতে চাই, এতে কি সুন্নাত ইতিকাফ আদায় হবে? এবং এলাকাবাসী সুন্নাত ইতিকাফের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবে?

উত্তর

না, এভাবে কারো সুন্নত ইতিকাফ আদায় হবে না এবং এলাকাবাসী সুন্নত ইতিকাফ থেকে দায় মুক্ত হবে না। কারণ সুন্নত ইতিকাফের জন্য একজন হলেও রমযানের শেষের পুরো দশ দিন ইতিকাফ করতে হবে। তিন জন ভাগ করে দশ দিন অবস্থান করলে কারো সুন্নত ইতিকাফ আদায় হবে না; সেটা নফল ইতিকাফ বলে গণ্য হবে।

-ফাতহুল কাদীর ২/৩০৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৯; হাশিয়াতুত তাহতাবি আলাল মারাকি পৃ. ৩৮২; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রাকিব - কুমিল্লা

৪৭৬৩. প্রশ্ন

মুহতারাম! গত রমযানে একদিন পুকুরে গোসল করার সময় আমার গলায় কিছু পানি ঢুকে যায়। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে?

উল্লেখ্য যে, গোসল করার সময় রোযার কথা আমার স্মরণ ছিল।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার রোযা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তা কাযা করে নিতে হবে। কাফফারা লাগবে না।

-কিতাবুল আছল ১/১৬৮; খিযানাতুল আকমাল ১/২৯৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২; রদ্দুল মুহতার ২/৪০১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রাকিব - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪৭৬২. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমাদের এক ভাই মুহাররমের দশ তারিখ রোযা রেখেছিল। মাগরিবের আগে আযান শুনে তিনি ইফতার করেন। অতপর মসজিদে গিয়ে দেখেন ওয়াক্তের আগে আযান দেওয়ার কারণে কিছু লোক মুআযযিন সাহেবকে বকাঝকা করছে। মুহতারামের নিকট প্রশ্ন হল, ঐ ভাইটির রোযা কি সহীহ হয়েছে? না হলে কী করণীয়?

উত্তর

বাস্তবেই যদি সময়ের আগে আযান হয়ে থাকে এবং তা শুনে আপনার ঐ ভাই ইফতার করে থাকে তাহলে তার ঐ রোযা আদায় হয়নি। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে উক্ত রোযা তাকে কাযা করে নিতে হবে।

-কিতাবুল আছল ২/১৪৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৬; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ১/২১১; ফাতহুল কাদীর ২/২৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৫

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement