আবু হুরায়রা - উলিপুর, কুড়িগ্রাম

৫০০২. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আমি এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার ফার্নিচার ক্রয় করি। তার মধ্যে এক লক্ষ টাকা নগদে পরিশোধ করি। বাকিটা কয়েকদিন পরে দেওয়ার কথা হয়। ফার্নিচারের দোকানদার বিক্রির সময় আমাকে বলেছিল, এগুলোর কেনা দাম এক লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে মেরামত বাবদ অতিরিক্ত খরচসহ এর বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ বিশ। কিন্তু ফার্নিচারগুলো দেখার পর অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন আমাকে বললেন, দোকানদার আপনাকে ঠকিয়েছে। এর কেনা দাম মোটেও সত্তর হাজারের বেশি হবে না। এ বিষয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করা হলে প্রথমে সে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে যে, তার কেনা দাম অন্তত এক লাখ না। তার চেয়ে কম। আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, তার এই প্রতারণার কারণে আমি কি তাকে বাদবাকি বিশ হাজার টাকা কম দিতে পারি? এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ব্যবসায়ী কর্তৃক মিথ্যা বলা, তার খরিদমূল্য বেশি শোনানো এবং অতিরিক্ত মুনাফা করেও সামান্য লাভ করার ভান করা অন্যায় হয়েছে এবং মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েয হয়েছে। হাদীসে এসব বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে।

হযরত হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

فَإِنْ صَدَقَا وَبَيّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا، وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا.

ক্রেতা-বিক্রেতা যদি সত্য বলে এবং সবকিছু স্পষ্ট করে দেয় তাহলে তাদের ব্যবসায় বরকত হয়। আর যদি কোনো কিছু গোপন করে এবং মিথ্যা বলে, তাহলে ব্যবসার বরকত শেষ হয়ে যায়। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২০৮২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৩২)

অন্য এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِنّ التّجّارَ يُبْعَثُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ فُجّارًا، إِلّا مَنْ اتّقَى اللهَ، وَبَرّ، وَصَدَقَ.

কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীদের ওঠানো হবে পাপাচারী হিসাবে। তবে যারা আল্লাহকে ভয় করে সৎ ও সত্যবাদী থেকেছে (তারা বেঁচে যাবে)। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১২১০)

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার কর্তব্য ছিল পণ্যের মূল্য যাচাই করে খরিদ করা। বিক্রেতার বলা দাম ন্যায্যমূল্য কি না- তা আপনি ফার্নিচার ক্রয়ের আগেই নিশ্চিত হয়ে নিতে পারতেন। এখন যেহেতু বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং সেটা মুরাবাহার শর্তে হয়নি। অর্থাৎ কেনা দামের উপর কত লাভ নেওয়া হবে তা লেনদেনের সময় সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি করা হয়নি; বরং সাধারণ বেচাকেনার পদ্ধতিতে হয়েছে তাই যে দামে বিক্রির কথা হয়েছে তা দিয়েই আপনাকে ফার্নিচারগুলো নিতে হবে। কমমূল্য নেয়ার জন্য বিক্রেতাকে বাধ্য করা যাবে না। তবে বিক্রেতার উচিত নিজে থেকে মূল্য কমিয়ে নেয়া। কারণ সে অসত্য বলে আপনাকে ঠকিয়েছে।

শেয়ার লিংক

সাঈদ আহমাদ - কচুয়া, চাঁদপুর

৫০০১. প্রশ্ন

মুহতারাম, প্রায় সত্তর বছর আগে আমাদের এলাকায় মাদরাসার জন্য একটি জমি ওয়াকফ করা হয় এবং সেখানে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদরাসার ছাত্ররা কাছের একটি পুরনো মসজিদে নামায আদায় করত। আনুমানিক চল্লিশ বছর আগে মসজিদ ও মাদরাসার মাঝে একটি হাইওয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তা পার হয়ে মসজিদে যাওয়া ছাত্রদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের নামায আদায়ের সুবিধার্থে মাদরাসার ওয়াক্ফকৃত জমির উত্তর কোণে একটি মসজিদ নির্মাণ করে। চল্লিশ বছর যাবৎ উক্ত মসজিদে নামায পড়া হচ্ছে। কিন্তু মাদরাসার নতুন কর্তৃপক্ষ পুরো এরিয়ার সুযোগ-সুবিধার প্রতি লক্ষ করে মসজিদটি উক্ত জমির অন্য এক পাশে স্থানান্তর করে নিচ তলায় দোকানপাট ও দোতলা থেকে মসজিদ নির্মাণ করতে চচ্ছে।

জানার বিষয় হল, এভাবে মসজিদ স্থানান্তর করা বৈধ হবে কি না? বৈধ হলে আগের মসজিদের জায়গা কী করা হবে? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মাদরাসার জায়গায় উক্ত মসজিদটি যেহেতু মাদরাসার প্রয়োজনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্মিত হয়ে তাতে নামায আদায় করা হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন যাবৎ তা মসজিদ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে তাই এটি ‘শরয়ী মসজিদ’ হয়ে গেছে। অতএব এখন আর মসজিদটি স্থানান্তর করা জায়েয হবে না। কেননা কোনো স্থানে ‘শরয়ী মসজিদ’ হয়ে গেলে ওই জায়গাটি স্থায়ীভাবে মসজিদের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৭; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/৪২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/১৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৮

শেয়ার লিংক

আবদুল মুয়ীয - বনশ্রী, ঢাকা

৫০০০. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয় শহরে চাকরির খোঁজে এসে আমাদের বাড়ীতে উঠেছে প্রায় এক বছর হল। যতদিন চাকরি হচ্ছে না ততদিন আমাদের এখানেই সে থাকবে এবং আমাদের সঙ্গেই খাবে- একথা আমি তাকে বলেছি। কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় পার হওয়ার পরও চাকরি পাবার ক্ষেত্রে তার কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে জীবন নির্বাহের জন্য সাধারণ কোনো পেশা গ্রহণেও সে আগ্রহী নয়। একপর্যায়ে গত কয়েক দিন আগে আমি তাকে বলেই ফেললাম, ‘আল্লাহর কসম, যদি তুমি নিজ পায়ে দাঁড়ানোর একটা উপায় না কর তাহলে আমি আর তোমার সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারব না।’ তবে সেইসাথে আমি আমার এই কথার শেষে যুক্ত করে দিলাম, ‘ইনশাআল্লাহ’। এরপর আরো মাসখানেক সময় পার হয়েছে। সে এখনো তার কোনো গতি করতে পারেনি। আমি  তো কসম করেছি, রোযগারের পথ করতে না পারলে তাকে আর সাহায্য করব না। কিন্তু এখন তার অবস্থা দেখে মায়া হচ্ছে। এ মুর্হূতে আমার কী করণীয়? আমি যদি আবারো তাকে সহযোগিতা করতে চাই তাতে কি আমার কসম ভঙ্গ করার কারণে কাফফারা দিতে হবে? জানালে উপকৃত হব।

 

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কসম বাক্যের সাথে যেহেতু ইনশাআল্লাহ বলেছেন তাই আপনার কসম সংঘটিত হয়নি। সুতরাং আপনি চাইলে তাকে সহযোগিতা করতে পারেন। সহযোগিতা করলে কসমের কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব হবে না।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، يَبْلُغُ بِهِ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، قَالَ: مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ، فَقَالَ: إِنْ شَاءَ اللهُ فَقَدْ اسْتَثْنَى.

হযরত ইবেন উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো কসমের বাক্য উচ্চারণ করে এবং বলে ‘ইনশাআল্লাহ’ তাহলে সে তার কসম প্রত্যাহার করে নিল। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩২৫৬; সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৭/৩৬১)

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৫৬; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৪২

শেয়ার লিংক

আসমা বিনতে ইয়াকুব - নড়াইল

৪৯৯৯. প্রশ্ন

তাওয়াফের সময় যদি শরীরে কোনো নাপাকি লেগে থাকে তাহলে এতে করে তাওয়াফের কোনো ক্ষতি হবে কি? এবার ওমরা করার সময় আমার কোলে আমার আট মাস বয়সী বাচ্চাও ছিল। যদিও ডায়াপার পরিয়ে রেখেছিলাম, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরে থাকার কারণে একসময় লক্ষ করি, বাচ্চার পেশাব লেগে আমার জামার বেশ খানিকটা জায়গা ভিজে উঠেছে। বুঝতে পারি, ডায়াপার অতিক্রম করে এ নাপাকি আমার কাপড়ে লেগেছে। এখন এ নাপাকসহ তাওয়াফ করাতে আমার তাওয়াফ শুদ্ধ হয়েছে কি? নামাযের মতো তাওয়াফেও কি কাপড়-চোপড় পাক থাকা জরুরি? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার তাওয়াফ আদায় হয়েছে। তবে জেনে রাখা দরকার যে, পবিত্র কাপড়ে তাওয়াফ করা সুন্নত। জেনেশুনে নাপাক কাপড়ে তাওয়াফ করা মাকরূহ। তাই এ ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৩৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৯; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ১১২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আহসানুল হক - মিরপুর ১২, ঢাকা

৪৯৯৮. প্রশ্ন

আমি ঢাকা মিরপুর ১২ এলাকায় থাকি। বাড়িতে যাওয়ার সময় অনেকক্ষেত্রে আমাকে আমার ছোট ভাইয়ের মাদরাসা (হযরতপুর, কেরানীগঞ্জ) যেতে হয়। ওখান থেকে তাকে নিয়ে আবার মিরপুর হয়ে এয়ারপোর্ট দিয়ে বাড়ি (সিলেট) যেতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, হযরতপুর তো সিটির বাইরে। তাই সেখানে গেলে কি আমি কসর করতে পারব। হযরতপুর থেকে মিরপুর হয়ে এয়ারপোর্ট যাওয়ার সময় আমি যদি মিরপুর ১, ১০ বা ১২ তে নামায পড়ি তাহলে আমি কসর করব, না পূর্ণ নামায পড়ব। দলীলসহ উত্তর জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু হযরতপুর থেকে আবার মিরপুর হয়ে বাড়ি যাচ্ছেন তাই হযরতপুর যাওয়ার সময় আপনার সফর শুরু ধরা হবে না। এক্ষেত্রে আপনি হযরতপুর এবং ঢাকা সিটিতে মুকীমের ন্যায় নামায পড়বেন। কসর করতে পারবেন না। কেননা সফরে বের হওয়ার পর সফর পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করার আগেই কোনো কারণে নিজ শহরে ফিরে আসার ইচ্ছা থাকলে উক্ত স্থানে মুসাফির হয় না। এক্ষেত্রে পুনরায় সফরের উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা অতিক্রম করার পরই সফরের হুকুম কার্যকর হবে। অবশ্য আপনার ভাই হযরতপুর এলাকা থেকে বের হওয়ার পর মুসাফির গণ্য হবে।

-কিতাবুল আছল ১/২৬৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০৩; আলমাবসুত, সারাখসী ২/১০৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫১২

শেয়ার লিংক

মানসুর - নোয়াখালী

৪৯৯৭. প্রশ্ন

গত কুরবানী ঈদে এক মসজিদে ঈদের নামায পড়তে যাই। নামাযের আগে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর আদায়ের তরীকা বলেন, প্রথম দুই তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে বেঁধে নিবে, তৃতীয় তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিবে এবং চতুর্থ তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাবে। অথচ আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেব প্রথম দুই তাকবীরেও হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন।  এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোন্টি জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

আপনার মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেবের বর্ণিত পদ্ধতিটিই সঠিক। ঈদের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর আদায়ের সময় প্রত্যেকবার তাকবীর বলে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিবে। চতুর্থবার তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাবে। অবশ্য আপনার গত ঈদের নামায আদায় হয়ে গেছে। যদিও অতিরিক্ত তাকবীরগুলোতে হাত উঠানোর পর ছেড়ে না দেওয়া অনুত্তম হয়েছে।

-হালবাতুল মুজাল্লী ২/১০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৪; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৬৭

শেয়ার লিংক

আহসান হাবীব - নেত্রকোণা

৪৯৯৬. প্রশ্ন

ঈদের নামাযের খুতবার সময় আমাদের মসজিদে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়। তা হল খুতবার মাঝে ইমাম সাহেব যখন তাকবীর বলেন তখন অনেক মুসল্লিও তাঁর সাথে সাথে উচ্চস্বরে তাকবীর বলেন। আমি এক আলেমকে বলতে শুনেছিলাম, খুতবার সময় একেবারে চুপ থাকতে হয়। জানার বিষয় হল, এই বিধান কি শুধু জুমার খুতবার সাথেই খাস, নাকি ঈদের খুতবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ঈদের খুতবায় তাকবীর বলার নিয়ম খতীবের জন্য, মুসল্লিদের জন্য নয়। জুমার খুতবার ন্যায় ঈদের খুতবা চলাকালীনও মুসল্লিগণ চুপ থাকবে। তাকবীর ইত্যাদি কিছুই বলবে না।

-মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৫৬৪২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৭৪০; কিতাবুল আছল ১/৩১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৮৩; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৭১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৬০

শেয়ার লিংক

ওয়ালিউল আহাদ - কালশী, মিরপুর, ঢাকা

৪৯৯৫. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে আমি বাসায় নামায পড়ছিলাম। হঠাৎ আমার ছোট বাচ্চা পাশে এসে পেশাব করে দেয়। এদিকে নামাযে বিঘœতার আশঙ্কায় তার মা তাকে নিতে আসে। তখন আমি তার পেশাবের দিকে ইশারা করি। তবে জায়নামায এবং আমার গায়ে পেশাব লাগেনি। এই ইশারার কারণে কি নামায নষ্ট হয়ে গিয়েছে?

 

 

উত্তর

না, শুধু হাতের ইশারার কারণে নামায নষ্ট হয়নি। তবে নামাযে এমনটি করা খুশু-খুযু পরিপন্থী। যথা সম্ভব এ থেকে বিরত থাকতে হবে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৪০; শরহে মুসলিম, নববী ৫/২৭; কিতাবুল আছল ১/১৭৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৪৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৩৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৫

শেয়ার লিংক

আনাস - পটুয়াখালী

৪৯৯৪. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে এশার জামাতের পর সুন্নত পড়ছিলাম। দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে গিয়ে মনে পড়ে- আমি উভয় রাকাতে একই সূরা পড়েছি। পরে সাহু সিজদাও করিনি। জানার বিষয় হল, আমার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে এবং এ নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কারণে আপনার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়নি। আপনার নামায সহীহভাবে আদায় হয়েছে।

উল্লেখ্য, সুন্নত ও নফল নামাযে একই সূরা একাধিক রাকাতে পড়া দূষণীয় নয়। তবে ফরয নামাযে ইচ্ছাকৃত এমনটি করা অনুত্তম।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৬; ফাতহুল কাদীর ১/২৯৯; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২০২

শেয়ার লিংক

আদিল - চাঁদপুর

৪৯৯৩. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে জামাত করে আসর নামায পড়ছিলাম। ভুলবশত চতুর্থ রাকাতকে তৃতীয় রাকাত মনে করে দাঁড়িয়ে যাই এবং পাঁচ রাকাতের পর সালাম ফিরাই। সালাম ফেরানোর পর সে বলল, নামায তো পাঁচ রাকাত হয়েছে; তখন আমি কথা না বলে সাহু সিজদা করি এবং পুনরায় সালাম ফিরাই। আমাদের এ নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

উত্তর

চার রাকাতের পর শেষ বৈঠক করা ফরয। যেহেতু তা করেননি তাই আপনার ঐ ফরয নামায সহীহ হয়নি। যদি আপনি পঞ্চম রাকাতের সিজদার আগে আগে বসে গিয়ে সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে নামায শেষ করতেন তাহলে নামাযটি সহীহ হয়ে যেত। এখন আপনাদেরকে ঐদিনের আসর নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/২০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১০৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪১৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৮০; ফাতহুল কাদীর ১/৪৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৮৫

শেয়ার লিংক

সালেম - ভোলা

৪৯৯২. প্রশ্ন

আমি নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে এক সিজদা করি। নামায শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর স্মরণ হয় যে, আমি এক সিজদা করেছি। এখন আমার ঐ নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

নামাযের প্রত্যেক রাকাতে দুুটি সিজদা করা ফরয। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি একটি সিজদা না করার কারণে আপনার ঐ নামায আদায় হয়নি। তা পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/২০৭; আলহাবিল কুদসী ১/২১০; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৩; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ১/৯৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৪৭

শেয়ার লিংক

হাসান - নাটোর

৪৯৯১. প্রশ্ন

আমি কয়েকদিন আগে ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহা না পড়ে সূরা পড়া আরম্ভ করি। সূরা পড়া শেষ হওয়ার পর আমার স্মরণ হয় যে, আমি সূরা ফাতিহা পড়িনি। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্মরণ হওয়ার পর প্রথমে সূরা ফাতিহা পড়বে, অতপর পুনরায় সূরা মিলাবে এবং সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করবে।

-কিতাবুল আছল ১/১৯৪; আলমাবসূত, সারাখসী ১/২২০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৬; খিযানাতুল আকমাল ১/৫৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯৫

শেয়ার লিংক

আবরার - শেরপুর

৪৯৯০. প্রশ্ন

আমি অনেক সময় ইমামকে রুকুতে গিয়ে পাই। প্রশ্ন হল তখন আমি ছানা পড়ে রুকুতে যাবো না সরাসরি তাকবির বলে রুকুতে চলে যাবো? এ সময় ছানা পড়ার বিধান কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছানা পড়বে না। বরং দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত ছেড়ে দেবে। অতপর রুকুর তাকবীর বলে ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তাকবীরে তাহরীমার পর ছানাও পড়বে না এবং হাতও বাঁধবে না।

-আলফাতাওয়া মিন আকাবিলিল মাশায়েখ পৃ. ৭৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮৮; আলহাবিল কুদসী ১/১৮৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯৬; ফাতহুল কাদীর ১/৪২১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহেদ - লালমনিরহাট

৪৯৮৯. প্রশ্ন

আমার মাঝে মাঝে যোহরের নামাযের আগের চার রাকাত সুন্নত ছুটে যায়। জানার বিষয় হল, যোহরের সুন্নত ছুটে গেলে তখন করণীয় কী? কীভাবে তা আদায় করব? নামাযের পরের দু’রাকাত সুন্নতের আগে পড়ব, নাকি পরে?

উত্তর

যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত পড়তে না পারলে ফরয ও দুই রাকাত সুন্নতের পর তা পড়ে নেওয়া উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ إِذَا فَاتَتْهُ الْأَرْبَعُ قَبْلَ الظّهْرِ، صَلّاهَا بَعْدَ الرّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظّهْرِ.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত না পড়তে পারলে তা ফরয ও দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের পর পড়ে নিতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১১৫৮)

-মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩০৭; ফাতহুল কাদীর ১/৪১৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৫৪; আলইখতিয়ার ১/২২৪; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩৯৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫৯

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - নেত্রকোণা

৪৯৮৮. প্রশ্ন

যোহরের নামাযে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। পিছন থেকে কয়েকজন মুকতাদী আল্লাহু আকবার বলেন। তখন ইমাম সাহেব বসে পড়েন এবং আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর শেষে সাহুসিজদা করেন। আমার জানার বিষয় হল, এ নামায কি হয়েছে, নাকি তা আবার পড়তে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত নামায আদায় হয়ে গেছে। তবে এক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর পুনরায় বৈঠকের জন্য ফিরে না আসাই উচিত ছিল। বৈঠকে ফেরত না এসে স্বাভাবিক নিয়মে বাকি নামায পড়ে শেষে সাহু সিজদা করলেই হয়ে যেত। অবশ্য বৈঠকে ফিরে আসার কারণে নামায নষ্ট হয়ে যায়নি। বরং বিশুদ্ধ মতানুযায়ী তা সহীহভাবে আদায় হয়েছে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৮৩০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৪৫৩০; কিতাবুল আছল ১/১৯৩; ফাতহুল কাদীর ১/৪৪৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪১৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৮৩

শেয়ার লিংক

হাসান হাফিয - মাগুড়া

৪৯৮৭. প্রশ্ন

একদিন যোহরের নামাযে মসজিদে যেতে দেরি হয়ে যায়, ফলে মাসবুক হই। যখন বাকি নামায আদায় করি তখন প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা ভুলে যাই। আমার প্রশ্ন হল, এমন অবস্থায় কি আমার জন্য সাহু সিজদা করা আবশ্যক?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সূরা ফাতেহা না পড়ার কারণে আপনার উপর সাহু সিজদা করা ওয়াজিব হয়েছে। মাসবুকের জন্যও ছুটে যাওয়া রাকাতগুলোর মধ্যে প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতেহাসহ আরো একটি সূরা বা নির্ধারিত পরিমাণের আয়াত পড়া ওয়াজিব। তা ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/২০১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১১২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২৪; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৬৪

শেয়ার লিংক

রাশিদুল ইসলাম - গফরগাঁও

৪৯৮৬. প্রশ্ন

আমার নাম রাশিদুল ইসলাম। অনেক দিন ধরে একটি মাসআলা নিয়ে খুব পেরেশানিতে আছি। সেটি হল, অনেক সময় বেখেয়ালিতে নামায শুরু করার পর ছানা পড়তে ভুলে যাই। তো আমাদের এলাকায় একজনকে জিজ্ঞাসা করি; তিনি বলেন, এমন অবস্থায় সাহু সিজদা করা ওয়াজিব। হুজুরের কাছে প্রশ্ন হল তার এ কথাটি কি ঠিক?

উত্তর

না, প্রশ্নোক্ত কথাটি ঠিক নয়। নামাযে ছানা পড়তে ভুলে গেলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। কারণ নামাযে ছানা পড়া সুন্নত। আর সুন্নত ছুটে গেলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। তবে সুন্নত যেন না ছুটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/১৯৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৬; শরহুল মুনয়া পৃ. ৪৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৩

শেয়ার লিংক

রাসেল - পাবনা

৪৯৮৫. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে আসরের সময় মসজিদে অযু করছিলাম। চেহারা এবং হাত ধোয়ার পর পানি চলে যায়। আশপাশে পানি না পেয়ে মসজিদের ফিল্টার থেকে পানি নিয়ে অযু শেষ করি। ততক্ষণে আমার চেহারা এবং হাত শুকিয়ে যায়। জানার বিষয় হল, আমার এ অযু কি শুদ্ধ হয়েছে? এবং তার দ্বারা যে নামায পড়েছি তা কি আদায় হয়েছে?

উত্তর

আপনার উক্ত অযু সহীহ হয়েছে এবং তা দ্বারা আদায়কৃত নামাযও সহীহ হয়েছে। তবে অযুর জন্য মসজিদের ফিল্টারের পানি ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। কেননা ফিল্টারের পানি পান করার জন্য; অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য নয়।

-কিতাবুল আছল ১/২৪; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৫৬; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭;  মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/১৮৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/১২২

শেয়ার লিংক

তাওফিক - খুলনা

৪৯৮৪. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে ফজরের সময় ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে যায়। চোখ খুলে দেখি, সূর্যোদয়ের ১০ মিনিট বাকি আছে। অযু করার জন্য দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি লাইনে পানি নেই। তখন পানি খুঁজতে গেলে নামায কাযা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নিই। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে তায়াম্মুম করে নামায পড়া কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

না, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় তায়াম্মুম করে নামায পড়া সহীহ হয়নি। কারণ তৎক্ষণাৎ পানি না পেলেও পানি আপনার নিকটই আছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি তা পাচ্ছেন। সুতরাং ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকলেও অযু করেই নামায পড়তে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/১০৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৩১; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৮৪; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১১৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫৪

শেয়ার লিংক

নাজেম - রাজশাহী

৪৯৮৩. প্রশ্ন

সেদিন ফরয গোসল করতে গিয়ে বালতি থেকে মগ দিয়ে পানি ওঠানোর সময় হাতের আঙ্গুলের অংশে পানি লেগে যায়। এক্ষেত্রে যদিও আমার হাতে দৃশ্যত কোনো নাপাকি ছিল না; তথাপি যেহেতু ফরয গোসল তাই পরে আমার সন্দেহ হলে পাশের একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আপনার আঙ্গুলের অংশ পানিতে লাগার কারণে ঐ পানি ব্যবহৃত পানির হুকুমে হয়ে গেছে। আর আপনার ঐ পানি দিয়ে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন শুদ্ধ হয়নি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ পানি দ্বারা আপনার গোসল ও পবিত্রতা অর্জন শুদ্ধ হয়েছে। আঙ্গুল বালতিতে ডুবে যাওয়ার দ্বারা ঐ পানি গোসল ও পবিত্রতা অর্জনের অনুপোযুক্ত হয়ে যায়নি। কেননা পবিত্রতা অর্জন বা হাত ধোয়ার উদ্দেশ্যে পানিতে হাত প্রবেশ না করালে পানি الماء المستعمل বা ব্যবহৃত পানি হয়ে যায় না।

-কিতাবুল আছল ১/২১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৫; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/১৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৩১২; রদ্দুল মুহতার ১/২০০

শেয়ার লিংক

আমির - সিলেট

৪৯৮২. প্রশ্ন

আমি ভুলে অযুতে কুলি না করে নামায আদায় করি। জানার বিষয় হল, কুলি করা ছাড়া আমার ঐ অযু হয়েছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কুলি করা ছুটে গেলেও অযু হয়ে গেছে এবং নামাযও হয়ে গেছে। তবে লক্ষণীয় হল, অযুতে কুলি করা সুন্নাতে মুআক্কাদা। তা আদায়ের ব্যাপারে যতœবান হতে হবে। আর অযুর পূর্ণ ফযীলত পাওয়ার জন্য তা সুন্নত মোতাবেক যথাযথভাবে হওয়া উচিত। তাই অযু করা উচিত মনোযোগ সহকারে। যেন তা সকল সুন্নতসহ যথাযথভাবে আদায় হয়।

-কিতাবুল আছল ১/৩২; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ১/৩৩৮; আলহাবিল কুদসী ১/১১৭; ফাতহুল কাদীর ১/২৩; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩২

শেয়ার লিংক

যায়েদ - যশোর

৪৯৮১. প্রশ্ন

চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে আমার একটি আমের বাগান আছে। আমের সিজনে বাগানে থেকে দেখাশুনা করতে হয়। আমার এই বাগান দেখাশুনা করার জন্যে কয়েকজন শ্রমিকও রয়েছে। এবছর আমের সিজনে একবার আম পেড়ে যমিনে স্তুপ দেওয়া হয়। ঘটনাক্রমে একদিন শ্রমিকরা সবাই ছুটিতে ছিল। আমি ছাড়া আমের স্তুপ দেখার মতো কেউই ছিল না। তাই আমাকে বাগান দেখাশুনা করতে হল। এদিকে দেখাশুনা করতে করতে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যায়। ঘটনাক্রমে আমার আশপাশে অযু করার মতো কোনো পানি ছিল না। যদি পানির সন্ধানে দূরে কোথাও বা পাহাড়ের নিচে যাই, তাহলে বাগানে রাখা সব আম ওঁত পেতে থাকা চোরেরা নিয়ে যাবে। তাই আমি ঐদিন যোহরের নামায শেষ সময়ে তায়াম্মুম করে পড়ি। জানার বিষয় হল, এভাবে যদি কেউ তার সম্পদ চুরির ভয়ে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে, তাহলে কি তা সহীহ হবে?

উত্তর

বাস্তবেই যদি পানি আনতে গেলে উল্লেখযোগ্য সম্পদ চুরি হয়ে যাওয়ার প্রবল আশংকা থাকে এবং নামাযের সময়ও শেষ হয়ে যেতে থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে ঐ ওয়াক্তের নামায তায়াম্মুম করে পড়ে নেওয়ার অবকাশ রয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি আপনার ঐরকম আশংকা হয়ে থাকে তাহলে আপনার জন্য তায়াম্মুম করে নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/১৬৮; আলহাবিল কুদসী ১/১২৭; আলবাহরুর রায়েক ১/১৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮; ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ১২০; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৩৪

শেয়ার লিংক

হারেস আলী - পাবনা

৪৯৮০. প্রশ্ন

আমি কিছুদিন আগে কুরআনের আয়াত লিখিত একটা কাগজ পকেটে নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করি। পরে এক ভাই বললেন যে, এভাবে কুরআন লিখিত কাগজ নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করা জায়েয নেই। জানার বিষয় হল, তার ঐ কথা কি ঠিক?

উত্তর

কুরআনের আয়াত, আল্লাহ্র নাম বা যিকির লিখিত কোনো কাগজ বা বস্তু দৃশ্যমান অবস্থায় হাম্মামে (টয়লেটে) নিয়ে যাওয়া জায়েয নয়। কিন্তু পকেটে থাকলে যেহেতু তা আবৃত থাকে তাই এ অবস্থায় প্রবেশ করা নাজায়েয হবে না। অবশ্য যদি জামা বেশি পাতলা হয় এবং বাহির থেকে পকেটের লেখা দৃশ্যমান হয়, তাহলে তা বাইরে রেখে যাবে অথবা আরেকটি কাগজ দিয়ে আয়াতের লেখা কাগজ ঢেকে নিয়ে এরপর পকেটে রাখবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১০৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/২১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫০; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩০; রদ্দুল মুহতার ১/৩৪৫; বযলুল মাজহুদ ১/৪৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাহিদ - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪৯৭৯. প্রশ্ন

আমার স্ত্রীর বয়স ২৮ বছর। এর মধ্যে দুই সন্তান হয়েছে। এক জনের বয়স ৩ বছর। ছোট জনের বয়স ১ বছর ৬ মাস। দুবারেই সিজার করতে হয়েছে। তার কিছু দিন হল সে কনসিভ করেছে। যেহেতু তার দুবার সিজার হয়েছে এবং স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও সে একটু মোটা তাই এবার তার জন্য এটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে আমরা কি এব্রোশন করতে পারব? পরপর দুই সন্তান হওয়ার কারণে তার সিজারের জায়গা এখনো ভালোমতো শুকায়নি। বাচ্চার  হার্ডবিটও আসেনি।

উত্তর

সাধারণ অবস্থায় শরীয়তে গর্ভপাতের অনুমতি নেই। আপনি প্রশ্নে যে বিষয়গুলোকে ওযর হিসেবে বলেছেন, গর্ভপাতের জন্য তা যথেষ্ঠ ওযর কি না ভাবার অবকাশ আছে। আপনার দ্বিতীয় সন্তানের বয়স দেড় বছরের বেশি। যখন বর্তমান গর্ভস্থ শিশুটির প্রসবের সময় হবে তখন তার বয়স হবে প্রায় আড়াই বছর। আর এই পরিমাণ সময়ের ব্যবধানে আমাদের দেশে অহরহ সিজার হতে দেখা যায়। এরপরও যদি কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তার আপনার স্ত্রী বা শিশুর জন্য বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে থাকেন, তাহলে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমকে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে মাসআলা জেনে নিবেন।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪১০; আলবাহরুর রায়েক ও মিনহাতুল খালিক ৩/২০০; আননাহরুল ফায়েক ২/২৭৬; রদ্দুল মুহতার ৩/১৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাবিল - চাঁপাইনবাবগঞ্জ

৪৯৭৮. প্রশ্ন

আমাদের অঞ্চলে বাচ্চা হওয়ার পর -চাই সেই বাচ্চা মেয়ে হোক কিংবা ছেলে- মেয়ের বাড়ির পক্ষ থেকে রুপার এক ধরনের বিশেষ চুড়ি তাকে উপহার দেওয়া হয়। বাচ্চা নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হলে তার হাতে সেগুলো পরিয়ে দেওয়া হয়। এধরনের চুড়ি বাচ্চাকে পরিধান করালে কোনো অসুবিধা আছে?

 

উত্তর

স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার কেবলমাত্র নারীদের জন্য বৈধ। তাই প্রশ্নোক্ত চুড়ি মেয়ে বাচ্চাদের জন্য ব্যবহার করা জায়েয। তাদের ক্ষেত্রে অসুবিধা নেই। আর ছেলেদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণের রুপার আংটি ছাড়া অন্য কোনো অলঙ্কার ব্যবহার করা নাজায়েয। তাই ছেলে শিশুকে উক্ত রুপার চুড়ি পরানো যাবে না। তাছাড়া চুড়ি পরা মূলত মেয়েদের সাজ। হাদীস শরীফে ছেলেদের জন্য মেয়েদের সাজ বা বেশভূষা গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ المُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ.

অর্থাৎ যেসব পুরুষ নারীদের বেশভূষা অবলম্বন করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের লানত করেছেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৮৮৫)

অভিভাবকদের কর্তব্য হল, ছেলে শিশুদেরকেও ঐসকল নিষিদ্ধ পোষাক ও সাজগোজ থেকে বিরত রাখা, যা পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ।

-উমদাতুল কারী ২২/৪১; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪১৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৯০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১০৯; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৭৫

শেয়ার লিংক

আব্দুল হাকীম - যশোর

৪৯৭৭. প্রশ্ন

কুরবানীর দিন কোথাও এমন দেখা যায় যে, কুরবানীর পশুর হাত, পা, মাথা ইত্যদি যারা ধরে আছে, তাদেরকে জবাই করার সময় উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ বলার জন্য বলা হয় এবং সবার এমনটি করা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কেউ না বললে তিরস্কার করা হয়। প্রশ্ন হল, যারা কুরবানীর পশু জবাই করতে বিভিন্নভাবে শরীক হয়েছে, তাদের সবার জন্যই কি বিসমিল্লাহ বলা জরুরি? এক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুমটি জানতে চাচ্ছি।

 

উত্তর

পশু জবাইয়ের সময় শুধু জবাইকারীর জন্য বিসমিল্লাহ বলা জরুরি। আর জবাইয়ের সময় পশুকে যারা ধরবে তাদের কারো বিসমিল্লাহ বলা আবশ্যক নয়। উল্লেখ্য, অনেকসময় দেখা যায়, একজন ব্যক্তি জবাই শুরু করে, এরপর কসাই বা অন্য কোনো ব্যক্তি ছুরি দিয়ে জবাইয়ের বাকি কাজ সম্পন্ন করে। এক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তির জবাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি জবাই শুরু করে থাকে তাহলে সেও জবাইকারীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তাকেও বিসমিল্লাহ বলতে হবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৪৯; আদ্দুররুল মুনতাকা ৪/১৭৬

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - ঢাকা

৪৯৭৬. প্রশ্ন

আমাদের বাসার পাশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। তাতে এক বাবুর্চি অপর আরেকজনের সহযোগিতায় সব মুরগি জবাই করে। কিন্তু সে প্রত্যেকটি মুরগি জবাই করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলেনি। শুরুতে কিছুক্ষণ বিসমিল্লাহ বলেছে, এরপর মাঝে মাঝে বলেছে। এমনটি দেখে আমি আপত্তি করলে সে বিষয়টি হালকাভাবে নেয় এবং উল্টা যুক্তি দিয়ে আমাকে বলে, ‘একজনই তো সব জবাই করছে, আর একজন সব জবাই করলে প্রতিবার ‘বিসমিল্লাহ’ না বললেও চলে।’ আমার প্রশ্ন হল, তার যুক্তিটি কি ঠিক, এক ব্যক্তি অনেক মুরগি জবাই করলে কি প্রত্যেক মুরগির জন্য বিসমিল্লাহ বলা আবশ্যক নয়, এতে কি কোনো ছাড় আছে? নতুবা যেসমস্ত মুরগি জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ বলা হয়নি, তা খাওয়ার হুকুম কী? সঠিক বিষয়টি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। একাধিক মুরগি বা পশু জবাই করলে প্রত্যেকটির জন্য পৃথক পৃথকভাবে বিসমিল্লাহ বলা জরুরি। নতুবা যে প্রাণীর জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ বলা হবে না তার জাবাই সহীহ হবে না এবং তা খাওয়া হালাল হবে না।

উল্লেখ্য, হালাল-হারামের মত এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে অহেতুক যুক্তির আশ্রয় না নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম থেকে সঠিক মাসআলা জেনে নেওয়া জরুরি।

-কিতাবুল আছল ৫/৩৯৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ৩/৭২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩০৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৫৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাবের - তেজগাঁও

৪৯৭৫. প্রশ্ন

কুরবানী ঈদের দুদিন আগে আমার ছেলে ভূমিষ্ঠ হয়। ঈদের দিন কুরবানীর সঙ্গে তার আকীকা আদায় করি। এক লোক বললেন, ‘আমার এই আকীকা আদায় সহীহ হয়নি। কেননা আকীকা করতে হয় বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাত দিন পর। এর আগে করলে আদায় হয় না।’  তার এই কথা কি ঠিক?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। আপনার শিশুর উক্ত আকীকা সহীহ হয়েছে। সপ্তম দিনের আগেও আকীকা করা জায়েয। যদিও মুস্তাহাব হল  সপ্তম দিনে করা। অর্থাৎ এখানে দুটি সুন্নত। ১. আকীকা করা। ২. সপ্তম দিনে করা। এক্ষেত্রে আপনার আকীকার মূল সুন্নতটি আদায় হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় সুন্নতটি আদায় হয়নি।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২৪৭৩৯; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামিদিয়্যা ২/২৩৩; এলাউস সুনান ১৭/১১৯

শেয়ার লিংক

আব্দুল আলীম - কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা

৪৯৭৪. প্রশ্ন

আমরা ছয় ভাই-বোন আমাদের চাচার পক্ষ থেকে হেবাসূত্রে তিন তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের মালিকানা লাভ করি। ভবনে আমার ফ্ল্যাটটি আমি সম্প্রতি বাইরের একজনের কাছে বিক্রি করে দেই। এখন আমার ভাই-বোনেরা আমাকে চাপ দিচ্ছে, ঐ বিক্রি প্রত্যাহার করে তাদের কোনো একজনের কাছে তা বিক্রি করার জন্য। আমি জানতে চাচ্ছি, ফ্ল্যাটটি বিক্রি করতে কি তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা বিবেচনা করা আমার জন্য জরুরি?

উত্তর

ফ্ল্যাট বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পার্শ্ববতী ফ্ল্যাটমালিকদের ‘শুফা’ তথা ক্রয়ের অগ্রাধিকার থাকে। তাই তাদের অবগতি ছাড়া তা অন্যত্র বিক্রি করা যাবে না। বিক্রি করে দিলে নিকটবর্তী ফ্ল্যাটমালিকরা উক্ত ফ্ল্যাটের প্রিয়েমশন (ক্রয় অগ্রাধিকার) অর্থাৎ বিক্রিত মূল্য পরিশোধ করে তা নিজেদের মালিকানাভুক্ত করে নেওয়ার দাবি করতে পারেন।

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এই ফ্ল্যাটটি আপনার পাশর্^বর্তী ব্যক্তি যথাযথ দামে (যে মূল্যে আপনি অন্যত্র বিক্রি করেছেন) কিনে নিতে চাইলে আপনার দায়িত্ব হবে, আগে যিনি ক্রয় করেছেন তার সাথে বিক্রয় চুক্তি প্রত্যাহার করে বাড়িটি এ ব্যক্তির নিকট বিক্রি করা।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১৪/১৩২; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১০৫; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/২১৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাবিল - নাটোর

৪৯৭৩. প্রশ্ন

আমাদের একটি মুরগিফার্ম আছে। প্রায় প্রতিদিন তাতে কিছু মুরগি মারা যায়। জনৈক মাগুর মাছচাষী সেই মুরগিগুলো স্বল্পমূল্যে আমাদের থেকে কিনে নিয়ে যায়। মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা হল, আমরা কি এই মৃত মুরগিগুলো বিক্রি করতে পারব?

উত্তর

শরীয়তের দৃষ্টিতে মৃত মুরগি বিক্রিযোগ্য সম্পদ নয়। তাই কোনো ক্রেতার নিকট এগুলো বিক্রি করা বৈধ হবে না এবং বিক্রিলব্ধ অর্থও হালাল হবে না। তাছাড়া মাছকে মৃত জন্তু, পাখি খেতে দিলে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই এহেন কাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

-ফাতহুল কাদীর ৬/৪৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/৩৯০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৫৯১; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা ২১০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৫০

শেয়ার লিংক