ইবনে আবুল কালাম - কাশিপুর, যশোর

৪৭৩৭. প্রশ্ন

আমার ফুফাত ভাই খুব গরীব। সে অনেকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল। কিন্তু এখন তা পরিশোধ করতে পারছে না। গত বছর ফুফু বলেছিলেন, আমি যেন গত বছরের যাকাতের টাকাটা ফুফাত ভাইকে দিই, যাতে সে ঋণগুলো পরিশোধ করতে পারে। আমি তখন তাঁর কথা অনুযায়ী তাকে যাকাতের টাকা দিয়ে দিই। পরে জানতে পারলাম, ফুফাত ভাই তা দিয়ে ঋণ আদায় না করে অন্য জায়গায় খরচ করে ফেলেছে। এবছর ফুফু আমাকে অনুরোধ করেছেন, আমি যেন যাকাতের টাকাটা ফুফাত ভাইয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি পাওনাদারদের দিই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ফুফাত ভাইয়ের হাতে না দিয়ে সরাসরি পাওনাদারদের দিলে কি আমার যাকাত আদায় হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ফুফাত ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে বা তাকে অবগত করে যাকাতের অর্থ দ্বারা পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধ করে দিতে পারবেন। এতে আপনার যাকাত ও তার ঋণ দুটোই আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু তাকে অবগত করা ছাড়াই যদি যাকাত দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে যাকাত আদায় হবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৮; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৮০; ফাতহুল কাদীর ২/২০৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৩

শেয়ার লিংক

রাশেদ হাসান - উত্তরা, ঢাকা

৪৭৩৬. প্রশ্ন

আমার প্রতিবেশী একজন ধনী ব্যবসায়ী। কিন্তু তিনি তার পরিবারের প্রতি উদাসীন। এমনকি ঠিকমত তাদের খরচও দেন না। মাঝে মাঝেই স্ত্রীকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। আমার জানামতে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বেশ কষ্টে দিন কাটান।

আমার প্রশ্ন হল, আমি কি ঐ ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে যাকাত দিতে পারব? দিলে কি আমার যাকাত আদায় হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ঐ মহিলা যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। তবে যে মহিলার স্বামী ধনী এবং তার ভরণ-পোষণ যথাযথ আদায় করে তাহলে সে ব্যক্তিগতভাবে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলেও তাকে যাকাত না দেওয়াই উচিত।

উল্লেখ্য, আপনার জন্য আপনার প্রতিবেশীকে বোঝানো উচিত যে, একজন পুরুষের সদ্ব্যবহার পাওয়ার সবচে হকদার হল তার স্ত্রী। উপরন্তু তাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলা তো চরম অভদ্রতা। এ রকম আচরণ থেকে সবারই বেঁচে থাকা আবশ্যক।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৫৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৬

শেয়ার লিংক

আবদুস সুবহান - মোমেনশাহী

৪৭৩৫. প্রশ্ন

আমি মোমেনশাহী বড় মসজিদে সাত দিন ইতেকাফ করার মান্নত করেছিলাম। কিন্তু ইতেকাফ শুরু করার পর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে বাকি দিনগুলোর ইতেকাফ পুরা করতে পারিনি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল,

ক. এখন আমার কয় দিনের ইতেকাফ করতে হবে?

খ. ইতেকাফ কি বড় মসজিদেই করতে হবে? নাকি অন্য কোনো মসজিদেও করতে পারব?

গ. এ ইতেকাফের সময় কি আমাকে রোযা রাখতে হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

ক, খ : প্রশ্নোক্ত মান্নতের দ্বারা আপনার উপর একত্রে সাত দিন ইতেকাফ করা ওয়াজিব হয়েছিল। আপনি যেহেতু একত্রে সাত দিনের ইতেকাফ পূর্ণ করতে পারেননি তাই এখন আপনাকে পুনরায় সাত দিনের ইতেকাফ ধারাবাহিকভাবে পূর্ণ করতে হবে।

আর উক্ত ইতেকাফ আপনি যে কোনো মসজিদে করতে পারবেন। উল্লেখিত বড় মসজিদেই আদায় করা জরুরি নয়। কারণ নির্দিষ্ট কোনো মসজিদে ইতেকাফের মান্নত করলে ঐ মসজিদেই ইতেকাফ করা আবশ্যক হয় না; বরং অন্য মসজিদেও তা আদায় করা যায়। -কিতাবুল আছল ২/১৮৪; ফাতহুল কাদীর ২/৩১৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩৬

গ. মান্নতের ইতেকাফের সময় রোযা রাখতে হয়। তাই আপনাকে উক্ত সাত দিনের ইতেকাফের সময় রোযা রাখতে হবে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা রা. বলেন- রোযা ছাড়া ইতেকাফ হয় না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৭৩)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন- ইতেকাফকারীর জন্য রোযা রাখা জরুরি। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ৯৭১১)

আলী রা. থেকেও এমনটি বর্ণিত আছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৯৭১৩)

-আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১১৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০০

শেয়ার লিংক

বদরুল আলম - মোমেনশাহী

৪৭৩৪. প্রশ্ন

গত ১২/১০/২০১৮ ঈ. তারিখে আমার স্ত্রীর সাথে পরের দিন রোযা রাখার ব্যাপারে কথা হয় যে, আমি নফল রোযা রাখব আর আমার স্ত্রী তার রমযানের কাযা রোযা রাখবে। কিন্তু শেষরাতে উঠতে পারিনি, ফলে সকালে কী করবো চিন্তা করতে করতে প্রায় ১১টার দিকে দুইজনই সেহরি না খেয়েই রোযা রাখার সিদ্ধান্ত নেই এবং যথারীতি দুজনই রোযা রাখি। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের ঐ দিনের রোযা সহীহ হয়েছে কিনা? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের উভয়ের রোযাই নফল হিসেবে আদায় হয়েছে। আপনার স্ত্রীর কাযা রোযা আদায় হয়নি। কারণ কাযা রোযা রাখার জন্য সুবহে সাদিকের পূর্বে নিয়ত করা জরুরি। আর নফল রোযা রাখার জন্য সুবহে সাদিকের পূর্বে নিয়ত করা জরুরি নয়; বরং শরয়ী অর্ধ দিন অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে নিয়ে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ের আগে আগে নিয়ত করাই যথেষ্ট। তাই আপনার স্ত্রীকে ঐ কাযা রোযা পৃথকভাবে আদায় করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ২/১৬৪; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/৪০১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৩; দুরারুল হুক্কাম ১/১৯৭; মারাকিল ফালাহ পৃ. ৩৫২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৫১

শেয়ার লিংক

রায়হান মুনির - কিশোরগঞ্জ

৪৭৩৩. প্রশ্ন

আমি গত রমযান মাসে স্বাভাবিকভাবে রোযা রাখছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতার কারণে রোযা রাখা অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে যাই এবং অজ্ঞান অবস্থায় তিন দিন হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকি। এরপর আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে জ্ঞান ফিরে পাই এবং বাকি রোযাগুলো রাখি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমি যে তিন দিন অজ্ঞান ছিলাম সে দিনগুলোর রোযার হুকুম কী হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

প্রথম দিন যেহেতু রোযা রাখা অবস্থায় অজ্ঞান হয়েছেন তাই সেদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত যদি আপনাকে পানাহার না করানো হয়ে থাকে তাহলে ঐ রোযা আদায় হয়ে গেছে। আর যদি পানাহার করানো হয়ে থাকে তাহলে উক্ত রোযাসহ পরের দুইদিনের রোযার কাযা আদায় করবেন। এক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হবে না।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৩/৭০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩২

শেয়ার লিংক

মুশতাক আহমদ - নাটোর

৪৭৩২. প্রশ্ন

গত রমযানে আমরা একটি দাওয়াতী সফরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যাই। বৌদ্ধ-পাড়ায় দাওয়াতের কাজ করি। আলহামদু লিল্লাহ ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এক ভাই বারতম রমযানে সকাল নয়টার দিকে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে। সে যেহেতু নতুন তাই তাকে সেদিন পানাহার  থেকে বিরত থাকতে বলিনি; বরং পরবর্তী দিন থেকে সে নিয়মিত রোযা রাখে। তার ইসলাম গ্রহণের দিন এবং পূর্বে অতিবাহিত হওয়া এগারো দিনের রোযা কাযা করা-না করা নিয়ে আমাদের মাঝে মতের ভিন্নতা দেখা দেয়। কেউ বলে, রমযান হল নামাযের মত। তাই এক রমযান পাওয়া পুরো রমযান পাওয়ার হুকুমে। ফলে বিগত এগারো দিনের কাযা করতে হবে। আবার কেউ ভিন্ন কথাও বলেন।

তো প্রশ্ন হল-

ক. যেদিন কেউ ইসলাম গ্রহণ করল, সেদিন কি সে পানাহার থেকে বিরত থাকবে? যদি এমন ক্ষেত্রে পানাহার করে ফেলে তাহলে কী পরবর্তীতে তা কাযা করতে হবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধানটি

জানালে কৃতজ্ঞ হব।

খ. রমযানের কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে বিগত দিনের রোযা কাযা করার ব্যাপারে সঠিক মাসআলাটি কী?

উত্তর

ক. কেউ যদি রমযানের দিনে ইসলাম গ্রহণ করে তবে তার জন্য ঐ দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযাদারের মত পানাহার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব।

সুফিয়ান সাওরী রাহ. বলেন-

إِذَا أَسْلَمَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ لَمْ يَصُمْ يَوْمَهُ الّذِي أَسْلَمَ فِيهِ، وَلكِنْ يُؤْمَرُ أَنْ لَا يَأْكُلَ حَتّى يُمْسِي.

কেউ যদি রমযানের দিনে ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে সেদিন সে রোযা রাখবে না। তবে ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৭৩৬৩)

কিন্তু কেউ সেদিন পানাহার করে ফেললে  তাকে ঐ দিনের রোযা কাযা করতে হবে না। তবে ইসতিগফার করতে হবে।

খ. আর রমযানের রাতে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে পরবর্তী দিন থেকেই রোযা রাখতে হবে। সর্বক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই রোযা রাখতে হবে। পূর্বের দিনগুলোর রোযা রাখতে হবে না।

-আলমুজামুল কাবীর তাবারানী, হাদীস ৬৪০১; কিতাবুল আছল ২/১৫৬, ১৬৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৬১; খিযানাতুল আকমাল ১/৩০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৪; ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ৬৯৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইকবাল - শ্যামপুর, ঢাকা

৪৭৩১. প্রশ্ন

আমার স্ত্রীর উপর রমযানের রোযার একটি কাফফারা ওয়াজিব হয়েছিল। কাফফারার ষাটটি রোযার মধ্যে এগারোটি রোযা লাগাতার রাখে। বারোতম দিনে একটি দূরের সফরে বের হলে পথিমধ্যে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে রোযা ভাঙ্গতে বাধ্য হয়। তিন দিনের লাগাতার অসুস্থতার পর চতুর্থ দিন থেকে আবার কাফফারার রোযা রাখতে শুরু করে।

তো প্রশ্ন হল, সে এখন তার গণনা বারোতম রোযা থেকে করবে, না আবার শুরু থেকে শুরু করবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? দ্রুত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

রমযানের রোযার কাফফারার জন্য বিরতিহীনভাবে লাগাতার ষাটটি রোযা রাখতে হয়। এক্ষেত্রে মহিলাদের ঋতুস্রাবই কেবল ওজর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ ঋতুস্রাবের কারণে ঐদিনগুলো বাদ পড়লে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া সফর, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রোযার বিরতি হলে আবার নতুন করে কাফফারার রোযা শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে যেগুলো রাখা হয়েছিল তা কাফফারা হিসেবে ধর্তব্য হবে না। অতএব আপনার স্ত্রীকে নতুন করে কাফফারার ষাটটি রোযা রাখতে হবে।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১১৫০৯; কিতাবুল আছল ২/১৫৮, ১৬০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৭৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/১৭৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬১; রদ্দুল মুহতার ২/৪০৯

শেয়ার লিংক

সোহেল খান - কুয়েত প্রবাসী

৪৭৩০. প্রশ্ন

আমার দাদু চিটাগাংয়ে আমার চাচার বাসায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে তিনি চাচার বাসায় মারা যান। আমার চাচা সেখানে একবার জানাযার নামায পড়ান। এরপর তাকে মাটি দেওয়ার জন্য শরীয়তপুরে নিয়ে আসেন। এখানে এসে পুনরায় তার জানাযার নামায পড়া হয়। এতে আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেব শরীক হওয়া থেকে বিরত থাকেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া ঠিক না। আমার চাচা তাকে বললেন, সহীহ বুখারীতে আছে, সাহাবায়ে কেরাম এক মহিলার জানাযার নামায পড়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় ঐ মহিলার কবরের ওপর জানাযার নামায পড়েছেন। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই, এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী? দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া যাবে কি না? যদি না যায় তাহলে সহীহ বুখারীর এই হাদীসের ব্যাখ্যা কী? দলীলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

মায়্যেতের অভিভাবকের মধ্য থেকে কেউ মৃতের একবার জানাযার নামায পড়ে ফেললে দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া যায় না। কেননা, শরীয়তের বিধান জানাযার নামায একবারই পড়া। এক বর্ণনায় এসেছে, নাফে‘ রাহ. বলেন-

كَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا انْتَهَى إِلَى جِنَازَةٍ وَقَدْ صُلِّيَ عَلَيْهَا دَعَا وَانْصَرَفَ وَلَمْ يُعِدِ الصّلَاةَ.

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. যখন কোনো জানাযায় গিয়ে দেখতেন জানাযার নামায শেষ হয়ে গেছে তখন তিনি শুধু দুআ করে ফিরে আসতেন। পুনরায় নামায পড়তেন না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৬৫৪৫)

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

لَا يُعَادُ عَلَى مَيِّتٍ الصّلَاةُ.

মায়্যেতের দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া যাবে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, ৬৫৪৪

অবশ্য মায়্যেতের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া জানাযার নামায সম্পন্ন করা হলে অভিভাবক উক্ত নামায পুনরায় পড়াতে পারবেন। এক্ষেত্রে তার পেছনে কেবলমাত্র ওইসকল লোক শরিক হতে পারবেন, যারা পূর্বের জানাযায় শরিক হননি।

আর প্রশ্নে উল্লেখিত বুখারী শরীফের ঘটনাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে খাস ছিল।

বিশিষ্ট ফকীহ ও মুহাদ্দিস ফখরুদ্দীন যায়লায়ী রাহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়েছেন মুসলিম উম্মার অভিভাবক হিসেবে। (দেখুন তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৭৪)

ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. বলেন-

وَلا يَنْبَغِي أَنْ يُصَلّى عَلَى جِنَازَةٍ قَدْ صُلِّيَ عَلَيْهَا، وَلَيْسَ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فِي هَذَا كَغَيْرِهِ، أَلا يُرَى أَنّهُ صَلّى عَلَى النّجَاشِيِّ بِالْمَدِينَةِ، وَقَدْ مَاتَ بِالْحَبَشَةِ، فَصَلاةُ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بَرَكَةٌ، وَطَهُورٌ فَلَيْسَتْ كَغَيْرِهَا مِنَ الصّلَوَاتِ.

অর্থাৎ, যে মায়্যেতের একবার জানাযা পড়া হয়েছে দ্বিতীয়বার তার জানাযা পড়া ঠিক নয়। এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদের মতো নন। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায বরকত ও পরিশুদ্ধির কারণ। সুতরাং তাঁর নামায অন্যদের নামাযের মতো নয়। -মুআত্তা মুহাম্মাদ, হাদীস ৩১৭

তাছাড়া ইমাম মালেক রাহ.-এর বিশিষ্ট শাগরিদ ইবনুল কাসিম রাহ. বলেন-

قُلْتُ لِمَالِكٍ: فَالْحَدِيثُ الّذِي جَاءَ عَنِ النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنّهُ صَلّى عَلَى قَبْرِ امْرَأَةٍ؟ قَالَ: قَدْ جَاءَ هَذَا الْحَدِيثُ وَلَيْسَ عَلَيْهِ الْعَمَلُ.

আমি মালেক রাহ.-কে বললাম, যে বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওাসায়াসাল্লাম এক মহিলার কবরের ওপর তার জানাযার নামায পড়েছেন তার ব্যাখ্যা কী? মালেক রাহ. বলেন, উম্মতের আমল এ হাদীস অনুসারে নয়। -ইস্তেযকার ২/৫৫৯

অর্থাৎ ইমাম মালেক রাহ.-ও একথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, এটি ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খাস একটি ঘটনা। আরো বহু ঘটনা এমন হয়েছে, যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবার জানাযায় অংশ নিতে পারেননি কিন্তু পুনরায় তার জানাযার নামায পড়েননি। সুতরাং এমন একটি বিশেষ ঘটনা দিয়ে ব্যাপকভাবে দ্বিতীয় জানাযার দলিল পেশ করা উচিত নয়।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/১২৬; মুখতাসারুত তাহাবী পৃ. ৪২; ফাতহুল কাদীর ২/৮৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮১; মিরকাত ৪/১২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল মুকীত - বাগেরহাট

৪৭২৯. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মায়্যেতকে কবরে রাখার পর শুধু মুখ কিবলার দিকে ঘুরিয়ে রাখা হয়। পুরো শরীর কিবলার দিকে রাখা হয় না। এতে কি সুন্নত আদায় হবে? নাকি পুরো দেহ কিবলার দিকে রাখতে হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

মায়্যেতকে কবরে ডান কাত করে শুইয়ে সিনা ও চেহারা কিবলার দিকে করে রাখা সুন্নত। প্রয়োজনে পিঠের দিকে মাটির চাক কিংবা মায়্যেতকে পূর্বের দেয়ালের সাথে টেক লাগিয়ে রাখবে। যেন মায়্যেত উল্টে না যায় এবং সহজে ডান কাত করে রাখা যায়। কিন্তু চিত করে শুইয়ে শুধু চেহারা কিবলার দিকে ঘুরিয়ে রাখলে সুন্নতসম্মত হবে না। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন,

اسْتَقْبِلْ بِالْمَيِّتِ الْقِبْلَةَ.

অর্থাৎ মায়্যেতকে কিবলামুখী করে রাখো। সুফিয়ান রাহ. বলেন-

يَعْنِي عَلَى يَمِينِهِ كَمَا يُوضَعُ فِي اللّحْدِ.

অর্থাৎ ডান কাতে রাখো যেমনিভাবে লাহদ কবরের ক্ষেত্রে রাখা হয়। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬০৬০)

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/৭৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯০; ফাতহুল কাদীর ২/৯৯; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬২৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৪; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাঈদ - সিলেট

৪৭২৮. প্রশ্ন

আমি জেনেছি, জুমার দিন গোসল করা সুন্নত, এখন এর জন্য নির্ধারিত কোনো সময় আছে কি? যদি কেউ দিনের শুরুতে গোসল করে থাকে তাহলে তাতে কি জুমার জন্য গোসলের সুন্নত আদায় হবে না? নাকি পুনরায় গোসল করতে হবে? জানতে আগ্রহী।

উত্তর

জুমার দিন জুমার নামাযের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করা সুন্নত। ফকীহগণ বলেন, জুমার প্রস্তুতি হিসেবে এমন সময় গোসল করা উত্তম যেন উক্ত অযু-গোসল দ্বারাই নামায আদায় করা সম্ভব হয়। অবশ্য বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী জুমার নিয়তে দিনের প্রথম ভাগে গোসল করলেও এর দ্বারা উক্ত সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে পুনরায় গোসল করার প্রয়োজন হবে না।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৮৭৭; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫০৪৪, ৫০৮০, ৫০৮৭; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২০১; আলবাহরুর রায়েক ১/৬৪; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৫; রদ্দুল মুহতার ১/১৬৮

শেয়ার লিংক

আশিকুর রহমান - মিডফোর্ড, ঢাকা

৪৭২৭. প্রশ্ন

আমি ঢাকা মেডিকিলের ২য় বর্ষের ছাত্র। গত বছর তিন সেমিস্টারেই আমার ফলাফল খুব ভালো হয়। আমার আম্মাকে দেখতাম ফলাফলের সংবাদ শুনতেই তিনি সিজদা দিয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন। এছাড়াও আরো কয়েকবার খুশির সংবাদ এলে তাকে এভাবে সিজদা আদায় করতে দেখেছি। আমার আম্মাকে ছাড়া অন্য কাউকে এভাবে সিজদা করতে না দেখায় বিষয়টি আমার কাছে নতুন মনে হচ্ছে। তাই মুহতারামের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে সিজদা করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা প্রমাণিত কি না? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

 

উত্তর

হাঁ, বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী আল্লাহর কোনো নিআমত লাভ করলে কিংবা কোনো বিপদ থেকে মুক্তি পেলে এভাবে সিজদার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করা জায়েয আছে। দীর্ঘ এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আলী রা.-এর চিঠির মাধ্যমে ইয়েমেনের হামদান গোত্রের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ পেলেন তখন আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়ে সিজদা করলেন। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী ২/৩৬৯)

আসলাম রাহ. বলেন ওমর রা.-এর নিকট যখন ইয়ামামা বিজয়ের সংবাদ এল তখন তিনি সিজদা করলেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৮৫০১)

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৮৫; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৯৪; শরহুল মুনয়াহ পৃ. ৬১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৫; রদ্দুল মুহতার ২/১২০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান বিন ইমরান - গল্লামারী, খুলনা

৪৭২৬. প্রশ্ন

আমার কোমরে প্রচ- ব্যাথা। তাই আমি সাধারণত বসে নামায পড়ি। একদিন এশার নামাযে ব্যাথা কিছুটা কমে। তাই মনে করলাম নামায হয়ত দাঁড়িয়ে পড়তে পারব। সে হিসেবে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করি। কিন্তু নামাযের মধ্যে ব্যাথা বেড়ে যায়। ফলে বাকি নামায আর দাঁড়িয়ে পড়া সম্ভব হয়নি। বসেই শেষ করতে হয়েছে। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর ওজরের কারণে বসে পড়ার সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হাঁ, ফরয নামায দাঁড়িয়ে শুরু করার পর বাস্তবেই যদি এমন ওজর দেখা দেয়, যার কারণে দাঁড়িয়ে নামায পড়া বেশি কষ্টকর হয়ে যায় তাহলে বাকি নামায বসে পড়া জায়েয। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য বসে নামায পড়া সহীহ হয়েছে।

-কিতাবুল আছল ১/১৯২; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ১/১০৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৭; রদ্দুল মুহতার ২/১০০

শেয়ার লিংক

মাওলানা রফিকুল ইসলাম - খুলনা

৪৭২৫. প্রশ্ন

আমাদের মহল্লার মসজিদে রমযানের শেষ দশকে রাত ১২টার পর জামাতের সাথে ০৮/১০/১২/১৪ রাকাত করে কিয়ামুল লাইল-এর নামায আদায় করা হয় এবং তাতে পূর্ণ ৩০ পারা পড়া হয়। ইমাম সাহেব ফতোয়া দিয়েছেন, রমযানের শেষ দশকের জামাতবদ্ধ এই নফল নামায মাকরূহ হবে না। তিনি মক্কা ও মদীনাকে দলীল হিসাবে ব্যবহার করেছেন।

আমার জানার বিষয় হল, উক্ত নফল নামাযের জামাতটা শরীয়তে বৈধ হবে কি না? বিস্তারিত দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

পুনশ্চ : উক্ত জামাতের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা হয় এবং ইমাম সাহেব মাইকে নামায পড়ান।

উত্তর

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায, জুমা ও দুই ঈদের নামাযে জামাতের বিষয়টি অতিব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া তারাবীহ, রমযানের বিতর, ইস্তেসকা (বৃষ্টির জন্য নামায) এবং সূর্যগ্রহণের নামাযের জামাতও হাদীস-আসার দ্বারা প্রমাণিত এবং সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। আর তাহাজ্জুদসহ অন্যান্য সুন্নত ও সকল প্রকার নফল নামায একাকী পড়াই সুন্নাহসম্মত কাজ। এগুলোর ক্ষেত্রে জামাতের বিধান নেই। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফায়ে রাশেদীনের আমল এমনই ছিল। তাঁরা এজাতীয় নামায একাকী আদায় করতেন। আর সম্ভব হলে এসব নামায ঘরে পড়াই বেশি উত্তম। হযরত আবদুল্লাহ বিন সা‘দ রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন-

سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ عَنِ الصّلَاةِ فِي بَيْتِي وَالصّلَاةِ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ: قَدْ تَرَى مَا أَقْرَبَ بَيْتِي مِنَ الْمَسْجِدِ، فَلَأَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِي أَحَبّ إِلَيّ مِنْ أَنْ أُصَلِّيَ فِي الْمَسْجِدِ إِلَا أَنْ تَكُونَ صَلَاةً مَكْتُوبَةً.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘরের নামায এবং মসজিদের নামাযের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তুমি দেখছ, মসজিদ আমার ঘরের এত নিকটে হওয়া সত্ত্বেও ফরয নামায ব্যতীত অন্যান্য নামাযগুলো আমি ঘরে পড়তেই ভালোবাসি। -শামায়েলে তিরমিযী, হাদীস ২৮০

পুরো নবী-যুগে দু-একটি ঘটনা এমন পাওয়া যাবে, যেখানে নফল নামাযের জামাতের কথা আছে। তাও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো একাকী নফল নামায শুরু করার পর অন্য কেউ পাশে ইকতেদা করেছেন অথবা ঘটনাচক্রে ২/৩ জনের জামাত হয়েছে। নিয়মিত নফল নামাযের জামাত, মানুষকে সেজন্য আহ্বান করা এবং নফলের জামাতে কুরআন মাজীদ খতম করার কোনো দৃষ্টান্ত আমাদের জানামতে হাদীস-আসার এবং সীরাত ও তারিখের কিতাবাদিতে নেই। এসব দলীলের আলোকে ফিকহে হানাফীর ফতোয়া হল, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খাইরুল কুরুনের অনুসরণে কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ তাহাজ্জুদ নামায একাকী পড়াই সুন্নাত। এতে জামাতের পাবন্দি করা বিশেষত মসজিদে জামাতের সাথে পড়া অনুত্তম। অবশ্য কেউ একাকী নফল শুরু করার পর এমনিতেই দু-একজন তার ইকতেদা করলে তা ভিন্ন কথা।

আর হারামাইন শরীফাইনে জামাতসহ কিয়ামুল লাইল পড়াটা ফিকহে হাম্বলীর ফাতওয়া অনুযায়ী। সেখানকার ইমামগণ সাধারণত হাম্বলী মাযহাব অনুসরণ করে থাকেন। আর নফল নামাযের জামাত হাম্বলী মাযহাবে জায়েয। কিন্তু হাদীস-আসারের দলিল দ্বারা যেহেতু এক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের মত অধিক শক্তিশালী তাই হানাফী মাযহাব অনুসরণকারীদের হারামাইনের কথা বলে ভিন্ন আমলের দিকে ডাকা কোনোক্রমেই শুদ্ধ হতে পারে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৭; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৬; রদ্দুল মুহতার ২/৪৮; আলমুহীতুল -বুরহানী ২/২৬৪

শেয়ার লিংক

আবদুশ শাকুর - খুলনা

৪৭২৪. প্রশ্ন

একদিন আমার আম্মা নামায আদায় করছিলেন। তিনি যখন তাশাহহুদের বৈঠকে ছিলেন তখন আমার এক ছোট বাচ্চা তাঁর কোলে গিয়ে বসে পড়ে। বাচ্চার গায়ের জামা-কাপড় পেশাবে ভেজা ছিল। বাড়ীতে কেউ কেউ বলছে, নাপাকিসহ বাচ্চা তাঁর কোলে বসে পড়ায় নামায নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, নাপাকি তো তাঁর নিজের কাপড়ে ছিল না। তো এ অবস্থায় কি আসলেই তাঁর নামাযের কোনো ক্ষতি হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শিশুটির কাপড়ের নাপাকী থেকে যদি আপনার আম্মার কাপড় ভিজে না যায় তাহলে বাচ্চা কোলে বসার দ্বারা তাঁর নামায নষ্ট হয়নি। কারণ এক্ষেত্রে নাপাক বহনকারী হল বাচ্চা। নামায আদায়কারীর শরীর এবং কাপড় সবই পাক। তার কোনো কিছুই নাপাক নয়। আবার সে নাপাক বহনকারীও নয়। তাই তার নামায নষ্ট হয়নি। কিন্তু যদি শিশুটির জামার ভেজা থেকে আপনার মায়ের কাপড়ও ভিজে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে তাঁর নামায নষ্ট হয়ে যাবে।

-মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/১৭১; ফাতহুল কাদীর ১/১৭৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৫২; আলবাহরুর রায়েক ১/২২৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৪৭; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৭৪

শেয়ার লিংক

মিসবাহুদ্দীন - কুষ্টিয়া

৪৭২৩. প্রশ্ন

ক. আমি গত রমযান মাসে তারাবীহর পড়া ভালোভাবে ইয়াদ করার জন্য মসজিদে বসে তিলাওয়াত করি। কখনো মসজিদের ভেতরে হেঁটে হেঁটে তিলাওয়াত করি। এখন প্রশ্ন হল একটি সিজদার আয়াত মসজিদের ভেতরে হেঁেট হেঁেট বারবার পড়ার কারণে আমার উপর কি একাধিক সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হবে? নাকি একটিই ওয়াজিব হবে?

খ. গোসল ফরয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলেও কি সিজদা ওয়াজিব হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

ক. মসজিদের ভেতরে বা কোনো ঘরে হেঁটে হেঁটে একটি সিজদার আয়াত বারবার পড়লে একটি সিজদাই ওয়াজিব হয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এভাবে একটি সিজদার আয়াতই পড়ে থাকলে একটি সিজদাই আদায় করতে হবে।-ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ পৃ. ১৪; ফাতহুল কাদীর ১/৪৭৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৩৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৭১; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৫

খ. গোসল ফরয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলেও সিজদা ওয়াজিব হয়। তবে হায়েয-নেফাস অবস্থায় শুনলে ওয়াজিব হয় না। বিখ্যাত তাবেয়ী হাম্মাদ ও সাইদ বিন জুবাইর রাহ. বলেন- জুনুবী ব্যক্তি সিজদার আয়াত শুনলে গোসল করে সিজদা করে নেবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, বর্ণনা ৪৩৪৬)  -কিতাবুল আছল ১/২৭২; ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ পৃ. ১৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫০১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০৭

শেয়ার লিংক

তালীব রহমান - উত্তরা, ঢাকা

৪৭২২. প্রশ্ন

আমরা জানি, নফল নামায শুরু করার পর ভেঙে ফেললে তা কাযা করতে হয়। এখন যদি কেউ মাকরূহ ওয়াক্তে নফলের নিয়ত বাঁধার পর কোনভাবে বুঝতে পেরে নামায ছেড়ে দেয় তাহলে কি এই নফলেরও কাযা করতে হবে? এ জিজ্ঞাসার কারণ, এ সময় তো এমনিতেই নামায পড়া অনুচিত ছিল। জানালে খুব উপকার হয়।

উত্তর

হাঁ, মাকরূহ ওয়াক্তে নফল শুরু করে ভেঙে ফেললেও তা কাযা করতে হবে। কেননা নফলের কাযা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে মাকরূহ ওয়াক্তে শুরু আর সাধারণ ওয়াক্তে শুরুর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। অতএব পরবর্তীতে সাধারণ সময়ে (মাকরূহ নয় এমন ওয়াক্তে) তা কাযা করে নিতে হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১/২০৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৪৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৫

শেয়ার লিংক

শাকের হুসাইন - সদর, সিলেট

৪৭২১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার বৃদ্ধরা বলে থাকেন, কেউ যদি দুআয়ে কুনূত না পারে তাহলে সে ঐ সময় তিনবার সূরা ইখলাস পড়ে নিবে। মুফতী সাহেবের নিকট আমার প্রশ্ন হল, তাদের উক্ত কথা সহীহ কি না?

উত্তর

দুআ কুনূত জানা না থাকলে

 رَبّنَا آتِنَا فِي الدّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّار পড়বে। অথবা اللّهُمَّ  اغْفِرْ لِيْ তিন বার পড়বে।

কিন্তু এক্ষেত্রে সূরায়ে ইখলাস পড়ার কথাটি সহীহ নয়। কারণ এটি দুআর স্থান। সূরা কিরাত পড়ার স্থান নয়।

উল্লেখ্য যে, যার দুআয়ে কুনূত জানা নেই তার উচিত দ্রুত দুআয়ে কুনূত শিখে নেওয়া।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৬৯৬৬; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/৮৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৪৪; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৮৪; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৫/২৩৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল বাসেত - মোহাম্মাদ নগর, খুলনা

৪৭২০. প্রশ্ন

জুমার পরের সুন্নত আমি সাধারণত চার রাকাত পড়ি। একদিন চার রাকাত পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এক আলেম বললেন, জুমার পরের সুন্নত ছয় রাকাত পড়া উত্তম। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আসলেই কি জুমার পরে ছয় রাকাত পড়া উত্তম? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

উক্ত আলেম ঠিকই বলেছেন। জুমার পরে প্রথমে চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা পড়ার পর ভিন্ন সালামে দুই রাকাত পড়া সুন্নত। তবে অনেক ফকীহের মতে এ দু’রাকাত সুন্নতে গায়রে মুআক্কাদার অন্তর্ভুক্ত।

-শরহু মাআনিল আছার ১/২৩৪; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৫৭; ফাতহুল কাদীর ২/৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩৪; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/১০৭; এলাউস সুনান ৭/১৭

শেয়ার লিংক

নাজমুল হাসান - লালমনিরহাট

৪৭১৯. প্রশ্ন

আমি মাঝে মাঝে তাবলীগে যাই। কখনো কখনো আমাদের জামাতের রোখ প্রত্যন্ত গ্রামে পড়ে। গ্রামের মসজিদগুলোতে সাধারণত অযু-গোসলের ব্যবস্থা মসজিদ থেকে একটু দূরে থাকে। সেখানে মাঝ রাতে যদি গোসলের প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে করণীয় কী? কারণ এমন জায়গায় গভীর রাতে একা একা বের হয়ে গোসল করে নেওয়াটা কঠিন। দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

মসজিদে অবস্থানকারী ব্যক্তি গোসলের প্রয়োজন দেখা দেওয়ার পর কোন ওজরের কারণে মসজিদ থেকে বের হতে না পারলে সে তায়াম্মুম করে নিবে। পরবর্তীতে সুযোগ হওয়া মাত্রই বিলম্ব না করে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাবে। এবং গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করবে।

-হালবাতুল মুজাল্লী ১/১৯৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৭২; কেফায়াতুল মুফতী ৩/৪০৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ মীযানুর রহমান - রাজবাড়ী

৪৭১৮. প্রশ্ন

বাচ্চার পেশাবের বেশ কিছু কাঁথা-কাপড় মেঝেতে রাখা ছিল। একবার করে হালকাভাবে ধুয়ে শুধু বড় আকারের নাপাকির গন্ধ ও চিহ্ন দূর করা হয়েছিল। পুরোপুরি পাক করা হয়নি। ঐ নাপাক কাপড়ের পানি মেঝেতে লেগে বেশ খানিকটা জায়গা ভেজা মতোন হয়ে যায়। ঘর অপরিসর হওয়ায় ঐ জায়গা ছাড়া নামায পড়ার মতো আর জায়গাও নেই। এদিকে সময় এত অল্প যে, ঐ জায়গা মুছে পাক করতে গেলে নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ঐ মেঝেতে জায়নামায বিছিয়ে নামায পড়লে কি নামায সহীহ হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ নাপাক জায়গা যদি শুকনো থাকে, ফলে জায়নামায বিছানো দ্বারা যদি তা ভিজে না ওঠে তাহলে সেখানে জায়নামায বিছিয়ে নামায পড়া যাবে। আর যদি জায়গা পুরো শুকনো না হয় এবং জায়নামায বিছালে জায়নামায এভাবে ভিজে যায় যে, তাতে নাপাকির স্পষ্ট গন্ধ পাওয়া যায় তাহলে সেক্ষেত্রে ঐ জায়নামাযে নামায পড়া যাবে না।

-ফাতহুল কাদীর ১/১৬৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৩৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৩২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৭

শেয়ার লিংক

আবদুর রউফ - কুমিল্লা

৪৭১৭. প্রশ্ন

আমাদের এক আত্মীয়ের দুই চোখে অপারেশন হয়েছে। বেশ বড় ধরনের অপারেশন। সাত দিনের আগে ব্যান্ডেজ খোলা হবে না এবং খোলার পর এক মাস পর্যন্ত ডাক্তার চোখে পানি লাগাতে নিষেধ করেছে। এমন অবস্থায় তার অযুর বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

যতদিন ব্যান্ডেজ লাগানো থাকে, কিংবা চোখের অংশ ভেজাতে চিকিৎসক নিষেধ করে থাকেন ততদিন স্বাভাবিক নিয়মে অযু করে শুধু ব্যান্ডেজের ওপরে বা চোখের অংশে মাসাহ করবে (ভেজা হাতের পরশ বুলাবে)। আর চেহারার বাকি অংশ ধোয়া সম্ভব হলে ধোবে। তবে যদি চেহারার বাকি অংশ ধুতে গেলে চোখের ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে এবং অভিজ্ঞ ডাক্তার তা ধুতে নিষেধ করেন তাহলে পূর্ণ চেহারাই মাসাহ করবে। আর চোখের অংশ মাসাহ করা যদি ক্ষতিকর হয় তাহলে ঐ অংশ মাসাহ না করলেও চলবে। এক্ষেত্রে অযুর অন্যান্য অঙ্গ যেহেতু ধুতে সক্ষম তাই চেহারা ছাড়া অযুর বাকি কাজ যথানিয়মে করবে এবং শুধু চেহারা মাসাহ করবে।

প্রকাশ থাকে যে, চোখ বা চেহারা ধোয়া যাবে না- শুধু এ কারণে তায়াম্মুম করা জায়েয হবে না।

-আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ১/২২৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৩৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫৮; আলবাহরুর রায়েক ১/১৬৩; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৮১, ১০২

শেয়ার লিংক

মামুনুর রহমান - সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা

৪৭১৬. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার এক চাচা ইন্তেকাল করেছেন। ইন্তেকালের পূর্বে তিনি তার বড় ছেলেকে অসিয়ত করে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার ফুফার কাছে এক লক্ষ টাকা পাই। আমার মৃত্যুর পরে এ টাকার কিছু অংশ গ্রামের এতিমখানায় দিয়ে দিবে। আর বাকি টাকা দিয়ে চল্লিশতম দিনে কুলখানী করবে। জানাযার পরে আমাদের এলাকার ইমাম সাহেবের নিকট বিষয়টি পেশ করলে তিনি বললেন, শরীয়তে কুলখানী করা বৈধ নয়।

মুহতারাম মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই,

১. ইমাম সাহেবের কথা কি ঠিক?

২. যদি ঠিক হয়, তাহলে এখন আমরা আমার চাচার এ অসিয়ত কীভাবে আদায় করব?

উত্তর

বর্তমানে আমাদের সমাজে কুলখানী বলতে যা প্রচলিত সাধারণত তা নির্দিষ্ট দিন-তারিখে মায়্যেতের জন্য দুআ করিয়ে মিষ্টি বা খাবারের আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হয়। এটি একটি ভুল প্রথা, যা সংশোধনযোগ্য। ক্ষেত্র বিশেষে এতে গরীব-মিসকিনদের চেয়ে ধনীরাই বেশি আমন্ত্রিত হয়ে থাকে। কোথাও এর সাথে আরো শরীয়তনিষিদ্ধ কাজ যুক্ত হয়। তাই এ পদ্ধতি ঠিক নয়। আপনারা এভাবে কুলখানী না করে এক লক্ষ টাকার অংশবিশেষ এতিমখানায় প্রদানের পর বাকি অংশ চাইলে গরীব-মিসকিনদের দান করে দিতে পারেন।

উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে প্রথমে কাফন-দাফনের খরচ নির্বাহ করা হবে। এরপর তার কোনো ঋণ থাকলে অবশিষ্ট সম্পদ থেকে তা পরিশোধ করতে হবে। এরপর যা সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে এর এক তৃতীয়াংশ থেকে তার যদি কোনো বৈধ অসিয়ত থাকে তবে তা আদায় করা হবে।

-ফাতাওয়া বাযযাযিয়াহ ৪/৮১; আলমাবসূত, সারাখসী ২৮/৮৮; রদ্দুল মুহতার ২/২৪০, ৬/৬৭০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাসীম রিয়াজ - মুরাদনগর, কুমিল্লা

৪৭১৫. প্রশ্ন

১. আমাদের সমাজে প্রচলন আছে যে, মৃত ব্যক্তির জন্য ৭০ হাজার বার কালিমা তায়্যেবা পড়লে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়।

আবার কেউ কেউ নিজ জীবদ্দাশায় এ উদ্দেশ্যে ৭০ হাজার বার কালিমা পড়ে। তবে কেউ মারা গেলে তার কবরের আযাব মাফ হওয়ার জন্য পড়ার রেওয়াজটা  বেশি। মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা হল, এটি হাদীসে আছে কি না? আর এ আমল করলে কি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?

২. আমাদের এলাকায় একথা প্রসিদ্ধ যে, যদি কোনো ব্যক্তির হাত থেকে অনিচ্ছায় ও ভুলবশত কুরআন শরীফ পড়ে যায়, তাহলে তা ওজন করে চাল বা গম ইত্যাদি সদকা করতে হয়। এ কথাটি মহিলাদের মাঝে বেশি প্রসিদ্ধ। তাই জানতে চাচ্ছি, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা কেমন?

আর আল্লাহ না করুন, কখনো এমনটি হয়ে গেলে আমাদের করণীয় কি?

দয়া করে প্রশ্ন দুটির শরয়ী সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন। আল্লাহ আপনাদের উত্তম বিনিময় দিন।

উত্তর

১. প্রশ্নোক্ত কথাটি সহীহ নয়। বরং এটি লোকমুখে প্রচলিত একটি কথা। যার কোনো দালীলিক ভিত্তি নেই। শায়েখ ইবনে তাইমিয়া রাহ.-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি সহীহ বা যয়ীফ কোনো সনদেই বর্ণিত নেই।’ -মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ২৪/৩২৩

প্রকাশ থাকে যে, কালিমা তায়্যেবা পাঠ করা অনেক বড় সওয়াবের কাজ এবং হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী এটি উত্তম যিকির। একাধিক হাদীসে এ কালিমা পাঠের বহু ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। এক হাদীসে এসেছে-

مَنْ قَالَ لَا إِلهَ إِلّا اللهُ صَادِقًا بِهَا دَخَلَ الْجَنّةَ.

‘যে ব্যক্তি এখলাসের সাথে لَا إِلهَ إِلّا اللهُ পাঠ করবে সে জান্নাতে যাবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৯৬৮৯; শরহু মুশকিলিল আছার, হাদীস ৪০০৩)

তাই নিজে কালিমা তায়্যেবা পাঠ করা কিংবা কোনো মৃত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াবের জন্য পাঠ করা ভালো কাজ। কিন্তু  প্রশ্নোক্ত সংখ্যা ও পদ্ধতির কোনো দালীলিক ভিত্তি নেই। তাই  এ পদ্ধতি বর্জনীয়।

২. কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে তা ওজন করে চাল বা গম দেওয়ার কোনো বিধান শরীয়তে নেই; বরং সদকা দেওয়ার উদ্দেশ্যেও এক্ষেত্রে কুরআন মাজীদ ওজন করা একধরনের বেআদবী। কখনো অনিচ্ছাকৃত এমনটি হয়ে গেলে আল্লাহ তাআলার দরবারে ইসতেগফার করে নিবে। আর এক্ষেত্রে কুরআন মাজীদ ওজন না করে কেউ এমনিতেই কোনো কিছু সদকা করতে চাইলে তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৬০

শেয়ার লিংক

তামীম আহমাদ - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

৪৭১৪. প্রশ্ন

শরীয়তের দৃষ্টিতে ছেলেদের খতনা করার হুকুম কী? ছোটকালে যদি কারো খতনা না করা হয়ে থাকে তাহলে বড় হওয়ার পরও কি খতনা করানো আবশ্যক? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ছেলেদের খতনা করানোর বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইসলামের শীআরের অন্তর্ভুক্ত। তাই বালেগ হওয়ার পূর্বেই ছেলেদের খতনা করিয়ে নেওয়া উচিত। অবশ্য কোনো কারণে যদি ছোটবেলায় খতনা না করা হয় আর এমতাবস্থায় বালেগ হয়ে যায় তাহলে বালেগ হওয়ার পরও খতনা করাতে হবে। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে যে, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ وَاخْتَتِنْ.

তোমার থেকে কুফুরীর চুল কেটে ফেল এবং খতনা কর। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৬০)

-মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/২৭১; রদ্দুল মুহতার ৬/৭৫১-৭৫২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৭; ইমদাদুল আহকাম ৪/৪২৮

শেয়ার লিংক

হাফেয শাহাদত করীম - কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

৪৭১৩. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কারো মৃত্যু হলে দূর-দূরান্ত থেকে আগত লোকদের জন্য মেহমানদারির ব্যবস্থা করা হয়। এবং জানাযার নামাযের পূর্বে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাদেরকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া হয়। এবং খাবার না খেয়ে চলে না যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে

অনুরোধ করা হয়।

কিছুদিন আগে এক জানাযার পূর্বে মৃতের ছেলে এভাবে বললে স্থানীয় ইমাম সাহেব মাইক হাতে নিয়ে রাগতস্বরে বলেন, মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজন করা বিদআত। এটা পরিহার করতে হবে। শরীয়তের নিয়ম হল, অন্যরা মায়্যেতের বাড়িতে খাবার পাঠাবে। তার ঘরে আগুন জ¦লবে না। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হযরত মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক নির্দেশনা কী? কেউ যদি অন্যদের চাপাচাপিতে বাধ্য হয়ে খাবারে শরীক হয় তবে কি সে গুনাহগার হবে?

উত্তর

জানাযায় শরীক লোকদের জন্য মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজন করা একটি গলদ প্রথা, যা বর্জন করা জরুরি। অবশ্য কেউ যদি অনেক দূর থেকে জানাযার জন্য আসে। তবে তার মেহমানদারি করা ভিন্ন বিষয়। আর ‘মৃতের ঘরে’ আগুন জালানোই যাবে না এ কথাটি ঠিক নয়। মৃতের পরিবার সর্বাবস্থায় নিজেদের প্রয়োজনে তাদের চুলায় রান্না-বান্না করতে পারবে। অবশ্য আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কর্তব্য মৃতের বাড়ীতে মৃত্যুর দিন অন্তত খানা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। হাদীসে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৬১২; ফাতহুল কাদীর ২/১০২; আলমুগনী, ইবনে কুদামাহ ৩/৪৯৬; ইলাউস সুনান ৮/৩৩০; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৮৩

শেয়ার লিংক

মোস্তফা জব্বার - কানাইঘাট, সিলেট

৪৭১২. প্রশ্ন

আমার আব্বুর এক ব্যক্তির সাথে খুবই আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে আব্বু আমাদের নিয়ে তাকে দেখতে যান। তিনি আব্বুকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে যান। এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার জীবনে আব্বুর বিভিন্ন অবদানের কথা স্মরণ করে আব্বুকে তার পেনশনের টাকা ওঠানোর পর এ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। উপস্থিত ছেলেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা  আব্বুকে দিবে বলে জানায়। কিন্তু এর সপ্তাহখানেক পরই হঠাৎ আব্বু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এর কিছুদিন পর আব্বুর ঐ বন্ধুও মারা যান।

কয়েক মাস পর আমরা মৃতের ছেলেদের সাথে ওসিয়তের টাকার জন্য যোগাযোগ করলে তারা বলে, আমরা এ টাকা আঙ্কেলের নামে সদকা করে দিয়েছি। আব্বু তো তোমাদের জন্য ওসীয়ত করেননি। আঙ্কেলের জন্যই ওসীয়ত করেছিলেন।

হযরত মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা হল, আব্বুর নামে ওসিয়তকৃত টাকা আমাদের প্রাপ্য ছিল কি না? আমাদের না জানিয়ে এভাবে সদকা করে দেওয়া কি জায়েয হয়েছে?

উত্তর

যার জন্য ওসিয়ত করা হয়েছে তিনি যদি ওসিয়তকারীর আগে মারা যান তাহলে ওসিয়তটি বাতিল হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু আপনার বাবা তার ওসিয়তকারী বন্ধুর আগেই মারা গিয়েছেন তাই তার জন্য কৃত ওসিয়তটি বাতিল হয়ে গিয়েছে। ওসিয়তকৃত টাকায় তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং উত্তরাধীকারী হিসাবে আপনারাও এর মালিক হননি। তাই আপনারা ঐ টাকার দাবি করতে পারবেন না।

সুতরাং ওসিয়তকারীর ছেলেদের জন্য তা সদকা করে দেওয়া অন্যায় হয়নি।

-বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪১৭; আলবাহরুর রায়েক ৮/৪৫৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৯৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হুসাইন - মুসলিম বাজার, ভোলা

৪৭১১. প্রশ্ন

আমি ভার্সিটির ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করি। টিউশনি থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে প্রয়োজন পূর্ণ করার পর অবশিষ্ট টাকা ব্যাংকে জমা করি। এভাবে ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে। তিন মাস আগে মামার একটি বিপদে সে টাকাগুলো তাকে ঋণ দিয়েছি। বর্তমানে আমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো সম্পদ নেই। কুরবানীর আগের জুমায় খতীব সাহেব মাসআলা বলেছেন, কেউ যদি ৪০ হাজার টাকা বা সে পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। তার কাছে যদি নগদ টাকা না থাকে তাহলে কিছু সম্পদ বিক্রি করে বা ঋণ নিয়ে হলেও কুরবানী দিতে হবে।

প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় আমার উপর কি কুরবানী ওয়াজিব? খতীব সাহেবের কথা অনুযায়ী আমাকে ঋণ নিয়ে কুরবানী করতে হবে? দ্রুত মাসআলাটির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার কর্তব্য মামার কাছ থেকে এ পরিমাণ টাকা ফেরত চাওয়া যা দিয়ে আপনি একটি কুরবানী আদায় করতে পারবেন। যদি তিনি তা দেন তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। আর যদি  তিনি তা না দেন আর আপনার কাছে কোনো জায়গা থেকে কুরবানীর সমপরিমাণ টাকা হস্তগতও না হয় তাহলে কুরবানীর শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। শেষ পর্যন্ত যদি কুরবানী দেওয়ার মত কোনো সম্পদ আপনার হাতে না থাকে তাহলে আপনাকে ঋণ নিয়ে কুরবানী করতে হবে না। কেননা এক্ষেত্রে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। খতীব সাহেব যে মাসআলা বলেছেন তা প্রয়োজন অতিরিক্ত অন্য সম্পদ থাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬; ফাতাওয়া বাযযাযিয়াহ ৬/২৮৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ - সদর, সিলেট

৪৭১০. প্রশ্ন

আমার আব্বু এক দোকানির কাছে একটি স্টিলের আলমারির অর্ডার করেন। সে ১৫ তারিখে ডেলিভারি দিতে চায়।  পরে ৭ তারিখে সে ফোনে আব্বুকে বলে যে, আলমারী প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে চাইলে নিয়ে যেতে পারবেন। আব্বু ব্যস্ততার কারণে ঐ দিন যেতে পারেননি। ১০ তারিখ তা আনতে গেলে জানতে পারেন যে, সে অতিরিক্ত দাম পেয়ে অন্যত্র তা বিক্রি করে দিয়েছে। এতে আব্বু রেগে যান। সে আব্বুকে পনের তারিখের ভিতর আরেকটি বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। আব্বু এতে রাজি হননি এবং তার কাছ থেকে আর আলমারি নিবেন না বলে জানিয়ে দেন। মুফতী সাহেবের কাছে আমার জিজ্ঞাসা হল, দোকানির জন্য এভাবে অর্ডারী বস্তু বিক্রি করা বৈধ হয়েছে কি না? এক্ষেত্রে পূর্ব নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা কি তার জন্য হালাল হবে? আর শুধু এ কারণে আব্বুর তার সাথে চুক্তি বাতিল করা কি ঠিক হয়েছে?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বাবাকে ফোন করে আলমারি নিয়ে যাওয়ার কথা বলার পর তা অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া ঠিক হয়নি। দোকানির জন্য আপনার বাবার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত ছিল। এখন তার নৈতিক দায়িত্ব হল, আপনার বাবার কাছে এ ভুলের কারণে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। অবশ্য আপনার বাবা যেহেতু তখনো আলমারিটি দেখে চূড়ান্ত করেননি তাই আপনার বাবা সেটির মালিক হয়ে যাননি এবং এক্ষেত্রে পূর্ব নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে অন্যত্র বিক্রি করাও তার জন্য নাজায়েয হয়নি।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৯৫; আলবাহরুর রায়েক ৬/১৭১; আদ্দুররুল মুখতার ৫/২২৫

শেয়ার লিংক

ওমর ফারুক - মধ্যবাড্ডা, ঢাকা

৪৭০৯. প্রশ্ন

আমার কাকা বিদেশ থাকেন। তিনি টাকা-পয়সা আমার ব্যাংক একাউন্টে পাঠান। তিনি এ টাকা আমার একাউন্টে আমানত হিসাবে রাখেন।  ঐ টাকা আমার একাউন্টে দীর্ঘদিন থেকে যায়। ফলে আমি কাকার অনুমতি নিয়ে ঐ টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা আমার ব্যবসায় খরচ করি। এতে আমার কিছু লাভ হয়। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে আমার ব্যবসায় বিপুল পরিমাণে লস হলে মূলধনেরও অনেক ক্ষতি হয়। যার ফলে অনেকদিন ব্যবসা বন্ধ থাকে।

এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার কাকা যেহেতু ঐ টাকা  আমার একাউন্টে আমানত হিসাবে রেখেছেন এবং আমি তার অনুমতি নিয়েই তা ব্যবসায় খরচ করেছি। আমাকে কি ঐ টাকা কাকাকে ফিরিয়ে দিতে হবে?  জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার কাকার টাকা তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। কেননা আপনার কাকা ঐ টাকা প্রথমে আমানত হিসাবে রাখলেও পরবর্তীতে যেহেতু তার অনুমতি নিয়েই আপনি তা নিজ ব্যবসায় লাগিয়েছেন তাই তা আর আমানত থাকেনি। বরং ঐ টাকা আপনার জিম্মায় করজ হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসায় লাভ-লোকসান যাই হোক আপনাকে মূল টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৬/৫৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৮৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৬০; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/১৪৪

শেয়ার লিংক

শামীম আহমদ চৌধুরী - কুলাউড়া, সিলেট

৪৭০৮. প্রশ্ন

মুহতারাম মুফতী সাহেব, আমি একজন সিঙ্গাপুর প্রবাসী। সেখানে আমি একটি কোম্পানীর অধীনে শ্রমিক হিসাবে কাজ করি। অধিকাংশ সময় আমাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেই কাজ করতে হয়। তাই অনেক সময় বিভিন্ন ব্যাংকের নতুন শাখার ইলেকট্রিকের পুরো কাজও করে থাকি। সেখানে এটিএম বুথ ও কম্পিউটারের ফিটিংসহ যাবতীয় ইলেকট্রিকের কাজও করতে হয়। তাই জানার বিষয় হল; সুদী ব্যাংকে শ্রমিক হিসাবে ইলেকট্রিকের কাজ করা কি শরীয়তসম্মত? এবং এর দ্বারা উপার্জিত আয়ের হুকুম কী?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনায় মনে হচ্ছে আপনার কাজ হল বৈদ্যুতিক আসবাব পত্র ও মেশিনারিজ ঠিক করা। সে হিসাবে আপনি এটিএম বুথ বা কম্পিউটার সামগ্রীও মেরামত করে থাকেন। এগুলো ব্যাংকের পণ্য হলেও তা সরাসরি সুদী লেনদেনের সাথে সম্পৃক্ত নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৪৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/১৩২; ইমদাদুল আহকাম ৩/৫৫১

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement