তন্নি আক্তার - বসিলা, ঢাকা

৪৮৪৫. প্রশ্ন

আমরা দুই ভাই এক বোন। আমার বাবা নেই। উভয়েই কাপড়ের ব্যবসা করেন। আমি ইন্টার পাশ করার পর তারা আমার বিবাহের জন্য একটি ছেলেকে পছন্দ করেন। ছেলেটি দ্বীনদার না হওয়াতে আমি রাযি হইনি। এরপর আমার মামা (যার মাধ্যমে আমি দ্বীনের বুঝ পেয়েছি) আমার জন্য একটি দ্বীনদার পাত্র ঠিক করেন, যার অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের থেকে কিছুটা দুর্বল। আমার বড় ভাইয়ের সম্মতিতে তার সাথে মহরে মিছিলে আমার বিবাহ হয়। এসময় আমার ছোট ভাই ব্যবসায়ী কাজে ইন্ডিয়াতে ছিলেন। আকদের দুই দিন পরে ইন্ডিয়া থেকে আসেন এবং বলেন আমি এই বিয়েতে রাযি নই। কারণ তারা আমাদের থেকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। এ বিষয়ে তিনি অনেক কঠোরতা করেছেন। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ছোট ভাইয়ের সম্মতি ছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকে গাইরে কুফুর মধ্যে বিবাহ হওয়ার দ্বারা কি আমাদের বিবাহ সহীহ হয়েছে? শরয়ীভাবে আমার ছোট ভাই কি আমাদের বিবাহ ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার রাখে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনাদের বিবাহ সহীহ হয়েছে। এক্ষেত্রে বড় ভাই ওলি হিসেবে তার সম্মতি আছে এবং কুফুর মধ্যে বিবাহ হয়েছে। সুতরাং ছোট ভাইয়ের জন্য এ বিয়েতে আপত্তি করা অন্যায় হবে। তার কর্তব্য এ বিবাহ মেনে নেওয়া।

প্রকাশ থাকে যে, মেয়ের তুলনায় ছেলের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হলেও মহরে মুআজ্জাল (المهر المعجل)  তথা মহরের নগদ আদায়যোগ্য অংশ ও ভরণ-পোষণের সামর্থ্য রাখলে ‘কুফু ফিল মাল’ (অর্থনৈতিক দিক থেকে সমতা) পাওয়া গেছে বলে ধর্তব্য হয়। তাই প্রশ্নোক্ত বিবাহটি কুফুর ভেতরই হয়েছে। তাছাড়া গাইরে কুফুতে যদি কোনো ওলির সম্মতিতে বিবাহ হয়ে যায় অন্য ওলিদের জন্য উক্ত বিবাহ বিচ্ছেদ করার অধিকার থাকে না। তাই বড় ভাইয়ের সম্মতিতে যে বিবাহ হয়েছে তা ছোট ভাইয়ের জন্য ভেঙ্গে দেয়ার সুযোগ নেই।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৪/২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৯১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৫১; আলবাহরুর রায়েক ৩/১২৯; মাজমাউল আনহুর ১/৫০৫; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশিক - কুষ্টিয়া

৪৮৪৪. প্রশ্ন

মুহতারাম, দুই বছর আগে রমযানে ‘ইসলামিক নলেজ’ নামের একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আমি ১ম স্থান অধিকার করি। পুরস্কার স্বরূপ সে বছর আমাকে হজে¦ নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। এখন আমার হজ্ব করার সামর্থ্য আছে। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় কি আমার জন্য পুনরায় হজ্ব করা আবশ্যক?

উত্তর

আপনি যদি হজে¦র ইহরামের সময় নফল হজে¦র নিয়ত না করে থাকেন; বরং সাধারণ নিয়তেই হজ্ব করে থাকেন তবে তা দ্বারাই আপনার ফরয হজ্ব আদায় হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সামর্থ্যবান হওয়ার পর আপনার জন্য পুনরায় হজ্ব করা আবশ্যক হবে না। তবে আপনি চাইলে নফল হজ্ব আদায় করতে পারেন।

-ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৭৭; আলবাহরুল আমীক ১/৩৭৬; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী, পৃ. ৬৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন হিশাম - খুলনা, বাগেরহাট

৪৮৪৩. প্রশ্ন

আল্লাহ তাআলার তাওফীকে আমি গত বছর হজ্বে গিয়েছিলাম। এর আগে একবার উমরা করেছি। সামনে রমযানেও উমরা করার ইচ্ছা আছে। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, অনেক সময় তাওয়াফ ও সাঈর চক্কর নিয়ে সন্দেহ হয় যে, কয়টি চক্কর হল। তো তাওয়াফ ও সাঈর চক্করের ব্যাপারে সন্দেহ হলে কী করণীয়? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

তাওয়াফ ও সাঈ আদায়কারীর কয় চক্কর হয়েছে এ নিয়ে যদি সন্দেহ হয়, তাহলে কম সংখ্যাটি ধরে নিয়ে সাত বার পূর্ণ করবে।

উল্লেখ্য যে, গণনার সুবিধার্থে ৭ দানার তাসবীহ হাতে রাখতে পারবেন।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ১৩৫২৪; আলবাহরুল আমীক ২/১২৩০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৬; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী, পৃ. ১৬৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবরাহীম - মুহাম্মাদ নগর, খুলনা

৪৮৪২. প্রশ্ন

গত বছর আব্বা ও আম্মাকে নিয়ে হজ্বে গিয়েছিলাম। আব্বা অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। মুআল্লিম সাহেব হজ্বের নিয়মাবলী বলে দেওয়ার পরও আব্বা অনেক কিছু ভুলে গিয়েছিলেন। ১০ তারিখ কংকর মারার সময় আব্বা দুটি কংকর একসাথে মেরেছিলেন।

মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, কংকর মারার সময় যদি দুইটি বা তিনটি কংকর একসাথে নিক্ষেপ করে ফেলে তাহলে করণীয় কী? এটার কারণে কোনো জরিমানা আসবে কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

জামরায় কংকর মারার সময় প্রত্যেক কংকর পৃথকভাবে নিক্ষেপ করা আবশ্যক। একাধিক কংকর একত্রে নিক্ষেপ করলে একটি কংকর মারা হয়েছে বলে ধর্তব্য হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার আব্বা যেহেতু একসাথে দুইটি কংকর নিক্ষেপ করেছেন, তাই এ দুটি মিলে একটি কংকর মারা হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। এক্ষেত্রে তার করণীয় ছিল, আরো একটি কংকর নিক্ষেপ করা। কিন্তু তিনি যদি এমনটি না করে থাকেন, তাহলে তাকে এজন্য একটি ফিতরা পরিমাণ সদকা আদায় করতে হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৬৬; ফাতহুল কাদীর ২/৩৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩২৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৪৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৫৩০; আলবাহরুল আমীক ৩/১৬৭৬; গুনয়াতুন নাসিক, পৃ. ১৮৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশিক - মিরপুর

৪৮৪১. প্রশ্ন

আমি একজনকে মাসে ১৫ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া দিই। সে ৫০ হাজার টাকা এ্যাডভান্স দেয়। এরপর গত দুই বছর ধরে তার থেকে বাসা ভাড়া আদায় করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আমার ছেলে অনেক কষ্টে তার থেকে দুই বছরের বাসা ভাড়া বাবদ তিন লক্ষ দশ হাজার টাকা উসূল করতে সক্ষম হয়।

মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই টাকাগুলোর যাকাতের বিধান কী? আমাকে কি এই টাকাগুলোর বিগত দুই বছরের যাকাত দিতে হবে?

উল্লেখ্য যে, উক্ত টাকা ছাড়া আমার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।

উত্তর

বাসা ভাড়া বাবদ আপনি যে তিন লক্ষ দশ হাজার টাকা পেয়েছেন সেগুলোর বিগত বছরের যাকাত দিতে হবে না। বরং এই টাকাগুলো পাওয়ার পর যাকাতবর্ষ পূর্ণ হলে তখন যা থাকবে তার যাকাত আদায় করতে হবে।

-শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/৩৪১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমীর - রাজবাড়ি

৪৮৪০. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার ব্যবসায় লস হয়। ফলে আমি কিছুটা আর্থিক সংকটে পড়ি। তবে আমার সংকট এমন ছিল না, যার কারণে আমি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হব। আমার ভগ্নিপতি বিষয়টি বুঝতে না পেরে সহায়তার নামে আমাকে যাকাতের টাকা প্রদান করে, যা আমি বোনকে গোপনে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি।

মুহতারামের নিকট প্রশ্ন হল, আমি এই টাকাগুলো কী করব?

উত্তর

বাস্তবে যদি আপনি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হন, তাহলে আপনার জন্য এই টাকা ভোগ করা জায়েয হবে না। এক্ষেত্রে আপনার কর্তব্য হল, টাকাগুলো আপনার ভগ্নিপতিকে ফেরত দেওয়া কিংবা তার পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যক্তিকে সদকা করে দেওয়া।

-ফাতহুল কাদীর ২/২১৪; আননাহরুল ফায়েক ১/৪৬৭; আলবেনায়াহ শরহুল হেদায়াহ ৪/২০৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩৫৩

শেয়ার লিংক

আহসানুল্লাহ - নড়িয়া, শরীয়তপুর

৪৮৩৯. প্রশ্ন

গত রমযানে আমাদের গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে আমরা আটজন ইতিকাফে বসি। পাশের জামে মসজিদে আমার দুই মামাও ইতিকাফে বসেন। আটাশ রমযানে সেই মসজিদে জুমার নামায পড়তে গেলে বড় মামা আমাকে জোর করে রেখে দেন। ফলে বাকি দুদিন সেখানে থেকে ইতিকাফ পূর্ণ করি। এক হুজুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে ইতিকাফ হয়ে যাবে বলে মত দেন। কিন্তু এ বিষয়ে খটকা রয়ে যায়। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন হল, এ বিষয়ে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ইতিকাফ সহীহ হয়ে গেছে। কেননা পাঞ্জেগানা মসজিদে ইতিকাফ শুরু করার পর জুমা আদায়ের প্রয়োজনে জামে মসজিদে গেলে এবং সেখানে থেকে গিয়ে বাকি দিনগুলোর ইতিকাফ পূর্ণ করলে ঐ ইতিকাফ আদায় হয়ে যায়। তবে ফকীহগণ শরয়ী প্রয়োজন (যেমন মসজিদ ভেঙে পড়া ইত্যাদি) ছাড়া এমন করা অনুত্তম বলেছেন।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১১৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮৩; ফাতহুল কাদীর ২/৩১০; আলইনায়া ২/৩১০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আসাদ - বরিশাল

৪৮৩৮. প্রশ্ন

গত রমযানে সেহরির পর তাড়াহুড়া করে পান খাওয়ার জন্য কামড় দিয়ে সুপারি ভাঙতে গিয়ে দাঁতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অনেকক্ষণ কুলি করার পর রক্ত পড়া বন্ধ হয়। পরবর্তীতে বেসিনে থুথু ফেললে তাতে হালকা রক্তের ভাব দেখতে পাই।

মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা, এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গিয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু থুথুর সঙ্গে রক্তের পরিমাণ কম ছিল তাই তা গিলে ফেলার কারণে আপনার রোযা নষ্ট হয়নি।

প্রকাশ থাকে যে, এক্ষেত্রে রক্তের পরিমাণ যদি বেশি থাকত অর্থাৎ থুথু যদি গাঢ় লাল হত তাহলে গলায় এ রক্ত চলে গেলে রোযা ভেঙ্গে যেত। সেক্ষেত্রে শুধু কাযা করা লাগত। কাফফারা নয়।

-খিযানাতুল আকমাল ১/৩২৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৪; ফাতহুল কদীর ২/২৫৮; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ১/২১৭

শেয়ার লিংক

আবুল কালাম - মুগদা, ঢাকা

৪৮৩৭. প্রশ্ন

জানাযার নামাযে হাত কখন ছাড়বে এ বিষয়ে জানতে চাচ্ছি। কেউ কেউ দেখি চতুর্থ তাকবীরের পর হাত ছেড়ে দেয়, তারপর সালাম ফেরায়। আর কেউ কেউ উভয় দিকে সালামের পর হাত ছাড়ে। আর মাঝে মাঝে কাউকে দেখি ডানদিকে সালাম ফেরানোর পর ডান হাত এবং বামদিকে সালাম ফেরানোর পর বাম হাত ছাড়ে। এ বিষয়ে সঠিক পদ্ধতিটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

জানাযার নামাযে কখন হাত ছাড়বে এ বিষয়ে ফকীহগণ থেকে দুটো মত পাওয়া যায়।

১. চতুর্থ তাকবীরের পর উভয় হাত ছেড়ে দিবে এরপর সালাম ফেরাবে।

২. উভয় দিকে সালাম ফেরানোর পর হাত ছাড়বে। দুটি মতই শুদ্ধ। যে কোনোটির উপর আমল করা যেতে পারে।

আর প্রশ্নে তৃতীয় যে পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ ডানদিকে সালাম ফিরিয়ে ডান হাত ছেড়ে দেওয়া এবং বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে বাম হাত ছাড়া তা  দলীলের নিরিখে সহীহ নয়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৫; আসসেআয়াহ ২/১৫৯; রদ্দুল মুহতার ১/৪৮৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫০৩; কেফায়াতুল মুফতী ৫/৩৫২

শেয়ার লিংক

আবদুল হক - যশোর

৪৮৩৬. প্রশ্ন

কিছু দিন আগে আমার এক চাচা বাসায় বেড়াতে আসেন। আসরের সময় একসঙ্গে মসজিদে যাই। যেতে দেরি হওয়ায় গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সালাম ফিরাচ্ছেন। তাই আমি মসজিদের এক পাশে গিয়ে নামায আদায় করি। নামায শেষে জানতে পারি, জামাতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে চাচা একজন মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে নামায আদায় করেছেন।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে তার নামায পড়া কি সহীহ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

মাসবুক ব্যক্তি নিজের ছুটে যাওয়া নামায আদায়ের সময়ও মুক্তাদীর হুকুমে থাকে। তাই মাসবুকের ইকতেদা করা সহীহ নয়। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচার ঐ আসরের নামায আদায় হয়নি। তাকে ঐ দিনের আসর নামায কাযা করে নিতে হবে।

-ফাতহুল কাদীর ১/৩৩৯; শরুহল মুনয়া, পৃ. ৪৬৭; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১১৩; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/৫৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - ঝিকোরগাছা, যশোর

৪৮৩৫. প্রশ্ন

আমি এক মসজিদের ইমাম। আমি জানি, সিজদার আয়াত যদি সূরার শেষে থাকে এবং সিজদার আয়াতের পর এক-দু আয়াত বাকি থাকে, তাহলে সূরা শেষ করে নামাযের রুকুর মাধ্যমে যদিও সিজদা আদায় হয়ে যায়, কিন্তু উত্তম হল, সিজদার আয়াত পড়ে ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়া।

এক্ষেত্রে মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়ার পর দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট এক-দু আয়াত পড়ে রুকু করবে? নাকি অন্য সূরা থেকে আরো কিছু আয়াত মিলিয়ে রুকু করবে?

আর যেসব সূরা সিজদার আয়াতের মাধ্যমে শেষ হয়, যেমন- সূরা ‘আলাক’। সেক্ষেত্রে যদি সূরা শেষ করে সিজদা করে এবং সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে কিরাত না পড়েই রুকু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করে তাহলে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি না? দলীলসহ উক্ত বিষয়গুলোর সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

নামাযে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করার পর দাঁড়িয়ে দুই/তিন আয়াত পড়ে রুকু করা মুস্তাহাব। এক্ষেত্রে পূর্বের সূরা শেষ হয়ে গেলে অন্য সূরা থেকেও পড়তে পারবে। তিলাওয়াতের সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে কোনো আয়াত না পড়েই রুকুতে চলে যাওয়া অনুত্তম। তবে কিছু না পড়ে রুকুতে গেলেও নামায হয়ে যাবে।

-কিতাবুল আছল ১/২৭৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৯২; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ২৬৪; রদ্দুল মুহতার ২/১১১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হুসাইন আহমদ - রামপুরা, ঢাকা

৪৮৩৪. প্রশ্ন

আমার বাড়ি খুলনায়। আমি ঢাকা রামপুরার এক মসজিদে ইমামতী করি। উভয় ঈদের খুতবার শুরুতে সাধারণত আমি তাকবীরে তাশরীক পড়ি না। তবে খুতবার মাঝে পড়ি। গত ঈদের আগে খুলনায় গিয়েছিলাম। ঈদের নামায আমাদের বাড়ির পাশে এক মসজিদে পড়ি। ইমাম সাহেব উভয় খুতবার শুরুতে কয়েকবার তাকবীর পড়েন। নামায শেষে ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, খুতবার শুরুতে এভাবে তাকবীর পড়া মুস্তাহাব।

মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, খুতবার শুরুতে তাকবীর বলার শরয়ী বিধান কী? বিস্তারিত দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

দুই ঈদের খুতবার শুরুতে বেশি বেশি তাকবীর পড়ার কথা বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে। যেমন উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ রাহ. বলেন-

السّنّةُ التّكْبِيرُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْعِيدِ، يَبْدَأُ خُطْبَتَهُ الْأُولَى بِتِسْعِ تَكْبِيرَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَخْطُبَ، وَيَبْدَأُ الْآخِرَةَ بِسَبْعٍ.

ঈদের দিন মিম্বরে (ইমামের) তাকবীর পাঠ করা সুন্নত। প্রথম খুতবার শুরুতে নয় বার ও দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে সাত বার তাকবীর বলবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৬৭৪, ৫৬৭২, ৫৬৭৩

আরো দেখুন, সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৩/২৯৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৯১৬, ৫৯১৭)

-কিতাবুল উম্ম, ইমাম শাফেয়ী ১/২৭৩; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৪৯; এলাউস সুনান ৮/১৬১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল - সিলেট

৪৮৩৩. প্রশ্ন

আমার জানামতে আমাদের সমাজে কিছু মানুষ যে কোনো ফরয নামায (বিশেষ করে ফজরের ফরয নামায)-এর জামাতে অনুপস্থিত থাকে। কারণ হিসাবে তারা বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় নামায আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করতেন এবং আবু দাউদ শরীফের একটি হাদীসে আছে, ‘যখন তোমাদের ইমামগণ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে তখন তোমরা নিজেরা উক্ত নামায ঘরে আদায় করবে। পরে তাদের সাথে মিলিত হলে পুনরায় জামাতে শরীক হবে। তা তোমাদের জন্য নফল।’

তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক এবং উক্ত কারণে জামাতে অনুপস্থিত থাকার গুনাহ হবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোল্লেখিত ব্যক্তিদের মসজিদের জামাত থেকে অনুপস্থিত থাকা এবং এর স্বপক্ষে উক্ত দলীল পেশ করা সহীহ নয়। আর সুনানে আবু দাউদের উক্ত হাদীসটি এক্ষেত্রে দলীল নয়। তাছাড়া মাগরিব ছাড়া প্রত্যেক নামাযেরই একটি মুস্তাহাব সময় রয়েছে। যা আওয়াল ওয়াক্ত থেকে কিছুটা পরে। যেমন, ফজরের নামায সম্পর্কে হযরত রাফে বিন খাদিজ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

أَسْفِرُوا بِالفَجْرِ، فَإِنّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ.

তোমরা ফজরের নামায চারদিক আলোকিত হয়ে যাওয়ার পর পড়বে। কেননা তাতে অধিক সওয়াব রয়েছে। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫৪)

যোহরের নামায সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-

إِذَا اشْتَدّ الحَرّ فَأَبْرِدُوا بِالصّلاَةِ.

রোদের তাপ বেশি হলে তাপমাত্রা কমে আসার পর যোহরের নামায পড়।  (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৩৬)

আসরের নামায সম্পর্কে হযরত জাবের রা. বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يُصَلِّي الظّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ، وَالْعَصْرَ وَالشّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيّةٌ.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামায আদায় করতেন দ্বিপ্রহরে। আর আসর নামায আদায় করতেন সূর্য শুভ্র ও উজ্জ্বল থাকতেই। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৫২৭)

ইশার নামায সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন-

مَكَثْنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ لِصَلَاةِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ، فَخَرَجَ إِلَيْنَا حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللّيْلِ، أَوْ بَعْدَهُ، فَلَا نَدْرِي أَشَيْءٌ شَغَلَهُ فِي أَهْلِهِ، أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ، فَقَالَ حِينَ خَرَجَ: إِنّكُمْ لَتَنْتَظِرُونَ صَلَاةً مَا يَنْتَظِرُهَا أَهْلُ دِينٍ غَيْرُكُمْ، وَلَوْلَا أَنْ يَثْقُلَ عَلَى أُمّتِي لَصَلّيْتُ بِهِمْ هَذِهِ السّاعَةَ، ثُمّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ فَأَقَامَ الصّلَاةَ، وَصَلّى.

অর্থাৎ রাতের এক তৃতীতয়াংশ বা আরো বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইশার নামায পড়িয়ে বললেন, আমার উম্মতের জন্য কঠিন না হলে এ নামায আমি এ সময়েই পড়তাম। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৩৯)

এসব হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মাগরিব ছাড়া অন্যান্য নামাযের মুস্তাহাব সময় আওয়াল ওয়াক্তে নয়; বরং ওয়াক্ত শুরু হওয়ার কিছুটা পরে।

আর আবু দাউদের হাদীসে এক শ্রেণির আমীর-উমারা কর্তৃক নামাযের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর অথবা একেবারে ওয়াক্তের শেষ প্রান্তে এসে নামায পড়ার ভবিষ্যদ্বাণী করে সে সময়ের করণীয় নির্দেশ করা হয়েছে যে, সেক্ষেত্রে তোমরা একাকী নামায পড়ে নেবে এবং পরে তাদের সাথে জামাতে শরীক হবে। সুনানে আবু দাউদের পূর্ণ হাদীসটি এই-

عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: إِنّهَا سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي أُمَرَاءُ تَشْغَلُهُمْ أَشْيَاءُ عَنِ الصّلَاةِ لِوَقْتِهَا حَتّى يَذْهَبَ وَقْتُهَا فَصَلّوا الصّلَاةَ لِوَقْتِهَا، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ أُصَلِّي مَعَهُمْ؟، قَالَ: نَعَمْ، إِنْ شِئْتَ.

উবাদাহ ইবনে সামিত রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার পর এমন কিছু শাসক আসবে যারা নির্ধারিত সময় থেকে নামাযকে বিলম্ব করবে এমনকি নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে। সে সময় তোমরা নামায যথা সময়ে আদায় করে নিবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি (অতপর) তাদের সাথে নামায পড়ে নিব? তিনি বললেন, হাঁ, তুমি চাইলে তা করতে পার। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৩৩)

এ হাদীসের পাঠ থেকেই একথা স্পষ্ট যে, ফাসেক আমীরগণ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর নামায পড়বে। আওয়াল ওয়াক্ত থেকে বিলম্ব করার কোনো কথা এখানে বলা হয়নি। অতএব মুস্তাহাব ওয়াক্তে আদায়ের জন্য আওয়াল ওয়াক্ত থেকে কিছুটা বিলম্ব করার ক্ষেত্রে ঐ হাদীস কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।

আর আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে সাধারণত ফজরসহ অন্যান্য নামাযের জামাতের সময় মুস্তাহাব ওয়াক্তকে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। সুতরাং শরীয়তসম্মত ওজর ব্যতীত শুধু ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে জামাত অনুষ্ঠিত না হওয়ার অজুহাতে মসজিদের জামাতে অনুপস্থিত থাকা অন্যায়।

মুসলিমদের জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে হাদীসে কঠোর ধমকি এসেছে। এক হাদীসে আছে, হযরত আবু দারদা রা.-কে লক্ষ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

عَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ الْقَاصِيَةَ.

তুমি (মুসলিমদের) জামাআতকে নিজের উপর আবশ্যকীয় করে নাও। কেননা দলছুট বকরীকে নেকড়ে খেয়ে ফেলে। -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ২১০১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫৪৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১৭১০

আর মসজিদে নামাযের জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন-

مَنْ سَرّهُ أَنْ يَلْقَى اللهَ غَدًا مُسْلِمًا، فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلَاءِ الصّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنّ، فَإِنّ اللهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ سُنَنَ الْهُدَى، وَإِنّهُنّ منْ سُنَن الْهُدَى، وَلَوْ أَنّكُمْ صَلّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ، لَتَرَكْتُمْ سُنّةَ نَبِيِّكُمْ، وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ... وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلّفُ عَنْهَا إِلّا مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ، وَلَقَدْ كَانَ الرّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرّجُلَيْنِ حَتّى يُقَامَ فِي الصّفِّ.

যে ব্যক্তি আশা রাখে যে, সে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে মুসলিম অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, তার উচিত, সে যেন ঐ জায়গায় এই নামাযসমূহ আদায়ের প্রতি যত্নবান হয়; যেখানে আযান দেওয়া হয় (অর্থাৎ মসজিদে)। কেননা, মহান আল্লাহ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য এমন সুন্নাহ নির্ধারণ করেছেন, যা হেদায়েত। আর নিশ্চয় এই নামাযসমূহ (মসজিদে আদায় করা) হেদায়েতের সুন্নাহ। যদি তোমরা (ফরয) নামায নিজেদের ঘরেই পড়, যেমন এই পিছিয়ে থাকা লোক নিজ ঘরে নামায পড়ে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার করলে। আর (মনে রেখো,) যদি তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার কর, তাহলে নিঃসন্দেহে পথহারা হয়ে যাবে। একটা সময়  ছিল যখন আমরা মুসলিমদের দেখেছি যে, (তারা জামাত থেকে পিছনে থাকত না) শুধু দেখেছি যে, নামায (জামাতসহ পড়া) থেকে কেবল প্রকাশ্য মুনাফিকই পিছিয়ে থাকত। আরো দেখেছি যে, অসুস্থ ব্যক্তি দু’জনের উপর ভর করে মসজিদে আসত এবং তাকেও (নামাযের) সারিতে দাঁড় করানো হত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৪)

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - বি. বাড়িয়া

৪৮৩২. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমরা জানি, মুসল্লির সামনে অন্তত এক হাত পরিমাণ সুতরা থাকলেই তার সামনে দিয়ে চলাচল করা যায়। কিন্তু একটি বইয়ে দেখতে পেলাম যে, সেখানে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি নামায আদায় করবে সেই সুতরা স্থাপন করবে। সুতরাং নামাযী ব্যক্তি যদি সুতরা স্থাপন না করে তাহলে অতিক্রমকারী তার সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করতে পারবে না।’ আমার জানার বিষয় হল, ঐ বইয়ের বক্তব্যটি কি ঠিক?

উত্তর

না, বইয়ের উক্ত বক্তব্যটি ঠিক নয়। মুসল্লি যদি সুতরা স্থাপন না করে তাহলে অতিক্রমকারী নিজে মুসল্লির সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করতে পারবে।

-ফাতহুল কাদীর ১/৩৫৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৪; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৬

শেয়ার লিংক

আবুল হাশেম - মাধবপুর, হবিগঞ্জ

৪৮৩১. প্রশ্ন

আমাদের বাজার মসজিদে এশার সময় একদিন ইমাম সাহেব ছিলেন না। তখন এক মুসল্লী ইমামতী করে। সে আলেম না। তবে তার কেরাত শুদ্ধ। যখন নামায শুরু হয় তখন কোনো আলেম ছিলেন না। দ্বিতীয় রাকাতে এক আলেম এসে নামযে শরীক হন। নামাযের পর কেউ কেউ বলছে ঐ ব্যক্তি যেহেতু আলেম নয় তাই তার পেছনে আলেম ইকতেদা করার কারণে কারো নামায হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে। এ ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সবার নামাযই আদায় হয়েছে। ঐ ব্যক্তির পেছনে আলেমের ইকতেদা করার কারণে কারো নামায হয়নি- প্রশ্নের এ কথাটি ঠিক নয়। কেননা যার তিলাওয়াত শুদ্ধ সে আলেম না হলেও তার পেছনে আলেমের ইকতেদা করা সহীহ আছে এবং এতে কারো নামায নষ্ট হয় না।

-মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৮০; যাদুল ফাকীর, ইবনুল হুমাম, পৃ. ১৬০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৫০; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৩৩২

শেয়ার লিংক

আইয়ুব হাসান - মিরপুর, ঢাকা

৪৮২৯ ও ৪৮৩০. প্রশ্ন

ক) সম্মিলিত মুনাজাত করার বিধান কী? কারো ধারণা, সম্মিলিতভাবে দুআ করা শরীয়তে প্রমাণিত নেই। এ ব্যাপারে দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত জানালে আমরা উপকৃত হব।

খ) জায়নামাযের দুআ পড়া যাবে কি?

উত্তর

ক) দুআ অনেক বড় ইবাদত। হাদীস শরীফে এসেছে, দুআই ইবাদত। এই দুআ যেমন একা করা যায় তেমনি সম্মিলিতভাবেও করা যায়। সম্মিলিত দুআ সংক্রান্ত এক দুটি দলিল নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল-

১. কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-

قَالَ قَدْ اُجِیْبَتْ دَّعْوَتُكُمَا.

আল্লাহ তাআলা বললেন, তোমাদের দুজনের দুআ কবুল করা হয়েছে। -সূরা ইউনুস  (১০) : ৮৯

এ আয়াতে তোমাদের দুজনের দুআ বলতে মূসা আ. ও হারূন আ.-এর দুআ বুঝানো হয়েছে। একাধিক সাহাবী ও তাবেয়ী ইমামের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত মূসা আ. দুআ করেছেন এবং হারূন আ. আমীন বলেছেন। একেই আল্লাহ তাআলা দুজনের দুআ বলেছেন। -তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৬৬৫; আদ্দুররুল মানসূর ৩/৩৪১

তো এটা তাদের দুজনের সম্মিলিত দুআ ছিল, যা আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন এবং খোশখবরি শুনিয়েছেন যে, তোমাদের দুজনের দুআ কবুল করা হয়েছে।

২. একটি দীর্ঘ হাদীসে সাহাবীয়ে রাসূল হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা আলফিহরী রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেছেন-

لَا يَجْتَمِعُ مَلَأٌ فَيَدْعُو بَعْضُهُمْ وَيُؤَمِّنُ الْبَعْضُ إِلّا أَجَابَهُمُ اللهُ.

কিছু মানুষ যখন কোথাও একত্র হয়ে এভাবে দুআ করে যে, একজন দুআ করে এবং অন্যরা আমীন বলে সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের দুআ কবুল করেন। -আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৩৫৩৬; মুসতাদরাকে হাকেম, হদীস ৫৪৭৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ১৭৩৪৭

সম্মিলিত দুআ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে মাসিক আলকাউসার, শাবান-রমযান ১৪২৯; আগস্ট ২০০৮ সংখ্যায় হযরত মাওলানা আবদুল মালেক ছাহেব লিখিত ‘সম্মিলিত দুআ : একটি প্রশ্নের উত্তর’ প্রবন্ধটি পাঠ করুন।

খ) জায়নামাযের কোনো দুআ নেই। কোনো কোনো মহলে ‘ইন্নি ওয়াজ্জাহাতু’ দুআটি জায়নামাযের দুআ নামে পরিচিত। কিন্তু এটি ঠিক নয়। এটি জায়নামাযের দুআ নয়; বরং হাদীস শরীফে নামায শুরু করার পর ছানা হিসেবে এ দুআ পড়ার কথা আছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৭১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৭৬০; রদ্দুল মুহতার  ১/৪৮৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/১৫১

শেয়ার লিংক

মূসা মুর্তজা পারভেজ - বংশাল, ঢাকা

৪৮২৮. প্রশ্ন

আমাদের বাসায় ছারপোকার উপদ্রব অনেক বেড়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও সেগুলো দূর করতে পারছি না। ধীরে ধীরে সেগুলোর উপদ্রব বেড়েই চলছে, যার ফলে আমরা অনেক অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। তাই আর কোনো উপায় না দেখে এখন চাচ্ছি যে, পুরো ঘর আমরা গরম পানি দিয়ে ধোব এবং ঘরের সব সামান ফুটন্ত গরম পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করব।

এখন মাননীয় মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, এ পদ্ধতিতে ঘর পরিষ্কার করার দ্বারা তো ছারপোকাগুলোকে কষ্ট দেয়া হবে, যা হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। তাই এখন আমার খটকা লাগছে। কিন্তু অন্য কোনো উপায়ও খুঁজে পাচ্ছি না। তাই সিদ্ধান্তও নিতে পারছি না। আশা করি মুফতী সাহেব আমাকে এই পেরেশানি থেকে মুক্ত করবেন। দ্রæত উত্তর জানালে অনেক উপকৃত হব।

উত্তর

কষ্টদায়ক ও ক্ষতিকর প্রাণী, পোকা-মাকড় মেরে ফেলা বৈধ। বিশেষত যখন তা ক্ষতি করতে থাকে এবং কষ্টের কারণ হয়। তবে হাদীস শরীফে যেহেতু কোনো প্রাণীকে আগুন দিয়ে পোড়াতে নিষেধ করা হয়েছে, তাই ফকীহগণ এক্ষেত্রে গরম পানি ব্যবহার করতেও নিষেধ করেছেন। কিন্তু যদি অন্য কোনোভাবেই এগুলো মারা বা তাড়ানো সম্ভব না হয়, তাহলে প্রয়োজনে গরম পানি ব্যবহার করে সেগুলো মারা বৈধ হবে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৯৮; শরহে মুসলিম, নববী ৮/১১৩; ফাতহুল বারী ৪/৪৫, ৪৮; উমদাতুল কারী ১০/১৮৪; রদ্দুল মুহতার ৪/১২৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২৬৩

শেয়ার লিংক

হামীদুল্লাহ - হবিগঞ্জ, সিলেট

৪৮২৭. প্রশ্ন

নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যদি কুরবানীর সময় সাময়িক ঋণগ্রস্ত হয় তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি?

উত্তর

নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যদি কুরবানীর দিনগুলোতে সাময়িক ঋণগ্রস্ত থাকে, যা পরিশোধ করে দিলে তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ বাকি থাকে না তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে না। আর যদি ঋণ আদায় করে দিলেও নেসাব পরিমাণ সম্পদ বাকি থাকে তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯২

শেয়ার লিংক

মাহমুদ হাসান - কিশোরগঞ্জ

৪৮২৬. প্রশ্ন

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে একজনের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী মুকীম ব্যক্তি, যার মালিকানায় ১০ যিলহজ্ব সুবহে সাদিক থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ  থাকবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। নেসাব হল : স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি। আর রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। আর অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ। স্বর্ণ বা রুপার কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না হয় তবে স্বর্ণ-রুপা উভয়টি মিলে কিংবা এর সাথে প্রয়োজন-অতিরিক্ত অন্য বস্তুর মূল্য মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়ে যায়, সেক্ষেত্রেও কুরবানী ওয়াজিব হবে। স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, যে জমি বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র- এ সবই কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

শেয়ার লিংক

মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ - বগুড়া

৪৮২৫. প্রশ্ন

কুরবানী প্রসঙ্গে একটি মাসআলার সমাধান জানানোর আবেদন।

মুহতারাম, আমরা জানতাম, কুরবানীর পশুতে কোনো শরীকের অংশ এক সপ্তমাংশের কম হলে সকল শরীকের কুরবানীই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের এলাকায় একজন মুফতী সাহেব এমন একটি ঘটনায় ফতোয়া দিয়েছেন যে, শুধু ঐ শরীকের কুরবানীই নষ্ট হবে। অন্য শরীকের কুরবানী সহীহ হয়ে যাবে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, অন্য শরীকদের কুরবানী কেবল ঐ ক্ষেত্রেই নষ্ট হয়, যেক্ষেত্রে কোনো শরীক হারাম মাল দ্বারা কুরবানী করে অথবা দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে শরীক হয়।

এ ফতোয়াটি আমাদের কাছে সঠিক মনে হচ্ছে না। মুফতী সাহেবের কাছে বিনীত নিবেদন, হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির হাওয়ালাসহ মাসআলাটির সঠিক সমাধান জানাবেন।

উত্তর

কুরবানীর পশুতে কোনো শরীকের অংশ এক সপ্তমাংশের কম হলে কোনো শরীকের কুরবানী সহীহ হবে না। কারণ কারও অংশ এক সপ্তমাংশের কম হলে সেটি কুরবানীর হুকুমে থাকে না; সাধারণ গোস্তের হুকুমে হয়ে যায়।

আর একটি পশুর অংশবিশেষ শুধু গোশত হাসিলের উদ্দেশ্যে হয়ে গেলে পুরো পশুই আর কুরবানীর জন্য থাকে না। তাই এতে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হয় না। এ মাসআলাই সঠিক। প্রশ্নের ঐ কথা ঠিক নয়।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৭৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৫; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/২৯০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম - রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

৪৮২৪. প্রশ্ন

হযরতের কাছে বিনীত নিবেদন এই যে, আমাদের এলাকায় লোকজন বিভিন্ন পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করে। যার মধ্যে একটি পদ্ধতি হল- একজন ব্যক্তি অপরজন থেকে উদাহরণ স্বরূপ এক বিঘা জমি ৫ বছরের জন্য নেয় এবং অগ্রিম বাবদ দেড় লক্ষ টাকা দেয় এবং চুক্তি হয় যে, সে জমিওয়ালাকে প্রতি বছর ৫৬০ টাকা করে ভাড়া দিবে এবং নির্ধারিত বছরের পর পূর্ণ টাকা জমিওয়ালা থেকে ফেরত নিবে। অথবা প্রতি বছর ৫৬০ টাকা করে ভাড়া না দিয়ে নির্ধারিত বছরের পর মূল টাকা থেকে ৫৬০ টাকা করে প্রতি বছরে বাদ দিয়ে বাকি টাকা জমিওয়ালা ফেরত দিবে। যেমনটি দোকানের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, উল্লেখিত পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করা জায়েয হবে কি না?

উত্তর

ঋণ দিয়ে বিনিময়ে গ্রহীতার জমি বন্ধক রাখা এবং তা চাষাবাদ করে ভোগ করার প্রশ্নোক্ত পন্থা শরীয়তসম্মত নয়। এটি মূলত সুদভিত্তিক ঋণ প্রদানেরই একটি প্রকার। আর এক্ষেত্রে এই লেনদেনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নামেমাত্র যে ভাড়া (১ বিঘায় ৫৬০ টাকা) কর্তন করা হচ্ছে এর দ্বারা জমি ভোগ করা জায়েয হয়ে যায় না। প্রকৃতপক্ষে উক্ত দেড় লক্ষ টাকা ঋণের কারণেই নামে মাত্র ৫৬০ টাকা ভাড়ায় জমি চাষের জন্য দেওয়া হয়েছে। তাই এমন কারবার করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

আর বৈধ পন্থায় জমি দিয়ে টাকা নিতে চাইলে বন্ধকি চুক্তি না করে ভাড়া বা লীজের চুক্তি করবে। যেমন কারো যদি ১৫ হাজার টাকার প্রয়োজন হয় আর এক বিঘা জমির বার্ষিক ভাড়া ৩ হাজার টাকা হয়; তবে সে ৫ বছরের জন্য জমিটি ভাড়া দিয়ে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম ভাড়া বাবদ নিয়ে নিবে। তারপর যত বছর ভাড়াগ্রহীতা উক্ত জমি ভোগ করবে তত বছরের ভাড়া সেই ১৫ হাজার টাকা থেকে কর্তিত হবে। আর কোনো কারণে যদি ৫ বছরের আগে জমি ফেরত দেয় বা পারস্পরিক সম্মতিতে ভাড়া চুক্তি বাতিল করা হয় তাহলে ভাড়াগ্রহীতা অবশিষ্ট টাকা ফেরত পাবে।

-আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া পৃ. ২৯৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৪৮২; শরহুল মাজাল্লাহ, আতাসী ৩/১৯৬; আলফুলকুল মাশহুন (মাজমুআতু রাসাইলিল লাখনবী ৩/৪১২)

শেয়ার লিংক

জালাল সরকার - নবীনগর, বি. বাড়িয়া

৪৮২৩. প্রশ্ন

মুহতারাম, ফরহাদ আহমদ আমার ছোট ভাই। সে আমেরিকা থাকে। তার উপার্জিত টাকা আমার কাছেই পাঠিয়ে থাকে। আমি সে টাকা দিয়ে ব্যবসা করি এবং পরিবারের ভরণপোষণ করি। ফরহাদ একবার লটারীতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পায়। লটারীর এসব টাকা সে  আমার নিকট পাঠিয়ে দিলে আমি সে টাকা থেকে কিছু ব্যবসায় বিনিয়োগ করি আর কিছু জমি ক্রয় করি এবং নিজেও কিছু খরচ করি।

এখানে উল্লেখ্য যে, আমি এক আলেমকে জিজ্ঞেস করে জেনেছিলাম যে, কাফের মুলুকে পাওয়া লটারীর  টাকা  বৈধ, এতে সুদ নেই। তবে তা শুধু ফরহাদের জন্য জায়েয। কিন্তু এখন সঠিক মাসআলা জেনেছি যে, মূলত ওই টাকা ফরহাদের জন্যও নাজায়েয। কিন্তু এর মধ্যে আমি লটারীর টাকা ও পূর্বে পাঠানো টাকা দিয়ে বেশ মোটা অংকের টাকা ব্যয়ে একটি জমি ও দোকান ক্রয় করি। দ্বিতীয়ত সংসারের ভরণপোষণও এ টাকা থেকেই করেছি। তৃতীয়ত যাকাত, সাধারণ দান-খায়রাতও এ টাকা থেকেই দিয়েছি।

এ অবস্থায় কী পন্থা অবলম্বন করলে উক্ত টাকা ও সম্পদ বৈধ হবে? আর এ টাকা থেকে দেওয়া যাকাত ও দান-খায়রাতের কী বিধান?

উল্লেখ্য, আমাদের এক বিধবা খালা ও খালাতো ভাই-বোন আছে। এখন তাদেরকে কি পুরো টাকা দিয়ে দেওয়া যাবে? কেননা একে  তো তারা গরিব আবার এক খালাতো বোন বিয়ের উপযুক্ত। টাকাটা দিলে তাদের অনেক উপকার হবে।

উত্তর

‘কাফের মুলুকের লটারীর টাকা বৈধ, এতে সুদ নেই’  প্রশ্নের একথা সহীহ নয়। সুতরাং ফরহাদ ও তার পরিবারের জন্য উক্ত লটারীর টাকা ভোগ করা সম্পূর্ণ হারাম হয়েছে। তাই উক্ত লটারী থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে যেসকল জমি ও দোকান ক্রয় করেছেন এবং এছাড়া আরো অন্যান্য খাতে যা খরচ করেছেন, তা নাজায়েয হয়েছে। এখন উক্ত জমি ও দোকান থেকে বৈধভাবে উপকৃত হতে চাইলে এবং তা হালাল সম্পদে রূপান্তর করতে চাইলে; উক্ত জমি ও দোকানে লটারীর যে পরিমাণ টাকা ব্যয় করেছেন এবং এতদিন দোকান থেকে যা লাভ হয়েছে তা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। এভাবে মূল টাকা সদকা করে দিলে উক্ত সম্পদ বৈধ বলে গণ্য হবে। আর ঐ টাকা থেকে পরিবারের জন্য যা খরচ করেছেন তাও হিসাব করে সদকা করে দিতে হবে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত লটারীর টাকা থেকে গরীবদেরকে বা কোন মাদরাসার গোরাবা ফান্ডে যা দান-সদকা করা হয়েছে সে পরিমাণ টাকা আবার নতুন করে সদকা করা লাগবে না। তা আদায় হয়ে গেছে।

আপনাদের বিধবা খালা ও খালাতো ভাই-বোন যদি যাকাত গ্রহণের যোগ্য হয়ে থাকে তাহলে তাদেরকেও তাদের প্রয়োজন অনুপাতে ঐ টাকা থেকে দিতে পারবেন। তবে একত্রে এত বেশি টাকা দেওয়া যাবে না যে, বর্তমান প্রয়োজন পূর্ণ হওয়ার পরও তাদের কাছে নেসাব পরিমাণ টাকা থেকে যায়। সুতরাং তাদেরকে দেওয়ার পর বাকি টাকা অন্যান্য গরীব-মিসকীনদের দিয়ে দেওয়া সমীচীন হবে।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৬৭৮, ৩৬৮৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ২৩৫৯৩; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/৪৬৫; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/২১৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০১; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৫; বযলুল মাজহুদ ১/১৪৮

শেয়ার লিংক

আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আল মাক্কুল - ভৈরব, কিশোরগঞ্জ

৪৮২২. প্রশ্ন

আমার জানার বিষয় হল যে, আমার আলআরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও এনআরসি ব্যাংকে সেভিং একাউন্টে কিছু টাকা জমা আছে। এই টাকা দিয়ে বসুন্ধরা গ্রæপ, সিটি গ্রæপ, মেঘনা গ্রæপ, টি কে গ্রæপসহ অন্যান্য কোম্পানির নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী যেমন, আটা, ময়দা, চিনি, তৈল, ডালডা, ভুসি ইত্যাদি পণ্য দাম যখন কম থাকে তখন পণ্যগুলো কোম্পানি থেকে ক্রয় করা হয়। পণ্যের মূল্য তাদের ব্যাংক একাউন্টে নগদ জমা করা হয়। তারা পণ্য প্রদানের একটি তারিখ দিয়ে শুধু পণ্যের ¯িøপ দিয়ে দেয়। এই ¯িøপটিকে ব্যবসার ভাষায় ডিও বলা হয়। ডিও কিনে তাতে উল্লেখিত পণ্যসামগ্রী সংশ্লিষ্ট কোম্পানির গোডাউনে মজুদ রাখা হয়। কোনো পণ্যসামগ্রী আমি স্ব-চোখে দেখিও না এবং আমার গোডাউনেও আনি না, কেবলমাত্র কোম্পানীর দায়িত্বশীল প্রতিনিধির সাথে সরাসরি বা মোবাইলে কথা বলে পণ্যসামগ্রী কিনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিলে কোম্পানি আমাকে ঐ ডিও লেটার দিয়ে দেয়, পরবর্তীতে উল্লেখিত পণ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি হলে, উক্ত ডিও লেটার কাগজটি অন্য আরেকজন ব্যবসায়ীর কাছে কিছু লাভ করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই ধরনের ব্যবসা করা জায়েয কি না? এই ব্যবসা করা যাবে কি না? জানালে খুবই উপকৃত হব।

উত্তর

ডিও মানে হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার। আপনি যে পণ্যের টাকা পরিশোধ করেছেন তা কোন তারিখে আপনাকে দেওয়া হবে তার স্বীকারোক্তি। এটি কোনো পণ্য নয়। তাই এ কাগজ বিক্রি করা জায়েয হবে না। ডিওতে যে পণ্যের কথা বলা হয়েছে তা আপনার দখলে আসার পূর্বে সেটি আপনার জন্য বিক্রিযোগ্যই নয়। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

لَا تَبِيعَنّ شَيْئًا حَتّى تَقْبِضَهُ.

কোনো বস্তু হস্তগত করার আগ পর্যন্ত তা বিক্রি করবে না। -সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৫/৩১৩

এধরনের কারবার করে ফেললে আপনার জন্য এর মুনাফা ভোগ করা জায়েয হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো বস্তুর দায়িত্ব ও ঝুঁকি গ্রহণের পূর্বে তার লাভ ভোগ করা বৈধ নয়। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১২৩৪

উল্লেখ্য, ডিও এমন মালেরও হয়ে থাকে, যা ডিও লেখার সময় প্রস্তুত থাকে না। সেক্ষেত্রে ডিও বিক্রি করলে হাদীসের নিষিদ্ধ معدوم (অস্তিত্বহীন) বস্তুর বিক্রয় হয়। এটাও সম্পূর্ণ নাজায়েয। তাই মুসলমানদের জন্য এমন ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-জামে তিরমিযী, হাদীস ১২৩৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১৩/৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩২৬, ৩৯৪; আলবাহরুর রায়েক ৬/১৬৪

শেয়ার লিংক

খালেদ সাইফুল্লাহ - সাভার, ঢাকা

৪৮২১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে যে, যারা ধান ভাঙ্গায় তারা প্রতি মন ধানে যত টাকা পারিশ্রমিক আসে তার পরিবর্তে তত টাকার কুঁড়া নেয়। আর কুঁড়া না দিলে ধান ভাঙ্গাতে চায় না।

প্রশ্ন হল, কুঁড়া নিয়ে ধান ভাঙ্গানো জায়েয কি না? নাজায়েয হলে বৈধ পদ্ধতি কী হবে? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

ধান ভাঙ্গানোর পারিশ্রমিক হিসাবে কুঁড়া নেওয়া জায়েয আছে। তবে যে ধান ভাঙ্গানো হবে এর কুঁড়া থেকেই পারিশ্রমিক দিতে হবে চুক্তির সময় এমন শর্ত করা জায়েয হবে না। বরং পারিশ্রমিকের বিষয়টি এমন রাখতে হবে যে, মালিক চাইলে অন্য কুঁড়া থেকেও পারিশ্রমিক আদায় করতে পারে। অর্থাৎ কুঁড়ার পরিমাণ ও গুণগত মান নির্ধারণ করবে। এভাবে চুক্তি করার পর পরবর্তীতে যে ধান ভাঙ্গানো হবে এর কুঁড়া থেকেও পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে।

-কিতাবুল আছল ৩/৪৩৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১২৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/১১৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৭; শরহুল মাজাল্লাহ, আতাসী ২/৫৩৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাজমুল কারীম - মনিপুরি পাড়া, ঢাকা

৪৮২০. প্রশ্ন

দুই শতাংশ জায়গার উপর একশ বছরের পুরনো একটি মসজিদ রয়েছে। সঙ্গে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত আরো পাঁচ শতাংশ জমি ছিল। কালক্রমে যা বেদখল হয়ে গিয়েছে। তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এখন মসজিদটি সম্প্রসারিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যা এখানে সম্ভব নয়। তাই মুতাওয়াল্লী চাচ্ছেন, অদূরে চার শতাংশের উপর বড় আকারে মসজিদ করতে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আগের মসজিদ ও তার জায়গাটা কোন্ কাজে ব্যবহার করা হবে? উল্লেখ্য, অতি নিকটে হওয়ার কারণে উভয়টাকে মসজিদ হিসাবে ব্যবহার করা সমীচীন মনে হচ্ছে না। দয়া করে মাসআলাটির সমাধান প্রদান করে বাধিত করবেন।

উত্তর

পুরাতন মসজিদের পাশে জায়গা ক্রয় করে হলেও সেখানেই সম্প্রসারণের চেষ্টা করা উচিত। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে নতুন স্থানে মসজিদ বানানো যাবে। সেক্ষেত্রে পুরাতন মসজিদকেও আবাদ রাখার চেষ্টা করবে। পুরাতন মসজিদে শুধু পাঞ্জেগানা আর নতুন মসজিদে পাঞ্জেগানাসহ জুমা আদায় করা যেতে পারে। কিন্তু পুরাতন মসজিদকে একেবারে বিলীন করে দেওয়া যাবে না। কেননা কোনো স্থানে একবার মসজিদ হলে কিয়ামত পর্যন্ত তা মসজিদের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। ওই জায়গায় মসজিদ সংক্রান্ত কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ করার সুযোগ থাকে না।

আর উভয় মসজিদে একত্রে নামায চালু রাখা যদি সম্ভব না হয় বা কষ্টকর হয় তবে তাতে অন্য কোনো দ্বীনী কাজও করা যেতে পারে। যেমন শিশুদের সকালের মক্তবের ব্যবস্থা হতে পারে। ইতেকাফের সময় মুসল্লিগণ সেখানে ইতেকাফও করতে পারবেন।

মোটকথা, মসজিদটি পরিপূর্ণভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এলাকাবাসী চাইলে এটিকে যেন পুনরায় নিয়মিত জামাতে নামাযের জন্য চালু করতে পারে সেভাবে ঐ জায়গা হেফাযত করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, পুরাতন মসজিদের বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা করা মসজিদের মুসল্লি ও কমিটির লোকদের কর্তব্য। আর যারা দখল করেছে তাদের কর্তব্য হল অবিলম্বে তা ফেরত দেওয়া এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা করা।

-আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/১৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৮; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৫৮; ইমদাদুল আহকাম ৩/২০০

শেয়ার লিংক

মুখলেছুর রহমান - হবিগঞ্জ

৪৮১৯. প্রশ্ন

আমার দাদা প্রায় ৪০ বছর আগে মসজিদ মাদরাসার জন্য এক বিঘা জমি ওয়াকফ করেছিলেন। তখনই একটি মসজিদ এবং ছোট পরিসরে একটি মাদরাসা বানানো হয়। এরপর ছাত্রসংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার কারণে নামাযের সময় মসজিদে তাদের জায়গা হয় না। তাই মসজিদটি বড় করা খুবই দরকার। এজন্য মসজিদ কমিটি আগের ভবনটি ভেঙ্গে বড় করে মসজিদ বানাতে চাচ্ছে। এর জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। তাই মসজিদ কমিটি উক্ত জমির একটি অংশ বিক্রি করে তার অর্থ নতুন মসজিদ নির্মাণে ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন। জানার বিষয় হল, ওয়াক্ফকৃত জমিটির একটি অংশ বিক্রি করে তার অর্থ দিয়ে মসজিদ ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? মাসআলাটির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

কোনো মসজিদের জমি সে মসজিদের ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যেও বিক্রি করা জায়েয নয়। তাই প্রশ্নোক্ত মসজিদ ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যেও মসিজদের ঐ জমি বিক্রি করা জায়েয হবে না।

উল্লেখ্য, মসজিদ নির্মাণের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা সংগ্রহের জন্য মসজিদ কমিটি স্থানীয় মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করবে। কেননা মসজিদ নির্মাণ ও এর খরচাদির ব্যবস্থা করা এলাকার মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪২৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৫/২০৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৬৩

শেয়ার লিংক

জসিমুদ্দীন - নাভারণ, যশোর

৪৮১৮. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধুর বোনকে তার স্বামী একটি বায়েন তালাক দেয়। তালাক দেয়ার কিছুদিন পর তারা উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সম্মত হন। ১৭ দিন পরে আমার বন্ধুর বাবা ঘরোয়াভাবে তাদের বিবাহের আয়োজন করেন। আমাদের গ্রামের ইমাম সাহেবকে ডেকে বিবাহ পড়িয়ে দেন। বিবাহের মজলিসে ইমাম সাহেব আমার বন্ধুর বাবা এবং তার সেই বোন ও বোনজামাই উপস্থিত ছিলেন। ইমাম সাহেব খুতবা দিয়েছেন আর তার বাবা বিবাহ পড়িয়েছেন। এখন আমাদের নিকট দুটি বিষয়ে খটকা লাগছে-

ক. তার বাবা এবং ইমাম সাহেব সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হবেন কি না?

খ. ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ঠিক হয়েছে কি না?

উত্তর

ক. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উপস্থিত ব্যক্তিগণ অর্থাৎ ইমাম সাহেব ও ছেলের বাবা বিবাহের সাক্ষী হিসেবে ধর্তব্য হবেন। সুতরাং ঐ বিবাহ সংঘটিত হয়ে গেছে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৫; ফাতহুল কাদীর ৩/১১৬

খ. স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যেও তালাকদাতা স্বামীর জন্য তাকে পুনরায় বিবাহ করা জায়েয আছে। তবে তালাকদাতা ছাড়া অন্য কারো সাথে ইদ্দত অবস্থায় বিবাহ জায়েয নেই।

-বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/১৬২; আননাহরুল ফায়েক ২/৪২০; ফাতহুল কাদীর ৪/৩০

শেয়ার লিংক

আহসান হাবীব - তেজগাঁও, ঢাকা

৪৮১৭. প্রশ্ন

আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার ছোট ছোট দুটি ছেলে এবং একটি মেয়ে আছে। আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হচ্ছিল। কিছুদিন আগে আমার বোনেরা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসলে সে তাদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করে  এবং ফোনে আমার সাথে খুব কথা কাটাকাটি হয়। আমি তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং একটি চিঠিতে ঘটনার বিবরণসহ লিখি যে, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বায়েন তালাক দিলাম’। আমি মুখে উচ্চারণ করে তালাক বলিনি কিন্তু তালাকের নিয়তেই উক্ত কথা লিখেছি। পরে আমার ছেলে-মেয়ের কথা ভেবে তালাকের চিঠিটি তার কাছে না পাঠিয়ে ছিঁড়ে ফেলি।

আমার জানার বিষয় হল, উক্ত লেখার কারণে আমার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? এখন তার সাথে ঘর-সংসার করতে পারব কি না? উল্লেখ্য, আমি ইতিপূর্বে তাকে কোনো তালাক দেইনি। সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে চিঠিতে ঐ কথা লেখার দ্বারাই আপনার স্ত্রীর উপর এক তালাকে বায়েন পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। তালাক পতিত হওয়ার জন্য মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরি নয়। তদ্রƒপ লিখিত তালাক স্ত্রীর কাছে প্রেরণ করা বা পৌঁছাও জরুরি নয়। সুতরাং আপনার উক্ত তালাক কার্যকর হয়ে গেছে। তবে এখন আপনারা যদি পুনরায় ঘর-সংসার করতে চান তাহলে মোহর ধার্য করে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এভাবে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে পরবর্তীতে আপনি মাত্র দুই তালাকের অধিকারী থাকবেন। অর্থাৎ যদি কখনো তাকে দুই তালাক দেওয়া হয় তাহলে পূর্বের এক তালাকসহ মোট তিন তালাক পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে এভাবে নতুন বিবাহের মাধ্যমেও একত্রিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। অতএব ভবিষ্যতে তালাকের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, তালাক হল বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্নকারী চ‚ড়ান্ত পদক্ষেপ। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা জটিল হয়ে পড়লে উভয়ের জন্য তা থেকে নিষ্কৃতির সর্বশেষ পথ। তাই অত্যন্ত ভেবে-চিন্তে ও পরামর্শ সাপেক্ষে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। কোনো কথা বা সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া অন্যায়। এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

আরো উল্লেখ্য যে, শরীয়তে তালাক অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। যা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়, রাগ বা স্বাভাবিক অবস্থায় এমনকি ঠাট্টাচ্ছলে দিলেও কার্যকর হয়ে যায়। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি।

-কিতাবুল আছল ৪/৫১৬; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ২/৭৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৪৮৪; ফাতহুল কাদীর ৩/৪০৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৪৯; রদ্দুল মুহতার ৩/২৪৬

শেয়ার লিংক

আরীফ আহমাদ - খুলনা

৪৮১৬. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে ফোনে বিয়ে করে। সে মেয়েটিকে ফোনে বলে, আমি তোমাকে এত টাকার মহরে বিবাহ করলাম, তুমি রাজী থাকলে কবুল বল। মেয়েটি তখন কবুল বলে। ফোনে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ছেলের দুজন বন্ধুও মেয়ের কবুল বলা শুনেছিল। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের অভিভাবক তাদেরকে ভিন্ন জায়গায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের উভয়ে বলে, আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী। তাই অন্য কোথাও আমরা বিয়ে করব না।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? বর্তমানে তাদের বাবা-মা চাচ্ছেন তারা একে অপরকে তালাক দিয়ে দিক। এটা কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথিত বিবাহ শুদ্ধ হয়নি। কারণ, বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য দুজন সাক্ষীর সামনে পাত্র-পাত্রী কিংবা তাদের প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে ইজাব-কবুল (বিবাহকার্য সম্পাদন) করা জরুরি। আর প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু ইজাব-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) দুটি পৃথক জায়গা থেকে হয়েছে আর সাক্ষীদ্বয় শুধু এক স্থানে উপস্থিত ছিল তাই তাদের উক্ত বিবাহ শুদ্ধ হয়নি এবং তারা শরীয়তের দৃষ্টিতে পরস্পর স্বামী-স্ত্রী নয়; সুতরাং উক্ত মেয়ের অন্যত্র বিবাহের জন্য তালাক নেওয়ারও প্রয়োজন নেই। মেয়েটির অভিভাবক চাইলে তার অনুমতি নিয়ে এখনি অন্য কারো সাথে তার বিবাহ দিতে পারবে। আর যদি ঐ ছেলে ও মেয়ে একত্রে ঘর-সংসার করতে চায় তবে তাদেরকে যথাযথ পন্থায় নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৫২৭; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ২/১৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৬; মুঈনুল মুফতী, তুমুরতাশী পৃ. ১৮০; আলবাহরুর রায়েক ৩/৮৮; দুরারুল হুক্কাম ১/৩২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৮

শেয়ার লিংক

আফরোজা বেগম - উত্তরা, ঢাকা

৪৮১৫. প্রশ্ন

আমি জানতাম, বাচ্চাকে দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো যায়। আমার বাচ্চার বয়স দুই বছর এক মাস। কিন্তু এখনও দুধ ছাড়াতে পারিনি। সেদিন এক বোন থেকে শুনলাম, আড়াই বছর পর্যন্ত নাকি দুধ পান করানো যায়। এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলাটি জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী শিশুকে চান্দ্রমাসের হিসাবে দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করানো যায়। দুই বছরের পর পান করানো নাজায়েয। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ الْوَالِدٰتُ یُرْضِعْنَ اَوْلَادَهُنَّ حَوْلَیْنِ كَامِلَیْنِ لِمَنْ اَرَادَ اَنْ یُّتِمَّ الرَّضَاعَةَ .

মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুবছর দুধ পান করাবে, (এ বিধান) তার জন্য, যে দুধ পান (এর মেয়াদ) পূর্ণ করতে চায়। -সূরা বাকারা (২) : ২৩৩

তাই আপনার উপর জরুরি হল, দ্রæত শিশুটির দুধ ছাড়িয়ে দেওয়া।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ১৭৩৪৩; ফাতহুল কাদীর ৩/৩০৭-৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১১; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৮৬৭

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement