মুহাম্মাদ রবিউল ইসলাম - চাঁদপুর, চট্টগ্রাম

৫১৩০. প্রশ্ন

আমি একদিন ফজরের নামায পড়তে পারি নাই। সূর্য উদয় হলে পড়ে নিব ভাবছিলাম। কিন্তু আমার মনে ছিল না। তারপর যোহরের নামায পড়ার পর আমি ফজরের কাযা নামায আদায় করি। এখন কি আমার যোহরের ফরয নামায বাতিল হয়ে যাবে?

বিশেষ দ্রষ্টব্য : আমি মালা-বুদ্দা মিনহু কিতাবে সালাতের অধ্যায়ে পেয়েছি যে, কোনো ব্যক্তির এক ওয়াক্ত নামায তার জিম্মা থেকে ছুটে গেল পরবর্তী ওয়াক্তের পরে তা কাযা আদায় করলে পূর্ববর্তী নামাযের ফরযিয়াত বাতিল হয়ে যাবে। (মালা-বুদ্দা মিনহু, সালাত অধ্যায়)

অতএব, হুজুরের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আমার উক্ত বিষয়ের ব্যাখ্যাটি মাসিক আলকাউসারেপ্রকাশ করলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

পুনশ্চ : আমার অনেক ওয়াক্তের নামায কাযা আছে।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার যোহর নামায সহীহভাবে আদায় হয়েছে। প্রশ্নে যে মাসআলার কথা আপনি উল্লেখ করেছেন তা সাহিবে তারতীব (যার কাযা নামাযের সংখ্যা ছয়ের কম) ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্তের সাথে প্রযোজ্য। আর আপনার যিম্মায় যেহেতু ছয় ওয়াক্তের বেশি নামায কাযা আছে তাই এই মাসআলা আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৫৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৪৭; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩৪৫; শরহুর মুনয়া পৃ. ৫২৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুতাররিফ - চিরিরবন্দর, দিনাজপুর

৫১২৯. প্রশ্ন

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি জন্মসূত্রে এই এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের এই গ্রামে (দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ৯নং ভিয়াইল ইউনিয়নের জয়পুর গ্রাম) একটি ফাজিল মাদরাসা ও মাদরাসা মাঠের সাথেই এলাকার কবরস্থান অবস্থিত। এই কবরস্থানের সাথেই একটি মাজার ও তাঁর কয়েক হাত সামনেই একটি বিশেষ পুকুর অবস্থিত।

মাদরাসা মাঠেই প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের ১ম সপ্তাহে (নির্র্ধারিত) দিনব্যাপি ওয়াজ-মাহফিল ও ঈসালে সাওয়াব হয়। উল্লিখিত দুই দিন মাজার ও পুকুরের আসল কার্যক্রম চলে। আর সারা বছরই মানুষের আসা-যাওয়ার মাধ্যমে তা অব্যাহত থাকে।

মাজারের দানবক্সে মানুষ দান করে এবং পুকুরের পানি পান করে এবং বোতলে করে নিয়ে যায়। মানুষের ধারণা, এই মাজারে দান করলে ও পুকুরের পানি পান করলে তাঁদের সমস্যা সমাধান, অসুস্থতা দূর হবে এবং সন্তান লাভ হবে ইত্যাদি। এখানে প্রচুর মুরগি, ছাগল, চাল ও টাকা মানুষ দান ও মান্নত করে। এই মাজার ও পুকুরে নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে, মুসলিম-অমুসলিম সকলেই আসে। হিন্দুরা তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী হাত নমস্কার করে, দান করে ও পানি নিয়ে যায়। আর মুসলিমরা হাত তুলে দুআ করে ও শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ইত্যাদি।

এই মাজারের উপরে একটা বিশাল গাছ আছে ও তাঁর পাশেই আরেকটা বিশাল গাছ আছে। এই গাছ দুটির ব্যাপারেও মানুষের মাঝে ভয় কাজ করে। বৃদ্ধ লোকেরা এই মাজার ও পুকুরের আশ্চর্য ঘটনাবলি বর্ণনা করে। এখানে বর্তমানেও কোনো স্বাভাবিক কাজে বিঘœতা ঘটলে এই মাজারের কারামত বলে মনে করে ও ভয় করে।

এখন আমার বিশেষ জানার  বিষয় হল,

১. যে কোনো প্রয়োজনে মাজারে দান, দুআ ও মান্নত করার হুকুম কী?

২. নিয়ত অনুযায়ী পুকুরের পানি পান করলে উপকার হয় বা সমস্যা দূর হয়- এরকম বিশ্বাসের হুকুম কী?

এবং তা যদি কেউ আল্লাহ্র ওয়াস্তেই করে। (আমাদের এলাকার লোকজন বিশ্বাস করে আল্লাহ্র ওয়াস্তে করলে সমস্যা নেই)

আমাদের এলাকার লোকজন ইসলাম প্রিয় ও আলেম-উলামাদের ভালোবাসে তবে এই বিষয়টি সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট নয়। আমার ধারণা আপনাদের দলীলভিত্তিক জবাব  পেলে বিষয়টি এলাকার লোকজন ও কমিটি অবশ্যই মানবে।

অতএব এই কার্যক্রমের উপর বিবেচনা করে শরীয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম ও আমাদের করণীয় বলবেন কি।

 

উত্তর

১. যে কোনো মাজারওয়ালা বা কবরবাসী, এমনকি ওলী-বুযুর্গ হয়ে থাকলেও তার কাছে কিছু চাওয়া শিরক। কেননা, দুআ ও সাহায্য প্রার্থনা শুধু আল্লাহ তাআলার কাছেই করা যায়। দুআ একটি ইবাদত। আর সমস্ত ইবাদত আল্লাহ্র জন্য নির্ধারিত। সূরা ফাতিহায় আছে-

اِیَّاكَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاكَ نَسْتَعِیْنُ.

আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই কাছে সাহায্য চাই। [সূরা ফাতেহা (১) : ৪]

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-

اَمَرَ اَلَّا تَعْبُدُوْۤا اِلَّاۤ اِیَّاهُ.

আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন, তোমরা একমাত্র তারই ইবাদত করবে। -সূরা ইউসুফ (১২) : ৪০

সূরা রাদে (আয়াত : ১৪) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

لَهٗ دَعْوَةُ الْحَقِّ  وَ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖ لَا یَسْتَجِیْبُوْنَ لَهُمْ بِشَیْءٍ اِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّیْهِ اِلَی الْمَآءِ لِیَبْلُغَ فَاهُ وَ مَا هُوَ بِبَالِغِهٖ وَ مَا دُعَآءُ الْكٰفِرِیْنَ اِلَّا فِیْ ضَلٰلٍ.

এ আয়াতে বলা হয়েছে, সত্য প্রার্থনা সেটিই, যা আল্লাহ তাআলার কাছে চাওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য যে কারো কাছেই প্রার্থনা করা হোক তা বৃথা এবং তা কাফেরদেরই কাজ।

হাদীস শরীফে  এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

الدُّعَاءُ هُوَ العِبَادَةُ.

দুআই ইবাদত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করেন-

وَ قَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِیْۤ اَسْتَجِبْ لَكُمْ اِنَّ الَّذِیْنَ یَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِیْ سَیَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیْنَ.

তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, তোমরা আমার কাছে দুআ কর, আমি তোমাদের দুআ কবুল করব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত হতে বিমুখ হবে তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। [সূরা মুমিন (৪০) : ৬০] -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৯৬৯

মাজারে গিয়ে দুআ করার ব্যাপারে হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ. বলেন-

كل من ذهب إلى بلدة أجمير أو قبر سالار مسعود، أو ما ضاهاها لأجل حاجة يطلبها فإنه آثم إثما أكبر من القتل والزنا، أليس مثله إلا مثل من كان يعبد المصنوعات أو مثل من كان يعبد اللات والعزى.

যারা আজমীর, সালার মাসউদ প্রমুখ বুযুর্গদের মাজারে গিয়ে স্বীয় উদ্দেশ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করে তারা হত্যা ও ব্যভিচারের চাইতে জঘন্য পাপ করে। তাদের উপমা হল ঐ মুশরিকদের ন্যায়, যারা স্বহস্তে বানানো মূর্তির পূজা করে এবং লাত উযযার পূজা করে। -তাফহীমাতে ইলাহিয়্যাহ ২/৪৯

অনুরূপভাবে মান্নতও একমাত্র আল্লাহ তাআলার নামেই করা যায়। আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো নামে মান্নত করা হারাম ও শিরক। প্রসিদ্ধ ফিকহগ্রন্থ আলবাহরুর রায়েকে আছে-

...فهذا النذر باطل بالإجماع لوجوه منها أنه نذر لمخلوق والنذر للمخلوق لا يجوز؛ لأنه عبادة والعبادة لا تكون للمخلوق.

মাজার ও পীরদের নামে মান্নত করা সকলের ঐক্যমতে বাতিল। এর একাধিক কারণ রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হল, এ মান্নত মাখলুকের নামে হচ্ছে। আর  কোনো মাখলুকের জন্য মান্নত করা জায়েয নেই। কেননা, মান্নত করা একটি ইবাদত। আর ইবাদত  কোনো মাখলুকের জন্য হতে পারে না। -আল বাহরুর রায়েক ২/২৯৮

আর মাজার ও কবর দান-সদকার জায়গা নয়। সেখানে দান-সদকার টাকা দিয়ে বহুবিধ শিরক এবং বিদআত কাজ সংঘঠিত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে মাজারে দান করার মানে এসকল গুনাহে সহযোগিতা করা। আর দানের উদ্দেশ্য যদি মাজারওয়ালার নৈকট্য অর্জন বা কোন উপকার লাভ করা হয় তবে তো এভাবে দান করাটাই শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তাই মাজারে টাকা পয়সা দেওয়া থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

২. কোনো পুকুরের ক্ষেত্রে প্রশ্নোক্ত বিশ্বাস রাখাও শিরকের শামীল। এটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভ্রান্ত ধারণা। মতলবী লোকেরা এসব শিরকী কর্মকাÐ চালু করেছে। তাই এমন বিশ্বাস ও কর্ম থেকে বিরত থাকা ফরয। এমনকি উক্ত বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহ্র ওয়াস্তে পানি পান করাও জায়েয হবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা ঐ পুকুরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা বলে দেননি। কুরআন-হাদীসের কোথাও বিশেষ কোনো পুকুরের ব্যাপারে আলাদা বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ নেই। এ ধরনের শিরকী কর্মকাÐের সাথে আল্লাহ্র নাম ব্যবহার করা আরো মারাত্মক গুনাহ। তাই মুসলমানদের এসব কিছু থেকে বিরত থাকা ফরয। -রুহুল মাআনী ১৭/২১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩৯; ইমদাদুল আহকাম ১/১২৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রেজাউল করিম - ঢাকা

৫১২৮. প্রশ্ন

কালো খেজাব ব্যবহার করার শরয়ী বিধান কী? কোনো ইমাম সাহেব যদি ব্যবহার করেন তাহলে তার পেছনে ইকতিদার বিধান কী হবে?

উত্তর

বয়সের কারণে চুল-দাড়ি পেকে গেলে কালো খেযাব ব্যবহার করা নাজায়েয। হাদীসে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হযরত জাবের রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আবু কুহাফাকে নিয়ে আসা হল। তার চুল ছাগামা উদ্ভিদের ন্যায় (একেবারে) সাদা ছিল। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

غَيِّرُوا هَذَا بِشَيْءٍ، وَاجْتَنِبُوا السّوَادَ.

এটাকে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করে দাও। তবে কালো রং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকো। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০২

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

يَكُونُ قَوْمٌ يَخْضِبُونَ فِي آخِرِ الزّمَانِ بِالسّوَادِ، كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ، لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنّةِ.

শেষ যামানায় কিছু লোক কবুতরের পেটের (কালো রঙের) ন্যায় কালো খেযাব ব্যবহার করবে। তারা  (কিয়ামতের দিন) জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২১২)

আর হাদীসে যে কালো খেযাব ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে তার মূল কারণ এতে অন্যদের সামনে বয়স গোপন করা হয়। যাতে ধোঁকার বিষয়টি থাকে। ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, নিষিদ্ধ কালো খেযাব হচ্ছে, যে খেযাব দ্বারা ধোঁকা দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে। যেমন বৃদ্ধা মহিলা চুলে কালো খেযাব ব্যবহার করে স্বামীকে ধোঁকা দিল, এমনিভাবে বৃদ্ধ লোক কালো খেযাব ব্যবহার করে স্ত্রীকে ধোঁকা দিল। কারণ এটি সুস্পষ্ট প্রতারণা। (যাদুল মাআদ ৪/৩৬৮)

তবে কারো যদি অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণে বয়সের আগেই চুল পেকে যায় তাহলে তার জন্য কোনো কোনো ফকীহের মতে কালো খেযাব ব্যবহার করার অবকাশ রয়েছে। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী যুহরী রাহ. বলেন-

كُنّا نُخَضِّبُ بِالسّوَادِ إِذْ كَانَ الْوَجْهُ جَدِيدًا فَلَمّا نَغَضّ الْوَجْهَ وَالْأَسْنَانَ تَرَكْنَاهُ.

যখন আমাদের চেহারা সতেজ ছিল তখন আমরা কালো খেযাব ব্যবহার করতাম। কিন্তু যখন চেহারায় ভাঁজ পড়ে গেল এবং দাঁত নড়বড়ে হল তখন কালো খেযাব ব্যবহার করা ছেড়ে দিয়েছি। (ফাতহুল বারী ১০/৩৬৭)

অবশ্য যুবক অবস্থায় দাড়ি-চুল পেকে গেলে কালো খেজাব ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও হাদীসে যেহেতু সরাসরি কালো খেযাব ব্যবহার করতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে তাই একেবারে কালো খেযাব ব্যবহার না করে তাতে সামান্য হলেও অন্য রং মিশ্রিত করে নেওয়া উচিত।

আর কোনো ইমাম যদি কালো খেযাব ব্যবহার করে থাকেন তাহলে সেক্ষেত্রে কেনো ওজর আছে কি না, তাঁর বয়স কত- এসব বিষয় জানার পরই তার পিছনে ইকতিদার মাসআলা বলা যাবে। কিন্তু ঘটনা যাই হোক, ইমামগণ যেহেতু সমাজের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব তাই তাঁদের উচিত এমন বিষয় থেকে বিরত থাকা।

-উমদাতুল কারী ২১/৫১; ফয়যুল কাদীর ১/৩৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৮৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/২১৪; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪২২; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৭/১৭০

শেয়ার লিংক

আবু জাফর - যশোর

৫১২৭. প্রশ্ন

ঈদের দিন আমরা একে অপরকে ঈদ মোবারকবলে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকি। কেউ কেউ বলেন, এটি বলা যাবে না। এটি শরীয়তসম্মত নয়। এ বিষয়ে শরীয়তের নির্দেশনা জানালে উপকৃত হতাম।

উত্তর

ঈদ মোবারকএকটি দুআ বাক্য। ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করার জন্য তা বলতে অসুবিধা নেই। তবে এটিকে সুন্নত মনে করা যাবে না। কারণ কোনো বর্ণনায় এভাবে বলার কথা পাওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, হাদীসের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন একে অপরকে تَقَبّلَ اللهُ مِنّا وَمِنْك (অর্থ : আল্লাহ আমাদের এবং তোমার নেক আমল কবুল করুন) বলতেন। (আদ দুআ, তবারানী, হাদীস ৯২৮; ফতহুল বারী, ইবনে হাজার ২/৫১৭)

তাই ঈদের দিন একে অপরকে উক্ত দুআ বাক্যটি বলা এবং এর প্রচলন করাই উত্তম হবে।

-হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৫১; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৮৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৮; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/২৯৪

শেয়ার লিংক

সাইফুল ইসলাম - কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

৫১২৬. প্রশ্ন

গত কুরবানীর ঈদে আমার বড় ভাই দুটি গরু কুরবানী দেন। একটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে। অপরটি নিজের পক্ষ থেকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে দেওয়া কুরবানীর গোস্ত পুরোটা গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেন। জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির নামে দেওয়া কুরবানীর গোস্ত নিজেরা খাওয়া যায় না। গরীবদেরকে দিয়ে দিতে হয়। জানার বিষয় হল, আমার বড় ভাইয়ের কথা কি ঠিক? অন্যথায় সঠিক মাসআলা কী?

উত্তর

আপনার ভাইয়ের কথা ঠিক নয়। মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া কুরবানীর গোস্ত নিজেরাও খাওয়া যায় এবং অন্যদেরকেও দান করা যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী দিলে সে কুরবানীর গোস্তের একই হুকুম। সে গোস্ত গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া জরুরি নয়; বরং নিজেরাও তা থেকে খেতে পারবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫১; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬

শেয়ার লিংক

শাহাদাত হুসাইন - ঢাকা

৫১২৫. প্রশ্ন

আল্লাহর মেহেরবানিতে আমি এবছর আমার আম্মাকে নিয়ে হজ্ব করতে গিয়েছিলাম। প্রথম দুই দিন প্রচুর ভিড়ের ভেতর আম্মাকে সাথে নিয়ে আমরা কংকর মেরেছি। ১২ই যিলহজ্ব কাফেলার মুআল্লিম আমাকে বললেন, কংকর মারার সময় তো প্রচুর ভির থাকে তাই আজ আপনার মাকে কষ্ট না দিয়ে নিজেই তার পক্ষ থেকে কংকর মেরে দিন। এতে তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। মুআল্লিমের কথা অনুযায়ী আমি নিজে সেদিন আম্মার পক্ষ থেকে কংকর মেরেছি। হজ্ব থেকে দেশে ফেরার পর একজন আলেমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘নিজে কংকর মারতে পারলে অন্যকে দিয়ে কংকর মারানো জায়েয নেই।তার কথা কি ঠিক? ঠিক হলে এখন করণীয় কী?

উত্তর

উক্ত আলেম ঠিকই বলেছেন। যথাযথ ওজর ছাড়া অন্যকে দিয়ে কংকর মারালে তা আদায় হয় না। কংকর মারার ক্ষেত্রে ভিড় ওজর হিসাবে ধর্তব্য নয়। আর ভিড়ের কারণে মহিলা ও দুর্বলদের জন্য তো রাতেও কংকর মারার অবকাশ রয়েছে। তাই ওজর ছাড়া অন্যকে দিয়ে কংকর মারানোর কারণে তা আদায় হয়নি। সুতরাং আপনার মায়ের উপর এ কারণে জরিমানা হিসাবে দমওয়াজিব হয়েছে।

উল্লেখ্য, দম হল এক বছর বয়সী ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা। তা মক্কায় হেরেমের এলাকায় জবাই করতে হয়। নিজে না গিয়ে অন্য কাউকে দিয়েও তা আদায় করা যেতে পারে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৬৯; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/২৯৭; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী পৃ. ২৪৫, ৩৯২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৫২৮; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ১৮৭, ১৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫১৫

শেয়ার লিংক

রাহাত - শেরপুর

৫১২৪. প্রশ্ন

হজ্বের একটি প্রশিক্ষণে হুজুর থেকে জেনেছি যে, যেই তাওয়াফের পর সাঈ করা হয় সেই তাওয়াফে রমল করতে হয়। কিন্তু আমি তাওয়াফে যিয়ারতের সময় প্রথম চক্কর এবং দ্বিতীয় চক্করের কিছু অংশে রমল করতে ভুলে গিয়েছিলাম। তারপর স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে দ্বিতীয় চক্করের বাকি অংশে এবং তৃতীয় চক্করে রমল করেছি। জানার বিষয় হল, প্রথম চক্কর এবং দ্বিতীয় চক্করের কিছু অংশে ভুলে রমল না করার কারণে কি আমার উপর দম বা সদকা ওয়াজিব হয়েছে?

উত্তর

রমল করা সুন্নত। ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তবে তা ছুটে গেলে দম বা জরিমানা ওয়াজিব হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রমল না করার কারণে আপনার উপর কেনো কিছুই ওয়াজিব হয়নি।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৫৬৬৫; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৪৬; আদ্দুররুল মুনতাকা ১/৪০২; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী পৃ. ১৮৫

শেয়ার লিংক

ইসরাফিল খলীল - শেরপুর

৫১২৩. প্রশ্ন

মক্কা শরীফে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত অনেক সময় পাওয়া যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তখন দুটি তাওয়াফ করা যায়। আমাদের মুআল্লিম সাহেব বলেছেন, তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। আমি একবার আসরের পর একটি তাওয়াফ শেষ করে নামাযের জন্য দাঁড়াচ্ছিলাম তখন এক ভাই বললেন, আসরের পর নামায পড়া যায় না। জানার বিষয় হল, ঐ লোকের কথা কি ঠিক? যদি ঠিক হয় তাহলে তাওয়াফের নামায কখন পড়ব?

উত্তর

আসরের নামাযের পর তাওয়াফ করলে তাওয়াফের নামায মাগরিবের পর আদায় করবে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন-

إذَا أَرَدْتَ الطّوَافَ بِالْبَيْتِ بَعْدَ صَلاَةِ الْفَجْرِ، أَوْ بَعْدَ صَلاَةِ الْعَصْرِ فَطُفْ وَأَخِّرَ الصّلاَةَ حَتّى تَغِيبَ الشّمْسُ أَوْ حَتّى تَطْلُعَ، فَصَلِّ لِكُلِّ أُسْبُوعٍ رَكْعَتَيْنِ.

তুমি যদি ফজর ও আসরের নামাযের পর তাওয়াফ করতে চাও তাহলে তাওয়াফের নামায সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পর আদায় করবে। প্রতি সাত চক্করের জন্য দুই রাকাত নামায পড়বে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৩৪২২; ফাতহুল বারী ৩/৫৭২)

অতএব আসরের পর একাধিক তাওয়াফ করলে প্রত্যেক তাওয়াফের জন্য মাগরিবের পর দুদুরাকাত করে পড়ে নেবে। তবে যদি কেউ সূর্যাস্তের পূর্বে তাওয়াফের নামায পড়ে নেয় তাহলে তা আদায় হয়ে যাবে। তবে তা মাকরূহ হবে।

-সহীহ বুখারী, বর্ণনা ১৬২৮; শরহু মাআনিল আছার, তাহাবী ১/৪২২; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৫৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৮; ফাতহুল কাদীর ১/২০৬; শরহুল মুনয়া পৃ. ২৩৮

শেয়ার লিংক

জোবায়ের আহমদ - গোপালগঞ্জ

৫১২২. প্রশ্ন

গোপালগঞ্জ শহরে আমার একটি মটরসাইকেলের শো-রুম রয়েছে। আমার দোকানে প্রায়ই বিভিন্ন লোক সাহায্য চাওয়ার জন্য আসতে থাকে। আমি তাদেরকে টাকা দেওয়ার সময় যাকাতের নিয়ত করে দেই। এবং তার হিসাব নির্ধারিত খাতায় লিখে রাখি। বছরের শেষে যখন আমার মোট সম্পদের যাকাত হিসাব করা হয় তখন তা পূর্বের দেয়া টাকার পরিমাণের সাথে মিলিয়ে দেখি। পূর্বের দেয়া টাকা যাকাতের নির্ধারিত পরিমাণের কম হলে (সাধারণত তাই হয়ে থাকে) বাকি টাকা আদায় করে দেই।

হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমার এইভাবে যাকাত আদায় করা কি শরীয়তসম্মত হচ্ছে? বছর শেষ হওয়ার আগের বিভিন্নজনকে দেয়া টাকা আমার জন্য যাকাত হিসাবে গণ্য করা কি বৈধ হবে?

উত্তর

বছরের শুরুতে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই অগ্রিম যাকাত আদায় করা জায়েয আছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে আপনার দেওয়া যাকাত সহীহভাবেই আদায় হয়েছে। আলী রা. থেকে বর্ণিত আছে-

أَنّ الْعَبّاسَ سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فِي تَعْجِيلِ صَدَقَتِهِ قَبْلَ أَنْ تَحِلّ فَرَخّصَ لَهُ فِي ذَلِكَ.

হযরত আব্বাস রা. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বর্ষ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে অগ্রিম যাকাত আদায় করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে এর অনুমতি প্রদান করেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৬৭৮)

-কিতাবুল আছল ২/১২৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬৪; আলহাবিল কুদসী ১/২৬৮; ফাতহুল কাদীর ২/১৫৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৮৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৬

শেয়ার লিংক

আব্দুর রাজ্জাক - পাইকপাড়া, ঢাকা

৫১২১. প্রশ্ন

আমার চাচার উপর প্রতি বছর প্রায় ৮৫হাজার টাকা যাকাত আসে। যা তিনি নিয়মিত আদায় করে থাকেন। এই বছর এক প্রসঙ্গে চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই টাকা তিনি কোথায় কোথায় ব্যয় করেন? তিনি বললেন, যাকাতের এই টাকা দিয়ে আগে রফিকের (আমার চাচাত ভাই) মাদরাসার বেতন ও কিতাব ক্রয় ইত্যাদিতে ব্যয় করি। বাকি যা থাকে গরিবদেরকে দান করে দেই।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, নিজ ছেলেকে যাকাত দেয়া কি জায়েয আছে? ছেলের জন্য ব্যয় করলে কি আমার চাচার যাকাত আদায় শরিয়তসম্মত হবে?

উত্তর

নিজের ছেলেকে যাকাত দেয়া জায়েয নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচা যাকাতের নিয়তে ছেলের জন্য যা ব্যয় করেছেন তা দ্বারা যাকাত আদায় হয়নি। ঐ পরিমাণ টাকা যাকাতের নিয়তে গরিব-মিসকীনকে দিয়ে দিতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, নিজের পিতা-মাতা ও ঊর্ধ্বতনগণ এবং সন্তানাদি ও তাদের অধস্তন ছেলে মেয়েকে যাকাত দেয়া যায় না। এবং স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে যাকাত দিতে পারে না। যাকাত শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ ফরয। আপনার চাচার কর্তব্য কোনো বিজ্ঞ আলেম থেকে যাকাতের জরুরি মাসায়েল এবং এর খাতসমূহ জেনে

নিয়ে সে অনুযায়ী আমল করা।

-কিতাবুল আছল ২/১২৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১২; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৮

শেয়ার লিংক

বিনতে আব্দুস সালাম - কল্যাণপুর, ঢাকা

৫১২০. প্রশ্ন

আমার বিয়ের সময় আত্মীয়স্বজন ও বান্ধবীগণ আমাকে বিভিন্ন জিনিস গিফট করেন। যার মধ্যে বেশ কিছু সোনার গয়নাও ছিল। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এবং বিয়ের সময় আমার মহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লক্ষ  ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা বিয়ের সময় নগদ আদায় করা হয়। আর বাকি ১ লক্ষ ১০ হাজার পরে আদায় করার কথা রয়েছে। কিছুদিন আগে আমার বিয়ের ১ বছর পূর্ণ হয়েছে। এখন আমি আমার গয়নার যাকাত দিতে চাচ্ছি।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল আমি যখন গয়নার যাকাত আদায় করব তখন কি আমাকে এই ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনাদায়ি মহরেরও যাকাত আদায় করতে হবে? মুহতারামের কাছে মাসআলার সঠিক সমাধানের আবেদন করছি।

উত্তর

না, অনাদায়ি মহর যাকাতের অন্তর্ভুক্ত হয় না। হস্তগত হওয়ার পর থেকেই তা যাকাতযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তাই আপনাকে যাকাতের হিসাবের সময় অনাদায়ি মহরের হিসাব করতে হবে না।

-মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৪৩২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩৮; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৮৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭

শেয়ার লিংক

মাহবুবুর রহমান - চকবাজার, ঢাকা

৫১১৯. প্রশ্ন

আমার উপর প্রতিবছর যে পরিমাণ যাকাত আসে তার অর্ধেক আমি ঢাকায় নিজ এলাকায় বিতরণ করি। আর বাকি অর্ধেক আমার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। বাড়ির মসজিদের ইমাম সাহেব তা গ্রামে যাকাতের উপযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। গতবার যখন যাকাতের টাকা গ্রামে পাঠাই তখন এক ব্যক্তিকে (যিনি নিজ প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়ার জন্য আমার কাছে ঢাকায় এসেছিলেন) ৭৫ হাজার টাকা দিতে বলি। এটা শুনে ইমাম সাহেব বলেন, একজনকে ৪০ হাজার টাকার বেশি যাকাত দেয়া জায়েয নেই। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি আমার না বুঝে আসায় আমি তাকীদ করলে তিনি সেই ব্যক্তিকে ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে দেন।

হযরতের কাছে আমি এটার সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি। কোনো ব্যক্তিকে (যদিও সে যাকাতের উপযুক্ত হয়) ৪০ হাজার টাকার বেশি যাকাত দেওয়া কি আদৌ জায়েয নেই? আমার উপরোক্ত ৭৫ হাজার টাকার যাকাত কি আদায় হয়েছে?

উত্তর

যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ম হল, একজনকে এত বেশি পরিমাণ না দেওয়া যে, তার বর্তমান প্রয়োজনে খরচ করার পরও তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত থেকে যায়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব হয়ত সে কথাই আপনাকে বলেছেন। তবে একেবারে জায়েয নেই একথা ঠিক নয়। বরং এত বেশি দেওয়া মাকরূহ। ভবিষ্যতে বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। তবে আপনার যাকাত আদায় হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য যে, কোনো ব্যক্তি যদি ঋণী হয় তবে সেক্ষেত্রে ঋণ আদায়ের জন্য তাকে নেসাবের বেশি টাকা দিতেও সমস্যা নেই।

-কিতাবুল আছল ২/১২৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬০; ফাতহুল কাদীর ২/২১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৯

শেয়ার লিংক

মূসা বিন বশীর - বংশাল, ঢাকা

৫১১৮. প্রশ্ন

আমার তিন সন্তান। ২৪ ও ১৮ বছর বয়সী দুই ছেলে এবং ৫ বছর বয়সী এক মেয়ে। বিগত বছরগুলোতে ঈদের আগে আমি ৩ সন্তান ও স্ত্রীসহ আমাদের ৫ জনের ফিতরা আদায় করে আসছি। গত রমযানে ঈদের আগের জুমায় খতীব সাহেব ফিতরার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, পিতার উপর তার প্রাপ্ত বয়ষ্ক সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়। বিষয়টি আমি এই প্রথম শুনলাম। তাই মুহতারামের কাছে আমি খতীব সাহেবের উক্ত বক্তব্যের যথার্থতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। আমার জন্য কি আসলেও আমার প্রাপ্তবয়ষ্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা দেয়া ওয়াজিব নয়?

উত্তর

এতদিন আপনি স্ত্রী-সন্তানের পক্ষ থেকে যে ফিতরা আদায় করে আসছেন তা সহীহ হয়েছে। প্রাপ্ত বয়স্ক  সন্তানদেরটাও আদায় হয়েছে। তবে উক্ত খতীবের একথা ঠিক যে, বালেগ সন্তানদের ফিতরা আদায় করা পিতার জন্য আবশ্যক নয়। অবশ্য পিতা তাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দিয়ে দিলে আদায় হয়ে যাবে।

-কিতাবুল আছল ২/১৭৫; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৪৫০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৮৬; আলজাউহারাতুন নায়্যিরা ১/১৭১; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৩

শেয়ার লিংক

সরওয়ার হোসাইন - মহাখালী, ঢাকা

৫১১৭. প্রশ্ন

আলহামদু লিল্লাহ, আল্লাহ তাআলা আমাকে বেশ কিছু সম্পদ দান করেছেন। আমি প্রতি বছর রমযানের শুরুতে এই সম্পদের যাকাত আদায় করি।

আমার একজন দ্বীনদার ব্যবসায়ী বন্ধু প্রায় ৩ বছর আগে আমার কাছ থেকে ৩ বছর

মেয়াদে পাঁচ লক্ষ টাকা হাওলাত নিয়েছিলেন। ৩ বছর পর এই রমযানের মাস খানেক আগে তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেছেন।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এই পাঁচ লক্ষ টাকা তো গত তিন বছর আমার কাছে ছিল না, এখন এই বছর কি আমাকে অন্যান্য সম্পদের সাথে এই টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে?

উত্তর

হাঁ, আপনাকে এই বছর অন্যান্য সম্পদের সাথে এই পাঁচ লক্ষ টাকারও যাকাত দিতে হবে। কেননা তা আপনার হাতে না থাকলেও আপনি এ টাকার মালিক ছিলেন এবং তা পাওয়ার আশাও ছিল। সুতরাং এ বছর ও বিগত তিন বছরের যাকাত ফরয। তাই আপনাকে চলতি বছরের যাকাতও দিতে হবে। এবং আপনি যদি বিগত বছরগুলোর যাকাত না দিয়ে থাকেন তাহলে সে সময়ের যাকাতও আদায় করতে হবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৩৪৬, ১০৩৫৬; কিতাবুল আছল ২/৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; আলহাবিল কুদসী ১/২৭৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬৩

শেয়ার লিংক

তানভীর - মোহাম্মাদপুর, ঢাকা

৫১১৬. প্রশ্ন

আমার নানীর ইন্তেকালের পর নানা আবার বিবাহ করেন। বিবাহের কয়েক মাস পরে নানাও মারা যান। এরপর থেকে সৎনানী তার ভাইদের সাথে থাকেন। এখন তার আর্থিক অবস্থা বেশি ভাল না। তাই আমার আম্মা চাচ্ছেন যাকাতের টাকা থেকে কিছু টাকা তার সৎ মাকে দিতে। প্রশ্ন হল, এর দ্বারা কি আমার আম্মার যাকাত আদায় হবে?

উত্তর

আপনার সৎনানী যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন তাহলে আপনার আম্মা তাকে যাকাত দিতে পারবেন। সৎমাকে যাকাত দেওয়া জায়েয আছে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২১১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬

শেয়ার লিংক

শহীদুল ইসলাম - নোয়াখালী

৫১১৫. প্রশ্ন

আমি গাড়ি কেনার জন্য কয়েক বৎসর যাবৎ ব্যাংকে টাকা জমা করি। কিছুদিন আগে মূল জমা টাকা উঠিয়ে গাড়ি কিনে ফেলি। কিন্তু টাকাগুলো এতদিন ব্যাংকে থাকার কারণে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা সুদ আসে। জানার বিষয় হল, আমার কি এই দেড় লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে?

উত্তর

সুদের টাকা সম্পূর্ণ হারাম। এর পুরোটাই সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিব-মিসকীনকে সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। এতে যাকাতের বিধান প্রযোজ্য নয়। যাকাতের বিধান কেবল বৈধ সম্পদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে উক্ত টাকা পুরোটাই সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হবে।

-আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া পৃ. ১১২; জামেউর রুমূয ১/২৯৯; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৮৬; আননাহরুল ফায়েক ১/৪১৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৪০৫

শেয়ার লিংক

আবদুল খালেক - পিরোজপুর

৫১১৪. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার একটি পুল দীর্ঘদিন যাবত ভেঙ্গে পড়ে আছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় অসুবিধা হয়। তাই আমি এই পুলটি মেরামত করতে চাচ্ছি। এখন জানার বিষয় হল, আমি যদি যাকাতের টাকা দিয়ে উক্ত পুল মেরামত করি তাহলে কি আমার যাকাত আদায় হবে?

উত্তর

পুল বা রাস্তা বানিয়ে দেওয়া বা সংস্কার করা ভাল কাজ। তবে যাকাতের অর্থ দিয়ে তা করা যাবে না। কারণ যাকাত আদায় হওয়ার জন্য যাকাতের উপযুক্ত ব্যক্তিদের ঐ টাকার পুরোপুরি মালিক বানিয়ে দেওয়া জরুরি। পুল মেরামতের মাধ্যমে মালিক বানানো হয় না। তাই এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ স্বতঃস্ফূর্ত নফল দান থেকে করতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪২; মাজমাউল আনহুর ১/৩২৮

শেয়ার লিংক

সাব্বীর রুম্মান - পল্টন, ঢাকা

৫১১৩. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার বাবা কাকরাইলের একটি শোরুমে গেলে একটি নতুন মডেলের গাড়ী তার অনেক পছন্দ হয়। এ উদ্দেশ্যে তিনি গত এপ্রিলে ব্যক্তিগত গাড়িটি ২৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন। অতঃপর শো রুমে যোগাযোগ করলে তারা গাড়িটির মূল্য ৩৫ লক্ষ বলে। বাবার কাছে অতিরিক্ত টাকা না থাকায় তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। একপর্যায়ে এ বছরের এপ্রিল চলে আসলেও অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টাকা আর জোগাড় করতে সক্ষম হননি। হুজুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি তা হচ্ছে, কিছুদিনের মাঝেই বাবাকে যাকাত দিতে হবে। এখন তিনি কি শুধু তার ব্যবসার মালের যাকাত দেবেন, নাকি এ ২৫ লক্ষ টাকারও যাকাত দেবেন? একজন বলল, এ ২৫ লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে না। কারণ এগুলো হচ্ছে ব্যবহৃত গাড়ীর বিক্রি করা টাকা, যা নতুন গাড়ী কেনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

উত্তর

আপনার বাবা যদি উক্ত টাকাগুলো দিয়ে গাড়ি কিনে নিতেন অথবা গাড়ি কেনার চুক্তি করে সে টাকা বিক্রেতাকে অগ্রিম দিয়ে দিতেন তবে সে টাকার উপর যাকাত আসত না। কিন্তু তিনি যেহেতু টাকাগুলো না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন, তাই এক্ষেত্রে তাকে উক্ত টাকার যাকাত দিতে হবে। কারণ টাকা-পয়সা বা স্বর্ণ অলংকার মালিকানায় থাকা অবস্থায় যাকাতবর্ষ অতিক্রম হলে তার যাকাত দিতে হয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১০১; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২২৩

শেয়ার লিংক

চান মিঞা - যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

৫১১২. প্রশ্ন

আমার পরিচিত এক ড্রাইভার আমাকে বললেন, ভাই, প্রায়ই আমি রোযার ঈদে সদকায়ে ফিতর দিয়ে থাকি। কারণ রমযানে ডাবল বোনাস ও যাকাতের মাল অর্জন হওয়ায় ঈদের সময় আমার কাছে প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব সমপরিমাণ টাকা থাকে। কিন্তু বড় সংসার একা চালানোর কারণে ৪-৫ মাসের ভিতর তা খরচ হয়ে যায়। ফলে রমযান পর্যন্ত আমার কাছে অতিরিক্ত আর কোনো টাকা থাকে না। বেতনের টাকা দিয়েই কোনো রকম সংসার চলে। তাই এ সময় আমি যাকাতের টাকা গ্রহণ করে থাকি। আমার জন্য এভাবে রমযানে যাকাত গ্রহণ করতে অসুবিধা নেই তো? জানালে উপকৃত হব। উল্লেখ্য, যাকাত গ্রহণের সময় তার কাছে নেসাব সমপরিমাণ টাকা থাকে না।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যখন ঐ ব্যক্তির নিকট নেসাব পরিমাণ টাকা না থাকে, ঐ সময়ে চাইলে সে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু যখন তার হাতে বেতন বোনাসসহ নেসাব পরিমাণ সম্পদ হয়ে যায় সে সময়ে যাকাত নিতে পারবে না।

-আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/১২৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১৫; ফাতহুল কাদীর ২/২১৫; আলহাবিল কুদসী ১/২৯৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৪২৭

শেয়ার লিংক

আহমাদুল্লাহ - কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

৫১১১. প্রশ্ন

গত বছর শাবান মাসের ত্রিশ তারিখে রাত দশটায় আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য প্লেনে উঠি। আমেরিকায় যখন নিজের বাসায় পৌঁছাই তখন দুপুর একটা বাজে। সেখানে দ্বিতীয় রমযান চলছিল। সফরের কারণে আমি রোযা ছিলাম না। তাই বাসায় এসে দুপুরের খাবার খাই, কিন্তু পরে সন্দেহ হয় যে কাজটি ঠিক হল কি না। হুজুরের কাছে প্রশ্ন হল, আমার এ কাজটি কি শরীয়তসম্মত হয়েছে?

উত্তর

মুসাফির ব্যক্তি যদি সফরের কারণে রোযা না রাখে এবং দিনের বেলায় মুকিম হয় তাহলে রমযানের সম্মানার্থে তার জন্য সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযাদারের মত পানাহার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। অতএব, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আমেরিকার ঐ বাসায় আপনি যদি মুকীম হন তাহলে বাসায় যাওয়ার পর কিছু খাওয়া ঠিক হয়নি। বরং গুনাহ হয়েছে। অবশ্য দীর্ঘ সফরে অনাহারে থাকার কারণে যদি কষ্টের মাত্রা বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনার খাবার খাওয়া ঠিক হয়েছে।

-কিতাবুল আছল ২/১৪৯; ফাতহুল কাদীর ২/২৮২; আলহাবিল কুদসী ১/৩১০; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১; ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ৬৯৪

শেয়ার লিংক

আহসান হাবীব - সিলেট

৫১১০. প্রশ্ন

আমার এক মেয়ে আজ প্রায় ১৫-১৬ বছর যাবত অনেক বেশি অসুস্থ। এত বেশি অসুস্থ যে, তা বর্ণনা করে বুঝানো সম্ভব নয়। শুধু এতটুকু বলব যে, সে যে বেঁচে আছে এটা কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না। মাঝখানে তার মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত ছিল। অর্থাৎ তার বয়স যখন আঠারো ছিল মারাত্মক অসুস্থতার কারণে ওজন ১৭ তে নেমে আসে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ তাকে হাজারো মানুষের দুআয় বাঁচিয়ে রেখেছেন। হুজুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি তা হচ্ছে, ১৫-১৬-১৭-১৮ বয়সগুলোতে সে লাগাতার রোযা ভাঙে। এছাড়া পরবর্তীতে ডাক্তারদের অনুরোধে আরো কিছু রোযা ভাঙে। এখন তার বয়স ত্রিশ। কষ্ট করে রোযা নামায যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। সে নিজেকে সুস্থ মনে করে এ হিসেবে যে, আল্লাহ তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে বৈবাহিক জীবন যাপনের তাওফীক দিয়েছেন এবং অকল্পনীয়ভাবে সন্তানের মাও বানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে সে সুস্থ নয়। কারণ এমন এমন কিছু জটিল রোগ আছে, যা বাহ্যদৃষ্টিতে নিরাময় হবে বলে মনে হয় না। বরং প্রায়ই তার থেকে শাখাগত রোগ দেখা দিয়ে থাকে। তাই মাঝে মাঝে সে আমাকে বলে থাকে, বাবা! রোযাগুলোর কী হবে? সেগুলোর কি ফিদয়া দেওয়া যায় না? তাই সে কি উক্ত রোযাগুলোর ফিদয়া দিতে পারবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার মেয়ের উক্ত রোযাগুলোর জন্য এখনই ফিদয়া দিতে হবে না। বরং সে অপেক্ষা করবে। যদি সে পুরো সুস্থ হয়ে যায় তখন ধীরে ধীরে কাযা করার চেষ্টা করবে। আল্লাহ তাকে পরিপূর্ণ সুস্থ করুন! আর যদি বাহ্যত এমন আশা না থাকে তাহলে ফিদয়া দিতে পারবে। এছাড়া ফিদয়ার জন্য অসিয়তও করে রাখতে পারে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬১; আলহাবিল কুদসী ১/৩০৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৪৯৫; জামেউর রুমূয ১/৩৬৮

শেয়ার লিংক

আকরাম হুসাইন - মাগুরা

৫১০৯. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে এক জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব পাঁচটি তাকবীর দিয়ে জানাযার নামায পড়ান। পঞ্চম তাকবীরের সময় মুক্তাদীগণ অনেকেই ইমামের সাথে তাকবীর বলেন আর কেউ কেউ বিরত থাকেন। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামাযের কী হুকুম? এছাড়া ইমাম সাহেব ভুলে চারের অধিক তাকবীর বললে মুক্তাদীদের করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম-মুক্তাদী সকলের জানাযার নামায হয়ে গেছে। তবে যারা পঞ্চম তাকবীরে ইমামের অনুসরণ না করে চুপ থেকেছেন তারা ঠিক করেছেন। কেননা জানাযার নামাযে তাকবীর চারটিই, যা মজবুত দলীল দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং কোনো ইমাম যদি ভুলে চারের অধিক তাকবীর দিয়ে দেন তাহলে মুসল্লীগণ তার অনুসরণ করবে না। যদি কেউ ইমামের অনুসরণ করেও তাহলে নামায নষ্ট হয়ে যাবে না।

-কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ ১/২৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৩; আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশাইখ পৃ. ৮০; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৪; রদ্দুল মুহতার ২/২১৪

শেয়ার লিংক

রাকিব - ফুলপুর

৫১০৮. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একটি বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ মতবিরোধ চলে আসছে। তা হল, জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব মায়্যেতের কোন্ বরাবর দাঁড়াবেন? সিনা বরাবর, নাকি কোমর বরাবর? এবং এক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলার কেনো পার্থক্য হবে কি না? মুফতী সাহেবের কাছে এ বিষয়ের সঠিক সমাধান কামনা করছি।

উত্তর

জানাযার নামাযে ইমাম সাহেবের জন্য উত্তম হল, মায়্যেতের সিনা বরাবর দাঁড়ানো। নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী এক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলার কোনো পার্থক্য নেই।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১৬৭২; আলজামেউস সাগীর, ইমাম মুহাম্মাদ পৃ. ৭৯; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৩; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৮৮

শেয়ার লিংক

জালালুদ্দীন - কিশোরগঞ্জ

৫১০৭. প্রশ্ন

আমরা সাধারণত জানাযার নামাযে দুদিকে সালাম ফিরিয়ে থাকি। সেদিন একজন আলেমকে বলতে শুনলাম, এ পদ্ধতিটি ঠিক নয়। বরং সুন্নাহসম্মত পন্থা হচ্ছে জানাযার নামাযে এক দিকে সালাম ফেরানো। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করেছেন। আমি জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? আমরা কি জানাযায় এক দিকে সালাম ফেরাব?

উত্তর

জানাযার নামাযে ডানে-বামে উভয়দিকে সালাম ফেরানোর বিষয়টি হাদীস এবং সাহাবা ও তাবেয়ীদের আমল দ্বারা প্রমাণিত।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন-

خِلاَلٌ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَفْعَلُهُنّ، تَرَكَهُنّ النّاسُ، إِحْدَاهُنّ

تَسْلِيمُ الإِمَامِ فِي الْجَنَازَةِ مِثْلَ تَسْلِيمِهِ فِي الصّلاَةِ.

কয়েকটি কাজ এমন রয়েছে, যা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন আর মানুষ তা ছেড়ে দিয়েছে। একটি হচ্ছে, জানাযার নামাযের সালাম অন্যান্য নামাযের সালামের অনুরূপ হওয়া। [আলমুজামুল কাবীর, বর্ণনা ১০০২২; হাইসামী রাহ. বলেন এই হাদীসের বর্ণনাকারীগণ ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য) -মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪১৭১]

আর মুসলিম শরীফে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকেই এই বর্ণনা রয়েছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে দুই সালাম ফেরাতেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৮১)

ইবরাহীম আলহাজারী রাহ. বলেন-

أَمّنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى عَلَى جِنَازَةِ ابْنَتِهِ فَكَبّرَ أَرْبَعًا، فَمَكَثَ سَاعَةً حَتّى ظَنَنّا أَنّهُ سَيُكَبِّرُ خَمْسًا، ثُمّ سَلّمَ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ، فَلَمّا انْصَرَفَ، قُلْنَا لَهُ: مَا هَذَا؟ قَالَ: إِنِّي لَا أَزِيدُكُمْ عَلَى مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَصْنَعُ، أَوْ هَكَذَا صَنَعَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ.

আবদুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা. তার মেয়ের জানাযার ইমামতি করলেন। তিনি তাতে চার তাকবীর বললেন... এরপর ডানে-বামে উভয়দিকে সালাম ফিরিয়ে বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এভাবে জানাযার নামায পড়াতে দেখেছি। (আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৪/৪৩; হাকেম রাহ বলেন, হাদীসটি সহীহ, আল মুসতাদরাক, বর্ণনা নং ১৩৭০)

এছাড়া সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রা. তাবেয়ী জাবের ইবনে যায়েদ, ইবরাহিম নাখায়ী, আমের, আতা রাহ. প্রমুখের আমলও অনুরূপ ছিল। (দেখুন কিতাবুল আসার, ২৩৪, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৬৪৪৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১৬১৮, ১১৬২৩)

তাই জানাযার নামাযে দুদিকে সালাম ফেরানোর পদ্ধতি সুন্নাহসম্মত। এটিকে ভুল বলা অন্যায়। তবে হাদীসে যেহেতু জানাযার নামাযে এক সালামের কথাও এসেছে তাই এ পদ্ধতিটিকেও ভুল বলা যাবে না। অবশ্য পূর্বোক্ত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর হাদীস ও অন্যান্য দলীলের ভিত্তিতে দুদিকে সালাম ফেরানোর আমলটিকে হানাফী ফকীহগণ উত্তম বলেছেন। তবে উভয় আমলই যেহেতু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত তাই এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করা ঠিক নয়।

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ - ফেনী

৫১০৬. প্রশ্ন

আমাদের মাদরাসার মসজিদের জন্য মুআযযিন নির্ধারিত আছে। মুআযযিন ঐ মাদরাসারই ছাত্র। সাধারণত মুআযযিনই আযান দেন। কিন্তু ইকামতের সময় অনেক সময় মাদরাসার মুহতামিম সাহেব ইকামত দেন। প্রায় ২/৩ ওয়াক্তে তিনিই ইকামত দেন। এটা নিয়ে কিছু মুসল্লী কানাঘুষা শুরু করে। জানার বিষয় হল, একজনে আযান দেওয়া অন্যজনে ইকামত দেওয়ার বিধান কী?

উত্তর

যিনি আযান দেবেন ইকামত দেওয়া তারই হক। ইকামতের সময় মুআযযিন উপস্থিত থাকলে তিনিই ইকামত দেবেন। হাদীস শরীফে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

وَمَنْ أَذّنَ فَهُوَ يُقِيمُ.

যে আযান দেবে সেই ইকামত দেবে। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯৯)

তবে মুআযযিন রাজি থাকলে কিংবা তার কোনো ওজর থাকলে অন্য কেউ ইকামত দিতে পারবে। এটি নিয়ে কানাঘুষা করার কিছু নেই।

-ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৯; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৪

শেয়ার লিংক

ইকরাম - ফেনী

৫১০৫. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার পরিচিত একজন গাড়ী এক্সিডেন্ট করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। তখন তার মাথায় অপারেশন করা লাগে। এরপর মাথায় ব্যান্ডেজ অবস্থায় ছিল কিছুদিন। প্রথম কয়েকদিন বিছানায় পুরো শায়িত ছিল। মাথা নাড়ানো সম্ভব ছিল না। ডাক্তাররাও কয়েকদিন মাথা না নাড়ানোর কথা বলেছিলেন। এখন সে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন হল, সে যে কয়দিন পুরো শায়িত ছিল ওই দিনগুলোর নামাযের হুকুম কী? একজন বলেছে, মাথা না নাড়াতে পারলেও যেহেতু তার জ্ঞান ছিল তাই ওই কয়দিনের নামায তার চোখের ইশারায় পড়া জরুরি ছিল। তাই ওই কয়দিন নামায না পড়া অন্যায় হয়েছে। তার একথা কি ঠিক? এখন সে ওই নামাযগুলোর জন্য কী করবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ঐ পরিচিত ব্যক্তি যেহেতু ঐ কয়দিন (পাঁচ ওয়াক্তের বেশি) মাথা নাড়াতেও সক্ষম ছিলেন না তাই ঐ দিনগুলোর নামায তার উপর ফরয ছিল না। সুতরাং এর কাযা করতে হবে না।

-আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশাইখ পৃ. ৯৮; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১০৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৯১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৫

শেয়ার লিংক

আমিন - কুমিল্লা

৫১০৪. প্রশ্ন

আলহামদু লিল্লাহ, আমি নিয়মিত সুন্নাহ মোতাবেক নামায আদায় করার চেষ্টা করি। গত কয়েকদিন আগে আমি ইমামের সাথে নামায শুরু করি। হঠাৎ নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আমার মাথা প্রচুর চক্কর দেয়া শুরু করে। তখন আমার চোখের সামনে সব অন্ধকার মনে হচ্ছিল। ঐ সময় আমি না পেরে বসে পড়ি এবং বাকি নামায বসে আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমার এভাবে বসে নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

হাঁ, উক্ত অবস্থায় আপনার বসে নামায পড়াটা ঠিকই হয়েছে। কারণ নামায অবস্থায়ও যদি কেউ অসুস্থতার কারণে দাঁড়াতে না পারে তবে বাকি নামায বসে আদায় করাও জায়েয।

-কিতাবুল আছল ১/১৯৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৮; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩৬৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৬

শেয়ার লিংক

মুনিরুজ্জামান - জামালপুর

৫১০৩. প্রশ্ন

জামাতে নামায আদায় করা অবস্থায় মাঝে মাঝে আমার তাশাহহুদ শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? আমি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াব, নাকি তাশাহহুদ অসমাপ্ত রেখেই ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

উত্তর

মুক্তাদির জন্যও পুরো তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব। তাই তাশাহহুদ শেষ হওয়ার পূর্বেই যদি ইমাম তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান তাহলে মুক্তাদী নিজের তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩১; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৯৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫৯; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫২৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৮০

শেয়ার লিংক

ইলিয়াস - হাতিয়া

৫১০২. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় জুমার দিন বিভিন্ন মসজিদে খুতবার সময় দানবাক্স চালাতে ও এক-দুজন উঠে মুসল্লিদের থেকে টাকা উঠাতে দেখা যায়। জানার বিষয় হল, খুতবা চলাকালীন দানবাক্স বা উঠে টাকা উঠানো শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন?

উত্তর

খুতবা চলাকালীন টাকা উঠানো বা দানবাক্স চালানো নাজায়েয। কেননা জুমার খুতবা শ্রবণ করা এবং ঐ সময়ে চুপ থাকা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন সব ধরনের কাজকর্ম, কথাবার্তা এমনকি নামায, যিকির ও তিলাওয়াত পর্যন্ত নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ اِذَا قُرِئَ الْقُرْاٰنُ فَاسْتَمِعُوْا لَهٗ وَ اَنْصِتُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ.

যখন কুরআন পড়া হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত হয়। [সূরা আরাফ (৭) : ২০৪] উক্ত আয়াতের তাফসীরে মুজাহিদ রাহ. বলেন, এ আয়াত নামায ও জুমার খুতবার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৪৪৪)

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ تَوَضّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيّامٍ وَمَنْ مَسّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا.

যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করল অতঃপর জুমায় এসে চুপ করে মনোযোগ সহকারে (খুতবা) শুনল, তার পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং আরো অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। আর যে কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ করল। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৫৭)

অপর এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ.

জুমার দিন ইমাম খুতবা দিচ্ছেন এমন সময় যদি তোমার পাশের ব্যক্তিকে বল চুপ করতবে তুমি অনর্থক কাজ করলে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৩৪)

ইমাম ইবনে ওয়াহাব রাহ. বলেন-

مَعْنَاهُ أَجْزَأَتْ عَنْهُ الصّلَاة وَحُرِمَ فَضِيلَة الْجُمُعَة.

এর অর্থ হল, তার জুমার ফরয আদায় হলেও সে জুমার ফযীলত থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল। (ফাতহুল বারী ২/৪৮১)

তাই জুমার দিন খুতবার সময় দানবাক্স চালানো কিংবা উঠে টাকা উঠানো ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সম্পূর্ণ চুপ থেকে মনোযোগ সহকারে জুমার খুতবা শ্রবণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে খুতবার আগে বা নামাযের পরে মসজিদের জন্য টাকা উঠানো যেতে পারে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/১০৫; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৪২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২০৬; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৪৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৭৪; মুখতারাতুন নাওয়াযিল  ১/৩৮৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৫

শেয়ার লিংক

তানিয়া সুলতানা - বাগেরহাট

৫১০১. প্রশ্ন

একদিন সকালে আমি কুরআন তিলাওয়াত শেষে ইশরাকের নামায পড়ছিলাম। সেদিন নামায অবস্থায় আমার ঋতু¯্রাব শুরু হয়ে গেলে আমি নামায ছেড়ে দিই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, আমার উক্ত নামায কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

উত্তর

হাঁ, পবিত্র হওয়ার পর উক্ত নফল নামায কাযা করতে হবে। কেননা, নফল নামায শুরু করার পর তা সম্পন্ন করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ফরয নামাযের মধ্যে যদি এমনটি হয় অর্থাৎ ফরয নামায শুরু করার পর যদি কারো মাসিক শুরু হয় তাহলে পরবর্তীতে সেই ফরযের কাযা করা লাগে না।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৮২; আলবাহরুর রায়েক ১/২০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮; আলজাওহারাতুন নাইয়িরা ১/৪০

শেয়ার লিংক