সাফওয়ান আহমাদ - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

৫২৬৪. প্রশ্ন

আমার মুহতারাম আব্বা অনেক আগে কোনো এক প্রসঙ্গে মসজিদে নববীতে চার রাকাত নফল নামায পড়ার মান্নত করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার মসজিদে নববীতে যাওয়ার তৌফিক হয়নি। এখন তার বয়স অনেক বেড়েছে, শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। শারীরিক দুর্বলতার কারণে লম্বা সফর করা তার জন্য কঠিন। তো এখন তিনি কী করতে পারেন? মান্নতটি পূর্ণ করার কী পদ্ধতি হতে পারে?

উত্তর

উক্ত চার রাকাত নামায মসজিদে নববীতেই পড়া জরুরি নয়। যে কোনো মসজিদে বা জায়গায় চার রাকাত নামায পড়ে নিলেও মান্নত পূর্ণ হয়ে যাবে। হাদীস শরীফে এসেছে যে, জাবির রা. বলেন-

أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَوْمَ الْفَتْحِ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي نَذَرْتُ إِنْ فَتَحَ اللهُ عَلَيْكَ مَكَّةَ أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَقَالَ: صَلِّ هَاهُنَا، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: صَلِّ هَاهُنَا، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: شَأْنَكَ إِذًا.

মক্কা বিজয়ের দিন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি মান্নত করেছিলাম যে, আল্লাহ তাআলা যদি আপনার দ্বারা মক্কার বিজয় দান করেন তাহলে বায়তুল মাকদিসে নামায পড়ব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (বায়তুল মাকদিসে গিয়ে পড়া লাগবে না) এখানেই পড়ে নাও। লোকটি আবারো জিজ্ঞাসা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই উত্তর দিলেন যে, এখানেই পড়ে নাও। লোকটি তৃতীয়বার একই কথা জিজ্ঞেস করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তোমার যা ইচ্ছা। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৪৯১৯)

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৯; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮৫; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৪০-১

শেয়ার লিংক

আমিনুল ইসলাম - রাজশাহী

৫২৬৩. প্রশ্ন

স্বামীর মৃত্যু-পরবর্তী ইদ্দতরত মহিলার জন্য পাশর্^বর্তী বাড়িতে যাওয়া জায়েয হবে কি? বিশেষত যখন একা থাকার কারণে খারাপ লাগে বা বিশেষ প্রয়োজনে পাশে মায়ের বাড়ি যেতে হয় সেক্ষেত্রে  পাশে মায়ের বাড়ি যেতে পারবে কি? আর মেয়েদের তালীমের জন্য নিকটতম বা দূরবর্তী কোনো বাসায় যাওয়া-আসা করতে পারবে কি?

উত্তর

স্বামীর মৃত্যু পরবর্তী ইদ্দত চলাকালীন বিধবার জন্য বাসায় অবস্থান করাই শরীয়তের বিধান। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা খুব বেশি একাকীত্ব অনুভব হলে দিনের বেলা পূর্ণ পর্দার সাথে পাশে মায়ের বাড়ি যেতে পারবে এবং রাতের আগেই ইদ্দতের জায়গায় ফিরে আসবে। আর এ অবস্থায় তালীমের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে না। বরং বাসাতে থেকেই তালীম বা দ্বীনী কিতাবাদি পড়াশোনা করবে।

-মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ১২০৬৪, ১২০৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১১৯; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৬; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৫৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৬

শেয়ার লিংক

আমাতুল্লাহ হাবিবা - কেশবপুর, যশোর

৫২৬২. প্রশ্ন

আমি একটি মহিলা মাদরাসায় হিফয বিভাগে পড়ি। আমার এক বছর বয়সে একদিন আমার বড় আপার ননদ আমাকে দুধ পান করান। এ কারণে আমি আপার বাড়িতে গেলে বা তারা আমাদের বাড়িতে আসলে আপা আমাকে দুলাভাইয়ের সাথে দেখা করতে বলেন। আমাকে তার সামনে নিয়ে যান। কিন্তু আমি এখন বড় হয়েছি। বিষয়টা আমার কাছে খুবই সংকোচ লাগে। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে আমার দুলাভাই কি আমার মাহরাম? আমি কি তার সাথে দেখা করতে পারব? আশা করি বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার আপার ননদ আপনাকে দুধ পান করানোর কারণে তিনি আপনার দুধ-মা হয়ে গেছেন। হাদীস শরীফে আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعِ مَا يَحْرُمُ مِنَ النَّسَبِ.

রক্তের (বংশীয়) সম্পর্কের কারণে যেসকল আত্মীয় মাহরাম হয়, দুধ-সম্পর্কের কারণেও (দুধমায়ের) সে সকল আত্মীয় মাহরাম হয়ে যায়। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২৬৪৫)

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার দুলাভাই যেহেতু আপনার দুধ-মায়ের ভাই তথা আপনার দুধ-মামা তাই তিনি আপনার মাহরাম। তার সাথে দেখা করা আপনার জন্য বৈধ।

তবে যেহেতু বর্তমান সময়ে সাধারণত দুলাভাইদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গলদ রেওয়াজ রয়েছে। তাই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। দুধ-মামা হিসেবে সামনে গেলেও হাসি-তামাশা থেকে বিরত থাকা কাম্য।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৫/১৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৯৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২২; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২২২-২২৫

শেয়ার লিংক

শিহাব উদ্দীন - কুমিল্লা

৫২৬১. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয় অনেক দিন যাবৎ মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে জেলখানায় আটক ছিলেন। তখন তিনি মান্নত করেন যে, যদি আল্লাহ তাকে জেলখানা থেকে মুক্তি দান করেন তাহলে তিনি হজ্ব করবেন। আল্লাহর মেহেরবানীতে কিছুদিন আগে তিনি মুক্তি পেয়েছেন এবং মান্নত পূর্ণ করার জন্য আগামী বছর হজ্ব করার ইচ্ছা করেছেন। এর আগে কখনো তিনি হজ্ব করেননি। কিন্তু আগে থেকেই তার উপর হজ্ব ফরয ছিল। জানার বিষয় হল, এই হজ্বের মাধ্যমে কি তার ফরয হজ্ব আদায় হবে, নাকি ফরয হজ্ব আদায়ের জন্য পৃথকভাবে আরেকটি হজ্ব করতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার আত্মীয় হজ্ব করলে ফরয হজ্ব এবং তার মান্নতের হজ্ব উভয়টিই আদায় হয়ে যাবে। কেননা এভাবে মান্নত করার দ্বারা মানুষের সাধারণত ফরয হজ্ব আদায় করাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এতদসত্ত্বেও তার জন্য হজ্ব করার সময় ফরয হজ্ব এবং মান্নতের হজ্ব উভয়টি আদায়ের নিয়ত করা ভালো হবে।

-আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশাইখ, সামারকান্দী, পৃ. ১৪২; খিযানাতুল আকমাল ১/৩৮৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ১/২৬৭; ফাতহুল কাদীর ৩/৮৯; আলবাহরুর রায়েক ৩/৭৬

শেয়ার লিংক

আলী আহসান - আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া

৫২৬০. প্রশ্ন

আমার নানার উপর হজ্ব ফরয ছিল। হজ্বে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। হজ্বের  টাকা-পয়সাও  চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়ে যায়। মৃত্যুর সময় তিনি বদলি-হজ্ব করানোর অসীয়ত করে যান। কিন্তু মৃত্যুর পর তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ৫০ হাজার টাকার বেশি নয়। এ দিয়ে হজ্ব করানো অসম্ভব। আমাদের এক আত্মীয় সৌদিতে থাকেন। তিনি উক্ত টাকায় বদলি হজ্ব করতে রাজি হয়েছেন। জানতে চাই উক্ত সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে হজ্ব করানো যাবে কি না?

উত্তর

বদলি হজ্বের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির পক্ষ থেকে তা আদায় করা হচ্ছে তার দেশ থেকে প্রেরণ করা আবশ্যক। কিন্তু প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃত-ব্যক্তির এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ দ্বারা যেহেতু এ দেশ থেকে বদলি হজ্বে প্রেরণ করা সম্ভব নয়। তাই এক্ষেত্রে সৌদি থেকেও বদলি হজ্ব করানো যাবে এবং এর দ্বারা তার অসীয়ত পূর্ণ হয়ে যাবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৩১৪৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৮; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী, পৃ. ৪৪০; রদ্দুল মুহতার ২/৬০৫

শেয়ার লিংক

সুলতান আহমাদ - শ্যামলি, ঢাকা

৫২৫৯. প্রশ্ন

আমার ফুফুর উপর হজ্ব ফরয। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তার হজ্ব করার শারীরিক সক্ষমতা নেই। তিনি অন্য কাউকে দিয়ে তার হজ্বটি করাতে চাচ্ছেন এবং এর জন্য আমাকে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু আমি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করলেও কখনো অন্যের বদলি হজ্ব করিনি। মুফতী সাহেবের কাছে দরখাস্ত হল, বদলি হজ্বের পদ্ধতিটা সংক্ষেপে একটু বলবেন। এক্ষেত্রে কী কী বিষয়গুলো বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে? বদলী হজ্বের আলাদা কোনো রোকন আছে কি না- তাও জানাবেন।

উত্তর

বদলি হজ্বের পদ্ধতি আর সাধারণ হজ্বের পদ্ধতি একই। আপনি যে পদ্ধতিতে আপনার ফরয হজ্ব আদায় করেছেন সে পদ্ধতিতেই বদলি হজ্ব আদায় করবেন। শুধু ইহরাম করার সময় যার পক্ষ থেকে হজ্ব করছেন তার পক্ষ থেকে হজ্ব করার নিয়ত করবেন। মৌখিকভাবে নিয়ত করা উত্তম। উদাহরণস্বরূপ এভাবে বলবেন যে, আমি আমার ফুফুর পক্ষ থেকে হজ্বের ইহরাম করছি। তামাত্তু হজ্ব করার ইচ্ছা করলে উমরার নিয়ত করার সময়ও এভাবে বলবেন।

বদলি হজ্বকারীর জন্য লক্ষ্য রাখা উচিত যে, যাতায়াত ও পানাহারের খরচ যেন ইনসাফের সাথে হয়। কেননা হজ্বের খরচের টাকাটা তার কাছে আমানত। সর্তকতার সাথে তা খরচ করা উচিত। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় খরচ করবে না। হজ্ব শেষে যে পরিমাণ টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে তা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। অবশ্য যদি হজ্বে প্রেরণকারী তাকে উদ্বৃত্ত টাকা হাদিয়া হিসাবে দিয়ে দেন তাহলে সেটা ভিন্ন।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৪৯৭১; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১৬২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৬; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/৪৯২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৪২৯; ইলইখতিয়ার ১/৫২২

শেয়ার লিংক

যয়নুল আবেদীন - সিলেট

৫২৫৮. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি বিমানে করে নিজ দেশ থেকে উমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। তার ইচ্ছা ছিল যে, বিমানে ইহরাম করে নেবেন। কিন্তু যখন ইহরাম করার সময় এল তখন তার স্মরণ হল যে, তিনি তো ইহরামের কাপড় বাড়িতে ভুলে রেখে গেছেন। তাই তিনি ইহরাম ছাড়াই জিদ্দা পৌঁছে তার এলাকার একজন আলেমের সাথে যোগাযোগ করেন। ঐ আলেম তাকে বলেন যে, কাছের কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করে আসতে হবে। এবং জরিমানা স্বরূপ একটি পশু জবাই করতে হবে। কিন্তু তিনি এসব কিছু না করে জিদ্দায় ইহরাম করে ফেলেন। এবং এভাবেই উমরা শেষ করেন। প্রশ্ন হল, এসব ক্ষেত্রে জিদ্দায় ইহরাম করার দ্বারা কি উমরা সহীহ হয়ে যায়, নাকি মীকাতের দিকে যাওয়া জরুরি? যদি মীকাতের দিকে যাওয়া আবশ্যক হয় তাহলে কোন্ মীকাতের দিকে যাবে? ইহরাম ছাড়া যে মীকাত অতিক্রম করেছে, সেই মীকাতে যেতে হবে, না অন্য কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করলেও হবে?

উত্তর

ইহরামের নিয়ম হল, হজ¦ বা উমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠ করা। ইহরাম সম্পন্ন হওয়ার জন্য সেলাইবিহীন কাপড় পরা শর্ত নয়। বিমানে মীকাত অতিক্রম করার সময় কারো কাছে যদি সেলাইবিহীন কাপড় না থাকে তাহলে সেলাইযুক্ত কাপড় পরা অবস্থায়ই ইহরাম করে নেবে। তাই প্রশ্নোক্ত লোকটির জন্য মীকাত অতিক্রমের সময় বিমানেই ইহরাম করে নেওয়া জরুরি ছিল। তিনি জিদ্দায় পৌঁছে ইহরামের কাপড় পরতে পারতেন। সেক্ষেত্রে ১২ ঘণ্টার কম সময় সেলাইযুক্ত কাপড় পরার কারণে তাকে শুধু এক ফিতরা সমপরিমাণ সদকা করতে হত; অন্য কিছু করা লাগত না। কিন্তু যেহেতু তিনি তা করেননি; বরং ইহরাম করা ছাড়াই মীকাত অতিক্রম করে জিদ্দা চলে গেছেন তাই তার জন্য জিদ্দা অবতরণের পর কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করা জরুরি ছিল। এসব ক্ষেত্রে যে কোনো মীকাতে গিয়ে ইহরাম করা যায়।

অবশ্য ইহরাম ছাড়া যে মিকাত অতিক্রম করা হয়েছে তাতে গিয়ে ইহরাম করা উত্তম। কিন্তু তিনি যেহেতু তাও করেননি; বরং জিদ্দায়ই ইহরাম করে উমরাহ সম্পন্ন করে ফেলেছেন তাই তার উপর একটি দম ওয়াজিব হয়েছেযা হেরেমের এলাকায় আদায় করতে হবে।

-রদ্দুল মুহতার ২/৪৭৯, ৪৮১; মানাসকি মোল্লা আলী আলকারী, পৃ. ৯৪; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃ. ৭১

শেয়ার লিংক

হাসান যায়েদ - যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

৫২৫৭. প্রশ্ন

আমরা দুই বন্ধু একসাথে এক বাসায় ভাড়া থাকি। আমি ব্যবসা করি আর সে পড়াশোনা করে। গত কয়েকদিন আগে আর্থিক কিছু সমস্যার কারণে সে এই বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চাচ্ছিল। আমি ওকে বললাম, এই বাসা ছাড়ার দরকার নেই। তুমি থাকতে থাক। তোমার বাসা ভাড়া আমি দিয়ে দিব। আমার এই কথা শুনে সে থেকে যেতে রাজি হয়।

আমি এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আমি যদি আমার ব্যবসার যাকাতের টাকা থেকে তার বাসা ভাড়া আদায় করে দিই তাহলে কি জায়েয হবে? এবং এর দ্বারা কি আমার যাকাত আদায় হবে? অনুগ্রহ করে সঠিক সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বন্ধুর বাসা ভাড়া আদায়ের অনুমতি যেহেতু পূর্বেই নেওয়া ছিল তাই তিনি যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন তাহলে যাকাতের টাকা দিয়ে তার বাসা ভাড়া আদায় করে দেওয়া জায়েয হবে।

-কিতাবুল আছল ২/১০৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৮; ফাতহুল কাদীর ২/২০৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৪

শেয়ার লিংক

নাসিরুদ্দীন - উত্তরা, ঢাকা

৫২৫৬. প্রশ্ন

গত রমযানে অসুস্থতার কারণে একদিনের রোযা রাখতে পারিনি। আজ সকাল আটটার দিকে ঘুম থেকে জেগে কাযা রোযাটি রাখার নিয়ত করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাড়িতে মেহমান আসায় তাদের পীড়াপীড়িতে তা ভেঙে ফেলি। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কয়টি রোযা রাখতে হবে? একটি, না দুটি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে দুটি রোযা আদায় করতে হবে। একটি রমযানের কাযা রোযা। আর অপরটি রোযা রাখার পর তা ভেঙে ফেলার কারণে নফল রোযার কাযা। কেননা রমযানের কাযা রোযা রাখার জন্য রাতেই নিয়ত করা জরুরি। দিনের বেলা কাযা রোযার নিয়ত করা সহীহ নয়। দিনের বেলা কাযা রোযার নিয়ত করলেও তা নফল রোযা হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনি সকাল আটটায় কাযা রোযার নিয়ত করলেও তা রমযানের কাযা রোযা হয়নি; বরং নফল রোযা হিসেবে শুরু হয়েছে। আর নফল রোযা শুরু করার পর ভেঙে ফেললে তা কাযা করা জরুরি। তাই আপনাকে দুটি রোযাই কাযা করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ২/১৬৪; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/৩৭১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৬২; রদ্দুল মুহতার ২/৩৮০

শেয়ার লিংক

মাওলানা মাহফুজ আহমাদ - চতুল, কানাইঘাট

৫২৫৫. প্রশ্ন

গত বছর রমযানে প্রায় এক সপ্তাহ সফরে ছিলাম। সফরের কিছুদিন রোযা রাখতে পারিনি। মুহাররাম মাসে তা কাযা করতে শুরু করি। কতদিন রোযা রাখিনি- নিশ্চিতভাবে এ সংখ্যাটি মনে ছিল না। চারদিন রোযা রাখার পর পঞ্চম দিন রোযা রাখা অবস্থায় ঘটনাক্রমে এক সাথীর সাথে দেখা হয় যে ঐ সফরে আমাদের সাথে ছিল। সে আমাকে জানালো যে, আমরা কেবল তিন দিন রোযা রাখিনি। অবশিষ্ট দিনগুলোতে নিশ্চিতভাবেই রোযা রেখেছি। বিষয়টি জানার পর আমি পঞ্চম দিনের রোযাটি ভেঙে ফেলি। কিন্তু পরে জানতে পারলাম যে, রোযা শুরু করার পর তা পূর্ণ করা জরুরি। শুরু করার পর ভেঙে ফেললে এর কাযা করতে হবে। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও কি আমাকে এ রোযার কাযা করতে হবে?

উত্তর

না, আপনাকে উক্ত রোযার কাযা করতে হবে না। তবে নফলের নিয়তে রোযা শুরু করার পর তা ভেঙে ফেললে এর কাযা আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কেননা কাযা বা মান্নতের রোযার নিয়তে রোযা শুরু করার পর যদি জানতে পারে যে, তার যিম্মায় উক্ত রোযা নেই, অতঃপর সে তা ভেঙে ফেলে তাহলে এর কাযা আদায় করা তার জন্য জরুরি নয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু ওয়াজিব রোযার নিয়ত করেছেন তাই তা ভেঙে ফেলার কারণে এর কাযা করতে হবে না। তবে এক্ষেত্রেও রোযা না ভেঙে তা পূর্ণ করাই উত্তম। এর দ্বারা নফল রোযার সওয়াব হবে।

-কিতাবুল আছল ২/১৬৩; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/৮২; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৩১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭; জামেউর রুমূয ১/২৫৮; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৩৭৭

শেয়ার লিংক

রফিকুল ইসলাম - দিলালপুর, পাবনা

৫২৫৪. প্রশ্ন

কবর যিয়ারতের ক্ষেত্রে অনেককে দেখা যায় যে দুআ করার সময় কবরের দিকে ফিরেই দুআ করেন। আবার অনেক লোককে দেখা যায় কেবলামুখী হয়ে দুআ করেন। আসলে এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোন্টি? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

কবর যিয়ারতের পর দুআ করতে চাইলে কবরকে সামনে রেখে দুআ করবে না। বরং কবর থেকে সরে কিবলামুখী হয়ে দুআ করবে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ যুলবিজাদাইন রা.-এর দাফনের ঘটনায় তিনি বলেন-

فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ دَفْنِهِ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ رَافِعًا يَدَيْهِ يَقُولُ: اللهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ عَنْهُ رَاضِيًا فَارْضَ عَنْهُ.

আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আবদুল্লাহ যুলবিজাদাইন-এর কবরে দেখেছি, যখন তিনি তার দাফন থেকে ফারেগ হলেন, দুই হাত তুলে কেবলামুখী হয়ে তার জন্য দুআ করেন, ইয়া আল্লাহ, আমি তার উপর সন্তুষ্ট, আপনিও তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। (মুসনাদে বাযযার, হাদীস ১৭০৬; হিলয়াতুল আওলিয়া ১/১২২; ফাতহুল বারী ১১/১৪৮)

-আলবেনায়াহ শরহুল হেদায়াহ ৩/২৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫০

শেয়ার লিংক

রেজাউল করীম - সাভার, ঢাকা

৫২৫৩. প্রশ্ন

আমাদের দেশে সাধারণত খতীবগণ জুমার দ্বিতীয় খুতবায় কুরআনুল কারীমের আয়াত-

اِنَّ اللّٰهَ وَ مَلٰٓىِٕكَتَهٗ یُصَلُّوْنَ عَلَی النَّبِیِّ  یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَیْهِ وَ سَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا

 তিলাওয়াত করে থাকেন।

হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আমরা তো জানি, খুতবা চলাকালীন মুসল্লীদের জন্য নীরব থাকা আবশ্যক। কিন্তু খতীব সাহেব যদি খুতবার মধ্যে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন তারপরও তারা নীরবই থাকবেন, না খতীবের ন্যায় দরূদ শরীফ পাঠ করবেন? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

জুমা ও ঈদের খুতবা চলাকালীন মুসল্লীদের চুপ থাকা ওয়াজিব। এ সময় সকল প্রকার কথাবার্তা এমনকি যিকর থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে।

হযরত  আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-

وَجَبَ الْإِنْصَاتُ فِي أَرْبَعَةِ مَوَاطِنَ: الْجُمُعَةِ وَالْفِطْرِ وَالْأَضْحَى وَالِاسْتِسْقَاءِ.

চারটি স্থানে চুপ থাকা ওয়াজিব: জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং ইসতিসকার (খুতবার) সময়। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৬৪২)

সুতরাং খতীব সাহেব প্রশ্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেও মুসল্লীগণ চুপ থাকবেন। মুখে উচ্চারণ করে দরূদ শরীফ পড়বেন না। বরং মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবণ করবেন।

-তাফসীরে তাবারী ৬/১৬৪; মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৫৩৬৯; কিতাবুল আছল ১/৩০৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬০; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৫৬৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৫

শেয়ার লিংক

মাহমুদুল হাসান - যাত্রাবাড়ি

৫২৫২. প্রশ্ন

অনেক দিন পর আমি ও আমার বড় ভাই ছোট মামার বাসায় যাই। সেখানে আমরা যেই রুমে নামায পড়ি তাতে আমাদের মরহুম নানা-নানীর ছবি ঝোলানো ছিল। ছবিটি বেশ বড় ছিল। নামাযের পর আমার সন্দেহ হয় যে, এ রুমে পড়া নামায আদায় হয়েছে কি না? বড় ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, নামায হয়ে গেছে। কেননা ছবিটি আমাদের সামনে ছিল না; বরং ডানপাশে ছিল। জানার বিষয় হল, তার কথাটা কি ঠিক? পাশে ছবি থাকা অবস্থায় নামায পড়লে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে না?

উত্তর

সামনে প্রাণীর ছবি রেখে নামায পড়লে যেভাবে নামায মাকরূহ হয় তেমনিভাবে ডানপাশে বা বামপাশে ছবি ঝোলানো থাকলেও নামায মাকরূহ হয়। সুতরাং আপনাদের উক্ত নামায মাকরূহ হয়েছে। তবে তা আদায় হয়ে গেছে। পুনরায় পড়তে হবে না।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪১৪; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২৯৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২০৩; রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৮

শেয়ার লিংক

আবুল কালাম - বাংলাবাজার, ঢাকা

৫২৫১. প্রশ্ন

আমি দেশের একটি স্বনামধন্য অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে টাইপিস্টের চাকরি করি। মাঝেমাঝে আমাকে টাইপ করতে গিয়ে কুরআন শরীফের অন্যান্য আয়াতের পাশাপাশি সিজদার আয়াতও টাইপ করতে হয়।

তাই মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, দেখে দেখে সিজদার আয়াত টাইপ করার কারণে কি আমাকে সিজদা করতে হবে

উত্তর

মুখে উচ্চারণ না করে শুধু দেখে দেখে সিজদার আয়াত টাইপ করলে সিজদা ওয়াজিব হবে না। সিজদা ওয়াজিব হওয়ার জন্য সিজদার আয়াত মৌখিকভাবে উচ্চারণ করা বা অন্য কোনো ব্যক্তি থেকে শোনা জরুরি।

তাই টাইপ করতে গিয়ে সিজদার আয়াত যদি মুখে উচ্চারণ হয়ে যায় তাহলে সিজদা ওয়াজিব হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৬২; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৫৭; ফাতহুল কাদীর ১/৪৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/১০৩

শেয়ার লিংক

নাদিম আহমাদ - ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা

৫২৫০. প্রশ্ন

নামায পড়া অবস্থায় বিভিন্ন কারণেই অনেকসময় মাথা থেকে টুপি খুলে পড়ে যায়। এক্ষেত্রে করণীয় কি? টুপি উঠিয়ে মাথায় পরে নিতে হবে, না মাথা খোলা অবস্থায়ই নামায পড়ব? সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

নামায অবস্থায় টুপি পড়ে গেলে সেজদা বা বসা অবস্থায় এক হাত দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উত্তম। কিন্তু যদি এক হাত দিয়ে মাথায় পরা সম্ভব না হয় তাহলে টুপি না উঠিয়ে মাথা খোলা অবস্থায়ই বাকি নামায সম্পন্ন করবে। এক্ষেত্রে মাথা খোলা অবস্থায় নামায পড়লে কোনো অসুবিধা হবে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৩০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৪৪২; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩২০; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৮

শেয়ার লিংক

আবদুল বারী - নরসিংদী

৫২৪৯. প্রশ্ন

একদিন যোহরের নামাযে মসজিদে যেতে দেরি হয়ে যায়। ফলে মাসবুক হই। যখন বাকি নামায আদায় করি তখন প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়তে ভুলে যাই। তবে অন্য একটি সূরা তিলাওয়াত করেছি। প্রশ্ন হল, এমন অবস্থায়ও কি আমার জন্য সাহু সিজদা করা আবশ্যক?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সূরা ফাতেহা না পড়ার কারণে আপনার উপর সাহু সিজদা করা ওয়াজিব। মাসবুকের জন্যও ছুটে যাওয়া নামাযগুলোর মধ্যে প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতেহাসহ আরো একটি সূরা বা নির্ধারিত পরিমাণের আয়াত পড়া ওয়াজিব। তা ছুটে গেলে সাহু সিজদা করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/২১০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১১২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৬৪; ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ৫১৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১০০

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ - টাঙ্গাইল

৫২৪৮. প্রশ্ন

আমার নাম মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ। আমাদের বাড়ি মসজিদের খুব নিকটে। এ কারণে আলহামদু লিল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই সর্বদা মসজিদেই আদায় করি। কিন্তু একদিন ফজরে ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে যায়। তাই ফজরের নামাযটি ঘরেই একাকী পড়ি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, একাকী ফজরের নামায পড়লে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া কি জরুরি; যেমনটি মসজিদের ইমাম সাহেব করে থাকেন? আস্তে আস্তে পড়ার কোনো অবকাশ আছে কি না?

উত্তর

ফজর, মাগবির ও এশার নামায একাকী পড়লে তাতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া জরুরি নয়। আস্তে আস্তেও কিরাত পড়া যাবে। অবশ্য উচ্চস্বরে কিরাত পড়া উত্তম।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ২৬৫৫; কিতাবুল আছল ১/১৯৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪১; আলবেনায়া শরহুল হেদায়া ২/৩৩৯; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩৫২

শেয়ার লিংক

হাবীবুর রাহমান - ময়মনসিং

৫২৪৭. প্রশ্ন

একদিন আসরের নামাযে গিয়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে পাই। তখন আমি তাড়াতাড়ি তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাই। কিন্তু রুকুতে পৌঁছার সাথে সাথেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখন আমিও ইমামের সাথে আবার দাঁড়িয়ে যাই। এই অবস্থায় কি দ্বিতীয় রাকাত পেয়েছি বলে ধর্তব্য হবে? নাকি আমি এই রাকাত পাইনি? আবার কখনো এমন হয় যে, রুকুতে পুরোপুরি পৌঁছার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখনই বা কী করণীয়? রুকু পাওয়ার জন্য ন্যূনতম অবস্থা কী?

উত্তর

রাকাত পাওয়ার জন্য ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হওয়া আবশ্যক। ইমাম রুকু থেকে উঠে যাওয়ার পর, অর্থাৎ মাথা এবং হাঁটু থেকে হাত উঠে যাওয়ার পর রুকুতে গেলে রাকাত পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে না।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন-

إِذَا أَدْرَكتَ الْإِمَامَ رَاكِعًا فَرَكَعْتَ قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ فَقَدْ أَدْرَكْتَ، وَإِنْ رَفَعَ قَبْلَ أَنْ تَرْكَعَ فَقَدْ فَاتَتْكَ.

তুমি যদি ইমামকে রুকুতে পাও এবং ইমাম রুকু থেকে ওঠার আগে তুমিও রুকুতে চলে যাও তাহলে তুমি রাকাত পেয়েছ বলে গণ্য হবে। কিন্তু তুমি রুকুতে যাওয়ার আগেই যদি ইমাম রুকু থেকে উঠে যান তবে তুমি এই রাকাত পাওনি। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৩৩৬১)

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যাওয়ার আগেই যেহেতু আপনি রুকুতে গিয়েছেন তাই আপনি দ্বিতীয় রাকাত পেয়েছেন বলে ধর্তব্য হবে। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনার রুকুতে পৌঁছার আগেই যেহেতু ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেছেন তাই আপনি উক্ত রাকাতটি পাননি। তবে ইমামের সাথে যথারীতি এই রাকাতের সিজদাগুলো আদায় করবেন।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/৯৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১১৯; ফাতহুল কাদীর ১/৪২০; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৩০৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২০; রদ্দুল মুহতার ২/৬১

শেয়ার লিংক

শফিকুল ইসলাম - পাবনা

৫২৪৬. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয়ের এক্সিডেন্টে ডান পা ভেঙে গিয়েছে। ডাক্তার তার এ পায়ের রানের গোড়া থেকে পূর্ণ পা ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন। জানার বিষয় হল, এখন তিনি অযু কীভাবে করবেন? যদি কোনো কারণে গোসল ফরয হয় তাহলে তখন গোসল না করে তায়াম্মুম করলে জায়েয হবে কি? বিস্তারিত জানানোর আবেদন রইল।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার আত্মীয় অযুর সময় স্বাভাবিকভাবেই অযু করবেন এবং ডান পায়ের ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করে নিবেন। আর গোসল ফরয হলে তখন গোসল করলে যেহেতু ব্যান্ডেজ ভিজে যাওয়ার আশংকা আছে তাই যতদিন ব্যান্ডেজ থাকে গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করে নেবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫৮; আলবাহরুর রায়েক ১/১৬৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮; হালবাতুল মুজাল্লী ১/২০৯; মারাকিল ফালাহ পৃ. ৬৮; রদ্দুল মুহতার ১/২৫৭

শেয়ার লিংক

কাউসার আহমদ - ভোলা

৫২৪৫. প্রশ্ন

বর্তমানে মোবাইলের জন্য কুরআন শরীফের যেসকল অ্যাপ পাওয়া যায়, সেগুলো খোলা অবস্থায় অযু ছাড়া স্ক্রিনের মাঝে স্পর্শ করা যাবে কি? এক হুজুরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে, ‘অযু ছাড়া তো আপনি গ্লাসের উপর স্পর্শ করছেন লেখার উপর নয়, তাই এতে কোনো অসুবিধা নেই। তার এ কথা কি ঠিক?

উত্তর

মোবাইলের স্ক্রিনে কুরআন শরীফের আয়াত দৃশ্যমান থাকা অবস্থায় অযু ছাড়া স্ক্রিনে আয়াতের উপর স্পর্শ করা যাবে না। প্রয়োজনে স্ক্রিনের পাশের খালি জায়গায় আঙুল দেওয়া যাবে।

আর স্ক্রিনটাচ মোবাইলে প্লাস্টিক বা কাঁচের আবরণ যেহেতু মূল স্ক্রিনের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত এবং তাতে হাতের স্পর্শও কার্যকর তাই এক্ষেত্রে অযু ছাড়া আপনি গ্লাসের উপর স্পর্শ করছেন; লেখার উপর নয়- এ ধরনের কথা বলা ঠিক নয়।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২০১; রদ্দুল মুহতার ১/১৭৩

শেয়ার লিংক

হাসসান আহমাদ - নরসিংদী

৫২৪৪. প্রশ্ন

আমি চট্টগ্রামে থাকি। কোনো কারণে গত কুরবানীর ঈদটি ঢাকার একটি এতীমখানায় করতে হয়। মুসাফির থাকায় আমার উপর তো আর কুরবানী ওয়াজিব ছিল না। কিন্তু আমার স্ত্রী ও বড় মেয়ে ছাহেবে নেসাব হওয়ায় তাদের পক্ষ হতে কুরবানী আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি গরু ক্রয় করি এবং তাদের অনুমতিক্রমে গোশত এতীমখানায় দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করি। ঈদের আগের রাতে শুনি যে, ফজরের আগেই একটি গরু জবাই করা হবে। কারণ অনেক ছাত্র আছে, যাদের কাছে খাবার পৌঁছানো সম্ভব নয় বিধায় আগেই তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে হয় এবং তা পিকআপ ভ্যানে ছাত্রদের সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ফজর নামাযের ২৫ মিনিট পূর্বে আমার গরুটি জবাই করা হয় এবং তা রান্না করে ছাত্রদের সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, মুসাফির থাকা অবস্থায় ঈদের নামাযের আগে আমার গরুটি জবাই করা কি সহীহ হয়েছে এবং এর দ্বারা আমার স্ত্রী ও মেয়ের কুরবানী কি আদায় হয়েছে?

উত্তর

উক্ত কুরবানী সহীহ হয়নি। কারণ যেসকল জায়গায় ঈদের নামায অনুষ্ঠিত হয় (চাই তা শহর হোক বা গ্রাম) সেখানে এলাকার কোনো একটি জায়গায় ঈদের নামায পড়ার পরেই কেবল কুরবানীর সময় হয়। এর পূর্বে কুরবানীর সময় হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَلْيَذْبَحْ مَكَانَهَا أُخْرَى، وَمَنْ كَانَ لَمْ يَذْبَحْ حَتَّى صَلَّيْنَا فَلْيَذْبَحْ عَلَى اسْمِ اللهِ.

ঈদের নামাযের আগে যে কুরবানী করেছে (তার কুরবানী হয়নি) সে যেন এর পরিবর্তে আরেকটি কুরবানী করে। আর যে আমাদের ঈদের নামায পড়ার আগে জবাই করেনি, সে যেন এখন আল্লাহ্র নাম নিয়ে জবাই করে নেয়। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫০০)

সুতরাং আপনার স্ত্রী ও মেয়ের কুরবানী আদায় হয়নি। এখন তাদের কুরবানীর পরিবর্তে দুইটি ছাগল বা তার মূল্য সদকা করে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, কুরবানী যে এলাকায় করা হয় সময়ের ক্ষেত্রে সে এলাকা ধর্তব্য হয়। কুরবানীদাতা মুসাফির না মুকীম সেটি ধর্তব্য  নয়।

-শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৭/৩৩৬; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৭৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪১৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮

শেয়ার লিংক

ইশতিয়াক - জিনজিরা

৫২৪৩. প্রশ্ন

কুরবানীর সময় কসাই খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই আমরা কয়েকজন মিলে নাটোর থেকে ভালো একদল জাত কসাইয়ের ব্যবস্থা করে থাকি। গরু অনেক হওয়ায় প্রায় দেখা যায়, কারো কারো গরু রাতে জবাই দিতে হচ্ছে। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি, রাতে কুরবানী দিলে কোনো সমস্যা নেই তো?

উত্তর

ঈদের নামাযের পর তাড়াতাড়ি কুরবানী করা উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ مِنْ يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ، فَمَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا.

আমাদের আজকের এই দিনে সর্বপ্রথম কাজ হল, (ঈদের) নামায আদায় করা। এরপর (নামায থেকে) ফিরে এসে আমরা কুরবানী করব। অতএব যে এরূপ করবে সে আমাদের সুন্নতের অনুসরণ করল। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৫১)

তাছাড়া ঈদের দিনের সর্বপ্রথম আহারটি নিজ কুরবানীকৃত পশুর গোশত দ্বারা করাও উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে, বুরাইদা রা. বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ، وَلَا يَأْكُلُ يَوْمَ الْأَضْحَى حَتَّى يَرْجِعَ فَيَأْكُلَ مِنْ أُضْحِيّتِهِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে বের হতেন না। আর ঈদুল আযহার দিন নামায থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত কিছু খেতেন না। এরপর প্রথমে কুরবানীর গোশত খেতেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৯৮৪)

ঈদের নামাযের পর তাড়াতাড়ি কুরবানী করে নিলে এই আমলটি করাও সম্ভব হয়।

অবশ্য কুরবানীর সময় ঈদের দিনসহ মোট তিন দিন। ঈদের নামাযের পর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত কুরবানীর সুযোগ রয়েছে। এ সময়ে দিনে  রাতে যে কোনো সময় কুরবানী করলে তা আদায় হয়ে যাবে। তবে রাতে কুরবানী করলে খেয়াল রাখতে হবে, যেন পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে। যেন জবাই কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬১; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাসনাইন - আদাবর, ঢাকা

৫২৪২. প্রশ্ন

আমাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। কিন্তু গত বছর আফতাবনগরে গরুর দাম পড়ে যাওয়ায় আমি ও এক ভাই দুইটি গরু ক্রয় করি। পরে তা পিকআপ ভ্যানে করে এলাকায় নিয়ে আসি। ভ্যান থেকে গরু নামানোর সময় দুটি গরুই পায়ে প্রচ- আঘাত পায়। ব্যাথার কারণে আমার গরুটির গায়ে জ্বর এসে যায় এবং একপর্যায়ে ঈদের আগের দিন সকালে মারা যায়। আর ভাইয়ের গরুটি কুরবানী করা গেলেও বাসায় নিয়ে কুরবানী করা সম্ভব হয়নি। কারণ ব্যাথায় গরুটি হাঁটতে সক্ষম ছিল না। তাই উক্ত স্থানেই ঈদের দিন পর্যন্ত গরুটিকে বেঁধে রাখা হয়। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, এ অবস্থায় আমার জন্য কি নতুন একটি পশু ক্রয় করা উচিত ছিল? আর অপর ভাইয়ের উক্ত গরু দ্বারা কি কুরবানী সহীহ হয়েছে?

উত্তর

বাস্তবেই আপনাদের দুই ভাইয়ের উপর যদি কুরবানী ওয়াজিব না হয়ে থাকে তবে আপনাদের এ পরিস্থিতিতে কিছুই করতে হবে না। আপনার কুরবানীর পশুটি মারা যাওয়ায় নতুন কুরবানী দেওয়া ওয়াজিব নয়। আর আপনার ভাইয়ের উক্ত আহত গরুটি কুরবানী করা সহীহ হয়েছে। কেননা আপনার ভাইয়ের উপর যেহেতু কুরবানী ওয়াজিবই নয় তাই উক্ত পরিস্থিতিতে তার জন্য আহত গরুটি কুরবানী করা জায়েয হবে।

-কিতাবুল আছল ৫/৪০৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৬; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ৩/২০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৩২; আলবেনায়া ১৪/৩৮৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৫

শেয়ার লিংক

সাদেক হুসাইন - কান্দিরপাড়, কুমিল্লা

৫২৪১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় ঘন বসতি হওয়ায় পূর্বের ছোট মসজিদে মুসল্লী সংকুলান হয় না। ফলে নামায পড়তে বেশ কষ্ট হয়। বিষয়টা নিয়ে আমাদের মাঝে আলোচনা চলছিল। একদিন আমরা কয়েকজন মিলে এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন আবদুল গনী সাহেবের বাসায় যাই। এব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন যে, আমার এ বাড়ির ৫ম তলাটি খালি পড়ে রয়েছে। চাইলে তোমরা এটাকে মসজিদ বানিয়ে ফেলতে পার।

এরপর আমরা ৫ম তলাটিকে সাফাই করে তাতে নামায পড়া শুরু করি। এক সপ্তাহ পর একজন ইমামও নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা সেখানে নামায পড়ে আসছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে উনার বড় ছেলে ৫ম তলার উপর আরো দুতলা করবে বলে সেখানে নামায পড়া বন্ধ করে দেয় এবং কাজও শুরু করে দেয়।

তারা বলছে, যখন এটা আমাদের প্রয়োজন ছিল না তখন তা নামায পড়ার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের প্রয়োজন পড়েছে; বরং এটা যথেষ্ট হচ্ছে না বিধায় এর উপর আরো দু’তলা করতে হচ্ছে।

তাই জানতে চাচ্ছি, ৫ম তলাটি মসজিদের জন্য দিয়ে পুনরায় তা নিয়ে নেওয়া কি জায়েয হবে? এতে তাদের মসজিদ ভাঙার গুনাহ হবে না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাড়ীর মালিক উক্ত তলাকে স্থায়ীভাবে মসজিদের জন্য দিয়ে থাকলে তা মসজিদের হুকুমে হয়ে গেছে। কেননা কোনো ভবনের নির্দিষ্ট কোনো তলা বা কোনো একটি অংশ মসজিদের জন্য দিলে তা-ও ওয়াকফ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ওয়াকফকারীর ওয়ারিসগণের জন্য তা বাতিল করা কোনোভাবেই বৈধ হবে না। বরং তাদের উচিত হবে ৫ম তলাটি মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া।

আর ৫ম তলা মসজিদ হলেও বাড়ীর মালিকগণ এর উপরে তাদের জন্য আরো তলা নির্মাণ করতে পারবেন। তা মসজিদের হুকুমে হবে না।

কিন্তু বাড়ির মালিক ৫ম তলাটি যদি শুধু অস্থায়ীভাবে নামায আদায়ের জন্য দিয়ে থাকেন, স্থায়ী মসজিদ হিসাবে না দেন তাহলে ওয়ারিসদের জন্য তা নিজ ব্যবহারে নিয়ে আসা বৈধ হবে। মুসল্লিদের জন্য এতে বাঁধ সাধা ঠিক হবে না।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/১৬১; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৪৫; আলইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ, পৃ.৭২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাবের - ওয়ারী, ঢাকা

৫২৪০. প্রশ্ন

এক মহিলার ছেলে বিদেশ  থেকে দেশে ফিরছিল। তখন সে এ বলে মান্নত করে যে, তার ছেলে নিরাপদে বাড়ীতে ফিরে এলে দশজন লোককে দাওয়াত করে খাওয়াবে। তার ছেলে নিরাপদে বাড়ী ফিরে এসেছে। এখন কি তাকে দশজন গরীবকেই খাওয়াতে হবে, নাকি খুব ভালো করে চার-পাঁচ জনকে খাওয়ালেই চলবে। আর খাওয়ার পরিবর্তে টাকা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না। যদি থাকে তাহলে চার-পাঁচ জন বা একজনকে পুরা টাকা দেওয়া যাবে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাকে দশজন গরীবকেই খাওয়াতে হবে। দশজনের খাবারের মূল্য দ্বারা চার-পাঁচ জনের জন্য উন্নত মানের খাবারের আয়োজন করলে মান্নত আদায় হবে না। আর খাওয়ার পরিবর্তে টাকা দেওয়ার সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে দশজন লোকের তৃপ্তি সহকারে খেতে যত টাকা লাগে তা একজন দরিদ্রকে একসঙ্গেও দেওয়া যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৩৫; আলহাবিল কুদসী ১/৫৪০; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮৬; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৪১; আননাহরুল ফায়েক ৩/৬৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুনীর - চকবাজার, ঢাকা

৫২৩৯. প্রশ্ন

আল্লাহর নাম ব্যতীত শুধু কসম শব্দ দ্বারা কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়ে যায়? যেমন, কসম, আমি যাব। অনেকে মনে করে শুধু কসম শব্দ দ্বারা কসম করলে কসম হয় না। যেমন নাকি আমিও অনেক সময় এভাবে কসম করার পর মনে মনে ভাবি যে, আমি তো আল্লাহ্র কসম বলিনি তাই কসম হয়নি।

অনেকসময় আমরা ঈমান শব্দ দ্বারা কসম খেয়ে থাকি। ঈমান শব্দ দ্বারা কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়ে যায়? হুজুরের কাছে আরেকটি বিষয় জানতে চাই। তা হচ্ছে, আমরা অনেক সময় কারো পিছনের কোনো বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঈমান বা কসম শব্দ দ্বারা কসম নিয়ে থাকি। এধরনের কসমের সময় প্রতিপক্ষ যদি মিথ্যা কসম খায় তাহলে কি তাকে কাফফারা আদায় করতে হবে?

উত্তর

১. আল্লাহর নাম উচ্চারণ না করে শুধু কসম শব্দ দ্বারা শপথ করলেও কসম সংঘটিত হয়ে যায়। তাই কসম করার পর তা ভঙ্গ করলে কাফফারা আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১২৪৫৫; বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৪; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৫৯; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮৩

২. ঈমান শব্দ দ্বারা কসম উদ্দেশ্য করলেও কসম সংঘটিত হবে না। তাই এর জন্য কাফফারাও দেওয়া লাগবে না। তবে এ ধরনের বাক্য উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/১৭; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭২০

৩. জেনেশুনে পিছনের কোনো বিষয়ে মিথ্যা কসম খাওয়া কবীরা গুনাহ। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

الكَبَائِرُ: الإِشْرَاكُ بِاللهِ وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ وَقَتْلُ النّفْسِ وَاليَمِينُ الغَمُوسُ.

কবীরাগুনাহসমূহ হচ্ছে, আল্লাহর সাথে শরীক করা। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৭৫)

উল্লেখ্য, কথায় কথায় কসম করা, বিনা প্রয়োজনে কসম করা এ সবকিছুই ঠিক নয়। আর কসম করার প্রয়োজন দেখা দিলে শুধু আল্লাহ্র নামেই কসম করবে। অন্য কারো বা কিছুর নামে কসম করা জায়েয নয়। হাদীসে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

أَلاَ إِنّ اللهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللهِ أَوْ لِيَصْمُتْ.

জেনে রাখ, আল্লাহ তোমাদের নিজের পিতার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। যদি কসম করতেই হয় তবে যেন আল্লাহ্র নামেই কসম করে। নতুবা চুপ করে থাকে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৪৬)

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক -

৫২৩৮. প্রশ্ন

আজ থেকে ছয় মাস আগে আমাদের এক প্রতিবেশী তার নিকটাত্মীয় এক মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। শুরুতে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। কিছুদিন পর থেকে মেয়ে যে কারণেই হোক স্বামীর সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে। স্বামী সর্বদা স্ত্রীর মন জয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় হঠাৎ একদিন স্ত্রী স্বামীকে কোনো কিছু বলা ছাড়াই তার পিত্রালয়ে চলে যায়। স্বামী তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও সে আসতে চায়  না। এমনকি এখন সে স্বামী থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক হয়ে যেতে চায়। কিন্তু স্বামী তাকে তালাক দিতে রাজি নয়। সর্বশেষ স্ত্রী মহরের বিনিময়ে খোলা করতে চাচ্ছে।

জানার বিষয় হল, এভাবে অর্থের বিনিময়ে তালাক দেওয়া জায়েয হবে কি না? এক্ষেত্রে বিনিময় স্বরূপ প্রদত্ত মহরের চেয়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে কি না? পরবর্তীতে তারা উভয়ে যদি পুনরায় ঘর সংসার করতে চায় তাহলে সেটার কোনো বৈধ সুরত আছে কিনা?

উত্তর

কোনো মহিলার জন্য যদি তার স্বামীর সাথে পারস্পারিক অধিকার রক্ষা করে দাম্পত্য জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে যায়, ফলে স্ত্রী স্বামী থেকে পৃথক হয়ে যেতে চায়। কিন্তু স্বামী তালাক দিতে রাজী না হয় তাহলে ঐ মহিলার জন্য অর্থের বিনিময়ে খোলা করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বাস্তবে স্বামীর ত্রুটির কারণেই যদি খোলা করা হয়ে থাকে তাহলে স্বামীর জন্য খোলার বিনিময়ে কোনো অর্থ গ্রহণ করা জায়েয হবে না। আর যদি খোলা গ্রহণের মুখ্য কারণ হয়ে থাকে স্ত্রীর ত্রুটিই তাহলে স্বামী খোলার বিনিময় নিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রেও সে স্ত্রীকে যে অলঙ্কার, মহর ও বিভিন্ন দামী দামী জিনিসপত্র উপহার দিয়েছিল এসবের মূল্যের অতিরিক্ত গ্রহণ করা ঠিক হবে না। বিনিময় স্বরূপ এসব জিনিসের সমপরিমাণ কিংবা এর চেয়ে কম গ্রহণ করা উচিত হবে।

প্রকাশ থাকে যে, খোলার দ্বারা এক তালাকে বায়েন পতিত হয়। তাই এ ধরনের তালাকের পর স্বামী-স্ত্রী যদি পুনরায় ঘর সংসার করতে চায় তাহলে দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন মহর ধার্য করে যথানিয়মে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৮৮৩০, ১৮৭৩৬, ১৮৭৪৬; কিতাবুল আছল ৪/৫৫৮; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৩৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/১৮৪; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ২/১৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৪৫, ৪৪৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাবীল - মুরাদনগর, কুমিল্লা

৫২৩৭. প্রশ্ন

এক রমযানে আমার উমরার সফর হয়। শাওয়ালের দশ তারিখ দেশে ফিরি। অনেক পরিচিতজনই বলছে যে, আমার উপর নাকি হজ্ব ফরয হয়ে গেছে।  কেননা হজের মাসে উমরাহ করলে নাকি হজ্ব ফরয হয়ে যায়। কারো কারো বক্তব্য হল, কাবা দেখলে বা যে কোনো সময়ই ওমরা করলে হজ্ব ফরয হয়ে যায়। তাদের এ কথাগুলো সঠিক কি না? আমি একজন আলেমকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কিতাবাদীতে আছে যে, হজ্বের মৌসুমে মক্কায় অবস্থান করলে হজ্ব ফরজ হয়ে যায়। এখানে কোন্ বক্তব্যটি সঠিক?

উত্তর

কাবা দেখা বা উমরাহ করার দ্বারা হজ্ব ফরয হয়ে যাওয়ার প্রশ্নোক্ত কথাটি সহীহ নয়। হজ্ব ফরয হওয়ার সাথে কাবা দেখা বা উমরাহ করার কোনো সম্পর্ক নেই। সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপরই কেবল হজ্ব ফরয হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَلِلهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الْبَیْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَیْهِ سَبِیْلًا.

অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বাইতুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ্ব করা ফরয। (সূরা আলে ইমরান : ৯৭)

সামর্থ্য দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, হজ্বের মৌসুমে কারো কাছে প্রয়োজন অতিরিক্ত এ পরিমাণ সম্পত্তি থাকা, যার দ্বারা যানবাহনে করে সে মক্কায় আসা-যাওয়া করতে পারে এবং যাদের ভরণ-পোষণ তার জিম্মায় রয়েছে হজ্ব থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত তাদের খরচ নির্বাহ করতে সক্ষম হয়। এমনিভাবে বর্তমানে ভিসা ও হজ্ব আদায়ের অনুমতিও আইনীভাবে হজ্বের সামর্থ্যরে অন্তর্ভুক্ত। আগের যুগে যেহেতু ভিসার আইনী বাধ্যবাধকতা ছিল না, তাই হজ্বের মাসসমূহে কেউ উমরাহ করতে মক্কায় পৌঁছে গেলে বাকি দিনগুলো সেখানে অবস্থান করতঃ হজ্ব আদায় করতে কোনো আইনী বাধা ছিল না। এজন্য ফুকাহায়ে কেরাম এমন ব্যক্তিকে সামর্থ্যবান গণ্য করে তার উপর হজ্ব ফরয হওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু উমরার ভিসা দ্বারা হজ্ব করা বা হজ্ব পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করার সুযোগ নেই, সেজন্য এখন হজ্বের মৌসুমেও উমরা করার দ্বারা হজ্ব ফরয হবে না।

-আলমাসালিক ফিল মানাসিক ১/২৫৭; যুবদাতুল মানাসিক, পৃ. ২১; ইরশাদুস সারী ইলা মানাসিকি মুল্লা আলী আলকারী, পৃ. ৪১; ইমদাদুল আহকাম ২/১৬৩

শেয়ার লিংক

সানওয়ার হুসাইন - আরসিন গেইট, পোস্তগোলা, ঢাকা

৫২৩৬. প্রশ্ন

গত বছর আমি হজ্বে যাই। আরাফার দিন সকালে রৌদ্রের কারণে ঘুমাতে কষ্ট হচ্ছিল। তখন আমি মাথার সামনে একটি ছাতা খুলে তার উপর কাপড় ঝুলিয়ে দিই। এরপর বুক পর্যন্ত ছাতার ভিতর ঢুকে ঘুমিয়ে পড়ি। আর ঝুলানো কাপড়টি আমার বুকের উপর ছিল। মাথা বা মুখ কিছুই স্পর্শ করেনি। জানতে চাচ্ছি, এভাবে মুখ ঢেকে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর দ্বারা কি দম ওয়াজিব হয়েছে?

উত্তর

ইহরাম অবস্থায় ছাতা ব্যবহার করা জায়েয। তাই প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার মুখ ও মাথা ছাতার নিচে থাকলেও আপনার উপর কোনো দম বা জরিমানা ওয়াজিব হয়নি।

প্রকাশ থাকে যে, ইহরাম অবস্থায় কাপড় দ্বারা চেহারা ও মাথা আবৃত করে রাখা নিষেধ।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৮৩০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৪৪৬৫; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৫৬৬; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১২৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৩১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪০৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলী - পান্থপথ, ঢাকা

৫২৩৫. প্রশ্ন

আমার বাবার এক বন্ধু কয়েকদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। যিনি বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। দ্বীনদার হওয়ায় প্রতি বছর নিয়মিত যাকাত আদায় করতেন। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় তিন বছর আগ থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। তাই কিছু দান-সদকা করলেও পরিপূর্ণ হিসাব করে এই তিন বছরের যাকাত আদায় করতে পারেননি এবং তিনি মৃত্যুর আগে এ বিষয়ে কিছু বলেও যাননি।

এখন তার ওয়ারিশ ছেলে-মেয়েসহ অন্যান্যরা জানতে চাচ্ছেন যে, তাদের জন্য কি এখন নিজেদের অংশ থেকে উক্ত বছরগুলোর যাকাত আদায় করে দিতে হবে?

উত্তর

আপনার বাবার বন্ধু যেহেতু সম্পদ রেখে গিয়েছেন তাই তার প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিসগণের জন্য মায়্যেতের পক্ষ থেকে উক্ত বছরগুলোর যাকাত আদায় করে দেওয়া উচিত হবে এবং তারা যদি আদায় করে দেন তাহলে মায়্যেতের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। তবে তিনি যেহেতু এ বিষয়ে কোনো অসিয়ত করে যাননি তাই তা ওয়ারিসদের উপর জরুরি নয়; দিতে চাইলে স্বতঃস্ফূর্ততায় হতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মায়্যেতের ওয়ারিসগণ যদি তার মীরাস থেকে উক্ত বছরসমূহের যাকাত আদায় করে দিতে চান, তাহলে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিসদের অংশ থেকেই তা আদায় করতে হবে। নাবালেগ কোনো ওয়ারিস থাকলে তাদের অংশ থেকে নেয়া যাবে না।

-কিতাবুল আছল ২/৭৭; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৪৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৪০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৬৫

শেয়ার লিংক