সফওয়ান রাসেল - মির্জাপুর, টাঙ্গাইল

৫০৯৮. প্রশ্ন

আমি একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানীতে চাকরি করি। কোম্পানীটি প্রায়  ৩ একর জমিতে স্থাপিত। প্রবেশাধিকার কোম্পানীর স্টাফদের জন্য আইনগতভাবে সংরক্ষিত। ভিতরে একটি মসজিদ আছে, যাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা হয়। শুক্রবার ছুটি থাকায় জুমা হয় না। তবে অফিস টাইম ছাড়া অন্য সময় দায়িত্বরত পাহারাদারগণ নামায পড়েন। কিন্তু যখন কোম্পানীর প্রডাকশন বৃদ্ধি পায় তখন শুক্রবারেও কাজ করতে হয়।

জানার বিষয় হল, এখন শুক্রবারে আমাদের জন্য উক্ত মসজিদে জুমা আদায় করা কি সহীহ হবে?

উত্তর

হাঁ, উক্ত মসজিদে জুমার নামায আদায় করা সহীহ হবে। কারণ, কোম্পানীর এরিয়ায় প্রবেশাধিকারের সংরক্ষণ যেহেতু নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাগত কারণে; নামাযীদেরকে মসজিদে আসতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। তাই এই নিয়ন্ত্রণ জুমা আদায়ের জন্য প্রতিবন্ধক নয়।

-মাজমাউল আনহুর ১/২৪৬; মারাকিল ফালাহ পৃ. ৫১০; মিনহাতুল খালিক ২/১৫১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫২

শেয়ার লিংক

আব্দুল খালেক - মহেশখালী

৫০৯৭. প্রশ্ন

আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনারা জাহাজে চলমান অবস্থায় এবং সমুদ্রে অবস্থানকালে নামায কসর পড়বেন। কারণ সমুদ্রে থাকা কালে মুকীম হওয়ার নিয়ত প্রযোজ্য নয়। তাই সমুদ্রের মাঝে নোঙর করা অবস্থায় ১৫ দিন বা তার বেশি থাকলেও মানুষ মুসাফিরই থাকে। শরীয়তের দৃষ্টিতে সে মুকীম গণ্য হবে না।

-কিতাবুল আছল ১/২৬৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৩২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫২৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫১৪; রদ্দুল মুহতার ২/৭২৯

শেয়ার লিংক

যারীফ হোসেন - পান্থপথ, ঢাকা

৫০৯৬. প্রশ্ন

অনেক সময় আমার জুমার জন্য প্রস্তুত হয়ে মসজিদে যেতে বেশ দেরি হয়ে যায়। গত শুক্রবার প্রস্তুত হয়ে মসজিদে গিয়ে দেখি খুতবা শেষ হয়ে গেছে। নামাযের ইকামত হচ্ছে। আমরা  তো জানি যে, জুমার জন্য খুতবা শর্ত। খুতবা ছাড়া জুমার নামায সহীহ হয় না।

তাই এখন আমার জানার বিষয় হল, খুতবা ছাড়া আমার উক্ত জুমার নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

জুমার জামাত সহীহ হওয়ার জন্য খুতবা দেওয়া শর্ত। কোনো মুক্তাদী খুতবা শ্রবণ করতে না পারলে তার জুমার নামায সহীহ হবে না -এমন নয়। সুতরাং আপনার উক্ত জুমার নামায সহীহ হয়েছে।

উল্লেখ্য, জুমার দিন আগে আগে মসজিদে গমন করা উচিত। বিশেষত আযানের পর অন্য কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে সরাসরি নামাযের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে চলে যাওয়া এবং খুতবা শ্রবণ করা কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ.

হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাযের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচা-কেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা বোঝ। (সূরা জুমুআ: ৯)

-ফাতহুল কাদীর ২/২৮; ইমদাদুল ফাততাহ পৃ. ৫৫৮; রদ্দুল মুহতার ২/১৪৭

শেয়ার লিংক

আরিফ আযাদ - চট্টগ্রাম

৫০৯৫. প্রশ্ন

আমি রমযান মাসে বিতিরের নামাযে মাঝে মাঝে এ সমস্যার সম্মুখীন হই যে, দুআয়ে কুনূত পুরোপুরি শেষ করার পূর্বে ইমাম সাহেব তাকবীর বলে রুকুতে চলে যান। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হব, না কুনূতের বাকি অংশ পূর্ণ করব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য কুনূতের বাকি অংশ পূর্ণ না করে ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। কেননা দুআয়ে কুনূত আংশিক পড়া হলেও তা দ্বারা কুনূতের ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়। দুআয়ে কুনূত পূর্ণ করা মুস্তাহাব। অন্যদিকে ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। সুতরাং মুক্তাদীর দুআয়ে কুনূত পড়া শেষ না হলেও  ইমামের সাথে রুকুতে চলে যাবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৪৩; ফাতহুল কাদীর ১/৩৭৫; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫২৮

শেয়ার লিংক

খাদেমুল ইসলাম - ত্রিশাল

৫০৯৪. প্রশ্ন

শীতকালে শেষ রাতে আমাদের এলাকায় প্রচণ্ড কুয়াশা পড়ে। একদিন ফজরের নামাযের সময় আমি ও আমার ভাই ঘর থেকে রুমাল দিয়ে নাক-মুখ পেঁচিয়ে বের হই। মসজিদে গিয়ে সে এভাবেই সুন্নত পড়তে দাঁড়িয়ে যায়। তখন এক লোক আমাকে বললেন, তোমার ভাইকে বলবে রুমাল দিয়ে নাক-মুখ পেঁচিয়ে নামায পড়া মাকরূহ। জানার বিষয় হল, ঐ লোকের কথা কি ঠিক?

উত্তর

হাঁ, লোকটি ঠিকই বলেছে। নামাযে কোনো ওজর ছাড়া মুখ ঢেকে রাখা মাকরূহ। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৬৪৩)

তাই নামায অবস্থায় বিনা ওজরে রুমাল বা চাদর ইত্যাদি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবে না।

-কিতাবুল আছল ১/১৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৩১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪১১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯৯; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫২

শেয়ার লিংক

কামরুল - কুমিল্লা

৫০৯৩. প্রশ্ন

তারাবীর নামায সংক্রান্ত দুটো বিষয় জানতে চাচ্ছি-

১. তারাবীর নামাযে চার রাকাত পর পর মুসল্লীরা নিম্নোক্ত দুআ-

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزّةِ وَالْعَظمَةِ ...

পড়ে থাকেন। এ সময় আসলে কী করণীয়? এ দুআ পড়বে নাকি ভিন্ন কোনো দুআ পড়বে? এ দুআ পড়ার অবকাশ আছে কি?

২. মাঝে মাঝে এমন হয় যে, দেরি করে আসার কারণে ইশার নামায শেষ করে তারাবীতে শরীক হতে হতে ৪/৬ রাকাত হয়ে যায়। ২০ রাকাত পড়ানোর পর ইমাম সাহেব বিতিরের জন্য দাঁড়িয়ে যান। তখন আমার কী করণীয়? তারাবীর বাকি রাকাতগুলো পড়তে গেলে বিতির ছুটে যাওয়ার আশংকা হয়। জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

তারাবীর নামাযে চার রাকাত পর পর এবং বিশ রাকাত শেষ হওয়ার পর কিছু সময় বিরতি দেওয়া মুস্তাহাব। এ সময় কোনো নির্দিষ্ট দুআ পড়ার কথা হাদীস-আসারে নেই। মুসল্লীগণ এ সময় তাসবীহ-তাহলীল, বিভিন্ন দুআ-দরূদ পাঠ করতে পারেন কিংবা কোনো প্রয়োজনীয় কাজ করতে বা কথা বলতে পারবেন। আবার নীরবও থাকতে পারে। আর প্রশ্নে উল্লেখিত দুআটি এ সময়ে পড়ার কথা যেহেতু কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না তাই এ সময় এ দুআ সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে করে পড়া যাবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩১৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৬৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২;

২. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি জামাতের সাথে বিতির আদায় করে নেবেন। বিতিরের পর তারাবীর বাকি রাকাতগুলো পড়ে নেবেন। কেননা তারাবীহ বিতিরের পরও পড়া যায়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৩; আলবাহরুর রায়েক ও মিনহাতুল খালিক ২/৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩২২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৬৬

শেয়ার লিংক

সাইফুল ইসলাম - শেরপুর, বগুড়া

৫০৯২. প্রশ্ন

আমার কয়েক বিঘা জমি আছে। এতে যে ধান হয় তার বেশিরভাগ অংশ সেদ্ধ করে শুকিয়ে বিক্রি করি। তাতে ভাল লাভ হয়। কিছু দিন আগে এক লোক আমাকে ২০,০০০/- টাকা দিয়ে বলেনÑ টাকাগুলো দিয়ে আপনি নিজের মনমত ব্যবসা করেন। ব্যবসায় যে লাভ হবে তার অর্ধেক আমাকে দেবেন। আমি এই টাকাগুলো দিয়ে ধান কিনে আমার ধানের সাথে সেদ্ধ করে ব্যবসা করতে চাচ্ছি। এক লোক আমাদের চুক্তিটি জানার পর বলল, তার ধানগুলো নিজের ধানের সাথে মিশিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন না। এদিকে অন্য কোনো ব্যবসায় আমি অভ্যস্ত নই। তাই হুযূরের কাছে উক্ত বিষয়টির শরঈ সমাধান জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সে যেহেতু আপনাকে টাকাগুলো দিয়ে নিজের মনমত ব্যবসা করতে বলেছে, তাই তার টাকা দিয়ে ধান কিনে নিজের ধানের সাথে একত্রে সেদ্ধ করে বিক্রি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে যে পরিমাণ ধান আপনার একক মালিকানাধীন হবে তার লাভ আপনার হবে। আর বিনিয়োগকারীর টাকা দিয়ে যে পরিমাণ ধান কিনেছেন পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী তার লভ্যাংশ উভয়ের অংশ অনুপাতে বণ্টিত হবে।

উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির কথাটি ঐ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেখানে শুধু ব্যবসা করতে বলা হয়েছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে একচ্ছত্র অধিকার ব্যবসায়ীকে দেওয়া হয়নি।

Ñকিতাবুল আছল ৪/১৪৭; বাদায়েউস সানায়ে ৫/১২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/৪১৩; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৬৪; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দা ১৪১৫; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৪৯

শেয়ার লিংক

রজেফা বেগম - চাঁপাইনবাবগঞ্জ

৫০৯১. প্রশ্ন

মুহতারাম, আড়াই মাস আগে আমার স্বামী রোড এক্সিডেন্টে মারা যান। বর্তমানে আমি স্বামীর বাড়িতে ইদ্দত পালন করছি। দুসপ্তাহ পর আমার ছোট বোন ও তার স্বামী হজে¦ যাবেন। তাদের বাসা আমাদের গ্রামেই, খুব নিকটে। হজে¦ যাওয়া উপলক্ষে তারা সকল নিকট আত্মীয়কে দাওয়াত করেছেন। যাদের মাঝে আমিও আছি। আমি কি এ দাওয়াতে যেতে পারব?

উত্তর

আপনি চাইলে উক্ত দাওয়াতে যেতে পারবেন। তবে অবশ্যই আপনাকে রাত হওয়ার আগে বাসায় ফিরে আসতে হবে। কেননা বিধবা মহিলার জন্য ইদ্দত অবস্থায় বিনা ওজরে স্বামীর গৃহের বাইরে রাত্রি যাপন করা জায়েয নেই।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৩; আলইখতিয়ার ৩/২৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/৩৩৭; মাজমাউল বাহরাইন পৃ. ৫৯৫; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬৩৪

শেয়ার লিংক

নাজমুল হুদা - রাজশাহী

৫০৯০. প্রশ্ন

আমি একটি মসজিদের ইমাম। এক মুসল্লি তার বাবার বদলি হজে¦র জন্য আমাকে নির্বাচন করেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, স্বাভাবিকভাবে হজ¦ করতে এখন কত খরচ হয়? আমি একজন ট্রাভেলস মালিকের কাছ থেকে খরচের পরিমাণ জানার পর উক্ত মুসল্লিকে তা জানিয়ে দিই। তিনি আমাকে সে পরিমাণ টাকা দিয়ে দেন। আল্লাহ্র রহমতে আমি হজ্বে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে সব খরচ করার পর তার দেওয়া কিছু টাকা আমার কাছে থেকে গিয়েছে। জানার বিষয় হল, আমি এই উদ্বৃত্ত টাকাগুলো কি আমার প্রয়োজনে খরচ করতে পরব? নাকি তার কাছে ফেরত দিতে হবে?

উত্তর

বদলি হজ্ব করার পর উদ্বৃত্ত টাকাগুলোর মালিক প্রেরক। তাই আপনার কাছে যে টাকা বেঁচে গেছে তা তাকে ফেরত দিয়ে দিবেন। তবে তিনি যদি তা ফেরত নিতে না চান তাহলে আপনি তা খরচ করতে পারবেন। এছাড়া অর্থ প্রদানের সময়ও যদি তিনি এমন কথা বলে থাকেন যে, সবই আপনার খরচের জন্য দিলাম। কোনো হিসাব দেওয়া লাগবে না বা ফেরত দেওয়া লাগবে না তাহলে আপনি সেটার মালিক হয়ে যাবেন। এবং অতিরিক্ত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তা খরচও করতে পারবেন।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৪৯৭১; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/৪৯৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩০৭; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/২৮৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৪২৯; আলবাহরুর রায়েক ৩/৬৮

শেয়ার লিংক

আকরাম হোসেন - বরিশাল

৫০৮৯. প্রশ্ন

আমি সিজনের সময় আলু-পেঁয়াজ, আদা-রসুন ইত্যাদি মালামাল কিনে রাখি। এরপর সুবিধামত বিক্রয় করি। এ বছর আমার বাৎসরিক যাকাত আদায়ের সময় আলু-পেঁয়াজ গোডাউনে থাকতেই এগুলোর বাজার-মূল্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জানার বিষয় হল, এসময় আমি উক্ত মালের ক্রয়-মূল্য হিসাবে যাকাত আদায় করব, নাকি বিক্রয়-মূল্য হিসাবে যাকাত দিতে হবে?

উত্তর

ব্যবসা-পণ্যের মূল্যের যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে যেদিন যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয় সেদিনের বাজার-দর ধর্তব্য হবে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি উক্ত মালের বর্তমান পাইকারী বিক্রয়-মূল্য হিসাব করে যাকাত প্রদান করবেন।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৫৫৯; কিতাবুল আমওয়াল, আবু উবাইদ পৃ. ৫২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩৯১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৮৬

শেয়ার লিংক

নাসির - বনানী, ঢাকা

৫০৮৮. প্রশ্ন

আমি ব্যবসায়ী। প্রতি বছর নিয়মিত আমার মালের যাকাত আদায় করে থাকি। এ বছরও আদায় করেছি। এবার যাকাত আদায়ের দিনগুলোতে আমার এক বন্ধু আমার বাসায় এসে দেখে যে, আমি যাকাতের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত। তখন সে আমার বাসার দামি দামি সামান পত্র যেমন ৩/৪ রঙের সোফা, দু-তিন কালারের ফার্নিচার, একাধিক কাঠের আলমারী, ১০/১৫ ডিনার সেট, ওভেন, এসি, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি। সে আমাকে জিজ্ঞেস করে এসব সরঞ্জামাদির দাম কত? আমি বললাম; ১০/১২ লাখ টাকা হবে। সে বলল, এগুলির যাকাত আদায় করেছিস? কত দিন হয় এগুলি নিলি? আমি বললাম, দেড় বছরের মতো হবে। সে বলল, এগুলোর যাকাত দিতে হবে। আমি বললাম, কেন? আমার প্রয়োজনীয় সামানের কেন যাকাত দিব? আমি তো শুধু ব্যবসায়ী পণ্যের যাকাত আদায় করে থাকি। হুযূরের নিকট জানার বিষয় হল, আমার ব্যবসার মালের যাকাত আদায়ের সময় কি আমার ঘরের এ পণ্যগুলোরও যাকাত দিতে হবে? তার কথা কি ঠিক?

উত্তর

আপনার বন্ধুর কথা ঠিক নয়। ঘরের আসবাব-পত্র ও ব্যবহার সামগ্রীর উপর যাকাত আসে না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে উল্লেখিত পণ্যগুলোর যাকাত দিতে হবে না। তবে মুসলমানদের উচিত যাকাতের পাশাপাশি সাধ্যানুযায়ী নফল দান-সদকা করা।

Ñকিতাবুল আছল ২/৯৭; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৯৮; আলহাবিল কুদসী ১/২৬৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৭৩

শেয়ার লিংক

ইবনে বতুতা - ঢাকা

৫০৮৭. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধুকে আমি ২ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছি প্রায় দুই বছর হয়ে যায়। সে দেবে বলে বিভিন্ন সমস্যার কারণে এখনো দিতে পারেনি। এ বছর আমি যাকাত দেওয়ার সময় আমার বড় ভাইজান, যিনি দ্বীনী বিষয়ে জ্ঞান রাখেন, বললেন, তোমাকে সে ঋণ দেওয়া টাকার যাকাত দিতে হবে। হুযূরের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত বন্ধুকে দেওয়া ঐ ঋণের উপর যাকাত আসবে কি না?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ঋণের যাকাত দিতে হবে। তবে আপনি চাইলে ঐ টাকা পাওয়ার পর তার যাকাত আদায় করতে পারেন। সেক্ষেত্রে যে কয় বছর পিছনে অতিবাহিত হয়েছে তার যাকাতও দিতে হবে। আর চাইলে টাকা পাওয়ার আগেও প্রতি বছরেরটা নগদে আদায় করে দিতে পারেন।

Ñকিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২৯৭; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৯৪; আলহাবিল কুদসী ১/২৭০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২৮

শেয়ার লিংক

আয়েশা - চাঁদপুর

৫০৮৬. প্রশ্ন

আলহাদু লিল্লাহ, আমি ফরয, ওয়াজিব পালনের পাশাপাশি কিছু নফল আমলও করার চেষ্টা করি। চেষ্টা করি কিছু নফল নামায ও কিছু নফল রোযা রাখার। এ বছর আমি আশুরার দিন রোযা রাখি। হঠাৎ দিনের বেলায় আমার মাসিক এসে যায়। পরে আমি কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই সেভাবেই রোযা অবস্থায় কিছু না খেয়ে কাটিয়ে দিলাম। বাকি আমি জানি যে, ফরয রোযা অবস্থায় মাসিক এসে গেলে কাযা করতে হয়। তাই হুযূরের নিকট জানতে চাচ্ছি, নফল রোযা অবস্থায় মাসিক এসে গেলে কাযা করা লাগবে কি?

উত্তর

হাঁ, নফল রোযা অবস্থায় মাসিক ¯্রাব এসে গেলে পরবর্তীতে তার কাযা করে নিতে হবে। কেননা নফল রোযা শুরু করার পর তা পূর্ণ করা আবশ্যক হয়ে যায়।

Ñআলমাবসূত, সারাখসী ৩/৭০; খিযানাতুল আকমাল ১/৩০০; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৩০; ফাতহুল কাদীর ২/২৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭

শেয়ার লিংক

নজরুল ইসলাম - ময়মনসিংহ

৫০৮৫. প্রশ্ন

গত রমযানে আমি মহল্লার মসজিদে সুন্নত ইতিকাফ করেছিলাম। পঁচিশ রোযার দিন এক ভাইয়ের সাথে কথা বলতে বলতে বেখেয়ালে মসজিদের বাইরে চলে যাই। পরে ইমাম সাহেব হুযূরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আপনার ইতিকাফ ভেঙে গেছে। আপনাকে এখন পূর্ণ দশ দিনের ইতিকাফ কাযা করতে হবে। জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবের কথা কি সঠিক? সুন্নত ইতিকাফ ভেঙে গেলে কি পূর্ণ দশ দিনের ইতিকাফই কাযা করতে হয়?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে আপনার সুন্নত ইতিকাফ ভেঙে গেছে এবং তা নফল হয়ে গেছে। এখন আপনাকে শুধু এক দিনের ইতিকাফ কাযা করতে হবে। অর্থাৎ কোনো এক দিন সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে পর দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে ইতিকাফের নিয়তে অবস্থান করবেন এবং দিনের বেলায় রোযা রাখবেন। দশ দিন ইতিকাফ করার কথা সহীহ নয়।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ২/২৮২; ফাতহুল কাদীর ২/৩০৮; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৪

শেয়ার লিংক

লাবিবা - নিলফামারী

৫০৮৪. প্রশ্ন

রমযান মাসে একদিন দুপুরে তীব্র গরমের কারণে আমি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। তখন আমি এক গøাস পানি ও শরবত খেয়ে রোযা ভেঙে ফেলি। অবশ্য আমার রোযার কথা স্মরণ ছিল, আর না ভাঙলেও তেমন অসুবিধা হত না। এরপর বিকাল থেকে আমার ঋতু¯্রাব শুরু হয়। বিষয়টি আমাদের তালীমের আপাকে জানালে তিনি বলেছেন, ‘কাফফারা ওয়াজিব হয়নি, তবে রোযাটি কাযা করতে হবে।হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযার কী হুকুম? আমাদের তালিমের আপা কি সঠিক বলেছেন?

উত্তর

আপনার জন্য এত সামান্য ওজরে রোযাটি ভেঙে ফেলা নাজায়েয হয়েছে। এজন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। এবং আপনাকে রোযাটি কাযা করে নিতে হবে। আর যেহেতু উক্ত দিনেই আপনার ঋতু¯্রাব শুরু হয়েছে তাই এক্ষেত্রে কাফ্ফারা আদায় করতে হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে যদি ঋতু¯্রাব না আসত তাহলে কাফ্ফারাও জরুরি ছিল।

Ñকিতাবুল আছল ২/১৫৩; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/৭৫; আততাজরীদ, কুদূরী ৩/১৫৬৯; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/২২৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪০৯

শেয়ার লিংক

সালমান হোসেন - খুলনা

৫০৮৩. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে প্রতি শুক্রবার ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা আলিফ-লাম-মিম সাজদা তিলাওয়াত করেন। গত শুক্রবার ফজরের নামায শুরু হলে আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নত পড়ছিলাম। এ সময় ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করেন। আমি শরীক হতে পারিনি। এরপর আমার সুন্নত পড়া শেষ হলে উক্ত রাকাতে রুকুর আগে আমি ইমামের সাথে শরীক হই। জানার বিষয় হল, আমার কি পরবর্তিতে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে?

উত্তর

উক্ত রাকাতের রুকু পাওয়ার কারণে ঐ রাকাত এবং এর সব আমলই পেয়ে গেছেন বলে ধর্তব্য হবে। তাই এক্ষেত্রে আপনার সিজদায়ে তিলাওয়াতও আদায় হয়ে গেছে। আপনাকে পুনরায় তা আদায় করতে হবে না। কারণ, রুকু পেলে ওই রাকাতের কেরাত, দুআয়ে কুনুত, সিজদায়ে তিলাওয়াত সবকিছু পেয়েছে বলে ধর্তব্য হয়।

Ñকিতাবুল আছল ১/২৭৯; জামেউস সাদরিশ শাহীদ পৃ. ১৭২; ফাতহুল কাদীর ১/৪৬৯; শরহুর মুনয়া পৃ. ৫০১; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৬৮

শেয়ার লিংক

আদনান হুসাইন - নোয়াখালী

৫০৮২. প্রশ্ন

গত সপ্তাহে জুমার নামাযে মসজিদে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। একারণে নামাযের শুরুতে কাতারে জায়গা না পেয়ে আমরা কয়েকজন মুসল্লি কাতারের পাশে সিঁড়ির সামনে দাঁড়াই এবং জায়গা-সংকীর্ণতার কারণে প্রথম সিঁড়ির উপর সিজদা করে নামায পড়ি। আমাদের উক্ত নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

হাঁ, আপনাদের উক্ত নামায সহীহ হয়েছে। কারণ, জায়গা-সংকীর্ণতার কারণে কোনো উঁচু স্থানে এমনকি অন্য মুসল্লির পিঠের উপর সিজদা করলেও নামায হয়ে যায়। হযরত উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনÑ

إذَا لَمْ يَقْدِرْ أَحَدُكُمْ عَلَى السّجُودِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فَلْيَسْجُدْ عَلَى ظَهْرِ أَخِيهِ.

কোনো ব্যক্তি যদি জুমার নামাযে জায়গা-সংকীর্ণতার কারণে মাটিতে সিজদা করার জায়গা না পায় সে যেন অন্য মুসল্লির পিঠের উপর সিজদা করে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, আসার ২৭৩৫)

Ñকিতাবুল আছল ১/১৭৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১২১; খিযানাতুল আকমাল ১/৫৩; ফাতহুল কাদীর ১/২৬৪; শরহুল মুনয়া পৃ. ২৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭০

শেয়ার লিংক

হুমাইদ - বাগানবাড়ী, সিলেট

৫০৮১. প্রশ্ন

আমার গ্রামের বাড়ী সিলেট। বাংলাদেশের নাগরিক। থাকি লন্ডনে। লন্ডনের সিটিজেনশিপ আছে। সিলেটে আমাদের বাড়ী ও জায়গা-জমি আছে। বছরে আব্বা-আম্মাসহ একাধিকবার দেশে আসা হয়। সামনে আমার বিবাহ-শাদী ইত্যাদি দেশেই করার খেয়াল এবং লন্ডন ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই থাকার খেয়াল। কিছু সময় দেশে থাকব, বাকি সময় লন্ডনে থাকবÑ এমন নিয়ত। জানার বিষয় হল, আমি দেশে আসলে কি কসর করব?

উত্তর

:  প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু লন্ডন ও সিলেট দুই জায়গাতেই আপনার বসবাসের ব্যবস্থা ও আসবাবপত্র রয়েছে এবং উভয় জায়গায় বসবাসও করেন তাই আপনি দুটি জায়গাতেই মুকীম গণ্য হবেন এবং পূর্ণ নামায পড়বেন। তবে পথিমধ্যে আপনি মুসাফির গণ্য হবেন।

Ñফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫১১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৭৩৯

শেয়ার লিংক

উবাইদুর রহমান - সিলেট

৫০৮০. প্রশ্ন

আমার ঠাÐার সমস্যা আছে। শীতের দিনে নাক দিয়ে পানি পড়ে। বারবার মোছার প্রয়োজন হয়। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, নামায পড়া অবস্থায় নাক মোছার প্রয়োজন হলে আমার জন্য করণীয় কী? আমি কি পকেট থেকে রুমাল বা টিস্যু বের করে তা দিয়ে নাক মুছতে পারব বা নাক মোছার প্রয়োজনে এগুলো হাতে রেখে নামায পড়া যাবে?

উত্তর

নামায পড়া অবস্থায় নাক মোছার প্রয়োজন হলে এক হাত দ্বারা মুছতে পারবেন। প্রয়োজনে পকেট থেকে এক হাত দিয়ে রুমাল বের করে মোছাও জায়েয হবে। আর বারবার মোছার প্রয়োজন হলে ছোট রুমাল বা টিস্যু জাতীয় কিছু হাতে রেখেও নামায পড়তে পারবেন। তবে লক্ষ রাখতে হবে, যেন হাতে রুমাল রাখার কারণে রুকুতে হাঁটু ধরা এবং সিজদায় হাতের তালু মেঝেতে রাখতে কোনো অসুবিধা না হয়।

উল্লেখ্য, হাতে কিছু রাখা বা বারবার নাক মোছার বিধানটি কেবলমাত্র ওজরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিনা ওজরে বারবার এভাবে মোছামুছি করা যাবে না।

Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৪১৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৬৩, ১৪২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৭, ৫২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৫রদ্দুল মুহতার ১/৬৪০

শেয়ার লিংক

শহিদুল ইসলাম - শেরপুর

৫০৭৯. প্রশ্ন

আমি মকতব বিভাগের একজন শিক্ষক। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব কখনো না থাকলে আমি নামায পড়িয়ে থাকি। আমার একটি বিষয় জানার ছিল। তা হল, কোনো কোনো মসজিদে দেখি যে, ইমাম সাহেব যোহর, মাগরিব, এশা এই ওয়াক্তগুলোতে ফরয নামাযের পর সুন্নত পড়ার জন্য মেহরাব থেকে পিছনে চলে আসেন। আবার কেউ জায়নামাযের একপাশে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়েন। আর কেউ নিজের জায়গায় দাঁড়িয়েই সুন্নত পড়েন। এক্ষেত্রে আসলে সঠিক নিয়ম কী?

উত্তর

ফরয নামাযের পর সম্ভব হলে ইমামের জন্য নিজের জায়গা থেকে সরে সুন্নত পড়া উত্তম। হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনÑ

إِذَا سَلّمَ الإِمَامُ لَمْ يَتَطَوّعْ حَتّى يَتَحَوّلَ مِنْ مَكَانِهِ ، أَوْ يَفْصِلَ بَيْنَهُمَا بِكَلاَمٍ.

ইমাম সালাম ফিরানোর পর নিজের জায়গা থেকে সরে সুন্নত পড়বে। ... (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ৬০৭৬)

হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিতÑ

أَنّهُ كَرِهَ إِذَا صَلّى الإِمَامُ أَنْ يَتَطَوّعَ فِي مَكَانِهِ ، وَلَمْ يَرَ بِهِ لِغَيْرِ الإِمَامِ بَأْسًا.

তিনি ইমামের জন্য নিজের জায়গায় সুন্নত পড়াকে অপছন্দ করতেন। ... (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ৬০৭৭)

তাই সুযোগ থাকলে ইমাম সাহেব ফরয নামাযের পর মেহরাব থেকে সরে দাঁড়াবেন। অন্যথায় কিছুটা ডানে-বামে সরে সুন্নত আদায় করবেন।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ১/৩৯৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩৬; ফাতহুল কাদীর ১/৩৮৪; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩৪২; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩১

শেয়ার লিংক

তাহমিদুর রহমান - শেরপুর

৫০৭৮. প্রশ্ন

আমাদের মহল্লার মসজিদটি তিন তলা বিশিষ্ট। জুমুআর দিন পুরো মসজিদ ভরে যায়। খুতবার সময় তৃতীয় তলায় অনেকেই জায়গা না পেয়ে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে। ইকামতের সময় সবাই দাঁড়ালে কাতারের মাঝে জায়গা খালি হয়। তখন অনেকেই কাতারে দাঁড়াতে পারে। কখনো কখনো নামায শুরু হয়ে যাওয়ার পরও কোথাও খালি জায়গা দেখা যায়। তখন পেছন থেকে দুই-একজন নামাযীদের সামনে দিয়ে সেখানে গিয়ে দাঁড়ায়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে নামাযীদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা কি জায়েয আছে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মুসল্লীরা নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেও খালি স্থানের জায়গা পুরণ করার জন্য তাদের সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে। কারণ কাতার পূূর্ণ করার হুকুম পালনের জন্য মুসল্লীদের সামনে দিয়েও যাওয়া জায়েয।

প্রকাশ থাকে যে, নামায শুরু করার পূর্বেই ডানে-বামে লক্ষ করে মিলে মিলে দাঁড়াতে হয়। হাদীস শরীফে এসেছে, জাবির ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনÑ

أَلَا تَصُفّونَ كَمَا تَصُفُّ الْمَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا؟ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيْفَ تَصُفّ الْمَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا؟ قَالَ: يُتِمّونَ الصّفُوفَ الْأُوَلَ وَيَتَرَاصّونَ فِي الصّفِّ.

তোমরা কি এভাবে কাতারবন্দী হয়ে দঁড়াবে না, যেভাবে ফিরিশতাগণ তাদের রবের সামনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়? আমরা বলালাম, ফিরিশতাগণ তাদের রবের সামনে কীভাবে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তারা সামনের কাতারগুলো আগে পূর্ণ করে এবং গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়ায়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৩০)

Ñশরহুল মুনয়া পৃ. ৩৬৯; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩১২; আদ্দুররুল মুনতাকা ১/১৮৪; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৬; জামেউর রুমুয ১/২০১

শেয়ার লিংক

নাজমুল হাসান - নকলা, শেরপুর

৫০৭৭. প্রশ্ন

আমাদের অফিসে নামাযের জন্য ভিন্ন জায়গা আছে। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে জামাত হয়। কিন্তু আযান দেওয়া হয় না। বরং শুধু ইকামত দিয়ে নামায শুরু করা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে মহল্লার আযান কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? নাকি পৃথকভাবে আযান দেওয়া লাগবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মহল্লার আযান আপনাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। তবে যেহেতু এটি স্বতন্ত্র নামায ঘর তাই এক্ষেত্রে নিজেরা পৃথকভাবে আযান দিয়ে নেওয়াই উত্তম।

Ñখুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৯৪-৯৫

শেয়ার লিংক

ইমাদ - নাওগাঁ

৫০৭৬. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন জামাতের সাথে যোহর নামায আদায় করছিলাম। নামাযের প্রথম রাকাতে হঠাৎ দেখি ইমাম সাহেব তাকবীর বলে সিজদায় যাচ্ছেন। আমি সিজদায়ে তিলাওয়াত ভেবে ইমাম সাহেবের সাথে সিজদায় শরীক হই। পরে বুঝতে পারলাম যে, আসলেই তা সিজদায়ে তিলাওয়াত ছিল। তখন আমার পাশে যে মুসল্লী ভাই ছিলেন তিনি সিজদায় যাননি। পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি তিলাওয়াতে সিজদা শুনিনি, তাই যাইনি এবং আপনার যাওয়াটাও ঠিক হয়নি। আমার না করাটাই ঠিক। জানার বিষয় হল, ইমামের সাথে আমার সিজদায় শরীক হওয়া কি ঠিক হয়েছে? আর তার কথা কি ঠিক?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার ইমামের সাথে সিজদায় শরীক হওয়া ঠিক হয়েছে। কেননা মুক্তাদি ইমামের সিজদায়ে তিলাওয়াত না শুনলেও ইমামের সাথে তার সিজদায় শরীক হওয়া ওয়াজিব। তাই উক্ত সিজদায় আপনার শরীক হওয়া নিয়মসম্মতই হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার পাশের মুসল্লীর কথা ঠিক হয়নি। না জেনে দ্বীনী বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়।

Ñকিতাবুল আছল ১/২৭৮; আলমাবসূত, ২/১৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৮১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১২০

শেয়ার লিংক

মিসবাহ - শেরপুর

৫০৭৫. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে প্রত্যেক নামাযে কয়েকজন করে মাসবুক হতে দেখা যায়। অনেক মাসবুককে দেখি ইমাম প্রথম সালাম ফিরানোর পরই বাকি নামায আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে যান। আবার অনেকে দ্বিতীয় সালামের পর দাঁড়ান। জানার বিষয় হল, মাসবুক বাকি নামায আদায়ের জন্য কখন দাঁড়াবে?

 

উত্তর

ইমামের উভয় সালামের পর মাসবুক অবশিষ্ট নামাযের জন্য দাঁড়াবে। তবে প্রথম সালামের পর দাঁড়ালেও নামায হয়ে যাবে। যদিও তা নিয়মসম্মত নয়।

Ñখুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬৮; আলহাবিল কুদসী ১/১৯৩; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৬৪; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৯৭

শেয়ার লিংক

হাম্মাদ - পল্লবী, ঢাকা

৫০৭৪. প্রশ্ন

আমি গত কয়েকদিন আগে জামাতের সাথে মসজিদে যোহর নামায পড়ছিলাম। আমার দু-একজন পরে একজন বৃদ্ধ মুরব্বী চেয়ারে বসে নামায পড়ছেন। বৃদ্ধের পাশে আরো দু-একটি চেয়ার ছিল। ইমাম সাহেব যখন রুকুর তাকবীর বললেন তখন মুরব্বী রুকু থেকে ওঠার সময় পাশে রাখা চেয়ারে হাত লাগার কারণে একটু জোরে আওয়ায হয়। আওয়ায শুনে বৃদ্ধের বরাবর সামনের কাতারে দাঁড়ানো লোকটা সিনা না ঘুরিয়ে পেছনে মাথা ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখলেন। পরে সাথে সাথে আবার কেবলার দিকে ফিরে গেলেন। অতঃপর বাকি নামায যথা নিয়মে আদায় করেন। জানার বিষয় হল, তার নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

উত্তর

বাস্তবেই যদি ঐ মুসল্লী শুধু মাথা ঘুরিয়ে থাকেন তার সিনা কেবলার দিক থেকে না ঘোরে তাহলে তার নামায আদায় হয়ে গেছে। তবে এভাবে নামাযে মাথা ঘুরানো বা এদিক-সেদিক তাকানো মাকরূহ। বিনা প্রয়োজনে এমন করা খুশু-খুযু পরিপন্থী।

Ñআলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭০; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/৪২২; শরহুল মুনয়া পৃ. ২২৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৫

শেয়ার লিংক

আবুল কালাম আজাদ - কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ

৫০৭৩. প্রশ্ন

গত রমযানে একদিন তারাবীহ আদায় করার জন্য মসজিদে গেলাম। এশার নামায শেষ হওয়ার পর যখন তারাবীহ শুরু হল তখন আমার একজন পরিচিত ব্যক্তিকে দেখলাম, তিনি বসে বসে তারাবীহ পড়ছেন। ভাবলাম, হয়ত কোনো অসুস্থতার কারণে বসে নামায পড়ছেন। নামায শেষ হওয়ার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, কী অসুস্থতার কারণে তিনি বসে নামায পড়ছিলেন? তিনি বললেন, না কোনো সমস্যা নেই। এমনিতেই বসে বসে তারাবীহ পড়ছিলাম। তারাবীহ তো বসে পড়া জায়েয আছে। পরবর্তীতে আমি আরো বেশ কয়েকদিন তাকে কোনো কারণ ছাড়াই বসে তারাবীহ আদায় করতে দেখেছি।

মুফতী সাহেবের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, তার এ কথা কতটুকু সঠিক? কোনো সমস্যা বা অসুস্থতা ছাড়াই কি তারাবীহ বসে পড়া জায়েয আছে?

উত্তর

কোনো ওযর ছাড়া তারাবীহ যমিনে বসে সমতলে সিজদা করে পড়লেও আদায় হয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারী ব্যক্তির চেয়ে অর্ধেক সওয়াব পাবে। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনÑ

إِنْ صَلّى قَائِمًا فَهُوَ أَفْضَلُ وَمَنْ صَلّى قَاعِدًا، فَلَهُ نِصْفُ أَجْرِ القَائِمِ.

দাঁড়িয়ে নামায আদায় করাই সর্বোত্তম। যদি কেউ বসে নামায আদায় করে তাহলে সে দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারী ব্যক্তির অর্ধেক সওয়াব পাবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১১১৫)

Ñবাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৭; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩৪০; মাজমাউল আনহুর ১/২০০; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ১/৩০; শরহুল মুনয়া পৃ. ৪১০

শেয়ার লিংক

আবদুন নূর বিন রফীক - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

৫০৭২. প্রশ্ন

গত রমযানে একদিন এশার পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করার পর রমযানের কথা স্মরণ না থাকায় গতানুগতিকভাবে আমি ভুলে বিতিরও পরে ফেলি। বিতির শেষ হওয়ার পর তারাবীহ শুরু হলে আমার রমযানের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু তখন আমার সংশয় হতে থাকে যে, তারাবীহ তো বিতিরের আগে পড়তে হয়। আমি তো বিতির পড়ে ফেলেছি, এখন কি আমার তারাবীহ হবে? এই দোদুল্যমান অবস্থা নিয়েই আমি তারাবীহ আদায় করি।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমার উক্ত তারাবীহ কি শুদ্ধ হয়েছে? না হলে এখন আমার করণীয় কি?

উত্তর

উত্তম হল বিতিরের নামায তারাবীহের পর আদায় করা। তবে তারাবীহের আগে বিতির পড়ে ফেললেও পরে তারাবীহ আদায় করা যায়। কারণ, তারাবীহর সময় সুবহে সাদিক পর্যন্ত থাকে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার তারাবীহ আদায় করা সহীহ হয়েছে।

Ñফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৫; আলহাবিল কুদসী ১/২৪৮; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩৩৮; আলইখতিয়ার ১/২৩৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭

শেয়ার লিংক

রাফিউল ইসলাম - বনানী, ঢাকা

৫০৭১. প্রশ্ন

গত রমযানে একদিন আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। অসুস্থতার কারণে তিনি বসেবসেই রুকু-সিজদার সাথে তারাবীহ্র ইমামতি করেন। এবং আমাদেরকে উনার পিছনে দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করতে বলেন। উনার কথা মত আমরা দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমার বেশ সংশয় হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের ঐ দিনের তারাবীহ কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

ইমাম যমিনে বসে সমতলে সিজদা করে নামায পড়লে তার পেছনে সুস্থ ব্যক্তিদের দাঁড়িয়ে ইক্তেদা করা সহীহ। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের ঐ দিনের তারাবীহ সহীহ হয়েছে। অবশ্য ইশারায় সিজদাকারীর পেছনে সুস্থ ব্যক্তিদের ইক্তেদা সহীহ নয়।

Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৬৮৯; উমদাতুল কারী ৫/২১৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৫; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৬৯; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ১/৩০

শেয়ার লিংক

হাসান - কুষ্টিয়া

৫০৭০. প্রশ্ন

আমি সেদিন বিতির নামাযে তৃতীয় রাকাতে ভুলে কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে যাই। পরে রুকুতে স্মরণ হয়Ñ আমি কুনূত পড়িনি। তাই দাঁড়িয়ে যাই এবং দাঁড়িয়ে কুনূত আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমি কি দ্বিতীয়বার রুকু করব? এভাবে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়া কি ঠিক হল?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে দ্বিতীয়বার রুকু করতে হবে না।

উল্লেখ্য যে, রুকুতে কুনূতের কথা স্মরণ হওয়ার পর দাঁড়িয়ে যাওয়া উচিত হয়নি; বরং অবশিষ্ট নামায শেষ করে সাহু সিজদা করে নিলেই তা নিয়মসম্মত হত।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ১৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৬; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৪৮

শেয়ার লিংক

মুস্তাফিজুর রহমান - বুয়েট, ঢাকা

৫০৬৯. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের সুযোগ হয়েছিল দশ দিনের জন্য তাবলীগের সফরে বের হওয়ার। আমাদের রোখ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ছিল। সেখানে গিয়ে আমরা একাকী নামায পড়লে কসর করতাম এবং নামাযের আগে-পরের সুন্নাতগুলোও গুরুত্বের সাথে আদায় করছিলাম। আমাদের জামাতের এক সাথী ফরয নামায কসর পড়লেও নামাযের আগে-পরের সুন্নাতগুলো পড়তেন না এবং অন্যদেরকেও পড়তে নিষেধ করতেন। বলতেন যে, সফরে সুন্নাত পড়তে হয় না। আমরা যারা আগে থেকেই এই ধরনের সফরে সুন্নাত পড়ে আসছি তার এই কথা শুনে বেশ সংশয়ে পড়ে যাই এবং আমাদের অনেক সাথীই সুন্নাত পড়া বন্ধ করে দেয়।

এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি যে, সফরে নামাযের আগে-পরের সুন্নাত আদায়ের বিধান কী?

উত্তর

সফরের পথিমধ্যে যখন গন্তব্যে পৌঁছার ব্যস্ততা ও তাড়াহুড়া থাকে তখন সুন্নাত না পড়াই উত্তম। আর গন্তব্যে পৌঁছার পর মসজিদে অবস্থানের সময় বা কাছাকাছি স্থানে এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে যাতয়াতের সময় কোনো তাড়াহুড়া বা কষ্ট-ক্লেশ না থাকলে যথাসম্ভব নামাযের আগে-পরের সুন্নত আদায় করে নেওয়া উত্তম।

উল্লেখ্য, ফজরের পূর্বের সুন্নাতের গুরুত্ব অন্যান্য সুন্নাতের চেয়ে বেশি। তাই যথাসম্ভব সর্বাবস্থায় তা আদায়ের চেষ্টা করা উচিত।

Ñজামে তিরমিযী, বর্ণনা ৫৫০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৩৮৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬০; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/১৭০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১; ইলাউস সুনান ৭/৩২৯

শেয়ার লিংক