আনোয়ার - মিরপুর, ঢাকা

৫০৩০. প্রশ্ন

একটি সেবা সংস্থার পক্ষ থেকে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের দুটি প্রাইজবন্ড প্রকাশ করা হয়েছে। ঋণ প্রার্থী ব্যক্তিদর কাছে এই বন্ডগুলো ফেসভ্যালুর (গায়ের দাম) চেয়ে অধিক মূল্যে যেমন ১০০০ টাকা মূল্যমানের বন্ড ১১০০ টাকায় এবং ৫০০ টাকা মূল্যমানের বন্ড ৫৫০ টাকায় ছয়মাস বা একবছর মেয়াদে বাকিতে বিক্রি করা হয়। বন্ডবাহক সেবা সংস্থার সাথে চুক্তিবদ্ধ এজেন্ট বা শপিং সেন্টার থেকে বন্ডের বিনিময়ে নির্ধারিত নগদ অর্থ অথবা তৎমূল্যের পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে নিজের প্রয়োজন পূরণ করে। অপর দিকে বন্ডের দ্বিতীয় ক্রেতা (এজেন্ট বা দোকানদার) বন্ডটি সেবা সংস্থার অফিসে জমা দিয়ে যথার্থ মূল্য নগদ উঠিয়ে নেয়। উক্ত পদ্ধতিতে ঋণ গ্রহীতাকে ছয়মাস বা একবছর পর তার সংগৃহীত নগদ অর্থ (১০০০ বা ৫০০) অথবা তৎমূল্যে পণ্য সামগ্রীর চেয়ে অধিক (১১০০ বা ৫৫০) পরিশোধ করতে হয়। এখন জানার বিষয় হল, উক্ত পদ্ধতির শরয়ী বিধান কী? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত পন্থায় বন্ডের লেনদেন সম্পূর্ণ সুদী কারবার। আর ইসলামে সুদ নিকৃষ্টতম হারাম। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন-

وَ اَحَلَّ اللهُ الْبَیْعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا

আল্লাহ তাআলা কেনা-বেচাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম। -সূরা বাকারা (২) : ২৭৫

জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ.

সুদ গ্রহণকারী, এর দাতা, এর হিসাব লেখক এবং যারা এর সাক্ষী থাকে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সকলের উপর লা‘নত করেছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮

তাই মুসলামনদের কর্তব্য, এ ধরনের লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তারেক - কিশোরগঞ্জ

৫০২৯. প্রশ্ন

আমরা চরাঞ্চলে বসবাস করি। এখানে আমার কিছু জমি আছে। এ অঞ্চলটি নিচু হওয়ায় বর্ষায় পানি বেশি হলে এখানের জমিগুলো প্রায় দেড়-দু’মাস চাষাবাদের অনুপযোগী থাকে। এ সময়ের ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে সংশয় হয়। অন্যান্য মালিকরা যেহেতু এ সময়ের ভাড়া আদায় করে থাকে, তাই আমিও নিই। এটা নেয়া কি বৈধ হবে? বর্ষার পর ফলন ভাল হলে তো তারা আমাদেরকে ভাড়া বেশি দেয় না। তাহলে আমরা কেন তাদের ক্ষতি বহন করব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি হল, ভাড়া চুক্তির সময় ঐ দেড়-দু’মাস বাদ দিয়ে বছরের বাকি অংশের কথা উল্লেখ করে ভাড়া ঠিক করা। ভাড়া গ্রহীতা যদি নয়-দশ মাসের জন্যই বর্তমানে যে ভাড়া আছে তা দ্বারা ভাড়া নিতে চায় তাহলে সেটিও জায়েয হবে। বিশেষত আপনাদের অঞ্চলের ভূমিগুলো যদি সাধারণত প্রতি বছরই প্লাবিত হয় এবং একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চাষাবাদের অনুপযোগী থাকে তাহলে চুক্তির সময় উক্ত দেড়-দু’মাসের কথা উল্লেখ না করলেও উরফ তথা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া চুক্তি সহীহ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ঐ সময় বাদ দিয়েই জমির মালিকগণ নির্ধারিত ভাড়া নিতে পারবে। আর যদি বিষয়টি এমন হয় যে, সাধারণত পুরো বছরই জমিগুলো ফসলের উপযুক্ত থাকে, কিন্তু কখনো কখনো প্লাবনের কারণে জমিগুলো কয়েক মাস পর্যন্ত চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, আর চুক্তির সময় এসব কিছু বলা ছাড়াই ভাড়া ঠিক করা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে বছরের যে সময়টুকু জমিগুলো পানির নিচে ডুবে ছিল এবং চাষাবাদের অনুপযুক্ত ছিল সে সময়ের ভাড়া নেয়া বৈধ হবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৬১; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ১১৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/৩৬

শেয়ার লিংক

ছায়েদুর রহমান - শেরপুর

৫০২৮. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় জমি চাষাবাদের একটি পদ্ধতি ব্যাপকভাবে চালু রয়েছে। জমির মালিক জমি দেয়। আর পরবর্তীতে বীজ, সার, হাল দেওয়া ও সেচ বাবদ খরচ উভয়ে বহন করে। বীজ রোপন ও জমি প্রস্তুত করতে যে খরচ হয় তাও উভয়ে দেয়। আর উৎপাদিত ফসল উভয়ে সমান সমান করে ভাগ করে নেয়। হুজুরের কাছে জিজ্ঞাসা হল আমাদের জমি চাষাবাদের উক্ত পদ্ধতি বৈধ কি না? অনুগ্রহপূর্বক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

জমি চাষাবাদের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি জায়েয। আপনারা এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং চুক্তি অনুযায়ী সমানহারে উৎপাদিত ফসল বণ্টনও করতে পারবেন। বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান রাহ. বলেন-

لاَ بَأْسَ أَنْ تَكُونَ الأَرْضُ لِأَحَدِهِمَا، فَيُنْفِقَانِ جَمِيعًا، فَمَا خَرَجَ فَهُوَ بَيْنَهُمَا.

[সহীহ বুখারী ৩/১০৪ (তালীক)]

যদি ক্ষেত তাদের মধ্যে কোনো একজনের হয় আর দুজনেই তাতে খরচ করে তাহলে উৎপাদিত ফসল উভয়ে সমান হারে ভাগ করে নিতে পারবে।

-কিতাবুল আছল ৯/৫৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ১৮/৩৬০; আলমাবসূত, সারাখসী ২৩/৩১; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/১৭৮; রদ্দুল মুহতার ৬/২৮১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রাকিব উদ্দীন - শেরপুর

৫০২৭. প্রশ্ন

এক ব্যক্তির সাথে আমি চুক্তি করতে চাচ্ছি যে, সে আমার এক বিঘা জমি চাষ করবে। চাষের জন্য বীজ, পানি, সার ইত্যাদির যাবতীয় খরচ সে বহন করবে। সিজন শেষে যা ফসল হবে তার বীজ সার ইত্যাদির খরচ বাদ দিয়ে বাকিটা দু’জনের মাঝে সমান হারে বণ্টন হবে। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের এভাবে চুক্তি করা বৈধ হবে কি না? বৈধ না হলে বৈধতার কোনো পদ্ধতি আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

বর্গা চুক্তিতে উৎপাদিত ফসল থেকে চাষীর খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ফসল ভাগাভাগির চুক্তি করা জায়েয নয়। বরং উৎপাদিত সকল ফসলই ভাগাভাগি করতে হবে। এক্ষেত্রে চাষীর খরচ পোষানোর জন্য চাষীকে বেশি অংশও দেওয়া যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৫৮; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৬১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৩৬; মাজমাউল আনহুর ৪/১৪১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/২৭৬

শেয়ার লিংক

আলাউদ্দীন - উত্তরা, ঢাকা

৫০২৬. প্রশ্ন

আমি ঢাকায় চাকরি করি। গ্রামে আমার তেমন জায়গা-জমি নেই। একবার আমার এক চাচা একটি জমির সন্ধান পেয়ে আমাকে জানান। আমার নামে জমিটি কেনার জন্য চাচার একাউন্টে পাঁচ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিই। জমি কিনতে বিলম্ব হওয়ায় চাচা আমাকে না জানিয়ে এক লক্ষ টাকা নিজের ব্যবসায় খাটায়। জানার বিষয় হল, চাচার জন্য কি টাকা ব্যবসায় খাটানো ঠিক হয়েছে? এ টাকা দ্বারা যা লাভ হয়েছে তা কি চাচার জন্য ভোগ করা বৈধ হবে? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ঐ টাকা আপনার চাচার নিকট আমানত হিসেবে ছিল। তিনি যদি আপনার অনুমতি ছাড়া উক্ত টাকা নিজের ব্যবসায় লাগিয়ে থাকেন তবে তা জায়েয হয়নি। আমানতের খেয়ানত হয়েছে। তাই এ টাকা থেকে যা লাভ হয়েছে তা তিনি নিজে ভোগ করতে পারবেন না। বরং তা গরিব-মিসকীনদেরকে সদকা করে দিতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩৮; আলবাহরুর রায়েক ৬/৯৭, ৭/১৪১; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা ৩৯০; ফাতহুল কাদীর ৬/১০৪; রদ্দুল মুহতার ৫/৯৭

শেয়ার লিংক

আহসান হাবীব - রাজশাহী

৫০২৫. প্রশ্ন

কখনো কখনো বাগানের মালিকদের থেকে এক-দুই বছরের জন্য অগ্রিম বাগানের আম ক্রয় করে নিই। আবার কখনো আম ছোট থাকাবস্থায় ক্রয় করি। পাকার সময় হলে আম পেড়ে নিয়ে আসি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমাদের এই লেনদেন বৈধ কি না? বৈধ না হলে বৈধ কোনো পদ্ধতি আছে কি না জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

গাছে ফল হওয়ার আগে বাগানের অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় জায়েয নয়। এ ব্যাপারে হাদীসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। জাবের রা. বলেন-

نَهَى النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ عَنْ بَيْعِ السِّنِينَ.

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম بيع السنين তধা অগ্রিম এক বা একাধিক বছরের জন্য (গাছের ফল) বিক্রি করা থেকে নিষেধ করেছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৩৬)

সুতরাং গাছে আম হওয়ার আগেই অগ্রিম আমের ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হবে না। তবে বাগানের মালিকদের সাথে ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা বা ওয়াদা করা যেতে পারে। এবং সম্ভাব্য দাম নিয়েও প্রাথমিক কথা হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে গাছে আম হওয়ার পর ফলন দেখে। ফল হওয়ার আগে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। এ কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পণ্য হচ্ছে আম। এখন যদি তা বেরই না হয় তাহলে কিসের বেচা-কেনা হচ্ছে। শরীয়তে এ ধরনের অস্তিত্বহীন বস্তুর বেচা-কেনার কোনো সুযোগ নেই।

-কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/৬৫০; কিতাবুল আছল ২/৪৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/৩১০; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৮৮; আলবাহরুর রায়েক ৫/৩০০

শেয়ার লিংক

আব্দুল আলীম - কেচুয়ারপুর, শরীয়তপুর

৫০২৪. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ আছে। মসজিদের জন্য যিনি জমি ওয়াকফ করেছিলেন। ওয়াকফ করার অনেক আগে (২০-২৫ বছর) সেই জমিতে তার দাদাকে কবর দেওয়া হয়েছিল। ওয়াকফ করার পর সেই জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের শেষের এক-দুই কাতার সেই কবরের উপর নির্মিত হয়েছে এবং এভাবেই দীর্ঘদিন থেকে নামায আদায় করা হচ্ছে। এখন কেউ কেউ বলছেন, কবরের উপর মসজিদ বানানো হারাম। তাই অনেকে মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলতে চাচ্ছেন। অথচ মসজিদের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে। মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, আসলেই কি উক্ত মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলতে হবে?

আরেকটি বিষয় জানতে চাচ্ছি, সম্প্রসারণের প্রয়োজনে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী ঐ কবরটি যেহেতু অনেক পুরাতন ছিল তাই সেটি সমান করে তাতে মসজিদ নির্মাণ করা জায়েয হয়েছে। মসজিদে নববীর নীচেও মুশরিকদের কবর ছিল। সেগুলোকে সমান করে তার উপর মসজিদে নববী নির্মাণ করা হয়েছে। সুতরাং নিচে কবর ছিল এই অজুহাতে প্রশ্নোক্ত মসজিদের বিপক্ষে কথা বলা এবং তা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা অন্যায়। জেনে রাখা দরকার যে, প্রশ্নোক্ত মসজিদটি শরয়ী মসজিদ। সুতরাং এর বিরুদ্ধে কথা বলা মসজিদের বিরোধিতা করা এবং তা ভেঙে ফেলা মসজিদ ভাঙ্গার শামিল।

উল্লেখ্য, মালিকানাধীন জমির কবরের লাশ পুরাতন হয়ে মাটির সাথে একেবারে মিশে যাওয়ার প্রবল ধারণা হলে সে কবর সমান করে দিয়ে তাতে মসজিদ বানানো বা সম্প্রসারণ করার সুযোগ রয়েছে।

আর প্রশ্নে ‘কবরের উপর মসজিদ বানানো হারাম’ হওয়ার যে কথা বলা হয়েছে তা কবর অক্ষত রেখে (অর্থাৎ কবরের চিহ্ন বহাল রেখে) তাতে মসজিদ বানানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই পুরাতন কবরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে তার উপর মসজিদ নির্মাণ করতে কোনো দোষ নেই।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫২৪, ৫৩১; উমদাতুল কারী ৪/১৭৯; শরহে মুসলিম, নববী ৫/৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩৩৬

শেয়ার লিংক

আবু হুরাইরা - গোপালগঞ্জ

৫০২৩. প্রশ্ন

আমার পিতার ইন্তেকালের পর আমিই আমার ভাই-বোনদের দেখাশোনা করছি। কিছুদিন আগে আমার ছোট বোনের বিবাহ দিই। বিবাহে আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্যদের আপ্যায়ন করি। উক্ত আপ্যায়নে অলঙ্কার ছাড়া নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী মিলে প্রায় ৪০ হাজার টাকার উপঢৌকন উঠেছে। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল এ উপঢৌকনের মালিক কে? সবগুলো আমার বোনকে দিয়ে দিতে হবে কি না? আমাদের ব্যবহার করার অনুমতি আছে কি না? মাসআলাটির সঠিক সমাধানে হুযুরের সুমর্জি কামনা করছি।

উত্তর

বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে যেসকল উপঢৌকন দেওয়া হয় তা যদি নির্দিষ্ট কাউকে দেওয়া হয়েছে বলে বোঝা যায় বা উপহারদাতা নির্দিষ্ট কারো নাম বলে দেয় তাহলে সে-ই উক্ত উপহারের মালিক বলে বিবেচিত হবে। যেমন উপহারদাতা মেয়ের নাম বলে দিলে বা মেয়ের একান্ত ব্যবহার্য জিনিসপত্র উপহার দিলে তার মালিক মেয়ে হবে। এসব উপহার তার অনুমতি ছাড়া অন্য কারো নেওয়া বৈধ হবে না। আর অন্যান্য উপহারের মালিক কে হবে- সে বিষয়টি প্রত্যেক সমাজের প্রচলন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। যেমন কোনো সমাজে যদি এমন প্রচলন থাকে যে, বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে অনির্দিষ্টভাবে যা কিছু উপহার দেওয়া হয় তা অভিভাবকদেরকেই দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে তবে অভিভাবকগণই তার মালিক বলে বিবেচিত হবে। চাই উক্ত উপহার নগদ অর্থ হোক বা ঘরে ব্যবহারের মত কোনো সামগ্রী বা অন্য যা-ই হোক। আর কোথাও অন্য কোনো প্রচলন থাকলে সেখানে তা-ই গ্রহণযোগ্য হবে।

প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার যে প্রচলন রয়েছে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে সহীহ নয়। এটা কুপ্রথার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া যেভাবে চেয়ার টেবিল নিয়ে উপহার গ্রহণ ও নিবন্ধনের আয়োজন করা হয় তা শুধু শরীয়তপরিপন্থীই নয়; বরং অনেক দৃষ্টিকটু।

প্রচলিত পদ্ধতিতে যেসকল আপত্তিকর বিষয় রয়েছে তার মধ্যে -

১. কেউ উপহার না দিলে তাকে ভিন্ন চোখে দেখা।

২. অনেকে ইচ্ছা বা সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও চক্ষু লজ্জার কারণে উপহার দিয়ে থাকে। আর এভাবে দেওয়ার কারণে তা বৈধও হয় না।

৩. উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উপহার না দিতে পারলে সমালোচিত হওয়ার ভয়ে অনেকে দাওয়াতে শরিক হওয়া থেকে বিরত থাকে।

৪. তাছাড়া কৃত্তিমতা, লৌকিকতা, সৌজন্য রক্ষা ও বড় কোনো উপহার দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং বাহবা কুড়ানোর মানসিকতা তো রয়েছেই। আর এ সবই ইসলামের শিক্ষা পরিপন্থী। তাই বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠানে এধরনের উপহার দেওয়া-নেওয়ার প্রচলন সংশোধনযোগ্য।

-ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ২/১১৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৯৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৮০; আলমুলতাকাত ফিল ফাতাওয়া পৃ. ৩০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৮৩; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৯৬

শেয়ার লিংক

আহসান হাবীব - বাসাবো, ঢাকা

৫০২২. প্রশ্ন

আমি বালেগ হওয়ার পর ৭টি রমযান অতিবাহিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে শেষ ৩ রমযান আমি ঠিকমত রোযা রেখেছি। কোনো রোযা ছাড়িনি। বাকি ৪ রমযানে নিয়মিত রোযা রাখিনি। কোনো দিন রোযা রেখে বিনা ওজরে ভেঙে ফেলেছি। কখনো মায়ের চাপাচাপিতে ভেঙেছি। আবার কোনো দিন একেবারেই রাখিনি। তবে মনে হয়, রেখে ভেঙে ফেলার সংখ্যাই বেশি। এভাবে কত রোযা গেছে তার সঠিক হিসাব আমি বলতে পারছি না।

আমার জানা মতে, বিনা ওজরে রোযা ভাঙলে কাফফারা আদায় করতে হয়। তাই একবার লাগাতার ৬০টি রোযা রেখেছি। এ অবস্থায় আমার ঐ রোযাগুলোর কাযা কাফফারা আদায়ের ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিগত রমযানগুলোতে যেসব রোযা রেখে বিনা ওজরে ভেঙে ফেলেছেন সেসব রোযার জন্য একটি কাফফারা আদায় করাই যথেষ্ট হয়েছে। এখন আপনাকে বিগত রমযানগুলোতে যে কয়টি রোযা ভেঙেছেন কিংবা একেবারেই রাখেননি এগুলোর হিসাব করে প্রত্যেকটির জন্য একটি করে রোযা কাযা করে নিতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬০; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/১০২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪১৩

শেয়ার লিংক

শাকিল আহমাদ - সাদুল্লাপুর, পাবনা

৫০২১. প্রশ্ন

মুহতারাম, গত ২৩শে আগস্ট আমার এক নিকটাত্মীয় মারা যায়। সেই মায়্যেতকে গোসল করানোর জন্য আমি ও গ্রামের ইমাম সাহেবসহ আরেকজন ছিলাম। গোসল শেষে ইমাম সাহেব হালকাভাবে চেহারাটা মুছে মায়্যেতকে অযু করিয়ে দিলেন। তারপর পুরো চেহারা ভালোভাবে না মুছিয়েই দাফন করাতে চাইলেন। তখন আমি বললাম পুরো শরীর মুছবেন না কেন? কারণ আমার জানা মতে পূর্ণ শরীর মুছতে হবে। তখন ইমাম সাহেব বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক সাহাবী মারা যাওয়ার পর জান্নাতের পানি দ্বারা তাকে গোসল করালেন এবং শরীর থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছিল। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দাফন করে দিলেন। (অর্থাৎ কাফন পরিয়ে) দিলেন। সুতরাং পুরো শরীর ভালোভাবে মুছার প্রয়োজন নেই।

এখন হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল-

১. মায়্যেতকে গোসলের পর অযু করানো যাবে কি না? না হলে এর বিধান কী?

২. মায়্যেতকে গোসলের পর পুরো শরীর ভালোভাবে মুছতে হবে কি না? এবং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের কথা সহীহ কি না? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

১. মায়্যেতকে গোসলের আগেই যথানিয়মে অযু করিয়ে দেওয়া সুন্নত। গোসলের পর অযু করানোর নিয়ম নেই। তাই আগে অযু করানো না হলে পরে আর করাবে না। কেননা গোসলের দ্বারা অযুও হয়ে যায়। সহীহ বুখারীর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, উম্মে আতিয়্যাহ রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক মেয়ের ইন্তেকালের পর তার গোসল প্রসঙ্গে মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন-

ابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا، وَمَوَاضِعِ الوُضُوءِ مِنْهَا.

অর্থাৎ তোমরা (গোসল করানোর ক্ষেত্রে) তাঁর ডান দিক থেকে এবং অযুর স্থানসমূহ দ্বারা শুরু করো। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১২৫৫)

উক্ত হাদীসের আলোকে ইমাম আবু বকর জাসসাস রাহ. বলেন-

يوضأ وضوءه للصلاة أولاً.

অর্থাৎ মায়্যেতকে প্রথমে নামাযের অযুর মত অযু করাবে। (শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/১৮৭)

প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

يُبْدَأُ بِالْمَيِّتِ فَيُوَضّأُ وُضُوءَهُ لِلصّلاَةِ ثُمّ يَبدَأ بِمَيَامِنِه.

মায়্যেতকে (গোসলের শুরুতে) প্রথমে নামাযের অযুর ন্যায় অযু করাবে। এরপর তার ডান দিক থেকে (ধোয়া) শুরু করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১১০০১)

২. উক্ত কথা ঠিক নয়। নিয়ম হল, গোসল দেয়ার পর তার পুরো শরীর শুকনো পবিত্র কোনো কাপড় দিয়ে মুছে দেওয়া। ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. মায়্যেতের গোসলের বিবরণ দেওয়ার পর বলেন-

ثم تنشفه في ثوب.

অর্থাৎ এরপর কোনো কাপড় দিয়ে তার শরীর মুছে দিবে। (কিতাবুল আছল ১/৩৪৭)

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সাহাবীকে জান্নাতের পানি দ্বারা গোসল করিয়েছেন- এ কথাই ঠিক নয়। হাদীসের কিতাবে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না; বরং হাদীস শরীফে এসেছে, হামযা ও হানযালা রা. গোসল ফরয অবস্থায় যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে বলেছেন-

رَأَيْتُ الْمَلَائِكَةَ تُغَسِّلُهُمَا.

‘আমি তাদের দুজনকে ফেরেশতাদের গোসল করাতে দেখেছি।’ (আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ১২০৯৪)

-কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২২৫; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৯

শেয়ার লিংক

মাওলানা সানাউল্লাহ - খুলনা

৫০২০. প্রশ্ন

জানাযার খাটিয়া বহনের সুন্নত তরীকা কী? আমাদের এলাকায় এ ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি দেখা যায়। কখনো দেখা যায় কিছুদূর বহন করার পর যারা বহন করেনি তারা বহন করে। আবার কখনো পায়া পরিবর্তন করে নেয়। তাই এ বিষয়ে আমাদেরকে নির্ভরযোগ্য তথ্যসহ জানালে খুবই উপকার হবে।

উত্তর

জানাযার খাটিয়া বহন করার পদ্ধতি হল, খাটিয়ার চার পায়া চারজন (কাঁধে) বহন করবে। এবং প্রত্যেকে কাঁধ পরিবর্তন করে সবগুলো পায়া বহন করবে। এভাবে একেকজনের সবগুলো পায়া ধরা সুন্নতের অন্তুর্ভুক্ত। সবগুলো পায়া বহন করার নিয়ম ফক্বীহগণ এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, প্রথমে একজন সামনের ডান পায়া কাঁধে নেবে। তারপর পেছনের ডান পায়া, এরপর সামনের বাম পায়া, তারপর পেছনের বাম পায়া কাঁধে নেবে।

উল্লেখ্য, প্রয়োজন হলে কিছু লোক খাটিয়ার মাঝেও ধরতে পারবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১৩৯৭; কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ২৩৩; কিতাবুল আছল ১/৩৪৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৬৯; ফাতহুল কাদীর ২/৯৬; ইলাউস সুনান ৮/২৮৯

শেয়ার লিংক

সাদিক তায়্যিব - উত্তরা, ঢাকা

৫০১৯. প্রশ্ন

মুহতারাম! আমি ঢাকার একটি বড় মসজিদে তারাবীহ পড়াই। এবার রমযানের ২৭ তারিখে তারাবীর নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার তিন-চার আয়াত মনে মনে পড়ি, এরপর স্মরণ হলে উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা শুরু থেকে পড়ি। সেদিন মসজিদে ৩-৪ হাজার মুসল্লী ছিল। অনেক বড় জামাত ফেতনা হতে পারে- একথা ভেবে সাহু সিজদা দিইনি। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে? জুমা ও ঈদের নামাযের মত তারাবীর জামাত বড় হলে সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না?

উত্তর

নামাযে সাহু সিজদা ওয়াজিব হলে তা দিয়ে দেওয়াই কর্তব্য। আর সাহু সিজদা দিলে ফেতনা হবে- এ কথা সবসময় ঠিক নয়। কারণ সাহু সিজদার বিধান প্রায় সব মুসল্লী জানে। তবে জুমা ও ঈদের জামাতসহ অন্য কোনো নামাযের বড় জামাতে সাহু সিজদা দেওয়ার কারণে মুসল্লীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকলে সেক্ষেত্রে সাহু সিজদা না দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তির আশংকা হলে আপনার সাহু সিজদা না দেওয়াটা ঠিক আছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে মাইকের ব্যবস্থা থাকায় সাহু সিজদার কারণে মুসল্লীদের বিভ্রান্তি হওয়ার আশংকা কম। তাই এ ধরনের ক্ষেত্রেও সাহু সিজদা করে নেওয়াই উচিত।

-কিতাবুল আছল ১/৩২৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৪; মাজমাউল আনহুর ১/২২০; রদ্দুল মুহতার ২/৯২

শেয়ার লিংক

কাজী আবু সালেহ - পার্বত্য চট্টগ্রাম

৫০১৮. প্রশ্ন

আমি যে এলাকায় থাকি সেটা খ্রিস্টান অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে কোনো মসজিদ নেই। পাশর্^বর্তী এলাকায় যেখানে মসজিদ আছে ওখানকার আযানের শব্দ এখানে পৌঁছে না। এ অবস্থায় সাধারণত দু-চারজন একত্র হয়ে জামাতে নামায আদায় করলে আমরা আযান দিয়ে নিই। প্রশ্ন হল, যদি একাকী নামায পড়ি তাহলেও কি আযান দিয়ে নামায পড়া জরুরি? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

যে এলাকায় মসজিদ নেই কিংবা মসজিদ এত দূরে যে, আযান শুনতে পাওয়া যায় না সেখানে জামাত করে নামায আদায় করলে কিংবা একাকী নামায পড়লে উভয় অবস্থায়ই আযান দেওয়া উত্তম। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের আযান দিয়ে নামায আদায় করা ঠিক আছে।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৫; রদ্দুল মুহতার ১/৩৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৪

শেয়ার লিংক

হাসিবুর রাহমান - বান্দরবন

৫০১৭. প্রশ্ন

আমরা বান্দরবনে পাহাড়ের উপর বসবাস করি। গরমকালে পানির অনেক সংকট হয়। বহু নিচ থেকে পানি আনতে হয়। তাই একবার পানি আনলে কমপক্ষে এক দিন তা দিয়ে চলতে হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কখনো কখনো বিড়াল পানিতে মুখ দিয়ে দেয়। তাই জানার বিষয় হচ্ছে, বিড়ালের মুখ দেওয়া সেই পানি কি আমরা অযু-গোসলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারব?

উত্তর

ভালো পানি থাকলে বিড়ালের ঝুটা পানি ব্যবহার করা মাকরূহ। তবে বিড়ালের ঝুটা-পানি ছাড়া অন্য ভালো পানি না থাকলে পবিত্রতার জন্য ঐ পানি ব্যবহার করা যাবে। কারণ বিড়ালের ঝুটা নাপাক নয়। হাদীস শরীফে আছে হযরত আবু কাতাদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِنّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ، إِنّمَا هِيَ مِنَ الطّوّافِينَ عَلَيْكُمْ، أَوِ الطّوّافَاتِ.

নিশ্চয় বিড়াল (বিড়ালের ঝুটা) নাপাক নয়। কারণ এটি এমন প্রাণী, যা তোমাদের আশপাশে অধিক পরিমাণে বিচরণ করে থাকে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৯২

উল্লেখ্য, পানির পাত্রসমূহ ভালোভাবে ঢেকে রাখা উচিত। যেন বিড়াল পাত্রে মুখ দিতে না পারে।

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ১/২৮৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৪৫; ফাতহুল কাদীর ১/৯৭; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৬৮; আলবাহরুর রায়েক ১/১৩১

শেয়ার লিংক

খালেদ - যশোর

৫০১৬. প্রশ্ন

শুক্রবার জুমুআর পূর্বে কাপড় ধোয়ার জন্য ওয়াশরুমে গিয়েছি। কাপড় ধোয়ার পরপরই পানি শেষ হয়ে যায়। কাপড়গুলো পবিত্র ছিল, শুধু ময়লা হয়েছিল। আর আমার উপর গোসলও ফরয ছিল না। জুমুআর উদ্দেশ্যে গোসল করব। এদিকে নামাযের সময় হয়ে গিয়েছে। তাই কাপড় ধোয়া সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করে নামায পড়ে নিয়েছি। জানার বিষয় হল, সেই পানি দিয়ে গোসল করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কাপড় যেহেতু পবিত্র ছিল তাই এক্ষেত্রে কাপড় ধোয়া ওই পানি পবিত্র এবং তা الماء المستعمل তথা ব্যবহৃত পানির হুকুমে নয়। সেই পানি দিয়ে গোসল করা সহীহ হয়েছে। এবং উক্ত নামাযও সহীহ হয়েছে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১/৪৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৩৪০; শরহুল মুনয়া পৃ. ৯০; হালবাতুল মুজাল্লী ১/২৭৭

শেয়ার লিংক

মাহবুব - কিশোরগঞ্জ

৫০১৫. প্রশ্ন

জনৈক মহিলার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে ৪০দিন স্রাব চালু ছিল। এরপর ১২ দিন পবিত্র থাকার পর আবার স্রাব চালু হয়েছে। এখন তার পবিত্রতার হুকুম কী?

উত্তর

নেফাস ও পরবর্তী হায়েযের মাঝে ন্যূনতম ১৫ দিন পবিত্রতা থাকা শর্ত। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলার নেফাস শেষ হয়ে যাওয়ার ১২দিন পর যে স্রাব চালু হয়েছে তা হয়েয নয়, বরং ইস্তেহাযা। মহিলাটি এক্ষেত্রে আরো তিন দিনসহ মোট ১৫ দিন পবিত্রতা গণ্য করবে। আর ইস্তেহাযার হুকুম হল, নামায-রোযার বিরতি হয় না। তবে প্রতি ওয়াক্তের শুরুতে নতুন অযু করে নিতে হয়। আর যদি ১৫ দিন পরও স্রাব চলতে থাকে তাহলে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছে অবস্থা জানিয়ে মাসআলা জেনে নেবে। কেননা ১৫ দিনের পর স্রাব আসলে তা হায়েয হতে পারে।

-হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৭৬; মাজমাউল বাহরাইন পৃ. ৯৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৮৫

শেয়ার লিংক

রাহাত - সিলেট

৫০১৪. প্রশ্ন

একদিন আমি বাগানে মাটির কাজ করি। কাজ শেষে অযু-ইস্তেঞ্জা করে যোহরের নামায আদায় করি। মাটির কাজ করার কারণে নখের ভেতরে মাটি ঢুকেছিল। অযু করার সময় সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে পারিনি। কিছু মাটি নখের ভেতর থেকে গিয়েছিল। জানার বিষয় হল, আমার অযু কি হয়েছে? এবং তা দ্বারা আদায়কৃত নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপানার অযু হয়ে গেছে এবং উক্ত অযু দ্বারা আদায়কৃত নামাযও সহীহ হয়েছে। কারণ নখের ভেতরে লেগে থাকা মাটি বা ময়লা পানি পৌঁছার জন্য প্রতিবন্ধক নয়। তাই এতে অযু-গোসলের ক্ষতি হয় না। তবে নখ বেশি বড় না রাখা উচিত। কারণ এটা সুন্নত পরিপন্থী। আর বড় হওয়ার কারণে তাতে ময়লা আটকে কখনো কখনো ভেতেরে পানি পৌঁছার ক্ষেত্রেও বাধা হওয়ার আশংকা থাকে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২; আলবাহরুর রায়েক ১/৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৫৪

শেয়ার লিংক

সাদেক হোসেন - চাঁদপুর

৫০১৩. প্রশ্ন

আমাদের স্কুলমাঠে একবার জানাযার নামায হয়। আমি অযু করে জানাযার নামাযে শরীক হই। কাতারে দাঁড়ানোর পর পাশের এক ভাই বললেন, জুতা খুলে সামনে রেখে দিন। জুতা পরে নামায হয় না। আরেক ভাই বললেন, জুতার উপরে দাঁড়ালেও নামায হবে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার কি জুতা পরে নামায পড়াটা ঠিক হয়েছে, নাকি খালি পায়ে নামায পড়া আবশ্যক ছিল?

উত্তর

জানাযার নামাযের জায়গা যদি পাক হয় এবং জুতার উপর-নিচও পাক থাকে তাহলে জুতা পরেও জানাযার নামায পড়া যাবে। এক্ষেত্রে জুতা খোলা জরুরি নয়। অবশ্য জুতা খুলে খালি পায়ে নামায পড়লে তাতেও কোনো ক্ষতি নেই। আর যদি জায়গা অপবিত্র হয় বা জুতার নিচে নাপাকি থাকার আশংকা হয় তাহলে উক্ত জুতা পরে জানাযার নামায পড়া যাবে না। বরং এক্ষেত্রে জুতা খুলে জুতার উপর দাঁড়িয়ে নামায পড়া যাবে, যদি উপরাংশে নাপাকি না থাকে।

-উমদাতুল কারী ৪/১১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২০; আলহাবিল কুদসী ১/১৫৭; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ১/৩৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৯; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/৩৯৬

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ - ঝিলপাড়, মিরপুর

৫০১২. প্রশ্ন

সেদিন মসজিদের ইমাম সাহেব থেকে একটি হাদীস শুনেছিলাম, যার অর্থ মোটামুটি এরকম- সন্তান বাবা-মাকে বখীল বানায়। আমি হাদীসটির পূর্ণ পাঠ, হাদীসের কোন্ কিতাবে হাদীসটি আছে, হাদীসটির মান এবং ব্যাখ্যা জানতে চাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

উত্তর

আপনি যে হাদীসটি জানতে চেয়েছেন তা বিভিন্ন হাদীসের কিতাবে যথা- মুসতাদরাকে হাকেম, মুসনাদে আহমাদ, সুনানে ইবনে মাজাহ, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী ইত্যাদিতে বর্ণিত হয়েছে। মুসতাদরাকে হাকেম গ্রন্থে হাদীসটির পাঠ নি¤œরূপ-

عَنْ يَعْلَى بْنِ مُنَبِّهٍ الثّقَفِيِّ، قَالَ جَاءَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ يَسْتَبِقَانِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فَضَمّهُمَا إِلَيْهِ ثُمّ قَالَ إِنّ الْوَلَدَ مَبْخَلَةٌ مَجْبَنَةٌ مَحْزَنَةٌ.

হযরত ইয়ালা ইবনে মুনাব্বিহ রা. বলেন, হাসান-হুসাইন রা. দৌড়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল। তখন তিনি তাদেরকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। এরপর বললেন, নিসন্দেহে সন্তানের কারণে মানুষ কৃপণতা, ভীরুতা ও দুশ্চিন্তার শিকার হয়। -মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৪৮২৫

ইমাম হাকেম রাহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম যাহাবী, ইরাকী, বুসীরী প্রমুখ হাদীসবিশারদগণ হাদীসটির সনদকে সহীহ বলেছেন। (মিসবাহুয যুজাজাহ, হাদীস ১২৮২; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ১৬৬১৭; মুখতাসারুস সুনানিল কুবরা, যাহাবী বর্ণনা ১৬০৯৯; ফয়যুল কাদীর ২/৪০৩)

হাদীসটির ব্যাখ্যায় বিশিষ্ট হাদীস ব্যাখ্যাকার মুনাভী রাহ. বলেন, مَبْخَلَةٌ কৃপণতার কারণ, অর্থাৎ সন্তান বাবা-মাকে কৃপণ বানায়। ফলে সন্তানের কারণে (কল্যাণ-খাতসমূহে) ব্যয় করতে কৃপণতা করে এবং তার মায়ায় জিহাদ ছেড়ে দেয়।

মাওয়ারদী রাহ. বলেন, এ হাদীস সন্তানের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে যে, সন্তান এসকল আচরণের জন্ম দেয়...। مَحْزَنَةٌ অর্থাৎ সন্তানের কারণে বাবা-মার অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়। যেমন অসুস্থ হলে কিংবা সন্তানের চাহিদা পূর্ণ করার সামর্থ্য না থাকলে ইত্যাদি কারণে। আর যদি সন্তান বড় হয়ে অবাধ্য হয়ে যায় তাহলে তো সেটি স্থায়ী কষ্ট ও পেরেশানীর কারণ হয়ে যায়।

অর্থাৎ এ হাদীসের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে যে, মানুষ যেন সন্তানের মহব্বত ও ভালোবাসায় আল্লাহ্র বিধানকে লঙ্ঘন না করে। আল্লাহ্র বিধান পালনে সন্তানের মহব্বত যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تُلْهِكُمْ اَمْوَالُكُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ  وَ مَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ .

হে মুমিনগণ! তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে গাফেল না করে। যারা এরকম করবে (অর্থাৎ গাফেল হবে) তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। [সূরা মুনাফিকূন (৬৩) : ৯]

আরো ইরশাদ হয়েছে-

اِنَّمَا اَمْوَالُكُمْ وَ اَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ.

তোমাদের ধণ-সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। [সূরা তাগাবুন (৬৪) : ১৫]

অর্থাৎ তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হয় যে, তোমরা অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ভালবাসায় আল্লাহ্র হুকুমের বিষয়ে গাফেল হয়ে যাও কি না। -মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/৫০৫; মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার ১/১৫৬

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - উত্তরা, ঢাকা

৫০১১. প্রশ্ন

আমাদের ৫ সন্তান। তন্মধ্যে দুইজন ছোট। তাদের নার্সিং করতে গিয়ে আমার স্ত্রী প্রায়ই কুরআনের তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, নফল নামায ইত্যাদি ইবাদত করতে পারে না। এই বিষয়ে তার খুব মন খারাপ থাকে। আমি তাকে বলেছি, তুমি সন্তানাদি নার্সিং করার কারণে নফল ইবাদতের সওয়াব পাবে। এ ব্যাপারে আমার স্ত্রীর সান্ত¦নার জন্য কুরআন-হাদীসের আলোকে কিছু বললে উপকৃত হব।

উত্তর

শিশু সন্তানের পরিচর্যা ও প্রতিপালন, তাদের সঠিক তালীম-তরবিয়ত করা পিতামাতার দায়িত্ব। বিশেষত আয়-উপার্জন এবং সাংসারিক তাকিদে পিতার অধিকাংশ সময় বাহিরে অবস্থানের কারণে মায়ের ভূমিকা এক্ষেত্রে বেশি। এ দায়িত্ব শরীয়ত কর্তৃক তার প্রতি অর্পিত। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

كُلّكُمْ رَاعٍ وَكُلّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيّتِهِ، وَالأَمِيرُ رَاعٍ، وَالرّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ، وَالمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهِ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيّتِهِ.

তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল। প্রত্যেকে নিজ অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।... পুরুষ তার পরিবারের উপর দায়িত্বশীল। স্ত্রী স্বামীর ঘর ও সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল। তোমরা সকলে দায়িত্বশীল। সকলে নিজ অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫২০০)

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন-

ورعاية الرجل أهله سياسته لأمرهم وإيصالهم حقوقهم ورعاية المرأة تدبير أمر البيت والأولاد والخدم والنصيحة للزوج في كل ذلك.

পুরুষের দায়িত্ব হল পরিবারকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা এবং তাদের হক আদায় করা। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হল, ঘরের কাজকর্ম আঞ্জাম দেয়া, সন্তান পরিচর্যা করা, সেবক-সেবিকাদের পরিচালনা করা এবং সকল বিষয়ে স্বামীর মঙ্গল কামনা করা। (ফাতহুল বারী ১৩/১১৩)

শরীয়ত কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালনের দ্বারা সন্তানের মা অবশ্যই বড় সওয়াবের অধিকারী হবেন। এসব কাজে মা যতক্ষণ ব্যস্ত থাকেন পুরো সময়ই নেকী ও সওয়াবের মধ্যে কাটে। হাদীস শরীফে উত্তম নারীর বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ، أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ، وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ.

আরবের নারীদের মধ্যে উত্তম নারী হল কুরাইশের নারী। তারা সন্তানের প্রতি অধিক ¯েœহপরায়ণ এবং স্বামীর সম্পদ হেফাযতের প্রতি অধিক যতœশীল। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০৮২)

সহীহ মুসলিমে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন-

جَاءَتْنِي مِسْكِينَةٌ تَحْمِلُ ابْنَتَيْنِ لَهَا، فَأَطْعَمْتُهَا ثَلَاثَ تَمَرَاتٍ، فَأَعْطَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا تَمْرَةً، وَرَفَعَتْ إِلَى فِيهَا تَمْرَةً لِتَأْكُلَهَا، فَاسْتَطْعَمَتْهَا ابْنَتَاهَا، فَشَقّتِ التّمْرَةَ، الّتِي كَانَتْ تُرِيدُ أَنْ تَأْكُلَهَا بَيْنَهُمَا، فَأَعْجَبَنِي شَأْنُهَا، فَذَكَرْتُ الّذِي صَنَعَتْ لِرَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، فَقَالَ: إِنّ اللهَ قَدْ أَوْجَبَ لَهَا بِهَا الْجَنّةَ، أَوْ أَعْتَقَهَا بِهَا مِنَ النّارِ.

এক দরিদ্র মহিলা তার দুটি সন্তান নিয়ে আমার নিকট আসল। আমি তাকে তিনটি খেজুর দিলাম সে তাদের দুজনের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিল আর একটি খেজুর সে নিজে খাওয়ার জন্য মুখের কাছে নিল তখন তার দুই মেয়ে তার কাছে আরো চাইল। সে তার খেজুরটি দুইজনের মাঝে ভাগ করে দিল। তার এ বিষয়টি আমাকে অনেক মুগ্ধ করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ঘটনাটি বললে তিনি বললেন আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। অথবা তিনি বলেছেন এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৩০)

আবু উমামাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা তার দুটি সন্তানসহ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসে। সে একটি সন্তানকে কোলে এবং অপরটিকে হাতে ধরে নিয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

حَامِلَاتٌ، وَالِدَاتٌ، رَحِيمَاتٌ، لَوْلَا مَا يَأْتِينَ إِلَى أَزْوَاجِهِنّ، دَخَلَ مُصَلِّيَاتُهُنّ الْجَنّةَ.

গর্ভধারিনী, সন্তান জন্মদানকারিণী এবং সন্তানের প্রতি মমতাময়ী তারা যদি স্বামীদের কষ্ট না দেয় তবে তাদের মধ্যে যারা নামাযী তারা জান্নাতে যাবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২০১৩)

অনুরূপ বর্ণনা জামে মা‘মার ইবনে রাশিদে নির্ভরযোগ্য মুরসালসূত্রে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস নং ২০৬০২

সুতরাং আপনার স্ত্রীর সন্তান পরিচর্যা ও প্রতিপালন এবং তাদের সেবা করার গুণটি উত্তম গুণ। এর পেছনে তিনি যে সময় ও শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এতে তিনি বড় সওয়াবের অধিকারী হচ্ছেন। এর পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামায, যিকর-আযকারের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং তা না করতে পারার আক্ষেপ খুবই প্রশংসনীয়। এক্ষেত্রে তার করণীয় হবে, দৈনন্দিনের ফরয ওয়াজিব এবং সুন্নাতে মুআক্কাদা নামাযসমুহ আদায় এবং সাংসারিক ব্যস্ততা থেকে ফারেগ হয়ে যদি উক্ত নফল ইবাদত-বন্দেগী কিছু করা সম্ভব হয় তাহলে করবে আর সময় সুযোগ না থাকলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বরং সন্তান লালন পালনের জন্য তিনি সওয়াব পেতে থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রকাশ থাকে যে, সন্তানের পরিচর্যা প্রতিপালন এবং ঘর সংসারের কাজ সাধারণত মহিলাদের কাজ হলেও পুরুষ যখন ঘরে অবস্থান করবে সময় সুযোগমত তাদের কাজে সহযোগিতা করা উচিত। বিশেষত নিজের ব্যক্তিগত কাজ তো নিজেরই করা উচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে অবস্থানকালে গৃহস্থালীর বিভিন্ন কাজকর্ম নিজে করতেন। যেমন একটি হাদীসে এসেছে, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে কী কাজ করতেন? তিনি বললেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَخْصِفُ نَعْلَهُ، وَيَخِيطُ ثَوْبَهُ، وَيَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ كَمَا يَعْمَلُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ.

তিনি নিজ কাপড় সেলাই করতেন, জুতা সেলাই করতেন, ঘরের কাজকর্ম করতেন যেমন তোমরা ঘরের কাজকর্ম করে থাক। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৫৩৪১)

শেয়ার লিংক

উম্মে মারজান - বোয়ালমারী, ফরিদপুর

৫০১০. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি তার বড় পুত্রবধুর খেদমতে সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য নির্দিষ্ট একটা জমির অসিয়ত করেন। তখন সেখানে ঐ ব্যক্তির স্ত্রী ও এক ছেলে উপস্থিত ছিল। বিষয়টি অন্য দুই পুত্রবধু জানতে পারলে তাদের মাঝে কানাঘুষা হয়। একপর্যায়ে তা পারিবারিক ঝগড়ায় রূপ নেয়। এ পরিস্থিতি দেখে বড় পুত্রবধু সবার সামনে তার শ^শুরকে বলে আমার কোনো জমি লাগবে না। আমি আপনার জমি নিব না। তখন ঐ ব্যক্তি বলেছিল, আমি অসিয়ত করেছি, তুমি পাবে। ঐ ঘটনার পর আর এ বিষয়ে কোনো কথা  হয়নি।

বর্তমানে সে ব্যক্তি বেঁচে নেই। বড় পুত্রবধু যেহেতু শ^শুরের জীবদ্দশায় তার পক্ষে কৃত অসিয়ত প্রত্যাখ্যান করেছে তাই মৃতের ওয়ারিসরা তাকে ঐ জমি দিতে চাচ্ছে না। কিন্তু সে এখন জমিটি নিতে খুবই আগ্রহী।

জানার বিষয় হল, উপরোক্ত পরিস্থিতিতে ঐ ব্যক্তির কৃত অসিয়ত বহাল আছে কি না? এবং উক্ত পুত্রবধু কি অসিয়তসূত্রে ঐ জমি দাবি করতে পারবে?

উত্তর

অসীয়ত কার্যকর হয় অসীয়তকারী মারা যাওয়ার পর। তাই তার মৃত্যুর পরই কেবল যার জন্য অসীয়ত করা হয়েছে সে তা কবুল বা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখে। এর আগে কবুল বা প্রত্যাখ্যান করলেও তা ধর্তব্য হয় না।

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু বড় পুত্রবধু তার শ^শুরের মারা যাওয়ার পর জমিটি নিতে আগ্রহী তাই উক্ত জমিটি তারই প্রাপ্য। (মৃতের কাফন-দাফন খরচ ও ঋণ পরিশোধের পর মোট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত) এক্ষেত্রে ওয়ারিসরা তা বাধা দেওয়ার অধিকার রাখে না। ওয়ারিসদের কর্তব্য, মৃত ব্যক্তির অসীয়ত অনুযায়ী জমিটি এ মহিলাকে বুঝিয়ে দেওয়া।

-কিতাবুল আছল ৫/৫১৭; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ১৪৭; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ৫/৩৬৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২২/২৪৫, ২৫২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৩৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৫৭

শেয়ার লিংক

আফজাল হোসেন - সাভার, ঢাকা

৫০০৯. প্রশ্ন

আমার পিতা তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন এবং আমাদেরকে মৃত্যুর সময় ওসিয়ত করেছিলেন যে, আমরা যেন এক বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে তার থেকে ঋণ উসুল না করি। এক বছর পর ধীরে ধীরে উসুল করি। আমাদের জানা ছিল যে, ঋণ পরিশোধের সময় নির্ধারণ করার পরও নির্ধারিত সময়ের আগে টাকা উসুলের দাবি করা যায়। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমরা যে কোনো সময় ঋণ উসুলের দাবি করতে পারব, নাকি পিতার ওসিয়ত অনুযায়ী এক বছর পরই ধীরে ধীরে উসুল করতে হবে? মাসআলাটির সমাধান জানালে খুবই উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ঋণ যদি আপনার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ বা তার থেকে কম হয় তাহলে আপনার পিতার ওসিয়ত পূর্ণ করতঃ এক বছর পরই ধীরে ধীরে ঋণ উসুল করতে হবে। বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ঋণ উসুলের দাবি করতে পারবেন না। কেননা শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি ওসিয়তের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তা পালন করা ওয়ারিশদের উপর ওয়াজিব হবে।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/৪৪৫; ফাতহুল কাদীর ৬/১৪৬; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২; মাজমাউল আনহুর ৩/১১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৫৯; দুরারুল হুক্কাম ২/১৮৫

শেয়ার লিংক

মাহমুদুল হাসান - সিলেট সদর

৫০০৮. প্রশ্ন

যারা মসজিদ-মাদরাসার খেদমতে নিয়োজিত আছেন, তারা যদি বেতনের পাশে বছরের দুই ঈদে বোনাস গ্রহণ করেন তাহলে সেটা কি বৈধ হবে?

উত্তর

মসজিদ-মাদরাসা বা দ্বীনী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত মাসিক বেতনের পাশাপাশি ঈদ বোনাস দেওয়া এবং তাদের জন্য তা গ্রহণ করা জায়েয। উক্ত সম্মানি এবং বোনাস দুটোই হালাল।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২১২২৮, ২১২৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩৪৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/১২৭; এলাউস সুনান ১৬/১৭৬

শেয়ার লিংক

ফজলুল্লাহ - সিলেট

৫০০৭. প্রশ্ন

আজকাল বড় বড় হোটেলে বয়দেরকে বখশিশের নামে টাকা দেওয়ার প্রচলন আছে। এটা না দিলে কেমন যেন খারাপ লাগে। অবশ্য না দিলেও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এখন জানার বিষয় হল, উক্ত টাকা ঘুষের অন্তভুর্ক্ত হবে কি না?

উত্তর

হোটেল বয়দেরকে স্বেচ্ছায় যে বখশিশ দেওয়া হয় তা জায়েয। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বখশিশ দিয়ে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এমনটি হলে তা উৎকোচের শামিল হবে। বয়ের জন্যও উক্ত বখশিশ গ্রহণ করা জায়েয হবে না এবং গ্রাহকের জন্যও এর বিনিময়ে অবৈধ সুবিধা নেয়া হালাল হবে না।

-ফাতহুল কাদীর ৬/৩৫৮; আলবাহরুর রায়েক ৬/২৬২; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৫/১৪০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১১/৭৯; রদ্দুল মুহতার ৫/৩৬২

শেয়ার লিংক

আবদুল হাসীব - ফরিদপুর

৫০০৬. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কৃষকরা সেলোমেশিনের মালিকদের সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, তারা পুরো সিজনে মেশিন দিয়ে কৃষকদের জমিতে পানি দেবে। এর বিনিময়ে কৃষকরা তাদেরকে বিঘা প্রতি পাঁচ হাজার টাকা দেবে। আবার কখনো কখনো কৃষকরা ঘণ্টা হিসাবে তাদের থেকে পানি ক্রয় করে। যেমন এক ঘণ্টা পানি নিলে ৫০ টাকা। দুই ঘণ্টা নিলে ১০০ টাকা।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, শরীয়তের আলোকে এ ধরনের লেনদেন বৈধ কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

 

উত্তর

হাঁ, সেলোমেশিনের মালিকের সাথে প্রশ্নে বর্ণিত পন্থায় নির্দিষ্ট সময় হিসাবে ভাড়া নির্ধারণ করে চুক্তি করা জায়েয। তদ্রƒপ বিঘা প্রতি পানি দেয়ার চুক্তিটিও বৈধ। কারণ কৃষক ও মেশিন মালিকগণ সাধারণত এক বিঘা জমিতে কতটুকু পানি লাগবে- সে বিষয়ে মোটামুটি অবগত থাকে। আর এসব ক্ষেত্রে সাধারণত ঝগড়া-বিবাদ হতেও দেখা যায় না। তবে বিঘা প্রতি পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কী পরিমাণ পানি দেবে তা আরো সুস্পষ্টভাবে বলে নেওয়া ভালো।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪, ২৯; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/২১৭; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬

শেয়ার লিংক

আবীদ হাসান - মণিরামপুর, যশোর

৫০০৫. প্রশ্ন

কুরবানীতে আমরা অনেক সময় গরু জবাই করার আগে অথবা গরু জবাই করার পর চামড়া ছাড়ানোর পূর্বেই চামড়া বিক্রি করে দিই। জানার বিষয় হল, এভাবে চামড়া বিক্রি করা শুদ্ধ কি না? জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

উত্তর

পশুর চামড়া ছিলার আগে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয নয়। তাই চামড়া ছিলার পরেই ক্রয়-বিক্রয় করবে। তবে চামড়া ছিলার আগে ক্রেতাদের সাথে বিক্রি সংক্রান্ত আলোচনা বা ওয়াদা করা যেতে পারে। তাতে সম্ভাব্য দাম নিয়েও কথা হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হবে পশু জবাইয়ের পরে তার শরীর থেকে চামড়া পৃথক করার পর।

-সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৫/৩৪০; কিতাবুল আছল ২/৪৩৮; ফাতহুল কাদীর ৬/৫১; তাবয়ীনু হাকায়েক ৪/৩৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১২৮

শেয়ার লিংক

রুমা আক্তার - শিবচর, মাদারীপুর

৫০০৪. প্রশ্ন

আমার বাবা-মা দুজনেই ইন্তিকাল করেছেন। একজন মেয়ে হিসাবে আমি নানীর অধীনে থাকি। আমার খাবার-দাবারসহ আনুষঙ্গিক সকল খরচ তিনিই বহন করেন। আমার জানামতে তার উপার্জনের একটা অংশ হারাম। তবে তা অর্ধেকের কম।

আমি ব্যক্তিগতভাবে হালাল-হারাম মেনে চলার চেষ্টা করি। তাই হারাম উপার্জন পরিহার করার ব্যাপারে নানীকে অনেক বুঝিয়েছি। প্রতিউত্তরে তার বক্তব্য হল, গুনাহ হলে আমার হবে, তুমি এ ব্যাপারে দায়মুক্ত।

এ অবস্থায় কি আমার জন্য তার পরিবারে খাওয়া ও তার থেকে ভরণ-পোষণ গ্রহণ করা জায়েয হবে?

উল্লেখ্য, বর্তমানে আমার বয়স ১৮ বছর। নিজ খরচ চালানোর মত এ ছাড়া আমার অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী যেহেতু আপনার নানীর অধিকাংশ উপার্জন হালাল আর আপনার নিজ খরচ চালানোর মত অন্য কোনো ব্যবস্থাও নেই তাই আপনি আপনার নানীর পরিবারে খাওয়া-দাওয়া এবং তার থেকে ভরণ-পোষণ গ্রহণ করতে পারেন।

-উয়ূনুল মাসাইল পৃ. ২২০; আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশাইখ পৃ. ৪৮২; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ২/৩৩৬; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪০০; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৭৩; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/৩৬০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/১৯১, ৩৮৬

শেয়ার লিংক

আব্দুর রহমান - হবিগঞ্জ

৫০০৩. প্রশ্ন

আমি কিছুদিন আগে একটি ঘড়ি ক্রয় করি। কেনার পর ত্রুটি ধরা পড়লে আমি ঘড়িটি ফেরত দিতে যাই। তখন বিক্রেতা বলেন- আমি আপনাকে কিছু টাকা ফেরত দিচ্ছি, আপনি ঘড়িটি রেখে দিন। আমি কিছু টাকা ফেরত নিয়ে ঘড়িটি রেখে দিই। পরে ইমাম সাহেবকে বিষয়টি বললে তিনি বলেন- ত্রুটির কারণে কিছু টাকা ফেরত নিয়ে ঘড়িটি রেখে দেওয়া বৈধ হয়নি। আপনি ঘড়ি রাখতে চাইলে বিক্রেতা থেকে কোনো টাকা ফেরত নিতে পারবেন না। অন্যথায় ঘড়িটিই ফেরত দিতে হবে। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, কিছু টাকা ফেরত নিয়ে ঘড়ি রেখে দেওয়া বৈধ হয়েছে কি না? আর ইমাম সাহেবের কথা ঠিক কি না? মাসআলাটির সমাধান জানালে খুবই উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিক্রেতা যেহেতু নিজে থেকেই স্বেচ্ছায় আপনার সাথে এভাবে সমঝোতা করেছেন এবং কিছু টাকা ফেরত দিয়ে ঘড়িটি রেখে দিতে অনুরোধ করেছেন তাই আপনার জন্য সে প্রস্তাব গ্রহণ করা বৈধ হয়েছে। এটি মূলত মূল্য ছাড় দেয়ার মত বিষয়। আর ইমাম সাহেব যে মাসআলা বলেছেন তা প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না; বরং মাসআলাটি ঐক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে, যেখানে ত্রুটি ধরা পড়ার পর বিক্রেতা সমঝোতা করতে সম্মত হবে না। তখন ক্রেতা পণ্যটি রাখতে চাইলে পুরো দাম দিয়েই রাখতে হবে। পণ্যও রাখবে আবার কিছু টাকাও ফেরত নেবে, বিক্রেতার সন্তুষ্টি ছাড়া এমনটি করা যাবে না।

-কিতাবুল আছল ১১/১৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/১৬৭; ফাতহুল কাদীর ৬/৪; আলবাহরুর রায়েক ৬/৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৪৬

শেয়ার লিংক

আবু হুরায়রা - উলিপুর, কুড়িগ্রাম

৫০০২. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আমি এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার ফার্নিচার ক্রয় করি। তার মধ্যে এক লক্ষ টাকা নগদে পরিশোধ করি। বাকিটা কয়েকদিন পরে দেওয়ার কথা হয়। ফার্নিচারের দোকানদার বিক্রির সময় আমাকে বলেছিল, এগুলোর কেনা দাম এক লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে মেরামত বাবদ অতিরিক্ত খরচসহ এর বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ বিশ। কিন্তু ফার্নিচারগুলো দেখার পর অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন আমাকে বললেন, দোকানদার আপনাকে ঠকিয়েছে। এর কেনা দাম মোটেও সত্তর হাজারের বেশি হবে না। এ বিষয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করা হলে প্রথমে সে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে যে, তার কেনা দাম অন্তত এক লাখ না। তার চেয়ে কম। আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, তার এই প্রতারণার কারণে আমি কি তাকে বাদবাকি বিশ হাজার টাকা কম দিতে পারি? এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ব্যবসায়ী কর্তৃক মিথ্যা বলা, তার খরিদমূল্য বেশি শোনানো এবং অতিরিক্ত মুনাফা করেও সামান্য লাভ করার ভান করা অন্যায় হয়েছে এবং মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েয হয়েছে। হাদীসে এসব বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে।

হযরত হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

فَإِنْ صَدَقَا وَبَيّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا، وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا.

ক্রেতা-বিক্রেতা যদি সত্য বলে এবং সবকিছু স্পষ্ট করে দেয় তাহলে তাদের ব্যবসায় বরকত হয়। আর যদি কোনো কিছু গোপন করে এবং মিথ্যা বলে, তাহলে ব্যবসার বরকত শেষ হয়ে যায়। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২০৮২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৩২)

অন্য এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِنّ التّجّارَ يُبْعَثُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ فُجّارًا، إِلّا مَنْ اتّقَى اللهَ، وَبَرّ، وَصَدَقَ.

কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীদের ওঠানো হবে পাপাচারী হিসাবে। তবে যারা আল্লাহকে ভয় করে সৎ ও সত্যবাদী থেকেছে (তারা বেঁচে যাবে)। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১২১০)

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার কর্তব্য ছিল পণ্যের মূল্য যাচাই করে খরিদ করা। বিক্রেতার বলা দাম ন্যায্যমূল্য কি না- তা আপনি ফার্নিচার ক্রয়ের আগেই নিশ্চিত হয়ে নিতে পারতেন। এখন যেহেতু বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং সেটা মুরাবাহার শর্তে হয়নি। অর্থাৎ কেনা দামের উপর কত লাভ নেওয়া হবে তা লেনদেনের সময় সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি করা হয়নি; বরং সাধারণ বেচাকেনার পদ্ধতিতে হয়েছে তাই যে দামে বিক্রির কথা হয়েছে তা দিয়েই আপনাকে ফার্নিচারগুলো নিতে হবে। কমমূল্য নেয়ার জন্য বিক্রেতাকে বাধ্য করা যাবে না। তবে বিক্রেতার উচিত নিজে থেকে মূল্য কমিয়ে নেয়া। কারণ সে অসত্য বলে আপনাকে ঠকিয়েছে।

শেয়ার লিংক

সাঈদ আহমাদ - কচুয়া, চাঁদপুর

৫০০১. প্রশ্ন

মুহতারাম, প্রায় সত্তর বছর আগে আমাদের এলাকায় মাদরাসার জন্য একটি জমি ওয়াকফ করা হয় এবং সেখানে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদরাসার ছাত্ররা কাছের একটি পুরনো মসজিদে নামায আদায় করত। আনুমানিক চল্লিশ বছর আগে মসজিদ ও মাদরাসার মাঝে একটি হাইওয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তা পার হয়ে মসজিদে যাওয়া ছাত্রদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের নামায আদায়ের সুবিধার্থে মাদরাসার ওয়াক্ফকৃত জমির উত্তর কোণে একটি মসজিদ নির্মাণ করে। চল্লিশ বছর যাবৎ উক্ত মসজিদে নামায পড়া হচ্ছে। কিন্তু মাদরাসার নতুন কর্তৃপক্ষ পুরো এরিয়ার সুযোগ-সুবিধার প্রতি লক্ষ করে মসজিদটি উক্ত জমির অন্য এক পাশে স্থানান্তর করে নিচ তলায় দোকানপাট ও দোতলা থেকে মসজিদ নির্মাণ করতে চচ্ছে।

জানার বিষয় হল, এভাবে মসজিদ স্থানান্তর করা বৈধ হবে কি না? বৈধ হলে আগের মসজিদের জায়গা কী করা হবে? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মাদরাসার জায়গায় উক্ত মসজিদটি যেহেতু মাদরাসার প্রয়োজনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্মিত হয়ে তাতে নামায আদায় করা হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন যাবৎ তা মসজিদ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে তাই এটি ‘শরয়ী মসজিদ’ হয়ে গেছে। অতএব এখন আর মসজিদটি স্থানান্তর করা জায়েয হবে না। কেননা কোনো স্থানে ‘শরয়ী মসজিদ’ হয়ে গেলে ওই জায়গাটি স্থায়ীভাবে মসজিদের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৭; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/৪২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/১৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৮

শেয়ার লিংক