ফাতেমা বুশরা - ভৈরব

৫৫৯৬. প্রশ্ন

এক মাস আগে আমার স্বামী আমাকে এক তালাকে রজয়ী প্রদান করেন। তারপর আমার ইদ্দত চলা অবস্থায় তিন সপ্তাহের মাথায় আমার স্বামী ইন্তেকাল করেন। জানার বিষয় হল, আমি মাসিক হিসেবে তালাকের যে ইদ্দত পালন করছিলাম সেই হিসেবেই ইদ্দত পুরা করব, নাকি মৃত্যুর ইদ্দত (চার মাস দশ দিন) পালন করব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার স্বামীর ইন্তেকালের কারণে আপনার তালাকের ইদ্দত বাতিল হয়ে গেছে। তাই আপনাকে স্বামীর মৃত্যুর পুরো ইদ্দত পালন করতে হবে। অর্থাৎ স্বামীর মৃত্যুর দিন থেকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত অবস্থায় থাকতে হবে।

-কিতাবুল আছল ৪/৪১২; আলমাবসূত, সারাখসী ৬/৩৯; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩১৭; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/২৫৮; ফাতহুল কাদীর ৪/১৪২; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৩৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৫১৩

শেয়ার লিংক

আশরাফুল ইসলাম - বাড্ডা, ঢাকা

৫৫৯৫. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার এক আত্মীয় হঠাৎ রাতে ইন্তেকাল করেন। রাতেই তার গোসলের কাজ সম্পন্ন হয়। ফজরের নামাযের পর সূর্য ওঠার আগে তার জানাযার নামায পড়ে আমরা লাশ নিয়ে গ্রামের দিকে রওয়ানা হই। এক ব্যক্তি তখন আমাকে বলেন, এই সময় জানাযার নামায পড়া উচিত হয়নি। কেননা ফজরের নামাযের পর সূর্য উঠার আগে যে কোনো নামায পড়া মাকরূহ।

জানতে চাই, এই ব্যক্তির কথা কি সঠিক? ফজরের নামাযের পর জানাযার নামায পড়ার কারণে আমাদের নামায কি মাকরূহ হয়েছে?

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। ফজরের নামাযের পর সূর্য ওঠার আগে কোনো নফল পড়া যায় না, কিন্তু জানাযার নামায পড়া যায়; তা পড়া মাকরূহ নয়। হযরত নাফে রাহ. বলেন-

أَنّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يُصَلِّي عَلَى الْجِنَازَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ، وَبَعْدَ الصّبْحِ إِذَا صُلِّيَتَا لِوَقْتِهِمَا.

আছর ও ফজরের নামাযের পর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. জানাযার নামাযে অংশগ্রহণ করতেন। যদি জানাযা এই দুই নামাযের ওয়াক্তের মধ্যে পড়া হত। (মুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, হাদীস ৩১৩)

মামার রাহ. হাসান বসরী ও কাতাদা রাহ. থেকে বর্ণনা করেন-

عَنِ الْحَسَنِ، وَقَتَادَةَ كَانَا يُصَلِّيَانِ عَلَى الْجَنَائِزِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَالصّبْحِ مَا كَانَا فِي وَقْتٍ.

ফজর ও আছরের নামাযের পর এই দুই নামাযের ওয়াক্ত বাকি থাকলে জানাযার নামায পড়তেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬৫৬২)

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ফজরের নামাযের পর সূর্য ওঠার আগে জানাযার নামায পড়ার কারণে আপনাদের নামায মাকরূহ হয়নি। ফজরের সময় থেকে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত নফল পড়া যায় না বলে জানাযাও পড়া যাবে না- এমন ধারণা করা ঠিক হয়নি। মাসআলা বিজ্ঞ আলেম থেকে জেনে নিয়ে আমল করা উচিত। নিজ থেকে ধারণা বশত আমল করা বা মন্তব্য করা থেকে বেঁচে থাকা কর্তব্য।

-কিতাবুল আছল ১/১২৬; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ১/৫৪৩; তুহফাতুল ফুকাহা ১/১০৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৮; ফাতহুল কাদীর ১/২০৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ২৩৮; রদ্দুল মুহতার ১/৩৭৫

শেয়ার লিংক

নাবিল মাসরুর - ফুলগাজী, ফেনী

৫৫৯৪. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের গ্রামে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আমার এক চাচাত ভাই সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজা-খুঁজির পর সকালে গ্রামের একটি নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে মৃতদেহটি বাড়ীতে এনে গোসলের ব্যবস্থা করছিলাম, তখন এক মুরব্বী বললেন, যেহেতু সে মারা যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পানিতে ছিল তাই তার গোসল হয়ে গেছে। নতুন করে গোসল করাতে হবে না। শুধু জানাযা পড়ে দাফন করলে চলবে। তার কথা অনুযায়ী আমরা তখন গোসল করানো ব্যতীত শুধু জানাযা পড়ে দাফন করে দিই।

জানার বিষয় হল, এই ব্যক্তির কথা কি ঠিক? মৃতদেহ যদি দীর্ঘ সময় পানিতে পড়ে থাকে তাহলে কি তার পুনরায় গোসল করাতে হবে না?

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয় :

১. মৃতব্যক্তির পুরো শরীর পানি  দিয়ে ধৌত করা।

২. এ কাজটি জীবিত ব্যক্তি বা জীবিতদের মাধ্যমে হওয়া।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথম কাজটি হয়ে গেলেও দ্বিতীয়টি হয়নি। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ এই কর্তব্য পালন না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই ওয়াজিব হুকুম আদায় হবে না।

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত আতা ইবনে আবী রাবাহ রাহ. বলেন-

يُغَسّلُ الْغَرِيقُ وَيُكَفّنُ وَيُحَنّطُ وَيُصْنَعُ بِهِ مَا يُصْنَعُ بِغَيْرِهِ.

পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিকে গোসল করাবে, কাফন পরাবে এবং কপূর্র লাগাবে। এবং তার ক্ষেত্রেও তাই করা হবে যা অন্য মৃতদের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। (অর্থাৎ তার কাফন-দাফনের যাবতীয় বিষয় সাধারণ মৃতদের মতই।) (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, বর্ণনা ১১১২৫)

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃতদেহটি নদী থেকে উঠানোর পর গোসল না করিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ ভুল করেছেন। তবে তার জানাযার নামায সহীহ হয়েছে।

উল্লেখ্য, যে কোনো দ্বীনী মাসআলা নির্ভরযোগ্য আলেম থেকে  জেনে সঠিকভাবে আমল করা কর্তব্য।

-কিতাবুল আছল ১/৩৪০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/২৪১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৮

শেয়ার লিংক

আবু উবায়দা - ফরিদপুর

৫৫৯৩. প্রশ্ন

আমি মাঝে মাঝে নামাযের বৈঠকে তাশাহহুদের সময় ভুলে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি।

মুহতারামের নিকট জানতে চাই, এ ভুলের কারণে কি আমার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

উত্তর

হাঁ, তাশাহহুদের আগে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।

প্রকাশ থাকে  যে, নামায মনোযোগের সাথে আদায় করা উচিত। একই ভুল বারবার হতে থাকা উদাসীনতার লক্ষণ। খুশু-খূজুর সাথে নামায আদায়ের ব্যাপারে কুরাআন-হাদীসে বিশেষ তাকীদ এসেছে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২১; ফাতহুল কাদীর ১/৪৩৯; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৮৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৪৬০; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ আলী - ঢাকা

৫৫৯২. প্রশ্ন

আমি গতকাল আসরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে ভুলে বৈঠক না করেই দাঁড়িয়ে যাই এবং নামায শেষে সাহু সিজদা করি। এখন আমার জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে আমার নামায সহীহ হয়েছে, নাকি পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

উক্ত নামায পুনরায় পড়তে হবে না। কেননা প্রথম বৈঠক ভুলে ছেড়ে দেওয়ার কারণে আপনার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল, যা আপনি আদায় করেছেন; তাই আপনার নামায নিয়ম মতই আদায় হয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

إِنّ رَسُولَ الله صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَامَ مِنَ اثْنَتَيْنِ مِنَ الظّهْرِ لَمْ يَجْلِسْ بَيْنَهُمَا، فَلَمّا قَضَى صَلاَتَهُ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمّ سَلّمَ بَعْدَ ذَلِكَ.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক না করেই দাঁড়িয়ে যান। অতঃপর নামায শেষে দুটি সিজদা করেন। তারপর সালাম ফেরান। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১২২৫)

-কিতাবুল আছল ১/১৯৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৮; মাজমাউল বাহরাইন, পৃ. ১৫০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৯; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৩৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ২৫৩

শেয়ার লিংক

আব্দুল আহাদ - ঢাকা

৫৫৯১. প্রশ্ন

আমি গতকাল আসরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু না করেই সিজদায় চলে যাই। সিজদা থেকে উঠে বাকি নামায সম্পন্ন করি। তারপর মাগরিবের নামাযের জন্য দাঁড়াই; তখন আসরের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু না করার বিষয়টি স্মরণ হয়। এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, আমার গতকালের আসরের নামাযটি কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

নামাযে রুকু করা ফরয। তাই কোনো রাকাতে রুকু ছুটে গেলে সেই রাকাত আদায়ই হয় না। তাই আপনাকে উক্ত আসরের ফরয নামায কাযা করে নিতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৭২; ফাতহুল কাদীর ১/২৪০; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯০; রদ্দুল মুহতার ১/৪৪২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ - মুক্তাগাছা, মোমেনশাহী

৫৫৯০. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে নির্ধারিত মুআযযিন নেই। এলাকার মুসল্লীরা আযান দেন। সেদিন এক মুরব্বী নামাযের ওয়াক্ত হওয়ার আগে ঘড়ি না দেখে মাগরিবের আযান দিয়ে দেন। ওয়াক্ত হওয়ার পর ইমাম সাহেব তাকে পুনরায় আযান দিতে বললে মুরব্বী বলেন, দ্বিতীয়বার আযান দেওয়ার প্রয়োজন কী? একবার দিলেই তো হল। তখন ইমাম সাহেব ওয়াক্ত হওয়ার পর নিজেই আযান দিয়ে দেন। আমার জানার বিষয় হল, দ্বিতীয়বার আযান দিয়ে কি ইমাম সাহেব ঠিক করেছেন? ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিলে কি ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায় আযান দিতে হবে?

উত্তর

ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায় আযান দিয়ে ইমাম সাহেব ঠিকই করেছেন। কেননা ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিলে তা সহীহ হয় না। তাই কখনো ওয়াক্তের আগে আযান দিয়ে দিলে ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায় আযান দিতে হবে। হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

كَانُوا إِذَا أَذّنَ الْمُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ أَتَوْهُ فَقَالُوا: اتّقِ اللهَ، وَأَعِدْ أَذَانَكَ.

মুআযযিন যদি ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে রাতে আযান দিয়ে দিতেন তাহলে, তাকে বলা হত, আল্লাহকে ভয় কর, পুনরায় আযান দাও। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১৮৮৯)

-কিতাবুল আছল ১/১১০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮১; খিযানাতুল আকমাল ১/৪১; আলইখতিয়ার ১/১৪৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৪৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৩৭৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬২

শেয়ার লিংক

ফারহান - খুলনা

৫৫৮৯. প্রশ্ন

আমার ছোট চাচা একজন নামাযী মানুষ। পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায় করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি নামাযের মধ্যে সিজদায় যাওয়ার সময় প্রায়ই আঙ্গুল ফুটান। বিষয়টা আমার কাছে কেমন কেমন লাগছে। তাকে জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, আঙ্গুল ফুটালে নামাযের সমস্যা কী? আমি তার কথার সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারিনি এবং বিষয়টা আমার কাছেও অস্পষ্ট।

তাই আমি জানতে চাই, নামাযে আঙ্গুল ফুটালে নামাযের কি কোনো সমস্যা হয়? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

নামাযে আঙ্গুল ফুটানো মাকরূহ তাহরীমী। এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। হযরত ইবরাহীম নাখায়ী এবং মুজাহিদ রাহ. থেকে বর্ণিত-

أَنّهُمَا كَرِهَا أَنْ يُفَرْقِعَ الرّجُلُ أَصَابِعَهُ وَهُوَ فِي الصّلاَة.

তারা উভয়ে নামাযে আঙ্গুল ফুটানো মাকরূহ মনে করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ৭৩৬২)

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৭; মাজমাউল বাহরাইন, পৃ. ১৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৬; মাজমাউল আনহুর ১/১৮৫; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২৪৯; রদ্দুল মুহতার ১/৬৪২

শেয়ার লিংক

হাবীবুল্লাহ - বান্দারবন

৫৫৮৮. প্রশ্ন

গতকাল যোহরের চার রাকাত সুন্নত পড়ার সময় দ্বিতীয় রাকাতে প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যাই এবং তৃতীয় রাকাতে সিজদা থেকে উঠে বৈঠকে বসে তাশাহহুদ পড়ার পর মনে পড়ে যে, এটা তৃতীয় রাকাত। তখন সাথে সাথে দাঁড়িয়ে বাকি নামায সাহু সিজদার সাথে আদায় করি।

মুহতারামের কাছে জানতে চাই, একই নামাযে একাধিক ভুলের জন্য একবার সাহু সিজদা আদায় করলেই কি নামায সহীহ হয়ে যাবে, নাকি প্রতিটি ভুলের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন সাহু সিজদা আদায় করতে হবে? বিষয়টা একটু পরিষ্কারভাবে জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

এক নামাযে একাধিক ওয়াজিব ছুটে গেলেও একবার সাহু সিজদা আদায় করাই যথেষ্ট। প্রত্যেক ভুলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সাহু সিজদা করতে হয় না।উল্লেখ্য, নামাযে মনোযোগী হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে কুরআন-হাদীসে তাকিদ এসেছে। মনোযোগের সাথে নামায আদায় করলে একই নামাযে বারবার ভুল হওয়ার আশংকা কমে যাবে।

-কিতাবুল আছল ১/১৯৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪১৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৮০

শেয়ার লিংক

আফফান সিদ্দীক - রাজৈর, মাদারীপুর

৫৫৮৭. প্রশ্ন

আমি নামাযে প্রায়ই সূরা ফাতিহা পড়ার পরে দ্বিধায় পড়ে যাই যে, সূরা ফাতিহা পড়ার পূর্বে তো আউযূবিল্লাহ’ ‘বিসমিল্লাহপড়েছি, এখন কেরাত পড়ার পূর্বে পুনরায় বিসমিল্লাহপড়তে হবে কি না? মাসআলা জানা না থাকায় কখনো বিসমিল্লাহপড়ি, কখনো পড়ি না।

মুফতী সাহেবের নিকট এক্ষেত্রে সঠিক সমাধান জানতে চাই।

উত্তর

নামাযের সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য সূরার শুরু থেকে পড়লে বিসমিল্লাহপড়া উত্তম। তবে সূরার শুরু থেকে না পড়ে মাঝ থেকে পড়লে বিসমিল্লাহনা পড়লেও চলবে। অবশ্য সর্বক্ষেত্রেই সূরা মিলানের সময় বিসমিল্লাহছুটে গেলে নামাযের ক্ষতি হবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৭৮; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৩১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৩০৮; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১২; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ১৪২; রদ্দুল মুহতার ১/৪৯০

শেয়ার লিংক

ইউসুফ আমীন - ধলপুর, ঢাকা

৫৫৮৬. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে মাগরিবের নামাযে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাত শেষে বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যান। মুক্তাদীরা পেছন থেকে লোকমা দিলে ইমাম সাহেব বসে যান। তারপর নামায শেষে সাহু-সিজদা করেন। নামাযের পরে কিছু মুসল্লী বলাবলি করছিল, ইমাম সাহেবের দাঁড়ানো থেকে বসে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। এতে নামায নষ্ট হয়ে গেছে।

মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাই, আসলেই কি আমাদের ওই নামায নষ্ট হয়ে গেছে, নাকি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ইমামের বসে যাওয়ার কারণে নামায নষ্ট হয়নি; বরং দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। আর ইমাম সাহেব যেহেতু নামায শেষে সাহু সিজদা করেছেন তাই আপনাদের নামায সহীহ হয়ে গিয়েছে। তবে, ইমাম সাহেব প্রথম বেঠক না করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর মুক্তাদীদের লোকমা শুনে বসে যাওয়া উচিত হয়নি।

এক্ষেত্রে নিয়ম হল, ইমামের অনুসরণে মুক্তাদীরাও দাঁড়িয়ে যাবে এবং অবশিষ্ট নামায শেষ করে ইমামের সাথে সাহু সিজদা করবে।

হযরত মুগীরা ইবনে শোবা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ الرّكْعَتَيْنِ فَلَمْ يَسْتَتِمّ قَائِمًا فَلْيَجْلِسْ، فَإِذَا اسْتَتَمّ قَائِمًا فَلَا يَجْلِسْ وَيَسْجُدْ سَجْدَتَيِ السّهْوِ.

যখন তোমাদের কেউ দ্বিতীয় রাকাতের পর না বসে দাঁড়িয়ে যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণভাবে না দাঁড়ায় সে বসে যাবে। আর যখন সে পূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে যাবে তখন আর বসবে না এবং (নামায শেষে) দুটি সাহু সিজদা করে নেবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১২০৮)

-ফাতহুল কাদীর ১/৪৪৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪০২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৪২; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৮৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১০১; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ২৫৩

শেয়ার লিংক

সালেহ আহমাদ - বি.বাড়িয়া

৫৫৮৫. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে একবার আমার ফজরের নামায কাযা হয়ে যায়। কিন্তু আমি তা ভুলে যাই এবং ঐ দিন যোহরের নামায পড়ার পর আমার তা মনে পড়ে। পরে আমি শুধু ফজরের নামাযের কাযা পড়ে নিই। কারণ আমি কোথাও পড়েছিলাম, কাযা নামাযের কাথা স্মরণ না থাকলে কাযা নামায না পড়ে কোনো ওয়াক্তিয়া নামায পড়লে ওয়াক্তিয়া নামায সহীহ হয়ে যায়; এক্ষেত্রে কাযা নামাযের সঙ্গে ওয়াক্তিয়া নামায পুনরায় পড়া আবশ্যক হয় না। মুহতারামের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত আমল কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তখন শুধু ফজর পড়ে আপনি ঠিকই করেছেন। কাযা নামাযের কথা স্মরণ না থাকায় যোহরের নামায সহীহভাবেই আদায় হয়েছিল। আপনার জানা মাসআলা সহীহ।

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে উক্ত কাযা নামাযের কথা স্মরণ হওয়ার পর আবার তরতীব ফিরে আসবে এবং পরবর্তী ওয়াক্তিয়া নামায পড়ার আগেই কাযা পড়ে নেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়।

-কিতাবুল আছল ১/১২৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৫৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৩১; আলবাহরুর রায়েক ২/৮৩

শেয়ার লিংক

আলাউদ্দীন - ধানমণ্ডি, ঢাকা

৫৫৮৪. প্রশ্ন

কোনো কোনো মুসল্লীকে দেখা যায়, তারা জামাতে শরীক হওয়ার সময় যদি ইমাম সাহেবকে সিজদা অবস্থায় পায়, তখন তারা নিজে নিজে রুকু করে ইমামের সঙ্গে সিজদায় গিয়ে শরীক হয়। জানার বিষয় হল, তাদের এই কাজ কেমন? এতে কি কোনো সমস্যা আছে?

উত্তর

নামাযের জামাতে শরীক হওয়ার পর ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। তাই ইমামকে সিজদায় পেলে তাকবীরে তাহরীমার পর সরাসরি সিজদায় চলে যাবে। এক্ষেত্রে একাকী রুকু করবে না। একাকী রুকু করার পর এই রাকাতকে গণ্য করলে তার নামাযই হবে না। তাই নিজে নিজে রুকু করবে না; বরং তাকবীরের পর ইমামকে যে অবস্থায় পাবে ইমামের সাথে শরীক হয়ে যাবে। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الصَّلَاةَ وَالإِمَامُ عَلَى حَالٍ فَلْيَصْنَعْ كَمَا يَصْنَعُ الإِمَامُ.

তোমাদের কেউ যখন নামাযে আসে, তখন ইমামকে যে অবস্থায় পায় সে যেন তাই করে। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৯১)

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩৫; হালবাতুল মুজাল্লী ২/১২৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯১; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৩০৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সেলিম - যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

৫৫৮৩. প্রশ্ন

একদিন আসরের নামাযের জন্য মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে রুকুতে পাই। আমি তখন তাড়াহুড়ার কারণে রুকুতে যেতে যেতে তাকবীরে তাহরীমা বলি এবং রুকুতে যাওয়ার পর আমার তাকবীরে তাহরীমা শেষ হয়। তখন এ বিষয়টি নিয়ে আমার মনে খটকা দেখা দেয়। তাই রুকু থেকে দাঁড়িয়ে আবার তাকবীরে তাহরীমা বলে নামাযে শরীক হই।

মুহতারামের নিকট আমার প্রশ্ন হল, প্রথম দফায় কি আমার তাকবীরে তাহরীমা সহীহ হয়েছিল?

উত্তর

না, আপনার প্রথমবার তাকবীরে তাহরীমা বলা সহীহ হয়নি। কেননা পূর্ণ তাকবীরে তাহরীমা দাঁড়ানো অবস্থায় কিংবা দাঁড়ানোর কাছাকাছি থাকা অবস্থায় সম্পন্ন হওয়া জরুরি। কিন্তু যদি এর চেয়ে বিলম্ব হয়ে যায় এবং রুকুর কাছাকাছি চলে যাওয়ার পর শেষ হয় তাহলে তা সহীহ হবে না। যেহেতু প্রথমবার আপনার তাকবীরে তাহরীমা রুকুতে গিয়ে শেষ হয়েছে তাই তা সহীহ হয়নি। তাকবীরে তাহরীমা যেহেতু সহীহ হয়নি তাই আপনার নামায শুরু করাও সহীহ হয়নি। সুতরাং আপনি পুনরায় দাঁড়িয়ে নতুন করে তাকবীরে তাহরীমা বলে ঠিকই করেছেন। তবে এক্ষেত্রে আপনি উক্ত রাকাত পাননি। তাই ইমামের সালামের পর ঐ রাকাত আদায় করে নেওয়া আবশ্যক।

-আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়িখ, পৃ. ৯০; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/৪৩২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৬; আয্যাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৪৯; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ২৮০

শেয়ার লিংক

খালেদ - কুড়িগ্রাম

৫৫৮২. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমি একটি কাজে এক সপ্তাহের জন্য চট্টগ্রাম যাই। চট্টগ্রামে থাকাকালে একদিন রাতের বেলা আমি একাকী এশার নামায পড়ছিলাম। দুই রাকাত পড়ার পর আমি বৈঠক করার কথা ভুলে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাই এবং তৃতীয় রাকাতও পড়ে ফেলি। চতুর্থ রাকাতের জন্য যখন দাঁড়াই তখন আমার মনে পড়ে, মুসাফির হওয়ার কারণে আমার উপর তো চার রাকাত নয়; বরং দুই রাকাত ফরয এবং আমি তো দুই রাকাত পর বৈঠকও ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু তখন আর আমি বৈঠকে ফিরে আসিনি; বরং চার রাকাত পূর্ণ করে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করি। মুহতারামের কাছে জানতে চাই। আমার উক্ত নামাযের কী হুকুম?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু মুসাফির অবস্থায় সেদিনের এশার নামাযটি পড়েছেন তাই দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ফরয ছিল। আর এই ফরয বৈঠক যেহেতু করা হয়নি তাই সেদিনের এশার নামায আদায় হয়নি। অতএব কসরের নামায হিসেবে তা দুই রাকাত কাযা করে নেওয়া আবশ্যক। আর উক্ত নামায নফল হিসেবে আদায় হয়েছে।

-কিতাবুল আছল ১/২৩৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২০০; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৩৮; ফাতহুল কাদীর ২/৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৮

শেয়ার লিংক

সাজ্জাদ হুসাইন - বরিশাল

৫৫৮১. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব গতকাল এশার নামাযে শেষ বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে যান। কিন্তু রুকুতে যাওয়ার আগেই তিনি বৈঠকে ফিরে আসেন এবং সাহু সিজদা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে নামায  শেষ করেন। মুসল্লীদের কেউ কেউ বলাবলি করছিল, শেষ বৈঠক তো ফরয ছিল। সুতরাং ফরয ছেড়ে দেওয়ার কারণে সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায সহীহ হয়নি। মুহতারামের কাছে জানতে চাচ্ছি, উক্ত নামাযটি কি আসলেই সহীহ হয়নি?

 

উত্তর

উক্ত নামায সহীহ হয়েছে। যারা বলেছে, সহীহ হয়নি তাদের কথা ঠিক নয়। কেননা, এক্ষেত্রে শেষ বৈঠক ছুটে যায়নি; বরং বিলম্বে আদায় হয়েছে। আর বিলম্বের কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। সুতরাং সাহু সিজদা করার কারণে উক্ত নামায সহীহভাবে আদায় হয়েছে।

প্রকাশ থাকে যে, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পঞ্চম রাকাতের সিজদা করে ফেললে শেষ  বৈঠক ছেড়ে দেয়া সাব্যস্ত হতো। সেক্ষেত্রে সাহু সিজদা যথেষ্ট হতো না; বরং পুনরায় নামায আদায় করতে হতো।

-কিতাবুল আছল ১/২২৯; শরহুল জামিইস সাগীর, সাদরুশ শহীদ, পৃ. ১৭৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৮০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৮৫

শেয়ার লিংক

ফাহীম - নেত্রকোণা

৫৫৮০. প্রশ্ন

গত জুমায় আমি পাগড়ি পরে নামায পড়ি। সিজদার সময় শুধু পাগড়ির প্যাঁচের উপর সিজদা করি। যমীনে আমার কপাল লাগেনি। মুহতারামের কাছে জানতে চাই, আমার উক্ত নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

পাগড়ির  প্যাঁচ যদি কপালের উপর থাকে আর সিজদা করার সময় লেগে থাকে তাহলে আপনার নামায সহীহ হয়ে গেছে। তবে বিনা ওযরে যমীনে কপাল না লাগিয়ে পাগড়ির প্যাঁচের উপর সিজদা করা মাকরূহ।

উল্লেখ্য, পাগড়ির প্যাঁচ যদি কপাল থেকে উপরে মাথার অংশে থাকে আর সিজদার সময় যমীনে কপাল একদমই না লাগে তাহলে সিজদাই সহীহ হবে না। তাই এমনটি হলে নামায সহীহ হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৮৩, ১৪১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৭৩; আলইখতিয়ার ১/১৭৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩০৪; ফাতহুল কাদীর ১/২৬৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১৯

শেয়ার লিংক

রবীউল ইসলাম - যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

৫৫৭৯. প্রশ্ন

আমি একটি মসজিদের মুআযযিন। কয়েকদিন আগে ফজরের নামাযের জন্য আযান দিতে উঠে দেখি, আমার ওপর গোসল ফরয হয়ে আছে। কিন্তু তখন মসজিদের ট্যাংকিতে পানি ছিল না। ওদিকে আযানের সময় হয়ে যাচ্ছিল। আমি তখন নাপাক অবস্থাতেই আযান দিই। পরে ট্যাংকিতে পানি আসলে পবিত্র হয়ে তারপর নামায আদায় করি।

মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, নাপাক অবস্থায় আযান দেওয়া আমার জন্য কি জায়েয হয়েছে? ওই আযানের মাধ্যমে পড়া নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

গোসল ফরয অবস্থায় আযান দেওয়া মাকরূহ। এ অবস্থায় আযান দিলে সেই আযান হয়ে গেলেও পুনরায় দেওয়া মুস্তাহাব। তাই আপনার উচিত ছিল, তখন নিজে আযান না দিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে আযান দেওয়ার ব্যবস্থা করা। অথবা একটু বিলম্ব করে পবিত্র হয়ে আযান দেওয়া। তবে ওই দিনের আযান আদায় হয়ে গিয়েছে।

-আলজামেউস সাগীর, ইমাম মুহাম্মাদ, পৃ. ৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৭৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৯৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৪৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৪৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৩৭৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৪

শেয়ার লিংক

মাহবুব - মোমেনশাহী

৫৫৭৮. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমি একবার ফরয গোসলের সময় কুলি করতে ও নাকে পানি দিতে ভুলে যাই এবং এ অবস্থায় গোসল শেষ করে ফজরের নামায পড়ে ফেলি। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিষয়টি মনে পড়লে আমি পুনরায় গোসল করে ফজরের নামায কাযা করি। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ অবস্থায় আমার জন্য পুনরায় গোসল করা আবশ্যক ছিল, নাকি শুধু কুলি করা এবং নাকে পানি দিয়ে নেওয়াই যথেষ্ট ছিল?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার জন্য পুনরায় গোসল করা আবশ্যক ছিল না। আপনার যেহেতু কুলি ও নাকে পানি প্রবেশ করানোর কাজই বাকি ছিল তাই এ দুটি কাজ করে নেওয়াই যথেষ্ট ছিল।

-সুনানে দারাকুতনী ১/১১৫; কিতাবুল আছল ১/৩২; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ১/৩৩৮; খিযানাতুল আকমাল ১/৩১; রদ্দুল মুহতার ১/১৫৫

শেয়ার লিংক

ফাহিম - বগুড়া সদর

৫৫৭৭. প্রশ্ন

আমরা একটি ভাড়া বাসায় থাকি। সেখানে ছারপোকার খুবই উপদ্রব। একদিন ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামায আদায় করি। নামাযের পর প্রচণ্ড গরমের কারণে গেঞ্জি খুলি। তখন দেখি, গেঞ্জির কয়েক জায়গায় ছারপোকার রক্তের ছাপ লেগে আছে। তাই এখন মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হল, ছারপোকার রক্ত পাক নাকি নাপাক? তা কাপড়ে লেগে থাকা অবস্থায় নামায সহীহ হয়েছে কি না? জানালে উপকৃত হব।

 

উত্তর

ছারপোকার রক্ত নাপাক নয়। একাধিক ছারপোকা থেকে বেশি পরিমাণ রক্ত লেগে গেলেও কাপড় নাপাক হবে না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গেঞ্জিতে ছারপোকার রক্ত লেগে থাকলেও আপনার নামায সহীহ হয়েছে। তবে নামাযের আগে এজাতীয় রক্ত বা ময়লা লেগে থাকার কথা জানতে পারলে যথাসম্ভব ধুয়ে নেওয়া ভালো।

-কিতাবুল আছল ১/৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৮৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৯৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২২৯; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৫৪২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩২০

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ - সিলেট

৫৫৭৬. প্রশ্ন

আমার বড় ভাইয়ের ডান পায়ের অনেক অংশ কেটে যায়। ফলে ডাক্তার পুরো পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিয়েছে। এবং তিনি শীতের কারণে বাম পায়ে মোজা পরেছেন। এখন কি তিনি সেই মোজার উপর মাসাহ করতে পারবেন?

 

উত্তর

না, শুধু এক পায়ের মোজার উপর মাসাহ করা সহীহ নয়। কেননা মোজার ওপর মাসাহ সহীহ হওয়ার জন্য উভয় পায়ে মোজা পরিধান করা শর্ত। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অযু করার সময় অপর পা তাকে ধুতে হবে। এক্ষেত্রে অপর পায়ের মোজার উপর মাসাহ করা যাবে না। অতএব আপনার ভাই অযু করার সময় বাম পায়ের মোজা খুলে পা ধুয়ে নেবেন।

-শরহুয যিয়াদাত, কাযীখান ১/১৫৪; ফাতহুল কাদীর ১/১৪১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৩০; আলহাবিল কুদসী ১/১২৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৫৩; আলবাহরুর রায়েক ১/১৮৭; রদ্দুল মুহতার ১/২৮০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ - ঢাকা

৫৫৭৫. প্রশ্ন

আমি শীতকালে চামড়ার মোজা পরিধান করি। আমার জানার বিষয় হল, মোজার উপর মাসাহের সময়সীমা কখন শুরু হয় এবং কখন শেষ হয়? বিষয়টিতে আমার সংশয় রয়েছে। তাই এর সমাধান জানতে চাই।

উত্তর

অযু অবস্থায় মোজা পরার পর অযু ভঙ্গ হওয়ার সময় থেকে মোজার উপর মাসাহের সময় শুরু হয়। আর মোজার উপর মাসাহের সময়সীমা মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত (২৪ ঘণ্টা) এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত (৭২ ঘণ্টা)। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

جَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ ثَلَاثَةَ أَيّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপর মাসাহের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন- মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত আর মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭৬)

-কিতাবুল আছল ১/৭৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ১/৩৫১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ১০৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৮

শেয়ার লিংক

রাশেদুল ইসলাম - ভালুকা, ময়মনসিংহ

৫৫৭৪. প্রশ্ন

আমি পরিচিত একটি দোকানে দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের একটি মটরসাইকেল ক্রয় করতে যাই। দোকান মালিক আমাকে বললেন, আপনি যে মটরসাইকেল নিতে চাচ্ছেন তা এখন আমাদের স্টকে নেই। তবে আপনি চাইলে অগ্রিম মূল্য দিয়ে তা ক্রয় করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দিলেই চলবে। আর মটরসাইকেলটি দুই মাসের মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন। তখন আমি ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে দিই। দুই মাস পর দোকান মালিক বললেন, দুঃখিত এখন মটরসাইকেলটি দিতে পারছি না। আপনি মটরসাইকেলটি নিতে চাইলে আরো এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে আপনি চাইলে আমরা এর বাজার মূল্য দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে  দেব। জানার বিষয় হল, এখন আমার জন্য কি তাদের থেকে দেড় লক্ষ টাকা নেয়া জায়েয হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য মটরসাইকেলের পরিবর্তে এর বাজার মূল্য (দেড় লক্ষ টাকা) নেয়া জায়েয হবে না। যদি টাকাই নিতে চান তাহলে আপনার দেয়া মূল টাকা ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ফেরত নিতে পারবেন। এর অতিরিক্ত নেয়া জায়েয হবে না।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন-

إِذَا سَلّفْتَ فِي شَيْءٍ فَلَا تَأْخُذْ إِلّا رَأْسَ مَالِكَ أَوِ الّذِي سَلّفْتَ فِيهِ.

অর্থাৎ যদি তুমি অগ্রিম মূল্যে কিছু ক্রয় কর তাহলে সে বস্তুটি গ্রহণ কর অথবা যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলে তা নাও। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১৪১০৬)অবশ্য আপনি চাইলে এক মাস বিলম্ব করে মটরসাইকেল গ্রহণ করতে পারবেন।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২১/৪৭; আলহাবিল কুদসী ২/৫৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/৫১৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৯/৩৭৭; ফাতহুল কাদীর ৬/২৩০; আলবাহরুর রায়েক ৬/১৬৬; এলাউস সুনান ১৪/৪৩৪ 

শেয়ার লিংক

জাহিদুল ইসলাম - ডেমরা, ঢাকা

৫৫৭৩. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পাঁচটি পৃথক কসম করেছিলাম। এর মধ্যে তিনটি কসম রক্ষা করতে পেরেছি। কিন্তু দুটি কসম ভঙ্গ করে ফেলেছি। এখন আমার প্রত্যেকটির জন্য কি আলাদা আলাদা কাফফারা দিতে হবে, নাকি একটি কাফফারা দিলেই হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে প্রত্যেক কসম ভঙ্গের কারণে ভিন্ন ভিন্ন কাফফারা আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে একাধিক কসম ভঙ্গের জন্য একটি কাফফারা আদায় করা যথেষ্ট হবে না।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১৬০৬৪; আলমাবসূত, সারাখসী ৮/১৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৭৮; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭১৪

শেয়ার লিংক

যায়েদ - রাজশাহী

৫৫৭২. প্রশ্ন

এক বছর আগে আমি কুরআনের কসম খেয়ে বলেছিলাম, আগামী বছরেই আমি আমার ফরয হজ্বটি আদায় করব। কিন্তু বিভিন্ন কারণে গত বছরও হজ্বটি আদায় করা হয়নি। এখন জানার বিষয় হল, আমার ঐ কথার কারণে কি কসম হয়েছে? এখন আমার করণীয় কী?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত কথার দ্বারা কসম সংঘটিত হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ঐ বছর হজ্ব না করায় কসম ভঙ্গ হয়ে গেছে। এখন আপনাকে কসম ভঙ্গের কাফফারা আদায় করতে হবে। কসম ভঙ্গের কাফফারা হল, দশজন মিসকীনকে দুই বেলা তৃপ্তিসহকারে খাবার খাওয়ানো অথবা তাদেরকে এক জোড়া করে পরিধেয় বস্ত্র দান করা। এ দুটির কোনোটির সামর্থ্য না থাকলে লাগাতার তিনটি রোযা রাখতে হবে।

-ফাতহুল কাদীর ৪/৩৫৬; জামেউল মুযমারাত ৪/৭১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭১২; ইমদাদুল আহকাম ৩/৩৩

শেয়ার লিংক

আমিরুল ইসলাম - ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

৫৫৭১. প্রশ্ন

আমি একটি সরকারি অফিসে চাকরি করতাম। গত দুই সপ্তাহ আগে আমার চাকরি চলে যায়। তখন আমি মান্নত করেছিলাম, আগামী বিশ দিনের ভেতর যদি আমার নতুন চাকরি হয়ে যায় তাহলে আমি আল্লাহর রাস্তায় একটা ছাগল সদকা করব। আল্লাহর রহমতে এখন একটা বড় কোম্পানিতে চাকরি হয়েছে। ওদিকে আমার এক দরিদ্র আত্মীয় কিছুদিন আগে আমার কাছে কিছু টাকা চেয়েছিল। আমি চাচ্ছি যে, তাকে একটা ছাগলের মূল্য পরিমাণ টাকা মান্নত আদায়ের নিয়তে দিয়ে দিব। জানার বিষয় হল, আমার এই কাজ কি সহীহ হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছাগল না দিয়ে উক্ত আত্মীয়কে (যদি সে যাকাত গ্রহণের যোগ্য হয়) এক বছর বয়সী একটি ছাগলের মূল্য দিলেও আপনার মান্নত আদায় হয়ে যাবে।

-মুখতারাতুন নাওয়যিল ২/২৪৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৩; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪০

শেয়ার লিংক

ফারযানা - শ্যামবাগ, ঢাকা

৫৫৭০. প্রশ্ন

গত বছর লকডাউনের সময় আমার বিবাহ হয়। বিবাহের সময় মোহর ধার্য করা হয়েছিল দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এর মধ্যে আমার স্বামী নগদ এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিল। কিছুদিন আগে আমরা জানতে পারি যে, আমার স্বামী বেশ কিছু অবৈধ কাজের সাথে জড়িত। তাই পরামর্শক্রমে আমি আমার স্বামীর কাছে সত্তর হাজার টাকার বিনিময়ে খোলার আবেদন করি। সে এতে সম্মত হয়ে উক্ত টাকার বিনিময়ে খোলা করে। তখন নগদ আমি তাকে সত্তর হাজার টাকা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখন সে আমাকে মোহর বাবদ যে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়েছিল সেটারও দাবি করছে এবং বলছে এটা তার পাওনা। অথচ সে আমাকে মোহরের যে এক লক্ষ টাকা দেয়নি আমি সেটারও দাবি ছেড়ে দিয়েছি। এক্ষেত্রে এখন আমার করণীয় কী? জানালে খুব উপকৃত হতাম।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যে সত্তর হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটাই আপনার স্বামীর প্রাপ্য। আর আপনার স্বামী আপনাকে মোহর বাবদ যে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা পূর্বেই আদায় করে দিয়েছে সেটার মালিক আপনিই। খোলার পূর্বে শর্ত না করায় খোলা হয়ে যাওয়ার পর এখন স্বামীর জন্য ঐ টাকা ফেরত চাওয়া জায়েয নয়। অবশ্য মোহরের যে এক লক্ষ টাকা অনাদায়ী ছিল তা খোলার কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছে। প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনি নিজেই যার দাবি ছেড়ে দিয়েছেন।

-কিতাবুল আছল ৪/৫৬৪; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৩৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১০১; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/২০৩; ফাতহুল কাদীর ৪/৭৬

শেয়ার লিংক

মাহফুযুর রহমান - যশোর

৫৫৬৯. প্রশ্ন

ছোট বেলায় আমার মামাতো বোন আর আমি একসঙ্গে আমার আম্মুর দুধ পান করেছি। মামির কোনো ছেলে নেই। তাই তিনি আমাকে ছোট বেলা থেকেই নিজের ছেলের মত আদর করতেন এবং এই উদ্দেশ্যেই তার মেয়েকে আমার সাথে আমার আম্মুর দুধ পান করিয়েছেন। যাতে আমি বড় হলেও তার সামনে যেতে পারি। কিন্তু আমি নিজে মামির দুধ পান করিনি। এখন আমি কি আমার মামির সাথে এই কারণে দেখা করতে পারব?

উত্তর

আপনার মামাতো বোন আপনার মায়ের দুধ পান করার কারণে সে আপনার দুধ বোন হয়েছে। কিন্তু এ কারণে তার মা অর্থাৎ আপনার মামির সাথে আপনার দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হয়নি। তাই এক্ষেত্রে মামাতো বোন মাহরাম হলেও তার মা আপনার মাহরাম নয়। সুতরাং তার সাথে আপনার পর্দা আবশ্যক।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৯৩; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৪০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৬২; ফাতহুল কাদীর ৩/৩১১; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২১৪

শেয়ার লিংক

রাশেদ - বারিধারা

৫৫৬৮. প্রশ্ন

আমরা বারিধারায় থাকি। কিছুদিন আগে আমাদের প্রতিবেশী একটি পরিবারের সকলে (স্বামী-স্ত্রী ও তিন ছেলে মেয়ে) খ্রিস্টান হয়ে গিয়েছিল। তখন আমরা খবর পেয়ে সেখানে যাই এবং তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করি। দীর্ঘ সময় বুঝানোর পর তারা আবার ইসলাম ধর্মে ফিরে আসে। এতে কি তাদের পূর্বের বিবাহ সম্পর্ক বহাল থাকবে? যদি না থাকে তাহলে তাদের ব্যাপারে এখন করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু তারা পরিবারের সকলে একইসঙ্গে খ্রিস্টান হয়ে গিয়েছিল এবং পরে আবার তওবা করে সকলে একসাথেই ইসলামে ফিরে এসেছে, তাই তাদের পূর্বের বিবাহ বহাল আছে। এখন তারা পূর্বের ন্যায় দাম্পত্য সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারবে। পূণরায় বিবাহের প্রয়োজন নেই।

-মুখতাসারুত তাহাবী, পৃ. ২৫৮; আলমাবসূত, সারাখসী ৫/৪৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১৯৫; ফাতহুল কাদীর ৩/২৯৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/২১৬; আদ্দুররুল মুখতার ৩/১৯৬

শেয়ার লিংক

আযীযুর রাহমান - বারিধারা, ঢাকা

৫৫৬৭. প্রশ্ন

একদিন ঝগড়া ও রাগারাগির একপর্যায়ে আমার স্ত্রীকে বলেছি, আজ থেকে তোর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। উক্ত কথা বলার সময় তালাকের চিন্তা আমার মাথায় ছিল না। জানার বিষয় হল, উক্ত কথার কারণে কি আমার স্ত্রীর উপর কোনো তালাক পতিত হয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আজ থেকে তোর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেইকথাটি যেহেতু আপনি তালাকের উদ্দেশ্যে বলেননি, তাই এর দ্বারা আপনার স্ত্রীর উপর কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বের ন্যায় বহাল আছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের বাক্য উচ্চারণ থেকে বিরত থাকবেন।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১৯৯; আলবাহরুর রায়েক ৩/৩০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৭৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৪১৭

শেয়ার লিংক