মুগদা, ঢাকা - ৫২৬৯

মোজ্জাম্মেল হক. প্রশ্ন

আমি একজন সিএনজি চালক। আমার নিজেরই একটি সিএনজি ছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি এখন এক মহাজনের সিএনজি নিয়ে চালাচ্ছি। আমি তার সাথে এ মর্মে চুক্তি করেছি যে, সিএনজি চালিয়ে যা আয় হবে তার ৪০র্% তাকে দিব আর ৬০% আমি নিব। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তিনিও এ চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন।

হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আমাদের জন্য এভাবে চুক্তি করা কি বৈধ হয়েছে? না হলে সঠিক পন্থা কী হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি নাজায়েয হয়েছে। কারণ এক্ষেত্রে লাভের অংশ বণ্টনের চুক্তি সহীহ নয়। কারণ এতে আপনি শ্রমদাতা। আর শ্রমদাতার মজুরি সুনির্দিষ্ট হওয়া জরুরি। তাই মুনাফার হার বণ্টনের চুক্তি করলে তা শুদ্ধ হবে না। এক্ষেত্রে সহীহভাবে চুক্তি করতে চাইলে নি¤œর দুটি পদ্ধতির যে কোনোটি অবলম্বন করা যেতে পারে।

এক. নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে সিএনজিটি ভাড়া নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সিএনজির সকল আয় আপনার হবে। আর মালিক নির্দিষ্ট ভাড়া পাবে।

দুই. সিএনজির সম্পূর্ণ আয় মালিক নিজে পাবে। আর চালক হিসেবে আপনি দৈনিক বা মাসিক নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবেন। এক্ষেত্রে আপনার পারিশ্রমিক পূর্বেই নির্ধারণ করে নিতে হবে। আয় যা-ই হোক আপনার প্রাপ্য আপনি পেয়ে যাবেন। এই চুক্তিতে আপনার যতটুকু সময় গাড়ি চালানোর কথা হবে তা আপনাকে আমানতের সাথে আদায় করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ৪/১১৭; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৬২৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৩৯৮; ফাতহুল কাদীর ৫/৪১১; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩২৬

শেয়ার লিংক

মিনহাজ মুনাওয়ার - ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম

৪০৩৩. প্রশ্ন

 

কুরবানীর দিন এলাকার লোকজন নিজ নিজ পশু যবাইয়ের জন্য আমার চাচাকে নিয়ে যায়। এখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেলেও লোকজন তবুও আসে। চাচা তাদের মন রক্ষার্থে গেলেও একা যবাই করতে পারেন না। তাই আমাকে সাথে নিয়ে যান। চাচা বিসমিল্লাহ বলে একটু ছুরি চালিয়ে দিলে বাকিটুকু আমি করে দিই। জানার বিষয় হল, চাচার বিসমিল্লাহ পড়াই যথেষ্ট হবে? নাকি আমাকেও বিসমিল্লাহ পড়তে হবে?

 


 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকেও বিসমিল্লাহ পড়তে হবে। অন্যথায় যবাই সহীহ হবে না। কেননা এক্ষেত্রে আপনিও যবাইকারী। আর যবাইকারী একাধিক হলে প্রত্যেকেরই বিসমিল্লাহ বলা জরুরি। অবশ্য প্রথম জবাইকারী যদি জবাই সম্পন্ন করে ফেলেঅর্থাৎ স্বাশনালীখাদ্যনালী এবং দুই শাহরগের কোন একটি কেটে ফেলেএরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি ছুরি চালায় সেক্ষেত্রে তার জন্য বিসমিল্লাহ পড়া জরুরি নয়। এক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তির দ্বারাই জবাই সম্পন্ন হয়ে যায়। সুতরাং পরবর্তীতে কেউ যদি ছুরি চালায় তাহলে জবাইকারীর অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাই সে বিসমিল্লাহ না বললেও কোনো ক্ষতি হবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৩৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরমান - নোয়াখালী

২০৬৩. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক রমযানে ইতিকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে মহল্লাবাসী মিলে একজন দিনমজুরকে ঠিক করল যে, সে মসজিদে ইতিকাফ করবে। বিনিময়ে তাকে ঐ দিনগুলোতে কাজ করলে যে পরিমাণ মজুরি সে পেত তাকে তা দেওয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে টাকা দিয়ে ইতিকাফে বসানোর দ্বারা ইতিকাফের দায়িত্ব আদায় হবে কি না?

উত্তর

বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা বা করানো সম্পূর্ণ নাজায়েয। কারণ ইতিকাফ একটি ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া নাজায়েয। ঐ লোকের ইতিকাফ দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কেফায়া) এর দায়িত্ব আদায় হবে না।

জামে তিরমিযী ১/৫১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১১৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৪; মাবসূত,সারাখসী ১৬/৩৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩২৫; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৫/৩৭

শেয়ার লিংক