হাফেয রায়হান রাহাত - হাতিয়া, নোয়াখালী

৬৮৫২. প্রশ্ন

আমাদের মাদরাসার বাথরুমে মশা জাতীয় একধরনের পোকা আছে যেগুলো সাধারণত কমোড ও কমোডের আশেপাশে থাকে আমরা যখন বাথরুমে যাই, পোকাগুলো গায়ে এসে বসে

এখন প্রশ্ন হল, পোকাগুলোর পা কিংবা ডানার নাপাকীর কারণে শরীর বা পোশাক নাপাক হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন

উত্তর

না, এ কারণে শরীর বা পোশাক কিছুই নাপাক হবে না কেননা এই পোকাগুলোর মাধ্যমে শরীর বা কাপড়ে কোনো কিছু লাগলেও তা এতই সামান্য হয়ে থাকে, সাধারণত যার কোনো আলামতই প্রকাশ পায় না এছাড়া এ থেকে বেঁচে থাকাও অনেক কষ্টকর ব্যাপার তাই এ কারণে শরীর বা কাপড় অপবিত্র হবে না

* >المبسوط< للسرخسي ১/৬০ : ولأن القليل من النجاسة لا يمكن التحرز عنه؛ فإن الذباب يقعن على النجاسات، ثم يقعن على ثياب المصلي، ولا بد من أن يكون على أجنحتهن وأرجلهن نجاسة، فجعل القليل عفوا لهذا.

আলআসরার, দাবূসী ১/২৬১; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৩২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩০; আলকিফায়া শরহুল হিদায়া ১/১৮৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ১৭৯; রদ্দুল মুহতার ১/৩২৩

শেয়ার লিংক

মুহা. মাসুদ রানা - গাজীপুর

৬৮৫৩. প্রশ্ন

যখন মাঝরাতে বুঝতে পারি যে, আমার ওপর গোসল ফরয হয়ে গেছে, তখন আমার করণীয় কী? তখনই গোসল করতে হবে, নাকি ফজরের নামাযের আগে উঠে গোসল করব?

 

উত্তর

গোসল ফরয হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোসল করা আবশ্যক নয় তাই মাঝরাতে গোসল ফরয হলে আপনি তখনই গোসল না করে চাইলে ফজরের আগে উঠেও গোসল করে নিতে পারেন এতে কোনো অসুবিধা নেই তবে যথাসম্ভব দ্রুত গোসল করে পবিত্র হয়ে যাওয়াই ভালো

* >المحيط البرهاني< ১/২৩৩ : لأن الاغتسال للتطهير، حتى تتمكن من أداء الصلاة، ألا ترى أن الجنب إذا أخر الاغتسال إلى وقت الصلاة، لا يأثم.

খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৪; হালবাতুল মুজাল্লী ১/১৩০; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬; রদ্দুল মুহতার ১/১৫৯

শেয়ার লিংক

আলাউল ইসলাম - ঢাকা

৬৮৫৪. প্রশ্ন

আমি তাকবীরে তাহরীমার পর সরাসরি হাত বাঁধি কিন্তু কোনো কোনো মুসল্লীকে দেখি, তারা তাকবীরে তাহরীমার পর প্রথমে হাত ছেড়ে দেয়, তারপর অবিলম্বে হাত বাঁধে

আমার প্রশ্ন হল, এই দুইয়ের মধ্যে কোন্টি সঠিক?

উত্তর

তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত ওঠানোর পর হাত ছেড়ে দেওয়া ভুল পদ্ধতি এমনটি করা যাবে না; বরং এক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম হল, হাত ওঠানোর পর না ছেড়ে দিয়ে সরাসরি হাত বেঁধে নেওয়া

* >مراقي الفلاح< ص ১৫৩ : ثم وضع يمينه على يساره تحت سرته عقب التحريمة بلا مهلة؛ لأنه سنة القيام في ظاهر المذهب.

আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৮৬-৪৮৭; ইমদাদুল আহকাম ১/৪৭৭

শেয়ার লিংক

মুঈনুল ইসলাম - সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

৬৮৫৫. প্রশ্ন

সিজদার সময় পুরুষের পা কীভাবে থাকবে? কেউ কেউ উভয় পায়ের গোড়ালি মিলিয়ে রাখেন কেউ কেউ দাঁড়ানোর সময়ের মতো উভয় পায়ের মাঝে ফাঁকা রাখেন এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোন্টি? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন

উত্তর

সিজদার সময় পুরুষদের উভয় পায়ের গোড়ালি পৃথক রাখাই সুন্নাহসম্মত ও সঠিক নিয়ম

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার সময় উভয় পা পৃথক রাখতেন এবং পায়ের আঙুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতেন

বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

كَانَ النَبِيُّ إذَا رَكَعَ بَسَطَ ظَهْرَه، وَإِذَا سَجَدَ وَجَّهَ أصَابِعَه قِبَلَ القِبْلَةِ فَتَفَاجَّ.

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকুতে যেতেন, পিঠ বিছিয়ে দিতেন যখন সিজদায় যেতেন, আঙুলগুলো কিবলামুখী করে উভয় পা পৃথক করে রাখতেন (সুনানে কুবরা, বায়হাকী ২/১১৩)

আল্লামা ইবনে হাজার রাহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন

فَتَفَاجَّ: يعني: وسع بين رجليه.

অর্থাৎ এই হাদীসে বর্ণিত فتَفاجَّ শব্দের অর্থ হল, তিনি তার উভয় পায়ের মাঝে ফাঁকা রাখতেন (আততালখীসুল হাবীর ২/৬১৮)

হানাফী মাযহাব ও অন্যান্য মাযহাবের ফকীহগণও সিজদার সময় উভয় পা পৃথক রাখার কথা বলেছেন

ইমাম তাহাবী রাহ. বলেন

فرأينا السنة جاءت عن النبي بالتجافي في الركوع والسجود، وأجمع المسلمون على ذلك، فكان ذلك من تفريق الأعضاء.

অর্থাৎ আমরা দেখি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত হচ্ছে রুকু এবং সিজদায় (অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাঝে) দূরত্ব রাখা এ বিষয়ে সবার ঐকমত্যও রয়েছে অতএব এর দ্বারা নামাযে অঙ্গসমূহকে পৃথক রাখার বিষয় সাব্যস্ত হয় (শরহু মাআনিল আছার, ১/১৬৬)

ইমদাদুল আহকামে ইমাম তাহাবী রহ.-এর এ বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে

وكلام الطحاوي في معاني الآثار يفيد أن الإلصاق ليس مشروعا في شيء من الأعضاء في الركوع ولا في السجود للرجال، بل المشروع عكسه أي التجافي بينهما.

অর্থাৎ ইমাম তাহাবীর কথা থেকে বোঝা যায় যে, পুরুষের জন্য রুকু কিংবা সিজদায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো পরস্পর মিলিয়ে রাখা নিয়মসম্মত নয়; বরং নিয়মসম্মত পদ্ধতি হচ্ছে এর বিপরীত অর্থাৎ উভয় অঙ্গের মাঝে দূরত্ব রাখা (ইমদাদুল আহকাম ১/৪৭৮)

ইমাম শাফেয়ী রাহ. বলেন

وهكذا أحب للساجد أن يكون متخويا، والتخوية أن يرفع صدره عن فخذيه، وأن يجافي مرفقيه وذراعيه عن جنبيه، ولا يلصق إحدى ركبتيه بالأخرى، ويجافي رجليه.

অর্থাৎ আমার নিকট পছন্দনীয় হল, সিজদাকারী তার বুক ঊরু থেকে উঠিয়ে আলাদা রাখবে উভয় কনুই ও বাহু পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখবে এক হাঁটু আরেক হাঁটুর সাথে মিলিয়ে রাখবে না এবং উভয় পা পৃথক রাখবে (কিতাবুল উম্ম ১/১৩৭)

ইবনে কুদামা রাহ. বলেন

ويستحب أن يفرق بين ركبتيه ورجليه.

অর্থাৎ (সিজদাকারীর জন্য) উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের মাঝে ফাঁকা রাখা মুস্তাহাব (আলমুগনী ২/২০২)

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে একটি বর্ণনায় উভয় গোড়ালি মিলিয়ে রাখার কথাও এসেছে

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

فَقَدْتُ رَسُوْلَ الله وَكَانَ مَعِيْ عَلَى فِرَاشِيْ، فَوَجَدْتُهُ سَاجِدًا رَاصًّا عَقِبَيْهِ مُسْتَقْبِلًا بِأَطْرَافِ أَصَابِعِهِ الْقِبْلَةَ.

অর্থাৎ একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিছানায় পেলাম না, অথচ তিনি আমার সঙ্গেই বিছানায় ছিলেন (তখন আমি তাকে তালাশ করলাম) এরপর তাকে পেলাম সিজদারত অবস্থায়, তিনি উভয় গোড়ালি মিলিয়ে রেখেছেন এবং আঙুলসমূহের অগ্রভাগ কিবলামুখী করে রেখেছেন (সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ৬৫৪)

তবে এ হাদীসটি অন্য আরও সহীহসূত্রে বর্ণিত হয়েছে সেই বর্ণনাগুলোতে رَاصًّا عَقِبَيْهِ (উভয় গোড়ালি মিলিয়ে রেখেছেন) এ অংশটুকু নেই (দ্রষ্টব্য : সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৮৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৮৭৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ৬৫৫)

হাকেম রাহ. এ হাদীস উল্লেখ করে বলেন

لا أعلم أحدا ذكر ضم العقبين في السجود غير ما في هذا الحديث.

অর্থাৎ এই বর্ণনা ছাড়া অন্য কোথাও সিজদার সময় উভয় গোড়ালি মিলিয়ে রাখার কথা কেউ উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৯২৮)

হাকেম রাহ. হয়তো এ কথা দ্বারা এই হাদীসের উক্ত বর্ণনায় উভয় গোড়ালি মিলিয়ে রাখার অতিরিক্ত এ অংশটি শায (তথা বিচ্ছিন্ন) হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন

তাছাড়া পায়ের গোড়ালি উভয়টি পুরোপুরি মিলিয়ে রাখলে সিজদার সময় পায়ের সকল আঙুল কিবলামুখী করে রাখা সম্ভব হয় না অথচ একাধিক সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় উভয় পায়ের আঙুল কিবলামুখী করে রাখতেন (দ্রষ্টব্য : সহীহ বুখারী, হাদীস ৮২৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৭৩২)

সেসব হাদীসের ভিত্তিতেও পায়ের গোড়ালি মিলিয়ে রাখার এই বর্ণনা অনুযায়ী আমল করা কঠিন

অতএব এক্ষেত্রে এটিই নির্ভরযোগ্য বক্তব্য যে, সিজদায় উভয় পায়ের গোড়ালি পৃথক রেখে পায়ের আঙুলগুলো কিবলামুখী করে রাখবে

আলমাজমূ, নববী ৩/৪০৭; আসসিআয়া ২/১৮০-১৮১; বাকিয়াতে ফাতাওয়া রশীদিয়া, পৃ. ১৭১

শেয়ার লিংক

জুনাইদ আহমাদ - জামালপুর

৬৮৫৬. প্রশ্ন

নামাযে অবস্থান পরিবর্তনের সময় যেমন, দাঁড়ানো থেকে রুকুতে যাওয়ার সময় الله أكبر, রুকু থেকে ওঠার সময় سمع الله لمن حمده এই যিকিরগুলো কি ওঠা বা নামার শুরুতেই বলা সুন্নত, নাকি কিছুটা উঠে বা নেমে যাওয়ার পর বলা উচিত? অর্থাৎ যিকিরগুলো কি অবস্থান পরিবর্তনের পুরো সময় পড়তে হবে, নাকি একটু অপেক্ষা করে কিছুটা উঠে বা নেমে গিয়ে তারপর পড়তে হবে?

উত্তর

রুকু-সিজদায় যাওয়া বা ওঠার সময় কিছুটা উঠে বা নেমে যাওয়ার পর তাকবীর শুরু করা ভুল পদ্ধতি

এক্ষেত্রে সুন্নতসম্মত ও সঠিক নিয়ম হল, যখন রুকু-সিজদার জন্য ঝোঁকা শুরু করবে তখনই তাকবীর বলা শুরু করবে এবং রুকু-সিজদায় পৌঁছে তাকবীর বলা শেষ করবে তদ্রƒপ রুকু-সিজদা থেকে যখন ওঠা শুরু করবে তখনই তাকবীর বলা শুরু করবে এবং রুকু-সিজদা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বা বৈঠকে পৌঁছে তাকবীর বলা শেষ করবে

অর্থাৎ অবস্থান পরিবর্তনের পুরো সময় জুড়েই যথাসম্ভব তাকবীরের মধ্যে থাকবে এমনকি এক্ষেত্রে কোনো কোনো ফকীহ রুকু-সিজদার জন্য ঝোঁকার আগেই তাকবীর বলে নেওয়ার কথা বলেছেন কিন্তু কিছুটা ঝুঁকে বা উঠে তারপর তাকবীর বলার কথা তাদের কেউই বলেননি তাই এ পদ্ধতি সঠিক নয় এ থেকে বিরত থাকতে হবে

বিশেষত ইমামের জন্য এটি পরিহার করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেননা কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ কারণে মুসল্লীদের নামাযে সমস্যা হওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয় যেমন, ইমাম যদি রুকু থেকে ওঠার সময় বিলম্ব করে দাঁড়ানোর কাছাকাছি এসে

سمع الله لمن حمده বলা শুরু করেন, তাহলে কোনো মুসল্লী ওই রাকাত না পাওয়া সত্ত্বেও ইমামের سمع الله لمن حمده বলার ভিত্তিতে রাকাত পেয়েছে বলে ধরে নেবে সুতরাং উঠবসের তাকবীর ও যিকিরগুলো বিলম্বে না বলে যথাযথ নিয়মে বলার প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত

* >غنية المتملي< ص ৩১৪ : (و ينبغي أن يكون ابتداء تكبيره عند أول الخرور والفراغ) منه (عند الاستواء) راكعا، وقال بعض المشايخ: يكبر قائما ثم يركع، وكذا ذكر فى المحيط مستدلا بقول محمد >إذا أراد أن يركع يكبر<. ... (و) القول (الأول) وهو المقارنة (أصح) الأقوال، كذا قال الطحاوى، وهو مفاد عبارة الجامع الصغير والمروى عنه .

আলজামিউস সাগীর, পৃ. ৮৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৪; রদ্দুল মুহতার ১/৪৯৩

শেয়ার লিংক

আবদুল বারী - কাউনিয়া, রংপুর

৬৮৫৭. প্রশ্ন

একদিন আমাদের মসজিদে তাবলীগ জামাতের দুই ভাই তাদের আসবাবপত্র হেফাজতের জন্য শুধু তারা দুজনেই জামাতের সর্বশেষ কাতার থেকে প্রায় দুই-তিন কাতার ফাঁকা রেখে ইমাম সাহেবের সাথে ইক্তিদা করে

হযরতের নিকট জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় তাদের নামায সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই দুই ব্যক্তি দুই-তিন কাতার ফাঁকা রেখে পিছনে দাঁড়ালেও মসজিদের ভেতর হওয়ার কারণে তাদের নামায আদায় হয়ে গেছে তবে সামনে কাতার ফাঁকা রেখে এভাবে পেছনে দাঁড়িয়ে ইক্তিদা করা মাকরূহে তাহরীমী তথা নাজায়েয হাদীস শরীফে এ থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

أَقِيمُوْا الصُّفُوْفَ، وَحَاذُوْا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ، وَسُدُّوْا الْخَلَلَ، وَلِيْنُوْا بِأَيْدِيْ إِخْوَانِكُمْ، وَلَا تَذَرُوْا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ، وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللهُ، وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللهُ.

তোমরা কাতারগুলো সোজা করে দাঁড়াও, পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও, ফাঁকা জায়গাগুলো পূর্ণ কর তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও, শয়তানের জন্য জায়গা ফাঁকা রেখো না যে ব্যক্তি কাতার মিলিয়ে দাঁড়াবে আল্লাহ তাআলা তাকে স্বীয় রহমতে শামিল করবেন আর যে ব্যক্তি কাতার ফাঁকা রাখবে, আল্লাহ তাআলা তাকে রহমত থেকে বঞ্চিত করবেন (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৬৬৬)

সুতরাং ভবিষ্যতে এ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং আসবাবপত্র হেফাজতের জন্য ভিন্ন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে

* >المحيط البرهاني< ২/১৪৫ :  وكذلك يكره للمقتدى أن يقوم خلف الصفوف وحده، إذا وجد فرجة في الصفوف.

তুহফাতুল ফুকাহা ১/১৪৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৫৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ১৬০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭০

শেয়ার লিংক

মিনহাজ - মাইজদী, নোয়াখালী

৬৮৫৮. প্রশ্ন

আমি ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি দীর্ঘদিন থেকে টাকা জমিয়ে গ্রামে বাড়ি করার জন্য একটি জমি ক্রয় করি যার মূল্য ছয় লক্ষ টাকা এছাড়া আমার আর কোনো সম্পদ নেই এতদিন জমানো এ টাকার যাকাত আদায় করেছি

জানার বিষয় হল, জমি ক্রয় করার পর এখনো কি আমাকে এর মূল্যের যাকাত আদায় করতে হবে? জানালে উপকৃত হব

উত্তর

না, আপনাকে ওই জমির মূল্যের যাকাত আদায় করতে হবে না কেননা উক্ত জমি ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা হয়নি আর ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জমি ক্রয় করা হলে এর ওপর যাকাত আসে না

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

لَيْسَ فِي الْعُرُوضِ زَكَاةٌ، إِلاَّ عُرْضٍ فِي تِجَارَةٍ، فَإِنَّ فِيهِ زَكَاةً.

কোনো বস্তুর ওপর যাকাত আসে না যদি তা ব্যবসার জন্য না হয়, ব্যবসার জন্য হলে তার ওপর যাকাত আসবে (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৫৬০)

* >المحيط البرهاني< ৩/১৬৩ : لكنا لا نوجب الزكاة في العروض إن لم تكن للتجارة بالإجماع.

আলহাবিল কুদসী ১/২৭৩; আলমুহীতুর রাযাবী ১/৪৮৯; মাজমাউল আনহুর ১/৩০৬;; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৫

শেয়ার লিংক

মুহা. আমিনুল ইসলাম - বরিশাল

৬৮৫৯. প্রশ্ন

ছেলে-মেয়ের যথারীতি বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিবাহের কাবিনও হয়েছে কিন্তু কোনো কারণবশত মেয়েকে এখন ছেলের বাড়িতে উঠিয়ে আনা হবে না তাকে উঠিয়ে আনতে আনুমানিক এক-দেড় বছর সময় যাবে মধ্যবর্তী সময়ে মেয়ে ছেলের বাড়িতে বেড়াতে আসবে এবং ছেলেও মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাবে

জানতে চাচ্ছি, ওই সময়ে তারা কি পরস্পর স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে থাকতে পারবে? বিষয়টা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি দয়া করে জানাবেন

উত্তর

হাঁ, সাক্ষীদের সামনে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে যথারীতি তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকলে তারা এরপর থেকে পরস্পর বৈধ স্বামী-স্ত্রী তাই এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাদের একসঙ্গে থাকতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই সামাজিক নিয়মে মেয়েকে স্বামীর বাড়িতে উঠিয়ে নিতে দেরি হলেও বিয়ের পর থেকেই তাদের পরস্পর স্বামী-স্ত্রীসুলভ সকল আচরণই পরিপূর্ণভাবে জায়েয

আলমুহীতুর রাযাবী ৩/৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬৪৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৪৪৫; ফাতহুল কাদীর ৩/৯৯; আলবাহরুর রায়েক ৩/৭৯; রদ্দুল মুহতার ৩/৩-৫

শেয়ার লিংক

পারিয়া রাইসিন তাসপি - চট্টগ্রাম

৬৮৬০. প্রশ্ন

আমার স্বামী কয়েকবার ম্যাসেজে বলেছে, তোমাকে তালাক দিব এবং মুখেও বলেছে, তোমাকে তালাক দিয়ে দিব, তোমাকে ছেড়ে দিব ইত্যাদি সব রাগের মাথায় বলেছে তবে তিনি আসলে তালাক কার্যকর করেননি

আমি জানতে চাই, এ ধরনের কথার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কি তালাক হয়ে গেছে? অনুগ্রহ করে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন

উত্তর

না, প্রশ্নোক্ত কথাগুলো আপনার স্বামী অনেকবার বলে থাকলেও এর দ্বারা তালাক হয়নি কেননা এভাবে ভবিষ্যতে তালাক দিব, ছেড়ে দিব বলার দ্বারা তালাক হয় না

উল্লেখ্য, শরীয়তে তালাক হচ্ছে বাস্তবেই উভয়ে আর ঘর-সংসার না করার ক্ষেত্রে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পথ; স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কোনো ঝগড়া-বিবাদ হলে একে অপরের ওপর রাগ ও ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম নয় তাই ঝগড়া-বিবাদ দেখা দিলেই তালাকের প্রসঙ্গ টেনে আনা বা বারবার তালাক দিয়ে দেওয়ার কথা বলা খুবই অন্যায় ও গর্হিত কাজ

প্রশ্নোক্ত শব্দগুলো দ্বারা তালাক না হলেও এভাবে তালাক, তালাক বলতে থাকলে কখনো এমন কথা বের হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়, যার দ্বারা বাস্তবেই তালাক হয়ে যায় তাই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকা দরকার

ফাতহুল কাদীর ৩/৪১৫; আলবাহরুর রায়েক ৩/৩১৪; আদ্দুররুল মুনতাকা ২/১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮৪; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামিদিয়া ১/৩৮ 

শেয়ার লিংক

আবু হামদান - মিরপুর, ঢাকা

৬৮৬১. প্রশ্ন

তালাকপ্রাপ্তা মহিলা যদি ইদ্দত অবস্থায় নিয়মকানুন পালন না করে; বরং প্রয়োজন ছাড়াই বাইরে বের হয়, বেড়াতে যায় ইত্যাদি এভাবে ইদ্দতের নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয় এবং অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তাহলে কি ওই বিয়ে শুদ্ধ হবে?

 

উত্তর

ইদ্দত মানে হচ্ছে নির্ধারিত কিছুদিন অন্যত্র বিবাহ বন্ধন থেকে বিরত থাকা আর ইদ্দত অবস্থায় কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে, যেগুলো মেনে চলা আবশ্যক এখন কেউ যদি ইদ্দত অবস্থায় উক্ত বিধি-নিষেধ না মানে, তাহলে এ কারণে সে গুনাহগার হবে তবে তা সত্ত্বেও তার ইদ্দতের নির্ধারিত মেয়াদ অতিবাহিত হয়ে গেলে উক্ত ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে এবং এরপর সে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে তাতে কোনো শরয়ী বাধা নেই

* >المبسوط< للسرخسي ৬/৪২ : ثم عدتها تنقضي وإن لم تعلم، وتنقضي وإن لم تكف نفسها عن الخروج والبروز.

আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৩; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ৪/২৯৬; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ২/১০১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫২০

শেয়ার লিংক

রিদওয়ান - ঢাকা

৬৮৬২. প্রশ্ন

কেউ যদি কোনো বিষয়ে সংকল্প করতে গিয়ে মনে মনে কসম খায় এবং বলে, আল্লাহর কসম করছি, এটা আর করব না, তাহলে কি কসম হয়ে যাবে?

 

উত্তর

কসম সংঘটিত হওয়ার জন্য কসমের বাক্য মুখে উচ্চারণ করা শর্ত এভাবে কসমের কথা মনে মনে জপলে তা কসম হিসেবে গণ্য হয় না তাই এর বিপরীত কাজ করলে কাফফারাও আবশ্যক হবে না

বাদায়েউস সানায়ে ৩/১০; আলবিনায়া ২/৩৪৯; মাজমাউল আনহুর ১/১৫৭; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ২৩৬; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ১১৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাসান - নারায়ণগঞ্জ

৬৮৬৩. প্রশ্ন

আমার মা বাসায় পালার জন্য অনেকগুলো মুরগি কেনেন একদিন আমি মাকে বললাম, মা, আপনার মুরগিগুলো মাশাআল্লাহ অনেক দ্রুত বড় হচ্ছে

মা বললেন, মুরগিগুলো যদি বেঁচে থাকে, তাহলে আমি একটি মুরগি মসজিদে দান করব

আমি তখন জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি তাহলে মান্নতের নিয়ত করেছেন?

তিনি সঙ্গে সঙ্গে বললেন, না, এমনি সাধারণ দানের নিয়ত করেছি

জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে আমার মায়ের ওপর কি মান্নত আবশ্যক হয়েছে? কারণ সাধারণত মানুষ এভাবেই মান্নত করে থাকে যদি মান্নত হয়ে থাকে, তাহলে কি মুরগিটি মসজিদে না দিয়ে কোনো গরিবকে এর মূল্য সদকা করে দিলে মান্নত আদায় হয়ে যাবে?

উত্তর

না, এর দ্বারা মান্নত হবে না কেননা মসজিদের জন্য মান্নত করলেও তা মান্নত হিসেবে গণ্য হয় না তবে আপনার মা যেহেতু একটি ভালো নিয়ত করেছেন, তাই সে অনুযায়ী একটি মুরগি বা এর মূল্য মসজিদে দান করে দেওয়াই সমীচীন হবে একজন মুসলমানের ভালো নিয়তও অনেক মূল্যবান

আলমাবসূত, সারাখসী ৮/১৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৮, ২৩২; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১৬; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৪; ইমদাদুল আহকাম ৩/২৯

শেয়ার লিংক

তাইসির আলম - চুয়াডাঙ্গা

৬৮৬৪. প্রশ্ন

আমি ঢাকার মেট্রোরেলে ভ্রমণ করি আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন থেকে উত্তরা সেন্টার স্টেশন পর্যন্ত যাত্রা করা কিন্তু সাধারণত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন থেকে উঠলে বসার আসন পাওয়া যায় না তাই আমি অন্য একটি কৌশল অবলম্বন করি

আমি প্রথমে মতিঝিলগামী ট্রেনে আরোহণ করি যখন ট্রেন মতিঝিল স্টেশনে পৌঁছায়, তখন যাত্রীরা নেমে যায় এবং ট্রেন খালি হয়ে যায় তখন আমি ফাঁকা আসনে বসে পড়ি এরপর একই ট্রেনে বসেই মতিঝিল থেকে সরাসরি উত্তরা সেন্টার পর্যন্ত যাত্রা সম্পন্ন করি

উল্লেখ্য, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন থেকে কার্ড পাঞ্চ করে ভেতরে প্রবেশ করেছি এবং উত্তরা সেন্টার স্টেশন থেকে পাঞ্চ করে বের হয়েছি ফলে আমার কার্ড থেকে ভাড়া কর্তন হয়েছে কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তরা সেন্টারের অতিরিক্ত কোনো ভাড়া কাটা হয়নি

এখন আমার জানার বিষয় হল, বসার সুবিধার্থে এভাবে ঘুরপথে ভ্রমণ করা বৈধ হবে কি? এখানে যেহেতু ভাড়া প্রতারণা করা হয়নি এবং সিস্টেম অনুসারেই নির্ধারিত ভাড়া কাটা হয়েছে, তবুও কি এর মধ্যে কোনো গুনাহ বা শরীয়তের দিক থেকে অসংগতি আছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কৌশল অবলম্বন করে আপনি আসন পাওয়ার সুবিধা নিলেও এক্ষেত্রে আপনি তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মতিঝিল এবং মতিঝিল থেকে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ভ্রমণের টাকা রেলকে দিচ্ছেন না তাই এটি জায়েয হবে না এ থেকে বিরত থাকা জরুরি মেট্রো কর্তৃপক্ষ তো এভাবে বিনা ভাড়ায় ভ্রমণের অনুমতি দেয়নি

ভবিষ্যতে এভাবে মতিঝিল স্টেশনে গিয়ে আসন নিয়ে আসতে চাইলে কোনোভাবে এ অংশের ভ্রমণের ভাড়াও পরিশোধ করে দেবেন এক্ষেত্রে মেট্রোরেল মতিঝিল স্টেশনে পৌঁছার পর কার্ড পাঞ্চ করে এর বাইরে বের হয়ে গিয়ে পুনরায় কার্ড পাঞ্চ করে প্রবেশ করতে পারেন

ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩০২; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/২৭৬; রদ্দুল মুহতার ৬/২০৮; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া, মাদ্দাহ ৪২৬, ৪৭২, ৫৯৬

শেয়ার লিংক

আমীর হামজা - রংপুর সদর, রংপুর

৬৮৬৫. প্রশ্ন

বিক্রেতা কোনো পণ্য নগদে কম মূল্যে আর বাকিতে অধিকমূল্যে প্রস্তাব করলে যদি ক্রেতা মজলিস ত্যাগের আগেই বাকিতে অধিকমূল্যে কবুল করে এবং মূল্য আদায়ের সময়ও নির্ধারণ করে নেয়, তাহলে কি উক্ত ক্রয়বিক্রয় জায়েয হবে?

যদি জায়েয হয়, তাহলে নিম্নের এই নসগুলোর নির্দেশনা ও হুকুম  কী হবে

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ عَنْ بَيْعَتَيْنِ فِى بَيْعَةٍ، رَوَاهُ مَالِكٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ.

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একই বিক্রির মধ্যে দুই রকমের বিক্রি থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন (জামে তিরমিযী, হাদীস ১২৩১)

আবার আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

مَنْ بَاعَ بَيْعَتَيْنِ فِى بَيْعَةٍ فَلَهُ أَوْكَسُهُمَا أَوِ الرِّبَا.

যে ব্যক্তি একই দ্রব্য বিক্রয়ে দুইরকম নিয়ম রাখে, তাকে দুই মূল্যের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যই গ্রহণ করতে হবে, নতুবা তা হবে সুদ (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৫৫)

عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ قَالَ: لَا رِبًا إِلَّا فِي النَّسِيئَةِ.

উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুদ কেবল বাকি লেনদেনেই হয়ে থাকে (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৫৮০)

আশা করি কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে বিশুদ্ধ মতের আলোচনায় যথাযথ উত্তর প্রদান করে সংশয় দূর করবেন ইনশাআল্লাহ জাযাকাল্লাহু খাইরান

উত্তর

হাদীস শরীফে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম بيعتان في بيعة থেকে নিষেধ করেছেন তবে প্রশ্নে ক্রয়বিক্রয়ের যে পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, তা بيعتان في بيعة -এর অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সেটি জায়েয আছে

ইমাম তিরমিযী রাহ. بيعتان في بيعة

-এর হাদীস বর্ণনার পর এর ব্যাখ্যায় বলেন

وقد فسر بعض أهل العلم قالوا: بيعتين في بيعة أن يقول: أبيعك هذا الثوب بنقد بعشرة، وبنسيئة بعشرين ولا يفارقه على أحد البيعين، فإذا فارقه على أحدهما فلا بأس، إذا كانت العقدة على أحد منهما.

আহলে ইলম এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, بيعتان في بيعة অর্থ হল, বিক্রেতা ক্রেতাকে বলবে, এই কাপড় নগদে কিনলে দশ দিরহাম আর বাকিতে কিনলে বিশ দিরহাম এরপর তারা উভয়ে কোনো একটি মূল্য চূড়ান্ত না করেই ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন করে ফেলে এবং ক্রেতা পণ্য নিয়ে চলে যায় তাহলে তা নিষেধ (হাদীসে এ পদ্ধতিকে নিষেধ করা হয়েছে) কিন্তু যদি কোনো একটি মূল্যের (নগদ অথবা বাকি) ওপর বিক্রি চূড়ান্ত করে নেয় এবং এরপর ক্রেতা পণ্য নিয়ে যায়, তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই (জামে তিরমিযী ২/৫১৪)

তাবেয়ীগণ থেকেও এমন বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে

শুবা রাহ. বলেন

سَأَلْتُ الْحَكَمَ، وَحَمَّادًا عَنِ الرَّجُلِ يَشْتَرِي مِنَ الرَّجُلِ الشَّيْءَ فَيَقُولُ: إِنْ كَانَ بِنَقْدٍ فَبِكَذَا وَإِنْ كَانَ إلَى أَجَلٍ فَبِكَذَا، قَالَ: لاَ بَأْسَ إذَا انْصَرَفَ عَلَى أَحَدِهِمَا، قَالَ شُعْبَةُ: فَذَكَرْت ذَلِكَ لَمُغِيرَةَ، فَقَالَ: كَانَ إبْرَاهِيمُ لاَ يَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا إذَا تَفَرَّقَ عَلَى أَحَدِهِمَا.

আমি হাকাম ও হাম্মাদ রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু ক্রয় করতে গেলে বিক্রেতা যদি বলে, নগদে হলে এত টাকা আর বাকিতে হলে এত টাকা, তাহলে এর কী হুকুম?

তারা বললেন, কোনো একটি প্রস্তাব নির্ধারণ করে যদি মজলিস ত্যাগ করে, তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই

শুবা রাহ. বলেন, আমি বিষয়টি মুগীরা রাহ.-এর সাথে আলোচনা করলাম তিনি বললেন, ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-এর মতও এমন

অর্থাৎ মজলিস ত্যাগ করার পূর্বে যদি কোনো একটি প্রস্তাব নির্ধারণ করে নেয়, তাহলে অসুবিধা নেই (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৮৩৬)

এছাড়াও আতা, তাঊস, কাতাদাহ ও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব রাহ. প্রমুখ তাবেয়ীগণ থেকেও এমন বক্তব্য বর্ণিত আছে

দ্রষ্টব্য : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৮৩১, ২০৮৩২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১৪৬২৬, ১৪৬৩০

সুতরাং بيعتان في بيعة -এর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত প্রথম যে দুটি হাদীস প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়

আর তিন নম্বরে لا ربا إلا في النسيئة -এর রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করা হয়েছে ক্রয়বিক্রয়ের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতির সাথে এরও কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এ হাদীসটি أموال ربوية -এর পরস্পর বাকিতে ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা রিবার একটি প্রকার টাকার বিনিময়ে কোনো পণ্য বাকিতে ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়

* >المبسوط< للسرخسي ১৩/ ৭-৮ : وإذا عقد العقد على أنه إلى أجل كذا بكذا وبالنقد بكذا، أو قال: إلى شهر بكذا أو إلى شهرين بكذا، فهو فاسد؛ لأنه لم يعاطه على ثمن معلوم، ولنهي النبي عن شرطين في بيع، وهذا هو تفسير الشرطين في بيع، ومطلق النهي يوجب الفساد في العقود الشرعية، وهذا إذا افترقا على هذا، فإن كان يتراضيان بينهما، ولم يتفرقا حتى قاطعه على ثمن معلوم، وأتما العقد عليه، فهو جائز؛ لأنهما ما افترقا إلا بعد تمام شرط صحة العقد.

সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৬; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১১২; ফাতহুল বারী ৪/৪৪৭; ফাতহুল কাদীর ৬/১৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫৩১; রদ্দুল মুহতার ৫/১৭২ 

শেয়ার লিংক