মুহাম্মাদ হাসান মাহমুদ - কাশখালী, মাগুরা

১১৬৩. প্রশ্ন

আমরা জানি, রোযা অবস্থায় কুলি করতে গেলে অসাবধানতা বশত গলাতে পানি চলে গেলে রোযা ভেঙ্গে যায়। তবে কাফ্ফারা ওয়াজিব হয় না। এখন আমার জানার বিষয় হলো, অসাবধানতা বশত কি পরিমাণ পানি গলাতে চলে গেলে রোযা ভেঙ্গে যাবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

রোযা অবস্থায় গলাতে সামান্য পানি ঢুকে পড়লে এমনকি তা দুএক ফোটা হলেও রোযা ভেঙ্গে যাবে। অসাবধানতা বশত এরূপ ঘটলে পরবর্তীতে রোযাটির শুধু কাযা করে নিতে হবে।

-ফাতহুল কাদীর ২/২৫৮, আলইনায়া ২/২৫৮, ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কিরামত আলী - চৌড়হাস, কুষ্টিয়া

১১৬২. প্রশ্ন

আমাদের এলাকাতে এক ব্যক্তির সন্তান অসুস্থ হলে সে একটি নির্দিষ্ট ছাগল কুরবানী করার মান্নত করে। কিন্তু কুরবানীর সময় আসার আগেই ছাগলটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে সঙ্গে সঙ্গে তা যবেহ করে গোস্ত গরীবদের মাঝে ছদকা করে দেয়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, ঐ ব্যক্তি কি অন্য ছাগল দিয়ে মান্নতের কুরবানী দিতে বাধ্য থাকবে? নাকি মান্নতের কুরবানী তার থেকে রহিত হয়ে যাবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রাণীটি যবেহ করে গোস্ত সদকা করে দেওয়া শুদ্ধ হয়েছে এবং মান্নতও আদায় হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে মান্নতের জন্য অন্য কোন প্রাণী যবেহ করা জরুরি নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, রুদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

শেয়ার লিংক

মোতাওয়ালী - মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষে

১১৬১. প্রশ্ন

একটা জামে মসজিদ প্রথমে কাচাঘর ছিল ৪/৫ বছর পর তা পাকা করা হয়। ১০/১২ বছর পর বর্তমানে মসজিদের তেমন কোন আয়ের উৎস না থাকায় এবং আশেপাশে স্বচ্ছল ও দ্বীনদার লোকদের সংখ্যা খুবই কম-থাকায় মসজিদের খরচ চালাতে খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। এই অবস্থায় মসজিদ-কর্তৃপক্ষ মসজিদের খরচ চালাবার জন্য মসজিদের নিচ তলায় পরিবর্তন করে দোকান, মেস ইত্যাদি করে মসজিদ পরিচালনা করার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করার চিন্তা করছে। শরীয়ত অনুযায়ী এটা কতটুকু জায়েয অথবা নাজায়েয মেহেরবানী করে জানাবেন।

উত্তর

না, প্রশ্নোক্ত জায়গায় দোকান-মেস ইত্যাদি কোন কিছু বানানো যাবে না। কারণ যে স্থানে একবার মসজিদ হয়ে যায় তাতে অন্য কিছু করার সুযোগ শরীয়তে নেই। বরং নিচ তলা মসজিদ হিসাবেই ব্যবহার করতে হবে। মহল্লাবাসী এবং অন্যন্য মুসল্লীদের কর্তব্য হল মসজিদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় খরচাদির ব্যবস্থা করা।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৭, মাজমাউল আনহুর ২/৫৯৪, ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৯৩, ফাতহুল কাদীর ৫/৪৪৬

শেয়ার লিংক

আনোয়ার - বরিশাল

১১৬০. প্রশ্ন

বিনা ওযরে তারাবীর নামায বসে পড়লে সহীহ হবে কিনা?

উত্তর

সুস্থ ব্যক্তির জন্য তারাবীহর নামায দাঁড়িয়ে আদায় করাই সুন্নত। বিনা ওযরে বসে আদায় করলে সুন্নত অনুযায়ী আদায় হবে না। তবে কেউ দাঁড়িয়ে পড়ার সামর্থ থাকা সত্ত্বেও বসে আদায় করলে তারাবীহ আদায় হয়ে যাবে, তবে দাঁড়িয়ে পড়ার অর্ধেক সওয়াব হবে।

-ফাতাওয়ায়ে খানিয়া ১/২৪৩, আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৫৫, বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৭, আলমাবসূত লিস্সারাখসী ২/১৪৭,আলবাহরুর রায়েক ২/৬৩, আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৮

শেয়ার লিংক

আনোয়ার - বরিশাল

১১৫৯. প্রশ্ন

বাড়ির হেফাযতের জন্য আমার কুকুর পালার খুব প্রয়োজন। এদিকে আশ্বিন মাসে অধিকাংশ কুকুর পাগল হয়ে যায়। এদেরকে খাসী বানিয়ে দিলে এমনটি হয় না, তাই আমি এরূপ করতে চাচ্ছি এতে শরয়ী সমস্যা আছে কিনা?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত পন্থাটি যদি কার্যকরী হয় তবে প্রয়োজনে এরূপ করা জায়েয হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন এর কারণে জন্তুটির খুব বেশি কষ্ট না হয়।

-ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ৫/৩৫৭, হেদায়া (ফাতহুল কাদীরসহ) ৮/৪৯৭, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৮৮

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ তৈয়্যব - ঢাকা

১১৫৮. প্রশ্ন

আজ থেকে প্রায় বিশ বছর পূর্বে আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তি থেকে বিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিল। ঋণ গ্রহণের পর গ্রহিতা কোন কারণে দরিদ্র হয়ে যায়। যার দরুণ তার জন্য ঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এদিকে ঋণগ্রহিতা দরিদ্র হয়ে গেলেও তার তা আদায়ের ইচ্ছা ও দাতার তা প্রাপ্তির আশা ছিল। এখন দীর্ঘ বিশ বছর পর গ্রহিতা সমুদয় ঋণ আদায় করে দিচ্ছে। প্রশ্ন হল এখন দাতার উপর এই টাকার বিগত বছরগুলোর যাকাত আদায় করা জরুরি কিনা? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঋণদাতা চাইলে প্রাপ্ত বিশ হাজার টাকার বিগত সবগুলো বছরের যাকাত আদায় করে দিতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে এ টাকার বিগত বছরের যাকাত না দেওয়ারও অবকাশ রয়েছে।

-মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩০৪, বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৯৯, আলমুদাওয়ানাতুল কুবরা ১/২২১, আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭

শেয়ার লিংক

মামুন - নোয়াখালী

১১৫৭. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে তারাবীর নামাযের পর ইমাম সাহেব তিলাওয়াতকৃত আয়াতসমূহের সারমর্ম পেশ করেন। নামাযের মাঝে তিলাওয়াতে সিজদা আদায়ের পর যদি বয়ানের সময় উক্ত আয়াত পুনরায় তিলাওয়াত করেন তাহলে পুনরায় সিজদা করতে হবে কিনা? 

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তিলাওয়াতকারী এবং শ্রোতা সকলকে পুনরায় তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৭৮৩, ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৫৮, আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৭৩, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৫, আলবাহরুর রায়েক ২/১২৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল হালীম - মিরপুর, ঢাকা

১১৫৬. প্রশ্ন

গত বছর কুরবানী দেওয়ার জন্য একটি গরু ক্রয় করি। গরুটা বেশ শক্তিশালী, যার কারণে কুরবানীর দিন জবাই করার জন্য শোয়াতে গেলে কসাইদের বেশ কষ্ট হয়। শোয়ানোর এক পর্যায়ে তার পেছনের বাম পা নিচে পড়ে ভেঙ্গে যায়। তারপরেও তারা শোয়াতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ৩-৪ ঘণ্টা পর আরও লোক মিলে গরুটা শোয়াতে সক্ষম হয় এবং তারপর জবাই দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমার এক বন্ধু বলল, তোমার কুরবানী আদায় হয়নি। কেননা, জবাই করার পূর্বেই প্রাণীটার পা এমনভাবে ভেঙ্গে গেছে, যার কারণে তা হাঁটতে পারে না। আবার সে মুহূর্তে জবাই করা হয়নি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, আসলেই কি আমার কুরবানী আদায় হয়নি? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার কুরবানী শুদ্ধভাবে আদায় হয়েছে। কুরবানীর পশু জবাই করতে গিয়ে তার পা ভেঙ্গে গেলে সে পশু দিয়ে কুরবানী করাতে কোন বাধা নেই।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫৩, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, আল ইনায়া ৮/৪৩৫, তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৭, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৫, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ আলী - বাসা-২২/২৩৯, ২৪০, এভি-৫ <br> ব্লক-সি, মিরপুর, ঢাকা

১১৫৫. প্রশ্ন

আমি মুহাম্মদ আলী। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আয়নাল হক সাহেবের বাড়ি বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর বাড়িটি আ. রশিদ সাহেবের কাছে বিক্রির প্রস্তাব করি। চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুযায়ী বাড়িটি সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বিক্রয় মূল্য সাব্যস্ত হয় এবং ৩ মাসে সকল মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে বায়নানামা হয়। তিনি ৩ মাসে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এদিকে ৩ মাস সময় অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পর বাড়ির মালিক আমাকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রদান করলে আমি রশিদ সাহেবকে জানালে তিনি বাকী টাকা প্রদান করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে আমি আবুল হোসেন সাহেবকে (রশিদ সাহেবের বাসায়)-এর কাছে একই মূল্যে বাড়ি বিক্রির প্রস্তাব করি। আবুল হোসেন সাহেব বাড়িটি ক্রয়ের পর আমাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ৫০,০০০/- টাকা প্রদান করেন এবং রশিদ সাহেবকে (পূর্বের বায়নাকারী হিসেবে) ১৫,০০০/- টাকা প্রদান করেন। বর্তমানে রশিদ সাহেব সমাজে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন উক্ত ৫০,০০০/- টাকা গ্রহণ করা আমার হারাম হয়েছে। অথচ তিনি নিজেও ১৫,০০০/- হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। হুজুরের কাছে আবেদন উক্ত সমস্যার বিষয়ে কুরআন-হাদীসের আলোকে আমাকে সমাধান দিয়ে শুকরিয়া আদায় করার সুযোগ দিবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনা যদি সত্যি হয় তবে মধ্যস্থকারী হিসেবে উক্ত ৫০,০০০/-  টাকা গ্রহণ করা আপনার জন্য নাজায়েয হয়নি। তাই আপনার এ টাকা গ্রহণকে হারাম বলা ঠিক নয়।

-রদ্দুল মুহতার ৬/৬৩, ফাতাওয়া খানীয়া ২/৩২৬, আল মুহীতুল বুরহানী ১২/১১৮, তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ১/৩৩৭, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৫/৪০

শেয়ার লিংক

আব্দুর রহমান - ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা

১১৫৪. প্রশ্ন

আমি একজন নওমুসলিম। বর্তমানে এক মুসলমান ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে আছি। আমি তাকে আববা এবং তার স্ত্রীকে আম্মা বলে ডাকি। বর্তমানে দেশে জাতীয় পরিচয়-পত্রে ও ভোটার তালিকায় আমার জন্মদাতা হিন্দু পিতার স্থলে ঐ মুসলমান ব্যক্তির নাম ব্যবহার করা যাবে কিনা? আর যদি জন্মদাতা হিন্দু পিতার নাম লিখি তাতে কি ঈমানের কমতি হবে? বা দুর্বলতা দেখা দিবে? এ ব্যাপারে ইসলামের বিধান জানালে কৃতার্থ হব।

উত্তর

জাতীয় পরিচয়পত্রে ও ভোটার তালিকায় নিজ পিতার স্থলে আপনাকে জন্মদাতা পিতার নামই লিখতে হবে। অমুসলিম পিতার নাম ব্যবহার করলে ঈমানের কোন ক্ষতি হবে না। যে সকল সাহাবায়ে কেরামের পিতা মুসলমান ছিল না তাঁরাও মুশরীক পিতার নামের সাথেই পরিচিত হতেন। বিষয়টিকে কেউ দোষের চোখে দেখতেন না।

-সূরা আহযাব ৪,৫, সহীহ বুখারী ২/১০০১, সহীহ মুসলিম ১/৫৭, তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১১৯, তাফসীরে রূহুল মাআনী ১১/১১৯, আহকামুল কুরআন (জাস্সাস রহ.) ৩/৩৫৪, আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৯৩

শেয়ার লিংক

রফিক -

১১৫৩. প্রশ্ন

একই মসজিদে তারাবীর একাধিক জামাত করার হুকুম কি?

উত্তর

একই মসজিদে তারাবীর একাধিক জামাত করা বাঞ্চণীয় নয়। কোন কোন ফকীহ একই মসজিদে তারাবীর একাধিক জামাতকে মাকরূহ বলেছেন। হযরত ওমরের রা. যুগে মসজিদগুলোতে ছোট ছোট একাধিক জামাত হত। তিনি এসবগুলোকে একত্রিত করে বড় এক জামাতে পরিণত করেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক পৃ. ২৫৯ খ. ৪) সুতরাং একই মসজিদে একাধিক জামাত না করে একটি জামাত করাই উচিৎ। কেউ মসজিদের জামাতে শরীক হতে না চাইলে মসজিদের বাইরে বাসা-বাড়ি বা অন্য কোন স্থানে গিয়ে ভিন্ন জামাত করতে পারেন। এতে কোন অসুবিধা নেই।

-মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক ৪/২৫৯, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১১৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রিয়াজুল ইসলাম - ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ

১১৫২. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক পাষন্ড স্বামী তার স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে, যার দরুণ স্ত্রী মারা যায়। এখন অনেকে বলছে যে, ঐ স্ত্রী শহীদ, আর স্ত্রীর গুনাহ স্বামীর উপর দিয়ে যাবে একথাটি কতটুকু সত্য? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী মহিলাটি হুকমী শহীদ। অর্থাৎ সে আখেরাতে শহীদের মর্যাদা পাবে। তবে গোসল ও কাফনের ক্ষেত্রে তার সাথে স্বাভাবিক মৃতের ন্যায় আচরণ করা হবে। জিহাদের শহীদের মত তাকে গোসল ছাড়া দাফন করবে না। উল্লেখ্য যে, হাদীস দ্বারা একথা প্রমাণিত যে, যদি কোন ব্যক্তি কারো ওপর অত্যাচার করে, তাহলে কিয়ামত দিবসে অত্যাচারীর নেকী থেকে তার জুলুম অনুযায়ী সাওয়াব অত্যাচারিত ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে যদি অত্যাচারী ব্যক্তির নেকী না থাকে বা শেষ হয়ে যায়, তাহলে অত্যাচারিত ব্যক্তির গুনাহ থেকে নির্ধারিত পরিমাণ গুনাহ জালেমকে দেওয়া হবে।

-সহীহ মুসলিম ২/৩২০, আলজামে লিআহকামিল কুরআন ৬/১৩৭, হেদায়া ১/১৮৩, বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৬৫, আলমাজমূ ৫/২২৪

শেয়ার লিংক

আলী হায়দার - ফেনী

১১৫১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার কিছু লোকের ধারণা এই যে, ফিৎরা আদায়ের ক্ষেত্রে একজন গরীব লোককে পূর্ণ এক ফিৎরা দিতে হয়। এর অংশ অর্থাৎ এক ফিৎরা কয়েকজনকে ভাগ করে দিলে ফিৎরা আদায় হয় না। তাদের এই ধারণা কি সঠিক? এবং এক্ষেত্রে শরীয়তের মাসআলা কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

একটি ফিৎরা পুরোটা একজন গরীবকে দেওয়া জরুরি নয়। এক ফিৎরা কয়েকজনকে ভাগ করেও দেওয়া জায়েয আছে। তবে উত্তম হল, একজনকে একটি ফিৎরার কম না দেওয়া।

-হাশিয়াতুত্ত্বাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৯৫, ফাতাওয়া খানিয়া, বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৭৩, আলবাহরুর রায়েক ২/৪৪৬

শেয়ার লিংক

শোয়াইব - ঢাকা

১১৫০. প্রশ্ন

আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। আমার ওপর কোন বছর যাকাত ফরয হয়, আবার কোন বছর ফরয হয় না। কিন্তু আমি প্রতি বছর কুরবানী করি। সেদিন আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব বললেন, যে বছর আপনার ওপর যাকাত ফরয হয় না সে বছর আপনার কুরবানী করা লাগবে না। এখানে আমার প্রশ্ন হলো, আসলে ইমাম সাহেবের কথা ঠিক কি না? বাস্তবে কতটুকু সম্পদ থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হয়? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।

উত্তর

উক্ত ইমাম সাহেবের কথাটি ঠিক নয়। কারণ, যাকাত ও কুরবানী উভয়টি পৃথক পৃথক ইবাদত এবং উভয়ের নেসাবের হিসাবের ধরনও ভিন্ন। একটি ফরয না হয়ে থাকলে অপরটি করতে হয় না, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং যার কাছে কুরবানীর দিনগুলোতে সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্য পরিমাণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকবে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব। উল্লেখ্য, কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে সোনা-রূপার অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে সাথে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্র, এসব কিছুর মূল্য ধর্তব্য হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৬/২৮০, তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৩, আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯২

শেয়ার লিংক

লোকমান -

১১৪৯. প্রশ্ন

জনাব মুফতী সাহেব! আমার একটা ডেইরী ফার্ম আছে তাতে ৭০-৮০টি গরু আছে। আমি এগুলোর দুধ বিক্রি করে ব্যবসা করি এবং এ গরুগুলোর খাওয়া-দাওয়ার পুরো খরচ আমাকেই বহন করতে হয়।

এখানে আমার প্রশ্ন হলো, এক্ষেত্রে আমাকে কি উক্ত গরুগুলোর যাকাত দেওয়া লাগবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্তক্ষেত্রে আপনাকে উক্ত ডেইরী ফার্মের গরুর যাকাত দিতে হবে না। অবশ্য, দুধ বিক্রি করে যে টাকা আয় হয় তা যদি নেসাব পরিমাণ হয় তাহলে তার যাকাত দিতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩৫, ফাতহুল কাদীর ২/১২৬, আদ্দুরুল মুখতার ২/২৭৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২, ১৭৬, আলবাহরুর রায়েক ২/২১৩

শেয়ার লিংক

হেলাল - ঢাকা

১১৪৮. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয়ার বয়স ৩০/৩২ বছর হবে। কিন্তু এখনো তার বিয়ে হয়নি, কারণ তার সামনের দাঁতগুলো অস্বাভাবিক বড় এবং সামনের দিকে বেরিয়ে থাকে। তাই যে ছেলেই তাকে দেখে ফিরে যায়। এখন তার আববা চাচ্ছে, সার্জারী করে দাঁতগুলোকে কেটে কিছু ছোট করে ভেতর দিকে নিতে। এখানে আমার প্রশ্ন হলো, তার একাজটি জায়েয হবে কি না?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে ঐ মহিলার দাঁতগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা জায়েয হবে।

-শরহে সহীহ মুসলিম ২/২০৫, উমদাতুল ক্বারী ২২/৬৩, জামে আহকামুন নিসা ৪/৪১৬

শেয়ার লিংক

মুহা. আব্দুল কাদের - পূর্বধলা, নেত্রকোনা

১১৪৭. প্রশ্ন

কোন ইসলামী সমিতি যদি জনগণ থেকে গরীবদের জন্য টাকা উঠিয়ে উক্ত সমিতিতে গোরাবা ফান্ড খোলে এবং উক্ত সমিতি গরীবদের ভাগে যে লভ্যাংশ আসে তা গরীবদেরকে দিয়ে দেয় এবং এক সময় আসলটাও দিয়ে দেয় তাহলে তা জায়েয হবে কি? আর গরীবদের টাকা দিয়ে ব্যবসা করার কারণ হল যেহেতু যে পরিমাণ টাকা উঠল তা যদি দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে একবারেই শেষ ও গরীবদের একবারই উপকার হয় আর যদি ব্যবসা করে লভ্যাংশ উক্ত নিয়মে দেওয়া হয় তাহলে বার বার গরীবদের ফায়দা হয়।

উত্তর

সমিতির প্রশ্নোক্ত পরিকল্পনার কথা দাতাদেরকে জানিয়ে তাদের থেকে যদি নফল সাদকা সংগ্রহ করা যায় তবে সে টাকা দিয়ে সমিতির প্রতিনিধিগণ ব্যবসা করতে পারবে। এক্ষেত্রে সমিতি ইনসাফভিক্তিক পারিশ্রমিক নিতে পারবে। তবে গরীবদের উপর যেন কোন প্রকার জুলুম না হয় সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। গরীবদের মূল টাকা ও লাভ পুরোটাই আমানত হিসাবে হেফাজত করতে হবে।

কিন্তু প্রশ্নোক্ত পরিকল্পনার কথা দাতাদের না জানিয়ে গরীবদের উদ্দেশ্যে নেওয়া নফল দান দ্বারাও ব্যবসা করা বৈধ হবে না। তদ্রূপ যাকাত, ফেতরা এবং অন্যান্য ওয়াজিব দানের টাকা দ্বারাও ব্যবসা করা জায়েয হবে না। এ সকল টাকা যতদ্রুত সম্ভব গরীব-মিসকীনকে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইসমাঈল - ভোটাল, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর

১১৪৬. প্রশ্ন

আমাদের মা এবং তিনভাই দুবোন রেখে মুহতারাম আববা পরজগতে পাড়ি জমান। তাঁর ইন্তিকালের পর বড়ভাই ও আমি আর্থিক সংকটাপন্ন সংসারের হাল ধরি। এক পর্যায়ে বড় ভাই বিয়ে করেন এবং কিছুদিন পর তিনি ভাবীকে নিয়ে সাংসারিকভাবে আলাদা হয়ে যান। তবে সহায়-সম্পত্তি অবণ্টিত থাকে অদ্যাবধি। তাই আলাদা হওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব একা আমার ওপর এসে পড়ে; মাঠে কাজ কর্মের মাধ্যমে ছোট-ভাই বোনের লেখাপড়ার ব্যয়-ভারসহ সংসার চালাতে থাকি। এভাবে সংসার চলছে না বিধায় আলাদা হওয়া বড়ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করি যে,  ভাই! আপনি রাজী হলে কিছু পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে সৌদী গেলে হয়ত ভাইবোনের লেখাপড়াসহ সংসার ভালভাবে চলবে। আর যথাসম্ভব আপনাকে সহযোগিতা করা হবে। ভাই এতে রাজী হয়ে জমি বিক্রির সময় রেজিস্ট্রীতে অংশ গ্রহণ করে।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে, বিদেশ গিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও সুবিধে করতে পারিনি; বরং জেলে গিয়ে জেল খেটে চলে আসতে হয়েছে। দেশে এসে পুনরায় মাঠে কাজ-কর্মের মাধ্যমে সংসার চালাতে থাকি, এক পর্যায়ে বিয়ে করি। কিছুদিন পর ব্যক্তিগতভাবে করজ করে শ্বশুরালয়ের সহযোগিতায় আবার বিদেশ যাই। এবার প্রাথমিক অবস্থার তুলনায় কিছু ভাল থাকায় ছোট ভাই বোনের লেখাপড়া করানো, আংশিক করজ পরিশোধ করাসহ সংসার পরিচালনা করি। পাশাপাশি বড়ভাইকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করতে থাকি এবং বিবাহিত অসহায় বোনদের সাহায্য করি। কিছুদিন পর পুনরায় জেলে গিয়ে অবশেষে দেশে চল আসতে হয়। বর্তমানে আমি দেশে সম্পূর্ণ বেকার। বড় ভাইসহ আমাদের আর্থিক অবস্থা বরাবরের মত এখনও সংকটাপন্ন। বড়ভাই বর্তমানে পূর্বেকার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রিলব্ধ টাকা চাচ্ছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে আমার ভাই সে জমি বিক্রি লব্ধ টাকা থেকে কোন ভাগ পাবেন কিনা? যদি পেয়ে থাকেন তাহলে বর্তমান মূল্যে নাকি যখন বিক্রি করেছি সে মূল্য হিসেবে? এ ব্যাপারে শরীয়তের ফয়সালা জানাতে আপনার সুমর্জি কামনা করছি।

উল্লেখ্য যে, (১) আমার এবং বড়ভাইয়ের আর্থিক অবস্থা বরাবর সংকটাপন্ন।

(২) বড় ভাই আলাদা হওয়ার পর ছোটভাই বোনের লেখাপড়া পরিচালনাসহ সাংসারিক ব্যয়ভার আমি একাই সম্পূর্ণ বহন করেছি এবং সংসারের উন্নতির জন্যই এবং ভাইকে সহযোগিতার মানসেই জমি বিক্রি করেছি।

(৩) সে সময় আমি অবিবাহিত ছিলাম।

(৪) বিবাহিত বোনদেরকে আমি একাই সহযোগিতা করেছি।

(৫) জমি বিক্রিলব্ধ টাকা মোটেই আমার ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করিনি এবং বিদেশ গিয়েও কিছুই করতে পারিনি।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ যদি সত্য হয় তাহলে আপনি যেহেতু পরিবারের খরচ নির্বাহের উদ্দেশ্যে পরিবারের পক্ষ থেকেই বিদেশ গেছেন তাই এর পিছনে ব্যয় হওয়া টাকা পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে গণ্য হবে।

অতএব বিদেশে যাওয়ার জন্য বিক্রয়কৃত জমির মূল্যের অংশ এখন কারো জন্য দাবী করা বৈধ নয় এবং সে দাবী পূরণ করাও আপনার ওপর জরুরি নয়।

শেয়ার লিংক

মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান - চাঁদপুর

১১৪৫. প্রশ্ন

আমাদের একটি সমিতি আছে। আমাদের গ্রামের মানুষ বিভিন্ন সংস্থা হতে সুদযুক্ত ঋণ গ্রহণ করে। আমরা চাচ্ছি যেন তারা সুদ হতে বাঁচতে পারে। তাই আমরা সমিতির পক্ষ হতে হালাল পন্থায় ব্যবসায়িক ভিত্তিতে তাদেরকে অর্থ প্রদানের চিন্তা করছি। যাতে তারা ও সমিতি উভয়পক্ষই উপকৃত হতে পারে। অতএব, মুফতী সাহেবের নিকট নিবেদন এই যে, আমাদেরকে এর একটি হালাল ও সহজ পন্থা বলে দিবেন।

উল্লেখ্য আমরা বর্তমানে দুটি পদ্ধতিতে এ কার্যক্রম চালু করেছি। পদ্ধতিগুলো শরীয়ত সম্মত কিনা জানালে বাধিত হব।

পদ্ধতি-১ : কারো টাকার প্রয়োজন হলে আমরা সমপরিমাণ মূল্যে তার কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ ক্রয় করি এবং মূল্য তাকে প্রদান করি। অতঃপর একই মজলিসে পুনরায় সে আমাদের থেকে কিস্তিতে পূর্ব মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে তা ক্রয় করে নেয়। এক্ষেত্রে অধিক কিস্তি হলে মূল্য বেশী হয় আর কম কিস্তি হলে মূল্য তুলনামূলক কম হয়।

পদ্ধতি-২ : কারো টাকার প্রয়োজন হলে আমরা কোন মাল ক্রয় করে উক্ত মাল তার নিকট কিস্তিতে কিছু লাভসহ বিক্রি করি। এক্ষেত্রেও কিস্তি বেশী হলে লভ্যাংশ বেশী দিতে হয় আর কিস্তি কম হলে লভ্যাংশ কম দিতে হয়।

উত্তর

১. না, এ পদ্ধতির কারবার জায়েয নয়। এটি সুদী কারবারের একটি ভিন্ন রূপ।

২. প্রশ্নের বিবরণ অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে। যার টাকার প্রয়োজন তার নিকট কিস্তিতে পণ্য বিক্রি করার কথা লিখেছেন। এতে তো তার টাকার প্রয়োজন ফুরালো না, বরং উল্টো সে আরো ঋণী হয়ে গেল। বিস্তারিত জানালে উত্তর দেওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, শরীয়তসম্মতভাবে বিনিযোগ করতে চাইলে এ সম্পর্কে অবগত কোন বিজ্ঞ মুফতীর কাছে গিয়ে ভালভাবে জেনে নিতে হবে।

-সুনানে আবু দাউদ ২/৪৯০, মুসনাদে আহমদ ২/২০৭, ফাতহুল কাদীর ৬/৩২৪, আল কিফায়া ৬/৩২৩, ইলাউস সুনান ১৪/১৭৭

শেয়ার লিংক

খালেদ হাসান - ৪৬৬৮

হবিগঞ্জ, সিলেট. প্রশ্ন

একদিন আমি আসরের নামাযে মাসবুক হই। ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর বাকি নামায আদায় করতে গিয়ে কত রাকাত পাইনি তা নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে পাশের মাসবুক ব্যক্তি, যে আমার সাথেই নামাযে শরীক হয়েছিল- তাকে দেখে দেখে নামায আদায় করে নিয়েছি। এভাবে দেখে দেখে নামায আদায় করাতে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?

উত্তর

আপনার উক্ত নামায সহীহ হয়েছে। ছুটে যাওয়া রাকাত সংখ্যা ভুলে গেলে পাশের মাসবুক ব্যক্তির প্রতি খেয়াল করে নিজের ছুটে যাওয়া রাকাত সংখ্যা স্মরণ করে নামায আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে নামাযে আরো মনোযোগী হওয়া উচিত। যাতে রাকাত সংখ্যা ভুলে যাওয়ার মত বিষয়টি বারবার না ঘটে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/৭২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৯৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬৩; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯

শেয়ার লিংক

মুগদা, ঢাকা - ৫২৬৯

মোজ্জাম্মেল হক. প্রশ্ন

আমি একজন সিএনজি চালক। আমার নিজেরই একটি সিএনজি ছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি এখন এক মহাজনের সিএনজি নিয়ে চালাচ্ছি। আমি তার সাথে এ মর্মে চুক্তি করেছি যে, সিএনজি চালিয়ে যা আয় হবে তার ৪০র্% তাকে দিব আর ৬০% আমি নিব। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তিনিও এ চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন।

হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আমাদের জন্য এভাবে চুক্তি করা কি বৈধ হয়েছে? না হলে সঠিক পন্থা কী হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি নাজায়েয হয়েছে। কারণ এক্ষেত্রে লাভের অংশ বণ্টনের চুক্তি সহীহ নয়। কারণ এতে আপনি শ্রমদাতা। আর শ্রমদাতার মজুরি সুনির্দিষ্ট হওয়া জরুরি। তাই মুনাফার হার বণ্টনের চুক্তি করলে তা শুদ্ধ হবে না। এক্ষেত্রে সহীহভাবে চুক্তি করতে চাইলে নি¤œর দুটি পদ্ধতির যে কোনোটি অবলম্বন করা যেতে পারে।

এক. নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে সিএনজিটি ভাড়া নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সিএনজির সকল আয় আপনার হবে। আর মালিক নির্দিষ্ট ভাড়া পাবে।

দুই. সিএনজির সম্পূর্ণ আয় মালিক নিজে পাবে। আর চালক হিসেবে আপনি দৈনিক বা মাসিক নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবেন। এক্ষেত্রে আপনার পারিশ্রমিক পূর্বেই নির্ধারণ করে নিতে হবে। আয় যা-ই হোক আপনার প্রাপ্য আপনি পেয়ে যাবেন। এই চুক্তিতে আপনার যতটুকু সময় গাড়ি চালানোর কথা হবে তা আপনাকে আমানতের সাথে আদায় করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ৪/১১৭; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৬২৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৩৯৮; ফাতহুল কাদীর ৫/৪১১; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩২৬

শেয়ার লিংক

মিনহাজ মুনাওয়ার - ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম

৪০৩৩. প্রশ্ন

 

কুরবানীর দিন এলাকার লোকজন নিজ নিজ পশু যবাইয়ের জন্য আমার চাচাকে নিয়ে যায়। এখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেলেও লোকজন তবুও আসে। চাচা তাদের মন রক্ষার্থে গেলেও একা যবাই করতে পারেন না। তাই আমাকে সাথে নিয়ে যান। চাচা বিসমিল্লাহ বলে একটু ছুরি চালিয়ে দিলে বাকিটুকু আমি করে দিই। জানার বিষয় হল, চাচার বিসমিল্লাহ পড়াই যথেষ্ট হবে? নাকি আমাকেও বিসমিল্লাহ পড়তে হবে?

 


 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকেও বিসমিল্লাহ পড়তে হবে। অন্যথায় যবাই সহীহ হবে না। কেননা এক্ষেত্রে আপনিও যবাইকারী। আর যবাইকারী একাধিক হলে প্রত্যেকেরই বিসমিল্লাহ বলা জরুরি। অবশ্য প্রথম জবাইকারী যদি জবাই সম্পন্ন করে ফেলেঅর্থাৎ স্বাশনালীখাদ্যনালী এবং দুই শাহরগের কোন একটি কেটে ফেলেএরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি ছুরি চালায় সেক্ষেত্রে তার জন্য বিসমিল্লাহ পড়া জরুরি নয়। এক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তির দ্বারাই জবাই সম্পন্ন হয়ে যায়। সুতরাং পরবর্তীতে কেউ যদি ছুরি চালায় তাহলে জবাইকারীর অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাই সে বিসমিল্লাহ না বললেও কোনো ক্ষতি হবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৩৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরমান - নোয়াখালী

২০৬৩. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক রমযানে ইতিকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে মহল্লাবাসী মিলে একজন দিনমজুরকে ঠিক করল যে, সে মসজিদে ইতিকাফ করবে। বিনিময়ে তাকে ঐ দিনগুলোতে কাজ করলে যে পরিমাণ মজুরি সে পেত তাকে তা দেওয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে টাকা দিয়ে ইতিকাফে বসানোর দ্বারা ইতিকাফের দায়িত্ব আদায় হবে কি না?

উত্তর

বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা বা করানো সম্পূর্ণ নাজায়েয। কারণ ইতিকাফ একটি ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া নাজায়েয। ঐ লোকের ইতিকাফ দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কেফায়া) এর দায়িত্ব আদায় হবে না।

জামে তিরমিযী ১/৫১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১১৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৪; মাবসূত,সারাখসী ১৬/৩৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩২৫; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৫/৩৭

শেয়ার লিংক