হুসাইন আহমদ - ঢাকা

১১৯১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মৃত ব্যক্তির দাফন শেষে কবরের উপর পানি ছিটানো হয়। এখন আমার প্রশ্ন হল শরীয়তে এর কি কোন ভিত্তি রয়েছে? নাকি এটি একটি কুসংস্কার?

 

উত্তর

কবরের মাটি ভাল করে জমার জন্য দাফন শেষে কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেওয়া ভালো। তবে পানি ছিটানোকে জরুরি বা স্বতন্ত্র সওয়াবের কাজ মনে করা যাবে না। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পুত্র ইবরাহীমকে দাফন করার পর কবরের উপর পানি ছিটিয়েছেন। -সুনানে বায়হাকী ৩/৪১১, মারাসীলে আবু দাউদ ১৮

এ ছাড়াও হযরত সাদ ইবনে মুয়াজ এবং উসমান ইবনে মাজউন রা.-এর কবরে পানি ছিটানোর বর্ণনা হাদীস শরীফে এসেছে।

-সুনানে ইবনে মাজাহ ১২২, মারাসীলে আবু দাউদ ১৮, সুনানে ইবনে মাজাহ ১১২, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৬, রদ্দুল মুহতার ২/২৩৭, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৬৯

শেয়ার লিংক

মাহমুদুল হাসান - কুমিল্লা

১১৯০. প্রশ্ন

জনৈক মুসল্লীর উপর সেজদা সাহু ওয়াজিব। শেষ বৈঠকে বসে সে ভুলক্রমে উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেলে। কিন্তু সালাম ফিরানোর সাথে সাথে তার সেজদা সাহুর কথা স্মরণ হয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হল, এখন কি তার জন্য সেজদা সাহু আদায় করার সুযোগ আছে? যদি সুযোগ থাকে তাহলে কতটুকু সময়ের ভেতরে সে সেজদা সাহু আদায় করতে পারবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটি সালাম ফিরানোর পর নামায-পরিপন্থী কোনো কাজ না করলে স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে সেজদা সাহু আদায় করে নেবে। আর যদি সালাম ফিরানোর পর নামায-পরিপন্থী কোন কিছু করে থাকে তাহলে সেজদায় সাহু আদায় করার সুযোগ থাকবে না। এক্ষেত্রে উক্ত নামায পুনরায় আদায় করে নিতে হবে।

-ফাতহুল কাদীর ১/৪৫০, আলবাহরুর রায়েক ২/১০৭, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩, রদ্দুল মুহতার ২/৯১, শরহুল মুন্য়াহ ৪৬৪

শেয়ার লিংক

হাসান মাহমুদ - ঢাকা

১১৮৯. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মৃত ব্যক্তিকে দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লীগণ প্রত্যেকে কবরে তিন চাক মাটি দেয়। এখন আমার প্রশ্ন হল, এটি কি শরীয়ত নির্দেশিত কোন হুকুম? নাকি মানুষের উদ্ভাবিত কুসংস্কার? যদি শরীয়তের হুকুম হয় তাহলে মাটি কতটুকু দিতে হবে?

উত্তর

দাফনের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য কবরে তিন মুষ্ঠি মাটি দেওয়া মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক সাহাবীর দাফনের সময় লাশের মাথার দিকে তিন মুষ্ঠি মাটি দিয়েছেন। -ইবনে মাজাহ ১১৩, বায়হাকী ৩/৪১০

উল্লেখ্য, তিন মুষ্ঠি মাটি দেওয়ার ক্ষেত্রে মাটির চাক দেওয়া কাম্য নয়, তদ্রুপ এক মুষ্ঠিতে তিন চাক মাটি দিলে তা এক মুষ্ঠিই গণ্য হবে।

-সুনানে ইবনে মাজাহ ১১৩, ইলাউস্ সুনান ৮/৩১৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৬, রদ্দুল মুহতার ২/১৩৬, মারাকিল ফালাহ ৩৩৫

শেয়ার লিংক

রেজাউল করীম - ঢাকা

১১৮৮. প্রশ্ন

কারো উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যদি কুরবানী না করে তাহলে পরবর্তীতে তার করণীয় কী? এমনিভাবে যদি কুরবানীর পশু ক্রয় করার পরেও নির্ধারিত দিনগুলোর মধ্যে কুরবানী না করে তাহলে যে পশুটি ক্রয় করা হয়েছিল সেটি কী করা হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও কুরবানীর দিনগুলোতে তা আদায় না করলে পরবর্তীতে কুরবানীর যোগ্য একটি বকরীর মূল্য সদকা করতে হবে। আর কুরবানীর পশু ক্রয় করে থাকলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কুরবানী না করতে পারলে জীবিত পশুটিকে সদকা করে দেবে কিংবা পশুটির ন্যায্য মূল্য সদকা করে দেবে।

উল্লেখ্য, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় সে যদি কুরবানীর উদ্দেশ্যে পশু ক্রয় করে কুরবানীর দিনগুলোতে জবাই করতে না পারে তবে তাকে ওই পশুটি জীবিত সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে পশুটি রেখে তার মূল্য দান করার সুযোগ নেই।

-ফাতহুল কাদীর ৮/৪৩২, আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৭

শেয়ার লিংক

মৌলভী আব্দুল হাকীম - কুমিল্লা

১১৮৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে এক হাজার টাকা প্রদান করে। চার মাস পর তার কাছ থেকে বিনিয়োগকৃত এক হাজার টাকার পরিবর্তে ৬শ টাকা এবং তিনমন ধান গ্রহণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হল গ্রাহকের কাছে এভাবে টাকা বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়া জায়েয হবে কি? বিস্তারিত জানালে চিরকৃজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বিনিয়োগ পদ্ধতি শরীয়তের নির্দেশিত বিনিয়োগ পদ্ধতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশিত বিনিয়োগ পদ্ধতি হল, হয়ত গ্রাহককে নির্ধারিত মেয়াদে সুদবিহীন করজ দেওয়া হবে বা বাইয়ে সালাম তথা আগাম খরিদের ভিত্তিতে বিক্রেতার কাছে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হবে। কিন্তু প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয়েছে একটি মনগড়া পন্থা, যা মূলত ঋণ ও বাইয়ে সালামের নামে টাকা খাটিয়ে মুনাফাখোরীর একটি অপকৌশল মাত্র। এ ধরনের কারবার থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

-জামে তিরমিযী ১/২৩৩, মুয়াত্তা ইমাম মালেক ১/২৮৩, রদ্দুল মুহতার ৫/১৬৭, আলমুগনী ইবনে কুদামাহ ৬/১১৬

শেয়ার লিংক

ইসমাঈল - ঢাকা

১১৮৬. প্রশ্ন

কোন হাঁস-মুরগী বা গরু-ছাগল রোগে আক্রান্ত হয়ে বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ মৃত্যুর নিকটবর্তী হলে মৃত্যুর পূর্বে ওই হাঁস, মুরগী বা গরু, ছাগল জবাই করলে তা হলাল হবে কিনা? এবং তা খাওয়া যাবে কিনা? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

যে কোন হালাল প্রাণী কোন কারণে মৃত্যুর নিকটবর্তী হলেও জীবিত অবস্থায় তাকে জবাই করা হলে তা হালাল বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে জবাইয়ের পর যদি নড়ে চড়ে ওঠে তবে বুঝা যাবে যে, প্রাণীটি জীবিত অবস্থায় জবাই করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, রোগাক্রান্ত পশু জবাই করার দ্বারা হালাল হলেও তা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিনা তা সংশ্লিষ্ট বিষেশজ্ঞ ডাক্তার থেকে নিশ্চিত হওয়া কর্তব্য।

-সহীহ বুখারী ১/৩০৮, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৩/৩০৫, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩০৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৮৬, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩০৯

শেয়ার লিংক

নোমান আহমদ - ভোলা

১১৮৫. প্রশ্ন

একদিন আমার বাসায় হঠাৎ চিনি শেষ হয়ে যায়। তাই আমার প্রতিবেশীর নিকট থেকে পরে ফেরত দেওয়ার কথা বলে এক কেজির একটি চিনির প্যাকেট নিয়ে আসি। যখন নিয়ে আসি তখন চিনির প্রতি কেজির মূল্য ছিল ৬০ টাকা। কিন্তু কিছু দিনের ব্যবধানে চিনির মূল্য কমে তা হয়েছে কেজি প্রতি ৩২ টাকা। প্রশ্ন হল এখন আমার প্রতিবেশীর ঋণ আদায়ের জন্য তাকে এক কেজি চিনি ফেরত দিলে হবে? নাকি ৬০ টাকা সমপরিমাণ মূল্যের চিনি দিতে হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ঋণের ব্যাপারে শরয়ী মূলনীতি হল, যে বস্ত্ত যে পরিমাণ নেওয়া হয়েছে ওই বস্ত্ত ওই পরিমাণ ফেরত দেওয়া। মূল্য কম হোক বা বেশী হোক এটা লক্ষণীয় নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চিনির মূল্য পূর্বের চেয়ে কমে গেলেও এক কেজি চিনি দিলেই ঋণ আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে চিনি দাতার জন্য অতিরিক্ত তলব করা জায়েয হবে না। অবশ্য তার তলব ছাড়াই যদি গ্রহীতা স্বেচ্ছায় কিছু অতিরিক্ত দিয়ে দেয় তাহলে এতে দোষের কিছু নেই, বরং তা প্রশংসনীয়ও বটে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২০২, মাবসুতে সারাখসী ১৪/৩০, আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬২

শেয়ার লিংক

সুবর্ণা ইসলাম - দক্ষিণ পাইকপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

১১৮৪. প্রশ্ন

আমার পিতা ২৫ জুন/২০০৫ ইন্তেকাল করেন। তার হাউজ বিল্ডিং-এর লোনে তৈরি একটি পাঁচতলা বাড়ী রয়েছে এবং তার রেখে যাওয়া ইন্সুরেন্সের টাকার পরিমাণ তিন লক্ষাধিক। আমার মা জীবিত। আমরা এক ভাই ও দুই বোন। আমি আমার সন্তানদের সুবিধার্থে উক্ত পাঁচতলা বাড়ীর একটি ফ্ল্যাট চাইলে তারা আমার সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে। এখন আমার প্রশ্ন-

১. এমতাবস্থায় আমি আমার অংশের দাবী করলে তা কি শরীয়ত সম্মত হবে?

২. আমাকে বঞ্চিত করে কি তারা গোনাহগার হচ্ছে না এবং গোনাহ হলে তা কোন প্রকৃতির গোনাহ?

৩. আমাকে বঞ্চিত ও নাখোশ রেখে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনকে খাওয়ানো ও তাদের জন্য খাওয়া কি বৈধ?

৪. আমি আমার অংশের হকদার কি লোন পরিশোধ করার পর হবো? নাকি বাবার ইন্তেকালের পর থেকেই?

৫. ইন্সুরেন্সের তিন লক্ষ টাকা আমাকে না জানিয়ে ও না দিয়ে খরচ করা এবং ছোট বোনের বিবাহ বাবদ এক/দেড় লক্ষ টাকা এখান থেকে জমা করে রাখা জায়েয হবে? উল্লেখ্য যে, আমার ভাই হাফেয মাওলানা। তার বক্তব্য হচ্ছে, এখানে কোন হারাম-হালাল, জায়েয-নাজায়েয আর হক না-হকের কিছু নেই। একথাটি কতটুকু শরীয়তসম্মত? এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলা প্রদানে বাধিত করবেন।

উত্তর

উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর ধারাবাহিকভাবে প্রদান করা হলো-

১. পিতার ইন্তেকালের সাথে সাথেই ছেলেমেয়েরা হিস্যা অনুযায়ী তার সম্পদের মালিক হয়ে যায়। তাই আপনিও পিতার মৃত্যুর সাথে সাথে তার সকল সম্পদে আনুপাতিক হারে মালিক হয়ে গেছেন। সুতরাং আপনার প্রাপ্য-অংশের দাবী করা শরীয়ত পরিপন্থী নয়; বরং এটা শরীয়ত কর্তৃক প্রদত্ত আপনার অধিকার। তাই মা ও ভাইয়ের কর্তব্য, অনতিবিলম্বে সকল ওয়ারিসের হিস্যা নির্ধারণ করে বণ্টন করে দেওয়া। -সূরা নিসা ৭, সহীহ বুখারী ১/৩২২, ফাতহুল বারী ৫/৬৯

২. আপনাকে প্রাপ্য-অংশ থেকে বঞ্চিত করলে অবশ্যই তারা মারাত্মক গোনাহগার হবে। এটি আত্মসাতের অন্তর্ভুক্ত, যা কবীরা গোনাহ। এ হক আদায়ে গড়িমসি করাও মারাত্মক গোনাহ। -সূরা বাকারা ১৮৮, ফাতহুল বারী ৪/৫৪৩, সহীহ বুখারী ১/৩২৩

৩. কোন ব্যক্তির সম্পদ তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া অন্যের জন্য ভোগ করা হারাম। সুতরাং অনিচ্ছা ও বিরোধিতা সত্ত্বেও আপনার সম্পদ ভোগ করা অথবা তা থেকে উপকৃত হওয়া তাদের জন্য সম্পূর্ণ অবৈধ। -মুসনাদে আহমাদ ৫/৭৩, শরহুল মাজাল্লাহ ৪/৬৫

৪. পিতার মৃত্যুর পর মুহূর্ত থেকেই আপনারা নিজ নিজ অংশের মালিক হয়ে গেছেন। তাই প্রশ্নোক্ত বাড়ীটি ওয়ারিসদের প্রত্যেকের হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন করে দিতে হবে। আর প্রত্যেকের অংশ অনুযায়ী হাউজ বিল্ডিং-এর লোনও ভাগ হয়ে যাবে, যা সংশ্লিষ্ট মালিককে আদায় করতে হবে। তাই আপনার অংশ অনুপাতে ওই লোন পরিশোধ করা আপনার জিম্মায় থাকবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৩৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২২১

৫. ইন্সুরেন্সে যে পরিমাণ টাকা আপনার বাবা নিজে জমা করেছিলেন আপনারা শুধু ততটুকুরই মালিক। সুতরাং আপনার পিতা কর্তৃক জমাকৃত সমস্ত টাকা সকল ওয়ারিসের মাঝে হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে। বণ্টনের পূর্বে এখান থেকে সংসারের জন্য খরচ করা বা অপর বোনের বিবাহের জন্য রেখে দেওয়া জায়েয হবে না; বরং আপনার অংশের টাকা যথাশীঘ্র দিয়ে দেওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, আপনার পিতার জমাকৃত টাকা ছাড়া অতিরিক্ত টাকা যেগুলো ইন্সুরেন্স কোম্পানি দিয়েছে, সেগুলো সুদ এবং হারাম। এ টাকা ওয়ারিসদের ভোগ করা জায়েয হবে না। এ টাকা পুরোটাই সওয়াবের নিয়ত ছাড়া ফকীর-মিসকীনকে দিয়ে দেওয়া জরুরি। আরো উল্লেখ্য, শরীয়তে ওয়ারা্সাতের বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে অন্যান্য অনেক বিষয় যেখানে খুব সংক্ষেপে বলা হয়েছে সেখানে ওয়ারাসাতের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে; যা এ বিষয়টির গুরুত্বের পরিচায়ক। সুতরাং এক্ষেত্রে কোন রকম অবহেলা করা একজন মুসলমানের পরিচয়াক হতে পারে না। সেখানে আপনার বর্ণনা অনুযায়ী একজন আলেম কর্তৃক বোনের হক আটকে রাখা যে কত বড় অপরাধ তাতো বলার অপেক্ষা রাখে না।

-সূরা নিসা ৭, শরহুল মাজাল্লা ৪/৩১, সূরা বাকারা ২৭৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৮৬

শেয়ার লিংক

মুহা. মাহবুবুর রহমান - দারুস সালাম মাদরাসা, মিরপুর, ঢাকা

১১৮৩. প্রশ্ন

আমি শুক্রবার পবিত্র জুমার নামায আদায় করার পর দেখি মাদরাসার এক পাশে কিছু লোক হৈচৈ করছে। সেখানে গিয়ে দেখি একটা বিশাল বড় কোয়ালে সাপ। কেউ মারতে চাইলে লোকেরা বাধা দেয়। তারা বলে সাপ মারা জায়েয নেই। আবার কেউ বলে সুন্নত, কেউ বলে কিছু কিছু সাপ মারা জায়েয আর কিছু কিছু সাপ মারা জায়েয নেই। আমি জানতে চাই সাপ মারা জায়েয কিনা? যদি জায়েয হয় তাহলে কোন সাপ মারা জায়েয, কোন সাপ মারা জায়েয নেই? এ সম্পর্কে চার মাযহাবের মত কী? কোনটি গ্রহণযোগ্য? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

লোকালয়ে দেখা যাওয়া সব ধরনের সাপ মারা জায়েয। হাদীস শরীফে কোন সাপকে খাস না করে সব ধরনের সাপ মারার নির্দেশ এসেছে। তাই কিছু সাপ মারা জায়েয আর কিছু সাপ মারা জায়েয নেই-এ ধরনের কথার কোন ভিত্তি নেই। অবশ্য লোকালয়ের বাইরে বন-জঙ্গলে গিয়ে খোঁজ করে করে সাপ মারার কথা শরীয়তে নেই।

-সহীহ বুখারী ১/৪৬৬, সহীহ মুসলিম ২/২৩৪, রদ্দুল মুহতার ১/৬৫১, ফাতহুল কাদীর ১/৩৬৪

শেয়ার লিংক

উছামা - ঢাকা

১১৮২. প্রশ্ন

হাফেজ সাহেবগণ রমযান মাসে তারাবীর নামাযে কুরআন শরীফ খতম করার পর সূরা বাকারার কিছু অংশ পড়ে থাকেন। এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?

উত্তর

এটি একটি মুস্তাহাব আমল। হাদীস শরীফে কুরআন মাজীদ একবার খতম হলে পুনরায় তা শুরু করার কথা এসেছে। সুতরাং এ আমল যেমনিভাবে নামাযের বাইরে উত্তম তেমনিভাবে নামাযের খতমেও তা অনুসরণীয়। অবশ্য ১৯তম রাকাতে খতম করে ২০তম রাকাতে শুরু থেকে না পড়ে উত্তম হল ১৮তম রাকাতে খতম করে শেষ দুই রাকাতে শুরু থেকে কিছু তেলাওয়াত করে নেওয়া। যেন প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতে তেলাওয়াতের ধারাবাহিকতা বহাল থাকে।

-জামে তিরমিযী ২/১৪৩, আলইতকান ১/৩০০, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৮, আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬

শেয়ার লিংক

হাসান তারিক - বীরগঞ্জ, দিনাজপুর

১১৮১. প্রশ্ন

আমরা জানি কোন মাল নগদ বিক্রি করলে যে মূল্য ধরা হয় বাকিতে বিক্রি করলে নগদ মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য ধরা জায়েয আছে। কিন্তু আমাদের এলাকায় কিছু মানুষ এই সুযোগ গ্রহণ করে এলাকার অভাবী মানুষদের কাছে চাউল এভাবে বিক্রি করতে শুরু করেছে যে, আশ্বিন মাস থেকে এক বস্তা চাউলের বাজার মূল্য ১৮০০ টাকা কিন্তু তারা এই এক বস্তা চাউল বাকিতে অগ্রহায়ণ মাসে মূল্য দেওয়ার ভিত্তিতে বিক্রি করছে ২৭০০ থেকে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত। আগে সুদের মাধ্যমে যেভাবে গরীবদের রক্ত চোষা হতো, এখন তারা চড়া মূল্যে বাকিতে বিক্রি করে গরীবদের রক্ত চুষে খাচ্ছে, শুধু রক্ত চোষার স্টাইল পাল্টে ফেলেছে। কেননা, সুদখোরদের কাছ থেকে ১৮০০ টাকা নিলে দিতে হতো ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকা। আর এভাবে পণ্য (চাউল) বাকিতে ক্রয় করলে ১৮০০ টাকার বস্তা প্রতি দিতে হচ্ছে ২৭০০ থেকে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত। এখন আমাদের জানার বিষয় হলো এরকম চড়া মূল্যে বাকিতে পণ্য বিক্রি করা জায়েয হবে কি না? যদি জায়েয হয় তবে এলাকার দীন-দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে? তারা সুদের অভিনব নতুন স্টাইল থেকে কীভাবে পরিত্রাণ পাবে? শ্রদ্ধেয় মুফতী সাহেবের প্রতি সবিশেষ অনুরোধ- এ বিষয়ে আলকাউসারে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

উত্তর

না, এত চড়া মূল্যে বিক্রি করা জায়েয নয়। আর গরীবদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার এ প্রবণতা শরীয়ত-বিরোধী।

-রদ্দুল মুহতার ৫/১৪২, তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/২৮, হাশিয়াতুত তাহতাবী ৪/২০১, তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৩১২-৩১৩

শেয়ার লিংক

মুহিউদ্দিন - জোড়খানী, বগুড়া

১১৮০. প্রশ্ন

ক. নামক ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ের ছেলের (নাতির) বৌ মাহরাম কিনা? উক্ত নাতি-বৌ-এর সঙ্গে পর্দা করতে হবে কি?

খ. স্থায়ী বাসস্থান হতে কত দূরে মারা গেলে লাশ এনে বাসস্থানের নিকটবর্তী গোরস্তানে বা পারিবারিক গোরস্তানে মুর্দাকে দাফন করা যাবে?

উত্তর

ক. ছেলে ও মেয়ের দিকের নাতির বউয়ের জন্য দাদা-নানা মাহরাম। উক্ত নাতির বউয়ের সাথে পর্দা জরুরি নয়। -সূরা নিসা ২৩, আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৪, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৮

খ. নিয়ম হল মৃত্যুবরণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব মৃতকে দাফন করে দেওয়া। এজন্য যে এলাকায় মৃত্যুবরণ করবে ওই এলাকার কবরস্তানে দাফন করা সম্ভব হলে সেখানেই করবে। সেখানে দাফন সম্ভব না হলে কিংবা উক্ত এলাকায় মুসলমানদের কবরস্তানে না থাকলে পার্শ্ববর্তী কোন এলাকার কবরস্তানে দাফন করতে হবে। মোটকথা, নিকটবর্তী স্থানে দাফনের সুযোগ থাকাবস্থায় বিনা ওযরে দূরে নিয়ে যাওয়া শরীয়তের নির্দেশনা পরিপন্থী। -জামে তিরমিযী ১/২০৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬৭, আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৬

                                

শেয়ার লিংক

মুহা. আব্দুল আজিজ - নারায়ণগঞ্জ

১১৭৯. প্রশ্ন

ক. জনৈক ব্যক্তির অতনে আসলি বি-বাড়িয়া আর তার অতনে ইকামত ঢাকার যাত্রাবাড়ী। এখন সে যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে সফর করল, যোহর বা আসরের সময় গাড়ি বি-বাড়িয়া থামাল শুধু নামাযের জন্য, নামায শেষ করে আবার যাত্রা শুরু করবে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। এখন যোহর বা আসার বি-বাড়িয়ায় কসর পড়বে, না পুরো পড়বে?

খ. আমার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের পাগলায়। আমি জাহাজে চাকরি করি। জাহাজ কখনও চট্টগ্রাম বন্দরে, কখনও খুলনা, বরিশাল আবার কখনও ঢাকায় আসে। কোথাও দশ দিন, কোথাও পনের দিন আবার কোথাও ২০/২৫ দিন থাকতে হয়। জাহাজ ঢাকায় আসলেও আমি বাড়িতে আসি না। বরং ছয়-সাত মাস পর পর আসা হয়। এমতাবস্থায় আমি যখন একা নামায পড়ব, কসর পড়ব না পুরো পড়বো?

বি. দ্র. উভয় মাসআলা ফিকহি কিতাবের ইবারতসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ঐ ব্যক্তির বাড়ি যে এলাকায় সে এলাকা দিয়ে গাড়ি অতিক্রম করলে সে মুকীম বলে গণ্য হবে। কিন্তু গাড়িটি যদি তার বাড়ির এলাকায় প্রবেশই না করে তবে সে মুসাফিরই থাকবে। -তাতারখানিয়া ২/২০

খ. জাহাজের অবস্থান ভেদে মুসাফির ও মুকীমের হুকুমও ভিন্ন হবে। ১. জাহাজ যতই বড় হোক চলন্ত অবস্থায় সেখানে ইকামতের নিয়ত শুদ্ধ নয়। তাই চলন্ত জাহাজে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করলেও আরোহী ব্যক্তি মুসাফির থাকবে। তদ্রূপ গভীর সমুদ্রে বা উপকূলের অনেক দূরে নোঙ্গর করলেও সেখানে ইকামতের নিয়ত শুদ্ধ নয়। ২. জাহাজ কোন বন্দর বা এলাকায় থামলে তাতে অবস্থানের হুকুম ঐ বন্দর বা এলাকায় অবস্থানের মতই। অর্থাৎ ঐ বন্দর বা এলাকায় নিজ আবাসস্থল হলে বন্দরে ভেড়ামাত্রই মুকীম হয়ে যাবে। আর যদি তা না হয় তাহলে সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করে তবেও মুকীম হবে। আর যদি ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত হয় তাহলে মুকীম হবে না।

যদি আরোহী ব্যক্তির একথা জানা না থাকে যে, তাকে এ বন্দরে কত দিন অবস্থান করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ থেকেও তা জানা সম্ভব না হয় তবে সে ক্ষেত্রেও ঐ বন্দরে লোকটি মুসাফির বলে গণ্য হবে। (যদি এটি তার নিজস্ব এলাকায় না হয়।) -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৭, আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমদাদুল হক - জামিয়া হোসাইনিয়া, নারায়ণগঞ্জ

১১৭৮. প্রশ্ন

জমি ক্রয়-বিক্রয়ের পর দলীল করার সময় ক্রেতা বিক্রেতাকে ভাড়া দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যায় এবং সেখানে যাওয়ার পর অনেক সময় বিক্রেতাকে খানা খাওয়ানো হয়। প্রশ্ন হল ক্রেতা কর্তৃক বিক্রেতাকে খাওয়ানো ও ভাড়া দিয়ে নিয়ে যাওয়া সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা?

উত্তর

না, খাওয়া-দাওয়া বা ক্রেতা কর্তৃক তার যাতায়াত ভাড়া দেওয়ার রেওয়াজটি সুদ নয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে করলে এটি না-জায়েযও হবে না।

শেয়ার লিংক

আহসান শরিফ - ফরিদাবাদ, ঢাকা

১১৭৭. প্রশ্ন

যদি কোনো মানুষ বিষ খায়, গলায় ফাঁস দিয়ে অথবা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যা করে তাহলে সে কি জাহান্নামী হবে? লোক মারফত জানতে পেলাম এমন লোক জাহান্নামী এবং এদের জন্য দুআ করা অনুচিত বা হারাম। কথাটা কতটুকু সত্য? সঠিক সমাধান পেলে উপকৃত হবো।

উত্তর

আপনার শোনা কথাটি ঠিক নয়। যদিও আত্মহত্যা কবীরা গুনাহ, অনেক ক্ষেত্রে এ গুনাহ থেকে তওবাও সম্ভব হয় না। তাই এর ভয়াবহতা খুব বেশী। কিন্তু এ ধরনের মুসলমান ব্যক্তিরও জানাযা পড়তে হবে। তবে সমাজের নেতৃস্থানীয়-অনুসরণীয় ব্যক্তিবর্গের এ জানাযায় শরীক না হওয়া ভাল। আর এদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করা সম্পূর্ণ জায়েয।

-সহীহ বুখারী ১/১৮২, রদ্দুল মুহতার ২/২১১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৩

শেয়ার লিংক

সোহরাব - আরজাবাদ, মিরপুর

১১৭৬. প্রশ্ন

ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট একাউন্ট খোলার একটি পদ্ধতি আছে, যেখানে নির্ধারিত সময়সীমা থাকে, ঐ সময় হওয়ার আগে টাকা উত্তোলন করতে পারে না। আর এর সর্বনিম্ন সময় হল পনের দিন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একাউন্ট হোল্ডারকে নির্ধারিত শর্তানুযায়ী লভ্যাংশও দিয়ে থাকে। এভাবে যদি কারো টাকা ব্যাংকে নির্ধারিত মেয়াদের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করা থাকে তাহলে তার যাকাতের হুকুম কী? বর্তমানেই তাকে যাকাত আদায় করতে হবে, নাকি টাকা উত্তোলন করার পর? দলীলসহ বিস্তারিত জানতে চাই।

খ. বর্তমানে টাকা-পয়সা সাথে নিয়ে সফর করা বড়ই রিস্কের ব্যাপার। অনেক সময় টাকা-পয়সার সাথে জানও চলে যায়। এজন্য বিভিন্ন এলাকায় হুন্ডির ব্যবসা চালু আছে। এমনকি এক দেশ থেকে অন্য দেশে এ ধরনের হুন্ডির মাধ্যমে টাকা-পয়সার আদান-প্রদান করা হয়। এ সম্পর্কে শরীয়তের হুকুম কী? দলীলসহ জানতে চাই।

উত্তর

ক. ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিটে টাকা জমা থাকলেও তার যাকাত দিতে হবে। এটি হাতে থাকা নগদ অর্থের মতই। আর ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা জমাকারী চাইলেই উত্তোলন করতে পারে। অবশ্য নির্ধারিত মেয়াদের আগে উঠালে আশানুরূপ সুদ পায় না। -আলবাহরুর রায়েক ২/২০২, তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২৫৬, ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫৭

খ. আপনি যে হুন্ডির হুকুম জানতে চেয়েছেন তার বিস্তারিত পদ্ধতি জানালে জবাব দেওয়া সহজ হবে।

শেয়ার লিংক

ফাতিমা খাতুন - উত্তরা, ঢাকা-১২৩০

১১৭৫. প্রশ্ন

শুনেছি পশ্চিম দিকে পা রেখে শোয়া নাকি হারাম। যদি হারাম না হয় তাহলে কী হবে? দয়া করে বলুন।

উত্তর

কোন ওযর ব্যতীত কিবলার দিকে পা দিয়ে শোয়া মাকরূহ। এতে কিবলার আদব রক্ষা হয় না।

-রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৫, ফাতহুল কাদীর ১/৩৬৬, হাশিয়াতুত তাহতাবী ১/২৯১, আল-ইনায়া ১/৩৬৭, আলবাহরুর রায়েক ২/৩৩

শেয়ার লিংক

মুহা. মনির হোসেন - নগরখানপুর, নারায়ণগঞ্জ

১১৭৪. প্রশ্ন

ক. বিদেশী এক কোম্পানি ইঞ্জিনিয়ারকে একটা কাজ দিয়েছে এবং বলে দিয়েছে যে, আপনি ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট করে প্লেনে চলে আসেন। আপনাকে এখানে আসার পর ফার্স্ট ক্লাসের ভাড়া এবং হোটেল ভাড়া বাবদ পাঁচ হাজার ডলার দেব। এগুলোর বিল দেখালেই আপনাকে টাকা পরিশোধ করে দেব। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব চাচ্ছেন, যেহেতু আমি ব্যবসায় যাচ্ছি এজন্য প্লেনের ফার্স্টক্লাসে না গিয়ে ইকোনমি ক্লাসে যাবো এবং হোটেল ভাড়া বাবদ পাঁচ হাজার ডলারের জায়গায় তিন হাজার ডলার খরচ করব। তাহলে অতিরিক্ত টাকাটা আমার লাভ হবে। এখন প্রশ্ন হল, কোম্পানি যে পরিমাণ টাকা খরচ করার জন্য বলেছে উপরের বিবরণ অনুযায়ী তার চেয়ে কম খরচ করে কোম্পানির পক্ষ থেকে অনুমোদিত পরিপূর্ণ বিলের টাকা তার জন্য গ্রহণ করা জায়েয হবে কিনা? দলীলসহ বিস্তারিত জানতে চাই।

খ. আমি গ্রামের এক  লোককে ৫৬ শতাংশ জমি ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে লিজ/ভাড়া দিই। তিনি উক্ত জমি আরেকজনের কাছে বর্গা দেন, কিন্তু আমার টাকার সমস্যার কারণে তাকে বলি যে, আপনি বর্গা হিসাবে এই জমি থেকে যে পরিমাণ ফসল পান ঐ পরিমাণ ফসল আমি আপনাকে দিয়ে যাব, উক্ত জমিটা পুনরায় অন্য আরেকজনকে লিজ হিসেবে দিতে চাই। এতে যদি তিনি সম্মত হন তাহলে এটা শরীয়তসম্মত হবে কি না, দলীলসহ অবগত করালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ক. প্রশ্নের বর্ণনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, খরচের বিল জমা দিতে হবে। আর সে বিল অনুযায়ীই টাকা পাওয়া যাবে। সুতরাং বিলে যথাযথ খরচ না লিখে মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করা হালাল হবে না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি তিন হাজার ডলার খরচ করা হয় তবে এর অতিরিক্ত লেখা বা নেওয়া জায়েয হবে না। -সূরা বাকারা ১৮৮, তাফসীরে কুরতুবী ২/৩৩৮, তাফসীরে রুহুল মাআনী ২/৭০

খ. না, এ পদ্ধতিতে জমিটি অন্যত্র লিজ দেওয়া জায়েয হবে না। জমির মালিক যদি জমিটি অন্যত্র লীজ দিতে চায় তবে পূর্বের লীজ চুক্তি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাতিল করতে হবে এবং লীজগ্রহীতাকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। পূর্বের চুক্তি বহাল রেখে অন্যত্র লীজ দেওয়ার সুযোগ নেই।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রকীবুল ইসলাম - শিবচর, মাদারীপুর

১১৭৩. প্রশ্ন

ক. অনেক মহিলাকে দেখা যায় জায়নামাযের পাশে একটি মাটির ঢিলা বা পাথর রেখে দেয় এবং নামায বা কুরআন তেলাওয়াত করার আগে তা দ্বারা তায়াম্মুম করে নেয়। এরপর নামায পড়ে। সাধারণত শীতকালেই এমনটি বেশি করতে দেখা যায়। পানি থাকা সত্ত্বেও এভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নামায পড়লে নামায হবে কি?

খ. গাছ ও ফলকে মানুষের বদনজর থেকে বাঁচানো জন্য গাছে ভাঙ্গা বা চুনকালী করা পাতিল, ঝাড়ু ইত্যাদি বাঁধা যাবে কি?

গ. চশমা চোখে দিয়ে নামায আদায় করা যাবে কি?

উত্তর

ক. তায়াম্মুম হল ওযুর বিকল্প ব্যবস্থা, যা একমাত্র শরীয়ত-স্বীকৃত ওযরের ক্ষেত্রে অবলম্বন করা যেতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত ওযু করার সামর্থ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তায়াম্মুম দ্বারা পবিত্রতা হাসিল হয় না। অতএব প্রশ্নোক্ত মহিলাটির ওযুর জন্য পানি ব্যবহার করলে যদি অসুস্থ হওয়া বা রোগ বৃদ্ধি পাওয়া কিংবা রোগ দির্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা না থাকে তবে সাধারণ ঠান্ডা বা ওযুর কষ্টের কারণে তায়াম্মুম করলে তা সহীহ হবে না। আর এ তায়াম্মুম দ্বারা নামায আদায় করলে সে নামাযও সহীহ হবে না। -সূরা নিসা ৪৩, আলবাহরুর রায়েক ১/১৪০, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/১৪৩

খ. বদনজর থেকে হেফাজত থাকার জন্য কুরআন হাদীসের দুআগুলো পড়বে। এ ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা উত্তম কাজ নয়। তবে এগুলোকে সাধারণ উসীলা হিসেবে ব্যবহার করা নাজায়েযও নয়। -ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪২৫, মাযমাউয্ যাওয়ায়েদ ৫/১৮৭, কাশফুল আসতার ৩/৪০৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৬

গ. চশমা চোখে দিয়ে সেজদা করলে যদি কপাল ও নাক যথাযথভাবে জমিনে লাগানো যায় তবে চশমা চোখে দিয়ে নামায পড়তে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি চশমার কারণে জমিনে নাক রাখা না যায় তাহলে বিশেষ ওযর ব্যতীত এ ধরনের চশমা পড়ে নামায আদায় করা যাবে না। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, বিনা ওযরে নাক জমিনে না লাগিয়ে সেজদা করা মাকরূহ তাহরীমী। -সহীহ মুসলিম ১/১৯৩, আলবাহরুর রায়েক ১/৩১৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫০৬

শেয়ার লিংক

জুয়েল - গৌরীপুর, ময়মনসিংহ

১১৭২. প্রশ্ন

জনাব, মাসিক আল কাউসার ডিসেম্বর ২০০৭ ইং সংখ্যায় শাবাব সোসাইটি নামে একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পাই যার শ্লোগান হচ্ছে, শরীআহ পরিপালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং সেখানে দ্বীনদার শ্রেণীর লোকদেরকে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়ার আহবান করা হচ্ছে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আপনার জানামতে উক্ত সোসাইটি আসলেই শরীয়তসম্মতভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি? আমরা কি উক্ত সোসাইটির সদস্য বা প্রতিনিধি হতে পারব? সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত শাবাব সোসাইটি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। তারা শরঈ নীতিমালা অনুসরণ করে কি না তাও জানা নেই।

উল্লেখ্য, বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্ত্ত বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা একটি পত্রিকা কর্তৃপক্ষের জন্য যে অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়ে উঠে না, এ কথা সবাই জানেন। তবুও আলকাউসার বিজ্ঞাপন প্রচারে শুরু থেকেই সম্ভাব্য সতর্কতা পালন করে আসছে। প্রশ্নোক্ত বিজ্ঞাপনটি সময় স্বল্পতার কারণে বিজ্ঞাপন বিভাগের লোকজন কর্তৃপক্ষকে না দেখিয়েই ছেপে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে আলকাউসার এ বিষয়ে আরো সতর্ক থাকবে ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমীন - ঢাকা

১১৭১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকাতে ধান উঠলে দেখা যায় অনেক কৃষক তাদের ধান দিয়ে বাজারে ব্যবসায়ীর কাছে এই শর্তে বিক্রি করে যে, আজ থেকে পাঁচ মাস পরে ধানের যে বাজারদর থাকবে তাই এর মূল্য। এইভাবে লেনদেন করে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হন। কেননা, পাঁচ মাস পরের বাজারদর মূল্য নির্ধারণের কারণে কৃষক মূল্য বেশী পান। অপরদিকে ব্যবসায়ী এ সময়ে ঐ ধান ব্যবসায় খাটিয়ে লাভবান হন। এখন আমার জানার বিষয় হলো, পরবর্তী সময়ের বাজারদর হিসাবে মূল্য নির্ধারণ করা হবে এমন চুক্তিতে ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ কিনা? যদি বৈধ না হয় তাহলে এর কোন বিকল্প ব্যবস্থা শরীয়তে আছে কিনা? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

কেনাবেচা বৈধ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো, বিক্রি চুক্তির বৈঠকেই মূল্য সুনির্দিষ্ট হওয়া। বৈঠকের শেষ পর্যন্তও যদি মূল্য চূড়ান্ত না হয় তাহলে ঐ ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হয় না। সুতরাং আপনাদের এলাকার ঐ ধরনের কারবারও চুক্তির সময় মূল্য নির্দিষ্ট না হওয়ার কারণে তা নাজায়েয। এ কারবার সহীহভাবে করতে চাইলে বিক্রয়চুক্তির সময়েই পণ্যের মূল্য চূড়ান্ত করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে ধানের মূল্য কত হতে পারে তা অনুমান করে সে হিসাবে এখনই চূড়ান্ত মূল্য ঠিক করে নিতে হবে। পরবর্তীতে বাজারমূল্য এর চেয়ে কম বা বেশী হলেও ধানগ্রহিতার উপর নির্ধারিত মূল্যই পরিশোধ করা জরুরি থাকবে।

-সুনানে তিরমিযী ১/২৩৩, আলবাহরুর রায়েক ৫/২৭৪, ফাতহুল কাদীর ৫/৪৬৭, আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬১, ফাতাওয়া খানিয়া ২/১৩৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল করীম - চৌড়হাস, কুষ্টিয়া

১১৭০. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার একব্যক্তি বিয়ে করার সময় মহরের পরিমাণ উল্লেখ করলেও তা নগদ না বাকী তা উল্লেখ করেনি। এখন তার স্ত্রী তার পরিবার কর্তৃক প্ররোচিত হয়ে নগদ মহর চাচ্ছে কিন্তু স্বামী তা নগদ দিতে নারাজ। পরবর্তীতে পারিবারিক শালিসে সিদ্ধান্ত হয় যে, এ বিষয়ে শরীয়তের যে ফয়সালা হবে তা সকলে মেনে নেবে। এখন আমার জানার বিষয় হলো, বিয়েতে যদি মহরের নগদবাকী উল্লেখ না করে তাহলে ঐ মহরের ব্যাপারে শরীয়তের ফয়সালা কি? তা জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলাকে মহর অংশ বিশেষ আদায় করে দিতে হবে এবং তার পরিমাণ নির্ধারিত হবে স্বামীর আর্থিক অবস্থা ও স্ত্রীর সামাজিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। আর অংশ বিশেষ মহর আদায়ের পর অবশিষ্ট মহর বাকী হিসাবে পরিগণিত হবে। তবে স্বামীর আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল হলে অবশিষ্টাংশও দ্রুত পরিশোধ করে দেওয়া শ্রেয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৭৯, আল বাহরুর রায়েক ৩/১৭৮, ফাতাওয়া খানীয়া ১/৩৮৫, আদ্দুররুল  মুখতার  ৩/১৪৪,  আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১৩৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ - নেত্রকোনা

১১৬৯. প্রশ্ন

চৌকি বা খাটের উপর নামায পড়া অবস্থায় সামনে দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে সে কি গোনাহগার হবে? উল্লেখ্য, চৌকি বা খাট দেড়-দুই ফুট উঁচু হয়ে থাকে।

উত্তর

যেমনিভাবে সমতল যমীনের উপর নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নিষেধ, তেমনিভাবে চৌকি বা খাটের উপর নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করাও নিষেধ। অবশ্য প্রয়োজনে বসে বসে খাটের সমতলের নিচ দিয়ে কিংবা নামাযীর সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করতে পারবে।

-সহীহ বুখারী ১/৭১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৪, ফাতহুল কাদীর ১/৩৪৫, আলবাহরুর রায়েক ২/১৭, আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৪

শেয়ার লিংক

আসকর সরদার - উত্তরা, ঢাকা

১১৬৮. প্রশ্ন

আমি বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি, আমাদের মার্কেটে দৈনিক অনেক গরু যবেহ হয়। আমরা এ উদ্দেশ্যে একজন হুজুর রেখেছি। তিনি প্রত্যহ সকালে এসে যবেহ করেন। অনেক সময় তিনি দুর্বল হয়ে পড়লে তার হাতের সাথে কসাই হাত রেখে দুজনে এক সাথে যবেহের কাজ সম্পন্ন করে। এখন আমার জানার বিষয় হল, ঐ কসাইকেও বিসমিল্লাহ পড়তে হবে কিনা? দলীলসহ বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

খাদ্যনালী, কণ্ঠনালী ও দুটি শাহরগের মধ্যে যে কোন তিনটির কাটা যদি ঐ হুজুরের হাতেই সম্পন্ন হয়ে যায়, তবে ঐ কসাইয়ের বিসমিল্লাহ পড়া জরুরি নয়। কিন্তু যদি ঐ হুজুরের হাতে অন্তত তিনটির কাটা সম্পন্ন না হয় তাহলে জবাইয়ে সহায়তাকারীকে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে। এক্ষেত্রে কোন একজনও বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিলে যবেহ শুদ্ধ হবে না। মনে রাখতে হবে, যবেহের জন্য শক্তিশালী এমন ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেওয়া বাঞ্চণীয় যে একাই পরিপূর্ণ যবেহ সম্পন্ন করতে পারে।

-সুরা আনআম; আয়াত ১২১, সহীহ বুখারী, ২/৮২৭, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৩৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৪

শেয়ার লিংক

আকলিমা সুলতানা - কুমিল্লা

১১৬৭. প্রশ্ন

আমি হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার পর আমার ছেলে আমাকে একটি সোনার হার দিয়েছে। এখন আমি জানতে চাই ইহরাম অবস্থায় আমি ঐ হার পরতে পারবো কি না?

উত্তর

হাঁ, ইহরাম অবস্থায় আপনি ঐ হার পরতে পারবেন। ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য অলংকার পরিধান করা দোষণীয় নয়।

-সহীহ বুখারী ১/২০৯, মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা ৪/৩৬৭, বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১০, মানাসিকে মোল্লাআলী ১১৫, রদ্দুল মুহতার ২/৫২৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩৫

শেয়ার লিংক

মাওলানা মতিউর রহমান - ময়মনসিংহ

১১৬৬. প্রশ্ন

আমার নিকট যাকাতের নেসাব পরিমাণ টাকা আছে এবং তার ওপর বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর মহর-যা নগদ আদায় যোগ্য নয়-এ মহরের পরিমাণ এত যে, তা আদায় করলে টাকার পরিমাণ নেসাব থেকে কমে যাবে। এখন আমার জানার বিষয় হল, যে মহর নগদ আদায় করা জরুরি নয় তা ঋণ হিসাবে কর্তনযোগ্য কিনা?

উত্তর

যে সম্পদের ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়েছে এ সম্পদ থেকেই নগদে স্ত্রীর মহর আদায় করে দিলে কিংবা নগদে আদায়ের উদ্দেশ্যে টাকা গচ্ছিত করে থাকলে নগদ মহর পরিমাণ অর্থ যাকাতের নেসাব থেকে কর্তন করা হবে। আর যদি সে এখন স্ত্রীর মহর নগদ আদায়ের ইচ্ছা না করে থাকে তবে ওই মহরের টাকা যাকাতের নেসাব থেকে কর্তিত হবে না। বরং মহর অনাদায়ী থাকা সত্ত্বেও যাকাতযোগ্য সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে।

-আল বাহরুর রায়েক ২/২০৪, ফাতহুল কাদীর ২/১২০, বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৩, আদ্দুররুল মুখতার ২/১২০

শেয়ার লিংক

ইবনুল হুমাম - ফেনী

১১৬৫. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার জনৈক ব্যক্তি ট্রেন দুর্ঘটনায় উভয় পা হারায়। বর্তমানে সে হুইল চেয়ারের সাহায্যে চলাফেরা করে। এখন তার উপর কি মসজিদে গিয়ে জুমার নামায আদায় করা জরুরি? না কি বাড়িতে যোহরের নামায আদায় করলেই চলবে?

উত্তর

উভয় পা নেই কিংবা পায়ে চলার শক্তি নেই এমন ব্যক্তির ওপর জুমা ফরয নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি জুমাতে শরীক না হয়ে একাকী যোহরের নামাযও আদায় করতে পারবে। অবশ্য সে মসজিদে গিয়ে জুমার নামায পড়ে নিলে তা আদায় হয়ে যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৮২, আল বাহরুর রায়েক ২/১৫১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১০, শরহুল মুনিয়া ৫৪৯, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৪

শেয়ার লিংক

ডা. আব্দুল্লাহ - মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

১১৬৪. প্রশ্ন

একজন হিন্দু মেয়ে ইসলাম গ্রহণ করে একজন মুসলিম ছেলের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। সামাজিক কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তার ইসলাম গ্রহণ ও বিবাহের কথা গোপন রেখেছে এবং আগের মতোই তার মা-মাবার কাছে থেকে তাদের সাথেই খাওয়া-দাওয়াসহ জীবিকা নির্বাহ করছে। এখন প্রশ্ন হলো স্বামী থাকা সত্ত্বেও অমুসলিম পিতার সম্পদ থেকে এভাবে জীবিকা গ্রহণ বৈধ হচ্ছে কি?

উল্লেখ্য, পিতা তার জীবিকার দায়িত্ব বহন করতে সক্ষম। আর মেয়েরও স্বামী ছাড়া ভিন্ন কোন উপায় নেই।

উত্তর

অমুসলিম পিতা-মাতার সম্পদ থেকে মুসলিম সন্তানাদির জীবিকা নির্বাহ অবৈধ নয়। তাই উক্ত মেয়ের জন্যও তার পিতার বাড়িতে খাওয়া-থাকা বৈধ। তবে মেয়েটির নিজের ইসলাম গ্রহণ করার কথা গোপন রাখা ঠিক হচ্ছে না। বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়া এবং সম্পূর্ণ ইসলামী-জীবনযাপন করা তার কর্তব্য। পিতামাতার কাছে থেকে এটি সম্ভব না হলে বা এর ফলে কোন সমস্যা দেখা দিলে মেয়েটি মুসলিম স্বামীর নিকট চলে আসবে এবং স্বীয় কর্তব্য পালন করবে। পরবর্তীতে সমস্যা কেটে গেলে মাতাপিতা ও মাহরাম আত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে। এমনকি প্রয়োজনে তাদের সেবা-যত্নও করতে পারবে।

-মুসনাদে আহমদ ৪/৪ হাদীস নং ১৫৬৭৯, বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪৪৯, আদ্দুররুল মুখতার ৩/৬১৪, আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৬১৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাসান মাহমুদ - কাশখালী, মাগুরা

১১৬৩. প্রশ্ন

আমরা জানি, রোযা অবস্থায় কুলি করতে গেলে অসাবধানতা বশত গলাতে পানি চলে গেলে রোযা ভেঙ্গে যায়। তবে কাফ্ফারা ওয়াজিব হয় না। এখন আমার জানার বিষয় হলো, অসাবধানতা বশত কি পরিমাণ পানি গলাতে চলে গেলে রোযা ভেঙ্গে যাবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

রোযা অবস্থায় গলাতে সামান্য পানি ঢুকে পড়লে এমনকি তা দুএক ফোটা হলেও রোযা ভেঙ্গে যাবে। অসাবধানতা বশত এরূপ ঘটলে পরবর্তীতে রোযাটির শুধু কাযা করে নিতে হবে।

-ফাতহুল কাদীর ২/২৫৮, আলইনায়া ২/২৫৮, ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কিরামত আলী - চৌড়হাস, কুষ্টিয়া

১১৬২. প্রশ্ন

আমাদের এলাকাতে এক ব্যক্তির সন্তান অসুস্থ হলে সে একটি নির্দিষ্ট ছাগল কুরবানী করার মান্নত করে। কিন্তু কুরবানীর সময় আসার আগেই ছাগলটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে সঙ্গে সঙ্গে তা যবেহ করে গোস্ত গরীবদের মাঝে ছদকা করে দেয়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, ঐ ব্যক্তি কি অন্য ছাগল দিয়ে মান্নতের কুরবানী দিতে বাধ্য থাকবে? নাকি মান্নতের কুরবানী তার থেকে রহিত হয়ে যাবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রাণীটি যবেহ করে গোস্ত সদকা করে দেওয়া শুদ্ধ হয়েছে এবং মান্নতও আদায় হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে মান্নতের জন্য অন্য কোন প্রাণী যবেহ করা জরুরি নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, রুদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

শেয়ার লিংক