মুসআব উমাইর - ঘোড়াশাল, নরসিংদী

৬৮৪১. প্রশ্ন

আলেমদের কাছে শুনেছি, মুকীম ব্যক্তি এক দিন এক রাত আর মুসাফির ব্যক্তি তিন দিন তিন রাত মোজার ওপর মাসেহ করতে পারে

আমার জানার বিষয় হল, মাসেহের মেয়াদ কি মোজা পরিধান করার পর থেকেই শুরু হবে? না হলে কখন থেকে?

 

উত্তর

না, মোজার ওপর মাসেহের মেয়াদ মোজা পরিধানের পর থেকে শুরু হবে না; বরং পবিত্র অবস্থায় মোজা পরার পর যখন প্রথম ওযু ভাঙবে তখন থেকে মাসেহের মেয়াদ শুরু হবে সুতরাং তখন থেকে মুকীম ব্যক্তি এক দিন এক রাত (২৪ ঘণ্টা) আর মুসাফির তিন দিন তিন রাত মাসেহ করতে পারবে

* كتاب >الأصل< للشيباني /৭০ : قلت: أرأيت رجلا توضأ، ولبس خفيه وصلى الغداة، ثم أحدث، فمكث محدثا حتى زالت الشمس، فتوضأ ومسح على خفيه، حتى متى يجزيه ذلك المسح؟ قال: إلى الساعة التي أحدث فيها من الغد. قلت: ولا يجزيه ذلك إلى الساعة التي مسح عليها؟ قال: لا.

আলমাবসূত, সারাখসী ১/৯৯; তুহফাতুল ফুকাহা ১/৮৪; আলমুজতাবা, যাহেদী ১/১০৬; যাদুল ফুকাহা ১/৭৮; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৩২১; আননাহরুল ফায়েক ১/১১৮

শেয়ার লিংক

নওশীন নুসরাত - ঠিকানা নেই

৬৮৪২. প্রশ্ন

নামায পড়ার সময় মেয়েদের টাখনু ঢেকে রাখা কি জরুরি? সেলোয়ার খাটো হওয়ার কারণে রুকুতে গেলে কখনো কখনো তা কিছুটা উপরের দিকে উঠে যায় ফলে শুধু টাখনু অনাবৃত হয়ে যায় রুকুর পুরো সময় এভাবেই থাকে এতে কি আমার নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

উত্তর

নারীদের টাখনু নামাযে সতরের অন্তর্ভুক্ত নামাযে তাদের উভয় পা টাখনুসহ ঢেকে রাখা জরুরি তাই মহিলাগণ লম্বা সালোয়ার অথবা এমন পোশাক পরে নামায আদায় করবে, যা তাদের পুরো পা ঢেকে রাখে অবশ্য মহিলাদের টাখনু পায়ের নলাসহ একটি অঙ্গ হিসেবে গণ্য হয় তাই নামাযে কখনো শুধু টাখনু অনাবৃত হয়ে গেলে বা খোলা থেকে গেলে যেহেতু তা ওই অঙ্গের এক চতুর্থাংশের কম, তাই এর কারণে নামায নষ্ট হবে না

* >غنية المتملي< ص ২১৩ : قال ابن الهمام: >وكعب المرأة ينبغي أن يكون كذلك<، يعني تبع لساقها، لاعضوا مستقلا؛ لأنه ملتقى عظمي الساق والقدم، فعلى هذا لوصلت وكعباها مكشوفة تجوز صلاتها؛ لأن الكعاب لا تبلغ ربع الساق مع الكعبين.

খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭৪; ফাতহুল কাদীর ১/২২৮; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭১; আদ্দুররুল মুনতাকা ১/১২২; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ১৩২; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৯

শেয়ার লিংক

ইবরাহীম - কিশোরগঞ্জ

৬৮৪৩. প্রশ্ন

একদিন একাকী যোহর নামায পড়ছিলাম নামাযের বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর বেখেয়ালীতে দাঁড়িয়ে যাই দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে পড়ে যায়, এটা চতুর্থ রাকাতের বৈঠক ছিল আমি তৎক্ষণাৎ বসে যাই এবং পুনরায় তাশাহহুদ পড়ে সাহু সিজদা করে যথানিয়মে নামায শেষ করি

জানার বিষয় হল, আমার এ নামায কি আদায় হয়েছে? এক্ষেত্রে পুনরায় তাশাহহুদ পড়া নিয়মসম্মত হয়েছে, নাকি প্রথম তাশাহহুদই যথেষ্ট ছিল?

উত্তর

হাঁ, আপনার উক্ত নামায আদায় হয়েছে এক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহু করার আগে তাশাহহুদ পড়া নিয়মসম্মতই হয়েছে

ইমাম মুহাম্মাদ রাহ.-এর ‘কিতাবুল আছল’ এবং ‘কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ’-এ সাহু সিজদার আগে এক্ষেত্রেও তাশাহহুদ পড়ার কথা বলা হয়েছে

অবশ্য এক্ষেত্রে তাশাহহুদ না পড়ে বসামাত্রই সিজদায়ে সাহু করে নেওয়ার একটি মতও আছে পরবর্তী অনেক ফকীহ এ মাসআলায় এ মতের ওপর ফতোয়া দিয়েছেন তাই এক্ষেত্রে কেউ বৈঠকে ফিরে আসার পর তাশাহহুদ না পড়ে বসামাত্রই সাহু সিজদা  করে নিলেও সহীহ হবে

* >الحجة على أهل المدينة< /১৬০ : وقال أبو حنيفة فيمن سها في الصلاة، فقام بعد تمام الأربع بعد التشهد، فقرأ ثم ركع، فلما رفع رأسه من ركوعه ذكر أنه قد أتم الصلاة، أنه يرجع فيجلس، ولا يسجد تلك الركعة، وبعد التشهد سجد سجدتين للسهو.

কিতাবুল আছল ১/২২৯; আজনাস, নাতিফী ১/৯৪; শরহুল জামিইস সাগীর, কারদারী ১/৩০২; আলমুজতাবা, যাহেদী ১/৩৬৬; মি‘রাজুুদ দিরায়া ২/১৬০; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৫১৯

শেয়ার লিংক

আনোয়ার হুসাইন - ধোলাইপাড়, যাত্রাবাড়ী

৬৮৪৪. প্রশ্ন

সম্মানিত মুফতী সাহেবদের কাছে একটি মাসআলা জানার দরকার ছিল কোনো ছেলে বা মেয়ের নিকট যখন বিবাহের প্রস্তাব পেশ করা হয় এবং বলা হয়, ‘তুমি তাতে রাজি আছ কি না’ অথবা কোনো কাজী যখন তাকে বলে, ‘কবুল বল’, তখন সে কবুল না বলে যদি বলে ‘আলহামদু লিল্লাহ’, তাহলে কি বিবাহ শুদ্ধ হবে?

দলীলের আলোকে বললে উপকৃত হতাম

আমাদের এলাকায় বর্তমানে এরকম একটা সংসার আছে এমনকি সংসারে একজন মেয়েও জন্মলাভ করেছে তাহলে এই সংসারের কী হুকুম হবে? এক্ষেত্রে নাবালেগা বা বালেগার মধ্যে কোনো পার্থক্য হবে কি না?

উত্তর

আমাদের দেশে ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলে সম্মতি প্রকাশের রেওয়াজ রয়েছে তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের এলাকার ওই দম্পতির বিবাহ সহীহ হয়েছে অতএব শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের ঘর-সংসার চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নেই যদিও এক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি হল, বিবাহের প্রস্তাবের পর স্পষ্ট ভাষায় ‘আমি কবুল করলাম’ বলে নেওয়া সাথে ‘আলহামদু লিল্লাহ’-ও বলতে পারবে

* >خلاصة الفتاوى< /: ولو لم يقل الرجل ذلك، لكنه قال لها: شاباش، إن لم يقل بطريق الطنز يصح النكاح.

ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/১০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭২; রদ্দুল মুহতার ৩/১০, ১৮

শেয়ার লিংক

মোঃ ইমরান হোসাইন - নলছিটি, ঝালকাঠি

৬৮৪৫. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক লোক তার বৈমাত্রেয় বোনের নাতনিকে বিবাহ করতে চাচ্ছে

জানতে চাচ্ছি, বৈমাত্রেয় বোনের নাতনির সঙ্গে তার বিবাহ বন্ধন কি বৈধ? আরও জানতে চাচ্ছি, আপন ভাই-বোনের নাতনিকে বিবাহ করার বিধান এবং বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই-বোনের নাতনিকে বিবাহ করার বিধান কি এক, না ভিন্ন?

উত্তর

আপন ভাই-বোনের নাতনি যেমন মাহরাম, তেমনি বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই-বোনের নাতনিও মাহরাম এদের হুকুমও আপন ভাই-বোনের নাতনির মতোই তাদের কারও সাথেই বিবাহ বৈধ নয় তাই আপনাদের এলাকার লোকটির জন্য তার বৈমাত্রেয় বোনের নাতনিকে বিবাহ করা কিছুতেই বৈধ হবে না এ থেকে তার বিরত থাকা জরুরি

* >الحاوي القدسي< /৩৬৯ : فالمحرمات للقرابة سبع، وهن: ... والأخوات الثلاث: لأب وأم، ولأب، ولأم، وبناتهن، وبنات الإخوة كذلك، وإن نزلن.

কিতাবুল আছল ৪/৩৫৮; মারাতিবুল ইজমা, পৃ. ১২০; আলমুহীতুর রাযাবী ৩/৬; আলইখতিয়ার ৩/৪৪; তাফসীরে আবিস সাঊদ ২/১১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৮-২৯

শেয়ার লিংক

সুমাইয়্যা - বাড্ডা, ঢাকা

৬৮৪৬. প্রশ্ন

আমি দুই সন্তান এবং স্বামী নিয়ে আলাদা ভাড়া বাসায় থাকি আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এবং একমাত্র ননদ তারাও আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন আমার শ্বশুর চাকরি করে নিজের পরিবার চালান আর আমার স্বামী আমাদের পরিবার আমরা একই এলাকায় কাছাকাছি জায়গাতে থাকি আসা-যাওয়াও হয় এর মধ্যে উনারা প্রায়ই আমার স্বামীকে একসাথে থাকতে না পারার কষ্ট এবং দুঃখ প্রকাশ করেন আবার আমার স্বামীও আমার কাছে বাবা-মায়ের সাথে থাকতে না পারার কষ্ট প্রকাশ করেন আমি একাধিকবার তাদের সাথে থাকতে গিয়ে নানাবিধ সমস্যার কারণে আলাদা হয়ে এখন আর তাদের সাথে থাকতে চাচ্ছি না

আমার জানার বিষয় হল, এতে কি আমার গুনাহ হবে? আমার স্বামী যদি আমার মনে কষ্ট থাকা সত্ত্বেও তাদের সাথে থাকার ব্যবস্থা করেন, তাতে কি তার গুনাহ হবে, নাকি বাবা-মায়ের ইচ্ছা পূরণ না করে এভাবে আলাদা থাকাতে তাঁর গুনাহ হচ্ছে? সর্বোপরি এখন আমাদের করণীয় কী?

উত্তর

স্ত্রী হিসেবে স্বামীর ওপর আপনার যেমন হক রয়েছে, সন্তান হিসেবে আপনার স্বামীর ওপর তার পিতামাতারও হক রয়েছে স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার ভালোভাবে থাকার ব্যবস্থা করা এবং আপনার শরীয়তসম্মত হকগুলো আদায়ের প্রতি খেয়াল রাখা যেমন তার দায়িত্ব, তেমনিভাবে সন্তান হিসেবে পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট রাখা, তাদের প্রয়োজনাদি পূরণ করা এবং সাধ্যমতো তাদের খেদমত করাও তার দায়িত্ব শরীয়তের দৃষ্টিতে উভয় হকই আদায় করা তার জন্য জরুরি একজনের হক আদায় করতে গিয়ে যাতে অন্যজনের হক ক্ষুণ্ন না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা এবং উভয়টিকে সমন্বয় করে চলাও জরুরি

আর স্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব হল, স্বামীর আনুগত্য করা এবং তার হকগুলো আদায়ের পাশাপাশি তার পিতা-মাতার হকগুলো আদায়ের ক্ষেত্রেও তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা আপনার কারণে তার পিতা-মাতার হক আদায়ে যেন কোনো বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু আপনার শ্বশুর-শাশুড়ির ইচ্ছা হল, আপনি তাদের সাথেই থাকবেন আর এটি আপনার স্বামীরও ইচ্ছা, তাই এক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে নিজের ইচ্ছার বিপরীত হলেও স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করা এক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হবে

শ্বশুর-শাশুড়ির করণীয় হল, পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো দেখা নিজের মেয়েকে যেভাবে আদর ও শাসনের মাঝে রাখেন, তার অনেক কিছু মাফ করে দেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাকে ছাড় দেন, পুত্রবধূর ক্ষেত্রেও এভাবে খেয়াল রাখবেন

আর পুত্রবধূ হিসেবে আপনার করণীয় হল, শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের বাবা-মায়ের মতো মনে করা তাদেরকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করা তাদের কোনো আচরণ-উচ্চারণ ভালো না লাগলে কিংবা আপনার সাথে ভালো আচরণ না করলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে পাশ কাটিয়ে যাওয়া কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে যদি মনে হয় এর কারণে সমস্যা কমবে না; বরং আরও বাড়বে, সেক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়া এবং ধৈর্যধারণ করা যদি বিষয়টি এভাবে সমাধান করে তাদের সাথে থাকা সম্ভব হয়, তাহলে এর চেষ্টা করবেন

মনে রাখতে হবে, ছোট-খাটো সমস্যা, ঝগড়া-বিবাদ নিজেরা একা থাকলেও পরিবারগুলোতে মাঝেমধ্যেই হয়ে থাকে কিন্তু ঝামেলা যদি বড় ধরনের হয়, সমাধান করা সম্ভব না হয় এবং একত্রে থাকার কারণে বাস্তবেই সংসারে আরও বেশি ঝামেলা ও অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে আপনারা পৃথক বাসায় থেকে তাদের হক আদায়ের চেষ্টা করতে পারেন

এক বাসায় অবস্থান করুন অথবা পৃথক বাসায়, আপনার স্বামীকে পিতা-মাতার হক আদায়, সুখ-দুঃখে তাদের সঙ্গ দেওয়া এবং তাদের প্রয়োজন পূরণের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যেতে হবে

এ বিষয়ে আপনার দায়িত্ব, তাকে পূর্ণ সমর্থন প্রদান ও সহযোগিতা করা এবং আপনার কর্তব্য হবে, স্বামীর পিতা-মাতা হিসেবে তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সদাচরণ জারি রাখা

আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ২/১০৯, ১৮৮, ১৯৩; আহকামুল কুরআন, ইবনুল আরাবী ১/৪৯৩-৪৯৪; আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়েখ, পৃ. ১৯০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪২৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪২৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৯৯-৬০১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কাউসার - ময়মনসিংহ

৬৮৪৭. প্রশ্ন

আমার বউয়ের সামনে একটা ক্লিনিকের  ১৪ তালা এ কথা বলতে গিয়ে আমার গলার মধ্যে আটকে গিয়ে ১৪ তালাক বলা হয়ে যায় এর দ্বারা আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো সমস্যা হল কি না এটা নিয়ে বড় চিন্তায় পড়ে গেছি দয়া করে এর সঠিক উত্তর দিয়ে উপকৃত করবেন

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী বাস্তবেই যদি ভবনটির ১৪ তলার কথা বলতে গিয়ে মুখ ফসকে ‘তালাক’ শব্দ বেরিয়ে যায়, তবে এর দ্বারা আপনার স্ত্রীর ওপর কোনো তালাক পতিত হয়নি; বরং আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বের মতোই বহাল আছে তাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই আপনারা নিশ্চিন্তে সংসার চালিয়ে যেতে পারবেন

* >فتح القدير< /৩৫১ : ثم قولنا لا يتوقف على النية، معناه: إذا لم ينو شيئا أصلا يقع، لا أنه يقع وإن نوى شيئا آخر، لما ذكر أنه إذا نوى الطلاق عن وثاق، صدق ديانة لا قضاء، وكذا عن العمل في رواية، كما سيذكر، ولا بد من القصد بالخطاب بلفظ الطلاق عالما بمعناه أو بالنسبة إلى الغائبة، كما يفيده فروع، هو: أنه لو كرر مسائل الطلاق بحضرة زوجته، ويقول: أنت طالق ولا ينوي طلاقا لا تطلق.

আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ৪/১৬; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ১/১৭৭; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৫৮; আননাহরুল ফায়েক ২/৩২৫; রদ্দুল মুহতার ৩/২৪১

শেয়ার লিংক

মিসবাহ উদ্দিন - সদর, বি. বাড়িয়া

৬৮৪৮. প্রশ্ন

একটি জায়গা পাকিস্তান আমলে কবরস্থান ছিল তারপর নদীতে ভেঙে যায় তারপর আবার নদী ভরাট হয়ে গেছে এখন এই জায়গায় বাঁশ লাগানো আছে এবং চাষাবাদ করা হয় যেমন জালা খেত, রয়া ক্ষেত, ধান ক্ষেত ইত্যাদি

আমার জানার বিষয় হল, এমন জমিনে ঘর বানিয়ে বসবাস করা যাবে কি?

উত্তর

উক্ত কবরস্থান যদি ওয়াকফিয়া কিংবা সরকারি হয়; কারও ব্যক্তিমালিকানাধীন না হয়, তাহলে সেখানে এখন চাষাবাদ বা বসবাস করা জায়েয হবে না নদীতে ভেঙে গেলেও পরে যেহেতু তা ভরাট হয়ে পুনরায় কবরস্থানের উপযুক্ত হয়ে গেছে, তাই ওই জায়গাটি এখন কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হবে

আর কবরস্থানটি ওয়াকফিয়া বা সরকারি না হয়ে যদি ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়ে থাকে, তাহলে ওই জমির মালিকগণ (অর্থাৎ নদী ভাঙার পূর্বে যারা মালিক ছিল) সেখানে চাষাবাদ, বসবাস করতে পারবে

* >الملتقط في الفتاوى< ص ৩৩৫ : مقبرة قديمة لم يبق من آثار المقبرة شيء، فليس للناس أن ينتفعوا بها، ولا البناء فيها.

ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩১৪; আলহাবিল কুদসী ১/৫৫০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১, ২৫২; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৮; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৫৯

শেয়ার লিংক

রিদওয়ান মাহমুদ - চাঁদপুর

৬৮৪৯. প্রশ্ন

টাকা ছিঁড়ে গেলে বা দুই ভাগ হয়ে গেলে অচল হয়ে যায় কেউ নিতে চায় না কিন্তু টাকার নম্বরগুলো স্পষ্ট থাকলে সে টাকা চালানো যায় এবং টাকার নম্বর থাকার কারণে এই টাকা যারা ক্রয় করে থাকেন, তারা বিনিময়ে কিছু টাকা কম দিয়ে থাকেন যেমন ছেঁড়া-ফাটা এক হাজার টাকা নিয়ে গেলে তারা ওই টাকা রেখে ৯০০ টাকা দিয়ে থাকেন এটা কতটুকু বৈধ?

উত্তর

টাকা ছেঁড়া-ফাটা হোক বা অক্ষত, তা কমবেশি মূল্যে কেনাবেচা করা বৈধ নয় সাধারণ পর্যায়ের ছেঁড়া নোট ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবর্তন করলে সমমূল্যেই পরিবর্তন করা যায় অর্থাৎ ক্রয় মূল্যমান অপরিবর্তনীয়ই থাকে তাই একই দেশের মুদ্রা (ছেঁড়া বা ভালো) কমবেশি মূল্যে লেনদেন করা জায়েয হবে না

অবশ্য ছেঁড়া-ফাটা টাকা যারা সংগ্রহ করে, তারা এগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবর্তন করে থাকে, তাই তারা এর জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক নিতে পারবে কিন্তু কম বা বেশি মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না

আর ভালো বা পুরাতন নোটের বিনিময়ে নতুন নোট বেশি দামে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয নয় এক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের কোনো প্রশ্ন নেই

ফাতাওয়া খানিয়া ৩/১৪; আলহিদায়া ৬/১৬২; দুরারুল হুক্কাম ৩/৬০৩; মাজাল্লাতু মাজমায়িল ফিকহিল ইসলামী ৩/৩/১৯৬৫; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৫৮৭-৫৮৮; ফাতাওয়া রাহিমিয়া ৯/২০৭

শেয়ার লিংক

রিদওয়ান মাহমুদ - চাঁদপুর

৬৮৫০. প্রশ্ন

আমার ভাই সৌদি আরব থাকেন যখন বাড়িতে আসেন তখন সাথে করে ওই দেশি কিছু মুদ্রা (রিয়াল) নিয়ে আসেন, এবং সেগুলোকে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করে তা খরচ করেন

জানার বিষয় হল, ওই দেশের টাকার যে বাজারমূল্য আছে, তা থেকে কিছু কমবেশি করে লেনদেন করলে সেটি বৈধ হবে কি না? এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না?

যেমন বর্তমান সৌদি আরবের ১ টাকা বাংলাদেশি ৩২ টাকা ৪৪ পয়সা ওইদিন দেখলাম, আমার ভাইয়া সৌদি আরবের ১ হাজার টাকা বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে গেলে যিনি নিয়েছেন তিনি শুধু ৩২ টাকা করে দিয়েছেন এটি কতটুকু বৈধ হয়েছে?

আশা করছি বিষয়টি জানিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন জাযাকুমুল্লাহ

উত্তর

বৈদেশিক মুদ্রা নগদে লেনদেন করলে বাজার দর থেকে কিছুটা কমবেশি মূল্যে বিনিময় করা জায়েয আছে তাই আপনার ভাইয়ের বাজার দরের চেয়ে কম দামে রিয়াল বিক্রি করার কারণে তা নাজায়েয বা সুদ হয়নি

তবে যদি একটি মুদ্রা নগদে প্রদান করে এর মূল্য (অন্য মুদ্রা) বাকি রাখা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে ওই দিনের বাজার দর অনুযায়ী লেনদেন করা আবশ্যক কোনোক্রমেই তা ওই দিনের বাজার দর থেকে বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৩৪৭; কিতাবুল আছল ৩/২২; আদ্দুররুল মুখতার ৫/২৫৮-২৫৯; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৫৯০

শেয়ার লিংক

রিয়া - ঠিকানা নেই

৬৮৫১. প্রশ্ন

একজনের বাবা জীবিত আছেন, মা মারা গেছেন তারা এক ভাই এক বোন তার বাবা সরকারি চাকরি করেন মাসে মাসে ডিপিএস/পেনশন স্কিম বা এ জাতীয় কিছুতে টাকা জমাচ্ছেন

তার বাবা তাকে (ছেলেকে) বলেছেন, আমি মারা গেলে যেই টাকা (যেমন ধরেন, ২০ লাখ টাকা বা কিছু বেশি-কম) পাবে, সেখান থেকে ৫ লাখ তোমার বোনকে দেবে আর বাকি কিছু টাকা তোমার চলার মতো রেখে বাকিটা দিয়ে বাবার জায়গায় একটা বাড়ি করবে

এখন প্রশ্ন হল

১. বোন যদি বাবা জীবিত থাকাকালে বলে, আমি জায়গা-জমি কিছু নেব না আমাকে ৫ লাখ টাকা দিলেই হবে বা যদি একটু বেশি টাকা চায়, তাহলে কি তাকে তা দিলেই হবে?

২. তার বাবা জীবিত অবস্থায় বোন যদি ৫ লাখ টাকা নিতে বা একটু বেশি নিতে রাজি থাকে, তাহলে বাবা মারা গেলে উনার রেখে যাওয়া টাকা কি এইভাবে বণ্টন করা যাবে? মানে শুধু বোনকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে কিছু টাকা তার চলার মতো রেখে বাকি টাকা দিয়ে বাবার জায়গায় বাড়ি বানানো যাবে?

৩. তার মা কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন তার বোনের বিয়ের সময় তার মা-বাবা মিলে কিছু গহনা দিয়েছিলেন মেয়ে দূরে থাকে, গহনা নেওয়া রিস্ক, এজন্য মেয়ের গহনাগুলোও তার মায়ের কাছে রেখে দিয়েছিল এবং তাদের মায়েরও কিছু গহনা ছিল মায়ের অল্প গহনা এবং বোনের বেশি মায়ের নিজের এবং তার মেয়ের গহনা মায়ের কাছেই ছিল এখন মা মারা যাওয়ার আগে ছেলেকে বলেছেন, মায়ের শখ ছিল মায়ের গহনা তার ছেলের বিয়েতে তার ছেলের বউকে দেবে কিন্তু তা তো আর হবে না বোধ হয় তাই তার মা বলেছেন, মেয়ের গহনা তার মেয়েকে বুঝিয়ে দিতে এবং মায়ের গহনা এই বাড়িতেই রাখতে এই কথাটা ছেলেকে বলেছেন তখনো তার স্বামী (বাবা) বেঁচে আছেন

উক্ত মহিলার স্বামী, একটি ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে মেয়ে বড়, বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং ছেলে ছোট

প্রশ্ন হল, এই গহনাগুলোর মালিক এখন কে?

৪. বোন যদি বলে, আমাকে তো গহনা দিয়েছই আম্মুর অল্প গহনা ভাইয়ের বিয়েতে ভাইয়ের বউকে দিয়ে দিয়ো তাহলে এগুলো কীভাবে বণ্টিত হবে?

৫. আর যদি বোন নিতে চায়, তাহলে কীভাবে বণ্টন হবে?

৬. নাকি যেহেতু বোনকে তার বিয়ের সময় তারা গহনা দিয়েছেন এবং মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলের বউকে এই গহনা দেওয়া, এজন্য মায়ের গহনা বণ্টন করা লাগবে না?

দয়া করে জানাবেন আমি কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী সঠিক মাসআলা জানতে চাই জাযাকাল্লাহ

উত্তর

১. ও ২. বাবা মারা যাওয়ার আগে মেয়ে উক্ত কথা বলে থাকলেও এর কারণে বাবা মারা যাওয়ার পর তার মিরাসের হক বাতিল হয়ে যাবে না অবশ্য সে তার পিতার ইন্তেকালের পর আগের কথা অনুযায়ী পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে অবশিষ্ট সম্পদ থেকে দাবি ছেড়ে দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে এতে অসুবিধা নেই কিন্তু যদি সে আগের কথা থেকে সরে এসে পিতার সকল সম্পদ থেকে নিজের অংশ অনুযায়ী পুরো মিরাসই নিতে চায়, তাহলে তাকে তার অংশ দিয়ে দিতে হবে এক্ষেত্রে পিতা মারা যাওয়ার পূর্বের কথার ভিত্তিতে তার প্রাপ্য হিস্যা থেকে কম দেওয়ার সুযোগ নেই

৩. তার মায়ের রেখে যাওয়া গহনাগুলোর মালিক এখন তার ওয়ারিশগণ অর্থাৎ প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী তার স্বামী, ছেলে ও মেয়ে এবং যদি মৃত্যুর সময় তার পিতা-মাতার কেউ জীবিত থেকে থাকেন, তবে তারাও ওয়ারিশ হবেন তবে মেয়ের যে গহনা মায়ের কাছে রেখেছিল, এর মালিক মেয়ে, সেগুলো তাকে দিয়ে দিতে হবে

৪., ৫. ও ৬. মায়ের মৃত্যুর পর মেয়ে যদি তার ভাবির জন্য নিজের অংশ রেখে দিতে চায়, তাহলে তা রেখে দিতে পারবে সেক্ষেত্রে গহনাতে মেয়েটির অংশ তার ভাইয়ের স্ত্রী পাবে তবে যেহেতু এখানে মায়ের ওয়ারিশ শুধু মেয়েই নয়; বরং তার স্বামীও (অর্থাৎ মেয়েটির বাবাও) রয়েছেন, তাই তার এ গহনায় মায়্যেতের স্বামীর হিস্যাও আছে অতএব উক্ত গহনাতে তাদের অংশ হবে নিম্নরূপ

স্বামী পাবে ২৫%, মেয়ে পাবে ২৫%, ছেলে পাবে ৫০% তবে মহিলাটির পিতা-মাতার কেউ তখন জীবিত থেকে থাকলে এর বিবরণ দিয়ে তাদের প্রত্যেকের অংশের হিসাব পুনরায় জেনে নিতে হবে

অতএব ওই ব্যক্তির মায়ের রেখে যাওয়া গহনাতে যেহেতু তিনি ছাড়া শুধু মেয়েরই অংশ নয়; বরং তাতে অন্য ওয়ারিশদেরও অংশ আছে তাই উক্ত গহনা তার স্ত্রীর জন্য রেখে দিতে চাইলে তাদের সকলেরই স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি জরুরি নতুবা যে তার অংশ দাবি করবে, তাকে তার অংশ দিয়ে দিতে হবে

উল্লেখ্য, কোনো ব্যাংকে ডিপিএস বা অন্য কোনো সেভিংস একাউন্টে কিংবা সরকারি পেনশন স্কিমে টাকা জমানো সুদী চুক্তির অন্তর্ভুক্ত এবং সেখান থেকে ইন্টারেস্ট বা মুনাফার নামে প্রাপ্ত অতিরিক্ত টাকা সুদ, যার পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি কেউ ডিপিএস বা পেনশন স্কিম রেখে মারা গেলেও তার জমাকৃত অর্থের অতিরিক্ত অংশে মিরাস জারি হবে না; বরং ওয়ারিশদের ওপর এর পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া তার মালিকানাধীন বৈধ সম্পদই কেবল ওয়ারিশগণ হিস্যা অনুযায়ী ভাগ করে নিতে পারে

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির পিতার উক্ত ডিপিএস বা পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত সুদের টাকা তাদের জন্য ভোগ করা বৈধ হবে না; বরং এর পুরোটাই সদকা করে দিয়ে তার জমানো মূল অর্থই কেবল তাদের মাঝে যার যার হিস্যা অনুযায়ী বণ্টিত হবে

* غمز عيون البصائر في شرح الأشباه والنظائر /৩৫৪ : (لو قال الوارث: تركت حقي لم يبطل حقه) ... كما لو مات عن ابنين، فقال أحدهما: تركت نصيبي من الميراث لم يبطل؛ لأنه لازم لا يترك بالترك، بل إن كان عينا فلا بد من التمليك، وإن كان دينا فلا بد من الإبراء.

সূরা নিসা (৪) : ১১; আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়িখ, পৃ. ৬৯৬; আলমাবসূত, সারাখসী ২০/১৩৪-১৩৫, ২৯/১৪০, ১৪৮; জামিউল ফুসূলাইন ২/৪০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৪২, ৬/৭৭০, ৩৮৬ 

শেয়ার লিংক