মাও. সালিম বিন আবদুল মালিক - দলরইগাও, সিলেট

৬৯৮১. প্রশ্ন

বর্তমান সময়ে বাসা-বাড়িতে সাধারণত গোসলখানার ভেতরই টয়লেট থাকে। মাঝে কোনো আড়াল থাকে না। তবে টয়লেটের ফ্লোর গোসলখানার ফ্লোর থেকে একটু উঁচু থাকে। আমাদের বাড়িতেও এমনই।

জানার বিষয় হল, এ ধরনের গোসলখানায় কি ওযু-গোসল করা যাবে? গেলে সেখানে ওযু-গোসলের দুআ পড়া যাবে কি না?

উত্তর

এ ধরনের গোসলখানায় ওযু-গোসল করতে অসুবিধা নেই। আর গোসলখানা যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে এবং টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ না আসে, তাহলে সেখানে ওযু-গোসলের দুআও পড়া যাবে। কিন্তু তাতে যদি ময়লা থাকে কিংবা টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ আসে, তাহলে সেখানে শব্দ করে দুআ পড়বে না; বরং নিঃশব্দে পড়বে।

আর যদি এমন গোসলাখানা না হয়; বরং শুধু টয়লেট হয়, তাহলে এর ভেতর ওযু করলে সেক্ষেত্রেও মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে পড়বে।

* >الفتاوى الخانية< ১/১৬২: وأما قراءة القرآن في الحمام، إن لم يكن فيه أحد مكشوف العورة، وكان الحمام طاهرا، لا بأس بأن يرفع صوته بالقراءة، وإن لم يكن كذلك فإن قرأ في نفسه ولا يرفع صوته لا بأس به.

—কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ২৭৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১২৩২; মিরকাতুল মাফাতীহ ২/৫০; রদ্দুল মুহতার ২/১৯৪

শেয়ার লিংক

মালিহা মাহবুবা - আজিমপুর, ঢাকা

৬৯৮২. প্রশ্ন

আমি সর্বদাই গুরুত্বের সাথে আযানের জবাব দিয়ে থাকি। মাসিক চলাকালীনও এই আমল চালু রাখি। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে এ সময় আযানের জবাব দিতে নিষেধ করেন। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, মাসিক অবস্থায় আযানের জবাব দেওয়ার বিধান কী? এটি কি তখন নিষেধ?

উত্তর

ঋতুস্রাব চলাকালেও আযানের জবাব দেওয়া জায়েয আছে। এতে অসুবিধা নেই। তখন আযানের জবাব দেওয়াকে নিষেধ মনে করা ভুল ধারণা। মাসিক চলাকালীন কুরআন তিলাওয়াত নিষেধ। কিন্তু দুআ, যিকির-আযকার নিষেধ নয়।

* >الفتاوى الهندية< ১/৩৮: ويجوز للجنب والحائض الدعوات وجواب الأذان ونحو ذلك.

—মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ১৩০২; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৮; আলগায়া, সারূজী ২/২৫৭; উমদাতুল কারী ৫/১১৭; ফাতাওয়া নাবুলসী ১/৪১০; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৩

শেয়ার লিংক

জুবায়ের বিন আজাদ - মুলাদি, বরিশাল

৬৯৮৩. প্রশ্ন

আমাদের মাদরাসার কামরায় মাগরিবের সময় অনেক মশা থাকে। একদিন নামাযের মধ্যে সিজদায় যাওয়ার সময় একটি মশা আমার হাঁটুর নিচে পড়ে যায় এবং রক্ত বেরিয়ে তা আমার কাপড়ে লেগে যায়।

এখন জানার বিষয় হচ্ছে, রক্ত লাগার কারণে ওই কাপড়ে কি আমার নামায হবে?

উত্তর

মশার রক্ত নাপাক নয়। তা কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হয় না।

আশআস ইবনে সাওওয়ার রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

كَانَ الْحَسَنُ لَا يَرَى بِدَمِ الذُّبَابِ وَالْبَعُوْضِ وَالْبَرَاغِيْثِ بَأْسًا.

হাসান বসরী রাহ. মাছি, মশা ও ‘বারাগিছ’ (রক্ত শোষণকারী এক প্রকার ক্ষুদ্র কীট)-এর রক্তকে নাপাক মনে করতেন না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৩২)

তাই মশার রক্ত লেগে থাকা কাপড়ে নামায পড়লে তা আদায় হয়ে যাবে।

* كتاب >الأصل< للشيباني ১/৫৪: قلت: أرأيت دم البراغيث والبق والحلم يكون في الثوب؟ قال: أما دم البق والبراغيث فليس به بأس.

—মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৩১; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৪২; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/১৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৬; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ১৫৬

শেয়ার লিংক

কাওসার মাহমুদ - রায়পুর, লক্ষ্মীপুর

৬৯৮৪. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে একটি বাচ্চা আমার কাপড়ে পেশাব করে। তারপর কাপড়টি শুকিয়ে যায়। আমি ভুলে সে কাপড় পরে চার ওয়াক্ত নামায আদায় করে ফেলি। এখন এ নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

আপনার ওই চার ওয়াক্ত নামায আদায় হয়নি। সেগুলো পুনরায় পড়ে নিতে হবে। কেননা নামায সহীহ হওয়ার জন্য পরিহিত বস্ত্র পাক থাকা আবশ্যক। ভুলেও নাপাক কাপড়ে নামায পড়ে ফেললে তা আদায় হয় না। স্মরণ হওয়ার পর ওই নামায পুনরায় আদায় করা জরুরি।

* >بدائع الصنائع< ১/১৭৩: وأجمعوا على أنه لو صلى في ثوب نجس ناسيا، أو توضأ بماء نجس ناسيا، ثم تذكره لا يجزئه.

—আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/৪৭০; খিযানাতুল আকমাল ১/১৭৫; আলবিনায়া ১/৪৫৬; আস্সিআয়া ১/৭০৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদুল্লাহ হাফীজ - সদর, গোপালগঞ্জ

৬৯৮৫. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে ওয়াক্তিয়া নামাযে গরমের সময় এসি চালানো হয়। তখন মসজিদের ভেতরের দরজা বন্ধ থাকে। মাঝেমধ্যে দেখা যায় যে, কোনো কোনো মুসল্লী ঠান্ডা-সর্দি ইত্যাদি সমস্যার কারণে মসজিদ সংলগ্ন বারান্দায় একাকী দাঁড়িয়ে সেখান থেকে ইক্তেদা করে নামায পড়েন।

জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে ভেতরের দরজা বন্ধ থাকার কারণে বারান্দার মুসল্লীদের ইক্তেদায় কোনো সমস্যা হবে কি না?

উত্তর

মসজিদের ভেতরের দরজা বন্ধ থাকলেও মসজিদের বারান্দা থেকে ইক্তেদা করা সহীহ আছে। ইমামের ওঠা-বসা, রুকু-সিজদার তাকবীর বারান্দা থেকে ভালোভাবে শোনা গেলে ভেতরের দরজা বন্ধ থাকলেও বারান্দা থেকে ইক্তেদা করতে কোনো সমস্যা নেই। তাই আপনাদের মসজিদে ঠান্ডা-সর্দিতে আক্রান্তদের ভেতরে না দাঁড়িয়ে বারান্দা থেকে ইক্তেদা করে নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে। তবে ওজর ছাড়া ভেতরে খালি রেখে বারান্দায় দাঁড়ানো যাবে না। এমনটি করলে মাকরূহে তাহরীমী হবে।

* >الفتاوى الهندية< ১/৮৮: وأما إذا كان الحائط صغيرا ..، ولكن لا يخفى حال الإمام، فمنهم من قال: يصح الاقتداء، وهو الصحيح. هكذا في المحيط.

* >بدائع الصنائع< ১/৩৬২: ولو اقتدى بالإمام في أقصى المسجد، والإمام في المحراب جاز؛ لأن المسجد على تباعد أطرافه جعل في الحكم كمكان واحد.

—ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৪; যাদুল ফাকীর, পৃ. ১৫৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫২৪; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/২৪৬; রদ্দুল মুহতার ১/৫৮৬

শেয়ার লিংক

জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ - গাজীপুর

৬৯৮৬. প্রশ্ন

যে সমস্ত নামাযে জোরে কেরাত পড়তে হয় সেখানে একাকী নামায আদায় করার সময় আস্তে আস্তে কেরাত পড়লে কি নামায আদায় হবে?

উত্তর

হাঁ, উচ্চৈস্বঃর বিশিষ্ট ফরয নামায একাকী আদায় করা হলে কেরাত আস্তেও পড়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে উত্তম হল, একেবারে নিঃশব্দে না পড়ে কিছুটা জোরে কেরাত পড়া।

—আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৭; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৯১; আলমুহীতুর রাযাবী ১/২৩৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩২৭; দুরারুল হুক্কাম ১/৮০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩৩

শেয়ার লিংক

জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ - গাজীপুর

৬৯৮৭. প্রশ্ন

যে সমস্ত নামাযে জোরে কেরাত পড়তে হয়, তার কাযা আদায়ের সময়েও কি জোরে কেরাত পড়তে হবে?

উত্তর

না, এসব নামাযের কাযা একাকী পড়া হলে তাতে কেরাত উচ্চৈস্বঃরে পড়া জরুরি নয়; বরং নিম্নস্বরেও পড়া যাবে। হাঁ, কাযা নামায জামাতের সাথে আদায় করলে তখন এ সকল নামাযে কেরাত সশব্দে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে নিঃশব্দে পড়া যাবে না।

—কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ১৬৮; শরহুল জামিইস সগীর, বাযদাবী ১/১৬৪; শরহুল জামিইস সগীর, কাযীখান ১/১৪২; আলকাফী শরহুল ওয়াফী ১/৩৭৬; আননাহরুল ফায়েক ১/২২৮; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল হক - সিলেট

৬৯৮৮. প্রশ্ন

একবার আমি বাংলাদেশের বড় এক মসজিদে জুমার নামায পড়ি। প্রথম রাকাতে ইমাম সাহেব সূরা বাকারার শেষ পৃষ্ঠা থেকে পড়েন। সেখানে—

كُلٌّ آمَنَ بِاللهِ وَمَلَائِكَتِهِ...وَرُسُلِهِ

-এর মধ্যে وَكُتُبِهِ শব্দটা তিনি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে আমি ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নামায হয়ে যাবে।

আদবের সাথে জানার বিষয় হল, সত্যিই কি নামায হয়ে যাবে?

 

উত্তর

হাঁ, ওই নামায আদায় হয়ে গিয়েছে। আয়াত থেকে وَكُتُبِهِ শব্দটি ছুটে যাওয়ার কারণে নামায নষ্ট হয়নি।

—আলমুলতাকাত ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ৬৬; আলহাবিল কুদসী ১/২১৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১১২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫০৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৯

শেয়ার লিংক

হুম্মাম কাদের - বহদ্দারহাট, চিটাগাং

৬৯৮৯. প্রশ্ন

আমি মাঝে মাঝে তাকবীরে তাহরীমার পরে সানার পরিবর্তে তাশাহহুদ পড়ে ফেলি। এতে কি আমার নামাযের কোনো অসুবিধা হবে?

 

উত্তর

তাকবীরে তাহরীমার পরে সূরা ফাতেহার আগে সানার স্থানে তাশাহহুদ পড়ে ফেললে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। তবে এ সময় তাশাহহুদ পড়া সুন্নত পরিপন্থি। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা যাবে না। অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেন এমনটি বারবার না হয়, এর জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

* >فتح القدير< ১/৪৩৯: ولو قرأ التشهد في الركوع أو السجود لا سهو عليه؛ لأنه ثناء وهما محله، بخلاف قراءة القرآن فيهما؛ فإن فيه السهو. ولو قرأه في القيام، إن كان قبل الفاتحة لا سهو، أو بعدها فعليه، لأن ما قبلها محل الثناء، وهذا يقتضي تخصيصه بالركعة الأولى.

—উয়ূনুল মাসায়িল, পৃ. ২৬; আলআজনাস, নাতেফী ১/৯৩; আলফাতাওয়াস সুগরা ১/১১০; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৮৮

শেয়ার লিংক

সারওয়ার আহমাদ - বরিশাল

৬৯৯০. প্রশ্ন

আমি একদিন ভুলে পকেটের ভেতরে একটি ছবিযুক্ত বই রেখে নামায পড়ে ফেলি। বইটির প্রচ্ছদে স্পষ্টভাবে মানুষের রঙিন ছবি ছিল।

জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় কি আমার নামাযে কোনো সমস্যা হয়েছে?

উত্তর

ছবিটি যেহেতু পকেটের ভেতরে ছিল; দৃশ্যমান ছিল না, তাই এ কারণে নামাযে কোনো সমস্যা হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রাণীর কোনো স্পষ্ট ছবি ঘরে বা অন্য কোথাও দৃশ্যমান অবস্থায় রাখা যাবে না।

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

لَا تَدْخُلُ المَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيْهِ كَلْبٌ وَلَا تَصَاوِيْرُ.

যে ঘরে কুকুর থাকে অথবা কোনো (প্রাণীর) ছবি থাকে, সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৪৯)

তাই বইয়ের প্রচ্ছদে বা অন্য কোথাও প্রাণীর স্পষ্ট ও দৃশ্যমান কোনো ছবি থাকলে, সেটাকে কোনো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখবে অথবা সম্ভব হলে মুছে ফেলবে। উন্মুক্ত রেখে দেওয়া যাবে না।

—মাআলিমুস সুনান, খাত্তাবী ৪/১২০; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১১; আলমুহীতুর রাযাবী ১/২৬০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২০৩; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২৯৭; রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৮

শেয়ার লিংক

শুয়াইব শাকের - সাভার, ঢাকা

৬৯৯১. প্রশ্ন

বৃষ্টির কারণে গত ঈদের নামায আমাদেরকে মসজিদে আদায় করতে হয়। মানুষ বেশি হওয়ায় জায়গা হচ্ছিল না। ফলে দুইজন ব্যক্তি মসজিদের কোণে রাখা একটি খাটের ওপর দাঁড়িয়ে ঈদের নামায আদায় করেন। খাটের উচ্চতা ছিল এক হাত।

এখন জানার বিষয় হল, ইমাম থেকে উঁচু স্থানে নামায আদায় করায় তাদের নামায কি আদায় হবে? না হলে এখন কী করণীয়?

উত্তর

তাদের নামায আদায় হয়ে গেছে। উঁচুতে দাঁড়ানোর কারণে নামাযে কোনো সমস্যা হয়নি। ইমামের সাথে মুসল্লী থাকলে কিছু মুসল্লী ইমাম থেকে ওপরে বা নিচে দাঁড়ালেও সমস্যা নেই।

* >المحيط الرضوي< ১/২৫৭: هذا إذا كان وحده على الدكان أو على الأرض، فإن كان بعض القوم معه قيل يكره، والأصح أنه لا يكره، وبه جرت العادة في جوامع المسلمين في أغلب الأمصار.

—কিতাবুল আছল ১/১৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৩৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৬৩; ফাতহুল কাদীর ১/৩৬০; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৪৬

শেয়ার লিংক

নাবীল সাদী - চরফ্যাশন, ভোলা

৬৯৯২. প্রশ্ন

কয়েকদিন পূর্বে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব জুমার নামাযের মাসায়েল বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন, জুমার নামাযে কোনো ব্যক্তি যদি ইমামের সাথে কোনো রাকাত না পায়, তাহলে তাকে ইমামের সালাম ফেরানোর পর চার রাকাত নামায আদায় করতে হবে। এতে আমাদের মনে বেশ দ্বিধা-সংশয় তৈরি হয়।

তাই জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবের উক্ত কথা কি সঠিক? জুমার নামাযের কোনো রাকাত না পেলে কি তা চার রাকাত আদায় করতে হবে?

উত্তর

কোনো ব্যক্তি জুমার নামাযে ইমামের সাথে বৈঠকে শরীক হতে পারলেও সে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে দুই রাকাতই আদায় করবে; চার রাকাত আদায় করবে না।

শুবা রাহ. বলেন—

سَأَلْتُ الْحَكَمَ وَحَمَّادًا عَنِ الرَّجُلِ يَجِيْءُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَبْلَ أَنْ يُّسَلِّمَ الإِمَامُ؟ قَالَا: يُصَلِّيْ رَكْعَتَيْنِ.

আমি হাকাম ও হাম্মাদ রাহ.-কে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে জুমার দিন ইমাম সালাম ফেরানোর পূর্বে এসে নামাযে শরীক হয়। তারা উভয়েই বললেন, এক্ষেত্রে সে দুই রাকাতই পড়বে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৩৯৮)

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে অর্থাৎ জুমার নামাযের কোনো রাকাত না পেলে ইমামের সালামের পর চার রাকাত পড়ে নেওয়ার একটি মতও রয়েছে। আপনাদের ইমাম সাহেব সম্ভবত ওই মতটির কথাই বলেছেন। তবে হানাফী মাযহাবের অধিকাংশ ফকীহ প্রথম মতটিই গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপরই ফতোয়া এবং এতদঞ্চলে সেই মতের ওপরই আমল চলে আসছে। তাই এ বিষয়ে ভিন্ন মাসআলা দিলে মানুষের মাঝে সংশয় ও ফেতনা সৃষ্টি হতে পারে। এহেন কাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

—মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৪০০; কিতাবুল আছল ১/৩১৩; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, জাস্সাস ২/১১৮; আলআসরার, দাবূসি ২/৬৭; উমদাতুল ফাতাওয়া, পৃ. ১০৬; ফাতহুল কাদীর ২/৩৬; রদ্দুল মুহতার ২/১৫৭

শেয়ার লিংক

জাবের চৌধুরি - ঢাকা

৬৯৯৩. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমি আমার বাবার সাথে আমেরিকায় আমাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাই। তবে আমার জানা ছিল না যে, এখানে আমরা ১৫ দিনের বেশি থাকব, নাকি ১৫ দিনের কম। বিষয়টি তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করারও সুযোগ ছিল না। ইতিমধ্যে আসরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে আমি মুসাফির হিসেবে আসর নামায কছর করি। পরে জানতে পারি যে, আমরা এখানে ১৫ দিনের বেশি থাকব।

জানার বিষয় হল, আমার ওই দিনের আসর নামায কি আদায় হয়েছে? আর এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী ছিল?

উত্তর

আপনার যেহেতু সেখানে ১৫ দিনের বেশি থাকার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা ছিল না বিধায় তখন আপনি সেখানে ১৫ দিন বা এর বেশি থাকার নিয়ত করেননি, তাই এর আগ পর্যন্ত আপনি মুসাফিরই ছিলেন। অতএব, আপনার ওই আসর নামায কছর করাটা ঠিক হয়েছে এবং আপনার সেদিনের আসর নামায আদায় হয়ে গেছে। আর বিষয়টি জানার পর থেকে আপনি মুকীম হয়ে গেছেন। অতএব, এরপর থেকে কছর না করে পূর্ণ নামায পড়বেন।

* >معراج الدراية< ২/২৫৪: ولو نوى المتبوع الإقامة، ولم يعلم بها التابع، فهو مسافر حتى يعلم، كالوكيل إذا عزل، وهو الأصح.

—উয়ূনুল মাসায়িল, পৃ. ২৮; তুহফাতুল ফুকাহা ১/১৫২; আলমুহীতুর রাযাবী ১/৩৮১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৩০; রদ্দুল মুহতার ২/১৩৩-১৩৪

শেয়ার লিংক