আহমাদ - ঢাকা

Question

আমি কাফিয়া জামাতের ছাত্র। ইতিহাস সম্পর্কে তেমন জানি না। তাই যখন আশপাশে এ সম্পর্কে আলোচনা হয়, নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়; হীনম্মন্যতায় ভুগি। তেমনি বক্তৃতার জন্য এধরনের বিষয়বস্তু নির্ধারিত হলে এর ওপর গতানুগতিক আলোচনা ছাড়া আর কিছু বলতে পারি না। যখন অন্য কেউ সে বিষয়ে গভীর আলোচনা করে, তখনো নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। মনে হয়, যেন আমিই একমাত্র জাহেলে মুরাক্কাব। এ চিন্তা ও পেরেশানীতে দরসিয়াতেও মন বসাতে পারি না। এর সমাধান কী?

২. বিভিন্ন আধুনিক ফেতনা সামনে আসছে, সে বিষয়ে তালিবুল ইলম অবস্থায় কী করণীয়? কীভাবে পড়াশোনা করা জরুরি।

৩. দরসিয়াতের পাশাপাশি কীভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা যায়? এবং এর পাশাপাশি টেকনোলজিক্যাল দক্ষতা কীভাবে অর্জন করতে পারি এবং এ অবস্থায় এটা করা কি ঠিক হবে?

Answer

আপনি নিজের অবস্থা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন এবং সমাধান চেয়েছেন এটা অনেক ভালো বিষয়। আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আপনি যেসব বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সেসব বিষয়ে নিজের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা ভালো। তবে প্রত্যেক বিষয়ের কিছু নিয়ম আছে। সব জিনিসের জন্যই মুনাসিব সময় আছে। সময়ের রেয়ায়েত করে নিয়ম মেনে অগ্রসর হলে ফায়েদা হয়। অন্যথায় কখনো ফায়েদা অনেক কম হয় কিংবা ফায়েদার পরিবর্তে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়।

মাদরাসার তালিবে ইলমদের প্রধান কর্তব্য হল, নেসাবভুক্ত কিতাবাদি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা অর্জন করা। কিতাবের প্রতি মনোনিবেশ করা এবং নিজের মধ্যে কিতাবী ইস্তে‘দাদ তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রাখা। এগুলোর মধ্যে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, তাহলে অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একটা বড় সমস্যা হল, প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ইসলামী তালীমাত যথাযথ না বোঝা এবং নিজের মধ্যে ও সমাজে সেটা বাস্তবায়ন করতে না পারা অথবা ভুল বোঝা এবং ইসলামের ভুল বার্তা সমাজে তুলে ধরা। তাই আপনি আসাতিযায়ে কেরামের কাছ থেকে নেসাবী কিতাবাদির গুরুত্ব ও মাকসাদ ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন এবং সে মাকসাদে নিজেকে উত্তীর্ণ করুন। জেনারেল যে বিষয়গুলো নেসাবভুক্ত, সেগুলোও খুব ভালোভাবে হক আদায় করে পড়ুন।

এককথায় মাদরাসার নেসাব ও নেযামের বাইরে কোনো কাজে জড়ানো তালিবুল ইলম ভাইদের জন্য কখনোই মুনাসিব নয়। এমনকি ইযাফী মুতালাআ, যা উপকারীও বটে, তা-ও হতে হবে উসূল ও আদাবের খেয়াল রেখে।

এ বিষয়ে সফর ১৪৪৪ হিজরী মোতাবেক সেপ্টেম্বর ২০২২ ঈসায়ী সংখ্যার শিক্ষার্থীদের পাতায় প্রকাশিত ‘ইযাফী মুতালাআ : কিছু উসূল ও আদাব এবং একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা’ প্রবন্ধটি পড়া যেতে পারে।

তারীখ বিষয়ে নেসাবে কিছু কিতাব আছে, সেগুলোই এখন মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

আর বক্তৃতার বিষয়বস্তু নির্ধারণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে উস্তাযের রাহনুমায়ী গ্রহণ করুন।

ফেতনা দমনের প্রস্তুতির জন্য ফেতনা সম্পর্কে ভালোভাবে পড়াশোনা করা জরুরি। এ বিষয়ে আপনার প্রথম প্রস্তুতি হল, দ্বীন ও শরীয়তের ফরয পরিমাণ ইলম হাসিল করা। বাকি প্রস্তুতি সময়মতো গ্রহণ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

আরেকটি বিষয় হল, হীনম্মন্যতায় কখনো ভুগবেন না। এটা অনেক মারাত্মক ব্যাধি। যা গোনাহও বটে। প্রকৃত তালিবুল ইলম কখনো হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারে না। কারণ সে জানে, শেখা ছাড়া কখনো কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। এটাও জানে, আল্লাহর রহমতের দরজা সবার জন্য উম্মুক্ত। আর তাকদীরের প্রতি ঈমান এবং অন্তরকে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত রাখা তো ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আপনি হিম্মত করুন এবং আসাতিযায়ে কেরামের কাছ থেকে নিজের করণীয় সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা অর্জন করে, সে অনুযায়ী মেহনত করুন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সাহায্য করুন।

সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন দুআগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পড়ুন। বিশেষ করে নিম্নোক্ত দুআটি পড়ুন

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ، وَقَهْرِ الرِّجَالِ.

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্ট থেকে পানাহ চাই। পানাহ চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, পানাহ চাই কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে, পানাহ চাই অতিরিক্ত ঋণের চাপ ও মানুষের অন্যায় আধিপত্য থেকে। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৫৫

Sharable Link

নাজিম উদ্দীন - মোহাম্মাদপুর ঢাকা

Question

আলহামদু লিল্লাহ, আমি এ বছর শরহে বেকায়া সম্পন্ন করেছি। ইনশাআল্লাহ, রমযানের পর জালালাইন জামাতে ভর্তি হব।

অনেকে বলেন, জালালাইনের বছর নাকি আরামের বছর, বেশি কষ্ট ছাড়াই পার হয়ে যায়। কিন্তু হুজুর, আমি বিষয়টাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে চাই।

তাই আমার জানার বিষয় হল, জালালাইন জামাতের কিতাবগুলো কোন্ পদ্ধতিতে পড়লে সবচেয়ে ভালোভাবে উপকার পাওয়া যায়? হুজুরের নসীহত ও দিকনির্দেশনা কামনা করছি।

আল্লাহ তাআলা হুজুরকে উত্তম জাযা দান করুন।

Answer

আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়র দান করুন, আপনি ওই ভাইদের এমন ভুল কথায় প্রভাবিত হননি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাযত করুন আমীন।

আরাম এবং ইলম অর্জন কখনো একসাথ হতে পারে না। পড়াশোনার কোনো স্তর এমন নেই, যা আরামে পার করা যায়। আপনি যে জামাতেই পড়েন না কেন, যদি ভালোভাবে পড়তে চান, তাহলে মেহনত এবং কষ্ট করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই নতুন কোনো শ্রেণিতে ভর্তি হলে শুরুতেই সে শ্রেণির মাকসাদ এবং শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত কিতাবাদির সুস্পষ্ট পরিচিতি এবং সেগুলোর পাঠ-পদ্ধতি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা হাসিল করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা উচিত নয়।

উক্ত বিষয়গুলো ভালোভাবে হাসিল করলে এ ধরনের চিন্তা মাথায় আসবে না এবং মেহনত করার জযবা পয়দা হবে ইনশাআল্লাহ।

ইলম হাসিলের জন্য নিজের মধ্যে মেহনত ও কষ্ট করার অনুপ্রেরণা তৈরি করতে কোনো বিরতিতে মুতালাআ করুন, সায়্যিদী শায়েখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর মহান কিতাব

صفحات من صبر العلماء على شدائد العلم والتحصيل

বিশেষ করে এর খাতেমা মুতালাআ করে নিন। আন্তরিকতার সাথে পাঠ করলে ইনশাআল্লাহ নিজের মধ্যে ভিন্ন একটা তড়প ও উদ্দীপনা পয়দা হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন আমীন।

২. জালালাইন জামাতের কিতাবগুলো কীভাবে পড়বেন, এ বিষয়ে ‘তালিবানে ইলম পথ ও পাথেয়’ কিতাবে মৌলিক কিছু আলোচনা আপনি পেয়ে যাবেন।

আপনার প্রধান কিছু করণীয় হল, নেসাবভুক্ত প্রত্যেক কিতাবের পরিচিতি ও মাকসাদ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন করা এবং নিজেকে সে মাকসাদে উত্তীর্ণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখা। কিতাবের পরিচিতি ও মাকসাদ সম্পর্কে জানতে জরুরি হল মুসান্নিফের ভূমিকা, কিতাবের খাতেমা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে বুঝে-শুনে বারবার পড়া। পাশাপাশি উস্তাযের রাহনুমায়ী গ্রহণ করা। কিতাবের ইবারত সহীহভাবে পড়তে পারা। ইবারত ঠিকমতো বোঝা। যমীরের মারজে‘, মুশারুন ইলাইহি ভালোভাবে বোঝা। ইবারতের মর্ম স্পষ্টভাবে নিজ ভাষায় ব্যক্ত করতে শেখা। প্রত্যেক বহছের খোলাসা যেহেনে বসিয়ে নেওয়া। কোনো সবক যেন অস্পষ্ট না থাকে, এ বিষয়ে খুব বেশি সতর্ক থাকা। উস্তাযের দরস মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং ধারণ করার চেষ্টা করা। তাকরার ও মুতালাআর প্রতি সর্বোচ্চ মনোযোগী হওয়া। দরসী কিতাবাদির হক আদায় করার পর এর পাশাপাশি আরও কোনো কিতাব মুতালাআ করা যায় কি না এ বিষয়ে উস্তাযের সঙ্গে পরামর্শ করা।

Sharable Link

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ইমেইল থেকে প্রাপ্ত

Question

আসসালামু আলাইকুম। মুহতারাম, একটি প্রশ্ন ছিল। জবাব পেলে বড় উপকার হত। আমি ‘এসো আরবী শিখি’ কিতাবটি নিজে নিজে পড়তে চাচ্ছি। নাহু-সরফের মৌলিক নিয়মগুলো একটু একটু জানা থাকায় কিতাবটির প্রথম খণ্ড পড়তে কোনো সমস্যা হয়নি। এমনিতে কিতাবটির শেষ খণ্ড পর্যন্ত অর্থ মোটামুটি বুঝতে পারি। কিন্তু শুরুতেই মুহতারাম মুসান্নিফ হাফিযাহুল্লাহ যা লিখেছেন, এর উদ্দেশ্য আরবীতে কথা বলা বা শুনে বুঝতে পারা, কিছু লিখতে পারা। তাই তামরীনের কিতাব ও মূল কিতাব কীভাবে অনুসরণ ও অনুশীলন করতে পারি, জানালে উপকার হত। আরেকটু অগ্রসরও হতে পারতাম। আর তামরীন-এ যেভাবে দেওয়া, তদনুসারে কীভাবে অনুশীলন করলে ভালো হয়?

উত্তর : সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো যোগ্য ব্যক্তির তত্ত্বাবধান ছাড়া একাকী পড়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বিশেষত এ ধরনের মৌলিক কিতাবের ক্ষেত্রে তো এমনটি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোনো উস্তাযের তত্ত্বাবধান ছাড়া একাকী পড়লে পড়া নিখুঁত হয় না। যার ফলে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিই হয় বেশি। আর এ কিতাবের যে মাকসাদের কথা আপনিও উল্লেখ করেছেন, সে মাকসাদ হাসিল করতে হলে তো উস্তাযের তত্ত্বাবধান এবং কোনো সাথির সঙ্গে তামরীন ও অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই।

তাই এ কিতাবের পাঠদান ভালোভাবে জানেন এমন কোনো উস্তাযের তত্ত্বাবধানে আপনি এর নিয়মতান্ত্রিক পাঠ গ্রহণ করুন। পাশাপাশি তামরীন ও অনুশীলনের জন্য উপযুক্ত কোনো সাথি নির্বাচন করুন।

Answer

যদি আপনি নিয়মতান্ত্রিক তালিবে ইলম না হয়ে থাকেন; বরং এমনিই কিছু আরবী জানার জন্য পড়তে চান, আরবী ভাষা ও কুরআন-হাদীসের ভাষা বোঝা উদ্দেশ্য না হয়, তাহলে ভিন্ন কথা। এক্ষেত্রে আপনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করুন।

মনে রাখবেন, আরবী ভাষা শেখার চেয়ে কুরআন কারীমের সহীহ-শুদ্ধ তিলাওয়াত শেখা এবং ফরযে আইন ইলম শেখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Sharable Link