Zilhajj 1447 || June 2026

আহমাদ - ঢাকা

Question

আমি কাফিয়া জামাতের ছাত্র। ইতিহাস সম্পর্কে তেমন জানি না। তাই যখন আশপাশে এ সম্পর্কে আলোচনা হয়, নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়; হীনম্মন্যতায় ভুগি। তেমনি বক্তৃতার জন্য এধরনের বিষয়বস্তু নির্ধারিত হলে এর ওপর গতানুগতিক আলোচনা ছাড়া আর কিছু বলতে পারি না। যখন অন্য কেউ সে বিষয়ে গভীর আলোচনা করে, তখনো নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। মনে হয়, যেন আমিই একমাত্র জাহেলে মুরাক্কাব। এ চিন্তা ও পেরেশানীতে দরসিয়াতেও মন বসাতে পারি না। এর সমাধান কী?

২. বিভিন্ন আধুনিক ফেতনা সামনে আসছে, সে বিষয়ে তালিবুল ইলম অবস্থায় কী করণীয়? কীভাবে পড়াশোনা করা জরুরি।

৩. দরসিয়াতের পাশাপাশি কীভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা যায়? এবং এর পাশাপাশি টেকনোলজিক্যাল দক্ষতা কীভাবে অর্জন করতে পারি এবং এ অবস্থায় এটা করা কি ঠিক হবে?

Answer

আপনি নিজের অবস্থা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন এবং সমাধান চেয়েছেন এটা অনেক ভালো বিষয়। আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আপনি যেসব বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সেসব বিষয়ে নিজের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা ভালো। তবে প্রত্যেক বিষয়ের কিছু নিয়ম আছে। সব জিনিসের জন্যই মুনাসিব সময় আছে। সময়ের রেয়ায়েত করে নিয়ম মেনে অগ্রসর হলে ফায়েদা হয়। অন্যথায় কখনো ফায়েদা অনেক কম হয় কিংবা ফায়েদার পরিবর্তে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়।

মাদরাসার তালিবে ইলমদের প্রধান কর্তব্য হল, নেসাবভুক্ত কিতাবাদি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা অর্জন করা। কিতাবের প্রতি মনোনিবেশ করা এবং নিজের মধ্যে কিতাবী ইস্তে‘দাদ তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রাখা। এগুলোর মধ্যে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, তাহলে অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একটা বড় সমস্যা হল, প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ইসলামী তালীমাত যথাযথ না বোঝা এবং নিজের মধ্যে ও সমাজে সেটা বাস্তবায়ন করতে না পারা অথবা ভুল বোঝা এবং ইসলামের ভুল বার্তা সমাজে তুলে ধরা। তাই আপনি আসাতিযায়ে কেরামের কাছ থেকে নেসাবী কিতাবাদির গুরুত্ব ও মাকসাদ ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন এবং সে মাকসাদে নিজেকে উত্তীর্ণ করুন। জেনারেল যে বিষয়গুলো নেসাবভুক্ত, সেগুলোও খুব ভালোভাবে হক আদায় করে পড়ুন।

এককথায় মাদরাসার নেসাব ও নেযামের বাইরে কোনো কাজে জড়ানো তালিবুল ইলম ভাইদের জন্য কখনোই মুনাসিব নয়। এমনকি ইযাফী মুতালাআ, যা উপকারীও বটে, তা-ও হতে হবে উসূল ও আদাবের খেয়াল রেখে।

এ বিষয়ে সফর ১৪৪৪ হিজরী মোতাবেক সেপ্টেম্বর ২০২২ ঈসায়ী সংখ্যার শিক্ষার্থীদের পাতায় প্রকাশিত ‘ইযাফী মুতালাআ : কিছু উসূল ও আদাব এবং একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা’ প্রবন্ধটি পড়া যেতে পারে।

তারীখ বিষয়ে নেসাবে কিছু কিতাব আছে, সেগুলোই এখন মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

আর বক্তৃতার বিষয়বস্তু নির্ধারণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে উস্তাযের রাহনুমায়ী গ্রহণ করুন।

ফেতনা দমনের প্রস্তুতির জন্য ফেতনা সম্পর্কে ভালোভাবে পড়াশোনা করা জরুরি। এ বিষয়ে আপনার প্রথম প্রস্তুতি হল, দ্বীন ও শরীয়তের ফরয পরিমাণ ইলম হাসিল করা। বাকি প্রস্তুতি সময়মতো গ্রহণ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

আরেকটি বিষয় হল, হীনম্মন্যতায় কখনো ভুগবেন না। এটা অনেক মারাত্মক ব্যাধি। যা গোনাহও বটে। প্রকৃত তালিবুল ইলম কখনো হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারে না। কারণ সে জানে, শেখা ছাড়া কখনো কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। এটাও জানে, আল্লাহর রহমতের দরজা সবার জন্য উম্মুক্ত। আর তাকদীরের প্রতি ঈমান এবং অন্তরকে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত রাখা তো ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আপনি হিম্মত করুন এবং আসাতিযায়ে কেরামের কাছ থেকে নিজের করণীয় সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা অর্জন করে, সে অনুযায়ী মেহনত করুন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সাহায্য করুন।

সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন দুআগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পড়ুন। বিশেষ করে নিম্নোক্ত দুআটি পড়ুন

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ، وَقَهْرِ الرِّجَالِ.

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্ট থেকে পানাহ চাই। পানাহ চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, পানাহ চাই কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে, পানাহ চাই অতিরিক্ত ঋণের চাপ ও মানুষের অন্যায় আধিপত্য থেকে। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৫৫

Read more advices provided in this issue