শরিফুজ্জামান শাহান - সিলেট
৬৯৭৯. Question
আমার এক আত্মীয়ের পিতা আজ থেকে বিশ বছর আগে মারা গিয়েছেন। তারা চার ভাই, দুই বোন। তাদের পিতার একটি জায়গা ইতোমধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। বোনদের দাবি হচ্ছে, এই জায়গার নগদ অর্থ তাদেরকে আদায় করতে হবে। কিন্তু ভাইদের মত হচ্ছে, পিতার এই জায়গার মূল্য দিয়ে যদি একটা ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়, তাহলে বোনেরা এই ফ্ল্যাটের ভাড়ার তিন ভাগের এক ভাগ পাবে। আর তারা পাবে দুই ভাগ। কিন্তু বোনেরা এতে রাজি নয়। তাদের মত হচ্ছে, এই জায়গার নগদ অর্থ তাদেরকে দিয়ে দিতে হবে। কিন্তু ভাইয়েরা এই টাকা তাদেরকে না দিয়ে জোরপূর্বক ফ্ল্যাট বানাতে চাচ্ছে। তারা বলছে যে, নগদ অর্থ দিলে যেভাবে তোমাদের পাওনা আদায় হবে, ফ্ল্যাটের ভাড়া থেকেও তোমাদের পাওনা সেভাবে আদায় হবে; বরং তোমাদের পাওনা থেকে আরও বেশি পাবে। কিন্তু হিসাব করলে দেখা যায়, উভয় বোনের ভাগে ফ্ল্যাটের ভাড়া প্রতিমাসে দুই হাজার করে আসে। তারা বলছে, প্রতি মাসে ফ্ল্যাটের ভাড়া দুই হাজার করে পাওয়ার চেয়ে একসাথে আমাদের ভাগের পুরো টাকাটা পেলে আমাদের অনেক প্রয়োজন পূরণ হয়।
মুফতী সাহেবের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, জোরপূর্বক ভাইদের এমন করা কি ঠিক হবে, যদিও এতে দুই বোনের পাওনা পরিশোধ হবে। কিন্তু অনেক বিলম্বে হবে, নাকি উভয় বোনের টাকা নগদ দিতে হবে?
Answer
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই পৈতৃক জমির বিক্রয়মূল্য থেকে বোনেরা যেহেতু নিজের অংশের টাকা নগদেই নিয়ে নিতে চাচ্ছে; ফ্ল্যাট নির্মাণে তাদের অংশের টাকা ব্যয় করতে সম্মত নয়, তাই এক্ষেত্রে ভাইদের জন্য বোনদের টাকা জোরপূর্বক ফ্ল্যাট তৈরির কাজে ব্যয় করা বৈধ হবে না। এটি তাদের জন্য সম্পূর্ণ নাজায়েয ও গোনাহের কাজ হবে। এটি অন্যের সম্পদে অবৈধ হস্তক্ষেপের শামিল। তাই ভাইদের ওপর জরুরি হল, বোনদের টাকা এক্ষুনি তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া।
মনে রাখা দরকার, মিরাসি সম্পদে প্রত্যেক ওয়ারিশ তার প্রাপ্য অংশে সমান অধিকার ও পূর্ণ এখতিয়ার রাখে। নিজের অংশ কোন্ খাতে এবং কীভাবে ব্যয় করা হবে— এই এখতিয়ার প্রত্যেকের নিজের। অপর কোনো শরীকের তাকে তার সিদ্ধান্তের বিপরীত কিছু করতে বাধ্য করার অধিকার নেই।
* >الحاوي القدسي< ২/১৫৭ : فشركة الأملاك: العقار، أو العين، يرثان الرجلان، أو يشتريان، فلا يجوز لأحدهما التصرف في نصيب الآخر إلا بإذنه، وكل واحد منهما في نصيب صاحبه كالأجنبي.
—আলমাবসূত, সারাখসী ১১/১৫১; ফাতহুল কাদীর ৫/৩৭৮; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৬৭; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩০০; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া, মাদ্দাহ ১০৭৫