আবদুল মুসাব্বির - বি. বাড়িয়া
৬৯৭৮. Question
আমরা দেখি, বর্তমানে অনেক দোকানদার বলে যে, এটাতে ১০০ টাকা বা এর কাছাকাছি লাভ হয়েছে। অথচ তার লাভ আরও অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু সে মিথ্যা কথা বলে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে।
জানার বিষয় হল, এভাবে বললে কি তার বিক্রয় জায়েয হবে?
Answer
বাস্তব লাভের চেয়ে ক্রেতাকে কম লাভ নেওয়ার কথা বলা একই সঙ্গে মিথ্যা ও প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। যা ভয়াবহ কবীরা গোনাহ। এ থেকে বিরত থাকা জরুরি। হাদীস শরীফে এ বিষয়ে কঠিন হুঁশিয়ারি এসেছে।
হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—
فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُوْرِكَ لَهُمَا فِيْ بَيْعِهِمَا، وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا.
যদি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে সত্য কথা বলে এবং (পণ্যের দোষ-ত্রুটি) যথাযথ বর্ণনা করে, তবে তাদের কেনাবেচায় বরকত হবে। আর যদি তারা মিথ্যা বলে ও (পণ্যের দোষ-ত্রুটি) গোপন করে, তবে তাদের কেনাবেচার বরকত নষ্ট হয়ে যাবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২১১০)
অপর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রিফাআ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—
إِنَّ التُّجَّارَ يُبْعَثُوْنَ يَوْمَ القِيَامَةِ فُجَّارًا، إِلاَّ مَنْ اتَّقَى اللهَ وَبَرَّ وَصَدَقَ.
ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে ফাসেক-ফাজের তথা বদকার রূপে। অবশ্য যেসব ব্যবসায়ী আল্লাহকে ভয় করে, সততার সাথে ব্যবসা করে এবং সত্য কথা বলে— তারা ছাড়া। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১২১০)
অতএব ক্রয়-বিক্রয়েও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া মারাত্মক গোনাহ। এ থেকে বিরত থাকা জরুরি। বিক্রেতা এভাবে মিথ্যা না বলেও সহজে পণ্য বিক্রি করতে পারে। কত টাকা লাভ হল, সেটা ক্রেতার কাছে উল্লেখ না করে বিক্রি করা যায়। অবশ্য এভাবে পণ্যের মূল্য বর্ণনার ক্ষেত্রে মিথ্যা কথা বললে কাজটি মারাত্মক গোনাহের হলেও বাহ্যিক হিসাবে মূল ক্রয়-বিক্রয়টি নাজায়েয হয়ে যাবে না।
—আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/২৪১; শরহু মুখতাসারিল কুদূরী, আলআকতা‘, ৩/৫১৯; খুলাসাতুদ দালায়িল ২/৬৮; গায়াতুল বায়ান ১০/১৬৯; আলবাহরুর রায়েক ৬/৯৯