Safar 1448 || August 2026

নাম-ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক -

৬৯৫০. Question

গত কয়েক বছর আগে এক মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়। সে ভার্সিটিতে পড়ছে। আমাদের সম্পর্কের কয়েক মাস পর আমি বিদেশে চলে যাই। বিদেশে যাওয়ার পরও আমাদের সম্পর্ক চলতে থাকে। ৭/৮ মাস পর একদিন সে ফোনে কান্নাকাটি করে বলে, তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। পাত্র আমেরিকা থাকে।

আমি দেশে আসার দুই মাস আগে তাকে জানাই যে, আমি আসছি। তুমি বাসায় জানাও।

কয়েকদিন পর ওর মামা নম্বর জোগাড় করে আমাকে কল দিয়ে বলে, ওর বিয়ে হয়ে গেছে। ওর সাথে আর যোগাযোগ করবে না। তিনি বিয়ের কয়েকটা ছবিও পাঠান।

এরপর আমরা বাড়ি থেকে পালানোর পরিকল্পনা করি। আমি যেদিন দেশে ফিরি, এর পরদিন তাকে নিয়ে কাজি দিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করে ফেলি। পরের দিন ওর মামারা আমাদের খুঁজে পায়। কিন্তু মেয়ে আমাদের পক্ষে থাকায় তারা তাকে নিতে পারে না।

পরবর্তীতে আমার পরিবার বিয়ের কথা শুনতে পেরে তাকে তার মামাদের ধরা উকিলের কাছে নিয়ে আসে। তখন উকিল কাজি ডেকে আমাদের তালাক করায়।

আমাদের যখন বিয়ে হয়, তখন তার আগের স্বামী থেকে তালাক নেওয়া হয়নি। আগের স্বামী থেকে তালাক না নিয়েই তার সাথে আমার বিয়ে হয়ে যায়।

আমাদের বিয়ে হয়েছিল ৫ জানুয়ারি ২০২৫ ঈ. আর তালাক হয় ৯ জানুয়ারি ২০২৫ ঈ.। তার আগের বিয়ে হয় ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ ঈ.।

মূল প্রশ্ন, আমি যে মেয়েকে বিয়ে করেছিলাম, তার আগেও একটা বিয়ে হয়েছে এবং তালাক না হয়েই আমার সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের চার দিন পর আবার আমার সাথে তার তালাক হয়।

এই ঘটনার সাত মাস পর আমি আবার সেই মেয়েকে আনতে চাই। সে-ও আগের স্বামীকে তালাক করে আমাকে বিয়ে করতে চায়। এখন আমাদের করণীয় কী?

Answer

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী ওই মেয়েটি যেহেতু অন্যের স্ত্রী এবং সে অন্যের বিবাহের অধীনে থাকা অবস্থায়ই আপনি তাকে বিবাহ করেছেন, তাই আপনাদের ওই বিবাহ সংঘটিতই হয়নি; বরং তা সম্পূর্ণ বাতিল ও হারাম কাজ হয়েছে। যে কয়দিন আপনারা একত্রে থেকেছেন, তাও পরিষ্কার হারাম কাজ হয়েছে। এখনও তার স্বামীর সাথেই তার বিবাহ বহাল রয়েছে।

এমনিতেই পরনারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা জঘন্য গুনাহ। উপরন্তু একটি মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তার সাথে সম্পর্ক রাখা, তাকে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিবাহ করা, তার সাথে একত্রে থাকা– সবই ভয়াবহ গুনাহ ও হারাম কাজ হয়েছে। এর জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে কায়মনোবাক্যে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে।

সাথে সাথে আপনার জন্য জরুরি হল, আল্লাহকে ভয় করে ওই মেয়ের চিন্তা সম্পূর্ণ মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেওয়া এবং তার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং অন্য কোনো মেয়েকে বিবাহ করে নেওয়া।

কিন্তু ওই মেয়েকে তার স্বামী থেকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করা আপনার জন্য কিছুতেই জায়েয হবে না। এর থেকে আপনার সম্পূর্ণ বিরত থাকা জরুরি।

 

–মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৭১৬২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৫৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ২১৬৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩২৪৪; মারাতিবুল ইজমা, পৃ. ১১৯; আলমাবসূত, সারাখসী ৩০/২৮৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৪৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬৬; মাজমাউল আনহুর ৪/২০২; রদ্দুল মুহতার ৩/৫১৬, ৬/৩৬৮

Read more Question/Answer of this issue