সুমাইয়্যা - বাড্ডা, ঢাকা
৬৮৪৬. Question
আমি দুই সন্তান এবং স্বামী নিয়ে আলাদা ভাড়া বাসায় থাকি। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এবং একমাত্র ননদ– তারাও আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। আমার শ্বশুর চাকরি করে নিজের পরিবার চালান আর আমার স্বামী আমাদের পরিবার। আমরা একই এলাকায় কাছাকাছি জায়গাতে থাকি। আসা-যাওয়াও হয়। এর মধ্যে উনারা প্রায়ই আমার স্বামীকে একসাথে থাকতে না পারার কষ্ট এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। আবার আমার স্বামীও আমার কাছে বাবা-মায়ের সাথে থাকতে না পারার কষ্ট প্রকাশ করেন। আমি একাধিকবার তাদের সাথে থাকতে গিয়ে নানাবিধ সমস্যার কারণে আলাদা হয়ে এখন আর তাদের সাথে থাকতে চাচ্ছি না।
আমার জানার বিষয় হল, এতে কি আমার গুনাহ হবে? আমার স্বামী যদি আমার মনে কষ্ট থাকা সত্ত্বেও তাদের সাথে থাকার ব্যবস্থা করেন, তাতে কি তার গুনাহ হবে, নাকি বাবা-মায়ের ইচ্ছা পূরণ না করে এভাবে আলাদা থাকাতে তাঁর গুনাহ হচ্ছে? সর্বোপরি এখন আমাদের করণীয় কী?
Answer
স্ত্রী হিসেবে স্বামীর ওপর আপনার যেমন হক রয়েছে, সন্তান হিসেবে আপনার স্বামীর ওপর তার পিতামাতারও হক রয়েছে। স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার ভালোভাবে থাকার ব্যবস্থা করা এবং আপনার শরীয়তসম্মত হকগুলো আদায়ের প্রতি খেয়াল রাখা যেমন তার দায়িত্ব, তেমনিভাবে সন্তান হিসেবে পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট রাখা, তাদের প্রয়োজনাদি পূরণ করা এবং সাধ্যমতো তাদের খেদমত করাও তার দায়িত্ব। শরীয়তের দৃষ্টিতে উভয় হকই আদায় করা তার জন্য জরুরি। একজনের হক আদায় করতে গিয়ে যাতে অন্যজনের হক ক্ষুণ্ন না হয়– সেদিকে লক্ষ রাখা এবং উভয়টিকে সমন্বয় করে চলাও জরুরি।
আর স্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব হল, স্বামীর আনুগত্য করা এবং তার হকগুলো আদায়ের পাশাপাশি তার পিতা-মাতার হকগুলো আদায়ের ক্ষেত্রেও তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা। আপনার কারণে তার পিতা-মাতার হক আদায়ে যেন কোনো বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু আপনার শ্বশুর-শাশুড়ির ইচ্ছা হল, আপনি তাদের সাথেই থাকবেন। আর এটি আপনার স্বামীরও ইচ্ছা, তাই এক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে নিজের ইচ্ছার বিপরীত হলেও স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করা। এক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হবে।
শ্বশুর-শাশুড়ির করণীয় হল, পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো দেখা। নিজের মেয়েকে যেভাবে আদর ও শাসনের মাঝে রাখেন, তার অনেক কিছু মাফ করে দেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাকে ছাড় দেন, পুত্রবধূর ক্ষেত্রেও এভাবে খেয়াল রাখবেন।
আর পুত্রবধূ হিসেবে আপনার করণীয় হল, শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের বাবা-মায়ের মতো মনে করা। তাদেরকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করা। তাদের কোনো আচরণ-উচ্চারণ ভালো না লাগলে কিংবা আপনার সাথে ভালো আচরণ না করলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে পাশ কাটিয়ে যাওয়া। কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে যদি মনে হয় এর কারণে সমস্যা কমবে না; বরং আরও বাড়বে, সেক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়া এবং ধৈর্যধারণ করা। যদি বিষয়টি এভাবে সমাধান করে তাদের সাথে থাকা সম্ভব হয়, তাহলে এর চেষ্টা করবেন।
মনে রাখতে হবে, ছোট-খাটো সমস্যা, ঝগড়া-বিবাদ নিজেরা একা থাকলেও পরিবারগুলোতে মাঝেমধ্যেই হয়ে থাকে। কিন্তু ঝামেলা যদি বড় ধরনের হয়, সমাধান করা সম্ভব না হয় এবং একত্রে থাকার কারণে বাস্তবেই সংসারে আরও বেশি ঝামেলা ও অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে আপনারা পৃথক বাসায় থেকে তাদের হক আদায়ের চেষ্টা করতে পারেন।
এক বাসায় অবস্থান করুন অথবা পৃথক বাসায়, আপনার স্বামীকে পিতা-মাতার হক আদায়, সুখ-দুঃখে তাদের সঙ্গ দেওয়া এবং তাদের প্রয়োজন পূরণের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যেতে হবে।
এ বিষয়ে আপনার দায়িত্ব, তাকে পূর্ণ সমর্থন প্রদান ও সহযোগিতা করা। এবং আপনার কর্তব্য হবে, স্বামীর পিতা-মাতা হিসেবে তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সদাচরণ জারি রাখা।
–আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ২/১০৯, ১৮৮, ১৯৩; আহকামুল কুরআন, ইবনুল আরাবী ১/৪৯৩-৪৯৪; আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়েখ, পৃ. ১৯০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪২৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪২৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৯৯-৬০১