Rabiul Akhir-Jumadal Ula 1448   ||   October 2026

ইতিহাসের পাতা থেকে
সম্পূর্ণ সহীহ বুখারীর প্রথম মুদ্রণ হাদীসের চর্চা ও প্রসারে হিন্দুস্তানের উলামায়ে কেরামের অবদান

Mawlana Muhammad Zakaria Abdullah

হযরত শাহ মুহাম্মাদ ইসহাক দেহলভী রাহ. (মৃত্যু : ১২৬২ হি.)-এর একজন সুযোগ্য শাগরিদ মাওলানা আহমাদ আলী সাহারানপুরী রাহ. (মৃত্যু : ১২৯৭ হি.)। ইলমে হাদীসের তালিবদের তাঁর সম্পর্কে জানা আবশ্যক। ঊনবিংশ শতকের হিন্দুস্তানে হাদীসের পঠন-পাঠন এবং মৌলিক হাদীস-গ্রন্থসমূহের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, টীকা-ভাষ্য রচনা এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনার এক উজ্জ্বল ইতিহাস তাঁর সাথে জড়িত। এই প্রবন্ধে সেই ইতিহাস খানিকটা আলোচনা করতে চাই।

মাওলানা আহমাদ আলী সাহারানপুরী রাহ. ১২২৫ হিজরী মোতাবেক ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনী আলোচকরা তাঁকে আনসারী খান্দানের সন্তান বলে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তাঁর বংশধারা সাহাবী আবু আইয়ূব আনসারী রা. পর্যন্ত পৌঁছে। তাঁর বাবার নাম লুতফুল্লাহ। প্রাথমিক শিক্ষা সাহারানপুরে অর্জন করেন। মাধ্যমিক থেকে সহীহ বুখারী পর্যন্ত দরসিয়াতের প্রায় সকল কিতাব হযরত মুফতী ইলাহী বখ্শ কান্ধলভী, হযরত মাওলানা সাআদাত আলী ফকীহ সাহারানপুরী ও হযরত মাওলানা ওয়াজীহুদ্দীন সিদ্দীকী হাসানী সাহারানপুরী রাহ. প্রমুখ-এর কাছে পড়েছেন।

শাহ ইসহাক দেহলভী রাহ. (মৃত্যু : ১২৬২ হি.)-এর খেদমতে

নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষা সমাপনের পরও তাঁর মধ্যে ইলম অর্জনের পিপাসা সজীব ছিল। তিনি তৎকালীন ভারতবর্ষের ইলমে হাদীসের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ ইসহাক দেহলভী রাহ.-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর কাছ থেকে হাদীসের পাঠ ও ইজাযত গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সে সময় শাহ ছাহেব হিন্দুস্তান থেকে হিজায হিজরতে মনস্থ করে ফেলেছিলেন। হযরত শাহ ইসহাক দেহলভী রাহ. মক্কা মুকাররমার উদ্দেশে হিজরত করে যাওয়ার কয়েক মাস পর ১২৫৯ হিজরীর ২৬ রজব মাওলানা সাহারানপুরী রাহ.-ও দিল্লী থেকে মক্কা মুকাররমার উদ্দেশে রওয়ানা হন। ওখানে পৌঁছে শাহ ছাহেব রাহ.-এর কাছে ‘কুতুবে সিত্তাহ’ অর্থাৎ হাদীসের প্রসিদ্ধ ছয় কিতাবসহ তাফসীর, হাদীস ও ফিকহের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের পাঠ ও ইজাযত গ্রহণ করেন। শাহ ছাহেব মাওলানা সাহারানপুরী রাহ.-কে যে সনদ প্রদান করেছিলেন, তাতে বাইশটি কিতাবের নাম আছে। দুই বছরের মতো মক্কা মুআয্যামায় শাহ ছাহেবের খেদমতে থাকার পর ১২৬১/৬২ হিজরী সনে হিন্দুস্তানে ফিরে আসেন। ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর হিন্দুস্তান থেকে সুদূর আরবে পাড়ি জমানো হাদীসের ‘আলী সনদ’-এর অন্বেষণে সালাফের ‘রিহলা’র কথা মনে করিয়ে দেয়।

বিদায়কালে শাহ ছাহেব তাকে হাদীসের খেদমতে মশগুল থাকার অসিয়ত করেছিলেন। হযরত মাওলানা তাঁর সম্পাদনায় মুদ্রিত সহীহ বুখারীর শেষে যে নাতিদীর্ঘ মন্তব্য লিখেছেন, তাতে সেই অসিয়তের উল্লেখ আছে। আগ্রহী পাঠকের জন্য তার কয়েকটি কথা এখানে তুলে দিচ্ছি :

 ... أما بعد، فيقول العبد الراجي رحمة ربه القوي الخادم للحديث النبوي أحمد علي السهارنفوري: إنه قد استتبّ بعون الملك الباري طبع الصحيح الجامع للحافظ الإمام شيخ الإسلام سيد المحدثين محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله، بعد ما صرفت برهة من دهري، وظمئت نهاري، وسهرت ليلي في تصحيح مبانيه،وتنقيح مطالبه، وتشريح مآربه، وتبيين أسماء الرجال بالحركات والأنساب والكنى والألقاب، على حسب ما يقتضيه المقام ويستدعيه المرام، ولم آل جهدا في ترصيف ما لخصته من شروح هذا الكتاب، وتهذيب ما خلصته مما يتعلق بارتباط السابق باللاحق، وتطبيق الحديث على ترجمة الباب...

ثم لما كان شغفي بخدمة الحديث النبوي بما أوصاني بها مرشدي ومولاي ذو النفس القدسية والصفات الملكية، والمحتد الطاهر والمفخر الظاهر، المشهور بالفضل في الآفاق، قدوة أهل الوفاق مولانا الحاج محمد إسحاق، تغمده الله تعالى برحمته وأسكنه دار كرامته، فشرعت في طبع صحيح مسلم مع شرحه للنووي، وفقني الله لإتمامه وجعل حسن اختتامه كحسن اختتامه...

তাঁর এই অলংকারপূর্ণ বক্তব্যের সারকথা হচ্ছে, ‘সহীহ বুখারীর বিশুদ্ধ পাঠ নির্ধারণ, আসমাউর রিজালের সঠিক উচ্চারণ ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, ভাষ্যগ্রন্থসমূহের সংশ্লিষ্ট আলোচনার সারনির্যাস উল্লেখপূর্বক টীকা সংযোজন, আরবী পাঠের সঠিক মর্ম নির্দেশক চিহ্ন-সংযুক্তি এবং তরজমাতুল বাব বা পরিচ্ছেদের শিরোনামের সাথে উল্লিখিত হাদীসের সামঞ্জস্য আলোচনা ইত্যাদি শাস্ত্রীয় ও সূক্ষ্ম কাজে আমার বহু দিনের নিমগ্নতা ও দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের পর মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে সহীহ বুখারীর মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে।... যেহেতু আমার মুর্শিদ মাওলানা মুহাম্মাদ ইসহাক (দেহলভী) রাহ.-এর অসিয়তক্রমে হাদীসের খেদমতই আমার প্রিয় নিমগ্নতা, তাই ইতোমধ্যে ইমাম নববীর ভাষ্যসহ সহীহ মুসলিমের মুদ্রণের কাজও শুরু করেছি। আল্লাহ তাআলা যেভাবে আমাকে সহীহ বুখারীর মুদ্রণ ও প্রকাশনা সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন, সহীহ মুসলিমের মুদ্রণ ও প্রকাশনাও সম্পন্ন করার তাওফীক দান করুন— আমীন।’

হযরত মাওলানা সাহারানপুরী রাহ. ইলমে হাদীসের অধ্যয়ন-অধ্যাপনা, হাদীসের মৌলিক গ্রন্থসমূহের টীকা-ভাষ্য রচনা এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনে অবিস্মরণীয় কাজ করে গেছেন।

ভারতবর্ষে হাদীসগ্রন্থের মুদ্রণ ও প্রকাশনা

ইতিহাসের বৃত্তান্ত অনুযায়ী ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি (১৫৫৬ ঈ.) ভারতবর্ষের গোয়ায় পর্তুগীজদের মাধ্যমে মুদ্রণযন্ত্রের সূচনা হলেও অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রায় শেষ পর্যন্ত আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে তা ছিল আমদানি নির্ভর। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে কলকাতায় প্রেস আসে।  এ সময় থেকে হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির স্থলে মুদ্রিত গ্রন্থের ধারা শুরু হয়। এ সময় শাহ আবদুল আযীয দেহলভী রাহ. (মৃত্যু : ১২৩৯ হি./ ১৮২৪ ঈ.) জীবিত ছিলেন। তিনি তাঁর কীর্তিমান পিতা হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী রাহ. (১১৭৬ হি. মোতাবেক ১৭৬২ ঈ.)-এর বিখ্যাত রচনা ‘আলফাওযুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর’ এবং ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’ ছাপানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তেমনি শাহ আবদুল আযীয রাহ.-কৃত ‘তাফসীরে আযীযী’ এবং শাহ আবদুল কাদের দেহলভী রাহ.-কৃত (১২৩০ হি.) ‘মূযিহে কুরআন’-সহ আরও কিছু গ্রন্থ কলকাতায় মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

শাহ আবদুল আযীয দেহলভী রাহ. (মৃত্যু : ১২৩৯ হি. মোতাবেক ১৮২৪ ঈ.)-এর ওফাতের পর তাঁর দৌহিত্র হযরত শাহ ইসহাক দেহলভী রাহ. (মৃত্যু : ১২৬২ হি.) হাদীসের মৌলিক গ্রন্থসমূহের মুদ্রণ ও প্রকাশনার ইচ্ছা করেন। তিনি হাদীসের অন্যতম মৌলিক গ্রন্থ সুনানে নাসায়ীর মাধ্যমে এই খেদমত শুরু করেন। দিল্লীর মাতবাআয়ে সুলতানীতে ১২৫৬ হিজরী মোতাবেক ১৮৪০ ঈ. সনে তা মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।  সুনানে নাসায়ীর যে নুসখা ১২৯৬ হিজরীতে মাতবায়ে নিযামী কানপুর থেকে মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনুল হাজ রওশন খান-এর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে শাহ ইসহাক দেহলভী রাহ.-এর নুসখাকেই মূল ধরা হয়েছিল। ওই  নুসখার শুরুতে শাহ ইসহাক দেহলভী রাহ.-এর সনদ উল্লেখিত হয়েছে। সনদের প্রথম বাক্যটি এই—

يقول العبد الضعيف خادم علماء الآفاق محمد إسحاق...

মাতবায়ে নিযামী কানপুরের এই মুদ্রিত নুসখাকে মূল ধরে দিমাশকের মুআসসাসাতুর রিসালাহ নাশিরূন ১৪৪২ হিজরী সনে তাদের মওসূআ হাদীসিয়্যাহর অংশ হিসেবে সুনানে নাসায়ীর উত্তম মুদ্রণ সম্পন্ন করেছে। এই মুদ্রণের ১১০-১১২ পৃষ্ঠায় ওই নুসখার ছবি দেওয়া আছে। আগ্রহী পাঠক তা দেখে নিতে পারেন।

শাহ ইসহাক রাহ. হিন্দুস্তানে হাদীসের কিতাবের মুদ্রণের কাজ শুরু করলেও তা অগ্রসর করার সৌভাগ্য আল্লাহ তাআলা তাঁর আরেক বান্দার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। শাহ ইসহাক রাহ. মক্কা মুকাররমায় হিজরত করে চলে যাওয়ার পর তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী তাঁর সুযোগ্য শাগরিদ মাওলানা আহমাদ আলী সাহারানপুরী রাহ. হাদীস-গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও মুদ্রণের এই ধারাকে এমনই নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে এগিয়ে নিয়ে যান যে, ঊনবিংশ শতকের মুসলিম জাহানের জন্য হিন্দুস্তান এক্ষেত্রে পথিকৃতের  ভূমিকা পালন করে।

সাহারানপুরী রাহ. এমন সময়ে হাদীস-গ্রন্থসমূহের মুদ্রণ ও প্রকাশনা  শুরু করেছিলেন, যখন মুসলিম জাহানের কোথাও এই কিতাবগুলো মুদ্রিত হয়নি। তখনও পর্যন্ত সকল গ্রন্থের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিই ছিল পঠন-পাঠন সামগ্রী।

হাদীসের ছয় কিতাবের মধ্যে তিনি সবার আগে সহীহ বুখারীর পাণ্ডুলিপি-সম্পাদনা ও মুদ্রণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন, তবে বিভিন্ন কারণে এর মুদ্রণ পিছিয়ে যায়। ১২৬৫ হিজরীতে তিনি সর্বপ্রথম জামে তিরমিযীর মুদ্রণ ও প্রকাশনা সম্পন্ন করেন।  জামে তিরমিযীর ওপর তিনি একটি টীকাও রচনা করেন। এই টীকাসহই হাদীসের এই মৌলিক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর ১২৬৭ হিজরী সনে তিনি সহীহ বুখারীর প্রথম খণ্ডের মুদ্রণ সম্পন্ন করেন। ১৬৭০ হি. মোতাবেক ১৮৫৩ ঈ. সনে সম্পূর্ণ সহীহ বুখারীর মুদ্রণ সম্পন্ন হয়।  সহীহ বুখারীর ওপরও তিনি মূল্যবান টীকা রচনা করেন। এই টীকাসহ তা প্রকাশিত হয়। দিল্লীর মাতবায়ে মুজতাবায়ী থেকে ১৩২২ হিজরী মোতাবেক ১৯০৪ সালে অত্যন্ত যত্নের সাথে সহীহ বুখারীর যে নুসখা মুদ্রিত হয়েছে, তার শেষে মাতবায়ে মুজতাবায়ীর পক্ষ হতে লেখা আছে—

...))در تصحیح اصل کتاب و تحریر حواشی نایاب كا رہا نمودند کہ رقبۂ احسانش برقبۂ علماء تا قیامت خوار ماند و در 1270٠ ھ طبع کنانيد اشاعت عام فرمو دند، بعد ازاں صاحب زادگان ایشاں کہ از علوم نقلیہ و عقلیہ و اخلاق محمدیہ بہرہ وافی دارند در 1284٤ ھ باز 1308٨ ھ ہجری حلیہ طبع پوشانیدند.”

উপরের ফার্সী উদ্ধৃতিতে প্রথম মুদ্রণের সন ১২৭০ হিজরী উল্লিখিত হয়েছে। 

আমাদের জানামতে তাঁর মুদ্রণ ও প্রকাশনা ছিল মুসলিমজাহানে এই কিতাবের প্রথম মুদ্রিত প্রকাশনা। এই খেদমত নিঃসন্দেহে এ অঞ্চলের ইলমী ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়, যা আমাদের আলেম-তালিবে ইলমই শুধু নয়, আমাদের দ্বীন-প্রিয় সচেতন মুসলিমমাত্রেরই স্মরণ রাখা উচিত। এতে আরব হিজাযসহ  মুসলিমজাহানের অন্যান্য ভূখণ্ডের মতো এই ভূখণ্ডের উলামা-মাশায়েখের যোগ্যতা, কীর্তি ও অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সাথে মূল্যায়ন করা সহজ হবে।

হাদীস-সুন্নাহর চর্চা ও প্রচার-প্রসারে হিন্দুস্তানের উলামা-মাশায়েখের অবদান : এক আরব আলেমের লেখায়

আমি এখানে আরব জাহানের একজন প্রতিনিধিত্বশীল মনীষী ব্যক্তিত্বের বক্তব্য উদ্ধৃত করছি। হাদীস-সুন্নাহর চর্চা ও প্রচার-প্রসারে হিন্দুস্তানের উলামা-মাশায়েখের অবদান আলোচনা করে রাবিতাতুল আলামিল ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুহসিন আততুরকী লেখেন—

 ((... وقد برزت في دهلي يقظة علمية، انقدحت جذوتها منذ ثلاثة قرون، تركزت على العناية بالحديث وعلومه وفنونه المختلفة رواية ودراية. ثم انتشرت هذه اليقظة حتى عمت ربوع الهند و السند. وكان ذلك فضلا ادخره الله تعالى لتلك البلاد وأهلها، إذ جنّدهم لحفظ سنة نبيه المصطفى صلى الله عليه و سلم، وإحياء علومها، فتنافسوا في اقتناء كتبها، وبذلوا فيها نفيس الأثمان، وقطعوا في البحث عنها الفيافي وجابوا البلدان، نفقت بينهم سوق النسخ، ولما جاء عهد الطباعة جلبوا المطابع في وقت مبكر، فطبعوا الكثير من الأمهات وغيرها، ووزعوها في الهند وخارجها حتى وصلت إلى البلاد العربية، وأسسوا المدارس ودور العلوم والكليات والجامعات الإسلامية، ونبغ منهم نبغاء، لا سيما في دهلي و كجرات و لكناؤ وسهارنفور وأعظم كره، ومباركفور،وديوبند...  فحق على الأمة أن تعترف لهم بهذا الفضل و السبق، والخدمة الجليلة للأصل الثاني من أصول التشريع الإسلامي.

وكان من أولئك الأعلام الكرام الشيخ أحمد علي بن لطف الله السهارنفوري (১২৯৭هـ)، أحد كبار المحدثين والفقهاء في الهند في القرن الثالث عشر، المسند المفيد، صاحب التعاليق القيمة على العديد من كتب السنة، والذى تخرّج على يديه كثير من المشاهير أمثال الشيخ محمد قاسم النانوتوي، والشيخ رشيد أحمد الكنكوهي، والشيخ شبلي النعماني وغيرهم.                                                                                      

و قد صرف -رحمه الله- عناية خاصة لـ((الجامع الصحيح))، فطبعه في المطبعة التي أنشأها في دهلي، وكانت أول طبعة لـ((صحيح البخاري)) ظهرت على وجه البسيطة، وذلك فيما بين (১২৬৭-১২৭০ هـ) أي قبل الطبعة البولاقية المصرية بعشر سنين، ثم أعاد طباعته ثانية بعد خمس عشرة سنة أي في سنة ১২৮২هـ ))

“...এদিকে দিল্লীতে এক ইলমী জাগরণ ঘটল, যার প্রথম স্ফূলিঙ্গটি জ্বলে উঠেছিল তিন শতাব্দী আগে। যে জাগরণ ছিল মূলত হাদীস শরীফ ও এতদ্সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের চর্চা ও পঠন-পাঠন-সংক্রান্ত। ধীরে ধীরে তা হিন্দ ও সিন্দের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ অনুগ্রহ, যা তিনি এই ভূখণ্ডের অধিবাসীদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের পুনরুজ্জীবনের জন্য তাদের সংগঠিত করলেন। তাঁরা হাদীস-সুন্নাহর হস্তলিখিত গ্রন্থসমূহ সংগ্রহের জন্য বহু দুর্গম প্রান্তরে সফর করলেন। শহর-নগর চষে বেড়ালেন, ফলে একপর্যায়ে এ অঞ্চলে হাদীস-সুন্নাহর পাণ্ডুলিপি-চর্চা বেগবান হয়ে উঠল।

“এরপর যখন মুদ্রণ-যুগ এল তখন প্রথম দিকেই তারা মুদ্রণ-যন্ত্র সংগ্রহ করলেন এবং বহু মৌলিক গ্রন্থের মুদ্রণ ও প্রকাশনা সম্পন্ন করে হিন্দ ও হিন্দের বাইরে বিতরণ করলেন। এখান থেকে এইসকল মুদ্রিত গ্রন্থ আরব দেশগুলোতেও পৌঁছল।

“তারা এখানে বহু মাদরাসা, দারুল উলূম ও জামেয়া ইসলামিয়্যাহ প্রতিষ্ঠা করলেন এবং তাদের মধ্যে অনেক মনীষী ব্যক্তিত্ব তৈরি হল। এ প্রসঙ্গে দিল্লী, গুজরাট, লখনৌ, সাহারানপুর, আজমগড়, মোবারকপুর ও দেওবন্দ প্রভৃতি অঞ্চল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

“কাজেই উম্মাহর কর্তব্য, তাদের এই কীর্তি ও অগ্রগামিতা এবং ইসলামী বিধি-বিধানের দ্বিতীয় সূত্র হাদীস ও সুন্নাহর এই বিরাট খেদমতকে স্বীকার করা। হিন্দুস্তানের এই কীর্তিমান মনীষীদেরই একজন শায়েখ আহমাদ আলী ইবনে লুতফুল্লাহ সাহারানপুরী রাহ. (১২৯৭ হি.) যিনি ত্রয়োদশ হিজরী শতকের হিন্দুস্তানের বড় মুহাদ্দিস ও ফকীহদের একজন। যার সাহচর্যে শায়েখ কাসেম নানুতবী, শায়েখ রশীদ আহমাদ গাংগুহী, শায়েখ শিবলী নোমানীর মতো বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ  প্রস্তুত হয়েছেন।

“তিনি ইমাম বুখারীর আলজামিউস সহীহ-এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও প্রাসঙ্গিক শাস্ত্রীয় কাজে মনোনিবেশ করেন এবং দিল্লীতে তাঁর নিজ মাতবা‘আ থেকে তা ছেপে প্রকাশ করেন। এটি ছিল পৃথিবীর বুকে সম্পূর্ণ সহীহ বুখারীর প্রথম মুদ্রণ। এর সময়কাল ১২৬৭ হি. থেকে ১২৭০ হিজরী। অর্থাৎ মিশরের বোলাক থেকে সহীহ বুখারী মুদ্রিত হওয়ার দশ বছর আগে তা হিন্দুস্তানে মুদ্রিত হয়েছিল। এর পনেরো বছর পর অর্থাৎ ১২৮২ হিজরী সনে তা পুনর্মুদ্রণ করেন। ...”  

পাক-ভারত অঞ্চলের উলামা-মাশায়েখের ব্যাপারে আমাদের কিছু বন্ধু যেসকল ভিত্তিহীন ধারণা পোষণ করেন, যেমন, এ অঞ্চলে ইলমে হাদীসের চর্চা না থাকায় ফিকহী মাযহাবের প্রচলন হয়েছে এবং নাউযুবিল্লাহ(!), হাদীসের বিপরীতে মাযহাবের অনুসরণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে— এসব যে কত অসার কল্পকাহিনী, তা আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারব, যদি এ অঞ্চলের হাদীস চর্চার সঠিক ইতিহাস আমাদের জানা থাকে।

আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস-সুন্নাহর পঠন-পাঠন, অধ্যয়ন-অধ্যাপনা, রচনা-গবেষণা ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে এই ভূখণ্ডের হানাফী মনীষীদের বিরাট অংশগ্রহণ রয়েছে; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগামিতা আরব জাহানেও স্বীকৃত। আলহামদু লিল্লাহ।

একটি তুলনা 

এখানে আরেক শ্রেণির ব্যাপারেও আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বস্তুত এই শ্রেণিটিই আমাদের মূল প্রতিপক্ষ। আমাদের সবার সম্মিলিতভাবে এদের মোকাবেলা করা উচিত। এরা হচ্ছে এ অঞ্চলের বেদ্বীন-মুলহিদ শ্রেণি। এদের একদল তো দ্বীন ও খেদমতে দ্বীনের ব্যাপারেই বিরক্ত ও বীতশ্রদ্ধ, আরেকদল প্রাচ্যবিদ গবেষকদের দ্বারা প্রভাবিত ও সন্ত্রস্ত। এরা সাধারণত উলামা-মাশায়েখের শাস্ত্রীয় ও গভীর গবেষণামূলক কাজের সাথেও পরিচিত নয় এবং তাদের মূল্যবান ও শ্রমসাধ্য কাজের ন্যায়সংগত মূল্যায়নেও প্রস্তুত নয়। এইসকল কাজকে ‘ধর্মীয় কাজ’ বলে পত্রপাঠ নাকচ করে দেওয়াই এদের স্বভাব। অথচ পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র, দুর্বল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজের ব্যাপারেও এরা অতি উৎসাহী। এজাতীয় কাজও তাদের আলোচনায় অত্যন্ত কৃতার্থতার সাথে উঠে আসে।

আলোচনা যেহেতু মুদ্রণ ও প্রকাশনা-প্রসঙ্গে, তাই এ বিষয়েই একটি উদাহরণ দিচ্ছি : ভারতবর্ষে বিশেষত কলকাতায় মুদ্রণ-যন্ত্রের আগমন এবং মুদ্রিত গ্রন্থের ইতিহাসের আলোচনায় প্রথম দিকের যেসব মুদ্রিত গ্রন্থের আলোচনা হয়ে থাকে, তার একটি হচ্ছে হ্যালহেড প্রণীত A Grammar of the Bengal Language. ১৭৭৮ সালে মুদ্রিত এই বইয়ের ব্যাপারে বলা হয় ‘এই গ্রন্থ-প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার যাত্রা শুরু হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।’ কিন্তু ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী ও মিশনারী গোষ্ঠীর এই তৎপরতার উদ্দেশ্যে কী ছিল?

জনাব মফিদুল হকের ভাষায়— “বঙ্গদেশে মুদ্রণযন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন শাসক ইংরেজরা এবং তাদের প্রয়োজনের দিকে লক্ষ রেখেই পুস্তকাদি প্রকাশিত হতে থাকে। মূলত দুই ধারায় এইসব গ্রন্থ প্রকাশিত হয়— একদিকে ছিল সরকারি প্রকাশনা এবং আরেক দিকে মিশনারি প্রকাশনা। কোম্পানির প্রবর্তিত আইনের ধারা, ব্যবসা-বিধি, কর-আরোপ ইত্যাদি সম্পর্কে দেশীয় জনগণকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া ১৭৬৫ সাল থেকে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করে এবং ভূমিকর, ভূমিব্যবস্থা ও বিচারকার্য সম্পর্কে ইংরেজ শাসকদের নীতি সম্পর্কে শাসিত বঙ্গীয় জনগণকে অবহিত করার প্রয়োজনে ইংরেজি ও বাংলায় নানাবিধ ম্যানুয়াল ও গ্রন্থ প্রকাশ জরুরি হয়ে পড়ে। ফলে কলকাতা ও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি ছাপাখানা গড়ে ওঠে; পাশাপাশি খ্রিস্টান মিশনারিদের ধর্ম প্রচারের প্রয়োজনে ধর্মকথা ও ধর্ম পুস্তকের বাংলাভাষ্য তৈরি ও গ্রন্থাকারে প্রকাশের তাগিদ দেখা দিতে থাকে। তাই একদিকে ফোর্ট উইলিয়াম ঘিরে বিকশিত হয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ছাপাখানা আর শ্রীরামপুর মিশনকে কেন্দ্র করে বিকশিত হয় খ্রিস্টীয় ধর্ম-পুস্তক প্রকাশনা, যার অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন উইলিয়াম কেরি এবং তাকে যোগ্য সহযোগিতা দান করেন মুন্সি রাম রাম বসু।”  

এই অবস্থায় সে সময়ের সচেতন উলামা-মাশায়েখের মুদ্রণ-যন্ত্র সংগ্রহ করে হাদীস-সুন্নাহর মৌলিক গ্রন্থাবলির মুদ্রণ ও প্রকাশনার প্রয়াস ছিল এক সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শের বিস্তারে এবং খ্রিস্টান মিশনারি গোষ্ঠীর অপতৎপরতা মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

জনাব মফিদুল হক আরও লেখেন— ‘বাঙালি (ভারতীয়) মালিকানাধীন প্রথম বাংলা মুদ্রণালয়ের দেখা মেলে ১৮১৬ সালে। কলকাতায় যে বিত্তশালী দেশীয় নব্য ধনী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল, তাঁদের অন্যতম রাজা রাধাকান্তদেব প্রতিষ্ঠা করেন এই মুদ্রণশালা এবং এখান থেকে প্রকাশিত হয় ৮ খণ্ডের শব্দকল্পদ্রুম, যা অনেকটা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার আদলে প্রণীত। প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার পুরো গ্রন্থ প্রকাশে সময় লেগেছিল ৪১ বছর। তবে সংস্কৃত ভাষায় প্রণীত হওয়ার কারণে এর প্রভাব সীমিত হয়ে থাকে।’  

এইসকল প্রয়াসের সাথে এ অঞ্চলের একজন ‘মাওলানার’ কর্ম-সাধনাকে তুলনা করুন, যিনি সে সময়ের সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ রাজশক্তির কৃপাধন্য ছিলেন না; বরং স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মুসলমানদের একজন ছিলেন। ১৮৫৭-এর বিপ্লবে যার মুদ্রণালয় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হাদীস-সুন্নাহর চর্চাকে সহজ ও বেগবান করার জন্য তিনি হাদীসের যে মৌলিক গ্রন্থগুলোর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, টীকা-ভাষ্য রচনা এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনার কাজ করেছেন, তার একেকটি গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা হাজারেরও বেশি। শুধু সহীহ বুখারীর ওপর তিনি যে কাজ করেছেন তা ১৪৩২ হিজরী মোতাবেক ২০১১ ঈসায়ী সনে কম্পিউটার কম্পোজ করে ‘দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যা’ থেকে পনেরো খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। পনেরোতম খণ্ডটি ফাহারিস বা ইনডেক্স হওয়ায় তা বাদ দিয়ে বাকি চৌদ্দ খণ্ডের পৃষ্ঠাসংখ্যা ১১,০৬৬ (এগারো হাজার ছেষট্টি)। এ শুধু একটি গ্রন্থ অর্থাৎ সহীহ বুখারীর হিসাব। এ থেকে অনুমান করে নিন ৯০০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ প্রকাশে যেখানে ধনকুবের রাজাদের ৪১ বছর সময় ব্যয় হয়েছে, ওই সময় এই মাওলানা কী পরিশ্রম করেছেন এবং কেমন দক্ষতা ও দ্রুততার সাথে কাজ করেছেন!

আফসোসের কথা হচ্ছে, এই কাজগুলো আমাদের মুদ্রণ ও প্রকাশনার ইতিহাসে স্থান পায় না। অথচ শত শত বছর যাবৎ শুধু পাক-ভারত উপমহাদেশেই নয়, আরব বিশ্বেও তা স্বীকৃত ও সমাদৃত।

আমরা যারা দ্বীন ও ইলমে দ্বীনকে পছন্দ করি, আমাদের মূল্যায়ন থেকেও যেন আমাদের মনীষীদের কীর্তি হারিয়ে না যায়। অন্যথায় ইসলাম-বিদ্বেষী প্রাচ্যবিদ ও তাদের অন্ধ অনুসারীদের অবাস্তব প্রোপাগান্ডাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে এবং আমাদের এক উজ্জ্বল অতীত থাকার পরও আমরা হীনম্মন্যতার শিকার হয়ে পড়ব।

আল্লাহ তাআলা হেফাযত করুন— আমীন। ·

 

 

টীকা

১. ভারতকোষ, প্রথম খণ্ড, পৃ. ৫৬২ —গ্রন্থচিন্তন : মুদ্রণ ও প্রকাশনা, পৃ. ৯৪-৯৫

২. হযরত মাওলানা আহমদ আলী মুহাদ্দিস সাহরানপুরী কী খিদমাতে হাদীস, মাওলানা নূরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভী, দো-মাহী আশশা-রিক্ব, মার্চ-এপ্রিল ২০০৮ সংখ্যা, পৃ. ১৯

৩. হায়াতে শিবলী, সায়্যিদ সুলায়মান নদভী, পৃ. ৮৫, দারুল মুসান্নিফীন, আজমগড়; হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা মুহাম্মাদ কাসিম নানুতবী : হায়াত আওর কারনামে, মাওলানা আসীর আদরবী, পৃ. ৭৬

৪. হযরত মাওলানা আহমদ আলী মুহাদ্দিস সাহারানপুরী কী খিদমাতে হাদীস, মাওলানা নূরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভী, দো-মাহী আশ্শা-রিক্ব, মার্চ-এপ্রিল ২০০৮ সংখ্যা।

অন্যান্য হাদীস গ্রন্থের ওপর সাহারানপুরী রাহ.-এর মূল্যবান ও ঐতিহাসিক কাজের সবিস্তার বিবরণ এই প্রবন্ধে রয়েছে। তালিবানে ইলমের জন্য প্রবন্ধটি অবশ্য-পাঠ।

৫. সাওয়ানেহে উলামায়ে দেওবন্দ, প্রবন্ধ : সাইয়েদ মাহবূব রেজভী, পৃ. ২৪৬-২৪৭

৬. ভূমিকা, সহীহ বুখারী বিহাশিয়াতিল মুহাদ্দিস আহমাদ আলী আসসাহারানফূরী, দারুল বাশাইর আলইসলামিয়্যাহ, তাহকীক : ড. তকীউদ্দীন নদভী, খ. ১, পৃ. ৩৫-৩৭

উল্লেখ্য, ইউসুফ ইলিয়ান সারকীসের (মৃত্যু : ১৯৩২ ঈ.) ‘মুজামুল মাতবূআত’ (কলাম : ৫৩৫)-এ সহীহ বুখারীর একটি বোম্বাই মুদ্রণের উল্লেখ আছে, যার মুদ্রণকাল ১২৬৯ হি. লেখা হয়েছে। কিন্তু সম্ভবত এই তথ্যটি বস্তুনিষ্ঠ নয়।

ভাই মুহাম্মাদ তাকী ইবনে রহীমুদ্দীন এ বিষয়ে বিশিষ্ট গবেষক হযরত মাওলানা নূরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভী হাফিযাহুল্লাহ তাআলা-এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ইউসুফ সারকীসের এই ইনডেক্সটি ছাড়া কলকাতা ও অন্যান্য স্থানে মুদ্রিত প্রাচীন কিতাবাদির অন্য কোনো ইনডেক্সে তিনি এই তথ্য পাননি। তথ্যটি সঠিক হলে এসব ইনডেক্সে তার উল্লেখ থাকার কথা। তাছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি এই নুসখা সম্পর্কে তালাশ করেও কোনো মাকতাবায় এর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাননি। সম্ভবত সারকীসের এই তথ্যটি সঠিক নয়। তার এই বইয়ে আরও বিভিন্ন জায়গায় ভুল তথ্য রয়েছে।

শাবাকায় থাকা কিছু বক্তব্য ও নুসখার ছবি ইত্যাদির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সেগুলো বস্তনিষ্ঠ না হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

আল্লাহ তাআলা উস্তাযে মুহতারাম হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ছাহেব হুজুরকে —হাফিযাহুল্লাহু তাআলা ওয়া রাআহু— জাযায়ে খায়ের দান করুন। তিনি অনুগ্রহ করে এই অক্ষমকে উপরিউক্ত তথ্যগুলো প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে পূর্ণ সিহহাত ও আফিয়াতের সাথে রাখুন এবং আমাদের ওপর তাঁর শীতল ছায়াকে দীর্ঘ ও বরকতময় করুন— আমীন।

৭. গ্রন্থচিন্তন : মুদ্রণ ও প্রকাশনা, পৃ. ২৩

৮. প্রাগুক্ত পৃ. ২৪-২৫

এখানে এই তথ্যটুকু অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, বাংলাদেশের একজন লেখকের ‘শব্দকল্পভ্রুম’ নামে একটি শিশুতোষ বই রয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, লেখক কেন এই নাম নির্বাচন করেছেন। বইটি সুখপাঠ্য হলেও তাতে মুসলিম শিশুর মনে দ্বীনবিমুখতা তৈরির উপাদানও বিদ্যমান রয়েছে। এই শ্রেণির লেখক-সাহিত্যিকেরা যদি তাদের মুসলিম নামের প্রতি সুবিচার করতেন এবং ঈমানী চেতনায় কিছুটা হলেও উজ্জীবিত হতেন হয়তো তাদের কলমের কিছু অনিষ্ট থেকে পাঠক-সমাজ রক্ষা পেত।

 

 

advertisement