আনওয়ারুল কুরআন : প্রশ্নোত্তর
আনওয়ারুল কুরআন বিভাগের সর্বশেষ শিরোনাম প্রশ্নোত্তর। এর অধীনে প্রত্যেক সংখ্যায় ইনশাআল্লাহ তিন থেকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে। সংক্ষেপের জন্য প্রশ্নকারীর নাম-পরিচয় অনুল্লেখ থাকবে।
প্রশ্ন ১২৬ : কেউ কেউ বলে, মেয়েদের হিফয করা ঠিক নয়। কারণ কুরআন মুখস্থ রাখা তাদের জন্য অনেক বেশি কঠিন। আবার মুখস্থ করার পরে ভুলে যাওয়াও যেহেতু অনেক বড় গোনাহ, তাই তাদের কুরআন হিফয না করাই ভালো। এ বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ চাচ্ছি।
উত্তর : কুরআন তিলাওয়াত ও হিফযের যে সওয়াব ও ফযীলত এবং আখেরাতে কুরআনের হাফেয যে উচ্চ মর্যাদা ও বিপুল প্রতিদান লাভ করবে বলে কুরআন-হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই প্রযোজ্য। এসকল ফযীলত শুধু পুরুষের জন্য নির্ধারিত নয়। সুতরাং সেই সওয়াব ও ফযীলত লাভ করার জন্য মেয়েদেরও হিফয করা উচিত।
একাধিক উম্মুল মুমিনীন রা.-সহ নারী সাহাবীদের অনেকেই পূর্ণ কুরআনের হাফেযা ছিলেন। পূর্ববর্তী মনীষীদের ঘরের নারীগণও নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও হিফয করতেন বলে জীবনী ও ইতিহাস-গ্রন্থগুলোতে আছে।
তাছাড়া কুরআন কারীমের হক আদায়ের একটা বড় দিক হল, কুরআন হিফয করা। সুতরাং মেয়েদের হিফয করতে নিরুৎসাহিত করা অনুচিত। ইয়াদ রাখতে না পারার কথা যুক্তিযুক্ত নয়। নিয়মিত তিলাওয়াত করলে আল্লাহর তাওফীকে অবশ্যই ইয়াদ থাকবে ইনশাআল্লাহ। যুগ যুগ ধরে নারীগণ এভাবেই কুরআন হিফয করছেন এবং ইয়াদ রাখছেন।
প্রশ্ন ১২৭ : কুরআনে বর্ণিত যুলকিফল আলাইহিস সালাম ও তাঁর সময়কাল সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। আমি এক বইয়ে পড়েছি, তিনি ছিলেন হযরত আইয়ূব আলাইহিস সালামের ছেলে।
উত্তর : যুলকিফল আলাইহিস সালাম সম্পর্কে কুরআন-হাদীসে বিস্তারিত কিছু বর্ণিত হয়নি। কুরআন কারীমে দুই জায়গায় কেবল তাঁর নাম উল্লেখ হয়েছে।
তাঁর পরিচয় ও সময়কাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অধিকাংশ ইতিহাসবিদ একমত যে, তিনি বনী ইসরাঈলের একজন নবী ছিলেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের পরে একে একে ইউশা বিন নূন, হিযকীল, আলইয়াসা‘ আলাইহিমুস সালাম প্রমুখ যারা বনী ইসরাঈলের নবী হয়েছেন, সেই ধারাবাহিকতায় ও সেই সময়কালেই আল্লাহ তাআলা যুলকিফল আলাইহিস সালামকেও বনী ইসরাঈলের নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন। তাঁদের কারোই বিস্তারিত বিবরণ কুরআন কারীমে বর্ণিত হয়নি।
যুলকিফল আলাইহিস সালাম হযরত আইয়ূব আলাইহিস সালামের ছেলে ছিলেন— এ কথা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়নি। তাছাড়া ইতিহাসের কিছু বর্ণনা মতে, আইয়ূব আলাইহিস সালাম ছিলেন মূসা আলাইহিস সালামের আগের নবী। সুতরাং তাঁর ও যুলকিফল আলাইহিস সালামের সময়কালের মাঝে কয়েক শ বছরের ব্যবধান ছিল। (কাসাসুল কুরআন, সিওহারবী ২/৫৫৬-৫৫৭)
প্রশ্ন ১২৮ : কারও কাছে শুনেছি, হযরত সুলাইমান আলাহিস সালামের দরবারে ইফরীত নামে একজন জিন ছিল, যার কথা কুরআনেও বলা হয়েছে। আসলেই কি এমন ছিল?
উত্তর : সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারের যে জিনের কথা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তার নাম ইফরীত নয়; বরং তার পরিচয় বোঝাতে ইফরীত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
ইফরীত শব্দের অর্থ— বিশালদেহী, বলিষ্ঠদেহী, শক্তিশালী, চালাক-চতুর ইত্যাদি।
ওই জিন সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে—
قَالَ عِفْرِيْتٌ مِّنَ الْجِنِّ...
এক বলিষ্ঠদেহী জিন বলল...। —সূরা নামল (২৭) : ৩৯
সুতরাং, ইফরীত ওই জিনের নাম নয়। ওই জিনের কী নাম— তা কুরআন-হাদীসে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়নি। (দ্রষ্টব্য : তাফসীরে কুরতুবী; লিসানুল আরব ৪/৫৮৬)