Muharram 1448   ||   July 2026

খবর... অতঃপর...

জাতীয়

r আটক সাংবাদিকদের জামিন অন্তত দেন : মতিউর রহমান চৌধুরী

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর নানা অভিযোগ এনে সাংবাদিকদের গ্রেফতার এবং তাদের কারাগারে আটকে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আটক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দিলেন কেন? সেই মামলা চলতে থাকবে কেন? তারা বিনা বিচারে আটক থাকবেন কেন?’ এ সময় আটক সাংবাদিকদের মুক্তিরও দাবি জানান জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক।

বাংলা ট্রিবিউন, ৩ মে ২০২৬

= কথা কি এখানে শেষ হয়ে যাবে? আরেকটু কি বলা দরকার নেই? যে দেশে রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম সরকারের দালাল হয়ে ওঠে এবং স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের অপকর্মের হোতা হয়ে ওঠে, নিজেরা সহজ সহজ প্রশ্ন বানিয়ে বিরোধীদেরকে দমন-পীড়নের রাস্তা তৈরি করে দেয়, ক্ষমতাবানদেরকে সহযোগিতা করে, তাদের অপকর্মগুলোকে ‘সরা’ হিসেবে প্রচার করে এবং রাষ্ট্রের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে, সে দেশে আইনের শাসন ছিল বলে কেউ বলতে পারবে?

আজকে যারা নীতিবাক্য বলছেন, তারা কি তখন মুখ খুলে বড় করে বলেছিলেন, ‘আমার সাংবাদিক ভাইয়েরা, সংযত হয়ে যান। আমার সহকর্মীরা অন্যান্য পত্রিকায় যারা আছেন, তারা সংযত হয়ে যান। এমন করবেন না’তারা কি এমন কিছু বলেছিলেন? আজকে যে মতিউর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের নিয়ে মায়াকান্না করছেন, তাদেরকে এই মামলায় আসামি করা যাবে না, ওই মামলায় করা যাবে নাতিনি কি হলফ করে বলতে পারবেন, তারা স্বৈরাচারকে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে, বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেননি? ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখতে এবং তাদের ফ্যাসিবাদী আচরণে সহযোগিতা করেননি?

সুতরাং সাংবাদিক হলেই কি তিনি অশুদ্ধ হতে পারবেন না? তিনি কি বিচারের ঊর্ধ্বে? সাংবাদিক হোক আর সাধারণ মানুষ, কেউ যদি কোনো অন্যায় করে থাকে, অন্যায় কাজে সহযোগিতা দিয়ে থাকে, অবশ্যই তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে; বরং অন্যদের তুলনায় সাংবাদিক মহল ও গণমাধ্যমের লোকদের আরও শক্ত বিচার হওয়া উচিত। কারণ তারা তাদের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে অতি দ্রুত একটি মিথ্যা ছড়িয়ে দিতে পারে। মিথ্যা প্রতিবেদন ছড়িয়ে দিতে পারে। একটি খারাপ কথাকে, খারাপ কাজকে, অন্যায় আচরণকে তারা ভালো বলে প্রচারণা দিয়ে দিতে পারে এবং এমনটা তারা বিগত দিনগুলোতে অহরহ করেছে। সুতরাং তারা দ্বিগুণ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

অনেকেই আছে বৃদ্ধ বয়সে কিছু নীতিবাক্য বলে সুযোগ-সুবিধা, পদ-পদবি ও ক্রেস্ট লাভের আশায় থাকে। এমনটি হওয়া উচিত নয়।

r মুঠোফোন সেবা : ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই নেয় সরকার

অপারেটরদের তথ্য বলছে, বর্তমানে মুঠোফোন সেবায় ১৮ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট), ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয় গ্রাহককে। সব মিলিয়ে গ্রাহকের ঘাড়ে মোট করভার দাঁড়ায় ৩৯ শতাংশ। নতুন সিম কেনা অথবা হারিয়ে যাওয়া সিম ওঠাতে দিতে হয় ৩০০ টাকা। অপারেটরদের মুনাফার ওপরে করের হার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ।

প্রথম আলো, ১৭ মে ২০২৬ 

= এটা তো তেলের মতোই ঘটনা। তেল যেরকম সরকার এককভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করে আবার সেটার ওপরে বড় ধরনের লেভি ট্যাক্স যুক্ত করে, তেমনি মোবাইল খাতও সরকারের টাকা কামানোর বড় মাধ্যম। ভিখারিনি হোক আর সাধারণ মানুষ, দরিদ্র হোক আর ধনীযা খরচ করে, তাদের থেকে অপারেটর যত টাকা নেয়, সরকার তার থেকে বেশি নেয়।

এক কথায় বলতে গেলে সরকারের জন্য এখান থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভালো সুযোগ বটে। সরকারগুলো যে নিজেরা দক্ষতার সাথে নিজেদের প্রয়োজনীয় খরচ আয় করতে পারে না; বরং সহজ পন্থার দিকে দৌড়ায়, তার জ্বলন্ত উদাহরণ জ্ব্ালানি তেল ও মুঠোফোনের ওপর বিশাল আকারের কর এবং সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন কেনাকাটার ওপর আরোপিত ভ্যাট। এগুলোর মাধ্যমে সরকার সহজেই দেশের সকল মানুষ থেকে কর আদায় করে নেয়।

এমনি বলা হয়, দেশে কোটির ওপরে টিআইএনধারী (ঞওঘ) লোক আছেন এবং তার মধ্যে মাত্র এত পারসেন্টে সরাসরি কর দিয়ে থাকে। আসলে সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিক থেকেই এ ধরনের কর নিয়ে থাকে। ভ্যাটের মাধ্যমে, লেভির মাধ্যমে এবং মুঠোফোনে হরেক নামের করের মাধ্যমে।

r গণমাধ্যমের অরাজকতা দূর করতে মিডিয়া কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

তিনি বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় একধরনের অরাজকতা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী জুন মাসের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।

আমার দেশ, ১৯ মে ২০২৬

= গঠন করা হবে কেন? আরও আগেই গঠন করা উচিত ছিল। এই কাজটি বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ই হওয়া উচিত ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তারা কত খেল দেখাল, কত কমিশন গঠন করল; কিন্তু এই কাজটি করা হয়নি।

বিগত সরকারই এই কাজটা ভালোভাবে করতে পারত, মিডিয়ার নামে বিগত আমলে এবং এর আগেও বিভিন্ন সরকারের সময়ে গণমাধ্যম যেখানে জনগণের পক্ষে কাজ করবে, জনগণের সুবিধার জন্য কাজ করবে, সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেবে, সেখানে তাদের একটা বিশাল অংশ স্বৈরাচারের সাথে একাকার হয়ে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, স্বৈরাচারের দোসররা বিভিন্ন পত্রিকা চ্যানেলের মালিক হয়েছে, রাতারাতি ব্যাঙের ছাতার মতো ছেয়ে গেছে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও প্রিন্ট মিডিয়া, যার প্রায় সবগুলোরই মালিক আওয়ামী লীগাররা। যাচ্ছেতাইভাবে বিরোধীদেরকে তিরস্কার করেছে, দমন করেছে, ফ্যাসিবাদের পক্ষপাতিত্ব করেছে; তাদেরকে ধরপাকড় বা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো কিছুই করা হয়নি।

এই সরকারের সময়ও দেখা যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে কুসুম-কোমল আচরণ। যারা দুই দশকেরও বেশি সময় থেকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছে, তারাও এখন সরকারের বন্ধু হিসেবে নিজেদের জাহির করছে।

এদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, গণমাধ্যমের লোকদের অনেকে মুখোশ পরিবর্তন করেছে এবং অল্পদিনের মধ্যে আবার আগের জায়গায় ফিরে গিয়েছে। তারা কিন্তু ইতিমধ্যে তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী কোনো একজন মারা গেলে বা ফ্যাসিবাদের সমর্থক ক্রীড়াঙ্গনের কাউকে কাউকে সামনে এনে একটা করুণ সুর তৈরি করে। জনগণের মধ্যে ফ্যাসিবাদীদের প্রতি দয়ার উদ্রেক করতে চায়। তাদেরকে ভালোভাবে পাকড়াও না করা হলে সেটাকে জঘন্য খারাপ সংকেত হিসেবে দেখতে হবে। এভাবে তারা আবার অতীত ফ্যাসিবাদে ফিরে যেতে চাচ্ছে।

সুতরাং তাদেরকে পাকড়াও করার এখনই ভালো সময়। কিন্তু গণমাধ্যম কমিশনের নামে যদি হয় সত্য কথা এবং সরকারের যথাযথ সমালোচনায় বাধা দেওয়া এবং সেগুলো সহ্য না করার নীতি, তাহলে এসব আগেও করা হয়েছে। এগুলো শুধু দেশ এবং জনগণের জন্য ক্ষতিরই কারণ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাই হবে।

সুতরাং এমন কিছু করতে হলে সৎসাহসের সাথে করতে হবে এবং নিরপেক্ষতার সাথে করতে হবে। তবেই তা কল্যাণকর ও কার্যকর হবে। অবশ্যই বিগত দিনে যেসকল ফ্যাসিবাদী ব্যক্তি, তাদের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী টেলিভিশন, পেপার-পত্রিকা পেয়েছে, সেগুলোর ডিক্লারেশন বাতিল করতে হবে। কে কীভাবে পেয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কত লোক আছে, যারা ভালো কিছু করতে চায়, তারা বছরকে বছর ঘুরে একটা পত্রিকা, একটা টেলিভিশনের লাইসেন্স পায় না; কিন্তু ওই চিহ্নিত লোকগুলো রাতারাতি কীভাবে পেয়ে গেল! এগুলো খতিয়ে দেখা দরকার। এসব ভালোভাবে করতে পারলেই গণমাধ্যম কমিশন বানিয়ে ফায়েদা হবে। অন্যথায় এটাও আগেকার লোকদের আট-দশটা অন্যায় কাজের মতো একটি কাজে পরিণত হবে।

আরেকটি কথা, সে কমিশনে কাদেরকে যুক্ত করা হবে, সেটাও ভেবেচিন্তে করা দরকার। মিডিয়া পাড়ায় মুখোশধারী লোকের অভাব নেই। ভোল পাল্টে ফেলা লোকেরও কমতি নাই। বিএনপি ভাবাপন্ন বলে পরিচিত মতিউর রহমান চৌধুরীরা নোয়াবের প্রধান হয়ে এখন কত নীতিবাক্য আউড়াচ্ছেন। তাদের মতো ব্যক্তিদেরকে দিয়ে যদি কমিশন বানানো হয়, তাহলে যেই লাউ সেই কদুই থেকে যাবে। মাঝে শুধু খরচ হবে রাষ্ট্রের বিশাল অর্থকড়ি।

r আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হলেও সরকার স্বীকার করে না : বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

গত শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়া কাজী চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আসেন। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন।

তবে ঢাকায় নেওয়ার আগেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে নিহতের স্বজন ও বহিরাগতরা ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় ডা. নাসির ইসলাম গুরুতর আহত হন। শনিবার দুপুরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আমার দেশ, ২০ মে ২০২৬

= হাঁ, সেই প্রবণতা তো দেখাই যায়। সুতরাং তা স্বীকার করতেই হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হলে বা কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজে দুর্বলতা দেখা দিলে সত্য স্বীকার করে পরামর্শক্রমে সেটাকে কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে চেষ্টা করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা যেহেতু এসেছে, এখানে আরেকটি বিষয় বলার আছে, আগে বিভিন্ন সময় দেখা যেত, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের রাখা হত। সমাজে তাদের প্রভাব থাকার কারণে লাভও হত অনেক।

শোনা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটিতে আগের মতো এই ধরনের ব্যক্তিত্বদের স্থান দেওয়া হচ্ছে না। এটিও একটি খারাপ নজির স্থাপন করবে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য আরও খারাপ হবে। দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার এবং সরকারের সাথে সাধারণ জনগণ, বিরোধী দল সকলেরই ভূমিকা রাখা দরকার। তবে প্রধান ভূমিকায় সরকারকেই থাকতে হবে।

r বাইক-প্রাইভেট কার নেই, তবুও আসছে এআই মামলার মেসেজ! যা করবেন

বিআরটিএ জানিয়েছে, ‘একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে স্পিডিং ফাইন বকেয়া রয়েছে, দ্রুত পরিশোধ করুন বা আপনার বকেয়া জরিমানা আছেএ ধরনের বার্তা পাঠাচ্ছে। এসব বার্তার সঙ্গে বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংকও দেওয়া হচ্ছে, যা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে। এসব ভুয়া ওয়েবসাইট বা পোর্টালের সঙ্গে অফিসিয়াল বিএসপি ওয়েবসাইটের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক কার্যক্রম’। এই বার্তায় ‘সাধারণ মানুষকে এ ধরনের বার্তার লিংকে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত তথ্য বা আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী কোনো যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি চালক বা মালিকের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া, বিশেষ প্রয়োজনে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে কেবলমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হতে পারে’।

ইত্তেফাক, ২৭ মে ২০২৬

= এদেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে তো ক্ষমতাবানদের গদি আঁকড়ে রাখার জন্য, বিরোধীদের দমানোর জন্য, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দখলের জন্য বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারকে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। সেই সংস্থাগুলোর মধ্যে ভালো লোকেরাও থেকে থাকবেন। তারা যদি তদন্তের হাত প্রসারিত করে, তাদের চোখ বড় করে এ ধরনের চক্রগুলো ধরার চেষ্টা করে, তা কঠিন হওয়ার কথা নয়। কারণ ডিজিটাল মাধ্যমেই এই মেসেজ ও মেইলগুলো আসছে। সেগুলো কোথা থেকে আসছে, তা ট্র্যাক করা ওদের দ্বারা অসম্ভব না। কিছু লোককে ধরে উপযুক্ত শাস্তি দিলে এই অপকর্মের হোতারাই শুধু সংশোধিত হবে না; বরং অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

r ছাত্রলীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদল নেতার বাবাকে কোপালেন যুবদল নেতা

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় ছাত্রদলের এক নেতার বাবাকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো ও তার দোকানে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। হামলা ও ভাঙচুরের সময় যুবদল নেতার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতারাও অংশ নেন বলে জানা গেছে। আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে জেলার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, ৩০ মে ২০২৬

= যেসকল নেতা ছাত্রলীগকে তাদের গুরু ও সঙ্গী বানায়, তাদের চরিত্র এবং তাদের কু-প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর কীভাবে পড়বে, সেটা তো আর ব্যাখ্যা করে বলার দরকার হয় না।

r পেট্রল-অকটেন-কেরোসিনের দাম বাড়ল, ডিজেল আগের দামেই

ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম ফের বাড়িয়েছে সরকার। জুন মাসের জন্য পেট্রোল-অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হল। যা আগামীকাল (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে। তবে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারে বেড়েছে ৫ টাকা।

এর আগে, গত ৩০ এপ্রিলে মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মে মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা ছিল।

এছাড়া গত ১৮ এপ্রিল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার। সাধারণত প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

ইত্তেফাক, ৩১ মে ২০২৬

=তেলের দাম বৃদ্ধি হল সরকারের টাকা কামানোর সহজ কৌশল। কারণ এটি তো মানুষ কিনতে বাধ্য। দাম বাড়ালেও এটা বিক্রি হবে, কমালেও বিক্রি হবে। এখানে বিক্রেতা একজন। কোনো পণ্যের শুধু একটি দোকান থাকলে দোকানদারের ইচ্ছা অনুযায়ী পণ্যের দাম বাড়ায়-কমায়। এদেশে জ্বালানি খাত সরকারের হাতে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করবে, সে দামে জনগণ নিতে বাধ্য। কোনো সরকার সহজে টাকা কামাতে চাইলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। এই সরকার ক্ষমতায় বসে এমনি ১৭-১৮% দাম বাড়িয়েছে প্রথমবার, এখন আবার বৃদ্ধি করল। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে তেমন দাম বাড়েনি, বরং কমেছে। সামনে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলে হয়তো আরও অনেক কমে যাবে।

এ কথা কে না জানে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সাথে পুরো দেশের মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক রয়েছে। দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের দাম বেড়ে যায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে। বৃদ্ধি পায় সকল পরিবহণের ভাড়াও। যা চূড়ান্ত বিচারে জনগণের কাঁধে বিশাল বোঝা তৈরি করে। এটি সরকারের জন্যও সুখকর হয় না। তারপরও সরকারগুলো টাকা কামানোর সহজ পথে হাঁটে। এ সরকারকেও এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না।

r মশক নিধন শিখতে ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশে দাঁড়াতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সিটি কর্পোরেশনের আরও পাঁচ কর্মকর্তার মশক নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফরের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হলে তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা গেছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি (ঠধষবহঃ ইরড়ঝপরবহপবং খখঈ)-এর অর্থায়নে ফ্লোরিডা সফরের অনুমোদন চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত সফরের উদ্দেশ্য ছিল মশক নিয়ন্ত্রণ ও নিধনের বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শন করা।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারসংক্ষেপে মন্তব্য করে বলেন, ‘মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যেকোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।’

আমার দেশ, ১ জুন ২০২৬

= এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য অন্তত প্রশংসার দাবি রাখে। যদি প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে এমনটি করা যায়, সচিবালয় থেকে আরম্ভ করে অন্যান্য বিভাগে, তাহলে দেশের কোটি কোটি টাকাই বাঁচবে না; বরং সাথে সাথে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রারও অপচয় রোধ হবে এবং সরকারি কর্মচারীরা নিজ কর্মস্থলে থেকে কাজ করার প্রতি মনোযোগ দিতে বাধ্য হবে। বাংলাদেশে এ ধরনের সফরের বহু কাহিনী শোনা যায়, সরকারি কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ার এক-দুই মাস আগেও প্রশিক্ষণের নামে বিদেশে সফর করেন। ইউরোপ আমেরিকা চলে যান। কোটি কোটি টাকা খরচ হয় রাষ্ট্রের। এগুলো সবাই বোঝে। এখানে আসলে প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা হাসিলের কিছু নেই; বরং রাষ্ট্রের টাকায় ফুটানিই মূল বিষয়। সেক্ষেত্রে এই মশক নিধনের জন্য বিদেশ সফরের তথাকথিত অভিজ্ঞতা অর্জনের সফর ঠেকিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যথাযথ কাজ করেছেন বলেই সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

r তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণ

শেষ সময়ে দলে অবহেলিত ছিলেন তিনি

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (মৃত্যু : ১ জুন ২০২৬) তোফায়েল আহমেদ ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, ২০২৪ সালের শুরু থেকেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। একপর্যায়ে বাসা থেকে বের হওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতাল ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছে তাঁর।

প্রথম আলো, ০২ জুন ২০২৬

= এ তো হচ্ছে দুনিয়ার অবহেলা। একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। ১৯৬৯-এর ছাত্রনেতা ছিলেন। গণ অভ্যুত্থানে তার বড় ভূমিকা ছিল বলে প্রসিদ্ধি আছে। আবার সমালোচকরা বলে থাকেন, তখনকার ছাত্র হত্যায় নাকি তার হাত ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় তো কুখ্যাত একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশালের উদ্যোক্তাদের মধ্যে এবং পেছনের কলকব্জা নাড়া লোকদের মধ্যে তার নামও প্রথম সারিতেই উল্লেখ করা হয়। কুখ্যাত মুজিববাহিনীর তিন-চার জনের মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাকে কোনো সময় মুখ খুলতে বা সমালোচনা করতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন সময় মন্ত্রী এবং দলের একজন সিনিয়র সদস্য হিসেবে, একসময় প্রেসিডিয়াম সদস্য, পরে উপদেষ্টা হিসেবে তিনিও বরং এ সমস্ত কর্মকাণ্ডের অংশীদারই ছিলেন।

কোনো মুসলিম মারা গেলে তার ভালো কাজের চর্চা করার কথাই ইসলামের নিয়ম। কিন্তু যারা দায়িত্বশীল, ক্ষমতাবান তাদের বিষয়টা ভিন্নভাবেই আসে। সেখানে ইতিহাসের সঠিক চর্চার প্রয়োজন হয়। ব্যক্তিচর্চা থেকে সেখানে ইতিহাস চর্চাটা বড় হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো নেতা, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনাটা মুখ্য থাকে না। সেটা অন্য মুসলমানদের ক্ষেত্রে যেভাবে চর্চা হবে, তারটাও সেভাবেই হবে। কিন্তু তার রাষ্ট্রীয় জীবন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতায় থাকাকালীন তার কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে এবং হওয়া উচিতও। যেন সেখান থেকে অন্যরা শিক্ষা নিতে পারে। পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা সেগুলো দেখে সতর্ক হতে পারে। তোফায়েল আহমেদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি তেমনই।

বয়োবৃদ্ধ লোকটি একটি দলের জন্য, একটি দলের মধ্যেই তার জীবনকে অতিবাহিত করেছেন। যে দলটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কুখ্যাত এবং চিরাচরিতভাবে জালেম ও একনায়ক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। যে নেতাই দুনিয়া থেকে চলে যাক, চোখ বন্ধ হলেই তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে, ক্ষমতার দাপট এবং মসনদের সুযোগ-সুবিধার মোকাবেলায় তাকে কখন কীভাবে পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত করা হচ্ছে। তোফায়েল আহমেদ তো চলে গেছেন। এখন তিনি নতুন জগতে, যেখানে হিসাব-নিকাশের পালা শুরু। জীবনের সবকিছুরই হিসাব দিতে হবে। দিতে হবে নিজের পদপদবি ও ক্ষমতার হিসাব। কিন্তু তার আগেই দুনিয়াতে এত দাপট-ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শোনা যাচ্ছে, তিনি অবহেলিত ছিলেন। দলের এত বড় কান্ডারি, এত বড় নেতা হওয়া সত্ত্বেও শেষের দিকে কেউ তার খোঁজ-খবর নেয়নি। এটিও রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এবং অন্যান্য পদপদবিধারী লোকদের জন্য বিরাট শিক্ষা। যে-কোনো মৃত্যু থেকেই শিক্ষা নেওয়ার আছে অনেক কিছু।

r নতুন নজরদারি প্রযুক্তি কিনছে সরকার

কনটেন্ট ব্লক ও ফিল্টারিং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার’ (এনটিএমসি)-এর জন্য প্রায় ৯৫ কোটি টাকার নতুন সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ২০ মে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।

২০০৮ সালে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মোবাইল অপারেটরদের অর্থায়নে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের ভবনে ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টার (এনএমসি) গঠিত হয়, যা ২০১৩ সালে নাম বদলে এনটিএমসি করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাগরিকদের ওপর নজরদারি ও ফোনে আড়ি পাতার প্রধান মাধ্যম হিসেবে সংস্থাটিকে ব্যবহার করার অভিযোগ ছিল।

আমার দেশ, ০২ জুন ২০২৬

= নজরদারির মতলব যদি হয়, মানুষের সাধারণ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং অযথা মানুষের ওপর ছরি ঘোরানো, তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় অন্যায় প্রবেশ করা, তাহলে সেটি শুধু জঘন্য খারাপ কাজই নয়; বরং তা মানুষকে মনে করিয়ে দেবে বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ের কথাও। জনগণের টাকায় কেনা এ ধরনের সরঞ্জাম দিয়ে আবার জনগণের ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপরই যদি হস্তক্ষেপের রাস্তা তৈরি করা হয়, তাহলে মানুষ সেটাকে ভালোভাবে নেবে না। এই ধরনের বিষয় কেবলমাত্র রাষ্ট্রের বাস্তব নিরাপত্তা জনিত জায়গাতেই ব্যবহার হওয়া উচিত। সাধারণ জনগণের ওপর এর প্রয়োগ কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়।

r সীমান্তে অপরাধ ও অনুপ্রবেশে জড়িতদের মৃত্যুকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তে অপরাধে জড়িত থাকা বা অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বা সীমান্ত হত্যা বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২ জুন ২০২৬

= স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেবের মনে রাখা উচিত, তিনিও কিন্তু এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। এরকম বর্ডার দিয়েই তাকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল বা ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের কথা তিনি কীভাবে বলতে পারেন? সীমান্তে অনুপ্রবেশ করলে কেউ যদি অবৈধভাবেও অনুপ্রবেশ করে, তাহলে কি সে হত্যাযোগ্য হয়ে যায়? খোদ ভারতেরই হাজার হাজার নাগরিক আমেরিকার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে। কোথায় তাদেরকে তো অনুপ্রবেশের কথা বলে হত্যা করা হচ্ছে না। তাছাড়া হত্যা ছাড়া কি আটকানোর আর কোনো রাস্তা নেই? তাকে তো বন্দিও করা যেতে পারে। বিচারের সম্মুখীন করা যেতে পারে। কেউ যদি অবৈধভাবে আসা-যাওয়া করে এবং কেউ যদি দৌড়ে পালাতে চায়, তাকে কি হত্যাই করতে হবে! দৌড়ে পালাতে চাইলে পায়ে গুলি করেও তো আটকানো যায়। সীমান্তে অনুপ্রবেশ করলে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কাউকে মেরে ফেললে সেটাকে হত্যা বলা যাবে না, বর্ডার কিলিং বলা যাবে নাএটা কোন্ দেশীয় নীতি? কোন্ আইনে কোন্ নীতিতে এটা লেখা আছে? বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, মন্ত্রীরা যদি এসব বিষয়ে এখন থেকেই নতজানু ভাব দেখান, তাহলে সামনের দিনগুলো আরও খারাপ আসবে।

r বিদ্যুতের দাম বাড়ল ১৬.৬৮ শতাংশ

তাড়াহুড়া করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাড়ানো হল বিদ্যুতের দাম। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

প্রথম আলো, ০৩ জুন ২০২৬

= মূল্যস্ফীতির দরুন মানুষের অবস্থা এমনিতেই কাহিল। মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে এসেছে এ মূল্যবৃদ্ধি। সরকার চাইল আর দুদিন পর পর জ্বালানির দাম বাড়াতে থাকল! আবার মনে চাইল বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিল! এটা যেমন জনগণের বড় কষ্টের কারণ হবে, তেমনি সরকারের জনপ্রিয়তাও তলানিতে নিয়ে যাবে।

 

প্রতিবেশী রাষ্ট্র

r গরুর বার্থ সার্টিফিকেট না থাকলে শাস্তি : বিজেপি নেত্রীর হুঁশিয়ারি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি এমএলএ রেখা পত্র শনিবার গরুবোঝাই একটি গাড়ি আটক করেছেন। এরপর তিনি গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের কাছে গরুর ‘জন্ম সনদ’ বা বার্থ সার্টিফিকেট চেয়েছেন। তার এই ঘটনা ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আমাদের সময়, ১৭ মে, ২০২৬

= যাদের কোনো কাজ নাই, তারা গরু নিয়েই রাজনীতি করবে। তাদের এখন তিনটিই কাজগরু, বাংলাদেশি মুসলমান আর কোন্ জায়গায় কোন্ মসজিদকে মন্দির বানানো যায়সেই ধান্ধা! পুরো ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদি রাজনীতি এই কয়েকটা কাজের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

r পশ্চিমবঙ্গে ‘সংখ্যাগুরুর ফ্যাসিজম’

ঈদুল আজহায় সারাদিন ‘গো-সেবা’ করলেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গে এবারের ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশু জবাই এবং উৎসব উদ্যাপনের নিয়মে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়। এ বছর পশ্চিমবঙ্গে ঈদে আগের মতো আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি।

ঐতিহ্যগতভাবে প্রতি বছর কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা হয়নি। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেড রোডে ঈদের নামাজ বন্ধ করে দেয় এবং তার বদলে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে।

উৎসবের এই দিনে রাজনৈতিক সৌজন্যের ক্ষেত্রেও এক বিরাট পরিবর্তন দেখা গেছে। অন্যান্য বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি বছর রেড রোডে ঈদের নামাজে নিজে উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু এবার ঈদ উৎসব উপলক্ষ্যে রাজ্য সরকার, বিজেপি সরকার তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে কোনো শুভেচ্ছা জানানো হয়নি, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি কোনো শুভেচ্ছাবার্তা দেননি। এর পরিবর্তে, ঈদের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মায়াপুরের ইস্কনে গিয়ে সারাদিন ‘গো-সেবা’ করেন এবং সেইসমস্ত ভিডিও নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন।

আমার দেশ, ২৮ মে ২০২৬

= ভদ্র লোককে এদেশে নিয়ে আসতে পারলে আমাদের কৃষক-রাখালদেরও অনেক উপকার হত। তারা অন্তত ঈদের ছুটি পেয়ে যেত।

 

আন্তর্জাতিক

r ‘আপনি পাগল, এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে’, নেতানিয়াহুকে বললেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে টেলিফোনে কড়া কথা শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে সম্বোধন করেছেন। নেতানিয়াহু যে এখন সবার কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠেছেন, সে কথাও শোনাতে ছাড়েননি ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্র যখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তাদের সামরিক বাহিনী লেবাননে অভিযান আরও জোরদার করবে। এমনকি রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলা চালাবে।

প্রথম আলো, ০২ জুন ২০২৬

= পাগলকে পাগল বলাতে দোষ ছিল না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তাকে সাঁকো নাড়ানোর কথা মনে করিয়ে দেওয়া। কারণ খবরে এসেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই কথা বলার পর নেতানিয়াহু লেবাননে নতুন করে হামলা করেছেন। যে হামলার কারণে ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তি অনেকটা ভেঙে পড়ার পথে।

আরেকটি বিষয় নিয়েও অনেকে হাসাহাসি করছে, আসলে পাগল খেতাবদাতাও তো দীর্ঘদিন থেকে নেতানিয়াহুর কথায় নাচছেন। তার কথা অনুযায়ী একাধিকবার ইরানে হামলা করেছেন এবং শেষবার ফেঁসেও গেছেন বলে মনে হচ্ছে। তো এখন কাকে কে কোন্ খেতাব দেবে!

 

গ্রন্থনা : ওয়ালিউল্লাহ খান

 

advertisement