Muharram 1448   ||   July 2026

মুরব্বীদের থেকে শোনা কয়েকটি বিষয়ের মুযাকারা
‖ তালিবে ইলমের কয়েকটি গুণ

Mawlana Muhammad Abdul Malek

হামদ ও ছানার পর...

তালিবে ইলম ভাইদের খেদমতে বলার মতো বিশেষ কোনো কথা নেই, কারণ তারা আসাতেযায়ে কেরামের কাছে সব সময় জরুরি হেদায়েত শুনতে থাকে এবং আগত মেহমানদের কাছ থেকে শুনতে থাকে।

এই মাদরাসার নাম তো আমরা শুনেছি অনেক আগ থেকে, বিশেষ করে ফরিদপুরের কোনো প্রসঙ্গ যখন আসে, তখন একটা ভিন্ন কাশিশ থাকে। কারণ ফরিদপুর নামের সাথে আমরা পরিচিত হয়েছি হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রাহ.-এর নামে।

আমার ধারণা, আমি এর আগে হয়তো ফরিদপুরের নামও শুনিনি। ‘মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী’ এই নামের সঙ্গেই ফরিদপুরের নাম প্রথম শুনেছি। এখন তো জেলা ভাগ হয়ে হযরতের এলাকা গোপালগঞ্জে পড়েছে, কিন্তু তখন বৃহত্তর ফরিদপুর একসাথে ছিল। হযরতের নাম ওভাবেই ছিলশামসুল হক ফরিদপুরী। এখনও আমরা বলি, শামসুল হক ফরিদপুরী রাহ.। ‘শামসুল হক গোপালগঞ্জী’ কেউ বলে না।

তো আজকে আল্লাহ তাআলা নিয়ে এসেছেন এই মাদরাসায়। জামিয়া কারীমিয়া কুরআনিয়া দারুল উলূম। যেহেতু আসাতেযায়ে কেরাম হুকুম করেছেন বসার জন্য, তাই আমি আমার আসাতেযায়ে কেরামের কাছ থেকে তালিবে ইলম ভাইদের বিষয়ে যে নসীহতগুলো শোনার আল্লাহ তাআলা তাওফীক দিয়েছেন, সেখান থেকে দুয়েকটা নসীহত আপনাদের খেদমতে আরয করব ইনশাআল্লাহ।

একটা কথা অনেক প্রসিদ্ধ। হাকীমুল উম্মত মাওলানা মুহাম্মাদ আশরাফ আলী থানভী রাহ.-এর কথা। আপনারা হয়তো অনেকবার শুনেছেন।

আচ্ছা, থানভী রাহ.-এর জন্ম কবে? ইন্তেকাল কবে? এগুলো জানতে হবে তালিবে ইলমদেরকে। আমাদের আকাবিরের কার কবে জন্ম, কার কবে ইন্তেকালএগুলো জানা দরকার। কার জীবনী কোথায় পাওয়া যাবে, কার জীবনের ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ আছে, কিতাব আছে? এগুলো তালিবে ইলমদের জানা জরুরি।

নিজেদেরকে নিজেদের আকাবিরের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কাউকে যদি এমন হালাকার সাথে যুক্ত রাখেন, যাদের মুরব্বীরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাসলাকের লোক। যেমন, আমাদেরকে আল্লাহ তাআলা দারুল উলূম দেওবন্দের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন। আকাবিরে দারুল উলূম দেওবন্দ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাসলাক ও মাশরাবের তরজুমান। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চিন্তাচেতনা তারা ধারণ করেন এবং তারা এটার মুখপাত্র। সেই দারুল উলূম দেওবন্দের হালাকার সাথে, এই ঘরানার সাথে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যুক্ত রেখেছেনএটা আল্লাহ্‌র অনেক বড় মেহেরবানী।

এজন্য আমাদের শোকর আদায় করা জরুরি। যদি অন্য কোনো বেদআতি হালাকার সাথে সম্পর্ক হত! ওখান থেকে ফিরে আসতে হত! আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাসলাকের তরজুমান এমন একটা হালাকার সাথে আল্লাহ আমাদেরকে রেখেছেন, এটা আল্লাহ্‌র কত বড় নিআমত! কত শোকর আদায় করতে হবে এর জন্য!

তাই এই আকাবিরের মাসলাক সম্পর্কে জানা, তাদের সাওয়ানেহে হায়াত মুতালাআ করা, তাদের মালফুযাত, মাকতুবাত মুতালাআ করা খুব জরুরি। সেজন্য তালিবে ইলমদের দায়িত্ব হল, আসাতেযায়ে কেরামের নেগরানিতে—এটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত; আসাতেযায়ে কেরামের নেগরানিতে—  তাদের পরামর্শ নিয়ে, যে জামাতের তালিবে ইলমের জন্য যে কিতাব উপযোগী, সেটা ইযাফী মুতালাআ হিসেবে মুতালাআর চেষ্টা করবে।

ইযাফী মুতালাআ মানে হল খারেজি মুতালাআ, অতিরিক্ত মুতালাআ। এই অতিরিক্ত মুতালাআ এটা তালিবে ইলমদের জন্য রহমত, আবার ফেতনা।

নেসাবের বাইরে অতিরিক্ত মুতালাআএটা রহমতও, আবার ফেতনাও। রহমত হবে যদি আসাতেযায়ে কেরামের নেগরানিতে, তাদের পরামর্শ মোতাবেক হয়। আমার উস্তায জানবেনআমি কী পড়ি, কী পড়ি না। আর এটা ফেতনা হবে, যদি তা নিজের ইচ্ছামতো করা হয়।

আসাতেযায়ে কেরামের নেগরানিতে হলে অনেক বড় ফায়দা যেটা হবে, তা হচ্ছে, তিনি যে তালিবে ইলমকে দেখবেন যে, সে মূল নেসাবের পড়া এখনও হল্ করতে পারেনি, কাজেই তার জন্য অতিরিক্ত মুতালাআর অনুমতি নেই। এরপর কাউকে হয়তো বিলকুল অনুমতি দেবেন না, আবার কাউকে দিলেও ১০ মিনিট কিংবা কাউকে এটা বলবেন যে, অমুক রিসালা পড়বে, এর বাইরে কিছু পড়বে না, বাকি পুরো সময় তুমি নেসাবের কাজে ব্যয় করো। আরেকজনকে ১৫ মিনিটের জন্য অনুমতি দেবেন। আরেকজনকে আধা ঘণ্টা দেবেন। কাউকে এক ঘণ্টার জন্যও দিতে পারেন।

কোনো তালিবে ইলম খারেজি মুতালাআ বা যে শব্দে আমি বললাম, ‘ইযাফী মুতালাআ’, এতে কী পরিমাণ সময় ব্যয় করবে, কোন্ কিতাব থেকে করবেতা উস্তায ঠিক করে দেবেন।

কেউ যদি বাংলা ভাষা চর্চা করতে চায়, বাংলা ভাষা চর্চা কে করবে? কাকে উস্তায অনুমতি দেবেন, কাকে দেবেন না! যাকে দেবেন না, সে করবে না। যাকে দেবেন, সে করবে।

এরপর আসে, কীসের মাধ্যমে বাংলা ভাষার চর্চা করবে? নিজের ইচ্ছামতো কোনো বই পড়বে! পড়লে তা কোন্ বই! মোটকথা, কোন্ লেখকের বই পড়বে, সেটাও উস্তায নির্ধারণ করে দেবেন।

ইযাফী মুতালাআ কিছু হওয়া দরকার। কিন্তু কী পরিমাণ হবে, কোন্ কিতাব থেকে হবেএটা উস্তায নির্ধারণ করবেন। উস্তাযের নেগরানিতে যদি হয়, তাহলে এটা রহমত। আর যদি নিজের ইচ্ছামতো হয়, তখন এটা অনেক সময় ফেতনার কারণ হয়। মূল হারিয়ে যায়। নিজের ইচ্ছামতো যখন কিতাব বাছাই করবে, পড়বে, তখন দেখা যাবে, অনেক গলত চিন্তা তার মধ্যে আসবে, অনেক ধরনের বক্রতা আসবে, প্রান্তিকতা আসবে, ইফরাত আসবে, তাফরীত আসবেনানা মসিবত।

যাইহোক, ইযাফী মুতালাআ হবে নিয়ন্ত্রিত, উস্তাযের নেগরানিতে, তাদের হেদায়েত মোতাবেক।

এই ইযাফী মুতালাআর একটা বিষয় বা একটা মাদ্দাহ হল, আকাবিরের সাওয়ানেহে হায়াত। এগুলো জানা থাকা দরকার। যেমন

ক. থানভী রাহ.-এর জন্ম ১২৮০ হি., আর ইন্তেকাল ১৩৬২ হি.।

খ. হুসাইন আহমাদ মাদানী রাহ.-এর ইন্তেকাল ১৩৭৭ হি.।

গ. শাব্বীর আহমদ উসমানী রাহ.-এর ইন্তেকাল ১৩৬৯ হি.।

ঘ. যফর আহমদ উসমানী রাহ.-এর ইন্তেকাল ১৩৯৪ হি.।

ঙ. মুফতী শফী রাহ.-এর ইন্তেকাল ১৩৯৬ হি.।

চ. মাওলানা ইউসুফ বানুরী রাহ.-এর ইন্তেকাল ১৩৯৭ হি.।

ছ. মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ.-এর ইন্তেকাল ১৩৯৬ হি.।

জ. মাওলানা আতহার আলী রাহ.-এর ইন্তেকাল ১৩৯৬ হি.।

ঝ. হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর ইন্তেকাল ১৪০৭ হি. রমযানে।

ঞ. খতীবে আযম সিদ্দীক আহমদ রাহ.-এর ইন্তেকাল ১৪০৭ হি.।

ট. তাবলীগের মাওলানা লুতফুর রহমান সাহেবের ইন্তেকাল ১৪০৭ হি.

এই তিন জনের একই রমযানে ইন্তেকাল হয়লুতফুর রহমান সাহেব, খতীবে আযম সিদ্দীক আহমদ ছাহেব এবং হাফেজ্জী হুজুর রাহ.। ১৪০৭ হিজরী মোতাবেক ১৯৮৭ ঈসায়ী রমযান মাসে।

আচ্ছা এটা কয়জন মনে রাখবেন যে, তিন হুজুরের ইন্তেকাল একই রমযানে?

 

***

হযরত থানভী রাহ.-এর তিনটি নসীহত

হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ.-এর একটা কথা অনেক মশহুর এবং খুব আলোচনা হয়। হযরত বলেছেন, যে তালিবে ইলম তিন কাজের জিম্মাদারি নেবে, আমি তার আলেম হওয়ার জিম্মাদারি নিলাম

প্রথম কাজ : মুতালাআ

ছবকে যাওয়ার আগে ছবকের মুতালাআ করব। আজকের ছবক, যা দরসগাহে উস্তায পড়াবেনএই ছবকটা আমি ছবকে হাজির হওয়ার আগেই মুতালাআ করে নেব।

একটা তো হল সাধারণ মুতালাআ। আরেকটা হল দরসের কিতাব, নেসাবের কিতাবের ছবকের মুতালাআ। যে ছবক আজকে উস্তায দরসগাহে পড়াবেন, সেটা দরসে যাওয়ার আগেই মুতালাআ করব।

এই মুতালাআর মাপকাঠি কী? এই মুতালাআর হাকীকত হল এটাও থানভী রাহ.-এর কথাআমি মুতালাআ করার সময় খেয়াল রাখব কোন্টা আমার বুঝে আসে আর কোন্টা বুঝে আসে না। কতটুকু বুঝলাম, কতটুকু বুঝলাম নাএই দুইটার মধ্যে তামীয করা। যেটা বুঝিনি ওটা বোঝার চেষ্টা করবএমনটা করার দরকার নেই। বরং আজকে দুই পৃষ্ঠা ছবক হবে, এই দুই পৃষ্ঠা ছবকে যাওয়ার আগে আমি একবার পড়ে ফেলব। একটু খেয়াল করে পড়ব। পড়তে পড়তে যেটা বুঝে আসে, আলহামদু লিল্লাহ। যেটা বুঝে আসল না, ওটা মনে রাখব যে, এই লাইন আমার বুঝে আসেনি, এই জুমলাটা বুঝে আসেনি। এটা খেয়াল রাখব।

কতটুকু বুঝলাম, কতটুকু বুঝলাম নাএই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। এই হল মুতালাআ। যেটা বুঝে আসেনি, শুধু মনে রাখব যে, এটা বুঝে আসেনি। ওটা এখন বুঝে ফেলতে হবে ঘণ্টার আগেই, এমন নয়।

তাহলে এই মুতালাআর মাকসাদ হল, কতটুকু বুঝলাম আর কতটুকু বুঝলাম নাএ দুয়ের মাঝে তামীয করা।

দ্বিতীয় কাজ : দরসে উপস্থিত থাকা

কখনও কোনোদিনও গায়রে হাজির থাকব না। কোনো দিনের কোনো ঘণ্টা বা দরসে গায়রে হাজির থাকব না। কোনো ঘণ্টার তিন-চার মিনিটও গায়রে হাজির থাকব না। একেবারে ঠিক সময় উপস্থিত হব।

আমি মাদরাসায় উপস্থিত আছি, কিন্তু একটা ছবকে যেতে পারলাম না। ছবকে উপস্থিত হয়েছি, কিন্তু পাঁচ মিনিট পরেএটাও অনুপস্থিতি।

অসুস্থতার কারণে ছবকে উপস্থিত হতে পারিনিএটাও গায়রে হাজিরি।

কোনো কারণে ছুটি নিতে হয়েছে, রুখসত নিতে হয়েছেএটাও গায়রে হাজিরি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গায়রে হাজিরির অর্থ ব্যাপক। আপনি অসুস্থতার কারণে, ওজরের কারণে, যে-কোনো কারণে হোক হাজির ছিলেন না, এটার নাম গায়রে হাজিরি। আর ওজর ছাড়া, অসুস্থতা ছাড়া, ইচ্ছা করে গায়রে হাজিরি, সেটাও গায়রে হাজিরি। হাঁ, এর মধ্যে অপরাধ বেশি; কিন্তু সবগুলোই গায়রে হাজিরি।

আপনি বলবেন, আমি তো অসুস্থ সেজন্য হাজির ছিলাম না, আমার কী দোষ! এ কথাতেও দোষ আছে। অনেক ধরনের দোষ আছে।

এক দোষ হল, এই অসুস্থতা আসল কেন? নিজের কোনো দোষেই হয়তো এসেছে। নেযামের খেলাফ করেছি, নেযামুল আওকাতের রেয়ায়াত করিনি। ঘুম-বিশ্রাম, গোসল, খাবার-দাবার যাবতীয় কাজের একটা স্বাস্থ্যসম্মত সময়সূচি এবং নেযাম আমাদেরকে আসাতেযায়ে কেরাম নিশ্চয়ই দিয়েছেন। আমি ওটা লঙ্ঘন করেছি, কোনো সমস্যা করেছি, সেজন্য অসুস্থ হয়েছি। এখানে দোষ কার!

আচ্ছা, এরপরের কথা হচ্ছে, সব অসুস্থতা কি এরকম যে, একেবারে ছবকেই থাকতে পারব না? মামুলি মামুলি অসুস্থতার কারণে গায়রে হাজিরিবলে যে, আমি অসুস্থ।

ছবক এটা মানবে না যে, আপনি সুস্থ, নাকি অসুস্থ। আপনার ওজর আছে কি নেই।

অনেকে মনে করে, তাকরার করে শিখে নেব। কিন্তু উপস্থিতির যে ধারাবাহিকতা, তা নষ্ট হলে বরকত নষ্ট হয়ে যায়। ছবকে উপস্থিতির যে বরকত এর আর কাযা হয় না।

উপস্থিতিকে আজকাল তালিবে ইলমরা অনেকে হালকা মনে করে। উপস্থিতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এজন্য একদিনও গায়রে হাজির থাকব না। একটা ঘণ্টাতেও গায়রে হাজির থাকব না। একটা ঘণ্টার পাঁচ মিনিট, তিন মিনিটও গায়রে হাজির থাকব নাএভাবে উপস্থিত থাকব।

এরপরে শুধু জিসম উপস্থিত, দিল গায়রে হাজিরএমন হলেও চলবে না। জিসমও হাজির, দিলও হাজিরএইভাবে ইহতেমামের সাথে দরসে হাজির থাকতে হবে।

দরসে খেয়াল করে উস্তাযের দরস শুনব। উস্তায যে তাকরীর করছেন, বোঝাচ্ছেন, তা খেয়াল করে শুনব।

কী শুনব? যেটা মুতালাআর সময় বুঝেছিলাম, এখন দেখব আমার বুঝটা সহীহ কি না। আমার বুঝটা ঠিক আছে তো! উস্তাযের সাথে আমার বুঝটা মিলছে তো! এটা খেয়াল করব। আর যে যে জায়গায় বুঝিনি, ওটা তো বুঝিইনি, ওটা এখন আরও খেয়াল করে গুরুত্বের সাথে শুনতে হবে, যাতে এখন বুঝতে পারি।

এভাবে দরসের উপস্থিতি এবং দরস খেয়াল করে শোনাএটা হল দ্বিতীয় কাজ।

প্রথম কাজ মুতালাআ, দ্বিতীয় কাজ দরসের উপস্থিতি এবং খেয়াল করে শোনা যে, মুতালাআর সময় যা বুঝেছি, আমার বুঝ ঠিক আছে কি না, আর যা যা বুঝিনি, এখন সেটা বুঝে নিতে হবে।

তৃতীয় কাজ : তাকরার

তাকরার। দরস থেকে আসার পরে তাকরার।

তালিবে ইলমের করণীয় কাজ তো অনেক। কিন্তু থানভী রাহ. বলেছেন, এই তিনটা কাজ যত্নের সাথে করো, গুরুত্বের সাথে করো এবং নিয়মিত করো, আমি তোমার আলেম হওয়ার জিম্মাদারি নিলাম, ইনশাআল্লাহ।

হাকীমুল উম্মত রাহ.-এর এই কথা অনেক মশহুর। এটা তালিবে ইলমদের জন্য অনেক উপকারী কথা।

আল্লাহ তাআলা এটার ওপর আমল করার তাওফীক দান করুন।

 

***

আবদুর রশীদ নুমানী রাহ.-এর তিন নসীহত

হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ নুমানী রাহ.। আমাদের উস্তায। ১৪২০ হিজরীতে ইন্তেকাল।

হযরত তালিবে ইলমদের জন্য তিনটা কথা বিশেষভাবে বলতেন

এক. নিয়তের তাজদীদ

প্রতিদিন, দিনের শুরুতে নতুন করে নিয়ত করা। নিয়ত তো দিলের ব্যাপার। ব্যস, যখন আমি উঠলাম, ফজরের আগে, ভোর রাতের শেষ অংশে যদি ওঠার তাওফীক হয়, যখন উঠতে পারলাম, তখনই দিলে এই কথা বলা যে, আল্লাহ আমি তো আমার যিন্দেগীটা আপনার দ্বীনের জন্য, আপনার ইলমে দ্বীনের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছি, আপনি কবুল করুন। আমার এই দিনটাও যাতে আপনার রেযামন্দি মোতাবেক চলে এবং যে জন্য আমি নিজেকে ওয়াকফ করেছি সেই ওয়াকফ মোতাবেক যাতে আমার দিনটা কাটেএর জন্য আমি আপনার কাছে তাওফীক চাচ্ছি।

আমি নিয়ত তো করলাম, এবার আপনি আমাকে তাওফীক দান করুন। এভাবে প্রতিদিন নিয়তের নবায়ন করা। তাজদীদে নিয়ত, যাতে নতুন হিম্মত পয়দা হয়।

দুই. দুআর প্রতি যত্ন

ক. আদইয়ায়ে মাসূরার ইহতিমাম

হযরত বলতেন, আদইয়ায়ে মাসূরা, মাসনূন দুআগুলো, কোন্ সময়ের কোন্ দুআএগুলো ইহতিমামের সাথে আমল করার চেষ্টা করা।

এখানে তো মাশাআল্লাহ অনেক আদইয়া হুজুররা তালকীন করানআদইয়ায়ে মাসূরা, সকালের দুআ, সন্ধ্যার দুআ, যেই হালাতের যে সময়ের যে দুআ, যে কাজের যে দুআ।

পোশাক পরার সময় দুআ আছে। দস্তরখান শুরুর দুআ আছে। দস্তরখানের শেষে দুআ আছে। যেই সময় যে দুআ, যে কাজের যে দুআএগুলো আদইয়ায়ে মাসূরা বা আদইয়ায়ে মাসনূনা।

এই দুআগুলোর অনেক ফায়দা। যত্নের সাথে দুআগুলো ইয়াদও করা দরকার, আমলও করা দরকার।

শোয়ার সময় সংক্ষিপ্ত দুআ আছে

اللّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا.

(أخرجه البخاري في صحيحه ৬৩১৪)

সবাই তো এটা আমল করি। তবে ঘুমানোর সময়ের আরও দুআ আছে।

হেফাযতের জন্য তাদবীর আছে। আয়াতুল কুরসী শোয়ার আগে পড়া। তিন কুল পড়া। শোয়ার আগে তিন কুল পড়ার বিশেষ পদ্ধতি আছেদুই হাত দুআর মতো করে ধরবে। এরপর কুলহুওয়াল্লাহ, ফালাক, নাসতিন সূরা ধারাবাহিক এক বার পড়বে, তিন সূরা এক বার করে পড়ে ফুঁ দেবে। হাতে ফুঁ দিয়ে যতটুকু সম্ভব পুরা শরীর মুছবে। আবার হাত ধরবে, এভাবে পড়বে, আবার ফুঁ দিয়ে মুছবে। আবার হাত ধরবে, পড়ে ফুঁ দিয়ে মুছবে। এভাবে নয় বার হবে। তিন সূরা তিন বার করে নয়বার। এভাবে শোয়ার আগে।

আর সকাল-সন্ধ্যায়ও তিন বার করে নয় বার। তবে তখন, মোছা নেই। অর্থাৎ হাদীসে মোছার কথা বলা হয়নি। কিন্তু যেহেতু রাতের হাদীসে মোছার কথা আছে, তাই কেউ যদি সকাল-সন্ধ্যায় মোছে কোনো সমস্যা নেই।

সকাল-সন্ধ্যায় আমারও এ আমলের ক্ষেত্রে মোছার আদত আছে। কিন্তু আমি আগে ভেবেছিলাম, সকাল-সন্ধ্যায় মোছার কথাটা হাদীসের মধ্যেও আছে। কিন্তু সকাল-সন্ধ্যায় যে তিন বার করে নয় বার পড়বেওখানে মোছার কথাটা নেই।

বাকি শারেহীন বলেছেন, যেহেতু রাতের হাদীসে মোছার কথা আছে, এখানেও যদি কেউ মোছে, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু ওখানে যেরকম মাসূরহাদীসের মধ্যেই ফুঁ দেওয়ার কথা, মোছার কথা আছেএখানে ওইভাবে উল্লেখ নেই। কিন্তু আমল করতে মানা নেই। তবে এটা মাসূরের অংশ না।

তো সকাল-সন্ধ্যায়ও তিন বার করে নয় বার। কুলহুওয়াল্লাহ, ফালাক, নাস। আবার কুলহুওয়াল্লাহ, ফালাক, নাস। আবার কুলহুওয়াল্লাহ, ফালাক, নাস।

আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পরে ব্যাপকভাবে যেটা আছে, সেটা হল এক বার করে তিন বার। কুলহুওয়াল্লাহ, ফালাক, নাস। এগুলো নিজের হেফাযতের জন্যই দরকার।

ফজরের পরে তো অনেক কিছু পড়া হল। এগুলো মাসনূন এবং এগুলোর মধ্যে নিজের অনেক ফায়দা। এখন উস্তাযগণ তালকীন করিয়ে দিলেই পড়ব আর যখন নিজে একা হয়ে যাব তখন পড়ব নাএটা তো ভালো নয়। এগুলো নিজের আমলের অংশ হয়ে যেতে হবে। নিজের যিন্দেগীর অংশ হয়ে যেতে হবে।

শোয়ার আগে কত সুন্দর দুআ-

بِاسْمِكَ رَبِّيْ وَضَعْتُ جَنْبِيْ، وَبِكَ أَرْفَعُهٗ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهٖ عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ. (أخرجه البخاري في صحيحه ৬৩২০)

আদইয়ায়ে মাসনূনার বিভিন্ন কিতাব আছে। মুফতী তাকী উসমানী সাহেব হুজুরও একটা কিতাব লিখেছেনপুরনূর দুআয়েঁ। এটা আদইয়ায়ে মাসনূনার কিতাব। আর মুনাজাতে মাকবুলের দুআগুলো হল মুনাজাতের দুআ।

খ. দুআর আমল

একটা হল বিশেষ সময়, বিশেষ কাজের দুআ। আরেকটা হল, আম দুআ। এটা বিশেষ সময় বা বিশেষ কাজের সাথে সম্পৃক্ত না। নিজের দ্বীন-দুনিয়ার জরুরতগুলো আল্লাহ্‌র কাছে চাওয়ার জন্য কুরআন-সুন্নাহয় বিভিন্ন দুআ এসেছে। যেমন

رَبَّنَا ظَلَمۡنَاۤ اَنۡفُسَنَا . . .

এই দুআ অমুক সময় হবে বা অমুক কাজের সময় হবেএমন না। এটা মুনাজাতের দুআ। যখন আমার মনে চায়, হাত উঠিয়ে দুআ করি বা হাত তোলা ছাড়াই দুআ করি।

এরকম আম কিছু দুআ কুরআন-সুন্নাহ্য় আছে। হিসনে হাসীন কিতাবে এই দুআগুলো পঞ্চম অধ্যায়ে লেখা আছে। আর বাকি চার অধ্যায়ে হল, কোন্ সময়ের কোন্ দুআ, কোন্ অবস্থায় কোন্ দুআ, কোন্ কাজের কোন্ দুআ।

হিসনে হাসীন যদি আমি সংগ্রহ করি, ইমাম নববীর আলআযকার যদি সংগ্রহ করি, দুআর খাযানা পেয়ে যাব। অথবা মুনাজাতে মাকবুল। আর মুনাজাতে মাকবুল তাতিম্মা/পরিশিষ্ট-সহ সংগ্রহ করি। ওটার মধ্যে উভয় রকমের দুআ আছে। তাতিম্মায়ে মুনাজাতে মাকবুলে বিশেষ হালাত এবং বিশেষ কাজের দুআ, বিশেষ সময়ের দুআ। আর মূল হচ্ছে, মুনাজাতে মাকবুল, সাত মানযিলএগুলো আম মুনাজাতের দুআ। তো খোলাসা হল, দুআর প্রতি যত্নবান থাকা দরকার।

তিন. কিতাবের জগতের সাথে পরিচিতি লাভ

তৃতীয় নসীহত হযরত নুমানী রাহ. যেটা করতেন সেটা হল, কিতাবের জগতের সাথে পরিচিতি লাভ করা।

আমি তালিবে ইলম, দাওরায়ে হাদীস পড়ে ফেলেছি, কিন্তু অনেক কিতাবের নামই জানি না। এমনকি দাওরার পরে আরও পড়াশোনা করেছি, তাও অনেক কিতাবের নাম জানি না। এটা কেমন কথা? কিতাবের জগতের সাথে পরিচিতি লাভ করাএটা তালিবে ইলমের একটা দায়িত্ব। কোন্ ফনের আহাম আহাম কিতাব কী? কোন্ বিষয়ের আহাম আহাম কিতাব কী? এটা তালিবে ইলমের জানা থাকা দরকার। যাতে জরুরতের সময় সে এটা মুতালাআ করতে পারে, মুরাজাআত করতে পারে।

এজন্য কিতাবের জগতের সাথে পরিচিতি লাভ করা এটাকে নিজের যিন্দেগীর একটা কাজ বানাতে হবে ইনশাআল্লাহ।

একটা মুযাক্কিরা বা ইয়াদদাশত থাকতে হবে, যে ইয়াদদাশতের মধ্যে আমি লিখে রাখব। আজকে হুজুরের কাছে শুনলাম যে, এ বিষয়ে অমুক মুসান্নিফের অমুক কিতাব আছে, নোট করে রাখব বা আমাদের কুতুবখানায় গেলাম, আমাদের দারুল মুতালাআয় গেলাম, ওখানে দুই একটা কিতাবের নাম দেখলাম। ওই কিতাবের নাম, মুসান্নিফের নাম, মুসান্নিফের ওফাত সন। জন্ম সন যদি থাকে ভালো, কমপক্ষে ওফাত সন। সেইসাথে উক্ত গ্রন্থের প্রকাশক কে, কবে ছাপা হলযাবতীয় বিবরণ লিখে রাখব।

কিতাবের জগতের সাথে পরিচিতি, এটা তালিবে ইলমের যিন্দেগীতে অনেক ফায়দা টেনে আনে।

কোন্ কিতাব কার জন্য কখন মুতালাআযোগ্যওটাও একটা জানার বিষয়। যে-কোনো কিতাব পেলাম আর পড়া শুরু করলাম, তা না। একটা কিতাবের পরিচিতি লাভ করার মধ্যে এটাও শামিল যে, কোন্ কিতাব কার জন্য কখন মুতালাআযোগ্য আর কোন্টা বিলকুল আমার জন্য না।

لا تجوز مطالعته إلا للنقاد.

আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর একটি নসীহত

হযরত শায়েখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ., ইন্তেকাল ১৪১৭ হিজরীতে। ১৪১৭ হিজরীর শাওয়ালে। শায়খ বলতেন

قيمة الزمن عند العلماء.

তালিবে ইলম এবং আলেমের কাছে সময়ের দাম কেমন থাকতে হবে!

একজন দুনিয়াদারের কাছে সময়ের যত মূল্য, এরকম, নাকি এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি! অবশ্যই অনেক বেশি। কিন্তু তা কি আছে!

কঠিন দুনিয়াদার যারা, কোনো অলসতা নেই, তার কাজে সে নিমগ্ন থাকে। একজন পাকা দোকানদারকেও আপনি দেখবেন, সে কী মেহনত করে, সময়ের কী ইহতিমাম করে।

কীমাতুয যামান। যে তালিবে ইলমের কাছে সময়ের মূল্য নেই, সে সফল হবে কীভাবে? সময়ের অপচয় যে করে, সে কখনও সফল হতে পারবে না। সময়ের কদর করতে হবে।

তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের একটি নসীহত

হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেন, আমাদের তালিবে ইলমদের বড় সমস্যা হল, তাদের মধ্যে ইলমের ব্যাপারে খুব কানাআত। অথচ কানাআত থাকতে হবে দুনিয়ার ব্যাপারে।

কানাআত মানে হল অল্পেতুষ্টি। যেভাবে আল্লাহ রেখেছেন, যতটুকু দিয়েছেন, আলহামদু লিল্লাহ। এই কানাআত এবং অল্পেতুষ্টি হবে দুনিয়ার ব্যাপারে। ইলম ও আমলের ব্যাপারে, অর্থাৎ যেগুলো দ্বীনের বিষয়, আখেরাতের বিষয়, ওখানে তো কানাআত না; হিরস থাকতে হবে!

হযরত বলেছেন, ইলমের ব্যাপারে তোমাদের মধ্যে কানাআত কেন? ইলমের ব্যাপারে তো তোমাকে হারীস হতে হবে। দুনিয়ার ব্যাপারে থাকতে হবে যুহদ ও কানাআত। ইলমের ব্যাপারে থাকতে হবে হিরস।

حرص کوتاہ فہم کامل

এই হিরস হল দুনিয়ার হিরস। দুনিয়ার প্রতি হিরস کوتاہ হতে হবে। শুধু کوتاہ না; বরং না থাকতে হবে। কিন্তু ইলমের হিরস থাকতে হবে। সামান্য একটু শিখল, ব্যস হয়ে গেল! আল্লামা হয়ে গেল! আল্লামা হওয়া তো এত সোজা নয়! العلم بحر لا ساحل له কাজেই নিমগ্নতা থাকতে হবে।

আরও কয়েকটি গুণ হাসিল করি

নিজেকে ইলমের জন্য কোরবান করে দিতে হবে। তবে আদব, তাওয়াযু, তাকওয়া ছাড়া কোনো কিছুই কাজে আসবে না।

আদব, তাকওয়া, তাওয়াযু আর ইস্তি‘দাদএই চারটার কোনো একটা বা চারটার সবগুলোর অভাবেই আজকাল কওমী মাদরাসা থেকেও এমন এমন লোক বের হচ্ছে, যারা বিভিন্ন বাতিল ফেরকার আস্তানায় গিয়ে ওদের সহযোগিতা করে আসে।

কওমী মাদরাসা থেকে এ ধরনের লোক কীভাবে বের হয়! প্রফেসর-ডাক্তার, যারা শুধু চিল্লা লাগিয়েছে, আলেমদের সোহবত হাসিল করেনিতারা এতাআতী হতে পারে; কিন্তু কওমী মাদরাসায় পড়ুয়া মৌলভী সাহেব কিভাবে এতাআতী হয়?

হয়তো এই কারণে যে, ইস্তি‘দাদ নেই অথবা তাকওয়া নেই, আদব নেই, তাওয়াযু নেই। শুধু জামাত (শ্রেণি) গুনেছে, ইস্তি‘দাদ হাসিল করেনি। কিতাবি ইস্তি‘দাদ নেই।

ইস্তি‘দাদ যদি কোনোরকমে থাকেও, ইবারত পড়তে পারে, লফযী তরজমা বোঝে, কিন্তু সমঝ যেটাকে বলে-দ্বীনের ফাহম, তাফাক্কুহ ফিদ্দীনওটা নেই। ইলমের পরিপক্বতা নেই, নতুবা আমানত আর তাকওয়া নেই। কোনো না কোনো সিফাতের অভাব হলেই কওমী মাদরাসা পড়ুয়া লোকদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা আসতে পারে, শুযূয আসতে পারে, ইনহিরাফ আসতে পারে, প্রান্তিকতা আসতে পারে।

আল্লাহ তাআলা সেই সিফাত আমাদেরকে দান করেন। আমাদের ইলম যাতে ইলমে নাফে হয়।

সব ইলম ইলমে নাফে না। ইলম নাফে হবে তখন, যখন তাতে আদব থাকবে, তাওয়াযু থাকবে, তাকওয়া থাকবে। ইলম নাফে হবে তখন, যখন সেখানে পাকা ইস্তি‘দাদ থাকবে, রুসূখ ফিল ইলম থাকবে, হিকমাহ থাকবে। তাফাক্কুহ ফিদ্দীন থাকবে।

من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين.

তাফাক্কুহ ফিদ্দীন এমনি এমনি আসে না। শুধু পড়লেই আসে না। উস্তায পড়িয়ে দিলেই আসে না। খোদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

إنما أنا قاسم والله يعطي.

ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে ইলম আসে, আমি বিতরণ করে দিই; কিন্তু ইলম দান করেন আল্লাহ।

তাফাক্কুহ; এটা আল্লাহ্ই দেবেন। তাফাক্কুহ ফিদ্দীন শুধু পড়লেই হয় না, পড়িয়ে দিলেই হয় না। এর জন্য অতিরিক্ত মেহনত লাগে। আল্লাহ দান করবেন, তাই আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক ভালো করতে হবে।

আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক ভালো হবে, মজবুত হবে, কীসের মাধ্যমে?

তাকওয়ার মাধ্যমে, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে, তাওয়াযুর মাধ্যমে, দুআর মাধ্যমে। তাকওয়া, তাওয়াযু, দুআর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক মজবুত হবে। তখন তাফাক্কুহ আসবে। যখন ইলমের শারায়েত পালন করবে, যার মধ্যে আদব আছে, তাওয়াযু আছে। উস্তাযদের সোহবত যে গ্রহণ করে।

উস্তাযদের সাথে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নয়, এর দ্বারা তাফাক্কুহ আসে না। উস্তাযদের সাথে থাকতে হবে গভীর সম্পর্ক।

তো এই সোহবতের সম্পর্ক যদি থাকে আর তাকওয়ার রাস্তা অবলম্বন করে এবং ফিকহ-হিকমতে ভরা যে সমস্ত আকাবির মুসান্নিফীন, তাদের তাসানীফ বেশি বেশি মুতালাআ করে, তখন আস্তে আস্তে দ্বীনের সমঝ পয়দা হয়।

এই তাফাক্কুহ যদি না হল, তাওয়াযু এবং তাকওয়া যদি না হল, তাহলে গোমরাহী যে-কোনো সময় এসে ধরতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাযত করেন।

وآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ.

 

advertisement