হিজরী সনের সূচনা এবং মুসলিম জীবনে এর গুরুত্ব
দেখতে দেখতে চলে গেল ১৪৪৭ হিজরী। এখন ১৪৪৮ হিজরী সন। এভাবেই আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একেকটি বছর।
একটি নতুন বছর নানা বার্তা নিয়ে উপস্থিত হয়। এখানে যেমন থাকে নতুন দিন লাভের আনন্দ, তেমনি থাকে জীবন থেকে একটি বছর হারানোর বেদনা।
বছরের গমনাগমনে মুমিনের করণীয় হল– অতীত থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে ভবিষ্যৎকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টায় ব্রত হওয়া। নতুন দিনের আনন্দে প্রবঞ্চিত না হয়ে আত্মোপলব্ধি ও জবাবদিহিতার মানসিকতা জাগ্রত করা।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন–
كُلّ النّاسِ يَغْدُو فَبَايِعٌ نَفْسَه فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا.
প্রতিটি মানুষ সকাল যাপন করে; অতঃপর নিজেকে বিক্রি করে। এভাবে কেউ নিজেকে (আল্লাহ্র আনুগত্যে নিয়োজিত করে জীবনকে ধ্বংস থেকে) রক্ষা করে আর কেউ (নফস ও শয়তানের আনুগত্যে নিয়োজিত হয়ে) নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে। –সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৩
দিন গিয়ে রাত আসে। সপ্তাহ ঘুরে মাস কেটে যায়। বারো মাস অন্তর অন্তর নতুন বছর আসে– এভাবেই দিন-রাতের পরিক্রমায় এক সময় জীবন ফুরিয়ে যায়!
মহান রাব্বুল আলামীন জগৎ সংসারের এ নেযাম সাজিয়েছেন উপদেশ গ্রহণের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন–
تَبٰرَكَ الَّذِیْ جَعَلَ فِی السَّمَآءِ بُرُوْجًا وَّجَعَلَ فِیْهَا سِرٰجًا وَّقَمَرًا مُّنِیْرًا، وَهُوَ الَّذِیْ جَعَلَ الَّیْلَ وَالنَّهَارَ خِلْفَةً لِّمَنْ اَرَادَ اَنْ یَّذَّكَّرَ اَوْاَرَادَ شُكُوْرًا.
কত মহান সেই সত্তা, যিনি আসমানে ‘বুরূজ’ সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে স্থাপন করেছেন উজ্জ্ব¡ল প্রদীপ এবং আলো বিস্তারকারী চাঁদ। এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত ও দিনকে পরস্পরের অনুগামী করে সৃষ্টি করেছেন; (কিন্তু এসব বিষয় উপকারে আসে কেবল) সেই ব্যক্তির জন্য, যে উপদেশ গ্রহণের ইচ্ছা রাখে কিংবা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চায়। –সূরা ফুরকান (২৫) : ৬১-৬২
দিন-রাতের এ পরিবর্তনের চক্রে রয়েছে বহু নিদর্শন হেদায়েত গ্রহণের ও তাকওয়া অর্জনের। আর জ্ঞানীরাই এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন–
اِنَّ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَاخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ .
নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃজনে এবং পালাক্রমে রাত-দিনের আগমনে বহু নিদর্শন আছে বুদ্ধিমানদের জন্য। –সূরা আলে ইমরান (০৩) : ১৯০
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন–
اِنَّ فِی اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ وَمَا خَلَقَ اللّٰہُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَّقُوۡنَ .
নিশ্চয়ই দিন-রাতের একের পর এক আগমনে এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তাতে সেইসকল লোকের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে, যাদের অন্তরে আছে আল্লাহ্র ভয়। –সূরা ইউনুস (১০) : ০৬
আল্লাহ তাআলা চাঁদ ও সূর্যকে বর্ষ গণনা ও হিসাবের মাধ্যম বানিয়েছেন।
চাঁদ সম্পর্কে তিনি ইরশাদ করেছেন–
يَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْاَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيْتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ.
তারা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, এটা মানুষের (বিভিন্ন কাজ-কর্মের) এবং হজ্বের সময় নির্ধারক। –সূরা বাকারা (০২) : ১৮৯
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে–
وَّقَدَّرَهٗ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوْا عَدَدَ السِّنِيْنَ وَالْحِسَابَ .
আর (আল্লাহ) তার জন্য নির্ধারণ করেছেন মনযিলসমূহ, যাতে তোমরা বছরের গণনা ও (মাসসমূহের) হিসাব জানতে পার। –সূরা ইউনুস (১০) : ০৫
শরীয়তের বহু বিধান চাঁদের ওপর নির্ভরশীল। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের তিনটি বিধান– হজ্ব, যাকাত ও রোযার হিসাব চাঁদের সাথে যুক্ত। এছাড়া কুরবানী, ঈদুল ফিতর, লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান, আশুরা, ইয়াওমে আরাফা, আইয়ামে তাশরীক প্রভৃতি বিধানও চাঁদের ওপর নির্ভর করে। তেমনি সন্তানের দুধ ছড়ানোর বছর গণনা, বালেগ গণ্য হওয়ার বছর গণনা, ইদ্দত ইত্যাদি বহু বিধান চান্দ্রমাসের সাথে যুক্ত। কাজেই চাঁদের হিসাব গণনা করা ও তা সংরক্ষণ করা মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
হিজরী সন ও তার সূচনা
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কা মুকাররমা থেকে মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরতের বছর থেকে চান্দ্রমাস কেন্দ্রিক যে সনের গণনা করা হয়, তাকেই হিজরী সন বলে।
হিজরী সনের গণনার পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। উমর রা. খেলাফত পরিচালনাকালে বিভিন্ন জায়গায় চিঠি-পত্র প্রেরণ করতেন। কিন্তু তখনও হিজরী সন গণনা আরম্ভ হয়নি। ফলে তার চিঠিতে কোনো সন উল্লেখ থাকত না। এ কারণে অনেক সময় বিড়ম্বনা দেখা দিত। কোন্ চিঠি কবের, তা বুঝতে বেগ পেতে হত।
সে বিবেচনায় আবু মূসা আশআরী রা. উমর রা.-এর নিকট অভিযোগ পাঠান– আপনি বিভিন্ন সময় চিঠি প্রেরণ করেন। তাতে তো কোনো তারিখ থাকে না।
তাছাড়া উমর রা.-এর নিকটও কাগজ-পত্র আসত, সেখানেও সন উল্লেখ থাকত না।
একবার একটা কাগজে শাবান মাস লেখা ছিল। উমর রা. বললেন, কোন্ শাবান? গত বছরের, নাকি এ বছরের, না আগামী বছরের শাবান মাস!
হিজরতের ১৭তম বছরের কথা! এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উমর রা. সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে নবীজীর হিজরতের বছর থেকে ইসলামী বছর গণনার ফয়সালা করেন। সেসময় তাঁর ঐতিহাসিক ঈমানোদ্দীপক উক্তি ছিল–
الهجرة فرقت بين الحق والباطل، فأرخوا بها.
নবীজীর হিজরত সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য-রেখা টেনে দিয়েছে। সুতরাং সেদিন থেকেই বর্ষ গণনা কর।
তবে বছর গণনা শুরু হবে কোন্ মাস থেকে?
ইসলামপূর্ব আরবেও চান্দ্র মাসসমূহ ব্যবহারের চর্চা ছিল। হিজরী সনের ক্ষেত্রে সেই মাসগুলোকেই অক্ষুণ্ন রাখা হয়। তবে নবীজীর হিজরত রবিউল আউয়ালে হলেও প্রস্তুতি যেহেতু প্রায় মুহাররম থেকেই গ্রহণ করা হয়েছিল, এজন্য মুহাররম থেকেই মাস ও বছর গণনা নির্ধারিত হয়।
তাছাড়া যিলহজ্ব মাসে হজ্বের কার্যক্রম শেষ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে মুহাররম হয়ে যায়। এভাবে জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এ বিবেচনায়ও মুহাররম থেকে বর্ষ গণনা আরম্ভ হয়।
এভাবে উমর রা.-এর খেলাফতকালে হিজরতের ১৭তম বছরে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী সন হিসেবে হিজরী সনের গণনা আরম্ভ হয়। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৭১৯; ফতহুল বারী ৭/৩১৪ কিতাবু মানাকিবিল আনসার, বাবুত তারীখ)
হিজরী সনের হিসাব রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
হিজরী সনকে আরবী সন বলা হলেও এটা আরবদের গোষ্ঠীগত সাংস্কৃতিক বিষয় নয়; বরং এটি মুসলিম জাতির ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে– শরীয়তের অনেক বিধান হিজরী বর্ষের হিসাবের সাথে জড়িয়ে আছে। ফলে হিজরী সনের হিসাব রাখা মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। বিধানগতভাবে এটা ফরযে কেফায়া।
হিজরী বর্ষ নির্ধারণের প্রেক্ষাপটের দিকে লক্ষ করলেও এর হিসাবের প্রতি মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভূত হয়। যে মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ সন গণনা শুরু হয়েছে, তাতে রয়েছে মহাকালের যুগান্তকারী এক অধ্যায়। নবীজী ও সাহাবায়ে কেরাম কেবলমাত্র ঈমানের দাবিতে প্রিয় মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদীনায় হিজরত করেন। হিজরতের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক অধ্যায়। যুগে যুগে হকের বিজয় অনিবার্য– এই অমোঘ সত্যের সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে হিজরী সন। আর তাই উমর ফারুক রা. বলেছিলেন, হিজরতকে কেন্দ্র করেই ইসলামী বর্ষ নির্ধারিত হবে। কেননা তা সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছে।
কাজেই মুসলিম সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে হিজরী সনের চর্চা হওয়া জরুরি। রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং সামাজিকভাবে এর ব্যাপক চর্চা হওয়া চাই।
আফসোসের বিষয় হল, আজ আমরা হিজরী বর্ষের ব্যাপারে বড়ই উদাসীন। নতুন প্রজন্মের কাছে হিজরী মাসগুলো দিন দিন অপরিচিত হতে চলেছে। রোযা ও ঈদ, হজ্ব ও কুরবানী কোন্টা হিজরী কোন্ মাসে, তা তারা জানে না।
ঈদুল ফিতর যে পয়লা শাওয়ালে– এ কথা কয়জন জানে! এহেন অবস্থা থেকে মুসলিমদের বেরিয়ে আসতে হবে।
এ প্রসঙ্গে উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ছাহেব দামাত বারাকাতুহুম নিজের সাথে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন–
‘দুঃখের বিষয় এই যে, আজকাল দ্বীনদারদের মধ্যেও এ বিষয়ে ব্যাপক উদাসীনতা লক্ষ করা যায়। কাউকে তারিখ জিজ্ঞাসা করলেই নিঃসঙ্কোচে ও কোনো ভূমিকা ছাড়াই ইংরেজি ক্যালেন্ডারের তারিখ বলে থাকেন, যেন এটাই একমাত্র ক্যালেন্ডার।
কোনো চিঠি বা লেখায় তারিখ লিখতে হলে ইংরেজি তারিখ লেখা হয়, কোনো ঘটনার তারিখ বলতে হলেও সেটাই বলা হয়! এমনকি অধিকাংশ তালিবে ইলম তাদের শিক্ষাজীবনের তারিখও যদি মনে রাখে, তাহলে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসাবেই মনে রাখে।
গত বছর মদীনা মুনাওয়ারায় শায়েখ মুহাম্মাদ আওয়ামা (হাফিযাহুল্লাহ)-এর এক প্রশ্নের উত্তরে চান্দ্র তারিখের পর ইংরেজি তারিখ উল্লেখ করেছিলাম। তিনি তখন বলেছিলেন–
نحن لانعرف ذلك، إنما نعرف...
এই ক্যালেন্ডারের সঙ্গে তো আমাদের পরিচয় নেই; আমরা তো কেবল...
পক্ষান্তরে অন্য এক ব্যক্তির কোনো প্রশ্নের উত্তরে আমি যখন চান্দ্র তারিখ বলেছি, তখন তিনি কিছুটা বিরক্তির সঙ্গে বললেন, ইংরেজি তারিখ বলুন!
কোনো সন্দেহ নেই যে, হিজরী সন-তারিখ ব্যবহারের বিষয়ে এই উদাসীনতা এখন আর সাধারণ মানুষের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন (খাওয়াছ) বিশিষ্ট-ব্যক্তিদের মাঝেও সংক্রমিত হয়েছে। এটি খুবই দুঃখজনক।
এই উদাসীনতা বাহ্যত ছোট মনে হলেও তা অনেক বড় কিছু বিষয়ের ফলাফল। তদ্রƒপ এর পরিণতিও অত্যন্ত মারাত্মক। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাযত করুন– আমীন।’ (মাসিক আলকাউসার, মুহাররম ১৪৩৪ হিজরী)
নতুন বছর আমাদের যে বার্তা দিয়ে যায়
নতুন বছরে পাঠ করার একটি দুআ বিশুদ্ধ সূত্রে পাওয়া যায়। তাতে নিহিত আছে নতুন বছরের বার্তা ও শিক্ষা।
ইমাম আবুল কাসেম বাগাভী রাহ. (৩১৭ হি.) মু‘জামুস সাহাবা কিতাবে সহীহ সনদে নতুন মাস ও নতুন বছরের শুরুতে পড়ার একটি দুআ উল্লেখ করেছেন। সাহাবী আবদুল্লাহ বিন হিশাম রা. বলেন, সাহাবায়ে কেরাম রা. নতুন মাস বা নতুন বছর শুরুর এ দুআটি তেমন গুরুত্ব দিয়ে শিখতেন, যেভাবে কুরআন কারীম শিখতেন–
اَللّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ وَالِإيْمَانِ، وَالسَّلَامَةِ وَالإِسْلَامِ، وَجِوَارٍ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَرِضْوَانٍ مِّنَ الرَّحْمنِ.
(قال الحافظ ابن حجر في الإصابة: وهذا موقوف على شرط الصحيح).
আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে এ মাস/বছরের আগমন ঘটান– শান্তি ও নিরাপত্তা এবং ঈমান ও ইসলামের (ওপর অবিচলতার) সাথে; শয়তান থেকে সুরক্ষা ও দয়াময় আল্লাহ্র সন্তুষ্টির সাথে। (দ্র. মুজামুস সাহাবাহ ৩/৫৪৩, বর্ণনা ১৫৩৯; আলইসাবাহ ৪/২৫৬)
এ দুআর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এটি নতুন মাস বা নতুন বছরের দুআ। সাহাবায়ে কেরাম রা. এ দুআটির প্রতি খুব গুরুত্ব দিতেন।
লক্ষণীয় হচ্ছে, এ দুআয় ঈমান-ইসলাম, শান্তি-নিরাপত্তা ও রহমত-বরকতের সাথে কীভাবে আমার নতুন বছরটি অতিবাহিত হতে পারে– এ ব্যাপারে প্রার্থনা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি এ দুআও করা হচ্ছে– কীভাবে শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও প্ররোচনা থেকে নিষ্কৃতি লাভ করা যায় এবং মহান দয়ালু প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়।
এ দুআ আমাকে শেখাচ্ছে, বিগত দিনের ঈমান আমলের হিসাব মেলাও। দ্বীন ইসলামের পথে কতটুকু অবিচল ছিলে, তা খতিয়ে দেখ। আল্লাহ্র হক ও বান্দার হক কতটুকু আদায় করেছ, তা পুনর্মূল্যায়ন কর। ঈমানের পথে কতটুকু ছিলে? ঈমানের গুণাবলি কতটুকু অর্জন করেছ? একটি বছরের পরিসমাপ্তি আমাকে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে অনুপ্রাণিত করে।
পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তা কামনার কথা রয়েছে দুআর শব্দ-বাক্যে। কাজেই শান্তি শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার আবহ কতটুকু রক্ষা করেছ? তারও জবাব চাই।
অতীতে যা কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ও গুনাহ হয়ে গেছে, তার জন্য তওবা কর। আর ভবিষ্যৎ জীবন সফল করার জন্য মহান রবের সমীপে নিবেদিত হও। এটাই নতুন চাঁদ ও নতুন বছরের বার্তা।
যদি এই বার্তা আমরা গ্রহণ করতে পারি, তাহলেই আমাদের মধ্যে সঠিক উপলব্ধি জাগ্রত হবে এবং তা আমাদের জীবনে ঈমান-আমল, শান্তি-নিরাপত্তা ও মহান রবের সন্তুষ্টি বয়ে আনবে।