Zilqad 1447   ||   May 2026

খবর... অতঃপর...

r বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না : বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বলেছেন, ‘আজ বাংলা ভাষা সম্পর্কে আমরা নিজেরা যদি একটু চিন্তা করতাম, তাহলে আজকের জেন-জি ‘ইনকিলাব’ বলত না। তারা ইনকিলাব বললে আমার রক্তক্ষরণ হয়। এটার জন্যই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম? অথচ না গেলেও চলত। সমাজ পরিবর্তনের জন্য জীবন দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সমাজ যে উল্টো দিকে হাঁটে, এখন সেটা দেখছি।’

শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৌর শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় ইকবাল হাসান মাহমুদ এ কথা বলেন।

প্রথম আলো, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

· জ্বালানি মন্ত্রী তাঁর বিভাগেই হযবরল অবস্থা করে ফেলেছেন। এখানে তিনি এত অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন যে, গোটা সরকারই বিপাকে পড়েছে। তাকে আবার ভাষাবিদ হতে কে বলেছে? প্রত্যেকে যার যার কাজ ভালোভাবে করবে সেটাই তো প্রত্যাশিত। ইনকিলাব জিন্দাবাদ বাংলা ভাষার অংশ হয়ে আছে অনেক আগেই। জ্বালানি মন্ত্রীর অজানা থাকলে সেটা তো তার সীমাবদ্ধতা। ইনকিলাব ও জিন্দাবাদ এই শব্দগুলো বহু আগেই বাংলা ভাষার সাথে, এই দেশীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে। যারা এই দেশে জিন্দাবাদ বলতে লজ্জাবোধ করে তাদের ভাবা দরকার, আমাদের পার্শ্ববর্তী হিন্দুপ্রধান রাষ্ট্রেও জিন্দাবাদ ব্যাপকভাবেই ব্যবহৃত হয়। জিন্দাবাদ নিয়ে এত কথা বলার কী আছে? জ্বালানি মন্ত্রীর মতো লোকদের কারণেই একটি দল ও সরকার জনগণের বিরাগভাজন হয়।

r দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন : সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

প্রথম আলো, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

· দেশ স্বাধীন হয়েছে পঞ্চান্ন বছর চলছে। এখনো প্রায় দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন এবং তারা সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন! এই প্রতিবেদনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্যে তা বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার এই তালিকা নিয়ে কত তেলেসমাতিই হল। এখনো চলছে। এখনো যত দিন যাচ্ছে, মাঝে মাঝেই ভুয়া মুক্তিযুদ্ধের কোটায় চাকরি পাওয়া, ভুয়া বড় বড় অফিসার সচিবালয় থেকে বের হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের তালিকা নিয়ে আসলে বিশদ কাজ করার সুযোগ আছে। এখনো নিশ্চিত করে কে বলতে পারবে, এই তালিকার ভেতর কতজন সঠিক মুক্তিযোদ্ধা এবং কতজন বিভিন্নভাবে সুযোগ পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা? কারণ গত দুয়েক বছরেও দেখা গেছে, অনেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন করে তালিকাভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছে। সুতরাং একটি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সে দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রাম। সে সংগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় যদি সর্ষের ভেতরে ভূত থাকে, এত ঝামেলা থাকে, তাহলে মানুষ ভালো মুক্তিযোদ্ধার ব্যাপারেও সন্দেহ করবে, আপনি কি আসলে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন? এই বিষয়টি এখনো পর্যন্ত বিতর্কিত থেকে গেছে। এর সঠিক সুরাহা হওয়া উচিত ছিল। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন সুন্দর ও সম্মানিত থাকতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা দরকার ছিল। কারণ, মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সময় সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা-অপচেষ্টা করা হয়েছে।

বিভিন্ন ভাতা, হরেক রকমের সুযোগ-সুবিধা, চাকুরিতে কোটাসহ রাষ্ট্রের কত কিছুই তাদের জন্য নিবেদিত ছিল ও আছে। শুধু একটি বিষয়ে নজর দিলেই অনেক কথা বেরিয়ে আসবে। বেঁচে থাকা একজন মুক্তিযোদ্ধার ন্যূনতম বয়স এখন কত হওয়া উচিত। নিশ্চয়ই পঁচাত্তরোর্ধ্ব। স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী লোকটির বয়স হয়ে থাকে অন্তত বিশ বছর। তবুও তো তিনি পঁচাত্তরোর্ধ্ব। যাহোক যদি এখনো যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে এ বিষয়টির সঠিক সমাধান না করা হয়, তাহলে একসময় এসব নিয়েও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তখন কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়াবে, তা আগাম বলে দিতে পারবে না।

r ‘চাঁদা নয়, বলেছি দোকান দিচ্ছেন ছেলেপেলেদের কিছু খাওয়াইয়েন’

পহেলা বৈশাখ উৎসব উপলক্ষে বসা কলেজ মাঠে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই তাকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদল।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, সামনে এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রদলের কমিটি গঠন হবে। তাই আমার বিপক্ষ গ্রুপ বিভিন্ন সিস্টেম করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া শুরু করেছে। ভিডিও ছড়িয়েছে আমাদের অভ্যন্তরীণ লোকজন।

তিনি আরও বলেন, তিন থেকে চার শ দোকান বসেছিল। কোনো দোকানদার চাঁদা নেওয়ার কথা বলতে পারবেন না। শুধু বলেছিলাম যে, দোকান দিচ্ছেন আমাদের ছেলেপেলেদের একটু খাওয়াইয়েন আর কি! এর থেকে বেশি কিছু না। কেউ গোপনে ভিডিও করে ছড়িয়ে দিয়েছে। এগুলো দেখা ছাড়া কোন উপায় নেই। কারণ জনে জনে তো প্রমাণ করতে পারব না।

ঢাকা পোস্ট, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

· ঠিক যেমনিভাবে অনেকে ঘুষ হাদিয়া হিসেবে নেয়।

r খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা ফাতেমার ভাতিজিকে দেখতে ঢামেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগমের অসুস্থ ভাতিজি সীমাকে (৩২) দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তিনি ঢামেকে গিয়ে সীমার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। এ সময় হাসপাতালের অন্য রোগীদের খোঁজখবর নেন মন্ত্রী।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার খবর পেয়েছি, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রোগী (সীমা) বাচ্চা প্রসব করেছে। প্রসবের পর মায়ের অবস্থা ক্রিটিক্যাল হয়ে যায়। পরে আমাদের বিষয়টি জানালে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। বাচ্চাটিকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর মায়ের অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

যুগান্তর, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

· এটা ভালো। তবে মন্ত্রীরা যদি এভাবেই দেশের সাধারণ জনগণ এবং সাধারণ রোগী, যারা তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে চিকিৎসা নেয়, তাদের খোঁজখবর নিতেন এবং চিকিৎসাসেবা দিতেন, তাহলে সেটা বড় কাজ হত। পৃথিবীর অনেক দেশেই রাষ্ট্র কর্তৃক তৃণমূল পর্যায়ের লোকদের চিকিৎসাসেবা পর্যাপ্ত দেওয়ার নীতি ও রেওয়াজ আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা করেছেন সেটাকে তো সাধুবাদ জানানোই যায়। তবে এই কাজগুলোই ব্যাপক আকারে হলে দেশের জন্য উপকারী হবে এবং সরকারেরও জনপ্রিয়তা বাড়বে।

r বিএসএফের গুলিতে বিজিবি সদস্য আহত

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দেশকাল নিউজ, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

· সেই পুরোনো চিত্র। ফেলানীদের কথা এদেশের মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। বর্তমান সরকার ও তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এসব বিষয়ে কঠোর ও চিন্তাশীল হওয়া দরকার। এই কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন অদক্ষতা নিয়ে যতই আলোচনা থাকুক, কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে যে সীমান্তে একতরফা বাংলাদেশের ওপর জুলুম করে গেছে, সেই চিত্র তখন ছিল না। এই দিকটা অন্তত বিগত সময়ে জনগণের কাছে প্রশংসিত ছিল। এই সরকারকে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। কোনোক্রমেই ফ্যাসিবাদী আমলের পরিস্থিতিতে ফিরতে দেওয়া যাবে না। সরকারি দল যে বলে থাকে, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে প্রভু নেই’ সেটা প্রমাণ করতে হবে বাস্তবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেটা অবশ্যই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে দক্ষতার সাথে নিশ্চিত করতে হবে।

r ‘দুই মাসেই সরকারের উপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে’ সকল মিডিয়ায় বার্তাটি প্রচারের নির্দেশ তথ্য অধিদপ্তরের

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

· এ ধরনের যে-কোনো নির্দেশই শেষ পর্যন্ত বিফলে যাবে। তথ্য মন্ত্রণালয় বিবৃতি দেওয়ানোর মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রচার করতে চাইলে কোনোই লাভ হবে না; বরং ওটা নিয়ে হাসাহাসি হবে। মানুষ খারাপভাবে নেবে। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে জনগণকে এত বোকা বানানো সহজ নয়। জনসমর্থন পেতে হলে, জনগণের আস্থা ফিরে পেয়েছে বলতে হলে কাজ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। নিজের ঢোল নিজে পিটিয়ে অথবা কোনো নির্দেশের দ্বারা এটা কার্যকর করা যাবে না।

r তিন দেশ থেকে একদিনে এলো ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ

কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া এই তিন দেশ থেকে এক দিনেই ৩৪ জন প্রবাসীর মরদেহ এসে পৌঁছেছে দেশে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) পৃথক ফ্লাইটে এই ৩৪ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল।

ইত্তেফাক, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

· খুবই মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। বিশেষত যারা প্রবাসে থাকে তারা তো নিজের পরিবারের সুখের জন্য নিঃসঙ্গ জীবন বেছে নেয়। সেখানে যদি কারও শেষ দিন চলে আসে, শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে, এটি যেমন তার জন্য দুঃখের বিষয়, তেমনিভাবে তার পরিবারের জন্য অসহনীয় ও মর্মান্তিক এবং অনেকের ক্ষেত্রে চরম হতাশার।

কারণ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, অনেকেই বিদেশ যেতে সংসারের বহু সম্পদ খুইয়ে যান। স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে অনেকের যেতে হয়। আবার অনেকে এমন আছে, যাদের পুরো পরিবার নির্ভর করে একজন প্রবাসীর ওপর। সে প্রবাসীর যদি কম বয়সে বা বিদেশে চাকরিকালে ইন্তেকাল হয়ে যায়, সেটি শুধু শোকের পরিবেশ তৈরি করে না; সাথে সাথে তাদের আর্থিক পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। তাই এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে শুধুই তার লাশ পৌঁছে দেওয়া বা সামান্য কিছু এককালীন অর্থ দিয়েই ক্ষ্যান্ত না হয়ে এসব পরিবারকে জীবন ধারণ করার মতো খরচ দেওয়া দরকার।

r ইসলামী ব্যাংক দখলে এস আলমের শোডাউন

বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করেছেন তার অনুসারীরা। এতে ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কথিত কর্মীরাও অংশ নেন। এ সময় তারা বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পলাতক এস আলমের কাছে ব্যাংকটির মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়াসহ তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান।

গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই শোডাউন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশই চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। এ এলাকাতেই এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বাড়ি। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মতিঝিলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আশপাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ও তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়।

আমার দেশ, ২০ এপ্রিল ২০২৬

· এ ধরনের শোডাউন কঠোরভাবে দমন করা দরকার। এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বলেছেন, তারা সমঝোতা করবেন না, তারা ন্যায়ের পক্ষে থাকবেন সেটা এদেশের জনগণ বাস্তবে দেখতে চায়। এ ধরনের কোনো অপকর্ম ও অপতৎপরতাকে সরকার ছাড় দিলে শুধু যে দেশের অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক হবে তা নয়; বরং সরকারের যে ভূমিধস বিজয় এবং বিপুল জনপ্রিয়তা নির্বাচনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, তা দ্রুত নিম্নমুখী হতে সময় লাগবে না।

r গোপালগঞ্জে বিএনপির টিকিট পেতে আ. লীগ নেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। ঘোষিত হয়েছে নির্বাচনের দিনক্ষণ। এরই মধ্যে গোপালগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুরের বিএনপির মনোনয়ন চাওয়া বিতর্ক ও নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সুবর্ণা ঠাকুর ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে তার এ তৎপরতা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

যুগান্তর, ২০ এপ্রিল ২০২৬

· যে মহিলা নিজেই ঘোষণা দিয়েছে যে, ৫১ বছর ধরে সে আওয়ামী লীগের সেবা করেছে। সে নেত্রীকে এখন বিএনপি সংরক্ষিত মহিলা আসনের টিকিট দিল। বোঝা দরকার, ৫১ বছর সে যে দলের সেবা করেছে, এখনো সে দলেরই সেবা করবে। ছোট ছোট ভুল সিদ্ধান্তই একসময় বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।

r মতবিনিময় শেষে নোয়াব সভাপতি : ৩ মাসে একবার সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতি ৩ মাসে একবার পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানিয়েছেন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় হয়।

মানবজমিন, ২১ এপ্রিল ২০২৬

· নোয়াব যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বসল, প্রধানমন্ত্রী ও তার দপ্তরের তো যাচাই করা দরকার ছিল। বিগত ইউনুস সরকারের সময় ফ্যাসিবাদের তল্পিবাহক কিছু জায়গা চিহ্নিত হয়েছে। এ সরকারও হয়তো আরও কিছু জায়গা চিহ্নিত করবে। কিন্তু একটি জায়গা অধরাই থেকে গেছে। বিগত দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের সময় তাদের প্রধানতম দোসর, যারা তাদের অপকর্মগুলোকে ধামাচাপা দিয়ে মিথ্যা প্রশংসাবাণী প্রচারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তাদের বিষয়ে কি কোনো তদন্ত হয়েছে? সে মিডিয়াগুলো তো এখনো সচল। নোয়াবের মধ্যে কি ওই সকল সংবাদপ্রত্রের মালিকেরা নেই? যদিও বিগত দেড় বছরে তাদের কারও কারও মাথা নিচু ছিল, কিন্তু তারাও এখন বড় বড় কথা ছাড়ছে। এদেরকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং নোয়াবের ভেতর তারাও ঘাপটি মেরে বসে আছে! সেখানে কয়জন আছে দেশপ্রেমিক? কয়জন আছে দেশের জন্য, দেশের কল্যাণের জন্য, জনগণের পক্ষে লেখে, কাজ করে, মিডিয়া পরিচালনা করে? সরকার যদি এসব বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন না হয়, তাদেরকে চিহ্নিত না করে এভাবে ছেড়ে দেয়, তাহলে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য অন্য কারও দরকার হবে না।

r চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষ

‘একটি পা কেটে’ নেওয়ার অভিযোগ শাহজাহান চৌধুরীর, দোষারোপ না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে একটি ছাত্রসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে একজনের একটি পা কেটে নিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, নিউমার্কেটে গত ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশে যারা আক্রমণ করেছিল, তারাই আজকে সিটি কলেজে আক্রমণ করেছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘটনার তদন্ত না করে কাউকে দোষারোপ না করার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে উভয় পক্ষের কর্মীদের দেখা গেছে। ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে।

প্রথম আলো, ২১ এপ্রিল ২০২৬

· কেন দোষারোপ করবে না? ভালোকে ভালো, মন্দকে মন্দ বলতে হবে। সত্যিকারের সৎ ও নিষ্ঠাবান শাসক কারা? যারা নিজের আপনজন থেকে বিচার শুরু করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেবের কি মনে নেই, বেগম খালেদা জিয়া যখন র‌্যাব গঠন করেছেন, তখন তিনি বিএনপির নামে যারা গুন্ডাগিরি করত এবং যারা মাস্তান ধরনের ছিল, আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোক ছিল, তিনি তাদেরকে একে একে ধরেছেন। তাদেরকে মেরেছেন। সেভাবেই র‌্যাব প্রথম ধাপে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। যেটাকে পরে বিভিন্ন সরকার তাদের মতলবে বিশেষত ফ্যাসিবাদীরা নিজেদের মতলবে ব্যবহার করেছে। তো বিচার নিজেদের থেকে শুরু করতে হয়। সঠিক তদন্ত হোক। ছাত্রদল দায়ী হলে ছাত্রদলের অপকর্মের বোঝা বিএনপি বহন করবে কেন? তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনলে মানুষের কাছে সরকারের স্বচ্ছতা স্পষ্ট হবে। অন্য দুষ্ট লোকেরাও বিএনপির নামে, ছাত্রদলের নামে অন্যায় অপকর্ম করতে ভয় পাবে।

r স্ত্রী বিএনপির এমপি হলেও আমার অবস্থান বদলাবে না : জিল্লুর রহমান

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় স্ত্রী ফাহমিদা হকের নাম প্রকাশের পর শুরু হওয়া আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন টক শো উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। স্ত্রীর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি বলেন, স্ত্রীর কারণে পেশাগত কাজে তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না।

ইত্তেফাক, ২১ এপ্রিল ২০২৬

· অবস্থান না বদলালেও উনাদের কানেকশন যে সবদিকে থাকে, এটা তো বোঝাই যাচ্ছে।

r যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, মহিলারা যারা কালো বোরখা পরে এরা চিন্তা-চেতনার দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকে।

শাহাদাত হোসেন সেলিম

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের বিএনপির এমপি

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

· ছাগলে কী না খায়, ... কী না কয়!

যাদের নিজেদের নীতি-নৈতিকতা বলতে কিছু নেই, আজকে এই দলে যোগ দেয়, কালকে সেই দলে যোগ দেয়, আবার সেই দল বিলুপ্ত করে আরেক দলে মতলবে যোগ দেয় তারা নামায আর বোরকার মাহাত্ম্য বুঝবে কী করে?

 

প্রতিবেশী রাষ্ট্র

rভারতে উগ্রবাদী হিন্দু বনে যাওয়া সেই ব্লগার সানিউর রহমান গ্রেফতার

তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তির নাম সানিউর রহমান, ওরফে সত্যসাধু। তিনি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ২০১৬ সালে নেপাল হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং তখন থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে বসবাস করছিলেন। পরিচয় লুকাতে তিনি নাম বদলে ‘সত্যনিষ্ঠা আর্য’ রাখেন এবং একটি ভুয়া আধার কার্ড তৈরি করেন।

তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও দার্শনিক বক্তৃতা দিতেন। ঋষিকেশ ও লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং অনেকের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।

সম্প্রতি তিনি লক্ষ্মণ ঝুলার একটি আশ্রমে যান। সেখানে নিয়মিত পুলিশ চেকিংয়ের সময় তাকে সন্দেহজনক মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বেশ কিছু আপত্তিকর নথি উদ্ধার করা হয়।

সানিউর রহমান ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনে সক্রিয় একজন ব্লগার ছিলেন। তবে ২০১৬ সালের দিকে তিনি ভারতে পাড়ি জমান। সেখানে পরিচয় বদলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীতে পরিণত হন। গেল বছর বড়দিনের সময় তিনি স্থানীয় একটি চার্চে গিয়ে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে বাধা দিয়ে আলোচনায় আসেন।

যুগান্তর, ২০ এপ্রিল ২০২৬

· অসৎ মতলবী খোদাদ্রোহীদের অনেক সময়ই দেখা যায়, শেষ রক্ষা হয় না। আখেরাতের কঠিন শাস্তির আগেই ইহজগতেও তারা লাঞ্ছিত ও পর্যুদস্ত হয়। এই সংবাদের লোকটির ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।

 

আন্তর্জাতিক

r সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের নিন্দা বাংলাদেশসহ ১২টি দেশের

সোমালিয়ার স্বশাসিত অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ১২টি দেশ। গতকাল শনিবার দেশগুলো এ নিন্দা জানায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের (এফও) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি আরব, মিসর, সোমালিয়া, সুদান, লিবিয়া, বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ বিবৃতি দিয়েছেন।

গত বুধবার সোমালিয়ার স্বশাসিত অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মাইকেল লোটেমকে সোমালিল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

· পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ পদক্ষেপ সমর্থনযোগ্য। এটা দেশের জনগণের মনের কথা। খুবই স্পষ্ট বিষয়, সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলের এই বাড়তি আগ্রহ মুসলমানদের ক্ষতির জন্যই। একটি মুসলিম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার জন্যই তারা এটা করছে। সুতরাং বাংলাদেশের এ অবস্থান জনগণের চিন্তারই প্রতিধ্বনি।

r নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য দুঃখিত : রক্ষণশীল সাংবাদিক কার্লসন

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে জোরালো সমর্থন ও পরামর্শ দেওয়ায় এখন অনুশোচনায় ভুগছেন তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও রক্ষণশীল সাংবাদিক, ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের জেরে এমন মন্তব্য করেছেন কার্লসন।

২০২৪ সালে ট্রাম্প তখন দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরতে জোর প্রচার চালাচ্ছেন। ওই সময় প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে দেখা যেত টাকার কার্লসনকে। জোর সমর্থন জানাতেন, পরামর্শ দিতেন। এখন সেই সমর্থনের জন্য অনুশোচনায় ভুগছেন ফক্স নিউজের সাবেক এই ভাষ্যকার, উপস্থাপক, ইনফ্লুয়েন্সার।

টাকার কার্লসন বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ফেরানোর বিষয়ে সহায়তা করার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘যন্ত্রণায়’ ভুগবেন।

ইত্তেফাক, ২২ এপ্রিল ২০২৬

· কার্লসনের মতো লোকেরা দেরিতেই বোঝেন। ততক্ষণে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। তবে এখানে আরও একটি বিষয় আছে, কার্লসনদের থেকে কি এদেশের সাংবাদিকরা শিক্ষা নিতে পারে না? তারা কেউ কি শিক্ষা নিয়েছে? কার্লসনদের কাছে যখন স্পষ্ট হয়েছে, তারা ভুলের ওপর ছিল, তারা ভুল লোককে সমর্থন দিয়েছে, ভুল লোকের পক্ষে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে, তখন তারা সমর্থন উঠিয়ে নিয়েছে এবং ভুল স্বীকার করেছে। এই দেশে যুগ যুগ থেকে দশকের পর দশক সংবাদপত্রের মালিকরা এবং সাংবাদিকরা যে খারাপ লোকদের দোসর হয়ে কাজ করেছে, অন্যায় পক্ষপাতিত্ব করেছে, তারা কি জনগণের কাছে কার্লসনদের মতো মাফ চাইবে?

গ্রন্থনা : ওয়ালিউল্লাহ খান

 

advertisement