আনওয়ারুল কুরআন : প্রশ্নোত্তর
আনওয়ারুল কুরআন বিভাগের সর্বশেষ শিরোনাম প্রশ্নোত্তর। এর অধীনে প্রত্যেক সংখ্যায় ইনশাআল্লাহ তিন থেকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে। সংক্ষেপের জন্য প্রশ্নকারীর নাম-পরিচয় অনুল্লেখ থাকবে।
প্রশ্ন ১২০ : হুজুর, আমি এই বিভাগের প্রশ্নোত্তর থেকে জানতে পেরেছি, ইলমুল কিরাআতের একজন ইমাম ছিলেন শাতেবী রাহ.। আমার প্রশ্ন হল, তার নাম কি আবু ইসহাক শাতেবী?
উত্তর : না, আবু ইসহাক শাতেবী রাহ. ও ইলমুল কিরাআতের ইমাম শাতেবী রাহ. দুইজন ভিন্ন ভিন্ন মানুষ। ইলমুল কিরাআতের ইমাম শাতেবী রাহ.-এর পূর্ণ নাম– আবু মুহাম্মাদ আলকাসেম বা আবুল কাসেম আশশাতেবী। জন্ম : ৫৩৮ হিজরী। ইন্তেকাল : ৫৯০ হিজরী। তিনি তৎকালীন আন্দালুসের শাতেবায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে তিনি মিশরে বসবাস করেছেন। তিনি ইলমুল কিরাআতের একজন ইমাম হিসেবে জগদ্বিখ্যাত। এছাড়া আরও একাধিক শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন।
ইলমুল কিরাআতের ব্যাপারে তার রচিত ছন্দবদ্ধ পুস্তিকা–
حرز الأماني ووجه التهاني في القراءات السبع .
–যা ‘মানযূমাতুশ শাতিবী’ ও শুধু ‘শাতিবিয়্যাহ’ নামে বেশি প্রসিদ্ধ, এটি কেরাত শাস্ত্রের একটি নির্ভরযোগ্য উৎসগ্রন্থ হিসেবে শত শত বছর ধরে পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত। এছাড়া ইলমুল কিরাআত ও রসমুল খত নিয়ে তার আরও একাধিক কিতাব রয়েছে।
আর আবু ইসহাক শাতেবী রাহ.-এর পূর্ণ নাম– আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে মূসা আশশাতেবী। তিনি ছিলেন মালেকী মাযহাবের একজন ইমাম ও ফকীহ। এছাড়াও তিনি ইলমুল উসূল ও ইলমুল আকায়েদসহ একাধিক শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব হল–
الاعتصام
الموافقات في أصول الشريعة
–ইত্যাদি।
আবু ইসহাক শাতেবী রাহ.-এর জন্ম ৭২০ হিজরী মোতাবেক ১৩২০ ঈসাব্দে। ইন্তেকাল ৭৯০ হিজরী মোতাবেক ১৩৮৮ ঈসাব্দে। আন্দালুসের শাতেবা অঞ্চলেই তাঁর জন্ম ও মৃত্যু।
সুতরাং উভয়ের মধ্যে ইলমুল কিরাআতের ইমাম শাতেবী রাহ. আগের। অর্থাৎ তিনি ষষ্ঠ হিজরীর মানুষ। আর আবু ইসহাক শাতেবী রাহ. পরের, তিনি অষ্টম হিজরীর মানুষ।
প্রশ্ন ১২১ : হুজুর, আমি উসলূবুল কুরআনের এক কিতাবে পড়েছি, আরবী ভাষায় واحد -এর জায়গায় تثنية -এর সীগার ব্যবহার ও প্রচলন আছে। অর্থাৎ একজনকে খেতাব করে দ্বিবচনের ফেয়েলও ব্যবহার করা হয়। কুরআন কারীমেও এরকম ব্যবহার রয়েছে। যেমন, সূরা ক্বফ-এর–
اَلْقِیَا فِیْ جَهَنَّمَ كُلَّ كَفَّارٍ عَنِیْدٍ .
–এ আয়াতে একজনকে খেতাব করে تثنية -এর সীগা ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি আমার ঠিক বুঝে আসছে না।
উত্তর : আরবী ভাষায় এরকম প্রচলন আছে যে, কখনো কখনো একজনকে সম্বোধন করে দ্বিবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয়। এটাকে বলে– خطاب الواحد بصيغة التثنية। এটা অনেক কারণেই করা হয়ে থাকে। কখনো এ কারণেও করা হয় যে, সম্বোধন সরাসরি একজনকে করা হয়, কিন্তু কথার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকে একাধিকজন, তাই দ্বিবচন বা বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয়। এরকম ব্যবহার শুধু আরবী ভাষায়ই নয়, অনেক ভাষায়ই আছে।
তবে উল্লেখিত আয়াতটি خطاب الواحد بصيغة التثنية –এই উসলূবের উপযুক্ত উদাহরণ নয়। কারণ অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এখানে দুইজনকেই খেতাব করা হয়েছে। এ আয়াতের পূর্বোক্ত আয়াতসমূহে যে দুই ফেরেশতার কথা বলা হয়েছে, তাদের উভয়কেই এখানে সম্বোধন করা হয়েছে।
তাছাড়া মাযিনী রাহ. ও মুবাররিদ রাহ. বলেন, আরবী ভাষায় এরকম ব্যবহার আছে যে, কখনো কখনো কোনো فعل দুইবার উল্লেখ করা বোঝাতে তার فاعل -এর মধ্যে تثنية -এর সীগা ব্যবহার করা হয়। উদাহরণত, قم قم (দাঁড়াও দাঁড়াও!) বোঝাতে قما ব্যবহার করা হয়। অনুরূপ এই আয়াতেও ألق ألق বোঝাতে اَلْقِیَا শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। (দ্রষ্টব্য : উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর; মাআনিল কুরআন, যাজ্জাজ; ইরাবুল কুরআন, নাহহাস; তাফসীরে কাশ্শাফ; তাফসীরে ইবনে কাসীর)
প্রশ্ন ১২২ : আমি মাসিক আলকাউসারে প্রকাশিত সামীন হালাবী রাহ.-এর ‘উমদাতুল হুফফায’ কিতাব নিয়ে লেখা রচনাটি পড়ে খুবই উপকৃত হয়েছি। এখন জানতে চাচ্ছি, সামীন হালাবী রাহ.-এর উলূমুল কুরআন ও তাফসীর বিষয়ক আর কী কী কিতাব রয়েছে?
উত্তর : উলূমুল কুরআন বিষয়ে সামীন হালাবী রাহ.-এর আরও দুয়েকটি কিতাব রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য একটি কিতাব–
الدر المصون في علوم الكتاب المكنون.
কিতাবটির ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, এ কিতাবে তিনি কুরআন কারীম সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করবেন। যথা– ইলমুল ই‘রাব, ইলমুস সরফ, ইলমুল লুগাহ, ইলমুল মাআনী ও ইলমুল বায়ান।
সুতরাং সেই হিসেবে তিনি এ কিতাবে পুরো কুরআন কারীমের ইরাব, সরফ ও বালাগাত ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া কিতাবটিতে ইলমুল কিরাআত নিয়েও অনেক আলোচনা রয়েছে। আর মুফরাদাত ও গরীবুল কুরআনও অনেক জায়গায় উল্লেখ করেছেন। এ কারণে তার উমদাতুল হুফ্ফায কিতাবের বহু আলোচনা এ কিতাবেও উল্লেখিত হয়েছে।
কিতাবটি দারুল কলম ও দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহসহ একাধিক মাকতাবা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।