নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে
‖ তালিবুল ইলম ভাইদের প্রতি কিছু নিবেদন
আল্লাহ তাআলার মেহেরবানীতে আমরা আরেকটি নতুন শিক্ষাবর্ষে উপনীত হয়েছি। আলহামদু লিল্লাহ। তালিবুল ইলমদের জন্য শিক্ষাবর্ষের শুরুর গুরুত্ব অনেক। এই সময়ে সবার মধ্যে নতুন উদ্যম ও উদ্দীপনা বিরাজ করে। এই উদ্যমকে কাজে লাগানো উচিত। অবহেলা ও উদাসীনতায় এই সময়গুলো নষ্ট করা অত্যন্ত দুঃখজনক। নতুন শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে তালিবুল ইলম ভাইদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া মুনাসিব মনে হচ্ছে।
এক. নিয়ত সহীহ করা
ইলম তলব করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। তাই তা আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য নিয়ত সহীহ করা জরুরি। হাদীস শরীফে মন্দ নিয়তে বা নিছক দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে ইলম অর্জনের ব্যাপারে কঠিন সতর্কবাণী এসেছে। সেসব হাদীস আমরা সবাই পড়েছি।
ইলম তলবের উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত ইমাম বদরুদ্দীন ইবনে জামাআহ রাহ.-এর ভাষায় তা নিম্নরূপ–
حسن النية في طلب العلم، بأن يقصد به وجه الله تعالى، والعمل به، وإحياء الشريعة، وتنوير قلبه وتحلية باطنه، والقرب من الله تعالى يوم القيامة، والتعرض لما أعد لأهله من رضوانه وعظيم فضله.
قال سفيان الثوري: ما عالجت شيئاً أشد عليّ من نيتي.
ولا يقصد به الأغراض الدنيوية من تحصيل الرياسة والجاه والمال، ومباهاة الأقران، وتعظيم الناس له، وتصديره في المجالس ونحو ذلك، فيستبدل الأدنى بالذي هو خير.
ইলম তলবের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ, ইলম অনুযায়ী আমল করা, শরীয়তকে পুনরুজ্জীবিত করা, নিজের কলবকে আলোকিত করা, অন্তর্জগৎকে (উত্তম চরিত্র ও কল্যাণকর বিষয়াদি দ্বারা) সজ্জিত করা, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ এবং আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য যা প্রস্তুত করেছেন, অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অপার অনুগ্রহ ইত্যাদি হাসিলের নিয়ত করা।
সুফিয়ান সাওরী রাহ. বলেন, ‘আমি আমার নিয়ত সহীহ করার চেয়ে কঠিন কোনো কিছুর মোকাবেলা করিনি।’
আর ইলম তলবের ক্ষেত্রে দুনিয়াবী কোনো উদ্দেশ্য রাখবে না। যেমন, নেতৃত্ব, প্রতিপত্তি ও সম্পদ লাভ, সমবয়সীদের সাথে গর্ব করা, সম্মান লাভ, মজলিসের মধ্যমণি হওয়ার আকাক্সক্ষা ইত্যাদি। এমন উদ্দেশ্যে ইলম তলব করলে, তা হবে শ্রেষ্ঠ জিনিসের পরিবর্তে তুচ্ছ জিনিস গ্রহণের নামান্তর। –তাযকিরাতুস সামি‘ ওয়াল মুতাকাল্লিম, পৃ. ১০৮
অতএব একজন তালিবুল ইলমের প্রথম করণীয়– নিয়ত সহীহ করা এবং নিজের মধ্যে ইখলাস পয়দা করা। সেইসঙ্গে নিয়মিত নিয়তের নবায়ন করা।
হযরত মাওলানা আবদুর রশীদ নুমানী রাহ. বলতেন, ‘প্রতিদিন সকালে যখন কাজ শুরু করবে, তখন নতুন করে নিয়ত বিশুদ্ধ করে নেবে।’
দুই. আখলাক দুরস্ত করা ও আদব শেখা
তালিবুল ইলমদের অবশ্যই উত্তম আখলাকের অধিকারী হতে হবে। মন্দ চরিত্র থেকে অন্তরকে পবিত্র করতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ, ধোঁকা-প্রতারণা, লোভ ও অহংকার থেকে মুক্ত হতে হবে। অন্তর পবিত্র না হলে তা ইলমের জন্য উপযুক্ত হয় না এবং ইলমে বরকত হয় না। সাহল তুসতারী রাহ. বলেন–
حرام على قلب أن يدخله النور، وفيه شيء مما يكره الله عز وجل.
অর্থাৎ যে অন্তরে আল্লাহ তাআলার অপছন্দনীয় কিছু রয়েছে, সেই অন্তরে নূর প্রবেশ করতে পারে না। –প্রাগুক্ত
তালিবুল ইলমদের উত্তম আখলাকের অধিকারী হওয়া একারণেও জরুরি যে, সাধারণ মানুষ তাদের অনুসরণ করে এবং তাদের থেকে শেখে। তারা যদি আখলাকের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে?
হাদীস শরীফে এসেছে, জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন–
مثل العالم الذي يعلّم الناس الخير وينسى نفسه، كمثل السراج يضيء للناس ويحرق نفسه.
)قال الهيثمي في مجمع الزوائد: رواه الطبراني في الكبير، ورجاله موثقون(.
যে আলেম মানুষকে ভালো কিছু শেখায়, কিন্তু নিজেকে ভুলে যায়, তার উদাহরণ হল প্রদীপের মতো, যা মানুষকে আলো দেয় আর নিজেকে পুড়িয়ে ফেলে। –আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ১৬৮১; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ৮৮২
আরেকটি বিষয়ে অনেকের মাঝে বেশ অবহেলা দেখা যায়, তা হল আদব। তালিবুল ইলমদেরকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামী আদাব বজায় রাখতে হবে। সালাফে সালেহীন আদব শেখাকে ইলম শেখার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহ. বলেন–
طلبت الأدب ثلاثين سنة، وطلبت العلم عشرين سنة، كانوا يطلبون الأدب ثم العلم.
আমি আদব শিখেছি ত্রিশ বছর আর ইলম শিখেছি বিশ বছর। পূর্বসূরিগণ প্রথমে আদব শিখতেন তারপর ইলম শিখতেন। –গায়াতুন নিহায়াহ ফী তাবাকাতিল কুররা, ইবনুল জাযারী ১/৪৪৬
ইমাম মালেক রাহ. বলেন–
كانت أمي تلبسني الثياب وتعممني وأنا صبي، وتوجهني إلى ربيعة بن أبي عبد الرحمن، وتقول: يا بني، ائت مجلس ربيعة، فتعلم من سمته وأدبه قبل أن تتعلم من حديثه وفقهه.
আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার মা আমাকে জামা-পাগড়ি পরিয়ে রবীআ ইবনে আবদুর রহমানের কাছে পাঠাতেন আর বলতেন, বাবা! রবীআর মজলিসে যাও এবং তার কাছ থেকে হাদীস ও ফিকহ শেখার আগে আদব ও জীবনাচার শেখো। –আততামহীদ ৩/৪
ইমাম মালেক রাহ.-এর ছাত্র আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহ্ব রাহ. বলেন–
الذي تعلمنا من أدب مالك، أكثر مما تعلمنا من علمه.
আমরা মালেকের কাছ থেকে যতটা ইলম শিখেছি, তার চেয়ে বেশি আদব শিখেছি। –তারতীবুল মাদারিক ১/১২৭
ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন–
وأدب المرء عنوان سعادته وفلاحه. وقلة أدبه عنوان شقاوته وبواره. فما استجلب خير الدنيا والآخرة بمثل الأدب، ولا استجلب حرمانهما بمثل قلة الأدب.
ব্যক্তির আদব হল সৌভাগ্য ও সফলতার নিদর্শন। আর আদবের অভাব দুর্ভাগ্য ও ধ্বংসের আলামত। আদবের দ্বারা দুনিয়া-আখেরাতের যত কল্যাণ লাভ হয়, তা অন্য কিছু দ্বারা হয় না। আর আদবের অভাবে দুনিয়া-আখেরাতের যত বঞ্চনা জোটে, তা অন্য কিছুর দ্বারা জোটে না। –মাদারিজুস সালিকীন ২/৩৬৮
তালিবুল ইলম ভাইদের প্রতি দরখাস্ত এই যে, তারা তাদের কথাবার্তা ও আচার-আচরণে ইসলামী আদাবের অনুশীলন করবেন। ইসলামী আদাব সম্পর্কে জানতে মুতালাআ করুন ‘আদাবুল মুআশারাত’ এবং ‘মিন আদাবিল ইসলাম’।
এছাড়া ইতিপূর্বে আদব বিষয়ে মাসিক আলকাউসারের এই বিভাগে একাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। দেখুন আলকাউসারের নিম্নোক্ত সংখ্যাগুলো :
মুহাররম ১৪৩৩ হি. (কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদব : তলাবায়ে কেরাম লক্ষ্য করুন); রবিউল আখির ১৪৩৫ হি. (ইলমের সাথে ইলমের আদব শেখাও অপরিহার্য); যিলকদ ১৪৩৫ হি. (উস্তাযদের কাছ থেকে আদব ও আফকার শিখব); জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৩ হি. (কিছু আদব)।
তিন. নিযামুল আওকাত মেনে চলা এবং সময়ের কাজ সময়ে করা
প্রত্যেক তালিবুল ইলমের একটা নিযামুল আওকাত থাকা জরুরি। অর্থাৎ প্রত্যেক কাজের সময় নির্ধারিত থাকা। যার কোনো নিযামুল আওকাত নেই, তার সময় হিসাব ছাড়া নষ্ট হতে থাকে। যার ক্ষতি অপরিসীম। নিযামুল আওকাতের দ্বারা সময়ের পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং প্রত্যেক কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা সহজ হয়। এটি খুবই জরুরি। তা না হলে কাজ জমতে থাকে এবং একসময় অধিক কাজের চাপ হতাশা সৃষ্টি করে এবং মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। উমর রা. এ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
হাসান বসরী রাহ. বলেন–
كتب عمر إلى أبي موسى: أما بعد، فإن القوة في العمل أن لا تؤخر عمل اليوم لغد، فإنكم إذا فعلتم ذلك تداركت عليكم الأعمال، فلم تدروا بأيها تأخذون، فأضعتم.
উমর রা. আবু মূসা আশআরী রা.-কে এ মর্মে পত্র লিখলেন– কাজের শক্তিই হল, তুমি আজকের কাজ কাল পর্যন্ত বিলম্ব করবে না। এমনটা করলে ক্রমান্বয়ে কাজের চাপ বাড়তে থাকবে। তখন কী রেখে কী করবে বুঝতে পারবে না। ফলে সবই বরবাদ হবে। –কিতাবুল আমওয়াল, আবু উবাইদ, বর্ণনা ১০
তাই তালিবুল ইলমকে গড়িমসি করা এবং ‘পরে করব’ বলার প্রবণতা থেকে মুক্ত হতে হবে। এই প্রবণতা মানুষকে ব্যর্থ করে দেয়। ইবনুল জাওযী রাহ. বলেন–
وقد روينا أن أكبر جنود إبليس: سوف.
অর্থাৎ পূর্ববর্তীগণ বলেছেন, ইবলিসের সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র হল ‘পরে করব’ বলার প্রবণতা। –হিফযুল উমার, পৃ. ৫৮
প্রত্যেক তালিবুল ইলমের উচিত, তার সময় কোন্ কাজে নষ্ট হয়, তা খুঁজে বের করা এবং সেসব কাজ থেকে সতর্ক হওয়া। সময় নষ্ট হওয়ার একটি কারণ হল, কারও সঙ্গে বন্ধুত্বের নামে অতিরিক্ত সম্পর্ক করা। ইবনে জামাআহ রাহ. বলেন–
والذي ينبغي لطالب العلم أن لا يخالط إلا من يفيده أو يستفيد منه... فإن شرع أو تعرض لصحبة من يضيع عمره معه، ولا يفيده ولا يستفيد منه، ولا يعينه على ما هو بصدده: فليتلطف في قطع عشرته في أول الأمر قبل تمكنها؛ فإن الأمور إذا تمكنت عسرت إزالتها.
তালিবুল ইলমদের এমন কারও সঙ্গে মেশা উচিত নয়, যে তার উপকার করে না বা তার দ্বারা উপকৃত হয় না। ...যদি এমন কারও সঙ্গে সম্পর্ক হয়ে যায়, যার দ্বারা তার সময় নষ্ট হয় এবং যে ইলমের পথে সহায়ক হয় না, তাহলে সম্পর্ক গভীর হওয়ার আগেই কৌশলে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। –তাযকিরাতুস সামি‘ ওয়াল মুতাকাল্লিম, পৃ. ১১৮-১১৯
সালাফে সালেহীন অপ্রয়োজনীয় কাজ তো করতেনই না; প্রয়োজনীয় কাজগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করতেন। দাউদ তাঈ রাহ. দ্রুত খাওয়ার জন্য ছাতু পান করতেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, আপনার কি রুটি খেতে মন চায় না?
তিনি বললেন–
بين مضغ الخبز وشرب الفتيت قراءة خمسين آية.
রুটি চিবানোর পরিবর্তে ছাতু পান করলে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াতের সময় বাঁচে। –ফাযাইলু আবী হানীফা, ইবনু আবিল আউওয়াম, বর্ণনা ৫৩৬
চার. নিয়মিত মুহাসাবা করা
নিয়মিত নিজের হিসাব নেওয়া ইলমী জীবনে তারাক্কীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বরং দুনিয়া-আখেরাতের যে-কোনো উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য মুহাসাবা জরুরি। সালাফে সালেহীন মুহাসাবা করতেন এবং মুহাসাবার প্রতি জোর দিতেন।
উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি খুতবায় বলেন–
حاسبوا أنفسكم قبل أن تحاسبوا، وزنوا أنفسكم قبل أن توزنوا.
অর্থাৎ (আখেরাতে) তোমাদের হিসাব-কিতাবের আগে (দুনিয়ায়) নিজেরাই নিজেদের হিসাব নাও। তোমাদের আমল ওজন করার পূর্বে নিজেরাই ওজন কর। –মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৩৫৬০০
ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম রাহ. বলেন–
أجمع العلماء على وجوب محاسبة النفوس، في ما سلف في الأعمال، وفيما يستقبل منها؛ فالكيس من دان نفسه وعمل لما بعد الموت، والعاجز من أتبع نفسه هواها وتمنى على الله سبحانه وتعالى... والأولى به أن يحاسب نفسه من ليل إلى ليل، فما رآه من تقصير في يومه ذلك، فليتداركه بالتوبة والاستغفار، وكذلك كان يصنع أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله تعالى عنه.
অর্থাৎ উলামায়ে কেরাম একমত যে, অতীতের ও ভবিষ্যতের আমলসমূহের মুহাসাবা করা ওয়াজিব। কেননা প্রকৃত বুদ্ধিমান সে-ই, যে নিজের মুহাসাবা করে এবং মৃত্যুপরবর্তী জীবনের কল্যাণে কাজ করে। আর ওই ব্যক্তি ব্যর্থ, যে নিজেকে প্রবৃত্তির অনুগামী বানায় এবং আল্লাহ তাআলার কাছে অলীক আশা করে বসে থাকে।
উত্তম হল, (প্রতি রাতে) এক রাত থেকে আরেক রাত পর্যন্ত সময়ের মুহাসাবা করা। কোনো ত্রুটি থাকলে তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণ করা। আমীরুল মুমিনীন উমর রা. এমনটিই করতেন। –মাকাসিদুর রিআয়াহ, পৃ. ১৮
ইবনে আরাবী রাহ. বলেন–
كان أشياخنا يحاسبون أنفسهم على ما يتكلمون به وما يفعلونه، ويقيدونه في دفتر، فإذا كان بعد العشاء حاسبوا نفوسهم وأحضروا دفترهم، ونظروا فيما صدر منهم من قول وعمل، وقابلوا كلا بما يستحقه، إن استحق استغفارا استغفروا، أو التوبة تابوا، أو شكرا شكروا، ثم ينامون.
আমাদের পূর্বসূরিগণ তাদের কথা ও কাজের মুহাসাবা করতেন এবং সেগুলো খাতায় লিখতেন। এশার পর নিজেদের মুহাসাবা নিতেন এবং খাতা উপস্থিত করতেন। সারাদিনের কথা ও কাজের প্রতি নজর বুলাতেন এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতেন। যদি ইস্তিগফার করার মতো কোনো কাজ হত, তাহলে ইস্তিগফার করতেন। যদি তওবা করার মতো কোনো কাজ হত, তওবা করতেন। যদি শোকর আদায় করার মতো কোনো কাজ হত, শোকর করতেন। এরপর ঘুমাতেন। –ফয়যুল কদীর ৫/৬৭
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অলসতা ও উদাসীনতা থেকে হেফাযত করুন এবং জিদ্দিয়্যাত ও নাশাতের সাথে কাজ করার তাওফীক দান করুন– আমীন।