মডার্নিজম
‖ আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলন : পাঁচ দিনের স্মৃতিকথা
[যিলকদ ১৩৮৭ হিজরী মোতাবেক ১৯৬৮ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ‘বৈশ্বিক নতুন বাস্তবতায় ইসলামের প্রতিনিধিত্ব’ কেন্দ্রিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ট্রেডিশনাল ও মডার্নিস্ট উভয় ভাবধারা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রবন্ধ ও বক্তব্য উপস্থাপনের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
ট্রেডিশন ও তুরাছ-বিরোধীগণ যেসব বক্তব্য রাখেন, স্বভাবতই তাতে কুরআন-সুন্নাহর মূল সুরকে বিকৃত করে দ্বীন ও শরীয়তকে ‘যুগচাহিদা’র অনুগামী করার স্পষ্ট প্রবণতা ছিল।
নিছক মানবজ্ঞান ও নিরেট যুক্তিকে বিচার-বিশ্লেষণের মানদণ্ড স্থির করা, কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানাবলিকেও ‘যুক্তিনির্ভর’ গবেষণার আওতাধীন করা, ‘পশ্চিমা জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করা মুসলিমদের পতনের কারণ নয়’, ‘প্রচলিত ফিকহকে যুগের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে সংকলন করা চাই’, ‘কুরআনের তাফসীর করার জন্য আলেম হওয়ার শর্তারোপ করা মানে ধর্মের ওপর আলেমদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা’– মডার্নিজমের এই উম্মাহবিচ্ছিন্ন চিন্তা ও দাবিগুলো সম্মেলনে মডার্নিস্টদের প্রদত্ত বক্তব্য ও লেখায় আসে।
সম্মেলনে উপস্থিত প্রাজ্ঞ আলেমগণ উপরিউক্ত বিষয়গুলোতে প্রকৃত বাস্তবতা পরিষ্কার করে যথোচিত বক্তব্য রাখেন। তাঁদের মাঝে ছিলেন হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ., হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানূরী রাহ. এবং মুফতী মাহমূদ রাহ.। ইরানের ড. হোসেইন নাসর বলেন–
‘অনেকেই পাশ্চাত্যের জনপ্রিয় মতবাদগুলো হুবহু গ্রহণ করে তার সঙ্গে শুধু ‘ইসলামী’ শব্দটি জুড়ে দেন। ‘ইসলামী গণতন্ত্র’, ‘ইসলামী সমাজতন্ত্র’ ও ‘ইসলামী যুক্তিবাদ’– এসব পরিভাষা এভাবেই তৈরি হয়েছে। বর্তমান সময়ে ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই খতরনাক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এটি ইসলামের সঙ্গে ‘নাদান দোস্তি’ ছাড়া কিছু নয়।’
সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৪ বছর আগে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকেও বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত হন।
চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের স্মৃতিকথা লিখেছিলেন শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহ। আলকাউসারের পাঠকদের জন্য এর অনুবাদ পেশ করা হচ্ছে।
সাবলীল ভাষায় লেখা সুখপাঠ্য এই স্মৃতিকথা থেকে মডার্নিজমের নানা ক্ষতিকর দিক স্পষ্ট হয়। স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশে মডার্নিজমের হালচাল সামনে আসে।
সম্মেলনের বাস্তব সংলাপের ভেতর দিয়ে দেখা যায়– কীভাবে বাহ্যিক দৃষ্টিতে ‘চমকদার’ মডার্ন চিন্তাধারা ইসলামের অকাট্য ও অপরিবর্তনীয় নীতিমালার সাথে সংঘাত তৈরি করে। এই মডার্নিস্টদের বুদ্ধিবৃত্তিক সংকট ও চিন্তার অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তোলে। সর্বোপরি সম্মেলনে সংযত, শান্ত, সতর্ক, শালীন ও যুক্তিনিষ্ঠ ভাষায় বিপরীত মতের পর্যালোচনা ও তার ওপর মন্তব্য করার নমুনা হাজির হয়।
আফসোস! স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি পার হওয়ার পরও আমাদের দেশের ‘এনলাইটেন্ড’ বুদ্ধিজীবীগণ এত বছরের পুরনো ‘কাসুন্দি’ পুঁজি করে চলেন এবং নতুন মোড়কে প্রচার করেন! –অনুবাদক]
৯ যিলকদ ১৩৮৭ হিজরী
রমযানুল মোবারকের কাছাকাছি সময় থেকেই শোনা যাচ্ছিল– ফেব্রুয়ারি মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে মুসলিমবিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের কর্মসূচি ও আলোচ্য বিষয়গুলো বেশ আকর্ষণীয়। এতে এমন কিছু সমস্যা নিয়ে চিন্তা-ভাবনার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেগুলো পুরো মুসলিম বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার টেবিলে ছিল। এটি এর উপকারী দিক।
তবে সম্মেলনটি আয়োজন করছে ‘এদারায়ে তাহকীকাতে ইসলামী’। এই প্রতিষ্ঠানটির পূর্ববর্তী কার্যক্রম জনগণের মনে তীব্র অনাস্থা সৃষ্টি করেছে। তাই জনমনে প্রবলভাবে এই আশঙ্কাটিও জেগে উঠছে–
ساقی نے کچھ ملا نہ دیا ہو شراب میں
‘সাকি শরাবের মাঝে কিছু মিশিয়ে দেয় নি তো!’
সম্মেলনটি ১০ ফেব্রুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শুরু হবে এবং চার দিন চলবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উন্মুক্ত অধিবেশন থাকবে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ পাঠ করা হবে। আর বিকেল ২টা থেকে নির্ধারিত কমিটিগুলোর বৈঠক হবে, যেখানে পারিবারিক আইন, ব্যাংকিং এবং মৌলিক মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনা হবে।
আমি যখন গতকাল সন্ধ্যায় রাওয়ালপিন্ডি পৌঁছলাম, ততক্ষণে টানা বৃষ্টির কারণে নতুন রাজধানীটি যেন বরফের দেশে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনটি ছিল শহরের শিক্ষিত মহলের আলোচনার বিষয়। মনে হচ্ছিল পুরো শহর অধীর অপেক্ষায় আছে।
* * *
গত রাতটা কেটেছে করাচীর মনোরম আবহাওয়ার কথা মনে করে। আজ ভোরেই সম্মেলনের অনেক প্রতিনিধি রাওয়ালপিন্ডি পৌঁছার কথা। তাঁদের মধ্যে আমার বহু শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ও অনেক বন্ধু ছিলেন। তাই সকালে আমরা চক লালা এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেলাম। ঠিক পৌনে নয়টার সময় পিআইএ (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স)-এর বিমান অবতরণ করল।
বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে মুফতীয়ে আযম ফিলিস্তিন হাজী মুহাম্মাদ আমীন আলহুসাইনী, মুফতী জিয়াউদ্দিন বাবাখানভ, শায়েখ আহমাদ কুফতারো, কামাল তারযী, ড. যাকী ওয়ালীদী তোগান, ড. উমর ফররুখ প্রমুখের সঙ্গে ভিআইপি কক্ষে সাক্ষাৎ হল। পাকিস্তানের আলেমদের মধ্য থেকে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানূরী এবং মাওলানা আবদুল হামিদ বাদায়ূনী –মুদ্দা যিল্লুহুম– প্রমুখও একই বিমানে আগমন করেছিলেন।
তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে দারুল উলূম তালীমুল কুরআন রাওয়ালপিন্ডির দায়িত্বশীল মাওলানা গোলামুল্লাহ খান এয়ারপোর্টে উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা বানূরী ছাহেব তাঁর মাদরাসায় জুমা পড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন। তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে মুফতীয়ে আযম ফিলিস্তিনও সেখানে জুমার নামায আদায়ে সম্মত হলেন।
‘জাতীয়তাবাদ ও ভূখণ্ডভিত্তিক বিভাজনবাদকে স্থান দেবেন না’
দুপুরের খাবারের পর আমি মুফতীয়ে আযম ফিলিস্তিনের সঙ্গে মাদরাসা তালীমুল কুরআনের জামে মসজিদে পৌঁছলাম। সেখানে হযরত মাওলানা বানূরী ছাহেব বক্তব্য দিচ্ছিলেন। আমি হোটেল থেকে তিউনিস প্রতিনিধি কামাল তারযীকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। জুমার নামাযের পর তিনি আবেগময় ভাষণ দিলেন এবং বাইতুল মাকদিসের মর্মান্তিক ঘটনার কারণগুলো স্মরণ করিয়ে আমাদের অশ্রুসজল করে তুললেন। এরপর মুফতী সাহেব দুআ করলেন।
মাওলানা গোলামুল্লাহ খান সাহেব সবাইকে মেহমানখানায় নিয়ে গেলেন। সেখানে নানা অঞ্চলের বহু আলেম উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতার পূর্বঘোষিত কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। কিন্তু তাঁদেরকে দেখে মুফতী সাহেব স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু বলার জন্য আগ্রহী হলেন। তিনি বললেন–
‘মুসলিমদের পতনের সূচনা হয়েছে খেলাফতে উসমানিয়া পতনের মধ্য দিয়ে। ইসলামের শত্রুরা এই ধুরন্ধর আঘাতের মাধ্যমে মুসলিম ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। ফলে তারা শত্রুদের সহজ লোকমায় পরিণত হয়েছে।
খেলাফত পতনের পর পাকিস্তান এমন একটি ইসলামী রাষ্ট্র, যা খাঁটি ইসলামের নামেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টি তার দিকেই নিবদ্ধ। ইসলামের শত্রুরা এটি মোটেই সহ্য করতে পারে না। তারা সর্বদা চেষ্টা করছে, যেন কোনোভাবে পাকিস্তানে জাতিগত ও অঞ্চলভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতার আগুন উসকে দিয়ে এই দেশের আদর্শিক ঐক্য ভেঙে দেওয়া যায়।
আপনাদের প্রতি আমার শেষ উপদেশ– কোনো অবস্থাতেই এই প্রতারণা ও ধূর্ত পরিকল্পনার ফাঁদে পা দেবেন না। জাতীয়তাবাদ ও ভূখণ্ডভিত্তিক বিভাজনবাদকে স্থান দেবেন না।’
দ্বীনী মাদরাসাগুলোর ভূমিকা
এরপর তিনি উপমহাদেশের দ্বীনি মাদরাসাগুলোর উচ্চ প্রশংসা করে বলেন–
‘এই সাদাসিধা অথচ মর্যাদাবান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইংরেজ ঔপনিবেশিকতার অন্ধকার যুগে দ্বীনের পিদিম জ্বালিয়ে রাখার যে মহান সেবা করেছে, তা কখনো ভোলার নয়। আমি এসব বিদ্যাপীঠকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি এবং এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি– ইসলামের শত্রুরা আজ দ্বীনের বিরুদ্ধে যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন (Cultural War) চালিয়ে যাচ্ছে, এই মাদরাসাগুলো সে যুদ্ধে দ্বীনের মজবুত দুর্গ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তাই সবদিক থেকে এগুলোকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।’
আসর পর্যন্ত মুফতী সাহেব এই বিষয়ে কথা বললেন। আসরের পর আমরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফিরে দেখি, সম্মেলনের অনেক প্রতিনিধি পৌঁছে গেছেন। নিচতলায় দুটি কক্ষ নামাযের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আমি মাগরিবের সময় নিচে নেমে দেখলাম, হোটেলের লাউঞ্জ অতিথিতে পরিপূর্ণ।
নামাযের পর হযরত মাওলানা শামসুল হক আফগানী এবং হযরত মাওলানা মুফতী মাহমুদ সাহেব মুদ্দা যিল্লুহুমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হল। এই দুইজনও সন্ধ্যার বিমানে এখানে এসেছেন। সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র থেকে মাজমাউল বুহূসিল ইসলামিয়ার চেয়ারম্যান ড. মাহমুদ ফাতহুল্লাহ এবং জামিয়া আযহারের পরিচালক জনাব আহমাদ হাসান বাকুরী সাহেবও এসে গিয়েছিলেন। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ চলতে থাকে।
১০ যিলকদ ১৩৮৭ হিজরী
আজ সকালে পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী প্রতিনিধিদের টেক্সিলা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শহরে আমার কিছু কাজ থাকায় আমি টেক্সিলার বদলে সেখানে চলে গেলাম। বিকাল দুইটার পর যখন হোটেলে পৌঁছলাম, তখন সম্মেলন উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছিল। নামায ও খাবার শেষ হতে হতে তিনটা বেজে গেল। সব প্রতিনিধি লাউঞ্জে জমায়েত হচ্ছিলেন। হোটেলের বাইরে বিস্তৃত লনে সুন্দর শামিয়ানার নিচেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মূল প্রোগ্রাম অনুযায়ী ফিল্ড মার্শাল জনাব আইয়ুব খান সাহেবের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করার কথা। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তাঁর পরিবর্তে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার জনাব আবদুল জব্বার খান সাহেব এলেন।
হোটেলের প্রবেশদ্বারে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সৈয়দ মুহাম্মদ যফর সাহেব অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছিলেন। সব অতিধি সেখানে একত্র হয়ে শোভাযাত্রা আকারে সভাস্থলে পৌঁছানোর কথা ছিল।
আমার মুহতারাম আব্বাজান হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী সাহেব মুদ্দা যিল্লুহু অসুস্থতার দরুন তখনো রাওয়ালপিন্ডিতে পৌঁছতে পারেননি। তিনি আজ সাড়ে চারটার বিমানে আসবেন। তাই আমি বিমানবন্দরে গেলাম।
আব্বাজানের সঙ্গে ফিরে এসে দেখি, উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হয়ে গেছে। মাসিক আলহকের সম্পাদক প্রিয় মাওলানা সামীউল হক সাহেবের কাছে শুনলাম, ওই পর্বে বিভিন্ন ইসলামী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বার্তা পাঠ করে শোনানো হয়েছে। আইনমন্ত্রী সৈয়দ মুহাম্মাদ যফর সাহেব স্বাগত ভাষণ দেন। রাষ্ট্রপ্রধানের বার্তা পাঠ করা হয় এবং জনাব আবদুল জব্বার খান বক্তৃতা করেন।
প্রথম অধিবেশন : ইসলামে বুদ্ধিবৃত্তির ভূমিকা
মাগরিবের পর সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন হোটেলের হলে শুরু হয়। হলটির পশ্চিম প্রান্তে একটি জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। তার ওপর মখমলি ব্যানারে বড় অক্ষরে লেখা ছিল–
اِنَّمَا یَخۡشَی اللّٰہَ مِنۡ عِبَادِہِ الۡعُلَمٰٓؤُا.
আল্লাহকে তো কেবল তারাই ভয় করে, যারা ইলমের অধিকারী। [সূরা ফাতির ৩৫ : ২৮]
পূর্বদিকে অতিথিদের জন্য হলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সারিবদ্ধ চেয়ার ছিল। প্রায় তিন শ লোক বসার ব্যবস্থা ছিল সেখানে। অধিবেশন শুরু হতেই সব আসন পূর্ণ হয়ে গেল। অনেক মানুষ শুধু হলের ভেতরেই নয়, বাইরের করিডরেও দাঁড়ালেন।
আজকের বিষয় ছিল, ‘ইসলামে বুদ্ধিবৃত্তির ভূমিকা’। সভাপতিত্ব করছিলেন মুফতীয়ে আযম ফিলিস্তিন মুহাম্মদ আমীন আলহুসাইনী রাহ.। সহ-সভাপতি ছিলেন জাস্টিস এস. এ. রহমান (পাকিস্তান) এবং ড. হোসেইন নাসর (ইরান)। উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলো পর্যালোচনার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে কয়েকজনকে মনোনীত করা হয়েছিল। সেদিনের দায়িত্বে ছিলেন প্রফেসর এস. এম. ইউসুফ (করাচী ইউনিভার্সিটি) এবং জনাব আবুল হাশেম (ঢাকা)।
‘খণ্ডিত বুদ্ধি’
প্রবন্ধপাঠের সূচনা করেন ইরানের তরুণ প্রতিনিধি ড. হোসেইন নাসর। তিনি ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ এবং ‘নাহমাদুহু ওয়া বিহী নাসতাঈনু’ পড়ে ইংরেজিতে প্রবন্ধ পাঠ করা শুরু করেন। তিনি বলেন–
‘অনেকেই পাশ্চাত্যের জনপ্রিয় মতবাদগুলো হুবহু গ্রহণ করে তার সঙ্গে শুধু ‘ইসলামী’ শব্দটি জুড়ে দেন। ‘ইসলামী গণতন্ত্র’, ‘ইসলামী সমাজতন্ত্র’ ও ‘ইসলামী যুক্তিবাদ’– এসব পরিভাষা এভাবেই তৈরি হয়েছে। বর্তমান সময়ে ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলেই এই খতরনাক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এটি ইসলামের সঙ্গে ‘নাদান দোস্তি’ ছাড়া কিছু নয়।’
তিনি এই ‘নাদান দোস্তি’র ভয়াবহ ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরেন এবং পাণ্ডিত্যপূর্ণ ভাষায় জধঃরড়হধষরংস বা ‘যুক্তিবাদে’র বিপরীতে ওহঃবষষরমবহপব ধহফ খড়মরপ বা ‘ সুস্থ বুদ্ধি ও বাস্তব যুক্তি’র ফারাক ও ব্যবধান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন–
‘ইসলাম একটি যুক্তিসংগত ধর্ম এবং এই ধর্ম যুক্তি ব্যবহার করার কথা বলে। কিন্তু পাশ্চাত্যের যুক্তিবাদ মানুষকে নিছক মানববুদ্ধির দাস বানাতে চায় এবং সত্য-মিথ্যার একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে আকল ও যুক্তিকেই প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসলামে এর কোনো স্থান নেই। এমনকি এই চিন্তাধারা ওহীর চিরন্তন সত্যগুলো অস্বীকার করতেও দ্বিধা করে না। এ ধরনের বুদ্ধি প্রকৃত সুস্থ বুদ্ধি নয়। বরং সেই ‘খণ্ডিত বুদ্ধি’, যার সম্পর্কে মাওলানা রুমী বলেছেন–
عقل جز وی عقل را بدنام کرد
‘খণ্ডিত বুদ্ধির দৌরাত্মে প্রকৃত বুদ্ধিরই দুর্নাম হয়েছে।’
ড. নাসরের প্রবন্ধ শুনে মনে হচ্ছিল, তাঁর বক্তব্যে শ্রোতাদের হৃদস্পনই প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। তাঁর প্রবন্ধ ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং এর চিন্তাশীল বিষয়বস্তু ও অসাধারণ উপস্থাপনা সবার মন ছুঁয়ে যায়।
কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট বক্তব্যের মোকাবেলায় গবেষণা!
এরপর সুদানের ওমদুরমান (ام درمان) ইসলামি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আবু বকর আলখলীফা মঞ্চে এলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বললেন–
‘ইসলামে ইজতিহাদ ও গবেষণার সুযোগ অবশ্যই আছে। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট বক্তব্যের মোকাবেলায় ইজতিহাদের সুযোগ নেই। ইজতিহাদের অনুমতি কেবল সেসব বিষয়ে, যেগুলোতে কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।’
এরপর কিছুটা তর্ক-বিতর্কের আবহের মধ্যে পাকিস্তানের (প্রসিদ্ধ মডার্নিস্ট) জাফর শাহ ফুলওয়ারী মঞ্চে দেখা দিলেন। তাঁর লিখিত প্রবন্ধটি হারিয়ে গিয়েছিল। তাই মৌখিক বক্তব্য পেশ করলেন। মানবজ্ঞান ও মানববুদ্ধির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে তিনি ইজতিহাদ প্রসঙ্গে বললেন–
‘কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট বক্তব্যের মোকাবিলায়ও ইজতিহাদ করার সুযোগ আছে।’
এরপর তিনি অসংযত হয়ে আলেমদের সমালোচনা শুরু করেন–
‘তাঁরা ইজতিহাদ ও গবেষণার দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন, অথচ সুদের মতো বিষয়গুলোতে আজ গবেষণার তীব্র প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন–
‘হযরত উমর রা. বহু বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিদ্ধান্তের বিপরীতে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। তিনি যদি রাসূলের বিপরীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে আমরা কেন রাসূলের বিপরীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারব না?’
এই কথাটি শোনামাত্র হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ বানূরী ছাহেব আর ধৈর্য রাখতে পারলেন না। তিনি নিজ আসন থেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং উচ্চৈঃস্বরে মুফতীয়ে আযম ফিলিস্তিনকে উদ্দেশ্য করে বললেন–
جناب صدر! مقرر کو اس گستاخی سے منع فرمائیے۔ وہ حضرت عمر کے بارے میں کیا کہہ رہے ہیں؟
‘সভাপতি মহোদয়! বক্তাকে এই গোস্তাখি থেকে বিরত রাখুন। সে হযরত উমর রা. সম্পর্কে কী বলছে!’
হযরত মাওলানার এই কথার পর সভার ভেতর থেকে বহু কণ্ঠে আওয়াজ উঠল। শ্রোতারা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলেন। এতে কিছু সময়ের জন্য বক্তব্যের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হল। তখন সভাপতি বললেন–
‘বক্তাকে শেষ করতে দিন। যারা পর্যালোচনা করতে চান, তারা নিজেদের নাম মঞ্চে পাঠিয়ে দিন। পরে পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হবে।’
এই ঘোষণায় সভার পরিবেশ শান্ত হল। পর্যালোচনার জন্য তিনজন প্রতিনিধি নাম পাঠালেন– ড. মাহমুদ ফাতহুল্লাহ (সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র), মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানূরী (করাচী) এবং মুফতী মাহমুদ সাহেব (মুলতান)।
জনাব জাফর শাহ সাহেব কয়েকটি বাক্য বলে বক্তৃতা শেষ করলেন। এরপর জনাব মাসউদ আনসারী ‘সাইন্স ও ইসলাম’ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ পাঠ করলেন।
পর্যালোচনা
এবার পূর্বনির্ধারিত পর্যালোচকদের মধ্য থেকে ড. মুহাম্মদ ইউসুফ (করাচী ইউনিভার্সিটি) মঞ্চে এলেন। তিনি পরিমিত শব্দে ইজতিহাদ সম্পর্কে নিজ মতামত তুলে ধরেন–
‘ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কেউ নিছক যুক্তি প্রয়োগের কথা বললে তা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু যখন কেউ ইসলামকে যুক্তিসম্মত উপলব্ধি করে তা গ্রহণ করে, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যই হল মূল লক্ষ্য। আর যুক্তি সেই আনুগত্যের অধীন। (প্রসঙ্গত, ঈমান বিল গাইব ও মুজিযা মানুষের সীমিত আকলের ঊর্ধ্বের বিষয়)
তবু ইসলামে কিছু নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ইজতিহাদের দরজা খোলা রেখেছে। কিন্তু যারা দ্বীনের সর্বসম্মত মৌলিক নীতিগুলোর ওপর আঘাত হানার উদ্দেশ্যে এই দরজায় প্রবেশ করতে চায়, তাদের জন্য এই দরজা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ।’
এই শেষ বাক্য শুনে পুরো হল সমর্থন জানাল। এরপর (তৎকালীন) পূর্ব পাকিস্তানের জনাব আবুল হাশেম –যিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন– ইংরেজিতে উপস্থিত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন–
‘ইসলামে নিঃসন্দেহে ইজতিহাদের অনুমতি আছে। কিন্তু এর সুনির্দিষ্ট নীতি, বিধান, শর্ত ও আদব আছে। সেগুলো মেনে না চললে ইসলামের প্রকৃত দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়।’
এরপর পালা এল সেই পর্যালোচকদের, যারা নিজেদের নাম পাঠিয়েছিলেন। জনাব ফুলওয়ারীর বক্তব্য পর্যালোচনা করতে সবার আগে মঞ্চে আসেন জামেয়া আযহারের অধীন প্রতিষ্ঠান ‘মাজমাউল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্’র চেয়ারম্যান ড. মাহমুদ ফাতহুল্লাহ।
তিনি সুস্থিরভাবে ফুলওয়ারী সাহেবের (বিচ্ছিন্ন) মতামতের পাণ্ডিত্যপূর্ণ জবাব দেন। যেসব হাদীস থেকে ফুলওয়ারী সাহেব নিজ দাবির পক্ষে প্রমাণ দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন, সেগুলোর মর্ম (মফহুম) ও বর্ণনাসূত্র (সনদ) নিয়ে আলোচনা করেন। শেষে বলেন–
‘ইসলামে ইজতিহাদ ও গবেষণার স্থান কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনার পরবর্তী স্তরে। এরও কিছু নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত রয়েছে। ইজতিহাদ ও গবেষণার অর্থ এই নয়– মানববুদ্ধি ও যুক্তিকে অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে কুরআন-সুন্নাহকে তার অধীন করা হবে। বরং ইজতিহাদের প্রকৃত অর্থ হল– যেসব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ্য় সরাসরি নির্দেশনা পাওয়া যায় না, সেসব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ প্রদত্ত মূলনীতির আলোকে এমন পন্থায় বিধান আহরণ করা, যাতে দ্বীনের মৌলিক মূল্যবোধ কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়।’
ড. মাহমুদ ফাতহুল্লাহর পর হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানূরী মঞ্চে আসেন। তিনি ইজতিহাদ বিষয়ে একটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেছিলেন। কিন্তু সম্মেলন শুরু হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে তিনি উমরার সফরে যান। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রবন্ধটি আয়োজকদের কাছে পৌঁছাতে না পারায় সভায় তা পাঠ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রবন্ধটির সাইক্লোস্টাইল করা কপি উপস্থিত শ্রোতাদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছিল।
এই সময় হযরত মাওলানা মৌখিকভাবে সেই প্রবন্ধের সারাংশ তুলে ধরেন। তিনি সংক্ষেপে ইজতিহাদের প্রামাণ্যতা, এর শর্ত ও আদবসমূহ এবং বর্তমান যুগে ইজতিহাদের ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বশর্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
হযরত মাওলানা মুফতী মাহমুদ সাহেবও পর্যালোচনার জন্য নাম পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত বিষয়টি বিস্তৃত আলোচনা হয়ে গিয়েছিল। তিনি অতিরিক্ত বক্তব্যের প্রয়োজন মনে না করে নাম প্রত্যাহার করে নেন। এভাবে সম্মেলনের প্রথম উন্মুক্ত অধিবেশন শেষ হয়।
[অনুবাদ : মাওলানা আবু আনাস মুহাম্মাদ সালমান]
(চলবে ইনশাআল্লাহ)
টীকা
(১) সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র (United Arab Republic বা الجمهورية العربية المتحدة) ছিল প্যান-আরব জাতীয়তাবাদের (Pan-Arabism) আদর্শে গঠিত একটি স্বল্পস্থায়ী রাষ্ট্রীয় ইউনিয়ন।
১৯৫৮ সালে জামাল আবদুন নাসেরের নেতৃত্বে মিশর ও সিরিয়া একত্রিত হয়ে এই ইউনিয়ন গঠন করে। উদ্দেশ্য ছিল আরব দেশগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক ঐক্য শক্তিশালী করা।
তবে মিশরীয় আধিপত্য ও কেন্দ্রীভূত শাসন, অর্থনৈতিক নীতির অসামঞ্জস্য, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অসন্তোষের কারণে ১৯৬১ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সিরিয়া এই ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যায়। এরপরও মিশর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইউনাইটেড আরব রিপাবলিক’ নাম ব্যবহার করে, যা আনোয়ার সাদাতের সময় বাতিল হয়।
(২) টেক্সিলা (Taxila) পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক শহর, যা রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
(৩) সাইক্লোস্টাইল (Cyclostyle) করা হল স্টেনসিল ব্যবহার করে একটি মাস্টার কপি থেকে অনেকগুলো অনুলিপি তৈরি করার একটি প্রাচীন যান্ত্রিক পদ্ধতি। ঊনিশ শতকে আবিষ্কৃত এই পদ্ধতিতে সাইক্লোস্টাইল করা কপি তৈরির মূল কৌশল ছিল স্টেনসিল পদ্ধতি। স্টেনসিল হলো একটি বিশেষ ধরনের মোম-লাগানো কাগজ।
স্টেনসিল কাগজের উপর টাইপরাইটার মেশিন দিয়ে টাইপ করা হতো অথবা কলম দিয়ে লেখা হতো। টাইপ বা লেখার চাপে মোমের আস্তরণ ভেঙে যেত এবং কাগজের ছিদ্র তৈরি হতো। এটিই ছিল মূল স্টেনসিল।
এই স্টেনসিলকে সাইক্লোস্টাইল মেশিনের ড্রামের উপর লাগানো হতো। মেশিন ঘোরানোর সময় কালি (বিশেষ ধরনের তেল-ভিত্তিক কালি) স্টেনসিলের ছিদ্র দিয়ে ভেতর থেকে বেরিয়ে এলে নিচের সাদা কাগজে ছাপ পড়ত।
একবার স্টেনসিল তৈরি করলে একই স্টেনসিল দিয়ে ৫০০ থেকে ২০০০ পর্যন্ত কপি করা যেত। প্রতিবার মেশিনের হাতল ঘুরিয়ে কাগজ ঢুকিয়ে কপি বের করা হতো।
ফটোকপি মেশিনের আগে নথি, প্রশ্নপত্র বা লিফলেট দ্রুত বহুগুণ করার জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হত।