Shawal 1447   ||   April 2026

দুআয় রাখি আশা ভয় ও বিনয়

Mawlana Fazluddin Miqdad

আল্লাহ তাআলা কুরআন কারীমে বলেছেন

اُدْعُوْا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَّخُفْیَةً اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْمُعْتَدِیْنَ، وَلَا تُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ بَعْدَ اِصْلَاحِهَا وَادْعُوْهُ خَوْفًا وَّطَمَعًا اِنَّ رَحْمَتَ اللهِ قَرِیْبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِیْنَ.

তোমরা বিনীতভাবে ও চুপিসারে নিজেদের প্রতিপালককে ডাক। নিশ্চয়ই সীমালঙ্ঘনকারীদের তিনি পছন্দ করেন না। আর পৃথিবীর সংশোধনের পর তাতে অশান্তি বিস্তার করো না এবং (অন্তরে তাঁর) ভয় ও আশা রেখে তাঁর ইবাদত কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। সূরা আ‘রাফ (০৭) : ৫৫-৫৬

আরও বলেছেন

وَاذْكُرْ رَّبَّكَ فِیْ نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَّخِیْفَةً وَّدُوْنَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ وَلَا تَكُنْ مِّنَ الْغٰفِلِیْنَ.

সকালে ও সন্ধ্যায় নিজ প্রতিপালককে স্মরণ কর বিনয় ও ভীতির সাথে, মনে মনে এবং অনুচ্চ স্বরে মুখেও। যারা গাফলতিতে নিমজ্জিত, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। সূরা আ‘রাফ (০৭) : ২০৫

বান্দার প্রতি আল্লাহর কী অসীম মমতা বান্দা কীভাবে তাঁকে ডাকবে, তাঁর কাছে দুআ করবে, তাও তিনি শিখিয়েছেন। কুরআনে বিভিন্ন জায়গায় দুআ সম্পর্কে অনেক হেদায়েত দিয়েছেন।

এর মধ্যে সূরা আ‘রাফের উপরিউক্ত আয়াতসমূহে বলেছেন, তোমরা আল্লাহর কাছে দুআ কর ভয় ও আশা রেখে বিনীতভাবে। মনে মনেও দুআ করতে পার, স্বাভাবিক আওয়াজেও করতে পার।

এখানে আল্লাহ তাআলা দুআর তিনটি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে বলেছেন

এক. আল্লাহর কাছে দুআ করার সময় অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখা। নিজের গুনাহ ও ত্রুটি-বিচ্যুতির ভয়। গুনাহের কারণে শাস্তির ভয়। দুআ কবুল না হওয়ার ভয়। আল্লাহর বড়ত্ব ও ক্ষমতার ভয়।

দুই. প্রাপ্তির আশা রাখা। আল্লাহর কাছে যা কিছু চাইব, তা কেবল তাঁরই কাছে পাওয়ার আশা রাখব। নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া আর কেউ কিছু দিতে পারে না। তাঁর দয়া ও রহমতের আশা রাখব। তিনি তো বলেছেনই, তাঁর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। আর দুআ কবুল হওয়ার আশা রাখব। দুআ কবুলের আশা না থাকলে তো চাওয়ারও কোনো অর্থ থাকে না।

আল্লাহ তাআলা কুরআন কারীমে আম্বিয়ায়ে কেরাম আ.-এর দুআর প্রশংসা করে বলেছেন

یَدْعُوْنَنَا رَغَبًا وَّرَهَبًا وَكَانُوْا لَنَا خٰشِعِیْنَ.

তারা আশা ও ভীতির সাথে আমাকে ডাকত আর তাদের অন্তর ছিল আমার সামনে বিনীত। সূরা আম্বিয়া (২১) : ৯০

আবার তাঁর নেক বান্দাদের দুআ সম্পর্কে বলেছেন

یَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَّطَمَعًا.

তারা নিজ প্রতিপালককে ভয় ও আশার সাথে ডাকে। সূরা হা-মীম সাজদা (৩২) : ১৬

তিন. দুআয় বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করা। বিনয়-নম্রতা মুখেও থাকতে হবে, মনেও থাকতে হবে। বলায় ও উপস্থাপনায় থাকতে হবে, শরীরের ভাষাতেও তা বোঝা যাওয়া কাম্য। অভদ্রতা ও ঔদ্ধত্য আল্লাহ কখনোই পছন্দ করেন না।

দুআর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আদব হল, আন্তরিকতার সঙ্গে দুআ করা। দুআয় দিল-মন হাজির রাখা। মুখস্থ কিছু বাক্য বলতে থাকা অথবা ইমামের সঙ্গে ‘আমীন’ বলা আর মনোযোগ অন্য কোথাও থাকা, এটা কোনো দুআ হতে পারে না।

হায়! কারও কারও অবস্থা আরও করুণ! ইমামের দুআর সঙ্গে ‘আমীন’ বলার কষ্টটুকুও করতে প্রস্তুত নয়। নিষ্প্রাণ হয়ে শুধু হাত তুলে বসে থাকে। আবার অনেকে অন্যের কাছে দুআ চায়, কিন্তু নিজে আল্লাহর কাছে দুআ করে না। এভাবে আরও কত ধরনের অবহেলা যে আমরা দুআয় করে থাকি!

মনে রাখা দরকার! দুআ কেবল পাঠ করার জিনিস নয়। আওড়ে যাওয়ার বা শুধু ‘আমীন’ বলার বিষয় নয়। দুআ হল আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া আর অকল্যাণ থেকে বাঁচার আরজি পেশ করা। চাওয়ার একটা প্রকাশভঙ্গি আছে, শারীরিক ভাষা আছে। সেটা যদি না থাকে, তাহলে তা কোনো দুআ হতে পারে না। হাঁ, বেখেয়ালি দুআও আল্লাহ কখনো কবুল করে নেন। সেটা আল্লাহর মমতা ও মহত্ত্ব। কিন্তু বান্দা তো দুআয় উদাসীন থাকতে পারে না।

আল্লাহ বলেছেন

وَلَا تَكُنْ مِّنَ الْغٰفِلِیْنَ.

যারা গাফলতিতে নিমজ্জিত, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

আর বিশেষভাবে লক্ষণীয় আরেকটা বিষয় হল, দুআয় নিজের অক্ষমতা অপারগতা প্রকাশ করা। আমি দুর্বল, সহায়-সম্বলহীন, আল্লাহ ছাড়া আমার কোনো আশ্রয় নেই, কোনো উপায় নেই। তিনি ছাড়া আর কেউ দিতে পারে না, আমি শুধু তাঁর কাছেই চাই দুআয় এই রকম অপারগতা ও দীনতা-হীনতা প্রকাশ করা কাম্য। যেমন কাতরতা থাকে শিশুর চাওয়ায়। বাস্তবিকই তো বান্দার বাঁচার ও পাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। সুতরাং শুধু দুআয় নয়, মুমিনকে তো চিন্তায়-বিশ্বাসে, জীবনাচারে সর্বদা আল্লাহর প্রতি এমনই মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে।

ইবনে কাসীর রাহ. তাঁর তাফসীরগ্রন্থে ইবনে আসাকির রাহ.-এর তারীখে দিমাশকের উদ্ধৃতিতে একটি ঘটনা উল্লেখ করছেন

দামেশকের এক ব্যক্তি তার গাধা ভাড়ায় খাটিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। একদিন তাকে একজন বলল, আমাকে অমুক জায়গায় নিয়ে চলো।

গাধার মালিক তাকে যাত্রী হিসেবে নিল। শহর পেরোনোর পরে যাত্রী বলল, তুমি আমাকে ওদিক দিয়ে নিয়ে যাও, ওদিক দিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি হবে।

গাধার মালিক বলল, আমি তো ওই রাস্তা চিনি না।

সে বলল, আমি তোমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাব।

অগত্যা গাধার মালিক ওই রাস্তা ধরল। কিছুদূর যাওয়ার পরে একটা বিরানভূমি পড়ল। আশপাশে কোথাও জনমানবের চিহ্ন নেই। তখন যাত্রী বলল, থাম, আমি নামব।

গাধাওয়ালা বলল, এখানে কোথায় নামবে! এখানে তো কিছু নেই।

সে আবারও বলল, তুমি থামাও, আমি নামব।

গাধাওয়ালা তার গাধা থামাল। যাত্রী গাধার পিঠ থেকে নেমেই খঞ্জর বের করল।

গাধার মালিক বলল, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে মেরো না, এই গাধাসহ সমস্ত মালামাল নিয়ে যাও।

কিন্তু সে বলল, এগুলো তো নেবই, সাথে তোমাকেও হত্যা করব।

গাধার মালিক কাকুতিমিনতি করে প্রাণভিক্ষা চাইল। কিন্তু কাজ হল না। তারপর দিশেহারা হয়ে বলল, তাহলে আমাকে অন্তত দুই রাকাত নামায পড়তে দাও।

সে বলল, আচ্ছা, তাড়াতাড়ি কর।

গাধার মালিক নামাযে দাঁড়াল। কিন্তু প্রচণ্ড ভয়ে কোনো আয়াত মনে করতে পারছিল না। এদিকে খঞ্জর হাতে সেই ডাকাত তাগাদা দিচ্ছিল।

এমন সময় হঠাৎ তার মুখে এ আয়াত এসে গেল

اَمَّنْ یُّجِیْبُ الْمُضْطَرَّ اِذَا دَعَاهُ وَیَكْشِفُ السُّوْٓ ءَ..

তবে কে তিনি, যিনি কোনো আর্ত যখন তাঁকে ডাকে, তার ডাকে সাড়া দেন ও কষ্ট দূর করে দেন...। সূরা নামল (২৭) : ৬২

তারপরই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। সেই জনমানবহীন উপত্যকায় এক অশ্বারোহী এল। সে বর্শা দিয়ে ওই যাত্রীরূপী ডাকাতকে হত্যা করল।

কাজ সেরে অশ্বারোহী চলে যাচ্ছিল। গাধার মালিক তাড়াতাড়ি তার পরিচয় জানতে চাইল, কে তুমি আমাকে রক্ষা করলে?

সে বলল, আমি ওই সত্তার বান্দা, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন, বিপদ্গ্রস্তের দুআ শোনেন এবং বিপদ দূর করেন। (দ্র : তারিখে দিমাশক ৬৮/২৫১; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৩৮৩)

পুরো আয়াতটি হল

اَمَّنْ یُّجِیْبُ الْمُضْطَرَّ اِذَا دَعَاهُ وَیَكْشِفُ السُّوْٓءَ وَیَجْعَلُكُمْ خُلَفَآءَ الْاَرْضِ ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللهِ قَلِیْلًا مَّا تَذَكَّرُوْنَ.

[তবে কে তিনি, যিনি কোনো আর্ত যখন তাঁকে ডাকে, তার ডাকে সাড়া দেন ও তার কষ্ট দূর করে দেন এবং যিনি তোমাদেরকে পৃথিবীর খলীফা বানান? (তবুও কি তোমরা বলছ) আল্লাহর সঙ্গে অন্য প্রভু আছেন? তোমরা অতি অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর।]

হাঁ, নিশ্চয়ই বিপন্ন, নিরুপায় ও বিপদে আক্রান্ত ব্যক্তির ডাকে একমাত্র আল্লাহ্ই সাড়া দেন এবং তিনিই সকলের দুঃখকষ্ট ও বিপদ দূর করে দেন।

আমরা অসহায় ও নিরুপায়, জীবনের সবক্ষেত্রে আল্লাহর দয়া ও রহমতের মুখাপেক্ষী। দুআয় সেই অক্ষমতা-অপারগতা তুলে ধরতে হবে। কাতর হয়ে, অনন্যোপায় হয়ে দুআ করতে হবে। দুআর সময় মনে ভয়ও থাকবে, আশাও থাকবে আর থাকবে বিনয় ও ব্যাকুলতাও।

এভাবে দুআ করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অবশ্যই কবুল করবেন। তিনি কুরআনে দুআ কবুলের ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ করেছেন

وَاِذَا سَاَلَكَ عِبَادِیْ عَنِّیْ فَاِنِّیْ قَرِیْبٌ اُجِیْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ فَلْیَسْتَجِیْبُوْا لِیْ وَلْیُؤْمِنُوْا بِیْ لَعَلَّهُمْ یَرْشُدُوْنَ.

(হে নবী!) আমার বান্দাগণ যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন (আপনি তাদেরকে বলুন যে,) আমি এত নিকটবর্তী যে, কেউ যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাক শুনি। সুতরাং তারাও আমার কথা অন্তর দিয়ে গ্রহণ করুক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে এসে যায়। সূরা বাকারা (০২) : ১৮৬

অন্যত্র আরও বলেছেন

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِیْۤ اَسْتَجِبْ لَكُمْ اِنَّ الَّذِیْنَ یَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِیْ سَیَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیْنَ.

তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাক। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই অহংকারবশে যারা আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সূরা মুমিন (৪০) : ৬০

আরেকটা বিষয় হল, দুআ করে কখনো নিরাশ হতে নেই। আল্লাহ অবশ্যই দুআ কবুল করেন, বান্দার ডাকে সারা দেন। দুআ কখনো নিষ্ফল হয় না। হাঁ, দুআর ফলাফল সবসময় আমাদের মর্জিমতো হয় না। আল্লাহ যেভাবে কল্যাণকর মনে করেন, সেভাবেই তা পূরণ করেন।

হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ، وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ، إلّا أَعْطَاهُ اللهُ بِهَا إحْدَى ثَلَاثٍ: إمَّا أَنْ تُعَجَّلَ لَه دَعْوَتُه، وَإمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا قَالُوا: إِذًا نُكْثِرُ، قَالَ: اللهُ أَكْثَرُ.

যে কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে গুনাহের কথা বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় ছাড়া যে কোনো দুআ করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে এর বিনিময়ে তিনটি জিনিসের যে কোনো একটি দান করেন

১. হয়তো তার দুআ (দুনিয়াতেই) খুব দ্রুত কবুল করে নেন।

২. অথবা তার দুআ আখেরাতে তার জন্য জমা করে রাখেন। (অর্থাৎ তার দুআর প্রতিদান তাকে আখেরাতে দেবেন।)

৩. অথবা ওই পরিমাণ কোনো অকল্যাণ তার থেকে দূর করে দেন। (অর্থাৎ তার ওপর আসন্ন কোনো অকল্যাণ তার দুআর বিনিময়ে দূর করে দেন)

(এ কথা শুনে) সাহাবায়ে কেরাম বললেন তাহলে আমরা বেশি বেশি দুআ করব!

নবীজী বললেন আল্লাহ আরও বেশি দানকারী।

আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস ৭১০; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১১১৩৩

সুতরাং দুআ করে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না। দুআ জারি রাখতে হবে। নিরাশ হয়ে যাওয়া কোনো মুমিনের কাজ নয়। মুমিন তো সব সময় আল্লাহর দয়া ও রহমত লাভের আশাবাদী থাকবে। আল্লাহ থেকে পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলে তো মুমিনের সবই শেষ।

এটা কখনো বলা উচিত নয় যে, অনেক দুআ করি, কিন্তু কবুল হয় না। এ কথা বলা বেয়াদবি এবং দুআ কবুল না হওয়ার অনেক বড় কারণ। নিরাশ ও বিরক্ত হয়ে দুআ ছেড়ে দেওয়া, অনেক খারাপ কাজ। দুআর কল্পনাতীত শক্তির প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। নিশ্চয়ই জীবন পরিবর্তন করতে এবং দুনিয়া আখেরাতে কল্যাণ লাভ করতে দুআর ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। দুআ করে এর ফায়েদা ও উপকারিতা নিজ জীবনে পায়নি এমন কোনো মানুষ নেই।

এটা অসম্ভব যে, কোনো মুমিন বান্দা নিজ জীবনে কখনোই দুআর উপকারিতা পায়নি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রত্যেকের ডাকেই সারা দেন। অতি সাধারণ মানুষের দুআও কবুল করেন।

সাধারণ মানুষের দুআর অস্বাভাবিক ফলাফলের শত সহস্র দৃষ্টান্ত দুনিয়াতে আছে। সুতরাং দুআ করে কখনো নিরাশ হতে নেই এবং এ ব্যাপারে কখনো অবহেলা করতে নেই। আর লক্ষ রাখতে হবে, আমার দুআ যেন রীতিসর্বস্ব ও নিছক আনুষ্ঠানিকতা হয়ে না যায়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে যেভাবে বলেছেন, সেই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দুআ আল্লাহ আমাদেরকেও করার তাওফীক দান করুন।

 

advertisement